বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০২৪

চিৎকার ১

বাইরে ও ভিতরে এত চিৎকার 
একটা শব্দহীন আশ্রয়ের খোঁজে রোজ
হাতড়ে বেড়াচ্ছে মন ,
লাল সবুজ আলোর সম্পর্ক গুলো অনুভূতি হীন 
তাকানো ফেলে রেখে গন্তব্যে পোঁছাতে চায় ...
মানুষ একটা গোটা জীবন এই চিৎকার এই ভিড় 
পার হয়ে হাঁটতে থাকে গন্তব্যে .... শব্দহীন শান্ত 
স্থির আশ্রয়ের কাছে ,
তবু কি চিৎকার থামে ?
তবু কি শেষমেশ মন বলে আমার আর কোথাও যাওয়ার 
নেই ?
মানুষ বুকে হাত রেখে নিজের কাছে সত্যিটা বলতে পরে কি
বোঝে কি ঠিক কোনটা তার সত্যি আশ্রয় ?

চিৎকার থামে না বাইরে ভেতরে ।

©সই  (চিৎকার)

সই (৯৮)

কাউকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার পর তার কাছে ক্ষমা 
চেয়ে আগের মত সবকিছু চাওয়ার কোনো মানেই হয় না,
ঘর যতই সজিয়ে নাও মৃত মানুষ বেচেঁ ওঠে না আবার করে।
©সই

মিলন

অন্তহীন মিলনে ডুবে যাচ্ছে অস্তিত্ব 
স্বচ্ছতার দুপাশে দুজন সিঁড়ি ভেঙে 
ক্রমশ গভীরে নামছি ,
ভ্রমের থেকে বহু দূরে আমাদের নিজস্ব নগর অপেক্ষা করছে,
বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যেতে কথারা মুখোমুখি কেবল
চুপকথায় হাতে হাত রেখে একে ওপরকে আবিস্কার 
করছে ,
ব্যথার ভেতর আলোর চিরকুট রাখা ছিলো 
তাই জীবন যেন রূপকথার মত ভালোবাসাময় ।

©সই (মিলন)





ঝড়

কোথাও ঝড় হচ্ছে ধ্বংস ঝড় 
পাঁজরে উড়ে আসা ধুলোয় বিষন্নতার গন্ধ ছড়াচ্ছে,
জাহাজের কম্পাস ভেঙে গেছে বলেই পথ চেনা যায় না 
কোথাও ধ্বংস ঝড় হচ্ছে ,

তবু উৎসব আলো সব তো এখানে ঠিকঠাক 
কোজাগরী আলোয় কারা মিলন সুখে ভাসছে ।

কোথাও ধ্বংস ঝড় কারো হয়তো ঘর ভাঙছে ,
 অন্তর মহলে গিয়ে জানতে চাইলাম
হিসেবের খসড়া.... বেহিসেবী খরচে অসুখ কিনেছি
আবারো  কিছু কিস্তিতে,
বাইরে থেকে  দেখতে পাওয়া যায় না 
সব হিসেব ....
কোথাও ঝড় ঘর ভাঙছে জমা পুঁজি ডাকাতি হওয়ায় 
ঠিকানা হারাচ্ছে ।

আমি অলমতাস গাছটার নিচে দাঁড়ানো  সেই স্নিগ্ধ পুরুষটাকে খুঁজছি আর খুঁজছি  ...কোথাও পাচ্ছি না 
বুঝতে বাকি রইলো না কোথাও ধ্বংস ঝড় হচ্ছে
পাঁজরে বিষন্ন বাতাস মন ছুঁয়ে যাচ্ছে 
ঘর ভাঙছে ....
ঘর ভাঙছে ....

©সই (ঝড়)





মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪

ভুল গল্প

ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়ল 
বুকের ভেতর তোমার পায়ের আওয়াজ 
দরজায় যে মানুষটা এসে দাঁড়ালো সে তুমি নয়,
মন আর মাথা এক জায়গায় রাখতেই ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়ল ,
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে  গভীরে রাখা কাহিনীর 
মলাট খুলে গেলো  ,
মাথার ভেতর রাখা সমীকরণ মিলে যেতেই ঘরের  ইটের 
বাঁধন ছেড়ে পড়ল ,
চেনা গায়ের গন্ধে তোমায় পাচ্ছি কই ভাবতে ভাবতে
বিকেল ফুরোতেই বুঝলাম তুমি নেই ...
কিংবা আমি ছিলাম না ঘরটার কোনো দেওয়ালে ,
থাকার ভেতর না থাকা অদ্ভুত যন্ত্রণার জন্ম দেয় 
অথচ জন্ম কাল থেকে না থাকার মধ্যে কোনো অনুভূতি থাকে না।
ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা জানতো ঘরটা আসলে না তোমার না আমার ...গল্পটা কোনোদিন আমাদের ছিলোই না।

©সই (ভুল গল্প)

সময়ের আয়না

সময়ের কাছে অসময় এসে দাঁড়ালে
আমরা কারণের নিশান গুলো সরিয়ে
মুখোমুখি দাঁড়াই সময়ের আয়নায়,
অসময়ের কাছে সময় এসে দাঁড়ালে মুখ ঢেকে যায়
মিথ্যে অলোর গল্পে ,
মানুষ কদিন বাঁচে একটা জীবন একটা উপন্যাসের জন্য মোটেই যথেষ্ট নয় ,
দৌড়াতে দৌড়াতে দিন ফুরিয়ে যায় প্রিয় গিটারে
সুর গুলো কখন যেন জং পরে অভিমানী মুখ কালো
করে থাকে এক পাশে ,মন ভাবে আমারই তো
ধুলো জং ঝেড়ে নেওয়া যাবে সময় মত 
অথচ সুর গুলো আর মনে পরে না একদিন 
ব্যাস্ত সময়ের বুকে অসময় অভিশাপ রেখে যায় 
স্বাক্ষর হিসেবে 
প্রিয় কবিতার শব্দ গুলো অচেনা লাগে ,
প্রিয় মন দেহ কিছুই তো থাকে না বিনা যত্নে
মানুষ মরে একবার মন মরে অজস্র বার ,
তবু নালিশ থেকে যায় শেষ যাত্রার পাশে হরি ধ্বনি হয়ে ,
চৌ রাস্তার মাথায় ভালোলাগা রেখে পিছু ফিরে চাইতে নেই .... দোষ পায় ,
বেঁচে থাকা গুলো তখন কেবল অনাত্মীয় 



সই (৯৭)


বুকের পাঁজর গুঁজে রাখা বিষন্ন কেতাব 
রোজ যেখানে লিখে রাখা ভুল কিছু চাওয়া,
 ভোর হলে পরিপাটি রোজ আমি ভিড়ে মিশে চলি হাসি
কিছু পথ আলগোছে কেউ ধরে ক্ষণিকের হাতখানি 
রোদ্দুর নিভে যায় ,মেঘ হয় ভারি
বৃষ্টিতে  ডুবে যায়  পাহাড় সব ..ওরাও হারিয়ে যায়
সময় মেনে ....
একদিন ভালোবাসা ভেবে  করেছি ভুল
আসলে সে আগুনের সাক্ষর
আসলে সে মিথ্যে অহংকার 
আসলে সে ঘর ভাঙা বেনো জল 
আসলে সে মুখোশের আড়ালে মানুষের ছল।

©সই(৯৭)



সই(৯৬)

 এবার ফিরে যাওয়া দুর অন্তরালে 
কোনো নতুন গল্পে সাজাবে মন 
নিজস্ব হবে বাকি টুকু সফরের সংলাপ 
ফিরে যাবার পথে অনুতাপের বাতাস থাক
পড়ে ....
একটা সকাল একটা অবসর 
বাকিটা জন্মান্ধ আর জন্মকালা এক
অভিশাপ শুধু।

©সই

সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪

জীবন ছত্র

১)খেলাটা শেষ এইবার দরজায় বন্ধ করে ফিরে যাওয়ার পালা
একটা গোটা নাটকের বারংবার পোষাক বদলাতে বদলাতে 
চরিত্র গুলোও হাঁপিয়ে গেছে একটা দাড়ি টানা দরকার ছিলো।

২)অসম্ভব দ্বিধা আর দহন পেরিয়ে মৃত্যু স্নান সেরে উঠলাম
পুড়ে যাওয়া ছাই থেকে নিজের মেরুদণ্ডের হাড় টা তুলে নিলাম
আর পিছনে তাকানো যাবে না মায়া মোহ প্রেম  আনন্দ শোক বিরহ সব পেছনে রেখে দরজার চৌকাঠ পেরোতে পেরোতে 
অন্ধকার তলিয়ে যাচ্ছে ,
ফিরে তাকানো যায়না এ পথে  এ পথ অনাত্মীয় বান্ধব হীন..
আমি আর আমার হাতে  আমারই মেরুদণ্ডের পুড়ে যাওয়া হাড় 
এটুকুই চেনা ...।

৩)স্মৃতি কথা  পুড়ে গেলো এইমাত্র বাকিটুকু বৃষ্টি দিয়ে নিলো 
বেচেঁ থাকার দিনগুলো জন্মান্ধ ছিলাম মৃত্যুও চোখ খুলে দেয় 
হুহু করে ঢুকে যাওয়া জল একসময় ভাটার পথে চলে যায় 
সাথে ... শান্ত হয়ে বসে আছি জীবনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অতিথিশালায় , মন জানে শূন্যতাই একমাত্র পরিত্রাণ পরিপূর্ণতা।

©সই (জীবন ছত্র)

রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

মনোহর খেলা

অনন্ত একাকীত্ব দরজা খুলে অপেক্ষা
করছে ,
মিথ্যে সাথে থাকাগুলো আবছা থেকে স্পষ্ট,
অন্ধকার হলে বোঝা যায় মানুষ আসলে কতটা 
একা বাঁচে ,
কেউ কথা রাখে না নিজের সাথে নিজেকেই কথা রাখার দায়টা নিতে হয় ,
যন্ত্রণা গুলো কাঁচের শোকেসে সাজিয়ে রাখতে ভালোবাসে 
বলেই বাজার থেকে সময় খরচ করে কিনে আনে মানুষ।

কখনো কখনো শোকেশ থেকে ওরা বেরিয়ে বুকের ভেতর হুহু 
করে ঢুকে পড়ে ,
হঠাৎ একদিন নিজের মুখোমুখি নিজেই দাঁড়িয়ে দেখে যন্ত্রণার 
বিষ ঠিক কতটা গরল ছড়ালে বেচেঁ থাকা যায়
 ....জিত ঠিক সেই মুহূর্তে 
.....যুদ্ধ থেমে যায় ভেতরের 
ধারণা পাল্টে যায় ... সুখ ,শোক ,প্রেম, বিচ্ছেদ , বিশ্বাসহত্যা 
সব কেমন একাকার,
ওই একাকীত্বের দরজার ওপারে এক অদ্ভুত আলোর হাতছানি ।
সবটাই মুখোমুখী দাঁড়িয়ে দেখে নিজের ভেতর আলাদা দুটো মানুষ ...তারপর একজন জিতে যায় 
.... দুদণ্ড দাঁড়ালে এমন মনোহর খেলা নিজের উঠোনে প্রায়শই দেখা যায় ।

©সই (মনোহর খেলা)





বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০২৪

সই (৯৫)

বৃষ্টি হয়তো সব ডুবিয়ে ভিজিয়ে দিতে পারে 
যা পারে না তাই ভেসে যায় অন্য গোত্রের কাছে
যা ডুবলো তার নাম কবি দিলো ভালোবাসা 
আগুন হয়তো সব পুড়িয়ে দিতে পরে যা পরে থাকে
বেচেঁ থাকার মাঝে ভাঁজ করে রাখা ব্যর্থ মন নাম দিলো স্মৃতি ।
আকাশ হয়তো সবটুকু ঢেকে দিতে পারে 
তবু বুকের পাঁজরে ক্ষত  ...তবু একটা অপেক্ষা
চোখ বন্ধ হবার আগেই বড্ড উদম হয়েই থেকে যায়
তুমি আমি নাম দিলাম ইচ্ছে।
একটা জন্ম দিন হয়তো সবার থাকে তবু মৃত্যুর অপেক্ষা
আরো কিছু মাইল এগিয়ে যাওয়াই জন্মদিন...  মানুষ বেচেঁ থাকার শুভেচ্ছা নাম দেয়।
আজ বৃষ্টি নেই , আজ ডুবে যাওয়া অথবা ভেসে যাওয়ায় নেই,
আছে স্মৃতি নিয়ে আরো একটু এগিয়ে যাওয়া একটা শুধুমাত্র দিন ....তোমরা অন্য কথা বলতেই পারো ...
জন্ম দিন।

এই প্রথম একলা একটা জন্মদিন 
এই প্রথম আশ্রয়হীন একটা জন্মদিন 
এই প্রথম কিছু না পাওয়াগুলো কাদতেঁ দিলো না,
বুঝলাম মানুষ পাথর হয়ে গেলে কোনো পাওয়া 
না পাওয়া শুভেচ্ছা অভিশাপ কিছুই স্পর্শ করে না ...
বুঝলাম বেচেঁ থাকার জন্য  আসলে কিচ্ছু লাগে না 
এইতো এত কিছুর পর একটা  গোটা মানুষ দিব্য 
বেচেঁ বর্তে আছি ... ।


©সই ( জন্ম দিন)






মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪

যেতে পারলে যাও




বারংবার পথ বদলে নাও তুমি 
কোনো এক অদ্ভুত নগরী তোমার গন্তব্য 
পাশে থাকা মানুষ গুলোকে অন্ধকারে ভেতর,
ঝড়ের ভেতর, প্রলয়ের চক্রবূহের আড়ালে রেখে এগিয়ে যাচ্ছ।

তোমার  আয়না তুমিই খন্ডিত অজানা অংশে 
সব রূপ আলাদা কেউ কাউকে চেনে নে ,
তোমার এগিয়ে যাওয়ায় সময় হয়তো বা নিশ্চয়তা দেবে
পথ হয়তবা দুয়ার খুলে দেবে...।
যারা নেপথ্যে রইলো যারা, হৃদয়ে তোমার বিরুদ্ধে হাহাকার রাখলো , যারা তোমার সব কটা রূপের জন্ম মৃত্যুর সাক্ষী থাকলো ,
তুমি হয়তো তাদের এই এক জন্মের হাজারো  ভিড়ে মনে রাখতে পারলে না 
অথচ তারা কেউ তো ভুলবে না তোমায় , হিসেব রাখবে সবটুক দেওয়া নেওয়ার,
তুমি কি পারবে এগিয়ে যেতে?
যেতে পারলে যাও।

©সই ( যেতে পারলে যাও )



সই (৯৪)

দিনকাল মাস বৃদ্ধ হয় হোক আষাঢ়ের বৃষ্টিতে থাকুক 
রূপকথার স্মৃতি কিংবা হারানোর মন কেমন,
ভালো থাকার তবুও এত আয়োজন ... এই যে 
জল ভেজা বাতাস ,এই যে আমার গোপনে রাখা 
চোখ পিট পিট পুতুলের অভাব, এই যে আমার বিশ্বাসের 
মানুষ অবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ,এই যে সব হারানোর মাঝে
এই অদ্ভুত বেচেঁ থাকা এর থেকে বেশি ভালো থাকা আর তো কিছুই হয় না ....নিজেকে সর্বজয়া মনে হওয়ায় এক
অদ্ভুত ভালোলাগা কনসিটেন্সি রাখে ।

©সই





আয়না

আয়নায় দেখো রোজ নিজেকে 
নিজের চাতুরী দেখে হেসে ওঠো 
ভাবো তোমার জানা সব টুকু কেবল
জয় ,তোমার জানা ঠিক তোমার দেহের মত 
তোমার পরিচিত ভেবে খুশি হয়ে যাও ,
আসলে কোনো কোনো  মানুষ জন্মান্ধ হয়
তার কাছে পাহাড়  দেখাটা অদ্ভুত ,তার মনে হয়
পাহাড়কে সে জন্মের আগে থেকেই চেনে ,
পাহাড়ের সবটুকু সে জানে ....হয়তোবা পাহাড়টা সে নিজেই
সৃষ্টি করেছে  এসব ভেবে....
কোনো কোনো দিন আয়নার সামনে গুনগুনিয়ে ওঠো 
বেশ সুখী জীবনের মত বেশ চেনা মানচিত্রের মতোই 
তোমার চুল তোমার ভ্রু ,তোমার মুখ,
 দেখোতো ভালো করে দেখো  বহুবার দেখো 
অনেক বার  ....তবু কি চিনতে পারো নিজেকে ?

©সই (আয়না)





সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

সই (৯৩)

বড় মায়াময় এই তোমার দিকের পথটা 
ও পথে পাড় ভাঙ্গে , বানভাসি হয় সংসার ,
পাহাড় আরো বেশি স্তব্ধ হয় ...
বারোবাসের বেশিরভাগ সময় যাতনার বর্ষণ
তবু বাকি থাকা দিনগুলোর সুখ লোভী করে দেয়
ও পথের দিকে যাবার  .... বড় মায়াময় ও পথ ।
©সই






রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪

প্রথম আষাঢ়ের শুভেচ্ছা তোমাকে

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে মহাকালের কাছে মাথা নত 
করে মেনে নিতে হবে গোলার্ধ বদলের সমন ,
তুমি এপারে কোনো গল্পে তখন নতুন প্রেমে 
হাতে হাত রেখে প্রথম আষাঢ়ে বৃষ্টি মাখছো।
আমি পুড়ছি শেষবার ,
যারা শেষতক সাথে থাকবে তারা হয়তো আমার মেরুদণ্ডের 
হাড় বেছে নেবে নিভে যাওয়া ছাই থেকে ,
তুমি নতুন প্রেমিকার চুলে ভেজা গন্ধের সাথে রজনীগন্ধার 
গন্ধে খানিকটা হয়তোবা চমকে যাবে ।
তোমার বুকের ভেতর সুখের মাঝে হঠাৎ মন খারাপের
কান্না দরজা ঠেলে বানভাসি হতে চাইবে ,
বলতো কিছুই কি টের পাবে ... হ্যাঁ কৃষ্ণ তুলসী সফর
পেরিয়ে অনেক দূরে তখন একটা মেঘ তোমার দিকে
তাকিয়ে থাকবে  তুমি জানবে না কিছুই ,
তোমার নতুন প্রেমের ঘরকন্নাতে তারার হাসি  এলিয়ে পড়বে,
দাবি হীন ভালোবাসা আসলে মূল্যহীন সে দিন ওই ভেসে থাকা মেঘটাও জেনে যাবে ....

তোমাকে আগামীর শুভেচ্ছা জানিয়ে মেঘ ঝরে পড়বে হয়তো তুমি আর তোমার হাতে হাত রাখা নতুন প্রেমের ওপরে 
আষাঢ়ের প্রথম দিনে তোমাকে শুভেচ্ছা ভালোবাসাময় হোক
তোমার প্রেম ,তোমার বেচেঁ থাকা ।

©সই (প্রথম আষাঢ়ের শুভেচ্ছা তোমাকে )

শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪

ভালোবাসা

ভালোবাসা আসলে বুক তোরণে রাখা সুগন্ধী রুমাল
ভালোবাসা আসলে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে আঁকড়ে থেকো
একদিন শূন্য হাতের মুঠো ,
ভালোবাসা আসলে এক অদ্ভুত না পাওয়া যে না পাওয়াটা 
আঁকড়ে সারাটা জীবন দীর্ঘশ্বাসে কবিতা বয়ান লেখে ।
ভালোবাসা আসলে ছেড়ে যাওয়ার পরে বাকি থাকা অবশিষ্ট 
যাতে তার গন্ধ স্পর্শ লেগে থাকে ।
ভালোবাসা আসলে মরে যাওয়া গাছটার দিকে তাকিয়ে
অতীতের সবুজ কে মনে মনে বাঁচিয়ে রাখা ।
ভালোবাসা আসলে তুমি ছাড়া আমি 
ভালোবাসা আসলে আমি ছাড়া বাকি জীবনটা তোমার
অক্ষরের মালা গেঁথে আমার ছবির সামনে রাখা ।
ভালোবাসা 
ভালোবাসা 
ভালোবাসা...

©সই (ভালোবাসা)

ভালো থেকো

তোমাকে বলা হয় নি এক নতুন ডাক এসেছে
দরজার ওপারে কালো কাপড়ে ঢাকা তার মুখ,
তার ডাক তোমার নিবিড় প্রেমের থেকেও গাঢ়,
হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না হবো না মুখোমুখি নালিশ নিয়ে অভিমানী সাজে ।
আমার তরফে তোমাকে মুক্তি দিতে চাইনি ,
জানি আমার না থাকা তোমাকে কিছুটা হলেও 
বিষন্ন করবে ... হওয়ায় আমার সুবাস তোমাকে
এলোমেলো করবে ।
আমার উপায় নেই যেতে হবে  ঘুড়ির সুতো ছিঁড়ে গেছে
মুঠোফোন থেকে একটা নাম মুছে ফেলো,
স্ক্রিন সেভারে তারিখ মুছে ফেলো 
এর পর ১১ফেব্রুয়ারি আসবে অথচ তোমাকে কেউ উপহার দেবার জন্য হন্যে হয়ে শহরের অলিগলিতে খুঁজবে না হয়তো ....
কিংবা  তোমার জন্যে দামী কোনো উপহার নিয়ে অন্য কোনো নতুন 
সময় দাঁড়িয়ে থাকবে ...তোমার বুকের ভেতর একটা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া অনুভূতি আর চোখের কোন থেকে 
এক ফোঁটা জল এতেই আমার থেকে যাওয়া ।
ভালো থেকো ...তোমায় ভালো থাকতে হবে আমার উপন্যাসের শেষ কাজ তোমায় সম্পন্ন করতে হবে 
তোমার একটা কবিতায় আমিময় হবে বাকি জন্ম 
ভালো থেকো....

©সই (ভালো থেকো)

শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

মনে নেই শুধু তুমি

তোমার  গলার আওয়াজ শুনে ভাবতে বসলাম
কে তুমি.... এত চেনা আওয়াজ অথচ মুখ মনে 
পড়ে না, ভাবতে ভাবতে এক যুগ  পেরিয়ে আরও 
এক যুগের  দোড়গোড়ায়.... হাজারো  মুখ আসছে
আমি তাদের খারিজ করছি একের পর এক, 

তোমাকে  মনে করতে পারি না শুধু  আওয়াজ চেনা লাগে
মুঠোফোন এর ওপাশে অন্ধকার থেকে তোমায় চিনতে পারি না
,মাথার ভেতর ভাবনা ছবি জট পাকাচ্ছে 
একটা  গিঁট  খুলতে গিয়ে আরও গিঁট এর ভেতর ধরা  দিচ্ছি
অথচ তোমায় মনে করতে আমি ব্যার্থ। 

©সই (মনে নেই শুধু তুমি)

কাঠ পুতুল

শুধু তোমারই জন্য এই পৃথিবীর থেকে আমি
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ,
তোমারই জন্য আমার শব্দেরা বোবা হতে চেয়েছে ,
তোমার জন্যেই আমি অলীক শান্তির মত শীতল ,
তোমার জন্যেই উড়ন্ত হওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছি সমস্ত স্বপ্ন 
তোমার জন্যেই ক্যানভাসের সমস্ত ছবি গুলো
নষ্ট করে ধুয়ে দিয়েছি তার বুক ...
তোমার জন্যেই ভয়ংকর আর সুন্দরের সঙ্গম 
সম্ভব হয়েছে একই সন্ধিক্ষণে।
তোমার জন্যেই আমার বুকে আতরের গন্ধ 
মিশে গেছে রক্তের গন্ধে ।
তোমার জন্যই আমার পাতাল তোরণে এক অন্য পৃথিবী 
রাখা ।
মাঝে মাঝে মনে হয় আজন্ম আমার অস্তিত্বের নিব বুঝি
তোমাকে দিয়েই শুরু 
মাঝে মাঝে মনে হয় তোমার পথে চলতে চলতে আমি আমাকে
হারিয়ে ফেলেছি সবটুকু ।
মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ক্যানভাস রং তুলি সব আমাকে
হাতে দিয়ে তুমি তোমার মত ছবি আঁকিয়ে নাও 
আবার ইচ্ছে মত সে ছবি তুমি দায়িত্ব নিয়ে নষ্ট করো ,
আমি মানুষটা আদ্যোপান্ত তোমার কাঠ পুতুল ,
খেলা তোমার দান তোমার গুটি তোমার গল্প তোমার 
তোমার নির্দেশে আমি তোমারই হাতের দুটোর টানে
স্রেফ এক কাঠ পুতুল ।

©সই (কাঠ পুতুল)





বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪

শুভেচ্ছা তোমাকে চে

সামান্য শুভেচ্ছাই তো 
এই শুভেচ্ছাটুকু তোমাকে দিতে পারলেই
যেন নিজের ভেতর অ - প্রতিবাদী  ভীতু মানুষটা পাপ
ধুয়ে ফেলতে পারে ।
 তেজপাতা রঙের দীর্ঘশ্বাস আর অতীতে রাখা
শৈশবের জানলার  গরাদের পেছন থেকে 
 তাকিয়ে রাখা মানুষ আমি 
বুকের ভেতর অজস্র না দেখা মৃত্যু ভয়  তোমার মত
আগুন পথে যেতে পারিনা কখনো ।
 সামান্য সংগ্রামী মুহূর্তে নিজেকে খরগোশ ভাবা মানুষ গুলো
তোমার দিগন্ত খোলা বুকের ওপর বয়ে যাওয়া বিপ্লবী স্রোত 
দেখে  শুধু মনে মনে নিজেকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ।

কোনো শপথ সফল হলো না ... ট্যানেলের অন্ধকার পেরিয়ে যেতে যেতে জন্ম ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রতিবার ,
  আর প্রত্যেক বার তোমার ছিন্ন শরীর আকাশ ছোঁয়া চাহনি জীবন্ত হয়ে হাতছানি দিচ্ছে ট্যানেলের অপর  পাশ থেকে ।
অন্তত একটা জন্ম সত্যিকারের প্রতিবাদী  হোক এই বলে
নিজেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফিরে আসছি বারংবার ....
কিছুই হচ্ছে না  "চে"  কিচ্ছু হচ্ছে না  .... শেষমেশ তোমার দিকে তাকিয়ে  নিতান্ত শুভেচ্ছা টুকু জানানো ছাড়া  কিছুই হয়ে উঠছে না ,
প্রশ্ন  একটাই  ঠিক কবে আমাদের ভেতর শেকলে আটকে থাকা  মানুষটা  শেকল ছিঁড়ে সংগ্রামী   হতে পারবে  বলতে পরো "চে"?


....."চে" আজ তোমার  "৯৬"  অন্তরে নিরন্তর বেচেঁ থাকার শুভেচ্ছা তোমায় ।

©সই (শুভেচ্ছা তোমাকে চে)






মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪

দেওয়াল

ডাক ফুরিয়ে আসলেই যৌথ খামারের মাঝামাঝি 
একটা দেওয়াল তুলে দিতে হয় 
আসা যাওয়া থেমে গেলে যাতে অপেক্ষা না দাঁড়িয়ে থাকে ।
এক সফরের বারংবার ভুল করলে অপরাধী আখ্যান পেতে হয় বলেই সাধন বদলে নিতে হয়।
সময় থাকতে বাকি টুকু নিজস্বতা গুছিয়ে রাখার চেয়ে ভালো
আর কি হতে পারে ,
মৃত্যু তো সবসময় নোটিস দিয়ে আসে না 
বাকি বেচেঁ থাকাটুকুর ওপর নাহয় একান্ত নিজের অধকারটাই
থাকুক ।

©সই (দেওয়াল)


সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

বিশ্বাস

বিশ্বাস ভাঙার পর আবার কিভাবে ঘর বাঁধে মানুষ?
আবার কিভাবে বিশ্বাস করে যে এবার ঘর হবে এক্কেবারে 
কপোত কপোতীর মত ভালোবাসাময়!
বিশ্বাস খুন করার পরেও ফুলের শরীরের বেঁচে থাকার রঙ 
লাগে কিভাবে ?
বিশ্বাস ভাঙার পরেও ভালোবাসা কিভাবে উৎসব!
 
কিভাবে জানতে জানতে দহন হচ্ছে সাধের জন্ম 
কিভাবে জানতে জানতে ঝলসে যাওয়া  জ্যৈষ্ঠ 
অপেক্ষাকে পুড়িয়ে ছাই করছে কিংবা চিহ্ন হীন।
বিশ্বাস ভাঙার পর  আর কখনো বৃষ্টি নামেনি মাটির ওপর,
 আসলে কান্নার স্রোত বুঝে যায় বিশ্বাস ভাঙার পর
চোরা পথে বিষাদ রাখতে হয় বুক জমিনে,
তারপর যীশুর মত আটকে থাকতে হয় কাঠ আর পেরেকের মাঝে ...

  বিশ্বাস পুঁতে দেখেছি 
ও জমিন আসলে মীরজাফর ।

©সই। (বিশ্বাস)







রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

তোমায় চোখ দিয়ে যখন দেখি



কাগজে পাল তুলে  স্বপ্ন স্রোত চুঁইয়ে পরছে
নিয়মিত ব্যাকরণের কাছে,
মেঘেরা মাটি ছুঁতে চায় সেই আদিম কাল থেকে 
মাঝে খানে কাঁটাতার অদৃশ্য অথচ কার্যকরী ।
যে নদী শহর সভ্যতার বুকে ভেসে যায় তাকে সবাই দেখতে পায়,
.... লুকনো নদী লুকনো স্রোত লুকনো ইচ্ছে নৌকো লুকিয়ে রাখতে হয় ,
তুমি ক্যানভাসের ঠোঁটে ভাষা এঁকে দাও ...
আমি অক্ষর সাজাই সাধ্যমত ....
দুজনেই  অ - সুখ লুকিয়ে রাখি তোরণের ভেতর।

©সই   (তোমার চোখ দিয়ে যখন দেখি )