সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১

শেষ কথোপকথন

এ চিঠি তোমার উদ্দেশ্যে শেষ কথোপকথন ...
রাত জাগা  প্রহরী মত  অপেক্ষা শেষমেশ শেষ হলো ....একটা কিছু না গোছের অধ্যায় থেকে আমি পুরোপুরি মুছে গেলাম কাল ,
তোমার যাত্রায় আমার শুভকামনা প্ররোধ্যে ছিলো না কখনো ,
তবুও পাপ হয়তো পূর্ব জন্মের ......জন্ম জঠরে রাখা ছিলো , 
সাদা পাঞ্জাবি তে শেষ সৎকার বুঝিয়ে দিয়েছে ..
অস্তিত্বর মাপকাঠি ।
স্বাস্থ্য বান  কিছু শব্দ এখন তোমার শরীরে , গালে, 
 আর জানলা চুঁইয়ে পড়ছে  নতুন পলাশী প্রেম ,


  ..... কিছুই চিরন্তন নয় জেনেও আমি ছাদে ভাতের থালা সাজিয়ে চোখ মুছি রোজ কাঁচা কাঠের ধোঁয়ার আড়ালে ।
মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারি না আমাদের মধ্যে আসলে কার মৃত্যু দায়ী এই বিবর্ণ বিচ্ছেদের !!
মাঝে মাঝে উত্তরের বারান্দায়  আমার   তোমার উদ্দেশ্যে কথোপকথন ঝুলিয়ে রাখি ...
হয়তো অভ্যাসের ভুলে তুমি জানলা খুলে তাদের দেখতে পারো এই ভেবে ,,
..... শেষ চালে হেরে যাবো জানতাম , অথচ কি দারুন আঘাতে বোকার তকমা  সেপ্টিপিনে সাথে বুকে গেঁথে নিয়েছি ।
ভালো থেকো বলার মত সাহসী এখন আমি নই ,
আসলে থাকা জুড়ে মানুষের না থাকাটা বড্ড স্পষ্ট এখন .....আবার   না থাকা জুড়ে কিছু জন্ম দাগের মত থেকে যাওয়ায় স্পষ্ট ।
তোমার তথাগত কে বলো ....তোমায় চিরকাল সমুদ্রের নীচে প্রবালের বুকে কুমকুম রঙে ডুবিয়ে রাখতে .....এ সবুজে এলে পাতা ঝরা গাছের নিচে কখনো থামতে হতেও পারে ,,
আর প্রতিবার মাটি আঁকড়ে থাকা গাছটা  কিছু মনে রাখতে না চাওয়া স্মৃতির সাক্ষ  প্রমান হয়ে 
তোমাকে তোমার  লগ্ন ভ্রষ্ট করে ফেলতে পারে ...
..........

                 ইতি কিছু না গোছের এক অধ্যায় ।


শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১

কবির অহংকার

সামান্য শব্দই তো  অহংকার তোমার
সামান্য ঘুমের জন্য মাথায়  হাত রাখা ..  তোমার অহংকার ,
প্রেমিকাকে প্রেমে নিঃস্ব করতে পারা...  তোমার অহংকার ,
দুচারটে শব্দ যা কিনা সম্পর্কের কাছে  তোমায় অহংকারি করে দিয়েছে ....তাদের হাত ধরে আলোর ভীড়ে এগিয়ে যাচ্ছ , 
এই রোশনাই চাইতে চাইতে একদিন নিজস্ব রন্ধ্রে হারিয়ে যাওয়া কবির দায় কে নেবে বলতে পারো ?

এই আলোর ভেতর হাঁটার ছলে নিজেকে আর কত পুড়িয়ে ফেলবে ?
শব্দের প্রথম দু অক্ষর কে কখনও ভুলে যেওনা কবি ,,
নিজেই নিজের গাছ কেটে বলো না ছায়া পেলাম না কেন ! 
দেখো তোমার শব্দের অহংকারে তোমারই চারপাশে যেন ক্ষমাহীন চোখ না জেগে থাকে .......।

সন্দীপন বলতো

সন্দীপন বলতো আমার শরীরে নাকি সবসময় কাঁচাবাঁশের গন্ধ লেগে থাকে আর ও পাগল হয়ে যায় সে গন্ধে,, এমন গন্ধে পুরুষের মন ভ্রমর হতে পারে খুব সহজেই।
আমিও ভেবে দেখেছি ট্রেনলাইনের সম্পর্কে আমার কাছে অজস্র প্রেম আসে যায়  বারংবার।
আজ তেত্রিশ ছুঁই ছুঁই বসন্ত,,
  তবু দেওয়াল লিখন  আর বিজ্ঞাপন এখনো কিছু মাত্র মন্দা যায় না ।
সন্দীপন এখন কোথায় আছে জানি না ....জানলে জিগ্যেস করতাম কাঁচা বাঁশের গন্ধ ঠিক কতদূর বয়ে নিয়ে যায় বাতাস!!
 ,নাকি  বিশেষ ভ্রমর শুধুমাত্র টের পায় সে গন্ধ ।

আজ সন্দীপনের কথা মনে হলে বড্ড হাসি পায় ...
আসলে পুরুষ মাত্রই প্রেম নিবেদিত নারীকে সর্ব শ্রেষ্ঠত্ব আসনে বসিয়ে   নতুন নতুন নাম দিতে চায় ,
আসলে নারীও ভালোবাসা শব্দটাকে বড্ড তাড়াতাড়ি বিশ্বাস করে ফেলে ,
,অথচ এই পৃথিবীতে ভালোবাসা বলে কিছু হয় না ....যা হয় তা... হল প্রয়োজন ......আর প্রয়োজনে গড়ে ওঠে সাময়িক প্রিয়জন ।



আবারো উজ্জাপন

কখোনো কখনো আমার ভারতবর্ষে একটা শেষ উজ্জাপন পালন করা হয় ,,,
..... দেশটাকে  কাঁটাতারের ফলকে চিরে ফেলার আগে শেষবার একসাথে এক জমিনে মানচিত্র দেখার উৎসব ,,
ভারতবর্ষেকে মা বলে ডাকি দেশকে পরিচয় করে বাঁচি ,  নগরে লুকিয়ে রাখা হয় জানে আনজানে কাহিনী স্তুপ, ,
তবু নতুন গল্পের তাগিদে পুরোনো অনুভূতি কে ফালাকাটা করে রূপ বদলে  নিজেদের আদলে সাজিয়ে নিই আমরা ,,
 ....এবারও ভাবি না মাটির বুকে লুকোনো নিঃশ্বাসে দম বন্ধ   আমার দেশ  বড় অসহায় হয়েও আমাদের পরিচয়কে হারাতে দেয় না ।

পুরনো সংকল্প চাপা পড়ে থাকে কঙ্কাল সার দেশটার বুকের অস্থি মজ্জায় ,,,
 আর আমরা ...এই আমরা মেতে উঠি নতুন আরো নতুন কোনো উৎসব উজ্জাপন নগ্ন হতে ।

আসলে আমরা পোশাকের ভেতর এক একটা না পোশাক পরা মানুষ ,আসলে আমরা একটা কিচ্ছু না হওয়ায় একটা কিছুর জাত ,,,

আসলে জানোয়ার এর জাত চরিত্র না বদলালো 
এই মানুষ নামক প্রাণীটি বড্ড রং বদলে ফেলতে পারে যেকোনো সামান্যতম ফিকিরেই,

অন্ধকার মানে.....

অন্ধকার  মানে কেবল হেরে যাওয়া নয় 
 অন্ধকারে স্নায়ুর সংকেত পড়তে সুবিধে হয় মানুষের... ।

____নদীর  অববাহিকায় বিপক্ষের দেহ 
 কাঁটাতারের ওপারে রেখে নিরীক্ষণ করে নেওয়া যায় নিপুণ ভাবে অন্ধকারে ।

___ লাল পিঁপড়ের সাথে মানুষের তফাৎ নেই খুব একটা সুযোগ আর পথ অবরোধ মানুষও পারে না মেনে নিতে।

দু-হাত পাতা ভেজা মেঘে  হাতের ধুলোবালি ধুয়ে গেলেও সবটুকু আয়না হয়ে ওঠে না ।

________খড়কুটো রেখে দেয়  শ্বাসকষ্টের কয়েক ক্রোশ দূরে খানিক বাঁচবে বলে ।

 তবু কেউ কেউ ডাক নাম বদলে ফেলে পাথুরে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে , আমারও অমন সাধ ছিলো অথচ  আমার কোনো ডাকনাম ছিল না কখনো...।

অন্ধকার  মানে কেবল হেরে যাওয়া নয় 
 অন্ধকারে  মানুষের স্নায়ুর সংকেত পড়তে সুবিধে হয় ... ।

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

তোমার মত উৎসব

যেসব সম্পর্কের নাম ছিলো না  দেহের সন্ধিস্থানে তারা  আগাছা  হয়ে জন্মায়... বেড়েও ওঠে যত্ন ছাড়াই।

  নিরুত্তাপ ব্রেল-এ লেখা শহরে আসছে উৎসবের বিজ্ঞাপন ,,... মৃদু অন্ধকারে হইহই সঙ্গম সেরে নাও ঠিক উৎসবের আগে এসব কথা  জানি ... ।

আগুনে পুড়ছে তোমাকে উপহার দেওয়া স্প্যানিশ-গিটার... ,
টুংটাং শব্দে ছিঁড়ে যাচ্ছে তার... দলা পাকিয়ে নোনতা... সূচবেঁধা শরীরে তোমার দেওয়া জখম গুলোও এবার পুড়ছে ... । 
 মেঘ ছিঁড়ে নড়বড়ে কাঠের সাঁকোর কাছে একটা ট্রেন এসে থামল ,,
  ট্রেন থেকে নেমে আসছে  একে একে তোমার গোপন পঞ্চাশটা পাপ ।
 ... গনগনে হাপরের মতো চওড়া বুক..এখন . হানাবাড়ির মত দেখতে লাগে ,
 ফাঁকফোকর গলে কয়েকটা বাদুর মৃত্যুঝাঁপ দিচ্ছে তোমার ভেতর। 
 তোমার বাড়ির সামনের গাছের ডালে ঝুলে থাকা মৌচাকে স্বপ্ন আর ফিসফিসে হাতছানি ভরে দিচ্ছে ভেজা পাতারা। 
ভিজে পায়রার বকুম বকুম  আর  কাগজফুলের নড়াচড়া... সারা শরীরে লেপটে আছে অকপট অপূর্ণতা ভরে কেবল যন্ত্রনা ...
 শ্মশানের হিমগন্ধের মতো তোমার শরীরের গন্ধ ...আজকাল।

গত বছর এই সময়টায় ... বর্ণময় আধিপত্যে আমি  ল্যাপটপে একটা মেঘ ভরে বৃষ্টি রেখেছিলাম তোমার স্ক্রিন সেভারে ।
  হঠাৎ মুঠোফোনের  শব্দ নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে... ভিজে জবজবে হয়ে দাঁড়িয়ে একটা পরিচিত মুখ স্ক্রীনে ভেসে উঠেছিল   .... বাইরে তখন ভীষণ জোরে বাজ পড়ছিল , 
হয়তো সিদিনই অসম্ভব কোনো অকাল মৃত্যুর খবর দিয়েছিল  প্রকৃতি।

বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১

ডাকবাংলোর বৃষ্টি স্মৃতি

ডাকবাংলোর দেওয়ালে আমরা  আমাদের মত ভিজছি,,
 বাঘনখের আঁচড়ের মতো আমাদের অভিযোগ থেকে রক্ত ধুঁয়ে যাচ্ছে ... ,,
স্ফুলিঙ্গতন্ত্রের মায়া আর নেই তেমন ।
  পরিচয় গোপন রেখে আলো রেখে গেছি    বহুবার তোমার  শ্বাসকষ্ট হবে ভেবে।
 শিমুল ফুলের রঙ ও অচেনা গন্ধ... বিদ্যুতরেখা আর পেনসিলে আঁকা মেঘের শরীর এসব এখন আর আমাদের নয় ।
... মুঠো মুঠো বাতাসের বিষ কোনো একদিনের আদুরে নাকছাবি আর ছিঁড়ে ফেলা গীতবিতানের পাতার পাশে বিভাজিত ভুল গুলো বড্ড দগদগে ঘা হয়ে গেছে ,,
.. উপশিরায় রক্ত ছাড়াও গোপন অনেক  প্রবাহ থাকে যা বাইরে থেকে দেখা বা বোঝা যায় না কখনো।
 ... অথচ বৃষ্টি থেমে গেছে ভেবে তুমি দীর্ঘ অন্তর্জলী আনন্দে বিভোর হয়ে গেছ।
 একা মাস্তুলে জমে থাকা অভিমান খুঁজতে খুঁজতে রাত ভোর হয়ে গেছে সে কথা আমরা খেয়াল করিনি কেউ ,,
 নদীর দু-পাড়ে  শহুরে স্যুররিয়ালিস্ট ছবির ফ্রেমে পায়ের নখ সাজিয়ে রাখা থরে থরে ।
   আমাদের শরীরের  সুগন্ধ গোলার্ধ থেকে গোলার্ধে শিকড় ছড়িয়ে স্ফটিক-সন্ধানে বেড়িয়ে পড়ে কস্তূরী ঘ্রাণের মতোই।
 ভূর্জপত্রে ঠোঁট ছুঁইয়ে গন্ধ মেখে নেয় জিভ। তারপর অন্তর্বাস খুলে ক্লোরোফিল খুঁজে দেখা...,,, জলরঙে জীবাশ্মের ভার্জিন হিসেবনিকেশ...করে ফেলে   তুমি দুচার লাইন লিখে ফেলার চেষ্টায় রাত থেকে ভোর পেরিয়ে যাও।
 খোলস ফেলে রেখে ফিসফিসে হৃৎপিণ্ড পুড়িয়ে জৈব খামার থেকে পুরোনো বীজ মাথার খোলস।ছেড়ে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়েই ফেলে ।
ডাকবাংলোর দেওয়াল আমাদের বোবা ব্যর্থতা 
বয়ে বেড়াবে জেনেও আমরা কেউ স্মৃতি মুছে ফেলতে পারলাম না ।

অদৃশ্য

যেদিন যেদিন ঘুমোই  স্বপ্নে একটা পাথুরে উঠোন বিছিয়ে থাকে ... ডেমিয়েন হার্স্ট-এর 'শার্ক'... শুবার্ট-এর সমকামিতা... হিজিবিজি কাটাকুটিতে ফুটে অতএব সে উঠোনে ।

 আমি ঘুম ঠেলে উঠে ক্যানভাসের কাছে গিয়ে   জীবনের নশ্বরতাকে এঁকে ফেলি  । 
মারিয়া অস্টারভ্যাক বা রাচেল রুইশের আঁকা ডাচ স্টিল-লাইফ ফুলের তোড়ার ছবিগুলি আমার চোখের সামনে জীবন্ত গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।

  আর একসময় সমস্ত অনুশাসনে ভয়ানক  বিস্ফোরণ ঘটে গিয়ে ... দেখি  পাথরের উঠোনটা ধ্বসে পড়ছে...,,
সাথে একটা চেনা  মৃতদেহ , সে দেহ জড়িয়ে একটা ঘড়ি  তার কাঁটাগুলোর সাথে  গলে যাচ্ছে...,,  যেন জীবনের শেষ সূর্যাস্ত লেগে আছে মৃতদেহের  সেই শরীরে ।।
... ... এক ঝাঁক গুলির শব্দ শুধুমাত্র আমি ছাড়া কেউ শুনতে পায় না । 
 তার ঠিক একটু পরেই বোর্হেস-এর এক ভিখারি   আমার স্বপ্ন দখল করে নেয়  ,, আর একটা খিল আটা দরজায় দেখতে পাই  সেই স্বপ্নে।
...গত দুদিন  হল  ভিক্ষুক মারা গেছে আমার  স্বপ্নের ভেতর   দাঁড়িয়ে থাকা   দরজাটাও অদৃশ্য হয়ে গেছে ।

পিশাচের মত

হাতের পাতা দিয়ে  পশ্চিমের রোদ আড়াল করি, 
আঙুলের  ফাঁকে রোদের সাথে মিশে থাকা সূর্যের আত্মহত্যার  রক্ত টকটকে  লাল বর্ন। 
.......…..........রাত্রে চাঁদের আলো  হাসপাতালের বিছানায় সাদা চাদরে নেমে এসে বান্ধবতা জমাতে চায় ...আমি সেখানে হাতের আঙুল  রাখি হাতের রেখাদের আলো  মাখতে দিই, 
আমার বলতে এই হাত, পা, মাথা, একখাবলা চুলের বাইরে আর কিছুই নেই তেমন।

হার্ডসন নদীর ভাঁটায় একটা শব আটকে আছে বহুদিন....  উপুড়  হয়ে থাকা শবটার ভেতর ছোট ছোট  মাছেরা  আসা যাওয়া  করছে.... যেন  অজস্র না পুরন  হওয়া  ইচ্ছা,  মৃত্যুর  পর বুঝে উঠতে পারছে না 
দেহ ছেড়ে যাওয়া  উচিৎ  কিনা, 

 যেন  ভেতরে স্তুপীকৃত শেকড় পচে না মোটেই  তাদের অদ্ভুত  বিকলাঙ্গ  ভাস্কর্যের  রুপ.... পিশাচের মত রক্ত খেয়ে আয়ু পেয়েছে বলেই পাতা মেলে ও নিশ্বাস ফেলে জেগে ওঠে  ওরা। 

কৃতজ্ঞতা

দ্রবীভূত  হতে থাকা তুমি আমি ভেসে আছি মেঘ মল্লারের বিছানায়,আকাশের গায়ে আলো লেগে থাকে আজকাল অনেকক্ষন,
নীল নীল ছেড়া ছেড়া  কাগজ ...ঠোঁটের ওপর ঠিক
যেন ঠোঁট রাখা ,
আর ঠোঁটে রাখা দেশ কালের কথা ,জন্ম কিংবা মৃত্যুর কথা ,
শহরের রাস্তায় লাল বাতির সামনে সামান্য থামতে থাকা জীবনের কথা ....ওর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নীরব কদম গাছটার কথা ,,  
সন্ধ্যে নামলেই পৃথিবীটাকে সাজাতে ইচ্ছা হয় দেরাজে   গুছিয়ে রাখা রঙিন স্বপ্ন আর গুঁড়ো গুঁড়ো ইচ্ছার রং দিয়ে ।
আকাশের গায়ে শেষ আলোটুকু আমি গুছিয়ে রাখতে শিখে গেছি আজ বহুদিন ,
গুপ্ত মন্ত্রে আলোর বনসাই আমার ঘরের আনাচে কানাচে ,,
এতখানি অপচয় জীবন থেকে নিংড়ে পাওয়া চোদ্দআনা বড্ড প্রিয় এখন ,, 
আজকাল সমযের কাছে ,ঈশ্বরের কাছে সারাক্ষন 
কৃতজ্ঞতা জানাই ,ওমন নতুন নতুন অস্ত্রের আঘাত যদি দরজায় না পড়তো ..এমন আলোর উৎসব হয়ে ওঠা হতো না । হতো না তোমার ভেতর নিজেকে দ্রবীভূত করা ।

পাগল তুই নিতে পারলি না

"পাগল তুই নিতে পারলি না" ......

আপনার সমস্ত জিনিস গাচ্ছিত করা হলো  আপনাকে  দেখে নিন ...লিস্ট মিলিয়ে ,
শুধু অফেরত যোগ্য সময়টা খরচ হয়ে গেছে ।
দেখুনতো দুটো টিপের কৌটো .....গোটা পাঁচেক শাড়ী ....এক খানা সালোয়ার ....একজোড়া কাঠপেতলের কানের দুল ....খান দশেক চকলেট ....এ জোড়া জুতো .....খান তিনেক গল্পের বই ...
আর চোখ পিটপিট একটা আস্ত পুতুল .....প্লিস 
একবার মিলিয়ে নেবেন ....ও  হ্যাঁ কিছু ছবি যা সময়ের নিজস্ব .....প্লিস একবার ভালো করে হিসেবটা মিলিয়ে দেখে শুনে ফেরৎ নেবেন ।

"পাগল তুই রাখতে পারলি না "....................

এর পরেও.... রাস্তার ধারে দু দন্ড থেমে  একবার ভাববো না আগের চায়ের ভাড়টা চা ঢালতে গিয়ে ভেঙে গেছিলো  গরম চা ধরে রাখতে পারেনি অথবা  ফুটো ছিল...,  তাই আর কখনোই রাস্তার ধারে ভাড়ে  চা খাবো না ...এসব কিছুই ভাববো না ।

"পাগল তুই চিনলি না" ............................

পুনশ্চঃ : আপনার গচ্ছিত রাখা তৈজসপত্রর মধ্যে কিছু অভ্যাস .....কিছু কথা দেওয়া .....কিছু জন্ম নালিশ রেখে দিয়েছিলেন , প্লিস একবার সেসব অক্ষয়-লিপিবদ্ধ অনুবাদ একবার মিলিয়ে নিন তারপর না হয়  ফেরৎনামা  দলিলে স্বাক্ষর করবেন ।

.......পাগল তুই..... যা তোকে  আমার থেকে মুক্তি দিলাম,  আর আমাকে তোর থেকে মুক্ত করলাম, 
জানি এরপরেও তুই রোজ আসবি নিয়ম অনিয়ম মেনে বা না মেনে..... তবে এবার অন্দরমহলে  নয়  পিড়ে পেতে বসবি বাইরের উঠনে, জল খাবি জিরোবি বাইরে থেকেই.... ফিরবি পুরোনো  ফুটপাতে। 

....................পাগল তুই নিতে পারলি না..... 


অন্য মুখ

 প্রতিনিয়ত নিজের ভেতর দেখি অন্য একটা মুখ ..
 অসাধারণ  ভাবে সে মুখ  তলিয়ে যায় নিজস্ব গতিধারায় ।

আমার  পানশী নায়ে পূর্ণিমার আলোয়
গোঁসাই এর হাত ধরা হয় না আজও...;

 হওয়ায় হওয়ায়  শ্রাবণী সন্ধ্যা গুলোয় চেনা মুখ অচেনা আদলে দৃশ্যে ভেসে ওঠে ..।
 অকারণ নিজের হৃদয়ে অন্য কারো স্পন্দন শুনতে পাই...।

আমার আর এখন বাঁচার মতো করে জীবনের 
উৎযাপন করা হয়ে ওঠে না..।

আমার 'কাল' নিয়ে গেছে ক্ষুদার্ত রাক্ষস কোনো অন্ধকারের দিকে ।.
কি অদ্ভুত অথচ ,  আমার বিবর্ণ 'আজ'-এ পড়ে আছে  বর্ণিল বনিক মৃত্যুর অবশেষ;

আবীর রাঙা সন্ন্যাসী আর আমি পিঠোপিঠ বসে থাকি , কখনো বা মুখোমুখি অথচ স্পর্শ পায় না মন ।

সুর

জন্ম মানে অজানা সুর  যা বুকের পাঁজরে সেতারের তারের সাথে আলাপ জমায় জন্মদুয়ার থেকেই। 
ওস্তাদের   নিবিড় সুরে নিরুদ্দেশ ভেসে বেড়ায় প্রহরের পর প্রহর রাগ । 
উড়ে যাওয়া একফালি ডানা ছায়া ফেলে একটু একটি করে জীবনের কার্নিশে। 
ভিনদেশি গানে মুগ্ধবোধ পেরিয়ে যায় অতি পরিচিত কেউ .....এমনটা  প্রাচীন নিয়মের মতই সত্যি।
বাকি পরে থাকা  নির্যাসটুকু লেখা থাকে শববাহকের শেষ প্রচ্ছদে।

অক্ষমতায় যারা ছুঁতে পারেনি ওই  পচাগলা দেহ আগে কখনো , তারাও আজ  মিল খুঁজে আমার  ভাষার নতুন মুখরোচক অর্থ থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করে ।

 এটা ভেবে নিজেদের সান্ত্বনা দেয় যে, কারো রাঁধা

 ভাতে ছাই দিয়ে রাজা কে খেয়ে ফেললেই জমি দখলের  ...কেল্লাফতে ।।

সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১

ঘুম লেগে থাকে



 মহাপ্রলয়ের ভেতর  আমি দীর্ঘ পথ হাঁটছি
এক মহাপ্রলয়ের মধ্যি খানে কোনো সকালে  আমার ঘুম ভেঙে গেছে।
তবু  আমি কখনো স্পষ্ট দেখতে পাই না আমার পুঁতে রাখা জন্মদের।
 ভিক্ষা চাইতে বেরোই অদৃশ্য রঙের  সময় কে ঝুলিতে নিয়ে ।


 সমস্ত বকেয়া পাওনা  সাঁতার কাটতে কাটতে  উৎরে যাবে একদিন জানি — তবু 
আগের  প্রজন্মের কাছে জানতে ইচ্ছা হয় কি ছিল সে পাপ যার জন্য ভগ্নাংশে জীবন 
 সম্পর্কের কাটাকুটি খেলায় আমি মঞ্চস্থ হয়েছি।
আমার পৃথিবী কেনই বা  আটলান্টা শহরে বর্ষা-নক্ষত্রের জল কুড়োয় প্রতি নিয়ত ।
কেনই বা  মাথায় হামাগুড়ি দেয় বটের শেকড়ের মত   ব্যর্থতাগুলো ?
খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে আঁকড়ে থাকা সম্পর্কের ভাঙতে থাকা কারণ গুলো ?
শ্বাসকষ্টে হাততালি মারে  সাম্রাজ্যবাদ  প্রেম 
হয়ত কোনদিন কবিতাও মুছে যাবে আমারই মত গোপনে। 

 অনেকবার ঝরে যাওয়ার পর
নিচু অন্ধকারে তৃতীয় বিশ্বের অভাবের সারিতে আমি দাঁড়িয়ে থাকবো ছবিতে ।
 
সবাই  চার অক্ষর জীবন কাটায় সাবধানী হয়ে ,
আমার সেরকমটা আজন্ম পাওয়া হয় নি  ,,
 
প্রিয় মানুষের শরীরে ঘন হয় রক্তের যৌনতা, 
তাই এক জীবনে যেখানে যতদূর হেঁটেছি  ততদূর
 লুডোর ছক্কাবন্দী পরিবর্তন এসে হাজির হয়েছে,,  

 এখন আমার অজস্র ঘুমের ভিতর ক্রমশ ঘুমিয়ে পড়ে এ শহরের  সভ্যতা।
তবু আমার চোখে অজস্র ঘুম লেগে থাকে দিনরাত্রি।

খুঁটি তুলে ফেলা দরকার

খুঁটি গেড়ে বসে আছে কেউ রক্ত মাংসের জমিনে ,

যত দ্রুত উপড়িয়ে ফেলতে হবে ভাবি  মাধ্যাকর্ষণ আরো গভীর পুঁতে ফেলে খুঁটি ,

অথচ জরুরি সামান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সময়,
 এই খুঁটিনাড়া উপড়ে ফেলতে হবে যেভাবেই হোক এক্ষুনি। ,
সুনীলের বুক থেকে যেমন জরুরী নীরার শেকড় উপড়িয়ে ফেলা .....
বুড়ো বটের শহর নয়তো ঢেকে যাচ্ছে চুল চুল শেকড়ের বন্ধনে আর বুকের ভেতর সমস্ত রক্ত শুষে খাচ্ছে জোঁকের সে জাতপ্রেম হয়ে  ।
বিষয় গুলো ফুরিয়ে গেছে সেই কবেই তবে কেন মিছে শব্দ জব্দের চিঠি চালাচালি থামেনি  !

ধোঁয়ার নীচে কালসিটে পড়া আঘাত লাগা অঙ্গ গুলো কেটে ফেলতে হবে মুহূর্ত দেরি না করে ...,,

সুনীল এগিয়ে গিয়ে বরুনার বুকে   মুখ গুঁজে ফেলতে পারলেই পৃথিবী চিরকালীন কাব্যময় হয়ে উঠবে ।
রাস্তার কোথাও একটা বাঁক থাকা দরকার ....দরকার ভীষণ রকম ,,
একটা দেহে কাঠ কুঁড়িয়ে রাখা জরুরী ...আর অন্য একটা দেহে  দরকার রক্ত মাংসের জমিনে গেড়ে থাকা অক্ষয়িষ্ণু খুঁটি টা হেঁচকা টানে তুলে ভাসিয়ে দেওয়া  ।
হওয়াই  তো পথ বদলে ফেলে বদলে ফেলে পুরোনো সমস্ত ফিকির ।

অবশেষে

হাওয়ায় লেগে  পোড়ানো মাংসের  গন্ধ
 দাঁতের করাতে রাখা বুকের  চর   ঢেউ  গুলো  নীল সীমানা ধরে ভালবাসা  খুঁজে  আসে,   কবরের ভেতর উৎসব  আর ফুলের মেলা, 
হাওয়ার  সঙ্গে  তার মিল ভীষণ ,  সমুদ্র শুধু মনের খবর মেলে ধরা ছাড়া তেমন কিছু পারেনি,  
বাকি সময় হাওয়ায় মাংসর  আমিষ গন্ধ লেগে থাকে সারাটাক্ষন  |
ক্যানভাসের  ছবি গুলো  গলা  জড়ায় , সাঁড়াশির মত দম ধরে মনে করিয়ে দেয়  সফরনামার কথপোকথন , 
 প্রখর  উষ্ণ এবং রোমাঞ্চকর আলিঙ্গনের 
কথাও বয়ে  আসে   হৃদয়।
 কি পায়  মন জানি না, 
আঁকড়ে ধরে মাটির মতন চিবুক থেকে নখ অবধি শুধু  অজানা অসুখ ছাড়া কিছুই তো ভগ্নাংশে  রাখা নেই,

 আর সঙ্গে আছে
 গুঁড়ো হলুদ সময় , আর  অতিরিক্ত  নুনে তরকারির মত স্বাদহীন  একাকিত্ব,  
এক অসুখে দুজনের  অন্ধ হওয়া  হয় না শেষ মেষ  ! 
হাওয়ার মাংস  পুড়তে থাকা  গন্ধ 
কেউ ভুলতে পারিনি আজও। 

রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১

নাম তার ...আ.. লো...


 ছুঁয়ে থাকা  জ্যামিতির কোন সমস্ত সরলরেখা দের জুড়ে  পাহারা  দেয় প্রিয় জানলায় ।

ভিজে  চোখের কাজল বলে দেয়.. না থাকায় থেকে যাওয়া কতটা গাড় হতে পারে,,,

বেলওয়ারীর সব ফুল নবিশের সাথে সাথেই শুকিয়ে যেতে থাকে চিরকাল ।
নৌকার সারিতে ভোর লেগে ভাটায় ভাসায় স্মৃতির স্রোত......।
 রাতের তারাখসা সকালে আর তেমন  কেউ মনে রাখে না ....,,,
 তবু  অপেক্ষায় আলো খুঁজে অন্ধকার সাঁতার দিয়ে চলতে চলতে
নোনা লেগে যাওয়া  খাতাটার শেষ পাতায়,
 হারানো কম্পাস খুঁজে পেয়ে যায় যে হৃদয় 
তার নাম কেবল আলোই হতে পারে ।

শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

আলোর পথ

কেউ ছিলাম না কারো কোনোদিন,  শুধুই আলোর পথ বদলে বদলে ছায়া পথ মাত্র, 

কারো সন্তান, কারো মা, কারো সহধর্মিণী , কারো প্রেমিকা নয়... নয় কোনো গন্তব্য ..। 
এসেছিলাম শুধু এক তারিখ হয়ে.. ফিরবো কোনো তারাখসা রাতে, 
হাজার জন্ম দাগের মত ভুলে যাওয়া  চিহ্ন মাত্র,

 ভুলে যাওয়া  স্বর্গ দুয়ারে বহু মুখ একই ঠিকানায়, 
প্রতি মুহুর্তে  বদলে যাওয়া  আলোর পথ মাত্র..।

বহু পথিকের একই  পায়ে-হাঁটা  গল্প হয়ে হারিয়ে যাওয়া  শুধুমাত্র .. কেউ ছিলাম না কখোনো  কারো। 

এ শহর

নগরের উপকথায় আলেয়া জুড়ে  জুড়ে  নিছক আলোর স্তুপ নয় ,  
বানানো  সিলুয়েডে  খানিকটা  ভালবাসা খানিকটা অভ্যেস মিশে যায়  জীবনের  চুপকথাগুলোয়, 
চেনা  নাম ধরে কারো চেনা  ডাকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে স্টেশন , 
দুরত্বে  ফলক কখনো  কারো খুব কাছে... কখনো  কারো  থেকে দূরে সরতে থাকে, 
কোনো  উপকুলে কিছু না চাওয়া আলো  নিভতে নিভতেও  হাসছে আজও, 
শীতল-পাটি বিছিয়ে রাখা অনেক দিনের জমিয়ে রাখা তিস্তা নদীর অবলা  অনুবাদ সেও  লুটিয়ে পড়া বসন্ত গোধুল।  , 
এ শহরের স্মৃতির আলো  চলাচল .... 
এ শহরে বোবা ইমারতে প্রেম আসে প্রেম যায় সংগোপন ... 
এ শহর হাজারো  রুপকথার  জন্মদিনের সাক্ষি...., 
এ শহরের বইমেলায় প্রেমিকের হাতে উপহার প্রথম আলো ... 
এ শহর সাড়া দাও.... 
এ শহর হাত বাড়াও.... 
এ শহর একসাথে বুড়ো  হবার কথা দাও... .. 
এ শহর মুঠো  মুঠো  কুড়িয়ে রাখা আলোর গল্প বলো। 



বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

আমার সেই গাছ

গাছটি  তিরতির কাঁপন গভীর  অস্তিত্ব  ছিল একদিন,   অথচ জায়গা ফাঁকা করে চুপচাপ  চলে গেছে কবে যেন,, , 
গুঁড়ির বাকলের ফাটলে আজ যে পিঁপড়েরা চলাফেরা করছে তারা একদিন শিকড়  থেকে হেঁটে  মগডালের দিকে তীর্থ যাত্রা  করেছিল _____পেয়ে গেছিলো   মানষসরোবরের মত নীল আকাশ.....জন্ম সার্থক  হয়েছিল সেই সব দিন গুলোয়,,, 
 অথচ আজ তৈজিসপত্র সমেত সমস্ত কিছুই  বেওয়ারিশ  পড়ে রইলো, 
 ঠাঁইনাড়া কখন যেন সমস্ত  চলে যাওয়ার  বিচ্ছেদের  সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে  থাকলো একলা হয়ে। 

মাঝে মাঝে মনে হয় সব যদি ঠিক থাকত, ...ইমারতে ঘুন না ধরতো,  
যদি সেই নিজস্ব দেশটা  থাকত, 
গাছটা যদি বেঁচে  থাকতো   তবে উজ্জাপন হত দুশো  বছর,,,
, মনে হয় সবাই গেছে যাক ... নাহয় গাছটা তো থাকতেই পারতো সে তো আমার সাথে  অতিবৃদ্ধ হতে পারত ,  
 অমর হয়ে  এই অন্য দেশেও অনন্তকাল  না হয়  ছায়া দিতেই পারতো ।
  তবু এমনটা হল কই সব কিছুর মতই সেও শর্তপেক্ষ হয়েই ভালবেসেছিল বোধহয় । 

এসব যখন লিখছি সুড়ি পথের দিক থেকে জানলার শার্সি  বেয়ে একটা পোকার টিকটিক শব্দ মিশে গেলো  কবিতার কয়েকটা  বাক্যে, আজকাল  আমায় যেন  কেমন  অর্থহীনতায় পেয়ে বসে মাঝেমধ্যেই ,  
সমস্ত ফাঁকা  জায়গা গুলোয় অচেনা  মায়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়  হঠাৎ হঠাৎ । 
শেষ  রাতে  নাদের আলী আসে আমার স্বপ্নে লণ্ঠন  হাতে তার,,,,
, আলো  কে সংগি করে আমরা তিন প্রহরের  বিলে গিয়ে দাঁড়াই ..শ্বেত পদ্মের মাথায় সাপের খেলা দেখতে থাকি বিভোর হয়ে ।
  তার পর ভোর ছুঁয়ে  বোষ্টমীএর একতারায় সেই গাছটাকে মনে করে  মনে মনে জড়িয়ে ধরে ভালবাসি অজস্রবার,,,  
আমার ক্ষনজন্মা ফুরিয়ে যায়  এইভাবে  নটে গাছের  মতই।

উত্তরের বারান্দা

এভাবেই ভালোবেসেছিলাম  
অজস্র  ভাঙাচোরা ডালে ছেড়া ছেড়া বাকল লেগে থাকতো তখন তার,
সকাল বিকেল সন্ধ্যে বা রাতের ঝড় বুক পেতে আড়াল করতাম তার শেষ না হওয়া জন্মতক এলোমেলো  নালিশ ,
তার কাছে  উড়ে এসেছে নানা পালক
স্রোত বলতে যা বোঝায় .. আমি পাড়ে বসে দেখেছি সে সব দৃশ্য,
আজ যারা আছে তারা কেউ ছিল না সেসব অভাবী  দিনে
তবুও কেমন যেন বদলে ফেলতে চাইলেই বদলে ফেলা যায়  চেনা  সুর যা কখনো 
লেগে ছিল নদীর শিরায় ,
আজ  চিহ্ন হীন সে সব গল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম  ...।

এভাবে কেউ নিজে থেকে  হারিয়ে যায় আলোর শালবনে   , হলুদ পাতার ভিড় দেখে,,,
ইচ্ছে হয় তাদের সান্ত্বনা দিই...
মিথ্যে বলার ঢঙে যারা পৃথিবীর বুকে অজস্র কবিতা রেখে যায় ,

এসব মৃত কাহিনীর মেঝেতে ছড়িয়ে পড়া কাচের চুড়ির টুকরো জড়ো করে ______ত্রিপল ও বৃষ্টির সঙ্কট কোণে শরীরের সাথে বেঁধে নিই পুরুষত্ব.হীন _স্নায়ুহীন পুরুষ নদীটাকে ,

পরের সপ্তাহে  আমি আরো খানিকটা  বুড়ো হয়ে যাব,, আরো ...খানিকটা  ফ্যাকাশে হবে আমার চোখের ভাষা ...
রাস্তা পার হ'ব হয়তো  একটু বেশি সাবধান হয়ে ।
পরের সপ্তাহে তুমিও  পুরুষ হিসেবে বেশ খানিকটা  পাল্টে যাবে জানি ,
মেঘ ছুঁয়ে থাকা  শরীর থেকে মুখ সরিয়ে নেবে  হয়তোবা ,, বহুদিন ___বিষবাষ্পতে মুখ ঢেকে আছে জানি ।

 আজ সন্ধ্যা ছিঁড়ে পড়ছে  বৌদ্ধিক বর্ণে
ঠান্ডা গলার আওয়াজে  উচ্চারিত হয় অজানা প্রবাদ __তোপধ্বনির মতো ,,
অদ্ভুত শাসনে রাত্রির আকাশ জুড়ে
খেলে বেড়ায় নক্ষত্ররা আমার উত্তরের বারান্দায় ,

নাভির তরঙ্গ পেরিয়ে যাই আমি
একের পর এক স্নায়ু ছুঁয়ে থাকা
........ইতিহাসলিপিদেরও পরিচয় করিয়ে দিতে পেরেছি জেনে ভালোলাগে  .....ভালোবাসলে ভাঙাচোরা দিনেই কাছে থাকতে হয় ...আর তখন প্রতিটা শহরের চতুরর্ভুজে একটা উত্তরের বারান্দা ঠিক জুটে যায় ।

(.....ধ্রুব কথা)


রাক্ষস

এক রাক্ষসের  গল্প রাখা বুকের ঘরে, 

এক বাদুড়ের  রাত জমে থাকে ফাঁটা কার্নিশে, 

মুছে যাওয়া  শোক কথা  না রাখা বৃষ্টি  ফোঁটার 
মত আমাকে ভিজিয়ে দেয় যেকোনো  সময়ে, 

ক্ষয়ে যাওয়া  ঘাটের কিনারায় না ঘুম আসা রাত সয়ে যায় , 

রাক্ষস  ফেরে না বুকের চিলেকোঠায়,  সমস্ত সংসারে  তার নখের দাগ রেখে গেছে গল্পটা মুখরোচক  হবে বলেই, 

তাই একশো  তিমির শিকার থেকে ফেরার আগেই 
মহাজাগতিক  সৎকার  ভীষণ  জরুরী , 

হয়তো বা আজ ভোরের স্বপ্নে সে ফিরে এসে নতজানু হয়ে পুরনো  ইমারতে ফিরতে চাইবে, 

বৈঠকিয় কোনো  ঘরে সে রাক্ষসের  প্রবেশ হবে না তাকে জানিয়ে দিতে হবে ছাদে রাখা পিন্ড থালার পাশে চিরকুট  রেখে। 

সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০২১

আগুনে পুড়ে যাওয়া মেয়েটা

মেয়েটি আগুনে পুড়ে ছিল ____ পোড়া ঘা সেরেও গেছিলো,,

  কিন্তু কেউ লক্ষ করেনি বলে সে ঘা বুকের সাথে জুড়ে গেছিলো , 

 অথচ আগুন তার বুকে থাকলেও মুখকে স্পর্শ  করেনি। 
 মেয়েটির কোঁকড়াচুল  কেউ এবড়োখেবড়ো  করে কেটে দিয়েছে __ মেয়েটির নাম "ফুর্তি " 

মেয়েটি এখন কালিপার্কের মোড়ে এক মহেন্দ্রক্ষন ঘড়ির কাঁটা বুকে নিয়ে অমিতের দোকানে রোজ  পাঁচটাকার মুড়ি কিনতে আসে, 

সেদিন অমিত  আলুথালু  শাড়ির ভাঁজে মেয়েটির পোড়া বুকের দিকে তাকিয়ে গল্পটার ওপর কিছুক্ষন ছুরি কাঁচি চালাতে চেয়েছিল। 

মেয়েটি অমিতের দোকানে দাঁড়িয়ে  বলেছিল বুকে লুকোনো  দগদগে ঘা থাকলেই বেশ্যা ভাববেন না দাদা,,,  
আমি মুড়ি অন্য দোকানেও কিনতে পারি ___আপনার  দোকানে আমার পুড়ে যাওয়া  কারন রোজ পুড়তে আসে তাই আমিও.....।


বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

বলগা হীন

 আজও চল্লিশের দরজায় সীমাবদ্ধ হওনি তুমি শস্যহীন মাঠে..।।

. পিছিয়ে পড়ার ভয়ে পিছুটান রাখোনি  রাখনি কথাদের কখনও। 

বারংবার নিজের পাঠাতন কেটে  নৌকা ভাসিয়েছ
হওয়ার দিকে যে স্রোত বয়েছে  সেই স্রোতে,

 যেখানে শব্দবীজ থেকে  নিপুণ মুদ্রায় জন্ম থেকে ঝরে কর্ম আর কর্ম থেকে নির্ধারণ হয় দেহে বেড়ে ওঠা গাছেদের চরিত্র , 

তেমনি  সেদিনের সে প্রিয় অসময় এর গাছে গাছে আজ অজস্র মাকাল ফল জন্ম নিয়েছে , তাদের ভালোবাসতে  না  পারলেও  অবহেলা করার সাহস নেই । তারাই শরীরে বিঁধে থাকলো গোপন পাপ হয়ে।

না চাওয়া সফরে

সমস্ত  প্রপাতে আমার দূরত্ব মেপেছ ইশারায় নাম না জানা কিছু চরিত্র।

 কখনও বজ্র-বিদ্যুতের ঢঙে পুরোনো  সেতুর রঙ মিশে গেছে  আচমকা  কোনো পাতাল পুরীর রাক্ষসপুরে।

 প্রজাপতি ছোঁয়া আবছা এক দৃশ্যে কেউ  দরজার পাশে দাঁড়িয়ে হাসে ..

.  আমাকে দাহ করে ফিরে আসা দলকেন  কাটারি আর নিমপাতা ছোঁয়াও এটা ভেবে যে, 
তোমার গায়ে প্রেতাত্মার হওয়া যেন না আসে।

তবু কখনো কখনো এত দীর্ঘ মৃত্যুর পরেও  পালকের মতো  আমি ভেসে যাই তোমারই রক্তের স্রোতে। তুমি না চাইতেই আমাকেই বয়ে বেড়াও আদ্যপ্রান্ত।

সহযোগিতা

তোর সহযোগিতা ছাড়া এতখানি দুঃখ আমায় কখনো ছুঁতে পারত না।

তোর সহযোগিতা ছাড়া এমন অন্ধকারকে জানা হত না আমার ।

তোর সহযোগিতা ছাড়া আমার আমাকে এমন ভেঙে চুরে তছনছ করে দেখা হত না কখনোই ।

তোর সহযোগিতা ছাড়া প্রতারণা শব্দটা উপাধান থেকে আমার উঠোনে নেমে আসতো না কখনোই।

তোর সহযোগিতা ছাড়া এই শহরটার থেকে মুখ ফেরাতে পারতাম না কখনো ।

তোর সহযোগিতা ছাড়া সম্পর্ক শব্দটা চরম অপমান  ঠিক কেমন দেখতে লাগে  দকেহ হত না কখনো ।

তোর সহযোগিতা ছাড়া কাঁটা তারে নিজের দেহটাকে ঝুলিয়ে কেমন করে রক্ত মাংস হাড় ও করোটি কে আলাদা করে দেওয়া যায় ...শিখতে পারতাম না ।

তোর সহযোগিতা ছাড়া নাটক আর জীবন কে এক মঞ্চে কি ভাবে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে নিজেই সমস্ত দৃশ্যে হাততালি কিভাবে দিতে হয় ...জানতাম না ।

নাহ এমন অগুনিত জটিল বুনন এর গিঁট আমি পড়ে ফেলতে কখনোই পারতাম না তোর সহযোগিতা ছাড়া ।

আর পারতামই বা কিকরে ...চিরকাল সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো ,দিন কে দিন আর রাত্রি কে রাত্রি বলেই চিনেছি , কখনো সময়ের আদলে লুকিয়ে থাকা অন্তর্নিহিত চেহারা দেখে নিতে হয় জানি না ।

তাই তোর সহযোগিতা এ উপন্যাসের জরুরী সামগ্রী হয়ে থাকলো ।

মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

বাহাত্তর ঘন্টা

হাসপাতালের সিলিঙে  তোর ছায়া  সারা রাত
মৃত্যু গল্প শোনায় ।
 তবু কোনো কোনো দিন  বিকেল বেলায়
তোর ফোন আসবে বলে  দূর করিডোরে একা একা ঝুলন্ত রক্তের বোতলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি। ।
  
 সময়ের সাইরেন   দিগন্তে মিলিয়ে যায়
 তোর চাকার ফাঁকে লাফিয়ে ওঠে  বর্ণময় জীবন ,
স্বর্গের  একপাশে দাঁড় করিয়ে মৃত্যুকে 
 আমি দ্রুত হাঁটি  আলো নিয়ে আলোর দেশে ।

ছায়ার নীচে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটা নদী তখন আমার প্রিয় নদী হয়ে ওঠে ।
  .   ফিরে চায় না  কেউ কখনও দুঃখ ....তবুও সুখের সময় বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় ,
 ফুরিয়ে যায় চামড়ার রঙ ,,
   সাঁকোর আড়ালে গোপন পায়ের ছাপ আঁকতে ভালোবাসিস তুই , 
তবু  বিয়োগফলের টুকরো   জিভে ছড়িয়ে পড়ে তোর থেকে আমাতে ।

একাকীত্ব ভালো লাগে ভীষণ রকম ।
 শ্লোক ও তার উল্টো পথে হেঁটে আসা সম্পর্কেরা বারবার দূরত্ব তৈরি করে বলেই একাকীত্ব প্রিয় ।

 ক্ষত এতটাই গভীর যে, দৃষ্টিপথ ছুঁয়ে আসে না আর , 
ছায়াভাঙা পাড় থেকে তুই অন্ধের মত বেঁচে থাকা আঁকড়ে থাকিস   ... , আমি বিপরীত দেওয়ালে  আড়াল চিরকাল । 
আগুন হাত বাড়ায় ভীষণ কাছের কোনো মনে  ঝুরঝুরে, নিরুপায়, বিষহীন দেহের দিকে পথ এগিয়ে যায় । 
একসাথে বেঁচেছিলাম একদিন   সহবাসে ছিল কাঁপন লাগা বিস্ময়  ।
আজ অলীক বাউলগান সাঁকোয় জমিয়ে রাখে বিচ্ছেদ ও বিদ্রোহের  ইতিহাস।
 ... পারাপার ফিরে আসে বিদ্রোহী নদীর কাছে  বারংবার । 
জরুরি কিছু প্রশ্নের খুঁজে  উত্তাপ বুকে এঁকে নিই, ... হৃৎপিণ্ড পুড়ে যায় অমন দীর্ঘশ্বাসে। 
দীর্ঘশ্বাস বয়ে চলে আঙুলের ধার ঘেঁষেও ...

আমি হাতের তালুর মাঝে রেখা ধরে
 হেঁটে আসি রোজ রোজ ।
   সারাদিন ... সারাক্ষণ আলো হয়ে ছুঁয়ে যাই এই অন্ধকার হাসপাতালেও,
গতজন্মে বৃক্ষ হয়ে ওঠা শ্বাসমূল
যার নিচু ডালে ঢিল বাঁধা 
আর সে সব রোগা ডালে ঝুলে আছে
 বিচ্ছিন্ন দু-একটি করোটি, 
আমি সেসব ছবি এই 
হিসেবহীন করিডোরের দেওয়ালে এঁকে রাখলাম 
সমস্ত আগন্তুক প্রেমিক প্রেমিকার উদ্দেশ্যে।


সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১

ভালোবাসা নাকি ....!!!

"ভালোবাসা নাকি ট্যুরিস্টের মতো।
 মানুষের মনে কদিন ঘুরতে আসে। তারপর মুগ্ধতা কেটে গেলে অন্য কোথাও চলে যায়"।।
ভালোবাসা নাকি অতিথি সামান্য কিছু দিনের মোহ,
ভালোবাসা নাকি দুচার লাইন কবিতায় রাখার শব্দ সমষ্টি ,বেশি দিন ধরে রাখলে নিজেকে ভারী মনে হয় ,
আমার কখনো ভালোবাসা হয়নি তাই এসব 
শব্দের বিচার আমি কখনো করতে পারি না ,
এজন্ম কেটে যাক এমন ভালোবাসা হীন হয়েই ,
ঘুন ধরা দেহে ভালোবাসা আসলে বেমানান ..।

...তবু ড্যানিয়েল তার গিটারের সুক্ষ তারে আমার যাবতীয় স্বরলিপি দের গুছিয়ে রাখে ইদানীং ..
আমার শেষের দিনগুলো হাসপাতালের বিছানা  আর ড্যানিয়েল বড্ড কাছের করে নিয়েছে আমায়। , 
যারা কথা রাখতে চায় তারা কখনো বৃষ্টির কবিতা লেখেনি একথা ড্যানিয়েলকে দেখে জেনেছি ,

আমি থাকবো না যখন ড্যানিয়েল এর কাছে একমাত্র গচ্ছিত থাকবে এই মৃত পাণ্ডুলিপি ,
.....হয়তো কফিনে সাজিয়ে দেবে সাদা ফুলের সাথে এই খয়েরী রঙের পাণ্ডুলিপিগুলো । ,

.........ভালোবাসার অপেক্ষায় তবুও কখনো কখনো  হাসপাতালের দরজায় শেষবার চোখ রাখি ...
হয়তো আসবে সে আমায় না জানিয়ে ,,।।

....ড্যানিয়েল আক্ষেপে  বলে বছর কিছু আগে কেনো আমায় সে পায়নি ...আমায় নাকি তার স্বরলিপির শ্রেষ্ঠ রচনা বলেই জেনেছে ।
আমি হাসি ....এমন শ্রেষ্ঠত্বের উপমা আমার কম ছিলো না ...কেউ কেউ বলতো আমি নাকি নারী হিসেবে শ্রষ্ঠ ....কেউ কেউ বলতো আমার সহ্য ক্ষমতায় এক ঈশ্বরীয় প্রভাব আছে ,
আমি এসব উপমায় কখনো ভালোবাসা দেখিনি ,
কেবল নাটক মনে হয়েছে ,,
ড্যানিয়েল তাই আজকাল চুপ করে থাকে আমার চ্যানেল আর সিরিঞ্জ এর প্রবাহের দিকে তাকিয়ে ।
আর আমি ভালবাসা শব্দটা দেখি ঝুলতে থাকা স্যালাইন এর বোতলে ।


হিরোশিমা নাগাসাকি

বুকের মাঝে হিরোশিমা নাগাসাকির ...বিক্ষিপ্ত 
সময়,,, প্রতিটা জানলায় চমক লাগা মৃত্যু ,
ছিয়াত্ত্বরেও আজ দেখো কাঁচা রক্তের বাস , শুকোয় না রক্ত কিংবা কান্না কোনোটাই , 
দেহের পাশে আজ আর রজনীগন্ধা রেখো না ..
মৃত্যুর বুনন মাছের কানকোর মত গাড় লাল হোক। ।
আজ বাইশে শ্রাবণ নয় বলে হৃদয়ে বৃষ্টি নেই ..
আজ হিরোশিমা নাগাসাকি বুকের মাঝে রাখা কেবল ...আজ  খুঁজে পাওয়া তারিখে লেগে থাকা অজস্র  দেহজ টুকরো গুলো  শুধুই মাংস পিন্ড ।,, 

আমার ঘরে দুধে ভাতের অভাব নেই,  তাই বাইশে শ্রাবণ ছাড়া বৃষ্টি ভালো লাগে না ...কারণ আমি সাবধানী কবি কিংবা আম..জ....ন... তা  ,
আমার বউ বাচ্ছা , প্রেমিকা নিয়ে ঘরে বাইরের সিকুয়েন্স বেশ ভালোই , তাই মাছের কানকো
চেনার দরকার কি !
ধুর মশাই ছাড়ুন তো কবে কোথায় বোমা পড়েছে ..সে তো আমার চার দেওয়াল নয় ...নয় আমার সদ্য নতুন প্রেমিকার আঁচল ....
আমি মশাই ওই দু চার লাইনে কাব্যি করে ..আর ইন্টু মিন্টু খেলে সাইত্রিশে হাঁটছি মধ্য- পন্থায়,।

এর পরেও ছিয়াত্তর পেরিয়ে সাতাত্তর আসবে আসবে একশো .....এ শহর, দেশ, মানুষের হিসেব রাখবে কিনা জানা নেই , প্রেমিক তার কততম প্রেমিকায় থামবে তাও জানা নেই ,
কত গোপন  জন্ম নালিতে বয়ে  যাবে জানা নেই ,
একদিন হঠাৎ মুখোমুখি সন্ধ্যায় সাইত্রিশ হয়তো ছিয়াত্তর হয়ে দাঁড়াবে ..সামনে আজকের সমস্ত বারণ থাকবে কিনা জানা নেই ।
সময় বৃদ্ধ হয় কিনা জানতে চাই না ,......শুধু বুকের মাঝে হিরোশিমা নাগাসাকি বিছিয়ে থাকবে বাইশে শ্রাবণ ছাড়াও ....
এক বৃষ্টি যা সকলকে ভিজিয়ে দেবে , আর কিছু বৃষ্টি শুধুই ক্যালেন্ডারের একটা  তারিখকে  ভাসিয়ে যাবে , ভাসিয়ে যাবে  প্রতিটা জানলায় চমক লাগা মৃত্যুকে ।

রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১

আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...

আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...

 ছায়া... নৈঃশব্দ্য জড়ো হয় পুরনো দৃশ্যে । আমি চৌকাঠ ছুঁয়ে দূরবিনে চোখ রাখি ... পূর্বপুরুষের দীর্ঘশ্বাস  ডিঙিয়ে দিগন্ত খুঁজে চলি...।

আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...

রাতের পর রাত জাগা হলুদ পৃষ্ঠায় আকাশ-রেখাদের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা আর মাস্তুলে জ্বলে ওঠা হাজার বছরের পুরনো আলিঙ্গন।

আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...

গোপন কুঠুরিতে রবির  পাণ্ডুলিপি। 
রক্তস্রোতে গীতবিতান  বয়ে চলেছে  হাওয়ার ভেতর। 

মহাজাগতিক রশ্মির বিপরীতে অগ্নুৎপাত... ছায়া-আশ্রয়ে একমুঠো আলো ছড়িয়ে শরীরে নদী আঁকে কাগুজে নৌকো। সংকল্পে  লুকোনো থাকে একজন ছাড়া হাজার আশ্রয়।
আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...

 
আজ রাতেও ঘুমের অপেক্ষা এই শেষ রোগ শয্যায় ... স্লিপিং পিলগুলি প্রতিধ্বনি হ'য়ে বাতাসের ঘ্রাণে... মিশে যেতে চাইলেও পারে না কারণ ....
আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...,,


 একা কোনো বৃষ্টিদাগ ত্রিমাত্রিক নোটবুকে জলছাপের চেয়েও আরও গভীর উল্কাচিহ্নে... নিরুদ্দেশের লোভে...তোমার দিকে ছুটে যাই কবি ,

ক্যালেন্ডারের ঘর গুনতে গুনতে হঠাৎ সে আবিষ্কার করে... আজ তার মৃত্যুদিন...
আজ পিঠ জুড়ে স্পন্দহীন বাইশে শ্রাবণ...।

হয়তো আর কিছু দিন

ভেঙেচুরে মাত্র কয়েক খন্ড করতে পেরেছো ,
খন্ডগুলোকে আরো খন্ড খন্ড করে ফেলার যে খেলা ...তার ফলাফল এর আশায় লালা ঝরছে প্রতিনিয়ত এই শেষ শয্যায়, ,
ভিতরে এস ...দেখো  দেওয়াল জুড়ে কত মুখোশ  টাঙানো...কোনটা তুমি নেবে? কোনটা তোমার এখনকার চরিত্রে মানানসই পরখ করে নাও ।
...আমার জীবন শেষ হবে আর কিছুদিন মাত্র  ...তুমি কিন্তু হিসেব কষে নিও    যাবতীয় লাভ কিংবা ক্ষতির , এবারে দুর্গা পুজোয় আমার নকশা করা সেলাই ফোঁড় এর পাঞ্জাবী রেখে গেলাম ...।
ভরে থাকলো মুঠো আমার তোমার সকল অহংকারে ,
                                                               .....  ওপর থেকেই  কেবল মৃত্যুর জামা পরে নেওয়া বাকি আছে আমার  ...আগামী কোনো পৃথিবীতে আমার জন্ম যেন তোমায় না অপবিত্র করতে পারে ,।
 .... ভেবেছিলাম আমার এই হসপিটালের শেষ শয্যার পাশে তুমি নিশ্চই একদিন চুপিচুপি আসবে ,হয়তোবা আমার অঘোরে থাকা শরীরটা একবার জড়িয়ে বলবে ...ছেড়ে যাবি না সোনাই ...কিছুতেই আমায় ছেঁড়ে যাবি না .....
 ...কে বলেছে  জীবন জ্যামিতিতে বাঁধা  ...বিন্দু বিন্দু এগিয়ে চলা ?,
 দেখো  শেষের সেই স্থানাঙ্ক নির্ধারণ করে ফেলেছি তোমার সমস্ত একলা করে  দেওয়া  অভিমানি গল্পটাকে ।

শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১

নতুন পেনড্রাইভ

প্রতি যোজনে ঠোঁটের পংক্তি গুলো বদল  হয়... আমার আহ্লাদ তুমি বিকিয়ে দাও বিনা ব্যয়ে, বিনা শর্ত মেনে।

 দিগ‌ন্তে  রাখা টুকরো টুকরো পাহাড়.. আর . চোরাগর্ত নিয়েব ... ইরাকি মদের রঙে সন্ধ্যা না‌মে তোমার পৃথিবীতে,
... আজ না হয়   তোমায়  ঘূর্ণির কথা শোনাব।

 আলোছায়ার অয়েল পেন্টিংয়ে  মি‌হি রঙ... ডা‌য়ে‌রির পাতার এক এক‌টি অক্ষর... ঘুমন্ত গিটারের তার  ছুঁয়ে... ঈশারায়... ব্যঞ্জনধ্বনির ভাগ করে নেয় ,
  কাল তোমার গলার স্বরে আর সেই রাজা রাজা ব্যাপারটা পেলাম না ।পেলাম না তোমার চেহারার রাজ আভাস। বড় অসহায় লাগে আজকাল তোমায় দেখলে ,, একজন হেরে যাওয়া রাজা যেন বুকের মধ্যে কাগজ সিঁটিয়ে চিৎকার করে বলছে শুনছো পৃথিবীর মানুষ এই দেখো আমি জিতে গেছি ,......তোমার বিপরীত দৃশ্যে বেমানান হাঁটতে থাকা দেখতে দেখতে চোখের কোন জ্বালা করে ।

আমি তোমার  চতুর্ভু‌জের বিপরীতে থেকে যেতেই চেয়েছি চিরকাল । 
পু‌রো‌নো প্রে‌মের ম‌তো হঠাৎ নে‌মে আসা বৃ‌ষ্টিরা... ক্রসওয়ার্ড পাজল্ খেল‌বে... আর আমি তোমার মত মলাটে রাখা মানুষের গল্প আবিষ্কার করবো সারাটা দিনে।।

এখন তোমার মাথায় মায়া সভ্যতার শ্লোক...
  মেঘ জমানো  চুম্বন জ‌মি‌য়ে রাখ‌ছো নতুন   পেনড্রাই‌ভে...,,
 ছায়ারা থম‌কে সাম‌নের পার্কটায় রোজ সকালে আমার সাথে কিছুটা সময় তোমার জানলায় চোখ রেখে ..তুমি তখন বিছানা বালিশে নতুন একান্নবর্তী প্রেমের আগলে স্বপ্ন বুনে  নিচ্ছ,
 ... আসলে  প্রবাহ পে‌রি‌য়ে ছেঁড়া ছাতায় ধ্রুপদী বৃ‌ষ্টি আজ কাল আমার ভেতর বাইরে । 
এঁ‌কেবেঁ‌কে নে‌মে আসা জ‌লের ফোঁটা.,আর আধো অন্ধকারে... বুকের খাঁজে  শব্দ ভুলের সহযাত্রীরা একসাথে  ডানা মেল‌ছে মা‌টির গভীর থেকে আকাশের দিকে 

... সন্ধ্যার রেওয়া‌জে রোজ সেই  আমায় খুঁজে নাও তুমি... সাজানো অর্থে... স্মৃতির বর্মে এসে দাঁড়ায়,, হাওয়া  ও ঝো‌ড়ো বৃ‌ষ্টির মা‌নে শিখে ফেলা হলুদ পা‌খিরা ,...।
  ওরা উ‌ড়ে আ‌সে উরুর ভিতর  সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগেই  অন্ধকার লি‌খে দিই তোমার জানলায়... ছায়া-কা‌র্ণি‌শে।
 ভাঙা চেয়া‌রে ব'‌সে ভা‌বি... স্পর্ধিত অভ্যাস বদলায়‌নি এখনও আমার ।
 টে‌বিল ভ‌র্তি স্বর‌লি‌পি...  বি‌চ্ছিন্নতা ভু‌লে পরকীয়া ক‌রি  অন‌ন্তের সা‌থে। 
জল জ‌মে থাকা খানাখ‌ন্দে পা ডু‌বি‌য়ে ভা‌বি...   আমার কু‌য়ো থে‌কে জল তু‌লে স্নান ক‌রে‌ছি‌লে তু‌মি... তোমার শহরের বহুদিন বৃ‌ষ্টি হয়‌নি ব‌'লে...।।

আমায় জড়িয়ে  জ‌ড়ি‌য়ে ... ঠোঁ‌টে ঘন হয়ে এসেছিল  প‌রিপা‌টি ধারাপাত...সব ভুল গুলো পড়বার সেদিন ঠিক মনে হয়েছিল ।

মৃত্যুর সা‌থে মেঘবর্ণের বোঝাপড়া আজও বা‌কি... শূন্যে গ‌ড়ে ওঠা স্ক্রিন‌সেভা‌রে উড়ে যাওয়া  ডানার দাগ... ,,
শেষ মুহূ‌র্তে থম‌কে যাওয়া আকাশটা এইমাত্র‌ ব‌লে গেল...  আর নয় প্লিস আরববৃ‌ষ্টি হ'‌য়ে কাজ নেই...।।

রোগ শয্যা

মুঠো ভর্তি ভয়ে সে ডুবে আছে ভ্রমের আলোতে 
___দৃঢ়তর মূলে
 ষড়-যন্ত্রের শব্দ... অন্ধকারের  ডাক বুকের আধারে...।
____ সে ভুলে যেতে চায়
সবুজ গ্রিলে ঢুকে পড়া মেঘে ঢাকা তারার নাম 
_____ তবুও চোখে দাগ কাটে
প্রিয় অস্থি-শৃঙ্খল,,
... ভুলিয়ে দেয় চুপকথা যা কিছু খোয়ারে লুকোনো পারিজাতীয় ছবি ছিল এ জলের দিনে ধুয়ে যাক রং।

আজ তার ভিটেমাটি  ধুয়ে গেলেও ...সময়  রাখো জলে পা ডুবিয়ে ,,

হে বহতা গঙ্গা ... যেন সে নিঃস্ব না হয়

গভীর রাতে হওয়ায়  বইছে  বুকের গোপন মঞ্জরীগন্ধ,
... আলো ছিঁড়ে যখন ঘুম এল... আমি তখন চৌকাঠ ডিঙিয়ে... পুরোনো  শকটে। 
এভাবে কাঁদিনি কখনও... বুকে বালিশ রেখে।

 ভাঙা চাকায় শিস দিচ্ছে আয়ুধঘর... তুলসিমঞ্চ। ধুনোর গল্প বিষবন্যায়... আলপথের তার  দশ আঙুলের ছাপ  ।
 হেমলক-এ ... পা রাখা চৌকাঠ । 
নিকোটিন  পুড়ছে ঠোঁট থেকে বুক অবধি ।
.. পাতার কিনারায়  উপম আভাস করছি ,
...  জলের ছবি আর্যাবর্তে ফেলে আসে কেউ কেউ ... মাদল গায়ে আমি ও সে কোপাই ঝাঁপ দেবো একসাথে কথা ছিলো ।
আজ সেসব  খইয়ের রঙ এই মত  ,, খইয়ের সাথে বাতাসে উড়ে গেছে । 
বাঁকা সিঁড়িপথে  শতচ্ছিন্ন শোক নেমে আসে , ভুলে যাই রোগশয্যা নাকি প্রেমিক এর আলিঙ্গন ।
...  নিজের মতো ছুটে বেড়াই বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে এই শহরটার রাজপথ থেকে গলি পথে।
 অতিলৌকিক ভ্রম ও আশ্চর্য বিছানায় তাকে  কুড়িয়ে নিতে দেখি  আমার শরীরের খসে পড়া এক একটা অঙ্গ ..।।


সাময়িক তথাগত

এক একদিন এই নশ্বর  তে -তলার ছোট্ট বারান্দায় দূরের সন্ধ্যে নাম লাল মেঘ দেখতে দেখতে সাময়িক তথাগত হয়ে উঠি নিজে ,,

ভাবি কাল বলে কিছু নেই .....শুধুই প্রবাহটুকু সত্যি। , 
কখন যেন একসময় সব অস্তিত্ব নিজের ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যায় ,,,
 চোখের সামনে সবাই পালটে যায়  কিংবা সবাই সবাইকে খুব সহজেই পালটে দেয় ।
শহরটায় সূর্য ডোবা আলো যেমন মেঘের রং পালটে দিচ্ছে .....মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সময় ।

এমন সময় আরো একজন মনের ভেতর প্রশ্ন করে 
ওঠে ....অস্তিত্ব গুলোর রূপান্তরের ওই নিজ ধর্মই কি মহাকাল ?
এসবের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কখনো কি সমস্ত পৃথিবী ধ্বংসের  সীমানার মধ্যে সেঁধিয়ে যাবে !! 
কলসির ভেতর সেই অস্তিত্ব অথবা শূন্যতা যা ভরে না থাকার মত থেকে যায়  ,,,
কিংবা থাকার মত না থেকে যায়  ...সেই বোধহয় সময় ! 
হয়তো পৃথিবীর গতি মাওয়ার সহজ একক শুধুমাত্র এই ঢলে পড়ে দিনটা ....।

চুরির সম্ভাবনা

বৃষ্টির মত কোন সম্পর্ক এ ছুঁয়েছি একদিন তাকে ,
অসহায় হয়ে ভেবেছি তার বুঝি অনেক আদর বাকি রয়ে গেছে .....,

নিয়নবাতির আলো খুঁটে খুঁটে  নখের ভেতর তুলে রেখেছি সমস্ত ছোটো ছোটো একদিনের সত্যি কাহিনীগুলো ।

একদিন সময় মত তোকে রাগে ছিঁড়ে ফেলবো বলেই  সমস্ত ছায়া যত্ন করার জমিয়ে রেখেছি নীল খামে .....
যেদিন জানলায় মুখ রেখে আকাশের কথা ভাববি মেঘেদের সাথে ডাকাতিয়া হয়ে চুরি হতে পারে আদ্যপ্রান্ত চুয়াল্লিশ এর তুই টা .......

সেদিন বাকি শব্দরা এই  অসমাপ্ত কবিতায় নিজেদের জায়গা দখল করে নেবে ...............

কথা না রাখার ঠিকানা

আমি কথা না-রাখার ঠিকানা খুঁজি এখনো একই রকম করে ।
 ...এখনো দায়ভার হীন যন্ত্রনা কাউকে বিলিয়ে দিইনি সামান্য শুশ্রূষা পাবার লোভে ... ,।

আমার মেরুদন্ড মাত্র একবার নুইয়ে ছিল ভালোবাসা নামক হত্যাকারীর সামনে ।

হারানো ভাষাদের নিজস্ব মাপের  পাত্র থাকে  আমি প্রথমবার বুঝেছিলাম ... বুঝেছিলাম 
সে পাত্রে মন ভোলানো ছেলেমানুষি রসদ রাখা হয় ... বারংবার অসুস্থ হওয়ার জন্য ।
 আমার স্থান হয় না সেখানে... আমি চিরকাল নিখাঁদ "আমার" শব্দের  সন্ধান করতে চেয়েছিলাম।
আমার কাল বলে তাই কিছু রাখা নেই ভাড়ারে ,
আজের ঘরেই রোজ জ্বালাই বাতি ,।

যারা পুঁজিবাদী তাদের মত হতে পারলে ভালোবাসা শব্দটা নিলামে তাদের মত আমিও জমির দখলনামা পেয়ে যেতাম ।

 ।

তেত্রিশের কার্নিশে

গোপন দৃষ্টি রাখো আমার  তেত্রিশের কার্নিশে ,
 না ছুঁয়েও মেঘেদের  অভিকর্ষে তোমার আঙ্গুল লিখে ফেলে কাহিনী , ট্রেনলাইনের সম্পর্ক পথ বদলায় নিয়ম মেনেই , 
তবু অজস্র অনিয়ম এখনো জানলা খুলে উঁকি মেরে  যায় যখন তখন ......এখনো মৃত শব কে হাতড়ে দেখি আমরা দুজনেই ,
অথচ কেউ নিজেদের দরজায় খিল খুলে দিইনি ,
আমরা ভুলে গেছি কেন সেদিন সব অনিয়ম কে চুক্তি করেই কাছে আসার স্বাক্ষর পত্রে সই করেছিলাম , 
ভুলে গেছি সময়ের প্রতিলিপি হাতের রেখা বদলে দেয় না কখনো ।
শহরটা বুকে আমাদের দেখতে না পাওয়া অদৃশ্য কান্না রাখা রইলো ,
 বড্ড অচেনা এখন এই শহর ......
বড্ড অচেনা তুমি ....তোমার ছবি আঁকতে গেলে 
মিল খুঁজে পাই না বাইরে ভেতরে , 
এতই যদি বদলালে নিজেকে তবে কেন আজও গোপনে দৃষ্টি রাখো এই তেত্রিশের কার্নিশে ?
আর যদি বদলে যাওয়া কোনো পথের ভ্রান্তি হয় ..
নিশানা রাখা আছে তোমার বাড়ির সামনের অমিতের দোকানে ...ঠিকানা খুঁজে নিতে ইচ্ছার চাবিকাঠি রাখা আছে তোমার খুব কাছেই ।
যদি তাও না হয় ভুলে যাও ,রেখোনা দৃষ্টি অমন গোপনে আমার তেত্রিশের কার্নিশে ।

মৃত্যুর পসারে আমিও

হাসপাতালে বিছানা   নির্জন বানপ্রস্থ আমার কাছে  , আমি
নকশি কাঁথার সেলাই বিছিয়ে   শরীররে ফুঁড়ে চলেছি সুচ সহযোগে প্রান্তরে পৌঁছনোর জন্যে ।

 ক্রমাগত অন্তঃসারশূন্যতার  গভীর ধস ও ফাটল
আমার উপত্যকায় ঘটে যাওয়া দৃশ্য গুলোয়।
হাসপাতালে বিছানায় প্রথম শিখেছি মানুষের দেহে  রজনীগন্ধার গন্ধ গুঁজে দিতে হয় কিভাবে ..

 সিরিঞ্জে নিজের অনুভূতি গুলো দেখতে পাই জলের দরে ভাসতে ।
কীভাবে তোমার সূক্ষ্ম অনুভূতি থেকে  ক্রমশ 
অসুস্থতা আমাকে নিয়ে  গাঢ়   কোন চেতনার কাছে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে দেখো ।
 তাকাবার চেষ্টায়  চোখ মেললে  মনে হয়  স্মৃতিমেদুরের  ভিতরে রাত্রিদিন এর গতিবেগ ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি ।
মানুষের ক্ষত ও আহত গুলো উদ্বেলিত জল খোঁজে ...খোঁজে শুশ্রূষা অথচ প্রিয় মুখ এমন দিনেও দিয়ে যাওয়া কথাদের মনে করে ভুলতে চায় ।

 ...কখনো কখনো এই অসুস্থতাকে তাই মনে হয় প্রিয় প্রেমিক কিংবা তার চেয়েও বেশি 
 দ্বিধায় আমার শরীরে অলীক  স্পর্শ রেখে যায়
নিবিড় ভাবে ...আমি চিরকাল পুড়তে ভালোবাসি ।অসুস্থতা আমাকে দিয়েছে  নগ্ন শিহরনের আলিঙ্গন ।
ঈশ্বরের কাছে পাওয়া গুলো মানুষ সহজেই ভুলে যেতে চায় ...

তোমার ছবির দিকে চেয়ে আমি তাই মনে মনে ভাবি তুমি কি মৃত্যুর থেকেও বড়  ছায়া?, 

নাকি কোনো  গাঢ় বিস্মরণ!

তোমার একটি তুচ্ছ বুকের তিল ও এতো বেশি চেনা কেন আজ এই শেষের দিনে  ।
অথচ আমার আত্মাকে এবার যে  শুদ্ধ হতেই হবে , হতে হবে  জড়তামুক্ত 

 
আমার এ রুগ্নতার ভেতর দিয়েই  একটা সভ্যতা হাঁটছে ,  ইতিহাস লিখছে সময় ।

শাসন

কোনো দিন নাফেরার জন্যে নিদারুন শাসনে থাকি নিজেই নিজের ভেতর,

সময় যেন হঠাত হঠাৎ বোবা হয়ে যায় ...যেন ঠান্ডা গুম ঘরে সারি সারি সময় সাদা কাপড়ের ভেতর ঘুমিয়ে আছে ।

সঞ্চয় চলে যায় জানান না দিয়েই হঠাৎ কোনো কালবেলা সকালে ।

এই শহরেও  ভীষণ রকম মেঘ জমে ...তবু  টিলার ওপর তথাগত আলোর মুকুট পরে অনন্তের দিকে অপেক্ষমান ....।

আমি বারংবার মানুষ হতে চাই  তার দিকে তাকিয়ে .....তাই পাহাড়ের ভার কাঁধে নিয়ে শহরের পর শহর বদলে নিই  বারংবার ,,, 
তবু বিষাদ থেকে কোনো বৃষ্টি আমায় আজও ভেজাতে পারেনি ...
কারণ আমার যোগ্যতা কে দেওয়ালে ঝুলিয়ে রোজ আমি মনে করে না ফেরার নিদারুন শাসনে নিজেকে নিজের ভেতর রাখি ।



বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১

কম করে বলা ....

""মৃত্যুর মৃত্যুতে দুঃখ কিসের
শোকের মৃত্যুতে জন্ম হাজারো সৃষ্টির
আর কারণ খুন করতে পারলে জন্ম ভালোবাসার।
ভালোবাসা একটা অভ্যাস
ভালোবাসা মানে আত্মার মুক্তি
নিজেকে রাখার পাত্র।
এ মৃত্যু নিশ্চয় সে মৃত্যু
যে মৃত্যুর মৃত্যু ছিল না কোনদিন""।

.......যারা এসব শব্দের জাগলিং করে তারা ভালোবাসা ছুঁয়ে দেখেছে কতটা ? কতটা দেখেছে একটা মৃত প্রায় ছেলের বুকে জীবন্ত মাতৃ শোক কিংবা , তারা কতটা পেরেছে নিঃস্ব করতে থাকা দুঃখদের আগলে আঁচলে ছেলেটার অদৃশ্য কান্নাদের গুছিয়ে রাখতে ।
আসলে হাতির দাঁত দেখার আর খাওয়ার এক হয় না ।
আসলে মাগী বাজি করতে এমন দু চারটে ব্যাকরণ শিখে নিলেই  পন্ডিতের ঘরের বেড়ালও ব্যাকরণ আওড়ায় ।
আসলে এরা কেউ জানে না ঠিক কত ডে- সিমেল
কষ্ঠ থেকে পুঁজ রক্ত বেরোলে ভালোবাসাকে না ছুঁয়েও পাশে আছি কথাটার মর্যাদা রাখা যায় ।
এরা মরদের ঘাড়ে বসে পর পুরুষে অঙ্গে সুড়সুড়ি দিয়ে বিছানা পাতে ...মাগীদের রস উথলে উঠলে এমন শব্দের জাগলিং করে নিংড়ে দেয় কেতাবি ন্যাকাজোদা ভালোবাসা ।
আর কেউ কেউ লেজ দুলিয়ে নিজেই অস্তিত্বের মা বোন সবের একশো আট বার করে রেখে দেয় ।

হাতের রেখা আর চুক্তি পত্র

 

চুক্তিতে নাব্যতার সর্ত ছিলনা বলেই এতো গর্জন করে তুমি বৃষ্টি আনার অহংকার রাখতে পেরেছো ।

তুমি কিছুটা  চঞ্চল হতেই  পারো, সবুজ  জমিনে হতে পারো তছনছিয়া  পালুইচড়া, 
 কিছু অন্দরও  হয়তো দখলেও রাখতে পারো ,,

 তবু তোমার সমস্ত বই, দ্যাখো পুড়ে গেলো আজ  একটাও প্রতিবাদ না করেই।
তোমার পুঁতে দেওয়া বীজ থেকে হাজার হাজার বিষবৃক্ষ হওয়ায় মিশিয়ে দিচ্ছে আগন্তুক ধ্বংসের হওয়া ।
জানি  আমার সাক্ষীর আজ আর  কোন দাম নেই,
তোমার হাতের রেখাগুলো শুধু আজও আমার দখলে রয়ে গেছে ,  প্রাচীন গাছ গুলোর  থেকে
দু’একটি পাতা খসানো ছাড়া... এইসব সামান্য অঙ্কের হিসেব যে  সহজে মেলেনা ....সে কথা যেদিন বুঝবে সে দিন আট বছরের সন্তানের শব
একটা গোটা সাদা পাতা কে অন্ধকার করে দেবে ।

পোকাকাটা পুথিপত্র মেহফেজখানায় জমিয়ে রেখেছেন বিধাতা পুরুষ , 
আরব... মহানাগরিক অবক্ষয় তোমার কপালের চারইঞ্চি জমিতে কুমকুম দিয়ে তিলক কেটে দিয়েছে মহাকালের স্রষ্টা ।

আশি লক্ষ চোখ এক মাত্র তোমার কিংবা তোমার মত যারা তাদের ঝলসে দিচ্ছে খুব নীরবে ।

আমিও সেই কবে থেকে   দাঁড়িয়ে থাকি স্তব্ধ পাথরে ওপর, 
তুমি আজ পর্যন্ত পঞ্চাশ বার  পা রাখলে  ছাই-মাখা পথে...,,,
তবু বুঝলে না সামান্য কথাটা...." মানুষ কে কোথায় থামতে হয় সেটা তার নিজের জানা উচিৎ"। '

মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট, ২০২১

ফুরিয়ে এস বাতাস

যা কিছু সঞ্চয় কিংবা অপচয় তা আজকাল বুঝতে পারি না ,
...কারণ মনের ঘরে নিজের প্রবেশ নিষেধ করেছি বহুদিন ,
বুকের বাতাস কমে আসে এমন অসুখের সময় ,,,
হাসপাতালে বিছানায় নিজস্ব গন্ধ বিলিয়ে জীবন কে শেষবার আদর করে নিই ।
 আসলে প্রত্যেক মিথ্যেতে শব্দ দোষ লাগে আর কলিজার মাংস ইঞ্চি হিসেবে পুড়তে থাকে ।
 সমস্ত কথা দেওয়া পক্ষাঘাতগ্রস্থ ঠোঁটে এক টুকরো বিষ এর মতোই অসাড় করে দিয়েছে এই পৃথিবী  ভালোবাসা শব্দটাকে।
মুহূর্তে বাতাসে মিশে যাচ্ছে ভুল আয়ু , 
আমার  নুপুর তুলে রাখা আছে নিমগাছের নুইয়ে পরা ডালে ।
আসলে জীবন এমন একটা ক্ষত যা আজীবন উপশমের অপেক্ষায় নিজেকে জিইয়ে রাখে ...
আর আজীবন পুরোনো ক্ষতদের ভুলতে আরো আরো গাড় নতুন ক্ষত এঁকে নিতে হয়...যার নাম শেষের কবিতা ।

ক্যালাইডোস্কো আর দৃশ্য

একই জলের স্তরে দু হাত ওপরে আর দশ হাত নীচে দুটো জীবন ...একই মনের ওপর তল ও গভীর তল দুই অস্তিত্বে আমার বাস  ।
চোখের সন্ধানে একটা  ভাঙা সেতুর ওপারে রাখা আত্মা ।
রাস্তার গতি বদলে দেওয়া বাতিতে তোমাকে খানিকটা পাওয়া ....ফিরতি পথে চায়ের ভাড়ে সম্পর্কের   লেনদেন. করে নেওয়া যেন অভ্যাস ...
তবুও ...তবুও   ফিরে না আসা এক পুরোনো অভ্যেস ...আসলে ফেলে দেওয়া থুতু আর চেটে নেওয়া যায়না  ,, 
 আসলে অপেক্ষায় গুলোয় অজস্র ভিড় এ শহরে আর তাই প্রিয় মুখ হারিয়ে যায় খুব সহজেই আর এমন হারিয়ে যাওয়ার থাকে না এক জল ফোঁটা শোকও ।
আসলে আমরা এমন অনুক কিছু আমাদের অজান্তে পেরে যাই । এর নাম নিজেকে বারংবার আবিষ্কার ...বারংবার নিজেকে নিজেই আয়নায় চিনে নেওয়া ,, কিংবা বারংবার পাসওয়ার্ড বদলে দিয়েও নিজে অবদল থেকে যাওয়া , 
হাহাহাহা এমন অদ্ভুত জীব মানুষ ছাড়া এই গ্ৰহে আর কিছু নেই ।

সুখের মৃত্যু

এমন একটা সুখের মৃত্যু আমার খুব দরকার ,
তোমায় নিদারুন আদরে ভাসিয়ে দিতে দিতে আমি পৃথিবী বদলে নিতে চাই ।
আমার আদরের ঘোর ভেঙে গেলে প্রতিটা সিঁড়ির ধাপে  তুমি যেন আমায় হাতড়ে বেড়াও এমন একটা সুখের মৃত্যু চাই আমি ,
নদীর পাশে কাঁচ এর বারান্দায় আধভাঙ্গা আলোর ভোরে তোমার পুড়তে থাকা ঠোঁটে আমল আদর রাখতে রাখতে একটা মৃত্যু আসুক আমার জন্যে । ...চায়ের জল ফুটুক অনির্দিষ্টকালের আগুনে, পাশে রাখা ভালোবাসার পেয়ালা পিরিচ........
তুমি আমি রং আর কবিতায় মাখামাখি তুমুল আদরে প্রাতরাশ সেরে নিচ্ছি ....এমন আবেশের ভেতর দিয়ে আমি মৃত্যু ছুঁতে চাই ।
এমন কিছু মৃত্যু আমার গোপন মনিমুক্তর মত ইচ্ছাবাড়িতে রাখা ,
জানো আজ বহুদিন পর আমার ঝুলি থেকে এমন একটা মৃত্যু বেছে নিতে বড় ইচ্ছা হচ্ছে ।
তোমার কবিতায় যখন ...আমি বিহীনে শব্দরা অন্ধ বোবা , কিংবা যখন আমাতে তোমার কবিতা ভীষন রকম গুম তখন একটা সুন্দর মৃত্যু আমায় ছুঁয়ে যাক ...
ঈশ্বর কখনো কৃপণ নয় ...আমার এই যৎসামান্য মৃত্যু তার প্রসাদি থালায় একদিন ফুল হয়ে পড়বেই জানি ,
........এক নিদারুন আদরে ভিজতে ভিজতে আমার একটা মৃত্যু ভীষন কাম্য ।
এক নিদারুন আদরে তোমায় ডুবিয়ে দিতে দিতে আমার একটা মৃত্যু আসুক।

যখন আমি আলো

যখন আমি আলো হয়ে আলোর ভিড়ে তখন শুধু তোমায় খুঁজি ,
যখন নিজেই নিজের যথেষ্ট নীড় তখন শুধু তোমায় ভাবি ।
যখন আমার হাতের উপর আরেকটা হাত সেও আমারই ..তখন তোমার হাত খুঁজি ।
যখন বৃষ্টি আমার একার মত একটা ফোঁটা চোখ থেকে বুক ভিজিয়ে দেয় তখন আমি বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে যাই তোমায় একা ।
যখন আমি হাততালি আর ফুলের মাঝে ...আইফেলের ছাওয়ায় অজস্র মুখ দেখছি ...তোমার মত একটা মুখ আমার চোখ খুঁজছে জরুর ।
কালো টুপি উড়িয়ে হওয়ায় তোমার দিকে দৌঁড়ে যাই ...আজও সেই  কালো মেয়ে আইফেল নীচে অপেক্ষায় ।
যখন আমি আলো হয়ে আলোর ভিড়ে তখন শুধু তোমায় খুঁজি হৃদয় পুরের জানলা খুলে ।

সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১

ছায়ার ভেতর

কতদিন তোমার শরীরের স্পর্শ রাখি না আর তেমন করে .......
গোপনে নানারকম ইশারা সাজিয়ে যাই রাতের উত্তরের আকাশে তোমার শরীরে নক্ষত্রদের ।
..................................জারুলের ছায়ায় এখন নিয়ম করে  বুদ্বুদ জন্ম  নেয় ।

.......................ক্যাফেটেরিয়া  কালো কফির ঘূর্ণির নিচে মিষ্টতা নেই আর ।
 সময় রক্তক্ষয় ঢেকে দিয়েছে  তোমার রোজকার স্বীকারোক্তি
এরপরও আমি গুপ্তধনের লোভে বারংবার অজানা মানচিত্রের টর্চের আলো ফেলে সব ঘুমের নির্জনতা দিয়ে হাঁটতে থাকি ,,.....................................
একটা দমকা হাওয়ার অপেক্ষায় আমার অস্থায়ী ছাউনি আজও দাঁড়িয়ে আছে ..... অথচ
 তোমার  সিংহদরজায় আজও সেই নাপতাল তালা ঝুলছে .....বড্ড হাসি পায় এমন তুচ্ছ আমিটাকে তোমার ভয়  হঠাৎই বড় মূল্য দিয়ে ফেলছে।

শেষ ফুটনোট

কখনও ভেবে দেখিনি... ভুল  গুলোর হিসেব । তবু  অ্যাসট্রের ভেতর পুড়তে থাকা  হাড় জমলে হিসেবের মিছিল শহরের রাস্তায় অনেকখানি  তাৎপর্য এনে দেয়  বুঝতে পারি ... 
সমুদ্র হ'‌য়ে যায় সংশোধনের ধারাপাতের সংখ্যা । শুধু পক্ষ থেকে পক্ষান্তরে জমিয়ে গিয়েছি অযথা অপেক্ষার  পালক... 
হাঁড়িয়ার মতো কিছু অপরিণত ফটোগ্রাফ... তোলা থাকে ক্রুশকাঠ রাখা গুম ঘরে ।

এ শহরে  হাঁটতে গেলে দু-পায়ে জড়িয়ে যায়   ড্যানিয়েল এর উপচে পড়া প্রেম  ... হাতের উপর হাত টেনে নিয়ে সমস্ত চুপ কথার জট খুলতে চায় ড্যানিয়েল ....আমি তখন আমার পুষে রাখা দুঃখদের সাথে না-ইনসাফি করে  ফেলি।

আমার   রঙচটা গুমঘরে  অদৃশ্য আঙুলের ছায়া নেমে আসে দৃশ্যপটের মাঝ বরাবর  , যেন পুরোনো ঘা আবরণ সরিয়ে ফিনকি দিয়ে পুঁজ রক্তের অগ্নুৎপাত... ।
বৈজ্ঞানিক দাড়িপাল্লায় নিজেকে বসালে...  লাল কাঁকড়াদের স্তোত্রপাঠ শুনি সাউন্ড অফ সাইলেন্স এর মত.. ।

নখের আঁচড় দিয়ে   ড্যানিয়েলকে বলি  নতুন গন্ধ লিখতে  পুরোনো   শরীরটায়,,.

ক্রমশ খসে পড়ে আমার শরীর থেকে তার দেওয়া আমার  এক একটা অঙ্গ ... ।
 এমনকি লিভারে লিখে রাখা শেষ ফুটনোট-টাও...
সেদিন খসে পড়েছে ঝড়ের সময় ।


রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

খাম্বাজ রাগ আর আমার দেশ

আশ্চর্য পাখিদের ডানায় ভর দিয়ে দিয়ে সময়ের পেন্ডুলাম  বেজে যেতে থাকে...
রাত ঢলে যায় ...তবু যেন শহরটার অন্ধকার ফুরোয় না ।
শেষ প্রহর খুঁজছে আমার দেশের প্রতিটা জানলায় মুখ রেখে দাঁড়ানো প্রত্যাশা ,
আমি এই সময় খাম্বাজ ঠাটের মেজাজ বুঝতে পারি ,
বুঝতে পারি ... এই সময় আমার শহর খেয়ালী রাগ হয়ে বইতে চায় সময়ের বুকে ।

আরোহণে শুদ্ধ আর অবরোহণে কোমল নিষাদ নিয়ে নির্বাণের দিকে উড়ে যায় ঝাঁক ঝাঁক  পাখিদের দল আকাশটায়......। 

যেন নিজের ভেতর দেশটা মুক্তির আলো চায়,
সমস্ত সমবাদী তখন পঞ্চমে ...আরোহনে গান্ধারহীন পথ চলা । 
তারপর সেই সব আশ্চর্য পাখিরা ডানা মেলে দেয় জাতি ঔড়ব সম্পূর্ণ. করে দিতে , ......
আমার দেশ সে সব সময়ে শঙ্খ -বিহ্বল স্বর দের ওপর নিজের ভার নামিয়ে পূবের দিকে তাকিয়ে গায়িত্রীতে মগ্ন হয়।

...আশ্চর্য পাখিদের ডানায় ভর দিয়ে  সময়ের পেন্ডুলাম  বেজে যেতে থাকে...রাত ঢলে যায় ...তবু যেন শহরটার অন্ধকার ফুরোয় না ।



জল বায়ু বদল

 ড্যানিয়েল এখন আপোষহীন ট্রিগারে আঙুল রেখে চলতে চায়  , কোনো একদিন  আগুনের অক্ষরে কেউ লিখে ফেলেছিল আশ্চর্য রূপকথা কিছু,... সে সব কাহিনী ড্যানিয়েল জানতো ; 
 সে বলে তোমার প্রাক্তন প্রেমিক সে সব রূপকথার  স্বপ্নিল আখ্যানে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে  এক  হাত থেকে অজস্র হাতে...।
ইস্তেহারের ঘুড়ি এ-মেঘ ও-মেঘে পাঠায় জীবনের অসঙ্কুলান ছোট ছোট নষ্ট হয়ে যাওয়া ছবি দিয়ে,,,
 দূরে অনেক  দূরে  যেতে যেতে ঘর ভুলে যাওয়া পুরোনো অভ্যাস তার ।
 ..একদিন  মিথ্যে গল্প ধরা পড়ে যাওয়া দীর্ঘ দেহটাকেই শুধু শেষ করা হয়নি তার  ,
..কিন্তু সে বিপজ্জনক  আজও নিজেরই  কাছেও ,,
 আজও বয়ে যাচ্ছে গ্রহ থেকে গ্রহে...অবিশ্রাম...
 ব্যর্থ বিপ্লব।
 এই,কবিতা লিখতে লিখতে পাহাড়ে জঙ্গলে... আমি আর ড্যানিয়েল 
সমস্ত সার্থকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাই রোজ ।

আমার প্রাক্তন চিরকাল আমায় নিয়ে কিছু মিথ রেখেছিল মলাটি বইয়ের দু চার লাইনে ...সে সব অন্ধকার অক্ষর বলেই সে জানতো ।
আসলে সে জন্মান্ধ ছিল তাই আলো দেখেনি কখনো । তাই রাক্ষসী আর ঈশ্বরীর তফাৎ নেই তার কাছে ।

সেতু

সেতুটা জানতো ভবিতব্য ,কথাদের গায়েও তাই মরচে লেগেছিল শেষমেশ ।
হঠাৎ  দেখযে পাওয়া কোনো এক দিনের প্রিয় মুখ 
জুড়ে রাখে যতটা সম্ভব... পুরোনো সেলাই করে রাখা সময় ।

কথারা নিজের মত ভেজে বৃষ্টি এলে ...
কথারা একলা হয় স্বজন হীন অবসরে ....

পুরনো রাস্তায় পায়ের ছাপ মুছে যায় নতুনের অপেক্ষায়..
 সাকিন চিনিয়ে দেয় খুব ছোট জীবনে রূপকথার যোগাযোগ  একদিন একলা হওয়ার গল্পদের।

আসলে সেতু জানে,
কাছে থাকা '  এক অনুভব.. ... 
আসলে সেতু জানে ভালোবাসা ভাঙা ছাতায় বৃষ্টি
নিয়ে বাঁচলেও , 
মিথ্যের প্রহসনে মরচে নিয়ে বেশি দিন টিকতে পারে না ।

পারাপার শেষ হয়ে এলে
আদরের মত জল...  ছুঁয়ে থাকে ঘাট   ... ছাপ রেখে দেয়... মনের তল্লাটে।

এক্কা দোক্কা

নিষ্পাপ খয়েরী রঙের সন্ধ্যে নামে  জানালা জুড়ে  ,
অবৈতনিক কথোপকথন খাতা আর কলম জানে ন

আজ কাল প্রায়শই জল ভাসি হয় ঘরের মেঝে ...
মাটি ছুঁয়ে থাকবো ভেবেই নিচু তলার ঘর পসন্দ ।

 এখন দেখি ঘর থেকে   উঠোন জুড়ে শ্রাবণ নিল সব  দখলে ।।

 সাবধানী সে শ্রাবণ এলেই   মাচায় রাখে ঘরকন্না, যা কিছু সম্পদ, বৃষ্টি  যেন পায় না তলাশ তার।

ঘরের মধ্যে ঘর তৈরির  বুকের ভেতর চাবিকাঠি ,
 আড়াল থেকে উসকে দেয়  অবৈতনিক শব্দ সফর,

আমরা এখন ...আমি তুমি  ,, দর্পণে তাই অন্য মুখ।
দেশভাগের সময় এখন ....কাঁটাতারে কাঁচা রক্ত ।

মোহ ভাঙ ....জামিন ছাড়ো .....নিলাম কর নিজেই নিজের ।
খবর ছিল ....খবর আছে ...বিকিয়ে যাওয়া মাগনা প্রেমের ,  আস্তনে সেই কাল সাপ সময় পেলেই ছোবল মারে । 
কবর খুঁড়ে লুকিয়ে রাখি পাপের ঘরের পুরো সুখ ।


বিদায়


রোজ কিছু অসম যুদ্ধে ঠিকানা  বদলে যায়, 
এ শহরটা যতটা আমায় ভালোবাসে আমি ততটা পেরে উঠিনি এখনো।
 ,, আমার ভেতর আমার ছেড়ে আসা শহর, বন্দর, জেটিঘাট ,ট্রেনের কু ঝিকঝিক, বাড়ির পাশে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষমান কৃষ্ণচূড়া এদের সকলের সাথে ভীষণ গোপন অসম যুদ্ধ রোজ আট প্রহর চলতে থাকে ।
নতুন আস্তানায়  নগরপালকে এত্তেলা পাঠাই আমার মনের একটা স্থায়ী ব্যবস্থার দিকে যেন তিনি একটু নজর রাখেন ।
তবু প্রায়ই ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাই  পুরোনো ধুলো পরা ছবির ঘরগুলোতেই ,,,
মনে হয়  ...রোদ্যাঁর ভাস্কর্য যতটা প্রাণময়, গায়ে হাত দিলে ততটা হিম ঠান্ডা ...তবু কত বাহ্যিক উষ্ণতা তবু কত সতেজ এসব মৃত্যু গুলো ।

চুক্তি ঠিক কি ছিল আজ আর মনে পড়ে না , তবে চাল ডাল , কাঠ ও বারুদ জুটে যেতো ইচ্ছার ছই এর নিচে আর ফুটিয়ে নিতাম উৎসবের ভোগ এর মতোই তৃপ্তি মত। 
রাধাচূড়া-কৃষ্ণচূড়ারা  সামনের বৈশাখে  আবার  সাজবে- তার জন্য - ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখার প্রয়োজন হবে  না আর....
ভরন্ত সবুজ আমার ফেলে আসা শহর  আশ্বাসে  বেঁচে থাকবে আমায় ছাড়াও ।

যেতে চেয়েছিলাম অনেক দূরে সময়ের সুগন্ধ বুকে নিয়ে  ...ভাত কাপড়ের চুক্তি সেখানে অচল হয়ে পড়ে ছিল বড্ড ....নিঃশ্বাসে অবিশ্বাসের মরণ বিষ আর ষড়যন্ত্র  বুক পকেটে  টিকটিক শব্দ ......চির বিদায় আমার মন্দবাসার শহর ।