শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ধুলো পড়া নগরে

-------------------------------------

ভেঙেচুরে গেছে চেনা নগর, ধুলো পড়ে গেছে শহরের প্রিয় পার্ক এর বেঞ্চে, বাঁচতে চাওয়ার ফানুসে যন্ত্রণার আগুন ভরে ওই নগরের আকাশে পথ আঁকে।
বাসি পাউরুটিতে আজস্র ছত্রাক দখল করেছে জমি,, মাখনের প্রলেপে নেই কোনো ভালোবাসা,, টুকরো হয়ে যাওয়া নগরে বাড়ি ফিরি অভ্যেসে... ফেরা হয় না ঘরে।
চশমারর কাচে জমা বাষ্প দের সাথে একটা আপোশ হয়েছে,,  তাসের ঘরে গড়িয়ে নামা
সময়ের বুকে চুপকথারা শব্দঋণ চেয়ে নেয়
অন্য কবির কবিতা থেকে।
ধুলো পড়া একলা পোড়োনগরে এক আলপিন অপেক্ষায় আমার মত কেউ।
আর স্বপ্নে লেগে থাকা আর্শিনগরে রুপকথা
একটা প্রিয় ছায়া কখনো আসে একান্ত হয়ে।
ভালো করে বাঁচতে চাওয়া কোনো বিজ্ঞাপনে
আটকানো শহরে আকাশ ছোঁয়া হাসির টুকরো,
যা দেখা যায় ছোঁয়া যায় না,,, ঠিক যেন অসুখের
মাঝে সুখ।
তাই বাড়ি ফেরা বোবারাত একলা সংগিহীন, আর স্বপ্নদের হাতে ঘরের ঠিকানায় ধুলোবালি
স্তর জমতে থাকে। 
এটাই বুঝি সময়ের অভিশাপ।

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ভেজা চিঠি

-------------------------

না বলা কথাগুলো ভেজা
চিঠিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
একটাও ডাকবাক্স মনের অলিগলিতা নেই।
হাতে হাতে ঘোরে উষ্ণতা  শহরে একটাও
ক্যেফেটএরিয়া নেই...।
গ্রিনি টি বার করে  ক্রমশ বরফ হৃদয়ে উষ্ণতা
ভরে ভাবি সুজন তুমি সব ভুলে একবার কি
"দ্রোপদী" তে নিবিড় মুহুর্ত  মনে করবে না।
এতোটুকু গভিরতা পায়নি স্পর্শ গুলো?
প্রেম কি সন্তান এর মত!  হ্যাঁ আমি লালিত করেছি প্রেমকে  সুজন।
তোমার নির্বোধ অবস্থা থেকে বোধোদয় অবধি
তোমার নিয়মিত স্বজনদের দেওয়া ক্ষতদের
আমি শীতল করেছি আমার আঁচলে
বিধিয়ে নিয়েছি  তোমার কলজে তে
লেগে থাকা অসংখ্য কাঁটা তোমার ব্যেথা গুলো
ছুঁতে গিয়ে আমি শুউরে উঠেছি প্রতিবার,,,
, সব অন্ধকার তোমার ঘরের
আমি আলো ভরতে চেয়েছি...তোমার সুরে
সুর মিলিয়েছি। তোমার হাসিতে আলোর মুকুট পরিয়েছি।।।   সেই তুমি
সেই তুমি আজ হঠাত একটু উষ্ণতার খোঁজে
আলো কুড়োচ্ছো নিয়নবাতির নিচে ।
তুমি তো যান আমি কাঁদতে শিখিনি...  প্রশ্রয়ে
আশ্রর পায়নি কোনো দুর্বলতা..।
সুজন আজ সেই আমির কেন মনে হচ্ছে আয়ুরেখার
শেষ দাড়ি টা টেনে ফেলি। আমার কি এ অবাক
পৃথিবীতে প্রেমের অভাব হত?  জানি না সুজন
প্রেম হয়তো এমনি।  এমন কিছু প্রশ্নচিহ্নর সামনে
জীবনকে এনে দাঁড় করায় । আর সুখের স্মৃতিগুলোর
কখন যেন ভেজা চিঠি হয়ে যায়,,  তাই
হয়তো শহরে একটাও ডাকবাক্স নেই।

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

যা কিছু প্রানের পরে......

---------------------------------------------------------------

আলোর দেশে মৃত্যুর রঙ কেমন  সুজন  তুমি কি জান?
জান কি সবটুকু সূর্যাস্ত গায়ে মেখে ফিরে আসতে হয়
রোজ আমার আঙুলে লেগে থাকা মোহের ছায়াদের!
জান কি সমস্ত প্রহর দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষারা তোমার
পৃথিবীর বিপরীতে আমায় দাঁড় করিয়েছে।
বিকেলের শেষ মুহুর্তে থমকে গেছে কত পথ চাওয়া,
রঙ চটা দেওয়াল জুড়ে ঋতুদের আনা গোনায় সময়
বলে দেয়...  সে নাকি অনেক পথ পার হয়েছে,,, তাই
সব সান্নিধ্য জুড়ে জুড়ে চাঁদের বুড়ির কাছে বুনতে
শিখেছে নানান রংবেরঙ এর সুতো,,
"আরও সহস্রবার জন্ম নিতে পারি,
প্রেমিক হব বলে শুধু ওই চোখ দুটির জন্য"
এমন কথা তোমার কবিতায় সোহাগে থাকে
রোজ রাতে। এমনি যত্নে রেখেছো তোমার বুকে
শতাব্দীর প্রেম,,,
তুমি কি জান সুজন এমিন অনেক রাতে ঘোর
না কাটা আবেশের নিমিত্ত সুগন্ধ হয়ে আমার ক্ষতদের
আটপৌরে খবরাখবর নেয়,,, তুমি জান না এসব।
তুমি জান না দিনের শেষ প্রহরে খুব সাবধানে
রোজ একটা একটা করে চিতা জ্বলে ওঠে..
অনেক বার সেই আগুনে স্পষ্ট দেখেছি নিজের
শব এর মুখ,,  যেন ভীষ্মরর ইচ্ছা মৃত্যু।

তোমার নগরে আজ কাল গোধুলির আলোর উত্তাপ
বড্ড বেশি,, সেই নরম বধুবেশ ভাবটা কেন যেন নেই,
তুমি কি বুঝতে পার? নাকি তুমিও দলছুট আলোদের
সাথে হারিয়ে যাও... আর ঘন হয়ে যাওয়া
রাতের সাথে পরবাসে ফের একা একা।
ঘুমিয়ে পড়া জোতস্নাদের আলোরা অপ্রেমের
পোড়া ছাই উড়িয়ে দেয় সেই পাহাড় মুখি নি:সংগ
জানলাটার দিকে। সুজন এসব বোধহয় তোমার জানা হয়নি আজো।
তাই তোমার অন্দরমহলে শিল্পী থাকুক কবির মত হয়ে আজীবন।

সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নীরব স্পর্শ

------------------------------------------------------

নীরব গাছের ছায়ায় চুপ কথা ঘুমিয়ে থাকে
সাঁঝবাতি নিচে,,,
তোমার আমার শব্দরা আশ্রয় খুঁজে ফেরে সন্ধের অবকাশে।
নিয়নবাতি গড়য়ে পড়া আলোয় একলা হয়  ফেরীঘাট চত্বরে ভীষণ সাবধানতা মেনে।
দু চার জন প্রেমিক প্রেমিকা বান্ধব গন্ধে কিছুটা উষ্ণতা মিশিয়ে বাদামের খোসা ভরা ঠোঙায়
রেখে গেছে সূর্য ডোবার বেলায়,,,  তাই নিয়ে গঙ্গার ঘাটে
শেষ সিড়িতে কাটাকুটি খেলছে একলা এক পাগল।
নিজের চেতনার ভেতর পৃথিবীর সব প্রেমিকের অনুরণন যেন নদীকথা বইছে।
আকাশের মেঘের ফুঁড়ে অজস্র তারারা অহংকারে জোতস্নার অভিসারে সাজিছে
নিজেদের।
আদুরে মেঘেরা আজ সোহাগে রংএ স্বপ্নঘোর।
অলিক জানলায় হাত বাড়ালেই স্বপ্নেরা ছুঁয়ে যায়
গুঁড়ো গুঁড়ো আবীরের মতো।  নিভে যাওয়া আলোয়

তোমায় প্রশ্ন করি থাকবে তো আমার হিঁয়ার মাঝে ,
তুমি বল  "মানুষ বৃক্ষ নয়"।
তাই ঝরে যাওয়া মানে পরিসমাপ্তি, অবশেষে সব শেষ নয়
ফিরে আসা মাটির টানে।
হৃদয়ের চুপকথারা রাস্তার পাশে নিয়নবাতি
নিচে স্পর্শ খুটে রাখতে ব্যেস্ত,,  তুমি তখনো
গঙ্গার ঘাটের শেষ সিড়িতে বসে একলা পাগলটার কাটাকুটি খেলা দেখতে বিভোর।
তোমাকে ছুঁয়ে থাকা সকল মাত্রা গুলো তোমার
চতুর্ভুজএ অপাক্ষায় ঘড়ির কাঁটার খুব কাছ ঘেঁষে মুহুর্তের যোগফল মিলিয়ে রাখে দ্বিধাহীন হয়ে।
আমি সময়ের সাথে ফিরে আসি পুরোনো আস্তাকুড়েতে... আর একটা অপেক্ষা গোপোনে ক্রমশ লালিত হয় কোনো এক আগামির জন্যে।

শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

উপাখ্যান

-------------------------------------------------

চলতে থাকা নিশ্বাস মানে  বেঁচে থাকা
এই অনুভূতির ভিতর একটা উপন্যাস আছে ।
হাত পা ছুড়ে  আস্ফালনে সবসময় একটা চিৎকার যেন, আর
বুকের ভেতর জ্বলন্ত হাপরে আগুন।
পুড়ে যাওয়া বুকে , লুকোনো কালসিটেতে যুদ্ধর ছোটো ছোটো
ফরমান,,   কি অদ্ভুত  তাই না!
সব চিৎকার সময় নাই বা শুনলো,  নাই বা সমাজ,
হৃতপিন্ডে জীবিত ইচ্ছারা শেষতক ভীষণ সবুজ
থাকতে জানে।
এক কিশোরী বোঝে না সে সদ্য তার কৈশোর ছিড়ে
বেরিয়ে এসে মায়ের ভুমিকায়... সময় হিচড়ে আনে
তার সমস্ত স্বতন্তর থেকে কচি মন হয়ে যায় ক্রমশ।
দরকচা নিয়মের বন্দিনী।
অনেক অস্বাভাবিক নির্ঘুম রাতকে স্বাভাবিক ভেবে
নেয় এমন অনেক অবুঝ কিশোরীর শরীর।
একটা মন বীষঘুমে আচ্ছন্ন হতে থাকে ক্রমশ,,,

নিয়মের আখ্যা দিতে পারা  খুব স্বাভাবিক কারন সেও তো
সমাজের তৈরি ।
নিয়মিত দু চারটে প্রতিবাদ বুকের ভেতোর জন্মায় আর মরে
মোমবাতি মিছিলে আলো হৃদয় সামিল হয় কি? এ প্রশ্ন অবান্তর,,,,,,

বহু  মৃত্যু নীরব থাকে এই পৃথিবীতে।  সহজে

নগ্ন করে দাঁড় করানো যায় একটা জীবিত
মনকে আর যুক্তির  সৈন্যদল হামলে পড়ে
চলতে থাকা নশ্বাসের উপাখ্যানে।
এ পোড়া দেশে এক মুঠো মাটি নেই নারী শব্দটুকু রাখার,,,

সেখানে  বেঁচে থাকা কেবল সামাজিক খিদের উপকরণ
চীতায় সহমরন কখনো কোনো পুরুষের নয়।
অথচ কিশোরী কখন যে পুরুষটির অর্ধাঙ্গিনী,,,
কি অদ্ভুত।
ঈশ্বর তোমার  হিসেবের খাতায় এমন কত গড়মিল?
সেই তুমি যুগ যুগ ঈশ্বর এর ভুমিকায়,, আর তোমার
পুজোর ডালি এমনি হাজারো কিশোরী  থেকে নারী
স্বত্তা গোপোন কান্নায় সিঞ্চিত ।