শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

তোর তরফে ..আমার তরফে

আমার যত ভাবনা কেবল তোর তরফে , 
তোর তরফে কাব্য অনেক , আমার কাব্য একলা তুই ,,
তোর তরফে আকাশলীনা ,নীরার সাথে আগন্তুকের
হাজার মেলা আমার তরফ একলা তুই ,
তোর তরফে সারি সারি নিয়নবাতি ,,আমার তরফ তুইই জোনাক ,
তোর তরফে কবিতার মিছিল , আমার তরফ সাদা
পাতায় তুইই তুই ,
তোর তরফে ঢেউয়ের মেলা,  আমার তরফ গভীর ধ্যানে একলা তুই ,
তোর তরফে আসা যাওয়া, আমার তরফ তোর অপেক্ষা ,,
তোর তরফে বাগান জুড়ে হরেক ফুল, আমার তরফ একটি গোলাপ ,
তোর তরফে আতর দানী , আমার চাই তোর আঘ্রান ,
তোর তরফে ভালোবাসা ,, আমার কেবল মন্দটুকু ,,
তোর তরফে সময় পেলে হয়তো আমি কিছুক্ষন ...আমার তরফ তুইই সময়  তুইই আমার সারাক্ষন ,,

 সমুদ্র তুই ...তোর তরফে হাজার যদি , নদী আমি আমার কেবল তুই সমুদ্র ,,
তোর তরফে বাকি যা সব ,  জ্বালায় না 
মন তেমন করে , আমার তরফ তুই থেকে যা ,জমা
পুঁজি থাক ও  তরফে ,
তোর তরফে রাজার মুকুট , আমি চাই ভিখারি হতে ,,
আমার তরফ তুই ভরানো কানায় কানায়  মন্দবাসায় , আর যা সব তোর তরফে ,
আমার তরফ কেবল তুই ,তুইই ,তুই ।।

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সেই মেয়ে

...................................
সেই মেয়ে আমি যে প্রতি সূর্য অস্ত     থেকে 
সূর্য ওঠায়   অজস্র হাত বদল হয়.... পুরুষ তুমি আমাকে
ভালোবাসোনি কখনো, 
আমি সেই মেয়েটা... লোকে বলে মাথার গন্ডগোল,
একটু আড়াল পেলেই.....
 আমার শরীরে অগুনতি লালসার আঁচড়,, 
আর পুরুষ সামরাজ্যের বিস্তার ,,  
.....পুরুষ তুমি নিশ্চিত আমায় ভালবাসোনি, 
আমি সেই মেয়ে যে রোজ রাতে মদ্যপ স্বামি কিংবা
অধিকারের দাবীতে অজস্র বার ধর্ষিত হই.... পুরুষ তুমি আমায়
ভালবাসোনি একরত্তি, 
আমি সেই মেয়ে কয়েকদিন  তোমার ভালবাসার কথা ইনবক্সে
তারপর.... কিরে আমার সাথে শুবি তুই .... ভিষন সস্তা তখন
এই মেয়েটা,  পুরুষ তুমি ভালবাসোনি এই মেয়েকেও, 
সজ্জিত স্ত্রী তোমার ঘরে...তুমি দায়িত্ববান স্বামি, 
বাইরে আমি... অচেনা চার দেওয়ালে আমায় নিয়ে
সব আভরন ছিড়েখুঁড়ে তুমি স্বাদ  বদলাতেও পারো...
আমি মোটেই তোমার ভালবাসা হতে পারি না, 
আমি বাসে ট্রামে চলাচল সেই মেয়ে.... সুযোগে তোমার হাত
আমার শরীর থেকে  হাতড়ে নিয়ে খানিকটা সুখ  শিহরণ জাগাও 
তোমার শরীরে....,, আমায় তুমি ভালবাসতে পারো এ হতে পারে না,
আমি সেই মেয়ে কখনো নির্ভয়া, কখনো প্রিয়াঙ্কা, কখনো তাপসী, 
কখনো আরো কতশত বেনামি খবর ভেতোরের পাতায়.., 
আবার হারিয়ে যাই কখনো ঠিকানা বিহীন শহরে বাজারি
পন্যে পাচারে....               
তুমি পুরুষ সভ্য সমাজের বুকে পা রেখে
হেঁটে বেড়াও   অহংকারে দিনের আলোয়., 
আমি দেখেছি মুখ লুকিয়ে    সেই তুমি আমার
অন্ধকার গলি হয়ে আমার  সাথে পাঁকে  প্রবেশ
করো গভির রাতে... তোমার মুখোশ ছিড়েখুঁড়ে দাঁড় করাই 
আয়নার সামনে,     ............ রাত বিতি বাত বিতি, 
আবার পুরুষ পদ্ম হয়ে ফিরে আসে সাজানো
সংসারে, 
আমি তখন তোমাদের আঙুল তুলে দেখানো 
বাজারি মেয়েমানুষ, বেশ্যা মা গ............আমায় তো
ভালোবাসার কথা ভাবাই যায় না... তাই না পু..রু...ষ..?  
আমার উঠোনের মাটি দিয়ে দুর্গা গড়ো তোমারা... 
মাতৃ  রুপে  সংস্থিত... শক্তি রুপে সংস্থিত... 
কে আমি   আমার আসল প্রাপ্তি কি... 
সমাজ তুমি কি কোনো দিন পারবে এ প্রশ্নের
সমুখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে??    
                                 

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

তুমি

তোমার না থাকা সব মুহূর্তে তোমার উপস্থিতি থেকে যায় ,
তোমায় না বলা বাকি সব কথাতে তুমি শব্দ বর্নর
সহবাসে  সম্পূর্ণ ,
চোখের বাইরে যখন তুমি নেই সমস্ত অন্তরে তোমার ঘরকন্না ,
আমি চলি একা পথে ছায়া হয়ে আমাতে তোমার মিশে থাকা ,,
না পাওয়ার আক্ষেপে কিনারা ভরা অথচ সেখানেও তোমারই নিঃশব্দ উপস্থিতি কানায় কানায় পূর্ণ  আমাতে ,
শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মালা  ফেলে আসা সময় এর  বুকে স্মৃতি .....তখনও তুমি সজীব  ভীষন রকম প্রতিটা নিঃশ্বাস যেমন ,,
এভাবে ------------------------
আলোকবর্ষ হেঁটে যাই ---ছায়াপথ হই পার ---,

............বহু   জন্ম বহু মৃত্যু বৃত্ত জুড়ে আমি ও তুমি যেভাবেই হাঁটি সমুখে কিংবা পিছু ফিরে , তুমি থেকে   শুরু করি ফুরাই তোমাতে ,
 বলেছি তোমায়  বহুবার তুমি তো তবে ঈশ্বর!!
তুমি হেসে বলেছো আমি  তোমার  ঈশ্বর ...
আমিই  তোমার শ্রেষ্ঠ শ্রেষ্ঠা .....
মিশে গেছি তোমার অহংকারের অলংকারে ..
"কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া ----------তোমারও চরণে দিব হৃদয়ও খুলিয়া -----
-----------আপনি আজি যবে শুধুইছ আসি 
---------কেমনে প্রকাশি কব কত ভালোবাসি "--।

শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৮১)

শোনো তুমি কি আমায় শুনতে পাও সুবর্ণা ,
জানি মুশকিল তবু বলবো আমায় ছাড়া নিজে ভালো থাকা অভ্যাস করে নাও.........
আমায় ছাড়া উদযাপন শিখে নাও .....
 মন্ডবাসার দিব্যি করে কথা দাও আমার কবরের কাছে যখন আসবে  তোমার সুন্দর  ফুলঝুরি হাসি যেন থাকে সাথে ... আমার তোমায় যে অচেনা মনে হয়   ...নিজেকেও চিনতে পারি না তখন , তোমায় 
বোঝাই কেমন করে মাটির এই তরফেও তুমিই যে আমার পরিচয় ,,যে তুমি রাঙা সাজে সজ্জিত ঠোঁটে ফুলঝুরির ফোয়ারা ...আমি সে তুমি কে আমার পরিচয় করেছিলাম যে ...,,
আমার কবরে যে ফুল রাখো রোজ সে ফুল তোমার খোঁপায় সাজাও  এবার থেকে......কপালের মাঝে রাখো রঙিন টিপ ,, এভাবে কতদিন একলা হৃদয়কে নির্বাসনে রাখবে তাকে পৃথিবীর সাথে পরিচয় করতে শেখাও ..........সুবর্ণা বহুদিন তোমার পায়ের নুপুরের মৃদু ঝংকার শোনা হয় না ,....আজকাল কেবল আমার বুক জুড়ে তোমার ভাঙা চুড়ির আর্তনাদ ছড়ানো ,,
কেনো মিছে অভিমান তোমার মৃত্যুর কাছে !
জীবন তো এক অতিথি তাকে অবহেলায় অনাদরে ফিরতে দিও না প্লিজ।
শোনো না হয় আমার কবরের ওপর ফুলের বাগান করো ,,, তখন আমার কবরেও তোমার সুগন্ধ তোমার স্পর্শ থাকবে .....তুমিও আর রং থেকে নিজেকে দূরে সরাতে পারবে না .......,
আকাশের দিকে একবার তাকাও  দেখো পাখিদের... নিজের ডানার ওপর সব অভিমান ভুলে যাবে ,,
একটা প্রশ্ন আমায় এ মৃত্যু কে স্বীকার করতে দেয় না ......আমার মরণে তোমার কেন শ্বেত বস্ত্র  অথচ তুমি যদি আমার আগে যেতে সে তো লাল চেলিতে রাঙা সাজে .....চিতার বহ্নিও তোমার লাল চেলি আর রং আগে ছুঁয়ে যেত ,, তবে কেন এই বেঁচে থাকায় তুমি জীবন্ত শবের মত ...... সুবর্ণা তুমি
আমায় ছাড়া বাঁচাটা শিখে নাও এবার 
জীবন খুব ছোটো ভালোবাসায় থেকো ভালো থেকো ......
...(সুবর্ণা প্রিয় পরিচয়)

 

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৮০)

তুই জানতে চাস না.... কেন তোর চলে যাওয়ায়
কোনো প্রশ্ন করিনি কখনো ,
কারণ আমিও জানতাম আমার থেকে অনেক বেশি ঘন ভালোবাসার হকদার ছিলি তুই  ,,
খবর এটা ছিল না যে এতটা যাতনা ময় হবে তোর চলে যাওয়া ....
তবু যেতে তো দিতেই হত কারণ তোকে ভালোবেসে
তোর ভালোথাকার অঙ্গীকার ছিল আমার একান্ত, ,
........................................................
আজকাল তুই নেই  অথবা তোর সাথে নেই কথোপকথন .....নেই তোর সাথে  সময় যাপন , তবু শুধু তোর কথাই সারাক্ষন বলে বেড়াই বাইরে ভিতরে .....,
সুবর্ণা তুই প্রতিটা সকাল অধিকার করিস নির্দ্বিধায়...আমার ঘর জুড়ে
প্রতিটা সন্ধ্যায় তোর সোহাগী অধিবেশন আমায়
আমার দরবারে  মাতাল করে নিয়মিত...সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে বিছানা বালিশে অসংখ্য আপোষে তুই , প্রতিটা স্বপ্নে থেকে যাস তুই .....
...........অথচ সুবর্ণা তুই আমার না ,
তোর মনে পড়ে আনমনে রং তুলির হাজার
ছবি আমাদের আঁকা ,সেসব ছবির কোলাজ 
রাখা মন মহলের দেরাজে , নিশ্চয়ই তুই নতুন ঘরে সে কোলাজ রাখবি না আমার বিশ্বাস ,

তুই জানতে চাস নি কেন তোর চলে যাওয়ায় কোনো প্রশ্ন করিনি কখনোই ............
হয়তো তুইও জানতিস এ   পোড়া মনের থেকে অনেক অনেক বেশির হকদার তুই ............
নিজের ভাগ্যকে অবাক হয়ে দেখি এই ভেবে 
এ কপাল কারো প্রথম প্রেম হয়েছিল ....
শুধু ধন্য হত এ বেঁচে থাকা যদি তোর শেষ প্রেম হতে পারতাম ........
.................(সুবর্ণা প্রিয় মনকথা) 

সুবর্ণা(৭৯)

চল আজ তোকে মুক্ত করে দিই এই সামান্য 
মুঠো থেকে ............................
একটা সফর তোর সাথে আমার প্রথম থেকে এই অবধি  ...মুঠো খুলে ভাসিয়ে দিই আজ  শীতলক্ষ্যার ধারায়...........
তোর জীবন সঙ্গী নই কেবল কিছুটা সময় ছিলাম ........................................................
হয়তো মুক্ত হয়ে একলা হবি এত বড় আকাশে 
কিছুটা মন্দও থাকবি ...... তবু কলঙ্ক মুক্ত হয়ে 
নিষ্পাপ হবি জানি ............চল আজ তোকে মুক্ত
করে দিই এই সামান্য মুঠো থেকে ..................
তোর প্রতিটা টুকরো  অথবা অর্ধেক তুই এবার তোকে ফেরৎ দিই .......জানি তুই টুকরো টুকরো হবি ........তবু তো টুকরোতে থেকেও একসাথে সম্পূর্ণ হবি .................................................
যে রাত কেবল আমাদের হতে পারতো সে রাত শুধুই বিভীষিকাময় , চল তোকে মুক্ত করে দিই আজ আর  নির্ঘুম একলা রাত থাক আমার পক্ষে .........
আগামী সমস্ত  সকালের আলো   রাখা থাক তোর পক্ষে ...........................................
তোর সাথে না থাকাটার থেকে মৃত্যু সহজ তবু তোকে আজ থেকে একই বাঁচতে হবে ...........
আগামী শতাব্দীর কাছে ...............................
ভালো রাখতে পারতিস আমাকে ভীষন রকম, সারা পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করতে করতে হাঁপাতিস না এতটুকুও জানি ....
তবু আমায় নয় ভালো রাখতে হবে ভালো না রাখার সকল অনাত্মীয় দের আজ থেকে ....................................................
চল আজ তোর এই আত্মিক বন্ধনের গিঁট খুলে ফেলি.................
আকাশে দিকে মুঠো খুলে দিই , নিজের চোখ বেঁধে গান্ধারী হয়ে উঠি..................................
তুই আমার হাতটা ছেড়ে এবার হারিয়ে যা সাজানো
সমাজের ভিড়ে ................................................
শেষ আবদার তোর কাছে চলে যেতে যেতে প্লিস
 তাকাস না পেছন ফিরে .........................
কারণ তোর এক নজর আর আমি আমার সমস্ত ভীষ্ম প্রতিজ্ঞা থেকে  ছিটকে যাই খুব সহজে তোর দিকে ............................................ .....
আজ আর নয় চল তোকে মুক্ত করে দিই এই সামান্য মুঠো থেকে ................................
চল তোকে আজ থেকে মুক্ত করে দিই এই ছেড়া অস্তিন থেকে ..........................................
চল আজ তোকে মুক্ত করে দিই হৃদয়ের খাঁচা থেকে ........।
.............(.সুবর্ণা প্রিয় ভাসান )

.


বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা (৭৮)

এবার ফিরতে চাই সুবর্ণা , এবার স্তব্ধ হতে চাই
কিংবা নিথর কোনো পাথর , কোনো উত্তোলনে
সামিল হতে আর ইচ্ছে জাগে না , বহু বার জানতে চেয়েছ কার কার  আঘাতে আমি  ভেঙেছি বারংবার ..... অথবা কাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় প্রতিবার তুলেছি অস্ত্র ,  হাসি পায় জানো  এ প্রশ্নে , ভাবি কি হবে জেনে সেই সব চরিত্রের নাম জেনে তাদের কারো কি মনে আছে আনমনে অবিচলে পায়ের নিচে পিসেছে কত  সহস্র অনুভূতি ক্ষতবিক্ষত করেছে অবলীলায় কতবার হৃদয়, ....আমিই কি সেসবের কিছু মাত্র গুছিয়ে মনে করতে পারি আজকাল ,
শুধু ক্ষতগুলো এখন বিষক্রিয়ায় ব্যস্ত  সারতে না চাওয়ায় তারা দৃঢ়সংকল্প।
ফিরতে চাই   তাই ... চাই স্তব্ধ হতে  ,,,
তুমি ভাবতে পারো আমি ভয় পেয়েছি ঘন অন্ধকারে ভাসতে ভাসতে , ভয় অন্ধকারে লাগেনা 
সুবর্ণা অন্ধকারে কখনও  হয়তোবা  নিশ্চিন্তে ঘুমও এসেছে ,
ভয় তো আলোর কাছে আলোয় সব মুখের মুখোশ বুঝিয়ে দেয় , বিভৎস ভয় পাই চেনা চেহারায় এমন দৃশ্য পেয়ে ।
এবার ফিরতে চাই এই নাটকের ভূমিকা থেকে ...
এ লেখা নিজের অস্তিত্ব সামলাতে না পারার অসহায়তার পরিচয়  .... শব্দ দের থেকে কিছুটা
নিঃশ্বাস ধার করে এ কবিতায় নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা ....যেন  আর এক ঋণ ।
সুবর্ণা এ লেখা নিজের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে ,
এ লেখা নিজের কাছে হেরে যাওয়ার খসড়া ,
এ লেখা মুক্তি চাওয়া  এই বাঘবন্দি খেলা থেকে ,
.........এবারে ফিরতে চাই , চাই স্তব্ধ হতে কোনো  পাথরের মত  ...থামতে চাই এই পথ চলা থেকে ।
.......(সুবর্ণা প্রিয় ক্লান্তি)

মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৭৭)



বারবার ভুলে যাই ... তুমি কখনও আমার কেউ হওনি। অথচ একটা গোটা  হৃদপিণ্ড উপহার দিয়েছি তোমায় সুবর্ণা ।  যত্নে অযত্নে  বুঝিয়ে ছিল কিভাবে ব্রাশ-স্ট্রোক নিতে হয় সাবধানী হয়। বিভাজন নামের অলিখিত দুরত্ব যা বহু দিন কাল পার হয়ে  হেঁটে আসে   কবরের পাশে গাঢ় হয় অশ্রুদের মিছিল ...  আঁকাবাঁকা  পথে উড়তে শেখা বুনো পাখির অসংখ্য পালক আমাদের পুরোনো আদরের স্মৃতিতে ,,
 মনের কার্ণিশও রাখা সেদিনের রুমাল বন্দি কোলাজ , যোগ বিয়োগের স্কুলে ভূমিকম্পের আসল কারণ জেনেছিলাম সবেমাত্র ,,  এবার ফিরতে হবে   বিভঙ্গ মুদ্রায়। 

আমরা  যে যার মতো সাজাই কাগজফুলের  তোড়া
তারপর সেই সম্পর্ক যখন 
চিত্রকরের অসুখী তরঙ্গ ভ্রমণে
ভেসে যায় খড়কুটোর মতো
তখন আকাশমন্ডলে তারাদের উচ্ছ্বাস
নিরীহ পাগলামির পাঠ নেয়
ঋণ ও অনাত্মতায় ছেড়ে যাই  রাজ সিংহাসন

একবার ভেবে দ্যাখো  সুবর্ণা 
আমি কি এমন ভেবেছি যা তোমায় আঘাত করতে পারে কিংবা চূর্ণবিচূর্ণ ,,
নিশ্চিত কিছু বলোনি কোনোদিন করোনি কোনো অভিযোগ ,,  আমিও পাউডার পাফ বুলিয়েছি কুয়াশা দেওয়ালে বারংবার । মুদ্রাদোষ লিখে গেছি অভিমানী খাতায় । তুমি হাত বাড়িয়ে ... চোখ মুজে বলেছ  আমি আছি । পোস্টারে পোস্টারে ঢেকে গেছে শহরের অদ্যপ্রান্ত..............কবিতা আর কবিতা ....ঝড় উঠেছে তোষামোদিয় আলাপন ।
একলা হয়েছি সেই ভিড়ে ,উপচে আসা অন্ধকার ধাওয়া করেছে ভীষন রকম,
 আর কিছু তেমন মনে থাকে না, আজকাল সব ঘটনা ভুলে যাই  ., দেহ থেকে খসে পড়ে  বড়সড় একটা চাঙর। তারপর যা হয় আর কি ......
............(.সুবর্ণা প্রিয় গ্লানি)

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৭৬)

এবার  শুরু হোক অন্ধকারে দিকে হেঁটে যাওয়া,,
পরিধি  বরাবর  ঠিক পৌঁছে যাব গর্ভকুন্ডলির কেন্দ্রে ।
শ্মশানের গায়ে পুড়েছে যারা 
        তাদের মত  ঘিয়ের প্রদীপ সাজিয়ে অনেক নক্ষত্রর মত একসাথে আকাশ থেকে তোমায় দেখার সাধ...
 তীব্র কম্পনে তুমি জাপটে ধরবে পুরোনো স্পর্শ আর  ফুঁ দিয়ে এক একটি তরঙ্গ
গিঁট খুলে পাঠিয়ে দেবে  আকাশের গায়ে আমার কথা  ভেবে  ,,  সুবর্ণা .. এভাবেই একদিন
নিশ্বাসের সাথে তোমার অস্তিত্ব টেনে নেব ,
 পড়ে থাকবে চেতনা হীন  এক কায়া......
 ঘাসে ঘাসে ছড়িয়ে পড়বে গুঁড়ো গুঁড়ো 
 ভালোবাসা ,,,.ছায়ানটের মতো  প্রিয় মানুষ চলে গেলে আয়নার রং বিবর্ণ হয়. সে  দিন হয়তো বুঝবে ........ বুঝবে আগুন ছাড়াও  দহন  কতটা  ছাই করতে পারে ,,  দেওয়াল জুড়ে সাজানো ফ্রেমের কাঁচ  ভাঙার শব্দ শুনতে শুনতে ভগ্নাংশ ডিঙিয়ে খুঁজে দেখো ..    ছায়ার নীচে অভিমান  জমা যা তুমি মুছে ফেলতে পারতে খুব সহজেই,,.শেষ বিকেলের আলো আর আরাম চেয়ারে তোমার পাশে ইজেলদানি ..  সুবর্ণা 
তোমার খুব কাছ  ঘেঁষে একটা গরম দীর্ঘশ্বাস তোমায় ছুঁয়ে যেতে পারে  জেনো । 
হাতের রেখারা সব  শূন্যে ভেসে  গেছে ,
  অনিঃশেষ বৃষ্টিপাতে  তুমিও  ক্লান্ত
  দুমড়ে মুচড়ে... যেন থমথমে স্মৃতি উড়ে আসছে
সমস্ত বাতাসে এদিক ওদিক থেকে ,
 যেন শীতলক্ষ্যা নদী বুকের ভেতর  হুহু করে খরস্রোতা .....
মৃত্যুর হাত ধরে তুমি দয়া ভিক্ষাও চাইতে পারো,
 মুহূর্তে ঘটে যাওয়া প্রবাহগুলি মনে থাকে না সেভাবে ..    কে এসে এঁকে দিয়ে যায় আলাপের ধারাবাহিক ধাপের সিঁড়ি... যা বেয়ে উঠে যাওয়া  যায় আমাদের প্রথম দিনে ...  অ্যাসট্রের ভেতর নিকোটিনের ধুকপুক পুরোনো কাশির দমক । খুব রেগে গিয়ে... কানের লতি কামড়ে বলতে আসবে কে দু একদিন সিগারেট কম খেলে ভালো হয় ।হারিয়ে ফেলছি  আয়নায় কিনে ফেলা আবদার ,, স্বপ্নে পচানো অলীক শহরে নরকপর্বের ছায়ারা একা  ,, এখন তোমার চতুর্ভুজ সাজানোর পালা  , আমাকে  নির্বাসিত করতে পেরেছো  দ্বিধাহীন হয়ে দায়ভার নেই বলে। মসৃণ মুঠোয়  তোমার পোষা বেড়াল আদরে ক্রমশ   সুখ মেখে অভ্যস্ত  সুবর্ণা , ,দীর্ঘশ্বাসে যুদ্ধশেষের খাঁ খাঁ মৃত্যুভূমি... অবশ করা  চেতনায় সব খেলা শেষ হয়ে যাওয়া আশ্চর্য  রেশটুকু বাঁচিয়ে রাখে আমাদের চর্যাপদ ।
..........(সুবর্ণা প্রিয় নির্বাসন )

রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৭৫)

মাত্র একটি  শব্দ অপূর্ণতায় ভেজা  আর  সময়ের কোলাজে তোমার থাকা না-থাকায় .... আমি এলোমেলো ,
.   গাড় অন্ধকারে   খুঁজে বেড়ায় আলোর কুঁচি
কান্নায় মাখামাখি সহস্রাব্দের চিহ্নেরা তোমার বুকে
জমে থাকে  ,,ভেজা আস্তিনে বাঁধা একচিলতে বাঁচতে চাওয়া ....কপালের দোহাই দিয়ে রোজ 
একমনে সাপলুডো খেলতে গিয়ে ভাবি নাটকটা মন্দ রপ্ত করিনি ,
 অভিধানের পাতাজুড়ে যে সম্পর্কের নামের অদ্যক্ষর কেবল ভাবনায়  তার ঢেউ-এর ছবি এঁকে চলেছি আমরা ,,
 আঁশগন্ধ  মেখে গড়াতে থাকে রোজকার নিয়মিত যোগাযোগ , বাড়ি ফিরে হাত পা ধুয়ে ফের গৃহস্থালী
শুদ্ধিকরণে মেতে উঠি আমরা 
 ......  আত্মলীন স্পর্শের কথা ছিল কোনো এক কাহিনীর শুরুতে  সে আজ শুধুই কাব্যিক তাই না সুবর্ণা ,, কত সহজে হারানো যায় আত্মিক চাওয়া গুলো ,.........ভোরের আগে রাত গুলোও এখন অন্য কোনো শহরে স্বপ্ন পাঠায় তোমার নামের ,
 অথচ  যান সুবর্ণা অবাক হতে মন মনে না 
কারণ 'life is not predictable'  সব চেনা কখন অকারণে খুব অচেনা লাগে ।
............( সুবর্ণা প্রিয় অচেনা মন )



শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৭৪)

আবহাওয়া অনেকটা বসলে গেছে , নিজস্ব জানলার ভাঁজে নতুন মানচিত্র রেখে দিও ,,
ঝড় বৃষ্টির রাতে যেন শূন্যতা ছাড়া কোনো কিছুই সাথে না থাকে .........  সুবর্ণা কখনো জানতে চেয়েছো তার কাছে আমাদের হাতের রেখাগুলো এত বিস্তারিত কেন ! কিসের আর্তনাদ ছড়ায় এরা ... যেন মনে হয় কানামাছি খেলার রেখাচিত্রে মত্ত কিংবা কাটাকুটি খেলায়  ।
সুবর্ণা প্লিস আমাকে আর বাঁচাতে চেওনা , এই ভাঙাগড়া খেলায় আমি চাই না আর সামিল হতে ,এই মুহূর্তে কেবল নিজেকে হত্যার চেয়ে বড় চাওয়া আর যে কিছুই নেই , প্রাণহীন বেঁচে থাকায় এক মরণ যন্ত্রণা লুকনো থাকে সে কথা তুমি কোনোদিন বুঝবে না ,, 
দুর্বল শিরাগুলো পুড়ে যাওয়া কিংবা ক্ষতদাগ বহুদিন বয়ে চলেছে ওদের বিশ্রাম দরকার ,,,
এ শহরও আমার মত নির্বান্ধব ....তাই নাই না রইলাম দৃশ্যত আগামী মানচিত্রে ।
এবার হয়তো পরস্পরের ভাষায় আমরা সম্পূর্ণ রেখা শূন্য হলাম ....।
...........(সুবর্ণা প্রিয় শূন্যতা)

সুবর্ণা(৭৩)

একা একা তোমার ক্রমশ বিসর্জন দেখি ,একা আড়াল করি সমস্ত লেগে থাকা শোকের প্রবাহ ,
সুবর্ণা তুমি দেখেছো এভাবে কত সাঁকোর পথ নদী বুকে হারিয়েছে  আগেও --- আবার কত নদী বুক পেতে ঠিক যেন সাঁকো হয়ে উঠেছে ..... এমনটাই যেন নিয়ম ,,,
তোমার বিসর্জন আমাকে পাথর হতে সাহায্য করেছে ,........হেরে যাওয়া শর্তে জড়ানো আমাদের মন্দবাসার গোত্র ,কখন তুমিই লুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছো ...আমি টের পাইনি ।  সেদিন রাতে বৃষ্টি এসে ধুয়ে গেছে সেসব অন্তিম চিহ্নটুকুও ,,,
নাভি থেকে ছড়িয়ে পড়া  অসহায় জোৎস্নায়  আঙুল পুড়িয়ে সব পাপবোধ থেকে তুমি উত্তরণের পথে এখন ।
শেষ হয়ে যাওয়া দিনটা থেকে অবজ্ঞার হওয়া এসে
এ মনে নাড়া দেয় ,
সুবর্ণা এমন নির্ঘুম রাতে বিষ পাত্র1 খুঁজে বেড়াতে ইচ্ছা করে .......  কারণ চাঁদ  ও কুয়াশর মত আমাদের দুরত্ব ।
আজ গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টি মেখে গঙ্গার ধারে মেঘ সরাতে এসে দেখলাম চিতার আগুন ফুরিয়ে যাবার আগে যুপকাষ্ঠর গন্ধটাতেও তুমি তুমি ....তাই বাকি কিছু মনে না  পড়া অক্ষরদের তোমার নামের সাথে ভাসিয়ে দিলাম .........
............(সুবর্ণা প্রিয় বিসর্জন)
...



শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৭২)

প্রিয় কিছু চলে গেলে বিবর্ন হয়ে যায় মনের রং,
তাতে ক্ষতি কোথায়  সুবর্ণা ! নাহয় ছায়ার নীচে ছায়া জমে বেশ খানিকটা অ -সুখ  ছড়ায় সমস্ত
প্রান্তরে , নাহয় ভাঙার শব্দ বলে দেয় যুদ্ধের আর
বাকি নেই তেমন ,।
আমাদের মত যারা কেউ কারো নয় তারা ডাকপিয়নের খামে ভোরে পৌঁছে দেয় খসে যাওয়া
তারার কুচি ,, 
 জান সুবর্ণা কান্না যখন উপচে আসে সমস্ত ইন্দ্রিয়
তন্নতন্ন করে খুঁজে বেড়ায় সেই  আঁকড়ে থাকা স্পর্শ গুলো  , ........ হয়তো তারাও বাতাসে ধাক্কা খেতে খেতে ধূসর চিত্রপটে ধ্বংস আঁকছে আজ ,,
শুধু জানি দেওয়া আর নেওয়ার সবকটি  বর্ণমালার মাঝে এখন কালসিটে পড়া বদরক্ত স্বাক্ষর .....,
 বাকি বলতে কোনো এক রুপকথার পাতায়  পারিজাতের  সবটুকু আলো এখন কিছু অক্ষর মাত্র  ....
........(সুবর্ণা প্রিয় অনুরাগ,)

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সুবর্ণা(৭১)

 এক একটা সমীকরনের মত সময় আসে 
সকাল গড়িয়ে দুপুর তারপর বিকেল সন্ধ্যা আর
রাত সাথে তুমি..... এরা কেউ লেগে থাকে না সময়ের
গায়ে, নিয়ম কখনো অভ্যস্ত  অভ্যাস কখনো কেবলি
থেকে যাওয়ার নাম.... দেয়াল জড়ে  অমনোযোগী
 আঁকিবুঁকির মত  তুমিও সুবর্ণা,  তুমিও এখন কেবল
কিছুটা সময়.... একদিন তুমি যেভাবে   মুহুর্তে শিহরিত
কখনো মুখরিত হতে এ জানালার বাতাস,  আজ আর
তেমন সুক্ষ্ম তরংগ ছোঁয় কই সেভাবে,,  উপন্যাসের অক্ষর হয়ে
কোথাও তুমি কোথাও আমি শুধুই থেকে যাওয়া,    
আলো পথ বদলে বলে দেয় সময় গেছে ফিরে, মৃত সময় ইতিহাস।  
যেভাবে আগে ছুঁয়ে দিতে সকল যুদ্ধ ক্ষতগুলো
সেভাবে স্পর্শ খুঁজি.... সেটাও হয়তো অভ্যাস 
সুবর্ণা আমার অস্ত্রের মত আমিও একলা হতে পারলেই
ভালো,  সম্বলহীনতার ভেতর এক স্তম্ভ থাকে সে চিরন্তন,
সে কথা তুমি ভালো বোঝো... 
তাই   তুমিও ফিরে গেছো অন্তরমহলে,, 
বাকি কেবল সময়.... সে তো আবার কোনো 
অজানা অচেনা অধ্যায়ে হাঁটছে, 
"কেহতে হ্যায় বক্ত হর জখম কা দাওয়া হ্যায় 
......পর কমবক্ত ইয়ে নেহি জানতা কি দিলনে
 হর জখম কে সাথ  জীনা  সিখলি হ্যায় "....,।
........সুবর্ণা (প্রিয় হারানো)  

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

দূরে আরো দূরে



সব ভাবনা কিংবা তার চেয়েও দূরে আরো দূরে চলে যেতে পারি।
নির্দ্ধিধায় পথ হারাতে পারি ,নিজেকে পাথরের সাথে বেঁধে দিয়ে ডুবে যেতেই পারি সমূদ্রের ঘন তলে ,, গোগ্রাসে গিলে নিতে পারি অবহেলার
ভালোবাসাহীনতা।
 দায় নেই কোথাও কোনোখানে ....কেউ থাকবে না
কোনো অপেক্ষার প্রান্তরে ,
 এ জন্ম দায়  কেবলই আমার, এ যাপনের প্রতিটা ফোঁটা শুধুই আমার দায় ।
যেমনটা ছায়ায় আমি!

পথ হাঁটি; পাপ খোলস ছাড়ে   অস্তিত্ব কিছুটা টিকে থাকে হাতে হাত রেখে ।
হারায় বলেও হারায় না এই পথ এই দায় ওই পাপ ,
জিতে যায় সব শোক ,,
 হঠাৎ এমন করে হতেই পারে তোমার ভাবনার পরিধি কিংবা তাঁর চেয়েও বেশি দূরে চলে যেতে পারি
অনায়াসেই ..... চলে তো যেতেই হয় যেমন সময় প্রতিক্ষণে চলে যাচ্ছে দূরে আরো দূরে ,, তোমার আমার সাঁকোর কোনো প্রান্তর এখন দৃশ্যত নয় ,।