রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১

......ফুলস্টপের আগে....

একটা মিথ্যে আর   একটা প্রমাণই  যথেষ্ট একজন প্রেমিক কে বিশ্বাসঘাতক প্রমান করতে ...
একটু সাবধানে থাকা দরকার ছিলো সেদিন ,
আসলে  আজকাল যে  কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ নয় .......।

প্রয়োজন নয় ইচ্ছা

প্রয়োজন নয় ইচ্ছা হয়ে থাকতে চাই ,
যাপন নয় নিঃশ্বাসে থাকতে চাই ,
আমাকে তুমি সময় বোঝাতে এসেছো ....!
তুমি বোঝালে আমি বুঝেও যাবো ...আর বুঝে গেলে চুরমার কাঁচের মত গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে চিতিয়ে যাবো ,
বরং এই ভালো সমান্তরালে দুজনে উল্টো দিকে হাঁটতে থাকি .....একে অপরের ওপর মুহুর্মুহু দোষারোপ করে আড়াল করে ফেলি সাময়িকী গুলো ,,
নিজেকেই বড্ড অচেনা লাগে ...আজ যা পরিষ্কার দেখতে পাই সেদিনের চৈত্রের দুপুরে সূর্য মধ্য গগনে তবু কেন আজকের দৃশ্যের কিছুই দেখা হয়নি সেদিন ,, বারংবার নিজেকে তীক্ষ্ণ ছোরার 
ডগায় রেখে কি পেয়েছি হিসেব করিনি একবারও !!
সমস্ত গল্প পড়ে ফেলেও নিজেকে প্রয়োজন করে সাজিয়ে রেখেছিলাম ! অথচ আজন্ম ইচ্ছে হয়েই থাকবো ভেবেছিলাম ......ভেবেছিলাম পাহাড় , কাঁচের বারান্দা ক্যানভাস আর সেই ইচ্ছের হাতে হাত রেখে আমি ইচ্ছে হয়ে থাকবে কফিন বন্দি হবার আগের মুহূর্ত অবধি ।।
পারিনি ....পারিনি জেদ করে মুঠো বন্ধ রাখতে ,  ভালোবেসে ছিলাম তাই মুঠো খুলে দিয়েছিলাম ,,
আসলে প্রয়োজনে রাখিনি .....রেখে ছিলাম ইচ্ছে করে ,, আসলে জেদ করিনি  ভালোবেসেছিলাম মাত্র ............. প্রথম আর শেষ বারের মতো ।

স্পেস



কিছু কিছু সময়ে একটা চিৎকার ভেতর থেকে জনমহলে খসে পড়ে আচমকাই।
 ভিড় ফুরিয়ে যাওয়া মেলা ভেঙে আসে আমার মত কেউ । 
একা একাই খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসি রঙিন বেলুন বিক্রেতার মতো । 
অসুখের আবহাওয়ায় কার্তিকের শুরু । 
একটা   উৎসব থেকে  ক্রমশ দূর হয়ে যাচ্ছে চেনা  মানুষটা.
...আমি ঘরে  ফিরে এসে দরজায় দাঁড়াই অপেক্ষার ভোরের দিকে তাকিয়ে। 
ফিরে আসতে পারাই জীবন কিনা জানা নেই।
 অসুখের দেশে  ভালো থাকা একটা আর্ট।
 আর কোনও চাহিদা নেই,  বলয় সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছি ইদানিং । 
আর কোনও অভাবের কথা লিখব না কখনো।
 অভাব বিক্রি হয়ে গেছে বেওয়ারিশ বারোয়ারী হাতে।
 সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা পাখি, যারা ফিরে আসতে পারে তারা  বাঁচে আসল বাঁচা। 
বাকিরা পথেই মারা যায় বলেই নামধাম কিছু কেউ মনে রাখতে চায়না।
 পথের ধারেই আজকাল শিয়াল, কুকুর, সমস্ত  অনুভব  ঠুকরে খেয়ে ফেলে।
 মাংস ছেঁড়ার কোনও শব্দ হয় না ....শব্দ হয় না হৃদয় ভাঙার ।
আসলে  মৃত্যুর আগে   শব্দ না  করাই ভালো । হাসপাতাল এলাকায় লেখা থাকে সাইলেন্ট জোন। মৃত্যু ঠান্ডা ঘরে ঘুমায় বলে স্মৃতি বিলোয় বাতাস।
 শহরের ভেতরে যখন একটা আস্ত ঠান্ডাঘর জেগে বসে থাকে তখন প্রেমিকের বুকে দাউদাউ  স্মৃতির আগুন। 
মুখচোরা এই মুহূর্তগুলোয় মুখ বন্ধ করে হেঁটে চলাই বোধহয় ভালো । 
শব্দের ভেতরে বিপণ্ণ এই বেঁচে থাকায় এখন অভ্যস্ত মানুষ।
 এমনকি কথারা বোবায় পেলেও বেঁচে যায়  বেশি করে ।  ঘরে ফিরতেই সঙ্গহীনতার   খিদে বেড়ে যায় মানুষের।
 
তবু  খিদে নিয়ে কথা বলতে নেই ভুখার শহরে।
   চুপ করে যাওয়াটাই  নির্বাণ এখন।
 বুদ্ধের মতো নিঃশব্দে হেসে ফেলা, হাসি মুখে তোমাদের নগর ঘুরে ঘুরে  নির্জন গলিতে এসে দাঁড়ানোই ভালো ।

 নিঃশব্দ চতুর্দিকে, এত শব্দ ও কান্নার মজলিস তবু নিঃশব্দ চিতুর্দিক। 
কেউ এসে আর বাঁচতে চাই বলে চিৎকার করে ওঠে না। কবিতা থেকে বোবা  আবেগ ঝরে পড়ে শুধুমাত্র।
 ফুলের বাগান ও ভ্রমরের ছিঁড়ে যাওয়া ডানা থেকে পলাতক শব্দ ভেসে আসে ভালোবাসা হারা মনের কান্না। 
এরপরেও শব্দ গলার কাছে নিঃশব্দের সিম্পফনি তবু  গাইতে পারে কই তেমন হৃদয়ের গান ।
  কথা না বললে আয়ু ক্ষয় হয় সে তো জানোই তুমি। 
ক্ষমতার হাতের ভেতর সেই পথভোলা মেয়েটির শেষ ইচ্ছার  টুকরো ঝুলতে থাকে, 
কিংবা বিশ্বাসঘাতক এর  হাতের মুঠোয়  নগ্ন সময়, ভাঙা বোতলের কাচের ওপর এসে দাঁড়ায় বুকের যন্ত্রনা । 
 এসবের মাঝেই  ভুলে যেতে হয়   আলপথ ধরে  স্মৃতিরা  হেঁটেছিল কখনো । 
 বুকের মাংস লেগে থাকে, কোন প্রতিশ্রুতির নামে কোন সহবাসের ফাঁদে জড়িয়ে ফেলে কোন ঠগ, মাথার ভেতরে চড়কির মতো ঘুরতে থাকে এসব জটিল বায়ু।
 নিঃশব্দ করে মেয়েটাকে আরো বেশি করে । 
, বুকের চন্দনের প্রলেপ কপালে কুমকুম, আগুনের কাছে এসব নৈশব্দের আহূতি বুকের ভেতর নিরন্তর দহন জারি রাখে মেয়েটা। 
 শব্দ হারাতে হারাতে,  নিজের কাছে একলা দাঁড়াতে হয় প্রতিনিয়ত তাকে,
 ব্যথার ভেতর ব্যথার আঙুল চেপে ধরে না কেউ। বলে না কাঁদো, চিৎকার করে কাঁদো। নিঃশব্দ একটি স্পেস। যা প্রকৃতিতে মানায়,  তবে বুকে নয়।  সেটুকুই জড়িয়ে বেঁচে আছি এই নিঃসঙ্গ জীবনে। হে মহামান্য, সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগে যেন একবার আমি চিৎকার করে উঠতে পারি।
একবার যেন উত্তরের বারান্দায় অঝোর বৃষ্টি এসে ধুঁয়ে নিয়ে যায় বকেয়া টুকু .....।


বাকিটা ব্যক্তিগত

হৃদয়ে বিষের ছোবল নিতে অভ্যস্ত এখন
নিজের ভেতর গোখরো পুষছে এ শহর ,,

সঙ্গমবিমুখ সাধন সঙ্গিনী ,নিজেকে রাখতে 
রাতের বিছানায় কোল বালিশের পাঁচিল  রাখে রোজ।

শহরের দেশলাই বাক্সে আগুন বুকে রাখা ...
তার নাম সমাজ, নিয়ম , আর বাকিটা ব্যক্তিগত।

এখন মৃত জ্যোৎস্নায় প্রেমিক চিঠি লিখে রাখে নিজস্ব ব্যর্থতার ,...আবার বসন্তে কমলিকা মাথায় পলাশ গুঁজে সোনাঝুড়ির সাঁওতালি সঙ্গমে মাতবে প্রেমিকের সাথে জানা কথা ।
দূরে কোথাও ক্যানভাস তখন অপেক্ষায় নতুন কোনো পট্রেট ,
 অবাধ্য মাছের একোরিয়ামে আপোষ ভেঙে বুঝিয়ে দিতে চায় মুক্তি শব্দটা ভালোবাসার চেয়ে অনেক বেশি দামি ।
বিষের ছোবলে বারুদ ভিজে গেল বেঁচে থাকা তীর্যকতা হারিয়ে ফেলে ,
অথচ এ শহর বাকিটা ব্যক্তিগত বললেও বারংবার চটি জামা ছেড়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ানোয় বিশ্বাসী।
তবুও বাকিটা ব্যক্তিগত.......!



মরফিন

.. মরফিন সংসারে একটি বিকল আঙুল ছুড়ে দেয়  শীতের ফাটা চামড়ায় দীর্ঘ ডিঙিপথ,, __

রুকস্যাক ভর্তি ছেঁড়া চটিজুতো... মৃদু আঁচে সেঁকা নিজের মাংস । 
ভাঙা মানভঞ্জনের চূড়ায়  হাওয়া পাক খেতে খেতে সাবধান হতে ভুলে যায় কথারা..।
.  হাততালি  বাজিয়ে নেচে ওঠো জানি আজও,,সব শেষে অন্ধ সম্পর্কের  সাথে নাম-সংকীর্তন করে বাড়ি ফেরও গভীর রাতে । 
 ডাইনির কাছে টোটেম ও টাবুর গল্প শোনে মৃত জোনাকি স্বর্গ দুয়ারের অপেক্ষালয়ে,
  শিকারির মাথার ভেতর  জটাভর্তি শালবাড়ি... শিমুলিয়া... নিমগন্ধ... শিরীষবিকেল... পলাশসন্ধ্যে... জারুলঘুম... বটের পাঁজর... অশ্বত্থশিরা... হিজলরাত... শ্যাওলারঙ সব খাবি খাচ্ছে ।
 ডানাঝাপটানোর শব্দ শোনা যায় বন্ধ ঘড়ির বুকে তোমার ড্রইংরুমে ।
   তেত্রিশ কোটি বিরহে মৃত্যু রং আবিষ্কার হয় ধীর গতিতে আমার ভেতরেও। 
 তবু মৃত্যুশব্দ শোক ফেলে রাখে ঘুঘুবনে..
. শীতঘুম  চাই মস্ত বড় .... শরশয্যায় বুক পেতে শুয়ে আছে সময় ... ।
 . নানান স্কেচ ও বশীকরণজন্মের বিবর্ত উপকথা লিখছি ....লিখছি তোমার বায়োগ্রাফি।


ভাঙা গ্লাসে সমুদ্র ঘুমিয়ে পড়লে কেমন দেখতে লাগে সে ছবি কেমন আমি জানি না ।

 তুমি তো জানো ফুটন্ত ঢেউয়ের গন্ধে 
আমার বড়ো একলা লাগে নিজেকে
আর তখন মাথার ভেতর তোমার চকের আঁকিবুকি খুব দরকার হয়ে পড়ে ।
তাই আসছে জোয়ার ভাটায় পারলে একবার ফোন করো এটা ভেবে যে আমার প্রতি  তোমার শেষ আহুতি টুকু সম্পন্ন হলো , আমি মুঠোফোন রাখবো বুক পকেটে তুমি আঙুলে রেখো আমার ঠিকানার চিরকুট।


শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

স্মারকলিপি

তুমি ভালোবাসবে না... কথা দিয়েছ বলেছো পুরোনো কথা মনে রাখিস না , মনে রাখিস না কবে প্রেমিক হিসেবে তোর বুকের ভূমিতে কম্পন এনেছিলাম , ভুলে যা পরিজাতীয় ক্যানভাসের সমস্ত চিত্র , বলেছো বদলে গেছো তুমি ....তাই তোমার কাছে আমার সমস্ত অস্তিত্য মৃত কিংবা মিথ্যে।
 কুয়াশায় কিছু  সাদা হরফ উড়ে গেছে পরিযায়ী হয়ে ...
____________________বকের মতো পুরোনো আমি গ্রীবা তুলে ভয়ানক বৃষ্টি খুঁজি এই শীতকালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও ।

এটা তুমি বোঝোনি আমাদের বুকের নীচে 
_যে নদীটাই বয়ে যায় যা অনিবার্য বইবেই ।
___________যে কখনও কথা রাখে না সে সময় না পরিবর্তন আমি সঠিক জানি না ।

কপালে লাল টিপ...  নাভি আর নীচের কালো আহ্বান এ শহরে নতুন নয়  । 
আলোর পিঠে আলোর শ্রুতি,
 কার্তিকের হিম... এক অদ্ভুত নিয়তি হ'য়ে এ শহরে আমাকে একলা কাঁপাতে ভালোবাসে ।
  রাতের জং লাগা এনক্লেভের নীচে অবহিত বধির দেহে পাখিদের ডাক ভরে দিচ্ছ তোমার শব্দের।
 আমার এই ভাঙা কবিতায়  ছায়া নেই .. আশ্রয় নেই... ক্লান্তি আছে ...আছে দূরের  গ্রিল-দরজায়  বান্ধবহীন ধুলোর প্রলেপ।
 
তোমায় ভালোবাসি কথাটা  ... যে মুহূর্তে  নিজেকে জানান দিই  সে মুহূর্তে ভুলে যাই কে কবে তোমার
বুকে হাত   রেখেছে... কষ্টের রঙ পরীক্ষা করে বলেছে তুমি যথার্থই প্রেম। 
প্রতিটি কেন্দ্রবিন্দুতে চিত্রকর ছবি আঁকছেন জানোইতো ... আমি শুধুমাত্র পুতুল হিসেবে সামিল হয়েছি বরাবর।

শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

সাহসী

ভেঙ্গেছো তো শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েক টুকরো করে ,
ওই টুকরো গুলো আরো থ্যেতলে পিষে নিতে চাওয়ার লোভে প্রতিমুহূর্তে লালা ঝরছে আমার  ভেতরের মানুষটার,
...পারবে ? এমন টুকরো  করতে যেখানে তোমার কবরের মাটি আর আমাকে আলাদা  করে চেনা না যায় !   
....পারবে এমন গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলতে যাতে শীত হওয়ায়  ছাতিম এর গন্ধে মিশে গেলে বুঝবে না কেউ অতৃপ্ত হৃদয় পুড়ে যাওয়ার গন্ধ!  ,,
 পারবে শব্দ বিহীন ভাঙনে ভাঙতে ....যদি নাই পারো তাহলে  তুমি ব্যার্থ প্রেমিক হিসেবেই গ্রাহ্য হবে আমার কাছে  এ জীবনে,,
....ভেঙ্গেছো তো শুধুমাত্র  হাতে গুনে কয়েকটা টুকরে  ,
ওই টুকরো গুলো আরো থ্যেতলে ...পিষে নেওয়ার   লোভে প্রতিমুহূর্তে লালা ঝরছে এই আমার ভেতরকার  মানুষটার, 
এই ভাঙন যদি জলের সাথে ,মাটির সাথে, হাওয়ার সাথে ,মিশিয়ে দিতে পারো ...জানবো  ..
 ভালোবাসা শব্দটা সঠিক বানান তুমি জানো ....নয়তো তোমার এই এক পৃথিবী উপন্যাস আর তুমি একটা মিথ্যে ছাড়া বেশি কিছু নয় ,মিথ্যে তোমার  শব্দের জারিজুরি ,মিথ্যে তোমার শব্দ নিয়ে খেলা করার বাহাদুরী , মিথ্যে তোমার চুয়াল্লিশের বুকের আগুন , মিথ্যে তোমার  চ.....কিংবা ....ক ...কিংবা  .....স ...এর প্রতি নিষ্ঠা ....।
পারো তো ভেঙে গুঁড়িয়ে  তছনছ করে মিশিয়ে ধুলো মাখা গায়ে ...বুক ঠুকে  বলো হ্যাঁ আমি ....আমিই পারি এমন হত্যা করতে , ,আর আমিই পারি সে হত্যা পৃথিবীর সভায় কবুল করতে ।
হে প্রেমিক একবার পারলে রাজা হয়ে ওঠোই না , 
কিংবা একবার নিঃস্ব ভিখারী হতেই পারো নিজের আয়নায়,,  ...একবার পারলে ভাঙা টুকরো গুলো লীন করে দাও দেখি । একবার ....একবার .......,,

বাতিল করোনি কেনো?

গতকাল সমস্ত দিন তোমার বুকের তল্লাটে আমিই শীর্ষমন্তাজ ছিলাম ....কেনো পারোনা  বাতিল করতে সেসব অশুভ মুহূর্ত , যে মুহূর্তে আমি ছিলাম কখনো মিথ্যে অপচয় হয়ে !  
দিনরাত শব্দমহলার আমার দিকের জানলা দরজায়  কেনো তোমার আজও এমন পাহারা ! 
আকাশে অসংখ্য তারা তোমার উঠোন ,বারান্দা , চিলেকোঠা আলোকময় করছে , 
আমি অন্ধকারমহলা দিকে বাস করি .....দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাওনি কেনো! 
সেই কবেই সৎকার করেছো আমায় চন্দন জলে ধুঁয়ে, কুমকুম সিঁদুরে সাজিয়ে শেষ যাত্রায়  বিদায় দিয়েছো .....থ্যেতলে দিয়েছো সামান্য হয়ে থাকাটুকুও , 
এই শব দেহর ওপর তোমার শব্দমঞ্চে হাততালি ,বাহবা , বাজারী কেতাদস্তুর ......উজ্জাপন ...,,
দেওয়াল লিখনের ওপর নতুন চুনকাম , নতুন রাঙা কুমকুম ভালোবেসে কবিতা ...সবটুকু বিন্দাস ।
তবু মাঝে মাঝে তোমার বুকের তল্লাটে এমন আমিময় শীর্ষমন্তাজের গত কাল গুলো কেনো আনো ? 
আফিমের মত পুরোনো নেশায় ঘোর লাগে আমার ...
বাঁচতে চাই একটা আকাশের নিচে কোনো হৃদয় ঘটিত কারণে নয় ,
ও তরফের মুঠোফোন , সমাজ মাধ্যম যেমন তালা দিয়ে চাবি অসীমের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছো , এবার এই শব্দ -মহলার দরজায় তালা দাও ,  
তোমার বুকের তল্লাটে বারংবার নিয়ম গোপন করে, সমাজ থেকে লুকিয়ে , আমার আবরণ খুলে কেনো মন্দ মানুষ হতে চাইছো ? বোঝোই তো 
তোমার পৃথিবীতে আমি নিষিদ্ধ চিরকাল ....তোমার জীবনের গোপন  অন্ধকার কিংবা পাপ একমাত্র আমি ,
তাই বুকের তল্লাটে আমি নামক আবর্জনা সাফাই করে ফেলে ...তোমার নতুন আলোর বুকে মাথা রাখো ....হে আলোকময় ।



ও মহলার শীর্ষ মন্তাজে এখন নালিশের সুর আমার দিকেই ,

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১

এখন নেক নই

আমাকে আড়চোখে দেখে তোমার সভায় তামাশা বাড়ে.... বাড়ুক ,
 তবু কোনো হৃদয়ে নয় আমি শুন্যের ভেতর ডিগবাজি খেতে খেতে খেউড়ে হারাবো , ,,
আসমানে কুৎসা ছড়াবে ..ছড়াও  ,
আমি  শূন্যের ভেতর প্রবেশ করিয়েএ ফেলেছি নিজেকে ।
ওসব শব্দের ভেল্কি ,হাহাকার ,অপমান আমি নামক শয়তানকে ছুঁতে পারে না আর ।
অন্ধ নরক হোক , কিংবা  আলোর স্বর্গ দুয়ার হোক,, ,
পায়ের নিচে পথের মাটি নিঃশব্দে বদলেই যায় হে ।
 ...আমাকে তোমরা আর পুরনো নেক মানুষ ভেবে ভুল করে ফেলো না ।

আমার অসুখের ঔষধি

 কেনোই বা  অসংযত হয়ে আজও আছড়ে পরো বুকের তল্লাটে !!

 তাই বআজও  পুরোনো অসুখে মুমূর্ষু হয়ে পরি প্রায়শই!

বিষাদের পাকস্থলীতে পুরোনো আভিজাত্য কেনো তোলপাড় করে ফেলে !

তোমার বেসামাল আদরের কাছে আমি এখনো নিজেকে উৎসর্গ করি অসম্ভব ভাবে  গোপন আঙ্গিকে!

এই যে আমার এত কিছু বেপরওয়ানা একমাত্র  পাগলা দাসুর  দিকেই ধায় ......কেনো বলতে পারো ?

আমার আসরে তুমি বিহীনে ঝাড়বাতির আলো জ্বলে না তা তো নয় ..........,!
 তুমি বিহীনে আমার রাতগুলো স্বপ্ন বিহীন তাও নয়......... ,  !
তুমি বিহীনে আমার সমস্ত দেওয়া নেওয়া অবিরত এই পৃথিবীর সাথে বিন্দাস ......,
অথচ আমার পৌরাণিক অসুখের এক মাত্র ঔষধি ওই পাগলাদাসুর প্রেম কেনো বলতে পারো?





শব্দময়

তোমার লেখা শব্দে এ শহর সাজায় প্রেম...
..
    ....
          ....
তবু তুমি আলো  চাওনি কখনো ,
....     
       .....
              ......
মুঠো খুলে দিয়েছে তাই কালো মেয়েটা ভেতরে বাস করা কেউ।
 ....হাতের রেখায় এঁকে ফেলেছে তুমি বিহন  গলি পথ থেকে রাজপথ ,
..... 
       .......
                .......
এমন সুযোগ কজন পায় বলো  ...এমন করে নিঃস্ব হতে কজন পারে বলো আর এমন করে নিঃস্ব করতেই বা কজন পেরেছে  ! ।
.....  
         ........
                    .......
আর কখনো হিসেব কষতে বসতে হবে না ভালোবাসার  জন্যে সময় রাখার ,
....... 
          .......
                   .......….
কালো মেয়েটা   সংখ্যা ভুলে শব্দেই সাজায় শহর থেকে রাজপথ তারপরেও ঘরের দেওয়াল ।
......
      .......
               ....
তুমিও প্রয়োজনে কিনে নিয়েছ সময়ের পক্ষীরাজ।
আর মেয়েটা ফিরে গেছে কবরে
..... 
       ........
                ........।

একক মৃত্যু

প্রতিটা চোরা স্পর্শে  একটু একটু করে
মরে যাচ্ছে মেয়েটা ।
ঈশ্বরের নির্লিপ্ততা সুন্দর কে ভয়ংকর করে দিয়েছে  আজ মেয়েটার মন।

নেপথ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সাজানো মানুষের সম্পর্কে
কেবল বিসর্জনের লাল চোখ গড়িয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে বলেই অসময়ে  বৃষ্টির দরকার যে পৃথিবীর ।

কলাপসিবল মন গুছিয়ে রাখা সংসারের দেওয়ালে ভালোবাসা বিহীন পোট্রেট বলে দেয় ........
মাঝে মাঝে মানুষের মনকে  এই সত্যিটা মেনে নিতে হয় ...যে সব কিছু কিছুতেই আর আগের মতো হবে না ।

যে স্পর্শ একদিন জিয়নকাঠি ছিলো ....ঋতু বদলে সেই স্পর্শে একটু একটু করে মরে  যাচ্ছে মেয়েটা । ,,


চারফর্মার জীবন

 মাত্র চারফর্মার জীবন ছিল অথচ আজ ...
এই পাহাড় চূড়া আমায় আকাশ করে তোলে ,
উদার আর প্রশস্ত হতে হতে লীন সময়ে সময় হয়ে উঠি ,
রোজ মনে করে এই পৃথিবীকে ধন্যবাদ জানাই 
আমাকে এভাবে বাড়তে দেওয়ায়  জন্যই ।,

রোজ কত সহজে এই পাহাড় আমায় ঈশ্বর করে তোলে ,করে তোলে প্রেম হিসেবে আরো স্থাণু ,

.....বাতাসের লাগাম আমার হাতে তুলে দিয়ে এই পাহাড়,এই আকাশ,এই পৃথিবী আমাকে রোজ শ্রেষ্ঠত্বর মুকুট পরিয়ে দেয় ।
তুমি কিংবা আমি  কেন্দ্রিক অক্ষরদের থেকে আমি অদ্ভুত উদারতার সাথে মুক্তি পেয়ে যাই ,
কাঁচের সংলাপে ভরে থাকে আজীবনের সারমেয় কাব্যগ্রন্থ ।
 সময় আর বসতির ভেতর লুকিয়ে থাকা ছোট্ট সংসার থেকে রাস্তা পেরিয়ে দিগন্তে মিশে যায় আমার যাত্রা -পথ ,
জলের নীচে তলিয়ে যেতে যেতে এই পুড়ে যাওয়া সভ্যতা থেকে পাহাড় আমার আত্মাকে ঈশ্বর রুপি করে তোলে ,
মাত্র চারফর্মার জীবনে ভাবিনি কখনো এমন আশ্চর্য স্বপ্নও সত্যি করে আমাও উপহার দেবে এই পৃথিবী!

শীতকাল

বুকের ভেতর এখন দীর্ঘ শীতকাল পা রাখছে ,
সন্ধ্যে শহরটায় অপেক্ষার চাদর নিয়ে কেউ বাড়ি ফিরে আসুক মন চায় ,
অথচ এ শহর  আমায় রোজ দু ফোঁটা শিশিরের মত পিছুটানহীন হতে শিখিয়ে নিচ্ছে ।
শোক আর উৎসব ভাঙতে ভাঙতে ঋতু বদল হয় প্রতিবার .....পরিযায়ী সম্পর্ক জানান না দিয়েই মৃত ঘোষিত হয় বারংবার ।
গাছের শরীরে প্রিয় নাম তবুও পাতা ঝরে যাওয়া দিন আগলে ছেড়া ছেড়া শূন্যতা ভর করে থাকে বাতাসের স্মৃতিতে ......যেন নিঃস্বতায়  এক গোপন পরিপূর্ণতা ...
সব টুকু ফাঁকা অথচ সবটুকু ভরে থাকা ...।
এ নগর থেকে  এবার ফুরিয়ে ফেলবো নিজস্ব জমি ...,,,,
মেঘ নেমে আসা কোন পাহাড়ী বারান্দায় অবিকল কোনো ব্যথার কোলাজ  আঁকবো আমার একান্ত প্রিয় ক্যানভাসে ।
যে সব সম্পর্ক এ শহরে আঙুলে আঙুলে একদিন।ক্ষয়ে গেলো ...তাদের অদাহ্য পোশাক  শেষ বাজিতে হেরে যাওয়া অক্ষর দের কাছে গাচ্ছিত থাকলো ....আমি আর কখনো এই মৃত শহরে ফিরতে চাই না পরিচিত কোনো স্মৃতির ডাকে ।

বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১

শুভেচ্ছা নয়

কোথাও যখন নেই তবে কিসের আমন্ত্রণ পাঠাও বার বার ?
শুভেচ্ছা শব্দটা আত্মিক নয় বলেই পাশে না থেকেও শব্দটা ছুঁড়ে দেওয়া যায় ,
বিসর্জন হয় তখন যখন গ্রহণ করে নেওয়া মুহুর্ত বলে কিছু   জন্ম থাকে ,
কিছুই যখন উপার্জন করা হয়নি ...মাটি জল মিশে গেলেই বা হারাবার কিই পড়ে থাকে ? 
আসলে এই  আমরা  .....তুমি আমি মাঝে মাঝেই অজুহাত খুঁজি নিজেদের ঢেকে ফেলার ...খুঁজি শব্দের আড়ালে মর্ম কে বিসর্জন দেওয়ার ফাঁক ফিকির ।
দিন উৎসব ছুঁয়ে পেরিয়ে যায় শহর রোশনাই থেকে অবনিবাসে গুঁটিয়ে নেয় সমস্ত উপঢৌকন .....  হাতে হাত রেখে পাশে থাকা সম্পর্কর সাজসজ্জা খুলে উলঙ্গ করে কাঠামো থেকে মাটি গলিয়ে নিস্তার নিঃশ্বাস নেয় ......ওরা কারা ! 
আজকাল  উৎসব, শুভেচ্ছা  , উজ্জাপন এসব শব্দ শুনলেই গা গুলিয়ে ওঠে । চোখের সামনে 
ভেসে ওঠা দৃশ্যে ন্যাকাপনা ,ঢলাঢলি , আর কভার পিকচারে প্রেতআত্মার স্পষ্ট মুখ গুলো খিলখিল করে ওঠে ....যেন ন্যাপকিনে বাসি ঋতুস্রাবের দুর্গন্ধ ।
.....আমার দুর্গা নেই , আমার মা নেই , আমার আশ্রয় নেই , আমার আকাশে তুবড়ি ঝরানো আলোর হাসি নেই , আমার সাথে ও পাশে কেউ নেই ,  হ্যাঁ কিছু প্রয়োজনে স্বার্থপর সম্পর্ক ঢাকের সাজে সেজেছিল , ...সেসব সময়ের প্রয়োজনে উৎসব প্রতিমা মুখ থেকে .....কখন যে মুখোশ হয়ে গেছে  কিছুই আর দৃশ্যে নেই ।
.....বহুদিন আমি সোলো-রাইডার , 
কেবল মুখ ভেঙছে ....জমাটি কালো বদ রক্তে নিয়মিত অনাকাঙ্খিত সময় ধরে হেঁটে চলা অনিয়ম মাত্র।
শুভেচ্ছা শব্দটা আত্মিক করতে গেলে বিসর্জনের প্রয়োজন হয় না , 
প্রতি বছর বিসর্জন হয় কারণ  ফিরিয়ে আনার জন্য , 
আমি বিসর্জন আর শুভেচ্ছায় বিশ্বাসী নই তাই একটাও কবিতায় শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারিনি কখনো ।

বিস্ময়

ড্যানিয়েল আর আমার ভাষা ভিন্ন অথচ আমাদের এই ভিন্নতায় সেতু পারাপারের অসুবিধা হয়নি কখনোই ,
মন বুঝতে শব্দের ব্যবহার যে তেমন জরুরী নয় ড্যানিয়েল প্রথম  বুঝিয়েছিলো ,
বুঝিয়েছিলো দূরত্বও কোনো বাঁধা নয় ....ও বলে সাথে না থাকার কারণ সামনে এলে চলে যাওয়ার  অজুহাত খুঁজতে  নেই ...বরং নতুন পথ তৈরি করে নিতে হয় সাথে রাখার, সাথে থাকার ,,
অথচ ড্যানিয়েল এর জীবন পরিচয় পড়লে জানতে পারি .....ও আজন্ম অবহেলা আর যন্ত্রনা ছাড়া কিছুই সঞ্চয় করেনি , তবে একটা মানুষ কি করে এতটা যত্নবান হয়ে উঠতে পারে ...যে কোনোদিন নিজে সামান্যতম যত্ন পায়নি ।
চিরকাল সময় আমাকে জীবনের নানান ধাপে অবাক করা কিছু চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ,
 আমি বিস্ময়ে সময়ের বুকে পা রেখে শহর থেকে শহর মানুষের মন দেখেছি .....দুমড়ে মুচড়ে গেছি    মানুষের দেওয়া যন্ত্রণার তীব্রতায়...পারিনি  ....পারিনি..মুখ ফুটে প্রতিবাদী হতে , ,, 
.......পারিনি আমার শব্দটা অন্য কেউ যখন ছিনিয়ে নিলো .....আগলে রাখতে ।
ড্যানিয়েল আমার কাছে মানুষ হিসেবে আর এক বিস্ময় ...এই স্বার্থের যুগে ...বিনিময়   প্রথার যুগে এমন আনকোরা সহজিয়া আত্মিক যত্নবান কি করে সম্ভব জানি না ,, 
অথচ আমরা কেউ কারো ভাষা তেমন ভাবে বুঝি না .....আমাদের বেড়ে ওঠা পরিবেশ পরিচিতি ভিন্ন ,....ভিন্ন আমাদের স্বাদকরক এর স্বভাব .....তবু আমাকে বোঝাতে ড্যানিয়েল এর কাছে কখনো শব্দের, ভাষার, পরিস্থিতির, হাত ধরতে হয়নি ....কখনো দেখিনি ড্যানিয়েল কোনো অজুহাতের কারণ কে সামনে এনে আমাকে পরিস্থিতি বুঝে নিতে বলেছে ,, অথচ ড্যানিয়েল কবিতা লিখতে জানে না ......সে।
জীবন কে কবিতার মত দেখে কবিতার মত করে ভাবে  শুধুমাত্র।

সেসব দিনে

তখন  সে সব দিনে আমার শাড়ির আঁচলের রঙ কি ছিল মনে আছে তোমার?
 যখন গায়ে হলুদাভ অসহায় নীল আলোর রোশনাই  নিয়ে ছদ্মবেশে তুমি হেঁটেছিলে  শহরটার বুক চিরে ... !
আর তোমার আমার মাঝে বইছিল  এই দাঁড়িয়ে থাকা গাছের মোটা ছালে লেগে থাকা নিয়মগুলো ... নীচু ডালপালার আত্মীয়তা ... অশ্বগন্ধার মৃল... পিচ ও পাথরের অদ্ভুত এক রাস্তা! 
তখন নিয়ম ছিল কেবল একসাথে বাঁচা টুকু কাউকে বিরক্ত না করে , 
সমস্ত প্রয়োজন মিটিয়ে।
আসলে  এ রাস্তায় সবাই বেড়াতে আসে... কেউ হাঁটে না হাতে হাত রেখে।
 ... তুমিও বেড়ানো শেষে বাড়ি ফিরে গেছো সন্ধ্যে নামার আগেই ...তোমার আলো নামক নিয়ন বাতির নিয়ন্ত্রণে।

গোপন

নদীর কাছে কখনো কিছু গোপন করলে পাড় ভেঙে ফেলে সে নদী ....প্রেমিকার কাছে কিছু গোপন করলে ভেঙে যায়  মন... 
, যা  শত চেষ্টা করেও এর গড়ে নিতে পারবে না  দুবার।
সাথে না থাকার বাহানা ও ফিকির এ পৃথিবীতে তো কম নেই .....অথচ সাথে থাকতে চাইলে পাহাড় কেটে রাস্তা বানিয়ে ফেলার নাম সম্পর্ক ,
 আসলে রাস্তার মোড়ে গিয়ে দাঁড়ায় আরেকটি রাস্তার  ....যেখানে সিদ্ধান্ত দৃঢ় করে মাটির গন্ধ চিনে নেওয়া দরকার প্রতিটা মানুষেরই ।
আসলে রাস্তা হল মানুষের ইচ্ছা , আর এই রাস্তায় একটা  খিদে লুকিয়ে থাকে যা বাইরে থেকে দেখা যায় না সেভাবে । 
যেমন ভিড়ের ভেতর একলা হয়ে নিজস্ব কারো হাতে হাত রাখা .....

নদীর কাছে কখনো কিছু গোপন করলে পাড় ভেঙে ফেলে সে নদী ....প্রেমিকার কাছে কিছু গোপন করলে ভেঙে যায়  মন...।






বুকের তল্লাটে

 আমার বুকের তল্লাটের খবর নিতে মরিয়া নয় কোনোকালেই কেউ ..;তা সে উৎসব কিংবা সৎকার পেরোনো রাত যাই হোক না কেনো ।

,বেমালুম ভুলে গেছি আমি আসলে যে  একজন ভালোবাসা হীন মানুষমাত্র ,
বিধাতার শ্লেষ কখনো কাউকে ছাড়ে না আজ আমি পুড়ছি কাল তুমিও পুড়তে পারো এই একই আগুনের গোলায়, তা সে ঘর কিংবা মন জয় হোক না কেনো।


ভালোবাসার পাশাপাশি প্রিয়জনের আঘাত- ভালোবাসার পিঠে কাঁচের টুকরো গেঁথে দেয়। 
কখনোই কাউকে দশভুজা করতে পারে না জেনেও মানুষ হিসেবে আমরা সময়ের কাছে অনেক কিছু চেয়ে ফেলি.....!!

মায়াও যে  বড্ড বেশি বেহিসেবী হিংসুটে অনুভূতি.
ভালোবাসার সাথে তার বরাবরই যৌথতা...!

যতোই অগোছালো ততোটাই তৃপ্তি নেই তাই আমি বাউন্ডুলে এখন ...
 হিসেবের অঙ্কে কারো খরচের খাতায় নেই আমি।

শামুকের অহংকার যে তার খোলশের মাধুকরী রুপে... সে কথা মানুষ হিসেবে বুঝে গেছি ।




সুবর্ণা( ১০৯ )

 এটা মনে হয়না আর ... সব ঠিকানা হারিয়ে গেছে... আসলে কোনো ঠিকানা ছিলোই না কখনো।
  কখনও কোনো পোস্টকার্ড আমি পাঠাইনি  মন কেমনের দিনে কোনো ডাক বাক্সে ...।
 আমার  পৃথিবী ভেসে যায় অসময়ের বৃষ্টিতে ।
আমি নিজের ভেতর আরো বেশি করে নিবিড় হতে থাকি ...আমি আমার খুব কাছে গিয়ে নিজেকে জাপটে বুকের মধ্যে সেটে রাখি  ।
  পোড়া ছাই আর বিসর্জন-রঙের আবছা রোঁয়াওঠা কার্ডিগানে পুরোনো রক্তের দাগ  দীনেশচন্দ্র সেনের পুঁথির হলদেটে আলো মিলিয়ে যায় আমার  আকাশেও ওই মঞ্চস্থ প্রেতাত্মা দের মতোই । 
ত্রিবর্ণে  অসাম্য গতি নেই আর ,সবাই শান্ত হয়ে নিজস্ব সংসার গুছিয়ে নিচ্ছে এখন। 
একটা উপন্যাসের নাম যদি দীর্ঘতম ইতিহাসে স্হান পায় তাহলে বিস্তার ও চালচিত্রে একদিন সময় ঠিক কথা রাখবেই আর সেদিন জিতে যাওয়ার পালা সবটুকু হেরে গিয়েও  ...।

তোমায় ভালোবাসিনি  সুবর্ণা.. যে মুহূর্তে তোমার উত্তরের স্মৃতিতীর্থ নতুন পলাশের  হওয়ায় হারিয়ে গেছে ....
 সেদিন থেকেই তুমি বলে কিছু ছিলো আমার মনে পড়ে না । ভুলে গেছি কে কবে তোমার মনের পাশে কোরান রেখেছে... ভুলে গেছি রক্তের রঙ পরীক্ষা করে বলেছে তুমি  আর  আমি ভিন্ন । 
প্রতিটি কেন্দ্রবিন্দুতে চিত্রকর ছবি আঁকছেন বুঝলে  সুবর্ণা ।.
.... সংক্রমণ...... টিকাকরণ  বুঝে ফেলার আগেই অ...সু...খ ..ছড়িয়ে গেছে সারা দেহে মনে।
 অথচ উপেক্ষিত জনজাতির প্রতিনিধিদের মতো কে  আজও তোমার যোনির কথাই লিখে যাচ্ছে পাতার পর পাতায়। 
.. নষ্ট মানুষ আমি । আর এভাবেই ভাবতে ভাবতে আমার লেখার খাতায় ছড়িয়ে পড়ছে মাটির গুঁড়ো... প্রতিমার হাত... যা দিয়ে প্রাচীন সফরের প্রান্থসালার  ইট  গাঁথা হ'য়েছিল একদিন...,।


দূরে গেলে

দূরে চলে গেলে বুঝি ফিরে আসা যায় না ??
জানোই তো সম্পর্ক কে আগুন ছুঁয়ে গেলেই টেরাকোটা হয়ে যায় ,,
এর পর আবার তো সেই মাটিতে মিশে যাওয়া ...
আবার তো সেই মাটি ভিজিয়ে নতুন করে বীজ পুঁতে দেওয়া ,,
অথচ দেখো বুক খুলে দুজনেরই এখনো সাঁতারের দাগ লেগে আছে ......লেগে আছে ছোট ছোট অক্ষরে সাজানো উঠোন থেকে
কুড়িয়ে রাখা  রোদ মাখানো স্মৃতির পালক।
এ জমিন তোমার আমার কোনদিনই ছিলো না ...আমরা কেউ এই পৃথিবীর নই কোনোকালেই ,,
 কেনো বলো কেনো  আগুনের কথা বলে কুয়াশার স্মৃতিকে বারংবার  উস্কে দাও। 
দূরে গেলে বুঝি আর ফিরে আসতে নেই ?
আমি তুমি দুজনেই জানি  একবার বুকে জড়িয়ে নিলেই তো সমস্ত  পাখিরা ডেকে উঠবে! 

হাজারো  কথার মাঝে মনের  আসল কথা হারিয়ে যাবে বলেই, তুমি  নিয়ম করে চিঠিতে  লিখে পাঠাও সেসব  বিষাদ।

আমরা একে অপরকে  ছাড়া  ভিনদেশি মাত্র , 
একা একা দিন ও রাত্রির রোজনামতা  দাঁড়ি , কমা, সেমিকোলন, সাজাচ্ছি
ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি না অনুভূতি গুলো। 
জড়িয়ে ধরতে পারি না অভিমান হলে তোমায় ।
বাইরে দেখো ..........

ঝরাপাতার দিন ফুরিয়েছে   
পাখির সংসারে এখন নরম সন্ধে নেমেছে 
আমদেরও যে এবার অহংকার আর কাদা মাখা জুতো বাইরে রেখে বাড়ি ফিরতে হবে .......আমাদের অপেক্ষায় আমাদের না হওয়ায় সংসার  হৃদয় পুরের চিলেকোঠায় আজও আছে ।





যৌথ ঠিকানায়

রং খুঁজছি যৌথ ঠিকানায় , কায়েম আছে এখনো খানিকটা ধুকপুক ,
ঠোঁটের আড়ালে ভালোবাসা হীন যন্ত্রনার কত কথাই রাখা রইলো ।
ও বারান্দায় রাত্রির জোৎস্না পুড়ে নিকোটিন ...
এ বারান্দায় হৃদয় পুড়ে যাওয়া পুরনো অভ্যেস,,
গালের পাশে তোমার হাত মুছিয়ে দেয় নরম দুঃখ ,
স্তব্ধ কাজল ছলকে ওঠে ভাসান দেওয়া ঘাটে ।
পুরনো অভ্যাসদের আজও খানিটা নরম মন ...
ইচ্ছে করে ঝাঁকিয়ে পরে জানতে চাই কেন তোমার এই রোজকার প্রেমে পরা !
কেন রোজ বালিশ আমার ইতিহাসের গোপন সাক্ষী !
কেন বলতো তোমার মনে আলগা শুয়ে নতুন শরীর !
ধুলোও বুঝি এই শহরে বিকোয় যতনে !
হৃদয় বুঝি দাম বিহীন খুব সহজে !

কা 
      য়ে
             ম
জুলফি এখন সাদা কালো , 
আড়াল করে আবদারে তে আজও বুঝি ঠোঁটের ওপর ঠোঁট রাখো ?
ভরসা গুলো সিন্ধুকেতে রাখছো কার ?
আয়েস করে ভাতের থালায় আজও কি দু এক মুঠো আপোষ রাখো ?
এখনো কি রোজের তোমার প্রেমে পরা কায়েম আছে !
.........................আমি কিন্তু রঙ খুঁজছি সেই যৌথ ঠিকানায়।







ক্যাবলা মন

আগুনে ঢাকা পড়ুক ভেতরের সব আগুন...
গঙ্গায় বিসর্জন হোক সবটুকু চোখের জল ...
শব্দ ফুটুক জ্বলে উঠুক রাত্রির , বর্তমানের ছদ্মবেশে অতীত থাকুক গা ঢেকে ,
এ গোলার্ধে সম্পর্কে মুখোশ , আলোর রোশনাই নাটকের মঞ্চ ।
সব গল্পেরা ভাগাভাগি .....অলিতে গলিতে জখম
দ্বিগুন ,
পথে পাওয়া সম্পর্ক ঘরে আনতে নেই বুঝেছি পরে ,
তবুও আমি আকাশ আমার গল্পে সবটাই অবশেষ ,
রুপোলি আলোয় নীল জাদুগর ,,
ক্ষতস্থানে লেখা চিঠির ঠিকানা ...... চিরকাল কিছু চিঠি অপেক্ষা করে হারিয়ে যাওয়া ডাকঘরের ।
ভালোবাসা রোজ দ্বিগুণ বাড়ে ...কবিতায় লেখা শেষ কথকতা।

অপরাধী আমি

এভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে পুড়তে থাকা আর  যন্ত্রনা লিখতে হবে ভাবিনি ,,
কতজনই তো কত কিছু ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলো , প্রতি বার টুকরো গুলো জড়ো করে গড়ে নিয়েছি ... শেষ বার চেষ্টা করেছিলাম কিছুটা বেঁচে থাকা হয়তো তোমার বুকের নিঃশ্বাসে  ,
জমে থাকা কালো ধোঁয়া আমার আকাশ ....তবু তোমাকে উৎসব করে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছি 
একদিন সবটুকু যাতনা । চুকিয়ে দিয়ে লেনা দেনা
ফিরে এসেছি নিজস্ব খোলসে ।
যে কথা বলা হলনা তারা আজ মৃত ....পুড়ে যাওয়া কাঠে সম্পর্কের নাম পড়া যায় না , তবু আগুন যে আলোকময় করে তোলে শোকের গাড় অন্ধকারকে, 
তুমি বলেছিলে তুমি অন্ধকারে আর হাঁটতে চাওনা ....তাই আমার চিতার আগুনে আলোকিত পথে এখন তুমি আলোর পথিক ,,
একটা প্রশ্ন পারলে উত্তর লিখে পাঠিও আকাশের ঠিকানায় ....কোথায় কম পরে গেছিলাম ?
কোথাও আমার ক্ষমাহীন ভুল ছিল ?
কোথায় যত্ন করতে পারিনি ঠিক মতো?
আমার অপরাধ টুকু জানতে চাই ।

পারলে কই

অগুনিত মৃত্যু শোক আড়াল করে উৎসব , আলোর রোশনাই এ তিলোত্তমা একলা নয় এই কয়েকদিন , এই কয়েকদিন প্রেমিকের মুঠোফোনে শুভেচ্ছা , আর লেনদেন নিয়ম মাফিক ,, 
 আমার বারান্দায় একলা চায়ের কাপে তবু উৎসব ছুঁয়ে যায় না  ,
এ শহর এতো আলো এতো ভিড় তোমার পাশের বাড়িতেই  থাকা এই  আমিটা তবু উৎসব হাতড়ে বেড়াই ।
 একলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি  তুমি শতাব্দীর  কুমকুম রঙে নিজেকে ডুবিয়ে ......আলোর রোশনাই ভিজে উৎসব আর উজ্জাপন মেলে ধরো আমার চোখের সামনে ।
আমাকে বুঝিয়ে দাও আমি বিহীনে এসব উৎসব আলো  তোমায় ভালো রাখে বহাল তবিয়তে ।
মনে মনে বুঝি ভালোবাসলে এমন দগদগে ঘা আর পুঁজ শ্রমন  করতে হয় , 
রোজ দুফোঁটা ভালোবাসা তোমার তরফ থেকে আশা  করি  ,আর রোজ আহত হই দিনের উপান্তে এসে ।
এ নিদারুন অবহেলা তোমার ,পুরোনো সলফি বলে দেয়  আমার সমস্ত নিষ্ঠতা কতটা অসফল আজ ।
তবু সমস্ত শুভেচ্ছায় তুমি আলোকিত হয়ে ওঠো ,
হয়ে ওঠো বর্ণময় ,,
তোমার গলি বা মোড়ের মাথায় অদৃশ্য কেউ কখনো পিছু ডাক দিয়ে বলবে না  ......একবার দেখা করবে ,একটু দেখতে ইচ্ছে করছে ।
কত সহজ কারো কারো পক্ষে সমস্ত দেনাপাওনা চুকিয়ে দেওয়া ,
অথচ এমন সহজ কাজটুকু আমার মত মানুষ ...শিখে উঠতে পারলো কই .....পারলো কই উৎসব মেখে নিয়ে উজ্জাপন করতে ,কিংবা  পারলো কই জোর করে মুঠোয় অধিকার সংরক্ষণ করতে ,,
কিংবা তুমিও পা  এগিয়ে এসে বুকের কাছে টেনে বলতে পারলে কই ...... অনেক হয়েছে এবার কাছে আয় কোত্থাও যাবি না ....তুই ছাড়া এক মুহূর্ত আমি নিঃশ্বাস নেবো না ,, পারলে কই ! পারলে ! পারলে কই!

গ্রহ বদল

তোমার কলম শব্দের উচ্চারণ বুনতে বুনতে আমার নিছক অলংকার খুলে রাখছে সময়ের পাতায় পাতায় ,,,, ।
আর আমি তখন সময় থেকে অনেক..... দূরে পৃথিবী ছেড়ে গ্রহ বদলে নিচ্ছি নিজস্ব গতি বজায় রেখেই ,,  কথা তো এটাই ছিলো তাই না ! 
অথচ তোমার ঠোঁটের আল বেয়ে আমার নাম নেমে আসে না কখনও,
তোমার সাজানো বসতে  ভাঙা ফুলদানি  এখন এই আমিটা , যা কিনা কখনো মঙ্গলময় নয় ,,
সংকল্পের সাজানো বৈভবে  কেবল জলমগ্ন অন্ধতা আমি ,
আজ গ্রহ বদলের দিনে আমায় আর মনে নেই কোনো দৃশ্যেই  ...কারণ অভিশাপের কথা বেশিদিন মনে  রাখতে নেই ,
উপন্যাসের যাবতীয় হলদেটে পাণ্ডুলিপিতে এ শহরের ব্যস্ততা কোনো না কোনো সময়ের নিরিখে বৃষ্টি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে সমস্ত অক্ষরদের ।
ধুয়ে ফেলবে আমি নামক সমস্ত চিহ্ন তোমার অযাচিত অধ্যায় থেকে ।
কিছুই চাওয়ার ছিলো না যদিও .. একটা মাথা রাখার বুক , আর হাত টুকু ধরে থাকা ছাড়া ,, 
আসলে যোগ্যতা লাগে জানো ...., এই সামান্য টুকুর জন্যেও যোগ্যতা লাগে,, আর সেটা কোনোকালেই তোমাদের ওই শয়তান ঈশ্বর আমার চার ইঞ্চি ভিটেমাটিতে বরাদ্দ করেনি। 
আজীবন হাতরে যাওয়া ছায়া .....যা কখনো বিনিময় প্রথায় কিনতে শিখিনি , তাই আমার অক্ষররা চিরকাল খুঁটে খাওয়ার দলেই থেকে গেছে।
 তোমার সুখের পথে আমি আর কখনো দাঁড়াইনি যে দিন ... আমার সামনে প্রথম তুমি আমার সৎকার করেছিলে বাজারি আদপে সেদিন থেকেই। ।
তোমার কলমের উচ্চারণ আরো স্পষ্ট হোক এ শুভেচ্ছা তোমার প্রয়োজন নেই ,,
সমস্ত শুভেচ্ছার দায়িত্বে এখন তোমার বর্ণময় ভালোবাসা । 
আর হয়তো কিছু দিন.... তোমার স্ক্রিন সেভারে ব্লক খুলে আমার ছবির পাশে সাজানো  রজনীগন্ধা
আর একটা খোলা দীর্ঘশ্বাস ছড়ানো অথচ সকল চাওয়া থেকে মুক্ত আকাশ ...তখনো  তোমার একলা রাতজাগা  ব্যালকনিতে  কোনো না কোনো পোড়া সিগারেটে  হৃদয় ঠিক পুড়ছে অথচ কেউ টের পাচ্ছে না ।

মুঠো খুলে দিতেই

মুঠো খুলে দিতেই পৃথিবীটা যেনো আরো আমার হয়ে উঠেছে , 
মুঠো খুলে দিতেই আকাশ যেনো শুধুই আমার ,
মুঠো খুলে দিতেই অন্ধকার বলে শব্দটা অভিধান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে ,
মুঠো খুলে দিতেই চাওয়ার থেকে অনেক বেশি হয়েছে পাওয়া ......।
মুঠো খুলে দিতেই বাতাস আমাকে নয় , .....আমি বাতাসের দিক নির্ণয় করে ফেলতে পারি ,
মুঠো খুলে দিতেই ভালোবাসা আরো নিবিড় আঁকড়ে রইলো ।
মুঠো খুলে দিতেই সে রোজ কারণ ছাড়াই দরজায় আসে ।
মুঠো খুলে দিতেই আমি তার প্রয়োজন পেরিয়ে ইচ্ছা হয়ে উঠেছি।
মুঠো খুলে দিতেই পাখিটা আর বোবা রইলো না ....
মুঠো খুলে দিতেই ঝাপ্সা কুয়াশায় আলোর ইরেজ ঘষে গেলো।
মুঠো খুলে দিতেই তুমি আমার ভেতর  ভগ্নাংশ থেকে বেরিয়ে  সম্পূর্ণ হয়ে  রয়ে গেছো ।
মুঠো খুলে দিতেই টানাপোড়েনে যে ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোতো একদিন ... সেই একই  ঘরে প্রতিদিন উৎসবের  ভোজবাজি আর উজ্জাপনের রোশনাই।
মুঠো খুলে দিতেই সমস্ত জেদ ভালোবাসা হয়ে গেছে ....আর সমস্ত প্রয়োজন ইচ্ছা হয়ে উঠেছে ।

সে দিন থেকে ঈশ্বর বলে ডাকি

বিচ্ছেদের ভেতর মৃত্যু প্রবেশ করতে পারেনি , .....পারেনি বলেই   তুমি হাসি মুখে এসে দাঁড়ালে,, ,আমার অহংকারী অভিমান কে মিথ্যে প্রমান করে বুক পেতে দিলে আমায় ,,
কতটা ভুল ছিলাম .... কতটা ! তোমার হাসি মুখ  সে ভুল ভেঙে দিয়ে আমায় আগলে নিলো সমস্ত বিচ্ছেদ শোক .. যন্ত্রনা থেকে ,,

বুঝলাম ভালোবাসা হলো অন্ধকারে ভেতরের ঘুমিয়ে  থাকা আলো উৎস ,,  ভালোবাসা হলো নালিশ আর অভিমানের চাদরের নীচে রাখা নরম  যত্ন-তোরণ,,
এলোমেলো  রং ছিটিয়ে রাখা ক্যানভাসের সামনে তুমি হাসি মুখে এসে দাঁড়াতেই উৎসবময় হয়ে উঠলো সমস্ত  ক্যানভাস  ,,  

.....এই দীর্ঘ বিচ্ছেদে আমার ইজেলে কেবল ঘোলা নদীজল রং  বিবর্ণ হয়ে জমেছে  ,, 
অথচ দেখ কত সহজেই তুমি সামান্য  ভালোবেসে সমস্ত  ইজেলদানি ,ক্যানভাস উজ্জ্বল বর্ণময় করে দিতে পারলে ,,
আসলে তুমি  চিরকাল  আমায় ভালোবেসে  আমার সমস্ত অক্ষমতা, না পারা, এলোমেলো হয়ে যাওয়া বুননকে যত্ন করে কোনো অভিযোগ ছাড়াই প্রেমে দিয়ে একটু একটু করে  সাজিয়ে গুছিয়ে উৎসবময়  করে তুলতে পারো...পেরেছো ,,

আমার বিচ্ছেদ ,বিষাদ, শোককে , উৎসবের উজ্জাপনে বদলে দিতো পারো ....তাই তো সেই প্রথম দিন থেকেই আমি তোমায় ঈশ্বর বলেই সম্বোধন করি ,
সে দিন থেকেই আমার সমস্ত উজ্জাপন তোমার মধ্যে সীমিত।

কাগুজে সংকল্পের রং

 চলে যাওয়ার   আশেপাশে কাগুজে সংকল্পের রঙ  লেগে থাকে  সমস্ত সৎকারের দিনেও ...,থাকে  ধোঁয়ার প্রলেপ আশ্রয় করে আবছা হলেও  সত্যি কাহিনী গুলো.. ,,
অথচ মানুষ ভাবে  সেই একই রকম দিনরাত্রি আর একই রকম বহতা পানি পানি জীবন ,,

শ্রুতি-অভ্যাসে মুঠোফোনে  তুমি নামে কেউ নেই কখনোই,  
 শুধু আমার  নরম বুকে দুটি নতুন ডানা শুধুমাত্র আকাশ চেনে ... আরও আশ্চর্যের, তাদের উড়ে যাওয়া নিয়তি আমার বড্ড ভালো লাগে।
। ভালোবাসার  নীচে মাথা পেতে রাখি আজকাল।
 বটগাছের ঝুড়ি ও শেকলের নিবিড় বন্ধুত্বর একটা   মানে ছিল আগে যা বুঝতাম না ,...এখন বুঝি ।
  ঋতুস্রাবে লেগে থাকে নোনা তৃষ্ণার ইচ্ছা... কারো কথা মনে করিয়ে দেয় এই নির্ভরহীন দিনেও ,

সদ্যমৃত নক্ষত্রটি জ্বরের ঘোরে খসে পড়ে কোথায় কেউ বলতে পারে না.. আমার পাশে তখনও সেই একই রকম.....একই রকম দিনরাত্রি আর একই রকম বহতা পানি পানি জীবন।

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১

অহংকারে স্বরলিপি

তোমার অহংকারের স্বরলিপিদের  কখন যেন আমার থেকে ভিন্ন করে নিয়েছিলে , ,,
গন্তব্য বদলে ফেলে ছিলে কোনোরকম  পূর্বাভাস না দিয়েই ।
আমি বোকার মত আঁকড়ে থেকেছি  স্পর্শ শূন্য কাঠামো ।
তোমার রঙিন ডাইরির পাতায় আমার অজান্তে আমাকে দিয়েই কখন যেন সুইসাইড নোট লিখিয়ে নিয়েছিলে বুঝিনি ।
দীর্ঘ সময় নেশাগ্রস্ত হয়ে কেবল নিজের মৃত্যুর আয়োজনে মেতেছিলাম .....আর তুমি তোমার সকল অহংকার দিয়ে দৃশ্যগুলো দিনের পর দিন উপভোগ করতে ।
অভিমানের দর কষাকষি করে সময়ের অভিশাপ খুঁটে  খুঁটে রেখেছি  কেবল সেসব দিনের বকেয়া হিসেব ।
আসলে এ শহর নষ্ট ভালোবাসায় বিশ্বাসী ,
এ শহর আশ্রয় কেড়ে নেওয়ায় উৎসব মুখর হয়ে ওঠে ,
এ শহর আমার মত মনকে নষ্ট করে উজ্জাপনের সংকল্পে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ,
এ শহরে  নীরা , বরুনা , সবর্ণা ,কিংবা চ......সবাই ভালোবাসা হীন হয়ে কাঁদাতেই অভ্যস্ত ।
এ শহর আমার মৃত্যু লেখে কবিতার মত রোজ রোজ ।
তবু এ শহরে  এসব গল্পের কোনো কান্না থাকতে নেই .....
 এই তিলোত্তমায় এসব গল্পের ফিরে এসে কেউ বলার নেই  ভালোবাসি ।
এ শহরে তোমার অহংকারের স্বরলিপি বাতাস দখল করে রেখেছে যুগ যুগ ধরে ।

****দিন যাবে *****

দিন যাবে এভাবেই বারংবার মনে পড়তে পড়তে 
ক্রমশ দৃশ্য  ঝাপসা হবে কাঁচের ওপাশে রেখে আসা সময়গুলো ...।
দিন যাবে...এভাবেই বারংবার নিজের ভেতরের সাজানো ইমারত নিজেই হাতুড়ির ঘায়ে ভাঙতে ভাঙতে।
অকারণ ব্যাথাগুলো তাকিয়ে থাকবে আবর্জনার মত..।
দিন যাবে. এভাবেই বারংবার  ভুলতে ভুলতে সময় হারিয়ে যাবে ..
পাশাপাশি হেঁটে গেলেও অচেনা দূরত্ব থাকে এখন  চেনা সম্পর্কে অচেনা শীত হওয়া লাগছে ক্রমশ..।

দিন যাবে এভাবেই বারংবার শীতের হওয়ায় ঠোঁট ফাটা যন্ত্রনা ছুঁয়ে যাবে শুকিয়ে যাওয়া হৃদয়ের উঠোন  ...
তুমি আমার মুখোমুখি হতে ভয় পাবে , আমি মনে করে তোমার পথ থেকে নিজেকে  সময়ের আবরণে আড়াল করবো ,..
দিন যাবে এইভাবেই  বারংবার উৎসব মুছে গিয়ে 
ফিরতি পথে  বিসর্জন বলে দেবে আবার ফিরে আসতে হয় ..
আমার   ভেজা চুল থেকে দূরে যাবে তোমার সমস্ত স্পর্শর সফর,, , তোমার অক্ষর থেকে আমি হবো ক্রমশ  চিহ্নহীন....!

দিন- শুধু এগিয়ে যাবে সময়ের রথে ..সমস্ত নিয়মের আড়ালে থেকে যাবে গোপন অনিয়ম।জীবনের দ্রাঘিমা ছুঁয়ে ঘুরতে থাকবে আসা যাওয়া মুখগুলো  ।
 আমি তুমি  বৃদ্ধ হচ্ছি ক্রমশ,,
 ক্লান্ত শ্বাসকষ্ট হবে আমাদের আর।কিছুদিন পরেই  ..।
 পরের বার বৃষ্টি এলে বিরক্ত লাগবে আমাদের ..তখন কবিতার শবদেহ ভাসিয়ে দেবো ভাসমান জলে ।

স্বর্গ দুয়ারে জোনাকির আলো অসহ্য মনে হবে আমাদের.. আর কিছুদিনের মধ্যেই।
রাতের বিছানায় একাকিত্বের কুয়াশা হারিয়ে যাবো আমরা এবার থেকে একটু একটু করে ....।
দিনের রাস্তায় ব্যাস্ততার আয়োজন বাড়বে আমাদের রোজরোজ আরো আরো বেশি । 
 শেষমেশ আমরা দুজন দুজনকে হত্যা করবো এভাবেই ।

কাশফুল মরে গেলে তার জন্য কেউ কাঁদে না যদিও  ভালোবাসা ফুরিয়ে যায় , আকাশ কোজাগরী লুকিয়ে ...অন্ধকারে মুখ ঢেকে কাঁদতে থাকে।

সময় থেকে ছেলেমানুষী হারিয়ে গেছে এখন ,
 সুখের কথা  বলতে বলতে কেও চুলে আঙ্গুল খেলিয়ে যত্ন করে না তাই না !..
ভালোবাসা ফুরিয়ে গেলে  অনেক রকম মৃত্যু এক সাথে এক উঠোনে হয় ।
 মিথ্যে অভিমান বলে কি কিছু হয় কি ...!
ঠিকানা ভুলে গেলে মানুষটার জন্য
মায়া করে,,
 কেও পাহাড়ে ঘর কেনার পয়সা জমায় না জানি ...।।
তবু আমি এই শহরে এসেছি পাহাড়ে ঘর কেনার পয়সা জোগাড় করতেই ....ভালোবাসা কিনতে নয় ।

কি অদ্ভুত, 
আজকের আমরা..আর আমাদের নেই .
স্বার্বজনীন হতে গিয়ে কোন এক সকালের বিছানায় গা এলিয়ে ছড়িয়ে থাকা মুহূর্ত এখন বেওয়ারিশ বাসী  ।..
আমরা হঠাৎ আমাদের মনটাকেই খুঁজে পাই না আজকাল ....!

আমরা কি অসাধারণ ভাবে যত্ন করে  ভুলে যাই একে অপরের সঙ্গত ..,,
আমাদের প্রিয় সময়ের   নাম ছিলো উজ্জাপন।
ছিলো শুধু দুকূল বয়ে যাওয়া আছড়ে পড়া প্রেম...!

সময়ের সারমেয়...এখন চিতার যুপকাষ্ঠ ছাড়া বাকি সব আকাশে হারিয়ে গেছে । যেন অসীম বিসর্জিত হলাম আর কখনো না ফেরার জন্যেই।।

বীজ

........বুকের মাটিতে  সম্পর্কের বীজ লুকিয়ে থাকে,
ঘামে ভেজা কিছু স্পর্শ  আর প্রথম আলো বলে দেয় যত্ন আসলে একটা অংকুদগম থেকে গাছ হয়ে ওঠা পরিচয় মাত্র  নয় ........... এক সাথে বৃদ্ধ হতে চাওয়ার ইচ্ছায় রাখা অনুভবও ।


দাগ বিহীন দেওয়াল

শব্দের ভেতর নোনা জলের দাগ কেটে কেটে সমস্ত ক্ষতদের শুকিয়ে ফেলেছি ,
এখন নিজস্ব ঘরে থাকি .......সমস্ত দেওয়ালে সাদা চুনকাম করে নিয়েছি ...,
 কোথাও কোনো দাগ নেই ,
 গোপন প্রহরে লেগে থাকা প্রহসন নেই ,
অভিমান নেই , 
ভালোবাসার নামে ভ্রমের নেশা থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শেকড়ের বিস্তার নেই ,,

সুন্দর আর পচন দুটো শব্দের স্মৃতি সৌধ ঘরের আনাচে কানাচের থেকে পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে ।
এখন শুকনো ঘায়ের ভেতর প্রশস্ত ছাদ আর সেই ছাদে  তার টাঙিয়ে   পুরোদস্তুর শুকিয়ে নেওয়া  ভিজে যাওয়া এক একটা দিন ,,
 ঝাড়া-পোছা  করে  দিনের গায়ে পুরোনো আঙুলের ছাপ মুছে ফেলা চলছে ,
 বাকি দিনের  শেষে শব্দ দের দেওয়ালে এক একটা বিলুপ্ত পাখির নাম লিখে রেখে রাত জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ি সুখের  ঘুম।
এখন তাই এই নিজস্ব  দাগ বিহীন ঘরটায় থাকতে বেশ বেশ  ভালো লাগে , শুধুমাত্র সাদা দেওয়াল আর আমি ................

ডোম জন্ম

একি ডোম জন্ম? নাকি লোকায়ত?
জীবন ছুঁয়ে ব'সে - ক্রমাগত মৃত্যুশোক আর পরে থাকা মৃত দেহের জামাকাপড় ?
 কেনো সোজা সাপ্টা হলে মাথা কাটা পড়তেই হয় ...
জঙ্গলে সোজা আকাশ ছুঁয়ে থাকা গাছেদের কেটে ফেলে কেনো এই সমাজ  ,এঁকে বেঁকে থাকা  গাছেরা দিব্য  বেঁচে থাকে বহাল তবিয়তে,,

চাওয়া বলতে খানিকটা পথ চলা ....যদিও কিছুই নিয়ে আসেনা মানুষ জঠর থেকে , 
তবু আয়ু তাকে পরিচয়ে পরিচয়ে মোহে জড়িয়ে দেয় ....জড়িয়ে দেয় পাওয়া না পাওয়া, হারা জেতার হিসেব নিকেসে ,, উজাড় করা ভালোবাসা ,প্রেম মিথ্যে জেনেও মানুষ গা ডুবিয়ে স্নান সেরে নেয় সে জলে ।,
অথচ জীবন না.. তো সহজ না.. তো সরল ,, 

জীবন সহজ করে ভাবতে গেলেই মাথা মন সব কাটা পড়ে সময়ের নিরিখে,,, .....সময় পুরোদস্তুর শয়তান হয়ে মুখ লুকিয়ে ঈশ্বর সাজতে চায় প্রতি মুহূর্তে , 
 প্রতি মুহূর্তে আমিও তাই সময়ই কে বিজয়ী হতে দিয়ে ওই ওদের সাজানো মঞ্চের বুকের ওপর পা রেখে ধা..ধিনা  না...তিনা  নৃত্যে 
ওদেরকেই মাতিয়ে রাখি সফল লীলায় ।
দিনের শেষে দেখি লোকায়ত নয় ডোম জন্ম ছুঁয়ে আছে এই পুরো জীবীনটাই ,, 
মাথা কাটা যাবে ভেবেও সেই সোজা হয়েই বেড়ে চলেছি ...এঁকে বেঁকে বেড়ে উঠতে এ ডোম জন্ম  ষোল  আনাই ব্যার্থ ।

দু ঢোক যন্ত্রনা

দু ঢোক যন্ত্রনা গিলে নিলাম   এইমাত্র ....এই ছিল আমার প্রাতরাশ ,,সকালের কৈশোরে চায়ের সাথেও ছিল একই ধরণের যন্ত্রণার হালকা ফুলকা স্ন্যাক্স ,
আজ বোধহয় সারাটা দিন স্মৃতির শোক রান্নার কড়াইয়ে খুন্তি নেড়ে পাঁচপদ সারবে ।
রোজ রোজ কিছু পুরোনো স্বাদ ভুলতে চেয়ে নতুন রান্নায় মন দিই .....তবুও নুন ঝালের বিনিময়ে সামান্য হলেও স্মৃতি মিশিয়ে ফেলি ,,
রান্নাটায় আমার আর তাই সেভাবে নতুন নতুন রেসিপিতে পারদর্শী হয়ে ওঠা হলো না মনে হয় ! 
খেতে বসে তো এক একদিন এমন তীব্র যন্ত্রনা গিলতে হয় .....আমার চোখের উপকূলে চাই বা না চাই নোনা জলে আছড়েই পরে ,,
ভাবছি আর রান্না ঘরে যাবো না ......যাবো না করাই খুন্তিতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে গিয়ে নিজেকে আরো বেশি করে স্থাণু করে ফেলতে।
সময়ের সাথে নিজের অনেক অভ্যেস বদলে ফেলতেই হয় ,, বদলে ফেলতে হয় পুরোনো ঘর কুড়োনো মন ...কিছু আসবাব ,, যা হয়তো একদিন  প্রয়োজনের আয়োজন ছিলো সব নিয়ম এর বাইরেও ,,
আসলে মানুষের প্রয়োজন হয়ে থাকার থেকে ইচ্ছা হয়ে থাকাটা খুব জরুরী ।
নয়তো যন্ত্রনা গিলতে হয় রোজ খাবার পাতে।

এপিটাফ লেখা

কারো জন্য বোধহয় এপিটাফ লিখতে বসেছিল মেয়েটা  ..আর জরুরী বিষয়ের মধ্যে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত সৎকার বিহীন গাছটা ছিলো একমাত্র।


আয়ুর টুকরো গিলতে গিলতে  কে যেন সব হারিয়েছে ......চেনা মুখ , স্বর্গ দুয়ার, ধুনোর ধোঁয়া, সব ,  এখন তার রক্তের স্বাদে কেবল মৃত পালুই এর গন্ধ ,


....আজকাল যে সব মেঘ আকাশে বৃষ্টি নামায় তাদের প্রবাহে তেমন স্রোত কই ....গরাদ দেওয়া নিচু বারান্দার স্মৃতি কে ধুয়ে নিয়ে যাবে এমন সাহস নেই সেসব বৃষ্টির !


তাই ভেবে দেখেছি এ মেঘে বৃষ্টি হোক বা না হোক 
বালির বাঁধের ওপর তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না ।  

কারো জন্য এপিটাফ লেখা শেষ হলে ..এই ভেজা বালির ওপর একটা দীর্ঘ শীতল বিশ্রাম দরকার হবে ।
একটা লেখা এপিটাফ ইতিহাসের সাক্ষী করতে পারলে তিলোত্তমার কাছে কিছুটা ঋণ শোধ হবে হয়তো ।


অনুভূতি হীন দাগ মাত্র

নিয়ম মেনে ক্যালেন্ডারে কিছু তারিখ মনে রাখা মানেই যে ভালোবাসা জীবিত তেমনটা ভাবার কারণ নেই ।
সব কিছু জেনেও... আর যাই হোক ,শ্বাপদ প্রেমের কথা ভাবছি এমন ভুল ভাবার কারণ নেই ।
জীবন কিছু সময়ের  চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ... পুড়ে যাওয়া দাগ যেমন স্পর্শ না রাখলেও অনুভূতি হীন চিহ্ন রেখে যায় , রেখে যায় মৃত্যু অবধি সময়ের প্রসবিত শ্রমন,,,
অথচ সেসব অনুভূতি পুরোনো ক্যালেন্ডারে পুরোনো তারিখে লেগে থাকা ঝুল কালির বেশি তেমন কিছু ভাবার মত নয় ,,
এ শহরে  এই গলি যার পরিচয়ে একদিন প্রেম শব্দটা ব্যবহারে  নিজস্ব গোড়াপত্তন করেছিলাম,  সেসব এখন আর ভালোবাসার কারণ ভাবার মত এমন কিছু হয়নি ।
অমিতদার দোকান এখন শুধুমাত্রই একটা পাড়ার দোকান সেখানে আর কোনো অপেক্ষা দাঁড়ায় এখন , 
তাই বলছি ...তারিখে লেগে থাকা উপহারে যা কিছু, ...তা কেবলই সময়ের বুকে রেখে যাওয়া পাপ এর ক্ষয়িষ্ণু লেনদেন ,, 
যা আজ আছে কাল হয়তো রাশিফলে কোনো উত্তরণ ঘটে বদলে যাবে ।
আসলে এসব কিছুর ভবিষ্যত বার্তা আমার কাছে স্পষ্ট সেই প্রথম দিন থেকেই ছিলো , তবুও তবুও  ""মানুষ চিনতে নিজেকে বিকোতে হয় কখনো কখনো"" ....।

এমন অনেক জন্ম তারিখ ,মৃত্যু তারিখ , ভালোবাসার তারিখ , প্রথম দেখা হওয়ায় কিংবা শেষ দেখার তারিখ  ক্যালেন্ডার তার বুকে সাজিয়ে রাখে অথচ কোনো অনুভূতি থাকে না .....,একমাত্র  থাকে শুধুই তারিখ,,
তাই কোনো বার্তা ...  কিংবা স্পর্শ , ভালোবাসা নামক কোনো শব্দ আছে এটা ভেবে নেওয়ার দরকার নেই । 
যে রঙের রঙ্গিন মাতনে মেতে আছে সময়ের সাথে সে  থাকুক,
 আমি  মাটির তলায় মাটির গন্ধে আজও বন্য আজও নিজস্ব সরল রেখায় একনিষ্ঠ ,
......................মুখোশ নেই আমার বসত ঘরের আয়নায়।,  তাই ভালোবাসা বা প্রেম আমার সামনে বেশ্যার মত জামা কাপড় খুলে দাঁড়াতে পারে না যেখানে সেখানে ....,
তাই একটাও কবিতা লিখতে পারিনি অন্যদের মত। ..অন্য দের মত কেউ বলেনি শুভেচ্ছায় "আমার কলম শানিত হোক " 
আসলে আমার কলম শানিত হলে ক্ষত বিক্ষত হতেও পারে  তিলোত্তমার বুকে লিখে রাখা বিখ্যাত অনেক কবিতা,,  যে কবিতাদের  বাজারী দর এখন তুঙ্গে ,
এ কবিতা এ শহরের কোনো চরিত্রের উদ্দেশ্য নয় ,
এ কবিতা সময়ের উদ্দেশ্য , এ কবিতা ক্যালেন্ডারের বুকে কুঁচকোনো চামড়ায় ঝুলে থাকা 
স্তনে খুবলে খাওয়া নখের দাগ মাত্র , 
তাই তিলোত্তমার মহান মানুষ মানুষী আমার মতই এই কবিতাকেও তাচ্ছিল করবেন এই আশা রাখি ।



রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১

অনবদ্য

 ভালোবাসায় নির্ভরশীল হলেই.. 
সে খুব সহজে খুবলে খায় মন..!

তার চেয়ে এই ভালো এই নিরুদ্দেশী হয়ে যাওয়া ..
, আমি ঘুঙ্গুর খুলে রাখলাম প্রেমিকের দুয়ারে  ...
শব্দের জাদুগরী হয়ে মনের পর মন তার সফর ..
সময়ের ইতিহাসে খুলে রাখা ঘুঙুর কোনো শব্দসাক্ষী রাখুক চাই না ....মুঠো খুলে নিঃস্ব হতে পারার এমন সুযোগ হাতছাড়া করি তেমন মনের জোর কই ? 
খুবলে খাওয়া মন নিয়ে ......তাই 
আবীর রাঙা সন্ন্যাসীনি হতে সময় লাগেনি খুব বেশি ।-

শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১

...........সব কিছুর জন্য শব্দ যথেষ্ট নয়

❣️কি করিলে বলো পাইবো তোমাকে 
                রাখিবো আঁখিতে আঁখিতে ❣️