শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০

ফিরে এসো

এ কোন সর্বনাশের দুয়ারে কবি তুমি !
তোমার দুহাতে সমস্ত নির্মল আজ শুধু সর্বনাশের
অপেক্ষায় ,
তোমার কলমে এ কোন বিষ ঝর্নার শব্দ চরণ !
এমন ভাঙা ভাঙা কাঁচের ভেতর তোমার প্রতিচ্ছবি দেখতে আমার বড় ভয় হয় ।
তুমি তো নও বিষাদ পুরুষ ! তবে তোমার সম্পর্কে কেন এমন মরণ রোগের বাস ?
আমি রাত ভোর গুমরে উঠি তোমার কবিতার ক্ষতদের যখন খুব কাছ থেকে অবরণহীন করি ,,
ক্রমশ নদী ,কাঁকর , আর ঝুরঝুরে যন্ত্রনা নিজেকে আড়াল করছ , একটা ধাতব অক্ষরেখার ওপাশে আমাকে রেখেছ অদৃশ্য অপেক্ষায় ,,
অথচ তুমি জান এত গভীর অন্ধকার আমি কোনকালেই লিখে উঠতে পারিনি , তাই তোমার 
আটত্রিশ বসন্ত কেবল রুক্ষতা দেখেছে ।
আমি তো কোন জমিন ভাগ চাইনি  ...তবু কেন ওরা তোমাকে আমার কষ্ঠ থেকে আমার দীনতা থেকে আমার নিদেন শব্দ মঞ্জরী থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে বলতে পারো ?
কেন দমকা স্রোতে ওরা তোমাকে হওয়ার কাছে দত্তক দিচ্ছে বারবার বলতে পারো কবি ?
অথচ পৃথিবী জানে তোমাকে ছুঁয়ে যাওয়া সব হওয়া এসে থামে আমার দক্ষিণে ,উত্তরে ,দশ দিশায় ...আমার আঙুলের সন্তাপে,,,
আমি উষশী নই কোন কালেই ....তবুও তোমার শব্দরা যেদিন যেদিন  তোমায় ভাঙচুর করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয় , আমি জেগে থাকি সেই সমস্ত রাত জুড়ে ....জেগে থাকি প্রথম আলোর সোহাগ খুলে ,
আমার সমস্ত দহন কালের উদ্দেশ্যে একমাত্র প্রার্থনা  খাঁটি সোনা হয়ে উঠুক তোমার একটা সম্পূর্ণ জীবন ,

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

থেকে যাওয়া

যাবতীয় শব্দ বিন্যাসে থেকে যাও 
যত গভীরে ক্ষত পৌঁছায় ততই বাদামী
রঙের দিন ঢলে পড়ে ।
সন্ধ্যে নামার আগে চোখের নীলাঞ্জনায় 
লাশ পড়া ছাইয়ের কাজল লেপে  আছির 
সংকেতে জেগে থাকে কিছু কিছু পিছুটান ,
যেভাবে শব্দরা কবিতায় বাস করে ,
যেভাবে গন্ধ বাতাস খোঁজে ,
যেভাবে যে কোন মৃত  সভ্যতায় থাকে জীবনের
ফসিল .....সেভাবে ঠিক সেভাবে কেউ কেউ 
সম্পর্ক শব্দে বাস করে নিঃশব্দে ,,
যেমন একটা দীর্ঘতম অন্ধকারের বুকে জোনাক
আঁকে আলোর রেখা।

নদী

যে শরীরে ভাটিয়ালি স্রোত থাকে তাকে তুমি 
বুঝবে না ,
শূন্যতার বিষাদে সমস্ত ধ্বনি বিরাম নেয় যেন
শব্দহীন শতাব্দীর মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসা এ সদা জাগ্রত মহাকাল ।
সে নিজেকে পুনরায় ভাঙে তুমি তার প্রেমিক হয়ে 
তীরে দাঁড়িয়ে ভাঙ্গন দেখ , অথচ ইচ্ছা করলেই 
ধারণ করতে পারো তাকে রক্ষা কবচ হয়ে , তবু ...তবু শামুক খোলস বড় প্রিয় ,
যন্ত্রনা  এখন তার চোখে মনে কমলগান্ধার রুপি ,
তার ঠোঁটের বৃষ্টি সংলাপ তুমি বোঝোনি ....
তাই শব্দহীন কেটে যায় তার সমস্ত আত্মপীড়া ।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

প্রেম

সমস্ত সমর্পণ শেষ করে সে দাঁড়িয়েছে মাথা নিচু করে ,অথচ তার প্রেমিকা চেয়েছিল ভালোবাসার বুকে গরাদ অটোক হয়ে থাকতে ,
রোদ্দুর ছিল ছিল মেঘ মোল্লার কিংবা শীত বসন্ত 
অথচ তার প্রেমিকা ধীরে ধীরে অন্ধকার জড়িয়ে ক্রমশ নামছিল কোনো এক পাতাল পুরীর উদ্দেশ্যে ,
মাথা নত করে থাকা প্রেমিক কেবল প্রেম কে পুজো করে গেছিল আশ্রয় দিতে শিখল না 
একদিন তার প্রেম নির্বাক হয়ে আকাশের গায়ে কান পাতলো ,বাতাসের গন্ধ নিল প্রেমের সমস্ত জঠর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তার জন্য রেখে গেল আলোর আয়না , গোপনে হওয়াকে বলে গেল।সে যদি কোন দিন মুখ তুলে চায় একবার দেখার জন্য বলো আমাকে ভালোবাসার জন্য তার আমাকে প্রয়োজন সেদিনও নেই , 
সমস্ত সমর্পণ সেরে তার উত্তরণ শুধু তারই রয়ে গেল ।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

সুবর্ণা (৯৫)

প্রতিদ্বন্দ্বী  হতে চাইনি  কোনো  চারুবাক্যের 
কিংবা দড় কথা গুছিয়ে বলার খেলায়,, 
স্বীকার  করি অনেক কথাই সযত্নে  সঞ্চিত রাখি 
তুমি চুরমার হওয়ার ভয়ে।  
কথপোকথনের মুহুর্তে  বেসুরো  কথা অথবা দীর্ঘ  
নিরবতা রাখি যাতে তোমার ভাল থাকার সাম্রাজ্যর
ব্যাঘাত না ঘটে। 
ইদানীং  তোমার নালিশ সকাল সন্ধ্যা  আমাকে ঘিরে বেহাগ সুরে বেজে চলে..... হয়তো আমি আগের মত তোমার ভেতর স্রোতম্বীনি নই  হয়তো  
নীল পদ্মের জ্যয়গায় এখন  রঙ  বেরঙের  গুঞ্জরন,  এসব বুঝে না পারা ব্যার্থতা গুলো কালি 
অন্ধকারে  নিঃশ্চুপ থাকে  প্রায়শ।  
তুমি স্পষ্টত উচ্চারণ  করেছ অনেক না বলা কথা, 
আসা যাওয়ার  পথে কুড়িয়ে নেওয়া কিছুটা সময়ে 
সামিল করেছো আমার জন্য বঞ্চনা, 
এমন করে হয়তো  আরও  কিছু দিন  তারপর  এক সকালে পাখিরা ডাকবে না আর , সমস্ত নালিশ  থমকে গিয়ে বলবে এবার ফুরিয়ে গেছে 
যাবতীয়  কর্মকাণ্ড,  সেদিন পথ বদলে নিও শব্দ মহলের কোন বুকে,  খুঁজে  নিও নিজেকে গুঁজে  রাখার ছই। 
আমি সেদিনও  অপেক্ষা করতে করতে জ্বলবো  তোমার  হাতে শেষ  আহুতির কাঠটার জন্যে 
জানবো না তুমি কতটা সাবধানি হবে, জানব না 
সেদিনও তোমার  সময় তোমাকে আমার জন্যে শেষ  সময়টুকু দেবে কিনা,  হয়তো তোমার আমার দিকে আসার সব পথ চিরকালই  নিষেধের  প্রস্তাবনা  দিয়ে  দাঁড়াবে। হয়তো তুমি সেদিনও  বাধ্য হবে সমাজের নিয়মিত সম্মেলনে  সামিল হতে,  তবু বলব যে ভাবে ভাল থাকো সেভাবেই নিজেকে রেখো আমার জন্য বাধ্য হয়ো না সে আমার অপেক্ষারা  যত আর্ত হোক না কেন। 

.........সুবর্ণা  প্রিয় শেষ  কথোপকথন, 

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

সুবর্ণা (৯৪)

তোমাকে ছুঁতে পারিনি সুবর্ণা,  তোমার আগুন 
রঙা দেহ থেকে সুখ নিয়েছি বারংবার, নিভৃত 
খুঁজেছি বারংবার  তবু তোমায় স্পর্শ করতে 
পারলাম কই, 
আমাকে যেদিন প্রথম তুমি স্পর্শ শেখাতে খুলে ছিলে একের পর এক আবরন দেখেছিলে আসুখ 
বর্ন আমার শরীরে কিনারাহীন নদীর ভাঙন, 
তোমার চোখে ছিল বিস্ময় তীব্রতম আমি ছিলাম নিশ্বাসের খুব কাছে কাছে.... তবু আজ অবধি তোমাকে ছুঁতে পারলাম কই। 
বিশ্বাসের হাতের ওপর হাতের বন্ধনী  শিথিল যেন
ঝরে যাওয়া শীত....... 
হৃদয়ের কথা জানি না  তবে বড় উদাসীন লাগে এই মেলা,  মনে হয় তছ নছ হয়ে যাক শান্ত সমুদ্র, 
আকাশের মেঘ ভেঙে গুড়ো গুড়ো হয়ে অঝোরে নামুক তারপর আদ্যোপান্ত পৃথিবীর যন্ত্রনাগুলো ধুয়ে মুছে যাক,  তোমাকে ছুঁতে না পারার যন্ত্রনা 
এক পৃথিবী উপচে উঠেছে,  তোমার উপস্থিতিতে তুমি না থাকা তীব্র যন্ত্রনা,  সুবর্ণা ধরে থাকলেই যে
ছোঁয়া যায় না সে কথা আমার থেকে ভালো কে জানে, 
তোমাকে ছুঁতে পারিনি  পরস্পর হয়েছি দীর্ঘ পথ তবু দেখ এক পৃথিবী আলাদা হয়ে আছি। 
.........সুবর্ণা প্রিয় দীর্ঘশ্বাস                             
        

অপারগতা

কতবার যে আমি ভালোবাসা স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে সে   কথা  একমাত্র আমি ও ঈশ্বর জানি ,,
দুচার কথা ভালোবাসার উচ্চারণ করতে গিয়েও
কতবার যে আমি শুধু মাত্র  নিঃশব্দ জুড়ে জুড়ে বুনেছি একাকীত্বর জাল 
ফিরে এসেছি  ভালোবাসার মানুষটির খুব কাছ থেকে  সে কথা  আমি ও  ঈশ্বর জানি  ,
প্রেমিক হাতের মৃদু কড়ানাড়ার  শব্দে 
দরোজা খোলার  জন্যে  চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম 
আমার ইন্দ্রিয়  সে যে আসে নি তা নয় আমিই দরজা খুলতে সাহসী হতে পারিনি ,

আনন্দ উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো 
ভালোবাসার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে কল্পনা করেছি, সে-কথা আমি ও ঈশ্বর জানি 
 
এখন আমার  চুলে  চল্লিশোর্ধ রং ,উচ্ছ এখন রক্ত প্রবাহ , রাতে গায়ে জ্বর আসে  
নিয়মিত ,,
 ঈশ্বর  বোধহয় এখন জানেন- এ  জীবন 
একদিন ভালোবাসা হীন  মৃত্যু লিখে যাবে ,
তারপর অনেকদিন পর একদিন আমার 
এপিটাফে র পাশে  পথ চলতে কোন প্রেমিক প্রেমিকা দু দন্ড দাঁড়িয়ে বলবে 
সে  জন্মেছিল  অপ্রেমের  জন্য। শুধু অপ্রেমের জন্য।

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

উপহার

আমার ক্ষিদে এখন কমে গেছে ,
আমার নিতান্ত প্রয়োজন গুলো সামান্য 
থেকে সামন্যতর হয়ে যাপনের একটা 
কোনায় লেগে আছে মাত্র ,
লজ্জা ঢাকার নামে যে সব পোশাক ছিল
সে সব এখন জীর্ণ থেকে জীর্নতর ,
মাথার ওপরে ছাউনি গেল ঝড়ে বদলে ফেলেছে
ঠিকানা ,
আমি গরিব থেকে দরিদ্র   এবং তারপর হয়েছি 
নিঃস্ব,,
তারপর একদিন বঞ্চনা আমাকে দুহাত বাড়িয়ে 
আলিঙ্গন করেছিল ,  বাকি ছিল সর্বহারাত্বের 
তকমাটুকুর  সেটাও পূরণ করেছে সে একদিন 
আর অবশেষে একটা দিগন্ত ছোঁয়া সরলরেখা 
উপহারে পেয়েছি ।
হে ঈশ্বর তোমার সমস্ত উৎসাহ, উদ্দীপনায় ,ইচ্ছায় , চিরকাল তাল মিলিয়ে এসেছি , হ্যাঁ তাতে ক্লিষ্ট
হয়েছি  ....ধুঁকতে ধুঁকতে পার হয়েছি তোমার পথের  সমান্তরালে যে পথ।  , 
হয়েছে কঙ্কালসার আমার সমস্ত বেঁচে থাকা  ,,বেড়েছে তোমারও মগজের চৌকসতার জেল্লা   .....প্রগাঢ় হয়েছে ঈশ্বরত্ত্বের মহিমা ,,
তবুও তুমি আমার সম - অন্তরালে থেকে গেছো ।

শীত

আজকাল আমার খুব শীত করে মনে হয়
আমার ঘরের মেঝেতে বরফ পরে আছে ,
আমার উঠোন জুড়ে বইছে বরফ নদী ,
ঠোঁট দুটো তুষার দহে  ফ্যাকাসে হয়ে গেছে 
যেন বহুকালের বরফ ঢাকা  কোন মৃত ,
অনেক দিন কোন আগুন জ্বলে না  এ ঘরে ,,,
সূর্য ছিল একটা সবার যেমন থাকে ,ছিল চারপাশে
সবুজ গাছগাছালি ,গ্রীষ্মের দুপুর ছিল ,বিশু পাগলের গনগনে গান ছিল ,  ছিল উষ্ণ রাত ।
এখন আমি জলবায়ুহীন , গাছের পাতাদের বাতাসের সাথে সখ্যতা ফেলেছে ঘুচিয়ে , এখন কেবল বরফ ঘেরা রাত্রি বহুকাল ।
আজকাল আমার খুব শীত করে  আর জ্বর আসে 
মনে হয় তুষার ঢেকে ফেলেছে আমার ঘরের সমস্ত দেওয়ালে মেঝেতে পড়ে আছে সীমান্ত হীন নিথর বরফ , রক্তের প্রবাহ গতিহীন ক্রমশই  , এত শীত এত বরফ একসাথে আগে কখনো দেখিনি ......
........আমায় কেউ দুঠোঁট রোদ্দুর দিতে পারো ?
কেউ কি পারবে আমার শীতল চিঠিখানা আগুনের ঠিকানায় পৌঁছে দিতে ?

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

সেই পাখিটি

সেই পাখিটি তাকে  ডেকে ডানার জখম
দেখিয়েছিল , সে মলম লাগাতে 
গিয়ে বলল  কীভাবে তার এমন সংসার পোড়া ছ্যাঁকা লাগল ,,
কীভাবে পায়ের মধ্যে ফুটো করে ঢুকে গেল
প্রথম থেকে শেষ বন্ধনীর  সমস্ত শেকল, 
পাখিটা তাকে দেখালো ঠোঁট দিয়ে  
খাঁচার তার  কাটতে গিয়ে ঠোঁটের জখম,
দেখালো তার সমস্ত রঙের ক্ষত , সে 
  বাইরে থেকে  নিজের  ওম দিয়েছিল
 খাঁচার দরজা খুলে তাকে “বাঁচবিযদি আয়’,
বলে বার করে এনে  রেখেছিল বুকের
মত আর একটা খাঁচায়
সেখানে পাখিটা বন্দি আজ
সে কয়েক জন্ম ,পাখিটা ভুলে গেছে আকাশ
দেখতে ,চোখ তার আর রঙ চেনে না , মন আর
দোষারোপ করতে করতে বৃষ্টিতে ভেজে না ,
 সন্ধে হয়ে যায় সকাল হয়ে যায় 
পাখিটার অনন্ত ঘুমের ভেতর ।

হয়তো আর দেখা হবে না

অনেকদিন দেখা হয় না মুখোমুখি
অনেক দিন কেবল নিয়ম মেনে নিয়মিত 
আকাশে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে তোমার কথা 
ভাবতে ভাবতে  মাঝ দুপুরে আরো একলা হওয়া ,
হয়তো এমন একদিন নিজেকে রুখতে না পেরে 
তোমার দিকে ছুটে গিয়ে শুধুমাত্র
 দেখা হবে চোখে চোখে ,
দুজনেই দুজনকে বলবো,
‘কত্ত দিন  দেখা হয় নি’ 
অচিমকা স্টিমারের  বাঁশি সময়এর
রিল গুটিয়ে নিয়ে ফিরে যাবে প্রথাগত 
দূরত্বে ।
এইভাবে যাবে দিনের পর দিন
বছরের  পর   বছর পর হবে ভীষন নিয়ম মেনে ,
আমি ফিরে যাব বারংবার তোমার ঠিকানার বাইরে থেকে ।

তারপর একদিন হয়ত জানা যাবে
বা হয়ত জানা যাবে না,
যে তোমার সঙ্গে আমার
অথবা আমার সঙ্গে তোমার
আর দেখা হবে না।
হয়তো বা সাংকেতিক কোন হাওয়ায় থাকবে
মন কেমন ,  হয়তো বা অহেতুক  ঝির ঝির 
বৃষ্টি শহর জুড়ে , আর তুমি লিখে ফেলবে মন খারাপের এক গুচ্ছ অক্ষর পুঞ্জ দিয়ে তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা গুলো ।

শেষ বাজি

আমার শেষ বাজিটায় সর্বস্ব গচ্ছিত রাখলাম, 
মুখোমুখি রক্তাক্ত হৃদয়,  জ্বলন্ত চেতনা কাঠ, 
সামনে পেছনে সুখ দুঃখের  তিরিশোর্ধ চাপা ব্যার্থতা নিয়ে রাখলাম শেষ বাজিটায়, 
দুরবিনের কাঁচ ভাঙা টুকরোর লেগে সমস্ত ফেলে আসা পায়ের চিহ্ন,  বন্ধুকের নলের মুখে আমার শেষ সারির নিশ্বাসের ওঠা নামা বুক,  
........টালমাটাল খাওয়া রক্ত বহতা ধমনী,  শেষ বাজির গ্যালপে খিমচে রাখা আমার একান্ত শৈশব,  যৌবন। 
আজ অবধি প্রতিটা বাজির ভরাডুবির সময় বয়ে যাওয়া গঙ্গার বুকে নিজের শবে  পেট্রল ঢালা আগুন  দেখা আছে....   তাই ডাইনে বাঁয়ে সামাল রাখতে রাখতে মাথা তুলে দেখা হয়নি সূর্যভোর, 

বরাবর আমার আস্তিনে লুকোনো ধারালো অস্ত্র 
ওঁৎ পেতে থেকেছে,  আজ শেষ বার শেষ ঘোড়ার চাল যার ওপর আমার নিঃসৃত সমস্ত বাজি রেখেছি।                         
    

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

জরুরী

সাদা খই ঢেকে যায় আজকাল বেঁচে থাকার অভিনয়ে ,  ভাবছি পালটে ফেলা কতটা কঠিন ,
ঠিক ততটা যতটা প্রিয় সম্পর্কের শব্ কাঁধে বয়ে বেড়ানো ,  ঠিক ততটা যতটা রোজ রোজ মিথ্যের সাথে সহবাসে দেহ বিলানো , ঠিক ততটা যতটা অযাচিত জন্মর মুখ দেখে প্রতি সকালে নিজেকে চরম প্রতারক হিসেবে সহ্য করা ।
বহুদিন আগে মরে যাওয়া দৃশ্য গুলোর বুকে যে বীজ বপন হয়েছিল ...... আমাদের ভেতর এখন
মহীরুহ আর মরে যাওয়া দৃশ্য গুলো শাখা প্রশাখা মেলে যেন এক একটা প্রেতাত্মা হয়ে গিলছে রোজ রোজ ,।
ভাবছি পালটে ফেলা কতটা জরুরী যতটা ফুরোনো প্রেমের খড়কুটো ঝেড়ে  চলো বদলাই  বলে এগিয়ে যাওয়া , ততটা জরুরী যতটা সহবাসে একটিও মিথ্যে কে প্রবেশ করতে না দেওয়া , ঠিক ততটাই জরুরী   যতোটা  নিজের এপিটাফে যেমন প্রতিটা সত্যি পরিচয় লেখা ।

আপনাদের পরিচয়

যে মেয়েকে জ্যান্ত রাখা মুশকিল ছিল তাকে পুড়িয়ে দিলে কার কি ক্ষতি ...কি হে প্রতিবাদী মশাই আপনি কি এই খবর টা পেয়ে এক বেলা ভাত মুখে তুলতে পারেননি আপনার কি নিজের কন্যা সন্তান এর মুখটা ভেসে উঠেছিল একবারের জন্যও , 
জানি এসব আপনার কিছুই হয়নি  ,আরে মশাই আপনি তো সেই  মানুষটা  যে ধর্ষক এর সারিতেই
প্রথম থেকে দাঁড়িয়ে... কেবল মানতে চান না ,
মানতে না চেয়ে পুরুষ অঙ্গের বদলে কলমে ধার দিয়ে খস খস করে লিখে ফেলেন প্রতিবাদী কলাম  আর তাতে নপুংসক সরকার বলে অজুহাত দেখানোর আঙ্গুল সংখ্যা বাড়ে  দুচারটে,
আসলে আপনিও জানেন এসবে অদ্যপ্রান্ত সমাজ বদলাবে না বিন্দুমাত্র , আপনারা মিটিং করবেন মিছিল করবেন  ধর্ষিতা কে নিয়ে প্রতিবাদী  ধিক্কার কবিতা পাঠ হবে যত্রতত্র  .......তাতে কাঁচকলা ,
বরং এই আপনাদের মত শো কল ভালো মানুষের ছায়ার  আড়ালে বান্ডিল বান্ডিল পৌরুষ ফলানো থাবা গুলো গুঁজে রাখা যত্ন করে ।
এসব প্রতিবাদী  খবরের শিরোনাম  লেখা -জোখা সব কেবল তরুণী কিংবা ধর্ষিতা বালিকা, প্রৌঢ়া, এক কথায়  নারী মাংস ঢিমে আঁচে পুড়িয়ে স্বাদ আস্বাদন করা ছাড়া কিছুই নয় ।
তাই শুনে রাখুন হে প্রতিবাদী মশাই   আপনাদের ওই প্রতিবাদী কবিতা ,খবর , মিটিং ,মিছিলে  আমার তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই ,মাথাব্যথা নেই যেকোনো রকম প্রতিবাদী সৃষ্টি ও পাঠে ,
কারণ আমি কবি নই ,পাঠক নই ,শ্রোতা নই ,দর্শক নই , আমি সে   যে আপনাদের এই সমাজের সিস্টেম এর কাছে রোজ রোজ ধর্ষিত হই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে  , আপনাদের যুযু যুযু কোনো প্রতিবাদ আমাকে ধর্ষিত হতে বাঁচাতে পারেনি  আর আগামীতে সে সাহস আপনারা দেখবেন না ,
আসলে রুখে দাঁড়াতে গেলে স্খলিত করতে হয় এই বেশ ভালো আছির দেওয়াল , কিংবা আপনার মনে হতেই পারে আমার কি একার দায় ? তাই আমির পরিচয় কন্যা, স্ত্রী, বান্ধবী, বোন, মা , কাকিমা , বৌদি  না হয়ে কেবল ধর্ষিতা বা নারী শরীর , আর আপনারা মশাই সব্বাই  আমার উলটো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা .......।

পায়ের শব্দ অচেনা

যুবকটি গভীর ঘুমের মধ্যে বেঁচে থাকে তার স্বপ্নে
এক দল সাদা ঘোড়া কেশর ফুলিয়ে দৌড়ে পর হয় জীবন , ঘোড়ার পায়ের ছাপ অজস্র যোজন শব্দ রহস্য ওড়নার মত জমাচ্ছে কুয়াশা ......... যুবকটি
ঘুমের গভীরে সংসার সাজাচ্ছে আনমনে ।
আমি যুবক টির ঘুম সন্তপর্নে  আগলে রাজকাহিনীর স্বপ্ন গুলো স্পর্শ করতে চেয়েছি বহুবার ,  কি কিছুতেই সে তার আদুরে বেড়ালগুলোকে এক মুহূর্ত হাতছাড়া করতে পারেনি , বিছানার পাশে পড়ে থাকা সাদা কোজাগরী কখন যেন পক্ষ বদল করে ফেলে ।
চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসে এই কলকাতার মন মানি বৃষ্টির ঝাঁটে শুধু নয়  ,তাকে যে বারংবার ঈশানি মেঘেদের থেকে দূরে নিয়ে যেতে চেয়েছি  ,
যুবকটি  গভীর ঘুমে কেবল  দিস্তা দিস্তা মন খারাপ লিখে গেছে .........সামান্য কিছু হিসেব বদলাতে ভয় তার  ,
শুধু সে চিনলো না চোখ  ,সে চেনে না আঁচলে উড়তে থাকা সব কটি জলের দাগ বৃষ্টি ফোঁটা ছিল না ..........।