-----------------------------------
চতুর্ভুজের বাইরে যে পথ রোজ সময়কে
দৌড় করায় সে পথের মিছিলে সামিল
হই সামাজিক চুক্তিনামার চোখ এড়িয়ে।
বেনামি চিঠির বুকে বন্দি বোবা আব্দার
আকাশ ফুঁড়ে বৃষ্টি খোঁজে, সাদা কাগজের
বুকে লেখারা ভেজাতে চায় সারা জীবন
বৃষ্টি খোঁজা সেই চাতকের আত্মা,,
শুধু নিরুপায় সময়ের জন্যে পথ এঁকে যাও
তুমি আগামি দিকে,
যে আগামীর ক্যানভাসে তুমি ছবি আঁকবে
রঙ ভরবে স্বপ্ন দেখ,, আমি তার সাক্ষি হতে চাই,,
তোমার হাতে হাত রেখে হাটতে চাই রেনুদের
পথে, তারার দেশে যেখানে নেই কোন চুক্তিপত্রর
চোখ রাঙানি, কেবল খোলা চোখে স্বপ্নেরা প্রান
পায় তোমার মতো তোমার গড়া, ঠিক যেমনটি
চেয়েছিলে সারা জীবন জুড়ে পাপড়ির আবডালে
ফসলের বুকে তোমার আশ্রয়
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭
পথ চলা
বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৭
স্বপ্ন
-----------------------------
একফালি আকাশের আশ্রয়ে আমার
অবশেষটুকু রখলাম, যদি কোন
উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠাতে আমাকে রাখ
তবে তোমার দিকে তাকিয়ে আমার চোখ
যেন শেষ বার হাসে।
সারাটা পথ জুড়ে একটা ছায়া খঁজেছি
ঠিক তোমার মতো, যেমন প্রাচীন দীঘিতে
পঁাকের বুকে একটা সময় পেরিয়েও কোন
নীলপদ্ম, কখনো ঘুমের দেশে তোমায় খুঁজিনি,
তোমার অস্তিত্ব আমার কাছে মৃতুর থেকেও
সত্যি, তোমার কাছে থাকা আমার দৃষ্টি
পরোয়ানাবিহীন,,
শুধু স্মৃতিইই যদি বাকি বেঁচেথাকার রসদ
হয় তবে প্রাপ্তি পুর্নতা পেয়ে যাবে, কপালের
মাঝে তৃতীয় চক্ষু বেয়ে কোনো প্রার্থনায়
আমার বুকে ক্ষতদের ধুঁয়ে নিয়ে যাবে কোনো
মৃতু উপত্যকায়।
উপন্যাসের শেষপৃষ্ঠায় কোন স্মৃতি যদি
লেখ তবে 'সুজন' একবার লিখ তোমার উঠনে
আমার লাগানো মাধবীলতার কিছু কথা।
তোকে ভেবে
.............................
হৃদয় পুরের খামার বাড়ির জানলায় আজো
সূর্য তার আলো পাঠায়, তোরোনে এখনো রাখা
থরে থরে অজস্র হাসি, কিছু আবদারের কান্না
যা গাল বেয়ে আমার রুমালে,
আমার দেরাজে কিলিপ,কাঁকনমালা, রঙিন
ফিতেতে একটা মিস্টি গন্ধ এখনো ভীষণ টাটকা,
সাতসংগত সব রয়েছে, আমার গিটারের তারে
একটা সুর "সে আমার ছোট বোন বড়ো আদরের
ছোট বোন" জং ধরা তারে এখনো স্পষ্ট।
নতুন জামায় নতুন নকশী আর এক্কেবারে
তোর মত 'আমি' এই মাত্র কানে কানে বলে
গেলি, সম্বিতে দেখি তুই যে নেই....
এক ছুট্টে দরজার আগল খুলি, তোর বুঝি
ফিরতি সময়,, কিন্তু চোখের আলোয় নেই তুই
আগুন পেরিয়ে এসেছি স্পর্শে যা কিছু প্রয়োজন
আজ সব শুধু বর্নহীন ছাই আর ধোঁয়ায় অনুরণন
কোন এক অজানা ভীন দেশি তারা তুই।
স্মৃতির উঠোনে রোজ সকাল সাঁঝে তোর নিয়মিত
যাতায়াত, দূরে গিয়েও আমার ঘরে আজো তোর
বসবাস সবটুকু জুড়ে,,
ফিরতি পথ যদি অচেনা হয় অপেক্ষায় থাকিস..... চেনা পথে হাটছি যে পথ শেষ
হয়েছে তোর নতুন ঠিকানার দোড়গোড়ায়।
।
বুধবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৭
একটা মৃতু
----------------------------------------------
এমন একটা মৃতু কাম্য যার শোকে
একটা গোটা পৃথিবী মুহ্যমান থাকবে,,
শব্দহীন সময়ের ঘড়ি-- কেবল স্পষ্ট
থেকে স্পষ্টতর তার পদচিহ্ন,
কোনো এক সান্ত্রির মত এগিয়ে আসবে
জীবনকে ক্ষতবিক্ষত করতে করতে।
হাজার হাজার টুকরাটাকরা স্মৃতি বহুবর্ন
পাথরের মত মরা নদীর বুক বিছিয়ে, আর
তাদের বুকে চলে যাওয়া মিনিট ঘন্টা চুঁইয়ে পড়া
যাপনকারী জীবন আর্তনাদের ফসিল।
সেই বহুবর্ন ফসিলের নকঁশা যাবে ভীনদেশে
আলোর দুয়ারে, যে আলোয় দাঁড়িয়ে একটা
সবুজ গাছ মাটি আঁকড়ে ভালবাসায়.... অপেক্ষায়।
তাই নিজেই নিজের সময়ের সুতো গুটিয়ে চলেছি,
ক্রমশ খুব কাছে রাত যেন সরীসৃপের মত বড়
হতে হতে ভোরের জানলায় লেজটুকু নিয়ে
সেঁধিয়ে যাচ্ছে যন্ত্রণার গহ্বরে,
আর নিজেই নিজের সৎকার দেখতে পাচ্ছি
ভীষণ স্পষ্ট সূর্যর মত।
বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৭
সারাংশ
-----------------------------------------------------
সময়ের গায়ে বারংবার অন্ধকারের যে ঢেউ ... চিরকালিন কালিতে অক্ষতের মতো লিখে চলেছে অসামান্য কোন এলিজি,, ঘুমন্ত স্বপ্নদের পিঠের ওপর । অনুসৃজিত নিস্তব্ধতা ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে নীলকণ্ঠর গলায়। ছায়ার পর ছায়া জমে ভাঙন ধরেছে নিয়ম দিয়ে জুড়ে থাকা সম্পর্কর সেতুটাতে । তার তলায় হাজার হাজার সংলাপের ফিসফিসানি , হারজিতের দরকষাকষি ... অভিনিবেশে অাত্ম অবলুপ্তি ... ফ্রয়েডের জগৎ থেকে অন্ধকারে প্রবেশ করছে মোমবাতির অালোর সাথে গড়িয়ে নামা মোম। শীর্ণ জীর্ন হৃদয় তোরণের ঠিক উল্টোদিকে ক্ষয়ে যাওয়া ইটের দেওয়ালটায় একটা অায়না টাঙানো । সেখানে ফুটে উঠছে সমান্তরাল কতগুলো পথ অার একটি জনমানবশূন্য উঠনের ছবি। একটি অহংকার একটি মনকেবিদায় জানিছে ... যে অার কখনও ফিরে অাসবে না সেই পুরোনো উঠোনে।
শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০১৭
কিনারায়
------------------------------------------------
আজ কাল বুকের বাঁপাশে চিনচিনে ব্যথাটা
জানান দেয় দুরত্ত্ব কমে এসেছে এই প্রশস্ত
পথের,
নদীর খুব কাছ ঘেঁষে তোমার সেই সবুজ
দেশ, আমার বুকের একতারায় আজকাল
ওই মেঠো সুর, সুজন তুমি কি শুনতে পাও?
কথা ছিল কয়েকটা দিন বাঁচবো একটা গোটা
জীবনের মত, আজকাল আমার জলছবিতে
ওই কয়েকটা দিন ক্রমশ স্পষ্ট।
আমাদের কুড়ে ঘরে চাঁদের আলো, আর তোমার
কলমের নিবে চুঁইয়ে পড়া জোতস্না মাখা বর্ন
মালা গুলোর মেলবন্ধন স্পষ্ট একটা বাঁচার
পদাবলী লিখছে।
সাতসংগত ছেড়ে আগুন পেরিয়ে তুমি আমি
আর মাটির একটা পৃথিবী,
অনেক কথা বলা বাকি তোমায়, চোখের সাধ
পূরণ হবার আগেই সুর্য ডোবার সময়,
দিন কাল মুহুর্তরা কেবল অপেক্ষা আর অপেক্ষা।
আজকাল অপেক্ষার অপেক্ষা শেষে দোড়গোড়ায়,
বুকের চিনচনে ব্যথাটা জানান দেয় কথা রাখার
দিনেরা ভোরের একটু আগে দাঁড়িয়ে আছে।
দাঁড়িয়ে আছ তুমি নদীরর দেশে মাটির কাছে
বেঁচে থাকার গল্পদের খুব কাছে,, আজ কাল
বুকের একতারাটায় মেঠো সুর তুমি শুনতে
পাও সুজন?
শুনতে পাও কি কাছে আসার গান, বেঁচে থাকার
কবিতা, দেখতে পাও কি আগুন নেভা ধোঁয়ায়
আকাশের ক্যানভাসে আমাদের ছবি।