বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

ভালো আছি আজকাল

এই শহরটার গায়ে তোর গন্ধ লেগে আছে আজও।
রাস্তাঘাটের ভেতর দিয়ে স্মৃতির সড়ক বানিয়ে আমি হাঁটছি এখন ।
তুই নেই আমার চলার পাশে ...তবু তো হাঁটছি তোর স্পর্শ রাখা গন্ধ মাখা অপেক্ষার  গলি কিংবা বাইপাসের স্বর্গ দুয়ারের পাশ দিয়ে ।
আমি কিন্তু দিব্য ভালো আছি , নাহ মন খারাপ হয় না আর,,  
 বুকে সেফটিপিন  দিয়ে গেঁথে রেখেছি  ভালো থাকার দৈববানি , 
নন্দনে কিংবা পরিজাতে আমি একাই এখন আমার সঙ্গী ,
 নাহ একলা লগে না , বরং নিজের সাথে খুব করিবি একটা রিস্তার সুগন্ধে ঘোর লাগে আজকাল ।
এ শহরের অপেক্ষার ঘাটগুলো দেখে এলাম আজ আবার।  ,নাহ ওরাও কোনো অপেক্ষায় নেই ...আমিও কোনো একলা মেয়েকে তার কথা রাখা প্রেমিকের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম না ।
জানিস এর পরেও যখন শহর ছেড়ে আসছি ...স্টেশন এর ট্রেনের হুইসেলে আর আগের মত তীব্র মোচড়ানো প্রিয়জন ছেড়ে আসার যাতনা কোথাও খুঁজেই পেলাম না ।
বুঝলাম আমার এই শহরের কাছে আর তেমন কিছুই রাখা নেই , বুঝলাম এবার সত্যিকারের একটা মৃত্যু হয়েছে , বুঝলাম সময় শুধুমাত্র দাগ আবছা করে না দাগ মিলিয়ে দিতেও বড্ড পটু ।

সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

এ বছর জন্মদিন

এ বছর জন্ম দিন তোমায় ছাড়া , এ বছর জন্মদিন
বাকি জন্ম টুকুর এক থাকার প্রতিশ্রুতি ।
এ বছর জন্মদিন আশ্রয়হীন ।
এ বছর জন্মদিন আরো একটু সমঝোতা ,
এ  বছর জন্মদিন সত্যি মনে হয় জীবন থেকে খরচ করা দিনের হিসেব ।
এ বছর জন্মদিন হারিয়ে যেতে প্রবল ইচ্ছা ,
এ বছর জন্মদিন মন পোড়ানো আরো খাঁটি ।
এ বছর জন্মদিন .....তুমি বিহীন  ব্যস্ত দুনিয়াদারী।
এ বছর জন্মদিন বলছে ডেকে ও মন শোন 
ভালোবাসি তোকেই কেবল ।
এ বছর জম্ম  দিন.......।

শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২

বৃষ্টিরঞ্জন তোমার জন্যে মেঘ বালিকা

বৃষ্টিরঞ্জন তোমার জন্যে একজন্ম আমার বর্ষা হয়ে ওঠা  ,
তোমায় ভেবে একজন্ম মেঘ হতেই চেয়েছি ,
মাতাল হওয়ায়  তোমার সাথে সুখে দুখে মিশিয়ে নেবো বলে ,দিগন্তে ভেসেছি অপেক্ষার উড়ানে ভর করে।
তোমার জন্যে লিখতে চেয়ে খাতায় আমার ব্যর্থ প্রেমও ডজন খানেক .... কোথাও তবু
প্রতিটা ফোঁটায় স্পর্শ রাখো  আলগোছে খুব ....
ছুঁয়ে যাও মরসুমে বারংবার ....., 
কখনো বাইরে কখনো হৃদয়পুরে বৃষ্টিরঞ্জন তোমায়
পাই নিবিড় করে ।
তোমার জন্যে ঘর ছাড়া মন বাউন্ডুলে এক নিমেষে,
তোমার জন্যে জানলা পারে ভাবনা গুলো পাখির ডানা,
তোমার জন্যে মেঘ জন্ম, তোমার জন্যে  বহতা নদী,
তোমার জন্যে নতুন রূপে জন্ম আমার অজস্র কাল ।
বৃষ্টিরঞ্জন আষাঢ় তুমি ,শ্রাবণ তুমি ,কখনো কখনো 
অসময়ে ইচ্ছা ...অনিচ্ছাও তুমি ....
তোমার জন্যে তাইতো আমি মেঘ বালিকা ,
 তোমার জন্যে শব্দ বুনি   আজন্মের অঙ্গীকারের ।
বৃষ্টিরঞ্জন শেষ কথাটা বলবো এবার ....তোমায় আমি ভালোবাসি, বড্ড ভালোবাসি।

শুক্রবার, ১০ জুন, ২০২২

আষাঢ়ের প্রথম বর্ষণ

বিষণ্ন খিদে লেগে থাকে জ্যৈষ্ঠের বেলা গুলোয় ,,
হৃদয় পুরের আকাশে চাতক যেনো পাগল প্রেমিকের মতো অপেক্ষমান ,, 
তুমি শব্দের খেলায় ভোজবাজিতে শহর পোড়াও....।
ওরা বর্ষা মঙ্গলের তপস্যায় যজ্ঞের কাঠ সাজায় ।

যারা যৌবন নিয়ে এসেছিলো বসন্তের দিনে তারা আজ পরিযায়ী ,
মরসুমি কথা রাখা মেয়েটার নাম মেঘবালিকা বলেই সবাই জানতো , 
তোমার শব্দের অর্থ খুঁজতে খুঁজতে মেয়েটা রূপ রেখা নাম বদলে আজ বৃষ্টি লেখা নামে পরিচিত ।

 আজ প্রথম চাতকের চুমুকি ঠোঁটে আলগোছে কিছুটা আদর রাখে বদলে যাওয়া নাম এর ধারা ,

তোমার  খাতার প্রথম কবিতায় তখন মেঘ  এর পর  বৃষ্টি শুরু  ... বৃষ্টি ...তুমুল বৃষ্টি,..
শেষের কয়েক পাতা কবিতা হয়তো ভিজতে বাকি এবার ,, ....প্রথম তুমি বুঝলে জ্যৈষ্ঠের শেষ অনেক আগেই হয়ে গেছে ....এ আসলে আষাঢ়স প্রথম বর্ষণ ,

বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০২২

বর্ষণ

বুকের বোতাম খোলা উঠোনে বৃষ্টির অপেক্ষা লেগে থাকে ..উদ্বিগ্ন প্রেমিকার মত।
 বেপরোয়া  বাতাসের পাগলামো আদর বিস্ময় 
জাগায় ভালোলাগার,
হৃদয়ের শূন্য জানলায় বোধহয় দুএক ফোঁটা তোমারই স্পর্শ ,
স্মৃতির মুকুল গুলো সুগন্ধী ব্যাথা আর বৃষ্টি ভিজে পাঁপড়ি মেলে ধরছে নিজেদের ।
এ বৃষ্টি সঙ্গম ক্যানভাসে ভালোবাসার সুখাতুর দৃশ্যগুলো আমি যত্ন করে রাখি আগামী বর্ষণের আগে অবধি ।
কারণ পাখি আর প্রেমিকেরা বোধহয় পরিযায়ী হতেই ভালো বাসে চিরকাল,
 আমি বৃষ্টির কাছে প্রণয় স্বাক্ষর  নিয়ে রাখি 
....নির্জন পাঁজরের ওপর ,,,, 
জানি না কেন  এমন বৃষ্টি মুখর প্রচ্ছদের সামনের দাঁড়ালেই মন কেমন করে ওঠে ....
জানি না  কেন এমন  আষাঢ়ে মেঘমল্লার আমার চিলেকোঠার ছাদে বিলাসী বিরহ তৃষিত চাতক কে আমন্ত্রণ জানায় , 
জানি না .... জানি না .....।





***!

মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০২২

নৃশংস খেলা

দৃশ্য গুলো ভয়ঙ্কর কোনো শয়তানি রাক্ষসের1।গল্পের মত ,
 পুরুষ বা নারী কিংবা তৃতীয় স্বত্তা  কিনা সেটার থেকেও বড় মানবিকতা আর মানসিকতা ,
এরা কি ভাবে ছোট থেকে বড় হয় ,  কোন পরিবেশ এদের  সিঞ্চন করে এমন মানসিক অবস্থানে বেড়ে ওঠার জন্য  জানতেও মন কেঁপে ওঠে এবং একই সাথে ঘৃণা হয়।
একটা মানুষ তার মনের বিকারগ্রস্ত ধারণার জন্যে আরেকটা মানুষ যে কিনা একই ছাদের নিচে বাস করে তার যেকোনো অঙ্গ তা সে হাত হোক  কিংবা পা , সেটা কেটে ফেলতে পারে !!
  অবাক হতে হয় এই ভেবে যে এই মানুষ নামক প্রাণীটিই নাকি প্রাণী কূলে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বিরাজমান ।
আর এখানে সেই দুটো মানুষ যার হাত আর একজন কেটে ফেলে দেয় ...এরা নাকি স্বামী এবং স্ত্রী , 
প্রথমত যাই হয়ে যাক দুজনের মধ্যে ....গায়ে হাত তোলাটাই উচিতের ধরে কাছে পরে না, 
 সেখানে আবার অঙ্গ কেটে ফেলে দেওয়া !
 যা কিছু  হবে মুখে কথোপকথনে হবে ,
যদি তাতেও না মেটে সমস্যা তবে আইনের পথ আছে ,
 এ নৃশংসতা কি প্রমান করে ? পুরুষত্ব নাকি সর্বেসর্বা ? 
আসলে এই প্রাণী নামক কীট গুলো ভয়ংকর গোছের ভীতু আর তারই সাথে কিছু না গোছের কিছু একটা ,,,
 যারা কিনা নিজেদের অস্তিত্ব প্রমান করতে অন্যকে আক্রমণ করে নৃশংস ভাবে ,
জানি না এদের ঠিক কি শাস্তি হওয়া দরকার ! জানি না ঠিক কোন আইনি পথে কিংবা কি উপায়ে এদের কে থামানো বা নিঃশেষ করা যাবে ।
শুধুমাত্র লজ্জা বোধ করি এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানুষ বলতে ।
#সই

সোমবার, ৬ জুন, ২০২২

স্রেফ অসম্ভব

তোর আমার মাঝে আসলে কোনো কাঁটা তার নেই,,
ওরা চেষ্টা করে আমাদের  জমি ভাগ করে দিতে পারেনি ,
ওরা জানে না আমাদের মাঝে কেবল একটা বহতা আছে ,
......আর সেই বহতা জুড়ে আমাদের নিজস্ব একটা ঘর ।
ওরা তলোয়ার ,তীর ধনুক ছুরি কাঁচি দিয়ে আমাদের নসিবে  বিচ্ছেদ লিখেছে শতাব্দীর শুরু থেকেই .....নাম বদলে  দিয়েছে তোর আমার,,,

 আমাদের বহতা জমিন ঘর দেহময় ওরা পারেনি আলাদা করতে ।

হ্যাঁ  মিথ্যে নাটক একটা চলছে ওদের চোখের নাট মহলে,... সেখানে তুই আমি দুই দুই ,.....সেখানে তুই আমি কাঁটা তারের পক্ষ বিপক্ষ শত্রু ,
সেখানে তুই আমি একটা ঐতিহাসিক বিচ্ছেদ ....
সেখানে ওদের সংকল্পে আমরা কাঠপুতুল ...।
ওরা আসলে জানেই না আমরা শিবানন্দে আত্মিক
সঙ্গমে চিরন্তন ,, 
যেখানে স্বয়ং ঈশ্বর নতজানু , 
যেখানে তুই কিংবা আমি নয় .....আমরা পরিপূরক।
তোর আমার মাঝে কাঁটা তার .....উঁহু অসম্ভব স্রেফ অসম্ভব ।

রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

নাগরিক বৃষ্টি

l শব্দ ঘোরহলুদ বর্ণে ঢাকা...
 তাই বৃষ্টি এলে আমার উত্তরের বারান্দা ছেড়ে পথে এসে দাঁড়াই .. আর আকাশকে বলি আমার এ হলুদবর্ন রোগ তুমি ধুয়ে ফেলো হে বিশাল ,,  মুক্তির জলধারায় ধুয়ে আমার সমস্ত কবিতাদের অসুখহীন করে তোলো এবার ।
তারপর আমার চার আঙুলের জমিতে লিখবো পূর্ণিমা কিংবা কোজাগরী চাঁদের কথা লিখবো ভালোবাসার কথা ,।
 অমন বৃষ্টি এই শহরের ভাঙা ভাঙা রিস্তা গুলোর নোনা ইঁটের দেওয়াল থেকে বার করে আনবে অনেক বুক চাপা মুখ চাপা বলতে না পারা  এক একটা  নিতান্ত মুক্তিকে, ওরা তখন ব্যাঙেদের মত গলা ফুলিয়ে বলতে চাইবে ইচ্ছে মত  ।
এই নগর মিনারে আজ কাল শুধুই গুমোট নোনা হাপর কাটা যাপন দেখা যায় ,, ,
একটা বর্ষা এলেই এই শহরটার গা মাথা জুড়ে, গলি গুলোর মুখে অপেক্ষার মাছরাঙা পোশাকি তোয়াক্কা খুলে রেখে আপামর ভিজবে শুধুই ভিজবে।
 অমন বৃষ্টি এলে আমার প্রেমিকের অসুখ ধুয়ে দিয়ে একটা সূর্যমুখী ক্ষেত তাকে উপহার দিয়ে বলবো ....একদিন কথা দিয়েছিলাম আজ তাই তোমায় অসুখহীন উজ্জাপন উপহার দিলাম,,,
আমার ভাঙা কলমের নিব তোমার ওপর আর দাগ কাটতে পারবে না ,  তুমি দাগহীন অসুখ হীন একজন মানুষ এখনো থেকে ।

কাগজের নৌকায় আমার ছেলেমানুষি ইচ্ছে গুলোও সেই বর্ষায় আকাশ ছুঁয়ে নেবে জানি ।
নাগরিক কবিয়ালে আমি  আজীবনের  বৃষ্টি-সন্ধি দস্তখত করিয়ে নেবো সে শুভ মুহূর্তেই,
 ,  একটা ভাঙা সম্পর্কের শহরে সমস্ত লেগে থাকা শোক  ধুয়ে ফেলতে আমার মাত্র তিন দিনেরই বৃষ্টি সংলাপই যথেষ্ট ।



কিচিরমিচির

ঘুম ভাঙলেই মাথার ভেতর চড়াই পাখির কিচির মিচির আর শালিকের ঝগড়া ,।
নিউরন স্ফুলিঙ্গ পরস্পর ভাবনাগুলোকে উস্কে দিচ্ছে উদ্দাম বৈপরিত্যের দিকেই , ওরা আর একসাথে থাকতে না চাইলেও মাথার খুপরির ভেতর এক ছাদেই থাকতে হয় দিবারাত্রি ।
মাঝ রাতে যেনো দাম্পত্য কলহের মত তীব্র হয়ে ওঠে হঠাৎ ঘুম  ভঙানো ভাবনা গুলো ।
সকালে দাঁত মাজার ছলে কুলকুচি করে বহুবার তাড়িয়ে দিলেই গোপন সিঁধ কাটা পথে ওরা মাথার জমি দখল করেই নেয় ,,,, মাঝে মাঝে মনে হয় বাসন মাজার সাবান দিয়ে আচ্ছা করে মাথার নিউরন গুলোকে অদ্যপ্রান্ত ঘষে মেজে ঝাঁ চকচকে
করে নতুন শিশুর মত খিলখিলিয়ে উঠতে পারলে 
না জানি কি ভালোই না লাগতো ,,, আর তখনই রবিঠাকুরকে বলি দায় হে আমাকেও সে ইচ্ছা পূরণের স্বয়ংভু করে কোনো এক দিন ।


কেউ না থাকে

কি হয় তেমন কেউ কাছের মানুষ না থাকলে ...
কই কিচ্ছু তো হয় না , দিব্য ভালো থাকা যায় নিজেই নিজের জন্য নিজের কাছে ।
তবে যে এই যৌবন জুড়ে তুমি আমার আমি তোমার ,এই ন্যাকাপনা খেলা কিসের ? নাকি শরীর খোঁজে শরীর তুমি আমি কেবল শরীর ছাড়া কিসসু না হে আসলে এই তুমি আমার আমি তোমার খেলার টার মধ্যে একটা চরম লাম্পট্য ঘোমটা তুলে খ্যামটা নাচে , আর মানুষ সেটাকেই ভালোবাসার মোড়কে প্রেম আখ্যান দেয় ।
আসলেই কি এই সব অক্ষর গুলো কোনোই মান্যতা রাখে মানুষের জীবনে ?
আসলেই কি আমার বলে কিছু থাকে এই দুনিয়ায়?
আমি কে ! আমি কি মন না শরীর ! যদি মন হয় তাকে কি ছোঁয়া বা দেখা যায় ?   আর যদি শরীর হয় তবে তুমি আমার বা আমি তোমার বলে কিছুই হয় না , যা হয় সেটা শুধুমাত্র একটা শরীরের সাথে আর একটা  শরীর  বাকি যা কিছু চলে সেগুলো আসলেই  স্রেফ অলংকরণ ছাড়া  কিছু নয় ,এবং সোটাও স্বার্থ বুঝে ।
এ পৃথিবীতে একটা গাছের পাতাও বিনা কারণে নড়ে ওঠে না সেখানে মানুষের মত বোদ্ধা কি করে প্রেম ,ভালোবাসা , তুমি আমার আমি তোমার শব্দের ব্রত খুঁজে নেবে ।
তাই তেমন কোনো অঘটন ঘটে না যদি নিজের বা কাছের মানুষ বলতে কেউ না থাকে । 

ধ্রুব তারার সংলাপ

খেলা ভেঙে গেছে বলেই কি তুমি হারিয়ে যাবে... এ ঘর জুড়ে তোমার পালক রাখা। তুমি ভেসে আসছ না ব'লেই ... ক্রমাগত বন্ধ করে রাখা দরজায় কড়াঘাত করে চলেছি। 
এতদিন তো তুমিই জাগিয়ে রাখতে রাতগুলো... ভাঙা পাঁজরের খাঁজে খাঁজে আশ্চর্য সংলাপে তুমি বেড়ে উঠছ... প্রতিদিন। 
আর মন্থর বাসা ছেড়ে আমি দূরে চলে যাচ্ছি... আরও দূরে...

#ধ্রুব তারার সংলাপ

শনিবার, ৪ জুন, ২০২২

উত্তরের বারান্দা

উত্তরের বারান্দার ঘরে ফেরা আকাশের কাছে দাঁড়ায় সে ,
সে দেখে  বাড়ি ফেরা পাখির দল আকাশটায় অপেক্ষার কমলা রঙের অভিসার পেতে রাখা যত্নটাকে  ,
শাখের আওয়াজে ,আজানের স্ত্রোতে কৃষ্ণকলির বাঁকা ভুরুর উদ্বিগ্ন  চেয়ে থাকাতে  বাড়ি ফিরে এসো ডাক  ছড়িয়ে যায় শহর থেকে ভুবনডাঙ্গার মাঠ অবধি ।
কোকিলের অদ্ভুদ মাতোয়ারা আবেগী কুহুক জড়াতে চায় আপন বলতে যা কিছুই হৃদয় বোঝে ।

উত্তরের বারান্দার রঙে সন্ধ্যে লাগে.... একের পর এক আবরণে ঢেকে দেয় পৃথিবীর মুখ ,
শামুকের খোলসের মুখে  কেউ কেউ  দাঁড়িয়ে থাকে এমন লগঞ্জিতা মুহূর্তে...।
নিজের ভেতর আলো আর আধারের সঙ্গমকে গুছিয়ে  নিয়ে পুঁজির দেরাজে লাল কাপড়ে বেঁধে সংকল্পে গুঁজে রাখে ওই 'সে' নামক চরিত্রটা।

পাড়ার মোড়ের মাথায় তখনো বেলা শুরু আর বেলা শেষের কথোপকথন চলে .... ,,,
আমার উত্তরের বারান্দার ভেতর অদ্ভুত খিদে লেগে থাকে  অমন অনেক দৃশ্যের , 
রোজ রোজ উত্তরের বারান্দা কে আমি আমার নিজস্ব স্বরলিপিতে ইমন কল্যাণ থেকে মেঘ মল্লার পর্যন্ত সফর করতে দেখি , 
.....দেখি আমারই মত কেউ যেনো তার পুরোনো গিটারের জং মুছে অন্তর রোশনাই দিয়ে আকাশের মতোই অন্ধকারের ভেতরও আলোর অবগাহনের দিকে এগোচ্ছে,
উত্তরের বারান্দার ঘরে ফেরা আকাশের কাছে আমি ঋণী হয়ে উঠি ।

শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২

না থাকায় থেকে যাওয়া

মেয়েটার শেষ যাত্রার দিকে তাকিয়ে সুতোর নকশায়  মন্দবাসার আতর মাখা বুননের রুমাল টা দিয়ে ছেলেটা চোখে ঢাকলো ......,, তবে কি ছেলেটার চোখে নোনা পানির কান্না নামছে!
মেয়েটা হারিয়ে গেলো কবিতা থেকে .....হৃদয় থেকে , চোখের দৃশ্য ক্যানভাস ফাঁকা ।
শেষ যাত্রার দৃশ্য থেকে ফেরার পথে ছেলেটা বহু কবির কবিতার মাইলস্টোন ছুঁয়ে গেলো। 
কুড়িয়ে নিলো সে সব কবিদের প্রিয় মন  চলে যাওয়ার কবিতাগুলো নিজের বুক পকেটে ।

 ছেলেটা বার বার খুঁজে পাওয়ার কবিতা খুঁজছিল সেদিন ,
খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ টের পেলো হুবহু মেয়েটার মত কেউ তাঁর পিছু নিচ্ছে ,   শহরের আর মনের এ গলি সে গলি লুকিয়ে বেড়াতে চেষ্টা করলো  ,,
অথচ বেশিক্ষণ পেরে উঠলো না ও চোখের থেকে নিজেকে আড়াল করতে । 
স্বর্গের দুয়ারে নিয়ন বাতির নীচে ছেলেটা তার কবিতার খাতা নিয়ে লিখে ফেললো অজস্র শব্দের ভিড় ......
লোকে বলে ছেলেটা নাকি ভালো কবিতা লেখে ।
ছেলেটার কবিতা পড়ে অনেকেই  অজস্র ভিড়ের হাততালি কুড়োয়  মঞ্চে মঞ্চে ,
ছেলেটা শুধুমাত্র জানতো ওগুলো একটাও কবিতা কিংবা শব্দ ভিড় নয় .....সমস্ত খাতা জুড়ে ছেলেটা শুধুই মেয়েটার না থাকা মুহূর্ত লিখে যায় আজীবন ।

লিখবো না

না আর কোনো কবিতা তোমাকে শোনাতে চাই না ,
....না না আর কোনো কবিতা তোমার উদ্দেশ্যে লিখতেও চাই না ।
শুধুমাত্র কিছু প্রতিউত্তরে শব্দেরা আসা যাওয়া করবে  এবার থেকে কিছুদিন  মাত্র,,,
 .....যেমন কোনো মৃত্যুর পর স্মৃতি মন্থন আর তারও পর , কিছু দিন মনোদৈহিক কথোপকথন  ।

প্রচন্ড ঝড়ে পিরামিডের বালি সরলেও  মৃত্যুর ঘুম ভাঙবে না  কখনোই ।
বুনো বাজপাখি তার  কলমে কালি শেষ করে সে কলমের নিব ভেঙে ফেলেছে অনেক দিন আগেই ,
ঈশ্বরের মৃত বুকের ওপর এখন আকাশের শকুন দের সমাবেশ।
তোমায় কবিতা শোনাবো না আর কখনও, 
বলবো না আমার কবিতা শোনার জন্য তোমার একটা নিদ্রাহীন  রাত আমায় দাও হে মান্যবর,,,
না ...না  আর কোনো কবিতা ,কাব্য, কিংবা উপন্যাস লিখবো না,  লিখবো না এমন  কোনো শব্দবন্ধনী যা তোমার ঠিকানা খুঁজবে কখনও ।

 আসলে কখনো কখনো ঈশ্বরকেও  ঘৃনা করতে হয় .......

বুধবার, ১ জুন, ২০২২

কিছু কথা

মাঝে মাঝেই চলমান প্রচ্ছদের পাতা উল্টে 
যন্ত্রনায় কুঁকড়ে থাকা ক্ষত গুলোর কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকি ,
চোখের উপত্যকায় জীবন্ত হয়ে ওঠে মাটির তিন হাত নীচে রাখা ফসিল গুলো ।
 বেঁচে থাকার  মুহূর্তকে অক্ষত রাখার জন্য  বারংবার ক্ষত বিক্ষত করে ফেলা মন্দবাসার সকল বেলা  কখন যে দেহ থেকে ফুরুত হয়ে অসীমে মিলিয়ে গেছে এ মনে এ চোখে তা ধরাই পড়েনি ।
আমি করবা থেকে কাহানি হয়েছি .....তবুও করবা আমায় বেঁধে রেখেছে তন্ত্রমোহে ।
আজ সে বেলা শেষে  কেবলই পচে যাওয়া পুঁজ রক্ত আর বিষাদ লেগে থাকা উপসংহার ।
রোজ রোজ কারা যেনো আসে বিছিয়ে রাখা গল্প গুলো কে নজিরদারী করতে , আমি বিশ্বাস ভাঙা মনের দেওয়ালে নতুন করে ইঁটের গাঁথনি তুলি তারপর ....ওরা বিনতুঘলক এর ভূমিকায় আমার শুশ্রসায় বাঁচিয়ে রাখা ঘরটুকু বেআব্রু করে যায় নিজস্ব স্বভাবে ।
এখন ইচ্ছা নদীর কোনো ঘাটেই আমার সুজনের ঠিকানা রাখা নেই,  এক অদ্ভুত বৈরাগ্য উপহার পেয়েছি যত্ন করে আসা মন্দবাসার কাছ থেকে ,
যে উপহারে শব্দেরা মাথা নিচু করে বোবা হতে চায় লজ্জায় ,,,
যে উপহারে কালের ইতিহাসে অমর হয়ে যায়  কোনো কোনো তিরস্কারে মোড়া মুহূর্ত ।
....কিছু না চাওয়া নিঃস্ব মুহূর্ত গুলো কখনো কখনো সব চেয়ে বড় চাওয়া হয়ে যায় জীবনের পর্বে ।
এসব ভাবতে ভাবতে জন্মের উদ্দেশ্য খুঁজে ফিরি রোজ ঘুম ভাঙা সকাল থেকে শেষ ফিরতি ট্রেনের হুইসেল পর্যন্ত ।
মলাটি রাজ্য পাঠ বন্ধ করে ঘুমোতে যাই .....তোমার দিকে পিঠ রেখে ।

চিনতে শিখেছি

খানিকটা চেনা শিখেছি আসল নকল ,
খানিকটা চিনতে পারি  ওই ঔদার্য হাসি আসলেই বেমতলবি নয়  কখনো ।

বেআব্রু চরিত্রে শহর গেছে কবেই ভরে ....
কলমের দিব্যি খেয়ে গা ঘষা  লজ্জার মাথা খাওয়া কবিয়ালি অভ্যেসে মঞ্চে স্রেফ  রংবাজি মলাটের রাজ্যপাট ।

কাব্যের জাল বুননে শরীরের খেলা ....নকল চুল, নকল দাঁত ও নকল হাসির মানুষদের
বিশ্বাস করলে মাশুল দিতেই হয় ।
একের সামনে যে অন্যের নিন্দা করে
অন্যের সামনে সে একের  চরিত্র ধরে টান মারবেই... শাড়ি কিংবা পোশাক খোলা আর স্বভাবের অভ্যেস ।