সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০

এমন কিছু

এমন কিছু ঘটে যাক তোমার আমাকে ছাড়া আর কিচ্ছু যাতে মনে না পড়ে , এমন কিছু যাতনা তুমি বুকের মাঝে পাও যাতে সমাজ সংসার কিছুই আর তোমার আমাকে ভাবতে তোমায় দ্বিধা না জাগায় ,
এমন কিছু ঘটে যাক তুমি কারণ ছাড়াই আমাকে জড়িয়ে ধরার জন্য আছারি পাছারি কর , 
এমন  কিছু ঘটে যাক তোমার আমাকে ভীষন প্রয়োজন পুরো পৃথিবী তে ,
এমন কিছু ঘটে যাক ও মুখের হাসি এই মুখ ভেবেই শুভ্র  হোক ,
এমন কিছু ঘটে যাক তুমি আমাকে ছেড়ে আর কখনো যেতে না পারো ,
এমন কিছু ঘটে যাক তুমি আমার ফিরে চাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকো কয়েক সভ্যতার পথে ,,,

অথচ আমি কাল বুঝেছি  ওচোখের ভাষায় আর এমন কিছু ঘটে যাওয়ার কারণ যে নেই ,
ও চোখে এ মুখের বিস্ময় আর নেই , 
ও স্পর্শ  আকুতিহীন ,
এমন অনেক কিছু ঘটে এখন ও মনে যেখানে 
ব্রাত্য এ হৃদয় ,
.............................................
এমন কিছু ঘটবে  সেদিন সমস্ত দ্বিধা চুরমার 
করে এ শহরে একটা আকুতি ধেয়ে আসবে আমার পানে  ....ঘুমন্ত মুখে তখন তৃপ্তির হাসি ...তার সমস্তটা জুড়ে তুমি কেবল তুমি ।

শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

একলা মন

আজ কাল মনে হয় তোমাকে জড়িয়ে থাকতে 
থাকতে আমি নিঃশব্দে আরো এক হয়ে গেছি ,
এই যে দিনে রাতে প্রতিটা পল  অনুপলে তুমি বয়ে চলেছ আমার স্রোতের সাথে তবুও আমি একলা তির হাতড়ে বেড়াই , 
আমার সকল নিয়ম ভাঙা কেবল তোমার দিকে ছুটে যাওয়ায় .....আজ কাল আমি ভীষণ একলা ,
আমার ভেতর তোমায় আগলে বন্দিনী আমি ,
বাঁচার নামে নিজের সাথে প্রহসন করে চলেছি ,
আসলে রোজ রোজ তোমার থেকে দূরে কোথাও 
নির্বাসিত করছি নিজেকে , 
আমার নালিশ গুলো নিয়ম মেনে দূরত্ব বজায় রাখে , স্পর্শ আজ  সোস্যাল ডিস্টানসিং আড়ালে ,

এই যে আমি আমার সমস্ত প্রবাহে তোমাকে আগলে রাখি .....প্রশ্ন  যে একাকীত্ব থেকে পালিয়ে 
তোমার দিকে নিয়ম এর দেওয়াল ভাঙা ...
আজ বৃত্তের একই জায়গায় নিজেকে পাওয়া ।
আজকাল তুমি চিৎকার করে ভালোবাসা জানাও ,
আর আমি হাতড়ে বেড়াই তোমার স্পর্শ , তোমার আওয়াজ আমায় ছোঁয়া দেয় না , অথচ তুমি কখনো চিৎকার করে আগে আমায় ভালোবাসি বলোনি তবুও আমি তোমায় পেয়েছি তোমার নিঃশ্বাসের খুব কাছে । 
কাল হয়তো বলবে এ আমার অভিমান ....
আজ কাল এসব কথা আমার অভিধান ছেড়ে গেছে ....আসলে আমি এমন একলা আগে কখনো হয়নি ।  তুমি ও সেই তুমি থেকে নিয়মিত এখন 
আগ্রহের তালিকায় হাজার মহলার শব্দ জব্দ আর  নবসমাগম , আমিই কেবল প্রাপ্ত বয়স্ক চিরকাল , 

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০

আলো

যে ভাবে প্রেম কে তুমি স্নেহ দিয়ে আগলে রাখ,
অন্ধকারে আলো মুড়ে ফেলে পূর্ন সোহাগে ,
যেন আমেজি শালের নিচে ভালোবাসা  কেবল
জাদুকর কাগজের রাতে স্বপ্ন লেখে ,

হয়তো এ আলো  অন্যরকম আলো  , যে আলো
প্রেমিকার দুচোখের পথ দিয়ে জীবনের ঘন 
অন্ধকারে ঢুকে পরে ,

জানো  রাজন যারা চেয়েছিল গাছেদের সংসার ......
চেয়েছিল  ভালবাসায় আকাশ থাক অবকাশ থাক 
প্রতিটা প্রেমময় হৃদয়ে  , আজ তাদের আঙুলের 
ফাঁক দিয়ে গলে গলে পড়ছে নিঃশব্দ রাতের সমস্ত রকম মুদ্রা ,   তাদের কেশরিয়া রং ও বীজ গোপনে
তারা ভাসায়  শিতলাক্ষে কুন্তীর মতোই ,

ভয় পাই আমি জড়োসড়ো মাঘের এমন  শর্ত আঁকা চিত্র দেখে , 
রাজন তখনই বিড়ালের আদরের মত আমায় অন্ধকার থেকে মুখে করে তুলে আনে তোমার 
যথার্থ পিতৃ প্রেম ,
আমি দেখতে পাই আমার দু চোখে  মায়া ঘুম 
তুলে রাখছে তোমার মত কেউ , 
ওরা বোঝেনি কখনও,  কারণ ওরা পর্দার আড়াল
থেকে সাবধানী হয়ে পৃথিবীটাকে দেখতে ভালো বসেছে চিরকাল ,
একদিন  রাজন  তুমি আমি জানি পর্দা সরালে 
আলো ঢুকে পরে যে কোনো করুন অন্ধকারে ,
আর তার বিস্ময় রক্তকরবীর আভার মত হৃদয়ে লোভ  জাগায় .....বাঁচার , মেতে ওঠার , নেচে ওঠার  এ আলোকিত প্রেম একটি ঝলমলে সকালের চেয়েও দামি আর চিরন্তন ।

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

সহজিয়া তুমি

সমস্ত শক্তি আমার হাতের মুঠোয় ,আমার 
সাম্রাজ্যে বিধাতা কেবল জয় লিখেছে আজীবন ,...তবু আমি তোমায় ঈর্ষা করি  ,

আমি ছিনিয়ে নিতে পারি নিমিষেই যেকোন পাওয়া কে , তবু তোমার রাঙা আভা ছেঁকে যে প্রেম তাকে 
পাইনে তাই তোমায় ঈর্ষা করি ,
পার্থিব সব কিছুর প্রবাহ জুড়ে আমার স্রোত অবিচল .... অথচ ওই যে মেয়েটির বুকে তার শরীরের সমস্ত ধমনী শিরায় এমন পালে লাগা 
হওয়ায় মত এক মাত্র তুমিই বইতে পারো   তাই যে তোমায় আমি ঈর্ষা করি  ,  তোমায় ঈর্ষা করি ওই 
নরম মাটির বুকে তুমি কোন জোর ছাড়াই জাদুর মত কচি ঘাসে প্রাণ ভরে দাও আনন্দে মেতে ওঠে 
দুলে ওঠে , ,,  আর আমি ....আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে শিকলে বেঁধে একটার পর একটা প্রাণ শুধুই মাত্র 
কাঠামো  করেছি ...তারা হাসতে  ভুলেছে ,ভুলেছে 
আনন্দে দুলে উঠতে ,
আমি রাজরাজেস্বর আমাকে ভয় পায় না এমন কে আছে , তবু তোমার প্রেমে মগ্ন ওই এক রত্তি মেয়েটি আমার চোখে চোখ রেখে বলে যায়,  তার ভালোবাসা কেবল রাঙাতে জানে,  আনন্দে  ফুটিয়ে তোলে  শাখায় শাখায় ফুলেদের,, হাসতে হাসতে ঝরিয়ে দিতে পারে পৃথিবীর বুকে স্নিগ্ধ জোৎস্না , সে আমায় বলে রাজন তুমি কেবলই আশ্চর্য হয়েই রয়ে গেলে ,   তুমি কেবল অন্য কে শৃঙ্খলা বদ্ধ করতে করতে এক গিঁট পরা জালে নিজেকে জড়িয়েছো , 
জানো ....,জানো হে  সামান্য  তোমায় আমি ঈর্ষা করি সে কথা এই চরাচর কে জানাতেও পারি নে ...
আমি যুদ্ধের  ধ্বজা উড়িয়ে পারিনা আমার সমস্ত কিংবা সামান্য শক্তি দিয়ে তোমার সাথে যুদ্ধ করতে ,  কারণ আমি ভয় পাই  , আমি লজ্জায় মিশে যাই ধুলোয় , আমার এই   সামান্য না পারা আমার সমস্ত জয় কে পরাজয়ে ঢেকে দিতে পারে নিমেষে  ,
তাই আজন্ম তোমায় ঈর্ষা  করি , 

আমার সমস্ত  অহংকারের আড়ালে এক নিঃস্ব রিক্ত ক্লান্ত  বেদনার্ত  হৃদয় হাঁটু গেড়ে তোমার কাছে জানতে চায় ...হে সহজিয়া কোনো দিন কি 
বাতাস আনমনে  আমার সমস্ত শৃঙ্খল দুয়ার ভেঙে প্রেম কে আসতে দেবে  ?  আমি কি কখনো ওই মেয়েটির  উপর জোৎস্না হয়ে ঝরে পরতে পারবো ?
একবার একবার এই জীবনের উপান্তে এসেও আমি মুহূর্তের ভগ্নাংশে তোমার মত সহজিয়া হতে উঠতে চাই ........

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

সকাল

শিরদাঁড়ায় ঈশ্বর রেখে দেন সহ্যর কঠিন দন্ড
বুকের খাঁচার বেড়া বাধা হয় হাজার গিঁটের সুতোয়,, 
 অহংকার জড়ো করে   ঈশ্বর  পাহাড় রচনা করে
সে চুড়োয় দাঁড়িয়ে দেখে দুমড়ে মুচড়ে আয়ু টেনে 
বেঁচে আছে নাম মাত্র থেকে যাওয়া ....,

সুখ নামে সোনার খাঁচা টুকরো করে যে পাখি উড়ে ছিল আকাশ খুঁজতে তার ডানায় রক্তাক্ত স্বপ্নরা 
ঘুন পোকার জন্ম দিয়েছে সগৌরবে ,  আকাশ কেবল এবার 
সমাধির জন্য জমি ভেজাতে পারবে  এবার , অথচ পাখিটা জানত আকাশ কখনোই তাকে বুকে নেওয়ার অঙ্গীকার করবে না , তবু  যে স্বপ্ন মন পুরিয়েছিল এক হলুদ বসন্তের দিনে , তাই পাখিটা একটা জন্ম বিলিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি ,,

আমি রোজ ক্লান্ত রাত পেরোনো উচ্ছিষ্ট   সকালে
পাখিটাকে একটু একটু করে মুক্তি খুঁজতে দেখি ,

এবার আমি ও ঈশ্বর   মুখোমুখি হব  সমস্ত 
শক্তি  দিয়ে  , গোপন যুদ্ধের যে উপন্যাস লেখা হবে  সুজন তার নাম দিও "সকাল " 

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

একদিন

একদিন ঠিক আমি ভরা পূর্ণিমায় তোর 
মনের সম্রাজ্ঞী হবো দেখিস ,
ধুলো পড়া নিয়মিত যা কিছু 
সব বদলে দেব মন্দবাসার অভরণে ,
আমাদের গল্পে জোয়ারের ওপর সেদিন কেবল 
জোৎস্না লিখবে  মহা কাব্য
তোতে মগ্ন হতে চেয়েছি এক দিন তাই 
 অঙ্গীকার করলাম........


........তোর আজন্ম অপেক্ষা ছুঁড়ে দেওয়ার 
পথে মুখোমুখি হবে আমার তীব্র মন্দবাসার
প্রেম।

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০

কাল বেলা





মেয়েটার গায়ে কালো দগদগে পোড়া আগুনের দাগ...
 একদিন রাজকুমারীর মৃত্যু  হয় একটিও চিৎকার ছাড়া ,
তবুও প্রাণ ভ্রমরে জন্য..
রাজকুমারের আমৃত্যু রাত্রি সহবাস. নিজের 
মিথ্যে বাহাদুরির সাথে ,  রাজকুমার বলে ......

মুখ পুড়ি রাক্ষসী   
কিসের এতো তোর কষ্ট 

একবার  মুখ গুঁজে দেখতিস..
এক অদ্ভুত সুখের আরণ্যক তোর জন্য রাখা 
অথচ
মেয়েটির স্বর রিপুর চোরা অভিমান ডুবে থাকে আকন্ঠ
রাজকুমারী আর কখনো মিথ্যে বেঁচে থাকার বাহানাকে প্রশয় দেয় নি ।


এক আধ বার

বছরে এরকম এক আধ বার তোমার অনিয়মিত ছুটি থাকে ,
বছরে এক আধ বার বাড়ির বাইরে কোনো অন্য কামরায় অফিস অফিস খেলায় মেতে ওঠ ,
বছরে এক আধ বার স্বাদ বদল হয়ে যায় নিয়ম
ভেঙে ,
বছরে এক আধ বার বিছানা পাল্টে হাতড়ে বেড়ানো সুখ আড়াল করে যাপন ,
বছরে এক আধ বার অফিস শেষে খানিকটা প্রেমিক মুখো হতেই হয় ,
বছরে এক আধ বার একটু আধটু মিথ্যে না হয় 
বলাই হল ,
এমন করে পকেট থেকে আচমকা বেরিয়ে পড়ে 
একদিন বেপরোয়া দুটো মিথ্যে বাহাদুরি ,
এমন করেই মালিকানা হয় দু চারটে নৌকার ,
এমন করে এক আধ বার গুলো জুড়ে একটা মুখোশ মানুষ তৈরি হয় ,
এমন করে এক আধ বার বিশ্বাস মরে দারুন শোকে ,
এমন করে আর কত এক আধ বার এক জীবনে ?
এমন করে প্রেমের অন্তরালে বেঁচে থাকে অজস্র বিষাক্ত অপ্রেম ।

সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০

বৈষ্ণবি রঙ

চিরকাল  জনঅরন্যে তোমার  জন্যে শুধুই 
ভালবাসা,  তাই মাঝে মাঝে দ্বিধাহীন হয়ে 
ছুড়ে দাও কপট অঞ্জলি ,  আসলে স্ববিরোধী 
সুখের কাছে নতজানু  আমরা কেউ হতে পারি না, 

তোমার গায়ে লেগে থাকা কপট রঙ তুমি 
চিনতে শিখলে না  কখনো  তাই প্রতিবার 
চন্দন  জলে ধুয়ে তোমায় রাখি নিজ পটে, 
এভাবেই ধুলোমাখা ক্লান্ত  শব্দদের  শুশ্রূষা মাখিয়ে এগিয়ে  দিয়েছি এযাবতকাল  তোমার চাওয়া পার্থিব সমৃদ্ধির দিকে, 

সারা রাতের তারার আলো দিয়ে একদিন 
ঠিক বৈষ্ণব  করে তুলবো আমাদের বাকি টুকু
বেচেঁ থাকা,  তার জন্যও তোমায় বিরক্ত করবো না, 
আসলে জানতো সুজন সবারই কিছু  একান্ত 
সুখ রাখা থাকে ব্যাক্তিগত  দেরাজে , বাইরে থেকে
সবাই সেটাকে হয়তো বা প্রত্যাখ্যানে মুড়তে চায়, 
আমি চিরকাল অভিযোগহীনা  তাই প্রহররান্তে আমায় জাগতে দিও প্রতি রাতে। 

প্রেম ডট কম

সারি সারি না বলা কথা একলা দ্বীপের মত
এক একদিন জেগে ওঠে বুকের ওপর ,
সিলিং বেয়ে জন্ম অন্ধকার ছায়া মেপে মেপে 
গলা পর্যন্ত চেপে আসে একাধিক মুখোশ পড়া মুখ 
 একটা অকারণ বেঁচেথাকা অবশিষ্ট মৃত্যুর নামে 
স্বাক্ষর রাখে ।

কোন অভিযোগ নেই বলে চোয়ালের নিপাট সুখ
তার চুপ করে বেঁচে থাকায়  ভীষণ নিয়মিত চিরকাল ,
ইদানিং যখন শূন্যদাহ পাক খায় আমার শরীর
বৃষ্টি খোঁজে ,
তোমার দেশের এলোপাতাড়ি মেঘ কেবল ভাঙা 
সম্পর্কের বিসর্জনের পরেই কাঁদতে জানে ....

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০

ফলকনামা

যেদিন মন পুড়ল প্রথম
দরজার বাইরে তখন তরুণ দিন দীঘল অপেক্ষায়।

আমাদের ভালোবাসার কোন নাম ছিলো না কোনদিন..
শরীরের  ওপর নামহীন আশ্রয় ছিল শুধু 

 রাত চাদর  ছুঁতে চাওয়ার 
নেশাতুর হাত বোলাতেই দেখি,
কুঁচকে যাওয়া সুখী সাদা চাদরের  উপর তুমি
 নাম হীন  চিরকুট লিখে গেছো...

"বেঁচে থাকার জন্য এতোদিন যে অস্তিত্বটাকে খুঁজে মরছিলে সমস্ত পৃথিবীতে হন্যে হয়ে 
আজ তার জঠরের  গন্ধ রেখে গেলাম তোমার   ছেলেমানুষি অমরত্বের গায়.....
ইচ্ছে হলে পুড়িয়ে দিও.. 
টুকরো করে উড়িয়ে দিও "...
খুব কিছু জমবে না ক্ষতির তরফে ,,

আমি সেদিনের পর   আজও বিছানায় 
চোখ বন্ধ করে হাত মেলে দেখিনি,

 পরিচয়হীনতায় প্রিয় ক্ষত 
এই কাব্য  সৃষ্টি তে কতটুকুই বা আসে যায়
কবিত্বে কতটুকু জমিরই বা পেতে পারি !
তাই আমার কফিনের চাবির ঠিকানা মাটি ছাড়া 
কেউ জানে না , 
তুমি শুধু মন পুড়ে যাওয়া ভালোবাসার একটি 
কবিতা লিখে দিও সেই অপেক্ষমান মেয়েটির মৃত্যু 
ফলকে ।

       

বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০

সুবর্ণা (৯৬)

সুবর্ণা কথা দিচ্ছি পরবর্তী প্রতি জন্ম উৎসবে
আমার সব পৌরাণিক চরিত্রদের একে একে 
মুক্তি দেব  তোমার দেওয়া বিগত উদযাপনের রঙের  মতোই  ,
জানো তোমার রাত বিছানায় শীৎকার সুখ খুঁজে নেয় যখন,  আমি তখন অজয়ের জলে তীব্র অমৃত ধ্যানে মগ্ন রাখি নিজেকে ।

আজ শুধু সামান্য শেষ চাওয়া ....আমাদের 
চিড়েখুঁড়ে দেওয়া স্মৃতির উদ্দেশ্যে ,  
আমার  পুড়ে যাওয়া নাভীর ছাইয়ে তোমার একটি চারা
কবিতার জন্ম পুঁতে দিও প্লিস  দেখবে 
জন্ম শোক আর মৃত্যু সুখ দুটোই ভীষণ অভিন্ন 
কারণ আমি নাভিমূলে রেখে যাব একজীবনের 
মুক্তিপত্র ।

হিসেবের পথ

তুমি যাকে বল  যন্ত্রণার সহবাস 
আমার কাছে সেটাই কোমল বাসর ঘরে 
তাই জীবন আর যন্ত্রণার ফাঁকে আমি এখনো
অন্য পথ  শুধোইনি কোনো পথিক কে ,
যেখানে সুখের মাটিতে দুঃখের মৃত দেহ বালি
চাপা কচ্ছপের মতো গোপন  সেখানে  চাওয়া
শব্দ নিতান্ত বেমানান  যুগে যুগে ,,

সুজন তুমি চিরকাল রঙিন সাইপ্রেসিয় বোধ নিয়ে
শব্দ জব্দ খেলায় ব্যস্ত থাকলে  ...... বলো
কি করে বুঝবে প্রখর রৌদ্রে মরুর বুকে কাঁকড়ার
ছটপটানি ?
যন্ত্রণারও অভ্যেস রাজার তরবারির মত যোগ্য 
যোদ্ধার মুখোমুখি আসার আগে পর্যন্ত  অসূর্যস্পর্শ
থাকা  সেকথা জানে না  সবাই বলেই দিশা খুঁজে 
হয়রান হয় ,,

জানতো সুজন মুখোশের অমরত্ব হয় না  তাই এটুকু
বুঝি আজ অবধি ....... পথ ভুল ছিল  পথিক হিসেবে  এ জন্ম নয় .....।

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

নাটকের অঙ্ক

শামুক ভাঙা রাত পোকার সংসার আমার 
মুখ আর মুখোশের সাথে ঘরকন্না খেলা চলে ,
বুক খুঁজতে গিয়ে চোরাবালিতে  কখন 
মাথা গুঁজেছি টের পাইনি ,

মন লেখার সাতরঙি  খাতাটায়  কেবলই হিসেবের
খেলা  তবু সে খেলা ক্লান্ত আজ  ,
অথচ কালো ঘোড়া রোজ ছুটে যায় আমার গভীর 
ঘুমের পথ কেটে ,  আমি আঁকড়ে ধরতে যাই স্বপ্ন গুলো  ,ব্যর্থতায় চোখ থেকে ছিঁড়ে যায় একের
পর এক পাতা , 
মনে পড়ে .....................

...বুকের বাড়ন্ত নিঃশ্বাসে আধ ফালি চাঁদের আলো 
দৈন্যতা ঢাকে বহু চেষ্টায় ,
আমার মত অবিকল কারো সমাধির পথের পথে 
এখনো জীবিত রা বেঁচে থাকার গান গেয়ে ফেরে 
ভালোবাসার গল্প শুনিয়ে যায় ।

কারু কথার শিল্প

একদিন সে বলে ছিল নিপুণ শিল্পী হাতে কোনো
ক্ষতি কারো দিকে বিনা আস্ফালনে .....বাঁচবে প্রেম , সাক্ষী কেবল রয়েছে একখানি মন ,

তিলোত্তমা আমার মত অজস্র তার প্রেমিকাদের 
নিখোঁজ করেছে  কারন সে উত্তরত্তর ভালোবাসে 
উত্তরণ , স্পর্শ ভেবে হাতড়ে বেড়ায় মাকালের হাতছানি ।
 একদিন এত শত পাপ তার আগলে রেখেছিল 
আলবেলা এক নারী তার চিবুকের ঠিক নীচে 
যেমনটি প্রদীপ শিখা বুকের নীচে যত্নে আগলায়
অন্ধকার ।

আজকাল আর কাটাতে পারে না মন পুরোনোর মত , রোজ রোজ যে বৃষ্টির জন্ম দিন হয়,
সে নারী হেঁটে যায় মরুর দেশে  সে ছাড়া সকলের
পথে  হয় দেখা ।

.......ভয় নেই তার  রাজপথে  অযথা রাজপোশাকে
দাঁড়াবে না প্রেম ......
ভয় নেই প্রেম হেঁটে গেলে বহুদূরে  পায়ের চিহ্ন 
যাবে সযত্নে মুছে ........,
ভয় নেই কোনো  শ্রাবনী স্নানের পর বিধাতার কাছে
মনের সাক্ষী খুলে সে নারী বিচার চাইবে না .....
ভয় নেই নিপাট সুখ  খুলে রেখে  সেও  একদিন প্রাক্তন প্রেম হয়ে  উঠবে ।

ভ্রান্তি বিলাস

মুখোশে বাঁচতে বাঁচতে কখন যেন অচেনা
হয়ে গেছে নিজের মুখটাই ,আয়নার সামনে 
নিজের প্রতিবিম্ব র ডাইনে বাঁয় মিলিয়ে নিতে 
গিয়ে চমকে উঠি  মনে হয় সমস্তটা অযাচিত ..
মোটেই এই আমির সাথে  আমার পরিচয় নেই ।

এ কবিতা পোষ্টমর্টেম বলা যেতে পারে  
নিজের ছায়াছবিতে নিজেকে টুকরো টুকরো
করে  আদি অন্ত মিল না পাওয়ার নামে আজকাল
এক বিনোদন.…..... অট্টহাসি যে ফেটে পড়ে ঘোর লাগা মন ।

বহুরূপী শ্বাপদের চাইতে শূন্যতা  দরকারি ,
প্লাস্টিক ভালোবাসার মহাকাব্য থাক রঙ্গমঞ্চের
চরিত্রের জন্য ,,,,
আমি তাই স্বপ্নে জাগরণে রোজ শিশু ভোলানো 
চৌহদ্দির বাইরে এক পা দু পা এগোই ,
তোমার মাইক্রোস্কোপিয় বাহাদুরি ভাবনায় 
রেখো আমি বিহীন যাবতীয় প্রটোকল ।

 নিজের প্রজন্ম কে এককোষী ভাবতে আর 
তেমন অসুবিধা কোথায় ,......না হয় আর কিছু
পরে রূপান্তরে নির্ঘাত বিজয় পাওয়া যাবে তোমার
সুড়সুড়ি দেওয়া পালকীয় আস্ফালন থেকে ,
তার পর তারপর অন্তত ধরেই ফেলবো উদ্দেশ্য,
বিধেয় ,কি ভাবে কার পরে ব্যাকরণ মানে ,

এখন কিছু সময় যোদ্ধার মত রক্ত ঘাম ভিজিয়ে
খুঁজে  ফিরি সেরিব্রামে ধোঁয়াশা সরিয়ে শেষ দিগন্ত,।

কিছু বলবো কেমন করে ? বলতে গেলে যত্নের রাখা স্বপ্ন গুলো যন্ত্রনা বাড়ে , তাই এই নির্ঝঞ্ঝাট
গুপ্ত ঘাতক  লুকিয়ে থাকে স্নায়ুতে ......
সমস্ত সমাধান করতে চুপচাপ হাঁটু গেড়ে বসি
দশ হাজার সিন্যাপসের ভিতর ।

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২০

সাজানো সমাধি

ছায়া থেকে বিচ্ছেদ ছিঁড়ে পড়ছে আমার সমাধির
ওপর ,  চলে গেছি চোখ থেকে দৃশ্যত ছিঁড়ে ,
আমার সমস্ত রং থেকে একে একে ছিঁড়ে পড়ছে পলাশ, কিংশুক , আমারই দীর্ঘ ঘুমের পাড়ে ।

এ কেমন চলে যাওয়া যেখানে সুখস্মৃতি 
ভাবা দৃশ্যগুলো যন্ত্রনা হয়ে সামনে এসে দেহে 
সাদা ফুল ছড়ায়  .....আর অবাক হয়ে যাওয়া টুকুর দিকে হাত বাড়িয়ে চেয়ে থাকা , তবু নলা হয় না যেওনা ।

কেন যে পুড়তে পুড়তে দেহ হারায় ............জানা নেই,

কেন যে মাথা নামিয়ে মাটি ছুঁয়ে ফেলে অভিমান 
অথচ কিচ্ছুটি বলা হয়ে ওঠে না শেষ পর্যন্ত  ...জানা নেই,

........এ কেমন আগুন জ্বলছে  অথচ পুড়ছে না আহুতি গুলো ,,,,
.........চিরকাল আমার সব একলা রং কি কেবলই
শূন্যতায়  পরে থাকলো ! 
পলাশ রংটুকু চেয়েছিলাম মাত্র অথচ আগুন হাতে
ছাই করেছো সমস্ত  নির্দয়তা দিয়ে ,,
থেকে যাওয়া বাসর থেকে বঞ্চিত করেছো অথচ
সমাধির ওপর সাদা ফুল রেখে ভালোবাসি বলতে পারো খুব সহজে ,

আমার সমস্ত জীবিত কালে এমন সহজ কাজ টুকু
করে উঠতে পারিনি মানুষ হিসেবে ।

গিঁট

যে কটা দিন ক্ষতদের নিজদেশে ফিরে যেতে
সময় লাগে সেকটা দিন স্পর্শে তোমার আসা যাওয়া থাকবে কখনো খরস্রোতা কখনো মন্থর ,

খিঁচ লেগে থাকা ধমনী গুচ্ছে আজও ভুল ঋণ 
স্রোত টেনে বেড়ায়  ,সত্যিটা মানতে মন চায় না 
তাই গরল মাখছে হৃদয় , 
কিছুটা সময় চাই নতুন জন্ম যন্ত্রণার জন্য ,

বুকে টেনে নিতে পারো না কোনো দিন সমাজের
বেড়ি ছিঁড়ে ,পারোনা সামনে এসে দুঃখ গুলোকে 
নিংড়ে ফেলতে কোনো দিন ....
এযাবৎ কাল আমার সকল পড়শী আমায় কেবল অপেক্ষাই শিখিয়ে এসেছে , সময়ের প্রয়োজন কেউ কখনো বোঝানি , আমিই অপেক্ষার 
গাছের দেহ ধুপ ভেবে পুড়িয়ে ফেলেছি রোজরোজ ,

আর যেকটা দিন ক্ষতদের নিজ দেশে ফিরতে সময় লাগে তোমার অবহেলার স্পর্শ খিড়কি র
প্রান্তে দাঁড়াবে আলগোছে .......... তারপর কিসের 
জোয়ারভাটা ,কিসের আছড়ে পড়া , কিসের সমাজ , কিসের ভয় ,  সমস্ত ঢেউ ভেঙে স্থিরতা নিমগ্ন এই দেহে মনে ,
আর জমি খোঁজার নেই পায়ের তলায় ,
একটা শূন্যতল আমার পৃথিবীর অক্ষরেখার আটকে গেছে ,  বলো সেখানে কোথায় দাঁড়াবে 
অপেক্ষার প্রেম ?

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০

অ--সুখ হওয়া

তার গন্ধ এখন পুরোনো অসুখের মত 
কেবল ছায়ার দিকে হাত বাড়াতে চায় , অথচ
পথের বাঁক বদলাতে চায় বহতা হওয়া তাই 
ছিঁড়ে খুঁড়ে তছনছ করে ফেলতে ইচ্ছা হয় ঘরের কোনে পড়ে থাকা পুরোনো প্রেমিক মন ......

চলে যাওয়া দৃশ্য গুলোর  পিছু যে ধরি বারংবার খ্যাপার মত ,
স্টেশনে চায়ের দোকানে প্রেম লেগে থাকা পুরোনো
চায়ের ভাড় এর খোঁজে তাই এখনো মাঝে মধ্যেই 'সন্ধান চাই ' ইস্তেহার  দিয়ে বেড়াই , কখনো বা 
দৃশ্যর বুকে  সিঁধ কেটে তুলে আনি অতীত ,
মাঝে মাঝে ভাবি এসব কেন !  সেই বাউলের মত ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারিনি ....... ওই চায়ের দোকান,
ওই স্বর্গ মহলের রূপ কথার কামরা  ,সেসব উৎসব ,উদযাপন , কেন ঝরা পাতার মত দিশাহীন হয়ে হারিয়ে যায় না ,
হওয়া তো কতকিছুই বদল করে  , আমি দলছুট মেঘ হয়ে শুধুই শূন্য স্থানে ভ্রম জড়ো করি কেন ?
কেন এক দেহে খুঁটে খুঁটে রাখি জল ,আগুন কাঠ ,
কেন ভাসতে পারি না যেমন টি সে ভেসে বেড়ায় কিনারা হতে আরেক কিনারে ।

ঘর চাই

প্রতিটা ক্ষতর জন্য আমার এক একটা বিশেষ ঘর দরকার , 
যে যে ক্ষত বিঁধে আছে একই ঘরের চার
দেওয়ালে ঘেঁষা ঘেঁষি করে  একের পিঠে আর একজন চেপে তাদের একে একে আলাদা করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হত আমায় ,

প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস এর জন্যও আমার আলাদা বিশেষ কিছু ঘরের দরকার যাতে সেসব ঘরে 
আলাদা আলাদা করে প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস কে কিছু
কিছু সময় রেখে আমি শুধু স্নিগ্ধ বাতাসে  বিশ্রাম নিতে পারি ,,

আরো কিছু বিশেষ ঘরের  দরকার ছিল ....., 
মৃত সময়ের ঝুলিতে বয়ে বেড়ানো  বহু স্মৃতির গন্ধদের আলাদা আলাদা করে রাখার জন্য ,তার পর মনকে নাহয় খানিক বিশ্রাম দেওয়া যেত ,,

কিছু বিশেষ ঘরে রাখতাম আমার চোখ এযাবৎ কাল যে সব দৃশ্যে ঘুমের ওষুধকে অবলীলায়
বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সারা রাত অতিক্রম করে 
নির্ঘুম হয়ে , আর হ্যালোইন সেই রাত গুলোতে
আমার বুকের ওপর চেপে বসে কি বীভৎস হাসিই
না হাসে  একের পর এক প্রেতাত্মারা ,
সে সব দৃশ্য ওই বিশেষ ঘর গুলোতে বন্দি রেখে আমি  একটা দীর্ঘ ঘুমে তলিয়ে যেতে চাই ,
তাই এই ইস্তেহার আমার বেশ কিছু বিশেষ ঘর দরকার ................
তোমাদের কারো কাছে কি এমন কিছু বিশেষ ঘরের সন্ধান আছে  ?    যদি থাকে হৃদয়পুরের
খামার বাড়ির ঠিকানায় তার ফেলো ডাকবাক্সে ।

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

ব্রাত্য তবু ব্রাত্যহীন


এক অদ্ভুত বোঝাপড়ার দায় থেকে নিপাট 
মুক্ত এখন তুমি ,
আমিও নিঃসঙ্কোচে ভুলে গেছি সেদিন কেন 
তোমার চোখে আমার সর্বনাশ দেখে নিজেকে 
হত্যা করেছিলাম .....
ভুলে গেছি বলেই হয়তো নিঃশব্দে মুখাগ্নি করি 
বকেয়া হিসেবের কেতাবকে ।
আজকাল  চতুর্দিকে প্রেমের মধ্যে এক চাতুর্য পূর্ন 
আঁতুরঘর লক্ষ্য করি  ....আরো লক্ষ্য করি সেখানে চলে অবিরাম স্যাঁতসেঁতে ভেজা শরীরের খেলা .….,
আমার অবশ্য আজকাল যেকোন রকম খেলা দেখতে বেশ ভালোই লাগে , 
কোথাও  গল্পের রাজা হিসেব করে তার  ও দেবতার মধ্যে  এক পুঁজিবাদী  অহংকারের তৃপ্ত 
দেওয়াল তুলছে কোথাও বা  মানুষ সামাজিক থাকার হিসেব কষছে আর অংক মিলিয়ে নেবার 
দুস্তর চেষ্টায় নিজেকে নির্ভুল ভেবে তৃপ্ত হচ্ছে ,
ঠিক যেন নাটকের শেষ অংকের এক নিপাট মিথ্যে
মোড়া অসাধারণ তৃপ্তি ,
আর সেই তৃপ্তিতে জন্ম মৃত্যুর পূর্ণতা খুঁজতে চাইছে , নিঃশব্দে দেখি এসব খেলা অথচ রাজা কিংবা  তোমার   মাঝের পথে পঞ্চভূতের কোনোটাই জুটিয়ে উঠতে পারা হয়  না ,
আমিও হয়তো কখনো বলতে চেয়েছি এমন উপহাসের জীবন কেন হে সখা  কেন এমন শ্রেষ্ঠতম অপচয় ? জানি না   জানি না  কোনদিন এসব কথা বলা হয়ে উঠবে কিনা ............
জান তবু আমি মৃত্যু ফলকের নীচে শুয়ে নতুন 
ভোরের স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিতে পারিনি  
পারিনি ভালোবাসা নামক শব্দটা অবহেলা করতে ।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

রোশনি

দু পা এগোলেই অদৃশ্য বহতা জীবন ,
দু পা পিছলে মরণ বিষ যাপন ,
ক্রমশ সরে যাচ্ছে নিয়মিত ভরা পানপাত্রর 
প্রলোভন ,
মৃত শব্দের বুকে ভাঙা কাঁচের স্বাক্ষর বদলে দিচ্ছে
সমস্ত সমীকরণ ।
দূরে কোথাও ছায়া কেটে কেটে কেউ বোধহয় রোদ্দুর কুড়িয়ে নেয় দুহাতের মুঠোয় .....
ভুলে যাওয়া অক্ষর রা এখন অনেকটাই ধুলো চাপা  তাই তাকে অনেকে বাহারি কেতাবি নামে স্মৃতি বলে ডাকে ।
ক্রমশ শব্দহীন হয়ে একের পর এক দ্বার খুলছে 
আমার মত কেউ ,
সে শূন্যতাকে কেবল বিয়োগ ফল শেখাতে পেরে 
গোলাপ গুচ্ছ আর আগুন উপহার দিয়েছে নিজ হাতে ,,
হয়তোবা একদিন এই ও অবাধ্য ডানা নিয়ে উড়ে যাবে ভ্রম মুক্ত দুনিয়াতে ....
সেখানে একটা জন্ম আর একটা মৃত্যু সুতোয় বেঁধে
মাইল ফলক ঝোলানো থাকবে না ,
থাকবে না এসব তিন প্রহরের খুচরো খুচরো মোহ ।