----------------------------
গায়ে জড়িয়ে হেমন্তের সন্ধ্যা মায়াবী শহরে
নীল সমুদ্রের খোঁজ করে পাগলীটা,,
ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজে ডাকবাক্সে দু এক পশলা
কান্নাও অগোছালো হাতে খাম বন্দি করে ফেলে।
তোমার মুখের মত মুখ তখন পৃথিবীর ক্যানভাস,,
জ্বর গায়ে ভালোবাসার বিকার আসে..... পাগলীটা
ইজেলদানিতে জমিয়ে রাখে সে সব রঙ,,
একদিন অবাক করা সকালে তোমার রংহীন
সব ছবিতে দেখি পাগলীটার শরিরের সব রং
তুমি তখন ভীষন রঙিন,, কবিতা তোমার
শরীর ঢাকা।
পাগলীটার বয়স বেড়ে যায় একদিন ঘুমিয়ে
পড়ে কয়েক জন কবি এসে পাগলীটার গায়ে
ভালোবাসার নকশী আঁকা চাদর বিছিয়ে দেয়,,
ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভেজা ডাকবাক্সে খাম কান্না
নির্বান্ধব থেকে গেছে।
কবি তুমি কি সে কান্নাদের ছুঁয়ে কখনো কোনো কবিতা লিখেছো?
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮
ভেজা চিঠি(১৪)
ঘুমোতে চাই
-----------------------_
ঘুমোতে চাই বহুদিনের নির্ঘুম এই চোখ,,
পা টিপে টিপে অন্ধকার কিনারে নিজের
সাথে থাকা.... ক্লান্ত আমি অথচ ঘুম নেই আমার,
চোখ বন্ধ রাখলে বালির দেওয়ালের মত ভাবনারা
আছড়ে পড়ে, পরিপাটি দৃশ্যরা ছিটকে পড়ে এদিক সেদিক,
মাথার ভেতোর বাক্সবন্দী ঘুম যেন নির্বাসন,,,,
স্তব্ধ গিটারে ঘনিষ্ঠ হতে গিয়ে দেখি আঙুলের
সাথে বহুদিন সহবাসের অভ্যাস আর নেই আর, পুরোনো তারে
তাই মর্চে রঙের পান্ডুলিপ।
পাশফিরে শুয়ে গুঁড়ো গুঁড়ো রাত জমিয়ে রাখি
আগামি শুক্লপক্ষের জন্য,,
এমন করে অজস্র রাতের গল্প দেখেছি খুব
কাছ থেকে.... বুঝেছি কোনো রাতই ভাঙাচোরা
বিহীন নয়;
প্রতিটা রাতের বুকেই কোনো না কোনো গোপোন
সংকেত সাজানো থাকে থরে থরে।
এবার তাই একটু ঘুমোতে চাই।
রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮
বুনোপাখি
-------------------
বুনো পাখি কে আগলানো সহজ নয়
তাই ওকে ছেড়ে দাও,
মাটির পৃথিবী ছুঁয়ে সবাই থাকে না, আকাশটাও
দরকারী বেঁচে থাকার রসদে,,
নয়তো শরীর থেকে চাঙর ভেঙ্গে পড়তে পারে।
দেখ শহরের পোস্টারে লেগে আছে বাসি কস্তুরিঘ্রাণ ,,
আমাদের উৎসব বুনোপাখির মত... সে কোনো
নিয়ম মেনে আসে না ।
সবাই কাগজের ফুল মাথায় দিয়ে আসুখ তরঙ্গে
সুখ গুলে দেবার চেস্টা করছে,,
আমি নদীর জলে তার ছায়া দেখেছি বহুদিন,
ঈশ্বর আমার পাশে চিত্রকরের ভূমিকায় যেন চিরন্তন,
আঁকাবাঁকা রঙে বেশিরভাগই নানারকম মুখোশের
ছবি,, তার ভেতোর দু চরটে বুনো পাখি আর তাদের
পালকের ছবি,,,,, বাকিটা কোনো কবির কবিতার মত
বেশিরভাগ জীবন প্রলাপের মত।
শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮
হঠাৎ তোর শহরে
--------------------
হঠাৎ বৃষ্টি আসা আমার হৃদয়ে ব্যালকনিতে
,,ছোট ছোট গল্পরা প্রেম মুখরিত হয়ে ওঠে জল ফোটা হয়ে ।
অথচ আমি তোমার শহরের শুকনো মাটিতে
ভিজতে চাইছি তোমার চোখে, হঠাৎ নিজের মনে হলো
এই বুঝি তুমি এলে একমুঠো বৃষ্টি হয়ে
এই বার আমার হৃদয়ের ব্যালকনির "গল্প"হয়ে যাই।
.আসলে এসব কেবল পাগল মনের ভাবনার প্রলাপ
বৃষ্টিহীন পৃথিবীতে কেবল কাঠখোট্টা প্রটোকল
তবু জীবন আশ্রয়ের ছাউনি খোঁজে।
সামান্যতম চাওয়া কি বা আছে দুটো কথা আর
পথচলতি বিনিময় প্রথা....
লুপ্ত সেতুর মত ভেজা বারান্দা আমার ভাবনারা হারিয়ে যায়।
কারণ শহরের গর্ভগৃহে লেগে আছে প্রেমহীন হাজারো
জন্ম,, এই সুযোগ অসামাজিক হবার।
মানুষ খোঁজে সবুজ হয়ে বাঁচার পথ,
বেঁচে থাকায় যেন সকলের বড় লোভ
লোভ গড়িয়ে নামা বৃষ্টি বুকের উষ্ণতায় ওম এর সাথে সখ্যতা।
সম্ভব আর অসম্ভবের দোলচলের সুতোয় বাঁধা "তুমি আমি",
তাই তোর শহরে সই আজো বৃষ্টিবিহীন দিন,
তোর লুকোনো বৃষ্টি ছাট আসতেই পারতো নিয়মের
বেড়া ভেঙে
কোন এক অস্থির বারন্দায় দাঁড়িয়ে আমি রামধনুর রঙের খোঁজে,,
বেঁচে থাকা মানে রঙ খোঁজা , বেঁচে থাকা মানে বৃষ্টি
খোঁজা, বেঁচে থাকা মানে একটা বুকের ওমে জড়ানো
তোর ধুকপুকান, এসব যখনি
প্রটোকল এর ধার ধারে না ঠিক ঠিক
তখনি আমার পাহাড়ি ঝর্না ধোয়া ফুল হতে ইচ্ছে হয়।
বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮
জন্মদিন
আঁশহীন এই অবয়বটায় অজস্র
জন্ম হয় রোজ তবু শুধুমাত্র একটাই জন্মদিন
আসে, আর সেই দিনটা যেন দমবন্ধ নিশ্বাস
চারপাশে মাত্রাতিরিক্ত তিরতির করে কাঁপতে থাকে।
মাথার ওপর অলীক মুকুট আর প্রজাপতির পাখায়
লেগে থাকা স্বপ্নরা অন্ধকারে জেগে থাকে রাতজাগা পাখির
মত.....,
আর আমার এই ফি বছর নিয়মিত জন্মদিনে কেন
জেন মৃত্যু শব্দটা সবচেয়ে কাছের হয়ে থাকে দিগন্ত
ছুঁয়ে থাকা অভিমানী কবিতার মত,,
মেঘেদের গায়ে অনাকাঙ্খিত রঙ বদল আর ভালো
লাগে না-------- ভাবি অনেক তো হল এই বোঝাপড়ার
দুমুঠো ভাতের থালায় নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর
গল্প,, এবার যেন দাঁড়ি টানা দরকার।
দেওলা জুড়ে হাজারো মৃত্যুর ওমহীন কোলাজ,
অবশ্য মৃত্যু তো চিরদিন ওমহীন।
খানিকটা নোনা জলে রুমাল আর কিছু
স্পর্শ জীবনের কাটাকুটি খেলে....., জন্মদিন
আসে আর চলে যায়,, ক্রমশ ঘরের আসবাবপত্র
একে একে সঙ্গীহীন হয়ে পড়ে।
সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮
ঠিকানা
---------------------------------------------
আস্তরণের ভেতোর নিশব্দে জমে থাক ডুকরে
ওঠা কান্নারা,
উৎসবের রোশনাই কামরাঙা রঙ দোসোরের ঘর
আলোয় আলো।
দুহাতে জড়িয়ে জীবন একবার কাঁদতে চাই, দুকুল
ভাসিয়ে বৃষ্টি আসুক, ভেসে যেক আমার আমি
বানভাসি স্রোতে।
ধুসর কাব্যের গায়ে কবেকার হাসি ঘুমিয়ে আছে
ধুলোঢাকা আস্তিনে। আবার কবে সে
হাসি স্বপ্নের হাত ধরে উঁকি দেবে সকালের
দোড়ে সে কথা থাকুক অজানা।
এখন ত্রিসীমানার জুড়ে একমুঠো আলো নেই,
বিসর্জিত মায়ের মুখে সব আলো ইচ্ছাইএর জলে,
হলুদ কাঠামোয় তুমি আমি লেগে আছি ধুকতে
ধুকতে।
তুমিও আজকাল আমার মত মাঝে মাঝেই
বলে ফেল.... কোনো একদিন পাগলা গারদের
কোনো চতুর্ভুজ স্থায়ি ঠিকানার নাম পেয়ে যাবে।
যে ভাবে সীমানা পেরিয়ে শূন্যতা দীর্ঘশ্বাস এঁকে
চলেছে সময়, একদিন অচেনা পথের আর্তনাদ
চিনিয়ে দেবে একসাথে হারিয়ে যাবার কোনো
কোমোলগান্ধার।
কথা ছিল
কথা ছিল প্রতিটা পক্ষকালে একসাথে
জ্যোতস্নায় স্নান সারবো,
কথা ছিল দিক হারানো বাতাসের মতো
লুটিয়ে পড়বো একসাথ,
ঘুমন্ত আলোয় ডুবে থাকা ইচ্ছামতি একদিন
জেগে দেখবে এ শহরে সূর্য রঙ পাল্টে ফেলেছে।
ক্রমশ ডুবে যাওয়া স্বপ্নরা একদিন নদীর ওপর
আলোর মত হেঁটে বেড়াবে...
এমন কত কথাই তো শীর্ণ সেতুর বুকে হাতচিঠির
মত রয়ে গেছে,,,
বয়স পেরয়ে সব রঙ ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হচ্ছে,
আর আঙুল থেকে খসে পড়ছে প্রতিটা মুহুর্তের
তরংগ।
চারদেওয়ালের সম্পর্ক গুলোর বানান ভুল
আজকাল একটা স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে,,
ছায়াদের সাথে হেঁটে চলা মন এখনও ভাবে
সুজন বুঝি একদিন কোনো পথের শেষে দাঁড়িয়ে
থাকবে,.... বৃষ্টি হয়ে, মিঠে রোদ্দুর হয়ে যেকোনো
ফর্মে যেকোনো সেপে, আর তার পর.........
বুধবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৮
তুমি ও আমি
------------------------------
তৎসম শব্দদের মুঠো ভরে রাখা সহজ
না কঠিন কে বলতে পারে...., তবু নদীর বাঁকে
দাঁড়ানো বিকেলের আলো বলে দেয় এক মাত্র
মৃত্যু তুমি আলাদা করতে পারোনি আমার
সব অহংকারকে,,
বুকের মাঝে হাজারো ক্ষতদের ছায়া কখনও
গভির কখনও আবছা ....,,
চোখের ভাষায় অনেক জমানো যন্ত্রনা আমার
অহংকারকে নত করতে পারনি।
যতবার হেরেছি ভেবেছ তোমার শেকলের
বেড়িতে ,, ততবার দৃঢ় হয়েছে আমার ২০৬টা
হাড়,, যতবার মুছে দিয়েছ পথের নিশান...
খুঁজে নিয়েছি নতুন দিশা,,,
হারিয়ে গিয়েছি অজানা স্রোতে যতবার,
নিজেকে ফিরে পেয়েছি নতুন কিনারে,,,
এভাবেই তুমি আমি সমান্তরাল পথে একে অপরের
পাশে হেঁটে চলেছি যুগযুগ ধরে পৃথিবীর শুরু থেকে......।
মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১৮
খোঁজ৬
-----------------------------
অন্ধকারের দোড়গোড়া ছুঁয়ে কথকতারা
চলে গেছে আলোর দেশে,
টুকরো টুকরো স্বপ্নরা জেগে থাকে পুরোনো
চিঠির গভীর অনুভুতির ভেতর,,
জ্বরের ঘোরে আলো খুঁজি সেই সব পাথর
চাপা ঘাসেদের মত।
শুন্যের সব শোক নিপুণ পারদর্শিতায়
বুনে ফেলে নকশি কাঁথ,,
সময়ের কাছে ঋনী ...... যতবার মনে
হয়েছে আমি মৃত নিষ্প্রান, ততবার তুমি
নিজ স্ব স্বাক্ষর এঁকে স্পর্শ দিয়ে গেছ।
জন্ম মৃত্যুর ব্যবধানে সে স্বাক্ষর এক সাঁকো মত
আমাকে জুড়ে দিয়েছে সফরনামায়।