তোর থাকা না থাকায় কিছুই যে বদলায়নি
এ শহরে,, লুকোনো বাইপাশে এশহর হাজারো
নাটকের সংলাপ ছুঁয়ে যায় দ্রুত গতিতে,,
নষ্ট জীবনের অনেকটা থ্যাতলানো সেখানে। বাকি
কিছু ভগ্নাংশে লেগে থাকে স্পট লাইটের উত্তাপ,,
যে ভাবে দেখতে চাস 'সুজন ' নিজেকে, রঙ ভরে
ভুলিয়ে রাখার একশোএক যাপনীয় প্রথার ফ্রেম
কেতাবি দুনিয়ার আনাচ কানাচ গুঁজে আছে।
সফরনামায় লেখা নাম আলোর গতির থেকেও
দ্রুত চলে যায় , কখন যেন পোড়া গন্ধে সম্বিত ফির
পায় আমিও ফুরিয়েছি অনেক আগেই।
সন্ধ্যে নামার সাথে সাথে লঞ্চ এর বাঁশি ফিরে
যেতে বলে কেয়ার অফ ঠিকানায়,,
আজকাল ঘরে ফেরা হয় না, টুকরো চিরকুটে
বদ রক্ত লেগে থাকে, তুমুল বৃষ্টি ঠিকানায়
তখন প্রচণ্ড খিদে,, রুটি নিয়ন্ত্রণ করছে সমস্ত
গোলোকটাকে,,, রাত নামে দেহ মিলে যায়
অযাচিত সম্পর্কর সেলাই করা সুতোর ফোঁড়ে।
বিধাতা ঘুমোতে যায় নিজের বিছানা বালিসে।
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি (১২)
ভেজা চিঠি(১১)
+++++++++++++++++++++++
ফেরিঘাটের গঙ্গার বুকে গঙ্গাপুজোর ঘণ্টাধ্বনি,
বুকের ভেতোর লুকোনো তুই ছ্যাত করে ওঠে
পাশে চলে যাওয়া হরিধ্বনি শুনে, এখন এ শহরে
নিয়মিত একলা চলি,, ভয় পাই জানি না কেন,
ভেতোরে বাইরে শ্মশান ঘাট যেন দাউ দাউ জ্বলছে,,
তোর দেওয়া পাত্রে নীল বিষ...মৃত্যু যন্ত্রণা সারা শরীর
কাঁপছে অথচ মৃত্যু যেন পথ হারিয়ে ফেলেছে,,
পুরোনো বাড়িটার উঠোনে ভেঙে যাওয়া শাঁখার টুকরো
আজো মাঝে মাঝে উঁকি পাড়ে... নিজের
ধুনে চলতে সময় এক একটা অধ্যায় শিখিয়ে দেয় মাটির
মত সয়ে যাওয়ার পরও ক্ষয়ে যেতেই হয়,,
সব টা জানা হয় না কখনওই, আচমকা পেছন থেকে
ছুরি মেরে জীবন বোধোদয় ঘটায় তখন মুখোশ থেকে
রঙ ছেড়ে পড়ে, কাছের দুরের সব চেনা যেন ভীষণ
অচেনা,,
অস্থির সময়ে আগলে পথ চলা, তুই আমির কথা
হারিয়ে যায় বারংবার,
হে পথ তোমার শেষ কোথায়? তুমি কি ক্লান্ত
হয়েছো একাবারও জানতে চায় মন,
কথার পিঠে কথারা আসে যায় জন্মক্ষণ থেকে
শ্মশান পর্যন্ত, ক্লান্তিহীন যেন একা পথ।
একবিতার কেবল রক্তক্ষরণ এর দাগ আছে
ধুয়ে ফেললেও যায় না ধোয়া,,
পোশাকের ওপর পোশাক চাপিয়ে জীর্ণতা
ঢেকে চলেছে এ শহর রোজ রোজ
আর তুই আমি নতুন মুখোসে।
শুক্রবার, ২৭ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি (১০)
++++++++++++++++++++++
তোর সাজানো স্বরলিপির কাছে দুদন্ড
বসতে গেছি যখনি, অসম্ভব দূরে সরিয়ে
দিয়েছিস আমায়,,,
দূর থেকে ভেসে আসা কোমলগান্ধারে তোর
স্পর্শর এক অদ্ভুত গন্ধ....তুই না চাইলেও
জড়িয়ে যায় আমাতে।
ভিজে যাওয়া স্বরলিপিরা এক এক করে
রেলিং এর গায়ে টুপটাপ সুর সেধে নেয়, এভাবে
আমার সারাবেলা লয় খুঁজে পায়।
মনে পড়ে একদিন তোর আঙুলে এঁকে দিয়েছিলাম
রুদ্রবীণারর প্রথম স্বরলিপি, তারপর সময়ের স্তরে
স্তরে নতুন সুরে আবিষ্কৃত তুই।
কোন এক সকালে যেদিন আর থাকবো না কোথাও...
শেষ বিসর্জিত ফুল সাজাতে সাজাতে আমার শান্ত
কপালে ছুঁয়ে দিস তোর আবিষ্কৃত সমস্ত সুর,,
দেখিস আমার মৃত ঠোঁটে তখনো গড়িয়ে নামছে
পূর্ণতার হাসি,,আমার অনুভব হয়ে তুই
আর তোর স্বরলিপিরা থেকে যাবি কয়েকশ
শতাব্দীর পরেও।
বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি (৯)
++++++++++++++++++++
জলের নিচে তোর শরীরের ওপর দেবদূত
এর রুপ নীল থেকে ঘন নীল তারপর বেগুনি,,
ভেঙে যাওয়া স্রোতেদের শোকঋন তোকে ছুঁয়ে
জায় বারংবার,,,
জলবন্দি সরীসৃপ এর মত আমিও অন্য কোনো
অন্ধকারে হাঁপাতে হাঁপাতে দৃষ্টি আগলে রাখি।
বাতাসে ভর করে অনেক আশ্চর্য রঙ স্রোতে মিশে
যায় তোর দিকে,, ভেঙে পড়া সেতুর কিছু টুকরো
ঘুমন্ত তোর পাশে কয়েকশো বছরের যন্ত্রণারর কথা
বলে....মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমিও শব্দ আর অক্ষরদের
জট খুলতে খুলতে মুছে যায় রাত ভোর,,
তোর উপন্যাসের কিছু কিছু পাণ্ডুলিপি বৃষ্টি ঝাপটার
আমার জানলা দিয়ে বালিশ বিছানায় আশ্রয় নেয়,,
জেগে থাকা রাতে একএকটা খসে পড়া তারার মত
ওরা।
শিকড় বেয়ে চলে যায় গভীরে তোর নাভি থেকে
ওঠা পদ্ম পরাগে....যেন কিছুটা আকাশ, কিছুটা
স্বপ্ন, আর এক সমুদ্র ভালোবাসা,,
আঙুলে ল্বগে থাকা এমন অনেক স্পর্শ
ফোঁপানো কান্নার মত......,,,।
ভেজা চিঠি(৮)
ভেজা চিঠি(৮)
++++++++++++++++++++++
ঘরের ভেতোরকার ঘর ভেঙে পড়ছে , ভেঙে
পড়ছে পাঁজর বেড়া,,
গঙ্গারর ঘাটে অজস্র ছাইস্তুপ ভাসান পথের
অপেক্ষমান। চোখ বন্ধ করে ডুবে যাবার
আগে সিঁড়ির শেষ ধাপটায় রাখা রইলো
তোমার জন্য যঞ্জের আগুন,,
সারি সারি বিকেলগুলো মেঘেদের চিঠি নিয়ে
একদিন ঠিক পৌঁছে যাবে সমাধিস্থলে।
আশ্রিতের মত তোমায় বেয়ে আমার সব কবিতারা..
এবার ওদের মুক্তো করে দিও,ঋনভারে ওরাও
ডুবে আছে তোমাতে,,, শেষ কদিন তোমার
চিহ্ন খুঁজতে খুঁজতে যখন গঙ্গারর ঘাটে এসে
ঠেকেছি, জলে নিজের মুখ দেখে বুঝেছি
দীর্ঘ শোকের ছায়া আমাকে মুড়ে ফেলেছে...
টেম্পোরার রঙ যেন একটাই শব্দ আঁকতে
শিখেছে এ যাবৎ,,,
অসহায় প্রহর গুলোয় ভেবেছি আমার আর
কিচ্ছুটি করার নেই তখন ফেলে আসা সময়ের
স্পর্শ খুঁটে খুঁটে জড়ো করেছি নীলখামে।
যে দিন তোমার ঠিকানায় এ চিঠি পৌঁছাবে
অগুনিত স্থবিরতারর রঙ নিঃশব্দে মিশে যাবে
তোমার জানলায় গড়িয়ে নামা বৃষ্টি ফোঁটায়।
বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি(৭)
+++++++++++++++++++++++
শেষ রাতের তারাটাকে আগলে আছি
তুমি ভেবে, বাতাসে নোনা গন্ধ হয়তো
তুমি সমুদ্র ছুঁয়ে আছো 'কণা', শতাব্দী জুড়ে
আসা যাওয়া ঢেউ এর ভিড়,,অথচ কোনো কোনো
ঢেউ একলা আসে একলা মিলিয়ে যায়...
যেন শূন্য ছাড়া কোনো সংখ্যা তার জানা নেই।
কণা আজ এ চিঠি তোমায় পড়াবো না,
রেখে দেব নোনা ধরা এই দেওয়ালের ফাটলে
গুঁজে,, কিছু কথা না হয় আমার চিতাকে
অলংকৃত করবে। বাকি যা ছিল যা রয়ে যাবে
তার সম্পুর্ন টুকু তোমার,,,,
তুমি বার বার ফিরে এসো এই সমুদ্রের কাছে
হয়তো কখনো প্রেমের দুতিয়ালি হয়ে কোনো
ঢেউ তোমার পায়ের পাতা ইশারা ছুঁয়ে যাবে।
'কণা' এমন অনেক কটা চিঠি তোমায় লিখলেও
ডাকপিয়ন এর হাতে দিতে পারলাম কই,, প্রতিবার
যখন চিঠির শেষ লাইনে আমি এসে দাঁড়াই, তোমার
চোখের কাজল এসে সন্ধ্যা নামায়, আর আমার
রাতের একলা তারা আমার উঠোনে এসে দাঁড়ায় । ভাবি কাল
কোনো নতুন সুবাসে অক্ষরদের স্নান সারিয়ে
সাজিয়ে দেবো তোমার ঘুম জড়ানো বালিশের কাছে...
শুভেচ্ছা হয়ে।
জানি না এমন কোনো চিঠি কখনো তোমাকে ছুঁতে পারবে কিনা!?
মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি (৬)
+++++++++++++++++++++
টুকরো আগুন আঁচলে বেধে রাখা গোপোনে,
ইস্তেহারে লেখা উপন্যাস এর নামকরণ ---
এসব কিছুই ঠিক ছিল, অথচ ঠোঁটের কোনে
প্রসারিত হাহাকার, চোখের ভেতোর শিতলাক্ষর
ক্ষরস্রোত এর প্রবল জোয়ার ঘরের দেওয়াল
ভাঙছে।
বিন্দু বিন্দু খসে পড়া অনুভূতি অন্ধকার বোবাটানেলে
হারিয়েছে একে একে,,
গোপোনে খসে পড়ার কোনো সাক্ষি থাকে না
কোনো এক স্থির সময়ের অন্ধকারে বিলিন
হতেই হয়।
মুছে আসা অতিত এর ছাপ ঘষা কাঁচ যেন --
কিছু আছে আবার কিছু নেই,, এমন করে
কোলাহলে মিশে যাই রোজ রোজ তবুও
কোথাও খুঁজে পাবে না আমায়।
ভেজা চিঠি (৫) +++++++++++++
++++++++++++++++++++
সমুদ্র যেখানে স্রোত ভাঙছে সেখান থেকে
আজ না হয় শুরু হোক...
এসো ভেঙে ফেলি আমাদের স্বরচিত ঘর,,
ভাগ হয়ে খুঁজে নাও নতুন দোসর,,
তোমার চোখে বোধহয় নোনা বাষ্প...,
মাঝে মাঝে এমনটা আমারো হয় বুকের
মাঝে এক চলকা রক্ত ছলাৎ করে নেমে
এসে বিদ্রোহ জানায়,,
এসো সুখ যত আছে সব ভেঙে ভাসিয়ে দিই
স্রোতে---
ক্লান্ত বাউল কে এবার ঘুমোতে দাও দুদণ্ড,,
আমি দাঁড়িয়ে আছি সমুদ্র তটে, যেখানে
ঢেউজল ফিরে ফিরে গল্প বলে ছলাৎ ছল।
শেষ রাতে আমার নামে একটা শুন্যতাকে তুমি
ভাসিয়ে দিও ভাটার বুকে,,
স্রোত ধুঁয়ে যাক সব ক্ষতদের।
যা কিছু জমানো তোমার জন্য সুগন্ধি রুমালে
রেখে গেলাম আমাদের গোপন দেরাজে.....
সময়ের কাছে কিছু মুহুর্ত নিয়ে কখনো এসো
স্মৃতিফলক এর কাছে আমরা একসাথে মেখে নেব
ভেজা চিঠির সুবাস।
সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি(৪)
+++++++++++++++++++++++++
ভিজে যাওয়া চোখের ভাষা পেরিয়ে যাচ্ছ সময়--
তুমি কতটা ভিজেছো সে সব শব্দে, যার প্রতিটা
অক্ষরপুঞ্জ প্রবল বর্ষাস্নাত!
পৃষ্ঠা থেকে গড়িয়ে নামা শোকেরা গনিত শিখে
নিয়েছে, শিখে নিয়েছে বৃষ্টিতে ভিজেও কি করে
গন গনে পোড়া কয়লার আঁচকে আগলে রাখতে হয়,,
সে সব অবস্থানের কোন প্রতিধ্বনি খাঁচার বাইরে
মায়া নগরীতে পৌঁছায় না কখনওই, সাবধানে
লুকিয়ে পড়ে যত্নে রাখা অন্ধকারের ভাঁজে,, কেবল
সাদা পৃষ্ঠায় জলের যে সব কথা লিখে রাখি
বাতাস কেবল পড়ে নেয় সেই আর্তনাদ ভরা
জল লিপি।
সেতুর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে অন্ধকার ছুঁয়ে দেখি
তুমি একি রকম আছো, একটুও বদলাওনি,,
নির্জন প্রান্তরে একিভাবে এঁকে চলেছো স্বপ্নের
সেই পাহাড়ি বাড়িটার ছবি, যেখানে এক
কবি লিখে চলেছে নিরন্তর কবিতা।
তোমার ছবির খুব কাছে জড়ো করা একরাশ চিতাকাঠ
সেখানে শোয়ানো রয়েছে একটা দেহ....
চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখলাম সে তো অবিকল
আমার মুখ, আর তুমি সেই শব ছুঁয়ে আনমনে এঁকে
চলেছো তোমার তৃষ্ণার ছবি।
সেতুর এপার থেকে কোনো কথাই যে রাখা যায় না, তাই
শুধু বাতাসের কাছে যে চিঠি রেখে গেলাম তাতে লেখা
রইলো ভালো থেকো, ভালো রেখো তোমার সব আগামিটুকু।
ভেজা চিঠি (৩)
++++++++++++++++++++++++
সব কথা বলা হয় না শেষ চিঠিতেও,
ডাকবাক্সর বুকেও তাই কিছুটা শুন্যতা চিরস্থায়ী,,
মৃত ঠোঁটে যেমনটা শূন্যতা ছাড়া অনেক শব্দ
চিরদিনের মত থেকে যায় উহ্য।
ইন্দ্রিয়ময় ছাইয়ের স্তুপ জড়ো হয় কেবল, শেষ
ট্রাম চলে যাওয়ার শব্দে শহরের বুড়ো ঘড়ির
কাঁটাটা কেমন অচল হয়ে যায়, বুকের ভেতোর
পাথরের চেয়েও শক্ত এমন কিছু আঁকড়ে থাকে,
ঠাহর করতে পারি না, এ কি গোপোন কোন
অসুখ কিনা! সময় পাশ কাটিয়ে চলে যায় নিজের
ধারায়।
তোমার জানলার কাঁচে এখন বৃষ্টি লেগে থাকে
সমস্ত প্রহর... আমি ভাবি সে বুঝি কান্না,
অন্ধকার ঝুঁকে এসে তোমার গালের নরম দু:খদের
ছুঁয়ে যায় আজকাল, দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে চতুর্ভুজ
পেরিয়ে শহর থেকে শহরে,,,
শেষ হয়ে যাওয়া দিনটার ভাঙা চোরা আলোর পাশে
আনমনে কোনো শিল্পী এঁকে চলে জীবনের চালচিত্র,
হঠাৎ হঠাৎ সে সব চিত্র জিবন্ত হয়ে তোমাকে
গ্রাস করে নেয়..... হারিয়ে যাও তুমি আমার থেকে....,
আজ আমার শহরের অবিরাম বৃষ্টি, ঝাপসা চোখের
সামনের সবটুকু দৃষ্টি, আর রুমালের ভাঁজে মন খারাপ,,
মন খারাপ এর মানে আমার অভিধানে কখনো
খুঁজে পাইনি, তাই চিঠির কিছু কিছু স্থান এমন
শুন্য রাখতেই হল....,।
আমার শহরে ডাকবাক্সরা আর নেই, তাই
তোমার শহরকে দিয়ে গেলাম আর একটা
ভেজা চিঠি।
শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮
ভেজা চিঠি(২)
যাপনীয় অনুবাদলিপির প্রতিটা অক্ষর
আজকাল একে একে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে গোপনে,,
কথা ছিল কষ্টিপাথরের মত জাগ্রত হবে প্রেম।
হাত বদল হওয়া এই 'আমি'টার আসল ঠিকানা
বলে কিছু হয় না কখনওই,, এখন কিছু গুড়ো গুড়ো
অন্ধকার চোখের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে,
বৃষ্টি দেখলেই তুমুল ভিজতে ইচ্ছে করে, জলের
মত তোমার সাথে বইবো ভাবি,,
প্রতিবার বৃষ্টির ভেতোর প্রবেশ করার পর
অনিবার্য কারনে বৃষ্টি থেমে গেছে।
একলা ভীষণ একলা আমি আর আমার এক
চিলতে ঈশানী আকাশ.... তোমার সাথে ভেসে
যাওয়া হয় না কখনওই,,,এভাবে তুমি শতাব্দী পর
শতাব্দী ছুঁয়ে আসো সমুদ্র।
আমার কপাল জুড়ে নিভে যাওয়া সূর্যরর ছায়া,,
নক্ষত্রদের ঘুম ভাঙা বাকি তাই উঠোন জুড়ে একরাশ
অন্ধকার জমা হয়.... আর ঠোঁটের আড়ালে জমা
হয় ঘন হয়ে আসা তোমাকে না বলা কথারা,
তুমি জানলে অবাক হবে মানসিক হাসপাতালের
এই ঘরটুকু আমার একটা গোটা পৃথিবীকে অদ্ভুত
কৌশলে নিজের আয়ত্ত্বে নিয়ে ফেলেছে......,,,
পৃথিবীটা যে এমন নজরবন্দী করা যায় তা
এই প্রথম বার জানা হল।
বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮
ক্যানভাস
+++++++++++++++++++++++++
শরীর থেকে খসে পড়া সমস্ত প্রহরবেলা
খুঁটে খুঁটে জড়ো করে রেখেছি অভ্যাসের
দিনপঞ্জিকায়,,
নিয়মমাফিক বৃত্তটার দেওয়াল ছেদ করে একটা
জোনাকি অন্ধকারকে নিয়ম ভাঙা শিখিয়ে
দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে দিকহারানো বাতাসে।
শীরায় শীরায় ছড়িয়ে পড়েছে মোহের ওম,,
তোমার বিলিয়ে দেওয়া অস্তরাগ থেকে
একটা সুর সন্ধ্যাপথ ধরে রাত পেরিয়ে ভোরের
আজানে মিশে যায় আজকাল,, গুড়ো গুড়ো আলো
ঝরে পড়ে আকাশ থেকে....
শরীর ভিজিয়ে সে আলো ছুঁয়ে যায় অন্তরমহল,
ক্রমশ রংচটা চিত্রপট ভরে যায় নানান রংএর
স্মৃতিতে,, আর তখনি জীবনের তৎপর চিহ্নগুলো
নিজেদের জায়গা খুঁজে পায়.... আর দ্বিধারা খুঁজে
পায় উত্তর।
বুধবার, ১১ জুলাই, ২০১৮
আবর্ত
++++++++++++++++++
একটা অভ্যাসে খুঁজে নাও আমাকে রোজ সন্ধ্যের অবকাশে,
তোমার জানলায় দিয়ে আসা পরাগরেনুতে
ফোঁটা ফোঁটা স্পর্শ নিঃশব্দে পেরিয়ে যাচ্ছে
দিগন্তের দিকে,,
আমি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি কেবল তোমার
নতুন স্বরলিপিরর শেষটুকুর সাক্ষি হবো বলে।
সব সবুজেরা যে কথা রাখতে পারবে তার কোনো মানে নেই.. অথচ থেকে যাবে ভিড়ের আবডালে,,
তুমি ফিরে যাও 'সুজন' ঘুমন্ত অক্ষরদের একলা
রেখে...কিছু পরে ওরাও জেনে যাবে শুন্য দিয়ে গড়া আমাদের চুপকাহিনির কথা,,
অথচ দেখ প্রতিবার কবিতা আর প্রেমের মাঝে
একটা নরম দুঃখ কেমন ডুবে থাকে নীরবে,,
কত বোঝাপড়া বাকি থেকে যায় ছোট্ট পথ চলায়--
কত প্রত্নলিপি নীরবে আশ্রয় খুঁজে নেয় মৃত্যুছায়ার। নিচে।
আবর্ত পার করে তুমি আবার যেদিন ফিরবে
এই গঙ্গার ঘাটে, চরে পড়ে থাকা পোড়া কাঠের
ইতিউতি কিছু গন্ধ তোমায় বলে দেবে সব স্পর্শ
পুড়ে যায় নি.... কিছুটা এমনি থেকে যায় যত্ন অযত্নর মাঝে,
আমার আগুন তুমি আবার ওঠো জ্বলে বাকি টুকু পুড়তে চাই একসাথে।
বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১৮
যাওয়া
************************
মাঝে মাঝে সময় স্পর্শ খুঁজে নেয় চিত্রনাট্যর
সংলাপ থেকে, বুকের মাঝে কিছুটা তারি
প্রতিধ্বনি ছলকে মায়া ছবি আঁকে প্রহরের
দেওয়ালে দেওয়ালে,,
অজস্র রঙের স্রত বইয়ে দাও ভিতর মহলের
শিরায় শিরায়, শরীরে জমতে থাকে অবক্ষয়ের
জীবাশ্ম,
বছর ফিরে তাকিয়ে দেখি স্বরচিত ভালোবাসা ঢাকা
পড়ে গেছে অসহায় ধুলোর চাদরে,,
ফুরিয়ে যাওয়া চিঠির শেষ অভিমানী অক্ষররাও
যে শব্দ দের জন্ম দয়েছিল তা হল "কেউ কথা রাখেনি"
মুছে যাওয়া প্রতিশ্রুতিরা তাই হাওয়ার তরঙ্গ পথে
ভেসে গেছে গোত্রহীন ঠিকানায়।