রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১৬

তুমি ও আমি

-------------------------
আমার ঘুমের শেষ প্রান্তে তোমার স্বপ্নের
শুরুয়াত, তাই তোমার পাশবালিশে আমার
কবিতার আবেশ,
সকালের কৈশোর যখন তোমার জানলা
দিয়ে তোমায় ছুঁয়ে যায়,  আমি শিশিরজল
হয়ে তোমার বাগানে, তোমার ঘরে আমার
যাতায়াত নিষিদ্ধ তাই আমার মনে তোমার
সাথে আমার ঘর বাঁধা, পথের পাশে আমার
ছায়ার  ঠিক পাশেই তোমার কবিতা,,
টুপটাপ খুচরো সময়ের আওয়াজের অনুরণন
ছাড়া তোমার কবিতায় আমার যাওয়া
আসাটুকু শুধু অবাধ কিনা জানি না,,
  ছুঁয়ে দেয়া রংপেন্সিল
রোজ বলে আজ ভালোথাকার কিছু
ছবি আঁকি, আবহাওয়া রদবদলে ছবির
কাঁচা রঙ আমার চোখের কোল ঘেঁষে
তোমার কবিতায় মিশে যায়,
আমার সাথে দু চার দিন তোমার
কবিতার সংসার আমার নিতান্ত চাওয়া,
আমার কবিতা তোমার পথের শেষে
ক্লান্তিহীন অপেক্ষায়,  তাই তোমার সবুজ
সংসার হোক  চিরবসন্তের দেশ,
আমার কবিতায় তুমি চিরসখা।

মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬

এই শহর

-------------------
এই শহরে একটুকরো ঘুম রইল,
চোখের লেপ্টানো কাজলটুকু
আর একগুচ্ছ আবদার সিলিং
ব্যগে নিলাম, নাড়ি থেকে একটুকরো
কম্পন আর বুকের ধুকপুকুনি রেখে
দিলাম শহরের কাকভোর ঘুমের চাদরে
ঢেকে,
শহর ঘুরে শুষে নিয়েছিলাম আজো না
হারানো আদিম ঘ্রান,,
এখনো তোমার চোখে
অনেকটা রাত বাকি সুজন , স্বপ্ন জাপটে
তোমার মতো তোমার শহরও ঘন ঘুমের
ওপারে,,
কথা রাখতে পারিনি সবুজসংসারের
ভেজা টুপটাপ কান্নার তাগিদে, তাই
পলকের শেষ ঘুম রেখে গেলাম শহরটার
আনাচকানাচে, চেয়েছিলাম আরো
খানিক সমর এই শহরে তোমার বুকের
আশ্রয়.....  কখনওই চাওয়াটা মুঠো বন্দি
হয়নি,,
আক্ষেপ নেই যতটুকু আমার সিলিং ব্যেগে
তোমার থেকে পাওয়া খুচরোদের আসাযাওয়া,
তোমার জন্যে রেখে এলাম বেশ কিছু মুহুর্তের
উষ্ণ আবেশ,,তোমার শহরে আমার বাসি কাজল বিদায়
নিল পাখিদের ঘুম ভাঙার একটু আগেই।


সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬

আমার জন্যে

---------------------------
আমার জন্যে মৃতু রেখ পথের ধারে
শুখনো গাছের বুকে, তার পর ২০৬টা
হাড় দিয়ে সাঁকো তৈরী হবে মুক্তির,
অবিরাম ভিক্ষা করার মুক্তি,,
ঠান্ডা শীতল শরীরের মাংস বিলিয়ে
দিও চিল শকুনের মজলিসে, এক প্রশান্তি
আকাশ চাওয়া আর নিজেকে ভুল বোঝানোর
দিনান্তে একটা ঝলসান চাঁদের কান্না রোজ
আমায় স্নান করিয়ে দেয়,,
কখনো জানতে চেওনা তোমার ঘরে আমার
সাথে কেন এত যন্ত্রণার সখ্যতা বেড়েছে....
আমি উত্তর দিতে গিয়ে বাকি খেইটুকু হারিয়ে
ফেলতে পারি,,
তোমার ঘরে আমার আমিকে দুমড়ে মুচড়ে
ফেলে দিও আমি অপেক্ষায় রইলাম,
আমার মৃতু তুমি রাস্তার ধারে আবর্জনার
কাছ ঘেসে রেখে এসো, না ফেরা কোনো
সন্ধ্যাকালে আমার রেখে আসা ভেজা
স্মৃতি তোমার ঘরকন্নার শৌখিনতা নষ্ট
হলে ভীষণ যত্ন করে ধুয়ে নিয় আমার স্পর্শ,,
আমার সবকটি ছবি দিয়ে তুমি জ্বেলো
শুদ্ধিকরণ এর অগ্নিশিখা.....
ভরে যাবে তোমার অন্ধকার ঘরের আনাচকানাচ,
ভুলে যেও না শুধু আমার মৃতুটুকু পথের ধারে
ওই মরা ঘাছটার বুকে লিখতে।।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

পুতুলখেলা

-------------------
আমার সেই দুপুরবেলা ইচ্ছা
আর চোখ পিট পিট পুতুল তোমায়
পাইনি আজো,
আমার দুপুর বেলার গোঁড়ালেবু চোখ বন্ধ
হয়ে আসা টক তোমায় মনে আছে, তুমিও
স্পষ্ট আধবেলা ধরে আমাকে সহ্য করতে
একটা করে পেয়ারা তোমার এডাল ওডাল
বেয়ে আমি তোমায় জড়িয়ে,
বাগানের দোলনা আর গুলঞ্চ গাছে আজো
আমি ভীষণ স্পষ্ট.... নিমপাতারর তেতো
স্বাদ না খুঁজে নিমফল যে কতো মিষ্টি
সে স্বাদ আজো আমার স্বাদকোরক জানে,
আমার চোখ পিট পিট পুতুল তোমায় না
পেয়ে আজো আমি কষ্ট পাই.....
আজ আমি তোমার থেকেও দামি আরো
একশোটা পুতুল আনতে পারি আমার খেলা
ঘরে.... আজ একটা ভীষণ দামি ঘড়ি
আমার কব্জি থেকে সময় বলে আমার
বেড়ে ওঠা মস্তিষ্ককে,
আজ কাল বাজারে পেয়ারা আর
মিষ্টি লেবু আমার নাগালে......
শুধু স্বাদ বদলে গেছে জীবনের,
আমি এখন খেলাঘরে পুতুল,  আর
আমার সেই চোখ পিটপিট পুতুল এখনো
আমার বুকের দেরাজে ইচ্ছেতে রাখা,
জানি একদিন তুমি আসবে আমার
সেই ছেলেবেলারর চোখ পিটপিট পুতুল।।

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬

তোমার সবুজত্ব

.........................
তোমার হাসিতে স্নান সেরে বেড়ে ওঠে
সবুজ ছোট চারা গাছটা, যেমন করে
তোমার হাসি আমার তৃষ্ণার তৃপ্তি,, প্রানের
পরে তোমার হাসি বেঁচেথাকার অক্সিজেন,
তুমি আর তোমার হাসি ঝলমলে নতুন সুর্য,
আমি সেই চারাগাছ যা তোমার হাসিতে রোজ
রোজ আরো সবুজ হই আমার দুটি পাতা ক্রমশ
ধারাপাত শেখে,
তোমার হাসিতে আমার খুব অন্ধকার রাতেরা
ঝলমলে দিনে স্থানান্তর হই....
আমি বেড়ে উঠি আকাশের কাছাকাছি,
এমনি কোনো দিনে হয়তো বা তোমার মনের
গাঢ় মেঘেরা গ্রাস করে তোমার রোদ, ঝর্না,
আর আমার বেঁচে থাকার রসদটুকু,
আমি মুষড়ে পড়ি আমার সবটকু
সবুজত্ব ফিকে হয়ে যায়......
আমি বুক চেপে আকড়াই শেষ প্রানবায়ুটকু,
আমি কবরিত হই কোনো এক অচেনা ইট কাট
পাথরের বুকে,
তোমায় ছুঁয়ে আমি সবুজ হই,
তুমি আছ তাই আমি।

রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৬

পরিক্রমণ

----------------
 চাঁদের কলঙ্কিনী বুড়িটা  রাতের শেষে কোথায় হারিয়ে গেছে l  দিনের সূর্যের আলো ভুলেই গেছে , 
গ্রহন সবারি লাগে, আকাশে নীলের ঘন রঙ
মুখের হাসিকে গ্রাস করে
জিতে যায়,
হারিয়ে গিয়ে সুখ কান্নার
আড়ালে যাপন এর খেলা খেলে চলে,
পাওয়ার খাতার হিসেব দের
আজ ঘোরতর বিক্ষব....
তবুও সময়ের সাথে সময়ের
মালা গেথে কোনো এক
গলিপথ অথবা রাজপথ
পেরিয়ে গ্রহন শেষ করবে তার
পরিক্রমণ,
চাঁদের বুড়ি আবার আসবে
সময়ের সুতো কাটতে।

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬

এমন দিনে

----------------_---------------
আজ সারাটা বেলা এই শহরে মেঘ
সরিয়ে তোর গনগনে উষ্ণতার খোঁজ
করেছি,, আকাশটা আজ শহরটাকে
বড্ড একলা করেছে,  সারা বেলা রোদের
কুচি কুড়োবার বাহানায় আনাগোনা করেছি
বেশ কয়েক বার,
ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে তোর তপ্ত শরীরের
উষ্ণতা মেপে চলেছি বার বার,
সময়টা যেন আহত ঘুড়ির মতো থেমে
গেছে আজ এই শহরে,,
কাল রাতের স্বপ্নে তুই বলে ছিলিস রঙিন
সুতো বুনে সই তোকে চুল বাঁধার দড়ি
করে দেব...... সেই থেকে আমার পলকের
পুষে রাখা ঘুমেরা কোন অচেনা পাখির
ডানায় যেন উড়ে গেছে,
ভেজা ঘুম সুজন তোর জানালার বাইরে
ভীষণ অপেক্ষায়,
পারিস যদি একটুকরো উষ্ণতা পাঠাস
আমার ভেজা ঘুমের চাদরে,
আজ শহরের পথে ফিরবো একা, যেমনটা
তোর বালিশের পাশে  আমার স্বপ্নের
একা আসা যাওয়া,
আজ সারাটা বেলা মেঘ সরিয়েছি
কেবলি তোর গনগনে উষ্ণতার খোঁজে,,

কয়েকটা

----------------------
একটা পৃথিবীর মতো যন্ত্রণা আছে
না যন্ত্রণার মতো পৃথিবী আছে,
এক পলক বৃষ্টি আছে স্মৃতির মাঝে
আর স্মৃতি হলো একজোড়া চশমার
আড়ালে যত্ন করে লুকোনো গভীর ছায়া,
একটা সুখ আছে, একটা অসুখ আছে
অথচ সুখ যেমন দৃশ্যমান তেমনটা কি
অসুখ?
একটা নদী আছে সময় প্রবাহমান যেখানে --
অথচ সময় কি কেবল বয়েই যায়?
সে থামে পাথরের বুকেও,
একটা রাতের আকাশ আছে তারায়
ভরা দিনের আলোয় ঢেকে যেমনটা
একটা স্বপ্ন আছে দু:স্বপ্নের একটু বাঁকে,
একটা মাটি আছে জন্ম ছুঁয়ে অথচ মৃতুও
ঘুমায় সেখানে,
একটা প্রেম আছে অপ্রেমের নকশীকাঁথায়
মোড়া,
কখনো কখনো দুরন্ত প্রেমিক হয়ে ওঠে
যন্ত্রণা..... কখনো কখনো নিবিড় লেপ্টে
থাকে কালোরঙ এর এক গভীর ছায়া,
কখনো কখনো অসুখের ভালোবাসা
সুখ ছাপিয়ে যায়,
কখনো কখনো এক আঁচলা বয়ে যাওয়া
সময় সাক্ষি থাকে কিছু ইতিহাসের,
কখনো কখনো  দু:স্বপ্নের ছায়া স্বপ্নকে
ঢেকে যায় চুপিসারে, কখনো কখনো
অপ্রেমের নকশীকাঁথায় মোড়া প্রেমের
গল্পেরা সম্বিত হারায়,
কখনো ভীষণ প্রিয় হয়ে ওঠে মৃতু কখনো
বা হারিয়ে যাওয়া,
আঙুলের দাগে ভর করে কখনো কখনো
এভাবে মুহুর্তরা আসে একে একে,,

আমৃতু

বিভাজিত কোষ থেকে সেই শুরু দৌড়ান,
হাত পা আস্ফালন করে মাতৃ জঠরে প্রতিবাদ
এগিয়ে যাওয়ার....,
আস্ফালন থেকে হামাগুড়ি আমৃতু পথ চলা,
শৈশব বোধ,হাজার চলন, ধ্যান ধারনা, হাজার
বিষাদ,
ইচ্ছার ঘরে বাস করে অজস্র দায়ভার,
অসাধ্য থেকে যায় বাসনার উড়ান....
প্রেম অপ্রেমের খেলা যৌবন স্মৃতিকে
বিভ্রম করে,
অষ্টপ্রহরের টানাপোড়ন সবুজ সংসার,,
জীবন জুড়ে অহংকার, সাহস,রুপ, রঙ,যশ
থাকে নেশার মতো,
বোধ থেকে বোধোদয়  নিস্ব হয় বলিরেখার
প্রান্তরে....সেই ভাঁজে হারিয়ে যায় ক্রমশ
প্রেম , হাসি, অহংকার, রুপ রঙ,
আবছায়া সামনের মুখগুলো এখন বেরঙ,
দুরেরটাই স্পষ্ট,
সময় চলে যায় আয়ুরেখারর হাতে হাত রেখে...
ডাক দিয়ে যায় এসো মৃতুপথে,,
দৃশ্যমান পরিধি ছোট থেকে ছোটতর
হয়ে দখল হারায়...,
কয়েক দশক বসন্তও ঈর্ষা করে নব বসন্তকে,
ক্লান্ত বিভাজিত কোষ ক্রমশ উষ্ণতা হারিয়ে
মৃতুরেখা ছুঁতে চায়,
প্রান ভ্রমরা বাঁচতে চায় বাঁচার আকাঙ্ক্ষায়।
তবুও ঠান্ডা শরীর মৃতু জাজিম পেতে হারায়
অসীমে.....
শেষ হয় কোষ বিভাজন শেষ হয় আয়ুরেখার
সীমানা।।

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬

মিস্টি মা

-------------------
-আজ অনেক জলের আলপনা
তোমার উঠোনে আঁকব মেঘবালিকা হয়ে,
তোমার হাসির রঙ তুলিতে
ভরে আকাশের সামিয়ানায় আজ নতুন রামধনু,
তোমার চোখের ঝিলিকে কনেদেখা গোধুলি....
নিরন্তর তোমার খেলায়
আমি সামিল হই,
দিনান্তে অপেক্ষারত সময় হয়ে
দাঁড়িয়ে থাকি আবার এক
বৃষ্টি মাখা কিংবা শিশির ভেজা
ভোরের দরজায়,
তোমার আঁচলে আমার আঙুল এর
রুপকথারা প্রান পায়
আমি সাজাই নিজেকে এক রাজকুমারী বেসে....
তোমায় ভালোবেসে....মিষ্টি মা,------

অকারনে

আজ কোন কারন ছিল না মন খারাপের
তবুও এক আলসেমি মেঘ গোমড়া মুখে
হৃদয়পুরের ঝুলন্ত ব্যেলকনিতে চুপিসারে
এসে দাঁড়ায়,,
আকাশে আজ কথা ছিল রামধনু উপহার দেবার....
বৃষ্টিবেলার অন্য মেঘরা একে একে চলে গেছে
দূর কোন এক পাহাড়ি ঝর্নার আমন্ত্রণে,,
উদাসী চাদর গায়ে মনখারাপের মেঘ
কেবল একা....... এক খানা গাড় নীল খাম
আজ সকালের ডাক পাঠিয়েছ,
অপেক্ষমাণ রোদ আজ আদুরে জ্বরে
তোমার বালিশের সাথে,
তুমি চেয়েছিলে উষ্ণতায় পুড়ে যাক
তোমার পালিয়ে বাঁচা দুরন্ত মুহুর্তগুলো,,
আজ শহরে জল থই থই...... তুমি ভেসেছে
কি সুজন?  নোনাজল তোমার ঘরকন্না ভাসছে,,
হৃদয়পুরের ব্যেলকনিতে চুপিসারে মনখারাপের
মেঘ........ পায়ের নূপুর তোমার বুকপকেটে,
তোমার অসম্ভব উষ্ণতায় গনগনে লাল
সে নূপুর,,
তুমি পুড়ছ আমি পুড়ছি তোমার রোদ লুকনো
তিব্র জ্বরে,
বৃষ্টিভেজা সারা বেলা কাটছে এই শহর
মনখারাপ চাদর গায়ে।