শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৩

খাঁচার ভেতর বন্দী

 আমার খাঁচার ভেতর বন্দী তুমি
আমার ভেতর আমার সাথে তোমারও বয়স বাড়ছে ।
আর তাই ঠোঁটের কাছে জমে থাকা কথাগুলো যত্ন  পায় এখন অনেক বেশি ,
আমার ভেতর আমার সাথে বুড়ো হচ্ছ তুমিও   ,
চোখের সামনে আবছা সময় চশমার নম্বর সিঁড়ি বেয়ে উঠছে ক্রমাগত।
বদলানো দিনকাল মাসে স্মৃতির জমায়েত হচ্ছে শহরময়।

তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারোনি  কখনোই খাঁচার ভেতর আমারই সাথে তোমারও বয়সের ঘরে চুলের রং বদলাচ্ছে। 
মিশে গেছো মনের মজ্জায় ....

 শহরেই কোনো একলা গলিতে আমাদের রঙ ,একলা ঠিকানায়  অপেক্ষা আঁকে ।
পারিজাতীয় আদরে  মাটির কাঁপন এখনো গল্পের গায়ে স্বাক্ষর রাখে ।
তোমায় বন্দী করেছি পাঁজরের খাঁচায় ...তুমি পাখী হতে চেয়েছো বারংবার আমি তোমায় গাছের মত পেতে চেয়েছি আজন্ম ।
তবু ভাবনার  বয়স বাড়ে না ...হয় না মৃত্যু ,
সম্পর্কে গাঁথা থাকে অদ্ভুত আংটা 
আর সে আংটা গিলি গিলি গে মন্ত্রে বশবর্তী ।

শুধু মনের কোনে গোপন ঘরে  একসাথে অনেকগুলো চরিত্র কথা বলে ...কেউ ক্যানভাস জুড়ে পাহাড়ী ঝর্ণা আঁকে  , কেউ ইঁটের ওপর ইঁট বসিয়ে ঘর বাঁধে ,কেউ সে ছবি ও ঘর নষ্ট করে হেসে ওঠে অট্টহাসি।
এরও পরে  সংসার টুকু জুড়ে আমারা শব্দের আসবাবপত্র, 
এই বেঁচে থাকা জুড়ে ভাতের পাশে নুনের আয়োজন। 
আর তারপরে আমার মত একটা বুকের খাঁচায় স্বপ্ন বন্দী পাহাড়ের পাশে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার গায়ে আমাদের কাঁচের বারান্দায় তুমি একটা কবিতায় আমায় রচনা করো ,  আর আমি ...তুমি আমির কবিতাকে সংকল্প রেখে ক্যানভাসে রঙ ভরি ।
 দিন ফুরোলে  আমরা একসাথে আমাদের যন্ত্রনায় চুমুক দিয়ে বলি  আয় আমরা একসাথে বুড়ো হই ,
একসাথে চিতা কাঠে কিংবা কফিনে ঘুমোই পাশে পাশে সাথে সাথে ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন