সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৯)


পরিত্যক্ত কারাগারের রোজনামচায় রেখেছো
তোমার গল্পদের কথা,  
সুবর্ণা তোমার ফেলা আসা পথেরা ভুলে গেছে
তোমায় চোখের আদলে সে চোখ হিমালয় অভিযানে
ঢাকা... ভালবেসেছ কি না জানে না তোমার কোনো
অধ্যায়,  লোমকুপের ঘ্রানে নীলাদ্রির অভিশাপ... 
উষর ধুষর ঘুমকেড়ে নেওয়া রাতে সিলিং জুড়ে  কাকে
এঁকেছো রাতের পর রাত,  
তুমি বল মৃত্যু শব্দটা আগাগোড়া ভুল, 
আমি বলি খয়ে যাওয়া স্বপ্নদের  নাম মৃত্যু,, 
আজ দুরত্ব বেড়ে স্বপ্নরা আর গায়ে গায় ছুঁয়ে
নেই,  রঙ মেখে অচেনা তোমার সেই এক টুকরো
আমি..... 
অভাব গুলো মুড়ে ফেলেছো তোমার অহংকারে
... তাই আমায় ছুঁতে চাওনা,  আমি রাত এঁকে রাখি
চোখের কিনারে... তুমি হেঁটে যাও নিয়ম মেনে, 
পড়ে থাকি পরিত্যক্ত হয়ে      কারাগার বন্ধ করেছি
নিজের হাতে.....হারিয়ে গেছি তোমার উপন্যাসে
কেবল অক্ষর হয়ে..... 
......(সুবর্ণা প্রিয় খয়েরী রঙ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৮)


মেঘ আসে আমাদের আকাশ জুড়ে,
হারানোর শোকের রঙে  ধুয়ে চলে
যায় একে একে প্রিয়   মুখ, প্রিয় শৈশব
প্রিয় চোখ, প্রিয় প্রেম,....  প্রিয় নাম  বিহীন
ফুল..., খেলার মাঠ, 
না বলা  কত  মোহ  আকাশের বুকে
লুকোনো ,  আয়নায় লুকোনো তোমার
মুখের মত অবিকল নিজের ছায়া,  
 ভিষণ রকম ঠিকানা বিহীন ঝরা পাতার
এলোমেলো বাদামী ইজেলদানি... 
ঘুম আসছে এবার একবার ফিরে দেখো
সুবর্ণা আমাতে উইপোকা’র ঘর বুনন  শেষের
দিকে,,,    ভেজা মন রাখা  পারিজাতের অগোছালো
বিছানা চাদরে।       
 
       

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৭)

----------------------------  

আলোর রোশনাই সজ্জায় বুকফাটা
ছটফটানি লুকোতে চাওয়া বৃদ্ধ মন
কেমন,,  আমি কই একমুঠো তোমার
অন্তরে.... জীবন এইরকম সব
পেয়েছির দেশে কান্নারা  নিশুতিরাতে
একাশুয়ে থাকে সমুদ্রের  কিনার জুড়ে, 
অধিকার খুঁজতে হোঁচট খায় পেটে 
লাথি মারা   প্রেমে,  
তুমি চলে গেছো পরবাসে আমি ভুলে
গেছি প্রথম সহবাস, 
এখন বুকের ভেতর ফুঁসতে থাকে বেঁচে
থাকার যন্ত্রনারা, 
তোমার কবিতায় অজস্র মানুষের
ভিড়  সে  ভিড়ে আমিও অভিন্ন,
আজন্ম মেঘ হতে তাই সাধ আমার,  কান্নারা
বুকে থাকুক, তুমি   থেকো সুবর্না অন্যপারে
আমার সমস্ত অন্তরহংকারে তোমায়
কবরিত করে আমি ফিরে গেলাম 
আরো এক অন্ধকার পৃথিবীর
উদ্দেশ্যে ......, 
.......সুবর্ণা  প্রিয় যন্ত্রনা,     

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৬)


 উপকুল জুড়ে চরিত্র দের ভেসে থাকা, কেউ বলে
অসংগত কিছুটা হলে ক্ষতি কোথায়... 
সবাই তো এক নয়,  মাটির ওপর অবিরাম
ফসলের আবদার বুক পেতে বিলিয়ে দেওয়া
ফিকে গোলাপি থেকে নীল রঙ,  যখন  এসেছিলে
নীলকণ্ঠ হয়ে তোমার গলায় লেগেছিল সময়ের বীষ,
যারা কথা রাখেনি তুমি তাদের নিয়ে একে একে 
সামিল করেছ নটরাজের নৃত্যে, 
কোনো এক শতাব্দীর ঘুমন্ত বুকে তুমি গুছিয়ে
রেখেছো তোমার গুপ্ত  রূপের  স্মারক,, 
তোমায়  দেবতা হতে দেখেছি ,  তোমায় শিশু হতে
দেখেছি, দেখেছি নাগরিক ভিড়ে হারিয়ে 
যাওয়া তোমার মুখ.... 
চরাচরে ছড়িয়ে গেছে দীপান্বিতার আলো... 
সুবর্না প্রিয় ছায়া হয়ে থেকে গেছো অন্তরমহলের
নিঃশব্দে,, 
........সুবর্ণা প্রিয় ছায়া,        
          
            
      

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

উপকুল জুড়ে

সব মনে রাখা ইতিহাসের বুকে চুম্বন
ক্ষত হয়ে যায়,  প্রেমিক এর বুকে দংশনে
ছেঁড়া গল্প... প্রেমিকার যোনিতে আগুন...,, 
এ কবিতা প্রেমের শবে পরানো চাদর, 
শেকল ভাংতে বলতে একদিন তুমি যখন
প্রেমিক হতে চেয়েছিলে শুধু, 
আজ তোমার বুকের পাঁজরে মরে যাওয়া
ইতিহাস, আর প্রেমিকারা সবাই  অনাহুত
ছায়া, 
তোমার গল্পে সোনার হরিণের সিতা হরন....
আমার গল্পে উসর ধুসর বাঁশিওয়ালার কথা,
স্বাধীনতা কেবল মেঘেদের দেশে,  রাতের সিলিংএ
ব্যার্থ প্রেমের মিলন, ঘন নিশ্বাসে পাশে ষড়রিপুর বাস, 
করিডরে নিকোটিন ঠোঁট....নির্ঘুম রাতে খোঁজে সে
রাক্ষসী মেয়েটাকে বুকের কাছে। 
যন্ত্রনার হাজার শব্দ কানের ভেতর হুহু বাতাস
এর মত তুমি হয়ে বইতে থাকো,, 
আমার মত ভবঘুরে  ছায়ারা তোমার মত শরীর
খোঁজে, শেষে  শ্বেতপাথরের ফলক নামায়  সময়ের
জন্ম ও মৃত্যু লেখা থাকে বেঁচে    ,,,   
                
             

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৫)

-----------------------  
বুকের ভেতর ফুঁসতে থাকে বিদায়ে মনখারাপ
চেনা তুমি দাঁড়িয়ে আশ্চর্য অভিধান খুঁজে নাও,
 এই মাত্র এক চলকান হাওয়া এসে ছড়িয়ে  গেল
প্রান বায়ু, সুবর্ণা তুমি জিয়নকাঠি হয়ে প্রান
প্রতিষ্ঠান করে  যাও,  আমি হেরে যাওয়া স্বপ্নদের
বিষন্ন হতে বারন করি,,
 ভেবেছি কতবার তুমি
যদি জোনাকি হয়ে বড় ভালো হত, 
হৃদয়পুরের খামার বাড়িতে তোমায় রাখতাম
গোপন তোরোনে  ,
মাখতাম তোমার  রোশনাই যখন তখন, 
চুপ কথা কাল সব অভিমান ভুলে মন্দিরা 
হাতে নিজের খেয়ালে পথ হারিয়েছে, 
তুমি ফিরেছ আবার কোনো মুমূর্ষু হৃদয়ের
দুয়ারে... অবিরাম তোমার আসা যাওয়া সে
বিস্ময় আমার চোখের আলো, 
ভালো থাকুক তোমার জোনাক হয়ে জ্বলে ওঠা, 
ভাল থাকুক তোমার ভেতোর অভিমানী খসড়া, 
এভাবে থেকে  যেতে পারে বাকি আকাশের
সব নক্ষত্রগুলো তোমার ভেতোর আমার সাক্ষর
হয়ে। 
........সুবর্ণা প্রিয় জিয়নকাঠি,                        
                 

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

যে ভাবে সীমানা আঁকে

------------------- 
 
প্রতিরাতে ঘুমের ওষুধ... যেমন বেঁচে থাকার
অপেক্ষা....... তেমনই  ঘুমের , 
এখন ভালোবেসে সাথে থাকা খানিকটা
প্রতিধ্বনির মতো,, 
কত বার তো একটা গোটা পৃথিবী এঁকে ভাসিয়েছি
কাগজের নৌকায়....... কোনো এক নতুন দেশে
উষর ধুসর বাঁশিওয়ালা হয়তো সুর পাঠাবে এই ভেবে , 
একখন্ড চরের ওপর দাঁড়িয়ে সদা তোমাকে
বলেছি৷  ভীষণ ভাল আছি...... অথচ
পায়ের নিচের মাটি অজান্তে দূরত্ব বজায়ে
ব্যাস্ত..........সামাজিক তাগিদ, 
আগে যেভাবে কাছে চাইতাম ---এখন
সে সব চাওয়া বৃদ্ধ হয়েছে,  হলেও হয় না, হলেও
হয় গোছের,, 
আজকাল তোমার পৃথিবী পাছে টলমল না করে 
আমি পা টিপে টিপে ফিরে আসি নিজ খোলোসে.....
নতুন চরিত্র আঁকি ভেতোর বাইরে, 
প্রতিটা শেষ  হয়ে  যাওয়া দিনের প্রান্তের পিঠ
ফিরে চোখ ঢেকে  তরঙ্গর মত মিলিয়ে যাই..... 
কখনো কখনো ভেতোরে ভেতোরে বিপ্লব জন্মায়
ইট সুরকি ভেঙে ধ্বংসের মাঝে নিজে পোড়াতে
থাকে  নিজের শব..... তার পর হাসতে হাসতে
ছায়ার দিকে হেঁটে  যাই,, 
তুমিও এক বৃদ্ধ বিকেলে হেলান চেয়ারে এভাবেই
নস্টালজিক  শব্দ আঁকড়ে আমাদের মত নষ্ট
জন্মের সাক্ষী আঁকবে জানি.... সে সব কবিতার
শরীর জুড়ে  ভৈরবী নদী আর চর জুড়ে
স্বেচ্ছা মৃত্যু।                               

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

এক আকাশের নিচে

------------------- 
মুঠোয়  পৃথিবী   তবু সরে যায় ক্রমশ
পথ,  প্রতিবার বেঁচে  থাকা প্রতিটা নিশ্বাসের
মাঝে জরুরী দায়বদ্ধতা, আর মেনে নেওয়া
আপোষ শৈশব থেকে বৃদ্ধ হয়ে যায় ,  
মন তুই কার কথা শুনিস?  এমন অজুত প্রশ্নের
অজুহাতে কালকের সমান্তরাল পথ দুটো
হারিয়ে যায় সম্ভাব্য ভিড়ে,, 
জল দিয়ে আঁকা ঘরের ওপরে রোদ
এসে মুছে দিয়েছে অন্তরমহলের ইচ্ছাদের,
তুমুল স্রোতের কাছে হেরে গেছে প্রতিটা
প্রেমিক কবির প্রিয় কবিতা , 
প্রতি রাতে হয়রানি বেড়ে ওঠে,
    সাথে থাকা আর পাশে থাকার অন্তর্দাহ,, 
বয়স বাড়ে অপেক্ষার....বটের শেকড়ে সাথে
আমি র মত সহস্র ব্যর্থতা মরে যায়... কোনো
কলম সে আর্তচিৎকার শুনতে পায় না,
ঘরে ফেরা অভ্যাস তাই চৌকাঠ পেরোনোর
আগে    বন্ধ করতে হয়    হাজার কুটুরী ঘরের
দরজা, 
ভালোবাসা আর যাপন কখনো একি ক্যানভাসে
আঁকা যায় না,  বারংবার   বৃথা    খরচে মন ভোলানো
যেতে পারে..... আপোষ এ নিশ্বাস যে অভস্ত্য।                    

  

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯

শেষ রাতের নক্ষত্রদের গল্প----------------------------

----------------------------     
উত্তরের বারান্দায় এখন ফুরিয়ে যাওয়া
রাতের নক্ষত্রদের রাখা চিরকুট, আলতা
পায়ে পায়ে এগিয়ে অচেনা চায়ের কাপে
মন্দবাসার আরও একটা অধ্যায়, 
কুয়াশা আঁকা   প্রেম  ছবির ক্যানভাসে
হাত সেঁকা ভালবাসা একটু উষ্ণতার খোঁজে
বাকি ঘুম আগলে রাখে,,,   
হঠাৎ দেওয়ালের ছবি বদলে
যায়,,  চেনা  বিশটা বছরের ইট সুরকি
  হাসতে হাসতে রঙিন প্রচ্ছদে সেজে ওঠে, 
আমার ভয় পাওয়া চেহারায় ছিলো পুরোনো
শোকের ছায়া,  যে কথা হারিয়েছে দুটি
ঘাটের মাঝে একলা কোনো ক্ষীণ স্রোত...গভীর শোকে,,   
 এমন নির্ঘুম রাতে স্বপ্নের মত সমুদ্র ছুয়ে
 ফেলে সেই স্রোত আর আকাশে মিশে যায়, 
ক্লান্ত আমি নস্টালজিক পাতা
উল্টিয়ে ফিরে আসি ….মনের ভেতোর স্বপ্নরা
গুনগুনিয়ে "থোড়া সা রুমানি হো যায় "
উত্তরের  বারান্দা আর একটু পরে চাঁদ 
ঘুমিয়ে পড়বে..... নির্দিষ্ট  সময়ে উনোনের
ধোঁয়ায় এখন চোখের সাথে মন জ্বলে
উঠুক  হয়তো কোনো উপন্যাসের শেষের
দিকে একটা ঝড় আসবে পাতা জুড়ে....।