মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

নেই আর আছে-র মাঝে



আমি তো ঝড়ো হওয়ার মত  ছড়িয়ে নেই!
নেই তোমার বাড়ির মসজিদের ভোরের কিংবা বিকেলের  আজানে ..
নেই তোমার আসে পাশে মৃত্যুর উড়ো খইয়ে
নেই ধূপের গন্ধে ।

নেই তোমার কলমের গর্ভ সন্তানের ভূমিকায়,
তবু যেন কোথাও রয়ে গেছে আমার আতাত।

আমি  শব্দ  হয়ে শব্দহীনতায়  আছি , নৈঃশব্দ্য হয়ে শব্দে থেকে গেছি ,
তোমার চিলেকোঠার করিকাঠে আমি পুরোনো 
আকর হয়ে গুঁজে আছি ।

আসলে আমার নাম তোমার মনে পড়বে না ...কোনো কালেই
আসলে হওয়ায় ভেসে আসা গল্পদের কেউ মনে রাখতে পারে না ,, 
আসলে তোমার কথকতার উপত্যকায় হাজারো সভ্যতা  ..মার্থালিনা থেকে রোকেয়া বিবি ,তারপরে মাধবী কিংবা প্রিয়ংবদার
না জন্মানো সন্তান দের সংসার ....বলো... এত কিছু.কি সামান্য এই এক  জন্মে মনে রাখা সম্ভব !

আসলে মনে রাখতে  গেলে জাতিতে মানুষ হতে হয় ... খাতিরে রাখতে হয় কিছু মানুষদের তালিকা,,
জন্ম টাকে আজীবন ঈশ্বর ভেবে পুজো করতে হয় ,।
এসবের কোনোটাই তোমার জতিস্মরতার মলাটে কিংবা তোমার ভেতরের  কোনো পংক্তিতে পুঁতে রাখা নেই,,,
আর তাই........... আমি বা আমার মত যারা তোমার প্রবাহে এসেছিল কখনো তারা কেউ
 ঝড়ো হওয়ার মত  ছড়িয়ে নেই!
নেই তোমার বাড়ির মসজিদের ভোরের কিংবা বিকেলের  আজানে ..
নেই তোমার আসে পাশে মৃত্যুর উড়ো খইয়ে
নেই ধূপের গন্ধে ।

নেই তোমার কলমের গর্ভ সন্তানের ভূমিকায়।,



 

তার নিঃস্বতা


তার দশ আঙুলে আজন্ম পাপ-নকশার এর শব্দজব্দর সুতোর বুনন ,,
 তাকে নিঃশব্দে ভুলিয়ে দেয় চুপ কথা পুরোনো ভিটেমাটির টান, আর জন্ম জঠরের ঠিকানা ,,
ইতিহাস লিখতে ভালোবাসে বলেই সে তার হত্যার
তালিকা রোজ বাড়াতে থাকে গোপনে ,,
জল রঙা পর্দায় সন্ধ্যের প্রথম তারা লুকোচুরি খেলে তার সাজানো তাসের ঘরে । ,

উত্তরের বারান্দায় কখনো সে আসেনি রাতের ডাক শুনতে ,
তবু তার প্রবাহ জুড়ে শুধুই সোনালী রাংতা মোড়ানো  নিঃস্বতা .....।

ঈশ্বর শব্দের মানে আমি কখনো কোনো অভিধানে পাইনি ....একবার শুধু বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম
তার তথাস্তু উচ্চারণে ,
 অথচ তারপর থেকে আমার  আলপথে সারি সারি মিথ্যুকের মিছিল দেখেছি শুধুমাত্র।,
কার্নিশে রাখা ঝুলন্ত সময় আজ এত দিন পরেও  দুর্গন্ধ  ছড়িয়ে যায় বাতাসের ভরে  তার উপত্যকা থেকে আমার ঠিকানায়,,

গাছের পাতা মৃত্যুর আগে রং বদলে নেয় ...
সম্পর্ক গুলোর   মৃত্যুর আগে আকর্ষণ হীন ফ্যাকাসে তেজপাতা রঙের জলে দুটো মানুষ দীর্ঘ দিন স্নান করতে থাকে ...তারপর আসে ভাগে ভাগ দীর্ঘ মৃত্যু।

ছেড়া ছেড়া শোকের পাশে একদিন ঠিক শরতের মেঘ বসত খুঁজে নেবে ....ততক্ষণ চোখে ঘন
মেঘেদের ধারাবাহিক হিসেব নিকেশের বৃষ্টি পাত
মেনে নিতেই হয় ।

সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১

আমি আর ফিরবো না


  আমি আর ফিরবো  না...
. পায়ের ছাপ  মুছে ফেলও
...  ঋণ আঁকা সময়ের ক্যানভাস টা ছিঁড়ে ফেলও

 স্বচ্ছ কাঁচের পাঁচিলে এঁকে ফেলো হাস্নুহানার 
মিছিল ,
ঠোকরানো রোজনামচা থেকে আমি হারিয়ে গেছি
সমস্ত সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে কাল ভৈরবীর স্রোতে ,,
তোমার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড এবার বদলে নিও 
14.2.2021 আর ফিরে আসবে না ...
ফিরবে না আর কখনো তোমার অপেক্ষায় নিউ টাউনের রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করা 
একটা অপেক্ষা ...
যেমন টা আমিও আর ফিরবো না  কখনো ,
আরো কিছু দৃশ্য যেমন সহবাসে লিপ্ত কিছু 
ভগ্নাংশের কান্না আছে  যা কোনো এক সময় আমাদের একান্ত গোপন ...
তুমি মুছে নিও সেসব রং ,
তারপর আমরা নিশ্চিত হারিয়ে যাব প্রাচীন হরফের মত ,যেখানে কখনো কোনো আবিষ্কার
পৌঁছতে পারবে না ।




রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১

চিনতে শেখা


এ শহর চিনিয়েছে  তোমার মত কাউকে 
_____________  আমৃত্যু কোনো থামের মত
আমি দাঁড়িয়ে আছি ... আমার  স্পর্ধায় তুমুল ক্ষত
দের মিছিল
তুমুল কান্না  এ শহরের গাছের শিরায় শিরায় 
_____________  গেঁথে বসা রক্তের মতো তোমার আমাকে ছুঁয়ে ফেলা সমস্ত পাপ মাখা অন্ধকার ..,,

আমায় অনুমতি দেয় এক মুখোশের আড়ালে রাখা খোদা  ,আমার সুখেদের  নিলামের ঘর থেকে সব সুখ ___________________ নিলাম করার।

সুতোবাঁধা পা টেনে তুমি সুইসাইড পয়েন্ট থেকে যে দিন আমায় ছুড়ে দিলে,  বারুদপোড়া ঘ্রাণ তোমার সুখের জানলায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে ছিল ।
  অক্ষরবৃত্তে বাসা বাঁধে  সমস্ত যোগবিয়োগ  ছেঁড়া খাতায় ফিরে আসে বুক গড়িয়ে নেমে আসা ... রক্তছাপ...।
 কোথাও যেতে হবে না আর তোমায় সে লগ্ন হীন মন্দ বাসার জন্যে ... সমুদ্রবেলায় নতুন পরিজাতে সাজিয়ে নিচ্ছ পলাশের রং এর নোনতা তোমার প্রিয় বৃষ্টি দিন ..।
 ছাঁচের ভিতর অদৃশ্য হয় কালরাত্রি সেটা জানো নিশ্চই ... বাঁশের সাঁকোতেও লাগে ঘুন মনে রেখো ,
আসলে সব কিছু মনে রাখা জরুরী...
আসলে সব কিছু মনে রাখা হয় ......কখন কোথায় হিসেবের খাতা খুলে জের টুকু দেখে নিতে 
হয় সে শুধু নিয়তি বলতে পারে ।
.

বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১

পানি জ্যায়সা

হলুদ বসন্তে আগুন পেয়েছি, 
তাই পুড়েছি ,
তুমি পেয়েছো পলাশ গুঁজে দেওয়া
আগলা খোঁপা তাই ডুবেছো প্রেমিক হয়ে বারে বারে  ,
আমি চিরকাল জল  তাই বয়ে গেছি 
বিম্বিসারের নানান পথ বদলে ,
তুমি পাথর তাই  জমি দখল করা  অহংকারী 
স্বভাব তোমার ভেতর .......

অপেক্ষায় কালো মেয়েটা

একা বসে থাকা প্রেমিকের অপেক্ষায় কালো মেয়েটার ষ্টেশনে সমস্ত ট্রেন চলে যায় ....মেয়েটার ফেরা হয় না বাড়ি ,
এমন কজন জন্মায় এ পৃথিবীতে যারা মন্দ বাসার সাথে নিজের বুড়ো হয়ে যাওয়া দেখতে   পায় !
এমন কজন আছে এ পৃথিবীতে যারা নিজের ভেতর কোনো প্রতিবাদ না নিয়ে চিতায় উঠেছে !
এমন কজন আছে যারা জীবনের ওঠা পড়ায় ,ভাঙা গড়ায় , রাজনীতিবিদ না হয়ে কথা  রেখেছে। ,
কিচ্ছু না চাওয়া মানুষ গুলো চিরকাল কমলিনীর মত হঠাৎ একদিন ফুরিয়ে গেছে ,
কিচ্ছু না চাওয়া মানুষগুলোর ভেতরে চারা গাছগুলো চিরকাল  নিয়মিত  সমস্ত অবহেলায় শ্রমন হয়েছে ।
বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষায় কালো মেয়েটা বাড়ি ছেড়ে গেছিলো একদিন ,
 অথচ তার বর্ম ভাঙা প্রেমিক  ২০৬টা হাড় দিয়ে ভেল্কি বাজি দেখিয়ে মেয়েটার হৃৎপিণ্ডে একটা একটা করে সজারুর কাঁটা ফুটিয়ে নিথর মাংসের দলাটাকে ষ্টেশনে রেখে গেল কালের অপেক্ষায়...
যে কটা ট্রেন ষ্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছিল তাতে কালো মেয়েটা রাক্ষস দেখতে পেয়েছিল তার প্রেমিকের মত ,,, 
 .....মেয়েটার  আর কখনো বা
বাড়ি ফেরা হয়নি প্রেমিকের অপেক্ষায় ।

মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

যা সত্যি

...........এভবেই চলতে  থাকে জীবন শুধুমাত্র  হঠাত  ....কিছু  মানুষ  জীবন  থেকে বাদ চলে  যায় ,,,,
 , জন্ম দিনেও   মোম্বাতি মিছিলে  বুকে লিখে রাখতে হয়  ......তুমি ক্ষতি,  তুমি সংশয়,   তুমি অপচয় , তুমি কপালের রেখায় উপলব্ধি ,তুমি  বন্ধু,  তুমি প্রশ্রয় না দেওয়া আঘাত , তুমি সমযের কালচক্রে ঘটে যাওয়া ঘটনা ....

 বেনো জল ঢুকে  গেছে অনেক দিন আগেই  তাই  প্রতিবাদী  রঙকে   ফিকে করেই মিশিয়ে দিলাম অযথা সময়ে আরো কোনো ঘটনার স্রোতে ।

 চুপ  করে যাইনি  আগ্নেয়গিরি  আসলে দু'রকম  হয় এক ঘুমন্ত আর এক.... 
আমি তোমাকে আমাকে চিরকাল সময় হিসেবেই
দেখতে চেয়েছি , শুধু কখনো মুখোমুখি যুদ্ধে সামিল হতে চাইনি , সময়ের সাথে যুদ্ধ আসলে অসম যুদ্ধ ...সেটা জানা ছিল তাই সময়কে জিতিয়ে দিয়েছি অস্ত্র হীন হয়েই ,, ,

এটাও জানা যে ক্যালেন্ডারে  ৩৬৫ দিনের কোনো একটা তারিখে লুকিয়ে আছে  মৃত্যু দিন।,
  সম্ভাব্য  মৃত্যু দিনের অপেক্ষাতেই প্রতিটা দিন কাটাই এখন উৎসব উজ্জাপন  খুঁজে ,,

আসলে মৃত্যু তো অনেক রকমের....,, দেহজ মৃত্যুতে  সমস্ত  গুছিয়ে  যত্ন করে রাখা যায় ,
 বাকি সমস্ত মৃত্যু তে বিয়োগ ফল পেতে ইচ্ছে করে, তীব্র মুক্তি  পেতে ইচ্ছে করে, তীব্র স্মৃতিভ্রমের  ইচ্ছা করে ।

নষ্ট পুরুষের চুরি হওয়া রং

এই অভাবের দিনে চুরি হয়ে যেতেই পারে তোমার
পেনড্রাইভের রঙ , কিংবা চুরি হতে পারে   তোমার ক্ষীণ স্কার্ফ এর ওই জামরুল বিকেলও , 
অথবা  এমনও হতে পারে একদিন কাক ভোরে ঘুম ভেঙে দেখলে ঘরকন্নার যাবতীয় যা এতকাল নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার শ্বদন্ত ছিল তোমার , 
এই নষ্ঠপুরুষ সংলাপের , সে সব কিছু চুরি গেছে .......
কি করবে সে দিন ভেবে দেখেছো কখনো ?
আসলে তোমার  চুরি যাওয়া শব্দ শৃঙ্খলের মতই
এ শহর  মানুষের ধুকপুক লেগে থাকা বেনে বউয়ের মানত করে বেঁধে রাখা ইঁটের টুকরো ...খুব সহজেই চুরি হয়ে যায় এই হাহাকারের দিনে ।
তাই বলে তুমি কেন চলে যাবে সমস্ত চৌকাঠ পেরিয়ে ..
তাই বলে ঘেন্না করবে কেন  নিজেকে ...
স্রষ্টা তুমি ,
অফুরান আধার তোমার ভেতরের নষ্টপুরুষ  ......প্রতিটি ধ্বংস কে তুমি অগুনিত  গুনিতকে সৃষ্টি তে বদলে দিতেই  পারো যখন... তখন চুরি যাওয়া পেনড্রাইভের রং তোমার  হাজারো শব্দ শৃঙ্খল  এর রং কে বিনর্হীন করতে পারে না  কোনোকালেই ,, তোমার শ্বদন্ত তোমারই,
 যা চুরি হিয়ে গেছে ভেবে নাও তা অন্য কাউকে সন্তান সুখ দেওয়ার  জন্য তোমার কলমকে গর্ভবতী করে ছিল একদিন ।
দেওয়ার  সুখ  সবাই পায় না যে দিতে1 পারে সেই দেবতা .....।

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

চুক্তি বর্ন

ঘুমের মধ্যে বুনন বাড়ে   স্বপ্নের গালিচার , তারপর  
বুকের দেরাজে রাখা   গল্প পাখি হয়ে যায় একদিন ঠিকই 
,  রুমাল যদি  বেড়াল হয়  গোলাপ  কি তবে তার লেজ  !,
বাক্স বন্দী মানুষ নিজেকে দুর্মূল্য ভেবে অহংকার জড়ো করে চলে চিরকাল ,
বৃষ্টি নগরীর রাজা রানীর গল্প তাই  এখন কাব্যে সীমিত ,
ভালো থাকার খবর মেলে না ডাকপিয়নের থলে তে
চুক্তি করে ভালোবাসা হয়  যে আজকাল এ শহরে ,

চুক্তি করে ভালো থাকতে হয় এ শহরে ....
চুক্তি শিখে চুক্তি মিটিয়ে ফেলতে হয় পা এর পর পা ,,

শুধু স্বপ্নগুলো চুক্তি মাফিক দেখা হয় না ....
ইচ্ছা গুলোও জন্মায় চুক্তিহীন নিয়মে ...

এই বেড়াল আর রুমালের চুক্তিতে স্বাক্ষর হতে
শিখে নিতে হত অক্ষর জ্ঞান এর মতোই ...

আজকাল বিদ্যাগরের বর্ন পরিচয় এর সামনে শুধু
সাদা বেড়ালের লেজ কে গোলাপ করে রাখা , 

 শহরের শিশুদের  হাতে খড়ি দেওয়ার পর  ..... শেখানো হয় মানুষ হতে গেলে চুক্তির সমস্ত বর্নর সাথে নিজেকে পরিচয় করে নিতে হবে ....

নইলে এ শহর এ দেশ তোমার নামকরণ করবে 
'বোকা কিংবা মূর্খ বলেই।



শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১

অজাতশত্রু

শুক্লা দ্বাদশীতে গোসাই  আরোহণ শুনিয়ে  গেছিলো তারপর থেকে আর কখনো ভালোবাসাহীন হতে হয়নি আমাকে ,

আমার অজাতশত্রু হবে তুমি ? 
বলেছিলাম তাকে  , 
সে বলেছিল তোমার জন্য এক নদী জল দিতে পারি , দিতে পারি এক মাঠ সবুজ ফসল ভরা মাঠ ,
তোমার জন্য জীর্ণ হৃদয়ে জমি ....,
 শুধু আমার একতারায় ছিলায় তুমি থেকো স্পর্শ হয়ে  ,
শুক্লা  দ্বাদশীতে  গন্ধর্ব মতে সে আর আমি 
মিশেছিলাম এক আলাপী আরোহনে তারপর আর কখনো ভালোবাসাহীন হতে হয়নি আমাকে ।
 

ভারমুক্ত

 তোমার দেওয়া মার্কসীটে শূন্য পাওয়ার ভার এখন
আর  কাঁধে রাখি না ,
নোনা  জলের  ঝাপসা চর ধুয়ে ফেলেছি এই আষাঢ়ের পূর্ন জলে ,
তার শববাহি যান চলে যাওয়ার পর  সেনিটাইস করা ফুল মালা আর সমস্ত উপহার 
সাদা কাপড়ে মুড়ে রেখেছি 
 প্রেমিক এর দ্বিতীয় ঠিকানায় পাঠাবো একদিন ,
বিষণ্ন অন্ধকারের নীচে তথাগত আলো রেখে গেছে ,আমার উদ্দেশ্যে 
তোমার দেওয়া মার্কসীটে শূন্য পাওয়ার ভার এখন
আর কাঁধে রাখি না  তাই ।




শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

ধ্রুব তারার কথা

মৃত্যু কি কখনো বলে কয়ে আসে ?
 তবুও মৃত্যুকে দেখার... মৃত্যুর হাত ধ'রে উঠে দাঁড়ানোর কিংবা তার চলাফেরায় অন্য অনুভব আছে... সম্পর্কের মৃত্যু  যে আঙ্গিক
... স্হাপনের সে আঙ্গিক নয়,
... অনুষঙ্গ-ও ভিন্ন... তাই সহবাস, বিসর্জন, চুম্বন, হাসি, খেলার যেমন জন্ম আছে... মৃত্যুগুলিও তেমন অদৃশ্য তারের বিভেদে... বড় ধীর স্থির,,,

... দ্রুত ছুটে চলা জীবনকে ক্লেশ হীন  ত্যাগ করে ফেলতে হয়। 
তবে এই নানারকম মৃত্যু কিন্তু হতাশা নয়। 
কষ্টকে লালন করতে জানতে হয়,...
 জীবনের অন্য পিঠ দর্শনে যে ধুকপুক ,
... জিতে যাওয়ায় সে পৌরুষ নেই। 
তুমি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবে আবার হারবে না... কিভাবে সম্ভব!
... প্রতিবার হেরে গেলে দেখবে... একদিন অহংকার করার মতো অনেক কিছু সঞ্চিত হয়েছে...
আর সেটাও নির্ভেজাল জিত।

ক্লীন চিট

 সময়ের খুরে কোপানো মাটি রেখে আসে সাঁড়াশি রাশি ,
এ শহরে নীল পর্দায় আটশো স্কোয়ারফিট বাড়ির কোটরে বাস্ত সাপ ঘর করে পর স্ত্রীকে বিছানায় জড়িয়ে ,
সন্ধির জল আর পেরিয়ে যাওয়া সেতুর মধ্যে 
কপালে সিঁদুর আর চোখের কাজল দিয়ে শব্দ জব্দের জাল বুনে ফেলে বড্ড তাড়াতাড়ি এ শহর ,
লোকটার টুপি থেকে বেরিয়ে পড়া ঝুলন্ত বাদুড় টা আজ কাল গোপন সংবাদের খবর কাক ভোরের আগেই দরজায় টাঙিয়ে দিয়ে যায় ।
 নেশায় ঠেকে খদ্দের আসার আগেই এ শহরে শরীরের হাট বসে কাব্যের নামে  অপবাদ সাজিয়ে  ।
এখানে ক্রেতা শুধুমাত্র কিছু জোঁকের দল , যারা মাংস ভালোবাসে মুখে বললেও আসলে রক্ত চুষতে পছন্দ করে ,
দিনের শেষে সুখের সংসার ফিরে জোঁকের দল বাস্তু  ঠিকঠাক সাজিয়ে নিতেই আটশো স্কয়ারফিটের নীল পর্দার 
রং  তড়িঘড়ি ফিকে সাদায় বদলে  দেয়, ,
আর বাথরুমে গিয়ে আয়নায় পাপ ঝুলিয়ে মুখের রক্তের দাগ মুছে নেয় এরা । এক্কেবারে ক্লী...ন ...চি....ট, আর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার শ্বদন্ত কারণ ।

কমলিনী

গোত্রহীন স্টেশন, নির্জন প্ল্যাটফর্ম এ 
অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে  এক উপেক্ষার প্রেমিকা 

রেলে লাইনের  দু'পাশে পাথরের কোলাহল…
                     পাথর সরালে মেয়েটার বুকের
 মাটি,আর  লাল রক্ত।

তুমুল বৃষ্টিতে বেমানান ভিজে যাওয়া শহরের  স্বৈরাচারী মন্দবাসা
     দেহাতী নীল শাড়ি আর প্রেমিকের পোরিয়ে দেওয়া  মল থেকে আওয়াজ ওঠে কালো মেয়েটার বুকে  যেন পরিজাতীয় মখমলে সাজানো স্বপ্ন ,

এসমস্ত ছবির মাঝে 
          আরো একবার তার প্রেমিক এর  মৃত্যু হয় সময়ের  শমনে,
 তার পর নিজের জন্য মেয়েটা কখনো বাঁচেনি 
            আজীবন অপেক্ষা ছিল শুধুমাত্র নির্ভেজাল ভালোবাসার।

রিপু করে নেওয়া

ছিঁড়ে যাওয়া সম্পর্কের সেলাই নিয়ে এমন কোত্থাও
যাওয়ার নেই দিন গুলোয় সেলাই মেশিনে বসি ,
রিপু করার চেষ্টা করি রাত ভর ভালো লাগা আর মন্দ লাগার মাঝে ছিঁড়ে যাওয়া ব্যবধানটা ,
তার বুকের কাছে আমার দাঁত নিয়ে এসে রাখি 
আরো  একবার আলাপী রাগ এ খসে পড়া বোতাম জুড়ে নিতে চেয়ে ।

বৃষ্টি দিকে তাকিয়ে নিজেকে মাটিতে পুঁতে ফেলি 
নতুন কোনো জন্মের সম্ভাবনায় ,
বৃষ্টির দিকে  তাকিয়ে নিজেকে ভেঙে নদীর বহতা করি আবার কোনো চরে কিছুদিন ঘর বাঁধবো ভেবে ।
যন্ত্রনার গেরো কেটে ফেললে বৃষ্টি  শেষে আকাশ 
হাসবে নতুন প্রেমিকের মত , 
নিজেকে কুড়িয়ে নিয়ে যত্ন করি এক ডানা ভাঙা 
ভোরের অপেক্ষায় ,
আসলে পুড়িয়ে দিলেই বোধহয় শ্মশান ,
গুঁড়িয়ে দিলেই হয়তো ইতিহাস ।
তাই বারংবার এই সেলাই মেশিনে নিজেকে সময়ের সাথে রিপু করে নেওয়া ।





বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

কল্পতরু

ঘুমের ভেতরে বৃষ্টি হলে আপনা আপনি ধুয়ে যায় 
স্বপ্নের ঘর বাড়ি ......জমিন জুড়ে ময়ূরাক্ষী 
তোমার হাতের ভাঁজ ভেবে বালিশ আঁকড়ে 
অতীত কে ঝাপসা করে দেখা .........,
আর স্বপ্নে জল জমলে  নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে 
উঁচু জমি খুঁজে নিতে হয় .........
ঠিক কতটা উঁচু জমিন লাগে গোঁসাই ! আর
কত দুরই বা সে জমিনের ঠিকানা , একটা মন রাখতে ?






বারংবার

সূ‌র্যের ম‌তো কোনো নক্ষত্র থে‌কে আগুন ঝ‌রে প‌ড়ে‌ছিল সে‌দিন এই জমিনের ঠিকানায়
 তুমুল বৃ‌ষ্টি সং‌কেতহীন নিস্তব্ধতায়... প‌থের ওপর তোমার উসখো খুস্কো চেহারা  আর কিছু গাছেদের ব্রাত্য পাতার মত ছেড়া গল্প নিয়ে দাড়িয়েছিল।
 ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ছুটে চলা কনভয়... ফসফরাস গায়ে মেখে... আমি ও বিদ্যুত‌শিখা‌ স্পর্শ করেছিলাম বরাবরের মতোই  বলে।
 ন্যপ‌কি‌নে শেষ দৃ‌শ্যের কারুকাজ তোমার চেনা ,
 হঠাৎ একটা  স্রোত আর  কন্ঠস্বর ব‌দ‌লে বালির ওপর... তোমার নব জন্ম চাইলে ...
 শতাব্দীর প্রাচীনতম গুল্মেরা স্পর্শ করল আমায়... ,
 গোপনে চিতাকাঠ সাজালে  থ‌রে থ‌রে।
 আমি অন্ধকা‌রে বু‌কে হেঁ‌টে... হারানো সভ্যতার দিকে... আরো একবার তোমায় ছুঁয়ে এলাম তোমার অজান্তে .....এবারেও তুমি জিতে গেলে প্রতিবারের মতোই ।

শব্দ


আমার চুপ করে থাকা কথাদের ...
তুমি ছাড়া কেউ শুনতে পায় না ,
তুমি ছাড়া কারো সাথে এমন অনর্গল 
কথা বলা যায় না ,
নিস্তব্ধতা র ভেতর আমার কথারা  ভাসতে ডুবতে থাকে , 
শব্দের ভেতর তুমি কথাদের খুঁজতে ব্যস্ত থাকো ,
আমি অভিধান রাখি বোবা করে ,
তুমি নতুন অভিধানে শব্দ গেঁথে নাও ,
তুমি ছাড়া কেউ কি পারতো এমন ভেঙে চুরে
আমার শব্দদের কফিনে গুছিয়ে রাখতে !

চোরাবালি


ভেতরে ঢুকতে সময় লাগে না ,
বেশি ভেতরে ঢোকার পর মনে হয় ভালো করে জায়গাটা ঘুরে দেখি ,দেখতে দেখতে মোহ বাড়ে ,মনে হয় বেশি পথ তো আসিনি  আরো একটু যাওয়া যেতে পারে  কিন্তু  কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে যাবার পর কেউ যখন বলে এখানে এলে কেন বেড়িয়ে যাও... তখন বেবোনোটা একটু শক্ত হয়ে দাঁড়ায় কারণ যেখানে ঢুকে ছিলাম সেখানটা ততক্ষণে ভালো লেগে গেছে। আসলে একটা ধাক্কা প্রযোজন ,
আসলে জায়গাটা কোনো দিন আমার ছিলোই না ,
আসলে কখনো কখনো ব্যাবহৃত হই আমরা 
আদুরী আলাপে তারপর নিজের অজান্তেই চোরাবালির টানে তলিয়ে যেতে যেতে এক অন্ধকার পৃথিবীতে পৌঁছে যাই , তারপর  সম্বিৎ ফিরে এলেও নিজেকে আগের জায়গাতে  ফেরানো যায় না । অন্ধকার পৃথিবীতে একটা মৃত্যু অপেক্ষায় থাকে দু হাত বাড়িয়ে ,। 

আজ বাইশে শ্রাবণ

আজ বাইরে ভেতরে বাইশে শ্রাবন , গোপন কুঠুরিতে কবির পাণ্ডুলিপি থেকে শব্দ নিয়ে 
বরফ জমা শহরটার মানচিত্র আঁকি ,
তোমার চশমার কাঁচ জুড়ে জক্ষী দৃশ্য ,আর পূর্বপুরুষের অভিশাপ এর ছায়া ,
আজ বাইরে ভেতরে বাইশে শ্রাবন .......
রোদ পড়ে আসছে গভীর সন্দেহে। 
সরাইখানার দেওয়াল জুড়ে জাহাজডুবির গোপন ইতিহাস লিখেছো তুমি রোজ রোজ ।
আয়নার কাঁচ জুড়ে তোমার ঘষে যাওয়া আবছা ছবিতে জানলা রেখে জানান দিচ্ছ ভালই আছো ,
ভালো তো সবাই থাকে ......তবু কি ঘুমের ভেতর নিশ্চিত হতে পারে মানুষ তার ভালো থাকার পায়ের তলায় জমিটা কে নিয়ে !

রাতের পর রাত জাগা হলুদ পৃষ্ঠায় একঘেয়ে কবরের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা আর মাস্তুলে জ্বলে ওঠা হাজার বছরের পুরনো আলিঙ্গন বলে দেয় 
ভালো থাকা হয় না সেভাবে .....আসলে ভালো থাকার সাত সতেরো হিসেব করি ...অথচ যোগ বিয়োগের পর অবিরাম শ্বাসকষ্ট পাঁজরের হাড়ে জাফরান রঙের সংকেত লেখে শয়তানের ভেক ধ'রে।
আজ বাইরে ভেতরে আর আমাদের পিঠ জুড়ে শুধুই বাইশে শ্রাবণ ।



দেহ ছায়া









  


কুয়োয় ফেলে রাখা দড়ি কারও নয় ভেবে
 .................................................... ছায়া ঝুলিয়ে ছিলাম
তখন তুমি করাতকল সাজালে রংবেরং চেড়াই কাঠে...  
ঘুমের ঘোরে অনেক রাত অবধি একটা নাম উচ্চারণ আর  কলাপাতায় সাজানো নদীতে একটা ভাসমান ঈশ্বরের দেহ নিয়ে আমি ভোরের দিকে মুখ করে হাঁটতে থাকি ......
অথচ .......


 সে নদীটা আমায়  দেয় নি ... তবুও
মেঘ সেদিন বয়ে নিয়ে গেছিলো  মৃত সম্পর্কের দেহ, 
আমি ছাড়া এ শহরে সাক্ষী ছিল যারা তারা দু পয়সায় নিজেদের বিকিয়ে ফেলেছে  তাদের চারফুট জমিন ।

এখন ডোরাকাটা গায়ে উড়ে বেড়ানোর কোনো আশ্চর্য প্রকরণ... হলুদ দাঁতের ফাঁকে  নিকোটিনের আগুন... গলায় সাদা তরল ঢেলে সার্কাসের এক রিং থেকে অন্য রিংয়ে... ছাদ থেকে ঝাঁপিয়ে... বিবর্ণ চিঠির বাক্সে নিজেকে রাখে যারা  তাদের 
নাম হীন প্রাণী বলা যেতে পারে  কিনা আমার জানা নেই ।

তুমি তো জানতে পুড়ে পুড়ে কালো হয়ে উঠছে বীজদেহ
চিতা থেকে ধোঁয়া উড়ছে যে পথে
..................... সেখানে স্মৃতিহীন রোদ চমকায়...
  কর্পূর নিভে গেলে হেরে যাওয়া শর্তে
রুমালে জড়ানো গোত্র... লুকিয়ে রাখতে হয় জীবন ভর। এসব কিছু তুমি তো জানতে ,,।






অন্বেষণ

প্রতিটা আসা ও যাওয়ার মাঝে একটা করে
একলা হয়ে যাওয়া মানুষের গল্প থাকে ।
নিজের চারপাশে পরিখা আর তার চারপাশে 
কিছু অজুহাত দিয়ে সাজানো একটা গ্রহ যার ভেতর সুখের চাবিকাঠি অথচ সুখ নেই ডালে ভাতে .....সুখ খোঁজ বিরিয়ানির শহর এটা,   বলা যেতে পারে মাংসের শহরের শাক পাতা কাঙ্খিত নয় মোটেই  , তবু সহবাসে এক শতাব্দীর অঙ্গীকার আর পরবাসে হাজার মুখের আনাগোনা ।

অবশ্য একদিন ত্রিপিটক সূত্র মেনে আবারও সব 
বদলে যাবে ...,
অপেক্ষায় একটা মোহভঙ্গ থাকবেই ,তখন বৃষ্টি থেমে যাবে শহরের শান্ত হবে অস্থির চরিত্র রাখা 
গল্প গুলো  , 
আমি সে দিনও এ শহরের কোথাও না কোথাও ক্যানভাসে  রাখবো শহরের গোপন কথা গুলো  ,
আর সেদিন........
দাঁতের কামড়ে লাল হয়ে যাওয়া দাগটা তখন 
তোমার কাছে জিজ্ঞাসা চিহ্ন হবে ।

তফাৎ খুঁজি

ফিরতে চাইলে

যে লগ্নে তুমি দরজায় এসে  মৃত্যুদন্ডর মত দাঁড়িয়ে
ছিলে , 
কোন এক  প্রথার মত কিংবা  প্রাচীন  মিথের মত ....! আমি বিস্ময় এর সিঁড়ি ভেঙে নামতে নামতে 

 মানুষের ভেতরের মুখগুলো চিনেছি সেই লগ্ন থেকে ।
 মুখোমুখি আদিখ্যেতা... ভালোবাসা কে নিয়ে সাপ লুডো খেলা দেখেছি  তখন থেকে,,

তবুও  এই জরাজীর্ণ সময়েও 
পৃথিবীর বুক উপচে দুধ সাগরের মুখ ডুবিয়ে 
কাব্যময় হতে চায় কেউ কেউ আমারই মত ...!

অথচ সুখের ওপাশে, 
বেঁচে থাকার অশ্লীল এক রক্তলালসা
আর  মিছিলে  হেরে যাওয়া  মানুষগুলোর কঙ্কালসার প্রতিচ্ছবি....স্পষ্ট হয়  রোজ এ তিলোত্তমায় ।  ,
 নকশিকাঁথার প্রজাপতি রঙ......কথা দেয়
ফিরে আসতে হয়  বারংবার 

তাই
এরপর কখনো যদি দরজায় ফিরি,
তবে শ্লোকের মুখোশে পাপ হয়ে নয়..
' নতুন পথিক হয়েই ফিরবো.....!

ছবির ভেতর

গুঁড়ো গুঁড়ো ভাঙা আলো জড়ো করলেই  মুঠোয় জোনাকি আসে না ,
ফুল্কির আন্দোলনে কথার আড়াল থেকে বাতাসে
আগুন রেখে দেয় ,
তোমাকে কেবল মুছে যাওয়া বিকেলের ছায়াগুলো
চেনাতে চেয়েছিলাম ,
অথচ আছি আর থাকবো এই কথা দুটোর মাঝে তুমি গোপন ফারাক রেখেছিল বুঝিনি ,
আজও দেখো সময়ের গায়ে একটা পড়ন্ত বিকেলে এই গঙ্গার   ঘাটে ফেরি গুলোকে কিছু না কিছু বলার অপেক্ষায় ফুরিয়ে যেতে থাকে ।
ভালোবাসা বেঁচে থাকে করুণায় নয় .....
আমি ভালোবাসা কি বুঝিনি কখোনো ....
ভালোবাসার ছাদে  চিরকাল কিছু গোপন ছিদ্র ছিল ..... বিশ্বাসে ছিল কালো কাপড়ে ঢাকা ধারালো অস্ত্র  ,
পবিত্রতায় মিশে ছিল পাপ আর বদরক্ত ,
এ শহর এমন অজস্র ঘটনার সাক্ষী চিরকাল 
মুছে যাওয়া বিকেল ,হলুদ পাতায় ছেড়ে আসা প্রেমিকের অসহায় চাউনি ,
এখন  ডানা হীন সময় আমাদের ,
চিতার রংমসালে পুড়ে গেছে আমাদের একান্ত উজ্জাপন এর যাবতীয়  উৎসব ,
তুমি মুঠো খুলে দিতে পেরেছো পুরোনো অভ্যাসে 
আমি গিঁট খুলতে পারিনি আমার স্বভাবে ,
জানিনা অভ্যেস কিংবা স্বভাব বদলায় কিনা !




----

গল্প লিখন

আমার চেয়ে আরও ছোটো 
গল্প লেখা  অভ্যেস আছে তোমার ,আর সে সব গল্প তুমি খুব সাবধানে রেখে আসতে পারো নির্জন
কোনো  দ্বীপে।
ঢেউ সেখানে শব্দ ভাঙে না... নিঃশ্বাস যেখানে মাটি চাপা ,
 প্রতিবার দ্বৈতহীন গল্পে  তুমি জিতে যাও ....
____________ বিসর্জনে আমি হেরে যাই প্রতিবার। ... 
রাংতায় মোড়া স্বরবর্ণর  ঘাট
ঘাটের আড়ালে সমস্ত গল্প ছোটো হয়ে আসে
সন্ধ্যে নামলেই ,,...
অ্যালবামে লাল ছবিটা... দিশাসন্ধানীর কাজ করে 
ভাঙা মেঝেতে জীবনের মানচিত্র .. 
ঝড়ঝড়ে জানলাতেও ক্লোরোফিলের স্বপ্ন 
______কেঁপে ওঠা সহবাসে যারা ছিল  
_______ তারা তেমন কেউ নয়...
আয়নার ক্যানভাসের  ভেতর... মৃত গলির শেষে
গল্প ছোটো লেখা হয়..... সামাজিক হীন হয়ে ।
.
ছোটো গল্পে সবাই পূর্বনাম লেখে
কেউ ছোটো হ'তে শেখে না... অথচ ভালোবাসলে
মাথা নিচু করা যায় একেবারে নিঃস্বতায়।

peri cr থেকে apiprol 100

opiprol 100 start হোক ... কোনো শেকড় ছড়িয়ে যায়নি... এভাবে কেউ ভালোবাসা ফেলে যায় না... কেউ কুড়িয়েও রাখে না...
গাছের মাটির ওপরের অংশ 
সম্পূর্ণ কেটে দিলে শিকড় একদিন শুকিয়ে যাবেই...
দুর্ঘটনার  সময়কে মনে রাখতে নেই ... আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে হয় মন থেকে...
যে শিকড় ছড়িয়েছে তাতে বিষ ছিল... মাটির ওপরের গাছটা মরে গেছে তাই ভিতরের শিকড়ের বেঁচে থাকার অধিকার নেই...
আবর্জনা সরিয়ে ... মনকে ভারমুক্ত আর... ভ্রমমুক্ত করতেই হয় ...
ভালোবাসা অপাত্রে দান করতে নেই... মন্দবাসাও... চোখের জল জমিয়ে রাখতে হয় ... প্রযোজনে দিনের জন্যে ...
দেখার চোখ কে বলি... all is well
মন কে বলি... all is well
সময় কে বলি... all is well
আর আয়নাকে বলি আমার কি ছিল, যা নিয়ে এতো ভাবছি?!
. ... সময় কথা বলবে আর তা আমার কথার রেশ নিয়েই হয়ত বলবে...
মৃত শরীর যখন পচে গলে যায় তখনও মায়া থাকে... আর থাকে দুর্গন্ধ... তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আশেপাশের মানুষজন দেহটা পুড়িয়ে দেয়...
-------------------------------------------------------------------

ভেবে দেখলে মনে হয়... যা হয়েছে তা ভালোই হয়েছে... অন্তত চেনা তো গেল একটা মানুষের মুখের মত দেখতে হলেই মানুষ ভাবা ভুল ... 
এর থেকে বেশি ক্ষতি হ'তে পারত, যার জন্য নিজেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম  না হয়তো

 .....স্বরবর্ণে তোমার কথাও রাখলাম... তুমি যে মেঘের সই শুধু... আমার তো কেউ হ'লে না...

যারা কথা রাখে তারা বৃষ্টির মতো...

ভেবে দেখ... দৃশ্যহীন ব'লে কি কিছু হয়? তাহলে আমি তাকে দেখি কেমন করে... আর নিঃশব্দ ব'লেও কিছু হয় না... সে এলে আমি শব্দ পাই... অন্তর কাঁপে...
আর চিরকাল সময় বেঁচে থাকে...
কারণ তুমি প্রবেশ করো ঐ দৃশ্যহীন শরীরে তারপর আবিষ্কার করো নিজেকে... সময়কে... তুলনা করো নিজে ঠিক না ভুল... 

অবিশ্বাস করলেই তবে তো দৃশ্যহীনতা দৃশ্যমান হবে... 
অবিশ্বাস করতে হয় ... অবিশ্বাস করতে হয়... বিশ্বাস না করা practice করতে হয় নিয়ম করে ..

নিজেকে বোঝাতেই হয়... বদলাতে হবে সময়কে... কারণ এই আমিটাকে নিয়ন্ত্রণ করবে সময়... আর তার মৃত্যুতো ঘটে গেছে... আমার  যদি মৃত্যু হয় তাকে দাহ করবো  কিকরে?
-------------------------------------------------------------------

কি আশ্চর্য... একটা গাছের পাতা যখন ঝড়ে উড়ে যায়... সে কি বেঁচে থাকে... অথচ কি আশ্চর্য দেখ হাওয়ায় ভেসে সে জানলা দিয়ে ঘরে ঢোকে তারপর হাওয়ার ধাক্কায় এদিক ওদিক...।

লাভ করতে গেলে ব্যবসা করতে হয়। আর নিজের মন নিয়ে ব্যবসা হয় না... একদিন নিজেকে বেশ্যা মনে হবে . শেষমেশ.... আচ্ছা পুরুষ কি বেশ্যা হয় ?
আশ্চর্য... তুমি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবে আবার ঠকবে না? প্রতিবার হেরে দেখ কি হয়... একদিন দেখবে নিজের অহংকার করার মতো অনেক কিছু আছে... যা এই চেনা শোনা পৃথিবীতে অনেকেরই নেই ...তারা কখনো এ স্বাদ পাবেও না ।।

অ .অন্তর্বাস

অ-এ অন্তর্বাস
-----------------------
অন্তর্মুখী হ'তে পারলে ... অন্তর্লীনও হতে পারে যায়... 
  বিপরীত সমুদ্রের ইতিবৃত্ত এ দুটোই ,যেমন 
... ভেজা কাক ও আকাশের  মাঝে  হাইফেন এর ব্যবধান...।
সময়ের কাছে গচ্ছিত ভুল
  হাজার  হাজার বছর পরেও একটা  মাত্র পাথরের  টুকরোতেও   ভুলের অনুবাদ করেই ইতিহাস তার প্রমান ...।
 অন্তর্বাসও খুলে ফেলা যায়... কাচা যায়... কিন্তু গচ্ছিত ভুলগুলো আর  সংশোধিত হয় না. কখনো।..
.
তোমার সমস্ত প্রেমিকারা  অন্তর্বাস পড়ার আগে অস্থির পাথরে পা ফেলে আজ ভাবে  মোটা কালো হরফে ও নকশায় বিলবোর্ড-এর ঢঙে পোস্টার তৈরি করবে এক দিন না একদিন ,
আর সে পোস্টারে তোমার সাজানো দুনিয়া ,কিংবা শহরের গলি খুঁচি আর রাজপথ ছেয়ে যাবে একদিন,
আর সেদিন নাহয় তোমার ভাবনার বিরুদ্ধে একটা জেহাদ লেখা হবে ইতিহাসের কোনো এক অধ্যায়ে ,,
  মহিলাদের শুধুমাত্র মেয়ে বস্তু ভেবে নেওয়ার প্রতিবাদ গর্জে উঠবে তোমার উঠোন থেকে তোমার আকাশে ।
---------------------------------------------------------------------

আ-এ আহির ভৈরোঁ

আ-এ আহির ভৈরোঁ
---------------------------------
আলো সকাল হ'লেই রেডিও খোলে... রেডিওয় বাতাস  খোঁজে অথচ রেডিওতে বাতাস কোথায়...!
 দীর্ঘশ্বাস চাপা পড়া একটা সকাল মনে হয় ...
 সত্যি পুড়ে  যাওয়া পাণ্ডুলিপির অনুভূতি জীবনের এক একটা দিন
 তবুও দাঁড়াতে পারে আলো অন্ধকার কে মনে রেখেও... 
.
একটাই পা আছে ওর...
আর একটা 
.
.

ই-এ ইলিয়াস আলী


ই-এ ইলিয়াস আলী
--------------------------
ইলিয়াস এর ছেলে গো-মাংস  রান্নায়  পটু... মাঝে মাঝে চেখে দেখার সুযোগ হয় ... ওর কাছে গেলে। ভেসে আসা অক্ষর-শব্দে সন্ধি-ভাবনার নাৎসি রক্ত... ইলিয়াসের চিঠি... বাংলায়... যেন আকাশহানায় ভেঙে পড়া কোনো দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থাগার... 
.
ছেলের দু-হাত কাটা গেছে... গো-সন্তানদের যুদ্ধবাজিতে...

ঈ-এ ঈশ্বরীর নাভি

.
ঈ-এ ঈশ্বরীর নাভি
---------------------------প্রেমিক বলে আমার জন্মকুণ্ড... ভুলে যাওয়া ভালোবাসা র গোপন সুগন্ধ থাকে ঈশ্বরী নাভিতে... 
রোমকূপে  থাকে লাবণ্য... 
যোনিতে আগুন আগলে বসে থাকি আমি ...
.
সৌতৃষা গল্পে আসে...প্রেমিক
 নায়িকা মন্থনে. তার নতুন গল্পেন.. লাল টিপ রং,
 বিপন্নতার পাশে দীর্ঘ কবিতাগুলি গল্প হয়ে যায়... আর গল্পেরা কবিতা... আর প্রেমিক ল্যাংটো কবি।
.

উ-তে উদক

উ-তে উদক
-------------------------------------
ভুল বুঝেও সে আমার  যোনিরসের স্বাদ পেয়েছিল বারংবার... ,
চাঁদের ছায়া অনুসরণ করে গুহার ভেতর গুগেনহাইম মিউজিয়াম। 
গ্রাফিতি-শিল্পীরা তাঁদের ভাস্কর্য দেখিয়েছেন কফির সাজানো  ঘ্রাণে। 
ঐ ছবি কিন্তু আমার... যা তুমি কাপের গায়ে আঁক এখনো ... লড়াইয়ের শব্দ পৌঁছে যায় অনন্ত প্রশ্নে...
.
লড়াই করতে গিয়ে তুমি সাবধান হতে শিখেছো শিখেছ অহংকারে অভিমুখ নিজেকে রাখতে
তোমায় অস্ত্র করব অহংকারের...
.
আজ বরং চারশো বছর এগিয়ে যাই... চলো...
দূরত্ব দৃককোণ আঁকুক কুৎসিত সংবাদ গুলো।

পিতৃহারা বাদাম গাছের মতো...
ইশারায় দূরত্ব...  আর দূরত্বে বিপন্নতা,
 আর বিপন্নতায় বিস্তার... 
বিস্তারে রামধনু,
রামধনু ভর্ৎসনায় পৌঁছে দিক
উদ্ভাসন তৈরি হওয়া উদকুম্ভ....….
.....

ঊ-এ ঊঢ়

ঊ-এ ঊঢ়
------------------------------------
যে আসা-যাওয়ায় মেঘলা জীবনের ক্ষয় লেখা থাকে... তা ঊন ও ঊঢ়-র অন্তর্বর্তী সংক্ষেপ. লিপি ছাড়া কিছু নয় ,
.. সংক্রামিত মৃত্যু চেয়েছিলাম একদিন কুড়ল ও কুঠুরিতে... তুমি ভুলে যেতে চেয়েছ শপথ নেওয়ার ভয়ে। 
ছেলেটির নাম ছিল চিহ্ন আর মেয়েটির... রশ্মি। মাতৃভাষায় কথা বলতো ওরা ... 
-দীক্ষায় শীর্ণ শরীরে অজস্রবার শব্দের রঙ বদলেছে ছেলেটার ।
 মনে করো এই মুহূর্তে তুমি কবি... পরমুহূর্তেই বিচ্যুত... বিপরীত শূন্যতায়... তুষারাচ্ছন্ন অন্ধকার...।
 অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে আত্মিক মুদ্রায় তোমার

ঋ-এ ঋক্ষ

৯(লি)-এ লিপিচিত্রের নিঃসঙ্গতা

৯(লি)-এ লিপিচিত্রের নিঃসঙ্গতা
---------------------------------------------
আমরা ক্রমেই ক্লান্ত তারাগুলোর  মতো নিষ্প্রভ... নিঃসঙ্গ হ'য়ে পড়ছি...,
 যেন তুমি ধারণ করেছ ছত্রাকের উপহত শ্বাস...আর  আদি গঙ্গায় মিশে যাওয়া ধর্মজ্ঞানহীন দেহ... ,,
নীচু দরজায় ক্ষয়াটে বিকেলের গল্প  ছায়া গলির শেষ বাড়িটির চিবুকে লেগে থাকা নোনা দময় এখন ,
... সার্কাসের উড়ন্ত তাঁবু... যার প্রবেশদ্বারে লেখা ছিল...
মৃত্যু কাছাকাছি... তুমিও ,,
তোমার মতো পর্দাটা ছুঁয়ে দিয়ে গেলে
 অথচ আয়ু যে তোমার একার নয় ... আমারও কি কিছুটা জমি ছিল না .. ভেবে দ্যাখো
শোকাবেগ মৃদুতার ফ্রেমে কিছু পেলসিল স্কেচ খুঁজে পাওয়া যাবে ...যদি স্বর্গ দুয়ারে আজও কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে যায় ।

এ-তে একা বিন্দু চিত্র


----------------------------------------------------
তুমি এখনও সেই সমুদ্রের  স্বপ্নটা দেখ?
... পোড়া আলোর রঙ ভাসছে বুঝতে পার এখনো?
... জানলার গরাদে বাঁধা কত কত ঘুমের ডানা,

 পুরনো চিঠি গাঁথা বাঁকানো তার...
এখন   নীচের চাকতিটা  হারিয়ে গেছে...
  স্মৃতি জড়বস্তুও  মতো পানসে এখন ,
 ... ঝিঁঝিঁ ডাকা বড় গঙ্গার ঘাটের  পাড়ে কাকতাড়ুয়ার দেহ পুড়ছে আজ সারা রাত ... ছাই উড়ে জলে ইতিহাস নিভিয়ে ফেলছে ।
ঘাটের  নৌকাটা দাঁড় হারিয়ে একা একা... ভেসে যাচ্ছে খর কবিতার মতো... 
.
কোনোদিন স্বাচ্ছন্দ্য আসেনি আমার দশ ফুট বাই দশ ফুট ঘরে , তবু 
ঋণ আসেনি  লক্ষ লক্ষ চক্রব্যূহে  এটাও সত্যি ,

___তবুও আমি জল ভরে রেখেছি অভাবের দিনের কথা ভেবেই ।... 
.
.
তুমি একটু একটু করে জলের গভীরে নামছ জানি ... নিজের মনেই ঘাটের সিঁড়ি নিয়ে খেলতে খেলতে... চোখ বন্ধ করে আটানোব্বইতম.. পাপ 
ঘড়া  ভাসতে চাও 
.
আমি কিন্তু সাঁতার শিখিনি আজও ...
তবু সাহস করে প্রতিদিন সমুদ্রস্নানে যাই ।

ঐ-তে ঐষ্টিক ধর্মে

.
.
ঐ-তে ঐষ্টিক ধর্মে
----------------------------------------
তিরন্দাজির গতিপথ বদলেছে এখন তার...,

 আকর্ষণ বর্মে বর্মে... লোহ-আলেয়ায়... নিথর শরের বিস্তারে... তার সময়ের প্রচ্ছদ জুড়ে।

 যে যে প্রযোজনে দূর থেকে তোমায় দেখি...  আর অসাড় পৃথিবী আমার ভিতর বাঁচে... মরে... কুটো খড়ে অভিনিবেশ  হয় মৃত প্রেমিকের মত ..... সেই প্রযোজনেই একদিন আত্মরক্ষা লিখে ফেলি... ঐষ্টিক ধর্মের শিষ্টাচার ভেবে..
.
ধর্ম একদিন ধর্মহীন হয় ঠিকই
স্বর সংযোগ অবভাসে কবির কবিতাকে পূর্ন মৃত্যু হয় বারংবার  ,
তবুও  সে শব্দহীন প্রতীক খোঁজে
_______ পাতালমুখের অন্ধকারে.দাঁড়িয়ে  

ঔ-এ ঔচিত্যে বিশ্বাসী



.

. তোমার গায়ের রঙ গাছের মতোই ভেবেছিলাম।
.. কিন্তু গাছেদের রঙ যে তোমার মতো নয়...। পায়ে হলুদ পাতা... 
হাতে ক্ষীণ উল্কি...
 গঙ্গার  ধারে হেমন্তে বিছিয়ে রাখা আঙুলের নখ...
 অরণ্যের গন্ধ...। 
সূর্যাস্তের দিকে ছুটে যাওয়া যেকোনো ডাউন ট্রেনের মতো আমরাও বিজরিত অজানা অসুখের কারণ তুমিই ।

। প্রিয় নারীর শরীরে শুকনো ফুলের পাপড়ি...দেখতে ভালোবাসো তাই না ?
 ছেদহীন ঘৃণার  ভাষা ... যা প্রথম চুম্বনের চেয়েও নিষ্প্রভ...।
 ছুটন্ত উল্কার গতি কমে আসছে দ্রুত... ,,
নুয়ে পড়া হাত  ধরে আছে বর্ণহীন মৃদুতায় পলাশের রং।
 বহুদূর থেকে দেখা নদীর পাড়
 শবদাহের শেষে স্মৃতির ধোঁয়া হারিয়ে যাওয়া রুমালে... শ্মশানের ছায়াপথে... আমাদের মত করা যেন বাড়ি ফিরতে চায় আজ ।
 অনন্ত প্রশ্নের অনুষঙ্গ খুঁজে নিচ্ছে. ওরা সবাই,
 .. ছায়াসঙ্গীর জীর্ণ সংস্করণ এখন তোমার সব কাব্যে ভীষণ স্পষ্ট ...। 
অভিযোগহীন পাতাগুলি গোঁজা আছে গাছের আঁশের নীচে,
... কুয়াশার বদলে.  বিপ্র-ঋতুতে... চিত্রানুগ দেওয়ালে কান্নার মত কিছু একটা রাখা .। 
বৃষ্টিতে ঢেকে যাচ্ছে আমার  স্মৃতির শহর,
... শরীরী ভাষ্যে যে ঘটে যাওয়া অন্তর-মৃত্যুর কথা ছিল... তার ষোলোআনা বয়ান হারিয়ে যাওয়া মানুষের মতো...এক প্রাণী এখন আমি 
.
বুড়োবিবির মাজারে এখন তুমিই  গহরজান লাল ,
আর তোমার মাদি ঘোড়া এখন তোমার সঙ্গমে বিহ্বল।

ও -এ ওম ও ওষ্ঠের মাঝে হারানো বন্দর

ও-এ ওম ও ওষ্ঠের মাঝে হারানো বন্দর
------------------------------------------------------

আয়ুর অর্থ যে নিজের নয় সেটুকু বুঝতে আগুন
পেরোতে হয় বারংবার ,

তা বুঝেও না-বোঝার দোলাচলে তুমি
ফেরানো মুখে ঋণ রেখে যাও প্রতিবার ।
_____________  আমি মাঠের ওপারে
ময়ূরাক্ষী ঠোঁটে শব্দ কুড়িয়ে রাখি আঁচলে ,

 গভীর বন্দর রাতভোর জীর্ণ নদী শরীরের আড়াল খোঁজে ,

গলিপথ ঘুরে আরোগ্য আসে না আজ কাল ,

... কেবলই হলুদ পাতায় ঘৃণা আর শিরার গভীরে নষ্ট মানুষের রক্ত শিকড় কে মরতে বলে । , 

খেলা

রাতভোর জল ভাঙে গঙ্গার এই ঘাটে  
নষ্টপুরুষ ধোঁয়া নিয়ে খেলা করে আরো একটা কুমকুম রঙা মেয়ে...
ম্লান আলোর কান্না ধুয়ে দ্যাখে আরো একটা কালো মেয়ের মন 
গঙ্গা  পাপ বহন করছে সেই কবে থেকেই 
________________ অন্যের উঠোনে 
লাউমাচা ভেবে জটিল আঙুলে মায়া জড়িয়ে নেওয়া এক পুরোনো অভ্যাস,
______________ কালো মেয়েটা  চোখ মুছে নেয়
হাতে লেগে যায় চোখের মণি...

জেনো... নষ্টপুরুষের আঙুলের গাঁটে বুনো লতা
 অজস্র  ঝুলন্ত শরীর... বাঁশপাতার ঘর লেগে থাকতেই পারব
  তবে  সিলমোহরখচিত আংটি  কখনও থাকে  না...।

গদ্যময় মেয়ে

মেয়েটার খোলা স্তনে স্তূপীকৃত সময়ের ধুলো
মুঠোয় নিষিক্ত লাস্য বেপানহা জিন্দেগী ।
বহু ক্রোশ দূরে...রেলব্রিজে শব্দ হচ্ছে পৃথিবীর
বেঁচে থাকার ,
______ চিঠিদের যাওয়া-আসার রাস্তা যেন 
 অযৌক্তিক মনে হয় আজ,....  অথচ 

.তখন বুঝিনি মাটির নীচে মানুষের
________মাত্র চার হাত জায়গা লাগে...আর মাটির ওপর একটা গোটা পৃথিবী ছোটো মনে হয় ,
ভেবে দেখলে মনে হয় এক জীবন  বেঁচে থাকায় 
কটাই বা মানুষ লাগে আসে পাশে বড় জোর পাঁচ কি ছয় জন ....অথচ এই পাঁচ ছয় জন মানুষ খুঁজতে মানুষের খোয়াড় ঘেঁটে গোবর মাখা করে ছাড়ে সকলে ...., তারপরেও নাটক আর নাটক ।
জেয়সে জিন্দেগী এক জুয়া কি খেল হ্যায় ।
বাদ দিই সব ওই মেয়েটার স্তনে মনোযোগ দেওয়া যাক , আচ্ছা মশার কামড়ে মেয়েটার কি প্রেমিকার বৃন্ত দংশন এর কথা মনে পড়ে নাকি সন্তানের কথা মনে পড়ে ? 
যদি এসবের কিছুই না মনে হয় তাহলে মেয়েটি বুঝবে যে জীবনটা শুধুই গদ্য একটাও কবিতার জন্ম হয় নি সারা জীবন।

দু হাত জমি

যে ভাষায় তুমি শ্রমিক ....
সে ভাষার মজুর আমিও ....
বর্ষাও যে তোমার শহরে ঝাপসা করেছে একলা দৃষ্টি ...
শিশির ভেজা কাব্য কিছু আমার বুক পকেটেও,
তুমি ভাবতে পারো যাচ্ছ জিতে প্রতি প্রেমিক খেলায় ,
আসল কথা তোমার ভাগ্য ভালো আমার মত বোকারা তোমার প্রচ্ছদে হেঁটে গেছে প্রতিবার  এযাবৎ ,
শব্দে তোমার জাদুর ছুরি ....
থামবে ঠিকই জারিজুরি .....
মাটির নিচে দুহাত জমিও হয়তো সেদিন ভীষণ দামি।



দলিলের ছবি

তৃতীয় আঙুল ছাপ রেখে গেল  জীবনের দলিলে... ছবিগুলো মনে পড়ছে তোমার...?
 কয়েকশো নারী কে ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ ক'রে চলছো  মান নির্ণয়ের দারিপাল্লায় ...।
 বিদায়বেলায় পাত্রে পুরনো দিনের অস্ত্র সাজিয়ে রেখেছিলে  বুহ্নের মত বুঝতে পারেনি সহজিয়া মেয়েটা  ...। 
বাঁধের ওঠানামায় ঘাসবন আর নন্দন চত্বর একই মনে হয় একই মনে হয় হোটেলের কামরা আর মনের ঘর... ,
.
অর্ধেক রঙে সম্পূর্ণ মাঠ দখল ,
চাদর ও সাদা ফেনা দিয়ে মন ঢাকা ,
কথা ও অনুসারী বিদ্রুপের উপাংশ এখন ,
বীজরহস্যে  এক-সমগ্র বৃষ্টিবিকেলের অপেক্ষায় রয়েছে সারা কলকাতা জুড়ে ...।
.
ভীমবেটকার সাতশো বাইশটি গুহা
আজ খসে পড়ছে  এই শহরেই 
_______অনন্ত ইন্দ্রিয়শৃঙ্খলে তার প্রেমিকারা চিরকাল লালন হচ্ছে...।
.

কুচভি নেহি ফিরভি...

অপেক্ষা.....!
 তার অর্থ খোঁজে কে আজ ,
 বাদশাও ফকিরি চায় ....তাই তো এত মিথ্যে সংলাপ,

ধুলোর ঐশ্বর্য দেখি- চৈতে,
 ঝরা পলাশ পায় রোদধোয়া দিনের অবহেলা ,
 ধুলোর আবীর
ওড়ায় উদাস হওয়া
রাত মাহতাব,
 দিন  মুসাফির
 এভাবে ফুরায় আয়ু একদিন ।
না তুমি কিসি কা হো সেকে ....
না কিসি নে তুমহারা হো-সেকে...
জিন্দেগী সির্ফ এক মহতাজ বান কর 
রহগ্যায়ী ....….

মৌরীফুল

যেখানে রাশি রাশি কালো বিষ জমা হচ্ছে প্রিয় দেহ দাহের পর... শিশির জমা  তোমার স্নানঘরে মৌরিফুল... বারান্দায় শুয়ে  গলা মোমের মতো  ঘোড়ার আওয়াজ ...,
 পাহাড়ের নিচে  দুলে ওঠা মুদ্রায় রাখা তোমার যাবতীয়  সর্বনাম...,
 খরস্রোতে ভেসে যাওয়া  মাটি উপড়ানো গাছের গুঁড়ি... , বুকের ভেতরে রাখা বড় বড় পাথর...,  অসহ্য যন্ত্রণায় এক‌টি কা‌লো ঘোড়া শেষবা‌রের ম‌তো ময়দান কাঁ‌পি‌য়ে দৌড়ালো ,
... চিত্রভাষায় ক্রমশ পি‌চ্ছিল  গড়ের মা‌ঠের ঘাস।
 ক‌থোপকথনে মগ্ন কোনো পু‌রোন ছ‌বির ক্যা‌সেট  বাদা‌মি ফি‌তে... আর বা‌কি সব‌কিছু... যা হ‌ারি‌য়ে গি‌য়ে‌ছে আমার ... কিংবা হা‌রি‌য়ে যা‌বে  তোমারও এক‌দিন ...।

 দেখো ঝুপ ক‌রে অন্ধকার  নে‌মে‌ছে আজ। কো‌র্টের মা‌ঠে দাঁড়ি‌য়ে দে‌খ‌ছি দি‌নের শেষ আলো ছ‌ড়ি‌য়ে দি‌চ্ছে পুরুষালি পেশী,
 অনন্ত পরমাণু‌রা ফিস‌ফি‌সি‌য়ে ক্রমাগত ব‌লে চ‌লে‌ছে আকা‌শে আজ কালপুরুষ উঠ‌বে আর তুমিও টিমের বারান্দায় সাক্ষী থেকো। 
**************************************

ভোররাতে তোমার পিছু নিয়েছি আজ...
বুনো হরিণের যমজ শিং  আমার মাথার ওপর
 রক্ত মুছে টাঙিয়ে রেখেছি ,,
...অন্ধ আয়ুর  লোভে
পুড়ে পুড়ে কালো হয়ে উঠছে আমাদের  বীজদেহ
চিতা থেকে ধোঁয়া উড়ছে যে পথে. সেখানে স্মৃতিহীন রোদ চমকায় তুমিও জানো ...

মুখোশ এড়িয়েছ তুমি? ... মৃত্যুদিন গুনে গুনে
অসুখের বড় কাছে আজ কাল তুমি পৌঁছে যাচ্ছ ,... 

মেঘ আঁকা  ছাতায়  জোড়-বিজোড় ছন্দে বৃষ্টির খেলা...চলছে ।
 আলগা সুতো রঙিন ঠোঁটের ফাঁকে মন্দ বাসা,...

বিসর্জন(২)

 

একা একা বিসর্জনের দৃশ্য দেখি দেগঙ্গায়
আমাদের দীর্ঘ কাটানো দৃশ্যের ।
একা একা তোমার  আড়াল ...আর
. দাহটিকা পেরোতে গিয়ে  কত নে  সাঁকো নদী হয়ে যায় 
.........  কত নদী সাঁকো   তার হিসেব করি এমন 
নিস্তার সময় আমাদের কারো কাছেই নেই ,

কর্পূর নিভে গেলে হেরে যাওয়া শর্তে
রুমালে জড়ানো আমাদের  গোত্র... লুকিয়ে পোড়াই  এই ভেবে যে কাছে আছো এই আঘ্রান পাওয়ার চেষ্টায় ।

যেসব রা‌তে বৃ‌ষ্টি নামত তোমার ফিরতি পথে .. ল্যম্প‌পো‌স্ট-এর আলোয় মনে হত বৃ‌ষ্টির ফোঁটাগুলো এলোমেলো ঘুঙুরের ডাক ,
...  অপমানের প্রচ্ছন্ন  স্মৃতি হাতের তালুতে ঢেকে ... মনে করার চেষ্টা করতাম তোমার ডাকনাম কোন বইয়ের খাঁজে রেখে দিয়েছি কিনা । 
 তোমার নামের আদ্যক্ষর গ্রাস করেছিল  বোধ হয় সেদিন আমাকে তাই চৈত্র ছাড়াই সমস্ত সর্বনাশ আমার অবিরিন ছিঁড়ে ফেলেছিলো ।
নাভি থেকে বিবস জ্যোৎস্নায় তোমার এলোমেলো 
আঙুলের আসা যাওয়া অধিকার বর্তিয়ে দিতো সেসব দিনে ।
 পোড়া দাগ নদীরা ধুয়ে দেয় কিনা জানি না ,
 তবে ছটফটে শেকল নোঙর বন্দর 
.. চিনে রাখে বহু দূরের যাত্রীকে ।

নীল দেওয়ালে দাগ কেটে কেটে দিন গোনা... ছোটো ছোটো নিজস্ব  যুদ্ধ আমার মত প্রত্যেকেরই থাকে 
... বিকৃত রক্তপাতও আমার মত প্রত্যেকের ভেতরে ঘটে যায় ।
অথচ আছি আর নেই এর মাঝে ব্যাপক সমাধান করে ফেলা যায় যে নিদারুন কর্পোরেট সময়ে ,
যেমন যাত্রীনিবাস , যেমন বাসস্ট্যান্ড , যেমন আমাদের সেই কেঁপে ওঠা উত্তরা লগ্নের ঘর ,
তেমন চার আঙ্গুল জমিন ...আর বিধাতার  অদৃশ্য খাগের কলম ,
জানি এসব তুমি বুঝবে না ...এসো তার চেয়ে বরং আমরা ত্রিপিটক খুলে গঙ্গায় ভেসে যাই এই ভেবে ...যে কত টুকুই বা আমার বলতে ছিলো যার জন্যে
এত ভাবনা ...আমি নিঃস্ব এসেছিলাম নিঃস্ব রয়েছি .... নিঃস্ব হয়েই ভেসে যাবো ।

রাধিকা ও বনমালী

তোমার প্রতিটি শব্দকে আমি প্রতিশব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে দেখলাম
জমানো সকাল দুপুর ও রাতগুলো আসলে বর্তমান নয় -- বিগতদিন!
যেন আলো নয় -- অমাবশ্যার বিপরীত এক আভার অভিমান,
যেন আত্মঘাত নয়--- জীবনের এক অনাপুষ্টির মার্জিত কোলাহল...!
ব্যাধ ও রমণী নৌকা  নদী আর বালুচর,
ঘুমন্ত বালিশ আর তার নিশিভ্রমে ভরা যুবকের করুণ আত্মবিলাপ... 
 তাই বোধ হয় আমাকে পথের দিকে যেতে বলেছো প্রতিবার,,,
ততবার আমি তোমার কাছেই ফিরি
 তোমার  এই অসহনীয় আলোর বয়ানে নৌকার মত দুলি,
কাল... মহা হতে থাকে
জন্ম... মহা হতে থাকে
অনিকেত এই অক্ষর ...মহা হতে
থাকে..!
 তোমার  ঠিকানায় পাঠাবো  নৌকা...
জলটুকু পার হয়ে,
আমাদের কথা হোক ক্রমশ অন্তরা
ক্রমশ রাধিকা ও বনমালী সংলাপ ...!

আমার সাথে বুড়ো হবে ?

 হয়তো সব সম্পর্কই অনির্দিস্ট , যারা কথা রাখে তারা বৃষ্টির মত,

রোদ উঠলেই হারিয়ে যায় ......শুকিয়ে যায় 

মানুষ আসলে  অন্ধকারে রাত মাপবার গভীর কুয়ো ,!


ধ্রুবন বাবু বলেন ......কাটা দাগ একদিন ঠিক।মিলিয়ে যায় ...সময়ের ওষুধে ,

 নয়তো ওই কাটা দাগের পাশে আরো প্রসস্থ  আর দীর্ঘ একটা দাগ কেটে আগের দাগ কে ভুলতে হয় ।

আসলে জানেন ধ্রুবন বাবু সময় বোঝেন ...সময় ,

সব্বাইকে একদিন চলে যেতেই হয় .....

ফিরভি ........মিল যাতে হ্যায় অকসর আনে-জানে

মে কোই না কোই ,

হো যাতে হ্যায় দো চার বাতে ভি আচানক ......

আপনেহি নাশে মে ধুন হ্যায়,

 জিন্দেগী তুঝে দেখ্যা হ্যায় সরাইখানেমে ........,,


বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

লাল নকশার দেশে









 ডেনিস কবরস্থানের একটু দূরে গোধূলির রং পুড়ছে জলার আকাশে ,,তুমি তখন 
নন্দনে নীল সালোয়ারের রঙে ঢেউ খুজছো... ঢেউয়ের গায়ে ঢেউ...তোমার শরীর আর মনে সাহু নদীর আলোড়ন ।
 তারারা ছুটে যাচ্ছে গভীর থেকে দূরে...যেন অদৃশ্য সেতু ভাঙছিল আমাদের ভেতরেও তুমিই শুধু আমাকেই জানতে দাওনি ,, 
প্রপিতামহের আঙুলছাপে তোমার জন্ম ছক
আর আমার বাসী বাসর  ভবিতব্য লিখে রেখে চলে অনেক আগেই । 
 এইমাত্র বৃষ্টি হয়ে গেছে... তোমার কিংবা আমার যেকোনো উঠোনে .... ঝিঁঝিঁর গুনগুনের সাথে ধেবড়ে যাওয়া আদর্  মিলেমিশে..
আজও একবার মাটি কেঁপে উঠেছিল.।

 আবর্তগতির পথ বদলে তোমার গোপন যা কিছু--- পাতাপোড়ার গন্ধ... , সেলাইবাক্সের দু-তিনটে সুতোর গোলা..,. তাঁবু গুটিয়ে রাখা মাঠের অনেকখানি উজ্জ্বলতা... , আর আমার আখরোট ঠোঁটের ভেতরে জমা অনুমান... , এসবই এখন একা একা ছদ্মবেশে মোজা ও বোতামের সঙ্গমে পরিণত হয়েছে। 
আজকাল বেশিরভাগ   ঘুমের একদিকে ক্লান্ত বারান্দা.. আর . অন্যদিকে উস্কোখুস্কো চুলের একটা শালিক... ঋতু পেরিয়ে নিথর কবিতার দেশে...ক্যানভাস দখল করে নেয় ।
আমি তোমার লাল পাঞ্জাবির গায়ে এসব নকশা যত্ন করেই রেখে দেবো জেনো ।
আর কোনো একদিন পোঁছে দেবো আমাদের প্রচ্ছদে রাখা সবকটি ছবিই শুধুমাত্র তোমার লাল নকশার ঠিকানায়।

সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১

জন্ম দিন না জন্ম দাগ

 আবারও একটা জন্ম দিন যেখানে দাঁড়িয়ে বারংবার   জীবনকে বয়ামে রেখে আমি সামনে দাঁড়াই..., অথচ এ জীবনের একটাও . সংলাপ
রচনায়   আমি নেই কোথাও।
 আমি শুধু  পোস্টার থেকে লাফ মেরে... ঈগলের পায়ের নখে শিরা কেটে ফেলি এই দিনটায় ,
... কুরুক্ষেত্রের শেষ দৃশ্যে  হয়তো আরো কিছুদিন লাগবে ,
... খুব ছোট অ্যাসট্রের ভেতর নিজেকে ঢুকিয়ে আমি প্রতিটা যুদ্ধে মৃত দেহ পোড়ানো ছাই জড়ো করে রাখি ।
হাতছানি লুকিয়ে... আত্মঘাতী হওয়াই যেত এই দিনটায় ... কিন্তু দুপুরের রোদের মতো সেই মৃত্যুকে লোকায়তিক ইতিহাস বহন করত না... কূটভাবনার কোনো বিদ্যুতবাহী তার হয়ত মনে রাখত লতিয়ে ওঠা গাছ এর মত  ।
 নিজের নদীপ্রপাতকে সামনে থেকে না দেখে... অন্যের বাতাস... ডালপালা... জলঢাকা জাল... ফেলে যাওয়া আঁশবটি দেখলে... মাটিলাগা শিকড়ের কথাই মনে পড়ে শুধু জন্ম দিনে ।

সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

I have finished my story

অধিকার ভেঙে দুটো রুটি
......................  ইস্পাতের চাকায়  অলৌকিকে জীবনের গান ..,,
শর্তহীন অসুখী বুলেট খোঁপার চুলে গুঁজে নিলাম 
কানের পাশে সমুদ্রের ফেনার মতো অদূরে শব্দ দৃশ্য রাখা ,
.......................................  পায়ে পায়ে মিলিয়ে যায় প্রেমিক মন 
আধখোলা মোমচোখে তোমার যত্নের ওম আর 
........................  দ্বিখন্ডিত তারা ভাসে আমার উত্তরের বারান্দায় ,
মাটির গভীরে শিকড়ের দাগ...মুছতে সময় লাগে হে মন 
ডুবসাঁতার কাটি আর ভেসে বেড়াই বিহুর দলের সাথে ভিজতে তো হবেই .....

পাহাড় বেয়ে এক-একটি চুম্বন রেখে আসি পর জন্মের জন্য 
 
 কৈফিয়ত ফিরিয়ে দেয় আমার ফেলে আসা অবেলার গল্পেরা 

জানলার পর্দা উড়ছে... সিলিং থেকে একখানা দড়ি... গায়ের নীল অন্ধকার শনিমন্দিরে গচ্ছিত রেখে বিকেল ভাঙার খেলায় তোমার মুখ মনে করার চেষ্টা করলাম .…....
I have finished my story sooooo
        I'm Quite .........

শনিবার, ৫ জুন, ২০২১

মগ্ন মন

শোন রে ছেলে এই অভিমানের কাছে বাজী ধরলাম নিজেকে...!
সেই গল্পটা যার জন্মের কোনো উৎসব হতে নেই
তাই সে ছিলো গোপনে ...................সম্পূর্ণ লুকিয়ে ফেললাম সেই গল্পের প্রচ্ছদ আর প্রচ্ছদে1 রাখা চরিত্র , আগামী কাল তোকে শুভ সকাল বলার ছলে গঙ্গার ঘটে শেষ পিন্ডদান দিয়ে নেবো ।
শোন রে ছেলে তোকে শিরোনামহীন গল্পেই যে চিরকাল মানায় সেটা বুঝতে খানিক সময় লাগলো এর বেশি কিছু নয় ......যারা জানতো তুই কখনোই নামকরণের যোগ্য নয় তারা বুদ্ধিমান যেমন এজাবৎকাল তোর পরিবেশে তোকে বাড়তে দেওয়া গাছটা কিংবা তোর স্কয়ার ফিটের গুল্ম এরা সবাই জানতো তুই কখনোই শিরোনাম পাওয়ার  মত নয় .........
এই পণ্যের দুনিয়ায় আমিই নাহয় একটু বেশি দাম দিয়ে একটা শিরোনাম কিনে ছিলাম ...তোর জন্য,
শোন রে ছেলে সব গল্পই নাম পাবার যোগ্য হয় না ...তাই প্রবাদগুলো বড্ড সত্যি হয়ে যায় চিরকাল ।




নিয়মাবলী

মৃত মানুষের জন্যে কেউ সারা জীবন শোক পালন করে না ,
মৃত সম্পর্কে জন্যেও তো নিয়মাবলী একই হবে ,
তাই ধরেই নিলাম তুই যে দিন আমাকে ছেড়ে গেলি সেদিন আমার চোখের সামনে এক  প্রিয় মানুষ
রেলে কাটা পড়ে মাথা আর দেহ আলাদা হয়ে গেছে ,
ঘুমের ভেতর কেঁদে উঠেছি অগুনিত রাত ......
ঈশ্বরের কাছে ভিক্ষা চেয়েছি তোকে অগুনিত আজানে ......
হয়তো তোর কাছেও কখনো কখনো ভিক্ষার পাত্র রেখেছি  ..............পেয়েছি অপমান ....অসম্ভব অপমান ...
আর অবহেলার বন্ধ দরজায় আমার রক্ত ক্ষরণ
দেখেও তুই ফ্রেম বন্দি ছবির মতোই নির্বিকার ছিলিস , অবাক হয়েছি এসব দৃশ্য গুলোর কাছে ,
মনে হয়েছে এক লহমায় এসব মিথ্যে প্রমান হোক .........., 
 অথচ  তোর চুয়াল্লিশের বুক  সেদিন ছিলো ওই এক্সিডেন্টে মরে যাওয়া বুকটার মতোই স্পন্দনহীন ।
...........সে দিন গুলোয় যা ঠিক মনে হয়েছিল তাই করেছি ,

আসলে মৃত মানুষ কিছু দিতে পারে না .....
আসলে মৃত মানুষ কে সাদা ফুল ছাড়া কিচ্ছু দেওয়া যায় না ,
আসলে মৃত মানুষের শোকে সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়াটা একটা চরম বোকামি ...
যারা বেঁচে থাকে তাদের   মান কিংবা অপমান এক ধরণের হয় আর মৃত ব্যক্তির মান কিংবা অপমান বলে কিছু হয় না,
..... ....হ্যাঁ হতেই পারে কখনো তার 
ছবির সামনে দাঁড়িয়ে  পরতে হয় দু চার মিনিট ,,
তারপর নিয়ম মাফিক সামান্য সাদা ফুলের শ্রদ্ধার্ঘ.... ব্যাস তারপরে আর কিচ্ছু থাকে না , .... আর একদিন এভাবেই .....আর সেভাবে তাকালেও দেওয়ালে টাঙানো ছবিতে কোনো স্মৃতি
চোখে পড়ে না ..... হঠাৎ করেই হারিয়ে যায় সমস্ত ফেলে আসা কাটিয়ে আসা সময়ের স্মৃতি ....। 

 আসলে স্পর্শ গুলো সময়ের বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে সাফাই করে নিতেই  হয় .....
মনে করে এক দিন ওই  একসিডেন্ট এ ফালাফালা হয়ে যাওয়া চেহারাটা ভুলতে হয় .....
ভুলতে হয় একদিন  এক সাথে হেঁটে যাওয়া  পথ গুলো এই ভেবে......................
 ....যে মৃতে রা কখনো ফেরে না ।

 আসলে মৃত্যুর পর চাইলেও আর  ফেরা যায় না ।


তিলোত্তমার বহুরূপ

ক্রমশ এককোষী  হয়ে উঠেছে এই তলোত্তমার সব মানুষ গুলো ,
আর মন গুলোয়  নিঃসঙ্গতা কারুপণ্যের 
ভালোবাসা বিহীন প্রজনন চলছে  বড্ড তাড়াহুড়ো করে,,
আজকাল এ শহরে বিপদ সীমার থেকে বেশি
বৃষ্টি হলেও মানুষের কান্না পায় না আর ।
একাকিত্বের দুপুর গুলোয় কবিতা আসে না আর ।
মাঝ রাতে জেগে উঠে বুকের ভেতর ভালোবাসা
হীনতার জন্য কষ্টও হয় না আর ।
 হারিয়ে ফেলা জন্ম তাবিজ খুঁজে মন কে গুনিতক উপায়ে দুই, তিন, চার, পাঁচ,  কিংবা আরো অনেক অনেক ভগ্নাংশে  বিলিয়ে দেওয়া এক অদ্ভুত প্রথা এখন ।
নিজের বেঁচে থাকার প্রামাণ্য দলিলের খোঁজে  বিজ্ঞাপন এর ইউনিকোড নিয়ে যার তার কাছে 
ফ্রস্টেশন এর খাতা খুলে দেওয়া একটা রীতি ,

........হ্যাঁ তাতে খানিকটা পোশাক খুলে কাছে আসা কিংবা বুকে হাত রাখা হয়েই যায় ,

আসলে ...স্কোয়ার ফিটের বারান্দায়  দাঁড়িয়ে মনকে প্লাস্টিকের ক্যালেন্ডুলায় ভোলাতেই হয় তাই না ?
 আসলে আমার মত মানুষ যারা ভালোবাসার ডিকোডিং শিখতে পারে না কখনোই ......তাদের 
ভুলে যাওয়ার চেষ্টায় লেখা পাণ্ডুলিপি গুলো পড়েই মানানসই হতে হয়,  অথবা মানিয়ে নিতে হয়, ,অথবা মেনে নিতে হয় ........।
বাদ দাও  .....বাদ দাও ....এসব কথা 
তার চেয়ে বরং আজ তুমি উদযাপন করো ...শহরের বুকে তোমার বান্ধব মনা মোমবাতির  আলোয়  রেস্তোরাঁ কিংবা ক্যাফেটেরিয়া ক্লোরোফর্ম সন্ধ্যা গুলো কে ,,।

মৃত্সালাপ

প্রতিটা দেখার ভেতর একটা গোপন ইচ্ছা রাখা থাকে , অন্ধকারও জানে আলোর পথ আমার বুক চিরেই হতে হবে ,

অথচ এসব কথা আমিই বা বলছি কেন !আমি  না অন্ধকার না আলো আমি এই দুইয়ের মাঝে সুক্ষ রেখা যা কিনা দৃশ্যহীন সেতুর মত অধ্যায় জুড়ে চলেছে  , 
কত গুলো গল্পে আজও মানুষ নিজের আমি টা কে নিজের থেকে বড় ছায়া করে ফেলে আর তাই 
সেই গল্পে  অস্ত্র  একটা  পুরান আর আঘাত একটা যত্নে পালিত মিথ ,

আজ সারা দিন   বেশ কিছু দেহ গুলো  নিয়ে কাটা ছেড়া  কিংবা বেশ কিছু দেহ মাটির দুফুট নিচে একটা ঠিকানা  খুঁজে দেওয়া .....
কিছু দেহ জাপটে প্রাণ বাতাস খুঁজে ফেরা ,
এই ছিল কাজ ..............................

তবু চেনা অচেনা সম্পর্কে র মাঝে বারংবার নিজেকে সেতু হিসেবে পেয়েছি .....
বারংবার মনে হয়েছে বুকের পাথরটা যেখানেই মাটি আঁকড়ে রাখতে চেয়েছি সেখানেই  রাবনের পুনর্জন্ম হয়েছে প্রতিবার ।

শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

বিহাইন্ড অফ কার্টন

দিনটা সম্ভবত বছর আট কিংবা দশ আগে 
বিশে জুন ... আমাদের  আলাপ হয় ফেসবুকে থেকে 
আমি সে ভাবে চিনতাম না তোমাকে কিংবা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ও পাঠায়নি আগে থেকে , তোমার স্বভাবেই তুমি খুঁজে নিয়ে ছিলে আমায় ,,
 দু  একটা ছবি , তুমি আমার প্রোফাইল ঘুরে আসবাবপত্র দেখে নিয়েছিলে ........তারপর যখন প্রেমে পড়লে তখন আমাদের বন্ধুত্বের বয়স মাস তিনেক হবে 2nd  অক্টোবর ,
 গান পাঠালে ইন বক্সে "পারবো না তোকে ছাড়া থাকতে "
যদি বোঝাতেই হয় গোটা পঞ্চাশেক ছবি , নাম না নিয়ে বেশ কিছু কবিতা  আর সময়কে জাপটে ধরে যাপনের মাঝে তুমিই তুমিই খুঁজে নিতে বলে ছিল একটু বেঁচে থাকা একটু নিঃশ্বাস , এই ছিল আমাদের টাইমলাইন ,,

ছেড়ে গেছো তারও টাইমলাইন আছে .....আছে কবিতা আছে ভীষণ গোপন কিছু সংকল্প যেখানে আমি নামক চরিত্র টা ছাড়া সব্বাই সব্বাই সৎ চরিত্রের  সব্বাই তোমার শুভানুধ্যায়ী ।

কি অদ্ভুত ভালোবাসা ছিল আমাদের   তাই না !! .....ছেড়ে যাওয়া থেকে যাওয়া ....সব সব কিরকম পাল্টে যায় টাইমলাইনে আসে নতুন মুখ ,
তারপর যে দিন থেকে তোমার ব্লক লিস্টে গেলাম 
সে দিন থেকে কত লেখা লিখেছি ... তবে তোমাকে দেখাতে চাইনি , 
আর তুমি দেখবেও না জানতাম কারণ ....
তুমি জানিয়ে দিয়েছিলে আমাকে আর কক্ষনো ...কক্ষনো দেখতে চাও না ....জানিয়েছিল আমি তোমার এজাবৎকাল জীবনে সব চেয়ে বড় শত্রু ...

.......মনে মনে ঈশ্বরকে বলে ছিলাম সেদিন ...এমন কিছু তোমার মুখে কিংবা মনে আসার আগে আমায় মৃত্যু দাও হে ঈশ্বর , ....দিয়েছে ঈশ্বর কৃপণ নয় আমায়  বহু খণ্ডে মৃত্যু দিয়েছে , ঠিক তোমার মত করে যেমনটা তুমি চেয়েছিলে আমার শাস্তি  হোক ,    তোমাকে অবহেলিত করা প্রতিটা  নারীর বিরুদ্ধে তোমার ভেতর যে  গোপন সন্ত্রাস লালন করা  ছিল ...সেই প্রতিশোধ  তুমি আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে  নিতে চেয়ে ছিলে যেমনটা ....ঠিক ঠিক তেমন করেই আমার মৃত্যুর ভেতর তুমি তোমার জীবনের সমস্ত অবহেলার প্রতিশোধ নিতে পেরেছো ।

......আচ্ছা ভেবে দেখেছো কখনো ....একসময় কত পরিচিত ছিলাম আমরা ....আর এখন আমরা চিনিই না  একে অপরকে , 
এই সুবিধাটা ফেসবুক আমাদের করে  দিল  তাই না ? তুমি একদিন ফেসবুক কে ধন্যবাদ দিতে আমাদের দেখা করিয়ে দেবার জন্য .....আর আজ ....নিশ্চয়ই ধন্যবাদ দাও এই ব্লক করার অপশনটা ফেসবুক রেখেছিল তার জন্য ।

যাকে ভুলতে চাই যাকে দূরে সরিয়ে  দিতে চাই...
 তার অনিচ্ছায় তাকে চোখের সামনে থেকে সরিয়ে দিতে পারো ....ব্লক করে দিতে পারো , নিঃচিহ্ন করে দিতে পারো খুব খুব সহজে তাই না ?


তারপর আরো কত পোস্ট কত কবিতা কত চেনা ছবিতে লাইক কিংবা ভালোবাসার চিহ্ন .... দিতে দিতে টাইমের সাথে টাইমলাইন  পাল্টে যায় ,, 

অথচ একদিন যাকে চাইলে নির্দ্বিধায় তাকে এমন পর্যায়ে ঠেলে দিলে ....তার মুখোমুখি হবে না... বা তার সাথে কথা হবে না কোনদিন ।
..........একটা বয়স পার  করার পর যখন মনে পড়বে পারবে ....পারবে খুঁজতে  ? পারবে আনব্লক করতে ? , 
যখন লগ ইন বা লগ অন করার সামর্থ থাকবে না , কিংবা ইচ্ছা  থাকলেও ... মনে থাকবে না কিভাবে আনব্লক করতে হয় ,
ফেসবুক  থাকবে .....সময়ের সাথে সাথে আরো যুবক হবে তুমি , তোমার কবিতা যুবক হবে ....
প্রেম আসবে অনেক গুলো অধ্যায়ে  সে কবিতায়, .... তোমার চলন্তিকার  সুনীলের নীরা কিংবা ধ্রুবন বাবুর টুপটুপ পাল্টে যাবে অন্য কোনো মুখের আদলে ......।
আমরা এ জগতেই আরো ....আরো পুরোনো হতে থাকবো , তুমি আমি আমাদের দেখা না হওয়া দিন গুলো আরো আরো আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে বাড়তে থাকবে ,
তখন চাইলেও ব্লক লিস্ট থেকে আর ফ্রেন্ড লিস্টে যেতে পারবো না কেউই ,
জীবন এরকমই  ছেড়ে যাও  যদি তুমি চাও ....
থেকে যাও যদি তুমি চাও ........
ভুলে যাও যদি তুমি চাও ..........
মনে যদি থাকে মনে থাকবে ........
জোর করে মুছে দিলে ......
ফিরিয়ে আনা যায় না .....
.একদিন সবাই পাসওয়ার্ড ভুলে যায়  তা জীবনের হোক বা ফেসবুকের , তখন কিন্তু চাইলেও আর ফেরা যায় না ,
সম্পর্ক  থাক বা না থাক ...  সংযোগ  যেন থেকে যায় .....
ওটা রাখতে হয় .....................
 তাই কখনো কখনো শত্রুর খবরাখবরও নিতে হয় ।

মিলানকলি

Memories are scattered all over the immense world, and it takes voyaging to find them and make them leave their refuge...

Milan kundera / The Book of Laughter and Forgetting

 

যোগাযোগ সেতুর ওপর তেজস্ক্রিয় সন্ধ্যা নেমে গেছে   বহু  দিন ,
ডানা ঝাপটে বাড়ি ফেরা পাখিদের আকাশে
পরিচয় হীন সম্পর্কের মুক্তি মিশে গেল এইমাত্র ,
  এখন আমার  আর জ্বর  নেই..,, তাই ছাদের কার্নিশে     কান্ট 'ক্রিটিক অব জাজমেন্ট' লিখে ফেললাম  'উদ্দেশ্যবিহীন হাওয়ার জন্য ।

 জীবন যেন  ভাস্কর্য...   ড্রাগন কিংবা ফিনিক্সের পুনর্জন্মের নকশাগুলি আমারা বার বার  বুকের পাথরটা য় খোদিত করে ফেলি কোনো অপচয় না ভেবেই । 

আজকাল জানলা খুললেই স্বরবর্ণের ফাঁকে ফাঁকে রোগের সকাল অপেক্ষা করে ,,
 ,তাই আমার শেষ প্রেমিক পুরুষটির নাগপাশ বন্দি দশা
বেড়েই চলেছে .....শরীর নীল হচ্ছে ক্রমশ .....
তার নতুন প্রেমিকা চাদরে বাসী  বীর্য লুকিয়ে ,
খোঁপা আলগা করে দেয় ......অভিসার খুঁজতে খুঁজতে ।
আমি এসব দৃশ্য পট ও দৃশ্য ক্যানভাসে রাখছি রোজ ......
প্রতিটা ঠিকানা সে অন্তর্বাস লুকিয়ে রেখেছিল ,
এত দিন .......এতদিন যা রূপকথা ছিল,
আমি রূপকথার পাঁচিল পেরিয়ে সমস্ত ছবি ঠিক ঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দেবো তাকে জানিয়ে রেখেছি ।।





বুধবার, ২ জুন, ২০২১

মিথ্যুক

আজকের   সবটুকু   বৃষ্টি নিয়ে  দেখলাম ....
ঘরবাড়ির সাথে  
পরাগের ধুলো ভাসে  জমিনের ওপর উত্তর পত্রে,, ... কিছুটা আকাশ, স্বপ্ন শুধু  ভেঙে যায় মাঝে মধ্যেই ... এ যেন কারো লেখা গল্পের দৃশ্যপট,,


 শরীরের ভাষা দিয়ে  সহবাস লিখে দেখেছি 
যা পাওয়া যায় তার বাজারী মূল্য  হাততালি... ।

......................... একফালি নিস্তব্ধ ঘূর্ণি ঝড় 
এ-ঘাট সে-ঘাট ঘুরে চুপি চুপি বলে যায়
আজও একজন ছবি আঁকে তোমার
ডানাহীন নির্জন প্রান্তরের... আজও একজন 
তোমার দেওয়ালে রাখা অবহেলার গিটারে নিষ্পাপ
সুরের জন্ম দিতে পারে ।
কিংবা ল্যাপটপের পাশ ওয়ার্ডে একটা নয় অজস্র স্মৃতি কে আয়ু রেখার শেষ দরজা পর্যন্ত পোঁছে দিতে পারে ।
তুমি প্রেমিকা দেখেছো  অনেক ।
নারী দেখোনি হলফ করে বলতে পারি ,

. মাথা নীচু করে নীল হাইফেনে হিম নেমে আসে
সময়ে শিরদাঁড়ায় তবু সে নারী । 
আকাশি নাভি থেকে আরও উপরে টুকরো কাগজের দল ভাসে ...  তোমার বাড়ির পাশে টিলার ওপর বয়ামে রাখা নুন লেবু দেওয়া ক্ষরিত রক্ত ,
 অনেক  ভাঙার শব্দ বাতাস  ক্ষীণ অপচয়ের... আবর্জনা জড়ো করে....তবু সবটুকু ফুরোয় কই।
 সাদা পর্দার জানলা রাখা গোপন ছিদ্রে বাস্তু সাপের আসা যাওয়া ছিল  অলক্ষে ..... তার গোত্র আমার জানা ছিল আগে থেকেই, ,
 রক্তক্ষরণ গাছেদের ও হয় । 
ওরাও হলুদ বর্ণে   স্মৃতি নষ্ট করে ।
 বৃষ্টি এলে ছাদে ফেলে আসা ধুলোমাখা উপহার  ভেজে গভীর অসুখে। ....তবু শুশ্রূষা চায় না ভিক্ষা করে । 
 হয়তো প্রতিবেশী শিকড়ের কাছে অসাড় স্থানাঙ্কে ঘাস ছুঁ‌য়ে প্র‌তিজ্ঞা করে সবুজ হ‌য়ে উঠ‌বে ব‌লে।
আর আমি

আমার মত কেউ  প্রতিজ্ঞা করে..... তোমার মত মিথ্যুকের  মুখ যেন মনে করে ভুলে যাই,।

উত্তর পত্র

নীল দেওয়ালে দাগ কেটে কেটে দূরত্বের দিন গোনা... ছোটো ছোটো যুদ্ধ নিরন্তর  নিজের ভেতর .. 
বিকৃত রক্তপাত হাতে তার দাগ ,,

 এমন রাতে বিষপাত্র উপুড় করতে হয় জানি ...
অথচ বাঁচতে সাধ হয় এক ভাগ জমি জুড়ে ....।

 জানলার কাচে দূরত্ব বাড়ে চাঁদ ও কুয়াশার মতো।
 আজ চারদিক বেশ শুনশান..
সিলিং এ একটা অদৃশ্য হাতছানি . 
 আমার বাড়ির পাঁচিল থেকে  মি‌নিট কু‌ড়ি হাঁট‌লে শ্মশান... অনেক দিনই মনখারাপ হ‌লে সে পথে...।
কিছুটা আশ্রয় আমায় প্রশ্রয় দেয় ।

 আজও গুঁড়ো গুঁড়ো বৃ‌ষ্টি মাথায় নি‌য়ে গঙ্গার ধার ধ‌রে কিছুটা হেঁটে আসতে নদীটা হা‌রি‌য়ে গেল হঠাৎ,,   বা‌ড়ির পর বা‌ড়ি... জ‌লের রিম‌ঝিম শব্দ । নদী ক্রমশ দূ‌রে হা‌রি‌য়ে যা‌চ্ছে আমাকে একা করে দিয়ে । 
মেঘ  আর   সই  স‌রে গেছে  নিস্তব্ধতার ভেতর অন্য পৃথিবীতে ।
 বুঝতে পারি   না বাতা‌সের চ‌লে যাওয়ার শব্দ... না-‌কি ফি‌রে আসার...!এমন অনেক  অক্ষর শব্দ আমি আজও চিনতে শিখলাম না ।


বিষ না বিশ্বাস

একা রাত জে‌গে ঘু‌রে বেড়ানো শহরের আস্তাকুঁড়ে ... 
মা‌টির ভি‌জে গন্ধ... মড়া পোড়ানোর কাঠ ও আগুন...  সাথেই থাকে .....আর থাকে কোনো না কোনো সম্পর্কের ওপারে একটা করে শব দেহ।

 হয়ত  ফু‌রি‌য়ে যাওয়া যা‌-কিছু... ভিড় ক‌রে আসতে সাহস1 পায়  অন্ধকা‌রেই   জোনাকীর পাখায় ভর করে ..... আমি শক্ত হাতেই এবার নিজেই দরজা জানালা বন্ধ করে নিয়েছি মিথ্যেবাদী পৃথিবীর থেকে ।

এ শহরে  যত  চিৎকার যত  শব্দ...  তত মিথ্যের আতুর ঘরে প্রহসনের জন্ম ।

গভীর রাতে দূ‌রে ফাঁকা শহরটা ডিঙিয়ে  নৌকার ওপর আলো আর অন্ধকার নিয়ে বসি মুখোমুখি ... যেন কেউ প্রদীপ ভা‌সি‌য়েছে সাথে কিছু পাপ।
 হাওয়ার ধাক্কায়  গা‌ছের পাতা... চিতাকাঠ আর নি‌র্দিষ্ট কিছু অন্ধকার একটা ঠিকানায় পৌঁছে যায়  নিয়ম মেনে।।
 আমরা একসা‌থে ঝাঁপ দি‌য়ে‌ছি ভাঙ‌নের ঢা‌লে,,
তাই মৃত্যু দু ভাগে আসবে না জানি কখনোই,,,

  আমার আহ্নিক গ‌তির সা‌থে তাল রে‌খে... পেন‌সি‌লে হি‌জি‌বি‌জি কাট‌তে কাট‌তে ক‌বিতার ছায়া...আর যন্ত্রনায়  কেঁ‌পে উঠ‌ত  যে শরীরটা....
আজ তাকে কেউ বলে  দেয় না কতটা কষ্ট দিয়েছে  নিঃশব্দ ঘরে নন্দনে এর মিথ্যে চিঠি বিলি ।

 একদিন যা কিছু আঁকব ব‌লে ভাব‌তাম তা সবই জমা হ‌'ত হাজার হাজার আলোকবর্ষ পার হওয়া কোন রূপকথার জীবা‌শ্মে,আজ তার সবটুকু নামকরণ হয় বেশ্যার সাথে কাটানো খেলা বলে ।

। ভিতরমহ‌লের প্র‌তি‌টি কো‌ণে আলো-ছায়ার ইশারা বুঝতে পারতাম ঠকে যাচ্ছে মেয়েটা । একদিন ............

 সম্পূর্ণ মুক্ত হ‌য়ে  তাই উড়ন্ত ফেনার বল‌য়ে নি‌জে‌কে সঁ‌পে দি‌লাম আমি।
 নীল আগু‌নে পু‌ড়ে গেছে  সব‌কিছু...  তাকে দেওয়া গিটারের  সুর-ও .........।।


মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১

ডানা ঝাপটানো

ডানাঝাপটানোর শব্দ শোনা যায় বন্ধ ঘড়ির বুকেও,
বেঁচে থাকা আসলে  বীজের বুকে ঘুমন্ত স্বপ্নদের
ক্রমাগত মাকু টেনে চলার নাম ,
বাঘবন্দি খেলায়   মানুষ  যে কখনোই  জিততে পারে না .....কত গুলো খোপ কাটা ঘরে দৌড়োতে দৌড়োতে একদিন কোনো এক  দেওয়ালে ঠোক্কর খেয়ে হেরেই  যায় ।
 এ শহরে বাড়িগুলো বাদামি... অ্যাসাইলামের মতো দেখতে লাগে  আজকাল  .....আর চালাক ভাবা মানুষ গুলোকে আসলে গিনিপিগের মত দেখতে লাগে  ,

  মরফিন সংসারে একটি বিকল শরীর  রেখে তারা কেবলই নিরীক্ষণ চালিয়ে যায়  প্রতি মুহূর্তে ।

দিনের শেষে জানলার খড়খড়ি তুলে রক্ত বমি করে জানান দেয়  এ যে কে আছো শুনছো আমি ভালো নেই ....একটা বুক কিনতে পাবো কোথায় কেউ  কি বলতে পারো ?

শরীরের চামড়ায় তখন দীর্ঘ ডিঙি পথের 
দাগ ,   শুঁয়োপোকার গতিজাড্য...তখন সুখ খুঁজতে চাওয়া অভ্যেসে ।

অথচ ঘড়ির শব্দ থেমে যাবে একদিন এ শহরের 
সব মানুষ জেনে ছিল পূর্বাভাসে ।
তবুও তারা ভুলে সবাই একই সাথে  prevention is better than .....................।
...







কাফিরানা

লোহার দরজা  খুলে... ডালপালাহীন শরীরে তির-ধনুক গেঁথে... উলটে যাওয়া নৌকার পিঠে চেপে বসেছি ,
 অন্ধকার সাজিয়ে আলো কে  স্পর্ধায় রেখেছি নিজের ।
  মাঝে মাঝে নিজেকে মিলেনা মনে হয়... ফেলিসও... গ্রেতি কিংবা ডোরাও ভাবি নিজেকে।

  
এখানে আমার দেশে  জলের উপর  শুধুমাত্র রাত্রি হয়।
 সকাল, দুপুর কিংবা সন্ধ্যে হয় না। 
বরফে ভেসে যাওয়া  আশ্চর্যতম ন্যুব্জ অন্ধকারকে 
আমায় যত্ন করে গচ্ছিত রাখতে হয় পান্ডুলিপির জন্যে ।
খবর পাই   আজকাল   ও শহরে পাখিরা কেরোসিন টিনে ঠোঁট ডুবিয়ে দহন রোমন্থনে ডুবে থাকে।  

  ........এসব শুনতে শুনতে মনে হয় ....আমিও একদিন  পালিয়ে যাব ফুলস্টপের সাথে।
 দাঁড়ি কমা সেমিকোলন যে কেউ হতে পারে... আমি পুনশ্চঃ হতে চাই না কখনো ।...........
....................তাই................


..........আমায় আশ্রয় দিয়েছেলো  যে 
তার কোনো চিহ্ন রাখিনি
নদীর জলে আয়নার মতো
উত্তরপুরুষ আর তার  মৃত্যু রেখে এসেছি,,, 

ভাঙা কাচের শহরে পৌঁছে দিয়েছে কেউ তৎসম 
কিংবা ওম বার্তা ,,

আমি কেবল তার দরজায়
দীর্ঘ শোকের ছায়া লেপে এসেছি এক  হ্রস্ব ব্যবধানে।
... আর জেনেছি মৃদু আঁচে সেঁকা বাদুড়মাংস তার প্রিয়  প্রচ্ছদ  এখন।


প্রতিবার

ভেবে দেখেছি , এশহরে উড়ন্ত পায়রার বেশে
জানলায় কিংবা আদরের একফালি বারান্দায় সম্পর্ক আসে বারংবার ,, 
  ঠিক যখন ঘ্যানঘ্যনে বকুম বকুম সীমানায়  হেলান দিয়ে  আমরা মুক্তি খুঁজি ,

................ তারপর আবার.... তারপর আবার   ঠিকানা ফেলে রেখে কোথায় যেন... উড়ে যাওয়া,

 অঙ্গুলিহীন প্রত্নভাষায় এই বাতাসের বারো ভাঁজে.., বারো ঘর 
.  অথচ ছায়ায় উঠোন একটাই ,,
..................... সিন্ধুলিপি বুঝতে বুঝতে  ক্যানভাস তুলি গুটিয়ে রাখি... দরজা ভেঙে ফেলি ,
একটা ভীষণ রকম প্রেম আর দীর্ঘ জ্বর কে গুলিয়ে ফেলি প্রতিবার ,, ,
 শহরের কনিষ্ঠতম ঠগীরা  পানপাত্রে ছড়িয়ে রাখে সমুদ্রের ভিজে নোনা  বালি অমৃতের মতোই,

 তবুও ......তবুও ....ফেরারি  মাছের করোটি দেখে তার মুখ এঁকে ফেলতে  পারি  খুব সহজেই ...,,।

 স্টিমারের ভোঁ বন্দর থেকে  বহুদূরে...মিশে যায়  আলোজল... দৃশ্য গুলোও  ক্রমশ  পর হতে থাকে ,,,

পশমের পোশাকে মূক বোধির শরীরেরা আদর বিলিয়ে দিতে বলে সময়ের ভালোবাসা ,

মরচে দাগের শব্দহীন ইতিহাস আরো একবার পাশ ফিরে সকালের অপেক্ষায় ঘুম খোঁজে ।

মনে রাখার জন্য

ভুলগুলো  ... মনে রেখো...  পার্থ,
কত শোক ফেলে রেখে গেছ এভাবে আমায় 
 .  .   .   .   .   .   .   .   .   . চিৎগণ্ডুষ... করোটি চাতালে আমি এখন একই থাকি প্রেমিকের বুকে ,

 প্রসব  করা মুহূর্ত ছেড়ে   ডিঙি ভাসাই 
 অচেনা সাপের বিষে... আমি হলফ করে বলতে পারি তুমি হেরে গেছো এমন ভাসানে ,,

শ্রাবণ-দরজার ভাঙা চোখে 
   আজ কাল তোমার আকরিয়ামের  মাছেদের সারি মৃত্যু নেমে আসে 

  .  .   .   .   .   .   .   .   .   . পাশের বাড়ির  নগ্ন শরীর দেখতে দেখতে তুমি ঘুমিয়ে পরো .....মনের সিঁড়ি বেয়ে তোমার নতুন পলাশের উত্তাপ তখন 
শরীর কে জাগিয়ে তোলে, 

এভাবেই তুমি কেবল পুরুষ হতে পেরেছ প্রতিবার ,।

ভুলগুলো মনে রেখো প্রতি বারের মতোই ....
মনে রেখো রং তুলি জেগে উঠে যখন শব্দরা ঘুমিয়ে থাকে .....

মনে রেখো অজয়ের জল , লাল মাটির ভিজে গন্ধ , আর  সে কালো মেয়েটার মন্দবাসার গোপন বুনন  থাকে   ,
মনে রেখো সব মনে রেখো পার্থ।


সমুদ্র

বাষ্পর  পরিপাটি স্রোত কাচের গ্লাসে লেগে আছে 
এই সাত সকাল থেকেই, 
পাথর  ডিঙিয়ে ছোটো ছোটো খেলনার দল আমাদের  বুকের ভেতর  সাজানো সংসার ঘুচিয়ে ,দিচ্ছে ক্রমশ .......,,

  .  .   .   .   .   .   .   .   .   .   সাদা কালো রঙের
 ঘুঙুর বেঁধে নাচে সবাই..... যেমন তুমি কিংবা আমি নেচে চলেছি মুখোমুখি,
মোমবাতির শিখা ছিঁড়ে পড়ে
   .  .   .   .   .   .   .   . জরাগ্রস্ত বিষাক্ত  হাওয়ায়

কেউ নেই... কিছু নেই যেখানে
 সেখানেই একদিন  আসলে কেউ না কেউ ছিল ....আর তাই আজ
   .  .   .   .   .   .   .   .   .   . অনুবাদ ফুরিয়ে  গেছে বলে মনে হয় ।

 সমুদ্র কি কখনো  ঘুমিয়ে পড়ে!  তবে যে তার বুকে ফুটন্ত ঢেউয়ের  বারংবার জেগে থাকা লিখে রাখে সে নিজেই ।
....রাত গুলোতে  কখনো কখনো সমুদ্রও   আমার কিংবা তোমার মতোই 
  .  .   .   .   .   .   .   .   .   .  বড়ো একলা আর অস্থির হয়ে পড়ে .... নিজেকে গুছিয়ে নিতে সমুদ্রেরও একুশ দিন কম পরে ।


মাটির পুতুল

  অতীত জন্ম-দাগের মতো

কিছু দাগ লেগে থাকে খাঁচার তার গুলোয় ,

মনে করতে চাই না কে ছিলাম, ছায়াপথ জুড়ে তবু কেন হাজার মুখের ভিড় ,
শুধু নিজেকে কোথায় খুজে পাই না ,
মাটির বানানো পুতুল দেখি ভাঙ্গা গড়ার
এই দুনিয়ায়......... ভেসে আসা বিসর্জনের পড়ে থাকা খড় কাঠে
কোথাও কোথাও আমার শরীরের মত গন্ধ, ...নাকি অন্য কেউ? সে পুতুলের মুখ অবিকল আমারই মত,
সে খড় কাঠের বাঁধন আমারই ২০৬ টা হাড়ের মতো,,
জানি চেনা মুখ বহু ঠিকানা বদলে ফেলে ।
আমিও বদলে যাই হাতের চালে...চালে......
এসেছিলাম যেমন ............ ফিরেও গেছি বিসর্জনে
হাওয়ায় স্রোতে দিকে । আসলে মানুষের জন্ম হয় এক জন্মে বারংবার প্রতিটা জন্ম
এক নতুন দাগ রেখে যায়
ফুরিয়ে যাওয়া পুরনো তারিখে হাজার হারানো পরিচয় থাকে ক্যালেন্ডারে। , হাজার তারিখের ভিড়ে একই পায়ে হাঁটা কিছুটা রাস্তাও থাকে ,...............
তারপর হঠাত বুকের ভেতরের শুন্যতা শহরের রাস্তায় ... সাদা কাপড়ে ঢাকা
তোমার প্রিয় সময় ............ ,
আমি নেই জেনেও সেই ফেরি ঘাট, রাজপথ্‌
আর ইচ্ছা বাড়ি..................শহরের ট্রাফিকে দাড়িয়ে
থাকা দুই ভিন দেশি মানুষ। নাহ কত্থাও তো নেই আমার মত
কেউ ।
তবুও আমির গল্প শোনায় দু বেলার নিস্পাপা আজানে ।