বুধবার, ৩১ মে, ২০২৩

দিন বদলের কাব্যগ্রন্থ

বদলে গেছো অনেকটা ... এখন তোমার ঘুমন্ত  ছবিতে 
 আগের মত এলিয়ে দেওয়া খোঁপার সুগন্ধি  আর পাইনা, 

তোমার শরীর  থেকে সবুজ গাছ গাছালি  দূরে বহু দূরে সরে
যাচ্ছে  দ্রুত, 
তোমার ভেতরের  ঝর্না এখন কেবল একটা  স্রোত-দাগ।

আমার ক্যানভাসে   তোমার সুডোল উপত্যকা জুড়ে আলগোছে  রাখা ওড়না  সমেত ছবিটা  আজকাল 
মৃত কবিতার শব মনে হয়, 
কিংবা সময়ের সাথে আমার ভেতর  তোমাকে রচনা  করার সমস্ত ভাবনারা একে একে মৃত্যু ছুঁয়ে  এগিয়ে গেছে দরজার
 ওপারে দূর বহুদূর  কোনো  বাউল-নগরে। 

আমি ভাবনার সে সমস্ত পোশাক আশাক খুলে ফেলেছি বহুকাল  আগেই, 
তবু মন জমিনে কোথাও কিছু  দৃশ্য হয়তোবা ফসিলের ভুমকায় আজো। 

একদিন তুমিই  চেয়েছিলে চায়ের টেবিলের  ওপারে ইচ্ছে মত মুখ  ও মন বলদে ফেলি যখন যেমন... 
আজ তুমি যতটা  বদলে ফেলেছো নিজেকে, 
আমিও ততটাই  রোবটিক যন্ত্র  রেখেছি স্রেফ হৃদয় টুকু  বদলে দিয়ে। 
এখন সমান্তরালে  তোমার আমার মাঝে সবটুকু খেলা... 
এখন জল নয় আমিও শিখে নিয়েছি আগুন দিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে... 
এখন বাজিকরের চালে আমিও কেবল  পাখির চোখ টুকুই স্পষ্ট  দেখি...
এখন আমার ভেতর তথাগত  কেবল এক বোধিবৃক্ষ স্বরূপ 
স্থির ও আকাশ-মুখি... 
এখন মুখোমুখি দাঁড়ালে স্বভাবতই আমরা অচেনা। 

#সই ( দিন বদলের  কাব্যগ্রন্থ) 

শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩

আলোর দিকে যারা যায় (৩)

স্মৃতি চিরকাল  গল্পের শেষে একা দাঁড়িয়ে  থাকে 
খালি মঞ্চে  ছায়ারা যেন জীবন্ত ভীষণ রকমের মনে হয়, 

পার ভাংচুর  হয় দুমড়ে মুচড়ে ফেলে আসা সময় যেন
গলার মাঝে নীলকন্ঠ ধারন হয়,
ভালো থাকার নাটকের  সংলাপে যন্ত্রনাগুলো 
মুখে রঙ পাউডার  মেখে হাসে স্পটলাইটের নিচে। 



সামাজিক মুখোশে সত্যিটা আসলে সত্যির মত করে মিথ্যেও হতে পারে তাই সম্পর্কের বানান ভুল মেনে নিতে হয় জীবনের 
খাতায়। 
আর তাই কখনো কখনো  নিজের শব নিজের কাঁধে  নিয়ে
বাকি পথটা হেঁটে  যেতে হয় হাসি কান্না শোক ও সুখের সাথে ঘরকন্না করতে করতে। 

#সই (যারা আলোর দিকে যায়) 



বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩

আলোর দিকে যারা যায় (২)

সময় কখনো কখনো তীব্র দহনের ভেতর হাত ধরে নিয়ে যায়, 
সময় কখনো কখনো  ভেঙে যাওয়া  আয়নার মুখোমুখি  আনে,
সে সব অনুভূতির ভেতরে এক ধরনের মৃত্যু অনুভূতি লুকোনো 
থাকে অথচ  সময়ের কোনো  দায়ভার  থাকে না সে মৃত্যুর , 

থাকে কিছু অধিকার বিহীন  তেতো  স্বাদ, থাকে পুড়তে থাকা
ছাইয়ের বুকে মুক্তির উড়ান, 
তবু মানুষ চিরকাল  সময়ের জাহাজে একা নাবিক... দুরের
স্পটলাইটের হাতছানিটুকুতে নির্ভর তার চলমান  স্রোতের যাত্রা। 

কখনো কখনো  সময় শরীর  জুড়ে অনাত্মিক যন্ত্রনার 
আত্মিক প্রেম দফন করে অথচ  মানুষ  না পারে
চিৎকার করতে না পারে যন্ত্রনা  গিলে নিতে,
সে এক অভ্যেসে  নিজেকে প্রবেশ  করিয়ে নেয় ক্রমাগত, 
একটা 'বোধ' এর প্রেমে নিজেকে ডুবিয়ে নিতে থাকে, 

আর মানুষ  তখন নিজের থেকে বিতারিত  আর এক অসহ্য 
নিজের খোলসে নিপাট করে নিজেকে গুছিয়ে রাখার 
অভিনয় টা শেষমেশ  রপ্ত করতে শিখেই নেয়।


#সই ( আলোর দিকে যারা যায় ২)

আলোর দিকে যারা যায়

সব একই থাকে 
ঘড়ির  নিয়মে সূর্য  ডোবে, সকাল আসে, 
সময় কাঁদে হাসে, প্রতিটা জন্মের মৃত্যু এবং আবার জন্ম হয় 
তবু কেউ কোথাও ফাঁকি পরে যায়, 
সবটুকু  একই থাকে বহমান স্রোতে,
তবু কেউ রাত জাগে, তবু কারো কারো সময় থমকে যায়, 

তবু কেউ কেউ বুকের বারুদে ক্লান্ত ঘুম ঢেকে  রাখে, 
আসলে আয়নার সামনে মানুষ স্রেফ নিজের বাইরেটা নয়
ভেতরের লুকিয়ে রাখা নগ্ন প্রহসন এর মুখোমুখি  দাড়িয়ে  চোখ  মেলাতে পারে না, 
তবু কেউ কেউ কোথাও হিসেবের খাতায় ফাঁকি পরে যায়, 

এগিয়ে যাওয়া  সহজ না হলেও কখনো কখনো  পেছনে 
ফিরে তাকানো  নিষিদ্ধ মেনে নিতে জানতে হয়,

কখনো কখনো  একলা নিজেকে আঁকড়ে  বাঁচাটা খুব জরুরী, 

কখনো কখনো  মুঠো খুলে দিতে শিখে নিতে জানতে  হয়, 
কখনো কখনো...  মৃত্যু শব্দটা  বুকের তাবিচে বেঁধে নিয়ে
ওদের সকলকে  মুক্তি  দিতেও জানা জরুরী,
আসলে সময়ের মত মোহ-হীন হতে জানতে হয়। 

#সই (আলোর দিকে যারা  যায়) 

সোমবার, ৮ মে, ২০২৩

নিজেকে ক্ষমা করছি

আজ ভেবেছি  ক্ষমা করে দেব নিজেকে  সম্পুর্ণ, 
যেখানে ভালবাসা  ছাড়া  বাকি সব ছিলো  সেখানে ভালবাসা  খুঁজেছি বারংবার ...  ভুল করেছি তার জন্যে নিজেকে ক্ষমা করবো আজ,
ওদের যেমনটা  দরকার  ছিলো তেমন  প্রমাণিত  হতে পারিনি তাই আজ নিজেকে  ক্ষমা করলাম,
যেখানে  প্রতি-উত্তর  দেওয়া জরুরী  ছিলো সেখানে চুপ  থেকেছি বহুকাল...   তাই আজ নিজেকে ক্ষমা  করবো।

ক্ষমা করলাম আজ নিজেকে,  সমস্ত কর্তব্যে   উজার করে  না দিতে  পারার জন্যে।
আয়নায় নিজেকে বারংবার  অপমানিত করার জন্যে আজ প্রথমবার নিজেকে ক্ষমা করলাম  ,
নিজের প্রতি বিশ্বাস  না রাখার জন্যে আজ নিজের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। 
ক্ষমা করছি নিজেকে ... আজ অবধি নিজের মুল্যবান  সময়কে বেহিসাবি খরচ করে ফেলেছি আমি ছাড়া বাকি সকলকে ভালো  রাখার উদ্দেশ্যে  তাই।

আজ ক্ষমা করছি নিজেকে এই  আমিটার সমস্ত বোকামির জন্যে। 


বুধবার, ৩ মে, ২০২৩

সময়ের কথা



.

সময়... সময়ের  বুকে সময় লেখে গল্প 

ভালো  থাকার মন্দ থাকার গল্পেরা নিরন্তর  কোনো  কালির বোতলে নিব ডুবিয়ে সময়ের বুকে দিনলিপি  লেখে, 

মানুষ  পুতুলের মত সামিল হয় সবটুকু গল্পের ইঁট কাঠ পাথরের মঞ্চে। 


চরিত্র গুলো  আকাশ খুঁজে যায়  খুঁজে  যায় অক্সিজেন 

কখনো  কখনো  নিজেদের  অনুভূতি গুলো  বোঝার চেষ্টায় মাটির ভেতোরে  সামান্য  বিশ্বাসের মাটির বুক আঁকড়ে  থাকা শেকড়  খুঁজে যায়। এই বেঁচে থাকা নাটকে 

ভালো  থাকা জরুরি,  জরুরি  অভিনয়ের নিপুনতা, 

হয়তো  খানিকটা  মুর্খতাও জরুরি , কারন 

পাশে থাকা চরিত্রেরা আসলে কেউ পাশে থাকবে না জেনেও সম্পর্কের পিঠ থেবড়াতে  হয়...। 


আসলে মৃত্যু ভীষণ  স্নিগ্ধ  আর সত্যি একথাটা কাঠ-পুতুল মন মানতে চায় না। 

....জীবন  চলতে থাকে রিলে রিয়েলে মঞ্চে  সেল্ফিতে 

গল্পের শেষে  স্বভাবতই  কিছুটা গল্প উহ্য থেকেই যায়  

দর্শকের জন্যে।

কিছুটা গল্প কাঠ-পুতুল বুকে নিয়ে তোমার  মত কারো ভেতরে  অভিমানী হয়ে ঘুমিয়ে থাকে। 


.