মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

ফাইল ফলক

মানুষের ভেতর যে তিন পুরুষ বাস করে 
তার একজন যুদ্ধে যায় , একজন রং তুলিতে
লিখে রাখে জীবনের কথা ,আর একজন পোয়াতি সময়ের ঘরে বাতাস হয়ে ঘুরে বেড়ায়...।
অসুখের আঁচে বেঁচে থাকা সেকে নিয়ে মানুষ ভালো থাকতে চায় , ...চায় ভোরের আজান কিংবা বেদ মন্ত্রে নিজের ক্ষিদে লুকিয়ে আর একটু সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে ,,
হৃদয়ের কাঁটাতারেও ফুল ফোটে নিঃস্ব কোনো মন খারাপের দুপুরের ,,।
যে মানুষটা যুদ্ধে মন দেয় তার কলমের নিবে রক্তকরবীর জন্ম কথা লেখা হয় .....লেখা হয়
অনর্গল কিছু কথা যা চুপ করে থেকে বলা হয়েছিলো নিজের সাথে ।
জীবনের জ্যামিতিক চিহ্নদের তিন পুর8 একজন আগুনে পুড়িয়ে অস্ত্র বানিয়ে ফেলে ।
তারপর সব আঁচড়ের দাগ ক্রুশ কাঠ আঁকড়ে ফ্যাকাসে জেরুজালেমর আকাশ ,মাটির রঙ
বদলে .....বদলে দেয় পুরোনো ইতিহাস ,,।
এভাবেই  প্রতিটা মানুষের ভেতরের তিন পুরুষ পঞ্জিকা দেখে এক দিন বারবেলায় নিজেরাই নিজেদের  মুখাগ্নি1 করে সমস্ত শুদ্ধি-করণ 
সেরে ফেলে ...........।
*********************

#জীবন যেরকম চায়
#সই

সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

নীল পাঞ্জাবী সাদা বোতাম

একলা এক পেয়ালা নিঃসঙ্গতা নিয়ে অঘ্রানের ভেতর..স্মৃতির পুরোনো খসড়া খুলে বসতেই..

সেখানে একপা দু পা করে   কোনো এক আগন্তুক শরীরের অস্তিত্ব ফুটে ওঠে...

অজানা অথচ খুব চেনা কোন নদীর পাশে..ঘাসের ওপর   চিবুক রেখে
  আমাদের পরিচয়র ভূমিকা পার হই,  ....ভালোলাগার অমোঘ 'আলো-মহলায়' প্রবেশ করি আলতা পায়ের ছাপ রেখে...

কাছাকাছি হওয়ায়  দুটো লাল হলুদ প্রজাপতির
পরস্পরকে জড়িয়ে ধরার আপ্রাণ খুঁনসুটি দেখতে দেখতে.. আমিও অনেকদিন পর গুনগুন করে উঠি
"সখী ভালোবাসা কারে কয় ........"
হঠাৎ বেসামাল আমাদের হাত জড়িয়ে যায় আনমনা ভরসায়.....নতুন করে।

আমি সুখের অনুভূতি লুকিয়ে 
মুখ তুলে তোমার নীল পাঞ্জাবির সাদা বোতামের ফাঁকে নীল সুতোয় চোখ রাখি যত্ন নিয়ে...

আমার  এক হাত কাঁচের চুড়ি শব্দ  ওই বুকের দিকে এগিয়ে যায় ....

ঠোঁটে আলতা মায়া নিয়ে বলি ..
" তোমার বোতামটা  ছিড়ে গেছে..একমিনিট দাঁড়াও..
আমি ব্যাগ থেকে সুতো বের করে শেলাই করে দিই...
তা না হলে বোতামটা হারাবে যে"..!

আবরণের শরীর সারাই শেষে  মুখ এগিয়ে ঠোঁটের আড়ালে দাঁতে সুতো কেটে সেতু পারাপার করে নিই...

ও বুকের  আমার উষ্ণ নিঃশ্বাস..
আমি ভালোবাসার পাতায় চোখ রাখি...যত্নে ডুবে গিয়ে,

গল্পটার গভীর রাতের জন্য মরিয়া হয়ে আমি অপেক্ষা করে..
ক্রমশ সময়ের পাতা উলটে যাই... লিখে ফেলি নতুন উপন্যাসের পর্যায়ক্রম...,

হঠাৎ মনে পড়ে যায়..
সেদিন এক নিঃস্ব দুপুরে একলা আমিতে..
আমার মন বলছিলো..
" এবার তোমার নিজেকে ভালোবাসা সময় এসেছে"..!

শব্দহীন প্রচ্ছদে এবার তোমার নিজের কিছু স্বাক্ষর খুব জরুরী ............।

#সৌজন্যের ইতিহাস 
#সই

ভরসা

তোর চোখে  ভরসারা যে ভাবে আশ্রয় দেয়  ..
আমি তখন জীবন আঁকি আমার অগোছালো ক্যানভাসে মৃত্যুর সব রঙ মুছে ফেলে ...
এভাবেই আমায় বাঁচিয়ে রাখিস আমার আলো আর ইচ্ছের  প্রজাপতি  হয়ে ❤ 
ভালো থাকুক  তোর মত এই পৃথিবীর সকল ভালোবাসাতে পারা  মানুষ গুলো ,,
হয়তো বা আমার মত ভাঙচুর হওয়া সভ্যতা আবার গড়ে নিতে পারবে নতুন কোনো গল্পের শুরুয়াত ।
দুটো পক্ষের মাঝে পরে থাকা পক্ষাঘাত মনটাকে শেষমেশ তুইই পারলি হলুদ জলে স্নান করিয়ে নিতে ।
এখন আর তাই আমি ভাঙা ঘটে জল রাখিনা ...
এখন আর তাই আমি ভাঙা সম্পর্ক গুলোর কবিতা লিখতে চাই না ,
আঘাতের বুক থেকে যারা  মনকে ছিঁড়ে ফেলেছিলো ....তুমি তাদের সৎকার করে 
স্রেফ একটা  টিকটিকির সংসারে সং সাজা থেকে আমাকে বিবাগী হতে শিখিয়েছো।
আমার নিজস্ব ছবিবিহীন ঘরটার অন্দরমহলে তুইই শিখিয়েছিস আমার বড়সড় পোট্রেট সাজিয়ে নিতে ।

....তোর চোখে  ভরসারা যে ভাবে আশ্রয় দেয়  ..
আমি তখন জীবন আঁকি আমার অগোছালো ক্যানভাসে মৃত্যুর সব রঙ মুছে ফেলে ...।


#সই

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১

সকাল

তুমিই একমাত্র সকাল,  ... বাকিটা কাদা আর 
মাটি লেপে রাখা সময়ের রাত্রি ।
বৃদ্ধ চাঁদ কে তুমি নতুন পক্ষে সামিল করে যৌবন ছুঁইয়ে দিতে পারো  প্রতিটা একাদশীর পরেও,,

একলা নিজস্ব ঘরে ভেঙে যাওয়া নদী পাড়ের বসত কান্নায় কোনো জোয়ার ভাটার দৃশ্য থাকে না .....,,

.....তবু প্রতিটা ভাঙ্গনের পর একটা দীর্ঘ শীতকাল কুঁকড়ে থাকে বুকের ঘরে ।
শূন্যতার গা ঘেঁষে একটা প্রশস্ত রাস্তায় তোমার মত কেউ সকাল হয়ে আসে জাগতিক নিয়মে ।

সাঁতার ভুলে যাওয়ার আলোর ভেতর ডুব-স্নান থেকে আর ফিরে আসে না কখোনোই ,,
কাদামাটির জীবনে হারিয়ে ফেলার দুঃখদের শক্ত চোয়াল শিখিয়ে দেয় অতীত মানেই  আবছা হতে হতে আরো  জড় অস্থাবর  হয়ে ওঠা স্মৃতি....যা ছুঁয়ে থাকলেও স্পর্শ,  গন্ধ, বর্নবিহীন ,।

....তুমিই একমাত্র সকাল হতে পেরেছো বাসী রাত্রির পরে।

       ম


                 য় 


তুমি সকাল হয়ে এস এভাবেই প্রেমে অপ্রেমের চৌকাঠ কে তুচ্ছ করে প্রতিটা ঝড়ের রাতের নিজস্ব সুরের পরে।


#সৌজন্যের ইতিহাস
#সই


শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১

সময় এলো রাজার মত হলো কালের খেলা শেষ

শব্দেরা শান্ত স্রোতের মতো বয়ে গেলো..
শক্ত চোয়ালে তুমি কিছু বললে.. যা শুনতে পেলাম তার গভীরে হেঁটে যেতে চাইলাম!

আমি শুনলাম এক নিষ্ঠুর ঝড়ের সুর থেকে নটরাজ প্রলয় এর  ডংরুর আওয়াজ...!

ক্ষমা করে দেয়ার ক্ষমতা সকলের থাকে না..
কিন্তু সময়কে ক্ষমা করতে মানুষ কি দারুণ শিখে যায়..; সহজেই।

তুমি যতটা নিঃশব্দে কাঁদো..
আমি ততোটাই স্ব-শব্দে তোমার কাছে আসতে চাই... আমার তীব্র চেতনার সাথে,,

প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছুই হয়তো বিষ নয়...
এই শহরের 'চুপ' মানুষগুলোর জন্য..
সেই 'অতিরিক্ত' এর সীমানা অতিক্রম করা 
ভালোবাসাটা যে অমৃত প্রয়োজন...!

প্রিয় নৈঃশব্দ্য,
নিজেকে নির্লিপ্তততার মুখোশে রেখে...
তুমিও কি কোন সুইসাইড নোট লিখছো...?

একটি চুপ তারার  আজ আকাশে যে সামিল হলো 
সে কথা লেখা থাক নাহয় কোনো অপ্রকাশিত ইতিহাসে.........।
*****************
#সৌজন্যের ইতিহাস 
#সই

গন্ধ

এ এক ভেজা পৃথিবীর গন্ধ..
এক নিমিষেই হেরে গিয়েও 
অদ্ভুত কোন জিতে যাওয়ার গন্ধ.. আমাকে পেয়ে বসেছে !

নরম  শালুকের গায়ে নোনা জলের  গন্ধ যেনো...
ভুলিয়ে দিচ্ছে কষ্ট-দেয়ালের গায়ের
নিজের খুব চাওয়া হাতের তালুর রঙ্গিন ছাপের গন্ধ.. বড্ড ভালো লাগছে যে ,

গন্ধটা না মৃত্যু.....
না জীবন......;

গন্ধটা অনেকটা পথ ক্লান্তিহীন হাঁটার পর 
জীবনের  গনগনে রোদ্দুর পেরিয়ে এসে গোধূলির আশ্রয়ের মতোই..
অকারণ বেঁচে থাকার তীব্র এক ইচ্ছে-গন্ধর মতোই ..!

গন্ধটার নাম 'তুই'...!

সেদিন যেতে যেতে হঠাৎ করেই 
যে মুখের মুখোমুখি হয়ে মনে হয়েছিলো...
"এখানে নিশ্চিত জীবনের  মুহুর্তগুলো আশ্রয় পাবে..
যেখানে স্রেফ চুপ করেও অনেক কিছু বলা যায়"...!

প্রিয়, নৈশব্দ..
অনেক তো বেঁচেছি পরের জন্য...
এবার আমি নিশ্চিত শুধু
নিজের জন্য বাঁচবো...!

ভালোবাসা..ভালোবাসা...খেলা খেলে
শৈশব থেকে নেশাতুর কোন মিথ্যে চকমকির চাইতে..
তোর এই সত্যি শুভ্র গন্ধটা যে ইশ্বরেরও খুব প্রিয় কিনা জানি না তবে আমাকে স্পর্শ করছে

হাজারটা প্রেমের চিঠির নেশার চাইতে..
অনেক পবিত্র নেশা হচ্ছে
সত্যের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা
কাঞ্চনজঙ্ঘার কোল ঘেঁষে থাকা  কুয়াশার নেশা...;

যে কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা..
এক স্বর্গীয় গন্ধের 'তুই'..


তুই যে আমার ভালোবাসার "রডোডেনড্রন"...!
****************************************

#সৌজন্যে তুই উপন্যাস 
#সই


শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

কথা

ছেলেটা বলেছিলো বুকের উত্তাপে জড়িয়ে রাখবে ,
চোখের কোনে অদেখা ইচ্ছা দৃশ্যদের আখড়া জমানো ছিলো, 
বাকি সব ঋতুদের সঞ্চয় খরচ করে শীত চাদর কেনা  হয়নি তাই।
এখন দু ঠোঁটে পুঁতে রাখা অবাধ্য এক নাম ,
ছেলেটার ধান কাটা শেষ হলেও পুঁজিবাদী গোলাঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাই ভবিতব্য ,
হেমন্তের দুঢোক বৈধব্যে শিশির গড়িয়ে নামে গত দিনের বাড়তি সোহাগের ওপর ।

ঋতু বদলের মত ছেলেটাও বদলে নিলো নিজেকে,
সময়ের সাজে তুখোড় বণিক হয়ে উঠলো সে ,
শীতল মৃত্যু হওয়ার আড়ালে চুরি করে নিলো ,আকাশ  থেকে গড়ের মাঠের সবুজ ঘাস অব্দি ....,

তার শঙ্খ চুবুক , বুক আর চোখের ভেতর অদ্ভুত নিঃস্বতা জড়ো হলো .....জড়ো হলো  ছেলেটার শরীর জুড়ে  কাঁপুনি , , 
শেষমেশ রোদ কিংবা উত্তাপ কোনটাই থাকলো না বুকের ভেতর ,, ঠান্ডা বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে থাকে ছেলেটা .....অপেক্ষা করে দীর্ঘ ঘুমের ।
....ছেলেটা বলেছিলো বুকের উত্তাপে জড়িয়ে রাখবে......!! ,







শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১

বোকার জন্ম

রোদ্দুর আকাশেও বৃষ্টি লুকিয়ে থাকে , 
হাসির আড়ালে যেমন সে ,
দৃঢ়তার আড়ালে দুর্বলতা থাকে ...তবু একথা বলবো না আর , নিজেকেও জানান দেবো না কতটা ক্ষয়ে গেছি ,
ফিরে তাকানো বারণ ....বারণ মুক্তির সামিয়ানায় সমস্ত বন্ধন এর নকশা আঁকা ।
এমন কিছু বৃষ্টি ভেতরে থাক , এমন কিছু যন্ত্রনা থাক সোনার রেকবিতে সালমা চুমকির বুননে ঢাকা ।
কে কাকে কতটা বদলালো সে কথা আর প্রয়োজনের নয় ....সমস্ত মুক্তি নিয়ে জন্ম দুয়ার থেকে ভালোবাসাহীন হতে শিখে নিতে পারলেই 
কেল্লা-ফতে,,
আগামীতে লেখা ইতিহাসে একটা উপন্যাস কম হোক .....যা এতদিন ঠিক মনে হতো , এখন সবটুকু বোকামি , ,.....বোকামি সব উপলব্দি , বস্তাপচা অনুভূতির সস্তা বাজারী দরে বিকিয়ে দেওয়া ।
মূল্যবান কখন যেনো নিরিখে মূল্যহীন ,,
সব কিছু ভেল্কি বাজি ,,
এ পৃথিবীতে চুক্তিপত্রে যখন কেউ কথা  রাখে না।
... ,সেখানে হৃদয়ের কথা ওজন বিহীন চিরকাল হতেই হবে  ,,
মন নয় হয়তো যোগ্যতা লাগে টিকে থাকতে ,
বিবেক নয় বুদ্ধির গোড়ায় গনগনে জ্বালানী বলে দেয়  বাণিজ্যিক ভাবে সফলতার কাহিনী ।
অথচ এখনো আমার মত বোকারা জন্মায় আর উপভোগের বীর্য শরীরে নিয়ে বাথরুমের ফ্ল্যাশ এ সভ্যতার ঘূর্ণিঝড়ে পাক খেতে খেতে প্রাক্তন টুকুর তকমাও পায় না ।
আমি কোনো নারী নই ,আমি কোনো পুরুষ নই ...আমি  বা  আমার মত যারা তারা চিরকাল অবহেলা লুকিয়ে অবহেলায় পিষে যাওয়া সময়ের যন্ত্রনা মাত্র  ,শুধুমাত্র পুড়ে যাওয়া কাঠের ভেতর একটা দীর্ঘশ্বাস যা আড়ালেই থেকে যায় ।।

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

মৃত সম্পর্ক /সম্পর্কের।মৃত্যু



আমি ও সে প্রায়ই মুখোমুখি বসি  নিমতলার পুরোনো অপেক্ষার ফেরিঘাটের কাছে ,
....সে মৃত সম্পর্কের  কথা শেষ করলেই  আমি সম্পর্কর মৃত্যু নিয়ে কথা বলি ,,
বহতা ও থেমে থাকা তখন একটা সূক্ষ অদৃশ্য সেতুতে এসে জিরিয়ে নেয় ।
সে বলে ...ঝলসে গেছি  এই শহরটার ঝাঁ চকচকে আলোর  আগুনে ....যাবি আমার সাথে অন্য কোনো দেশে ? 
আমি বলি সম্পর্কের গায়ে নরম স্পর্শ লাগে ,  এতটা নরম যেন আকাশে ডানা মেলা প্রথম উড়তে পারা পাখি ,, 
.....যেনো মনে হয় শুধু ছুঁয়ে থাকা অনন্ত প্রেম ,..যার জন্ম নেয় মৃত্যু নেই ,মাঝখানে পথের অভিযোগ নেই নেই অভিমান।
এসব কথার মধ্যেও আমাদের প্রসঙ্গ কখন যেনো বৃত্ত ঘুরে আগুনের কথায় ফিরে ফিরে আসে,,
গোপন ইস্তেহারে চাটুকারিতা ,বিষ আর মুখোশের কাব্যগ্রন্থ জেনে ফেলি ,, 
শেষমেষ একটা পুড়তে থাকা পুরুষের বয়ান বলি .....বলি তোমার প্রত্যেকবার নিকোটিনের আড়ালে পুড়তে থাকার দাম এবার থেকে আমি মিটিয়ে যাবো , তুমি আমার তেষ্টার দাম মিটিয়ে দিও প্রতিবার,,
 ,......ইদানীং এইভাবেই কবিতা লিখতে গিয়ে বিঞ্জাপন লিখে ফেলি  বারংবার.......লিখে ফেলি খ্যাতি আর হাততালি মোড়কে রাখা চোরা আফিমের কথা ।
 কথোপকথনে শহরের কিসসা ফুরিয়ে ফেলি  ভোরের দিকে ,,
খাতা খুলে দেখি আজ বহুদিন সে একটাও কবিতা লিখতে পারেনি ।
আজ বহুদিন তার নিঃশ্বাসে মৃত সম্পর্কের পচনের
দুর্গন্ধ লেগে ...........।

#স...@copy right





সিস্টেম

সামাজিক সিস্টেমে কত প্রেমিক প্রেমিকা ব্যর্থ তার হিসেব নেই  ব্যর্থ কত না ইচ্ছামতি প্রবাহ ।

হিসেব নেই এমন অজস্র বেঁচে থাকার নামে শুধুমাত্র নিজের মৃতদেহ বয়ে ফেরা ।

সময়ের নুড়ি অসীমে দিকে ছুঁড়ে দিতে দিতে একটার পর একটা ইচ্ছাদের থেকে সমঝোতার 
বিচ্ছেদে অবাধ্য মন কে নোনা জলে স্নান সারতে হয় , 
একটা মাত্র জীবন তবু বাঁচার জন্য সময় কম কিংবা সামাজিক সিস্টেমে মেহেন্দী পাতা পিষে নিয়ে যন্ত্রণার রঙ্গে চেহারা রাঙিয়ে নিয়ে সভ্যতার প্রথম সারিতে যাপন ক্লান্ত পায়ে হাঁটতে থাকে ।

সমাজ কি মানুষ এর আসল বেঁচে থাকার উপাদান !! 
....তাহলে নাকে অক্সিজেন এর মাস্ক পরে সাতমহলা হাসপাতালে পড়ে থাকা দেহ থেকে পাখিটা মুক্তি খোঁজে কেনো ? 

কেনো সোনাঝুড়ির বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে জাপটে আঁকড়ে সামান্য বেঁচে থাকা পুষিয়ে নিতে হয় ?
কেনো বাঁচার অধিকার খুঁজতে খোয়াই এর প্রবাহ সাক্ষী থাকে গোপন পারিজাতীয় অনিয়ম নামক সময়ের  চাদরে  ?   ......জানি না .....জানি না পার্থ 
এমন কত প্রশ্ন তার চিহ্ন ভুলতে চায় ,
জানা যায় না এমন কত অনিয়ম দ্বীধাহীন হতে চায় ।
জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে ঠিক কতটা আকাশ পাওয়া যায় আর কতটা খাঁচা জানলে  জানা হতো  অনন্ত উপলব্ধি থেকে ঝরে পড়া আলোর একটুকরো রশ্মি কে ... ।

দর্শন

একটা শব্দের চালে জিতে আছি ....
সাহসী প্রেম এখনো মরে যায়নি তাই ..,
তোমার তর্জনীতে আমার মুক্তি ছিলো বলেই 
আকাশে মেঘেরা এখনো ভীষণ স্বচ্ছ ।
জীবনের দোরগোড়ায় মানুষের দর্শন বড্ড অবাক করা ....তবু ..তবু  এই পৃথিবীর সবকিছু ভীষণ যথাযোগ্য মনে হয় ,
তাই মানুষের সব পেলে নষ্ট জীবন মেনে নিতে একটা বয়সে এসে খানিক দাঁড়াতে শিখে নেওয়া ।
গুটির চলে সতরঞ্জ কি খিলারী যে,   সেও একই পার্থিব ,, 
তবু মানুষের জন্ম যেনো জিততে আসার উদ্যেশ্যে .. কায়েম ।
জন্ম কান্না যেনো জানিয়ে দেওয়া ....সামিল হওয়ার কথা ।
নিজস্ব পরিচয়ে সম্পর্কে সীলমোহর আর খানিকটা অহংকারের আঁতাত .... তবু তো সেই শূন্যে মিশে যাওয়াই পরম প্রেম , কিংবা পরম পাওয়া ।
জন্ম জঠরের বাইরে চুকিয়ে দেওয়া লেনা দেনা ...
তোমার সাথে শেষ হলো আমার যত খেলা ।
মাঝখানের পথটুকু হাঁটতে থাকা বিনা সওয়াল জবাবে .....মানুষ পারে কই এই পথটুকুতে উদার হতে ! 
একটা শব্দের চালে তাই মানুষের জিতে যাওয়ার নেশায় সমস্ত মধ্যস্ত সম্পর্কগুলো  রাখা ।

বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১

বুক পকেটে রাখা চিরকুট

...এমন একটা পাপ খুঁজছি যাকে ছুঁয়ে আমি পূর্নতায়  ডুবতে পারি ......মনের কড়ি  খরচা করে মহাপ্রলয়  কিনতে চাইছি  ,
সুখের অতিমারী থেকে সুইসাইড নোট লিখতে চাইছি সাদা পাতায় রঙিন মৃত্যুর উপন্যাস যেখানে শেষ হয়,
 একমাত্র তোমার নিমন্ত্রণ রইলো .....এই উৎসর্গের কলমে ।

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

কাফের প্রেম

এমনই কোনো নক্ষত্রবিহীন রাতে তোমার সাথে
পারিজাতীয় উপভোগে মেতে উঠতে চেয়েছিলাম বলেই ওই আগুন দৃষ্টির ভেতর ঝাঁপ দিয়েছিলাম সেদিনের ফেলে আসা চৈত্রের দুপুরে ।

এমনই কো‌নো নক্ষত্রহারা রা‌তে
এ শহরে নির্ঘুমতার সন্ধিতে  অনেক প্রেম আসে যায় , ....তবে কোনোটাই পারিজাতীয় প্রেম নয় ।

এ বুকের মুচড়ে উঠা দীর্ঘশ্বাস ধরে তুমি নেমে যেতে পারো পাতাল ছুঁয়ে ফেলা গোপন আস্তানায় , 
হাড়ের কুলুঙ্গিতে জ্বেলে রাখা প্রদীপে তেল ঢালতে ঢালতে তোমার চোখের আমি ইচ্ছার মত চকচক করে জ্বলে উঠতে দেখি নিজেকে ..... আমাদের সংঙ্গম-সমাধির  ভেতর ডে‌কে ডে‌কে থে‌মে যায়, অদূ‌রে কোথাও শ্বেত রা‌তপ্যাঁচা ।

শুকতারা ঘুমিয়ে পড়ে উত্তরের হওয়ায় গা মেলে ,,
জানলার শার্সিতে কুমকুম রঙের সূর্যদয় ।

 শুধুমাত্র তোমার চো‌খে তা‌কি‌য়ে থে‌কে
জীবন‌কে উপ‌ভোগ কর‌বো ব‌লেই- এ শহর কে দোসর করেছি  ......আঁকড়ে রেখেছি কাফন বিছানো প্রেম ।



*

শ্রেষ্ঠ পুরুষ

সহস্র মৃত্যুর অঙ্গীকারে তুমি আমার একমাত্র মুক্তির জানলা ,  তুমি   শ্রেষ্ঠ পুরুষোত্তম .....
অথচ আয়নাবাজি আর শব্দের জাগলিং করতে গিয়ে সে কথা জানানো হয় নি যে কখনোই , কিংবা হয়তো জানবেও না এ কথা কখনো , ,
তুমি সেই শ্রষ্ঠ পুরুষ যাকে তন্য তন্য করে খুঁজি
যেকোনো মেয়েলি প্রহরে ,
ও বুকের বুনো গন্ধে নিজেকে ডুবিয়ে আমার কপালের নিভু নিভু চাঁদে নেশা জাগে ধূলি ঝড়ের চেয়েও তীব্র । আমার নারীত্বের খোলা বুকে চিন্হ হারা দুরন্ত ঘোড়ার মত দৌঁড়ে বেড়াও ....আমি পাহাড়ি বহতায় খরস্রোতা ।
শ্রেষ্ঠ পুরুষের মত তোমার অতল স্পর্শী সমুদ্র মন ,
স্বা‌গ্নিক প্রেমি‌ক পুরু‌ষের ম‌তো- চরম উদ‌্যম উন্মত্ততায়,  তোমার আঁকড়ে থাকায়  মেয়েলি প্রহর স্বর্ণলতা হয়ে বেড়ে ওঠে তোমাতে নির্ভরশীল হয়ে।

আসলে তোমায় কতটা  খুঁজি  বলতে পারি না, আসলে   তোমার ভেতর একটা জানালা খুঁজ‌ছি- মু‌ক্তির, সহস্র মৃত‌্যুর অঙ্গীকা‌রের, আগলে রাখা জন্মান্তরের ,
....যেখানে  সম্পূর্না নামে এই ব্রহ্ম চিনে নিতে পারে অবিনশ্বর চিরন্তন থেকে যাওয়াতে ।




কবিতা নয়


সবটাই হারিয়ে ফেলার পরে পড়ে থাকা শূন্যতার অসুখ...।
 বারান্দা থেকে  ছুঁড়ে ফেলা সূর্যাস্তের রঙ যেন বলে যায় পারলে আবার জন্ম নিও শুধুমাত্র  আমার জন্যে। 
বহু দূরে অসমাপ্ত গল্পদের  স্তম্ভের চূড়ায় অজস্র ঋতুর দল শূন্যতা ছড়িয়ে রাখে এই কান্না ঝরে পড়া বেলায় ...,
 যেখানে বধিরতা উড়ে যায় অলক্ষ্য কবিতা সংলাপে দিকেই। 
কাচের দেওয়াল গ্রাস করে অজস্র  চিহ্ন ও মায়া মোহ প্রেম অভিমান ভালোবাসার অবশিষ্ট হয়ে।

 হারানোর অসুখে ভরা উঁচু অশ্বত্থের ডালে তখন একসাথে অনেক জোনাকি রাত জাগলেও তারা প্রত্যেকে ভালোবাসায় ব্যর্থ নয় .....,, তাই মৃত্যু এখনো কাঁদায় কাউকে কাউকে ।

 এখন গঙ্গার মৃদু ঢেউ ফিরে আসে অ-সুখ জড়ানো একলা মেয়েটার পায়ের  কাছে... অস্থি বিসর্জিত  জল ক্রমশ দূরের হয় .....বুকের কাছে দলা পাকানো কান্না আড়াল করতে অফিসের টেবিলে ব্যস্ততা খুঁজে নিতে থাকে রোজনামচা।


খেলা শেষ

ক প্যাকেট ধূপকাঠি  আর পুরোনো গল্পের আঁতাত নিয়ে এই গঙ্গার পারে মৃত্যুর সাথে তিনপাত্তি খেলছি গত কয়েক ঘন্টা , 
যন্ত্রণার সিম্ফোনিতে  না থাকার ধোঁয়া ধোয়া রুফকনসার্ট আকাশ ছুঁয়ে ফেলেও আমি একাই এই সফরে আমার সাথে রয়েছি,
একলা একটা মানুষ আর কত কি সহ্য করতে পারে নাগরিক দৃশ্যে খুঁজে নিতে কষ্ট হয় না  ,,

ছড়ানো প্রেমে ভাঙা কাঁচে  রক্তাক্ত সংলাপ লেখা ঔঙ পত্র চেনা দুয়ারে টোকা মারবে কিছুক্ষন পর ,
টেলিফোনের ব্লকলিস্ট  অজান্তে RIP শব্দের  চাদরের আড়ালে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়বে  পুরোনো স্মৃতি রাখা কাহিনী।
হলুদ পাখি আর কখনো পারিজাতীয় বসন্তের আবদারে ডেকে নাই বা উঠলো ,, 
গুছানো তাসের ঘরে শতাব্দীর সুরক্ষা কবজে গুপ্ত মৃত্যু ঘটে যাবে কেউ জানতে পারবে না .....কেউ সে সৎকারের খবরও পাবে না ।
ভালোবাসার ফিক্স ডিপোজিট ভাঙ্গিয়ে কিছু কবিতার জন্ম শুধুমাত্র চারফর্মার জীবনে মৃত্যু সাথে তিনপাত্তি খেলতে শিখিয়ে দিলো ।
বুকের কাঠামোয় চিতার আগুন আগলে গঙ্গা আমি আর মৃত্যু তিনপাত্তি  খেলছি ।

সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

বর্ষাতি তোপ

 এ শহরের তুমি সেই আগের তুমি নেই ....

এ শহরে আমিও আর আগের মত তোমায় খুঁজিনা তাই ,

বর্ষাতি তোপে নাগরিক পারাপার

ভুলে গেছে এ শহর  কে কাকে শেষ কবে ছুলো,,

তবু পুরোনো  খোঁজে হারিয়েছি অগুনিত ধারাপাত, ,
 ব্জ্যামিতি আঁকছে  শব্দের কলোনি গলিগুলোয় । 

টবের গা ঘেঁষে বৃত্ত জলের ছাপ কুয়াশার বুক চিরে ।
দূরে বেঁধেছে পাখিদের ঠোটে কাড়াকাড়ি  জীবন সংগ্রাম।

জলের আবদার  আর কেউ নেই তেমন,

  সে কথা রোজ লিখে রাখি ভোরের প্রথম আলো যে জানলার কাঁচে ঘুম ভাঙাতে আসে ।

pain can change behaviour of heart

শহরের বুক জুড়ে এখন ধ্রুপদী শীতহওয়া ,
বাহারি ফুলের ভেতর নতুন করে ভুল করার অপেক্ষা যখন বেদুইন সময়কে সাথে নিয়ে  তোমাকে চুমু খাওয়ার প্রচণ্ড লোভ সামলে উঠতে পারি না আমি  ,, 
সমস্ত পুরোনো অধ্যায় হঠাৎ করে অপাপবিদ্ধ মনের কাছে সাদা পাতা হয়ে যায় ।
এই খাঁ খাঁ বুকের ভেতর তোমাকে জড়িয়ে থাকা চুড়ান্ত লোভ থেকে নিস্তার পেতে ইচ্ছা করে না  ,
নিষিদ্ধ বুনো গন্ধ মেখে স্নান সারি দেহ মনে ,।

উষর কুয়াশার  অন্ধকা‌র  ঘর দখল করে 
তু‌মি খুব সং‌গোপ‌নে প্রেমিকের  ছদ্ম‌বে‌শে 
আঁততায়ীর ম‌তো এসেছো বারংবার,
 আমার চৌত্রিশের স্তনে তখন কাঙ্খিত  ভোরের আলো ,,
যোনিতে মুখ রেখে উদোম চাষার মত তখন তোমার মাটি ভিজিয়ে ফেলার নেশা ,
আমার গতর চুইয়ে বয়ে যাওয়া আগুন তোমার সমস্ত সামাজিকতা থেকে  তোমাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে ।
 ,.......আমি আরো লোভী হয়ে উঠি .... প্রতিবার  এভাবে তোমায় নষ্ট পুরুষ করে  আমার বিরান মাঠে ফসলের নকশা সাজানোর উদ্দেশ্যে  ....ব্যথার খরিপে রাখি সাদা ফুল রাখি এমন প্রতিটা অধ্যায়ের উপসংহারের শেষে ।





meet me where the end begins in echoes ...

সকালে ঘুম ভেঙে বুঝলাম অনেকটাই আবছা হয়ে গেছে জল ও সম্পর্কের সমীকরণ এর দাগ ,
এই বছরভর জল আর বুকের তীব্র ভাঙ্গন ছিল মারাত্মক ,,
গোপন যন্ত্রনা আড়াল করতে করতে কাঁচ জানলার ওপারে প্রিয় এসরাজে ধুলোর পরত জানিয়ে দেয় অনেক দিন পর উৎসব ও শোক সবটাই ফিকে হতে হতে মনের আড়ালে হারিয়ে যায় , 
মানুষ বাঁচে কিসের জন্য ? ক্রমশ আগুনের ভাষা মানুষের চরিত্রে কঠিন স্বভাব পরিয়ে দেয় , 
ভেসে থাকা তখন এক মাত্র উদ্দ্যেশ্য  এই বয়ে চলা ভিড়ের শহরে , যন্ত্রনা ও ভালোবাসা দুই মানুষকে বদলে দেয় অনেক খানি ........,
তবু এই যে ছুঁয়ে থাকা  এইটুকুই তো নিরাময় ..
অথচ নিরাময় জুড়ে প্রিয় তুমিটাকে না ছুঁয়ে থাকা ,
আমার হাত ঘড়ির কাঁটায় সময়ের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে .....Meet me , where the end begins in echoes ... Where your world is me and my world is you 🌼🌼

তারাখসা

ক্রমশ খসে পড়ে আমার  হাত... পা- আঙ্গুল , হৃৎপিণ্ড .. এমনকি একটা কিডনিতে  লিখে রাখা শেষ ফুটনোট-টাও...,,
 
হাঁটতে গেলে দু-পায়ে জড়িয়ে যায় কবিতার ...  রঙচটা শব্দরা ,
 গুমঘরে আঙুলের ছায়া নেমে আসে পুরোনো ফেলে আসা অবৈধ মায়ার ,
... বৈজ্ঞানিক দাড়িপাল্লায় নিজেকে বসালে বুঝি 
ধর্মতলায় সেদিন যাওয়া কতটা ভুল ছিলো,
... কাঁকড়াদের স্তোত্রপাঠ শুনি এ কলকাতার সোনার বাংলার সুইমিংপুলে ,
... আর ঠিক তখনই  নখের আঁচড় দিয়ে  চেনা  বন্য গন্ধ লিখতে ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দেওয়া   নিজের শরীরে...,,।
তখন  ভেবে দেখিনি... কী কী ভুল করতে পারে এই নিয়মিত হয়ে থাকা যাপনটা।
 কিংবা অ্যাসট্রের ভেতর কতটা  আমার পুড়ে যাওয়া হাড় জমলে... সমুদ্র হ'‌য়ে যায় তোমার হঠাৎ হঠাৎ বেকারার হয়ে ওঠা  মন ,,
 । 
শুধু পক্ষ থেকে পক্ষান্তরে জমিয়ে গিয়েছি পালক... আর হাঁড়িয়ার মতো কিছু অপরিণত ফটোগ্রাফ...
Copyright @সই






সংঘাতহীন নিঃস্বতা

প্রতিটা দিন প্রতিটা শব্দ পড়তে কিংবা জানতে হবে তার কোনো দরকার নেই , 
এই পৃথিবীতে অজস্র গোপন মৃত্যু আছে ...আছে গোপনে পুড়তে থাকা মানুষের মন , সব টুকু ওই খাতায় তুলে রাখতেই হবে তার কোনো দরকার নেই , তোমার সতেরো দিনের প্রেম ভেঙে গেছে বলে রোজ গালাগালি দিচ্ছ , 
আমার সাত বছরের ভালো -বাসা চুরি হয়ে গেছে আমি কাকে নালিশ করবো এই শূন্য হাড় পাঁজরে ঘরকন্না ভাঙার ! 
শুধু জানি যে চুরি গেছে তা আমার ছিলো না কখনো ...
শুধু বুঝি আমার ঘর যে ভালোবাসা হীন করেছে তার ঘরেও চুরি অনিবার্য ....
শুধু জানি সবার সামনে সময় একদিন নতজানু হয় ....।
 কখনোই  কোনো নালিশ নেই কারো ওপর ....মা জন্মের কয়েকদিন পর রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল, নালিশ কিংবা কোনো প্রশ্ন করিনি আজও , 
বাবা কখনো অন্যদের মত স্কুলে নিয়ে যায়নি নালিশ কিংবা প্রশ্ন করিনি কেনো !
প্রিয়তোষ উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্ট এর আগের রাতে বুকের কাছে আমার মুখটা ওর দুহাতে নিয়ে বলেছিলো আমি আছি তো ভয় কিসের ....তারপর কত রেজাল্ট বেরোলো প্রিয়তোষ হারিয়ে গেছে অজানা ভয়ে কিংবা আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে অসম্ভব ভয়ের দিকে,,
 আজও প্রিয়তোষ কে নালিশ কিংবা প্রশ্ন করিনি কেনো এমন করে পুজোর ফুল পায়ে মারালে !

.....শেষমেশ  ঋষিকেশ বলেছিলো সাথে থাকা পাশে থাকা এক নয় ....বলেছিলো আমি তার দেখা নারী চরিত্রে শ্রেষ্ঠ,, 
,বলেছিলো একদিন পাহাড়ে ঝর্ণার গায়ে  ঘর বাঁধবো,,   বলেছিলো আমার যন্ত্রনায় পুড়িয়ে ফেলা ২০৬টা হাড়ের আড়ালে ধুকপুক টুকু বাঁচিয়ে রাখতে , বাকি রাত ফুরোনো একটা নতুন সকাল তার আমার হবেই বলেছিলো ।
একদিন ঋষিকেশ নিজেকে হারিয়ে ফেললো গোধূলির শেষ বিকেলের রাঙা রঙ্গে পলাশ খোঁপার বাঁধিনে র আড়ালে ,,,,,
আমি বুঝেছিলাম যা কাউকে বুঝতে  দিইনি  সে সব না বলা যন্ত্রনা ,,,  আমি দেখেছিলাম যা কাউকে দেখতে পারলে নষ্ট প্রেম হতো এ উপন্যাস,
পারিনি বলতে ,পারিনি দেখতে ,পারিনি  অন্ততঃ ঠাটিয়ে একটা চড় .....তুলতে,,  ,
 আর তাই  আমার কোনো অবাধ্য  প্রশ্ন নেই নালিশ নেই .....পৃথিবী যে ভাবে যেমন আছে সেটাই ঠিক .....
আমার কোনো নালিশ নেই .....চাওয়া নেই ,
নেই একটাও সমুদ্রে স্নান সারা নিঃস্ব কবিতা ,,,
মা , বাবা ,প্রিয়তোষ ,ঋষিকেশ ,পারলে আমার হাতের রেখা নিতে পারো , আরও উপহার হয়ে পড়ুক আমার চিতার ছাই তোমাদের দুয়ারে  যে কোনো ভালোবাসার দিনে ,,
 আমার যে নালিশ কিংবা যন্ত্রনা কিছু নেই । .....ভেবে দেখো এই স্বার্থের দুনিয়ায় এমন করে আর কে নিঃস্ব হবার  ব্যর্থ হবার জন্য মরিয়া হযে চাইবে !!

শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১

হাইওয়ে জংশন

একটা প্রেমের অপেক্ষায় হাইওয়ের পাশে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে কেউ ,শীতের সালতামামি একে একে ঘিরে ধরে  তাকে ,
কার যেন নরম  আঙুল ছুঁয়ে কবীরের দোঁহা গড়িয়ে নামে ... তবু প্রেমের ঘরে পুরোনো আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরে একটা জীবন  বাইরে সাজিয়ে রাখা,
একটা জীবন  এখনো দেখেনি কেউ।

জীবনের গায়ে পোড়া কাঠের দাগ ; 
এত সহজেই কি মুছে ফেলা যায়... চোখের কোনে বাসি কাজলও  গোপনে অভিসার সেরে নেয় নিজের মত করে,
তবু পারিজাতীয় ভালোবাসা যত্নে গুছিয়ে রাখা থাকে প্রতিটা মানুষের না বলতে পারা কাহিনী গুলোতে ।
 যেটুকু জানা যায় সে সব দেহ মন রোজ প্রেমের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে এই শহরের বিভিন্ন হাইওয়েতে । তারা একটা কবিতা তুমি আমি থেকে ভালোবেসে কবিতায় হঠাৎ করেই  ফুরিয়ে যায় বিনা সংকেতে  ,
শব্দের দুনিয়ায় শব্দহীন হতে হয় পাশাপাশি বাড়িতে থেকেও।







বস্তুত

খুব হিসেবে থেকেও জমানো পুঁজি দিয়ে 

একটা  জমি কেনা হলোনা , 
অথচ আ‌মি এই মাটির ওপর বেড়ে উঠলাম আকাশ সাক্ষী রেখে  ,
 সূ‌র্যের সবটুকু আলো বিকিয়েও   একটা আকাশ কিন‌তে পা‌রি‌নি নিজের চোখের মাপের ,   ,,
 নক্ষত্র জ্বে‌লে সাজা‌তে পা‌রিন‌ি  প্রেমিকের একটা রাতও
খুব একা‌ন্তে ব‌্যক্তিগত এসব না পারা রাখি গোপন করে ,
অথচ আমিও   আকাশ প্রিয়‌  পাখি হতেই চেয়েছি....চেয়েছি  একরা‌ত্রি নক্ষত্র ভরা নিজস্ব আকাশ ,
 
দু‌চো‌খের সব জ্বালা বি‌নিম‌য়ে কেউ বে‌চে‌নি আমায়
 আকাশ কিংবা   নদী;
তাই  পারিনি ভালোবাসায় ভাস‌তে ও ভাসা‌তে ।

শুধু তৃষ্ণা ছিলো কোনো একদিন পুরোনো কলজের  পুড়ে যাওয়া ঘায়ে আত্মিক শুশ্রূষার ,

 আজ শুধুমাত্র আগুন লা‌গা‌তে পা‌রি যেখা‌নে সেখা‌নে জমানো খড়কুটো দেখি আশ্রয়ের নামে ,
আসলে বু‌কের বাতা‌সে পু‌ষি মায়াহীন ব ধু ধু দাবানল. . .।

সমর্পণ-বেলা

 শরীরের তিন ভাগ  এখন ক্ষত ও একভাগ  বাকশক্তিহীন লোনাজলে ভরা। 
 সমুদ্রের দিগন্তরেখার কাছে এককালে সূর্য উঠতো , 
এ বিকেলে সেসব দিনগুলো আলোধোয়া স্থবির বিস্ময়। 
অজ্ঞাতবাসের দিন বদলে ফেলেছি  এভাবে....তার খুব কাছে থেকেও আর নেই কোথাও ,,
 তবু ভালোবাসার শহরে  ... সাদাকালো বিজ্ঞাপনে ছিপ-নৌকোর চলাফেরা চলে রোজ রোজ  ...।
 কড়িকাঠের নিপুণ অন্ধকার ও বেশকিছু উদ্ভট চুক্তি লিখে রাখে প্রেমিক প্রেমিকা। 
নক্ষত্র সাজিয়ে বজ্রাহত বুকের ডালে ফুল পাতা ঝরে যায় নিয়ম মেনে।

 অজান্তেই একদিন মার্জিত অস্ত্রাগার ক্রমশ সেপাই শূন্য হয়ে পড়ে, 
যেন জীবন একটা  চড়ুইভাতি
যেন পাঁজর ভেঙে গেছে কোনো আকস্মিক দুর্যোগে।

 .. বানানো ভালোবাসার ঘায়ে পুঁজ রক্তে লেখা  নোনা  চিঠি ডাকবাক্স নেয়না জেনেও  
 . .  মাধ্যাকর্ষণের টানে  বৃথা প্রচেষ্টা যেন বদ অভ্যাস।
আজকাল মেঘলা দুপুরের খোঁজে কোথাও যেতে হয় না  সেভাবে ,কোনো মন খারাপের  কিংবা একলা বিকেলে রাখি না কবিতার খাতায়  ,
 সব অস্ত্র এখন  রেখে এসেছি অলস প্রবাহের মায়া বিহীন কালাপানির দেশে 
 রাতের ঘুমচোখে এঁকে গেছি  যুদ্ধ শেষের ক্লান্ত ছবি ।

   আঙুলে ও ঠোঁটে জ্যামিতিক চিহ্নেরা  সজনে গাছের ফিসফিসে আলাপে বুঝিয়ে দেয়   আমার শিকড় হারিয়ে ফেলার অসহ্য যন্ত্রণা  আমাকে কুঁকড়ে দিতে পারে না ... ।

নিজস্ব সমীকরণ

পথ বলে যা ভাবা হলো তা কেবল দ্বিধা ছিল ,
 বৃষ্টির সমীকরণ মেলেনি কখনোই সেখানে ।
শীত যখন বোধির নিশ্চিহ্নতায় ক্রমাগত ধুলো মাখা পুরোনো কার্ডিগান খুঁজছে ক্রুশ কাঠে জড়িয়ে তখন পুরোনো ভালোবাসার পালক  অন্য ঠিকানায় অনুগল্পের আসল ভূমিকায় ব্যস্ত।
 মানুষ নিঃসঙ্গতা খোঁজে শব্দের বুকে মাথা রাখবে বলেই ,
বুকের শব্দে নিজের প্রতিকৃতি আঁকা হয় না তবুও ,
সুনীলবাবু এসব কথা হৃদয়ের বিনিময়ে কিনেছিলেন বলেই তাকে দেওয়া মানুষের আজও কেউ কথা রাখেনি , আর সে কবিতা এ শহর আজও বুকের আক্ষেপে জমিয়ে রাখে,,
আর তাই দিনেশচন্দ্র সেনের  পুঁথির হলদেটে আলো আজও বিকেলের আকাশে মিলিয়ে যায় , ম্যারিনা বিচে সমুদ্রে ওপর।
আজ শহরে সদ্য মৃত যে নক্ষত্রটা 
খসে পড়লো  সে ঠিক কতদিন জ্বরে ভুগেছিল  জানা হলো না , জানা হলো না আমার গা এর উষ্ণতায় ছোঁয়াচে বিলিকরণ ছিলো কিনা ।
তবু ক্যানভাসে কবিতা যখন ছবি পড়ে  সঞ্জয় বাবু  রিপু করে নিতে চায় বিয়াল্লিশ ছুঁই পড়ন্ত বিকেলে হৃদয়  তখন বুঝি ভালোলাগা গুলো এখনো মাঝে মধ্যে নিঃশ্বাস নেয় ।
 অথচ ভালোবাসা কি ! খায় না মাখে বুঝিনি  এ জীবনে ..... এমন জরুরী অনেক জীবনসংবাদ আমি কখনো সেভাবে বুঝিনি বলেই  "তাহাদের কথায়" থেকে যেতে পারিনি ,
তাই হয়তো এখনো স্বপ্নের রঙের চেয়েও শীত ঘুম চিরকালের মতোই  আমার প্রিয় হয়ে থাকলো।।
..

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১

কাঁচের সংলাপ

দুঃখে বেঁচে থাকা ভালোবাসার জন্যে মৃত্যুই একমাত্র পথ মায়া কাটাবার , 
সৎকারে  আগুন দরকার হয় জলের আগে , 
পটভূমিতে কিলবিল করছে কেঁচোর যাপন ....
রেংতে রেংতে ছুঁয়ে ফেলা মাইলস্টোনে গঙ্গা লেখা নিমন্ত্রণ পত্র সময়ের ডাকপিয়ন দিয়ে যায় ,,
কাঁচের সংলাপ লেখা কাব্যগ্রন্থ থেকে প্রতিটি শব্দ ভেঙে যাওয়া দেখতে পায় শুধু ঈশ্বর , 
নিয়মের কাঠপুতুলের মাথার ঝুটিতে সুতো বেঁধে হাতি ঘোড়া পালকি জয় কানাইয়া লালকি  ,, 
আমি জীবন মানে শিরদাঁড়ায় ভর বুঝি .....বুঝি নিজের জমি বর্গবিহীন চাষ , তবু বারংবার শিমুল তুলোর নীচে সম্পর্কের বীজ পড়ে থাকে ঘুমন্ত মাথা বুকে আগলে , 
অথচ হেমন্তের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটা না হওয়া সংসার আজন্ম অতৃপ্ত রয়ে যায় ,
মৃত্যু আসে দু ভাগে ................,
একটা অর্বান কাব্যিক সন্ধ্যায় এক কাপ চায়ে চিনি গুলে নিতে নিতে নিজের অজান্তে সময়ের শরীরে মধুমেহ রোগ ধরা পড়ে ,  
ভালোবাসা ছেড়ে চলে আসতেই হয় পুরোনো অভ্যাসের মতো ,
সিলিংফ্যানে কবেকার মন খারাপ ইয়াদ করিয়ে দেয়  .....কেউ কখনও বলেছিল   " আ-চলকে তুঝে ম্যায় লেকে চলু এক  এয়সে গগন কে তলে ....যাহা গমভি না হো ...আঁসুভি না হো ..বাস প্যেয়ার হি প্যেয়ার'......  ,, হাহাহাহা বোকার হদ্দ 
একটি হাসির জন্য আমরা কান্নায় বেঁচে থাকি. সারাটা জীবন .....  একটু ভালোবাসার নামে দুঃখ কিনে নিই সমস্ত জীবনের পুঁজির বিনিময়ে ।
ভুলে যাই এই সব লেনাদেনা আসলে শুধুমাত্র কাঁচের সংলাপ লেখা ঠুনকো কাব্যগ্রন্থ ।


কুছ পল জিনে দো

ছেচল্লিশের বুকে ইস্তাবুলের ঘোড়া দৌড়োচ্ছে ...

জনসাধারণের সাথে মিশে আছে আমার মত মেয়েটার চেয়ে থাকা , 
ঘোড়ার কেশরে সময়ের বাতাস ....ছেলেটা অংকের খাতায় সিঁড়ি ভাঙা অংকে বারংবার পা পিছলে পড়ছে ,, 
জনগণ চেঁচিয়ে উঠছে মাঝে মধ্যেই আরো জোরে আরো জোরে ....ছেলেটার বুকে ইস্তাবুলের ঘোড়া দৌড়াচ্ছে দিন রাত্রির , 
 গত বাহান্ন দিন ভালো করে ঘুমোতে পারেনি সে সময়ের ভূমিকম্পের কারণে ,
 চোখের উপকূলে অজস্র রাত লিখে রাখা কালো সভ্যতা , 
...এ সভ্যতা ইতিহাসে জায়গা পাবে না জেনেও ঘোড়ার পিঠে আরো জোরে চাবুক চলছে আর ছেলেটা সিঁড়ি ভাঙা অংকের সিঁড়ি পিছলে পড়ছে ।
ছেলেটার নষ্ট চাঁদে বদ রক্তের কলঙ্ক .....মেয়েটার অপেক্ষার দৃষ্টি জনসাধারণের সাথে একাকার ।
ধর্মতলা কখন যে ঘোড়া দৌড়ের মাঠ হয়ে গেছিলো ছেলেটা বা মেয়েটা কেউ বোঝেনি , 
তবু মাটির বুকে ঘোড়ার পায়ের শব্দ জব্দ দুটো হৃদয়ের মাঝে অদৃশ্য তরঙ্গ সেতুর ভেতর খেলা ভাঙার খেলায় মেতে ওঠে যেকোনো ব্যস্ততম দিনেও  ।

বলবো না

খেলার চালে শেষ দান ফুরিয়ে গেছে , ...... কখনো কেনই বা বলবো হারলাম না জিতলাম !  সময়ের পাতায় পাতায় কৃষ্ণের পায়ের কাছে অর্জুন বসেছিল সে দিন থেকে আর মাথার কাছে দুর্যোধন। , 
রোদ্দুরের মত এ শহরে আমার একটা অহংকার রাখা আছে,  রাখা আছে অর্জুনের জিতে যাওয়া বিজয়ের ঘরে ফেরা অখন্ড জ্যোতি,
 ....রাখা আছে দুর্যোধনের হেরে যাওয়া নতমস্তক ,   তবুও আর কখনো ইজহার করবো না আসলে আমি দড়ির কোন টানে আছি ।
আর বলবই বা কেনো !...এ শহরে শেয়াল সন্ন্যাসী হয়ে আমার আনকোরা বিশ্বাসের মুখাগ্নি করেছে ,
সমস্ত নিষ্ঠার আয়নায় পাপের রক্ত ক্ষরণ এ শহর মুখ বুজে দেখেছে ।
হার জিতের শেষের দান ফুরিয়ে গেছে ...যেমন কোনো কাব্য একদিন শেষ হয়ে যায় ...।
যেমন পথ চলতে মানুষ হারিয়ে যায় আচমকা ...।
যেমন প্রশ্ন উত্তরের থেকে অনেক দূরে বুকের চিনচিনে না বলতে পারে যন্ত্রনা , 
যেমন বেঁচে থাকতে গেলে সুইচ অন , সুইচ অফ , শিখে ফেলা ।
আমি  ঘুমন্ত কৃষ্ণের বিছানার কোনদিকে অপেক্ষা করছি বলবো কেনো -- ।
জানলা খুললেই শুকোতে দেওয়া যন্ত্রনা দের আর আমি দেখতে দেবো না সময়কে ,
আমি ঈশ্বর বুঝি না... বুঝতে চাইওনি কখনো, হয়তো আগামীতেও চাইবো না   ,  , সময়ের কাঠগড়ায় আমাকে আর কেউ দাঁড় করাতে পারবে না ...,হার জিতের শেষ দান ফুরিয়ে গেছে ...
বিছিয়ে রাখা বহু মৃত্যুর বুকে  ঠিক কিসের বীজ  রাখলাম বলবো কেনো!!

সবাই জিততে আসে

আমরা সবাই জিততেই আসি ,
কেউ কি হারতে চাই?
সেদিনও একপাল প্রেমিকার লাইনে ছিল টানাপোড়েন, 
আসলে ভালোবাসা ধারাপাত চেনে না ,....মন দিয়ে সবটা বুঝে নিতে চায়,
সেদিন ছিল অভাবী দিন  এখন সেসব দিনের কথা উল্টে গেছে ...,,
আজকাল সম্পর্কের বুকে সেই শুকনো মাটি  আর নেই 
ভালো থাকতে আজকাল ভালোবাসার সংখ্যায় শতরান জরুরী ,।
 শহরে রেশমী শরীরের গল্প ছড়িয়ে আছে বলেই ...আমার মত বোহেমিয়ান এ শহরের প্রেমে বেমানান ,।

বুকের পাশে অদ্ভূত যন্ত্রনা বাড়ছে দিনদিন ,
Ecgমেশিনে আজকাল বেঁচে থাকার অকারণ ধরা পড়ে অথচ যন্ত্রণার কারণ ঝাপসাই রয়ে যায় ।

যাকে সবটুকু গোপনে বলতে শুরু করেছিলাম 
সেই আমায় বারোয়ারি মঞ্চে কোনো এক সংখ্যা আখ্যান দিয়ে  এগিয়ে গেছে আগামীর দিকে ।
শেষ বার বোকার মত বাঁচতে চেয়েছিলাম অনিবার্য হত্যার সিরিজে দাঁড়িয়েও ।
আমি চিরকালীন এক বোকাচোদা হয়েই রয়ে গেলাম ।



উপন্যাসিক উজ্জাপন

গত চব্বিশ ঘন্টায় পারিজাতীয় সঙ্গমে সামিল ছিল বছরের শ্রেষ্ট উজ্জাপন , 
সময়ের গা চুইয়ে গড়িয়ে নেমেছে অজস্র আদর ,

জীবন বৃত্ত মুহূর্তে পরিপূর্ণ আলোকধারায় , 
আগামী বহুদিন আর বৃষ্টির প্রয়োজন হবে না , 
হবে না অভাবী কোনো মুহূর্তের টানাপোড়েন ।
বিছানায় একান্নতম ভালোবাসা  আর কাব্যিক সঙ্গম বুঝিয়ে দেয় উৎসবের গভীরে আরেক উৎসব লুকিয়ে থাকে .......।
লেপ্টে থাকা পারিজাতীয় জ্যোৎস্নায় অকালবোধন প্রেম ...., বোধনে হারিয়ে যায় শতাব্দীর দেওয়া অভিমানী দুঃখরা । 
জাতীয় সড়কে তখন ব্যস্ততম মনখারাপ বুকের চিনচিনে ব্যাথায় হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণ এ মাতোয়ারা জীবনযাত্রা । 
এমন উজ্জাপন রোজ আসে না এমন ছুটি রোজ মেলে না ,
তাই উৎসবের বুকে চাপা পড়ে যায় না বলা অনেক অকাল মৃত্যু .....সে সব মৃত্যুগুলোকে  সাজিয়ে গুছিয়ে কবিতার  বা কাব্যের কফিনে শুইয়ে রেখে সুইসাইড পয়েন্ট থেকে ছুঁড়ে দেওয়া হয় অনন্তের দিকে ,,
 গত চব্বিশ ঘন্টায় এমন অজস্র অপাংতেয় জমানো মুহূর্তর মৃত্যু বুকে দাপিয়ে বেরিয়েছে পারিজাতীয় উৎসব উজ্জাপন , 
গত চব্বিশ ঘন্টায় এমন অনেক জমানো মুহুর্তে র গাল  বেয়ে অভিমানী কান্না দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হয়েছে কাব্যিক সঙ্গমের শেষে পড়ে থাকা  শরীর ।
উৎসব যে এমন করেই চিরকাল সময়কে আড়াল করে নতুন উপন্যাস এর ভূমিকার দোরগোড়ায় পা রেখে ।
গত চব্বিশ ঘন্টা গঙ্গা তুমি সাক্ষী থেকো ......।

বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১

খইয়ে লেখা ...

উড়ন্ত খইয়ে দীর্ঘ বছর ষোলোর যন্ত্রনা ...
যেন মুক্ত কোনো সোনার শেকলের খাঁচা থেকে এক বোবা পাখি ।
টিমের কিল ঘুঁষির সংসারে ভালোবাসা কেবল যন্ত্রণার আর এক নাম , .....মনে পড়ে সব মৃত্যু দেখতে এক নয় বুঝেছিলাম বছর ষোলো আগে কোনো এক বর্ষবরণের দিনে ,
শাখা সিঁদুরে যে মৃত্যু আমায় ঘিরে ছিল নাগপাশে ....বর্ষবরণ এর দিনে সে মৃত্যুর রঙে আরো গাড় রং গুলে দিয়েছিল সময় , সময়ের পেন্ডুলামের প্রতিটা দোলন নতুন মৃত্যুর কাহিনী লিখতে শুরু করেছিলো ।
আজ উড়ন্ত খই এ ভর করে একটা আকাশ পাওয়া যায় প্রথম বুঝেছি ।।
সংসার খেলায় আমি চিরকাল মাথায় চৈত্রের রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম .....দাঁড়িয়ে ছিলাম 
নিয়মের প্রহসনে সামাজিক কাঠগড়ায় ,,
আমার রূপ রং গুন দিয়ে যন্ত্রনা কিনেছি নিরাপত্তার খেমটা নাচ ।।
আজ রাস্তায় পড়ে থাকা বিদায়ী খই বলে দেয় কিছু মৃত্যু জরুরী বেঁচে থাকার জন্যে ,
প্রতিটা ছড়িয়ে থাকা খইয়ে জীবনের খসড়া লেখা আছে ...সে কেবল সময় পড়তে পারে ।

মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১

আমার প্রেমিক এর মৃত্যু


অযত্নে  মারা গেল আমার একনিষ্ঠ প্রেমিক ,

শুধুমাত্র প্রেমিক তো বটেই আমার প্রিয় কবিও ছিলো সে, 

ওর শব্দের লহমায় আমার ক্যানভাসে রঙের মেলা ছিল সমস্ত ঋতু জড়িয়ে ....কখনো কখনো তার  কবিতা শুনতে  চাইতাম উলংগ কবির মুখেই আর  জড়ো করতাম রঙের জোগানদার।


মারা গেল আমার একনিষ্ঠ সহৃদয় প্রেমিক ,, অথচ আমার কান্না পাচ্ছে না ,..একলা লাগছে না , .....আগুন ছুঁইয়ে এলাম এই মাত্র তার শীতল বুকে , মুখে , কপালে , অথচ আমার প্রেমের সুখ পুড়লো না এতটুকু !!

তার মৃত্যুর পাশে আমার উদ্দ্যেশ্য লেখা তার পাণ্ডুলিপি বলে গেল মৃত্যু জীবনের কাছে তুচ্ছ ,

হারিয়ে যাওয়া পাওয়ার কাছে তুচ্ছ ,

কুমকুমের লাল রং যতই গাড় হোক না কেনো 

ভালোবাসার রঙের কাছে সে টেকে না .......

আমার কবির মৃত্যু আমি দেখলাম , কবির মাথায় হাত রেখে বললাম তুমি যাও , আমি আসছি ....আমার কিছু পাপের মুখে মুখাগ্নি বাকি ....সে সব হিসেব নিকেশ সেরে তোমার সাথে বাঁচবো ,মাটির দুহাত নীচে ।


 মরবার আগে অনাত্মীয় হতে হতে আমাতে ঠেকেছিল সে প্রেমিক কবি , অথচ একদিন তার সাধন সঙ্গিনী অজস্র আকাশের তারা ছিলো, 

আমায় সে তাচ্ছিলে রাখতো বলেই জেনেছি ,,

অথচ আজ এই মৃত্যু দিনে সে প্রেমিক কবির পাশে  কেউই এসে বলতে পারলো কই "একটাও কবিতা কিংবা মলাটি ভালোবাসার কথা" ,  অথচ সে নামকরা কবি প্রেমিক ছিল একদিন।

মৃত্যু দিনে ছিলোনা শতাব্দীর অজস্র কুমকুম রঙের বসন্ত পলাশ , ছিলোনা "ভালোবেসে কোনো কবিতা"।

 

ছিলো এক সাঁওতালি কালো  মুখ  ....

যাকে গোপন নামে প্রেমিক শব্দ উৎসর্গ করতে করতে  ছুঁয়ে গেছিলো অগুনিত জীবনের মাইলস্টোন ।

আজ আমার প্রেমিক এর মৃত্যু হলো .....

মৃত্যু হলো এ শতাব্দী অপেক্ষার ।

তার জ্বলন্ত চিতার ধোঁয়ায় এ শহরে কান্না নামুক আকাশ জুড়ে .......আমার যে আজ আর কান্না পাচ্ছে না ,

তার চিতা নিভে যাওয়া ছাইয়ের ঘন কালো শোক নামুক তিলোত্তমায় .....আমার যে কোনো শোক নেই আজ আর , 

আমার প্রিয়তম কবি ও একনিষ্ঠ প্রেমিকের আজ মৃত্যু হলো ।

.


শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১

উপন্যাসের শেষ পাতায়



রাত্রির খামে ভরে রাখছি  মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া ইচ্ছা দের 
সেই খামের ভেতর কিছু খই রইলো একটা পুরোনো  ঠিকানার জন্যে  মুড়ে রাখা,
 অমিতের দোকানে একটা ঠিকানা মাত্র বুঝে নিও তোমার উদ্দেশ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ।
, ভেসে যায় যাক  স্মৃতির শহর

আর কেউ নয় আমি শুধু রেখে যাই উড়ান খবর
তোমার জানলার দুহাত নীচে ,
এ শহর এ গলি আমার নিজস্ব নয় ,
এমন  কি আমার তুমিটাকে অনাদরে বিলিয়ে দিয়েছো সময়ের রঙে , 
বড্ড অচেনা এই কাব্য ....উপন্যাস এর শেষ পাতায় নিরলঙ্কার মৃত্যু মানায় না জেনেও 
আমি ভিক্ষা বস্ত্র খুলে দিয়েছি ,
নিজেকে ঈশ্বর এর এক ধাপ ওপরে রেখে ফিরে এসেছি দেহ টুকু নিয়ে , 
একদিন তুমি নামক পাথরের কাছে বেমালুম উৎসর্গ লিখে সব দৃশ্যের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি ।
তোমায়  অযথা আর কখনও পিছু ডাকিনি ,
রাখিনি মায়ার কোনো রিংটোন , 

....শুধু স্ক্রিন সেভারে আজও  গত শীতে রেখে যাওয়া দু ফোঁটা ভালোবাসা এখনো ভীষণ সত্যি হয়ে রয়ে গেছে ।

বাহান্ন সপ্তাহ

বাহান্ন সপ্তাহ পর সমীকরণ গুলো মিলে গেলো....
মিলিয়ে গেল জীবনের বহতায় অনেক দৃশ্য,
সেদিন ছিল........
....দু পা এগোলেই অদৃশ্য বহতা জীবন ,
দু পা পিছলে মরণ বিষ যাপন ,
ক্রমশ সরে গেছে  নিয়মিত ভরা পানপাত্রর 
প্রলোভন ইতিহাসের বুকের দিকেই যেমনটা হওয়ার কথা ভবিতব্য ছিল।
 ,
মৃত শব্দের বুকে ভাঙা কাঁচের স্বাক্ষর বদলে দিয়েছে কুমকুম তিলকে সমস্ত সমীকরণ ।

দূরে কোথাও ছায়া কেটে কেটে কেউ আর এখন রোদ্দুর কুড়িয়ে নেয়না দুহাতের মুঠোয় .....,

ভুলে যাওয়া অক্ষর রা এখন  ধুলো নয় মাটির বেশ কিছু হাত নিচে  চাপা ,,
  তাকে  কেতাবি নামে স্মৃতি বলে ডাকলেও বড্ড যন্ত্রনা বাড়ে ।
ক্রমশ শব্দহীন  একের পর এক দ্বার বন্ধ হয়ে গেছে ...
আমার মত কেউ ,
সে শূন্যতাকে কেবল বিয়োগ ফল শেখাতে পারেনি আজও।
গল্প গুচ্ছের পাতাগুলো সময়ের  আগুনে পুড়ছে কই !!,
 অবাধ্য ডানায়  ভ্রম এর ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ নেমে পৃথিবী ভেসে যাচ্ছে  ....
 একটা জন্ম আর একটা মৃত্যু সুতোয় বেঁধে
মাইল ফলক ঝোলানোর কথা কে দিয়েছিল আজ আর মনে করতে ইচ্ছে করে না ,
 এসব তিন প্রহরের খুচরো খুচরো মোহ  এখন অভিশাপ নামে খ্যাত।

আমার নাম।দীপাবলী

বহুদিন হল আর কবিতা লিখতে পারি না 
পালিয়ে যাচ্ছি মনে হয়, .....মনে হয় পালাতে পালাতে কোনো পাতাল পুরীর কোনো  অন্ধকার কোনায় আমার শব্দরা কবরিত হয়ে গেছে ।
বহুদিন হল উত্তরের বারান্দা আমি ছেড়ে এসেছি ...
ছেড়ে এসেছি অনেক কিছু প্রিয় বিষয়-আশয় ,
অন্ধকারের ভেতর আলোর অক্ষর খুঁড়ছি ....চোখ
গেঁথে দিয়েছি নিকষ অন্ধকারের ওপারে , তবু আলো চুইয়ে পড়ছে কই ! কালীপার্কের এই আকাশলীনায় ।
কলকাতা এত অন্ধকার আগে কখনো দেখিনি ...
আমার প্রিয় প্রতিটা কবিতা থেকে আলো নিংড়ে নিয়েও এই কলকাতা একটাও আলো জ্বলতে পারেনি ।
অন্ধকার ভয় পাই বলেই পালাতে পালাতে শহরের নিয়ন বাতি গুলোর রোশনাই উপড়ে রাখছি বুকপকেটে ।
সেদিন অমিতদা তার দোকান থেকে আলো কিনতে বলেছিল ....বলেছিল বোন দীপাবলী র মোমবাতি নিয়ে যাও অন্ধকার পুড়িয়ে দেবে এই মোম ।
অমিতদাকে বলতে পারিনি ....আমার বুকে ওই মোমের থেকেও অনেক বেশি আগুন ...তবু অন্ধকার আমায় ধাওয়া করে বেড়ায় ।
অন্ধকার যেন এক রাক্ষস , আমার সমস্ত আলো, আমার সমস্ত বেঁচে থাকা,..  খেয়ে ফেলেও  ক্লান্ত নয় সে ,
আরো আরো তার খিদে ,  এযাবৎ পঞ্চাশটা কবিতার দেহ সে আত্মসাৎ করেছে কিংবা হিসেবের বাইরে আরো অনেক হতে পারে , অথচ রাক্ষসের খিদে ততোধিক বেড়েই চলেছে ।

বিহুদিন তাই আমি নিঃস্ব কবিতাহীন , 
একদিন ঘুরে দাঁড়াবো কিনা জানি না ,একদিন ওই রাক্ষস এর কাছ থেকে পাওনা আদায় করতে পারবো কিনা জানি না ,
তবে একদিন ঠিক পালাতে পালাতে অন্ধকার ঠেলে আলোর অক্ষরদের খুঁজে নেবো , 
  আমার নাম দীপাবলী .......  ।