বুধবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৪

যাত্রী

লোকটা  খৈনী  মুলছে এক মনে আর তার কান ও চোখের   দূরত্ব বজায় রেখে  পাশের পোড়া ধানক্ষেতেটা  ক্রমশই পিছনের  দিকে হারিয়ে যাচ্ছে , 
মুখের ওপর মধ্যবিত্ত  সংসার ভাতের হাঁড়ির  বসবাস প্রবল আগ্রহ নিয়েছে এতদিনে,,
একঝাঁক  সাদা বক কেবল কারো বশবর্তী হলো  না কোনোকালেই  শুধুমাত্র কয়াশা জানতো আজ কোনো  প্রাক্তন সময়ের মুখোমুখি  হবে কিনা তারা। 
জীবন এখন ট্রেনের কামরায়  পেট কিংবা চ্যাট এর জন্য কোনো এক স্টেশনের অপেক্ষায় ,, 
পুড়ে যাওয়া  ধান গাছ গুলোর গোড়া মাটি ছুঁয়ে  থাকলেও তারা জানে সময় তার ফুরিয়েছে ...। 
কখনো কখনো জীবন মশলা মুড়ির মত কিছু খুঁজে  ফেরে যেন  খিদে আর সময় দুই কেই সাময়িক বধ করতে পারলে খানিক স্বস্তি।  
তাল গাছের ফাঁকে  জমি গুলো  অজানা বৃষ্টির জলে ঢেকে আছে ওদের  সবটুকু  সাংসার কামরার জানালা দিয়ে  জানা যায়  না কিংবা ওরাও চায় না জানাতে, হয়তো লাংলের বুকের ওই ধারালো ফালাটার রক্তাক্ত  প্রেম ভালবাসে ওরা হয়তো ..., 
 লোহার পথ গুলো  দীর্ঘ  একটা  জীবন  পাশাপাশি কাটাচ্ছে অথচ ওদের কখনো  ইচ্ছা হয়নি একে অপরের সাথে  সামান্য  বিনিময় সেরে নেওয়ার কথা ওরা কেউ কাউকে  চেনে না একজন  জানে না আর একজনের ঠিকানা   তবু ওরাই লোকটাকে তার পছন্দের  ঠিকানা  দিন প্রতিদিন  পৌঁছে দেয়। 
কখনো কখনো নিয়মের বাইরেও কোনো  এক স্টেশনে   কিছু ভাললাগার কাছে  কিছু নিয়ম ভাংচুর  করতে  সম্মতিও দেয়, 
পথ দৌড়ে কবিতা থেকে উপন্যাসের পাতা ছুঁয়ে  ফেলে, 
লোকটার চোখ জুড়ে  রুপকথার ঘুম আসে, সবুজ কামরায় 
একটা  কবিতার জন্ম দেয় লোকটা। 
 

সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪

দুই বিঘা জমি

শীতের রোদ্দুরে শুয়ে আছে দুই বিঘা জমি 
মাঝ খানে এক শুধু বিশ্বাসের আল টুকু ,
অভাবের জল কখনো কখনো আলটুকু কেটে
ফেলে পারাপার করে ,
বুক ভেজে তৃষ্ণা মেটে কিনা কে বলতে পারে 
মুখের সব রেখা তো মনের আবহাওয়া বয়ান করতে
নাও পারে , কিংবা ফসলের মুখ চেয়ে আধ পেটে সুখ রাখে
পরমের সাথে।
দুই বিঘা জমি তারা পাশাপাশি থাকে 
রোদ মাখে ,শীত কাঁপে, বর্ষণ করে অযাচিত প্রেম নিমন্ত্রণ,
আল ভাঙ্গে মনও যে ভাঙ্গে সেকথা জানে কেবল মন ,,
 বীজ এর সঙ্গম দেখে  , দেখে তাহাদের মুখ ভরা হাসি ,
সংসার বয়ে যায় সময়ের স্রোতে দুই বিঘা জমি পাশাপাশি...

একদিন হাত বদল হয় এক বিঘা 
আল ভেঙ্গে দেয়াল দাঁড়ায় বর্ম সাজে ,
মন ভাঙ্গে কি বাকি এক বিঘার! নাকি কংক্রিটের পাশে
এক বিঘা নীরব মৃত্যু চেয়ে থাকে আর এক বিঘার দিকে 
তবুও দুই বিঘা পাশাপাশি সাথে সাথে পাশে পাশে ।

#সই

বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪

কি নামে ডাকবো

টুকরো আয়নায় ছড়িয়ে আছে মেঝেময় প্রেম অপ্রেম
যত্ন অবহেলা,
অহেতুক নিয়নবাতির নীচে খুঁজতে থাকা হারানো পারিজাত- মুহুর্ত,
তোমার বুকের ছই এ একটা চার দেওয়াল ছিলো রূপকথা,,
ইচ্ছাদের ইচ্ছা মৃত্যু শেখালে তুমি শেষমেশ ...
 কি নামে ডাকবো তোমায় প্রেমিক নাকি দ্রোণাচার্য...?

#সই 



শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৪

সবাই কি মৃত

হেঁটে গেছি  যে মিছিলে আজ তার সব মুখ মৃত 
রাস্তার ধারে থুতু আর নোংরা জলের গায়ে এখন আর 
লুকোনো সঙ্গমের বীর্য প্রমাণ রাখে না 
যোনির চেয়েও বাদামি ছায়াবীথির পথে সময় গেছে চলে ,

আমার মত একটা পরিচয় এখন সম্পর্ক ও আত্মিয়হীন বানান
মাত্র  ...বড্ড ঘুম পায় আজ কাল  এ যেন কেউ আমায় শাস্তি দিয়েছে ঘুমের  অন্ধকার ঘরে বন্দী রাখতে ।
 ছেনি হাতুড়ি দিয়ে আমার এই পাথর ভেঙ্গে দিয়ে পুরোনো ছবি  যদি ফেরত দিতে  কেউ  ...
এই হেঁটে আসা মিছিলের কি একজন কেউ নেই যে জীবিত আর আমায় চেনে পুরোনো ঠিকানা সমেত ।

আমি জানি না, আজকাল কেন
কাউকেই ভালো লাগে না আমার।

#সই (সবাই কি মৃত )


বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৪

সই (৫৫)

ভেঙে যাওয়া  বিশ্বাসে কি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়া  যায়? 
যেমনটা ভেঙে যাওয়া  কলমে কেমন আছি জানানো  যায়  না। #সই

বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪

ডেড বডি

কুয়াশা বাড়তে বাড়তে সাঁকোটা এক সময় হারিয়ে গেলো  
সাদা পাতায় নির্জন মন খারাপ লিখতে লিখতে 
আমিও পথ হারিয়ে অচেনার গহিনে  হাঁটলাম , 
সমস্ত  শুন্যস্থান জুড়ে কেবল   ঘন আঁচড়ে  দেওয়া 
শীত  আর শীত , 
দেহের ভেতর শুধুমাত্র দোতারা আর বাউলের ঘুঙুর
আখড় টানে  কাঁদছে তখন,  আগুন খুঁজে মরে  হাড় মাংসের দেহ  অথচ মন পুড়ছে দাউ দাউ  করে পুড়ছে ,   তবু দেহে কেনো শীত অসম্ভব শীত ! ?

ঘাটে বাঁধা  মাঝি-হীন নৌকার দিকে গোপন  প্রেমের আত্মা 
এগিয়ে যেতে যেতে    হঠাৎ  পেছনে চেয়ে দেখে  অজয়ের ধারে সাদা কাপড়ে ঢেকে ঘুমিয়ে আছে আমার মত কেউ ..., চমকে উঠি   চমকে উঠে বুঝি  আমার  থাকা আর না থাকার মাঝের সাঁকোটা কোথাও নেই.... সত্যি কোত্থাও  নেই, 

ওরা কারা! ঠিক  চিনতে পারি না যারা  সাদা কাপড়ে মুড়ে রাখা আমার  মত দেখতে দেহটা ঘিরে দাঁড়িয়ে সম্পর্ক-হীন দেহটাকে  ডেড বডি বলে নামকরণ  করছে, 
 একটা মুখ খুঁজে পেলাম না যে আমাকে খুঁজছে  একটা  সম্পর্ক  দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম না যে আমার জন্যে এক ফোঁটা নোনা পানি চোখের  কোনে আগলে রয়েছে,  
 হ্যাঁ ছিলো স্রেফ আগুন ছিলো  যে    ঝাপ্টে ধরবে বলে  কাছে নেবার অপেক্ষায়  এক  বুক আকাশের সাথে  আমারই শুধুমাত্র জ্বলছিল । 

#সই(ডেড বডি) 


চিনতে চেয়ে

এ শহরে সহিষ্ণু-হীন মুখ গুলো মুখোশের আড়ালে ... সব
কিছু স্রেফ অচেনা লাগে, 
সময় আমাদের খুঁটে খাওয়া শিখিয়েছে  
তবু  আমরা এক আঁজলা  নির্ভেজাল  সময় লিখতে 
পারিনা সাদা খাতার পাতায়, 
জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আমার মত একজন 
ভোকাট্টা ঘুড়ি হাতছানি  দেয়.... সমস্ত প্রচ্ছদের পরদা
সরিয়ে  অপ্রেমটুকু টিকে থাকার প্রমান  দেয় এ শহর মাত্র। 

অপেক্ষা  আরো খানিকটা হারিয়ে যাওয়ার... 
অপেক্ষা আরো খানিকটা হুঁশ হারিয়ে ফেলা... 
অপেক্ষা পাহাড়ের গা বেয়ে হঠাৎ  পা পিছলে 
এ শহরের  মুখ-মুখোশের সম্পর্ক গুলো  থেকে 
অন্তত এক-জীবন দুরত্বে  নিজের মুখ লুখিয়ে ফেলা... 

আমি ফুরিয়ে গেলেও আমার শব্দেরা থাকবে একটা 
বুক-কফিনে,  আমার ছোটোবেলার না পাওয়া চোখ পিটপিট পুতুলটা  আমার বড়বেলার অপ্রেম... সব  সব থেকে যাবে সাদা কাপড়ে  আতর মাখানো বুক-কফিনে,, 

 তুমি আবার হেরে যাবে...তুমি আবার অনেকটা  অনেকটা  হেরে যাবে  কারন আমি চিহ্ন মুছে দেহটা আলো আর অন্ধকারের মাঝে  দহন আর দ্রোহের মাঝে  রোদ্দুর আর ছায়ার মাঝে রেখে যেতে  চাই এপিটাফ বিহীন সবুজ ঘাসের আড়ালে  স্রেফ একটা মৃত্যু  না আসা ছটপট বেঁচে থাকা কেমন হয় সেটুকু চিনতে। 

#সই ( চিনতে চেয়ে) 

মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৪

কুয়াশার ভেতর

কুয়াশার শহরের বুকে লুকিয়ে রাখা কফিন, 
সেই কফিনে জুড়ে ঘন হিম  বিষন্ন  শীত-গল্প,
পুরনো সময়ের মোহ যেন এক ফালি রদ্দুর মাখা 
কাঁচের বারান্দা, সহজেই উষ্ণীয়...  অথচ সে উষ্ণতা 
ভুলে যেতে পারলে কি ভাবে? 

আশ্রয়ের থেকে করুনার মায়া আর কি আছে বল? 
আমি সব আশ্রয় থেকে তিরতির শীতের মত নিজেকে 
বয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছি   এক অন্য  পথে , পঙ্গু  আশ্রয়হীন লোকটা যে ভাবে এক রাস্তা থেকে আর এক রাস্তায় এসে দাঁড়ায় । 
আসলে জীবন  অত সহজে ফুরোয় না আর ঠিক কত মাইল
হাঁটতে হবে সেটাও জানা নেই, 
আজকাল মানুষ  রাতভর চোখ চেয়ে  ঘুমোতে যায়  বিছানায়, 
আজ কাল ঘন শীতেও মানুষ কেমন স্পর্শহীন হয়ে বাঁচতে চায়, 
আজ কাল মানুষ  আলো আর অন্ধকার আলাদা করে চিনতে
পারে না, 
তবু কখনো কখনো এ বুকে জ্বলে পুড়ে কিছুটা  বাঁঁচা বাকি থেকে যায়  
তবু অনাদরে অনুরাগহীন পুরনো কাজলে পুরনো শীতের উষ্ণ
কাহিনি বাসি হয়েও জেগে থাকে, 
তবু মানুষ বাঁচে  বাঁচার আগুনে হাত সেকে নেয় কখন... কখনো পুড়তে পুড়তে মরতে মরতে নিজের গল্পটা শেষতক টেনে নিয়ে যায় নিজের সাথে নিজেই, 
আসলে জীবন  ঠকে না কখনো ... শুধুমাত্র জিতে যায় অথবা 
শিখে যায়  ,, 
কোনো হেঁটে যাওয়া  কখনো কবিতা বা কাহিনিতে লেখা যায়  না 
কারন সব কাহিনী কখনো না কখনো ঘন কুয়াশার শহরে বেঁচে থাকা কে নির্বাসিত রাখে কফিনের ভেতর। 

#সই(কুয়াশার ভেতর )


শুক্রবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৪

অন্ধকার

অবহেলার চাবুকের নিচে অবশ দেহে একটা আত্মা ঝুলছে ,
অন্ধকারে চাদরে ঘুমিয়ে কোনো এক স্বপ্নের বেঁচে থাকা
উদাসীন বিছানায় শুয়ে আছে বহুদিন ,
ফেলে আসা শীতকাল মুড়ে রেখেছে  যাপনের মন_দেহ,
বালিশের পাশে বেমালুম তাকিয়ে থাকা স্লিপিং পিল 
জানে রাতগুলোর শাসন কতখানি নির্মম
অথচ একটা নির্বাক মন নির্লিপ্ততাr অসুখে
পাখির আকাশ খুঁজে মরছেন রাত দিন হন্যে হয়ে।

প্রতিটা দিন ক্ষয়ে যায় আয়ু থেকে
গাছের  গায়ে শেষ শুকনো পাতাটা এখনও পুরোনো দিনের সংসারের মোহে আটকে আছে কি কারো জানার কথা নয় ।
বহু রাতঘুম বিক্রি করে কারো ইচ্ছারকে আলো দিতে বুক_পাঁজর হাড় জ্বালিয়েছে।

#সই (অন্ধকার)




আরো একটা পরাজয়ের অপেক্ষায়

আরো একটা পরাজয়ের অপেক্ষায় 
তোমাকে অনুবাদ করতে বসি,
বিষণ্ণ গঙ্গার ঘাট তোমার দারিদ্র্যতার কথা আমায় লিখতে বলে ,
তোমার নাটকীয় সাহচর্য আর উল্কাপাত উষ্ণতায় পাছে 
আবার আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে যাই তাই চোঁখ বেঁধে রাখি এ 
ফকির মনের ।

 যখন তোমার ক্ষমতা আর অক্ষমতাকে  সমান্তরালে হেঁটে যেতে দেখি ...দেখি তোমার কবিতা গুলো পুর্নতা পাওয়ার আগেই অযাচিত দাড়ি টেনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে  সময়ে কাঠগড়ায়,,

তবু কোনো কোনও চোঁখ তোমার বুকের ভেতর অনন্তকাল বেচেঁ থাকতে চেয়েছে   তবু কোনো কোনও হাত তোমার
দারিদ্র্যতাকেই ভালোবেসে অনায়াসে হেঁটেছে প্রিয় মৃত্যুর দিকে খুব নীরবে , 
তবু রাতের শেষ উপন্যাসের মত আরো একটা পরাজয়ের অপেক্ষায় নতুন আলোর দিকে তাকিয়ে থেকেছে কোনো কোনো মুখ ,

তোমাকে অনুবাদ করতে গিয়ে বিশ্বাস আর অবিশ্বাস এর
কাছে বাকরুদ্ধ শব্দেরা থমকে যায় কেনো বলতে পারো ?
তোমার দৃষ্টির মোহনা আমার  প্রিয় ক্যানভাসে কেনো কেবল ধ্বংসের প্লাবনকেই  ডেকে আনে ,

তোমাকে অনুবাদ করতে গিয়ে আজ আমি আরো একবার 
পরাজয়ের মুখোমুখি বসেছি ,,
তবু  মন বিশ্বাস করে সময় হয়তো ন্যায্য মজুরি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে  পরাজয়ের পরেও।

#সই (আরো একটা পরাজয়ের অপেক্ষায়)




অনুপম

প্রান্তরে পড়ে থাকা হাড় দেখে মনে হল এক ছোট্ট সাদা পাখি নির্লিপ্ত রোদের মুখ শীতের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করছে। আশ্চর্য নরম ভেড়াগুলো তাকে পাশ কাটিয়ে ঘাসের অভিনিবেশে চলে যায়। ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে পড়ে আছে প্রাণীদের বিদ্রুপ ও আস্থা। নেভানো ক্রাচ তুলে নিয়ে কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছে। আর ফিরে আসতে চাইছে না। বিলীয়মান হাওয়ার মধ্যে শূন্য কৌটো হাতে নিয়ে কেউ মানুষদের চোখ পরীক্ষা করছে। তারিখ ফুরিয়ে গেলেও শীতকাল ফুরোয় না। তার কুৎসিত ওভারকোট খুলে ফেলতে ফেলতে চিৎকার করছে এক উৎকণ্ঠিত লোক- একবার কেবল একবার আমাকে ওই পাখিটার হৃৎপিণ্ডে দাঁত বসাতে দাও।

(অনুপম )

আজকাল

আজকাল নিজের আঁকা পুরনো  ছবির সাথে অদ্ভুত  তফাৎ  পাই,
মনে হয় আমি আগে রঙ চিনতাম না কোন রঙ কোন অনুভবে সাজাতে হয় বুঝতাম না, 
কিন্তু আজকের ছবি গুলোয় রঙেরা নিজেরাই শব্দ কিরে চিতকার কিরে জানান দেয় নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা। 

শীতের রঙে  উষ্ণতার চাদর  এখন অভ্যেস নয় অধিকার, 
সময়ের রঙে যতই অবিশ্বাস জড়ানো  থাকুক রাতভিরিতে 
বাড়ি ফিরে একটা বিশ্বাসের  বিছানা সবাই অধিকার মনে করে,
একলা সফরে নিজের ছায়া  সবসময় না থাকলেও গন্তব্য থেকেই যায়   আর সে গন্তব্যে শান্তি খুঁজে রোজ উচ্ছিষ্ট স্বপ্নের কাছে গিয়ে খুটে নেয় একটু ভালো থাকা, 

ইদানিং  ভালো থাকার কারনগুল বড্ড একঘেয়ে রাস্তায় নেড়িকুত্তার মতো  যখন তখন আর একটা  কিংবা অনেকগুলো  নেড়িকুত্তার পেছন শুঁকতে থাকে,
   ইদানীং মানুষের ভালবাসাও কেমন যেন নেড়িকুত্তার মতই যখন তখন...... একটা নয়..... 
কারন ভালবাসা বিকোয় মাংসের গন্ধের কাছে। 

#সই

বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৪

মুক্তি নেই


ভালোবাসলে মুক্তি নেই বোধহয়
ভালোবাসলে হেরে যেতে হয় একটা "আমার"শব্দের কাছে ,
তবু দরজার ভেতর মুখ লুকিয়ে সম্পর্কর কান্না শুনতে পায় রোজ ওই আকাশটা,
এই শহরে ইচ্ছের বেসাতি নেই  নেই পারিজাতের
নিষ্ঠা  স্পর্শ,
এতো আকাশ ছোঁয়া শপিংমগুলোতে একটাও
মন কিনতে পাওয়া যায়না ,
অথচ রূপ রঙ তুলি ক্যানভাস অক্ষর সংখ্যা কিনতে পাওয়া যায় খুব সহজেই আলোর নিচে অন্ধকারের আড়ালেও।

এই উপকরণ , এই অহংকার সব বৃথা একদিন সে চারটে শব্দের বিহীনে ।
মানুষ জানে মানেও তবু মেহফিল সাজায় স্পটলাইটে দাড়িয়ে
বাহবা কিংবা ট্রফি হাতে রাজবেসে ফকিরের কান্নার সিম্ফোনি ভেসে আসে  বুকের ভেতর থেকে ... মুক্তি খুঁজে মরে খাঁচার পাখি,
চোখ লুকোনো নিঃশব্দ কান্না ...
তবুও মনপাগল কিছুতেই বোঝে না ,হেসে ওঠে 
আপন মনে বলে   হেরে  যেতেই হয় নিজের কাছে । ......হেরে গেলে তবেই এই মঞ্চে  তুমি আসল চরিত্র,
মন জানে ভালোবাসলে মুক্তি হয় না 
                      হয় না মুক্তি  লেখা নেই মন্দবাসার কোনো
 ইতিহাসে, আমার শব্দটা বরাবর আমিহীন নিঃস্ব করেই ছাড়ে।

#সই (মুক্তি নেই)





মন দুয়ার

 
মনের দুয়ার  ঢাকা লোহার গরাদে ,
অন্ধকার থেকে সূর্যের দেশে ফেরা নাকি সূর্য আড়াল করে অন্ধকারে ফেরা , 
মুক্তি যাত্রী কে সে সখা নাকি মুক্তিও 
মুখশের কোলাহলে সম্পর্কের রক্ত ঝরা বারংবার,
নাকি সম্পর্কের দাবিদাবাদায় মুখোশের দর বাড়ে প্রতিবার,
নাকি অনেক চলার পরে মুক্তি চেয়ে নির্বাক
ক্লান্ত মন ,
সত্যি বলা কঠিন  তবু কেনো মৃত্যু  নেই সে সত্যির 
তবু ফসিলের ভূমিকায় পাথরের বুকে কাহিনী বাঁচিয়ে রাখে  নির্বাক চিৎকার।

#সই

মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৪

তবু কি পারা গেলো

সব স্মৃতিদের চোখ আজ অন্ধত্বের অসুখে হাঁটছে
কাঁচের ঘরে পুরোনো আব্দার ক্যানভাসে রাখা ধুলোময়,
হারিয়ে গেছে কে  নাকি মৃত  কেউ নাকি রূপকথা 
নাকি আমি আমি নই অন্য কেউ,,
এসরাজের সুরে ভেসে ওঠে আদরের নালিশ নাকি হওয়ায় হারানোর শোক_কথা 
কঠিন অসুখ বোধহয় ভুলে যেতে চাওয়া ,  
কেউ বুঝি রোদ্দুর হতে চেয়ে আজ অন্ধকার জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকে ,
কেউ বুঝি বৃষ্টি হতে চেয়ে নিজের উজানে নিজেই ডুবে গেছে ,
কেউ বুঝি পলাশের বুকে প্রথম বাসন্তিকা হতে চেয়ে  আজ  নিজের বুকের রক্তক্ষরণ থামাতে পারে না ,
যে নদীর পারে নিজের শব পুড়ছিল পূর্ণচ্ছেদের পথে 
সে আগুনের সামনে তোমার সাথে দেখা মিলে যায় 
ফকিরের কান্না খুঁজে বেড়ায় একটা জীবন সে নদীর স্রোতেই,
তবু কি সমস্ত তামাশা থেকে নিজেকে দূরে রাখা গেলো !
তবু কি পারা গেল স্থির জলে সমস্ত অহংকার গুলো কাটাকুটি করতে !
তবু কি পারা গেল পাথর খোদিত করে একটা  স্রেফ একটা হৃদয় নিজের জন্য ....

#সই (তবু কি পারা গেল)



সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৪

পাথরের দরজা

আগামীর খাতায় কিছু গাঁটছড়া রেখো  না আর ,
প্রয়োজনের সামনে বেঁচে থাকা খুব জরুরী মেনে নিতেই হয় ,,
তবুও ভালোবাসার কপালে একখানা লাল টিপ
ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে হতেই পারে ,
হতেই পারে  অভিমানী নালিশের 
আড়ালে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছে আরো কাছে আসতে ইচ্ছে হয় ,  হতেই পারে বসন্তের আগুন রঙা পলাশ বনে হতে হাত রেখে ঠোঁটেরা গান্ধর্ব সেরে নিতে চাইছে,

এত ইচ্ছের গলা টিপে তুমি কিংবা আমির মত বেঁচে থাকা গুলো সম্পর্ককে কেবল নিয়ম ভেবে যাপনে আগলে চলি, ঈশ্বরের সংলাপে খুঁজি মোক্ষ... খুঁজি
নিজেকে অহল্যায় রূপান্তরের মহেন্দ্রক্ষণ,
আসলে নিয়মের বাইরে বেঁচে থাকার লোভকে রূপকথা বলে জীবন  , আর একটা সময়ের পর জীবনে রূপকথা গুলো বড্ড হাস্যকর মনে হয় ,
তাই সময়ের সাথে সাথে ইচ্ছার দুয়ারে একটা বিশাল পাথর চাপা দিয়ে মানুষ শৃঙ্খলে রাখতে অভ্যস্ত করে নেয়।

#সই(পাথরের দরজা)






শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৪

কোথায় ফিরতে চাইছো


কোথায় ফিরতে চাইছো তুমি 
যে সকালকে তুমিই নিজের হাতে গলা টিপে মেরেছো
সে সকাল আজ তোমার থেকে দূর বহু দূর।
যে স্বপ্নকে তুমি রক্তাক্ত করেছো সে স্বপ্ন তোমায় ছেড়ে গেছে 
অন্য দুনিয়ায়,
যে বিশ্বাস তোমায় ঈশ্বর করে তুলেছিল সে বিশ্বাসকে তুমি শয়তানের
মতোই নির্মম হত্যা করেছো ,
এখন তোমার আয়নায় তুমি তুমি নিজেকে দেখতে  গিয়ে শিউরে উঠলে কেনো ,
আরো দীর্ঘায়িত হোক  এ জীবন তোমার
দীর্ঘ নিঃশ্বাসে বেড়ে উঠুক মনের দেওয়ালের ফাটল,

নিঃশব্দতে ভর করে আমি তোমার বুকের ওপর ওপর
হেঁটে তাসের সভ্যতার উজান মাপি রোজ ,
তোমার তাসের দেওয়ালের আঁকিবুকি বাদশা বেগম আর জোকার
পায়চারি করে তোমারই হাতের রেখার যুদ্ধক্ষেত্রে,
ফিসফিস করে সেসব গল্পেরা আমার উপন্যাসের খাতায় টুপটাপ
ঝরে পরে আমি অষ্টপ্রহর ও মন পাহারায়
চোখ সরাতে চাইলেও পারছি না ।

#সই






শুক্রবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৪

সই (৫৪)


 আড়ালে থেকেও ও চোখের সমুখে গিয়ে দাড়াই বারংবার 
দরজা বন্ধ করে রাখি অথচ দুয়ারে দাড়াই আঁচলে অপেক্ষা
নিয়ে ,
 দূরে গিয়েও কেবল ও বুকের ছায়াতেই
শান্ত করি নিজেকে,
এ কি আমার সাথেই আমার ছলনা 
নাকি তার সম্মোহন আমায় পুরোপরিভাবে গ্রাস করেছে ...
#সই