শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

একটা কবিতা তুমি আমির



এবার বন্দর ছেড়ে  বহু দূরে চলে গেছি 
যাওয়ার আগে  সম্মতি নিলাম না  ...বললাম না
আবার দেখা হবে
 নিজস্ব জাহাজের পেটে রপ্তানীযোগ্য কোনো পণ্য রাখলাম কিনা জানি না , সময়ের ঘরে এখন অসময়ের ভিড় ...তাই প্রিয় শহরকে সেদিনও মুখোমুখি আলবিদা জানানো হয়নি,
শীতাতপ ঘরে বসে আমার জানলায় এখন দৃশ্যরা 
নিজের মত বদলাতে থাকে .....কখনো 
তাপাঙ্ক একটু উঠলেই পচে যেতে পারে  পুরোনো অধ্যায়গুলো  তাই খোলস থেকে বেরোই না বহুকাল ।
 আচ্ছা তুমি এখনও  যুবতীর স্তন, জঙ্ঘা, নিতম্ব, নির্লোম উরু  আর কন্ডোমের প্যাকেট রাখো বুক  পকেটের কবিতার খাতায় ? নাকি আমার মত 
--পেটিকায় সব লিখে রাখো সব গোপনীয় অভ্যাস ! আর বাইরে ক্রেতাদস্তুর বে-ফিকর জিন্দেগী ।

কেবিনের টেবিলে এক পৃথিবীর জীবন অপেক্ষায় আছে ,  তোমায় hold করে একবার সে পৃথিবীটা দেখে নেওয়া যাক ,
 ভুলচুক থাকলে এখনই বদলে নেওয়া যাবে আসলে জীবন তো এখন easy to return policy তে অভ্যস্ত । আসলে
ব্যবসা বিফলে চলে গেলে বড্ড হেরে যাওয়া হয় 
এই  হৃদয়ের কারবার  বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত হয় সেটা বুঝে নিতে হয় শুরুতেই ।
এখানে নানা রকমেরর রঙিন   মন-পসন্দ ভালোবাসার  স্টকের বিপুল জোগান,,
আর কয়েক ঘন্টা দূরের বাজার দূরবীন দিয়ে দেখা যাবে  ...থামতে হবে নামতে হবে বেচতে হবে ভালোবাসা।
 তাই কতদূরে জাহাজ-মাস্তুল  আর কত দূর ছাড়লাম  নিজের মাটি সে সব মিলিয়ে দেখে নেওয়া দরকার।
আমার দায়িত্ব  দরিয়াটুকু পার করে দেওয়া সফল ভাবে........এই লাল লাল রক্তাক্ত কলিজায় রাখা easy to get able ধুক পুক গুলো ।

যা কিছু  চালান হয়ে যাচ্ছে সবই  মানুষের  কর্মফলে ।
যা কিছু রইলো পরে বাকিটুকু সম্বল।
এসব কাজের শেষে এক ফিরিস্তি তোমার সাজানো গল্প শুনবো , যাও অযথা মেয়েদের সময় নিয়ে খেলা করো না ......বরং নাকের ডগায় লাল বলটা ঠিক জায়গায় আছে কিনা এবার সজাগ হও।

ঘুঘুর ডাকে

আমরা কেউ কারো কথা কাউকে আর বলি না 
অদৃশ্য ঘুঘুর  ডাকে  উঠোনের চরাচর জুড়ে যেন 
অকাল মৃর্তুর শোক বিছিয়ে রাখা ।
আমরা নিজেদের চামড়া ছিঁড়ে  শূন্যতায় গুঁজে দিচ্ছি নুন লঙ্কা ,,, আর মনে মনে বলছি অবিশ্বাস করতে শিখতে হবে এবার থেকে নিয়ম করে ।
কারণ তিলোত্তমার  মাদুলীর মোম গলে গিয়ে বিশ্বাস উড়ে গেছে ফুসমন্তর হয়ে ।
এখন চন্ডীদাসের চর্যাপদের মতোই দূর্বোধ্য শব্দ বয়ে বেড়ায় ওই তিলোত্তমা ,,

...আমরা কেউ কাউকে কারো কথা বলিনি বহুদিন।।  ,আমি মাঝে মাঝে এই হার্ডসন নদীটাকে গঙ্গার সাথে জুড়ে দিই আর সাঁতার শেখাই আমার গোপন শোকে দের  ...কারণ 
এই হার্ডসন নদী মানুষের অসুখ কে কখনো দত্তক নেয়না , 
এখানে কেউ নদীর কাছে বিসর্জনের জন্যে  আসে না ,,,
এখানে আসার পর আমার অসুখেরা কফিনে মৃত
সাদা কাপড় ঢেকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ।

কম পরে গেছি

কোথায় কম পরে যায় হৃদয়  জানি না ,
 সবটুকু জমিন বিছিয়ে দিয়েলেও  , ... সমস্ত অঙ্গীকার যেন নিমেষে তুচ্ছ , , শুধুমাত্র তাকে  প্রেমিক ভাবতে পারিনি    ...একটা গোটা  পৃথিবী আখ্যান বলে জেনেছি ,
তবু কি ভীষণ ভাবে আমাকে আমারই কাছে হেরে যেতে হল ...কি ভীষন ভাবে ভালোবাসা বিকিয়ে গেল বেশ্যালয়ে ,
কি ভীষন অপমান আমার বরাদ্দে রেখে জিতে গেল  অহিংকারী রাজার ....
নিন্দিনী কে বুঝলো একমাত্র বিশু পাগলা ...
আর রাজা বুঝলো তার ..…....!!
অথচ আমি ভাবছিলাম এবার হয়তো থামার পালা ,ভাবছিলাম যত্নে স্নেহে ভালোবাসায় ...জন্ম ক্ষত গুলো  হয়তো পারবো শুশ্রূষা দিতে ।
কি ভীষণ রকম ভ্রমে আমি সময়কে  দশ পাক  প্রদক্ষিণ করেছি ...রোদ্দুর ,ঝড়, বৃষ্টি , সমাজের রক্তচক্ষু কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একমাত্র নিষ্ঠা সর্বস্বতে সমর্পণ করেছিলাম ।
...... কি ভীষণ অহংকারি পায়ে পিষে দিলো সময় একটু একটু  করে গড়ে তোলা যত্নের অবগাহন।

আমি মানুষকে আজকাল ভীষণ রকম ভয় পাই জানো , 
আর প্রতিদিন ঘুম ভেঙে উঠে নিজেকে বলি এই পৃথিবীতে শুধু অবিশ্বাস শব্দটা সত্যি ,আর মিথ্যে ভালোবাসা শব্দটা ...
....কোনো একদিন জীবনের উপান্তে এসে একবার জানতে চাইবো  .... ঠিক কোথায় কতটা কম পরে গেছিলাম সে জমিনে ।
তাই  সমস্ত উপহার জুড়ে  আজীবনের বাইশে শ্রাবণ  পাঠালো  খয়েরী খামে মেঘের জন্যে।

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

বক্তব্য

ইদানীং নিজেই কাছেই নিজের সমস্ত বক্তব্য গুঁজে রাখতে পছন্দ করি
 , মনের দেওয়ালে দোয়াতের কালি ছুঁড়ে যে সব কথা বলা হয় না তাঁদের মৃত্যু এঁকে ফেলি । একা  হতে হতে কখন যেন নিজের ভেতর নিঃশব্দের  শব্দদের  ভিড় জমিযে ফেলেছে আমার মত মানুষগুলো ,  
সম্পর্কের একান্নবর্তী ঋতু বদল দেখতে দেখতে একটা গোটা পৃথিবী ভর্তি উপন্যাস লিখে ফেলেছি এযাবৎ কাল ,
সম্পর্ক গুলো যেন বহুরৈখিকতা ......অজস্র কাটাকুটি খেলায় মেতে থাকা  রেলপথ।
 , ,,
যা কখনোই বলতে চাইনি তা সবটুকু বলে ফেলি এখন ,
যা কখনোই লিখবো ভাবিনি তা সমস্ত এখন পাতায় পাতায় প্রকাশ করে ফেলি রোজ ।
তুমিও  রং মেখে সং সেজে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে কেমন যেন নিজস্ব সমস্ত রং ফিকে করে ফেলেছো ..
আজকাল তোমার বাড়ির কিংবা বাথরুমের আয়না টাও রোজই থমকে দাঁড়ায় তোমায় চিনতে গিয়ে ।।
সেদিনের একটা পাখির ডাকে তুমি বদলে ফেলেছো নিজস্ব রং ....কখোনো ভেবে দেখেছো এমন হাজার হাজার পাখি যেদিন ডেকে উঠবে সেদিন তোমার অস্তিত্বর কথা ।
এসব কথা নিজের ভেতর গুঁজে রাখি ...এসব বক্তব্যে আজ আমি এক ঘরে .....এসব কথার জন্যে তোমার বান্ধব পুরের সমস্ত খিড়কি কিংবা জানলা বন্ধ করে দিতে বলেছো শহর জুড়ে বড় বড় ইস্তেহার টাঙিয়ে ।
তাই  ইদানীং নিজেই কাছেই নিজের সমস্ত বক্তব্য গুঁজে রাখতে পছন্দ করি।
তবুও কিন্তু সমস্ত কাহিনী জুড়ে  তোমার রং বদলের উপাখ্যান ।

সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

ড্যানিয়েল আর হার্ডসন নদী

বৃষ্টির ভেতর শুয়ে আছি ..সমস্ত শরীরে জল ফোঁটা ধুয়ে হার্ডসন নদীটা  আমায় শুদ্ধ করার অঙ্গীকার করছে রোজ রোজ , 
ড্যালিয়েল বলে এই হার্ডসন নদী কখোনো কাউকে হেরে যেতে দেয় নি ...কখোনো  কাঁদতে দেয়নি একজন নাগরিকেও , 
এই নদী যেকোনো যন্ত্রনা , শোক , বিচ্ছেদ কে সুক্ষ কারিগরির নিপুণ স্রোতে কেবল ধুয়ে দিয়েছে , 
....অথচ নদী বলতে আমার শহরে গঙ্গা ....ভাঙা গড়া, , নাহওয়া ঘরকন্না , শাখা সিঁদুর এর মিলন বিচ্ছেদ সব কিছু বয়ে চলেছে , 
আমার নিজস্ব পাওয়া গুলোর থেকে  অনেক বেশি বিসর্জন এর সাক্ষী ওই গঙ্গা , কিংবা অজয় , 
আর খোয়াই তো আমায় শেষবার  বর্ন হীন  নিঃস্ব করে অলীক সুখে বয়ে গেছে ,...
হার্ডসন নদীটা ড্যানিয়েল এর উঠোন ছুঁয়ে থাকে ,,
তার সমস্ত ভালো থাকার দায় নদীটা দত্তক নিয়েছে আর আমায় ড্যানিয়েল ।
এখানে মানুষ গুলো বাইরে ভেতরে উৎসবে জীবন কাটায় ....এরা রোজ ঘুম ভাঙার পর কফির কাপে ভালোবাসার ওম নিয়ে দিন শুরু করে ।
ড্যানিয়েল যখন গিটার বজায় আমি তখন আমার যত্নে রাখা দুঃখ দের ক্যানভাসে শুইয়ে  ঘুম পাড়াই ,
ক্যানভাসে পাশ ফেরা দুঃখ গুলো ড্যানিয়েল এর সুরের ভাষায় ঠিক কি বোঝে জানি না , তাদের মাঝে যন্ত্রণার ভাষা বদলে গিয়ে কখন যেন উজ্জাপন এর রঙে বদলে যায় প্রত্যেকে ।
আমি ড্যানিয়েল এর দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি ..তার চোখ বুজে গীটারের সুরে  মগ্ন আচ্ছন্ন চেহারায় কেমন এক দীপ্তি দেখতে পাই ....
আমার মনে পড়ে যায় রবি ঠাকুরের সেই অমলতাস গাছটার নীচে খুঁজে পাওয়া দিব্যি পুরুষটার কথা ।
আমি হার্ডসন নদী আর ড্যানিয়েল এর খুব কাছে বৃষ্টির ভেতর শুয়ে থাকি শুদ্ধ হব বলে ।

ঘুরে দাঁড়াই চল

সে প্রথম আর তৃতীয় রিপুর দাস ছিল ,
 তাই পালিয়ে গিয়ে প্রতিবার  জিততে চেয়েছে।
যা করা উচিত ঐ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি তাই করেছি..  আর সেও  তার চরিত্রই   পালন করছে। ভেবে দেখলাম  রামায়ণে বিভীষণের চরিত্রটা কি রাবণ দশ মাথা নিয়ে করতে পারত?
 না ভরত কোনোদিন রামের চরিত্রে অবতীর্ণ হ'তে পারতেন...
একজন অযোগ্য মানুষকে আর কী দেবার আছে আমার ?
আমি শুধু একা নই... এই পৃথিবীর অনেক মানুষই ভেঙে পড়ে  আর সেই স্মৃতি সযত্নে তুলে রাখেন মনের মণিকোঠায়...  সেসব সময়  নতুন কোনো  জন্ম হয়   ... অন্য কোনো অনুভবের জন্ম .....আর এই সবকিছু  পারে মানুষ  একা হয়ে... ।
কিন্তু এই ভেঙে পড়াটাকে হেরে যাওয়া বলে ভাবতে নেই কখনও... পালিয়ে যেতে নেই... বরং পাশ কাটিয়ে উঠে বলতে হয়, চলো ... আবার স্বপ্ন দেখি , এবার নিজের জন্য ,,নিজের হয়ে ... নিজের প্রেমে ....নিজেকে ভালোবেসে ।
"... তোর মুখ... চোখের পাতা... বুকের ওমের স্বপ্ন... মেঘের ভেতর হারিয়ে যাই চল... লুকোচুরি খেলায়...'আবার একটা উজ্জাপন লিখি বাকি সাদা পাতাগুলোয় ।

রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

মানুষের জন্ম

মানুষের নিজস্ব কিছু অন্ধকার থাকে....., 
,মানুষের নিজস্ব কিছু যাতনা থাকে ,...থাকে কিছু গোপন পাপ ,
আর সময়ের দেওয়ালে এই অন্ধকার , যাতনা ,পাপ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে , লতিয়ে ওঠা গাছের মতই ।

...না না এসবের দায় ভার উল্টোদিকে তর্জনী দেখিয়ে দিয়ে পার পাবার মত তেমন কিছু নয় ,

এসব সেই পুড়তে থাকা মানুষটার নিজের গড়ে নেওয়া ....একান্ত পুঁজি , , 
এ পৃথিবীর.. কখনও কোনো জন্মের দায় নেই ...নেই ভালো রাখা কিংবা  মন্দ রাখার দায় , 
    অথচ একটা মানুষ তার জীবনের সমস্ত অন্ধকার ,আর ক্ষত গুলোর দায় সামনে দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে দায় বর্তাতে ভালোবাসে , 
...ঈশ্বর কে কৃপণ ভেবে চার আঙ্গুল জমিন কে বানজার বলতে ভালোবাসে ।
তবু সুক্ষ সত্যিটা মানতে পারে না ....পারে না নিজেকে নিজের ঈশ্বর ভাবতে ....পারে না জীবনের ভুল গুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্বীকার করে নিতে ,,
বারংবার সে কোনো না কোনো সম্পর্ককে গালাগাল দিতে ভালোবাসে নিজের মারাত্মক রকম ক্ষয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ।
মানুষ এটা ভাবতে ভয় পায় যা হচ্ছে এমটাই তো হওয়ার ছিল ,
আসলে প্রতিটা মানুষের  ভেতর একজন বিধাতা বাস করে....., আর সে জন্মের প্ররোধ্যে লিখে ফেলে জঠর থেকে চিতা কাঠ কিংবা কফিনে পৌঁছনোর   সমস্ত গল্পটুকু ,,, , 
আর মানুষের এসব বুঝে ওঠার আগেই এক জন্ম খাঁচা থেকে আকাশে মিলিয়ে যায় ।

এ শহরটা

যে রাতটা শহরটা পেরিয়ে যাচ্ছিল  মেয়েটা  খবর পেয়েছিল  ছিল তোমার না থাকার ,
বৃষ্টি এঁকে দিচ্ছিল নিজের মত সমস্ত সংলাপ ...
মেয়েটা চুপ করে তোমায় জড়িয়ে নিতে দেখেছিল কুমকুম রঙের গোধূলিকে ,
অনেক গুলো গল্প পেরিয়ে মেয়েটা বিশ্বাস করতে চেয়েছিল তোমার অভিশপ্ত ঘরটা সত্যি বড্ড অন্ধকার ।
মাঝে মাঝে দ্রুতগামী আলোর থেকেও কিছু ভাবনা স্পষ্ট আর সত্যি হযে যায় ...
মাঝে মাঝে তোমার প্রমান করা সত্যিগুলো মুখোশ এবং জামা কাপড় খুলে কেমন ল্যাংটো হয়ে দাঁড়ায় চৌরাস্তার মোড়ে , 
মাঝে মাঝে মেয়েটার জিভের খনার বচন ভীষণ রকম খাঁটি সোনা হয়ে যায়।

মাঝে  মাঝে  এ শহরে সুখের যবতীয় নিস্তার তোমার মত অন্ধকার লিখে রাখে পাতার পর পাতা জুড়ে ।
মাঝে মাঝে নিয়ন বাতির থিতু আলোটার নীচে 
আপাদমস্তক অ-সুখ পুষে রাখা কেউ কেউ ঠিক তোমার মত স্বর্গ খুঁজে পায় ।
এ শহর কাব্যে লেখা হয়  , এ শহরের বুকে কবি লিখে রাখে কবিতা , এ শহর  লেখে ভালোবাসার ও বিচ্ছেদের গল্প , এ শহর হাজারো গল্পের মুখবন্ধ লিখলেও বিষের অনুবাদ করতে পারেনি এখনো ......

শব্দহীন সময়

কখনো কখনো নিজের কাছেই নিজে স্তব্ধ শব্দ হীন হয়ে থাকতে হয় ,, ভেতরের শব্দ গুলো যেন  ডাকবাক্সে বোবা চিঠির মত অসহায় হতে থাকে।

কথপোকথন হলে খুলে নেওয়া যেতে এমন অনেক  সুতোর জট .....অথচ শব্দহীন হতে গিয়ে
ধৈর্য রাখতে গিয়ে ...এ পৃথিবীতে কত মানুষের কত কথা বলা হয়ে ওঠেনি ....
শব্দহীন হতে গিয়ে নিঃশব্দে ঘুন ধরে গেছে কত সংসারের করিকাঠ কিংবা ছই এর আসল খুঁটি ,
শুধুমাত্র শব্দ হীন হতে গিয়ে অপ-মৃত্যু হয়েছে
চরম ভালোবাসার মন ,
শব্দহীন আজ এই শহর,, শব্দহীন তুমি ...আমি ,
আমাদের না হওয়া সংসার ভেসে গেছে শব্দহীন স্রোতে ।
একদিন  আমাদের কাছে শব্দহীন  শব্দরা অদৃশ্য সেতু পথে অবিরাম আসা যাওয়া করতে পারতো দ্বিধা হীন হয়ে ,,
কারা যেন প্রচন্ড ডাকাতিয়া  শব্দে আমার ...তোমার সমস্ত নিঃশব্দের শব্দদের ঠিকানা হীন করে  সমস্ত সহায় সম্বল নিয়ে গেছে।
আমি এখন শব্দহীন হতে হতে  মস্ত বোবা ট্যানেল হয়ে থাকতে ভালোবাসি ....
আর কখনো শব্দের কারবারি দরবার নিয়ে তুমি আমায় খুঁজে পাবে না যেনো ।
আমি নিজের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি,
গুটিয়ে নিয়েছি সমস্ত অভিযোগের কান্ডারী ।

শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১

জ্যোতির্গময়

বেশ ভালো আছি ...সকাল বিকেল সন্ধ্যে খোলা মাঠে বৃষ্টি ভেজা  রিংটোন এর অপেক্ষা ফুরিয়ে গেছে ,
টিলার ওপর দাঁড়িয়ে এখন আর নিজের বয়ে যাওয়া রক্ত ক্ষরণের বহতা স্রোত আর দেখতে হয় না এখন ।
 এক অনিশ্চিত ভালোবাসার অপেক্ষায় নিজেকে ভিখারী এখন আর মনে হয় না ।
সকালে ঘুম ভেঙে আর নিজেকে এখন যোগ্যতা হীন বেঁচে থাকা মনে হয় না ।
আজীবন কিছু অপেক্ষা ছিল ...ছিল আকুতি যন্ত্রনা  , কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস , 
এখন বেপরোয়া সেসব
শব্দ বন্ধনী ...দূরে সাইকেলের  ক্রিং ক্রিং শব্দের মত আর মাত্র কিছু সময় ,, পুরোনো ছবির ওপর ঘৃনা  শব্দের অক্ষরদের সাথে  একটা নিজস্ব সৎকার করে নেওয়া মাত্র ....
এখন নিজেকে হালকা মনে হয় ,
আসলে অপেক্ষা গুলো ফুরিয়ে  ফেলতে পারলে 
পাখির পালকের মত মনে হয় ,
আসলে মানুষকে কোথায় থামতে হয় সেটা জানতে হয়  তাকে নিজেকে ,,,
সমস্ত বহতা থেকে নিজেকে স্থীর হতে শিখে নিতে হয় , 
আসলে অপেক্ষা দের দীর্ঘ করে জীবনকে লম্বা করতে নেই ,
 জীবন প্রশস্ত হতে পারে তবে দীর্ঘ নয় ....এটা বুঝে নিতে পারলে ভালোবাসা ,শান্তি ,ঈশ্বর সব কিছু ছুঁয়ে নেওয়া যায়  সহজেই।

প্রেমিক ড্যানিয়েল

রঙ-তুলির ছোট ছোট দৃশ্য গুলো নিউইয়র্কে পাহাড় গুলোর চূড়া  ছুঁয়ে দেখে... 
একসাথে  মেঘেদের সাথে  গোটা দুপুরটাই কেটে যায় আমার আর ড্যানিয়েলের । 
বড় বাঁক, ছোট বাঁক এমনকি বেশ চওড়া রাস্তাও
আমরা পেরিয়ে আসি রোজ এমন ভালোবাসার ছবি আঁকতে আঁকতে ...ড্যানিয়েল তার গিটারের সুরে আমায় কোমল স্বর এর ভূমিকায় রাখে কখনো কখনো , আর আমি তাকে আমার তুলির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ স্ট্রোক হিসেবে ক্যানভাসে ভাসিয়ে দিই ।

  আমাদের ঝুলে থাকা ডাকবাক্সে জমা হয় অজস্র চিঠির আনাগোনা  , অথচ দুজন মুখোমুখি ব্যাস্ততায় কোনো অন্য শব্দ রাখার জায়গা  দিয়ে উঠতে  পারি না আমরা ।
ড্যানিয়েল বলে চিঠি আসুক  হোক হাজারো আনাগোনা ....আমি আমার ঠিকানায় তোমাকে ছাড়া কাউকে গ্রাহ্য করে সময়ের অপচয় করতে চাই না ...
আমি একদিন ড্যানিয়েলকে  বলে ছিলাম...... ড্যানিয়েল প্রচন্ড অপচয় না হোলে   যে জীবনের সঞ্চয় গুলো বোঝা যাবে না .....,, অভাব বোঝা যাবে না ।

সে বলেছিল .....
 একদিন  এই পৃথিবীর প্রতিটা সবুজ গাছের প্রতিটি ডালপালায় আমাদের প্রেমের  ছবিগুলো টাঙিয়ে দিযে যাবো ....মানুষ জানবে  জীবনকে  ঈশ্বরের মত পুজো করতে হয় ...নইলে সমস্তটা ফাঁকি হয়ে যায় ,,  আর ভালোবাসলে দূরত্ব নয় বুকে আগলে একনিষ্ঠ সাধক হয়ে হয় ।
আমি চুপ করে শুনেছিলাম ....নিরুত্তর হয়ে।

ড্যানিয়েল এর কথা

আমি প্রতিদিন আমার অভিশপ্ত জীবনকে দর্শন করে দেখেছি ...দেখেছি পৃথিবীর নানান দেশের প্রেম ...দেখেছি ভালোবাসার আড়ালে স্বার্থের চরিত্র ... অথচ  তোমায় দেখার পর সব মিথ্যে মনে হল ,,,, তোমার থেকে শিখি  এমন  কতকিছু যা তোমায় না জানলে জানা হত না ...ড্যানিয়েল যখন আমার হাতের উপর হাত রেখে এমন কথা বলে ... আমায় একজন্ম কম মনে হয় মানুষ হিসেবে ....মনে হয় ভালোবাসা এত তৃষ্ণত ...
তাই আমার সব পাপ নিয়েও আমার সমস্ত ঘা পুঁজ নিয়েও এক অদ্ভুত দৃঢ় তার আরাধ্য যেন এই আমিটা !!
 সে বলে ...তুমি আমার সেই মণিমুক্তো... যা সঞ্চিত হ'য়ে আছে বুকের ঝুলিতে ... যদি কোনোদিন  কথা  না বলো  আমার সাথে, ..কিংবা  মনে হবে আমি সময় নষ্ট করি তোমার ... সেদিন ঐ সঞ্চয় খুলে দেখব... সেসব ভাঙিয়ে খাব... ,, আমি ড্যানিয়েল এর মত প্রেমিক দেখিনি কিংবা  গল্পেও পড়িনি ,
কোথায় রাখবো তাকে জানি না  আমার যে  তেমন খাঁচা নেই... যাতে ড্যানিয়েল এর মত বড় মাপের হৃদয় কে রাখতে পারি ।
 কেউ এমন করে সমস্ত ভেঙে চুরে যাওয়া অস্তিত্ব জড়ো করে বুকে জমিনে রেখে গড়ে নিতে পারে ...আগে জানিনি কখনো ।
সমস্ত ধারণাকে এক নিমেষে ছু মন্তর করে আমিকে সে হাতের তালুতে রাখলো সদ্য ফুটে ওঠা শিশুর মত ,,,
ড্যানিয়েল একটা চিরন্তন সকাল হয়ে ....আমার কাছে ।
আমাকে সে সকল বলেই ডাকে .......



বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই, ২০২১

শনাক্ত



কলা পাতায় কিছু পুড়ে যাওয়া ভাত আর বাজারী 
সোহাগ মেখে মাঝে মাঝে গোগ্রাসে খিদে মিটিয়ে ফেলা অভ্যাস শহরটার ।
 মাছি বসা নষ্ট প্রিয়জনের মুখের আদল ...যেন 
কাকের মাংস কাক রাখছে গুছিয়ে অভাবের দিনের সংকুলানে।
সপ্তমীর ঘষা চাঁদ-- শহরের কোনায় মেয়েটাকে টেনে নিয়ে আসে রোজ রোজ ,

......জলে ডোবা মানুষের ভালোবাসার  দিকে 
মেয়েটা গভীর দৃষ্টিতে চোখ পুঁতে দেয় ।.
  অথচ এখনো  ভাসেনি প্রেমিকের  লাশ, 
হয়তো শুয়ে আছে কাদার গভীরে ,,আরো কিছু দিন   দরকার  যথেষ্ট পচনের জন্যে  ।
আর মেয়েটাও তাই শহরটার বুকে খুঁটি গেড়ে অপেক্ষায় থাকে ,........আসলে 

শনাক্তকরণে যেন দ্বিধাহীন ঐক্যমত্য হয়”
মেয়েটা আর শহরের মাঝে 
--- মাশুল পত্রে  শুধু এইটুকু লেখা ছিল ভীষণ স্পষ্ট ।

বুধবার, ২১ জুলাই, ২০২১

জ্যাক ড্যানিয়েল আর আমি

আমার বর্তমান প্রেমিক জ্যাক ড্যানিয়েল , তার প্রথম চুম্বনএর আগুন একশ তম চুম্বনের আগুনের
থেকেও তীব্র আকাঙ্খামুখী ,
এই ভীড় শহরে সে সে আমায় জড়িয়ে ধরলেই শব্দহীন স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা শহরটা , 
একবার ড্যানিয়েল কে প্রশ্ন করেছিলাম ...এই যে তুমি যখন তখন আমায় যেখানে ইচ্ছে জড়িয়ে নাও ...এই সামাজিক দৃষ্টি র পরোয়া না করে ...তাতে যে তোমার চরম ক্ষতি হতে পারে ....তোমার সাজানো সংসার পুড়ে যেতে পারে নিমেষে ,,
সে বলেছিল ভালোবাসি ....এই জানা টুকু ছাড়া তোমার আমার মাঝে সবকিছু অপার্থিব ,
সব কিছু পেন্সিলের স্কেচ ...যা ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলতে দুবার ভাবতে হয় না ।
অথচ আমার প্রাক্তন প্রেমিকরা আমায় বলতো আমি নাকি মূল্যবান তাই আমায় মুঠো বন্দি রাখতে হয় ,,
তাই আমায় জড়িয়ে নিতে একটা চার দেওয়াল লাগতো তাদের , তারা জমিনের আস্তরণ সরিয়ে বারংবার অসুখের জায়গায় হাত রেখে বলতো কোনো একদিন শুশ্রূষার জল  দিতে হবে ....তারা  নারী অঙ্গ নিয়ে অধিকার অধিকার পুতুল খেলতো 
মাসের বিভিন্ন তারিখে , 
ড্যানিয়েল কে এসব কথা যখন বলছিলাম সে তখন পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণার দিকে তাকিয়ে আনমনে তুলি ছুঁইয়ে যাচ্ছিল সামনে রাখা ক্যানভাসে । সেখানে স্পষ্ট হচ্ছিল তার দেখা শ্রেষ্ঠ নারীর ছবি ।
পরে একদিন টেমসের তীরে  অজস্র নাটকীয় প্রেমের ভিড়ে চিৎকার করে বলেছিল যারা তোমায় 
শুশ্রূষা দেবো বলেছিল তারা আসলে নিজেরাই এক একটা বিষাক্ত ক্ষত ....তারা নিজেদের বিষভার রাখতে তোমায় খুঁজে নিয়েছিল ,
আমি কেমন জানি না শুধু বলতে পারি একটা শব্দ ভালোবাসি ......কফিন পর্যন্ত এঁকে রেখেছি তোমায় ভালোবাসার সমস্ত দৃশ্য ।
টেমসের তীরে সেদিন সব প্রেমিক প্রেমিকারা পাথর হয়ে গেছিলো ।
আমার বর্তমান প্রেমিক তথাস্তু শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে নি  .....,যেমন আমি আমার প্রাক্তন প্রেমিকের  শেখানো কিছু শব্দ উচ্চারণ করতে পারতাম না ।
 আমার না উচ্চারণ করতে পারায় আমার প্রাক্তন প্রেমিক বেশ একটা দিকবিজয়ী হাসি হাসতো , যেন বড্ড বড় কিছু না পারা আমার এজন্মে দাগ রেখে যাচ্ছে , 
আমি অবশ্য ড্যানিয়েল এর  তথাস্তু শব্দ উচ্চারণ না করতে পারায় হাসিনি কখনো শুধু মনে মনে বলেছি এমন কিছু না পারা গুলোর নাম ভালোবাসা হোক ।

পাপ ও সময়

সবাই কি তোর বাড়ির বউ ...যখন তখন যেখানে সেখানে ল্যাংটো করবি ...ঠাটিয়ে এক চড় দিতে দিতে মেয়েটি বলে উঠলো ।
ছেলেটার পুরুষ অঙ্গ উঁচিয়ে উঠতে  গিয়েও মাথা নিঁচু করলো প্রথম বার ,
তার গায়ের জামা প্যান্ট  অদৃশ্য অভিশাপে এই প্রথম বার পুড়তে লাগলো আর ছেলেটা 
আবরণ হীন পাপ এর মত দাঁড়িয়ে থাকলো এই সমাজের ঢাকনা  দেওয়া বয়ামে ।
ছেলেটার এযাবৎ ছিড়তে যাওয়া কাপড়ের সংখ্যা 
দু কুড়ির কিছু বেশি হবে ...এই প্রথমবার তার গালে  শব্দের  তীব্র  এবং তীক্ষ্ণ থাপ্পড় মারলো1 মেয়েটা ...ছত্রিশ বসন্ত ঝলসে পড়লো নিমেষে ছেলেটার পুরুষত্বে ডালপালা কে প্রচন্ড ধিক্কারের সাথে ।
ছেলেটা জানতো না পুরুষ দৃষ্টি একটাই সরল রেখা অতিক্রম করতে পারে ....আর নারী দৃষ্টি পূর্ন ধনুর আসনে হাঁটতে পারে , 
ছেলেটা সুযোগ পেয়ে যায় ভেবে এযাবৎ কাল ল্যাংটো করতো  .......দের 
ছেলেটা জনতো না আসলে তাকে কালচক্র সুযোগ করে মুখ পুঁতে দিচ্ছে নর্দমার পাকে ,
 ছেলেটা ছিল পাপ আর মেয়েটা ছিল সময় ।
ঘড়া ভর্তি হলে পাপ যে বাপ  এই কাছেও হিসেব মিলিয়ে নেয়।

সময়ের সেলাইকল

সময়ের সেলাই কল 
..........

হওয়ায় ভেসে আসে   তোমার মৃত্যু  কথা,
ছেঁড়া চিঠির টুকরো বিপজ্জনক হয়ে  ঢুকে যাচ্ছে
সময়ের আদালতে তোমার মুখোমুখি ।
মানুষ সত্যি গুলোকে মেরে ফেলতে পারে খুব সহজে ...অন্তত মানুষ ভাবে এমনটাই ।

প্রেতাত্মার মত একদিন 
খুবলে নিয়েছো  টাটকা কলেজে , বুকের ওপর করেছো  অধিকারের নারকীয় নাটক ।

*
এরপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সর্বাঙ্গ দেখছো 
আর ভয় পাচ্ছ ,
পুরোনো  সফরের কোন চিহ্ন আছে কিনা রোজ একবার জামাকাপড় সরিয়ে দেখেও নিচ্ছ ,
টিস্যু পেপারে মুছে ফেলছো  গোপন বীর্যর দাগ .....  তবুও তোমার আয়নকে ঝাপসা করে ফেলেছে সে সব দাগ  ।

দু'এক কলি রবীন্দ্রনাথ দিয়ে ভেবেছিলে বেবকুপ বানিয়ে ফেলবে ,, 
যারা কাছে আছে তারা কাছে থাক ..তারা তো পারে না জানিতে ,
তাহার থেকেও তুমি কাছে আছো আমার হৃদয় খানিতে ...
*
 তুমি বুঝতে পারোনি রাতের সেলাই কলে 
কাপড়ের সঙ্গে চামড়া সেলাইয়ের
উপযুক্ত সূচ হল সময় ...
আর সময় হিসেব করেই সেলাইয়ের ফোঁড় এ গোপন রোগের মত গোপন জীবনের নকশা এঁকে রাখে ।

মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১

অন্তহীন ভালোবাসা

 এক্কেবারে যাচ্ছেতাই ভাবে বিকিয়ে দিতে চেয়েছিলিস তুই এই আমাদের গল্পটাকে , দেখ ভালো করে নিজেকে আর আমাকে দেখ......

এখন রোদ পোহাতে তোকে আর দরকার হয় না  ,
 দরকার হয় না কোনো  চন্দ্রমুখী সুখের জন্যে  তোকে ,, 
 বেশ ফুরফুরে উড়ে বেড়াই নিজের অন্তহীন আকাশে আর  আলোয়...।

বিশ্বাস কর, এতোটুকুও ক্লান্তি আসে না 
বেঁচে থাকার এই  দৈনন্দিনে..
মনে হয়..মনে হয়.. যেখানে যা কিছু আছে ...যে আছে   যেমনটা আছে ....এমনটাই তো থাকার কথা ....,,,,
এরপর  নিজেকে  সুখী খরগোশের মতো মনে হয় ,
তোর আস্তানায় এমন অনুভূতি কখনো ছিলো না ,, 
এক অদ্ভুত সুখের ঘোর....আমার ভেতর বাইরে 

যতটা কথা চুপ করে থেকে বলা যায়,
....ততটা এতদিন তোর সাথে হাজার ঘন্টা কথা বলেও বলা হয়নি  ,
 এখন তার চাইতে অনেক বেশি কিছু বলি আমি নিজের সাথে  সারারাত জেগে...

প্রচন্ড বৃষ্টিতে জানালা দিয়ে জল এসে 
 সারা ঘর ভাসিয়ে দিয়ে যায়.. অদ্ভূত ভালোবাসা।
তন্ময়তা নিয়ে ভালোবাসার ধরণ বুঝি এমনতর হয়.. নিজের সাথে !!


অনুভূতির হিমোগ্লোবিন স্রোতে..

এক অন্তহীন সময়ের  সন্ন্যাস 
সেখানে..
যাচ্ছেতাই ভাবে 'আমি' কেমন যেন অদ্ভুতুড়ে   হয়ে যাই...যখন তখন ।।
এ যেন এক
মুখোমুখি  নিজের সাথে নিজের  দিকে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত তাকিয়ে থাকা,,
কাঁদা মাটি মাখা শিল্পীর সামনে দৃষ্টি প্রাণ পেতে 
স্বর্গের কোন দেবতার ছুঁয়ে দেওয়ার দরকার হয়না । 

নিজস্বতা


কান্নার ঋণে থৈ থৈ  স্নানঘর... 
ঘষা  কাচে রঙ বদলায় না তেমন । 
 গ্রহণপথ আমার ভারতবর্ষ হাঁটছে দীর্ঘ মহাকালের পথে। 
 আমার মত মানুষ এর তাই সমস্ত অভিমান  মুছে ফেলতে হয় দ্রুত বেগে ... নিঃশব্দ কুড়িয়ে নেওয়া  অক্ষরে লেখা থাকে এমন অনেক চিরকুট যা নিজেও দ্বিতীয় বার পড়তে ইচ্ছে হয় না । 
ভ্রম কালের  ডাকে  এই জন্ম কিছু কালো দাগ থেকে যায় ,,
 ভ্রূণ ও আঁধার...  সবই কোলাজে ঝুলছে তিন প্রহর   ধরে ,
.....নাদের আলী আর কখনোই পদ্মের ওপর সাপের খেলা দেখতে নিয়ে যাবে না ।
জানলা খোলা  রেখে মুক্তি দিয়ে দিই তাই সেসব দিন যাদের সাথে আজকের কোনো মিল একেবারেই নেই ,,

একা মানুষের  বড় আমীর হয় ....একথা বুঝতে বহু ঋতু দুঃখবিলাসে কাটানো হয়ে গেছে ।
 আজ সংশোয়হীন বেলার ভেতর হাঁটতে পারি নিজের শিরদাঁড়া সোজা রেখে , কখনো মনে হয় না
কোনো সম্বল প্রয়োজন , 
উপোষের দিন গুলো এখন কৈফিয়ত বিহীন নিজের মত থাকতে পারে , মানুষ কেন যে নিজস্ব বর্ন মন্ত্রে দীক্ষিত হতে এত দেরি করে ফেলে জানি না ।
আসলে আর কিছু জানার তেমন গ্রাহ্যতা থাকে না 
যখন শুদ্ধ আর কোমল স্বর সহবাসে থাকে নিজের ভেতর ।

রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

তুমি আর শব্দের জাল

তুমি শব্দের শাখা প্রশাখায় হাঁটতে থাকো ..
আমি শিকড়ে জল জুগিয়ে যাই,
তুমি শব্দের ভেতর শব্দ দিয়ে ঘরের বাইরে ঘর খোঁজো,
আমি তোমার নিয়মের ঘরকন্নায় লক্ষী পাঁচালী পড়তে থাকি ।
তুমি শব্দের জালে মন এর পর মন ধরে কাটাকুটি
খেলো , আমি তোমায় চার দেওয়ালে সামাজিক ভাবি ।
তুমি শব্দের ধরে শরীর খুঁজে মাংস নিয়ে খেলা করো , আমি তোমার ঘরণী হয়ে উপোষী থাকি ।
তুমি শব্দ নিয়ে বাঁচতে থাকো  ...নিজের মত ,
আমি তোমার শব্দে মরতে থাকি এ সংসারে ,
........আমি শাখা সিঁদুর পরতে থাকি তোমার নামে ,তুমি ঘর করে যাও সারাটাক্ষণ অন্য মনে ।
আমি তোমার সন্তান মানুষ করি যত্ন করে ,
তুমি এমন অনেক না জন্মানো সন্তানের হত্যা করো নির্বিকারে।
এরও পরে আমিই শুধু দাঁড়ায় গিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ,
আমিই শুধু ল্যাংটো হই তোমার বান্ধবপুরে ,
এর পরেও আমিই তোমায় ভাত রেঁধে দিই রোজ দুপুরে ।
তবুও তুমি হাফ অফিসে দুপুর গুলো অন্য বুকে ।
এর পরেও স্বামী নাকি পরম দেবতা ,
এরপরেও তোমার প্রেমিকা একশোজন ।
বলতে পারো এমন যদি হয় কখনো , তোমার জায়গা বদলে গিয়ে আমার হলো ......
পারবে তো আমার মত নিতান্ততায় বাঁচতে তখন ,
পারবে তো অন্য পুরুষ ছুলে পরে হাসি মুখে দরজা খুলে ....ভাতের থালা এগিয়ে দিতে ।
একটা কথা মনে রেখো ...শুধু রাখতে জানলেই হয় না ।, থাকতেও যোগ্যতা লাগে ,
ভেবে দেখো শব্দ গুলো ব্যর্থ কিনা ?

শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

দেখা হবে

"ভ্রমণের শেষে ফিরে এসো ঠিক আগের মতো,
কেউ বসে আছে তোমার অপেক্ষায়..."
প্রাক্তন সেই গৃহজীবি প্রেমে
রেখেছিলাম স্নানের ঘরে শীত।
গজল কারো প্রিয় ছিল বলে
শুনেছিলাম 'অমর কর দো মেরা প্রীত'।
তুমি আমি আর আমাদের সে সুখের বাসর 
ফিরে এসে আগের মতোই গুছিয়ে দেবে জানি আসর ।
আমার কেউ মৃত নই গেছি কেবল হারিয়ে ভিড়ে ..
যারা চোখ বেঁধে দিয়েছিল একদিন হবে শমন জারি  তাদের ঘিরে ।
ততক্ষণ তুমি আমি  হাঁটবো বৃত্তে একা
যতক্ষন  না ফুরিয়ে যাবে  আমাদের পাপ  অক্ষরেখা।

সুবর্ণা (১০৮)

হত্যার দায় ভার নিতে নিতে আরো একটা 
যোগ্যতা তুমি অর্জন করে ফেলেছো সুবর্ণা ,
নিপুণ  কথার ছলে জুড়ে দিতে শিখেছো ডালিম রঙের কলজের ভেতরে সুক্ষ ছেড়া তার গুলো ।
পারদের ওঠা নামা তোমার ভালোবাসার লাবডুব
কখনো স্পর্শে রাখনি শুদ্ধ বৈধতা ,
ভালোবাসার ছলে চোখ থেকে দৃষ্টি কেড়ে নিয়ে অন্ধ করে দিতে পারো ইচ্ছা হলেই ,
তোমার ঘর ডুবে থাকে শব্দের পাঁচমেশালী রঙে ,
রাত ফুরোলেই শরীর থেকে বেরিয়ে অশরীরী হয়ে
ঘুরে বেড়াও নতুন কোনো দেহের উদ্দেশ্যে ,,
এভাবে আর কততম হত্যার ভার নিতে পারবে তুমি ?
বৃষ্টির দিন আসন্ন এখন .... জেনে  রেখো  তোমার সমস্ত ইতিবাচক রং ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যেতে পারে একদিন ....
সমীকরণ বদলি ফেলো নয়তো রং ধুয়ে গেলে গাছেরাও মানুষ চিনে ফেলতে পারে ।

সুবর্ণা ....প্রিয় মন্দ কথা ।





শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১

পোশাকি আলোচনা

এসো  আজ আমরা পোশাকি আলোচনায় মুখোমুখি বসি,
 আজ আর চার দেয়ালের প্রয়োজন নেই আমাদের মুখোমুখি  আলাপি কথোপকথনের জন্যে ,,,,
এই ঢাকনা খোলা পৃথিবীটা এখন তোমার আমার ক্যাফেটেরিয়া , 
তুমি সাদা কালো কিংবা রঙিন পোশাকে ঢেকে নিও নিজেকে .....আমিও অবরণনের পরতে বসবো এসে , 

 .......অথচ পোশাকি হলে  নাকি আত্মিক হওয়া যায় না ,   ,পোশাকে নাকি ছুঁয়ে ফেলা যায় না অন্তর মহল ...
 আসলে গভীরে ভেবে দেখলে দেখা যায় ,
ভেতর পর্যন্ত পৌঁছতে পারলে গুঁড়িয়ে দিতে  সহজ হয় ভাঙনের সময় ... ...
ভেতর পর্যন্ত পৌঁছতে পারার জন্যে প্রথমে পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলতে হয় ...,  বারংবার ঠোঁটের উপর উষ্ণতা চেপে কানের  লতিতে  বলতে হয় ...পোশাকের ভেতরটা দখল করার গুপ্ত মন্ত্র ,  
...….নাটকের সংকল্পে  লিখে দিতে হয় ......এসো তুমি আমি  এবার "আমরা" হই ....পোশাকি নয় নগ্ন
হয়ে কবিতায় পথ হাঁটি ।
ভেতর পর্যন্ত পৌঁছাতে গেলে চার দেওয়াল জরুরি ....কারণ চার দেওয়ালে সাক্ষীহীন হত্যা সহজ হয়ে যায় ,
পোশাক না খুললে জানা যায় না আঘাতের জন্যে সবচেয়ে নরম জমিন ঠিক কোন জায়গাটা , ,,,

তবু তোমার পোশাকি হতে মাঝে মধ্যে দারুন ইচ্ছা হয় , 
পোশাকের রঙে দু এর বেশি পা তুলে নেচে ওঠো নিজের পোশাকের ভেতর , ।
আর আমি শামুকের খোলসে গল্প গুছিয়ে নেবো বলে তোমায় কিংবা তোমার মত শ্বাপদ আমন্ত্রণে এই ঢাকনা খোলা ক্যাফেটেরিয়া কিছুটা সময় খরচ করি  ,
তুমি ভেবে নিতে পারো পঞ্চাশের মাইলস্টোন দৌঁড়ে পার করে জিতে গেলে .....আসলে খেলার জন্যে বল টা আমি কিংবা আমার মত পাক্কা খিলারীরা   তোমার কিংবা তোমার মত ......দের  মাঠে নামানোর জন্যে ছুঁড়ে দিই ...।
আসলে হার জিত দাবার গুটি সবই ইশারা বোঝে এই নাটকের পৃথিবীতে ,।

তোমার দায়

যতখানি  ভেঙে গেছি আমি ততখানি জুড়ে দেবার দায় তোমারই ,

তোমাকে আমার এই শূন্য দৃষ্টিতে ভরে রাখতে হবে অপার্থিব কিছু স্বর্গীয় উপমা।

বিকেলের পড়ন্ত আলোয় এক গুচ্ছ সতেজ ফুল
নিয়ে তোমাকেই একা এক্কেবারে একা আমার ফিরে আসার অপেক্ষা করতে হবে ।

ফুরিয়ে যাবার আগে প্রতিটি প্রেমই সুন্দর
মানুষ যদি বিশ্বাস করতে পারে...তোমাকেও 
এই নিয়ম বিশ্বাস করতে হবে ।

কিছুটা পথই একসাথে যাওয়া যায়
শুরু ও শেষ সবই আগে থেকে ছক কষে রাখা ,
যেহেতু আমার মেরুদণ্ডের সমস্ত ঘুন পোকার প্রসব তুমি করেছো  তাই  স্থিতিস্থাপক  হয়ে আমাকে তুমিই বহন করবে   এই জন্ম টা ।

কত সুন্দর ভাবে যুবতীরা  ঠোঁট ছোঁয়ায় তোমার পুড়ে যাওয়া ঠোঁটে  ...আর তুমি তাদের অন্য ঠোঁট থেকে চুষে নাও অমৃত রস ..।
যেন ভাস্কর্য অথবা কবিতা অথবা তৈলচিত্র ।


পৃথিবীর সব কিছুই সুন্দর
যদি তুমি খারাপ মনে রাখার অভ্যেস ত্যাগ করতে পারো তবেই , যদি তুমি মিথ্যে আঁচলে গিঁট দেওয়া বন্ধ করতে পারো ।


আপাতত,এই চিঠি তোমার কাছে পৌঁছে যাক
একটি গোল টেবিল
অদৃশ্য অথচ রক্তাভ সুন্দর কিছু মুহূর্ত

বেঁচে থাকার ইচ্ছে
প্রতিশ্রুতি ও প্রলাপ!,
আবারও  জানিয়ে রাখি.......যতখানি  ভেঙে গেছি আমি  ততখানি জুড়ে দেবার দায় তোমারই ,,।


শুধু তুমি



আমার ভাবের ঘরে থৈ থৈ প্রেম এখন, 
আজকাল  আমার কথারা চুপ হয়ে যায়   যখন তখন তোমার বুকের কাছে এসে ।
লাল-হলুদ সুতোর রঙ দেখেই বলে দিতে পারো 
আজ আমার মন কতটা আকাশ কিংবা মাটির কাছে ,
আমার খুশির  মানতের ভার  তোমার বুকে আজকাল  ,
 কোন গাছের বুকে মানতের
পাথর  ঝোলাতে হয় তোমায় না জানলে  জানা হত না ।

শিলা থেকে লিপি তুলে রেখেছো তাই । 
লিপি থেকে প্রিয় অক্ষরও গেঁথে নিয়েছো ভালোবাসার কবিতায় ।
এত দিন এই সামান্য যত্নের   জন্যই মাথা নুইয়েছি 
ভেকধারী আলেয়ার কাছে । 

সকাল হলেই বেরিয়ে পড়েছি  বৃষ্টি মাথায় নিয়ে 
মাইলের পর মাইল পেরিয়ে ছায়ার সন্ধানে ।
বিকেল হলে ভিজে পালক নিয়ে ঘরে ফিরে এসেছি  আবর্জনা মেখে ।
.......শূন্যই ভালো বলেছিল আমার একমাত্র নাকে লাল বল লাগানো প্রেমিক । 
 আসলে কে যে কার বুকের ভেতর ছবি আঁকে  আর কার ভেতর রান্না করে   বুঝবো কি করে ? 
এই ফিকির থেকে বেরিয়ে এসেছি তোমার হাত ধরে ,
যা ছুঁয়ে থাকবো তা যদি সোনাই না হল,
এ জীবন কোন গুণিনের পরশপাথর?

বুকের ভিতর তোলপার হয় আসমান এখন   
বুকের ভিতর ছাড়খার হয়  জমিন খানা
তোমার ভিতর আমি জলে ভাসি  প্রিয় .....
আমার ভিতর তুমি শুধুই খাঁটি সোনা ?

দলা হয়ে আসে কান্না আর মান হারানো  সব তুমি বদলে দিলে এক নিমেষে ,
আমার মাথার ভিতর ফুক দিতে থাকো রোজ সকাল সাঁঝে ... ,
আমার বাজুর তাবিজে    এখন তোমার দোয়া ।  
 আমার ভাঙাচোরা  মনকে ধারন করলে   তুমি,,
আমি এখন সব পরব থেকে ফিরে এসেছি তোমার আমার নিজস্ব উৎসবে ।
সমস্ত উৎসবের কুটির এখন ওই বুকের ছাওয়া,

এখন তুমিই  আমার একমাত্র উপাসনাগৃহ।
ফেরার পথে পেয়েছি তোমায়  
শরীরের  ভেতরে তো কোনো ছল থাকেনা। 
ছল থাকে মানুষের মনে । চোখে ও কাজলে থাকে মোহ মদিরা ,,
ফিরে এসেছি যে দিন  নতুন অভ্যাসে পেয়েছি তোমায় সেদিন । 
তোমার গায়ে কস্তুরী হরিণের গন্ধ। 
ধরতে মন চায় শুধু। ঘর পালিয়ে ও বুকের অরণ্যে হারাই রোজ ।
......অক্ষরের সঙ্গে এরচেয়ে বেশি সম্পর্ক আমার নেই।
যা আছে সবটুকু তোমার সাথে তোমার ভেতর ।

সম্পর্ক তো পদ্মপুকুর। আজীবন ডুবে থাকা যায়। আমার কথার ঘরে  আশ্চর্যের চিরাগ জ্বলে  আমার ব্যথার ঘরে দিওয়ানা হয়ে বসে
থাকো তুমি,.  
আমার শেষ চাওয়া তুমি ।


মন্দবাসা নাকি বিকিয়ে যাওয়া

লোভ থেকে উঠে আসা ভালোবাসার জন্য থাক...ঘৃণা ,

ক্ষোভ থেকে উঠে আসা নালিশ এর জন্য 
থাক ক্ষমা. ....

প্রয়োজন ফুরিয়ে আসলেই 
দাতা-হৃদয়ের  প্রেমিক   নিলামে ওঠায় তার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ প্রেমিকাকেও  ..... 

তবু ভালোবাসা নাকি  আশ্চর্য জোৎস্নার নাম  

খাফা হোক বা নারাজ...
কাফের হোক বা ফারেব... মানুষ হলে ফিরে আসবেই ,......হৃদয় হলে একবারও কাদঁবেই 
পাথর হলে ভেতরে থাকবে তথাগত ...
আকাশ হলে ভারী হবে মনের ঘরে ....
উঠোন হলে ছায়া খুঁজবে2 নিদেনপক্ষে ...

 আর কবিতা হলে  ঠিক দেখা হয়ে যাবে দুজনার...মুখোমুখি কোনো এক সংকল্পের শেষ দিনে ।

#রমা

বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১

তোমায় নিয়ে আসবো একদিন

তোমায় একদিন নিশ্চিত আমার আলোর দেশে নিয়ে আসবো , ....তোমায় নিয়ে আসবো একটা সম্পূর্ণ রোদ্দুরের দিনে ।
এখন তোমার স্যাতস্যাতে  পৃথিবী আর ভেজা হওয়ায় অদ্ভুত আঁষটে গন্ধে ভরা উপত্যকা ,

হয়তো আরো অনেক বছর তোমার এই কফিন বন্দিদশা বরাদ্দ , 
হয়তো আরো অনেক বছৰ পর  আমার আলোর দেশে তোমার নিঃশব্দ আর্তনাদ পৌঁছতে সময় লাগবে ।
তারপর সে আর্তনাদের কর্কশ এত তির্যক পথ ধরে আমিই একদিন তোমায় আমার সুন্দর বর্নময়
আলোর দুনিয়ায় নিয়ে আসবো .....

আমি অঙ্গীকার করলাম আগামী কোনো এক দিন আমিই তোমায় ইজেলদানির সমস্ত রং  এর ক্যানভাস এই আনন্দ, প্রজাপতি ,ফুল আর সবুজের সাথে মুখোমুখি করিয়ে দেবো,,

খুব যত্ন করে হাতের রেখায় তোমায় সামিল করে ফেলবো একদিন ,
একদিন আমার আলো ও উত্তাপের জমিতে তোমার জন্য একটা ইমারত জরুরী করে নেবো ।

একদিন আমি কথা দেওয়া বৃষ্টি যা শুকিয়ে গেছে ..
সে সব বৃষ্টির মিঠেল জল ফোটা দের দিয়ে তোমায় চন্দন স্নান করিয়ে দেবো ।
একদিন আমি তোমায় কফিন ,দুর্গন্ধ ,শ্যাওলা চাপা বন্দী দশা থেকে আমার শেষ না হওয়া আলোর পৃথিবীতে নিয়ে আসবো ,,
এখানে জীবন শুধু উজ্জাপনে কেটে যায় , এখানে কেউ কখনো দুঃখ শব্দটার সাথে পরিচয় করেনি , এখানে কখনো জন্মের পর আর মৃত্যুর আগে বিচ্ছেদ আসেনি , এখানে কখনো কোনো স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে শোকঅশ্রু বইতে দেখেনি কেউ।
এখানে মৃত্যু আসে চরম ভালোবাসার সাথে ,
এখানে ভালোবাসা কখনো যাতনাময় হতে দেয়নি কেউ ,
একদিন তোমায় এই সম্পূর্ণ আলো আর আলো এই দেশে নিয়ে আসবো তোমার সমস্ত বন্ধনীকে মুক্ত করে ।

মার্থা তোমাকে

বৃষ্টিনগরী ছাড়িয়ে আজ অনেক দূরে তুমি মার্থা। গাছেদের নিঃশ্বাস, জলীয় বাষ্প, পাখিদের ফিসফিসানি...  এসব আর তোমায় ছুঁয়ে যায় না জানি ....অথচ এসবে ক্রমশ গাঢ় হয়ে উঠছে আমার একফালি আকাশে ।  তোমার  কাছের সবচেয়ে বড় গাছটার আজ  উৎসব উজ্জাপনের দিন।
 গাছের  পাতার পিঠ বেয়ে চুঁইয়ে পড়ছে  আদর বুকের পাঁজরে  ।
.. যেখানে হাজার হাজার ফাটলের মতো নগ্ন নির্জন নদী বয়ে যায় সব ঋতুতে। 
অদ্ভুত  শূন্যতায় এখন সারারাত সেইসব স্বপ্নের কথা ভাবি, যা দেখিনি কখনো।
 মাঝরাতের বাসস্ট্যান্ডে একা কোনো ক্ষয়ের ইতিহাসকে দেখি অপেক্ষা করতে । 
কালো ছাতার কাপড়ে হইহই বর্ষায় আমি ও আমার   উঠোন ভেসে যেতে দেখি। 
উঠোনে তর্ক জমায় টুপটুপ অতিথি জলেরা ।
  নিঃশ্বাস মানে উষ্ণ রঙের কোলবালিশ তুমি বলেছিলে কখনো মার্থা ,
 . যার দুদিকের আঁকড়ে থাকার  পোস্টার সাঁটা...  পৃথিবীর ছবি। হয়তো মনে করে সেসব কথা এখন তুমি ভুলে গেছো ..., ।

 অথচ দেখো আজও  কেমন হাঁ-করা টাকরায় বালি ঢোকে রোজ স্নান করি যখন...।
 গোপনীয় অতীতের জলে রোদ পড়ে বিকেলের সেঁজুতি গড়িয়ে , দুপুরের পুরোনো কথপোকথন কখন  পৌঁছে গেছে  সন্ধ্যার ডালে... 
আমাদের প্রিয় পাখিরা উড়ে যায়  শোকের দেশ ছেড়ে ।

অদ্ভুত  অস্বাভাবিকতায় পরজীবী মেঘের মতো
এখন তোমায় দেখতে লাগে ।
  সবুজ ঘাসে চিরুনি খুঁজে পাওয়া, অথবা মাটিতে গেঁথে যাওয়া মায়ের হাতের শাঁখার টুকরো...মত তোমার যাপন .... । 
 জানি আজকাল পুবের জানলায় চোখ মেলে ধরো রোজ মাঝ রাতে আঙুলে জ্বলন্ত জীবন কে ছাই করতে করতে ।
 ঝাঁকড়া নিমগাছটা ঠিক তোমার মত দেখতে জানো মার্থা ,,  ঘোলাটে দিগন্তে ... কষ্ট ছড়িয়ে দিতেই যেন সে অভ্যস্ত। 
 আর তোমার স্নায়ুর কাঁচা রঙে বিলি কাটে কাচপোকারা তাদের হাজারো রং কিন্তু কেউ তোমায় তোমার মত রং দিতে পারেনি ।
  

এ আসলে পৃথিবীর কিছু  চলন শর্ত  জানো তো মার্থা,,, হাজার বছর পৃথিবীতে হেঁটে বেড়ানো যায় কিনা জানা নেই , 
এ যেন ফেড ইন আর ফেড আউটের মাঝের কোনো স্তর... চিত্রনাট্যের মতো। 
বদলে ফেলার ইচ্ছা হতে পারে সাময়িক বদলও যায় ...আদতে সারমর্ম একই থাকে ।
 

Death is must be so beautiful

Death must be so beautiful. To lie in the soft brown earth, with the grasses waving above one’s head, and listen to silence. To have no yesterday, and no tomorrow. To forget time, to forgive life, to be at peace. 

 -- Sylvia Plath, The Bell Jar

মৃত্যুকে ভালোবাসলে পরিচয়হীন  একটা স্থিরতা  অনামী  দেহাতি মনকে  আঁকড়ে ধরে .. চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আলোর রোশনাই । 
আশ্রিত ভেবে  নিজেকে জড়িয়ে শূন্যের গভীরে  এক চোরাবালি ছিল শুধু।
 ...... দূরত্ব মেপে মেপে  রুপোলি মাছের দল. .. ঢেউয়ের ছদ্মবেশ বুঝতে পারেনি আমার মতই ।
অথচ কি সহজে হঠাৎ বৃষ্টি  সব ভাসিয়ে অলৌকিক ছবিগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে । 
বেশ কিছু  কাগুজে ঘুড়ি তাদের গায়ে লিখে নেয়  রুধির সংকেত....যা ভালো করে বুঝে নিতে হয় এক জীবনেই।

 ধুলোর নীচে শবব্যবচ্ছেদের সরঞ্জাম  রেখে যায় পাপ  সময় , 
কর্কস ডাকের মতো আয়না-ফাটলে... বিশ্বাসের গলা টেপা পরে যায় ,,,
  অথচ বিপরীতে ফিরে যাওয়া শেষ বিকেলের পিঠে এক-একটি অসমাপ্ত চুম্বন...আজও ভীষণ রকম জীবিত ।
  মহাসমুদ্রের জলে নেমে জলোচ্ছ্বাস মেপেছি কোনো একদিন ... তাই আমি সন্ন্যাসী হতে পেরেছি খুব সহজে । 
অনেক ভেবে স্হির করেছি  জ্যোৎস্নায় রাখা আমাদের  নিজস্ব যা কিছু  বিরল আলিঙ্গন ফিরিয়ে দেবো  তোমার সিংহদুয়ারে।

আসলে  এক আশ্চর্য ভিক্ষার দেশে আমি জন্মেছি জানো !
সারি সারি সন্ধ্যা বাতি  জড়ো করা আর কর্পোরেটের  শব্দস্রোতের বিপরীতে নষ্টকথা ও
প্যাপিরাসে জড়ানো সময়ের মন্থন  খুঁজে  যাচ্ছে আমার দেশের সব মানুষ , তারা
বাতাসে কথাদের ভাসিয়ে দেওয়া একটা প্রথা মনে করে ।
 
আমার ভিক্ষার দেশের আজকাল বড্ড বেশি  শকুন উড়ছে আকাশে ...... ,
মনে হয়  যেন ভিজে জামাকাপড়ের গন্ধের সাথে অবাঞ্চিত বীর্যপাতের ঠিকানা তারা পেয়েছে ।
অথচ একটা শকুনো মাটির ওপর আসে না , তারা কখনো  এত মুখের ভাঙা টুকরো দেখেনি বোধহয়... ।

অথচ কি আশ্চর্য দেখ
শকুনেরা সব মুখগুলি চিনতে পারে বলে জানা ছিল এতকাল .......।


খেলার ত্রিতাল



যে খেলার তাল লয়ে বিশ্বাস  ফুরিয়ে যায়
খরজন্ম... শ্মশানযাত্রার...মত সে খেলার নোবিশ।
 শরীরের প্রতি খাঁজে রুটি মাংস মদ... ডাঁসা সোহাগী ভালোবাসা। 
ফাঁপা হাড়ে লাল নীল সবুজ প্রেমিকের  অন্তর্হিত স্পর্শ ।
 চোখের পাতা  একাকীত্বে ঝড় এসে পরা  আয়নার কাচ ভাঙা আটকে থাকে  । 
মাঝরাতের অন্ধকার ডিঙিয়ে খাঁড়িপথে হলুদ প্যাস্টেল ঘসে হেঁটে যায় এক পাল আমায় বুনো ইচ্ছা.. 
ঘোড়ার খুরের আওয়াজে লাফিয়ে ওঠে অবাঞ্ছিত
সম্পর্কে বেড়ে ওঠা পরিজাতের বাগান ,
 গর্ভের তখন ভালোবাসা ভালোবাসা খেলায় জন্মানো সন্তান প্রবেশ করছে । 
... জমিয়ে রাখে শরীরের গন্ধ ও মধ্যবয়সি শিরীষ
প্রেমিকের পঞ্চাশতম প্রহসন .... যেন একফালি  চিরকালীন সূর্যাস্ত। 

বুড়ো  পাখিটা দাঁড়াতে পারে না আর   ডোরাকাটা জানলায় এখন সে নেতিয়ে পড়ে থাকে .... কাচের ছায়া  খুঁটে খুঁটে খায় সে। 
 জলরঙে তৈরি বাঁধানো চাতাল নাটমন্দির
ছাড়া সব কিছু বদলে দিয়েছে এ শহর কলকাতা ।

এখন রাত্রি গুলো  বড় সহজ হ'য়ে বেঁচে থাকি আমি।
 অসাড় অনুভূতি আর যত্নে রাখা আঙুল ভিজে বাতাসে ত্রিভুজ এঁকে যায় না ।
 তোমার ঘরে আমার একটা আস্ত না হওয়া সংসার   অসাড়  চিহ্নের ছবি খোদাই ক'রে   একটা বড়সড়  কফিনে রেখে দিয়েছো ... যার ভেতর আজকাল  অবিকল চোরা স্রোতের  মতো অন্ধকার ঝরে পড়ে তোমার মত শ্রষ্ঠ কবির কবিতায়।

একটা গোটা রাতে এমন অনেক অন্ধকার থাকে।
যারা চুপ থেকে শব্দ না করেও সমস্ত কিছু ঘুন ধরিয়ে দিতে পারে ।

ধ্রুবতারার চিঠি

আমার জন্য কোনোদিন কেউ এত কাঁদেনি জানো... হয়ত আমার যোগ্যতা ছিল না তাই...
তোমায় দেখে লোভ হয় মনে হয় বলি ....পারো না আমায় একবার আকুল হয়ে ভালোবাসা দিতে ?
তোমার কান্না... তোমার ভেঙে পড়া দেখে মনে হয়... এমন করে উজাড় করে কজন পারে ভালোবাসতে ....কজন পারে নিজেকে নিংড়ে দিতে ভালোবাসার মানুষটার  কাছে ..

তুমি সফল আর নির্ভেজাল মনের মানুষ... তাই একজন অপদার্থ তার আখের গুছিয়ে নিতে পারল... তুমি কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছো ঠিকই... কিছু কষ্টও তার সাথে সঞ্চিত... কিন্তু হেরে যাওয়া মানুষ তুমি নও...।

প্রথমত তুমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসো... প্রতিদিনের কাজের চাপ ব্যস্ততা... এসব enjoy কর... একজন মৃত মানুষের কথা ভেবো না... মৃত জিনিস বেশিদিন সাথে রাখা যায় না। পচা দুর্গন্ধ হয়। যা হয়েছে তা যদি না হ'ত তাহলে অনেক বড় বিপদ ঘটত একদিন।

জীবনে এমন ধাক্কারও প্রয়োজন আছে... shake the bottle of pure life...
বোতল না নাড়ালে বুঝবে কি করে তার নীচে কতোটা চিনি পড়ে আছে...

অপমান ভুলতে পারছ না... আমি জানি... সময় আসুক এর জবাব পেয়ে যাবে। 
ইতি ....... শেষ ধ্রুবতারা,


ফ্রেডরিক নগরে আমি সে এবং উইলিয়াম ক্যারি

ফ্রেডরিক নগরেকে   প্রথম সে আমায় পরিচয় করিয়ে ছিল , ....আমরা সেদিন অন্ধকারে ভেতর চোখ গেঁথে আলো খোঁজার কথাই বলছিলাম ,,,
ক্যারি সাহেব তখন  ঘুমের দীর্ঘ পথের অনেক খানি  পার করে ফেলেছেন  নিশ্চিত।

 সে আমায় বললো  জন্ম জঠরের  কোনো উত্তর কখনোই এই পৃথিবীতে
পাবে না , আমায় নিকষ অন্ধকারে ঠেলে দিলো সে ,..............আমি পচা গন্ধ আর ভেজা বাতাসের ভেতর দিয়ে  হাঁটতে হাঁটতে অবয়ব হীন কঙ্কাল আর কিছু অজানা ভয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিলাম  সেই সব মুহূর্তে,,
ক্যারি সাহেব তখনো আলো ছুঁয়ে ফেলেছিলেন কিনা আমি জানতাম না , তার দীর্ঘ গাঢ় ঘুম আর আমার অন্ধকারে পথ চলা খানিকটা একই দৃশ্যের মত লাগছিল ,
যাঁরা আমায়  জন্ম দিয়েছিলেন অথচ কাছে রাখতে চাননি... তাদের মনের কিছু দুর্গন্ধও আমার কাছে আসতে চাইলো , যারা আমায় কাছে রাখবো বলে কাছে রাখেনি তাদের মনের পচা দুর্গন্ধর পথ যখন আমি পেরিয়ে যাচ্ছি ,. আমায়  দুর্বল করছিলো ....পুরোনো প্রক্রিয়ার ভেজা বাতাস ।

অন্ধকারের ভেতরের যে আলো তা ধৈর্য ধরে খুঁজছিলাম  ..... যতক্ষণ না খুঁজে পাচ্ছি ততক্ষণ অজানা প্রাপ্তি অজানা দৃশ্যের মুখোমুখি হ'তে চাই না আমি ... 
সে আর ক্যারি সাহেব আমায় ছায়ার মত আগলে রাখছিল ......আর এই ফ্রেডরিক নগর আমাকে ঠিকানা বাতলে দিয়েছিল  এগিয়ে যাবার ,,

এভাবে অন্ধকারে চোখ গেঁথে হাঁটতে হাঁটতে আলোর ঘোর ঘিরে ধরেছিল আস্তে আস্তে সমস্ত আমিটাকে,  ,,    
আমার পুরনো সমস্ত প্রক্রিয়া থেকে
অনুতাপ ধুয়ে মুছে যাচ্ছিল সেদিন .... ধুয়ে যাচ্ছিল অপমান খারাপ লাগা .....আমার ভেতর এক নির্লিপ্ত চারা গাছ অঙ্কুর থেকে পাতার ডানায় ভর করে আকাশের দিকে তখন ।
বিশ্বাস করলাম সেদিনের অন্ধকার ট্যানেল পেরিয়ে আমি মোহ মুক্ত হয়েছিলাম সমস্ত পুরনো প্রক্রিয়া থেকে। ,
তার পর যেই না ক্যারি সাহেব আর তাকে ধন্যবাদ জানান দিতে পেছনে তাকিয়েছিলাম ....সেখানে শুধুমাত্র সেদিন  ফুলের গন্ধ... ভেজা বাতাসের মিষ্টি গন্ধ ছাড়া আর কাউকে দেখতে পাইনি ।



মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

একটা কবিতা

সমস্ত পাগলামি জুড়ে একটা কবিতা দাঁড়িয়ে আছে , আছে কিছু মন্মন্তরের কাহিনী ,
সমস্ত পাগলামি জুড়ে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে ধর্মতলার মেট্রোর পাশে , আছে ঝুলি ভর্তি সদ্যোজাত স্বপ্নর কাঁচা মাটি সঙ্গে নিয়ে ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে ছেলেটা বাঁচতে চায় একটা কবিতায় , চায় মেয়েটার বুকে আদ্যপ্রান্ত কবিতার 
শব্দের চারা পুঁতে দিতে ।
সমস্ত কায়নাৎ জুড়ে একটা কবিতা বদলে ফেলতে চায় সমাজের তৈরি সমস্ত নিয়ম ,চায় ভালো থাকার বৃষ্টি নিজের আকাশে ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে একটা  কবিতা কখন ছোটো গল্প থেকে উপন্যাসের উপসংহারের পথ হেঁটে ফেলে,
হেঁটে ফেলে অচেনা দুয়ার  চিনে নেওয়ার পথ ,
সমস্ত পাগলামি পথ বদলে শহরতলি থেকে নন্দন
আর পাহাড় থেকে জঙ্গল কিনে ফেলতে চায়  একটা কবিতা , চায়  গোপন কথাটা থাকুক চিরকাল গোপন ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে একটা কবিতা একদিন বিচ্ছেদ লিখে ফেলে , লিখে ফেলে ভালোবাসা বদলে গিয়ে ঘৃণা , প্রহসনের খসড়া,
সমস্ত পাগলামি জুড়ে ছেলেটা হারিয়ে যায় শহরের
বিজ্ঞাপনে ,হারিয়ে যায় রংমসালে আলোর ফিরিকে ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে এমন কবিতা জন্মায় আবার
মাটির নিচে চাপা পরে যায় , চাপা পরে যায় একদিন বাঁচতে চাওয়া গল্পের সিকুয়েন্স গুলো আদ্যপ্রান্ত ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে  একদিন একটা কবিতা মুছে ফেলে মেয়েটা , লোহার বর্ম পরে নেয় সে , পরে নেয় পুরোনো জোব্বা, আর কাঁধে রাখে জন্ম দাগের সমস্ত সয়ে যাওয়া যন্ত্রণার ঝুলি ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে একটা কবিতা এগিয়ে যায় গোমুখ থেকে কন্যাকুমারীর পথে ।
সমস্ত পাগলামি জুড়ে একটা আগুন শুধু শান্তি দিতে পারে একটা গোটা কবিতার শেষের লাইনে।

তোমার শহরে রক্তের দাগ

যিশুকে যে চাদরে মুড়ে রাখা হ'য়েছিল তাতে রক্তের দাগ লেগেছিল... তোমার শহর তাকে যত্ন করে রেখে দিয়েছে আজও,
পুরোনো রক্তের দাগ তোমার শহর ফ্রেমে সাজিয়ে রাখতে ভালবাসে, ভালোবাসে ঘাতকের স্পর্শে লিখে রাখতে ফুট নোট,
কয়েক হাজার বছরের পুরনো রক্ত ...
সহস্র বছরের জং ধরা যন্ত্রনা ......
মাটির নীচের ঠান্ডা ঘরে  কষ্ট  রাখা অযুত বছরের,
তোমার শহর এমন অনেক কিছু গোপন রাখে যা কখনো কখনো ভালোবাসা নামেও তোমরা পরিচয় করাও ,।
 ,
 সময় ফুরালে মাথার ওপর মাটি চাপা  দিয়ে রাখা থাকে ওরা ... কেউ তখন ওদের কথা জানতে চায় না ,
কফিনের বিশেষ সাদা চাদরে ওরা অগুনিত যীশু তোমার শহরে ..,,
প্রত্যেকে  একা একা... আলাদা ঘরে থাকে
কখনো কখনো মাটির নিচ থেকে ওদের জমে থাকা বদ রক্ত উপচে আসে তোমার কেনা উঠোন ঘরে অথবা সাজানো ফ্ল্যাটের নালি হয়ে সোজা সে রক্ত তোমার শোয়ার ঘরের রাস্তা চিনে নেয় ।
কি আশ্চর্য তাই না ,
যে যীশুর রক্ত তোমার শহর শুকিয়ে একদিন বয়ামে সাজিয়েছে সেই রক্ত ,যন্ত্রণা, কষ্ট বয়াম  খুলে হঠাৎ জীবন্ত ....আর তোমার সুখের ঘরে এ শহরের খরচের হিসেব নিকেশ ফিকির ...তখন তোমায় দিকশূন্য দৃশ্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় ।

সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১

ভালোবাসা(১)


----------------------------------------------------------------------
বর্ণমন্ত্রে দীক্ষিত সময় শুধু ভালোবাসা নামে এখনো পরিচিত..।
. দূরত্ব বাড়িয়ে বিন্দু বিন্দু উপোসের দিনে আরো বেশি করে ভালোবাসতে ইচ্ছে হয় ...। 

যে পথ্যে অধিকার রাখো. তার নাম ভালোবাসা জানি ।
 বিস্মৃতি চেয়েছিলে  আসলে শব্দ গুলো গুছিয়ে বলতে পারোনি
....পারোনি বলতে আসলে আরো বেশি ভালোবাসায় ঋণী হতে চেয়েছো।
...   স্খলিত উল্কায় ছেদহীন এ লেখা তোমার..
 ভালোবাসা ছাড়া কি বলো তুমি !

কান্নার ঋণে দীর্ণ স্নানঘর তবুও ভালোবাসা ধুঁয়ে মুছে সাফ হয় না ।
.. মলিন কাচে রঙ বদলায়  ভালোবাসা রঙের ভেতর নতুন রঙে জন্ম।
  মেঘমল্লার  রাগ মুছে যায়... নিঃশব্দ কুড়িয়ে নেওয়া  অক্ষরে ভালোবাসা শব্দটা একমাত্র সব অক্ষর জুড়ে রাখে । 
গঙ্গার স্রোতে  যখন  জলধোয়া আমার ইহজন্ম,
 তখনো  ভালোবাসার  ভ্রূণ বেঁচে ওঠে  গোপন  অন্ধকারে।.. জানলা খোলা পেলে আলো তো আসবেই 
তাই ভালোবাসার কখনো মৃত্যু নেই ,

রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

সময়ের নোবিশ

দীপ্তি... দৈর্ঘ্য.. প্রেক্ষকে প্রথম ঋতুস্রাব... মুঠোয় ধরা যায়? তাই যেতে দিয়ে হয় প্রিয় অনেক কিছু মুঠোর বাইরে ।

অভিনয়ে ডুবোপাহাড় থাকে...
 দুঃস্বপ্নে উচ্ছে-বাগান... 
ঢালু জমিতে শুয়োর চাষ... 
প্রতিচ্ছবি ঘর উঠোন পার ক'রে আত্মজনের গাছদেহে...

আমিও তো খুঁজি... 
বুকের কাছে...
 মাঠের কাছে... 
মুঠোর কাছে...
 ... রৌদ্রে... বৃষ্টিতে... ঠান্ডায়... অমৃতরস... 
যুবক পাহাড়... রিক্তধারার ধ্বনিজলে... পালিয়ে বেড়ানো ঘূর্ণি... প্রহরীহীন সময় .....
হারিয়ে ফেললে আর যে ফিরে যাওয়া হয়না ...
শুধু নিজেকে হারানিধি মনে হয় শেষমেশ।

তারিখ

দেওয়াল জোড়া সেসব ছবির  একদিন চিত্রকর বানিয়ে ছিলে আমাকে  ,
আজ সে সব স্থাপত্যে নেই কোনো অভিমানী তুলির স্ট্রোক  ,
মৃত্যুর দেশে আলোর রং তুমি  ...কাটাকুটি খেলায়
আজ আর হার জিত কিছু পরে নেই ...
বয়ামে রাখা নানা রঙের সুখ সাজানো ,

শূন্য মহল্লায় শান্তি ঘুমোয় .....ঘুমোয় নির্লিপ্ততা ।

সে বলে একজন মানুষের নাকি অজস্রবার জন্ম হয় ....,ঢালু জমিন থেকে  তবু একটি মাত্র জন্ম ধারা ধাপ পেরিয়ে আসে  ক্যালেন্ডারের একটাই তারিখে ,
প্রতিটা তারিখে কিছু গোপন সংবাদ ...প্রতিটা তারিখে কিছু ইতিহাস , 
প্রতিটা তারিখে জন্ম মৃত্যু ,
প্রতিটা তারিখ ভীষন নিঃশব্দে কিছু শব্দ রেখে যায়
 ।দেওয়ালের রং বদলায় তারিখে তারিখে  আর সময় হয়ে ওঠে জতিস্মর ।





শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১

বে-বাফা

বেখেয়ালি মেঘের  চৌকাঠে পেরিয়ে জমিন দখল করে নিয়েছে বহু দিন  । 
 জমিনে জামিনে সেলাইয়ের  খেলায় সীমা এঁকে দেয় সুচ-সুতোর ফোঁড়। 
চেনা মুখের  রঙবদল হঠাৎ ... জ্যা মুক্ত তীরের মত কলিজা নষ্ঠ করে দেয় । 
প্রতিটি প্রচ্ছদে  হেঁটে আসে  অসুখী  গৃহস্থ্যের সুখ খোঁজা খরগোশ । 
তার  ঝুল  বারান্দা রাতভর নিকোটিন পোড়া গল্পের রেশ আর নীরব অজস্র অস্থিরতা দেওয়াল বেয়ে বেড়ে ওঠে ।
আমি আজকাল তার পাড়ার বাসিন্দা হয়েও পরবাস কাটাই আসলে 
... ভাঙা ঘাটে ফেলে আসা ভাঙা কথা  নদী ফিরিয়ে দেয় প্রতিবার  জেনেও মৃত্যুর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাস বন্ধ করা যায় না ।

 রোদ্দুর মাখা  অলীক সান্নিধ্য  খোঁজে দুটো বাঁচতে চাওয়া মন ...  তবু  নৈসর্গিক কৌশলে গুপ্ত হত্যা সফল করে সমস্ত সাজানো গল্প টুকরো কাঁচের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয় দু জোড়া পায়ের তলায় ...।
সে যেন সব দেখে বুঝেও দরজা জানালা বন্ধ করে ফেলে ....তারপর কবিতার খাতায় বাসিফুল সাজিয়ে বাজার দর বাড়িয়ে নেয় প্রতিবার  ।

শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১

বিঞ্জাপনে হারিয়ে যাওয়া আমার শহর

আজ এ শহরে সারা দিন তুমি কিংবা তোমার মত
একটা মুখ খোঁজার চেষ্টা করলাম ,
অথচ সারা শহরে একটাও তোমার আদলে মুখ দেখতে পেলাম না ...সারাটা শহর শুধু রঙিন বিঞ্জাপনের ভিড় ...
ক্লান্ত মুখে রং করা নাকের ওপর পিংপং রাখা ছবির শোরগোল,
কান ফেঁটে যাওয়া শব্দের মাঝে কোথাও তোমার গলার স্বর খুঁজে পেলাম না , সারাটা শহর বাজারী বিঞ্জাপনের  চিৎকার ,
এ শহরে আর একটাও অপেক্ষার চোখ এখন দেখতে পাইনা ....সমস্ত চোখ এখন কিনে ফেলেছে
রঙিন বিঞ্জাপনের মালিকানা যাদের আছে ।

এ শহরে আমার বলতে আর কোনো অধিকার আর বকেয়া নেই ....
এ শহর এখন বিঞ্জাপনের শহর ......বিকিকিনির
শহর ,
এ শহর আমার একটা সামান্য তুমি কে আগলে রাখতে পারেনি ....পারেনি আমার ব্যক্তিগত কে 
বুকের মাঝে রাখতে ।

প্রজাপতি আর মেয়ে

প্রজাপতিটা মৃত্যুর কাছাকাছি উড়ে বেড়াচ্ছে 
আগুনের চারপাশে একটা দ্রাঘিমা অঞ্চল
এখন সে বেছে নিয়েছে ,
বেঁচে থাকার যুদ্ধ দেওয়ালে হেঁটে বেড়াচ্ছে সরীসৃপ
হয়ে ...
তাওয়ায় রুটি আর কড়াইয়ে খিদে জ্বলছে ......
কারা যেন কাগজ কলমে এই দৃশ্যগুলো লিখে 
ফেলছে ....হাটে বাজারে বেচবে বলে ।
প্রজাপতির মৃত্যু একদিন ঝুলি ভরা সম্পদ হতে পারে .....প্রজাপতি জানতো না ...
.....দেওয়ালে ওৎ পেতে থাকা বেঁচে থাকার লড়াই টা শুধু জানতো দাবার ছকে জীবন সাজানো থাকে
এক একটা দান ঠিক করে দেয় ঠিক কোথায় কখন মাত দিতে হবে ....তাই উল্টো জিভে কিছু আঠালো
রেখে এমন হাজারো প্রজাপতির খোঁজ একটা নিয়ম হয়ে গেছে এ পৃথিবীতে ।
কড়াইয়ে ফুটে ওঠা খিদে অথচ মেয়েটার প্রতিটা রাত কাটে প্রজাপতির কাছাকাছি মৃত্যু দেখতে দেখতে খিদে লুকিয়ে ।
গত রাতে মেয়েটা তার প্রাক্তন দৃশ্যের সামনে একটা প্রশ্ন রেখেছিল ....
উত্তরহীন ছিল সে দৃশ্য ....যেন সব প্রশ্নের উত্তর জানতে নেই ।
আজ মেয়েটা প্রজাপতি হয়ে মৃত্যুর কাছাকাছি উড়ে বেড়াচ্ছে .....আগুনের চারপাশে একটা দ্রাঘিমা অঞ্চল সে খুঁজে নিয়েছে ......।

বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১

অসমাপ্ত গল্প

Fearful echoes thunder in mine ears,
'Faustus, thou art dammed' : then swords and knives,
Poison, guns, halters and envenomed steel
Are laid before me to dispatch myself :
And long ere this, I should have done the deed,
Had not sweet pleasure conquered deep despair.

'Doctor Faustus' / Christopher Marlowe

.. সদ্য কবরে শোয়ানো দেহটাকে কবিতা শোনাবে 
বলে খাতা খুলে বসলে তুমি ,যেন তোমার সমস্ত কবিতা তার ছবির সামনে রাখা এক একটা বাসি গোলাপ  ,
 মাথার ক্রুশকাঠটা তোমায়  শেষ উপহার ছিলো  .. রাতের অন্ধকারে সরিয়ে পুঁতে রেখে গেছিলে একদিন .....
সময় আর দুটো স্থির দৃষ্টি সাক্ষী ছিলো সে চিত্রের।

 ওফেলিয়ার নিঃশব্দ আত্মহত্যার মতো এই মৃত্যু...ছিল ভীষণ শব্দহীন ,  ।
 জন ডান-এর 'বিয়াথানাটস' (Biathanatos) ছিল তোমার  এক হাতে... অন্য হাতে ধারালো ছুরি ... 

আর কফিন ঢেকে রেখেছিল গোলাপি স্বপ্নে ।
কয়েক মুঠো বেঁচে থাকা চেয়ে মেয়েটা বড্ড বিরক্ত করতো কখনো কখনো তাই না ? 
 তার কপালে  অসমাপ্ত চুম্বন... চোরকাঁটা ও নাভির চতুষ্কোণ চাবুক আজ ও অক্ষত  এসব যেন... নানান মাপের ষড়যন্ত্রকারী অস্ত্রসস্ত্র.........





আত্মীয়তার বৈকল্য

নীরবতা  আর কথার ভিড়ের  ভেতর একদিন আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল  অজানা পাপের সাথে ...।

 রঙ করা মুখোশ  পরে নাটকের শেষ অংক যে কখন এসেছিল আজ আর মনে নেই ।

. কফিনের ভেতর  ফেলে আসা শব্দদের পোড়া  ছাই. আর একটা বিসর্জিত কাঠামো পরে আছে আজ ।

..  এখন পাঁজরের হাড়ে অনুভূত  সত্তার সাথে
 আর সেই পুরোনো আমির কোনো মিল আজ আর নেই ...।

পুরোনো ছবি গুলোয় আর তেমন আগ্রহ নেই 
তবু দিনের বেশির ভাগ সময়টায়  সেই মৃত ছবি গুলো জীবন্ত হয়ে দখলনামা বিছিয়ে দেয় আমার ওপর ।
প্রেতাত্মার মত তাড়িয়ে বেড়ায় অবিচ্ছেদ্য প্রহরনামায় ।

নীরবতা  আর কথার ভিড়ের  ভেতর একদিন আত্মীয়তা গড়ে উঠেছিল  অজানা পাপের সাথে ...যা আজীবন অঙ্গীকার হয়ে আছে ।


যন্ত্রের গল্প


কাঠের  খিলানে নতুন  নকশা আমার একমাত্র প্রেমিক তার নতুন বাড়ির দরজায় রেখেছে নজর কাঠি ।
.. আমি নেই জেনেও সে মাঝে মধ্যে  খাবার ভরা থালা  রেখে আসো ছাদে... শেষকৃত্য হবার পরে
মানুষ ভালোবাসা প্রকাশ করে বেশি করে কেন এর কোনো উত্তর পাইনি আমি ।
  কোনএকদিন পাহাড়ী ঝর্ণার পাশে ঘর বাঁধবো   বলেছিলাম তার সাথে .,
..  টিলার আড়ালে ছোটো ছোটো রং দিয়ে আমার ক্যানভাস ভরিয়ে ফেলবো এমন কথাই ছিলো... নোনতা... বৃষ্টিতে সে ভিজবে  জীবনের বাকি বর্ষার দিন গুলো ।
  কখন যেন মনে হল জীবনের প্যারাডক্সগুলো বদলায় না কখনোই ,
 অঝোর বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে  ভিজতে  থাকি  একেবারে একা  ... মাথায় ছাতা নেই কিন্তু আশ্রয়ের খোঁজে আমি কোনো দিকে তাকাতে পারি না আর  ।

 ... কালিহীন  কিছু প্রিয় কলম রাখা থাকে আমার পুরনো খাতার কাছে ...  মাথার ওপর ছেড়া ছেড়া শব্দের  পাতা বহ্নিমান এর মত ।
 চিরকাল একটার পর একটা  বোবাযুদ্ধের খামে লেখা ভুল ঠিকানায়...আমি জখম থেকে শুশ্রূষা ...শুশ্রূষা থেকে জখম লিখে রাখলাম অথচ কখনো তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারলো কই!


গঙ্গা চিরকাল আমার প্রিয় স্রোত কেন জানি না , ... . অথচ এই স্রোতে আমার সমস্ত দুঃখ ভেসে ওঠে বারংবার ।

কোনো এক গাছের পাতায় নাকি আয়ু লিখে রাখেন ঈশ্বর 
......লিখে রাখেন . অনন্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি... আর একটা বড়সড় ছায়াবৃত্ত ,
  নকশিকাঁথায় পৃথিবী মুড়ে ফেলেও আমার জ্বর কমেনি কখনো ।

 ঘাসের ভাঁজে ভাঁজে রেললাইন ছুটে চলেছে নিজের নিয়মে... ট্রেনের শব্দ চৌকাঠ ডিঙিয়ে আসা হাওয়ায় ভর করে আমাদের চেনা থেকে অচেনা গল্পে হারিয়ে যাচ্ছে ।
আমি শোক কিংবা সৎকার কিছুই না পালন করে
আগামী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে নিই আবার।


খেলা

অন্তর্জালে অজস্র  মিথ্যে কুড়িয়ে রাখে এ শহরের 
একসাথে পথ চলা মানুষ গুলো ...আর  কিছু অহেতুক নালিশ রাখে ঘরের ভেতর সম্পর্ক গুলোর জন্যে  ,
মাটির ভেতর শিকড় বেয়ে অন্য কারো ঘরে সিঁধ কাটতে ভালোবাসে মানুষ গুলো ।
 তাসের ঘরে  বাস্তু সাপ শুয়ে থাকে বিছানা বালিশে তবু নির্লজ্জ্ব হতে দ্বিধা নেই তাদের ।
 । ফেলে আসা চার প্রহরের রেওয়াজ  ভুলতে ভুলতে  হোটেলের রুমে বেঁচে থাকা খুঁজে নেওয়া অভ্যেস এ শহরের ,.
 ঘরের ভেতর  নতুন ঘর ...জানলা কেটেছে সময়
নতুন সূর্যের সন্ধানে,,
.......কি হে বড্ড কঠিন নাকি কথা গুলো নাকি আয়নায় চেনা মুখ মনে হচ্ছে , 
হয় হয় এরকম কত কি না হয় এই আজব পৃথিবীতে ... 
 ,
যেমন  জিরাফ-মনের গভীরে দেবদারু গাছ...বাসা বাঁধে , তেমন কিছু মানুষ আছে যারা 

 ... মৃত্যুর ছায়ার মত কা‌র্ণি‌শে ঝু‌লে থেকে পাপ হয়ে ।
থাক আজ না হয় অসমাপ্ত থাক বেশ কিছু কথা ।
আজ না হয় এ শহরের বৃষ্টির সাথে সময় কাটুক
আজ না হয় আমি আর সে বদলে ফেলি খেলার সঙ্গী ।

ইচ্ছে ছিল

কখনো মাটির মাথা ফুঁড়ে অভিশাপের মত গ্রাস করা হল না যারা আমার পিঠে পেছন থেকে একদিন ছুরি মেরেছিল ,

ইচ্ছে ছিল একদিন দুর্বাশা হবো ....যারা 

আমাকে পাপি হতে বাধ্য করেছিল তাদের দিকে তীব্র অভিশাপ ছুঁড়ে দেবো আমার কৌমন্ডল থেকে ।

  আমার প্রেমিক আমার বুকে কোজাগরী রাখবো কথা দিয়েছিল অথচ সে একদিন চুপিচুপি  অন্তঃসার শূন্য নিকষ কৃষ্ণপক্ষ রেখে পালিয়ে গেছিলো .... ইচ্ছে ছিল শনির অশনি দৃষ্টি হয়ে কোনো একদিন সেই প্রেমিকের বুকে চিরকালীন গাড় অন্ধকার পুঁতে দিয়ে আসবো  ।

আমার সহজ সরল বাগানে যারা জটিল বীভৎস মৃত্যু হওয়া ছড়িয়ে দিয়ে গেছিলো একদিন ...

ইচ্ছে ছিলো তাদের সকলের মাথার খুলি ভেতর কোনো একদিন বিষাক্ত পার্থেনিয়াম এর বীজ পুঁতে দেবো, ,

এমন অনেক আততায়ীর নাম আমার অনুভূতির হত্যাকারীর সারিতে রাখা আছে ...যাদের বিশ্বাস করে আজ আমার ভেতর সারি সারি লাশ নিয়ে বসে আছি ,...নাহ আমি এই শব গুলো কখনও দাহ করতে কিংবা মাটি চাপা দিতে চেষ্টা করিনি ,

আসলে আমি শব্ দের জন্মদাতাদের   জন্য এক অন্য ধরনের মৃত্যু ভেবে রেখেছিলাম ,

আসলে এদের সকলকে আমি আগামী প্রতিটা1 জন্ম মনের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখতে চেয়েছি ওল্ড স্টেটমেন্ট এর মত ।

অথচ ............কখনো মাটির মাথা ফুঁড়ে অভিশাপের মত গ্রাস করা হল না যারা আমার পিঠে পেছন থেকে একদিন ছুরি মেরেছিল ,যারা আমায় আজ পাপআত্মায় পরিণত করেছে।



সোমবার, ৫ জুলাই, ২০২১

শুভ জন্ম দিন মিষ্টি মা

মাথায়  যখন হাত রাখো তখন  ঝড়ের দিন ,
উড়িয়ে নেওয়া ছই যখন আত্মীয়হীন,
তোমার আঁচল আগলে রাখে সমস্ত সঞ্চয় ,
ব্যর্থ যখন বাইরে জগৎ ....হেরে যাওয়া 
জীবন দৌড় , 
তুমি তখন ভেতর জুড়ে জুগিয়ে দাও
সবুজ বাতাস ,
তোমার নামে ছায়া শুধু ,তোমার নামে স্নিগ্ধ স্নেহ ,
তোমার নামে পূর্ন জীবন , হৃদি জুড়ে তোমার জমি।

দিনের শেষে ক্লান্তি মিশে মন যখন ঝাপসা কাঁচ...
তোমার নামে শান্ত বারিষ স্নিগ্ধ বাতায়ন...

মা তুমি চির সখা জন্ম আধার তুমি ,
এমন করে আসুক ফিরে তোমার সহস্র জন্ম দিন ..
এমন করে মা হয়েও সহস্র এমন জন্মের,,,
 
উপহার দিই কিছু এমন সাধ্য কই 
আজ শুধু বলতে পারি "শুভ জন্মদিন" 
মিষ্টি মা ।






ধর্মহীন

এখন আমি সমস্ত মানুষের  ধর্ম থেকে নিজেকে
অনেক দূরে সরিয়ে রেখেছি ,, 
শিকড় থেকে পুরোনো সব মাটি ঝেড়ে 
সব ইচ্ছে বানের জলে ভাসিয়ে দিয়েছি ।
 

বুকের  পুরোনো পাঁজরের বেড়া কাঠগুলো  খুলে ফেলেছি এখন সেখানে কাঠ পেতলের ফ্রেম লাগানো ।
আসা যাওয়ার  রাস্তার দুধারে এখন বেশ কিছু চোরকাটা গাছ পুঁতে রেখেছি ,
আমি নিজেকে সমস্ত ধর্মবিচ্ছুত করেছি ইদানিং ।
এখন আর আমার কোনো ধর্ম নেই 
 কবরের নীচে শুয়ে থাকা দেহে শুধু কিছু নিয়ম লেগে আছে ....যাকে তোমরা বেঁচে থাকা বলে চিনে নাও ,
আর ফলকনামায় সময় লিখে রেখেছে শ্রমন সঞ্চয় ।

ত্রিতাল আঁকা কিছু কিছু ছবি আজও আমার ভেতর থেকে উগরে উঠে আসতে চায়  হঠাৎ হঠাৎ
ধুকপুক থেমে যাওয়া হৃদরোগের মত ।
 অথচ জানো আমার তখন তুমুল নেশায় নিজেকে
ভুলতে ইচ্ছা করে 
ইচ্ছা করে আমার নাম ,ধাম , সমস্ত প্রচ্ছদের ছবি 
একেবারে ধুঁয়ে মুছে সাফ হয়ে যাক ।
 আমি ঠিক এই সময়গুলোতে নিজেকে ধর্ম হীন মনে করি ।

রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১

সুবর্ণা(১০৭)

এখনো কি তুমি ভাঙা স্লেটের ওপরে কবিতা লেখো
সুবর্ণা ,
ধুয়ে ফেলো জলের ঝাপটায় পুরোনো ভুলচুক ,
এখনো কি তোমার বাড়ির পাশে ভিখারী শিশুটা 
ভিক্ষার পাত্র উল্টে দেয় তুমি যখন যখন দয়ালু হয়ে ওঠো ?
সুবর্ণা আজকের দিনটা আর সে দিনের মত নেই 
অথবা বলতে পারো সে দিনের সাথে আজকের কোনো মিল আর নেই ,
এখন ভেজা বালির শরীরে আর ইচ্ছে ঘর আঁকি না ,
এখন এমন অনেক কিছু বদলে ফেলতে পারি এক নিমেষে যা আমায় বধ করতে পারে ভালোবাসা অঘোষে .....
সুবর্ণা তোমার ভাঙা স্লেটের সেই যে কয়েক টুকরো আমার পুঁজি পাটার বাক্সে রাখা ছিল সে দিন বদলের বন্যায় ভেসে গেছে গোপন সমস্ত মোহরের সাথে ,
আমি সমস্ত শূন্যতা ভীষন উজ্জাপনের সাথে  মেনে নিয়েছি , 
তুমি ভেবে অবাক হবে আমি আজকাল  তোমার
মুখের আদল ভুলে গেছি ....ভুলে গেছি তোমার উচ্চতা , রং , কিংবা কথা বলার ভঙ্গি ,
আমার বিশ্বাস এভাবে ভুলতে ভুলতে নিশ্চিত একদিন তোমার নাম টা ভুলে যাবো ।
........তুমি কি এখনো ভাঙা স্লেটের ওপর প্রেমিকা হবার শব্দদের জুড়ে শহরে যেখানে সেখানে সে সব টুকরো আগের মতোই ছড়িয়ে দাও !
আর অপেক্ষা করো তোমার গোত্রের কেউ কেউ সেসব টুকরো গুলো কুড়িয়ে তোমার ভিক্ষার পাত্রে  কিছুটা সহানুভূতি  দক্ষিণ্যে দিয়ে যাবে!
তুমি কি এখনো রোজ বাড়ি ফিরে প্রহসনের আবরণ খুলে  পাপ মুক্ত হয়ে তবেই তোমার সন্তানকে স্পর্শ করো !
তুমি কি আজও বিছানায় নতুন নতুন শরীরের গন্ধ খুঁজে নিতে ব্যস্ত হয়ে পরো ! 
তুমি কি নষ্ট নীড় কাব্যে আজও অভিনয়টা ঠিকঠাক করে নিতে পারো ! 
অবশ্য মানুষের জন্মদাগ  কখনোই তাকে  পাপ মুক্ত হতে দেয় না  ...........

.............সুবর্ণা প্রিয় পাপ



আমার শরীরে ভেজা বালি... হাঁটাচলা ভাঙা স্লেটের ওপর। জলের ঝাপটায় পাড় ভাঙে... পাড়ের আরও কাছে...। তন্ময় হয়ে দেখি... ফুটপাথে আধশোয়া একটি শিশু তার মা কে বলছে... ভিক্ষাপাত্র ভেঙে ফেলার কথা...

শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১

আসাদময়ে সদগময়

তুমি  হয়তো জানোই  না.. হারানো পাপ অথবা পূর্নের  অসংখ্য অসুখ থাকে  ..জঠর থেকে চিতা পথ পর্যন্ত ,
সে সব অসুখ  ভগ্নাংশে মৃত্যুর মত দেখতে  ,
আর এক জন্মের ভেতর যত অসুখ তত মৃত্যু।

 আর সে সব  অসুখের শুশ্রূষায় উঠে  দাঁড়ানো আরো এক নতুন জন্মের থেকে কম কি ।

 সব মৃত্যুর মত সব জন্ম এক জীবনে দেখবে এমন  স্বচ্ছ গভীর দেখা চাহনি কজন মানুষের আছে ! 
মুঠো ভর্তি সময় একদিন সমস্ত যতিচিহ্ন পার করে ছায়া সরণির ওপারে ঠিকানা গড়তে চায় ।
শেষ মুহূর্তে সমস্ত বৃষ্টি থেমে যায় ঠিক নিয়ম করে,, .....
আর শেষ মৃত্যুর সাথে সমস্ত  পাপ পূর্নের বোঝাপড়া বাকি রেখে চৌকাঠ পেরিয়ে  আর পেছনে ফিরে তাকাতে চাইলেই তাকানো যায় না ।

শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১

মন্দিরা বেদী

মেরুদন্ড সব মানুষের থাকে সে নারীই হোক কিংবা পুরুষ ....
তবু তুমি উপমায় রইলে , 
সে উপমা রূপের নয় , তোমার অসম্ভব স্পর্ধার যা নারী জাতি তথা মানুষ জাতিকে জীবনের দুর্বল মুহূর্তে পাথেয় করে  বেঁচে থাকতে উৎসাহিত করে ,,, 
তোমায় অনন্য বললেও কম পরে উপমায়,
ক্রিকেটের মাঠে তুমি ঝড় তুলে   একদিন বদলে ফেলেছিলে চিরাচরিত মিথ ,
টেলিভিশনের স্ক্রিনে তোমার চমক ..কমেন্ট্রি আর প্রিভিউ কি অসাধারণ ...কি অসাধারণ ব্যক্তি বিন্যাস তোমার ।
 আর আজ জীবনের ময়দানে আবার  তুমি চমকে দিলে । ,
প্রমান করে দিলে নারী তার আধারে কালি দুর্গা 
সর্বেসর্বা ।
,সে শাখা সিঁদুর ভাঙতে ভাঙতেও জীবন গড়ার উদাহরণ হতে পারে ..
জীবন সঙ্গীকে হারিয়েও   তুমি অমোঘ কঠিন হাতে  তার দেহ কাঁধে তুলে নিলে ...,
হলে  জীবন পথের  সঙ্গী থেকে শেষ যাত্রা পথের সঙ্গী, ,
মৃত্যু চিরসত্যি ...., মৃত্যু সতত দুঃখের,... মৃত্যু এক নিঃস্বতা এনে দেয় জীবনের চার দেওয়ালে, ,
 মৃত্যু সাময়িক হলেও মেরুদন্ড কে নুইয়ে দেয়।
  ,অথচ তুমি আজ থেকে আমাদের 
সামনে অগণিত শোক  যন্ত্রণার সামনে কিভাবে মেরুদন্ড কে সোজা রাখতে হয় শিখিয়ে দিলে ,,
 শিখিয়ে দিলে কিভাবে হার জিতের কথা না ভেবে জীবনে শিতরঞ্জ কি খিলারী হয়ে উঠতে হয়।

কুর্নিশ তোমায় কুর্নিশ তোমার নারী সত্ত্বা ও মানবিক সত্বাকে ,
 এমন উদ্ভাসিত শক্ত মেরুদন্ড  যেন চিরকাল
যেকোনো যন্ত্রনা শোক জীবনের লড়াইকে কেবল
খেলা হিসেবেই দেখে যায়,  আর তুমি সেই জীবন খেলার পাক্কা খিলারী  ...মন্দিরা বেদী ।
আজ থেকে মন্দিরা বেদী শুধুমাত্র এক নারীর নাম নয় ...আজ থেকে মন্দিরা বেদী এক উজ্জ্বল শক্ত মেরুদণ্ডের উদাহরণ ,
 উদাহরণ জীবনের কঠিন সময়ে স্পর্ধা হয়ে উঠার ।