বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯

সুবর্না(৬২)

নিয়ম করে বাড়তে থাকি শিরায়
শিরায়, সব নিয়ম মেনে মন
থাকে আত্মগোপোন করে, 
সুবর্না সমদ্রের নিচে ঘুমন্ত
কোনো  কম্পাসে মত এখন
এই পৃথিবী দিক শুন্য,  জং ধরা
মনে হয় নিয়মিত আয়োজন, 
রোদ্দুর নেই উত্তাপ.... অর্ধেক আমি
মৃত, অর্ধেক  ঘুনপোকার সংসার,, 
এই আমি কে জানা নেই কোথায় 
ঠিকানা, কোথায় হেঁটে চলেছি আজন্মের
তৃষ্ণায়, সুবর্না  পারো না দিক শুন্য কম্পাসে
দিক নির্নয় করে দিতে.... কিংবা জানিনা কি
চাওয়া ভীষণ দরকার, সবুজ শ্যাওলার 
জালে জড়িয়ে নিজেকে দেখতে অদ্ভুত লাগে,
নিজেকে চিমটি কেটে গড়িয়ে নামা কান্না
ছুয়ে দেখি এখন নিশ্বাস উষ্ণ কিনা, 
যন্ত্রনা উপচে পড়া ফসিল গেয়ে ওঠে
আমার মুক্তি আলোয় আলোয়..... 
সকাল গড়িয়ে এক একটা দিন কাটে
নিয়ম করে বাড়তে থাকি শিরায় শিরায়, 
চেস্টা করে ভাল থাকা যে মারন যন্ত্রনা
সে কথা টের পায় সমস্ত শিকড়, 
অনিয়ম কোনো এক দেশ 
 খুঁজে  ফিরি  কুল বরাবর, 
একদিন রাত শেষে কচলানো চোখে
তুমি ঈশ্বর হয়ে আমার হাত ধরে
নিয়ে এস সমস্ত দুঃখসুখের পারে
সব নিয়মিত নিয়মের দেশ ভেঙে,
আমি আবার করে মাটির  ওপর
গাছ হয়ে জন্ম নেব.....,, 
সুবর্না (প্রিয় ঈশ্বর)   

  
                          
                     

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

সুবর্না(৬১)

----------------------------  
আলো বিহীন কোনো এক গ্রহে
ছোট বড় কাহিনির মত নিশ্চুপ
আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস,  মানিপ্ল্যান্টের
হলুদ পাতায় মন্দবাসার সকাল গড়িয়ে
কোনো ঝরা শিশিরের টুপটাপ ,  আজ কাল দেখা
হয় না উৎসবের আয়োজনে,  আর কত
কাল সুবর্ণা এমন করে শতাব্দির স্রোতে
বইতে হবে .... না তুমি জানো, না আমি জানি, 
এসো মুখোমুখি ভাগ করে নিই আমাদের শেষর
অধ্যায় কোন সুগন্ধি রুমালে রেখে চেনা স্পর্শ, 
কুয়াসায় হারিয়ে যাই এ যাপন চিত্র হত্যা করে, 
কখনো কখনো হত্যা ভীষণ সহজ মনে হয়, 
এযাবতকাল অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে এই হত্যা খেলায়
মত্ত হয়েছি ধ্বংসের খেলায়,  অন্ধকার চারপাশ
ভাগবত গীতায় লেখা সমস্ত চরিত্র মুখোমুখি
পায়ের নিচে এক কৃষ্ণ বর্নর বানী কানে বাজতে
থাকে বাকি সমস্ত পৃথিবী অচৈতন্য অবস্থায়,  
সামনে দাড়ানো সব সম্পর্ক মৃত, যুদ্ধ
শেষে এস,  শেষ হত্যাটুকু সেরে ফেলি 
দুজনের বুকের কলিজা ছিড়েখুঁড়ে
রক্তস্নাত হই তারপর তারাখসার পথে
আমাদের সমস্ত আয়োজন...... 
আর দেরি করো না,  আমি চললাম
তুমিও এস সমস্ত  অঙ্গিকার খুলে রেখে, 
আমাদের দেখা হবে সন্ধ্যে নামার আগে
পশ্চিমের খেয়াঘাটে... 
..........(সুবর্না প্রিয় সাথি)                         

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৯

সুবর্ণা(৬০)

---------------------------- 
ক্ষতগুলো  ঘুন পোকার মত বাড়তে
থাকে,  পায়ের নখে ঘর  বাঁধা শুরু
ক্রমশ মেরুদণ্ড বরাবর কলোনির পর
কলোনি.... এজেন ভীনদেশী দেশ ছাড়া
হয়ে এখন শরীর জুড়ে   অধিকার, 
হৃদয়, মস্তিষ্ক সমস্তই কেমন  খটখটে
প্রান যায় মুহুর্তে এসে ঠেকেছে,, 
উৎসব আলোর স্রোতে শহর তবু
চোখ আলো ছুঁয়ে  যায় না... অমনিশা
ভেতোর ভেতোর বোবা টানেলে সেধিয়ে
চলেছে,  সুবর্ণা  হাঁপিয়ে উঠেছি ভীষন,
সুইসাইড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে...... 
আত্মজ বলে উঠলো   এখনো তোমার 
মুক্তি নেই,  অনেক কাজ বাকি... আমার
আলোর দরকার তুমি জ্বলে ওঠো আমি
পথ চলবো তুমি সওয়ারী হও,  ফিরে এলাম
আমার সামনে জন্ম কাঁদছে, মৃত্যু হাসছে 
জীবন খেলছে  পাশার দান,  পড়ছি
ভাংচুর হচ্ছি, নিজেকে জড়ো করছি মুঠোয়,
ফুরোতে   ফুরোতে ক্ষতরা আমাতে বাড়তে
থাকছে,  ভাবছি আমি বিশাল না ক্ষত বিশাল, 
সুবর্ণা আমায় একচিলতে মরনকুপের জল 
এনে দেবে.... এ আমার  বহুকাঙ্ক্ষিত
শেষের চাওয়া,  ভালবাসার নামে
সুগন্ধি রুমাল নয়, নয় নীল পদ্ম, 
কেবল এক গন্ডুস মৃতু আমায় দাও।
সুবর্ণা ( প্রিয় মরনেসমাপয়েৎ)            

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

মোনা লিসা

এমন কিছু নেই যা নতুন করে
এই আমির পুতুলটাকে অবাক করে, 
ছুট্টে আসা বৃষ্টিফোটা ভেজায় না আর
মোটেই এখন,  অবাক হবো বলে তিরিশ
বসন্ত পেরিয়েগেছি অপেক্ষাতে অপেক্ষাতে,,
মন কেমন অবুঝ হয়ে শবদেহ ছুঁয়ে প্রহর কাটিয়েছে
 ঘন অন্ধকারে, হয়তো প্রান আসবে ফিরে অবাক করতে
হয়নি এ আমি অবাক যে গেছে সে ফেরেনি ফেরেনা  , 
দরজায় দরজায় মাধুকরি করে এক পৃথিবী
ফিরেছি কেবল কয়েক মুঠো ভালোবাসায়
অবাক হবো বলে... জোটেনি দুমুঠো ডালেভাতে
ভালোবাসা, আমি অবাক হইনি,, 
    অবাক হবো বলে
সংসার নামক মঞ্চে অযুতবার বীষফনার
জ্বলন সহ্য করেছি একদিন অবাক করা
গল্পে যেমনটা হয় তেমন সংসারের সাধে 
অবাক হওয়া হয়নি আমার ... 
একদিন কেউ অবাক করে আমায় আমার
পছন্দের একমুহুর্ত উপহার দেবে বলে বিশ বছর
অপেক্ষা করে গেলাম এমন কারো ঘরনি হয়ে
যে অবাক নামে কোনো শব্দ হয়তো জানে না
আমার অবাক হওয়া হয়নি তাই .... 
এমন কতো  অবাক হবো বলে আজো এই বেঁচে
থাকার খসড়ায় নানান কোলাজের জমায়েত,,
,  তবু আজো এমন কিছু আমায় অবাক করেনি
যাকিছু আমার মন সেলাই করেছে সময়ের প্রেক্ষিতে,, 
 বহু বার অবাক হয়েছি একটিবারও
অবাক না হতে পেরে.
আমাকে অবাক করতে পারে এমন কিছু
হবার নেই বাকি পথে,.....

বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

)পরিনীতা

---------------------------- 

হারিয়ে যাব চোখ ফেরালেই 
হাজার  ভিড়ে থমকে থাকা টুকরো
বাঁচা .... আজ তোমার আরো একটা
জন্মদিন, হাজারো শুভেচ্ছা জড়ো
তোমার শহরে আকাশ ভেজা মিস্টি
সকাল তোমার উপহারের ডালিতে লাল
হলুদ গোলাপের ভিড় ..... হারিয়ে
যাব চোখ ফেরালেই.....,, আজ আমার
নতুন জন্মের ক্ষন   ভাগ্যিস তুমি
কোনো এক এমন দিনে মায়ের কোল
আলোয় আলো করেছো.... তাই
আমার শুন্য ঝুলিতে আজ সম্পদের
প্রাচুর্য, আমার অহংকার,,  সে কথা 
হয়তো তুমিও জানো আমার  সাজানো 
সম্পত্তির ভিড়ে এক তুমিই আমার সম্পদ, 
আর তাই আমি ভীষণ অহংকারী.... 
আজ তোমার জন্মদিন পাছে চোখ ফেরালেই
হারিয়ে যাই  তাই চোখপাহাড়ায় তোমায়
বন্দি করেছি,,,  কখনো সন্তান, কখনো প্রিয়
কখনো দায়িত্ববান স্বামি, কখনো খবরের
শিরোনামে তোমার গলায় জয়ের মেডেল
সহস্র সম্পর্কের  ভিড়ে পাছে তোমায় হারাই... আজ যে
তোমার জন্মদিন..... ফিসফিসিয়ে শুনবে
একটা ছোট্ট কথা তুমি কেবল আমার ঘর.... 
তুমি কেবল আমার ঘর ......, তুমি কেবল
আমার..............,,               
      

সুবর্না(৫৯)

---------------------------- 

হাতের মুঠোয় ফুরোতে থাকা
বালি,   মাটির ঘুম  ডাকে রাজার
রাজা,  হাওয়ায় উড়তে থাকা হরিরবোল
খই ফুল সুবর্না তোমার প্রিয় সব কটা
অধ্যায় সুগন্ধি মলাটে,
দরজায় দাড়ানো সব অপেক্ষা পরজন্মর
দিকে তাকিয়ে প্রহর কাটানো,
কাজ ফুরোনো ২০৬টা হাড় তিতাসের
জলে এগিয়ে দাও সুবর্না, ফিরে   তাকানো
বারন  মায়ায় জড়ানো বারন,
ও চোখ পুড়তে পারে দহন দাহে,
তোমায় এমন করে চাইতে পারি... তাই
একশো আটটা নীল পদ্ম নিয়ে তোমার জন্যে
নদীর ওপারে এক অপেক্ষা ,
মানচিত্রে তখন থমকে যাওয়া সময়ের
পেন্ডুলাম মৃত... মৃত সমস্ত সাজানো
নাটকের ভুমিকা,
আমরা কেবল মুখোমুখি হাতের
মুঠোয় ফুরোতে থাকা সময়
নতজানু,, সন্মুখে    বিস্তর একটা জীবন।  

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

তোমার মত

-------------------------
সে দিন শেষ ভোরে তুমি ঠিক
খসে পড়া তারার মতো আমায়
বলে গেলে আমার আলোটুকু
তোর বুকে রাখ,  আমি এরপর
পৃথিবীর শেষ লগ্ন অবধি কেবল
তোর একার ঘর তোর একার....
লুকিয়ে রেখেছিলাম সকল অহংকারি
ভিড় থেকে তোমায়... লুকোনো খামে
তোমায় সুগন্ধি পাঠানো আমার এক অদ্ভুত
অভ্যাস করে ফেলেছিলাম ,
রক্তকরবী গাছের নিচে আমাদের
প্রথম স্পর্শ গুলো যত্ন করে গুছিয়ে
রেখে এসেছি,  আরো আরো  কত
কি যে এ পোড়া মনের আনাচকানাচে
গুঁজে রাখা,  সে বাঁশিওয়ালার সুর
ভীষণ গরমের দুপুর আলস্যে যখন
তখন তুমি আমায় চুপিসারে চোখ বেঁধে
মিশিয়ে দিয়ে ছিলে সুরের সাত রঙা
মূর্ছনায়, আমার হাতের তালুতে এখন
সেই নিবিড় সব গন্ধ কেমন তাজা,
নীল রঙ তুমি তেমন ভালবাসতে না
তবু কখন যেন ভালবাসার আবদারে 
তুমি নীলাদ্রি হয়ে উঠেছিলে,
মনে রাখা সহজ,  না ভুলে যাওয়া
সহজ   জানা নেই,  তুমি যখনই
হিসেবি হতে বলো আমি খেই হারিয়ে
ফেলি আমার উপকুল বরাবর
কোনো হিসেবই মেলাতে পারিনি,
আয় ব্যয় সব কেমন একাকার হয়ে
পড়ে  তাই সে  চেষ্টা আমার বৃথা,
সারারাত তোমায় জুড়ে তোমার মত
আলোর সাথে কথায় কথায় ফুরিয়ে
আসি আর তখন তুমি এসে বল আমায়
বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখবি আমায় ভালবাসিস?
আমায় ভালবাসিস? ভালবাসিস?           

একদিন না হয়...

----------------------------

একদিন তুই হঠাৎ করে ভীষন
রকম আমার মতো....
একদিন আমার সকাল জুড়ে
শিউলি ফুলেদের গল্প-দাদুর  ভরা আসর...
একদিন ঘুম ভাঙা সকাল এর রঙ
আমার ইজেলদানির ইচ্ছে রঙের....
একদিন খুশির আলোয় এই চোখ উছলে
উঠবে... বিস্ময়ে হারাবো সম্বিত... এমন করে
ভাবিনি,,
একদিন তুই হঠাৎ করে ভীষনরকম আমার
মত,  একদিন আমার সকাল জুড়ে শিউলি
মেলা,  একদিন ফিরবো বিস্ময় ভরা
আমার সকল দহন শেষে গোলাপি
ভোরে,,           
     

শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

কারণে অকারণে

----------------------------

তোর চোখে দিন শুরু হয়
এ পাওয়া না হারানো তোকে সে 
কেবল রহস্য...
নিঃস্ব হতে পারি বার বার,,   তোর  পথে
হারিয়ে ফেলে আবার এক ভিখারির ভুমিকায়
নিজেকে  দেখতে পেলে আমার সুখ,
আর্ধেক আমি মাটির বুকে বাকি অর্ধেক
আকাশলীনা....
ফিরে গেল  সব নামবিহীন আলোর রেনু
পূবের বারান্দা থেকে,  এখন রাত ডুবে
তোর গভিরে অন্তমিলের সন্ধানে....  
স্বপ্নেরা এখন তুই আর তোর মন কে
এক সুরের মূর্ছনায় হাতের রেখায় হেটে
যাওয়ার কথা বলে,,
আমার মিথ্যে বাহাদুরি কবিতায়
থাক কফিনে শুয়ে ..... ,
আমার দুমুঠো চালচুলোয় থাক
জোনাক জ্বালা রাত... তোর চোখে
এমন করে দিন শুরু হয়  আর আমি
হারিয়ে  যাই সহস্র কারনের ভিড়ে।      
                 

সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

সে আসে বারে বারে ফিরে.. ************************

************************

শুন্যতার বুকে শর্তহীন হয়ে
ঘুমিয়ে আছো সময়ের স্বরলিপি,
কয়েক শতাব্দী  পর দেখা আমাদের,
ঘুমের দেশে গোধুলির আলোতে সেই
নিশ্চুপতাকে ঘিরে  আমাদের উৎসবের
বর্নে গন্ধে ভরা সবুজ ভেজা সময় 
এখন শিলালিপিতে বন্দি,
তোমার বুকের আঁচে আজ আর কোনো
সময় পোড়া ছাই লেগে নেই,  এক
অনাবিল শান্তির  চিরআশ্রিত সব প্রেম
বুকের পাটাতনে,, এভাবেই আরো কয়েকশ
কয়েকশো শতাব্দীর সাক্ষি থাকবে হয়তো
এমন অগুনিত তুমি আমি ,
আবার কথা রাখার ঠিকানায় বুকফাটা ছটফটানি
তার চিরকুট রেখে যাবে আলতা পায়ে পায়ে,
তোমার বাসন্তীকা ভুলে যাবে না পাওয়ার
ঠোঁট ফোলানো সব নালিশ,
আজ যখন মুখোমুখি আমরা  তখন সব কথা
হারিয়ে যায়....  শব্দগুলো সবুজ শ্যাওলার
বুক আঁকড়ে নিঃশব্দে জানায় হলুদ
বসন্তে বাসন্তীকা আসে আলোর সাথে
ঘুমের দেশে গোধুলি হয়ে,  সে এমন করে
কথা রাখে পারাপারের সকল অহংকার কে
ভেঙে ফেলে  সে আসবে ফিরে বারে বারে....