সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

পুনশ্চঃ

অক্ষর খুঁটে খাওয়া মানুষ আমি ,

ক্ষতদের উপশম।লিখে রাখি শব্দ দিয়ে ,


ক্লান্তির বোঝা দিয়ে ঝুঁকে থাকা শিরদাঁড়ায় 

শতাব্দীর সে ঈশ্বর অভিশাপ লিখে দিয়েছে ,

 নৈবিদ্যের শূন্য  থালা ।

ঈশান কোনে আলোর খোঁজে আমার বাকি জন্ম টা

 এখন থেকে পাখি  .....................

তার শেকলে সাজিয়ে রাখা কাঁচের খাঁচার দিকে যে

 পথ টা দিকনির্দেশনা আমার কোম্পাসে ,

সে দিকেই হোক ছাড়া  আমার প্রান্থশালা ।

মেঘ ও সই

অদৃশ্য স্পর্শে, ঝুলছে শরীর
কি নাম দেবো এ ঝড়ের গতির তাও জানি না 
খড়্গ হাতে উল্লাসে মেঘ  আর সই এর 
অনেক অসঙ্গতি জমছে  ওই দরাজ বুকে ,

তোর সাথে রোজ কয়েক ঘন্টা এই যে আমি গল্প করি আজকাল ......
এই যে তুই অন্ধকারে  আমার নামে 
প্রদীপ আঁকিস সারি সারি.......,

এর মানে তোর ডানার শরীর জুড়ে একটা মন,
 আর....এর মানে তুই ভালোবাসিস ভীষণ রকম ।
এর মানে তুই ঢাকা বুকে
মুহূর্ত  আর সমুদ্রজল জমিয়ে রাখিস যত্ন করে ।

যে খাল ব'য়ে তোর শরীরে
সেও কিন্তু ভ্ৰমর .......তাই  গর্ভচেরা ছায়াপথে স্পর্শ ভাঙে ,,
মনের গতি জানিস? 
, তোর ঘামের গন্ধ  নাম না জানা মারিজুয়ানার
নেশা লাগায় আমাতে ,
 তুই কি জানিস শরীর কিন্তু আদিম তাঁবু খোয়াইয়ের কুঞ্জ রাখা তোর আদরে এখন রোজ হাসে!

আমার হাতেও তোর দস্তানার
ঠোঁট ,
 এখন সবকটা দিন
জানলা খুলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাদের হেমন্ত...

..................এখনো তুই বলবি আমায়
একারই তোর রক্ত ঝরে ?

অতঃপর


 প্রতিটি ঝগড়ার শেষে  এখন আমি একটা করে  পেরেক গেঁথে নিই আমার শরীরে..
. ঠিক  কীলক প্রতিমার চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর মূর্তির মত  ...করে ফেলি নিজের সমস্ত অনুভূতি।

 হলুদ সাপুড়ের বাঁশির দীর্ঘশ্বাস...  খোলসে জড়িয়ে থাকা  চুম্বনের টুকরো যত্ন করে উত্তরের বারান্দায় সরিয়ে দিয়েছি ...।
 আমার গতজন্মের প্রেম ছিল হেমন্তের মতো...
এ জন্মের প্রেম নীল ঢেউ সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকা অবক্ষয় , 
বিধাতা পুরুষ  আঁতুড়ের জাল কেটে মাত্র তিনটি ঝাপসা অক্ষর... অব্যর্থ, অবশেষ ও অব্যয়িত...লিখে দিয়েছিল আমায় চার আঙুলের জমিতে ।
 
 পালাতে চেয়েছি  সবকিছু থেকে তাই কোনো ছায়া রাখিনি ... ছায়া রেখে যে পালানো যায় না...কখনো ।
  গঙ্গায় শয়ে শয়ে ... যন্ত্রণা  ভেসে যায় ,তাদের ফিরে আসা ... গোঙানি শুনতে পাই নিঃশ্চুপ ভোরের আজানে ,
... গেরুয়া বসনে উলঙ্গ রাজা নাচতে থাকে  অহংকারী বিক্ষত লিঙ্গে... তার জন্ম না নেওয়া হাজার হাজার সন্তান তখন নালি পথে নদী খুঁজে নেয় ।
 
 কর্পূরগন্ধের ইশারা সংসার করে আমার শেষ প্রেমিক পুরুষ ,
যখন সে  এক ভ্রম থেকে অন্য ভ্রমে ছুটে

 যোনির  খোঁজ করতে করতে পাগল হয়ে যায়... 
আমি তার পুরোনো ইতিহাস বিছিয়ে একবার হেঁটে যাই ....সব দৃশ্য তখন আবছায়া কেটে বেরিয়ে আসে ,
রাজা রানী সব উলঙ্গ দাঁড়ানো দাবার গুঁটিতে।
আর মুখোমুখি আমি ও অতঃপর আমি।


ডাক থেমে গেল


 স্বপ্নে ঝিনুকের ভাঙা টুকরো আসবেই 
. . তার ওপর নীল ঘূর্ণি... যাপিত ঘূর্ণিঝড়... ঝড়
ঢুকে পড়ে হাঁড়ি খুন্তির রান্না ঘরে ,  এসব পেড়িয়ে কি করে আকাশে যাই বলো... পার্থ । 

আজ  জরাগ্রস্ত. তোমার ডাক .. চামড়ার ঢাকনায় সরীসৃপের ঐহিক প্রতীক্ষা. আমার বুকে ,
.. কার যেন  ছায়া ভাসছে ভাঙা সেতুর নীচে জমা জলে.. রাত গুলো বড্ড বড় এখন. অন্ধকার চিনিয়ে দেয় সমস্ত সম্পর্ক  ,
 চুপকথা ভুলে গেছি ... ভুলে গেছি শব্দদের কিভাবে যত্ন করে রাখতে হয় নিজের করে ।
  আজ বারংবার  তোমার নাম লেখা ওই গাছটার নীচে এসে দাঁড়াতে ইচ্ছা করছিল । যার পাতা ভিজে তোমার চ এর জন্ম ...। 
কেন জানি না  আজ আমার 'অ্যাফোরিজম' শিখতে ইচ্ছা হচ্ছে ভীষণ রকম, ...।
অবর্ব. মড়ার খুলির  মত সংক্রামিত হাসিও হাসতে ইচ্ছা করছে .. ,
 তোমার হেলে পড়া লিঙ্গের ক্রমিক শ্লেষ দেখতে ভালোই লাগছে .. 
এসব তোমার শুনতে ভালো লাগবে না জানি ।এসো  আমরা বরং আজ ইলিয়টের লেখার পাশে বসি...

Webster was much possessed by death
And saw the skull beneath the skin;
And breastless creatures under ground
Learned backward with a lipless grin.

 এবার বলো কে  কার হাতের স্পর্শ যত্নে লালন করেছিল এতদিনের আমাদেরকে ?
কে  চলে গেছিলো  আর ফিরবে না বলে?

কে  চোখে চোখ রাখে জীবিতের শোকে আতর ঢালবে বলে ?

কখনও কিছু  চাইনি বলে অলজ্জ খোলা চাঁদ, কবিতা ,ছবি , সব সব তুমি সহজে নিলাম করে দিলে !
........................... 
আঘাতের পর আঘাত সাজিয়ে রাখা ইট  খুলে যায়
কিন্তু সাক্ষী গোপনে চিরকাল নিঃশ্বাস নিতে থাকে 
পাপ  আঁকড়ে 
............... স্মৃতি পুড়িয়ে ফ্যালে না কিছুই 
বরং ভুলতে চাওয়া দৃশ্যগুলো দেওয়ালে আরো বেশি করে নিজেদের দ্বিগুণ প্রজনন শুরু করে দেয় ।


রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

পুড়তে দাও পার্থ


... আমাদের দুজনেরই প্রজাপতি আঁকা একটা অপেক্ষার  টিমটিমে বাসস্ট্যান্ড.  আছে .. ,
চারদিক যখন শুনশান... সে আমার  বুকের সনাতনী দীর্ঘশ্বাস  আর পরবাস  ছুঁড়ে দেয়..
. আমি লাল ধুলোর ডাকঘরে...  চিঠি গুলো ফেলে আসি ,,
ছইয়ের নিচেও  তাপমাত্রা বাড়ে ক্ষত ঢেকে রাখা শহরটাকে শুশ্রূষা  দিতে ...,, সে আর আমি জানি এখন এসব কথা ,
পরবাসেও এখন  ঘুটঘুটে অন্ধকার...  ভরা কোটালের ঢেউ কোনোভাবে টিকে যাওয়া বাঁধটাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে... তার চার পাশের শৃঙ্খলা হীন প্রজাপতির দল  তার শরীরে শেষমেশ স্থায়ীভাবে ঘর করেই ফেলে ,  প্রতিটা মুহূর্তের সমস্ত গণনা সঠিক প্রমান হয়  ।

 জল ঠেলে নৌকা খুঁজি যখন গঙ্গার বুকে ...  পোড়া কাগজে লেগে থাকা পা এর চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে যায় ... আমার সকালের জানলায় ,,

 গলির মোড়ে কার যেন  পিছুডাক অপেক্ষা করে চুপ করে ।
 ... আগুন কি তোমার প্রেমিকা পার্থ .. তাই কি  আমারও আগে তোমায় পুড়িয়ে বাউলের ঘর ভাঙে...।
 বাঁধ ও মাটির দেওয়াল নিমিষে চিহ্ন হীন করে ফেলে  এত সহজে ,
 অক্ষবাট ও অক্ষের সম্পর্কের মতো... আমরা তিনজন  ভাসছি এখন  ,

 আজ আমায় ধিকিধিকি পুড়তে দাও... আগুন নিভিও না... কোনো ভাবেই কোনো ভাবেই আর প্রশয় দিও না হেমন্ত নামে ঋতুটাকে ।



সে ও তার গল্প


টিপপোকার  কাঁথা বুনছে ,তাই তোমার সব রং রাখা বোয়ামগুলো খালি ,

মৃত যন্ত্রাংশ  আর লেখার খাতায় ধুলো পড়ছে আজ বহুকাল .....লিখতে বসলেই কেন জানি না ঝড় আসে আজ বহুদিন ,

লিখতে বসলেই শিরদাঁড়া বেয়ে জ্বর নামে গীটারের ছেড়া তারের আর্তনাদের মতোই ,
আমি লেখার টেবিল ছেড়ে উঠে গেলেই ...
মৃত্যুদণ্ড ছুঁয়ে থাকা টেবিল ঘড়ির শব্দ পেরিয়ে একটা ছায়া আসে  দেবমূর্তির মত , 
সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে আমার যন্ত্রনা আর যাপন সে নিয়ে নেয় 
এমন ভালোবাসা আগে কখনো ছুঁয়ে দেখেনি আমাকে , 
 দমকা হাওয়া বৃষ্টির গতি দ্বিগুণ করে দিয়ে সমস্ত দুঃখের কবিতা কে তছনছ করে দেয় ,

আমার দেখা সেরা পুরুষ এখন সে ,
আর আমি তার কাছে ফেড্রিকনগরে... এক চিলতে সহজ গল্প  আর অভ্র ভাঙা হাসির টুকরো ।




আবহাওয়া

  যে দূরত্বে   নিরর্থক শুশ্রুষা চাওয়া   তা শুধু মন নামক যন্ত্রের বিকল হওয়ার কথাই  বলে  ।

 কম্পাসের  জন্ম নেওয়া এই শহরে  গাছেদের  ছায়া শুধুমাত্র মন্থনে কাজে লাগে ... আশ্রয়ে নয় ।

 এ-ওর মাথা ছুঁয়ে ফ্যাকাসে  দুপুরে গোপন  কড়িখেলায় মেতে ওঠে ইনবক্স জুড়ে ।

... ভালোবাসা ছাড়া  বিছানায় ঘাসের জন্ম হয় কি কে বলতে পারে ! 

 ... রাতের  ঘুম পেরিয়ে প্রতিটা মানুষ তার ভাটিয়ালি সুর খোঁজে গ্রস্ত গঙ্গায় ...। 

 আমি রোজ একটা গল্প দেখার জন্যে এসে বসি  এই ঘাটের কাছে....অথচ  ঠোঁটহীন শব্দ ভাঙে গল্পে নয়  কি এক অচেনা অধ্যায়ে ... ,

যার গায়ে ছিপনৌকার জলের দাগ একটা ক্লান্ত ছেলে আর ভেসে আসা মেয়েটার দেহ ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পাই না ... ।

তারপর জেগে উঠে হাঁটতে থাকি নিমতলার আগুনের এক মাত্র সত্যি ছাই গুলো ছুঁয়ে দেখার জন্যে ... কারণ যে আবহাওয়া লুকোনো বৃষ্টি রাখা থাকে আজকাল  গোপন শত্রুর মতই ।



আর্কাইড

কারো থেকে অনেক   বেশী ভিজব বলে
..................  এই তুমুল বৃষ্টিতেও  ঘাসে ঘাসে আগুন জ্বালিয়েছি প্রতিবার ।

শেষ প্রান্তের ঘোরলাগা  আবেশ ধুয়ে রান্না ঘর সাজিয়ে নিয়েছি প্রয়োজন মত ,
.............. তবু আশ্চর্য রকম .  সংকেতগ্রন্থি  আমি এখন চিনতে পারি ,
........................ আকাশের বিসর্জিত ছায়ায় সমস্ত পাণ্ডুলিপির মৃত্যু আসছে ঘন ঘন... 
যেন শহরে বিষণ্নতায় এক    ব্যার্থ প্রেমিকা  তার  অভিশাপ রেখে গেছে কোনো বটের ঝুড়িতে লাল কাপড়ে বেঁধে ।

 হয়তো ধ্বংস স্ববৃত্তে একমুঠো বুনো ফুল রেখে আজ শেষ বার নির্বাক  ধ্যান আঁকছে  সময় ।


..................................... স্রোতের সমুদ্রে বড্ড ভিড় আমি সময় এর  বুকের বিভাজিকায় 
............... আমার সেইসব পাণ্ডুলিপি রাখলাম লুকিয়ে    ....যা থামিয়ে ইশারায় তুমি কাঁদতে ... প্রতিদিন...।।
আর অল্প ভয় দাউ দাউ জ্বলে যেতাম  আমি ।

হাওয়ায় ভেসে আসা   সব গল্প 
.................. আমাদের মধুবনী প্রেমে ছুঁয়ে যায় আজ , । তবু বলতে নেই ফিরে এসো সব অবশেষের পরেও  ....সভ্যতায় চিহ্ন খুঁজে নিও ,
তবু বলতে নেই চলে যাবার আগে সব সত্যি গুলো ।

শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

ববাগী ইচ্ছাবাড়ি

আজকাল  গলায়  স্বরবর্ণ রা বিবাগী ,
শব্দক্ষয় হবে ভেবে শব্দ বাঁচাই অনেক বেশি ।
 খুব কম ঘুমাই... রাতে ইচ্ছাবাড়ির
স্বপ্নের ঋণ শোধ হওয়ার ভয়ে,,

ঘুমের ভেতর যা যা ঘটে যায় তাকে জীবন ভাবি ,, আর  জেগে উঠি  মৃত্যু ঘিরে থাকা পৃথিবীতে ... ছেঁড়া শিকল আঁকড়ে...আকাশ আর মাটি এক সাথে ছুঁয়ে দেখতে চাই ...রূপকথা পেরিয়ে ।

দেহের উষ্ণতা বাড়লে যেসব জেলেডিঙি
নিভু নিভু আঁচে জলের হাত ধরে আমি তাদের দিকে দিকশূন্য কম্পাস ছুঁড়ে দিয়ে সাহসী হই একটু একটু করে ,
বিশ্বাসী ঢেউগুলো  সন্ধ্যায় লাজুক তীর খোঁজে
................ নিরাবেগ বাতাস-তরঙ্গে... অচেনা মানুষের গল্প লিখে রাখে ।

শোক ফিরে এলে মৃত গ্রহণের কাছে ...শুধু তুমিই খোঁজো না আমায়...বাকি অলিখিত গ্রন্থে আমি চিরকাল অনন্যা।


সন্ধ্যে নামার আগে

ঘরের  কাছে আর  রাস্তা রাখার দরকার নেই  ফেরার।

তুমুল একটা বৃষ্টি হোক শহরে  এখন।

মফস্বলের দুপুর ফুরিয়ে এলে... শহরের প্রেমিকরা ঘরে ফিরে যায় সাবধানী হয়ে ,

 তখন সন্ধেগুলোর যত্ন  নেয় শুধু পাখিরা ,  
এত ভিড়েও তারা নিজের নীড় ভোলে না কিছুতেই ।
তারপর একটা করে রাত আসে আগুন হয়ে জ্বলতে,

 কেউ সেকে নেয় শীতল হাত কেউ হাত পুড়িয়ে নিশানা মুছতে চায় ,




শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১

অফুরান হিসেব

জন্মের প্রয়োজনে  মিশে গেছিলাম তোমার সাথে  
এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে আমি তোমার এবং সকলের থেকে ভিন্ন করেছি চেনা মেয়েটাকে  ,

জলের দিকে এগিয়ে যাওয়া খাদে আমি বৃষ্টি হয়ে ঝরছি, অথচ ফুরোচ্ছি না আকাশের গা থেকে ,

রাতপোড়ানো কবির অসুখ সাক্ষী থাকছে   এই ঝরে পড়ায়...।

নিজেকে জল করে দিতে পারলেই যে  সম্পর্কের খেলায়  জিতে যাওয়া যায় সে কথা আগে জানতাম না ,
আজ বুঝি ভালোবাসলে  চোখের পাড় বাঁধিয়ে নিতে হয় ....
 ভালোবাসলে আগুনের ছিলিমে রাখতে হয় সব কিছু ....যা যা রাখতে হয় একটা আকাশকে ছুঁতে গেলে ।
 অথচ দেখো প্রতিটা বুকে একটা খোলা আসমান থাকে,
তুমি মানো আর নাই মানো সেখানে ভীষণ রকম পিরিতে মেঘ আর বৃষ্টির সংসার থাকে ....
তবু বলো ভালোবাসার ঘরে ঠাঁই ধরে রাখতে পারে কজনে ....মন তো কেবল পাখির মত এ ডাল ও ডাল করবেই ...,
খাঁচা বদলও করবে ...
মন্দবাসা বিলিয়ে দিলেই কি রক্তের রং বদলানো যায় ?




ভুলিনা কখনো

ভালোবাসা ঠিক চিনে নেয় পুরোনো আদর ...
মনের জানলায় স্পষ্ট হয়ে যায় পুরোনো সব মুখ
যারা একদিন আমায় প্রেমিকা ভেবেছিল ...,
না আমি তাদের  কাউকে বলিনি ভালোবাসি ...
 তাদের কাউকে বলিনি হাতে হাত রাখবো ,
সময়ের মোড়ে তারা বদলে গেছে কিনা আজ জানি না ,,
তবু তাদের কোনো মুখ আমি ভুলিনি নিয়মিত 
এক বান্ধব মন তাদের কে বেঁধে রেখেছে আমার সাথে ,
আসলে আমার লুকোনো গ্রন্থ আর মিথ্যে প্রহসন 
ছিলো না .....ভয় ছিল না বুকের পাটাতন ফুটো হয়ে কালাপানি  ঢুকে যাবার ,
তাই আজও বুক ঠুকে প্রেমিকা হতে ভয় পাইনা ,
আমি জানি মৃত্যুটা ভীষণ ছোটো গল্প ...আজ মরলে কাল দুদিন ...
আর জীবন কথা রাখার নাম,  জীবন তাই উপন্যাস ....
আমি তাই অঙ্গীকার ভুলিনা ....ভুলিনা 'মরতে দমতক" কথা রাখতে । 
ভয় পাই  অবিকল মানুষের মত দেখতে   শ্বাপদকে ,ভয় পাই সমস্ত মিথ্যে বাহাদুরিকে,

তবুও পার বাঁধানো ধরে যখন কোনো ছোটো গল্প পাশাপাশি দাঁড়ায় আমি তাদের বলি আঁকড়ে থেকো বেঁধে বেঁধে থেকো ....দো পল কি জিন্দেগী ...।
"নিজের শ্রুতির কাছে নিজেই ক্রমশ 
নীল খামে ভরা  একটা কোমলরাগ মেশানো চিঠি হয়ে উঠি...
কত কি বলা হয় না, সুর লাগে না সপ্তকে...
সমস্ত সুর মনে রেখেও অভাবী হতেই হয় ...কারণ জীবন সময় বেঁধে দেয় পথ বেঁধে দেয় বরাদ্দ বেঁধে দেয় ,,
তাই  অসমাপ্ত  স্বরলিপি রেখে বারংবার ফিরে যাই আমার  একান্ত উত্তরের বারান্দায় .।

সুবর্ণা (১০৭)

চিত্রনাট্যে অনেক ঈগল ছিল আমি জানতাম সুবর্ণা ,,
  নির্জন নদী ও তির্য সমাধি ঘেরা বিহ্বল একটা  বাড়ির উল্লেখ ছিল সেটা আমি ছাড়া তেমন কেউ জানতো না .. ,
সেখানে  ঘরের কোণে রাখা টেবিল... তার ওপর ভাঁজ করা তোমার প্রাক্তন  রুমাল... আর দৃশ্য বিন্যাসে  ঠেলে উঠে আসা আশ্চর্য ক্ষতের সেই চিহ্ন গুলো আজও এতটুকু পুরোনো হয়নি  । মৈথুন বেশের স্হির চিত্র যেনএখন পরিজাতে বসে আমি দেখতে পাচ্ছি ......নাহ আজ তুমি নও 
আমার সাধন সঙ্গিনী .....তবু দৃশ্য কখনো মরে না জানতো সুবর্ণা .....দৃশ্য কখনও মরে না ।
 ফিরে পাওয়া যায় না এমন অনেক পলাশের রঙ... ওড়না ও আড়ালের আশ্চর্য দাম্পত্য আঁকড়ে...সে সব স্বর্গীয় দৃশ্যর ধমনীতে এখনো টগবগে রক্ত ফুটছে ।

 বেশ বুঝি চিত্রনাট্যে এখনও বেশ দুর্বলতা আছে তাই তুমি তাড়াতাড়ি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছো । 
 আজমেরের টাট্টু ঘোড়া... আজও শব্দ করে পৃথিবী কাঁপিয়ে  চুয়াল্লিশের বুকে দাপিয়ে বেড়ায় ,
  হরিণ চামড়ায় চিবুকের ভাঁজ ....নগ্ন আবৃত্তিকার কবি , ... মাছরাঙার ঘুম আনা ক্লান্ত দুপুর... এসবের প্রতি- তুমি গোপনে পর্দা সরিয়ে দেখো .. ।

অথচ দেখো আমি কত সহজে নিজেকে প্রখর তীরন্দাজ তৈরি করে ফেলেছি ....আমার লক্ষে 
এখন শুধুই  হাজার হাজার প্রেমের চোখ ,
আমি একের পর এক তীর দিয়ে লক্ষভেদ করছি ..
শব্দহীন লক্ষভেদ .....সুবর্ণা শব্দহীন লক্ষভেদ ।
.....….........(সুবর্ণা প্রিয় লক্ষভেদ)

ত্রিমাত্রিক দৃশ্য




আমি চলে যাচ্ছি ... আলো কিংবা অন্ধকার তরঙ্গের ওপারে ,,
উপচে যাওয়া পাত্রে যা কিছু পড়ে থাকলো হওয়া 
বদলে বাকি বকেয়া  শব্দ বদলে যাবে ঠিক ...যেমনটা আগেও হয়েছে বহুবার ।

শঙ্খ, উলুধ্বনি আর  ঝরে যাওয়া কৃষ্ণচূড়া বেশিক্ষণ  সংগ দেবে না  সে তুমিও জানো আমিও  জানি ।
..................... চোখের মণিতে নিজস্ব আতিথেয়তা নিজেকেই করে নিতে হবে  ,,

কাল থেকে যদিও আর  কখোনো  দেখা হওয়ার দিন আসবে না

অথবা কাল থেকে  প্রতিদিন ... আমরা একটু একটু করে স্মৃতি দৃশ্য রাখা পুরোনো শহরটাকে 
নতুন আঙ্গিকে সাজিয়ে নেবো ...,

 তারপর নাহয় ক্যালেন্ডারের ঘর গুনতে গুনতে হঠাৎ সে আবিষ্কার করে... আজ আবার এক নতুন  উজ্জাপন দিন .

একা কোনো বৃষ্টিদাগ ত্রিমাত্রিক নোটবুকে জলছাপের চেয়েও আরও গভীর উল্কাচিহ্নে... নিরুদ্দেশের লোভে লিখে রাখবো একেবারে নিজস্ব করেই ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

পায়ের শব্দ


 পায়ের শব্দ যেখানে শেষ হয়,
 একটি গাছ বেড়ে ওঠে সেখানে... 
সময়ের বৃষ্টির সাথে যার অদ্ভুত মিল।
 গঙ্গার বুকে গুঁড়ো গুঁড়ো  স্মৃতির নুড়ি কাঁকরেরা নাব্যতার ভাষা শিখে ফ্যালে... আমাদের মতোই।

কায়াহীন তন্ত্রীয় শিকল ও মায়ায় মুঠো ছাড়িয়ে
মৃত্যু ছুঁয়ে ফেলে সহজে  সমস্ত পাণ্ডুলিপি। 
হাতের ছায়ায়  কাঁপে মিথ্যে সংসার...,,
 দু-চোখে  মাধবি লতা বেয়ে সন্ধ্যা সেই কালো  মেয়েটির কথা ভেবে জানলায় পিঠ রেখে মিথ্যে বলে যায় দিনের পর দিন । 
আয়নাও যে  ছদ্মবেশী রঙ লিখে রাখে সে কথা সবাই জানে না ।
 সিংহদরজার ফাঁক গলে যে কয়টি গ্রহ-নক্ষত্র চোখে পড়ে তারা যা বোঝে   মানুষ সেসব বোঝে না । তাই মানুষ নিজের চক্রবহু নিজেই সাজায় যত্ন করে ।


গুঁড়ো গুঁড়ো আয়না ভাঙা 
সূর্যঘড়ির কাঁটা ছুঁয়ে যায় প্রেমিকের সব রেখে যাওয়া দৃশ্যে ,...গ্রহন লাগে কি ভীষণ রকম ।
.................. মিথ্যাও বলেনি  হয়ত ....অন্ধকার নামার আগে কুমকুম রঙের আলো আসে যে সব জানলায় ...সে সব গরাদহীন জানলায় জীবন 
কথা বলে বাকিরা চুপ ।

সাতনলী

১) ঝড় বৃষ্টির দিনে তুমিও শহরের মত 
প্রশ্ন মুখী হয়ে ওঠো জানি ....
জানি তুমি নাটকের সব দৃশ্যগুলো জানতে কোনো এক সময় ..,
*********************
২)   এখন অন্য প্রেম,, তাই তুমিও অপ্রেমীকের দলে সামিল  আর প্রাক্তন দৃশ্য ছাড়া কিছু না কিচ্ছু না ,
একটা মৃত সময় ফ্রেম বন্দী ...ঠিকানা হীন দেওয়ালে ঝুলছ শুধু।
********************

৩) এত যে ভালোবাসি তুমি সেই ভালবাসা শিবিরে শিবিরে সেলাই করে রেখো ....আমি বুঝবো না বলে জানতে দাও না  জানি ,
তুমি কাল দু হাতে আমার চিবুক রেখে দেখেছিলে 
চোখে র আছে  সংযমহীন আড়ালে ...শব্দহীন দহন। আজ আমার মত সুখী খুব কম জন এ পৃথিবীতে জানি ....
*******************
৪)  দূর শহরে স্থৈর্যের কথার ভুলে
.......... যে  বিকেল তার আলো মুছে নেয়
আমি আর সে বিকেলে হাঁটি না বহু যুগ .....
ছিপ নামের  ছেলেটা বঁড়শি হারিয়ে ফেলেছে বহুদিন ... আজ ওর ভীষণ জ্বর... উদ্ভিদে জ্বরাসূত্র থেকে ... কেয়াগাছের নীচে গেরিলা-গ্রন্থ পাঠ করছে  তার তিনটি ত্রিভুজ... যারা পাতালের কাছে আজও অধিকারহীন... সারবস্তু মাত্র ।
*********************
৫) আজ বহুদিন পর  নিশ্চন্তে ঘুমিয়েছি ... অসহ্য ঠোঁট ছুঁয়ে নৈঃশব্দ্য আছড়ে পড়েনি আমার ঘুমের ভেতর , 
আসলে  জন্মের আড়ালে... শব্দই হয়ত সে শৃঙ্খল জানে... জানে শরীরহীন ঐশিক গ্লানি মুছে দিতে। 
আমিও যে ভালো থাকতে জানি মঞ্চের বাইরে কোনো নাটকীয় পোশাক না পরেই ,,
**********************

৬) তাই অন্যদিনগুলোয়  আমায় যে প্রশ্ন করতে.. তার সাথে আজকের মিল নেই... বাইরে তাকিয়ে দ্যাখো... ঝড় উঠেছে... তোমার ঘররে জানলায় 
ধ্বংস মুখী হওয়া আরো একটু সাবধানী হতে বলছে হয়তো  .....
******************
৭) আমি সেদিনের মতোই আজও শান্ত বাইরে ভেতরে .....আসলে আমার প্রবাহে চিরকাল ভালোবাসা বইতে থাকে  ....মৃত্যু আর স্মৃতি দুই বয়ে যায় থেমে থাকে না কখনো ।




বুধবার, ২৬ মে, ২০২১

অন্ধলিপি

 তার নুড়ির মত ন্যাড়া মাথা থেকে আজকাল  

বাঁকা ছুরির মত পোড়া ঠোঁট এখন আগ্রহহীন করে 

দেয়  ইচ্ছা বাড়ির স্বপ্নদের।

ব্রেইল এর অন্ধ ছুঁচ ফুঁড়ে ফুঁড়ে তার সারা গায়ে লেখা হচ্ছে পাপ গ্রন্থ ......

এক অংক নাটকে আমিও সামিল হয়েছি নিদারুন 

সময় অপচয় করেই ...... 

সময় যথার্থ মানে শিখিয়ে দিয়েছে সময় নিজেই 

এক ফোঁটা চোখের জল এত দিনের সমস্ত ছবি কে 

ধুঁয়ে মুছে তাকে নিশ্চিহ্ন করে দিলো ......অহংকার মিশে গেলো আলোর অন্তরালে ....শহরের অলি গলি এখন পাপ মুক্ত ,

তার পাঁজর ভালোবাসার হাহাকারের চিরকুট শুকোচ্ছে দিন রাত জুড়ে .......

আলো আর অন্ধকার নিয়ে লুকোচুরি খেলতে 

পারে এমন মানুষ কজন আছে ! ঘুন পোকার আশ্রয়ে যে সব শিরদাঁড়া তাদের শব্দ চিৎকার 

গুঁড়ো গুঁড়ো সৎকারের ছাই ছাড়া কিচ্ছু না ,

এসব অনাকাঙ্খিত দৃশ্য গুলো মনে করে ভুলে যেতে হয় ....আর দিব্য ভুলে যাওয়াও যায় ,

যারা মনে করে ব্রেইল শুধু  অন্ধকার জাজিমে 

নকশা ফোঁড় তোলে 

 তারা  আসলে ভুল  মনের  অন্ধকারেও সময় নিঃশব্দে ব্রেইল লিপির মত গোপন চিহ্ন এঁকে রাখে ।

মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১

শিল্পী তোমাকে

এমন ভাস্কর্য তোমার বুকের পাঁজরে ,
হাতুড়ি কাস্তে শিশুর হাসি যেন নিখুঁত 
তোমার জীবন দর্শন ,
জীবনের ছবিতে তুমি সংগ্রাম চিনতে ...চিনতে 
অন্তরের স্বাধীনতা ,
রাম কিঙ্কর ব্যেইজ ...নামেই এক অবিনশ্বর সৃষ্টি
অলংকার ....
সৃষ্টি কর্মে প্রকৃত প্রান্তিক তুমি ...রবিও তোমার আলোয় মুগ্ধ ...মুগ্ধ আমার দেশ ,
দেশিকোত্তম তুমি ... পদ্মভূষণ তুমি ,
পঙ্কিলে জন্মে পদ্ম ...
রার অঞ্চলে খটখটে ফাটা মাটির বুকে তুমি যে শিল্পী .... চিরকালীন শতদল , 
আজ জন্ম দিনে দেশিকোত্তম তোমায় কুর্নিশ ..
শুভ জন্মদিন শিল্পী ....রবির আলোয় তোমার ভাস্কর্য চির চর্চিত হোক । চির উদ্ভাসিত হোক ।

ধর্মস্যঃ সহাং

বৃষ্টির ভেতর  ধোঁয়ার খেলা 
পাতালে পাতালে ঘুমায় প্রেমিক মন 
সাদা ধুলোঝড় তোমার জানলা থেকে আমার উত্তরের বারান্দার  দিকে ফিরে আসে ,
**********************************
একোন জায়গা যেখানে সমানুপাতের মন আর অপেক্ষা  রাখে না  কোনো ভালোবাসা নামক স্টেরয়েড এর ।
তার চেয়ে ভালো হাত রাখি  এই  খোলা বুকে/
নেমে আসুক অক্সিজেন লেবেলের নীরব স্তর ,
শুষে নিতে পারি আজ  যত অল্প কথার ভোর তোমার / কাল হয়তো বেঁচে থাকা শুধু ফ্রেম বন্দি কোনো স্মৃতির সংলাপে ।
*****************************************
ঝড় তো আসারই  ছিল তোমার আমার মাঝে
মুখোমুখি ছিল তাই  অবৈধতার  সমস্ত ঘোর

এসব ভুলে আমার কথা ভাবো কি ! ভাবো কি তোমার গোপন সংসার এ শহরে রোজ বাড়ছে !
 আরো ভাবো আমি সেই পোড়া কাগজের স্তূপ 
তবু কিছু দাগ রেখে যেতে পারি তোমার বুকের প্রতিটা পাঁজরে , ঠিক তোমার জন্ম দাগের মতোই সে দাগ অবিনশ্বর ।
*******************************************
কবির মেরুদণ্ড ভাঙে না ঝড়ে, কবির মেরুদণ্ড জড়িয়ে অন্ধকার আর মৃদু ঘুন পোকার 
গুঞ্জন বেঁচে থাকে চিরকাল ।

কবির প্রতি

এ মৃত্যুর পৃথিবীতে এ ক্ষিদের পৃথিবীতে তোমায় কি বা দিতে পারি নিতান্ত হৃদয় ছাড়া .....
কোনো একদিন এ পৃথিবীর সকাল  হয়ে তুমি জন্মেছিলে .....আলোর সাথে আলোর স্পর্শে 
আগুন জ্বেলেছো প্রতিটা আঁধার বুকে ,
যে ক্ষুধাতুর শিশুগুলো স্বরাজ নয় দু মুঠো ভাত চেয়ে ছিল তারা আজও  পেটে কাপড় বেঁধে  একটু বাঁচতে চায় কবি ...
তোমার জন্ম দিন তাদের বুকে বেঁচে থাকার  আগুন   জ্বালাক বারংবার ......
মামুলি হৃদয়ের নিতান্তই আজ তোমার মহার্ঘ্য 
সাজাবার দিন, ...এ মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে 
তোমার জন্মদিন বুকের নিভু আগুনকে মরতে দেয় না ,, ,
 বার বার বলি হে কবি  আমাদের বুকের ভেতর বিদ্রোহ জাগিয়ে রাখো .... তোমার দেওয়া আলোর মশাল এগিয়ে দিতে পারি যেন আরো সহস্র প্রজন্মের ভবিষ্যতে , 
তোমার  জন্ম দিনে  তোমাকে আশ্রয় করে বলি .........
""পাপবিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিলো যারা 
মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙ্গারি শীতল শান্তিধারা ...
উচ্চ নিচের ভেদ ভাঙি দিলো সবারই বক্ষ পাতি ,
আমরা সেই সে জাতি ""
এ গঙ্গা জলেই   নাহয় গঙ্গা  পুজো  করি আমরা .
শুভ হোক এমন জন্ম ....শুভ হোক এমন জন্মদিন।
তুমি শুভ  চিরকাল... এ পোড়া দেশ তোমার কাছে মাথা নত করে আশ্রয় চেয়ে   ।
শুভ জন্মদিন কবি ।

সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

সব পথ সঠিক

স্বৈরাচারীতাই আমি বেছে নিয়েছি  এখন,
 আমার পরিচয় খুঁজতে হলে তোমার রাজ বেশে মলিনতা ছুঁতে পারে 
 আমি পোশাক  খুলে নিঃস্বতায় জীবন রাখি ........
তুমি পোশাকে ভালোবাসা খুঁজে নাও  .............,
এই মন জুড়ে  আগুন  তো ছিল জন্ম লিখনের সাথেই .....
 তুমি শুধু বৃষ্টির অভিনয় করে যেতে পারতে আরো কিছু দিন ......…. 
কে  বলে দেবে  আজ .....তুমি ঠিক ছিলে  আমিও ভুল ছিলাম না .................
শুধু সময়টা আমাদের ছিলো না ।


কখনো একদিন

 কখনো আমার ভেতর শান্ত পিরামিডের ঘুমন্ত নিশ্তব্ধার শব্দ সে ;

কখন কখন শিকারি বাজ পাখির মত খুবলে নে্য

আমার ভেতরের 

যাকিছু বাকি বকেয়া পরে থাকা সম্বল'

কখনও কখনও আমার ভেতর সে  ভীষণরকম আরোগ্য আর সুস্থ ....

খানিকটা কোজাগরীর চাঁদের আলোয় আমার উত্তরের বারান্দা যেমন পূর্ন বাসায় ভরা ,,

কখনও বা  সে নিকষ অন্ধকার দিকভ্রান্তহীন স্তুপিকরন পাপ যেমন।

এক এক দিন সে  অসম্ভব ভালো থাকতে থাকতে

ক্লান্ত জয়ে পরে ,

এক একদিন আমার ভেতর সে হাতড়ে বেড়ায় নিতান্ত কষ্ট রাখার ঘটি বাটি ।

আমি ভাসি .....ভেসে যাই তার কুল ছাপানো 

মিথ্যে বাহাদুরির খেলা দেখতে দেখতে ,

সে বেড়ে ওঠে কখনও কখনও আমার ভেতর প্রকান্ড বিষবৃক্ষ হয়ে ,

কোনো দিন বা সে কল্পতরুর মত টাকা মাটির

সম্পর্ক চিনিয়ে দেয় আমাকে ।

আমার ভেতর সে কখনো বা  কেষ্ট পুরের বাসস্ট্যান্ড এ চূড়ান্ত অপেক্ষা হয়ে বসে থাকে ,

কোনো দিন বা ভীষন অবহেলায় দমদমের

রাস্তা ধরে কপালে রাখে সামান্য কেতাবি স্পর্শ ,

মানুষ কিংবা গাছ কিছুই হতে পারেনি সে আমার 

গল্পটায় ।

তবু সন্ধ্যের প্রদীপ কিংবা ভোরের অজানা সে ভালো থাকুক ....

একদিন তার সমস্ত পেয়ে যাওয়া কিংবা ভালো থাকা গুলো যেন তাকে সুখের আলোয় ভাসতে ভাসতে ক্লান্ত করে দেয় ,

এক দিন সে ক্লান্ত হয়ে নিঃশব্দে যেন বলে আমি ক্লান্ত ঈশ্বর হতে চাই না ...

আমার সমস্ত অভাব নিয়ে ফিরে পেতে চাই পুরোনো আমিটাকেই।

রবিবার, ২৩ মে, ২০২১

আবেগী স্তর

সব পেলে নষ্ট জীবন এ কথা যারা বলে তারাও জানে.....
খানিকটা খালিপন এর মধ্যেই বেঁচে থাকে প্রতিটা মানুষ।
অসলে   সমস্ত পাওয়াগুলো একদিন  মরে  যায়
হঠাৎ করেই ।  
সৎকারে লাগে তেরো দিন আর ভুলে  যেতে লাগে 
আরো দিন সাতেক ।
তারপর আর দেওয়ালের ছবির দিকেও তেমন করে চেয়ে দেখা হয় না .....সবটাই গল্প হয়ে যায় ।


তারপর নতুন কোনো  আবেগী ভুলের অবগাহনে
তার বেঁধে নেওয়া  এটাই যে নিয়ম ......,


মরে গেলে শোক থাকে স্মৃতির আর্তনাদ  মিটে যায়,   মানুষের সম্পর্ক গুলো কেন যে বিচ্ছিরি ভাবে ফুরিয়ে যায় তার কোনো উত্তর নেই মানুষের কাছেই ,
পুরোনো আলখাল্লায় সাজানো বৃষ্টি পাতের হাজারো গল্পের দাগ লেগে থাকে 

তবুও বারংবার মানুষের মন কিছুটা বৃষ্টিতে ভিজতে  চায়, কিছুটা স্মৃতি শোকেস করতে চায় ,
কিছুটা আবার মেঘের  ভেতর ফেরত চলে যাওয়াকে আগলে রাখতে চায়  ,

 আসলে ভালোবাসা তো কিছুটা ভরসার বর্ষাতি,
ভেসে যাওয়া একটা নির্ঘন্ট মাত্র , নিজেরই প্রহেলিকায় নিজেকে আবর্তন হতে দেখা প্রতি মুহূর্তে ,
কেউ চোখে ভেসে যায়,  কেউ মনে মনে ....ঘরের কোনে .....।

প্রিয় মানুষের মন  যখন মেঘ আর বৃষ্টির মাঝে
কোথাও একলা বসে  নিরালায় কাঁদে এক তরঙ্গ
ভেসে আসে বাতাসে ....এ যেন বাতাসেরই কথা  রাখার পালা ।

এত ক্ষয় জমিয়ে রাখি আমরা ভিতরে ভিতরে, 
এত ভয় হারিয়ে ফেলার, তবু হাত ধরি, 
আঙুলে মাতাল করি চাঁদের পরিক্রমা,  দশ বছরের পরমায়ু  একুশ দিনের সৎকার .  

বাগীপুরুষের মতো 
তার চলন। মনের কথা বলতে নেই তবু, 
চোখের আড়াল তাকে ঠিক চিনে ফেলে, 
মিথ্যে কখনো নরম অজুহাত সাদা কফিনে ঢাকে না ।

 আমার আর বিশ্বাস নেই প্রেমিক পুরুষ কে 
তবু ভালোবাসি নতুন প্রেম। কেন এমন তোলপাড় 
হয় বুকের ভিতর?

এই আছি। 
কাল থাকব না। 
পরশু অন্য অন্য পৃথিবী তোমার।

সম্পর্ক যে কেন কাচের মতো স্বচ্ছ হয় না পার্থ ! 
গাছের মতো কেন যে মাটি কামড়ে পড়ে থাকে না।
এসব ভাবতে নেই জানি।

আসলে........

জীবনের একভাগ কাদামাটি 
বাকি তিনভাগ কালো...


শনিবার, ২২ মে, ২০২১

উন্মোচন


গঙ্গার ঘটে  অবাঞ্চিত স্পর্শ হাতের আড়ালে চলে যেতে দেওয়াই ভালো বুঝেছো পার্থ ,
 আমার পূর্বপুরুষ  সময়ের গালিচায়
 পরিচয় লিখে রাখেন  বলে আমারও  সেই প্রথা মেনে নিওয়া ভালো এটা বুঝতে সময় লাগলো বছর দশেক,,
...............................................
............... শূন্যতা ছুঁয়ে আসা প্রেমিকের  ঠোঁটে...
নবমীর চাঁদে রঙ জমে নিকোটিন রঙ আরো গাড় হয়ে গেছে এবার ,
মানচিত্রের ফাঁকে ফাঁকে  চুরি করা বসন্তদিন পুরে রেখেছিল সে ভাবেনি সময়ের একটা লুকোনো খিড়কি দুয়ার থাকে ....,
পুরু কাচের চশমায় রাস্তা হারিয়ে যায় কখনো কখনো সে কথাও  সে জানতো কি না জানি না ।

.................... রাতজাগা কয়েকটি নক্ষত্র চিরে তাকে চিনে নেবার চেষ্ঠা কিরেছিলাম  মাত্র , সে বিদায় বেলায় সে উপাখ্যানের নাম দিয়েছিল 
লোভ দেখানো বাজিকরের ।

 আজ আর ঠিকানা মনে পড়ে না তার ....মনে পড়ে না কোনো অভিসার ছিল কিনা আদেও সেসব অধ্যায় জুড়ে ...,,
রাত জাগা তারার  বৃষ্টিবিন্দু হয়ে যায় শহরের খালি রাস্তায়  যখন এক হাঁটি ,
অন্তরালে চেয়ে থাকা প্রেমিকের উদাসীন চোখ
.................. একঝাঁক উত্তরপুরুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থী হয় বারংবার নিজের  ফেলে আসা কামুক ইতিহাসের জন্য।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অনেক দিন কেটে গেছে...
চামড়ার গল্পও এখন আর প্রতিদিন সমরস এর  জন্ম দেয় না ।
  একটি খালি খাঁচা... প্রচুর পালক নীচের মেঝেতে ছড়িয়ে..   হ্যাঁ ঠিক ....তোমার ছবির দিকে চাইলে আজকাল এক ভাঙচুর সাম্রাজ্যের ব্যর্থ অসহায় রাজা ছাড়া কিছুই আর মনে আসে না ।
.  সংখ্যার  অভাবে নিখুঁত অন্তর্বাসের ভিতর ও বাইরে শূন্যের প্রবাহ এখন তোমার পলাশ গুঁজে রাখা প্রেমিকার দেহ ও মনেও... ,,।  
তাই চিরকাল রাজা তুমি হেরে গেছো।।


বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১

কে ঈশ্বর

For sailors who love the wind, memory is a good port of departure                                    --- Eduardo  Galeano

বদ রক্তের চেয়ে আরো অস্বস্তিকর লালচে  তার 
রেখে যাওয়া স্মৃতি .... আয়নায় পোট্রেট  স্তব্ধতা 
জানে .... পুরনো পাতার সমস্ত শব্দ নির্মোহ এখন 
সহজিয়া মৃত্যুর মতই.....,,

রোদ্দুর মুছে ফেলা  একটা কালো মেঘ   সমস্ত দিন আমায় আর ভয় পাইয়ে দেয় না ,
 প্রদাহের আত্মকাহিনি লিখবে বলে  গোপনে  বন্ধ চোখের গভীরে  দৃশ্যে কেউ চুপি চুপি উঁকি মেরে দেখে না আর  ।
 রাঙা পলাশ... চড়ুইপাখির  প্রেম আর নিভৃত জ্যোৎস্নায়  আমি স্পষ্ট দেখতে পাই নিজের দশ বছরের ছেলেমানুষির চারকাহন ,

আয়না ও শরীরের চেয়ে কোনো ভালো মাধ্যম খুঁজে পেতাম না হয়ত  আমি ....তুমি এখন আমায় বারংবার ভালোবাসা যায় একথা শিখিয়ে দিয়েছো।
রোজ আমাদের গোধূলি নামে হাতে হাত রেখে ,
তুমি ছাড়া আমি পুরোনো  স্মৃতিভ্রংশ ভাসানবেলায় অপার শূন্যতা 
Sound of silent  ছুঁতে পারতাম না ।
 কাজলরেখা ও  নষ্ঠপুরুষ সঙ্গীর যৌথ স্মৃতি  টুকরো টুকরো গল্পকথার  ভিনদেশী পাখি হয়ে গেছে সেই কবেই ।
 বালিয়াড়ির নীচে রাখা নানা বয়সের বর্ণালীও দেখে এখন হাসি পায় ,
  মানুষ  খুলির গহ্বরে ন্যাপথলিন-গন্ধ... যত্নে রাখে   ভাবে  কয়েকটি হারানো সাক্ষাৎকার যেন 
ঘুন পোকা না ধরে । আদতে তা হয় না 
 একটানা নব্বই রাত জেগে বুঝেছি ঈশ্বর বলে আলাদা করে  কেউ নেই .....
ভালোবেসে তুমি এখন ঈশ্বর ।

বুধবার, ১৯ মে, ২০২১

প্রথাহীন

প্রথার বাইরে এখনো অনেক  আশ্রয় আছে
 ফিরে গেছি ভালোবাসার আরশি নগরে ।

......... তোমার মতো নষ্টপুরুষ শিখিয়ে দিয়েছে 
আমার মত মন কে কিভাবে জিতে নিতে হয় 
পাশা খেলা।

 এখন ইঁদুরকল পাতা পা-দুটি ঢেকে তুমি
..............অভিযোজনের প্রতি প্রজন্ম কাঁদবে আমি জানি,,
 .........আসলে এযাবৎ আমার গণনা
কখনো ভুল হয়নি ...., তাই এ অহংকার আমার নিজস্ব।
প্রেমিক বদলে ফেলতে পারি আমিও এখন নিমেষে.....,, বদলে ফেলতে পেরেছি পুরোনো  স্নানঘর...  এবং ইচ্ছাবাড়ী আর তোমার দেওয়া অবক্ষয় দৃশ্যগুলো ।
.............................................. প্রাচীন গাছটার মত তুমি আর কখনো বিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারবে কিনা জানি না  ....,,
তোমার পঞ্চাশ কি বাহান্নতম প্রেমিকার যোনি হাতড়ে তুমি আদতে কতটা গভীরে যেতে পারো সেটাও আজ আর প্রয়োজনীয় নয়।
 কপালের ভাঁজে গোপন অভিশাপ আয়ূরেখা জড়িয়ে যাচ্ছে .....যে আয়না পাঠালাম উপহারে তার সামনে এসে দাঁড়ালেই স্পষ্ট দেখতে পাবে নিজেকে ।


তুমি ছুঁয়ে গেছো  যেসব  দেওয়াল কিংবা আসবাব
তাদের বিসর্জন দিয়েছি ওই ভেসে যাওয়া মৃত দেহ গুলোর সাথেই ।
 ........................... যা যা ঘটেনি এখনও
 দূরবীন থেকে চোখ সরিয়ে নিও না ...
ভেজা আগুনের গন্ধ দহন থাকেবই ....কারণ 
ভালোবাসা মরে না রূপান্তরিত হয় ঈশ্বর থেকে শয়তানে ।
.
শুঁয়োহীন পোকাদের  মত  এক প্রেমের অধ্যায় কে 
একফালি রোদে মেলে দিলাম 

তোমার অহিংকারী কবিতার ভাঁজে সেই স্নানঘর কিংবা 
একটিও নৌকো আর কখনো ভাসবে না ..যেখানে.. তুমি নামক কেউ বেঁচে আছে

মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১

মেঘ বলে ডাকলে তুমি

 গিঁট খুলে  খাদে ফেলে দিয়েছি তোমার দেওয়া সমস্ত   অহংকারী অন্ধকার ,

একের পর এক বিচ্ছেদ বিরহ ঝরে গেছে পুরনো শীত হয়ে ,

ভোরের আলোয় ......

আমি দরজা খুলে দেখি ভালোবাসা  রয়েছে থরে থরে  ... নিখাদ ভালোবাসা 

আসে বারংবার ,

মিথ্যে প্রহসনে অলংকার ছেঁড়ে প্রথমবার বুঝেছি সে কথা ,

ভালোবাসা তুমি মেঘ বলে ডাকলে  ...... দুহাতে নিয়ে চিবুক

 কপাল থেকে মুছে দিলে  শনির দৃষ্টির দীর্ঘ ক্ষত ।

তুমি মেঘ বলে ডাকলে ...... সমস্ত কথা না রাখার অধ্যায় থেকে

এক নিমেষে শুষে নিলে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি পচনের স্তূপ ,

বুকের আগলে বৃষ্টি রেখে হাত ধরে ধুইয়ে দিলে দেহজ 

খাঁচাটায় লেগে থাকা ... পুরনো পুঁজ রক্তের দাগ ,

আমি শুদ্ধ হলাম ... নবিন হলাম ...  পিঠের শিরদাঁড়ায়  যন্ত্রণার 

অবগাহন মুছে গেলো  ,

.................. বুঝলাম ভালোবাসার। জন্ম হয়  বারংবার ্‌,


বুঝলাম ঘরের দেওয়ালে ইট নোনা ধরলে , মায়ার সাথে ছায়ার 

সৎকার বড্ড  জরুরী ...... জরুরী স্মৃতিদের মুখাগ্নি,

ভালোবাসা তুমি ফের মেঘ বলে ডাকলে ...... বললে হৃদয় পুড়েছে বলেই 

খাঁটি সোনা ...... যে গেছে সে কখনো কারো ভালোবাসা হতে পারে না ,

আমি অপেক্ষার ঘরে মৃত্যুহীন আলো হয়ে তোমায় আগলে  রাখবো...

ভালবাসবো... ভালবাসবো...  ভালবাসবো ্‌।

ঈশ্বর হয়ত  মুঠো খালি করে দেয় ...... ঝুলি ভরে দেবার জন্যেই ...

তাই সে মেঘ বলে আমায় ডেকে নিলো বুকের মাঝে ।

আয়ুর বাঁকে



একটা  একটা স্বজন  বিচ্ছেদ পার করে আমি 
স্রোত খুঁজি , 
পাতায় লেখা আয়ুর সামনে গিয়ে দাঁড়াই   ,
 হাইওয়ে পার করি চোখ বন্ধ করে , 
নিজেকে ঝুঁকিবহুল আস্কারায় মাতিয়ে রাখি ...তোমার প্রেমিকা হওয়ার মতোই 
আর তুমি ভাবো আমার এই বেঁচে থাকা টুকু তোমার দান  , 
চুপ হয়ে যাওয়া মানে শব্দের দাবি ফুরিয়ে যাওয়া নয়  যে সেটুকু তো বোঝই .....,
চুপ না হলে প্রতিটা বাঁকে তোমার তাচ্ছিল্য আর অবহেলা খুঁজে বার করবো কিভাবে ...
কিভাবে তোমার সমস্ত বলে যাওয়া শব্দে তোমার নিখোঁজ হওয়ার শব্দ শুনবো ! 
কিভাবে বুঝবো তুমি ঠিক কোথায় কোথায়  আমাদের প্রিয় হাড় অস্থি থেকে গাছের ছাল টেনে আলাদা করেছিলে ,
দেহচাপা মাটির ওপর  নেশাকাটা লাশের খবর তুমি দেওয়ার আগেই সময়ের পিয়ন ডাকবাক্সে তার ফেলে গেছিলো ,
কথা ভাঙা চোখের মলাট হওয়ায় উল্টে যেতেই সমস্ত অবক্ষয় ধরা পরে গেছিলো সেদিন ,
তুমি মিথ্যের ওপর একের পর এক মাটির প্রলেপ দিয়ে প্রহসন ঢেকে ফেলার দীর্ঘ চেষ্টায় সেদিন ব্যর্থ হলে ....আমি বোকা বলেই হিসেব করিনি শুধু ভালোবেসে গেছি , তবে বোধ হারিয়ে ফেলিনি যে প্রহসন বুঝবো না ।


অ--সুখের রাত


রাতপোড়ানো  অসুখ  এখন কাঁদে তোমার 
বিছানা জুড়ে ...

"যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই ,
যাহা পাই তাহা চাই নে "

রবিও জানতেন কবির কলজের ঘায়ে পুঁজ জমেছে দীর্ঘ সময় ,

জ্বালায় জ্বলছে মন নামক সার বস্তুটি ..... ভাবছো 
জলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছ শীতল হবে মন ....,
রাসিক জানে জল নয় ও গভীর খাদের দিকে  এগিয়ে যাওয়া এ যাওয়া ।

......তুমি কি জানতে না স্পর্শ খুলে রাখলে  চামড়ার আড়ালে মাটির তাল ছাড়া কিছুই পড়ে থাকবে না ,
নিরাপদ আশ্রয় ভেবে শতাব্দীর দূরত্ব কিনলে ....
নিজস্ব অহংকার বিক্রি করে ...অস্তিনে দিন ফুরোনো সামান্য শব্দের কানাকড়ি এখন ,,

বুকের ওপর হাত রেখে আয়নার সামনে নিজেকে বলতে পারো তো "আমি ভালো আছি"!

হাহাহাহা .......

আসলে মানুষের মন বুঝতে বোধহয় লাগে তেরো দিন ....আর মুখোশ খুলতে এক মুহূর্ত ,
এমন ভীষণ অপচয় নিজেকে আর কত দিনই বা সাজিয়ে রাখা যায় ....
বিকেল হলে তোমারও সমস্ত কবিতা যে মর্গে কিংবা সৎকারেই যাবে ....তোমার ফেলে আসা 
চরিত্রের মতোই ।






অনেকগুলো পথ তোমার সামনে .....

অনেকগুলো পথ তোমার সামনে ....
অনেকগুলো মুখ তাই তোমার জানলায় ....

অনেকগুলো সিঁড়ি তোমার সামনে .....
অনেক ওঠানামা তুমি দেখতে পাও ,

অনেকগুলো ঘরের দেওয়াল তোমার উঠোন  থেকে  শহর .....শহর থেকে দেশ কাল সময়ে জমিনে  মাথা উঁচু করে আছে ......
অনেকগুলো মানুষের মত দেখতে  হৃদয়হীন 
মনস্টার তুমি দেখেছো ,

অনেক গাছ তোমার চারপাশে ......
অনেক শাখায় তুমি হেঁটে ফেলো নির্দ্বিধায় ,

অনেক শব্দ তোমার ভেতর ..........
নিঃশব্দের কাছে কখনো দু দন্ড দাঁড়াবে কি করে ,

বিস্তর অসম্পূর্ণতার ঝুলি তোমার কাঁধে .....
মুঠোয় তোমার দুনিয়ার কাঙালী ঘোচে না তাই ,

অনেক গল্প তোমার দৃশ্যে ..........
কোনো গল্পই তোমায় ভালবেসে নয় ....

অনেক আয়না তোমার ঘরে ........
একটাও অবিকল তোমাকে আঁকতে পারে না ,

অনেক চরিত্র তুমি ছুঁয়ে গেলে হে পথিকবর ....
আমি কেবল তোমার মৃত্যু স্পর্শ করবো বলে  সহযাত্রী হলাম ।

রবিবার, ১৬ মে, ২০২১

সময়ের লড়াই

"কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি"
__ শঙ্খ ঘোষ

এখনও কি  হাত ধরার সময়  আসেনি  আমদের ... আর কত দিন লাগবে বুঝতে  যে সময়ের যুদ্ধ একা 
লড়া যায় না ............  

 এই বিষাদের দিকে এসে ঝুঁকে পড়া সময়ের  কাছে একটা মাত্র মানুষের হাত ও  ঈশ্বরের  মতো মনে হয় । 
মৃত্যুর উপত্যকাই যে আমার দেশ হবে সে কথা ভাবিনি ,  ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে সমস্ত দুঃস্বপ্ন । 
  মানুষের আয়ু বিক্রি করে দিচ্ছে  পরমেশ্বর  নাকি সময়্বে লিখে রাখা পাপ ,
 গুঁড়ো গুঁড়ো ইমান মিনার থেকে   উড়িয়ে দিচ্ছে  অচেনা সময় ।   দ্বিখণ্ডিত এখন মানুষের বেঁচে থাকা,
 নিমতলার আগুন নিভছে না  মৃত্যু দাঁড়িয়ে থাকছে তোমার আমার  দুয়ারে , 
নামহীন স্রোতে  শব  ভাসতে ভাসতে  মানচিত্র পেরিয়ে   যাচ্ছে কালেড় ওপারে । 
ভেসে যাচ্ছে মাটি ...... মাটি মানে কি আমাদের আঁকড়ে থাকা জমিন আঁকড়ে থাকা 
ভিটে  নাকি দু পশলা জলে ভাত রাঁধা হেঁসেল ... ... কি ভাবছে তোমার তথাগত , 
কি বা উত্তর এখন তিনি জীবনের উদ্দেশ্যে দিতে পারে ,

  দূরত্বই কখন  খুব কাছাকাছি এনে দিয়েছে বলতে  পারি না , শুধু জানি হাতের মধ্যে হাত যেন ছুটে না যায়। 
পেটে কাপড় বেঁধে চাঁদ দেখা যায় না ............ কাব্য করা যায় না স্বন্তানের মৃত মুখ  দেখে ।। অসুখ বাতাসে
আগামি বেশ কিছু বছর প্রেমিকার কপালে ঠোঁট  রাখতে পারবে না  প্রেমে উচাটন করা প্রেমিক , ভালোবাসা ও ঠোঁটের মাঝে এখন গাঢ় আস্তরন।
আজ বাতাসে প্রেমের ফুলের গন্ধ নেই শুধুই কবি তোমার লেখা লাইন গুলন ... বাতাসে  শুধুই লাসের গন্ধ ,
অক্লান্ত নাবিকের মতো একটা  ভোরের অপেক্ষায়  নৌকার  বৈঠা  নিয়ে স্রোত কেটে এগোচ্ছি সবাই ......



শনিবার, ১৫ মে, ২০২১

তোমার বিয়াল্লিশের বুকে

ভীষণ শ্যাওলা  চারপাশে   ... জিভে জড়িয়ে দুফোঁটা  কলঙ্ক  তোমার  আসম্য বৃষ্টির পাতের মতই  ... । 
..........ইচ্ছেবাড়ির নীচে  ভাঙাচোরা  মুঠোফোন  বেজে ওঠা  আস্তানাটা আছেই.....
যার পাশে বড় বড় কফিন বিক্রি হয় এখন  ..., 

 শব্দের রঙও ... চার  দেওয়ালে গম্ভীর বাতাসে   পুরুষ গন্ধ  ঢুকিয়ে রাখা সেই কফিন গুলোর ভেতরে ।  
মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ছাড়িয়ে  সুজন  মুক্তি বিলাসী হতে চাইছ  ,

  নিয়মিত প্রয়োজনে ঘৃণা  মধ্যে আটকে  থাকা সমস্তটা  গ্রহণ করেছি আমি। 

 তোমার  খিদে ও হঠাৎ দাঁড়িয়ে ওঠা লিঙ্গের ঘন বীর্যপাত আমি দেখতে পাই আজও  স্পষ্ট । 

  নিয়মিত সুড়সুড়ির  অভ্যাস  যায় নি এই চল্লিশ  ছুই সফরেও ।
  ফুটপাতের ধারে ছুড়ে ফেলা কণ্ডোম  তোমার  অজন্মা সন্তান কেন যে অভিশপ্ত
জানি না।  
পানের ছোপ লাগা প্রতিটা দিন , অভিশাপ   ও ঈশ্বর এর বাদানুবাদ,৷ পাহাড়প্রমাণ মনান্তর,
সব কুরুক্ষেত্রের  যুদ্ধের  মতই।

 নীল পাহাড়ের গায়ে সাদা ওড়নার ছদ্মবেশে হারিয়ে যাচ্ছে তোমার সেই রাজ  দাপট।
 তেমন কোনো তৃষ্ণায়   শহরের  ঠিকানা আর তোমার পকেটে থাকবে না, 
প্রতিটি হিসেব সেপ্টিপিন দিয়ে গাঁথা ওই বুকে।  ওই বিসাক্ত বুকের এক-একটি তলে দু-তিনটে   গোপন মৃত্যু  আগলে রাখা.... পরম্পরা ও স্নানের আগে পরে লেখা বারুদের স্তূপকথাগুলোর মতই সত্যি সে মৃত্যু  ।

শুক্রবার, ১৪ মে, ২০২১

চুরি

 তুমি গেলে  পূর্বরাগের সহজ পাঠে.....

 সেলাই মেশিনে ভুবনডাঙ্গার দূরত্ব বুনি। 
যত ভাবি আর যাবোনা ওই শহরে .... তুমি আমার 
দুঃখ গুলোর কারণ হলে , 
, আর একটা বিয়োগ ফলের  কারণ হলে। ,  ইদানিং থাকছি ডুবে অবাক প্রেমে , তোমার পাড়ায় নতুন প্রেমিক আমি আর অ্যালকোহলে। নানাবিধ আকারে আর ইঙ্গিতে-তে, 
তুমিও সেই  দুঃখগুলোর কারণ হলে,
  আর একটা যন্ত্রণার নকশা দিলে ।

কাগজের নৌকা

 কাগজের নৌকো বানাই কেমন আছো খবর ভাসাই

নিজেই ডুবি সেই নৌকায় ভাসবও বলে তোমার পারে ,

বৃষ্টি নগর আয়ণা এখন মেঘের দেশে আলাপী মন ,

সুযোগ পেলেই বারুদ জমাই ......

চোখ বেধে সে শব্দ বাজি হাতেই ফাটাই ,
হারালে ভোজবাজী যা ছিল কাছে .........

তুমি আর কোথায় পাবে সেই আমাকে"

আমিও নৌকা করে খবর ভাসাই ,

সময় যে নষ্ট অনেক তোমার আশায় ,

 কাগজের নৌকা এখন পড়শি নগর

তুমি এখন বৃদ্ধ ... তুমি এখন পুরনো খবর।

বুধবার, ১২ মে, ২০২১

মুখ আর শহর

তোমার শহরে হাঁটুজল জমিয়ে রাখো
আমার শহর চির বহতা  এখনো তাই স্বচ্ছ কাঁচ এর কাছে তোমার সমস্ত হেরে যাওয়া দেখতে পাই রোজ রোজ , ,

 তোমার  শরীরে শুকনো বালি ... শুকিয়ে যাওয়া পাতার প্রেম ......সমস্ত কিছুই অনাদর মাখা এখন থেকে সমস্ত আগামী জুড়ে  ।

 আর একবার জন্ম নেবে  ভেবে ঝুলিতে বিভিন্ন
রং এর প্রেম কুড়িয়ে নিচ্ছিলে পার্থ ,
, কে বলে দিতে পারে এটাই তোমার শেষ মানুষ জন্ম কিনা !

 তোমায় জানানো দরকার  আমার  নতুন কফিটেরিয়ায়র টেবিলে এখন অনেক আলাপী 
পেয়ালা পিরিচ সময় কাটায় ,।   তাই তোমার  চুমুক উড়ে যাওয়া নিকোটিন ঠোঁট  
এখন আর তেমন  দামি নয় ।
 এভাবে বলছি কারণ এই শহরের প্রতি তলে অনেকগুলি ব্রথেল  রাখা আছে,
 যা তোমার মতো পুরুষদের  অন্দর মহলের রুজিরোজগারের  আশ্রয়।
  তাই  সুযোগ খুঁজে দেওয়ালে টাঙানো আয়নায়  সাজানো দুঃখের স্লোগান লিখে রাখো ....লিখে রাখো  ...  ঘুঘুর ফাঁদে শব্দছকও। 

নারী ছাড়া পুরুষ মন  পুষ্টিহীনতা ভোগে  ...।
 তাই  দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িগুলোর  আড়ালে  বারংবার উষ্ণীষ বদল করতে হয় তোমাকেও ।

 মুখোশের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এ ছদ্মবেশ।
জিভে জড়ানো বারুদের স্তূপকথাগুলি ভিজে 
গেছে ভেবে তুমি পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়লে ,
আমি  রাতের প্রতি প্রহরে ইচ্ছেবাড়ির দুয়ারে 
প্রদীপ জ্বলতে ভুলিনা কখনও।


 

আকর


আমার চেয়ে আরও গভীর মন্দ বাসা 
  লিখে রাখো তুমি যে পার্থ ,,

আমি তো  কেবল সাদা পৃষ্ঠায় গুঁড়ো গুঁড়ো
জীবন ছড়িয়ে কান্না ও তোমার কথা  লিখি বারংবার ।
.    .    .    .    .    .    . বাতাসের কথা আজকাল বলতে পারি না পার্থ
কলেজের  ওঠানামায় সেতু তারটা তুমি  উপড়ে নিয়েছো নিজস্ব প্রচ্ছদে নতুন গল্প সামিল করবে বলে ।

 

আমি কেবল অন্ধকার দূর করতে পারি  চিরকাল ,,
তোমার শহরে অসংখ্য গুপ্তচর রাখা ছিল আমার উদ্দেশ্যে ....তাই আমার উপসংহার কেবল ছাই দানী হয়ে রইলো। 
ভারতবর্ষ তোমার 
এই শহর তোমার এই শহরের নারী দের  আসবাব তুমি মুঠোর দখলে রাখতেই পারো  , 

 টুকরো টুকরো বজ্রের ছড়িয়ে পড়া  স্মৃতি... এক বুক কান্না অথচ কাছে কোনো রুমাল না থাকা ...
এমন কোনো মুহূর্তের দাবীদার হবে কেমন করে পার্থ !
 বালির ঢিপির নীচে কিছু না পাওয়ার কষ্ট ... থাকে সবার , তেমন কিছু কষ্ঠ রেখেছিল তুমি আমার পাঁজরের তলায় ,
আমার সমস্ত আঁতাত দিয়ে আজও লালন করে রেখেছি সেসব ,. . . .  . . . . . . . . .   

জানো পার্থ আমার ঘরের আলো আমি আজকাল নিভিয়ে রাখি অথচ এতটুকু অন্ধকার আর আমায় ছুঁতে পারে না ,. . . . .   .   
আমার গোলক থেকে ছুটন্ত আগুন  আমাকে অন্ধকার হতে দেয় না আর ।
তুমি ফকির হতে চিরকাল ভয় পাও ...আমি নদীর 
তীরে ঘর বাঁধি চিরকাল ,.....  ........ ............

........তুমি চতুর্ভূজ আঁকো জানলা দরজাহীন ....
আমার ঘর চালাহীন চিরকাল ।

এবার বলো তুমি স্বার্থ বলতে ঠিক কি বুঝেছো?
 

নির্বাক শব্দ

লেখার টেবিলে অগুনিত  মৃত্যু ছড়িয়ে ছিটিয়ে,  , প্রতিটা মৃত্যু এমন ফুল হীন অনাত্মীয় আগে কখনো দেখেনি ,
টুম্পা , সিদ্ধার্থ , কাঞ্চন এদের কাউকে আমি চিনি কি  চিনি না সে কথা পরে , আমি শুক্লার মত অসহায়  বেঁচে থাকাগুলোকে দরজায় অপেক্ষা করতে দেখি রোজ ....অপেক্ষার সকাল সন্ধ্যে নিয়মিত ভুবন ডাঙ্গার মাঠ ছুঁয়ে শুক্লার ফাঁকা কপালে প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে যায় , রোজ নতুন প্রশ্ন ...
অথচ সব প্রশ্ন  উত্তরহীন বোবা ।
উড়ন্ত আর্তনাদের ফালি  শুক্লার মতই প্রতিটা বুকে আজ উঁকি দেয় ,
 অক্সিজেন কমে  আসা প্রতিটা সম্পর্ক 
পুড়ছে গাভীর রাতের নির্বাক এই গ্রহে ।

শর্ত ভেঙে ছুটে আসে মুগ্ধ হরিণ তার প্রেমিকাকে 
হারাবার ভয়ে রাত বালিশ আঁকড়ে জেগে থাকে ।
কক্ষ পথে এখন শুধু জীবনের পেছনে মৃত্যু ধেয়ে বেড়াচ্ছে , ছিটকে আসা সময়ের দৃষ্টি এড়িয়ে এখনো হয়তো তুমি আমি সকাল দেখছি .....
দেখছি সন্তানের মুখ ,
কাল হয়তো লেখার  টেবিলে উড়ন্ত  কাগজ 
আর শব্দ বিহীন কলমটুকুই পাথর হবে শুক্লার মত। !
হয়তো কবিতায় লেখা  স্বপ্নের পাণ্ডুলিপি গুলো 
হারিয়ে যাবে অতিমারীর শব গুলোর নীচে ।
আজ আর কোনো অভিমান , অভিযোগ ,নয় 
যেটুকু সময় আছে এসো বেঁধে বেঁধে থাকি ...হাতে হাত রেখে পাশে পাশে থাকি ।

মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

অলিখিত গ্রন্থ (১২)

আমাকে সঙ্গহীন মৃত্যু দিলো সে ...আমি টাটকা
ক্ষতগুলো কে জল ছড়া দিয়ে জাগিয়ে রেখেছি 
কফিনের ভেতর,


অলৌকিক অভিশাপে  মোহ  থেকে নেমে আসা 
সিঁড়ি পাপ ঘর চিনে নেয় ,
একমুহূর্ত বেঁচে থাকা জন্য তীব্রতা নেই আর ...
নেই কোনো ভয় হারাবার ,
  কান্না গুছিয়ে রেখেছি  সমস্ত পুরোনো প্রেমিকের প্রতারণার মতোই,
অসম লড়াই থেকে আজ  বহু দূরে কোনো উৎসবের ভেতর হেঁটে বেড়াই  দ্বিধাহীন হয়ে ,


অনাথ দৃষ্টিতে চৈত্রের বিকিকিনি আর তোমার নতুন সোনাঝুরি প্রেম দেখে সারাটা দুপুর কেটে যায়  আমি নামক কালো মেয়েটার ,
প্রবল সুখী হতে চেয়ে  সব চেয়ে  অসহায়  হয়েছিল  মেয়েটা একদিন ..... আজ তা মন্দ বাসা উপসংহার হীন অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি ছাড়া 
কি আর হতে পারে ,

এ পৃথিবী চিরকাল স্বার্থপর দের প্রশ্রয় দেয় 
আর যারা পারে না  এই নিয়ম মেনে নিতে তারা
ভৌত জন্ম নিয়ে গোপন অহংকার কুঁড়িয়ে রাখে আঁচলের খুঁটে ,

কালো মেয়েটার   মৃত্যু  আসে কয়েক ভাগে .....করুণা  আসে ভালোবাসার ছলনায় 

মেয়েটার  আহত জন্ম... থেকে যারা স্বার্থ কুঁড়িয়ে 
গোপনে নতুন সভ্যতা গড়েছিল   .....তারা নিতেই জানে   ....দেওয়ার সুখ তারা টের পায়না জীবনের প্রচ্ছদে

জলছবি

শব্দের জালে জড়িয়ে গেল  মন 
আর  মনের কথারা জড়িয়ে ফেললো অহংকার,
অহংকার জড়িয়ে তোমার পরবাস ,
পরবাস জড়িয়ে জীবনের মঞ্চে কয়েক অংক দৃশ্য,
সমস্ত  অজুহাত সরিয়ে কাঁটা গাছ আবার ভালোবেসে ফুল ফোঁটায় ...
কেউ কখনো এক ঘরে বেশি দিন বাঁচে না 
প্রতিটা ক্ষত জানে কবিতা আসলে 
নিজের পুড়ে যাওয়া অঙ্গে নিজেই মলম লাগলো,


সোমবার, ১০ মে, ২০২১

অলিখিত গ্রন্থ (৯)

 বহুদূর  চলে  গেছে চেনা শোনা মানুষেরা .
অপরাহ্নের  যন্ত্রণাও আজ  তেমন করে 
মাথার নিউরনের দরজায় টোকা মারে না 
 .................... অস্পষ্ট নিঃশ্বাসের সাথে... তোমার মুখ হারিয়ে গেছে আমার সমস্ত দৃশ্য থেকে ।
রুমালের খুঁটে বেঁধে রাখা মুহূর্ত দের আমি 
উর্দ্ধমুখী পথে যেতে দিয়েছি  তার স্বৈরাচারী স্বভাবের মতোই ।
  রুগ্ন বীজ  আমার বুকের জমি থেকে খুঁড়ে তুলে ফেলে দিয়েছি পার্থ 

.................................... বৃক্ষচ্ছায়া ভেবে  আর কখনো বিষের ছায়ায় নিজেকে দাঁড় করবো না ।
আমাদের আলিঙ্গন  স্পর্শ   
.........................  আমার  বার বার ফুঁপিয়ে ওঠা... তোমার কাছে নতজানু হয়ে ....
এসব সস্তা অনুভূতির  নামমাত্র ।
 এখন তোমার একান্ন তম প্রেমিকার  ঠোঁট ছুঁয়ে একই কথা বারংবার বলতে বলতে তোমারও হয়তো জিভ শুকিয়ে যায় পার্থ ,,
ক্লান্ত সন্ধ্যায় ভাটার সময় তোমাকেও ফিরতে হবে জেনো........
নিজস্ব আয়না রাখা স্নান  ঘরে , 
চোখের দিকে তাকিয়ে একটা মেয়ের চোখ দেখতে পেয়ে  একবার পেছনে ফিরে দেখবে জানি .....

.....এসো পার্থ  হাত পেতে বসি এসো আজ
.........................  গোপন প্রলয়ে তোমাকেও একবার আমারই মত দ্বিধাহীন হয়ে তচনচিয়া হতে দিই ...., তারপর একটা আগুন নিশ্চিত আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক জন্ম সাথে চলতে না পারলেও ....এক আগুনে পুড়তে পারবে তো পার্থ ?

রবিবার, ৯ মে, ২০২১

তোর জন্যে

ভালবাসি ভালিবাসি বলে  আকাশের দিকে 
তাকিয়ে রোজ  তোকে  খুঁজে  ফিরি,  
বাঁচার তৃষ্ণা  মেটে না মানুষের,  
তবু মানুষ  বাঁচে  কদিন... বুকের  বীজে 
একটানা  তোর ছিলার টংকার তরংগ বাড়তে থাকে, 
আমি আকাশের জানলায় তোকে  খুঁজে  ফিরি 
তুই অন্য কারো খেপায়  ফুল সাজাস, 
আমি চিৎকার করে তোর  চলে যাওয়া  দুয়ারে মাথা কুটে মরি...... তুই অন্য সিঁথি তে রঙ ভরিস, 
আমি মৃত্যুর  মত স্মৃতি  আগলে রাত জাগি.... 
তুই বিছানা বালিশে নতুন প্রেমের সোহাগ মাখিস। 
একবারও কি আমায় মনে আসে না তোর  নতুন 
প্রেমের ঠোঁটে  গরম উষ্ণতায় ঠোঁট  রাখতে গিয়ে! 
একবারও  কি জুতোর ফিতে বাঁধতে গিয়ে আমার মুখোমুখি  হতে হয়নি তোকে!  
বারংবার  বেজে ওঠা জেটি ঘাটের সায়রেন একটানা  অপেক্ষায়  সিগারেটের পুড়তে থাকা মন.... এত সহজ রে এত সহজ,  
একবার একবার মুঠোফোনে আমার নামটা.... ইচ্ছে করে না বল?
জানি এ চিঠি তুই কখনো  খুলে দেখবি না, 
জানি তুই আমার মুখোমুখি  হবি না আর কখনো , 
তবু আমার সমস্ত গননার মত এটাও  একদিন সত্যি হবে..... তুই আমার সামনে এসে  দাঁড়িয়ে  বলবি আমি এসেছি একবার আমার দিকে চেয়ে  দেখ..... আমি সেদিন আর চোখ  খুলবো  না ... তুই বলবি এমন করিস না এখনো  বাঁচলাম কই? 
এখনো  দুজনে মুখোমুখি  বসে ভাল করে দুজনকে দেখলাম কই?  এখনো  তোর ছবি আঁকা  বাকি... এখনো  পাহারের গায়ে ননীর ধারে  আমাদের ছোট্টো  বারান্দায় তুই আমার কোলে.... অনেক কিছু বাকি রে.., 
ততক্ষনে আমি তোর আগল ছেড়ে তোকে  মুক্তি দিয়ে আকাশের দেশে...... 

যুদ্ধের পরে

দরজার ওপারে মৃত্যু  ...তবু মনে রেখো জীবন
অপেক্ষায় আছে বাঁচার ,
যারা চলে যায় নীরব কারণে তারা ভালো থাকুক
অন্ধকার কিংবা আলোর দুনিয়ায় ,
মৃত্যুর মিছিলে আমি এখনও  জেগে থাকি গভীর রাতে পথিক পায়ের আওয়াজ শুনতে পাবো বলে  ...
জেগে থেকো তুমিও ....যে কোনো মুহূর্তে শুভ ক্ষণ দরজায় পৌঁছাতে পারে ,,
নির্বোধ পুড়ে যাওয়া শেষ হবে জানি ,
তোমার অবহেলা এই যুদ্ধের দিনে মানায় না পার্থ ,
তবু বলে রাখা ভালো এখন নির্বাক মৃত্যু মিছিল 
আর অভিশপ্ত সময় .....
সাবধান থেকো পার্থ  জেগে থেকো , 
যে যুদ্ধে সামিল হয়েছে বাকিরা তুমি আর তোমার প্রেম  সে চক্রবিহুর ছায়াতেই আছো । নরকের দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে প্রহরী প্রহর ,
যুদ্ধ শেষে ফিরলে পরে তোমার অহংকার খুলে হাতে দিও ...আমি বর্ননা ময় উপন্যাসে সাজিয়ে রাখবো দীর্ঘ তোমার ইতিহাস।




শনিবার, ৮ মে, ২০২১

উত্তরের বারান্দা

উত্তরের বারান্দায় চেনা একলা শীত ফিরছে ,
সমস্ত আয় ব্যয় গুছিয়ে নিয়ে আবার পুরোনো
খোলসে ফিরছে  সে ও আমি ,,
একদিন সে বলেছিল এ পৃথিবী আমাদের মত
পাগলদের জন্য নয় ....আয় মাটির নিচে  আমাদের উইডিপি ঘর বাঁধি ,
আজ তার আসা যাওয়ার পথে বাতাস হারায় গুমোট হয়ে ,
আমি দমকা হওয়ায় একলা ভাসি ....
..............সে থাকুক বা  না থাকুক মাটির দু হাত নীচে আমার উত্তরের বারান্দা আর আমি রইলাম ,
তার দক্ষিণ দুয়ারে  বাতাস  যে দিন দিক বদলে নেবে .......তাকে ফিরতে হবে আমার এই উত্তরের বারান্দার অপেক্ষার কাছেই .....

শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১

স্মৃতি

তুমি রোজ যখন একটু একটু করে কমিয়ে নিচ্ছিল আমার দিকে আসা তোমার আলাপী প্রহরদের ,


আমি পরিজাতের ঘুমন্ত স্বপ্নে বাঁধা বাণীতে আটকানো ফুলে নিজেকে হাতড়ে বেড়াচ্ছিলাম,


 তোমায় চিনতে না পেরে বারংবার সময়ের ফসিলে আঙ্গুল রেখে বুঝতে চাইছিলাম... গত কাল  গুলো কি ঘুমন্ত স্বপ্ন ছিল .....
.....নাকি তুমি সত্যি সত্যি আমার ভেতর স্বচ্ছ নদী হয়ে  বইছিলে !!

..............................................................
আজ মনে হয় যে কোনো দেহজ মৃত্যুর থেকে অনেক বেশি  যন্ত্রণা দেয় যেকোন স্মৃতি ।

সময়ের গল্প

সময়ের বুকে যখনই দু একটা গল্প এনে রাখবো ভাবি  অমনি ঝড় ওঠে তুমুল ধ্বংসের নেশায় ,
আমি ধুলো   ঝেড়ে  আগামীর কাঁচ মুছি বারংবার।
বিশ্বাস করতে চাই কাঁচ পরিষ্কার থাকলে হওয়া থামলেই  দিক নির্দেশের তারা টা আবার ঠিক উত্তরের বারান্দার আকাশে    এসে দাঁড়াবে ।
মানুষ চিরকাল বাঁচতে চায় আঁকড়ে থাকতে চায় ,
আমার শব্দটা সে ভালোবাসে নিজের থেকেও বেশি,, ,     
অথচ  কেউ মানতেই চাই না সব গল্প একদিন ডানা মেলে  উড়ে যায় না ফেরার আকাশে।
আমি বুঝি মানুষ  খড়কুটো আগলে নিজস্ব গল্প 
তৈরি করতে চাই ....সে চায় আশ্রয়ের ছই এর নিচে
যেকোনো অন্ধকার রাতের থেকে তার স্বপ্ন আর ইচ্ছা দের যত্নে  লালিত করতে শ্রমন করতে,, 

 ....তবু ঝড় আসে মামুলি হয়ে যায় সমস্ত আশ্রয় ...বিশ্বাসী স্বপ্নগুলো  বিশ্বাস ঘাতকের মত কখন দুঃস্বপ্নে বদলে যায় ....
জীবন যা কিছু দাম দিয়ে কিনে নেয় ....সময়ের প্রহসনে মূল্য হীন হয়ে যায় নিমেষে ।
 ঈশ্বর ভদ্রলোক এসব ভাঙা গড়ার শব্দ শুনতে চায় না কখনো,   ঈশ্বর চিরকাল সমস্ত যুক্তাক্ষর কে মুক্ত আকাশের ঠিকানা ছিনিয়ে দেয় ,,

 সিঁড়ির  ধাপ ভেঙে শব্দ উর্ধমুখী হয় কিনা জানা নেই ....শুধু বুঝি ঈশ্বর  ভাঙা গড়ার আকুতি  যন্ত্রনা শুনতে থাকলে ক্রমশ সৃষ্টির পথে স্থাণু হয়ে থাকবে সময়ের স্রোতে  ।
তাই সমস্ত গল্প কে একদিন না একদিন ডানা মেলতেই হয় ।
....... আবার কোনো নতুন ঝড়ের অপেক্ষায় নতুন গল্পেরা ঘর বাঁধবে বলে।

আজকের আকাশ

 দেখ আজ কার যেন অভিশাপে শহর প্রান্তরের মানুষ জন বাড়ি ফিরে গেছে ,

পৃথিবী থেকে আকাশে শুধুই দুরত্ব ...  কত স্তরে অন্ধকার   নাকি নিঃশব্দে  গোপন 

কান্নার অভিশাপ , প্রিয়তম মুখ ছুয়ে দেখা হয় না আজ বহুকাল ,

প্রিয় সঙ্গ যেন কার অভিশাপে বন্দিশালায় , শহরে এখন আর মিছিল নেই , ভিড় নেই ,নেই 

দিন রাত ইঁদুর দৌড় নেই বাসে  ট্রামের লাইনে দাঁড়ানো জীবন ...  কিংবা ভালবাসার খেলায় হার জিত , 

 কার যেন অভিশাপ  কুমকুম রঙের আলো  ম্লান  দিকচিহ্ন হীন,

 নিজের মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে  আঁধার ভরা গাছের হাড়ে কারা যেন রক্তিমাভ রেখে

গেছে  ... আলো ভরা গাছের হাড়ে এখনো বাঁচার ঘ্রাণ

 জ্যামুক্ত তীরের মত মন ছুঁতে চায় নতুন পুরনো প্রেম কে , অথচ 

সময় হিসেবি পিঁপড়ের মত   সামান্য  ভগ্নাংশে  বাঁচিয়ে রাখে যাপন।

তবু আগামি আসবে শহরের প্রতিটা জানলায় ভালি থাকার ভোর নিয়ে 

আবার হাতে হাত রেখে এ শহরে প্রেম নিলাম্বর ছুঁয়ে কবিতা হবে ।

অভিশাপের কাছে নত জানু হয়ে প্রেম চেয়ে নেবে একটা শুভ সংকেত।


বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

কবিতার মৃত্যু

কবির কলম কখন যেন সুপ্ত অভিশাপে থেমে 
গেছে , সমস্ত শব্দের মৃত দেহের ওপর দাঁড়িয়ে একলা এখন কবি.....নায়ক  ,
গত কালের ইমারত আজ হিসেব চায়  ,
 কবি ও কলমের মাঝে নির্বাক  অগুনিত অভিশাপ ,মাথা উঁচু করে সামিল হয়  যোগ বিয়োগের সারিতে,
চলতি পথে হাজারো লাশ পায়ের নিচে ....
ক্রমশ এক দুই তিন আজ চল্লিশ ছুঁই ছুঁই  কবির বুকে পঞ্চাশ তম প্রেমিকার মৃত দেহ আর ক্ষরিত রক্তের কালো দাগ অভিশাপ  হয়ে পাহারা দিচ্ছে ,
আর কি কবির কলম কখনও গর্বে গর্ভবতী হবে ....
ধরে নেওয়া যাক বয়ামে জন্ম শিশুর মত হতেই পারে কিছু জন্ম.... হতেই পারে সময়ের নিরিখে সম্মুখে  বা গোপনে হাজারো গর্ভপাত ,
 সে সমস্ত শব্দের প্রতিটা জন্মের ভেতর থেকে যেতে পারে বিকলাঙ্গ জীবন ...
আসলে কবি  চিরকাল  চরিত্র হীন হয়েই যায় ..
আসলে কবি চিরকাল মিথ্যেবাদী প্রমাণিত
 হয়েই যায় ...
আসলে কবি সাবধানী হতে হতে একটা চক্রবিহু
তৈরি করে নিজেকে কাল সাপের আগলে কখন বন্দী করে ফেলে সে নিজেও বুঝতে পারে না ,
কবি জানবেও না হয়তো কখন কোন অভিশাপ 
তার সমস্ত শব্দ ছিনিয়ে নিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে তার অর্ধ শততম প্রেমের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে ।
কিভাবে এ শহরে সীমানায় ফিরি?
কিভাবে বহু জানা পথগুলো দিয়ে একা হাঁটি?
কিভাবে দেখি  ... এই শহরে  মন্দবাসা বিকিয়ে যায় বিনা নোটিশে ?
কিভাবে অজস্র স্মৃতি ছড়িয়ে থাকা ভীড়ের মাঝখান দিয়ে হাঁটছি হোঁচট খাচ্ছি আবার হাঁটছি ?
তুমি বলেছিলে আমার মত নারী তুমি দেখো নি
তুমি বলেছিলে আমার মত সহ্য শক্তি তুমি দেখোনি
তুমি বলেছিলে ........,
এত অনুপস্থিতি কি তাই তুমি শেষ উপহার সাজিয়ে দিলে ! 

 খোলা অপেক্ষায়  আর জেটি ঘাট সাজে কই ,  সেখানে শুধু যন্ত্রনা অপেক্ষা করে থাকে 
সারি সারি সময়ের কাঁটায়  যেন সারি সারি স্বজন দের শব,
আসলে মূল্য দিতে হয় সবকিছুর ....
এ শহর বেআব্রু করে ভালোবাসা নামে ,
এ শহর মন্দবাসাকে  নিলামে রাখে হাসতে হাসতে ,
এ শহর কথা দেয় শুধু স্বার্থের জন্য ,
 
এ শহর জানে কিভাবে প্রেম  মীরজাফর  হয় প্রতি 
গলির মোড়ে ।
এ শহরের কাছে আজ আর আমি নোবিশ নয় 
শুধু জানি ....

 মূল্য দিতে হয় সবকিছুর ....
আর তাই স্মৃতির মূল্য যন্ত্রনা দিয়ে চুকিয়ে যেতে হবে ।




বুধবার, ৫ মে, ২০২১

অপরিমেয় সৎকার



 উত্তরের বারান্দা রাখা   দীঘিতে প্রতিবিম্ব বদলে ফেলতে চেষ্টা করি রোজ ..  স্নান সারি 
পোশাক বদলাই ....গায়ে আটকে থাকা কাঁচের টুকরো গুলো গেঁথে থাকা ক্ষতদের গায়ে হাত রাখি ,  নিয়মিত । সূর্যকিরণের দিকে হেঁটে যাই কঠিন দেওয়াল ভেঙে ,, তবুও  প্রলয়স্পর্শী  প্রতারণা  রমণচিহ্নের পা গেঁথে যায়  প্রতিবার ।
 শব্দ ছাড়াই  শিখে নিই   কিভাবে  কান্নার দিন যত্নে লালিত করতে হয়,,  কীভাবে ধুয়ে নিতে হয় গোপন
কর্ন কুন্তী সম্পর্কের দাগ ।

   সারা রাত পুরোনো  পাড়-ভাঙার শব্দের সাথে 
বিকল হৃদয়ের মিল আঁকতে আঁকতে কখন যেন শহরটায় অন্ধকারের  ঘুম ভেঙে যায় ... আলো....তোমার জানলা গড়িয়ে নামা  দৃশ্য দর্পণে  বলে দেয় আজ  খবর আছে অন্য রকম ।
সাইকেলের   ক্রিংক্রিং  শব্দে দরজা খুলে দেখতে পেলে কাগজওয়ালা   খবরের ঝুলি নিয়ে ......।
 পাতা উল্টিয়ে দেখলে আমি ও একটি মৃতদেহ পরস্পরকে আঁকড়ে রয়েছি... যেটি অবিকল পরিজাতে সাজানো তোমার আমার  স্বেচ্ছা মৃত্যুর ছবির  মতোই সত্যি ...।

......কুড়িয়ে পাওয়া নতুন  ছালে  রাত পাখির  ডাক লেগে ছিল  কিনা তুমি ছাড়া কেউ জানত না ।  শিউরে উঠছি এই ভেবে যে  ভিজে বাতাস আমার আলজিভ স্পর্শ করেছিল তারপর সন্তপর্ন হয়ে আলো কে নিভিয়ে গলায় বিষ ঢেলে দিয়ে গেলো - জীবন কি কখনো মুখোমুখি হবে এমন অপরিমেয় সৎকারের ?


মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১

অপরুপ কান্না

কারও মৃত্যুর জন্য কেউ  দায়ী নয়"
আজ ভিজতে হবে সময়ের নোনা জলে ....
আজ ধুয়ে ফেলতে হবে পুরোনো শ্বেত রোগ ,
আমি বরাবর  বাঁচতে চেয়ে মৃত্যুর গলায় জয় মালা পরিয়ে বরণ করে নিয়েছি দহন কে ,
দ্রুবন বাবু একদিন আমার কান্নার পথের পাশ দিয়ে পেরোতে গিয়ে এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে বলেছিলেন  যন্ত্রণা কে যত্নে লালিত করো শ্রমন করো  সই ...... একদিন সে গাছ হবেই ,
ক্রমশ নিজের জিভের ডগায়  বিস্মৃতি অমরত্ব খুঁজে চলেছি অক্লান্ত সময়ের পথে হেঁটে ,,
নিজের চিতার আগুনে একটা গোটা রঙ্গমঞ্চ আলোকিত হতে দেখে প্রথমটা   আমার কক্ষ পথ 
কেঁপে উঠছিল ....তারপর বিস্ময়ের পর্দায় একের পর এক সময়ের রূপান্তর  ঘটে গেছে , আমি চুপ ঘরে ছবি হতে শিখে নিয়েছি ।

জন্মগত অধিকার ভেবে   একমাত্র বিশ্বাসের নিব কাঠ টাও চিতা উস্কে দিয়ে গেলো ।
বাহ রে রাজা ...বাহ রে ঈশ্বর ...বাহ রে আমার সংগোপনের চির সখা , বাহ রে স্রষ্টা ....
তোমার তুলিতে অপরূপ আমার সমস্ত ফুঁপিয়ে ওঠা কান্নারা ।
হারিয়ে যাওয়ার  পরেও  তোমার  নিঃখোজ মেলার চমৎকার ছন্দময় বর্ণনা ছাপা হবে তোমার হাতে যে সব অন্তর্নিহিত হত্যাগুলো লুকিয়ে আছে মাটির কয়েক হাত নীচে ।
'



সোমবার, ৩ মে, ২০২১

নষ্ট পুরুষ

 বৃদ্ধ কিন্নরের মত তুমি এখন  স্মৃতিসঙ্গ হিন সময়াতিত হে প্রেমিক,

একদিন তোমায় ভেবেছিলাম বংশলোচন হৃদরোগের মহাঔষুধ ,

একদিন তুমি বাঁশের চিক খাঁড়া করে নিয়ম বানাতে সময়কে গুছিয়ে

নেবার জন্যে  ঈশ্বর রুপে সেজেছিলে ,

হঠাত রত্নসুপ্তির মত ঝাঁকে  ঝাঁকে  তোমার চারপাশে তোমারই শব্দের 

বিকিকিনি বাড়তে থাকে ...  আমি এরপর একটু একটু করে নিরবতা শিখে

ফেলি । 

পরিনত প্রহেলিকার মত একই মানুষ ধাপে ধাপে বদলে যায় ...  চোখের সামনে ।

আমাদের বারো খানা ছবির নিচে যেন বারো খানা পাপের নাম 

লেখা হয়ে যায় তখন,  , প্রতিটা ছবিতে নিরাবরন ছিল  তুমি আমির মত 

চেনা মুখ গুলো , 

তখন সে খুব সহজে বাঁশের কাটিম ধরে শরীর থেকে মাটি 

চেঁছে  নিয়ে নিজের মত গোপনে নতুন প্রেম গড়ে নিচ্ছিল ,

 একমাত্র প্রেমিক ভাবা পুরুষ  বুকের খাঁজে  রাখা কলজের চারপাশে দেওয়াল তুলে 

দিলো  একদিন।   বুকের  ফাটল দিয়ে সারি সারি পিঁপড়েরা গোপন 

খবর দিয়ে যাচ্ছিল যে  । 

সমস্ত অক্ষয় ম্মালবেরির পথ    হেঁটে যে দিন বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছিল সে দিন বুঝতে

 পেরেছিলাম   প্রেমিক  নয়  সে আসলে  চিরকাল  এক নষ্ট পুরুষ হিসেবেই চিহ্নিত।






নিজস্ব প্রহসন

কখনো কখনো  প্রত্যাখ্যানের পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা জরুরী .....একটা অপেক্ষা নিঃশব্দে 
দুয়ারে টোকা মারে আমরা বুঝতে পারি না , আসলে বুঝতে চায় না সময়ের প্রহসন ...আসলে আমরা প্রতিটা মৃত্যু কে নিজের মৃত্যু ভেবে ভয় পাই , একটা মানুষ তার ভেতর অজস্র প্রিজম এর বিচ্ছুরণ নিয়ে ঘুমোতে যায় ...সে জানে না একটা সকাল আর তার চতুর্মাত্রিক দেওয়ালে কোন ছবিটা সাদা রজনীগন্ধার মালায় সাজবে  কিনা! 
তার নিজস্ব প্রিয় তুই টা হয়তো কাল এক অতীতের স্মৃতি হয়ে থাকবে .....কে বলতে পারে যে বাঁচতে চাইলেই বাঁচা যায় ,
এখনও আমাদের  মৃতদেহ পড়ে থাকা শহরে অক্সিজেন ফুরোয়নি তবু আমরা জানি একদিন ফুরিয়ে যাবে তোমার আমার মত এই নিঃশ্বাস বাতাস ....অথচ আমরা সবাই আজকাল গাছ হতে ভয় পাই। 
 কারণ আমি রোজ  সময়ের আড়াল থেকে  গাছেদের পুড়তে দেখি আর  পোড়াতে দেখি  ....কোনো প্রতিবাদ করতে পারি না ...শুধু নিস্তব্ধ অন্ধকার রাতে প্রতিটা পুড়ে যাওয়া গাছেদের 
 বুকে  একটা করে গোলাপ রেখে আসি।
আর নিজেকে মানুষ বলতে লজ্জা পাই।


দুঃখ শ্রমন

দুঃখগুলোকে শ্রমন করতে হয় যত্ন করে ,
যত্ন করে লালিত করলে তবেই দহন হয় 
অন্তরে , আর সেই পোড়া জমিতে দাঁড়িয়ে পোড়া দুঃখ গুলোর অন্তরদহনের ছাই থেকে কালি নিয়ে 
কলম গর্ভবতী হয় ,
আমার গর্ভবতী কলম থেকে এক একটা অধ্যায় নিয়ে জন্ম নেয়  ভিন্ন আকৃতির মুক্ত ....
সময়ের পাড়ে বসে মহাকাল প্রতিটা মুক্ত দিয়ে একটা বৃত্ত গেঁথে আমার মত দুঃখজন্মা কে সৃষ্টি করে ,
যারা মনে রাখে তারা অদৃশ্য বাতাসে পরম   দ্রণাদিত্য  হয়ে ভেসে বেড়ায় .... আর সময়ের অপেক্ষায় দুয়ারে চিহ্নহীন চিহ্ন রেখে যায় । 
আর কেউ যদি মনে না রাখতে চায় তাহলে তো গল্প একটা অলিখিত পূর্ণচ্ছেদে ফুরিয়েই যায় ,
আমি চিরকাল পুড়তে ভালোবাসি কারণ আমার  নিজস্ব দোয়াত বোতলে কালি না থাকলে বড্ড একলা লাগে .... আমি একলা বড্ড ভীতু প্রমান হই বারংবার , বড্ড আঁকড়ে থাকি নিজের দুঃখ আর কলমকে ...,,
হয়তো একদিন এভাবেই উপান্তে দাঁড়িয়ে সময়ের উপন্যাস খুলে দেখতে দেখতে দুঃখের যাপন থেকে  আলোর দেশে ফিরবো ....।
আমার কপালের আঁকাবাঁকা পথে আলো অন্ধকার নিয়ন বাতির নীচে শেষ অক্ষর  নখ দিয়ে খুঁটে নৌকা যাত্রা শুরু হবে ।

রবিবার, ২ মে, ২০২১

দৃশ্য

শহরের চলমান কিংবা থমকে যাওয়া দৃশ্যগুলোর ভেতর এক একটা 
ঘটনার রহস্য লুকিয়ে থাকে 
 বাতাসে গুঁড়ো  গুঁড়ো  অক্ষরগুলো গুপ্ত সংকেত বয়ে বেড়ায় ,
এ শহরে যে লোকটাকে বাইরে ভেতরে চিনতাম বলেই
 জানা ছিল তার বুকের ভেতর থেকে এক দিন এক পুঁটলি 
বেরিয়ে এল ,
লোকটার পালিশ করা অদ্ভুদ আকৃতির হৃদয় থেকে 
 কালো বাদামি দুই প্রস্থ গুঁটি  বেরিয়ে পড়ল  তারপর  নিজেরাই 
রাজা রানী মন্ত্রী নৌকা গজ ঘোড়া সেজে নিলো,
আকৃতি আর এই চরিত্র  গুলোর  পরিচয় মিলে মিশে প্রহেলিকার মত 
ছড়িয়ে গেলো শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে ।
এই দৃশ্য গুলো যখন সাক্ষী রাখছিল সময় ...   একটা কুমীরের দাঁত অপেক্ষা করছিল 
বোকা এক মানুষের ঘাড়ের কাছে ,
এক আশ্চর্য দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় কখনো কখনো মানুষ 
সেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে আর কোন ছোট আশ্রয় নয়  আকাশ যেন তার অপেক্ষা
দু হাত বাড়িয়ে দেয় ,
ঈশ্বর শব্দটা কারো নিজস্ব জমিনে পুঁতে রাখা সেগুন গাছ নয় ,
তাই সমস্ত ঘাতক বিশ্বাসকে ... সেই বোকা মানুষটার সামনে একদিন
নিয়ে আসে ...  মানুষটা শহরের শেষ প্রান্তে অমলতাস গাছটার ছায়ায় দাড়িয়ে 
সময় আর ঈশ্বরকে বলে তার কাছে কেউ অপরাধী নয় ... এরপর শহরের
ভিড়ে মানুষটা অদৃশ্য হয়ে যায় ।