বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৮

৷ সুবর্না ।। (৭)

-------------------------
একলা ছিলাম,  নাম ছিল  আলো ----তবু চারপাশে
মিশকালো অন্ধকার,,  ভেবে দেখেছ কখনো
আলো হয়েও আমি ছিলাম অন্ধকারে, পরিচয়হীন
আচেনা নিজের কাছে,,, সহস্র কিলোমিটার হন্যে
হয়ে  খুঁজেছি নিজেকে,,,,  কোনো নির্ভরশীল উত্তর
এর মুখোমুখি হই নি।
কোনো প্রিয় মুখ ছিল না, ছিলো না কোনো দরজায়
অপেক্ষায় প্রিয় কোনো চাহনি,
আলো হয়ে  কেবল  নিজেই পুড়েছি   নিজের আগুন,
অজস্র দহনে অন্ধকার যেন আমার আকাশ অন্ধকার।
**** তুমি এলে সুবর্না এই বেঁচে থাকায়... এক নিশব্দ
হাসি তোমার মুখে, সে হাসিতে সত্যি কোনো আড়ম্বর
ছিলো না,,, শুধু দৃঢ় সংকল্পের এক সন্ন্যাসীনির বেশে
অহল্যা,,  
আমি দিশেহারা আলো তোমায় পেয়ে নিজের
জন্মমানে খুঁজে পেয়েছি,,
এক সম্পুর্ণ চাঁদের অস্তিত্বের জন্ম দিলে তুমি সুবর্না।
পূর্ন  জ্যোতস্নায় ভরা এক আকাশ,      
            .. …......সুবর্না প্রিয় জীবন। 

               

৷ সুবর্না(৬)

----------------------   
ঘন সবুজের অন্ধকারে থেকে তোমার দিকে
তাকিয়ে, ,,,
যেন একটা গোটা আকাশ তুমি আমার,
গঙ্গায় ভাসতে ভাসতে আকাশ আর গাছের গোধুলী
মিলন দেখতে দেখতে, আমি মুহুর্তে তোমার নিবিড়ে
ঘন হয়ে ছিলাম।...…... সুবর্না আমি কখনোই
নিজেকে আকাশ ভাবতে চাইনি,  বরং তোমায়
আকাশ করে বাঁচতে  পারলেই আমার বেশি সুখ,
আমি গাছ হয়ে সারাক্ষণ তোমার সমুখে
নিশব্দে চেয়ে থাকতেই চেয়েছি,,
তোমার নানান রুপের আমি আজন্ম
আবিষ্কারক হতে চেয়েছি।
মাঝে মাঝে তীব্র ইচ্ছা হয়....  আমি যদিবা
শিল্পী হতেম, তোমার এত রুপ রাখা আছে আমার
দেরাজে তার সব কটা ক্যানভাসে রাখতাম একে একে,
তোমার শরীরের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নামা রেশমি ওড়নায়
আধো আলো ছায়ারা কত রুপকথা হয়ে আছে আমার
গ্রিনরুমে.....,  আবার তোমার আমার থেকে দূরে গিয়ে
এক হৃদয় আকুতি ভরে আমার দিকে  বৃষ্টি হয়ে
ছুট্টে আসা...... এসবের একটা ছবিও যদি পারতাম
আঁকত,  তাহলে সত্যি সুবর্না আমি শর্ত রেখে বলতে
পারি আমিই পেতাম শ্রেষ্ঠ প্রেমিক শিল্পর মুকুটখানা,,
জানি তুমি মনে মনে হাসছ  আমার অহংকার
দেখে ---- হ্যাঁ সুবর্না আমি তোমায় ভালবেসে
এক অহংকারী প্রেমিক হতে চেয়েছি কেবল,
আমার সকল অহংকারের আকাশ হয়ে তুমি যে
আমায় ঢেকে রেখেছ সবসময়...।
                           ............ True love আমার প্রিয় প্রেমিকা।
  

সোমবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৮

সুবর্না (৫)

------------
কোনো এক স্থাপত্যের মত তোমায় দেখি সময়ের
ইতিহাসে বয়ে চলা যেন আদিম শিল্পীর ভাবনার স্রোত ,,
রঙ তুলি তোমার ধারায় সম্মহিত...  বোবা ক্যানভাস
শব্দদের ভাগ করে নেয় হাজারো অনুভুতির দোলাচল,,।
তুমি কখন যেন মিশে গেছ সময় হয়ে সময়ের স্রোতে  
চিরকালীন কোনো অঙ্গীকারে....... যার জন্ম নেই
মৃত্যু নেই,  নেই কোনো অনুভূত.......সুবর্না এই বোধহয়
ভালোবাসা , যেখানে  চাওয়া পাওয়ার কারক থাকে না,
কোনো  সমীকরণ হীন  বিলীন কোনো অজানা খোলা
দিগন্তের মত।
একটা শূন্য অবস্থানে তুমি আমার চোখের দিকে চেয়ে
থাক শতাব্দীর পরেও,,
সহস্র যুগ যে মিছিলে চিৎকারে গলা
শুকিয়েছে অনুভূতি,  আবেগ, অধিকার,...... তুমি এসব
ভ্রুক্ষেপ না করে বয়ে গেছো আমার ভেতর,,
মৃত্যুও তোমার স্রোতকে কাঁপতে দেখেনি,  ক্ষয়ে
যাওয়া পাথরের ওপর সুবর্না তোমার স্রোত যেন
ঈশ্বরীয় কোন খেলা যার শেষ নেই কখনো কোথাও
.......প্রিয় নারী   ,,,,,, "Love is not temporary feeling
or  emotio,  Emotions and feelings chang sometime,
But true unconditional love is everlasting",,।                             
                   

রবিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮

সুবর্না (৪)

------------------
তোর বুকের আঁচলে  একদিন একমুঠো আগুন
ছড়িয়ে দেব,,........ হয়তোবা বিশাল কোনো
দাবানল হাতেই পারে।
বারবার সাদা পাতায় এঁকে যাওয়া পায়ের চিহ্ন
মুছে রাখি হারিয়ে যাব ভেবে, কখন যেন তুই দিশা
নক্ষত্রের মত আমার বাড়ির পথে আলো ছড়িয়ে রাখিস।
অন্ধকারে হাওয়ার ওড়নায় তোর নেশাতুর গন্ধটা
আমায় বুঁদ করে রাখে,  মুহুর্তে ভুলে যাই এই কিছুক্ষন
আগেই আমি সিড়িভাঙা অংকটা আর পারবো না ভেবে
ফুরিয়ে এসে ছিলাম,,
আমার ভাঙা জানলায়  সুবর্না তুই তখন
একটা আলোর গোলোক মনে হয়,,   শেষ রাতের
শিশিরগুলো তোর আদোরে গলে পড়তে দ্বিধা রাখে না আর।
..............  এ ভাবে প্রতিদিন আমার মৃত শহরে আমি তোর
গভিরে বাঁচিয়ে রাখি এই আমিটাকে,,। বড় ইচ্ছে করে তোর বুকে
দাবানল দেখতে,  হয় তো বা বেশ খানিকটা আগুন......
তোকে জড়িয়ে নিজেকে পোড়াতে সাধ হয়,।
তোর পাখায় ভর করে    কোনো  প্রান্তরে হারাবার
সাধ যে বড় বেশি সুবর্না,,,,
এইসব দীর্ঘ আলোছায়ার খেলা আমার ক্ষতবিক্ষত
শরীরটাকে রাতের পর রাত জাগিয়ে রাখে,,।
শূন্যের মাঝে তোকে এঁকে চলি তারার সাথে তারা জুড়ে জুড়ে,
কখনো বা এঁকেও ফেলি অবিকল যেন তুই,
অথচ তুই  আলোকবর্ষ দূরেই থেকে যাস আমার থেকে
সুবর্না   ..........  আমার প্রিয় নারী

শুক্রবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৮

সুবর্না (৩)

....................
নদীর কোনো নাম ছিলো না কোনো কালেই ---
তবুও তার শরীর জুড়ে     কত নাম ভেসে বেড়ায়
সময়ের স্রোত।  পরজীবির মত আমিও তোমার
স্রোতে নিজের উপকথা ভাসিয়ে গেছি,  ঘন নিবিড়
স্পর্শগুলোয় ভিজেছি বারংবার,,,,
তুমি নদী হয়ে কালের বুকে নিঃশর্তে   বয়ে  চলেছ সুবর্না  ,,
প্রশ্রয়ে আশ্রয়ে তোমার বুকে নানান মাত্রার উত্তাপে
আমিও ভেসে  আছি.... যেন বাঁচার নেশায় বুঁদ এক
মৃতপ্রায় এই আমি।
কখনো বা তোমায় দেখি আয়নার মত, একেবারে
অবিকল মনে হয়  আমি    ---- নদী হয়ে বইছি কালের বুকে,,
সে সব স্রোতে কেন যে দীর্ঘশ্বাস আঁকা থাকে কখনো
বুঝে উঠতে পারিনি------,
তাই অবিকল তোমার মত হয়েও আমি কোনদিনই
তুমি হতে পারিনি।
তোমার বিপরীতে কেবলই বিছিয়ে ফেলি হাজারো
যন্ত্রনার কবিতা,,
কেমন করে  যেন তুমি কেবল  তুমিই পার সুবর্না
আমার নৈশব্দিক যন্ত্রনাগুলোকে 'পেপ টক' না করে
শৃঙ্খলায় সাজিয়ে দাও যেন একের পর এক 
নানান জানা অজানা ফুলের একটাই মালা।
আমি আবাক হই ...... ,  তোমার আঙুল
চুঁইয়ে পড়া স্পর্শ আমার অজস্র অবিন্যস্ত
ভাবনাদের শান্ত  শীতল করে  যায়    প্রতিবার।
তাই বারবার ছুটে আসি তোমার কাছে সুবর্না ------
সেই তুমি কালের  প্রথম থেকে আজও  বদলে যাওনি,
আমার  প্রিয় নদী...... …..,                                               

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

সুবর্না(২)

নির্জনতার রঙ বড় অদ্ভুত,  ভাঙা  জানলায়
স্বপ্নের গায়ে একাকিত্বে আস্তরণ ছুঁয়ে দেয় সে,,
তোমার চলে যাওয়ার পথে যেমনটা আকুতির
রঙ,,বাউল গেয়ে ওঠে " বুকের মাঝে অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়,"      সে সময় হঠাৎ যেন
পৃথিবীর শেষ প্রান্তে  জোৎস্নারা থমকে গিয়ে
ফুরিয়ে যায়। শতাব্দী আগেই ক্ষয়ে যাওয়া এই আমি
এখনো কিছুটা লেগে আছি পৃথিবীর  একটা কোনায়।
সুবর্না তোমার বুকের তিল যার নাম আমি কখনো
আদর রেখেছিলাম সে এখন চাঁদের শোভায় নিয়োজিত,,
আমি সেই সব মুহুর্তের কথা আঁকতে থাকি নদীর
ঘাটে যে সব  সন্ধ্যেরা  একলা অপেক্ষা করে তোমার
মত কারো জন্য তাদের কাছে।
সুবর্না তুমি বলেছিলে চলে যাচ্ছি....  পুড়িয়ে ফেলো
যতটা সম্ভব আমাকে,,
আজো পারিনি তোমার ভালোবাসার পাশে দাঁড়ি
চিহ্ন আঁকত,  বুকের কোটোরে বিষাদ  রঙের সাথে
এখনো তোমার প্রাচুর্য মিশিয়ে চলেছো,  আর আমি
একেঁ চলেছি সেসব ছবি সময়ের চালচিত্রর বুক জুড়।                  
         

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮

সু বর্না(১)

...........................
দেখা হবে কোনো এক দিন আলসেমি সকালের
নরম রোদ্দুরের বেশে  ,  ততদিন ভালো রেখো সুবর্না
তোমার গলায় পরানো মালার সমস্ত ফুলে দের--
ওদের যেন কোনো শোক না ছুঁতে পারে,,,,
হতে পারে  কোনো এক শিশিরভেজা  শিউলিভোর
মিঠে স্বপ্নের রেশে আচ্ছন্ন তুমি  আমি মুখোমুখি সেদিন,
ততদিন বাঁচিয়ে  রেখো সুবর্না আমাদের ভালো থাকার
স্বপ্নদের ,,দেখো ওদের মৃত্যুরং যেন ছুঁতে না পারে।
      যদি দেখা হয় শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টিতে,, ততদিন সবুজ
রেখো আমাদের উত্তরের বারান্দার সোহাগি মানিপ্ল্যান্ট
   গাছটাকে ------- বিসন্নতার হিম যেন চাদর না বিছিয়ে ফেলে,,
তোমার একাকিত্ত্বের দীর্ঘশ্বাস  দের বোলো ওরা একা
নয়,  কিলোমিটার পেরোনো এই  পৃথিবীর কোনো
প্রান্তে ওদের মত অযুত যন্ত্রনা থরে থরে অপেক্ষায় আছে,,।
সুবর্না যতটা সম্ভব সব  সানিধ্য গুছিয়ে রেখো,
রুমালে রেখো কিছুটা ওম, বাকিটা বুকের  গন্ধ
চিনিয়ে দেবে আমাদের ছায়াপথ,,
এসো আজ পথ আলাদা করে ফেলি দুজন,
শীতঘুম আঁকা অধ্যায়কে তুমি বরন করে নাও
সুবর্না আর দেরি করো না....  আমাদের যে নাটকের
সবকটা অংকে অভিনয়টা যত্ন করে    সম্পুর্ন করতেই হবে।
সুবর্না সব শেষে আমি ফিরবো তোমার ওই দিঘল
চোখের শান্ত ছায়ায় ততদিন ভালো থেকো।                           
            

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৮

কখনো কখনো

---------------------------------  

মাঝে মাঝে যেন মনে হয় জীবন শিতের
ঝলমলে দিনে পিঠসেকা রোদ্দুর,  আবার
মাঝে  মধ্যেই    মনে হয় স্যাঁতস্যাঁতে ব্যাঙএর
গা ছুঁয়ে থাকা ভেজা রাত।
বুঝতে পারি আয়ু রেখা ধরে অনেকদিন হাঁটা হল,,
মাঝরাত্রিতে বারবার সিলিং ফুঁড়ে তারার দেশে
ভেসে বেড়াই সেখানে ছায়াভর্তি হিসেব নিকেশ এর
চড়ুইভাতি  ।
দেখতে পাই আমার ভেতরে আর এক প্রেমহীন কাটখোট্টা
আমি যত্নে বেড়ে উঠেছি প্রতিনিয়ত,,
বাইরে বটের ঝুড়িতে সামাজিক অধিকারবোধ
জানলায় রোদ আসতে দেয়না ।
পাঁজরে ছুরির স্তব্ধ যাতায়তে শোকের সাথে কখন
যেন ঘনিষ্ঠতা     বেড়ে গেছে,, ঘরের ভেতোর হারানো
গানের কলি ঘুন ধরা আসবাবের গায়ে আস্তরণ হয়ে
থেকে যেতে থাকে,।৷  গতানুগতিক দিন রাত আসে
অতিবেগুনী আলোয় মুখ ঢেকে বৃত্ত সম্পুর্ন করার
চেস্টায় পার হতে থাকি একের পর এক মাইলস্টো। 
                  

অযুত বছর পর

----------------------------
অযুতবছর পর এই অভিমানেরা হারিয়ে যাবে,
আমার মৃতদেহ যেমনটা কোনো  দায়বদ্ধ
নয় ,   কেবল একটা ডেডবডি নামকরণে,,
কারো সন্তান নয়, কারো মা নয়, কারো বোন
নয়, কারো স্ত্রী নয়, নয় কারো প্রেমিকা কিং বা
কোনো কবির প্রিয় নারী।
শব্দহীন হয়ে যা বে সব সম্পর্ক,   ,
ভূতচতুর্দশীর জ্যোতস্নায় তখন সবে মাত্র
কচি ধানের আঘ্রাণ,,  যা  কিছু বলার ছিল আমাদের
কথপোকথন সব কিছু   শব্দহীন।
আজ হয়তো  নিসংগতার কথায় হাজারো কবিতা
কলমের নিবে----
তুমি আছ কোনো ঈশ্বরের ভুমিকায়,  রহস্যময়
মেঘের বুক চিরে নীল আলো তোমার মুখের ওপর
,, সে আলোর ছটায় সারি সারি আগামী অজুত বছরে
অভিমানেরা নত মস্তকে দাঁড়িয়ে।
এসো আর দেরি করার সময় নেই, হাতে হাত রাখ,
পাশে থাকো হৃদয়ে, .......  জীবন যেকোন মুহুর্তে
অবিশ্বাসী হতে পারে,,
কান পেতে শোনো পৃথিবীর বুকে অজস্র ইতিহাস
অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে  ,,  এসো আমরা
ধুলোঝড় ঝেড়ে উঠে দাড়াই এবার......
আলোর নদীতে স্নান সারি    ......
হেঁটে যাই পাশাপাশি আলোকবর্ষর পথে।