বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭

অসুখ রঙ এর সুখ

--------------------------------------------------------------------------------

কথা ছিল হাঁটবো সাথে মৃত্যু কংবা তারও পরে অন্য পৃথিবী পথ
ধরে,, সময়ের নিরিখে , একটি কাছে থাকার আয়ু কতকাল থাকে
জানি না,    তবু অবচেতনার আয়না একটা ছবি আঁকাছিল জানি।
এই কথা ভেবেছি তোমায় পেয়েছি মনের ঘরে... না নাইবা থাকলে
এ শহরে পথ চলতি একলা আমার পায়ে পায়ে।

কিন্তু আমি জানি তুমি   বোঝো তোমার বুকের ধুকপুকুনিতে
সেই কবে থেকেই   আমার আয়ু লেখা আছে।
লেখা আছে এমন অনেক বেঁচে থাকা  যাকে আমি ভাবনায়
দেখেছি চিরকাল,  ছুঁয়েছি অবচেতন মনের জানলায়
হাত বাড়িয়ে বেঁচে থাকার সুবাদে।
চিরকাল সেই ভাবনাকে  সবুজ রেখেছি,   ।
তুমি বারবার  এক রুপকথার গল্পে আমায় রাজকন্যা বলতে চেয়েছো‘
সোনার কাঠি ছুঁইয়ে দাও আর অজস্র ধারায়
আমায় জুড়ে গড়িয়ে নামে আলোর ঝর্ণাধারা।
আবার যখন দুঃস্বপ্নে ভয় পাওয়া দুচোখে
ঘুম আসে না একলা কোনো তারার বেশে
ঘুম পাড়ানি গান হয়ে যাও আমার চোখে।
যে পৃথিবী নিয়মে ছিল বরাবর তুমি কি জান
তার আভরণ খুলে পড়লে এক অনিয়ম দাঁত
বার করে হাসে।
আর কোনো না কোনো নিয়মের নগরে অবুঝ শোক নেমে আসে
কারন শূন্য রাত জাগা বুকে।
শুধুই অপেক্ষায় এক দিন
এই রাত তোমার আমার ওই চাঁদ তোমার আমার......
এতো জানা তবুও সুখের শিশিরজল হারিয়ে যায়
পুড়তে থাকা মনের চীতায়।
রোজ  দহন  কাঠ  সময়ের অপেক্ষায় সময়
পোড়ায় আমি আগুন স্পর্শ করতে করতে
সূর্য পরিক্রমণ সেরে ফেলি
,কিন্তু  পোড়াতে পারি না অস্তিত্ব লেগে থাকা
ইচ্ছাটুকু।

তুমি তো দাঁড়িয়েছ  ধূলিঝড়  এর সামনে , তুমি এও জান
জীবনে গতিবেগ কোনো চিতার পায়ে পায়ে চলার মত দ্রুত।
তুমি খুঁজে নিতে পারো লক্ষভেদি মাছের চোখ ,
তবু বার বার পড়ে ফেল.......  সমস্ত না বলা ঠোঁটের কোলাজ।
কোনো এক সোনালী ভোরে  ভালোবাসার অপেক্ষারা
ছুঁয়ে দেবে অতৃপ্ত আত্মা।

সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৭

ঘুমের আড়ালে-----

------------------------------------------------------

মিশরীয়  কোনো মমির বুকে ঘুমিয়ে আছে
অনেকদিনর আলোর তরঙ্গ  তুমি দেখেছো কি
সে আলোর বুক জুড়ে মুক্তির তৃষ্ণা।
বুকের তৃষ্ণা  গড়িয়ে যায় জাদুকরী  নদীর
শরীরের গোপন স্তরে,,,
ঘুম লেগে থাকা চোখে  বাসি কাজলরেখা
উপন্যাস এর পর উপন্যাস  স্বপ্ন বুনেছে কখনো।
মেঘ আসে যদি  তারপর বৃষ্টি  তারপর সব যেন
কোনো ইন্দ্রজালিয় ভূমিকায় হারিয়ে যায় ভাঙা
গড়ার নদীটার হৃদয়ে।

প্রত্নতত্ত্বীয়  সময়  অপেক্ষায় ছিল কি ছিল  না
সে তো জানে কেবল কালের স্রোতে বয়ে যাওয়া
মহাকাল,,
আকাশের সরতে থাকা মেঘরা রোজ নানা রঙ এ
রাঙিয়ে তোলে ঈশানী কে আড়াল করতে।
আকাশের  মতো হরবোলা হওয়া যে হল না সুজন।
একলা বসে আলোর কুচি জড়ো করি নিয়নবাতি এর নিচে
ঝরে পড়া তরল থেকে।
ভালোবাসেছি  পুরোনো বাক্সে সেই সব ছেলে  মানুষী
আবদার কে গুছিয়ে রাখতে। সময়ে সব যেন
আতরে ঢাকা স্মৃতি,, 
মন পুড়ে যে ছাই হয় সে কথা তুমিও তো যান সুজন।
বদলে যাওয়া যে  বয়ে চলা সময়ের রুপ সে তোমার বা
আমার চাওয়ায় কি নির্ভর করে?
তবে তো অনেক কিছুই চাওয়ার ছিল যা মমির বুকে
ঘুমন্ত সোনালি আলোর মত। তবুও তোমার
তথাস্তু বলায় এই মন অনেক অসম্ভব কে
সম্ভব এর ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।
সোনালী কাব্য কিনা সে আগামি জানে
আমি শুধু চলমান মুহুর্তে বয়ে যাই যুগান্তরের
পথ ধরে।
মিশরীয় কোনো মমির বুকে কান পেতে দেখো
অজস্র আলোর কনা ফিসফিস করে মুক্তির
কথা বলে চলেছে ।
মরুঝড় বুকে নিয়ে ওরা ঘুমিয়ে পড়ে রোজ আর
জেগে ওঠে কোনো স্বপ্নদের জেহাদি চিৎকার শুনে।
ভাসতে থাকা অসংখ্য ছাইয়ের বুকে আগুন
যেন উচ্ছস্তরে কোনো ঋষির হোম শিখা ।
শুধু সময় আসে যায়  কারন সে তো এসেছিলই
যাবার জন্যে। শুধু স্মৃতি থাকে বুকের পিরামিডএর
নিচে অনন্ত ঘুমের ঘোরে।

রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭

যে ভাবে সবুজ ছোঁয়া ----- -------------------------------------------------

 
-------------------------------------------------------

মনে মনে  চেয়েছি একা থাকতে
তোমার মত ।
তাইতো আনমনেও তোমার সাথে কবিতার খাতায় কথা বলি
বর্ন থেকে শব্দ বুনে হাজারো কথকতা।
জলনুপুরের ছন্দে তোমার সাথে নতুন নতুন সিম্ফনি,

.বন্ধ দরজায় জানলা আর দেওয়ালের ফাটলে
আকাশ খুঁজতে চাওয়া নিজেকে,,
ওপারেএকফালি চাঁদের অপেক্ষার সুতোয় সময় বুনে চলা।
এমনকি অজানা  জানা
এই পথ শেষ হয়ে গেলে কি আছে অপেক্ষায়র মাইলস্টোনে।
শুধু সময়টা অসময়  এর ধুলিঝড়ে চাপা পড়ছে,,  সেটাও তো
বয়ে যাওয়া কোনো তরঙ্গ।
ধিক ধিক জ্বলছে অনেক প্রদীপের আলো
জ্বলবে চিরকাল  আমাদের মতই ,পোড়াবে নিয়মের
অনিয়ম গুলোকে  বারংবার।
একটা আলো নেভেনা কখনো  তৃষ্ণারর মত
শুধু বাড়তে থাকা হৃদয়ের খাঁজে লুকোনো ক্লোরোফিল হয়ে।
ফুসফুসে  যে দিন গ্রিনহাউজ এফেক্ট এর ভয়
সেদিন জমানো  স্থাবরের মত।

.
তুমুল কোনো ঝড়ের দিনে  আমাতে আছড়ে পড়া  খড়কুট
গুছিয়ে রেখেছি   বুকের কালসিটের এক পাশে,,
সময়ের দাগ যেন  মনে করিয়ে দেয় অনেক ঝঞ্ঝা পেরিয়ে
কোপাই এর ধারে কোনো কুঁড়েতে
শান্তিনিকেতনি বাউলের সুরে বার বার.....

" ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
ক্ষ্যাপা ছেড়ে দিলে সোনার গৌড়
আমরা আর পাব না, আর পাব না।
"তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিবো ছেড়ে দেবো না"।

পথের শেষ পথে-------------------------

সংকোচের মত থেমে থাক যখন ঘুম ভাঙা
দিনের বুকে তোমায় স্পর্শ করতে চেয়েছি, অথচ
আমার ডাইরিরর পাতায় তোমার গলার কাছের তিলটা
নির্দ্বিধায় চিরকালিন আশ্রয়ী হয়েছে হাজার বছর
আগেই।
হয়তো এমনটাই হওয়ার ছিল, একটা দুরত্ব ক্রমশ
পথের ধারে সারিবদ্ধ গাছেদের মত , দুটো মনের মাঝে।
বর্শার ফলার মত রোদেরা ঠিকরে পড়ে  অরক্ষিত
কোনো সিমান্তের দেওয়ালে,  আর  বহু পুরোনো
হাড় বার করা দেওয়ালের বুকে তিন মাথা এক করে
অতীতস্পর্শরা শুয়ে আছে খানিকটা মমির আদলে।
কার্নিশ জুড়ে একদল চিল শকুন আগুন সুতো ঝুলিয়ে
উৎসব সেকছে উল্লাসে।
কান্না ফুরিয়ে আসা একটা নদীর কিনারে পুড়তে থাকে
সমস্ত ইচ্ছা রঙ , আর কিছুটা মাটি খুঁজে পুঁতে রাখা  ধুকতে থাকা নিশ্বাস।
এভাবে হাজার বছর হেঁটে নিজের চিতাভষ্ম বুকের
তোরোনে নিয়ে কি যেন এক অপেক্ষা!!
যাপন এর দুপাশে যা কিছু আছে আমি তার বিপরীতে
কোন পিরামিড এর নিচে স্তুপাকার রইলাম শতাব্দীকাল
ধরে,,    কোন এক আজানের ভোরে গুটিয়ে রাখা গালিচার
মত আমাতে এস আরাধ্য ঈশ্বরের জন্যে,,
তখন বুঝবে  সুখ হল শিশিরের মত ভোরের নরম আলো
যতক্ষণ ততক্ষণ , তারপর সেই পুড়তে থাকা সমস্ত
ইচ্ছাদের চিতার আগুন যেমন  রোজ রোজ উঠন জুড়ে,

আর তুমি সেই একি রকম না পারো আগুন স্বিকার করতে
না পারো সংকোচ থেকে বেরিয়ে আসতে...
নিজেকে বোঝাও এক জীবনে সব পেতে নেই।
আমি বুঝে নিই তুমি এতজন্ম পেরিয়ে এসেও
আমার দুরত্ব পেরোতে পারনি।

মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

আমি রুপে তোমায় ভোলাবো না ভালোবাসায় ভোলাবো.................................................

..............................................................
চেনা নগর থেকে অনেক দূরে হৃদয়পুরে
আলো আসে যেমন করে দূরে থেকেও আত্মিক  তুমি।
ঘন অন্ধকারে খোলা আকাশে নক্ষত্ররা আমার বুকেরপাটাতনে
চুপ করে নিশুতি ডাহুকে কান পাতে,, যে কথা
বাকি ছিল সে কথা  নিরবে নেমে আসে মনের দ্বারে।
আলো আসেনি যে ভোরের পথে সে অন্ধকারে তুমি
রেখ স্পর্শ ,, আমার গোপন সবুজ মন তোমার আলোয়  প্রতিক্ষন আলোকিত।
যে ঢেউ আমার হৃদয় আছড়ে পড়ে ছিটকে টুকরো হয় বার বার,  তুমি আগলে রাখ প্রতিটা বিষাদ বিন্দু তোমার
বুকের আধারে।,
তোমার  নগরের দিকে  এগিয়ে যাওয়া  ফুলের রেনুতে
একটা নিশ্বাসপ্রশ্বাস অপেক্ষায় থাকে এতটকু
তোমায় পাওয়া....
অসহায় ভিড় আর ঈশ্বর তুমি দাঁড়য়ে থাক অনেক
ওপরে পাখির বেশে,,,  চিনে নাও আমার শিরায় শিরায়
বয়ে যাওয়া সমস্ত রক্তকণিকা,,,  এই শহরে আমার একলা চলা চিরকালিক।
আমি   তোমার ছায়ায়  খুঁজে চলি ভালোবাসার
বেদনাটুকু। তোমাকে পাই কোনো আজানের ভোরে,
কখনো প্রদীপের শিখায়,,, তোমাকে ঈশ্বর বলে ডাকলে
হেসে সে মুকুট দাও আমার মাথায়।
আমার ভালোথাকায় তোমার স্পন্দনে গোলাপি সকালের
আলো,,  আর সে আলোয় তুমি  সপ্তর্ষিমণ্ডলের কোনো
এক "ঋষি "র মত গভির ধ্যানে আমার
ভেতোর নিরন্তর ওম।  আমি আলোর খোঁজে তোমাকে পেয়েছি
শুধু আমার গোপন তোরোণে  তুমি নীরব প্রেমের পীঠস্থান।
তোমার ধারায় সূর্য স্নাত আমার সমস্ত কবিতার বর্নরা
তাই এ কবিতা তোমার জন্য প্রতি জন্মে তোমার মত তোমার স্রোতে হৃদয়ের অংগিকারে।।

সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

"আমায় যে সব দিতে হবে সে তো আমি জানি"..

................................................................
ভয় করে জানি নিজের থেমে যাওয়া কে ভীষণ,,
সময়ের আকাশে ছিলাম না কোনো অনুভাবের সাথে।
আজ মুক্তির পথে  বাড়তে থাকা বন্যার প্লাবন
আশঙ্কায় নির্বাসিত প্রেম সময়ের বুকে,, খসে পড়া
তারাটা শুধু শুয়ে থাকে একলা,  ভিজতে থাকে
স্পর্শ হারাবার ভয়ে বারংবার । ক্রমাগত এগিয়ে আসা নীল
স্বপ্ন পড়তে থাকে টুপটাপ কোনো ঘাসের বুকে
ভয় পাওয়া চেহারায় একলা লাগে আকাশেরও
আমার মতো।

ক্রমাগত নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া আর
কবিতার খাতার সাথে কলমের নিবের বেড়ে যাওয়া
প্রেম হয় আরো অবিচ্ছিন্ন। ,ধুয়ে যায় সময় অথচ কতই
তো দাগ অগুনিত স্পর্শ রাখা তোরোনে,
শুধু তাকে খুঁজে পাবো বলে হৃদমাঝারে গুছিয়েছি পড়ে পাওয়া চোদ্দয়ানার আদলে।
পুরোনো বেলজিয়াম ঝাড়বাতিটার
বুক বেয়ে নামে অপেক্ষার পর অপেক্ষা,,,
আর ঝলমল কোনো দিনের বুকে শুন্যতার
অভিসার।
তবু জানি ,যাকে কোনোদিন পাই নি বাইরে তাকে পেয়েছি
অন্তরে অন্তরে। এমনি অচেনা  নির্বাসিত প্রেম একলা ভিজতে থাকে প্রতিনিয়ত আমার সাথে তোমার লেখা সমস্ত বিপ্লব,
সমস্ত নালিশ, সমস্ত পাওয়া না পাওয়ার কবিতারা। তবুও একটা ভয় পাওয়া চেহারায়
আমার আমিকে দুহাতে জাপটে রাখি হৃদয়ের
গভিরে।।

"যদি আরো ফিরে নাহি আসো যদি আরো কারে ভালোবাসো তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন হয় আমি যত দুখ পাই".........

................................................................
সহজ ছিল না  সময়ের মুনাফা টুকু সরিয়ে রাখা
সহজে হয়নি সুজন সম্পর্ক কে দাঁড়িপাল্লায় মাপানো।
হৃদয়ের ভাঙাগড়া  মানুষের নিজের হাতে আছে কি নেই
সে মানুষের মন জানে না জানে অদৃশ্যে বয়ে চলা সময়।
.হৃদয়ের কানাচে কোনো পুরোনো মন্দিরের ভগ্নাবস্থা
ঈশ্বরের মতো তুমি হৃদয়ের কুলদেবতা,
কোনো শিশির ধোয়া ঘাসফুলের গড়িয়ে নামা তোমার ওম
কেউ বোঝেনি অন্তরের দহন,,
শুধু বাইরের পোশাকি হাসিতে লুকোনো
চোখের বাষ্প,  আর
নিয়মের নাগপাশে  আত্মার বেঁচে থাকার কবর সাজানো ফুলেরতোড়া।
.
কোন আলিঙ্গনে তুমি এমন নীলকণ্ঠ আমার ভেতোর!
যেখানে সব পাওয়া তোমাতেই হারা,,
খোলা আকাশের বুকে লিখতে থাকা কবিতায় জমে
যায় হাজারো নদীর ছন্দে চলা আনন্দ সুখ দুখ,,
সহজে নয় মানুষের বন্ধন কে দেওয়ালে রেখে
আবার কোন নতুন কিনারায় নোঙর ফেলা,,
গভিরে মন তখনো ছিল একলা,  শেষের বেলায়ও একলা।
কে জানে মন কেমন বিদায় জানায় শেষ সম্বলে লেগে
থাকা একচিলতে আলোটুকু।

"কত বার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া তোমারো চরনে দেবো হৃদয়ও খুলিয়া."........

-------
যতবার আলোর দিকে ফিরেদেখি
বারবার ফিরে পাই নিজের আয়নায় আঁকা ঈশ্বরকে।
স্ফটিক এর মত স্বচ্ছ তুমি, হৃদয় ছুঁয়ে তোমার আলো,
এই তুমি, সেই তুমি যে ছুঁয়ে দিলে বৃষ্টি নামে সমস্ত আমাতে,
নদীর বুকে হাসির রেখা আর আড়ালে শতাব্দীর
গভীর ক্ষত আর ব্যথার কথকতা বয়ে যায় অচীন দেশে।
যতবার আলোর দিকে ফিরে দেখি তোমায় দেখি সূর্যর মত,,
কবিতার মতো লিখে যাও বর্নদের আলিঙ্গন
হৃদয়ের গভীরে,,
রোজ তোমাকে চিনতে চাই নিজের ভেতোর,
কে তুমি ? ভাবি বার বার,
দিনে রাতে হিসেব শেষে যখনি যোগ বিয়োগ থেকে
শূন্যের দুরত্ব বাড়তে থাকে আলোর মত তুমি চীরকালিন।

যতবার রাত ঘন হয় আমি ফিরে দেখি আয়নায় তুমি,,
তোমার লুকোনো আলোর  নির্যাসে গড়িয়ে নামে ঘন
হয়ে আসা রাতের বুকে..... যেন পথ এঁকে চলে যাও
কোনো দিশাহারা পথিক এর জন্যে।

তখন চুপিসারে ঈশ্বর তোমায় পরিয়ে দেয় নিজের মুকুট।
আর ঠোঁটের নিস্তব্ধতায় নেমে আসে সমস্ত জীবিত কারক,,
অদৃশ্য হাতে নির্ঘুম রাতে শোকে দের তুমি ঘুম পাড়িয়ে
হাসি মুখে পাহাড়া দাও ভালোবাসাকে
ক্রমশ আলোর মতো ছড়িয়ে পড় সমস্ত স্বত্বায়,,
যতবার আলোর পথ খুঁজি তুমি এসে দাঁড়াও কোনো
অলিক দরজার চৌকাঠে,,
আমি  গভীর নীল স্বপ্ন রাখি হলুদ খামে।
সময়ের সাথে সাথে বেদনার ক্ষতে স্পর্শ
তোমার   উপশম  তুমি,,  তাই আয়নায় তুমি
স্বচ্ছ  তাই তোমায় ঈশ্বরও ঈশ্বর বলে
আলোর মুকুট পরিয়ে দিয়েছে বারংবার।

শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ফিরে আসবো বলে................


ডাকবাক্সে অনেক চিঠি জমে রয়েছে, জমেছে
অসংখ্য শব্দদের ভিড়, হাতছানি দিয়ে কিছু
কিছু শব্দেরা ঠিকানার অন্দরমহল খোঁজে গভীর
তৃষ্ণায়,,,, বিষাদের  নোনা জল ছুঁয়ে এসেছে শহরের
গোলাপি বাড়ির দেওয়াল,, কবিতারা তাই বড্ড
একলা হয়ে ছেড়ে গেছে সমস্তরকম বন্ধন।
নীল খামে বাসি কিছু ফুলের কথারা বন্দি কিংবা
আশ্রয়ী...... এতো বসতি এশহরে তবু কত মন ঘর
ছাড়া,  এতো বড় আকাশ এই পৃথিবীর তবু
মুক্তি কাঁদে অন্ধকার কোনে। এতো শব্দেরা
অভিধানে হাতে হাত রেখে আছে তবুও কবিতারা
নিঃস্ব,,,
নিঃস্ব হওয়া আজ কাল বড় সহজ এই ভিড়ে,
তবু একটা উষ্ণতা আমার চারপাশে,
নিঃশব্দ যখন রাতের বুকে করাত দাগে তখন
আমার চারপাশে কোন এক ঋষির ওম প্রতিধ্বনি
নিরন্তর,,,  শুনেছি এক জীবনে সবটুকু পেতে নেই
তাই যদি হয় তবে বাঁচার  তৃষ্ণা লেগে থাক সমস্ত
সভ্যতার ধ্বংসস্তূপ জুড়ে.... আর কবির ভাষায়
বলতে ইচ্ছে হয় "আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির
তীরে...."  তুমি এসো আমার কবিতা একসাথে কয়েক
জন্ম কাঁদবো হাসবো......সাগর পারে তারাদের জুড়ে
ইচ্ছা বুনবো।
আজ জমা শব্দেরা ডাকবাক্স থেকে হাতছানি দেয়

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৭

এগিয়ে দে....

---------------------------------

একদিন আমায় নিয়ে একটা কবিতা আঁকিস সুজন ... কাজলা মেয়ের চোখের কাজলে.. অনেক নদী অনেক মেঘ কাঠের জ্বালে ভাতের গন্ধ,
একটা গল্প লিখিস আমায় নিয়ে ইচ্ছানদীর জলের রংগে অনেক কথা নকশীকাঁথার বুকের মাঝে সুখদুখের সাঁজু রুপাই... নদীর নামে চিনবে সবাই তোর সইএর সকল কথা,
একটা উপন্যাস লিখিস সুজন আমার কথায় সেখানে পাহাড়ি কিনারায় ভালোবাসার রঙ তুলি আর এক কাপ চায়ের সাথে  তুই গেয়ে উঠিস প্রথমত আমি তোমাকে চাই.....শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই...
শিশির মাখা ঘাসে হতে পারিস রোদ্দুর হতে পারিস জানলা দখিনা হাওয়ার পথে
কথা দে সুজন রাজি হবি আমার ইচ্ছে হবি আমার কারনে...। একটা কবিতায় তুই আমি,
একটা গল্পে আমি নদীর মত তোর ভেতোরে
আবদারে বইবো কয়েক শতাব্দী,,
একটা উপন্যাস তোর কলমের নিবে আমার
এক একটা রুপান্তরের রোদ বৃষ্টি মেঘ ছায়া
ঘন অমানিশা তারপর সেই কোজাগরী...
দেখ আকাশ আলোয় ভরা দেখ তারারা হাসছে
আমাদের উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠায়... এগিয়ে
দে সুজন তোর কলম কোন এক কবিতা গল্প তারপর এক নীলনদের উপন্যাস এর পথে।

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭

আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরন ধুলারও পরে.................


অর্ধেক আকাশে মেঘেদের যন্ত্রণা লেখা
আর অর্ধেক আকাশ কেমন করে রামধনু আঁকে?
ছেঁড়া পাতায় লেখা রইল অনেক যন্ত্রণা হয়তো বা
ছাড়পত্রের কথকতা,,
অনেক সময় নিরাশ্রয় হতে হয় আশ্রয় পেয়েও
তাই বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে যা কিছু মনের মত,,
চতুর্দিক সশব্দ নীরব জলের দাগ কোথাও কয়েকটা
দীর্ঘশ্বাস জমে আছে এই পৃথিবীর শরীরে।
সংকোচ এর মত থেমে আছে ভালো থাকার
সুগন্ধিরা,,  বার বার আলোর অভিসারী হতে চেয়েও
কালের খেলায় অন্ধকার এসেছে হৃদয় জুড়ে।

ভালোবাসার দেশে একরাশ স্বপ্ন মিলে মিশে
যে বাড়িটায় ঠিকানা ছিল জানা...  আমি তার
ঠিকানা হারিয়ে ফেলতে চাই,, আত্মামূল থেকে
ছিটকে আসা চিৎকার গোপোন সিন্দুকে বন্দি
হতে চায় বারংবার,,  আর অক্ষরসিমান্তে
ঢুকে পড়ুক হু হু করে মৃত্যু সৈন্য।
এক লহমায় মুছে গেলে ক্ষতি নেই সমস্ত পায়ের
চিহ্ন,  অর্ধেক আকাশের যন্ত্রণা গুড়ো গুড়ো
রোদ হয়ে  তখন বদলে যাবে ভালোবাসার
জানালায় লেগে থাকা বিষণ্ণতা,,
ভালোবাসা তুমি ফিরে যাও আলোর ঠিকানায়
আমি মুখ ঢেকেছি ঈশানের অন্ধকারে....

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৭

মনখারাপের বেলায় এ শহর...

-----------------------------------------

সারা শহর যেন মন খারাপের চাঁদোয়ার নিচে
মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,,
সুজন তোর বুকের মাঝে শুন্যতার তেপান্তর
জুড়ে আমার কান্নারা ঘুমিয়ে থাকে এমনি বিষণ্ণতা
বেলায়,,
না কান্না নয়, এ যেন নামহীন অচেনা কোনো নদীর
স্বরলিপি।
আমার কবিতার আনাচ কানাচে লুকিয়ে থাকে
বষ্টমি বাউলের সুরের ঘ্রান,
সুজন এ সভ্যতার
মলাটে যেন ভালোবাসার অবজ্ঞা  লেখা, আর মলাটের
ভেতোর দম বন্ধ একঝাঁক জীবন্ত ঘুড়ি,,
সে ঘুড়ির রঙ অন্য কোন ভোরের রঙানো।
কোনো এক সময়ের সাঁকো পেরিয়ে মিলে
যাওয়া যাপনীয় অবসররা পেয়ে যাবে একচিলতে
মুচকি হাসি.... এমনি অনেক আশার স্বপ্ন এখনো
ভোররাতে  এ শহরকে জাপটে ধরে আর বোষ্টমিকে
বলে তোর বুকের ভেতোর রয়েছে আমার পাঁজর।
আর রয়েছে ছেঁড়া তারের সুরে লেগে থাকা বাঁচার
ইচ্ছা,,
এসব কথা যখন কলমের নিব গড়িয়ে আগামির
পথে তখন বিনা সংবাদে শহরে তুমুল বৃষ্টি ঝমাঝম
করে..... সব স্মৃতিরা প্রতিধ্বনিত বয়ে যাওয়া
সময়ের বুকে। এভাবে শীত বসন্ত পেরয়ে
আজ মন খারাপের মেঘলা মাসে পা রাখলাম
সুজন....আজ শহর যেন মন খারাপের চাঁদোয়ারর
নিচে মাথা নিচুকরে আছে।

সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০১৭

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রানে এ জীবন পূর্ন করো এ জীবন পূর্ণ করো......................

দেওয়ালে পলেস্তারা লেগে থাকা মুহুর্তরা
জীর্ণ হয়ে রোজ কিছু ক্ষয়ে যাওয়াকে
মেনে নিচ্ছে,,  সময়কে প্রশ্রয় দিতে দিতে
একটা জীবন যেন ধুলিঝড় এর সাথে মিশছে
আর অপেক্ষার মেঝেতে অসম্ভব শ্যেওলা
বাড়িয়ে চলেছে তাদের অস্তিত্ব,,  শঙ্খচীল
উড়ে যায় জীর্ণ সম্পর্ক ছুঁয়ে,  পাখায় লেগে থাকে
বাঁচার লড়াই,,
জীবনের গিঁটগুলো খুলতে খুলতে মনে হয়
একটা পালক রেখে যাক  আকাশের বুকে
ফিরে যাওয়া শঙ্খচীলটা,,  এমনি তো ভাবনা
হওয়ার কথা,  সুখ আত্মার স্বস্তি এসব তো
স্বপ্ন দেখা চোখের কাজল, তবে ক্ষয়ে যাওয়া
দেওয়ালের ইঁটে স্বপ্নের পলেস্তারা মাখিয়ে
নতুন করে বাঁচা সেটাই বা ভুল কোথায়...
বার বার নুইয়ে পড়া মেরুদন্ডের
মজ্জায় ক্লোরোফিল ঢেলে ফুরিয়ে যাবার  আগে ফুরিয়ে
না যাওয়া,  ভীনদেশী স্বপ্নের ফেরিওয়ালার সুর
মল্লাররাগ থেকে ইমনে ফিরিয়ে আনে।
এক জন্মের বরাদ্দে একটা বেঁচে থাকা যখন, তখন
মৃত্যু  যেন সমস্ত পৃথিবী শেষে দিগন্তরেখা ছুঁয়ে থাকা
ঠিকানায় লেখা থাকে,,
তুমি আমির দেশে আমরা হওয়ার অনুভূতি স্বর্গের
পারিজাতে স্মৃতিময় কিছু কোলাজ রোজ রোজ ক্ষয়ে
যাওয়া দেওয়ালে ভালোবাসা ভরে বলে
যায়  আমি আছি তাই তুমি থাকবে চীরকাল।

শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৭

আরো আলো আরো আলো মোর নয়নে প্রভু ঢালো..............

-----------------------------------------------------
স্বপ্নরা নেহাতি মেঘ খুঁড়ে বৃষ্টি হয়ে আসে
এই ভেবে গ্রীস্মের বোবা দুপুরের বুকে
কবিতা এঁকে যায় আবারো কোন স্বপ্ন,,
নিরুপায় সময়ে ভিড় করে সুখের জোয়ার
তটরেখায় আঁকা দুক্ষদের মুছে দেয়, পরিশ্রুত
পরিচয়ে অন্ধকার মুছে দু একফালি
আলোর দাগ গড়িয়ে নামুক সমস্ত ঘর জুড়ে,
বালিশের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা শুকসারির
এক একটা গল্প হেঁটে আসে আসুক সমস্ত
রাতের কানাচে...
একজীবনে না পাওয়া কতটুকুইবা !  অজেয় আশ্রয়ে বেড়ে
ওঠা আগাছার ফুল দেখা হয় না,, না পাওয়ার অন্ধকারে,,
অক্ষর সেতু  থেকে খুলে পড়া সময়ের স্রোত বয়ে যায়
কেবলি যা পাওয়ার ছিল হল না পাওয়া এই যাতনায়...,,,,
অথচ যতটুকু ছিল সুখের কারক তারাও হারিয়ে
গেছে অজানা কোথাও।
ঈশ্বর বুঝি মানুষের অন্দরমহলে সাজিয়ে রাখে
সমস্ত বাঁচার উপকরণ কেবল বেছে নিতে হয়
নিজেকে..... আর এই বোধ থেকে বোধোদয়ের
আলোও খুঁজতে হয় নিজেকে।
হাজার হাজার টুকরোটুকরো  বহুবর্ন পাথরের
মত ইচ্ছা জীবনের বুকে বিছিয়ে রয়েছে,,  ভালো
মন্দ পাংক্তেয় অপাংক্তেয় মিশে আছে  আর
নদী বইছে নিজের ধারায় সময়ের সাথে ভীনদেশে
আলোর ঠিকানায়।,,   সেই আলোর দাঁড়িতে
থেকে যাবে একটা জীবন। আর অনেক
সমীকরনে বাঁধা একটার পর একটা বন্ধনী,,
তাই চোখ বুজে ভাবলে মনে হয় সমস্ত জীবন
বুঝি একটা গণিতের কেতাব ।
তবুও স্বপ্ন জুড়ে হাজার কবিতা ভিড় করে
মেঘেদের দেশে বেহিসেবি সব হিসেব,, আর
ইচ্ছারা মিলিয়ে দেয় সমস্ত কঠিন পাটিগণিত
আর কবির গানে তখন আরো আলো আরো আলো
এই নয়নে প্রভু ঢালো.........।

যা কিছু পাওয়া

------------------------------------------------------

সমস্ত শরীরে লেগে থাকা সম্পর্কর  অভ্যাস
গুলো যদি মুছে ফেলা যেত বড় ভালো হত
ভালো হত কোনো নামকরণ বিহীন দ্বীপে
সমুদ্রঝড় এর মুখে নিজেকে হারিয়ে ফেলা গেলে,,
ভালো হত মাথার প্রতিটা কোষ যদি একে একে
মৃত ঘোষিত  হত,,
সংজ্ঞাহীন হলে পারতো পরিচয়ের সমস্ত নিশান গুলো
যা কিছু চাওয়া সব যদি ভুল তবে কেন স্বপ্নরা এখনো
আসে,,  আত্মাধীন সব ইচ্ছামত কেনই
বা নয়,,
গলার কাছে বাঁচার তৃষ্ণা লেগে থাকা রোজকার
মৃত্যুবীজ সারা শরীরে বীষগাছ জন্মাচ্ছে,।
অপেক্ষা তবে কিসের কোন সে আলোর ঠিকানায়
পথ চলা... ভয় হয় যেদিন শেষ মাইলস্টোন টা
ভীষণ স্পষ্ট আর চোখে না নেমে আসে অন্ধকার
সকল অনুভূতি ফুরিয়ে না যায়,,
বহু মৃত্যুর মাঝে একটু বেঁচে থাকার ক্লোরোফিল
যেন থাকে... কয়েকটা দিন  আর একমুঠো আলো
আর সমস্ত না পাওয়ার যন্ত্রণা মুছে ফেলা এক ফালি
ভালোবাসা...... বিদায় বেলায় শেষ হাসি টুকু শুধুই নিজের,
বাকি সব দিয়ে যাওয়া  এই মাটির কাছে।
...