শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

এলোমেলো

------------------
থামতে পারিনি নরম দু:ক্ষদের ওভাবে
নদীর ধারায় ভিজতে দেখে, দুচোখে
পলকের বেড়ায় বেধেছি বারে বারে,,
তাই তুমি কবিতার পাতায় বর্ণমালা
এঁকে চল ,,
তোমার তুলির গড়িয়ে নামা রংগে আমার
আব্দারেরা ভীষণ আদুরে,
থামতে পারিনি পৌষের ঘন ঠান্ডাকে একা
ওভাবে জানলার বাইরে অপেক্ষায়
দেখতে,
তাই উষ্ণতার মিছিলে সামিল করেছি
রাতের শুন্যপথে,

শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৬

কাছে যাওয়া

----------------------------
অদৃশ্য সুতোর পাশে ঝুলতে থাকা
কালের পেন্ডুলামে সম্পর্কের নাম
না লেখা কাগজ ঝুলছে,,
এলোমেলো বর্ণমালাগুলো হাওয়ায়
খুঁজছে ক্লোরোফিল,
রাস্তার কিনারা ধুয়ে সময়ের ধুলো জমাচ্ছি
আগামির রুপকথায়,, 
কান্নারা  আজকালরাস্তার ধারের ইস্তেহারের
জলরঙ ছবিতে ব্যেস্ত রয়েছে,
সময় একদিন অস্তিত্ব খুঁজেই নেবে নিজস্ব
গতিতে আর স্নায়ুতে  কিছু গরম উষ্ণতা,

একফালি ক্লান্ত শ্বাস প্রহরকাল অপেক্ষায়...
উঠোন জুড়ে যে সিঁড়িভাঙ্গা অংক তা কি
মিলবে কখনো!

স্পর্শরর খোঁজ নির্ঘুম প্রহর জুড়ে নকশী
কাঁথা বোনে আলাদা আলাদা সাজানো
চতুর্ভুজের ভেতোরে,
রোজ সুর্যর ঘুম ভাংগে একমুখ হাসির হাত
ধরে,,

অদৃশ্য সুতোর পাশে ঝুলতে থাকে কালের
পেন্ডুলামে সম্পর্কের নাম না লেখা কাগজ।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

এখনো

------------------------------------
ধারালো শব্দের স্পর্ধা আর তোমার হাতের
চাবুক থেকে আমার বেঁচে থাকাটুকু সরিয়ে
দিয়েছি গাছের ঘুম কোটোরে,,

দলছুট আলোদের এলোমেলো পথে উড়িয়ে
দিলাম একান্তে বেড়ে ওঠা ভাবনার বুনোনগুলো,
ঘাসফড়িঙ এর পাখায় লেগে থাক কিছু রেনুদের
পরাগ,,

জোয়ারের সময় আমার মুঠোয় জমা
ঝিনুক আজো আছে সংগোপনে,
এসব জড়িয়ে রেখেছি আমার ছেঁড়া আস্তিনে,

আমার হাতের রেখাংশে মৃতুর দেশ আঁকা
রংচটা গুম ঘরে রাখা মুক্তির সাদা আলো,,
চলে যাওয়া বোধহয় অতটাও সহজ নয়
তাই এখনো ফুসফুসে গরম রক্তে রোদ্রের
আসা যাওয়া।

এখনো ধারালো শব্দ স্পর্ধা খুঁজে নেয়
২০৬টা হাড় দিয়ে সাজানো খাঁচায় বন্দি
মৃত হৃদয়ে।।

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৬

নিঃশব্দ

------------------------

সময় হয়েছে তোমার থেকে ছুটি চাওয়ার,
তোমার জানলার কাঁচে গড়িয়ে নামা শিশিরজল
আমার চোখের উপত্যকায় জমি খুঁড়ে সেঁধিয়ে
গেছে,
কথা ছিল সন্ধে নামা প্যাস্টেল রংএ চিলেকোঠারর
ঘরে তুমি আঁকবে একটা ঘন হয়ে থাকা স্বপ্ন,,

সময়ের ডঙ্কা আমার কাঁধে গরম নিশ্বাস
ফেলছে....
চিলেকোঠার ঘরে পুরোনো বাক্সে তোমার
জন্যে স্তুপাকার অনুভূতি আর তুলি থেকে
গড়িয়ে নামা নীরবতা রেখে গেলাম,,
বললাম না ভালো থেকো...  কারন তুমিও জান,
আমার সংগে নিলাম তোমার ছায়া যা
বহু কালের বুক গড়িয়ে নেমেছিল, আজ
আমার নীল খামে ঘুছিয়ে নিয়েছি,,

সময় হয়েছে  তোমার থেকে ছুটি চাওয়ার
আয়ুরেখা লাগোয়া রাজপথের শেষ
প্রতক্ষালয়ে তোমার জন্যে  উষর ধুষর
কিছু টুকরো ভালোবাসা রেখে গেলাম,,
সময় হয়েছে তোমার কাছে ছুটি........


শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

অবশিষ্টাংশ

------------------------
চাঁদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে কিছু আলো
আমার ঝুলিতে নিয়েছিলাম অমানিশির
জন্যে....
আজ আমার কলমের নিবে জমে যাওয়া
অন্ধকারের ক্ষরণ ফোঁটা ফোঁটা,
সময়ের সামিয়ানায় জোতস্নার আলপনা
এঁকেছি বারবার, সকালের শিশিরজল
ধুয়েদিয়েছে সবটুকু জন্মস্বাদ,
ভেসে যাওয়া খড়কুটো আঁকড়ে একটা
পূর্নছেদ  খুঁজছি,,
আকাশ দেখলেই ভয় হয় বিষন্ন মেঘেরা
ঈশানকোণ ঘেঁষেছে,,
একদিন আকাশ কথা দিয়েছিল শিলাবৃষ্টি
হবে না...  সে কথা হয়তো বা রাখা গেল না।
চাঁদের কার্নিশ ভেঙে পড়বে আমার অন্ধকার
ঘরের ছাদে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইচ্ছেডানা

-----------------
মাঝে মাঝে আলতো আলোছায়ার
চাদর মুড়ে কারা যেন ঘন নীল
নিশুতিতে ঝাঁপ দেয়,
চোখ থেকে ঘুম মুছে বুঝি আমার
ইচ্ছারা আমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছে
উজার করা ইচ্ছাদের যন্ত্রণা স্তুপাকৃত
রাতের কোল ঘেঁষে ছিল বালিশ তোষক
কাঁথায়,,

এখন তারা দাবিহীন কোন ভালবাসার
দেশে ধুপকাঠির ধোঁয়ার মত,,
একান্ত যত্ন করে সাদা পাতায় আঁকা
অক্ষরগুলো পৃষ্ঠা থেকে গড়িয়ে নামছে
নীরব শিশিরজল এর হাত ধরে,

ঊষর ধুসর প্রেম এখন অপচয় সময়ের
নামান্তর, সব সানিধ্য এখন হৃদয়তোরনে
বন্ধ করে  নীলবীষে নিমজ্জিত,,
চলে যাওয়া ইচ্ছেরা চিরকুটে লিখে
গেছে একটা নদীর একলা হওয়ার গল্প।

প্রানের পরে

-------------------

শেষ প্রবাহের সবটুকু আলো মেখে কখনো এসো....,
তোমার পায়ে জড়িয়ে যাওয়া
অজস্র স্বরে দের মুক্ত করে দেব
আমার আঙুলের ছোঁয়ায়,,

তারপর  রাতের কোন এক
প্রহরের বুকে ইথার তরংগের
সাথে ভাসিয়ে দেব শুন্যতার
পাণ্ডুলিপি,,
দলছুট তারাদের আলোয় না হয়
তোমার স্থানাংকের খালি দেওয়ালে এঁকে দিতে পারি
কোজাগরীর দু একটা আলপনা,,

তোমার নিপুণভাবে আঁকা
চতুর্ভুজ এর বিপরীত প্রান্তে
আমি দাঁড়িয়ে থাকবো কোনো
এক অতন্দ্র প্রহরীর বেসে,,
সকাল বেলায় সবুজ সংসারের
সব সান্নিধ্য তুলে রেখে তোমার জানলার বাইরে ইচ্ছের রঙ চুঁইয়ে
পড়তে পাড়ি,,
অযুত অক্ষর প্রহর পেরিয়ে পাস্কালের সব সুত্র প্রয়োগ
করে ভাসিয়ে রাখবো তোমায়...,,
শেষ মুহুর্তে থমকে যাওয়া সময়কে
বলতে বাধ্য করবো যে আজ
আর বৃষ্টি হয়ে কাজ নেই
আজ থেকে তুমি চিরবসন্ত হয়ে
থেক আর আমি বাসন্তিকা।

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

চিরকুটে উষ্ণতা

-------------------------------

বিষন্ন রাতের খামে রোদের চিরকুট
তোমার কুয়াশা মাখা শহরে একটা
ডাকবাক্সের সন্ধানে,,
ঠিকানা খুঁজে পাবার পর ঘরের ভেতোর,
এক উদাসী দিনের পায়ে পায়ে সবুজরঙা
সংসার বর্ণপরিচয় পড়ছে,,  একক জীবন
জোর করে যাপন কাটছে, আর গাল বেয়ে
আত্মিকতার খোঁজে এক চুমুক আদর নামছে
গড়িয়ে,,
হঠাত বদলে যাওয়া প্রয়োজন গুলো আজকাল
চিরকুট থেকে রোদ্দুর পড়ে ফেলে,,
নীলনদ এর বুকের বিভাজন বেয়ে
ভস্মিত হৃদয় তখন দেশ কাল পেরয়ে
বাতাসের বশীকরণে,,
মুঠোর রুমালে মুহুর্তরা নির্বাক কান্না চেপে
শ্রাবনের অপেক্ষায়  রাতের আড়াল চায়।

২০৬টা হাড়ে খাঁচায় বন্দি অবয়ব প্রয়োজনের
রোদ্দুর মাখে তবুও শীতজ্বর আলপিন ফোঁটায়,
জীবন সেখানে কেবলি সবুজে ঘেরা যাপন।

বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

পরিচয়

--------------
তীরের ছাঁয়ায় স্নেহ মেখে সবুজ হয়ে ভাসি,
সুর্য এসে বললে হেসে তোমায় ভালোবাসি,,

কালও ছিলাম আজও আছি থাকার আছে ঘর,
আত্মা দিয়ে সাজাই শুধু আমার খেলা ঘর,
সবাই আমার ভীষণ আপন আমার নেই যে 'ঘর',,

ইঁটের পরে ইঁটের গাঁথন মাটির বুকে নদী,
স্বপ্ন র আছে অনেক রঙ
আমার হবি যদি,

দিনের শেষে ঘুমের দেশে রঙের আনাগোনা,
দুরের যারা স্পষ্ট ভীষণ কাছেররা
অচেনা,,