বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

#সই (৫)

 দুজন একই সমান্তরালে না হাঁটলে 
আদর্শ হতেই পারে না  সম্পর্ক ...
দোষারোপে সময় বিতে যায় 
আর সম্পর্ক জমে আবর্জনাখানায় ....

#সই

কান্না

ফকিরের কান্নায় মিশে থাকা হাসির মতো 
এই জীবন...
নদীর গা বেয়ে নেমে আসে সারল্য  নাম ছিলো না সে সম্পর্কের , আবার যদি কখনো দেখা হয় মুখোমুখি  আমাদের অধ্যায় কি মনে পড়বে ?

মনে রাখতেই তো চাই জীবনের ভিতর আলাদিনের চিরাগ , 
মৃত্যুর ভেতর  তো কেবলই মিলিয়ে যাওয়া ......।

এখন ডানার কথা নিজেরই
গোপনে  অস্তিনে লিখে রাখি ,
কেবল  একটা জোনাকি জানে 
নিজেকে পোড়ালে 
আলো হয়ে ওঠে এমন অনেক জনপদ....
যেখানে  ভালোবাসা ছাড়াও কিছু ফুল ফোটে আর দৃশ্যের বাইরে নিজের অস্তিত বিলিয়ে দিতে পারে ।

নিজেকে শামুকে লুকিয়ে জানাতে চাই যে চোখে লেগে থাকা ছবির মায়ায়  প্রহরী ছিলো সজাগ ।
তুমি রং মিলান্তে শব্দ সাজাও আমি একতারার1 ছিলায় জীবন ঝরে পড়তে দেখি ,।


বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

#সই (৪)

মন যদি একটু হিসেবী হতে পারতো  আগাছাকে ভালোবেসে যত্ন করতো না ....
#সই

সময়ের ফিকির

আমারও কিছু চলে যাবার  দায় ছিলো তাই চলে যেতে হলো ।
সেদিন তুই আটকাতে পরিসনি ....ভেবেছিলাম 
রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সটান খপ্পড়ে মেরে বলবি কোত্থাও যাবি না ....আমি ভাবতে ভাবতে মাইল ফলকে তোর আভিধানিক বিবর্তন দেখতে চাইনি 
যা চেয়েছিলাম তা বোঝাতে পারিনি , 
আসলে আমি অযোগ্য  সেটা প্রমান করতে তোর দেদার কিছু ঘাম ঝরাতে হয়নি ...জানতিস কোথায় ছুরিটা নীরবে পুঁতে দিতে হবে। ,

সব মিথ্যে হয়ে যায়,  নিমেষে সব টুকু সফর, নিমেষে  কেমন বিফলে যায়  ,
প্রতি তিরিশ দিনে  দেড়শো কিলোমিটার ....মাইল ফলকে প্রচন্ড শীত ,গনগনে গ্রীষ্ম , অবিরত শ্রাবণ ,জানিয়ে দিত সফর সহজ নয়  ,,
তবুও তোর ও যেদিন যেদিন তোর মন আচানক বেসামাল হত আমি দ্রুত ছুটে যেতে চাইতাম ওই ঝাঁকড়া  চুল মাথাটায়  স্পর্শ রাখতে ,, 
ফিরতি পথে  জুতোর  ফিতে বাঁধতে বাঁধতে কাছে রেখে আসতাম কিছু সামান্য অংগীকার ....।

গল্পের বোধহয় এমনই হয়  ....নিজের মত বাঁক নেয় পথ  বদলে যায় পথের পথিকের গন্তব্য ,
যে দাঁড়িয়ে থাকে সে গাছ  হয়ে নির্বাক হতে শিখে ফেলে  অসহজে  ,,  ।

জীবনে বড় সুন্দর  কাব্যময় তবু ....এত আশ্চর্য অধ্যায়, এত জন্ম ,এত মৃত্যু , এত অন্ধকারে চোখ গেঁথে দিয়ে আলো খুঁজে নেওয়া ......
আবারও জন্ম হোক এমন আশ্চর্য জন্মের ।


মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

বৃষ্টিরঞ্জন তোমার অপেক্ষায়

বৃষ্টিরঞ্জন তুমি রাতের গভীরে নগর ছুঁয়ে দুঃখ বিলিয়ে যাও ,,

যারা তোমায় বুঝতে চায়নি কখনো তারা টেরও পায় না মাটি আঁকড়ে তোমার এমন সব রাতের দীর্ঘ কান্নার শব্দ কেমন সর্ষের বীজের মত ছড়িয়ে যায় এই নাগরিক জমিতে, ,

রাতভর অজস্র যন্ত্রনায় ও বুকের রক্ত শহরের নিয়নবাতির রোশনাইকে ঝাপসা করে জানিয়ে যাও আকাশ মানে নিতে পারা নয়  শুধুমাত্র ....,

কখনো কখনো আকাশও চায়  শহরের গলি কিংবা মোড়ে তার কথা শোনার জন্য কেউ অপেক্ষা করুক  অপেক্ষা করুক মাটিতে কান পেতে আসন্ন গোপন পথিকের,

আসলে বৃষ্টিরঞ্জন তুমিই হয়তো   বেঁচে থাকার অর্থ
বুঝিয়ে দাও নাগরিক  ব্যস্ত অভিজানিক মানুষ নামে প্রাণীগুলো কে ....আজও এই পৃথিবী বিনিময় প্রথা ছাড়া চলতে পারেনা ।

 আছে কিছু পাগল এখনো অযাচিত যারা আমার মত  নিঃশব্দে আঁচড়ে পড়া কান্নায় রাতভর  ভিজতে চেয়েছে  প্রতিটা পরতে পরতে ,, 

আমার মত কিছু মানুষ অন্ধকারে বিলায়ে দেওয়া যন্ত্রনা নখে খুঁটে রাখতে চায় আজও, আসলে যত্ন করা স্বভাব এই পাগলগুলোর ,

তাই এমন অপেক্ষমান গভীর রাতে এ ব্যস্ত নগরে 
ফাঁকা গঙ্গার কিনার , যেকোনো রাস্তায় কিংবা বাইপাসে ক্ষনিকের অতিথিশালায়  আমি কিংবা আমারই মত অনেকে নীরবে তোমার আছড়ে পড়া যন্ত্রনায় ভিজবে বলে শব্দ বুক পেতে নেবে বলে অপেক্ষায় থাকে ......আর জানো বৃষ্টিরঞ্জন এ অপেক্ষায় কোনো ক্লান্তি নেই, অপ্রাপ্তি নেই নেই, কোনো অভিযোগ ,,, ।

  কোনো গভীর নিশুতি রাতে তোমার কান্না শুনবো বলে আমি হাজার নাগরিক সভ্যতার সাক্ষী হয়ে অপেক্ষায় রাজি বৃষ্টিরঞ্জন ।

#সই(৩)

সময় না হয় আরো পরিণত হোক তারপর না হয় দেখা হবে এই পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে ....💐
#সই

#সই(২)

ভালোবেসে যাকেই ছুঁয়েছি সেই চলে গেছে দীর্ঘ পরবাসে ... ।
কবরের মাটি কে কাগজ ভেবে লিখে রেখে গেছে 
বাজারী দু এক কথার কথা .......
বাজার বুঝি ভগবানের দোকান নাকি জিনের পিদিম!!

#সই

স্বভাব


 নগ্নতা দেখলেই কেমন দক্ষ প্রেমিক কিংবা কবি হয়ে  উঠতে চাও কেনো ! 
তীক্ষ্ণ লাঙলে আবাদী করতে ভালোবাসো জমির পর জমি  ,
ওই বেহায়া আঙুল  গোপনে  স্বচ্ছতার চিতায় জ্বেলে দেয়  আগুন,  নাভিতে কিংবা যোনিতে লুকোনো তর্জমা ছুঁয়ে ফেলো খুব সহজেই ।

প্রেমিকা  সৃষ্টির ইতিহাসে সংখ্যা  বাড়ুক আরো ,

আর  এখন আমি দুহাতে অন্ধকার নিংড়ে আবিষ্কার করতে পারি কাঙ্ক্ষিত আলোর স্পর্শ।,



সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

#সই

"জীবনকে প্রতিঘাত করতে না পারলে জীবন শুষে নেয় সবকিছু"

#সই

চলে যাওয়া

তোমার চলে যাওয়া কিছুতেই কেনো
 শেষ হচ্ছে না.......শুভঙ্কর ! 
বহুদিন হলো তোমার চলে যাওয়া রাস্তার দিকে তাকিয়ে রয়েছি  অবাক হয়ে,
তারপর  নিরন্তর শ্রাবন পোয়াতি হলো ...ঝরে পড়লো কুমারী মা হওয়ার কান্না তবু তোমার চলে যাওয়া রয়ে গেলো .....,,
ক্রমশ ঋতু বদল হচ্ছে দারুন শীত হাওয়া দেদার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাতা ঝরানোর মরশুমেরা নানান রঙিন টুপি মোজায় নিজেদের ঢেকে  ... ।
....এক দীর্ঘ দিন কাল মাস কাটছে   ,বছর ঘুরছে  তবু তোমার চলে যাওয়া ফুরিয়ে যাচ্ছে না কিছুতেই আমার দৃষ্টিপথ থেকে,,,

তুমি তো আমার জন্মের কেউ ছিলে না কখনো.. তবু তোমার চলে যাওয়ায়  .. আত্মঘাতী কোজাগরী  গঙ্গায় আছড়ে পড়ছে  !

স্বর্গ দুয়ারে দাঁড়িয়ে তোমার চলে যাওয়া দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে উঠেছি ......তবুও   ও যাওয়া  এ চোখের উপত্যকা থেকে ফুরোয় না কোনোমতেই। ,

তোমার চলে যাওয়া এই শহরকে যেন দেশ ভাগের মত বিদীর্ণ করেছে .....তোমার গন্তব্যের উৎসব নগর  এই শহর,  তবু বহু দূর সে সাজানো তুরুপের দেশ ,

তোমার চলে যাওয়া ফুরোয় না বলেই  এই কলমের অজস্র অগুনিত কবিতারা দারুন বন্যা কাতর এখনো ।

ফসিলের ভূমিকায় 'দ'

যেদিন থেকে তুই  "আমাকে কেনো ভালোবেসেছি"
প্রশ্ন করতে শুরু করলি ,সেদিন থেকে তোর ভেতর 
আমার অস্তিত্বের খন্ডে খন্ডে সৎকার হতে শুরু করেছিলো ,
সময় কে আমার মৃত্যু ফরমান লিখতে বলেছিস পিঠ পিছে ,
........যেমন অনেক কিছু আমি বুঝি না তেমনি সেদিন বুঝিনি তুই বারংবার কেন বলছিস আমাকে  "তোকে ঠিক কেন ভালোবাসি জানি না "
বুঝিনি কথার পেছনে আরেক বার্তা লুকিয়ে মঞ্চস্ত
হচ্ছে তোমার ভেতর আমি ।

 আজও আমি যখন বোবা ট্যানেলে উত্তর হাতড়ে বেড়াই  তোরই প্রশ্নের ,    তুই  ছেড়ে যাওয়ার পরেও আমার ভেতর প্রশ্ন আসেনি একটা মানুষ বহুগামী যখন জানি ,"
তবু কেনো তাকে ভালোবাসি ?
নাহ আমার ভেতর প্ৰশ্ন জন্ম নেয় না,,   শুধু না থাকার হাজারো বাহানার পাহাড়ে  আমি থেকে যাওয়ায় বিশ্বাসী বলেই ....মাটি কেটে নতুন রাস্তা তৈরি করে ফেলি ।
আসলে জরুরি আর ইচ্ছা দুটো এক নয় ,
আমার ইচ্ছায় তুই বাস করিস  প্রথম দিন থেকে ,
আমি তোর সময়ের জরুরী সময় কাটানো আসবাব প্রথম দিন থেকেই .....এ যেনো শুধুই ধারাপাতের পাতায় পা রেখে  ক্রমশ  বেড়ে যাওয়া সংখ্যা ।
তবু মৃত বুকে  আমি ফসিলের ভূমিকায়  'দ'।

রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১

প্রিয় মন্দবাসা

প্রিয় মন্দবাসা, 
তুমি যে প্রতিমা বিসর্জ্জন দিয়ে লাল চোখে বাড়ি ফিরে..
বিছানায়  গা এলিয়ে আবার নতুন দূর্গা গড়ছো...;
 তুমি কি জানো কাল নেপথ্যে যে 'মানুষটা বাঁচতে চাইতো ..
আজ নেপথ্যে তার 'মৃত্যু ' হয়েছে...!

তোমাকে যতোই স্পর্শ করছি রোজ.
, ততোবারই আমি মরে যাচ্ছি..;

 একবারও বুঝলে না তুমি...
"মেঘ বালিকারা মরে গেলে 
ঘাসের শিশিরে ফুল হয়ে যায়..।

নির্লিপ্ততার  অগ্নুৎপাতে ইশ্বরের 
চোখে চোখ রেখে বেঁচে থাকা এক ভয়ংকর সুন্দর"...! সে কথা তুমিই কি গভীরে বুঝেছ ।

অবন্তিকার চিরকুট (৬৮)


কি অসাধারণ তুমি তলিয়ে যাও.. এই চলতে ফিরতে থাকা শব-টার ভেতর প্রতিনিয়ত......,,


 তবু আমাদের একসাথে  আর গঙ্গার বুকে  পূর্ণিমার আলোয় হাত ধরা হয় না...;।

হওয়ার  স্রোতে শ্রাবণী সন্ধ্যা নামলে..
 অকারণ নিজের হৃদয়ে তোমার স্পন্দন শুনতে পাই ভীষন রকমের স্পষ্ট.....,,

আমাদের আর এখন বাঁচার মতো করে জীবনের 
উৎযাপন করা হয়ে ওঠে না..!

আমাদের নিজস্ব 'কাল' নিয়ে গেছে ক্ষুদার্ত অন্ধকার বাজারী  মঞ্চস্থ-প্রেম..
কি অদ্ভুত,  আমাদের বিবর্ণ 'আজ'-এ পড়ে আছে  একমাত্র তোমার বর্ণিল বনিক মনস্ক  অন্ধকার অশরীর ছায়া ..;।

#সই
#"অবন্তিকার চিরকুট" উপন্যাসের ৬৮অধ্যায় 

কথা ছিলো

কথা ছিলো    শুদ্ধ স্পর্শর শেষ চিন্হ তুমিই থাকবে,.
কথাটা  হওয়ায় ভেসে গেছে অনেকদিন..
তুমি রোজ শব্দ অঞ্জলি দিতে ইশ্বরী খোঁজ করে পা রাঙিয়ে ফেলো রক্ত ঘামে ..
আমি আজও  ইশ্বর খুঁজি মনের সেদিনের সেই ইচ্ছেটা...!

সময় হলে এসো কোন একদিন...
সেদিন না-হয় মিলিয়ে দেখবো 
আমাদের ইচ্ছায় লক্ষ্মণ রেখা টেনে দিয়ে
প্রিয় অর্ধ-নারীশ্বরমূর্তিটির ঠোঁটে ঠিক কতোটা হাসি বজায় আছে ...;

বাহ্যিক আয়োজনে   দু'হাতে সময় হয়তো সোনার মোড়কে মান পত্র সাজিয়ে তুলছে ,

 অথচ এই সময়  একদিন উত্তর চেয়ে পত্র পাঠাবে নিশ্চিত...!

সে সব উত্তরের সাদা পাতা কিনবো বলে 
আজও নিঃশ্বাস সঞ্চয় করে রাখি রক্ত-মাংসের বৈয়ামে.!

হারিয়ে যাওয়া ঘাসফড়িং...  সে দিন কেবল আবছা স্মৃতিতে চোখের কোনে নোনা জোয়ার আনা বৈ কিছু করার থাকবে কি ?

খ্যামটা

দূর্গের ভেতরে-বাইরে দুটো মানুষ..
একটা স্বরুপ আরেকটা ফানুস.....;;

আমার নজর নেহাৎ ছোটলোক শ্রেণির..
তা না হলে  .....এই আধুনিক কেতাদস্তুর তিলোত্তমায় ...ভদ্রলোকের রুপে কেও চরিত্র খোঁজে..??

#সই



শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১

যন্ত্রনা লিখতে সেদিন

যন্ত্রণা লিখতে সেদিন থেকে বুক পুড়েছে ,জ্বলছে
ভীষণ রকম আগুন শিখা ,
যদি কখনো দেখা হয় ....সেটা যেন চিতা কাঠের এপারে , আর যদি তা নাই হয় ,আমি ভুলে যেতে চাই একসাথে স্বর্গীয় সমস্ত অনুভূতি কখনো ছুঁয়ে ছিলো আমাদের ,,,

দেখা যদি হয় এপারে কোনো সবুজ নবান্নের দিনে দেখা  হোক নয়তো চেনা ধুকপুকে লেগে থাকা সব অঘ্রান নাহয় মিথ্যে হোক ।

যে কথা দিয়েছে হৃদয়ে হৃদয়ে তুমি মিথ্যে প্রমান করবে সে ঈশ্বর তুমি নও ,

আগামী বলে কিছু যদি থাকে তা অতীত এই কাঠামোয় বর্তমানের মাটি দিয়ে সৃষ্টি ...বাকি তোমার শব্দ চাতুরী ওরা যে যা বোঝে বুঝুক ,,,

আমি সে দিনও মঞ্চের প্রথম সারির চেয়ারে দর্শক ছিলাম যে দিন তুমি আমি বিহীন আমার সৎকারের সংকল্পে উজ্জাপনে প্রদীপ শিখা জ্বালিয়ে ছিলে ...
পরেও তোমার শেষ নোহবতে আমি সামিল থাকবো ,... ,

ওই হাতের সমস্ত রেখায় আজও স্পষ্ট অবাধ আনাগোনা , তাই তুমি দূরত্ব মাপতেই পারো সময়ের ফিতে দিয়ে , ,,
আমি ও হাতের রেখা গুম করেছি তোমার সাথে সঙ্গমে মেতে ,.... তুমি সেদিন আগুন দেখছিলে আমি সেসময়ে বিনিময় সেরে নিচ্ছিলাম ,
যাও যত দূর যাবে যাও ...................


......আমিও দেখতে চাই এই পৃথিবী গোল কিনা ! 

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

বড়দিন

জন্ম ছুঁয়ে আকাশের ঠিকানায় তারারা থামে একটা স্টেশনে ...
তুমি আলোর উৎস বলেই  জেরুজালেম এর প্রতিটা ঘরে  জোৎস্না রাখা আছে এই অন্ধকার সভ্যতাতেও,
আমার বাড়ির একটা জানলায় তোমার  জেরুজালেম   আর অন্য জানলায় উত্তরের শৈত্য প্রবাহ , 
প্রতিটা শীতের রাতে মাদার মেরী তোমার কোলে জন্ম নিক এমন মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেম ....যেখানে আকাশের  উজ্জ্বলতম সব তারারা গন্তব্য শেষ করতে পারে ...
আর তুমি আলোর মুকুট পরে হাসতে থাকো 
সঙ্কট-হরণ হয়ে ।

🎄মেরী ক্রিসমাস🎄

"অবন্তিকার চিরকুট" (৫২)

ও খোলা পিঠের আঘ্রান খুঁটে রাখা আছে এই আঙুলের নখে ..... সময়ের দূরত্ব যতই বাড়ে 
প্রতিশব্দের  মত সমস্ত অতীত গন্ধ ফিরে আসে  আলোক গতিতে ...., 
তীব্র অন্ধকারেও  ঠিক চিনে  নেওয়া যায় যা ...তার নাম স্পর্শ ,
সারারাত অতল শূন্যতায় তোমার কবি জন্ম স্বার্থক হয় আমার এই ধুলোজন্ম ছিলো বলেই ....,
তুমি যতবার সমুদ্র স্নানে যাবে সাঁতার হয়ে ভেসে উঠবে এই  একনিষ্ঠ প্রথম ও শেষ   তোমার প্রতি সমর্পিত   নিতান্ত প্রেম টুকু।



#সই
#"অবিন্তিকার চিরকুট" উপন্যাস থেকে ৫২ অধ্যায় 

"অবিন্তিকার চিরকুট" (৪৯)

যে দিন তোমার বুকে অবন্তিকার বিরহ ঝড় তোলে, ,
তুমি শব্দমহলার  পর্দা সরিয়ে হাতড়ে বেড়াও 
কাকে ?
সব কাব্যে তোমার শব্দ যথেষ্ট ভাবতেই পারো ...
তা বলে ঈশ্বর কি বিদ্রুপের হাসি হাসবে না ...!
তোমার উপন্যাসের সংখ্যায় একটাও ভালোবাসা ছিলো না .... ধারাপাত পছন্দ করো বলেই অবন্তিকাকে   ইতিহাস নাম দিতে পারলে .....।


#সই 
#'অবন্তিকার চিরকুট"  উপন্যাস থেকে ৪৯ অধ্যায়।
(প্রথম সংকলন শেষ দ্বিতীয় সংকলন শুধুমাত্র অন লাইন পাওয়া যাচ্ছে ।)

"অবন্তিকার চিরকুট"

এ শুধুমাত্র বিষ্ণুপদ নয়... এই দেহ তোমায়  রোজ বিলিয়ে দিতে দিতে বাইশ বছর ঋতু পরিবর্তন হলো ,
তোমার পৌরুষের কাছে চিরকাল হেরে যেতেই চেয়েছিলাম ...
অথচ তুমি ভেবে নিলে  এই পৃথিবীতে সবাই কেবল জিতে যেতেই আসে  ..... তোমার সামনে থেকেও "আউট অফ ফোকাস"   রেখে দিতে পারো ...এ তোমার অহংকার ছাড়া কিই বা হতে পারে !

#সই
#অবন্তিকার চিরকুট" উপন্যাস থেকে অধ্যায় (২২)
অন লাইন বুক করতে পারেন আমার এই উপন্যাসটি , 

সুতো


কোন সূতোয় সেলাই করেছি জন্ম , কে জানে
পট পট করে, ছিঁড়ে যায়, সম্পর্ক .....

তুমি তো ছিলে শর্তের বাইরে  এক গোপন নকশিকাঁথায়, তোমার সাথে বুনন সুতোটাও
শেষমেশ পচা বেরোলো.....

#সই 
#সুতো



"রকেট"

যে তোমাকে বলে হাসতে থাক... দেখ আসে পাশে মানুষ গুলো কেমন  রকেট হয়ে ঘোরে  ....
তাকে শিখতে হবে নাটক নয় প্রতিটা সম্পর্ক
এই গ্রহে সবাই যান্ত্রিক নয় ....এখনো হৃদয় আছে ...আর সে হৃদয়ে ...থাক  অপাত্রে দান মানায় না ,
শুধু বলবো কারো জন্যে নিজেকে বদলে ফেলো না ...আসলে যেনো কেউ কারো নয় ...
........আমি জানি সমস্ত উজাড় করে নিঃস্ব হয়ে আখেরে কোনো লাভ নেই ।

#সই 
#রকেট

"দূরত্ব"

 দূরত্বের মাঝে এক বোবা টানেল
 কেই বা পাঠক কেই বা কবি  কেই বা ভাবনায় কবিতার জন্মদাতা !  
 তফাৎ খুঁজতে শামুকের খোলসে নিজেকে গুঁজে দিতে হয় ...
কিসের  লুকোচুরি কিসের দ্বন্দ্ব  ,অজস্র কবিতার চিৎকারে  শুধু মাত্র একটা গোপন অন্ধকার ,
আমি কখোনো মুখ ফেরাইনি শুধুমাত্র তুমি পৌছাবো বলেও কখনও কথা রাখতে শিখলে না ।

#সই
#দূরত্ব
.

অক্ষর

অনেক অক্ষর এই দেহে একটা আলবেলা বুক ঘেঁষে শুয়ে থাকে ........অনেক ধুঁয়ে ফেলতে চাওয়া
চাওয়া আঙুলের স্পর্শ ওই ঝাঁকড়া চুলে ঠিকানা দিয়ে গেছে ....…
তুমি হত্যা করে পুঁতে ফেলেছো এই ছাড়ফুঁট দেহটাকে ......
রাখতে চাওনি তোমার অহিংকারী রাজদরবারে 
কোনো কাঙলহৃদয়ের চিহ্ন .....
 বার বার বলেছিলে তুমি ভীষণ স্বার্থপর .....আমিই কখনো কথাটা বিশ্বাস করিনি ....।
মানুষ বদলায় সময়ের নিরিখে ....আমি তোমার মত মানুষ হয়ে উঠতে পারলাম কই  পৃথিবীর সাজানো  মঞ্চে !!
ষোলআনা দিয়েও তাই নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই ....
একটা আলবেলা বুকের কাছে এই দেহের অনেক অক্ষর শুয়ে থাকে তাই ...

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১

"দ"

সমস্ত ভাবনা গুলো "দ" এর মত মাথা পা গুঁজে 
ওই বুকের কাছে ঘুমিয়ে পড়তে  চায়, 
তুমি শব্দের সিড়িঁ গড়তে  গড়তে  আকাশ ফুড়ে  নিজস্ব নকশায় হাততালি জমাচ্ছ, 
আমি মাটি আকঁড়ে শুধু তোমারি... তোমারি  নাম গাই। 
........#সই

সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

লগ্নজিতা

তোর ধমনীর স্রোতে কি  প্রচণ্ড  বয়ে চলেছি তুই কি টের পাস ?
যতটা লুকিয়ে ফেলিস আমার থেকে ততটাই প্রকাশ দিনের আলোর মত ,
সুনীলের নীরা আকাশে তারার মত জ্বলুক বা না জ্বলুক ,তোর নির্ঘুম রাতের নিকোটিনে  অনবরত পুড়ে যাওয়া  ঠোঁটের না বলতে পারা যন্ত্রনার মত আমি তোর বুকে নিশ্চিত জ্বলে যাবো .....।

কুড়ি বছর এক জীবনে সামান্য বনবাস ,
তোর পাঞ্জাবিতে আমার যত্নের সুতো পাহাড়ী বাড়িটার ঠিকনা লিখে রেখেছে .....জেনে রাখ.. সব চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয় ....।
সে কথা তোর ভেতর তথাগত তোর আগেই আমায় জানান দিয়েছিল  ,
তাই চ্যালেঞ্জ করেও মাঝখানের পথটা দিশেহারা হতেই হলো এই সামন্যার কাছে ।
আমি যে শুধু সংখ্যা নই ...একদিন তুই জনারণ্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলবি হে অমলকান্তি.....।

ঋণী

ঋণী 
*******



....... নহবতে সানাইয়ে একটা মৃত্যুর পাশে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকবো অন্যদের মতো

আকাশের পাখিটা নিখোঁজ হয়ে গেছে 
কে যেন তার প্রিয় আকাশ থেকে তাকে ব্রাত্য করে 
ডানায় মারণ কোপ দিয়ে গেছে আকস্মিক ,
 তবু শুভ শেষাংশে তার   জন্য একলা থাকলো একটা গোটা মন.....আজকের মতোই .....
.
সত্যি কি তফাৎ থাকে  ..... থাকা  বা না থাকায় 
শুধু সময়ের  কলমে বিদায় লেখা হয় 
অতিরিক্তের   উপচে পড়ার মতো।


#সই 
#ঋণী
.


এক‌টা আগুনের ফুলকী

এক‌টা আগুনের ফুলকী




অ‌নেকটা দূর হে‌ঁটে চ‌লে গে‌ছি  বোবা টানেলের ভেতর,
অ‌নেকটা পথ পিছ‌নে এ‌সে‌ছি ফে‌লে ।
অ‌নেক রাত একলা পু‌ড়ে‌ছি  শুদ্ধ হবার জন্য
বু‌কের ‌ভিতর স্মৃ‌তির সোলতে উস্কে সময়ের অন্ধকার চিড়েছি ।

অ‌নেক শব্দের গোলাপ গে‌ছে ঝ‌রে  তবু বসন্ত আসে ভুল না করেই ।
কত আঘ্রান রুমালে রেখেও নতুন বুনন বুনতে শেখা.....



এ বুক জু‌ড়ে অন্ধকা‌রের বাসায় আলোর মত জ্বলছি কেবল... ডানায় দুঃখ রাখা আমার তবু সূর্যকে লজ্জা পেতে হয় বারবার, 

 আশার দোকান খু‌লে  আকাশ দে‌খি মৃত মাছের চো‌খে  এখনো সন্ধ্যে নামা বাকি.... আজ থেকে রঙিন স্বপ্ন না হয় ওদেরই হোক ।

 তৃষার কাঠ  পুড়ে যাক   বুকে
অসুখ বাড়ুক   লাগামহীন ঘোড়ার খুড়ে...,
অ‌নেকটা পথ এখনও র‌য়ে‌ছে বা‌কি-
 ক‌ুয়াশা মাখা , উস্কো খুস্কো শী‌তের দিন  !
তুমি আর কত দিন ছেড়া চাদরে শীত সফর কাটবে দেখতে চাই !
আমি ঐ জন্মের অজস্র মৃত্যুর সাক্ষী হতে চাই ।

জিত

১)
জীবন এর একাকিত্ব আর কঠিন যন্ত্রণায়  শিখেয়েছে  এটা সুখের গ্রহ 
অনেকটা সম্রাট নিরোর মতো.. আমিও এখন সম্রাজ্ঞী সম্পূর্না,
প্রিয় সব পুড়ছে আর আমি ক্রমশ নির্লিপ্ত হয়ে প্রকৃতিতে মিশতে  মিশতে  উপন্যাস থেকে দূরে ,  যতটা দূরে ভাবনা যায় তার থেকেও আমার মাইল ফলক সামিয়ানা ফুঁড়ে পার হচ্ছে রাস্তা ,
২)
এসো, রঙওঠা আমাদের  দেহটার কথাই ভাবি...
শুধু রঙহীন নয়... শরীর থেকে একদিন পরস্পরের মাটি খসিয়ে ফেলেছিলাম
শুধু মাটি নয়... খড়ের পাঁজর 
চিত্র-পাণ্ডুলিপির দিন সব কিছু।
... 
বৃত্তাকার পেটিকায় থেমে যাওয়া হওয়া
নড়বড়ে কাঠামোর  নীচে ইঁদুর গর্ত
ক্ষুধার্ত ঢেউগন্ধ. রেখে শপথ করে ছিলাম "অমর হব আমরা "
.. দেহকেও কখনো কখনো  জাগিয়ে  তুলেছিল এ জীবনের যত গল্প... যত  বিদ্রুপ।
___________আমরা কেউ কারো  মতো ক'রে ছুঁয়ে থাকলাম কি না জানি না ।
_______________ডাকে না ফেলা চিঠির অক্ষরে
খানিকটা তোমার আত্মা আর খানিকটা আমার গন্ধ যত্ন করে রাখা হলো .....।
৩)
অনেক সময় ভালোলাগার চোখের জল গড়িয়ে নামতে চাইলো ,
কলকাতা তার না হওয়া সংসার,...  প্রতিদিন দুটো করে লাশ  .... তার দরজায় খই ছড়ানো পয়তাল্লিশ বছরের ভালোবাসা বিলীন হতে হতে ...
কেউ কেউ কথা রাখতে পারেন ,তবু অভিশাপ ফিরিয়ে নিতে হলো ,
আলোর দিকে হাঁটতে হাঁটতে শব্দেরা সাড়ে ছয় কোটি মাইল পথ হেঁটে গল্প পার করলো ,
কেউ যেন বলে গেলো জীবন তুমি  মৃত্যু ছুঁয়ে জিতে যাও বারে বারে ।


শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১

জুড়ে আছি আমরা

 "ক্রমশ তোমায় কবিতার খাতার  পাতা জুড়ে নিচ্ছি রোজ রোজ ,


দু

রে

দু মুঠো একলা সময়ে   ইচ্ছে হলেই  ছুঁয়ে দিচ্ছি তোমার সমস্ত ক্যানভাস,,
  আরো কিছুক্ষণ যোগাযোগ এমন সেতু বন্ধনী জুড়ে দিচ্ছে ওই ঊষর ধূসর রাজার মন আঙুলে ভুল করে ডাকে না তোমায়
কিংবা আমায় ,
পর বাসে থেকেও একই একলা আকাশে ডানা মিলছে পাখিটা
দু
রে
দু
রে 

তবু এই শহরে
হেঁটে যায় স্নিগ্ধ ভালোবাসার গল্পের দিকেই ।

মাদুলীর মোম

চামড়ার তলায়  গুঁজে রাখতে  চাইছি সমস্ত পৌরাণিক প্রচ্ছদ। 
চর্যাপদে  আমাদের  শূন্যতা ভরা শূন্যে ছুঁড়ে দেওয়ার কথোপকথন।
                        প্রেমিক এর নাম-মন্ত্র গভীরে বাজে, 
মাদুলির মোম গলে গলে বিশ্বাস ওড়ে  উত্তরে হাওয়ায়র শহরের প্রতিটা গলি হয়ে বাঁচতে চাওয়া খোলা জানলায় জানলায় ,
আমার কথা কাকে বলি এখন? 
তোমার কথাই বা কাকে বলি? 
তোমার গায়ে ইট রঙা স্ট্রাইপ পাঞ্জাবি  আমার দিকে তোমার গোপন করে রাখা আঁতাত ছিড়ে  ছুটে আসে মন্দবাসা বুঝে নিতে ।


 অথচ দেখো আমরা যে যার নিজের ঘুঘুর ডাকে 
সাড়া দিতে দিতে পাগল হয়ে যাচ্ছি... তুমি নতুন উপন্যাসের মলাটে ব্যস্ত , আমি তোমার ছবিতে মুখ লুকিয়ে সুখ খুঁজে নিই ।

মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

সময়ের উপন্যাস( ১০)

সমস্ত রকম মৃত্যু ছুঁয়ে কথা দিয়েছি ,
ভালোই যদি না থাকা হয় তাহলে  আরো একটা সম্পর্কের বোঝা কাঁধে না রাখাই ভালো , ,,

প্রজাপতি আলোয় ঘুম ভেঙে সকাল ছুঁয়ে গেলো মেয়েটার কপাল , 
  সে ভুলে গেছিলো অতীত রাতের  কালসিটে কথোপকথন ......,,, 
যে ছেলেটা মাংস লিখতো , যোনি লিখতো , স্তন লিখতো অক্ষরের  ফুলকি ছুড়ে দিতো সমাজের ঘন রাতে , তার বুকের বিছানায় মেয়েটা এই মাত্র মরণ ঘুম থেকে জেগে উঠলো , 
মেয়েটার চোখ বেয়ে নরম স্বপ্ন ছেলেটার চুয়াল্লিশ এর বুকে বীজ পুঁতে দিচ্ছে , 
ছেলেটা মেয়েটার যোনি দুহাতে চেপে চিৎকার করছে আমার ....আমার .... এই জমি এই বুক ভরা আকাশ সব আমার ।
মেয়েটা অবাক হয়ে বাঁচছিলো ছেলেটার চিৎকারে আকুতিতে , 
 এই শহরেই ছেলেটার বুকের জমিতে মেয়েটা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে , 
....বুকের ভেতর স্বপ্নেরা বৃদ্ধ হচ্ছে , , পথ হাঁটছে একই শহরের একই  গলি রাস্তায় ,
সকাল ন টা দশ ছেলেটা বাইকে  করে অফিস উদ্দেশ্য পারি দেয় ,  মেয়েটা ভিড়ে হারিয়ে ফেলে নিজেকে আড়াল করে , 
মৃত্যু আসে অনেকগুলো খণ্ডে ......জীবন তবু অপেক্ষার আর এক নাম ,
ছেলেটা মাংস লিখতো , যোনি লিখতো , স্তন লিখতো অক্ষরের  ফুলকি ছুড়ে দিতো সমাজের ঘন রাতে ,
তার বুকের জমিতে মেয়েটা বস্তু সাপ হয়ে থেকে গেছে  এক পৃথিবী আলো উৎস হয়ে ।
""সব চলে যাওয়া মনে প্রস্থান নয় "'

#সময়ের উপন্যাস 
#সই

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১

......

আর কত টুকরো করতে চাইছো ?
আমি লোভী হয়ে আছি নিজেকে তোমার দ্বারা
ধূলিসাৎ হয়ে যেতে দেখার জন্যে ।
ভালোবাসা যদি এর নাম তবে তবে মৃত্যুর নাম বদলে দিও এই পৃথিবীর ইতিহাসে ।

ওফেলিয়ার

 একটা শরীর গঙ্গার স্রোতে... ঢেউ খুঁজতে জলের সাথে  কথা বলে। 
কালো-সবুজ... কখনও নীলচে ধোঁয়ার স্বেদে স্নান করে সে... হাতের রেখায় মৃত্যুদাগ ফিরিয়ে দেয় শহরটার আলবেলা জ্যোৎস্নায়...।
 সদ্য কবরে শোয়ানো দেহটিকে কবিতা শোনায়.তার পুরোনো প্রেমিক.. শুধু ওকে শোনাবে বলেই যেন লিখেছে। 
মাথার ক্রুশকাঠ... রাতের অন্ধকারে সরিয়ে পুঁতে রাখে... দূরেনদীর চরে...।
 হয়ত ওফেলিয়ার নিঃশব্দ আত্মহত্যার মতো এই মৃত্যু... হয়ত ডোভার-চূড়ায় অন্ধ গ্লস্টারের মতো সেও জীবনকে ছোটো করে ফেলবে ভেবেছিল...,,
... জীবনের চেয়ে নিজেকে বেশি ভালোবেসেছিল সে... মৃত্যুর আগে লুক্রেশিয়ুসের তার রচনাবলিগুলি শেষ করেছিল তাই খুব তাড়াতাড়ি করে। 
জন ডান-এর 'বিয়াথানাটস' (Biathanatos) ছিল ওর এক হাতে... অন্য হাতে দড়ি... আর কফিনে শুয়ে বলেছিল সেই গোপন কথা... ' তাঁর মৃত্যুর আগে  লিখে রাখা কয়েক মুঠো মাটি ছুঁয়ে থাকা  অক্ষর...,,  ছায়া ও পায়ের শব্দের অসমাপ্ত কিছু চুমু.. চোরকাঁটা ও নাভির চতুষ্কোণ ধরে  চাবুক মেরে স্মৃতি উস্কে দেয় ।
... নানান মাপের পাথুরে অস্ত্রসস্ত্র. যেনো সময় এর শ্রোতেও ক্ষয়ে যেতে শিখলো না ।
দেহটা থেকে হৃৎপিণ্ড বার করে প্রিয় পুরুষ বাজারে দাঁড়িপাল্লায় রাখতে চেয়ে ব্যর্থ হলো যত্নে রাখা মেয়েটার গোপন দৃষ্টির কাছে ,,,
প্রিয়তোষ বলে ছিলো একবার ক্ষমা করে দিতে পারলে ও চোখে নোনা স্রোত আসতে দেবে না ....প্রতিশ্রুতি ,.....মেঘ জানে না সে কি আবার নতুন করে প্রিয়তোষ কে শিশুর মত আগলে রাখতে পারবে কিনা ,, জন্মান্তরের জন্যে কেউ কথা দেয় না ....।
এ কবিতা কেবল ছেড়া ছেড়া মেঘের উদ্দেশ্যে যারা এক শহরে ভিন্ন ধারায় ভিন্ন মন কে ভিজিয়ে দেয় কারণে অকারণে ।

সময়ের প্রোটোকল

এ শহরে অনেক মানুষ বৃষ্টি কিনতে আসে , 
সময়ের তানসেন   বৃষ্টি ধরার আর জায়গা তার শব্দে মিশিয়ে বাজারী দর বাড়িয়ে নেয় ,

নোনতা ব্যস্ততায় - যারা ঘাসে মন ছড়িয়ে  বাদাম ভাজা বেঁচে থাকা কিনতে চায় তারা সকলে,


বাড়ি ফিরে, ড্রয়িংরুমে সাজানো প্রচ্ছদে  কাব্য ময় রঙের মেলা , কিছুটা সময় দিও এবার হারিয়ে যেতে হবে সবটুকু গল্প থেকে ।
মেঘ না থাকলে তারারা নিজেদের কথা বলবে না কখোনো।

 আমরা অনেকেই নিঃসাড়ে একা  বসে  ভিজছি নিজের মত  আনমনে,
শিশিরের উত্তাপ কি শুকোতে পারবে তোমার তোমার ঝাঁকড়া চুলে রেখে যাওয়া ভিজে মন ?

হুইসেল দিয়ে এখনো ডাকে   শেষ ট্রেন,
পেছন থেকে প্রেম তবু ডাকে না , হাত ধ'রে ডেকো একবার শেষের কবিতায় ।

আমি এখন ক্যানসারের তৃতীয় অধ্যায়ে হাঁটছি ,
তুমি এখন মধ্য গগনে উজ্জাপন রোদ্দুর সেখছো ।
 তবু সময়ের তানসেন বলেই তোমায় শেষবার ডেকে গেলাম ....মুঠোফোনে হারিয়ে যাওয়া নম্বর 
জন্ম ভুলে গিয়ে মৃত্যুর তারিখে রিংটোন গেঁথে নেবে ,

তুমি চাইলেও পুরোনো এলবামে জীবন্ত আঙুলে তোমার পিঠে লিখে ফেলা নাম অনুভব করবে কি করে বলো ?

শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

আরো একটা সংখ্যা

ও মহলায় চোখ রাখার বাকি জানলা গুলো এই মাত্র শীল করে দিলাম , 
মৃত্যুর পর আর কেউ ফিরে আসে না ...আমাকে এই সত্যিটা মানতেই হবে , 
সমস্ত জমি তে ছড়িয়ে দিতে হবে বিষ বৃক্ষের বীজ 
যাতে মাটি র সাথে মিশে যাওয়ার পরে ওই কবরের কাছে দু দন্ড দাঁড়িয়ে কাঁদার সুযোগ কেউ যেনো না পায় ।
কে নেক... আর কে ফরেব.. কোনো বিচারে যাবার ইচ্ছা নেই ।
অমিত দার দোকানে খুব সস্তায় ইঁদুর মারার বিষ পাওয়া যায় ....গত শনি বার  কে যেনো বলছিল ওই বিষের সাথে কলকে ফলের বীজ বড্ড ভালো গুপ্ত হত্যার জন্যে , 
এই শনিবার দুপুরে নিজের গুপ্ত হত্যায় সামিল হতে হলো .....ফেরা উচিৎ নয় যেখানে ভালোবাসার আড়ালে মিথ্যে প্রহসন , 
আর ফিরতে বলবে এমন কেউ অপেক্ষায় কোনো বাতাস হীন পৃথিবী হয় না  বুঝে নিতে হয় ।

এক দিন গলা ধাক্কা দিয়ে হৃদয় ছাড়া করার পর ...কি বা চাওয়া যায় , ... আসলে পেয়েছি অনেক , তুলনায় দিতে পারিনি তেমন কিছু,  তাই কম পরে যাওয়া ওজন দাঁড়িতে কুমকুম রঙের বিকেলে ইচ্ছার ভোরের ফুল ....তাই মেমসাহেব জানতো এ উপহার ব্যার্থ যাবে না ।
ভুলে যেও সময় ...ভুলে যেও ক্যানভাসে স্বর্গীয় দৃশ্যে রাখা সমস্ত ভু -কম্পনের  ব্যর্থ চুরমার নষ্ট প্রহর ।
এমন অনেক দুঃস্বপ্নর মত আবছা ...সময়ের রক্ত ক্ষরণ , চাই না কোথাও কোনো চিহ্ন হয়ে স্মৃতির পাতায় থাকতে , বিসর্জিত হয়েছি অযত্নে ....
হারিয়ে যাবো সময়ের প্রবাহে এই গঙ্গার স্রোতে ।  তোমার জমিতে অজস্র মৃত্যু তুমিও  মনে রাখতে পারবে  না যেনো  কলকাতা ...আমি সে মৃত্যু আর একটা সংখ্যা মাত্র ।

শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১

রং করা ছায়া

শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের ভেতর বার বার না চাইতেও আত্মীয়তা গড়ে ওঠে... ।
রঙ করা ছায়া যেন দেওয়াল লিখনের মত চোখের সামনে পথ চলতে ভেসে আসে ...।।
 কফিনের দেওয়াল ও ছাদ ফুঁড়ে পোড়া অক্ষরের
আর অস্তিত্ব ছিলো না  ,  ফোঁটা ফোঁটা রক্ত  বুক গড়িয়ে মন কে  ভেদ করার জেহাদ যেন,,
... পাঁজরের হাড়ে অনুভূত দ্বৈত সত্তার একসাথে...একই ঘরে বাস করে।


পোড়া গন্ধ বয়ে আনে একজন.....
অন্যজন... মৃত্যুহীন তিথি ও নক্ষত্র লিখে ফেলে নতুন জন্ম পঞ্জিকায় ।
.. ভাঙা মেঘ ভেজা ডানায় শেষবার শহরকে বুকে আঁকড়ে জড়িয়ে নেয় ,,
____________________খুব কাছে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার  আর গুপ্তহত্যা  গুলো  ভুলতে হবে এবার।

আমার ভিতর কথা ব'লে ওঠে  রামকিঙ্করের বালি মাটির জীবন, , 
 .. অদৃশ্য অক্ষরে লিখে নেয় গীতবিতানের  পাতা থেকে  ছাতিম ফুলের গন্ধ,

_________নদীর ভিতর.. কান্নার দাগ রয়ে গেল...
রবি ঠাকুরের একটা উপন্যাস এখনো তাই অসমাপ্ত রয়ে গেলো ।

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১

সারসের পোশাক

চিঠিরা ঠিকানা বদল  করে ফেলে   চাঁদের আলো নেই ভেবে।
দু একটা  করে ঢেউ জমাই কিনে ফেলা সময়ের সমুদ্রে।
 আমার নিজের আর তেমন কোনো গোপন অন্ধকার নেই ... যার ভেতর উন্মাদ দ্বীপের কয়েকশো ফুট নীচে রাখা গিলোটিনের পাতে...
শেষের খেলার ফলাফল লেখা থাকবে ।
 স্লেজগাড়িটানা কুকুরের লালায়... ইশারাহীন অ্যাসিডের ক্ষয়ক্রিয়ায় কুরে কুরে জন্ম হয় না কোনো সম্পর্ক ।
 খেঁজুরপাতা... ছাল ও ভোঁতা পেরেকের অস্থির স্রোত ভাসিয়ে দিতেই হয় প্রতিটা মৃত্যুর পর। 
নিয়ম ক'রে সেই অন্ধকারকে রোজ প'ড়ে ফেলে 
আমি আজকাল তার পরিভাষা বদলে দিতে শিখে নিয়েছি। 
সূর্যাস্ত কম্পাসের স্নায়ু জুড়ে বরফঝড় এখন এই শহরে বৃষ্টি ভূমিকা বদলে দিয়েছে অনেক দিন হলো... ।
সারসের পোশাক খুলে উড়িয়ে দেওয়া মেঘে পার্থিবতা সঞ্চয় করে পোড়া মোমের শরীরে আর ভালোবাসার ওম খুঁজে পাবে না ...।
তাই গন্তব্য বদলে গেলে মানুষ প্রথমে পথ খুঁজতে 
খুঁজতে নিজের ভেতর প্রবেশ করে অনিয়মিত নিয়মে।

বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

আবার আসবো ফিরে

ডুবে যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে 
আমি হাত বাড়িয়ে  কিছু আঁকড়ে খুঁজি..
 তখন আমার ভেতর কি অদ্ভুত তুই..
আমি আবার  একবার জন্ম নিতে উষ্ণীষ তোতে মুখ গুঁজি
.,,
এখানে সবাই জন্ম লেখে..
কেও কেও অমরত্ব লেখার জন্য নিলাম জমায়।।

আমার হাতের রেখার  পাশে তোর হাতের রেখা  কি দারুণ মিলিয়ে যায় সেই অমরত্বে.. 
আমাদের জন্য সৃষ্টি হয় মুখোমুখি প্রেমের মতো কোনো ঈশ্বর কথা  ।

পাশাপাশি শরীর ঘেঁষে থাকা শ্বেত পাথরের শয়ন..,

মৃত সভ্যতায় এখনো যে খানিকটা বেঁচে থাকার ধুকপুক রাখা ছিলো..... এক অপেক্ষায় অন্য আগন্তুকের বাসর কেমন হবে এ শহর তোর মত আমাকেও শিখিয়ে দিয়েছে ,......
সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে  মাটি কেটে নিজেকেই নতুন করে হেঁটে যাবার পথ করে নিতেই হয় ।

যত্ন

অস্থির অপেক্ষায় উড়ে যাক কিছু অতীত ভাবনার বুনো শৈত্য প্রবাহ ,
তুমি হাতের পরশে মুছে দিলে  শতাব্দীর  পরতে পরতে জমে থাকা কুয়াশা
 ,
কাঁচ বেয়ে নরম রোদ্দুর হয়ে যত্ন ছুঁয়ে নিচ্ছে গোলাপী চিবুক ,

সময় থমকে দাঁড়িয়ে কাব্যময় দৃশ্যে ক্যানভাসে মুঠো মুঠো ভালো লাগা ছড়িয়ে দিচ্ছে বহুদিন পর ।

অন্তহীন পুড়তে থাকা কাঠামোয় সবুজের হাতছানি দিয়ে লোভী করে তুললে আমার এ বেঁচে থাকাকে ।
কাফেরের ঘরে সৌ-গত জল গঙ্গার পবিত্র ধারায় ধুইয়ে দিলো গত কয়েক জন্মের পাপ , 
সবাই যে তোমার মত আমাতে অমরত্ব লিখতে পারেনি , 
ওরা মৃত্যু ছুঁইয়ে দিতেই তোমায় চেনা হলো আমার পূর্ন অংগিকারে ...।

#রাই সংবাদ
#সই

ভালোবাসার জংশন

"জীবন ভালোবাসার জংশন"
           তুমি মৃত্যু হয়ে ছুঁয়ে দিয়েছিলে বলেই
জীবন কে ভালোবেসে জড়িয়ে নিলাম আবারো...
আমার সুখ টা তোমার তীব্র ইচ্ছা হয়েই না হয় ভালোবাসার কবিতা হোক আরো একবার ।
যে প্রবাহ না পাওয়ার কথা মনে করায় তা ভুলতে হবে
যে প্রবাহ প্রাপ্তির গল্প বলে তা শুধু মনে রাখবে এই শহর কলকাতা ,

এখানে সবাই জন্ম লেখে..
কেও কেও অমরত্ব লেখার জন্য নিলাম জমায়।।

আমার হাতের পাশে তার হাত কি দারুণ মিলিয়ে যায়..
কারো কারো  জন্য সৃষ্টি হয় মুখোমুখি প্রেমের মতো
পাশাপাশি শরীর ঘেঁষে থাকা  নীরব শ্বেত পাথরের ঘুম..।
সুইসাইড পয়েন্টে  মুখোশ খুলে গেছিলো বলেই  মন্দবাসার উপন্যাসটার উপসংহারের চৌকাঠ  শেষমেশ পর করতে পেরেছিলাম।

#সৌজন্যের ইতিহাস
#সই

ব্ল্যাকহোল

মাছগুলো বিচ্ছিরি ভাবে মরে যাচ্ছে তুমি নামক আশ্রয়ে প্রহসনে...

অথচ জলের কাঁচ বাক্সের শরীর ঠিকরে 

কি অসহ্য আলো ছড়িয়ে পড়ে তোমার আকাশ ছুঁয়ে ফেলা আড়ম্বরের   ঘরময়...!

তুমি ভাবো এ আলো তোমার অহংকারের কবিতার উৎস ....

 আর তোমার হাতের কি নিপুণ  হত্যা হওয়া কে  এই শহর ভেবে নিলো আত্মহত্যা ,


বলে রাখি তোমায়....


এর পর গান শুনতে যদি মন চায়..

একবার নিজের কথাগুলোতে 

সুর দিয়ে দেখো সময়ের তানসেন..

তোমার অদেয়   কথা রাখতে  সময়কে চিরকাল মিথ্যে প্রমাণিত হতেই হলো,

আর তুমি হলে হিসেব নিকেসের পুরোটাই একটা মস্ত ব্যাকহোল  ।


#বিচ্ছিরি  তারার উপন্যাস

#সই

শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

চালচিত্র

গোলাপি সভ্যতায় লেগে থাকা ভালোবাসা 
শহরের আকাশটাকে আদুরে করে দেয় ,,
হাত বাড়িয়ে মুঠোয় তখন ভাবনায় মেঘ সোহাগী
কোনো নরম পালকের মত নিষ্পাপ ,
তুমি -আমি পথ চলতে চলতে আজ আমরা হয়ে গেছি ....দু ফোঁটা যত্ন তখন বৃষ্টি হয়ে আমাদের মতোই শহরের বিভাজিকা ভিজিয়ে দিয়ে এই মৃত সভ্যতার শহরটাকে স্বর্গ করে দিচ্ছে ।
সব বৃষ্টি মন খারাপের জন্যে ঝরে না ....সব কান্না শোকের কিংবা হারানোরও নয় ,,
জীবনের প্রাপ্তির পূর্ণতায়.. পূর্ন ধারা নামেও কিছু সাংকেতিক বর্ষণ হয় ,,
রং বদলানো দুনিয়াদারী ,বাজারী থেকে কখনো বা আত্মিক হয়ে যায় নাম বিহীন বাঁধন ।
বেশ্যা তখন দুর্গা , বেজন্মা তখন মনুর সন্তান ,
এই কলকাতা তখন শুধুমাত্র ভালবাসা আর উৎসব এর একমাত্র শহর ,,
 তবু কিছু মানুষ বাইরে জানলায় চোখ রাখতে রাখতে ভুলে যাওয়া মুসাফির কামরার আতিথেয়তা নিতে পারে না , স্টেশন আসে নেমে যায় ভাগ্য ভবিতব্যের দিকে ,,
ঈশ্বর সকলকেই একবার ভালো থাকার সুযোগ দেয় ....শুধু চিনে নেওয়া সেই সুযোগ...তোমার  ইচ্ছা হবে  না জরুরী হবে ,,
না চিনতে পারলেই মৃত্যু অবধি ঈশ্বর কে দোষারোপ আর গোলাপি সভ্যতায় কলঙ্ক লেপে 
জীবনকে শুধুমাত্র যাপন হিসেবে দেখা ,,
এ কোন কবিতা নয় এ জীবনের আঙ্গিক পটভূমিযে আঁকা সময়ের চলচিত্র মাত্র ।

কার জন্য

কার জন্য বাঁচো তুমি ,কার জন্য কাঁদো !
কার জন্য হাসছো তুমি ......ভেবেছো কখনো ,
বইছো তুমি গল্প স্রোতে ....বেমতলব নয় তো তার একটাও সৃষ্টি ,,
এমন তো নয় কিছুই তোমার ছিলো না ....তবু বইছো নিজের খাঁচা  ......,,
 কাজ বলে করলে অবহেলা ...পেরিয়ে গেলো সকল বেলা শেষ হলো সব খেলা রইলো পরে খালি খাঁচা।

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১

স্বয়ংভূ

ভাঙনের উৎসবে ডুবে গেছে ক্ষত বিক্ষত সময়ের পেন্ডুলাম ,
এখন ভালোবাসা মানে সামান্য ভিটে মাটি নয় ..
বুকের সমস্ত সাম্রাজ্যটাই নিজস্ব, ,

...নবান্নের রোদেলা উষ্ণতার হাসি অকৃপণ আজকাল এ ঠোঁটে ,
দংশনে গাড় নীল হয়ে থাকা আকাশ বাড়িটার ব্যালকনিতে রামধনুর দোলনায় আমার মত কেউ
উর্বর হয়ে ভাসতে থাকে ..... মুহুর্ত দখলে।
আজকাল ফেলে আসা ক্ষত আর অভিশাপ কে 
ভীষণ রকম ধন্যবাদ দিতে থাকি ....মনে হয় অমন শুদ্ধিকরণ না হলে,  
  বুঝে উঠতে পারতাম না  আলোর উৎস আসলে ........স্বয়ংভূ ।

বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১

আলোর সকালে



দীর্ঘ প্রতীক্ষার চাঁদ ডু‌বে গেছে বহুদিন হলো ,,

 .....নতুন  বন্দ‌রে নোঙর ফেলেছে সময়
পাতা ঝরার দিন সরব হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছে হওয়ায় হাওয়ায়।
 শহর আমার সাথে নতুন সাজে সাজতে চাইছে ,,

...নির্ঘুম রা‌তের জঠর ছিঁড়ে শ‌ীতার্ত কুয়াশার কাফন জ‌ড়ি‌য়ে- যারা আমাকে মৃত প্রমানিত করেছিল
মৃত‌্যুর গভীর খা‌দে তারা সকলে এখন দৃশ্যের বাইরে,......তাদের শেষকৃত  সম্পন্ন হয়েছে ভালোভাবেই।
 সময়ের প্রেমিকের আঙুল চুঁই‌য়ে  উত্তাপ উ‌স্কে দি‌চ্ছে ভেতরের প্রাণবন্ত  কালো মেয়েটাকে,,

নৈঃশ‌ব্দের গঙ্গায়  উপ‌চে প‌ড়ে‌ছে ঢেউ,
যেন আজলা উজাড় ক‌রে ঢে‌লে দি‌চ্ছে কেবল আশির্বাদ  অ‌লৌ‌কিক ঈশ্বরের  ঘর থেকে।

দূ‌রে স‌রে যা‌চ্ছে অন্ধকার, দূ‌রে স‌রে যা‌চ্ছে কাঠামোর যন্ত্রনা ,
নৈঃরা‌শ্যের কাজল প‌রি‌য়ে দিয়েছিল  চো‌খে- একদিন সবাই.....
সবাই কিছু কিছু যত্নখ‌চিত অব‌হেলা, অনাদর  উজাড় করে এই ঘরে রেখে গেছিলো সময়ের নিরিখে..... ,
 পৃথিবীতে স্বপ্নের পা‌খিগু‌লো  শরাবি হতে হতে হারিয়ে ফেলেছিল বেঁচে থাকার আসল  উদ্দেশ্য, ,,

বরফী বাতাস চি‌রে- বহুদূর দুঃ‌খের দেশ থে‌কে উ‌ড়ে আসা বালুচরী হাঁস এই গঙ্গার বুকে নতুন আলোর সকাল দিয়েছে প্রতিটা ঝড়ের রাতের পর।

....আ‌মি দে‌খেছি কেম‌ন করে  
পৌ‌ষ শি‌শির ভেজা ঠোঁ‌টে, করে ফাল্গুন মাস আনতে পারে সময়ের সফর......।

স .....ম ...য়

ওদের প্রেমের শব্দে মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে যায়,,.............
স 
      ম

               য়
এক অনন্য কাব্যে.....
যেখানে অঘ্রানের শিশিরের ওপর সূর্য তার রঙের উষ্মা ছড়িয়ে দিয়ে বলে দেয় জীবন মানে উৎসব,
জীবন মানে প্রাণ খুলে বাঁচা ....,,
যেখানে নির্বাক আলোর আড়ালে লুকিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন কোন আলোকবর্ষ.. বার প্রতিবার ধ্বংসের পরেও,,
.....যেখানে শতাব্দীর কোনো ঋষির অপিশাপ বদলে যায় আশীর্বাদে......,

               ম
                            য়


একটা চাদর..
 রোজ রোদে..রোজ বাতাসে..
কি দারুণ ভয় কাটিয়ে শুকোয়...
.....ক্ষত গুলো ভুলে কোনো এক সকালে বাউলের
পরিচিত পোশাকে সাজিয়ে ফেলে রঙিন কোলাজে,,
চাদর বদলে যায় পরিচয়ে , বদলে যায় দুঃখেরা 
মুক্তির আকাশ পেয়ে অনাবিল আনন্দে ,,

              ম
                              য়
 ....ভালোবাসা অক্ষর চেনে না 
তাই কোনো মৃত্যুতেই সে আমার নীরবতার মানে
বুঝতে পারেনি .......শুধুমাত্র ভালোবেসেছে ।

বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

অসম্বিত

"দুজন দুজনকে স্বাধীনতা দিতে গিয়ে দুজন           দুজনের পাখা কেটে ফেলেছে ওরা"