মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

মধুদি(৩)

মধুদির এখন নিজস্ব একটা  দেশ আছে ,... আছে  আঁকড়ে  থাকা জমির টুকরো।
বর্তমানের পটভূমিতে বেঁচে  থাকা তার প্রতিজ্ঞা, সে নিজের সাথেই কথা রেখেছে নিজের হাতে হাত রেখে। 
মধুদি আমার পাড়ায় থাকে, আমার পাশের বাড়িতে। 

তার নিজের  দেশে কোনো ধর্ম নেই,  নেই একটাও মন্দির, মসজিদ কিংবা  গির্জার অনুরনিত ধ্বনির স্বরলিপি। 
সময়ের ঘরে এখন সে ভীষণ রকমের বাঞ্চিত, পুরোনো গাঢ়
রক্তের কালশিটে  ফুঁড়ে  মাধবীলতা হাসছে তার নিজের বারান্দা  উঠোনে।  

মধুদি আমার পাড়ায় থাকে,  মধুদি তোমাদের পাশের বাড়িতেও থাকে, মধুদি  আসলে  সঙ্গীতা, সোনালী , ঋষির পাশের বাড়িতে থাকে, 
একটা মেঘে ঢাকা তারার আকাশ কে মধুদি নিজস্ব শাসনে হাসতে শেখায় অহংকারের হাসি , শেখায় অসহ্য  মুখোশ গুলো কিভাবে কুকুরের ভুমিকায় ছিড়ে ফেলতে হয় একটুও না ভেবে।
 
সে বর্তমান লিখে ফেলে সময়ের উপন্যাসে, 
তার দেশের একমাত্র সরকার সে নিজেই...। 
 অথচ  তুমি আমি সোনালী, ঋষি কিংবা সঙ্গীতা বা রতনদা  এই মধুদি কে আমাদের দেশের সরকারের ভুমিকায় 
কখনোই দেখার সাহস রাখি না, 
আমাদের গনতন্ত্রের আঙুলের ছাপেও একটা অসম্ভব  আসহায় আর অসহ্য রকম মুখোশ এর খোল পরানো  থাকবেই, 
তবু মধুদি তোমার আমার সঞ্জয়, ঋষি, মালবিকা, কিংবা সুনীলবাবুর পাশের বাড়িতে বাস করেও একটা নিজস্ব গোটা দেশ গড়ে নেওয়ার কলজে রাখে,,, 

মধুদি নিজস্বতা নিয়ে মহাভারত লিখতে পারে 
পারে  পারে সামাজিক  'অ' এর ভুমিকাগুলো  দারুণ  ভাবে বদলে দিতে।।
আমরা কোনদিন  কি পারবো নিজেদের  বুড়ো আঙুলের মুখোশ খুলে  মধুদির ললাটে রাজতিলক আঁকার সাহস জোগাতে!! 

...সই



(সই৬৬)

তোমার বারান্দা জুড়ে ছড়িয়ে  রাখলাম শব্দের মহড়া, 
তুমি একটা কবিতায় পৃথিবী  লিখে নাও, 
আমি তোমার সংকল্পে একনিষ্ঠ  ধ্যানমগ্ন  শেষতক। 
...সই

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩

শহরের মন্তাস

শহরের মোন্তাসে ক্লোরোফিল হারানো স্বপ্ন
অচেনা গান ওয়ালা ভালো থাকার সুর ফেরি করে
জীবন্ত লাশ নামক বেচেঁ থাকার সামনে,
স্বপ্নের পথে আবছা কুয়াশা সে হেঁটে যায় পথ ও পথিক দুই রুপে সময় চলে যায় ।
গাড় একাকীত্ব দিয়ে গড়ে নেওয়া তুমিটাকে বড় আগলে রাখে মাথা ও মন,

সেদিন ধর্মতলায় দাঁড়ানো একটা হৃদয়ের কাছে সময়ের অস্তিত্ব ছিলো না 
একটা বিস্ময় ছিলো হয়তো ,
যা কিছু তোমার জন্যে আমার হৃদয় রেখেছিল সবটুকু ফেরৎ নিয়েছে সময়  দায়িত্বের সাথে,
 অথচ না থাকা অস্তিত্বে  কিছুটা তুমি রয়ে গেল আমার কাছে ,

জমিয়ে রাখা কিছু একটা তোমার কিছুর মত।

অগোলানো স্মৃতি মাঝরাতে কেঁদে ওঠা কুকুরের আকুতি যেনো ...যেনো ঘুমহীন চোখে আলপিন ফুটে থাকা অসহ্যতা ,
জানো সুজন তবু সে যন্ত্রণার স্তব্ধতায় এক অদ্ভুত সুখ পায় হৃদয় ...স্মৃতি গুলো বুকে জড়িয়ে খোলা জানলার ধরে অনন্তকাল বসে থাকায় অজানা  সুখ থাকে ... যেনো  ভিক্ষুকের রূপে কেউ এসে বলবে ...কই সে অপেক্ষার আকুতি ,
কই সে  যে মাটির ওপর কান পেতে তার পায়ের শব্দের অপেক্ষায় আজন্ম বসে! 
 এভাবেই   ...এভাবেই পার হয়ে  ছন্দপতন ভালোবাসার নক্ষত্রর মত স্থান বদলানো সে ও প্রহর ।


রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৩

উপসংহারের কথা

দিন ফুরোনো কাব্য লেখার উপসংহারে

দাঁড়াবে না  ওরা আর মুখোমুখি কেউ ,

ফুরোনো কথা  কুড়িয়ে নেওয়া স্পর্শের দিকে ওরা হাত বাড়াবে না কেউ ,

নিয়নের আলোতে এ শহরে সকলেই বড্ড কাল্পনিক চরিত্রের মত তাই

সম্পর্ক বানানের মাঝে দড়ি টানাটানি খেলার মহড়া রোজ রোজ ,

মৃত হৃদয়ের বেচা কেনা মৃত নাগরিকদের মাঝে ।

সময়ের ফ্রেমে পাশাপাশি তবু ওরা অচেনা ভীষণ রকম ,

দিন ফুরোনো কাব্য লেখার উপসংহারে

দাঁড়াবে না  ওরা আর মুখোমুখি কেউ ,

ভুলে যেতে হয় ,খুলে রাখতে হয় হৃদয় ,

পথ থামে না পথিক বদলায় ,

ওরা মুখোমুখি হয়না আর কখনো দিন ফুরোনো উপসংহারে।




শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৩

সামাজিক কেবিন

ট্রেন লাইনে বসে থাকা লোকটা  শুনেছি  নাকি বেজন্মা, 

তাই আজ সময়ের কেবিনে সে বড্ড অসামাজিক। 

সময়ের আয়না তার কাছে বারংবার  মৃত্যু-ফরমান তুলে

ধরে, 

তবু সে ইট কাঠ পাথরের ঘরে এক ফালি নিরেট  পবিত্রতা  চায়, ...  চায় মর্মে  লেগে থাকা এক ফোঁটা  ভালবাসা।

মানুষ  বর্জিত  করেও  কোদাল চালায় , সত্যি আর মিথ্যের তফাৎ  খুঁজে ফেরে। 

 কখনো  কোনো  সিলেবাসে জন্ম মৃত্যু লেখা থাকে না,  লেখা থাকে স্বপ্নের লাটিতে ভর করে পথচলা। 

আর সে পথ চলায় কেউ অহংকার  বুনে নেয় , কেউ 

আত্মসুদ্ধি করার তাগিদে নিজেকে পোড়াতে চায়। 

জলে জীবন লেখা যায়  কতটা যারা  জানে তারা জানুক

আমি এটুকু  বুঝি জল চিতার শেষ  আগুন নিভিয়ে সমস্ত  অস্থিরতায় শান্তি  বিলিয়ে  দেয়।

আর তারপর বুদ্ধি, মুখোশ, চালাকি, সত্যি, মিথ্যে, রাজা, উজির, বেগম  সব্বাই সব্বাই কিরকম  যেনো এক এক্কেবারে  এক রকম  দেখতে লাগে...। 







বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

মধুদি (২)

আজকাল মধুদি  জড়িয়ে  ধরায় স্পর্শ  পায় না কারন 

জড়িয়ে  ধরা  আর স্পর্শ   শব্দটার মাঝে একটা  ভীষণ রকম শীত  পাঁচিল  তুলেছে।

ক্যাপশনে মৃত্যু -আগুনের  নতুন বোঝাপড়া সেরে  মধুদি 

ধর্মের এপারে ঘর বেঁধে  বাস করে বহুদিন হলো। 

মধুদি মহাভারত  লিখছে  নিজের গল্পে,, 

তার মহাভারতে  যুধিষ্ঠির  সাধু নয়...  দুর্যোধন মানে মুক্তির 

পথ,  আর অভিমূন্যর অভিমানে  আকাশ আড়াল হয়।

দ্রৌপদী হলো  চরিত্র  জুড়ে দেওয়া সেতু,,


 নতুন ক্যাপশনে বদলে ফেলা হয়েছিলো  অভিশাপ , অবঞ্জা, ও হত্যা,  তার বদলে সাজিয়ে নিয়েছিলো বেঁচে থাকা, নিজেকে ভালো  রাখা,  আর মুক্তি। 

এভাবেই ধর্ম যুদ্ধ  বদলে ফেলে  সে সময়কে হত্যা করে  শান্তির ঘরে তথাগত স্বরূপ ধারণ করেছে।  

এভাবেই ইতিহাস  গুড়িয়ে  সে নিজেই বসেছে মহাভারত  রচনায়, 

 তার বুকের আগুনে পুড়ছে মগধ,  হস্তিনাপুর, কুরুক্ষেত্র 

আর পুড়ে যাওয়া উপত্যকায়  মধুদি নতুন করে যুধিষ্ঠির, কর্ণ, 

দুর্যোধন, শকুনি, দ্রৌপদীকে আলোক ও সাজসজ্জা  সাজাচ্ছে .... লিখছে অন্য মহাভারত।






স্বাক্ষর

তৃষ্ণা গড়িয়ে নামছিলো ঠোঁট গলা বেয়ে

 হৃৎপিণ্ডের দিকে,,  মনে হয়েছিলো বুঝি ভালোবাসার ভুখ...।

সময়ের চোখে সে রক্ত মাখা মুখ ভেসে উঠতেই বদলে গেলো আবহাওয়া,,

অথচ...  এক দিন সে মুখে স্বচ্ছ শ্বেতপদ্মই স্বাক্ষরিত হতো,

নির্ভেজাল মনে ঈশ্বর স্বরূপ ছিলো খুঁটে খাওয়া ভালোবাসা ,

অথচ সে বুক পকেটে প্রতিবেশী রেখেছিলো টিকটিকি , নিলামে রেখে দিলো  আসল আশ্রয়।

আজ শকুনের দল সে মন জমিন খুবলে খুঁজছে নিজেদের রেশন-পানি ,,

গন্তব্যহীন স্টেশনের খোঁজে  সব পাগল ছোটে সবাই জানে,,

অথচ মধুদির চোখের পাতায় আজও ভালোবাসা লেখা নেই ,

তবে কি মাংসের লোভেই সমস্ত ভালোবাসাকে কলঙ্কিত করেছে সে জন্মভোর !


...  ঈশ্বরের যেমন ছেঁড়া বর্ষাতি টুকু নেই তারও ছেড়া অস্তিনে কোথাও কোনো ইমান লেগে নেই ।

পৃথিবী তথাগত ভাবলেও সে বেজন্মার স্বাক্ষর রেখে দিলো নিজের আয়নায়।





সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৩

কেমন আছে ওরা

ছকের বাইরে পথটায় হেঁটে  যায় সমস্ত  কাল্পনিক চরিত্ররা 

জানতে ইচ্ছা করে ওরা আজকাল কেমন আছে!

নীরার বুকে কি এখনো শব্দ করে কবির কবিতা হেঁটে  বেড়ায় রাতভোর!  

বরুনার কাছে সেই সুগন্ধির কাঁচ বোতলটা কি যত্ন  পায় আগের মত!  

আর... আর সেই বনলতা  সে কি এখনো  স্বপ্ন বিলোয়!   তার চুলে কি আজো বিদিশার নিশা  অন্ধকার ছড়ায়! 

পাখির নীড়ের মত চোখ কি আজো  একটা  দীর্ঘ  কবিতাকে রচনা করে  ! 

ছকের বাইরে পথটা  বড্ড সিগন্যালহীন,  কাল্পনিক  সমস্ত চরিত্ররা সে পথ দিয়ে ইচ্ছে মত যাতায়ত  করে,,

... ভীষণ মন চায় জানতে  কেমন আছে বেনীমাধব  ?  তার ভাবনায় নষ্ট  মেয়ে আজ কেমন দিন কাটায়! 

নন্দীনি শুভংকর এরা কেমন আছে!   শুভংকর কি আজো বাগান, পতাকা, ব্রীজ, কাগজ এর মত নন্দীনিকে হারিয়ে ফেলার ভয় পায়!   

কেমন আছে এরা?  

আরো অনেকে ওই ছকের বাইরে পথ ধরে আসে যায়  সকলের নাম আজ  ঠিক  মত মনে পড়ে  না... তাদের কথা নাহয় আর একদিন হবে।

যদি কেউ এদের কেমন থাকার খবরাখবর  পাও, উৎসুক  মনের ঠিকানায়  ডাকবাক্সে ফেলো চিঠি, 

ছকের বাইরে পথটায় হেঁটে  যাওয়া  সমস্ত  কাল্পনিক চরিত্ররা 

 আজকাল কেমন আছে জানতে ইচ্ছা  করে। 


.


রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৩

যন্ত্রনা লিখতে

যন্ত্রণা লিখতে সেদিন থেকে বুক পুড়েছে ,জ্বলছে
ভীষণ রকম আগুন শিখা ,
যদি কখনো দেখা হয় ....সেটা যেন চিতা কাঠের এপারে , আর যদি তা নাই হয় ,আমি ভুলে যেতে চাই একসাথে স্বর্গীয় সমস্ত অনুভূতি কখনো ছুঁয়ে ছিলো আমাদের ,,,

দেখা যদি হয় এপারে কোনো সবুজ নবান্নের দিনে দেখা  হোক,... নয়তো চেনা ধুকপুকে লেগে থাকা সব অঘ্রান নাহয় মিথ্যে হোক চিরতরে।

যে কথা দিয়েছে হৃদয়ে হৃদয়ে তুমি মিথ্যে প্রমান করবে সে ঈশ্বর তুমি নও হে সখা! ,

আগামী বলে কিছু যদি থাকে তা অতীত  কাঠামোয় বর্তমানের মাটি দিয়ে সৃষ্টি ...বাকি তোমার শব্দ চাতুরী ওরা ওই মঞ্চের উল্টো দিকে যে যা বোঝে বুঝুক ,,,

আমিও সে দিনও মঞ্চের প্রথম সারির চেয়ারে দর্শক ছিলাম যে দিন তুমি আমি বিহীন আমার সৎকারের সংকল্পে উজ্জাপনে প্রদীপ শিখা জ্বালিয়ে ছিলে ...,,
পরেও তোমার শেষ নোহবতে আমি সামিল থাকবো কথা দিলাম ,... ।

ওই হাতের সমস্ত রেখায় আজও স্পষ্ট  ও অবাধ আনাগোনা রয়ে গেছে ,  তাই তুমি দূরত্ব মাপতেই পারো সময়ের ফিতে দিয়ে , ,,
আমি ও হাতের রেখা গুম করেছি তোমার সাথে সঙ্গমে মেতে ,.... তুমি সেদিন আগুন দেখছিলে আমি সেসময়ে বিনিময় সেরে নিচ্ছিলাম ,
যাও যত দূর যাবে যাও ...................

......আমিও দেখতে চাই এই পৃথিবী গোল কিনা !

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩

ভালো থেকো

ভালো থেকো সকালের  আলোর আদরে, 
হেসে নিও পড়ন্ত বিকেলের সাথে খুনসুটি  করে, 
স্বপ্ন জড়িয়ে রাত বিছানায় ভাংচুর অভিমানদের জুড়ে নিও 
রুপকথার সাথে। 

চায়ের  উষ্ণ  ওমে আঁকো  মুহুর্তের ছবি 
ভালো  থেকো এ শহরের কালো পরীর প্রাসাদ 
ভালো  থেকো ধর্ম তলায় অপেক্ষায়  দাড়াঁনো ভালবাসা 
ভালো  থাকায় একাকার হোক সমস্ত পারিজাতের দৃশ্য। 

ভালো থাকায়  ঘুম নামুক স্মৃতির ভিড় সরিয়ে 
ভালো  থাকা জুড়ে জন্ম নিক আরো একটা  কবিতা, 
ভালো  থাকা খুঁজে নিক মাঝ সুমুদ্রে হারানো  বাতিঘর 
ভালো থাকা জুড়ে  ক্যাকটাসে ফুটে উঠুক  নরম রঙের ফুলেরা, 
ভালো থাকার নরম রদ্দুরে এ শহর সেকে নাও তোমার  ঠান্ডা  কনকনে যন্ত্রনা গুলো,  ভালো থাকার আভায় তোমার মুখ ভরুক গোলাপিবর্ণ। 
আমার ভালো থাকার সিলসিলা বইতে থাকুক 
এ গঙ্গার বহতায়,
 ভালো থাকার খবর রাখুক খবরের পাতারা,,
বিশ্বাসে ভরুক ভালো থাকার অক্সিজেন 
এ শহর তুমি ভালো  থেকো ... ভালো  থেকো  তুমি।

সই(৭২)

 গনগনে আগুন পুড়তে থাকে চাঁদ ,

ক্ষিদে কাঁদে তাই পিঠে জীবনের বোঝা নিয়ে ছুটন্ত বাসের হাতল ধরার চেষ্টা রোজ রোজ ...

 সময়ের গলায় আটকে থাকে শ্বাস 

তাই  পরিতৃপ্ত  শব্দটা  নিয়ে সময় খেলে জাগলিং

একলা বিশ্বাসে হেঁটে কোনো উপন্যাসের উপসংহার ছুঁয়ে দেখা যায় না ...

#সই



সই (৭১)

চল্লিশ সেকেন্ড নাকি অমরত্বের বারো মিনিট ...
সে যদি হৃদয় বুঝতো  আর ভালোবাসা আসলে একটা আশ্রয়ের নাম এটুকু বুঝতো 
তাহলে মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সম্পর্ক শব্দটার বানানটুকু হয়তোবা  নির্ভুলভাবে লিখতে শিখে নিতো...
#সই



নিঃশ্বাসের হিসেব নিকেশ

খরচ করা সময় থেকে কিছুটা সময় গোপন করে নিও  তারপর ... তারপর নাহয় একে অপরের মুখোমুখি নষ্ট সময় কে ভেঙে গুঁড়িয়ে নিও একবার সাহস করে ,
নতুন করে গড়ে নিতে শিখতে হবে যে অন্ততঃ এবার ।

একটা নতুন তুমি আমি একটা নতুন সূর্য ওঠার দেশ , আর কিছুটা সত্যি মেশানো রূপকথা ।

গেলাসে চুমুক দাও ...জীবন এখনো বাকি গল্প
লিখবে , সময় এঁটো  হাতে স্মৃতি দের ডাকা দেবে  
ওরা বাসী হতে হতে নিজস্ব ষড়যন্ত্র ছড়িয়ে দেবে আগামীতে,,
মৃত্যুর আগে তাই একবার নষ্ট সময় গুঁড়িয়ে ফেলো আর গড়ে নাও নতুন  করে একটা সত্যির মত রূপকথা  ,
বুকের মধ্যে সেপ্টিপিন দিয়ে জুড়ে নাও বাকি পথটুকু নতুন ইস্তেহারটাকে।

মরীচিকার ভাবনায় লুকিয়ে রাখা একলা হৃদয়ের গল্প ,লুকিয়ে রাখা  নেশার আগুন ভেজা  দুঃখ,
লুকিয়ে রাখা সালমা চুমকির দুনিয়া ,
ভালো থাকা খুঁজে নিতে ওরাও মায়াবী হতেই
 ভালোবাসে , 
 তবু একবার সাহস করে   ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলো তারপর গড়ে নাও  একটা নতুন নিয়মের গোলক ,

এসো নষ্ট সময়ের ক্যাফেটেরিয়া বসি মুখোমুখি ।
জানি কেউ কেউ ডাল ভাতের চেয়ে বিরিয়ানী প্রয়োজন মনে করে বাঁচে 
আর কেউ কেউ ডাল ভাতে  একটা গোটা জীবনকে রূপকথার মত সাজাতে পারে ভালোবেসে যত্ন করে ।
 এই খসড়া নিয়ে সাহস করে মুখোমুখি বসবে একদিন!






বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৩

এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই

মরশুমের হওয়া ছুঁয়ে যায় , হাতের মত মুখের ওপরেও অসংখ্য কাটাকুটি খেলা  এখন।

সময়ের ঘরে তোমার আমার বয়সে সোনালি ফ্রেমের চশমা ,সমস্ত বাঁধ ভেঙে কাছের পৃথিবী ক্রমশ  আবছা হবার পালা ,

রুচি অরুচির দিন ফুরিয়ে যাহোক কিছু গোছের বাকি পথটুকু ।

 ভালোবাসি শব্দের মানে বদলে গিয়ে অভ্যেস হয়ে যায় এই সময়ে।

বুকের সংসারে  হাজারো স্বপ্নের ভাঙাচোরা আওয়াজে অভ্যস্ত মন।

সমস্ত মিথ্যে হয়ে যায় যখন সে এসে বলে এবার তোমায় যেতে হবে ...

 শরীর পড়ে থাকে স্পর্শ উত্তাপ হারালেই 'জড়'র ভূমিকায় ,

সম্পর্ক পথ হারা পথিক তখন  কিংবা ভোকাট্টা ঘুড়ির মত ।

মুক্তি শব্দের মানে মানুষ বোঝে কিনা জানা নেই ,

 জানা নেই সময়ের চুক্তি কার ঘরে কতটুকু!

মোহ স্পৃহা সময়ের ঘরে বেঁধে রেখেও

মুঠো খালি হয়েই যায় এক পলকে। 

তবু নিঃশ্বাস মানে বুকের খাঁচায় তোমায় আমায় মিলে একটা সংসার ...আর কিছু গুছিয়ে রাখা অপেক্ষা ...,, এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।


এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই

মরশুমের হওয়া ছুঁয়ে যায় , হাতের মত মুখের ওপরেও অসংখ্য কাটাকুটি খেলা  এখন।

সময়ের ঘরে তোমার আমার বয়সে সোনালি ফ্রেমের চশমা ,সমস্ত বাঁধ ভেঙে কাছের পৃথিবী ক্রমশ  আবছা হবার পালা ,

রুচি অরুচির দিন ফুরিয়ে যাহোক কিছু গোছের বাকি পথটুকু ।

 ভালোবাসি শব্দের মানে বদলে গিয়ে অভ্যেস হয়ে যায় এই সময়ে।

বুকের সংসারে  হাজারো স্বপ্নের ভাঙাচোরা আওয়াজে অভ্যস্ত মন।

সমস্ত মিথ্যে হয়ে যায় যখন সে এসে বলে এবার তোমায় যেতে হবে ...

 শরীর পড়ে থাকে স্পর্শ উত্তাপ হারালেই 'জড়'র ভূমিকায় ,

সম্পর্ক পথ হারা পথিক তখন  কিংবা ভোকাট্টা ঘুড়ির মত ।

মুক্তি শব্দের মানে মানুষ বোঝে কিনা জানা নেই ,

 জানা নেই সময়ের চুক্তি কার ঘরে কতটুকু!

মোহ স্পৃহা সময়ের ঘরে বেঁধে রেখেও

মুঠো খালি হয়েই যায় এক পলকে। 

তবু নিঃশ্বাস মানে বুকের খাঁচায় তোমায় আমায় মিলে একটা সংসার ...আর কিছু গুছিয়ে রাখা অপেক্ষা ...,, এর বেশি কিছু চাওয়ার নেই।


সোমবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৩

একটাই মঞ্চ

মঞ্চ একটাই  , পর্দার ওঠা নামায় মুখের আদল বদলে নিচ্ছে  সময়ের মুখ ।

আমরা মানুষ আর চরিত্র বলেই ধরে নিই  এই মুখগুলো ।

জমায়েতে সামিল হয় হাজারো চোখের ভাষা,  

অভিনেতার হাসির আড়ালে লুকোনো গল্পের খোঁজ বাইরে থেকে কেউ চিনতে পারে না ।

কতসত  মন-জমিন নিলামে দাঁড়ায় প্রশ্ন চিহ্ন ভুলে গিয়ে । 

চিত্রনাট্যে গুছিয়ে রাখা থাকে গোপন সংবাদ,  যা কিনা তুমি আমির চোখে ধরা পড়ে না মোটেই।

চলমান সময়কে ভর করে কেউ কেউ রূপকথা এঁকে  হাততালি  কুড়িয়ে নেয় বুকের পকেটে।


একটাই মঞ্চ , পর্দার ওঠা নামায় মুখেরা আদল বদলে নেয় এক নিমেষে , 

ক্ষয়ে যাওয়া আলোর রোশনাই একদিন সিঁড়ির ধাপ গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে যায় । 

অন্ধকার মঞ্চ আকাশ ,নক্ষত্র ,আলো হাতড়ে বেড়ায় ।

মানুষের গল্পে হাজারো রঙের মেলা ,

মুখ সেজে নেয়  চরিত্রের প্রয়োজনে,,

আবার  জনতার ভূমিকায়  হাততালি দেয় আরো একদল মান-হুশ,,

সময়  চলে গেলে , মঞ্চের পাটাতনের বুকে জমে থাকে বদ রক্ত ...যেন ইতিহাস তার সাক্ষ রাখতে চায়।


মুখ বদলিয়ে নিয়ে চরিত্রের পোশাকে লেগে থাকে

অভিনয় ।

আসলে  চরিত্র বদলে দেয় গল্প নাকি গল্প বদলায় চরিত্র কে বলবে?

 

সময় ফুরোয় 

 হাততালি ফুরোয় 

মুখ সেজে নেয় নতুনভাবে নতুন গল্পের আদলে । 

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৩

খাঁচার ভেতর বন্দী

 আমার খাঁচার ভেতর বন্দী তুমি
আমার ভেতর আমার সাথে তোমারও বয়স বাড়ছে ।
আর তাই ঠোঁটের কাছে জমে থাকা কথাগুলো যত্ন  পায় এখন অনেক বেশি ,
আমার ভেতর আমার সাথে বুড়ো হচ্ছ তুমিও   ,
চোখের সামনে আবছা সময় চশমার নম্বর সিঁড়ি বেয়ে উঠছে ক্রমাগত।
বদলানো দিনকাল মাসে স্মৃতির জমায়েত হচ্ছে শহরময়।

তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারোনি  কখনোই খাঁচার ভেতর আমারই সাথে তোমারও বয়সের ঘরে চুলের রং বদলাচ্ছে। 
মিশে গেছো মনের মজ্জায় ....

 শহরেই কোনো একলা গলিতে আমাদের রঙ ,একলা ঠিকানায়  অপেক্ষা আঁকে ।
পারিজাতীয় আদরে  মাটির কাঁপন এখনো গল্পের গায়ে স্বাক্ষর রাখে ।
তোমায় বন্দী করেছি পাঁজরের খাঁচায় ...তুমি পাখী হতে চেয়েছো বারংবার আমি তোমায় গাছের মত পেতে চেয়েছি আজন্ম ।
তবু ভাবনার  বয়স বাড়ে না ...হয় না মৃত্যু ,
সম্পর্কে গাঁথা থাকে অদ্ভুত আংটা 
আর সে আংটা গিলি গিলি গে মন্ত্রে বশবর্তী ।

শুধু মনের কোনে গোপন ঘরে  একসাথে অনেকগুলো চরিত্র কথা বলে ...কেউ ক্যানভাস জুড়ে পাহাড়ী ঝর্ণা আঁকে  , কেউ ইঁটের ওপর ইঁট বসিয়ে ঘর বাঁধে ,কেউ সে ছবি ও ঘর নষ্ট করে হেসে ওঠে অট্টহাসি।
এরও পরে  সংসার টুকু জুড়ে আমারা শব্দের আসবাবপত্র, 
এই বেঁচে থাকা জুড়ে ভাতের পাশে নুনের আয়োজন। 
আর তারপরে আমার মত একটা বুকের খাঁচায় স্বপ্ন বন্দী পাহাড়ের পাশে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার গায়ে আমাদের কাঁচের বারান্দায় তুমি একটা কবিতায় আমায় রচনা করো ,  আর আমি ...তুমি আমির কবিতাকে সংকল্প রেখে ক্যানভাসে রঙ ভরি ।
 দিন ফুরোলে  আমরা একসাথে আমাদের যন্ত্রনায় চুমুক দিয়ে বলি  আয় আমরা একসাথে বুড়ো হই ,
একসাথে চিতা কাঠে কিংবা কফিনে ঘুমোই পাশে পাশে সাথে সাথে ।

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৩

নতুন বছর

ক্যালেন্ডারের নতুন পাতায় উৎসব ছুঁয়ে 
এই বেশ ভালো আছি বলতে ভালো লাগে। 

সভ্যতার উপন্যাসে জুড়ে যাবে নতুন গল্পেরা ,
কেউ কথা রাখবে কেউ মুছে ফেলবে সময়ের ডাস্টারে পুরোনো যাকিছু  ।



সময় মুছবে ভালো মন্দ ,ক্লান্তি গ্লানি যন্ত্রনা পাওয়া হারানো ,, সময় শূন্যস্থান পূরণ করবে নতুন বাতাসে ।

হঠাৎ একলা হতে হতে  নিজেকে  নতুন করে খুঁজে পাবে সব হারানো মন ।
হয়তো কবির গানের সুর ভেসে আসবে তোমায় নতুন করে পাবো বলেই হারাই বারে বারে ...।

পুরোনো ঠিকানায়  আবারও  নতুন পাতবে সংসার।

বুকের ডাকবাক্সতে  চিঠি গুলো বদলাবে  সময়ের অভ্যেসে,  

ভুলগুলোকে  শুধরে নিতে আবারো ইচ্ছেদের রবিঠাকুরের  কোনো গল্পের  মত সাজাবে মানুষ। 



 হৃদয়ের ঘরে একলা সুখ খুঁজে  মুছে নেবে সবটুকু জেহাদি  দেওয়াল লিখন

একলা থাকার রোগ সেরে উঠবে নতুনের স্পর্শ লেগে, 

এই ভাল

সমস্ত মুছে যায় , যাক তবে

                   সমস্ত মুছে নতুন এসো সব চাওয়া না চাওয়া জুড়ে,

প্রত্যাশার ভোর নিয়ে  বছর আসে  , কপাট বন্ধ থাকুক মিছে হয়ে যাওয়া  ছবি, 

এভাবেই সব পুরোনো  ফিকে হয়ে যাক ,এই শহরের গল্প  , সময়ের গল্প। 

আলোয় আলো ছুঁয়ে  আমাদের কথা, তাহাদের কথায় নতুন কাব্যে শহর ব্যাস্ত  হোক 

ভাল থাকা শিখে নিও শহর, ভালো  রাখা  শিখে নিও নদী, 
রাজপথ  তুমি আবারো সাক্ষী  থেকো আসা যাওয়া  আর অপেক্ষার। 
দেখা হবে.... দেখা হবে... দেখা হবে... সমস্ত সাক্ষী  মেনে আবারো  কোনো  নতুন অধ্যায়ে  দেখা হবে।