শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

সই (৫৩)

প্রেমিক চায় শরীর ও ভিক্ষা  
মৃত্যুও চায় তাই 
বুঝতে পারি না কাকে দেবো এই কায়... 

সই

শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

বন্ধ দরজার পেছনে



পুরোনো দরজায় লেগে থাকে ইতিহাসের চুপকথা
 আর চুপকথার আড়ালে হরেক রঙ এর আস্তরণ,
সে দরজায় যে দাড়ায় সে বোধহয় সামনের দিকে নতুন অধ্যায়ের
পা দিয়ে প্রবেশ করে নতুনে   তবু বাসি ছায়া পিছু ছাড়ে না ।

শুকনো ফুল ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথোপকথন ফিসফিস করে জানান দেয়
অতীত রাতে অসমাপ্ত আশা গুলো বালিশের খাঁজে রেখে 
 দরজায় তালা লাগিয়ে এগিয়ে যেতেই হয়।
বন্ধ দরজটা কেউ খোলার কথা বলবে জেনেও একটা আধমরা অপেক্ষায়
বুকের বেরায় গুঁজে রাখা ,,

#সই (বন্ধ দরজার পেছনে)


শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

লোকটা



দলছুট মেঘের মত শামিয়ানার বাইরে দাঁড়িয়ে
লোকটা, তার ঈশানী কার্নিশে সাজানো কিছু কালো অক্ষর,
মন পুড়ে যাওয়া লোকটা পেট পুড়তে দেয় না ,
ঘর ছাড়া লোকটা ঘর আগলে রাখার দায় নিয়ে ছুটে
যাচ্ছে দশটায় যাওয়া পাটুলীর দিকে যাওয়া বাসটার দিকে,
একটা আশ্রয় কিনতে চেয়ে  চল্লিশ পেরোলো
জুলফির ওপর সাদা বরফ এর প্রেম অথচ বেঁচে থাকার গানটা লোকটা এখনো মুখস্ত করতে পারেনি ...পারেনি  স্লিপিং পিলের অদম্য অবাধ্যতা কাছে মাথানিচু করতে ,,
ইদানিং লোকটা মেঘেদের থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে
কান্না লুকিয়ে রাখে,
ইদানিং লোকটা স্বপ্ন জ্বাল দিয়ে খিদের ভাত ফুটিয়ে নেয় মাঝে মাঝেই,
ইদানিং লোকটা নিজের অন্তরমহলে শুধুমাত্র একটা ভাড়াটিয়ার ভূমিকায় বাড়ি ফেরে।
ইদানিং লোকটা নিজের শব বয়ে নিয়ে বেড়ায় একলা।



বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

পাখির সফর



খাঁচার ভেতর পাখিটার গত জন্ম মনে পড়ে
সম্পর্কর হিসেবে  আর কিছু তারিখ তার কপালের
ভেতর বুকের ভেতর বাজতে থাকে ,
পায়ের ছাপ নির্বাক পথের সাথে মুহূর্ত বিনিময় করে জানিয়ে দেয় 
আমরা আগেও হেঁটেছি একই সাথে একই আবেগে ,

আসলে পোশাক বদলে যায় ভেতরের পাখিটার পালকের রঙ বদলায়
পাখিটার সফর অনন্তকালের।
পাতা ঝরা মরসুম কিংবা শুকিয়ে যাওয়া গাছ এরা অপেক্ষার ভেতর
অন্তরনিহীত শব্দ কিংবা ফিরে আসার ডাক শুনতে জানে ... জানে জন্ম কেবল
একটা সফর আর পথ তো অনন্ত তাই হারানো বা ফুরিয়ে যাওয়া বলে কিচ্ছু হয় না।

শুধুমাত্র যুদ্ধ, শান্তি, কবিতা , শিখিয়ে দেয় একা পথ চলার সময় নিজের হাত নিজে ধরে নিতে ,
শবযাত্রা আসলে পোশাক বদলের সময় সঙ্গদান ,
পাখির বাকি বাইরে ও ভেতরের সফর একলার।

#সই (পাখির সফর)

বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

কিছুক্ষণ সফরে



ভাবনারা বন্দী কোনো অন্ধকার ঘরে  অথচ 
সময়ের স্রোতে ভাসতেই হয় কালের নিয়ম,
ফেরা হয় না পুরোনো বাসি জলসায় ,
কেবল স্মৃতিরা দাড়ায় কিছুটা সময় ।
ঘড়ির কাঁটায় যাপন ছুটছে সমস্ত প্রহর  আর তাই
বাসের শেষ সিড়িতে পা রাখতেই
হবে সকলকে, 
 নয়তো ভাতের পাশে নুনের আয়োজনে সুখ হারাবে নিমেষে।

নিঃশ্বাসে লেগে থাকে পুরোনো মুখের হাসি 
 চোখের কোনায় আগুন লাগা নোনা পানি ,
বুকের ভেতর গোপন জ্বর পুষে রাখা জীবনের স্বভাব
 সফর জারি থাকে সব সুখ কিংবা অসুখেও 
শুধু পোশাক বদলে ফেলতেই হয় কালের নির্দেশে,
শেকল যে মানবে না সময় ।

#সই (কিছু ক্ষণ সফরে)




শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

ক্রমশ দূরে

কখনো  কখনো  বড্ড দেরি হয়ে যায়  শেষ ডাক টুকু ডাকতে 
কখনো কখনো  গোল্ডেন মুহুর্ত  কেবল খাঁচায় বন্দি প্রানহীন
সোনার পাখির মত ... ওড়ার জন্য ডানা ঝাপটায় না  
কথা বলে না গান গায় না,, 
বুঝতে দেরি হয়ে যায় যে  সময় হঠাৎ  মুঠো  থেকেই ভ্যানিস হয়ে যায় ,  আর তখন  রুপকথার রুপোলী  খাটে মৃত কাহিনি ঘুমিয়ে থাকলেও সে রুপকথা কেউ আর  বিশ্বাস করে না ... 
আয়নার কাঁচ ভাংগার শব্দরা নির্বাক। 

প্রহর পেরিয়ে  উত্তরের পুরোনো  বারান্দা রোদ্দুর আসে নিয়মমাফিক  অথচ সেই রোদ্দুর একলা সে রোদ্দুর  ছুঁতে চাওয়া উৎসুক একটা  মন নেই কোথাও। 

বাঁচার জন্য ঠিক কতগুলো কারন লাগে! 
আঁকড়ে থাকার জন্য একটা পেজমার্ক একটা  শুকনো গোলাপ উল্টো দিকে রাখা একটা চায়ের কাপ  কি যথেষ্ট নয়! 
 আসলে বড্ড দেরি হয়ে গেলে  এসব মুল্যবান মনে হয় অথচ  থেকে যায় কেবল আফসোস  আর একটা  যন্ত্রনার বোবা চিৎকার 
ক্রমশ  মাইলস্টোন  গুলো  সেই ঘরটা থেকে দূরে আরো দূরে সরে যায়  হারিয়ে যায় একসময়। 

#সই (ক্রমশ দূরে)

বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

ভয় করে

আজ বৃষ্টিতে রাত ভিজে যাচ্ছে
মনের ভেতর অদ্ভুত স্বাদহীন  সময় ,
শিরদাঁড়া বেয়ে আজকাল কি একটা হারিয়ে ফেলার
ভয়  হয় তাই হয়তো  ওপাশের চায়ের কাপে জুড়িয়ে যাওয়া 
চায়ের দিকে তাকিয়ে একটা উপস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করি ।
অথচ একদিন সব খেলাঘর ভেঙে নিজেই চলে এসেছিলাম 
সেদিন ভেবেছিলাম দরজায় খিল দিয়ে একবার অদৃশ্য শব্দে
বলবি যাস না রে  ... হাড়ের ভেতর অন্ধকার সিড়ি দিয়ে 
আমিই আমার হাত ধরে  নেমে এসেছি ছটফট করেছি একবার ফিরে আয় ডাক টুকুর জন্য,,
সেই কবে থেকেই জীবনের স্রোতে কত জন এলো স্পর্শ নিয়ে
তবু তারা কেউ তুই নয়  আর তুই নয় বলেই এত অহংকার 
আমার ঘর ছাপিয়ে ।

উত্তরের হওয়া  একলা রাত আর বৃষ্টি একা থাকতে ভয় করে  খুব ভয় করে ।




#সই (ভয় করে)

বৃষ্টি


অভিমানের  জল বাড়তে বাড়তে সেতুটাই একদিন ডুবে গেলো 
শীতের আকাশে সেই যে বৃষ্টি নামলো দিন পেরোলো রাত পেরোলো রোদ্দুর এলো না জানলার কার্নিশে।
ভোরের শেষ কুয়াশার ভেজা স্বপ্নে ভেতর বার্তা ছিলো চার দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ার দু একটি লাইন মাত্র,,

কোনো এক জন্ম-ঋণ শোধের মত এক তরফা ভালোবাসা
ক্রমশ মুক্তি পথে ... মাথার ভেতর ঝিম ধরা গাঢ় আবছা পুরোনো ছবি ,
দূরের খোলা মাঠের পাশে ভোকাট্টা ঘুড়িটা একলা ভিজছে
শুকনো মরে যাওয়া গাছটা কে জড়িয়ে।


#সই (বৃষ্টি)

বাইরে বৃষ্টি


তুমিও মরসুমি বদলের মতোই মিথ্যে হলে এই শীত সময়ে,
জানলা খোলা বাইরে অথই ভেতর ঘরে পুড়ছে  তবু কেউ ।

মুখের ওপর বিদিশার নিশা ছড়িয়ে ভীষণ রকম অবাধ্যতায়
ভুল ভেঙে যায়  মন কেমনের কারণদের আজ  এক লহমায়,
আজ চেনা রিং টোন অসহ্য খুব ।
 এবার না হয় বৃষ্টি বলুক আমার হয়ে ফিরে  যাওয়ার বার্তাটুকু,,
হৃদয় না হয় ঘুমিয়ে থাকুক পাস ফিরে নিজের ওমে।

জল ভেজা এই দিন গুলোতে আবার না হয় খুঁজেই নিও
নতুন মন ।

#সই (বাইরে বৃষ্টি)



মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

অনুপম পরিচয়

দূরের পরিচয় 
_________________

স্পর্শর থেকে দূরে গেলে কখনো কখনো পরিচয় গুলো
অদ্ভুত বিস্ময়ে নিবিড় হয়ে যায়  মন চায় আরো আরো কিছক্ষন যদি আগলে রাখা যেতো

আকাশ পারে হারিয়ে গেছে যে 
যে ফেটে যাওয়া শিমুল ফলের থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত
তুলোর মত নিজেকে দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
এরাও হয়তো বা বোঝে এ কথা ,,
স্রোতের পাথর স্থবির হলে ঈশ্বরের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যায়
হয়তো বা কোনো কোনো দূরে চলে যাওয়া পরিচয়ের
কোনো আক্ষেপ থেকেও না
তবু সম্পর্ক যখন দূরে হারিয়ে যায় তাকে অন্তর্মহলে বড্ড কাছের মনে হয় ।

#সই (অনুপম পরিচয়)


মেয়েটার বিশ্বাস

আমার ছেড়া আস্তিন অথচ হাসতে পারি আলোর মত 
বুকের ওপর মোটা অক্ষরে লেখা ভালোবাসার নাম
জ্বলজ্বল করছে,
আমার ঘরের চাল ফুটো অথচ হাসি মুখে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ভালোবাসার কবিতা লিখি আকাশের সমিয়ানায়।
স্বয়ংভূ সাম্রাজ্য সম্পূর্ণা আমি অথচ অলঙ্কার বলতে নিষ্ঠাটুকু সম্বল।
এ পৃথিবীর সবটুকু আমাতে আমি সবটুকু জুড়ে
ভেতরে পাগলা দাশু নন্দিনী রাজা সব মিলেমিশে
একটাই আলো একটাই ঝর্ণা একটাই আকাশ এখন,,,

(মেয়েটা ছেলেটাকে ভালোভেসে বিশ্বাস করে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে )

(মেয়েটা তবুও আলোর মত আলো হয়ে শুধুই ভালোবাসার কথা লিখে যায় গঙ্গার ঘাটের শেষ বিকেলের গায়ে ।)

#সই  (সেই মেয়েটার বিশ্বাস)




শূন্যতায় ভেসে


মেরুদণ্ড জড়িয়ে সেই হিম শীতল অনুভূতি একটা শুন্যতা কেটে ফালা ফালা করছে ,মাথার প্রতিটা নিউরন এখন মৌন স্তব্ধ।

পায়ের নিচে মোহহীন বালিয়াড়ি
আকাশে  ঘর ছাড়া সেই বাউল সুর 
একটা গোটা নদী, আকাশ ,ধানক্ষেত ,লাল
মাটির পথ বেয়ে ডুংরী সব কিছুর সাথে মিশে যাচ্ছি,,
সত্যি মিথ্যে প্রেম অপ্রেম থেকে অনেক দূরে একটা
ক্যানভাস জুড়ে শুধুই স্নিগ্ধ কিছু রং  চুপ কথা এঁকে চলেছে ।
মরসুমী হওয়ায় আমার উত্তরের বারান্দায় নেই কোনো হেরে যাওয়া অভিমান  ,
আমার ভেতর আমি বেঁচে উঠছি একটা উজ্জ্বল
আলোর সকলকে আশ্রয় করে ...
ক্রমশ সব আয়োজন থেকে দূরে অথচ গভীরে এক উৎসব আয়োজনের খুব নিবিড়।

#সই

(শূন্যতায় ভেসে)




বদলে যাওয়া

এই শীতকাল ভীষন রকম অনুভুতি হীন
তোমার স্পর্শ আমায় আর ছুঁতে পারে না মোটেই,
নিখুঁত ওস্তাদ তুমিও ছিলে , আমিও আজ আদ্যপান্ত
স্বার্থান্বেষী।
এখন যেদিকে তাকাই  লাভ ক্ষতির হিসেব মিলিয়ে 
আরো একটু পাপী হয়ে উঠতে বেশ ভালই লাগে,,,

এখন যেকোনো সম্পর্কের বানানের  অক্ষর আমি নিজের 
হতেই সাজাই কিংবা ভেঙ্গে ফেলি।
এখন আমার ইমানের স্রোতে আধআনা হলেই সময়ের
কলুষতা মিশেছে।
আসলে তোমাকে দেখে শিখেছি বদলে যাওয়াই নিয়তি
আর এই বদলে যাওয়ায় কোত্থাও... কোত্থাও কোনো অতীত ফসিল দাফন করার জমি রাখতে নেই।


জানো নিরুপম একদিন তোমার চরিত্র অহংকারের ধারালো অস্ত্র মনে হতো....
আজ তোমায় দেখলে মনে হয় স্রেফ জং ধরে যাওয়া একটা টিনের পাত ,,,
এসবকিছু তোমার হাতের রেখায় তুমি নিজেই সাজিয়ে নিয়েছো,
আর তাইতো এই প্রথম  হ্যাঁ  এই প্রথম এবারের শীত অনুভূতি হীন  তোমার স্পর্শ আমায় আর ছুঁতে পারে না ।

# সই।**** (বদলে যাওয়া)





শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩

সই (৫১)

আয়না ভেঙে  গেলে সময়ও বোধহয়  টুকরো টুকরো 
হয়ে  যায়, 
সে ভাংচুর  সময়কে দু'হাতে  জোড়া  করতে গেলেই
রক্তাক্ত হয় জীবন , 
#সই

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩

খালি ঘর


কোনো পদচিহ্ন কিংবা শব্দ রেখে যেতে চাইনা,
দরজার হাতলের থেকে শেষ স্পর্শ মুছে গেলাম,
আমার আঘ্রাণ যেন আসবাবপত্রে লেগে না থাকে ,
সব শুন্য হৃদয়পুরে নিঃশব্দে থাকলো বোবা কান্না।

সুখের ঘরে তুমি একা থাকতেই ভালবেসেছ 
রুমালের সুগন্ধী তাই বিষাক্ত,
বিশ্বাসের মাটি দিয়ে কবর ঢাকা ভালবাসা
বুকের ভেতর পুষে রাখা মুহূর্তর স্মৃতির ছায়া আজ বড্ড ভয়ানক,
নালিশ ফুরিয়ে গেলে সম্পর্ক গুলো মরে যায় 
আর ভালোবাসার স্মৃতি রূপকথা হয়ে যায় ।

পাহাড়ী বাড়ির  কাছের বারান্দায় খালি ক্যানভাস
আর কবিতার খাতায় তখন ভারি জমাট বরফ,,
চায়ের খালি কাপে সময়ের অভিমানী ধুলোর পরত,
জানলার শার্শি তুলে অপেক্ষা আর দাড়িয়ে নেই 
কারণ এখন আমি সাহসের মশালে আগুন ধরিয়ে 
ঘুন ধরে যাওয়া আশা পুড়িয়ে ফেলেছি । 
প্রথম দিন মনে নেই  মনে নেই প্রথম স্পর্শ  কিংবা  শোভাবাজার ফেরীঘাটের
অপেক্ষা ,
বারংবার তুমি আসতে পারোনি অজুহাতের ব্যারিকেড ভেঙে 

তারপর  আমি  আর কখনও  মিথ্যে অপেক্ষাকে প্রশ্রয় দিই নি ।
 রোজ নিয়ম করে  আসাযাওয়া আমার অথচ সে আসাযাওয়া পথে চেনা চোখ ভীষন অচেনা 
ভিতরের ঘরটা ফাঁকা থাকলেও মুখের আদলে মুখোশ নেই আর  নেই হারানোর ভয়।

#সই