হৃদয় নিংড়ান কান্না চুঁইয়ে পড়ছে অবিরত
সাদা কালো দেওয়ালের গা বেয়ে,,
অন্তর্বেদী হাহাকার তবুও তৃষ্ণায় ছটফট,
মুহুর্ত গুলো পাহাড় ছাড়িয়ে কেবলি আকাশে
মিলিয়ে যেতে ব্যস্ত,
স্তম্ভিত আজ সুতোয় বাঁধা নাটকের চরিত্ররা,
এক টুকরো মেঘলা আকাশ বিধ্বংসী
ভেঙে পড়েছে বজ্রপাত হয়ে,
'ঘর' এর দেওয়ালগুলো দৃঢ়তা হারিয়ে
অসহায়,
নোনাজল ভরে গেছে মধ্যবিত্ত ছোট পৃথিবীটা,
হৃদয় নিংড়ান কান্না যে অবিরত চুঁইয়ে পড়ছে,
রাতগুলোর প্রহর ঘড়ির কাঁটা থামিয়ে দীর্ঘ থেকে
দীর্ঘতর........ পথের যাত্রী,
বাতিটার বুকের নিশ্বাসে অক্সিজেনের ঘাটতি
জানান দেয় ফুরিয়েছে জীবন, কিছু
অপেক্ষা আজো ভোরের দরজায় রোজ
আজান শোনে....কিছু অপেক্ষা আরো
এক সাইক্লোনকে প্রশ্রয় দিতে চায়,
কিছু মন হারাতে চায় অন্ধকারে ভারসাম্য
কিছু সম্পর্ক বাঁচার চেয়ে বাঁচতে চায় মরন
চেয়ে.....
কারন হৃদয় নিংড়ান কান্না কখনো কখনো
অন্তঃসলীলা হয়ে বইতে থাকে হৃতপিন্ডের
খাঁজে খাঁজে,
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৬
২৯শে এপ্রিল
একমুঠ হাসি
------------------------
পরশ পাথর হয়ে ছুঁয়ে দিয়ে যন্ত্রণা হাসতে পারে,
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ফুলেদের
রেনুমাখা পথ খুঁজে নিই,
মেঘ শুধু রৌদ্র লুকোনোর নাম নিয়ে
আকাশী খামে বৃষ্টি জমায়,
মনের আনাচ কানাচ না লেখা কবিতারা
লুকোচুরি খেলে যায় সারাবেলা,,
কেমন করে বলি তোকে তোর তৃষ্ণায়
আমি জন্ম জন্ম চাতক হয়ে ফিরবো
রেনুদের চলে যাওয়া আকাশপথে,,
চাঁদের কার্নিশ জুড়ে জ্যোৎস্নার ঝালর
আমার চোখ ঝলসায় প্রতি মধুচন্দ্রিমায়,,
আলো আঁধারী হৃদয়ের দেওয়ালে টাঙানো
তোর সাজানো ছবি....... কেমন করে তোকে
বলি ভাবছিলিস আমাকে ?
পাঁজরে জমে থাকা নিকোটিন জঙ
আর তোর হৃদয় পুরের খামার বাড়ির
মেঠো মোউতাত আমার প্রিয়।
আমাকে ছুঁয়ে দিয়ে তুই হাসতে পারিস
নিরন্তর বয়ে যাওয়া নদীর কলতানে,,তুই আমার একান্ত অহংকারী যন্ত্রণা,
মনে গভীরে দু একটা ইচ্ছারা সোনার কাঠি
ছুঁয়ে যায় টুকরো মুহুর্তের কেনাবেচায়,
অপেক্ষায় আমারো এই শ্রাবন ভিজিয়ে
দিক আধাপোড়া মাটির তৃষ্ণা,,
বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৬
সবার পরে
এতটা ভাবনার চাদরে নাইবা জড়ালি,
বুকের মাঝে চিনচিনে ব্যথায় রোজকার
আসাযাওয়া রাস্তাটার কন্সার্ট এটাই কি
কম? টুকরো দুপুরে আলসেমি শরীরজুড়ে
অধিকারের কাছে পাওয়া.....নাই বা
ভাবনার আঁচলে মুখ ঢাকলি,
দাবীদার নই শুধু গোপোনে রাখা আতাত
আর আলোর নিচে জমতে থাকা ছায়ার
শিকড়টুকু আমায় ছুঁয়ে থাক,,
বড্ড বেশি চাওয়া বা কিছু কম পাওয়া
এসব প্রশ্ন বেলা বয়ে যাবে,
ভালোবেসে নিবিড়ে যত্ন করে আঁকড়ে রাখিস
আমার যন্ত্রণায় এক মুঠো স্পর্শ
অবচেতনায় আমি কানায় কানায় ভরে উঠবো,, কি অজুহাত কোন সে রঙিন
কখন আঘাত সে সব থাক,, কেন মোহ
দূরে সীমায় আলোর তারিখ এতো আলাপচারিতা নাইবা হল,
চুল ঢাকা ঘুম স্নিগ্ধ আবেশ যেটুকু সবার পরে আমি আছি সেইখানে,,
আছি আমি আছি সব চেনাশোনার আবডালে,ছাঁয়ায় পরবাসে থকবো অনাদরে।
মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৬
নিস্তব্ধ ১৪৪
--------------------
আজ ১৪৪ ধারা শহরটাকে ব্যস্ততা
থেকে ছুটি দিয়েছে, বেশ ব্যেট বল আর
রাস্তার মাখামাখি..... ঝুলন্ত ব্যেলকনি
আর ঘুমন্ত মুঠোফোন কোথাও নেই
তাড়াহুড়ো, কফির ধোঁয়ায় গল্প আঁকছে কাঁচ,
চিনচিনে ব্যথায় আজ সকালের
আমন্ত্রণ ছিল চটকানো সূর্যর উত্তাপেরও,
যেমনটা রোজনামচায় চুক্তিবদ্ধ চুক্তিনামা,,
এভাবে প্রায়শই যদি শহর জুড়ে নামে দাঙ্গা
কারফিউ আর তার আতাতে বরাদ্দকৃত
সময় খেলা করে অলস রাস্তায়, কেমন হয়?
ভালোবাসা যাযাবর হয় এমন দু একটা
নিয়ম ভাঙা দিনে, বেহিসাবি পরিচয়
এমন দিনে ঋণ বাড়ায় ১৪৪ধারা শহরটার,
তুই, আমি, সকলেই লাল কালি ক্যলেন্ডারের
বাইরে এক নিয়ম ভাঙা দলছুট ছুটি মেখে
নেয়া, আদুরে সোহাগি দুপুরবেলা শুকসারির
ফোটাফোটা দুপুর মাখা আদোর,,
জ্বালাতনে ভিনদেশি গাংচিলটা মহড়া সাজায়
আবডালে একার পাশে একা,
১৪৪ধারা বেনিয়মে দলছুট হয়েও খুশি
করে টুকরোটাকরা চুক্তিগুলো,
১৪৪ধারায় রোজকার পথে আমার
পাশে আমি একলা সফরে,,
রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৬
এক মানচিত্রের খোঁজে
বরফ পথ হাটছি, এই কঠিন রাত মাখছি
এই উল্কা পাত বুকের বিভাজিকা যত্নে জমছে,
প্রেম ধ্বংস হওয়ার
আগে তোমার চোখে ভিজতে চাই কয়েক মুহুর্ত
ছন্দপতন হয়ে আমি থাকে ভাঙতে থাকি,
এই নিয়ম মানার বাধ্যতায়,
তোমার বুক পকেটের খুচরোরা আমারা
জমানো ছাঁয়ায় বন্দী হয়ে যায় টানাপোড়েন
দিনের অপেক্ষায়,,
চীরাচরিত জীর্ণতায় আচমকা এক গোপোন
আতাত তোমায় ছুঁয়ে যায় তুমি মনখারাপের
অজুহাতে ফেলে আসা পুরোনো
সভ্যতাকে ভিজিয়েফেলো প্রায়শই।
গাঢ় নীল চোখে গোপোন নদী শুকিয়ে
যাওয়া দেশটাতে সভ্যতা আঁকতে ব্যস্ত,
অন্ধকারের আস্তানায় হারাচ্ছ আমায় কারন
শুন্য মাপতে তুমি ব্যস্তসমস্ত দিন,
আমি সেই মানচিত্র খুঁজছিলাম যেখানে
তোমার বুকের মাঝে আমি এক আদিম
দেশ হব,
এই বরফ পথ এই কঠিন রাত আর আমার
বুকে অজস্র উল্কাপাত......
প্রেম ধ্বংস হবার আগে তোমার চোখে
ভিজতে চাই কয়েক মুহুর্ত,
ছন্দপতন হয়ে নিয়ম মানার
বাধ্যতায় ভাঙতে পারি এক নতুন
মানচিত্রের অপেক্ষায়....... এক আনকোরা
দেশ হবো অপেক্ষা, আমি হেঁটে চলেছি
কুমেরুর বরফপথ ধরে নিরন্তর।
শুক্রবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৬
শেষকথা
বাকল ছাড়িয়ে শতাব্দির জীর্ণতা মুছতে
চেয়েছ, অথচ হৃদয়ের বলিরেখা চিৎকার
করে বলেছে আমি মৃতুর দরজায় কড়ানাড়ছি,
আমার পথ শেষতক পৌঁছে দিয়ে ফিরে গেছে
পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আমার ফেরা নিয়মের বাইরে,,
দূর থেকে
দূর হচ্ছে শহর থেকে নোনা ঘামের স্পর্শ,
সন্ধে নামছে ধান ক্ষেতের আল বেয়ে আমার
শহর মনখারাপের অসুখে ভুগছে,
তিলোত্তমার সংগে তোমার সংগম আমি সহ্য
করবো ঠিক যেমনটি আগেও ছিল নীরবতা,,
ট্রেনের হুইসেলের শব্দে তোমার কণ্ঠস্বরের
মতো আমি আবছা হচ্ছি ধীরেধীরে,
ব্যেস্ত সমস্ত জীবন সুজন এক মুহূর্ত থামেনি
সময় শহরের কোনো চায়ের দোকানে,
আমার চোখে নোনাজল ছলাত করে
তোমার শহরের মাটির চেরা বুকে হারিয়ে যায়,
যেমনটি বরাদ্দদতার পর ভালোবাসা আর
যন্ত্রণা ,
তুমি ভালো থেক তোমার যান্ত্রিক শহুরে
আদবকায়দা পোশাক পরে,
আমার কাছে বদলাবার উড়োচিঠি এসে
পৌঁছায়নি এখনো, কিছু দূরে মুখভার
করা মেঘ আর আমি অপেক্ষারত কখন
আসবে একমুঠো সোঁদা গন্ধ ,, তুমি আকাশের
দিকে তাকিয়ে দেখছ তোমার শহরেও
সিঁদুররাঙা সন্ধে নামছে, আমি দূর থেকে
আরো দূরে অস্পষ্ট হচ্ছি আর আমার শহরের
মন খারাপের সাথে মিশছি,
বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৬
ছুঁয়ে দেখা
ছুঁয়ে যায় না মন বজায় রাখাটা সহচার্জ
পরিনত নয় আর পরিনামও সংসারে ফার্নেস
নির্গত ছাই,
আর পাঁচটা স্বপ্নর মতো এও এক দৃড় স্বপ্ন
স্বামী ,সন্তান আর সবুজ সংসার লতায় পাতায়
ফুল ফল বেশ ভালো আছি বলা
এটাতেই শেষ নয় ,অধিকার আর শৃঙ্খল,,
হ্যাঁ খোঁজ দিশাহারা স্পর্শ নেই,
কি স্পর্শ ? কেমন হয় স্পর্শ!
দোমড়ান মোচড়ান হৃতপিন্ডের ভাঁজের পর
ভাঁজ, কখনো নিঃশব্দে চোখের নিচে গাঢ় ছাঁয়া
কখনো অন্ধকার আকাশের চাঁদ সাক্ষি থাকে
গোপন নদীপথের, সে পথ সকালের আলোয় ম্রিয়মান,
সে আলোয় হৃদয়ের কালশিটে স্পষ্ট চিরকাল,
কিন্তু যুগ যুগ ধরে প্রয়োজন অন্ধকার।
যেখানে সমাজের বাহ্যিক হাসিমুখ এর নেই
প্রয়োজন,
সত্য গুলো যে চাবুক চালায় সেই চাবুকের দাগ ঢেকে
নিয়ম মাফিক ব্যবহারিক অভিনয় সামাজিক দায়,
অবাক হওয়া যে একেবারেই বেমানান তাই
মানানসই রঙ মেলানো বালুচরি নকশীপাড় জীবন।
সেই নকশার গল্পেরা বোবাকালা,
ছুঁয়ে যাবে না কোনো পার্থিব স্পর্শ,
মৃতুতক অস্তিত্ব নিয়ে খেলে যাবে সামাজিক
নৈতিকতা। কোনো মহাশুন্যে চাতক তাকায়
এক পসলা স্পর্শর আশায়,, একদিন হয়তো
মুখ থুবড়ে ইস্তাফা দেবে নিয়মমাফিক নিয়মগুল
কোনো পরিচয় আলাদা করে জানবে না এই মাটি,
কোনো প্রশ্নেরা প্রশ্ন রাখবে না সামাজিক নীতিকথার কাছে।।
বুধবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৬
হারিয়ে যাওয়া
অমি তো দূর হতে হতে হারিয়ে যাচ্ছি
তবু দেখ আমার হাসি শুধু হৃদয়ে নয় সমস্ত
অবয়বে মাখেছি হাসি,
তোকে জানানো হয়নি আমাকে আজ কাল
ক্ষতরা কাঁদাতে পারে না,,
আমার ঠোঁটে মুখে ,লেগে আছে হাজারো ক্ষত
মৃতু তুই দেখছিস বহুবার অবাক হয়েছিস সহস্রবার,
আমাকে খুঁজতে গিয়ে তুই অনেক ক্ষতদের
সাথে আলাপ হলি দেখে ফেললি অনেক অন্ধকার রাত,,
কখন যেন আকাশের গায়ের থেকে সলমা চুমকি
নামিয়ে এনে হাটুগেড়ে আমাকে উপহার দিলি
সত্যি মৃতুর ঝলমলে আদর... আমি ভালোবাসলাম তোকে,
রেলিং ধরে ঝুলতে থাকা আতঙ্ক গুলো আমি গুছিয়ে
নিয়ে দেরাজ বন্দি করেছি যত্ন করে,
আমি তো ভুলতে পারি তোকে হ্যাঁ
নিদেন তো চেষ্টা তো করতে পারি, তবে তুই যে আমার
অহংকারের অলংকার তাই কোনো বাহানা চলে না
বাহানা করে বা ইচ্ছে করলেই কি ভোলা যায়,
যন্ত্রণা অমি তো দূর হতে হতে হারিয়ে যাচ্ছি
আমার থাকা জায়গাটায় লেগে আছে অসংখ্য অক্ষত
ক্ষতচিহ্ন, জানিস প্রতিটা জন্মই হয়তো অভিশপ্ত,
সময়ের রক্তে সকলকে স্নান সারতে হয়,
আর দহন হয় প্রতিটা হৃদয়.....রকমফের আলাদা কেবল,
প্রখর রোদ্রে পুড়তে থাকা বাঁচার ভয়ানক ইচ্ছারা,
তবুও জীবন একটা আর মৃতুও একবার হোক রাজার মতো,
মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৬
চেনা পথে অচেনা
জানা অনেক কিছু সব চেনা বা চাওয়া
খুশি করা নয়,
রোজ অবিরাম বেঁচে থাকা চুক্তিনামা বন্দি একা।
নিজের ভিতর রক্তাক্ত হই আহত আমার সব স্পর্শ
আর যন্ত্রণা,
সামাজিক চাহিদায় কোনো নিয়মিত অনিয়ম রক্তক্ষরণ
আমি পুড়ি বারবার যন্ত্রণাকে পোড়াইনি কখনো কাছে বা দূরে থেকে।
তবুও বুকে এক অনুভূত অসহায়তাকে জাপটে বাঁচে,
ভেতরে বাঁধা গাঁটছড়ায় তোর আদোর খুব নিবিড়ে,
আমার গায়ের নদীর জল পথ খুঁজে নেয় তোর ইচ্ছার পথে,
সমস্ত নদীর পাড় জুড়ে জুড়ে এক স্পর্শ লিখে যায় কোনো
সাজু রুপাই এর কথা সবটা একান্ত যন্ত্রণাকে আশ্রয় দেওয়া।
সময়ের মুখে দাঁড়িয়ে তুই ঈশ্বরের মত লিখে যাস কিছু চাওয়া পাওয়া,
এক হাতে নিয়মের দাঁড়িপাল্লা অন্য হাতে কিছু বেঁচে থাকা ইচ্ছা
সময়ের বাতাসে যে যন্ত্রনারা রেনু ছড়ায় তুই
আর আর আমি মুহুর্ত চুরি করে তাই মাখি,
রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় তার রঙ আদর হয়ে
যায়,
তাই জানা আর চেনা এক নয় যেমন খুশি আর খুশি করা।
কপালের তৃতীয় চক্ষু তুই খোলা রাখ সুক্ষাদর্শী হয়ে,
আমার হৃতপিন্ডের অনবরত উচাটন তুই দেখ,
পা বাড়াই খুব গভীর আলোর আবেশে
কেউ ছুঁতে পারবে না তুই ছাড়া জানিস,
,জীবন এর মানে কি সে তাত্ত্বিক রহস্যসে কেবলি
বিধাতার হাসি সে হাসিতে মোনালিসার
মুখ,
আমার আমিকে সবসময় পাইনা সব
চেনা জানা খুশিয়াল চুক্তিনামায়।
শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৬
সমসাময়িক আমি
আমি সময়কে মেখেছি খুব তরল করে
তরল মানে তো তৃষ্ণা নিবারণ জল, তবে
জলের ভিতর কিসের তৃষ্ণা আরো ,আরো সময়েরস্রোত
ক্রমশএক ধারায় আমি স্নাত হচ্ছি,
আমি মোহ আর ইচ্ছাদের আলাদা স্রোতে
ভিজেছি, চোখে আমার অসময়ের নোনাজল,
আজ না হয় কাল ,কাল না হয় আরো পরে
নদী শুখিয়ে গতি অবলুপ্ত হবে আর নতুন
ইতি্হাসের সুচনায়,
সেখানে আমার বুকের ওপর হয়তো পারিজাত
ফুটবে তার শেকড়ে ছুঁয়ে আমার অতিতঘাম,,
নিজের বুকের গড়িয়ে নামা ঘামের গন্ধ আর পারিজাত
নতুন শুরুয়াত আর এক অনুভুতির
তোমার স্নানজলে কখনো আমি স্নিগ্ধ
আতর ,
তোমার মনে ভাসতে থাকা ভাবনার সৌরভ
হয়তো এইটুকুই।
আমি ছুঁতে পারি নি কোনদিন তোমার সর্বস্বতা,
শুধু ভগ্নাংশ করে অনু পেয়েছি আমার তৃষ্ণায়
আমি সময়কে মেখেছি এক পাতলা আস্তরণে,
ভেবে দেখেছো কখনো ,আমার ভেতোর তৃষ্ণা কেন ?
তবু আমি সময় মাখছি আর আমার ভিতর নিভৃতে তৃষ্ণা বাড়ছে,
কোথায় রাখবে আমায় আমি ছাড়া এই সভ্যতা
জানে এর উত্তর,
আমি রাখবো না কোনো দাবি, সভ্যতার আবডালে
আমি কেবলি সময়ের সমুদ্রে সময় মেখে চ
দুমিনিট
-------------------
অবসরে থাকা অবসর থেকে কিছুটা
মুহুর্তে অহংকারী যন্ত্রণাকে যখন চাই
বৈশাখী ঝড়ে এলোমেলো উড়ে যায়
খড়কুটোর মতো,, এক মুহুর্তে আসা
আর যাওয়া...... পাওয়াটুকু যতসামান্য
খুশিখুশি কুড়িয়ে বুক পকেটে রাখা তড়িঘড়ি,,
আসছি বলে হারিয়ে যাওয়া চুক্তিনামায়,
তুমি আছো সময় ঘড়ির কাটায় অসাধ্যসাধন
কখনো কখনো তোমায় দুমিনিট দাড়করানো,,
মুঠোফোনের রিংটোনটা যানজটে কিংবা
সিগন্যাল এ দাঁড়িয়ে..... কিন্তু দুমিনিট সেতো
মুঠোথেকে ঝরে পরছে মুহুর্তের ভগ্নাংশে,,
'দিস লাইন ইস কারেন্টলি নট রিচেবেল'
জীবনের একটা দিন কমলো..... কমলো
ইচ্ছেদের একদিনের বরাদ্দকৃত দুমিনিট,,
রদবদল হয়না কোনো কর্তব্যরত চুক্তিগুলোর,
যন্ত্রণা খুঁজতে থাকে ব্যস্ত থাকার হরেক
বাহানা,, এই বেস ভালো থাকা... তাই কি?
প্রশ্ন করি বার বার ব্যস্ততম আসা
যাওয়া পথটাকে.... সব চেয়ে প্রিয় কে
সময় না পথিক,
অবসর পায়নি পথ অবসরহীন পথিক
মুঠোফোনে বরাদ্দকৃত দুমিনিট ঘেমে
নেয়ে গড়িয়ে পড়ে মুঠোর বাইরে,,
একটা বোঝাপড়া কাল হয়তো
পথে যানজট কম থকবে,,
কাল যন্ত্রণাকে দুমিনিট অপেক্ষা
করতে হবে না চুক্তিনামা সাক্ষরিত
সময়ের থেকে,, কাল আকাশটা বেশ
ভালো থাকবে হয়তো....কাল হয়তো.....,,
..
...
সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৬
আলোর ওপারে
-----------------------------
আলোর ওপারে
তুমি দাঁড়িয়ে মাঝখানে নিয়মের তির্যক আলো
আর না চাওয়া বরফ শীতল সামাজিকতা
হাতের মুঠোয় গুড়ো স্মৃতিগুলো সময়ের মতো
হারাচ্ছে, আর ক্লান্ত অবিশ্রান্ত ইচ্ছার অবিরাম কান্না..
সাদাকালো দেওয়াল থেকে পাঁজর পর্যন্ত,
তোমাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে আজ কাল অধিকার করছি তোমাকে ভয় পাচ্ছি নিজেকে,
আমার যন্ত্রণাদের সাথে বিশ্বাসঘাতক করছি না তো?
তোমার খোঁজ আজ শেষ,তোমার ক্যনভাস আজ রঙিন
বুকের তিলে আমার ঠিকানা ভীষণ প্রিয় তবুও
সবার শেষে দাঁড়িয়েছি সাজসজ্জা ছেড়ে,
তোমার দৃষ্টি আমায় আলিঙ্গন করে যায়,,
আর সেই আলিঙ্গন আমার মেরুদন্ডের দৃঢ়তার এক অবলম্ব,
গড়িয়ে নামা ক্লান্তি ঘামে আর লুকোনো চোখের কালিতে
নিজস্বতা শুধু, বেঁচে থাকায় খুঁজে ফিরি এক বুক যন্ত্রণা তোমায় নিয়ে,
এমন মিল আছে অনেক বেনামি বুকের গভীরে
লুকোনো দেশের মাটিতেই,
হাজার জর্জরতা থাকা স্বত্বেও
একটা বোঝাপড়া রাখার বাধ্যবাধকতা,
ঠিক একেবারে আমার বা তোমার মতন ,
হিমাংকের নিচে শুয়ে থাকা শরীর ওমের খোঁজ কখনো কখনো অপার্থিব স্বপ্ন দেখে,,
তুমি দাঁড়িয়ে আলোর ওপারে আমি ফুলের
রেনুর উড়িয়ে তোমার গভীরে যাওয়ার চেষ্টায়
নিরন্তর.......
আমার বুকের জং ধরা পাঁজর তুমি ঘষে চলেছ
সময়ের সাথে,, একটু উষ্ণতার জন্যে বাঁচার ইচ্ছায়।
আমি আর যন্ত্রণা খুব গভীরে,
তুমি দাঁড়িয়ে আছো আলোর ওপারে।
শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৬
সত্যি বলে কিছু থাকে
একটু স্পর্শ
সত্যি ঠিক কিছু অনুভুতি তোমার আমার
দরকার ছিল বেঁচে থাকার শিহরণ
এই প্রশ্ন কখনো নিজেকে করা হয়নি
আসলে করতে পারি নি, কারন সামাজিক
পোষ্য আমি,
নিজেকে প্রশ্ন করিনি কেন বেঁচে থাকা?
প্রতি রাতে অন্ধকারের কাছে আমি মৃতু চুম্বন চেয়েছি,
আমি খুশি থাকার প্রবল চেষ্টায় নিজেকে
বলতে পারি নি ভালো আছি,
সিন্ধুকে বন্দি করেছি আধ মরা ইচ্ছার মুখগুলো
আমার বুকের বিভাজিকার নিচে নিজেকে যন্ত্রণাকে।
আসলে নিজেকে খুঁজেছি আমি মৃতুর বুকের মাঝে,
তুমিও বোধহয় আমাকে খুঁজেছো আমার জং ধরা
সিন্ধুকের আনাচ কানাচে.....
এই মুহুর্তের আমার তৃষ্ণা একটু শিহরন
একটা স্নিগ্ধ স্পর্শ।
হয়তো তাই শুধু তাই চেয়েছি তোমার কাছে
গাছের মতন নিজের বুকের পাঁজরে সময়ের
আটকে থাকা আঁকিবুঁকি,
শুধু তোমাকে অনুভব করতে বারংবার চেয়েছি
তোমার ঠোঁটে একটা তৃষ্ণা দেখতে চাই,
সহস্র বার সারা জীবন।
শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০১৬
দুরত্ত্ব বাড়ছে সময় সরছে
--------------------------
মুহুর্ত তার পর সময় এই ভাবে তোর শহর
দূরে সরে যাচ্ছে....আমি পরবাসী হচ্ছি,
ট্রেনের কামরাগুলো আঁকছে বিষণ্ণতার
নানা আবেগ,
দূরত্ব বাড়লো ছবির পর ছবি বদলে যাচ্ছে,
কিছুটা দুর্বলতা আমার চোখের কোনা বেয়ে
গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে,,
ট্রেনটা সবুজ ধানক্ষেত
পেরিয়ে সবুজ সংসারের পা বাড়ালো।
সমস্ত সত্ত্বা জুড়ে আমরা কিন্তু সময় আর
আমাদের হাতে নেই
শহরটা পিছনে সরে যাচ্ছে আমার থেকে
যোজন দুরত্ত্বে,
সময়ের ডংকা ট্রেনের চাকা ফেলে আসা
সময়কে পিশে ফেলে এগিয়ে চলেছে,,
বুকের উপর দুলছে বড়োঘড়ির পেন্ডুলামটা
ওর একাকিত্ত্বের দীর্ঘশ্বাস দূর থেকে শুনতে পাচ্ছি
এক কাপ চায়ে তোমাকে স্পর্শ করব বলে
ঠোঁটে রাখলাম উষ্ণাতাকে, আমি শীতল হচ্ছি
বয়ে যাওয়া নদীর কনকনে হাওয়ায়,
দুরত্ব বাড়ছে কামরার জানলায় আমার মুখ
শীতল আর চুপ আমার মন, শহর থেকে আরো দুরে
ঘুমালো এই শহরের সব জোনাকিরা,,
আমার ঠোঁটে তোর ঠোঁটের নিকোটিন গন্ধ
ফেলে আসা শহরের কোন এক পথের ধারে
আবার অপেক্ষায়,
মুহুর্ত থেকে সময় তারপর শহর দুরে সরে যাচ্ছে,,
ট্রেনের শব্দটা পাঁজর ভাঙছে নিঃশব্দে,
প্রতিটা হাড়ে এক করুন সুর এক একটা
নতুন কান্নার শুরুয়াত,
আবার সময় তুমি আসবে কোনদিন।
ভিড়াল শহরের পথে হাজার মুখের মাঝে
একটা মুখ কিছুটা মুহূর্তের স্পর্শ,
হয়ে থাক দূরত্বের এক আকাঙ্ক্ষার
অপেক্ষা,
সাজানো পৃথিবী
----------------------------------
সত্যি কি কখনো ইচ্ছে করে না আমি কে
তোমাকে প্রশ্ন করতেও ইচ্ছা হয়নি কারন
তুমি সময়ের ফসল আর আমিসেই সবুজের ঘ্রাণ
যার যা কিছু নাম দেওয়ার দিতে পারে,
জানতে ইচ্ছে করে কেন তুমি ,কেন
সত্যি মৃত জমি ছিলাম কি না বীষঘুমে আচ্ছন্ন?
মেঘের দেশে একলা মন মেঘ মেখে
আকাশ ঢেকে রাখায় কি সুখ জানিনি
তাই নিজেকে বর্ণনা করবোনা,
তুমি জানো আমার শিড়দাঁড়া বীষ মাখা ,
আর হৃদয় বিষাদ মাখ,
,তোমার প্রাপ্তি তুমিই বলতে পারবে,
তবুও নিজে পায়ের বর্ষার রিমঝিম সুরকে
বাধি সময়ের কাছে সময় ধার করে,
আর রাতের জোতস্না মাখি তোর চাদর ভেবে,
সময়ে পারে দাঁড়িয়ে আমি এক অভ্যেস তাই না?
অভ্যেস কি বদলে যায়? বা বদলানো যায়?
মৃত্যুর সমার্থক আমার কাছে তোর অভ্যেস,
এখন আমার প্রতিটা ক্ষনে বেঁচে থাকার ক্লোরোফিল
সত্যি তুই তাই কখনো ইচ্ছে করে না
তোকে জানতে,
আমার অস্তিত্বর শিকড় চিরকাল অবচেতনে সন্ধান
ছিল হয়তো
তবু সয়ে যাওয়া ক্ষয়ে জীবনে
তোর নিশ্বাস আর উপস্থিতি।
অদ্ভূত পরিহাস সময় সময়ের কাছে
সমাজ এই সাজানো তাসের ঘর সব
আপেক্ষিক।
তুমি খুঁজছ
যে ঠোঁটে তুমি খুঁজেছ স্পর্শ করছো বার
সেই ঠোঁটে আমি ছিলাম না ছিল ক্ষোভ
তোমার জলন্ত কাঠকয়লায় সেকা আগুন,
বিকেলে নেশাতুর গ্লাসে তুমি হৃদয় নিংড়ে
লোভে গলা ভিজিয়েছ সেই স্পর্শে আমি ছিলাম না।
আর তার সাথে ছিল না কোনো নির্দিষ্ট বাঁচার আশ্রয়,
তবে সেই গন্ধে মিশেছিল এক অজানা লুকোনো ভাঙা মন,
তুমি সময় কখনো পিছিয়ে পড়তে জাননি।
বিকেলের ঘুমন্ত আলোতে তোর চিবুক বেয়ে চটচটে ঘাম।
আমি চুঁইয়ে নেবো যদি চাস তুই,
হৃদয় এর নীল আলোতোকে নিলাভ রঙ
আমি হয়ে রইলাম,
মেঘ সরিয়ে আকাশ আর আকাশের মাঝে একটা
আশ্রয়ের মুখ,
সেই মুখ কখনো তোর কখনো আমার
উষ্ণতার ওমে মাখামাখি,
ভিজানো শহর, বৃষ্টির স্পর্শ অসমের
মাটির সোঁদা গন্ধ আমি এটুকুই চেয়েছি,
যে ঠোঁটে তুমি আমার মিষ্টি হাসি খোঁজ
সেই হাসিতে লোভনেই কখনো,
হাসির ফাঁকে তুমি অকৃত্রিম উষ্ণ নেশা পাবে।
সেই আদরে তুমি লোভি নও তুমি ভরে ওঠ কানায়
কানায়,
যদি কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ক থাকে সেটা বেনামি
সেটার নামকরণ হয়না সভ্যতায়।