সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৭

নীল ছবি

----------------------------

পুড়ে যাচ্ছে ইচ্ছার ভ্রুণ গর্ভের অন্ধকারেই,
চোখের পাতায় মৃত্যু দূত  মরচে রং এর ঘন শোক
নদীরর পাড়ে,,
বিদায়ের খই  হৃদয়ের উঠোন থেকে রাজপথতক,,
ধুলোবালিতে জমে থাকুক গাঢ় রঙএর ক্ষতরা
তুমি বল সই তোর চোখের জল বড় মুল্যবান,,
আমার সকল মুল্যবান সম্পদরা খরচে গেছে
রুগ্ন জীবন কে যাপনীয় রাখতে।

আমার দিঘী , আমার উঠোন, আমার সমস্ত আমাতে
পক্ষ থেকে পক্ষান্তরে নীল শোকেরা নিরন্তরভাবে মিছিলে
ব্যেস্ত।
আত্মায় কালো কাপড় ঢেকে গেছে,, ঘুমিয়ে পড়েছে
সমস্ত পরিচয়.... খানিকটা শূন্যস্থান জুড়ে গুঁড়ো গুঁড়ো
আগুন প্রজাপতির ডানায় লেগে তোমাকে
লেখা কবিতার খাতায় দীর্ঘ ছোবোলে বর্নদের
অনুভুতিহীন করে দেয় বারংবার।
বইয়ের ভাঁজে পুরোনো অশ্বত্থপাতার শিরা উপশিরায়য়
রক্তবর্ন দিয়ে এঁকে ফেলি  নিরুদ্দেশ  কোনো ঘুড়ির
অভিমানের ছবি,, তারপর কোনো দমবন্ধ দেরাজে
স্বপ্নগন্ধ মাখা রুমালের সাথে গুছিয়ে রাখি
অতঃপর আমি আমার কবিতার পাণ্ডুলিপির
খুব কাছ ঘেষে চন্দনঘ্রান মেখে অপেক্ষা করি অলিক পথে তুমি আসবে আর আমি ভীষণ
নিশ্চিন্তে ঘুমোবো।।।
           ........................মেঘের সই,



বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

আলোর পরে

---------------------------------------------------_
শব্দ মিছিল ভিড় করে আছে শিশির মাখা
কোনো নগরে তোমার গোলার্ধের বিপরীতে।
হাজারো প্রশ্ন মুখোমুখি বসে স্থবিরতার ভিড়
উঠোন জুড়ে যেন প্রত্যেকে নামকরণহীন
রঙ দের সাথে মিশে ক্যেনভাসের পাশে
মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে,,
কবেকার ফেলে আসা অতীতের ছায়া আজকাল
গুড়ো গুড়ো রাত হয়ে নেমে এসে আঁকড়ে ধরে
আমার আমিকে,, নিজেকে ডুবিয়ে রাখি
রাতভর ডাহুক ডাকা পদ্মবিলে।
জানালায় শিশিরবাষ্পর বুক চিরে আলোর আলপিন
আমার চুরি যাওয়া আয়ুরেখা ফিরিয়ে দেয়।
আবার আমি শহরের পথে চাকার ফাঁকেফাঁকে
মুক্তির বর্নদের সাবধানে এগোতে দেখি পক্ষ থেকে
পক্ষান্তরে।
উদযাপনের মুহুর্ত লিখে রেখ সুজন তোমার
নুইয়ে পড়া ছায়ায় মাঝে, সাথে দুমড়ে মুচড়ে
জড়িয়ে নিয় তোমার নিশ্বাসে বাস্তুওহীন স্বপ্নদের
যারা কেবলি ঘোর না কাটা নিমিত্ত্বকে সুবাসিত
করে হৃদয়ের ক্ষতদের আটপৌরে খবরাখবর নেয়।
তোমার উপকথায় এক জীবন ডুবে যাক চোরাস্রোতে নিচে.... 

সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

তোমার কবিতা (২)

আমার চোখে শেষ রাতে আকাশের গায়ে রাত তারারা যাপন সময়ের
ইতিউতি আঁকে..
তখন সুজন তোমার বুকের নিবিড়ে অংগিকারে
শব্দজব্দ,,
তুমি সেই শব্দজব্দ থেকে শেষ কিছু কাল হারিয়ে গেছ।।
একটা  শব্দ ,বাঁচাটা একটা পরিসর, তুমি আছ তবু নেই তুমির সংসার।
তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে কাঁপতে থাকা স্নানঘরের
সমস্ত বাষ্প   হুকুম তামিলে ব্যেস্ত। , জ্বলে ওঠা প্রদিপের
বুকে রাত পুড়ছে,, আর বিছানা বালিশে অন্তরশোক রোজ দাউদাউ জ্বলছে।
সুজন আগুন পথের পথিক তুমি! দাঁড়িয়ে আছো শতাব্দীর গোলার্ধের বাইরে,
শুধু তোমার দুটো চোখ পাখির মত সময়ের অলিগলি দেখছে আকাশ পথে।
সকলের একটা গল্প থাকলেও তোমার গল্পের কাহিনী
সম্পর্কর বর্ন গুলো জুড়ে কখন যেন মানুষের গল্প হয়ে যায়।
যে নগরে তুমি আমির বাস সেখানে আজকাল
তেমন কেউ আসেনা, দু চারটে করমচা পাতায়
যাপনীয় ক্লান্তি বিছিয়ে দুজনে ফিরে দেখি
একটা ইচ্ছার কারুকাজ করা সেই বাড়িটার
কড়িকাঠ... 
আর কবির ঈশ্বর সত্ত্বা থেকে নেমে আসে নির্বাসিত ভালোবাসা।
আঁচলে মুড়ে তোমার ঘরে জোনাকির আলো
রেখে যাব একথা সত্যি, সাদা কালো পাতায়
পাশাপশি তিব্র গন্ধ চেতনাকে অবশ করে দেবে সে রাতে।
বুকের গেরস্থালীতে তোমার চালে ডালে বেঁচে থাকা
আমি দেখতে পাই সুজন...  এযেন এক জালের
সমিকরনের উল্টো দিকে তুমি বসে আছো
আর ঈশ্বর এর হাত থেকে সময় হেঁটে চলে যাচ্ছে
অবচেতন স্রোতের ধারায়।
তবুও বলতে ইচ্ছে করে তুমি আছ তাই
পৃথিবী আজো বাসযোগ্য,
তুমি আছ তাই এই কংক্রিট এর জংগলে
কিছুটা অক্সিজেন এখনো আছে,, তুমি আছো
তাই বুকের অন্ধকার ঘরে জোনাকির আসাযাওয়া এখনো বান্ধব রঙ ছড়ায়।

বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

বর্নমালা

-------------------

রোজ ঘুমঘোরে ইচ্ছার সিড়িতে পা ফস্কে
অন্ধকার  আঁকড়াই বার বার, শ্রুতিহীন
ক্ষতরা আসে যায় আবার কখনো
আঁকড়ে থাকে,
আমি একি স্বপ্নদ্বারে দাঁড়াই প্রতিবার যেখানে
দীর্ঘ সিড়ি সারি সারি আমায় হাতছানি দেয়, আমি
ভীনদেশী তারাদের আড়ালে শরীর ঢাকি।

বহু নিষিক্ত ঘন অন্ধকার বর্ন আমার পায়ের শেকলের
বানানকে পোক্ত করে জন্মান্তের অংগিকারে।
একটা তাজা রক্তে ভেজা হৃদয়ে পীত রঙের
আর্তনাদ পরতে পরতে হত্যাচীহ্ন রেখে যাচ্ছে।

বলিরেখার নিচে জমা হয় নি:সংগ  মৃত্যুর স্মৃতিফলক,
বাস্তুহারা নিশ্বাসরা তখনো অলীক কোন নির্দেশের
তীরে যোগাযোগ এর অক্ষরসেতু বুনে চলবে জোতস্নার দেশে।

তোমার কবিতা---

নিজস্ব কোনো গল্প থাকে না কারো
সম্পর্কর বর্নমালারা গল্প হয়ে আস্তিন জুড়ে  কালির টান
এঁকে ফেলে হরেক রকম জীবনের ফেরি।

কবি যুগ যুগান্তরে লিখে চলে অনেক গল্পের না শেষ হওয়া উপাখ্যান।
আকাশের কাছে   ধার করি
আমার আনন্দে রঙ, বিষাদে রঙ  যন্ত্রণা রঙ,অভিমান রঙ,
তৃপ্তি রঙএ তুলি ডুবয়ে শেষ অবয়ব আঁকি, আর
তোমার তৈরি বর্নরা তোমার নিজস্ব সংলাপ হয়ে
হাজারো স্বাদকোরকে বন্দি হয়ে যায়।

তোমার ভূমিকায় তোমার ছায়ার মতো কেউ এই শহরে
একলা শেষ ট্রেনে বাড়ি ফেরে।
ট্রেনের জানলায়  চিত্রনাট্যে দ্রুত আছড়ে জীবন
এক গোলার্ধ থেকে আর এক গোলার্ধে।
এই পৃথিবীতে প্রতিটা চরিত্র একা... অথচ কাছাকাছি।

যেখান থেকে পাওয়া যায় নিমিত্ত্বের   গন্ধ।
আসলে  ,মৃত্যু  বাস্তুহারা নিশ্বাস,,
একলা বাঁচায় একটা অভিমানেরা যেন নির্বাসিত।
একলা সমুদ্র বুকে জেগে থাকা দ্বীপে যখন  তুমুল ঢেউ
স্মৃতি ও চেতনায় ঢেউয়ের মতো উঠে আসে সম্পর্কের বর্নমালারা।
যার মাঝে কবি বারংবার তোমার কবিতার জন্ম ।
বাড়িয়ে দেওয়া  আশার  হাত ,স্বপ্নদের আস্কারা দেয়,
তোমার কবিতার সমস্ত সংলাপ।