জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩
মধুদি(৩)
(সই৬৬)
শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩
শহরের মন্তাস
রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৩
উপসংহারের কথা
দিন ফুরোনো কাব্য লেখার উপসংহারে
দাঁড়াবে না ওরা আর মুখোমুখি কেউ ,
ফুরোনো কথা কুড়িয়ে নেওয়া স্পর্শের দিকে ওরা হাত বাড়াবে না কেউ ,
নিয়নের আলোতে এ শহরে সকলেই বড্ড কাল্পনিক চরিত্রের মত তাই
সম্পর্ক বানানের মাঝে দড়ি টানাটানি খেলার মহড়া রোজ রোজ ,
মৃত হৃদয়ের বেচা কেনা মৃত নাগরিকদের মাঝে ।
সময়ের ফ্রেমে পাশাপাশি তবু ওরা অচেনা ভীষণ রকম ,
দিন ফুরোনো কাব্য লেখার উপসংহারে
দাঁড়াবে না ওরা আর মুখোমুখি কেউ ,
ভুলে যেতে হয় ,খুলে রাখতে হয় হৃদয় ,
পথ থামে না পথিক বদলায় ,
ওরা মুখোমুখি হয়না আর কখনো দিন ফুরোনো উপসংহারে।
শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৩
সামাজিক কেবিন
ট্রেন লাইনে বসে থাকা লোকটা শুনেছি নাকি বেজন্মা,
তাই আজ সময়ের কেবিনে সে বড্ড অসামাজিক।
সময়ের আয়না তার কাছে বারংবার মৃত্যু-ফরমান তুলে
ধরে,
তবু সে ইট কাঠ পাথরের ঘরে এক ফালি নিরেট পবিত্রতা চায়, ... চায় মর্মে লেগে থাকা এক ফোঁটা ভালবাসা।
মানুষ বর্জিত করেও কোদাল চালায় , সত্যি আর মিথ্যের তফাৎ খুঁজে ফেরে।
কখনো কোনো সিলেবাসে জন্ম মৃত্যু লেখা থাকে না, লেখা থাকে স্বপ্নের লাটিতে ভর করে পথচলা।
আর সে পথ চলায় কেউ অহংকার বুনে নেয় , কেউ
আত্মসুদ্ধি করার তাগিদে নিজেকে পোড়াতে চায়।
জলে জীবন লেখা যায় কতটা যারা জানে তারা জানুক
আমি এটুকু বুঝি জল চিতার শেষ আগুন নিভিয়ে সমস্ত অস্থিরতায় শান্তি বিলিয়ে দেয়।
আর তারপর বুদ্ধি, মুখোশ, চালাকি, সত্যি, মিথ্যে, রাজা, উজির, বেগম সব্বাই সব্বাই কিরকম যেনো এক এক্কেবারে এক রকম দেখতে লাগে...।
বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩
মধুদি (২)
আজকাল মধুদি জড়িয়ে ধরায় স্পর্শ পায় না কারন
জড়িয়ে ধরা আর স্পর্শ শব্দটার মাঝে একটা ভীষণ রকম শীত পাঁচিল তুলেছে।
ক্যাপশনে মৃত্যু -আগুনের নতুন বোঝাপড়া সেরে মধুদি
ধর্মের এপারে ঘর বেঁধে বাস করে বহুদিন হলো।
মধুদি মহাভারত লিখছে নিজের গল্পে,,
তার মহাভারতে যুধিষ্ঠির সাধু নয়... দুর্যোধন মানে মুক্তির
পথ, আর অভিমূন্যর অভিমানে আকাশ আড়াল হয়।
দ্রৌপদী হলো চরিত্র জুড়ে দেওয়া সেতু,,
নতুন ক্যাপশনে বদলে ফেলা হয়েছিলো অভিশাপ , অবঞ্জা, ও হত্যা, তার বদলে সাজিয়ে নিয়েছিলো বেঁচে থাকা, নিজেকে ভালো রাখা, আর মুক্তি।
এভাবেই ধর্ম যুদ্ধ বদলে ফেলে সে সময়কে হত্যা করে শান্তির ঘরে তথাগত স্বরূপ ধারণ করেছে।
এভাবেই ইতিহাস গুড়িয়ে সে নিজেই বসেছে মহাভারত রচনায়,
তার বুকের আগুনে পুড়ছে মগধ, হস্তিনাপুর, কুরুক্ষেত্র
আর পুড়ে যাওয়া উপত্যকায় মধুদি নতুন করে যুধিষ্ঠির, কর্ণ,
দুর্যোধন, শকুনি, দ্রৌপদীকে আলোক ও সাজসজ্জা সাজাচ্ছে .... লিখছে অন্য মহাভারত।
স্বাক্ষর
তৃষ্ণা গড়িয়ে নামছিলো ঠোঁট গলা বেয়ে
হৃৎপিণ্ডের দিকে,, মনে হয়েছিলো বুঝি ভালোবাসার ভুখ...।
সময়ের চোখে সে রক্ত মাখা মুখ ভেসে উঠতেই বদলে গেলো আবহাওয়া,,
অথচ... এক দিন সে মুখে স্বচ্ছ শ্বেতপদ্মই স্বাক্ষরিত হতো,
নির্ভেজাল মনে ঈশ্বর স্বরূপ ছিলো খুঁটে খাওয়া ভালোবাসা ,
অথচ সে বুক পকেটে প্রতিবেশী রেখেছিলো টিকটিকি , নিলামে রেখে দিলো আসল আশ্রয়।
আজ শকুনের দল সে মন জমিন খুবলে খুঁজছে নিজেদের রেশন-পানি ,,
গন্তব্যহীন স্টেশনের খোঁজে সব পাগল ছোটে সবাই জানে,,
অথচ মধুদির চোখের পাতায় আজও ভালোবাসা লেখা নেই ,
তবে কি মাংসের লোভেই সমস্ত ভালোবাসাকে কলঙ্কিত করেছে সে জন্মভোর !
... ঈশ্বরের যেমন ছেঁড়া বর্ষাতি টুকু নেই তারও ছেড়া অস্তিনে কোথাও কোনো ইমান লেগে নেই ।
পৃথিবী তথাগত ভাবলেও সে বেজন্মার স্বাক্ষর রেখে দিলো নিজের আয়নায়।
সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৩
কেমন আছে ওরা
ছকের বাইরে পথটায় হেঁটে যায় সমস্ত কাল্পনিক চরিত্ররা
জানতে ইচ্ছা করে ওরা আজকাল কেমন আছে!
নীরার বুকে কি এখনো শব্দ করে কবির কবিতা হেঁটে বেড়ায় রাতভোর!
বরুনার কাছে সেই সুগন্ধির কাঁচ বোতলটা কি যত্ন পায় আগের মত!
আর... আর সেই বনলতা সে কি এখনো স্বপ্ন বিলোয়! তার চুলে কি আজো বিদিশার নিশা অন্ধকার ছড়ায়!
পাখির নীড়ের মত চোখ কি আজো একটা দীর্ঘ কবিতাকে রচনা করে !
ছকের বাইরে পথটা বড্ড সিগন্যালহীন, কাল্পনিক সমস্ত চরিত্ররা সে পথ দিয়ে ইচ্ছে মত যাতায়ত করে,,
... ভীষণ মন চায় জানতে কেমন আছে বেনীমাধব ? তার ভাবনায় নষ্ট মেয়ে আজ কেমন দিন কাটায়!
নন্দীনি শুভংকর এরা কেমন আছে! শুভংকর কি আজো বাগান, পতাকা, ব্রীজ, কাগজ এর মত নন্দীনিকে হারিয়ে ফেলার ভয় পায়!
কেমন আছে এরা?
আরো অনেকে ওই ছকের বাইরে পথ ধরে আসে যায় সকলের নাম আজ ঠিক মত মনে পড়ে না... তাদের কথা নাহয় আর একদিন হবে।
যদি কেউ এদের কেমন থাকার খবরাখবর পাও, উৎসুক মনের ঠিকানায় ডাকবাক্সে ফেলো চিঠি,
ছকের বাইরে পথটায় হেঁটে যাওয়া সমস্ত কাল্পনিক চরিত্ররা
আজকাল কেমন আছে জানতে ইচ্ছা করে।
.
রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩
যন্ত্রনা লিখতে
শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩
ভালো থেকো
সই(৭২)
গনগনে আগুন পুড়তে থাকে চাঁদ ,
ক্ষিদে কাঁদে তাই পিঠে জীবনের বোঝা নিয়ে ছুটন্ত বাসের হাতল ধরার চেষ্টা রোজ রোজ ...
সময়ের গলায় আটকে থাকে শ্বাস
তাই পরিতৃপ্ত শব্দটা নিয়ে সময় খেলে জাগলিং
একলা বিশ্বাসে হেঁটে কোনো উপন্যাসের উপসংহার ছুঁয়ে দেখা যায় না ...
#সই
সই (৭১)
নিঃশ্বাসের হিসেব নিকেশ
বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৩
এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই
মরশুমের হওয়া ছুঁয়ে যায় , হাতের মত মুখের ওপরেও অসংখ্য কাটাকুটি খেলা এখন।
সময়ের ঘরে তোমার আমার বয়সে সোনালি ফ্রেমের চশমা ,সমস্ত বাঁধ ভেঙে কাছের পৃথিবী ক্রমশ আবছা হবার পালা ,
রুচি অরুচির দিন ফুরিয়ে যাহোক কিছু গোছের বাকি পথটুকু ।
ভালোবাসি শব্দের মানে বদলে গিয়ে অভ্যেস হয়ে যায় এই সময়ে।
বুকের সংসারে হাজারো স্বপ্নের ভাঙাচোরা আওয়াজে অভ্যস্ত মন।
সমস্ত মিথ্যে হয়ে যায় যখন সে এসে বলে এবার তোমায় যেতে হবে ...
শরীর পড়ে থাকে স্পর্শ উত্তাপ হারালেই 'জড়'র ভূমিকায় ,
সম্পর্ক পথ হারা পথিক তখন কিংবা ভোকাট্টা ঘুড়ির মত ।
মুক্তি শব্দের মানে মানুষ বোঝে কিনা জানা নেই ,
জানা নেই সময়ের চুক্তি কার ঘরে কতটুকু!
মোহ স্পৃহা সময়ের ঘরে বেঁধে রেখেও
মুঠো খালি হয়েই যায় এক পলকে।
তবু নিঃশ্বাস মানে বুকের খাঁচায় তোমায় আমায় মিলে একটা সংসার ...আর কিছু গুছিয়ে রাখা অপেক্ষা ...,, এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।
এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই
মরশুমের হওয়া ছুঁয়ে যায় , হাতের মত মুখের ওপরেও অসংখ্য কাটাকুটি খেলা এখন।
সময়ের ঘরে তোমার আমার বয়সে সোনালি ফ্রেমের চশমা ,সমস্ত বাঁধ ভেঙে কাছের পৃথিবী ক্রমশ আবছা হবার পালা ,
রুচি অরুচির দিন ফুরিয়ে যাহোক কিছু গোছের বাকি পথটুকু ।
ভালোবাসি শব্দের মানে বদলে গিয়ে অভ্যেস হয়ে যায় এই সময়ে।
বুকের সংসারে হাজারো স্বপ্নের ভাঙাচোরা আওয়াজে অভ্যস্ত মন।
সমস্ত মিথ্যে হয়ে যায় যখন সে এসে বলে এবার তোমায় যেতে হবে ...
শরীর পড়ে থাকে স্পর্শ উত্তাপ হারালেই 'জড়'র ভূমিকায় ,
সম্পর্ক পথ হারা পথিক তখন কিংবা ভোকাট্টা ঘুড়ির মত ।
মুক্তি শব্দের মানে মানুষ বোঝে কিনা জানা নেই ,
জানা নেই সময়ের চুক্তি কার ঘরে কতটুকু!
মোহ স্পৃহা সময়ের ঘরে বেঁধে রেখেও
মুঠো খালি হয়েই যায় এক পলকে।
তবু নিঃশ্বাস মানে বুকের খাঁচায় তোমায় আমায় মিলে একটা সংসার ...আর কিছু গুছিয়ে রাখা অপেক্ষা ...,, এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।
সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৩
একটাই মঞ্চ
মঞ্চ একটাই , পর্দার ওঠা নামায় মুখের আদল বদলে নিচ্ছে সময়ের মুখ ।
আমরা মানুষ আর চরিত্র বলেই ধরে নিই এই মুখগুলো ।
জমায়েতে সামিল হয় হাজারো চোখের ভাষা,
অভিনেতার হাসির আড়ালে লুকোনো গল্পের খোঁজ বাইরে থেকে কেউ চিনতে পারে না ।
কতসত মন-জমিন নিলামে দাঁড়ায় প্রশ্ন চিহ্ন ভুলে গিয়ে ।
চিত্রনাট্যে গুছিয়ে রাখা থাকে গোপন সংবাদ, যা কিনা তুমি আমির চোখে ধরা পড়ে না মোটেই।
চলমান সময়কে ভর করে কেউ কেউ রূপকথা এঁকে হাততালি কুড়িয়ে নেয় বুকের পকেটে।
একটাই মঞ্চ , পর্দার ওঠা নামায় মুখেরা আদল বদলে নেয় এক নিমেষে ,
ক্ষয়ে যাওয়া আলোর রোশনাই একদিন সিঁড়ির ধাপ গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে যায় ।
অন্ধকার মঞ্চ আকাশ ,নক্ষত্র ,আলো হাতড়ে বেড়ায় ।
মানুষের গল্পে হাজারো রঙের মেলা ,
মুখ সেজে নেয় চরিত্রের প্রয়োজনে,,
আবার জনতার ভূমিকায় হাততালি দেয় আরো একদল মান-হুশ,,
সময় চলে গেলে , মঞ্চের পাটাতনের বুকে জমে থাকে বদ রক্ত ...যেন ইতিহাস তার সাক্ষ রাখতে চায়।
মুখ বদলিয়ে নিয়ে চরিত্রের পোশাকে লেগে থাকে
অভিনয় ।
আসলে চরিত্র বদলে দেয় গল্প নাকি গল্প বদলায় চরিত্র কে বলবে?
সময় ফুরোয়
হাততালি ফুরোয়
মুখ সেজে নেয় নতুনভাবে নতুন গল্পের আদলে ।