রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৩

সম্ভাবনা

১) পাখি


চাওয়া টুকু  জুড়ে  শুধুমাত্র এক টুকরো  আকাশ , 

একটা  ডানা যার ওপর  বিশ্বাস রাখা যায়,   

ক্লান্ত  সফরের শেষে নীড়ে ফিরে একটুকরো 

স্পর্শ নাম আশ্রয়, 

শর্তের শহরে  আকাশ মেলে শর্ত রেখেই  


 তাই এ শহরের আকাশের গায়ে মৃত্যুর গল্পেরা ভারি মেঘের ভুমিকায় ভেসে বেড়ায়। 




২)নীল

শরীর এর শরিকে এখন বিষ 

অন্ধকারে মুখ গুঁজে  আলোর সঙ্গে  পরবাস তাই।

আমি দরজার  হাতলে বিষ মাখিয়ে  রেখে  

এ অন্তরমহলে  অতিথি  প্রবেশ  নিষিদ্ধ করেছি  বহুকাল। 





৩)সম্ভাবনা 

জানলা বন্ধ...  অসূর্যম্পশ্যা  হতে চেয়েছে  মন

হারাবার জন্যে শামুকের খোলসে আশ্রয়  কিনেছি 

বিকিয়ে বহু রত্ন।

আয়ুপথ কমে আসে প্রতিটা জন্ম দিন আসলেই 

আর সম্ভাবনা  কমে আসে আমাদের দেখা হতে পারা

গল্পের মুখোমুখি  হওয়া। 

#সই(সম্ভাবনা) 


আশ্রয়


হৃদয় আশ্রয়  চায়  আর সেটুকু  পেলেই

লতিয়ে বেড়ে ওঠে নিজস্ব বারান্দা  বেয়ে আকাশের দিকে,

হয়তো  সে আশ্রয়ের নিবে লুকিয়ে রাখা থাকে লুকোনো 

মৃত্যুর যন্ত্রনা , পাঁজরের  বেড়াজালে স্মৃতি গুঁজে রাখা থাকে

ফেলে আসা বেলার...  সে স্মৃতির রঙ সূরজ কা সাতবা ঘোড়ার মতই,  শেষতক থাকে রঙ বদলিয়ে বদলিয়ে। 



আশ্রয়ের কি মৃত্যু  ঘটে জানা নেই!   জানা নেই

মানুষের  বুকের মাঝে কেনোইবা কখনো হু হু বাতাসে

মেঘ জড়ো করে আনে,

আশ্রয় এর মৃত্যু  হলে ভালো  কিংবা মন্দ থাকার উর্ধ্বে 

মানুষ  ভেসে যায়  কিংবা ডুবে যায়  তথাগতর ধ্যানের ভেতর, 

এতো কিছুর পরেও মানুষ চায় তার আশ্রয় হোক পৃথিবীর  আয়ুর সমান। 

#সই(আশ্রয়)






শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

তুমি থাকো বা না থাকো


জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে কেবল সম্পর্ক 

বেঁচে  থাকে... 

বেঁচে  থাকে টানাপোড়েন ভেতোরে অজস্র

মোহের গিঁট , 

তুমি হয়তো  নিজের ভেতোরের হাঁড়ির  খবর টের পাওনা 

প্রতিবেশী তোমার পান্তার পাশের নুনের হিসেব রাখে, 

দরজার ওপাশে ইঁট সাজানো মাকান আদেও ঘর কিনা সেটা

বড় কথা নয় দরজার এপাশে নেমপ্লেটের ওপর  তোমার নামটুকু আসল,, 

আসলেই একটা  মানুষ  আমরণ কোনো বা কোনো  সম্পর্কের

দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ... সে সম্পর্কে  নিজের থাকাটা জরুরি  নয়, জরুরী  সম্পর্কটা, 

আসলে এই থাকা গুলো বড্ড  ঠুনকো কাঁচের মত, 

আসলে এই থাকা গুলোয় বেশির ভাগ  সময়  না থাকা

সারংশ। 

জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে  কেবল কিছু সম্পর্কের হাত ধরা

আর ছাড়া... সে তুমি চাও বা না চাও , সে তুমি থাকো বা না

থাকো।

#সই (তুমি থাকো বা না থাকো)



 

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩

সাথে পাশে সমান্তরালে

কাছে থাকা পাশে হাঁটা কিংবা  সমান্তরালে 

চলা  জীবন শৈলীর নিরব ধারা,, 

চোখ  তাকায়  আর বুক আশায় ভরে, 

হ্রদ কান্নার দায় তবু চোখেরই থাকে। 

সংজোগের আঁতুড়ঘর  আগলে থাকে না

পথ,  আর বিচ্ছেদের  শোকে জীবন পুড়ে যায় না। 

সকালের  চায়ের সাথে জীবন  হাসে সূর্যমুখির মত

বিকেলে  সে জীবন  প্রৌঢ়বয়সী, 

তুমি আমি বদলাই না কখনো  বদলায় এ দেহ আর পোশাক। 


#সই(সাথে পাশে সমান্তরালে) 

মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩

পোশাকের আড়ালে শহর

পোশাকের আড়ালে এ শহর চেনা হয় রোজ

গলির পাকদণ্ডীতে তবুও  অচেনা  অভ্যাস  আর

যন্ত্রনার  সাতকাহন   নিশ্বাস নেয়,, 

রোজ নতুন পোশাকে ওরা মানুষের  মত 

রোজ নতুন আদপে ওদের নিয়ম পরিবর্তিত,

আকাশ লজ্জা পায় ঈশ্বর  কাঁদে  চেনা মানবতার 

অচেনা  পরিচয় এর সামনে দাঁড়িয়ে । 


বয়সের মাঝখানে  দাঁড়ানো  লোকটা ক্যানভাসে 

রঙ তুলির আঁচড়ে নিয়ম ভাংচুর  করতে চায় প্রতিদিন 

অথচ হিসেবের বাইরে অনিয়মে ছুঁয়ে যায় যায় কিছু প্রিয় মুহূর্ত কিছু আফসোস সে ক্যানভাসের বুকে ,, 

লোকটা  হাঁপিয়ে  ওঠে  সাঁতরে উঠতে চায় কিংবা  ডুবিয়ে 

দিতে চায় নিজেকে  নাকি আরো একবার নতুন পোশাকে এ শহরের  মত অচেনা  হয়ে ভিড়ে মিশে যেতে  চায়...।। 


#সই(পোশাকের আড়ালে  শহর)



প্রতিকি আমি


 

অবিরাম  বৃষ্টির ভেতর গিয়ে  দাড়াই 

আমি  নিজেকে  নিজের  কাছে অপরিচিত  মনে হয় সে বৃষ্টির

ভেতর, 

সামাজিক  গন্ডি বাঁধা  এ পরিচয়  পাঁজরের 

বেড়ার ওপাশে  ধিক ধিক আগুন ঘুমোয়,

সুখ ও শোকের স্পর্শ  অনুভবে  মেলে না, 

সম্পর্কের চোখে  একটা  হাসি দেখি বিদ্রুপ এর অলংকরণে।


সময়ের আলো এসে পরে সাদা বরফের  ওপর 

ঈশ্বর  আর আমি মুখোমুখি  অচেনা সফরে  অজানা 

বৃষ্টির ভেতর মাইল ফলকে  স্বাক্ষর  রাখছি,, 

অবিরাম  নিজের মোহের ভেতর ডুবছি ভিজছি 

যেন সম্মহিত আমি আমার ঈশ্বর দ্বারা। 


#সই(প্রতিকি আমি)

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

শেষ বার

হঠাৎ বৃষ্টি  নামলে তুই সামনে  এসে 
আর বলিস না আয় ছই এর নিচে দাঁড়াবি আয়,
শেষ  আশ্রয়  হাওয়ায়  হারায়  বুকের মাঝে
আগুন নেভা কালো  অসুখ, 
বৃষ্টির জল চোখের উপত্যকায়  ঘর ভাঙা ভাসান,, 
কেউ কথা  দেয়নি তবু আশায় সাজানো  মাহফিলে
হাস্নাহেনার হাসির জন্ম হয়,

আমি জীবন শৈলী  ফেলে সমস্ত  অস্ত্র নিচে রেখে ফিরতে  চাই
আমি সমস্ত  দরজার চৌকাঠ ছেড়ে তুমুল  বৃষ্টিতে ভিজতে  চাই একা,, 
কথারা শব্দের  ঘর ছেড়ে  যেতে  চায় 
মন নির্বাক সময়ের বৃষ্টিতে আপামর শেষবার ভিজতে চায়,
শেষ  বাস চলে যাবে আমি আমি শেষ বার শেষ  যাত্রী 
সে বাসের।
আমার আগুন নেভাক এ শহরের সব ধুয়ে দেওয়ার অংিকার
এ বৃষ্টি। 

#সই (শেষ বার)



মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩

enjoy your life

enjoy your life before its melts 

প্রাক্তন =মৃত্যু


নিথর দেহ পুড়লে আগুনের স্পর্শ বোঝা যায়  না, 
সব ফুরিয়ে যাওয়ায় এক অদ্ভুত  আবিষ্কার 
চুপ করে দাঁড়িয়ে  দেখে আয়নার মত, 
খালি গ্যালারিতে মঞ্চায়ন হয় অদ্ভুত আশ্চর্য আর
আফসোস , 
স্মৃতিকে সকলেই বর্তমানে  আশ্চর্য ভাবে যত্ন করে রাখে 
সাজায় লালন করে... অথচ  দৃশ্য গুলোকে প্রাক্তন বলতে
ভালবাসে! 
নালিশ  ফুরিয়ে যাওয়া মুহুর্ত গুলোর নাম আসলে মৃত্যু 
আধিকার মুছে ফেলা মুহুর্ত  গুলো আসলে সাদা কাপড়ে
ঢেকে ফেলা সম্পর্ক , 
ভুলতে ভুলতে  হঠাৎ মনে না পড়ার একটা  সকাল
কিংবা বিকেল  আসলেই দৃশ্যের বাইরে হারানো... নাম মৃত্যু,
অথচ আকাশের মৃত্যু  আর পাখির মৃত্যু  এক না হয়েও এক
পাখিই যদি না থাকে আকাশ এর ভুমিকা কোথায়? 

#সই (প্রাক্তন =মৃত্যু) 



জ্বরের ঘোর

জ্বরের ঘোর

ভীড়ের  ভেতোর হঠাৎ হঠাৎ  তুই সমুখে এসে প্রশ্ন চিরকুট 
গুঁজে দিস, অপেক্ষার ছায়ায়  দাড়িয়ে  চিরকুট খুলে দেখি
সেখানে পুড়ে যাওয়া কাঠের কালিতে লেখা মন শরীর 
আর বোধ এর সাথে ভাল থাকার প্রশ্ন। 
সময়ের ঘরে ফেরা হয় না কারন সময় পাখির মত
ঘরে ফেরার রাস্তা মনে রাখে না, আর প্রায়শ্চিত্ত শব্দটা 
কেবল একটা সান্তনা , এ শব্দে ইঁট আবার নতুন  করে গাঁথা 
যায়না, 
স্বর্গ দুয়ারে আলোর নিচে নীল কিংবা  গোলাপি 
আলোর দফনে একটা মৃত্যু ভিষণ রকম জীবন্ত, 
অথচ মানুষের মোহ উপরের পোশাকের সলমাচুমকির
রোশনাইতে, 
দিন পেরোলে চামড়ায় লেগে থাকা অজানা 
পাপ অসুখের মত অন্তর  সেঁধিয়ে যায়, 
হৃদয়ের ভায়োলিনে তখন  ইমন কল্যানে  অভিমান 
আর আয়নায় অচেনা  প্রশ্নকর্তা,, 
এমন সময় কুঁকড়ে ওঠে  হৃদয় আর অদৃশ্য  সেতুটা 
কালের কুয়াশা সরিয়ে হাতড়ে বেড়ায়, 
মিথ্যে অভ্যেস বদলে যায়  বেঁচে থাকার গল্পে, আসলে
আলোর দিকে হাঁটার নেশায় বুঁদ হয়ে তুই ভুলে গেছিস মরিচীকা 
আর আলোর  তফাৎ, মরিচীকা আর আলো একই দেখতে 
একটা স্পর্শ করা যায় আর একটা....। 

#সই(জ্বরের ঘোর)



শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩

জন্মের দায়



মানুষ  হোঁচট  খায় তবু সে রাস্তাকে বিশ্বাস 

করে, 

মানুষ মৃত্যু  কে জানে তবু জন্মের কথাকে উৎসব মানে, 

মানুষ  জানে ঘুম ভাংগার পর স্বপ্নেরা ছুমন্তর ... তবু

রোজ রাতে সে একটা  সহবাস খুঁজে ফেরে রুপকথার দেশের।

সব সত্যি গুলো  মানুষ  জানে  তবুও রোজ

হাজারো  কিস্তিতে  নিজের সামনে  নিজেই কাঠগড়ায়  

দাঁড়িয়ে থাকে নিরুত্তর  হয়ে থাকা এমন অসংখ্য 

প্রশ্নের  সামনে। 

মানুষ  মাথা নিচু করে  অদৃশ্য  হাত পেতে দাঁড়ায়  

মহাকালের সামনে  , ফিরতে চায় তার শুরুতে 

অথচ মহাকাল ঘড়ির কাঁটায় কেবলমাত্র 

আগামী টুকুই বরাদ্দকৃত রাখে, 

তবু যেকোন মৃত্যু কোনো না কোনো  জন্মের ছাড়পত্রর

পরেই ফলকনামায় লেখা হয়

আর একটা  মৃত্যুর  পর মানচিত্র বদলে যায় 

বদলে যায় অনেক নিয়মিত অভ্যেস। 


#সই(জন্মের দায়)




সময়ের পাগলামি



সময়ের  বিষ নজরে ঠান্ডা মৃত্যু হয়ে সে এসেছিলো

পরনে  ছিলো আলোর দেশের বাহারী মোড়ক,

বরফের হরফে প্রেম লিখেছিলো  আবহাওয়ার রদবদলে

সাক্ষর মুছে গেছে তাই এক সময় । 


পাঁজরের  খাঁচায় সে কারন খুঁজে পেয়েছিলো মৃত্যুর 

তার একতারার ছিলায় তখন  মুক্তির  সুর 

আকাশে মেঘেদের  আড়াল থেকে যে ধ্রুবতারার আলো 

এ মাটির পৃথিবী  ছুয়েছিলো আসলে তার নামেই

আজ মরিচীকার নামকরণ। 

#সই(সময়ের  পাগলামি) 




*

প্রেমিকের চোখ

"প্রেমিক চোখ"

 ও চোখের এক্কাদোক্কা  খেলায়

নেশাতুর ছিলো মন, 

নীল নদীর  পাড়  ধরে স্বপ্নের  কয়েক বিঘা

জমি কেনার কথাও ছিলো,

অথচ সিঁড়ি ভাঙা অংকের শেষে  হিসেবের

ঘরে নিকষকালো অন্ধকার  দাঁড়িয়ে  ছিলো,, 

ভালবাসার  আখরের আসলে কোনো পরিমাপ হয় কিনা

জানা হয়নি,   

মাপক- যন্ত্রে  চোখের ভাষা  ভুল ধরা পরেছিলো

বলেই ঈশ্বর মিথ্যুক  আর মাথা নত কিছু কিছু গল্পের কাছে। 


#সই ( প্রেমিকের চোখ) 


শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩

ভিজে যাওয়া কয়েকছত্র



১)আজ-কাল রোজ আকাশ জুড়ে  মেঘ আসে

ঈশানী কার্নিশে স্মৃতিরা ঝরে পড়ে 

নিয়মকে তোয়াক্কা  না করে, 

মেয়েটা তূমি কিংবা  আমি নয় শুধুমাত্র কারো 

আদলে দেখতে  হতে পারে... যাকগে সে কথা 

মেয়েটা মেঘের হাতছানি  দেখতে  দেখতে 

নগর বন্দর পার হতে থাকে ওর সমস্ত শরীর 

চুইয়ে বহুমুখী আলিঙ্গন...সে কিছুই দেখতে পায় না

মেঘ ছাড়া। 

২) ছাতার  নিচে বিশ্বাসী মুহূর্ত  হাঁটছে, 

নিয়মের অংক কষে কয়েকটা  সিগন্যালে 

সময়  দাঁড়াবে অপেক্ষা করবে সবুজ চুইয়ে বিশ্বাস 

যেন চিরন্তন হয়,   আর তারপর শহরের বুকে

সাবধানী গল্পের  কানাকানি ফিসফাস কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে  পারিজাতে ছবিতে  ক্যানভাস  ভরে যাবে।


৩)ভিক্ষুক  এসে দাঁড়ায় বহমান  জীবনের  বাসস্ট্যান্ডে 

মনের দেওয়ালে বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ ঝুলিয়ে রাখা, 

অপেক্ষার দরজা এখন ঠিকানাবিহীন , 

বৃষ্টির জমে থাকা জলে একটা  মুখ ভেসে ওঠে 

ঠাহর করতে পারি না ভিক্ষুক  নাকি রোজকার কিস্তিতে 

সেই যাপন ... যে আয়না কিনতে গিয়ে ফিরে আসে কি এক অজানা ভয় কে বুকে নিয়ে। 



#সই(ভিজে যাওয়া কয়েকছত্র)

ঐকান্তিক সফরে



তিন কুড়ির পরেও পলাশের  রঙ তোমায় ভেবে

আগুন আঁকে,  ক্যানভাসের আকাশে শ্রাবণী অভ্যেস

তোমার ভেতোর  আমি  ... আর আমার ভেতর তুমি কাগজের

নোকায় নতুন দেশের খোঁজে  স্বপ্ন ভাসাই,,

ওরা বলে আমার মাথা ও মনের ভেতোর প্রেতাত্মা ভর করেছে 

ওরা আমার জ্বলন্ত কপালে রোজ নিয়ম করে আষাঢ় ও শ্রাবণের  ধারাকে বইতে দেয়, 

সময়ের দরজা পার করে আমি তখন শামুকের খোলসে 

জোনাকি গুঁজে উষ্ণতা আঁকড়ে জড়িয়ে  নিতে চাই

বেঁচে থাকার অনুভবটুকু... আসলে আমার যে বড্ড

শীত করে আজকাল। 


উপলব্ধির ভেতোর হয়তো  ঘুমিয়ে থাকে দু একটা  দীর্ঘশ্বাস 

ওরা বৃষ্টি জলে ধুয়েমুছে যায়  না, ওরা রোজ বাড়তে থাকে

সহস্র অনুপাতে , 

যে ঘরে স্বপ্নের  সামিয়ানায় জন্মের মত বিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলো  কেউ 

সে ঘরে বৃষ্টি এসে খুব সহজে  বুঝিয়ে দিয়েছে ছই এর

বিশ্বাসঘাতকতা এ নদীর সভ্যতায়  রোজকার অভ্যেস। 

তবু তুমি গোপনে নিষিদ্ধ পাপ এর মত বাড়তে থাকো

তবু আমার ভেতর তোমার মৃত্যুর রঙ সাদা। 



#সই(ঐকান্তিক সফরে) 

বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩

আমার তুমি কারন

আমার তুমি 


আমার তুমি কারন তোমাকে চাইতে  আমার তোমার কাছে

ইজাজত লাগে না, 

আমার তুমি কারন অথই সমুদ্রের  ঢেউ এর মাঝখানে

একমাত্র তোমাকেই আমি পরম ভরসায়  জড়িয়ে  ভাসতে

পারি, 

আমার তুমি কারন সমস্ত সম্পর্কের বানান যখন

ভুল আর আফসোসে ভরে যাপনে মিশে যায় রক্ত ধমনীর 

ধারায় তোমায় আমি নামকরণহীন বন্ধনে পাই। 


আমার তুমি কারন  আশ্রয়  যখন সময়ের প্রলয়ে ছারখার 

তোমার বুকে আমার একটা ঘর অপেক্ষা করে যত্ন নিয়ে, 

আমার তুমি কারন  সুখ আর শোক পুড়ে গিয়ে

যে চিহ্ন  রেখে যায়  মৃত্যুতক তুমি সে চিহ্নে শুশ্রূষা, 

আমার তুমি কারন  তোমার ভেতর  আমার আমিকে

অদ্বিতীয় রুপে দেখি বর্নে গন্ধে স্পর্শে, 

আমার তুমি কারন  কোরা কাগজে স্বাক্ষর শব্দের স্পর্ধা 

ও অহংকারে তোমাকে পাই আপন খেলার ছলে... 

গড়ি ভাঙি কাঁদি হাসি তোমাকে আমার ভেতর আমাকে তোমার ভেতর একইসাথে, 

আমার তুমি কারন  তোমাকে ভালবাসার জন্যে কখনো 

তোমাকেও দরকার হয়নি আমার, 

আমার তুমি কারন  কেবলি ভালবাসি 

আমার তুমি কারন  কেবলি আমার সমস্ত মন্দবাসা

তোমায় ঘিরে....  আমার তুমি কারন... আমার তুমি কারন

তোমার চোখে আমার সমস্ত সর্বনাশ সকালের প্রথম আলোতেই

আমি পড়ে ফেলতে পারি। 


#সই(আমার তুমি কারন)


*

রবিবার, ৯ জুলাই, ২০২৩

প্লাস্টিকের সম্পর্ক


প্লাস্টিকের মুখ আর সাজানো হাসি

দিয়ে সেজেগুজে  এ শহর বাঁচতে  জানে, 

এগিয়ে  যাওয়ার  আশকারায়  ঈশ্বরও চাবি

ঘুরিয়ে দম দিয়ে ছেড়ে দেয় সভ্যতায়। 

কাঁচের বয়ামে স্বপ্নের  হাইব্রিড  চারাগাছ রাখা আর

রাতের বিছানায় ভাংচুর মন স্লিপিং পিলের সাথে

সংগম... নিয়মে বাঁধা  রিস্তার  মাঝে চীনের  পাঁচিল 

আর সে পাঁচিলে অন্য বুনো ফুলের হাতছানি দেওয়া হাসি,, 


রাস্তায় হেঁটে  রোজ যে লোকটা  মাথায় ঝুড়ি নিয়ে

ফেরি করে তার চোখে নীল স্বপ্নের  অবাধ আনাগোনা  

তার কাছে জীবনের মাধ্যম একটাই রেডিওতে  জয় জয়

শিব শংকর  কাঁটা  লাগে না কংকর... 

তার কাছে কাছের মানুষ  কেবল তার খিদের সংসারের  

পোষ্য পেট আর নাকে নোলক পরে তেলচুকচুকে  মাথায় 

শ্রী হীন সংগী,

আসলে ওই লোকটা  হয়তো  জানে দিনের শেষে 

আমার বলতে  ... মানে অভিমানে  রাগে রোশে

গালাগালিতে যে বা যারা  রোজকার ডালে ভাতে থাকে

হয়তো বা  সেখানে কখনো কখনো নুনের কমতি থেকে যায় 

সেটুকুই সাথে ও পাশে নিজের,, 


...অথচ এ শহরে কাঁচের বয়ামের সম্পর্ক গুলো 

আজকাল বোড্ড লোভনীয়  আর সুস্বাদু 

অথচ এ শহরে সুখের নীড় পারিজাতের ভাড়াটে ঘর

অথচ এ শহরে নকল বিক্রি হয় আসলের থেকেও বেশি

দামে, 

অথচ এ শহর ভালবাসার  নেশায় নয় বোতোলের

নেশায় বুঁদ  হয়ে রাত বিছানায় উগলে দেয় ডিপ্রেশনের

নামে স্বৈরাচারী অনিয়মের পাপ। 

আসলে প্লাস্টিকের  সম্পর্কে  সত্যির বাস হয় না 

যেটা  হয় সেটার নাম সময় কাটানোর নামে আসলেই

নিজেকে ঠকানো। 


#সই(প্লাস্টিকের সম্পর্ক) 



শব্দের ঘোর

 


কবিতার শব্দগুলোর ভেতর কখনো কখনো 

এক অদ্ভুত  অশরীরির  বাস দেখি 

দেখি শব্দগুলোর অস্থিমজ্জা থেকে সেই অশরীরী 

সমস্ত  স্বত্তা চুষে নিচ্ছে। 

মনে হয় একটা মৃত্যু  কেবল অতৃপ্তি  বাসনায় 

আরো কোনো অপেক্ষায়  শব্দগুলোকে ভর করে হাঁটছে,, 


ঘোরে বুঁদ  জীবন  কার যেন  নিশ্বাস  তাড়িয়ে  বেড়ায়,

শব্দগুলো  দৌড়াতে দৌড়াতে  চোরাবালি তে হঠাৎ  ডুবতে  থাকে, 

সহস্র যুগের  ধ্বংস  অন্ধকারে ওরা কাঁদে 

তবু সে অশরীরী  ছেড়ে যেতে  চায় না শব্দের অস্তিত্ব। 

আগুনে জ্বালিয়ে জীবনকে অগ্নিপরিক্ষা  দিতে হয় 

তবু আখরবাসের ভেতর শব্দেরা শান্তিতে ঘুমোতে  পারে না। 


#সই(শব্দের ঘোর)



শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

পুতুল খেলা

নিজেকে হত্যাকারী  বললেই পাপ ধুয়ে দেয় না শ্রাবন
নিজেকে প্রেমিক বললেই শ্রাবনী দিনে স্নিধ কবিতার  জন্ম
হয় না, 
নিজের স্বৈরাচারীতার নাটকের নিজেই জোকার, 
মাটির মূর্তিতেই প্রান প্রতিষ্ঠান  হয় আর সেই খড় কাঠ মাটিই
হয়ে যায়  আরাধ্য,।
...মানুষ  নিজের মানচিত্র বদলে ফেলতে চায় 
অথচ  দাবার চাল গুটি সাজানো থেকে খেলার শেষ 
সবটুকুই আগে থেকে  খেলে রাখা... 
তুমি খামোখাই ক্লান্ত হেরে যাওয়া  অবসন্ন এক সজানো
খিলাড়ী , 
আসলে তোমার এই হার জিত আর জীবনের যতিচিহ্ন 
কারো রোজকার পুতুলখেলা মাত্র। 

#সই (পুতুল খেলা) 



বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩

প্রতিনিধিত্ব



.

মানুষের  অধিকার  তার যোগ্যতা দিয়ে বুঝে নিতে হয়, 

নদীর  জলে আলোর ঝিলিক পড়লে সে ঝিলিকে চেতনা দরজায় টোকা দেওয়া যায়  কি না জানা নেই... 

হ্যাঁ  জল থইথই স্নান ঘাটে মাছের চোখ খুঁজে  নেওয়া অর্জুন  এখন আব্রুহীন নবরুপী কৌরব ,। 

মরসুম বদলায় যখন  খবরেরকাগজ উষ্ণতা  খুঁজে  পায়

 আর সেই মত সকালের  চায়ের কাপের সাথে আকশন আর আপশন কে ওয়ার্মআপ করিয়ে নেয় মানুষের  বেঁচে  থাকায়।

সৃষ্টির আঁতুড়ঘর হয়তোবা  এখন জতুগৃহে রুপান্তর   যেখানে

প্রতিবাদ জন্মের আগেই নর্দমায়  ভেসে যায় 

তবু সমাজের বুদ্ধিজীবী  আর বোদ্ধারা  প্রকাশ্যে 

নাটকের ভুমিকায় বড্ড নিপুণ। 

তারা সামাজ  কে সাফ রাখার তাগিদে  বাঁচতে ভালবাসে 

যেখানে ঈশ্বর লজ্জা  পায় নিজের ঈশ্বরত্ব কে তাদের হাতে নগ্ন হতে দেখে। 

#সই(প্রতিনিধিত্ব) 




বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩

একটা পরিচয়



.

আয়নার সামনে  দাঁড়ানো  লোকটা পরিচয়হীন

গলার কাছে সময়ের ট্যাগ... বার্ধক্য, 

গুড়ো গুড়ো  বরফে ঢেকে  যাচ্ছে  চামড়ার ভাঁজ 

গুঁজে রাখা  চাওয়া পাওয়া গুলোতে। 

লোকটার নিজস্ব কোনো ডাক বক্স  নেই... নেই

দরজা খুলে রাস্তার  দিকে তাকিয়ে  থাকা আত্মিক

অপেক্ষা । 

এ শহর  ঠিকানা  লেখে  আবার ঠিকানা  ছিড়েখুঁড়ে 

ভাসিয়ে দেয় বুড়িগঙ্গার জলে, 

এ শহর  অধিকার বাঁধে অজস্র পরিক্রমায়  

আবার  অদৃশ্য চিতাকাঠের পুড়িয়ে   সে বাঁধন

পিছনে ফিরে তাকায় না  কখনো । 

...শহর সময়ের স্রোতে  তিরতির করে বইছে 

লোকটার পাঁজরের  হাড়ে স্যাতঁস্যাতেঁ নোনা লাগছে ক্রমশ...।

 

ক্যালেন্ডারের  একটা তারিখে  লোকটার পরিচয়  আসে

শহরের  কর্পোরেশনের মর্গের গাড়িতে,, 

শহর আর লোকটা  একে অপরের বিপরীতে হাঁটতে থাকে 

সমস্ত পরিচয়কে বুড়ো আঙুল  দেখিয়ে। 


#সই ( একটা পরিচয়) 



আসল কথা



মৃত্যু  নেই তবু  বেঁচে  থাকা থেকে
বহুদূর মাইল ফলক, 
শুকনো  পাতায় জল ফড়িং এর ফিসফাস 
রোজকার অভ্যেস, 
আদুলী তে রাখা নস্টালজিক  প্রেম,, 

জীবিত  কিনা ঈশ্বরও জানেন  না 
তবু ঈশ্বর মানুষের গল্পে এ পৃথিবী  সাজাতে
ভালবাসেন,  
হয়তো  ভালবাসা  ছাড়া অন্ধকার 
চেনা যায়  না,  ভালবাসা  ছাড়া শোক আর সুখ
বানান একই রকম দেখতে লাগে,
ভালবাসা  ছাড়া মৃত্যুর পরে
জন্ম হয় না,
ভালবাসা  ছাড়া কি মরুভূমিও সম্ভব! 
 
হেরে যাওয়া   প্রতিবন্ধকতা বুকের ভেতর হাহাকার 
করে আশ্রয়  খুঁজে ফেরে
খুঁজে  ফেরে শুকনো গোলাপে টাটকা স্মৃতি  
আচঁড়ে  রক্তাক্ত করে দেখতে চায় মৃত্যু শুধু বাইরেই 
নাকি অন্তরমহলেও রুদালির সুর,, 
মৃত্যু  নেই তবু বেঁচে  থাকা থেকে বহুদূর  মাইল ফলক। 

#সই (আসল কথা)


মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩

রুপ বদলের কাব্য

বৃষ্টির জলে পা ডুবিয়ে হাঁটছি   আকাশের তুমিটুকু সর্বময় ভীষণ  পবিত্র এখন, 
বুকের পাথরে জমে থাকা ময়লা ধুয়ে গেছে। 
এমন একটা সময়ে মানুষও ঈশ্বর  হয়ে ওঠে  
ধানসিঁড়িটার পাশে  এবার হয়তো  শিশ দিয়ে ডেকে
যাওয়া  পাখিটা ভালবাসায় মিশে যাবে, 

শহুরে  মানুষগুলো  তাদের  অভিমানী  সন্ধ্যা  গচ্ছিত
রাখে এমন  কোনো  তীক্ষ  শ্রাবণের  কাছে, 
মাটির বুকে পুরোনো থাবার চিহ্ন  মুছে গেছে তাই
খুনির বুকে ঈশ্বরের  দেওয়াল লিখন খুব সহজ। 

যারা  হারিয়েছে   শেষ আশ্রয়  তাদের কোনো চাওয়া নেই
বলেই ঈশ্বরের তথাস্তু  শব্দটা মাথা নিচু করে ভিজছে, 
তোমার একান্নতম হত্যা এবার হয়তো ফুরিয়ে এসেছে 
...শ্রাবণ  বাকি তবে ঈশ্বর  বোধহয়  ক্ষনজন্মা,, 
আর সেই সন্ধিক্ষণে  মৃত  শয়তান চোখ  খুলে হেসে ওঠে। 

#সই
(রুপ বদলের কাব্য)


শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩

সই (৬৮)

ডুবে  যাওয়ার  হাতছানিতে পথ হাঁটছে সে, 
ঠোঁটের  আগলে  না বলা রুপকথার নগর, 
ও চাহনিতে স্তরীভুত হয় জন্ম ও  মৃত্যুর 
হাজারো   সাতকাহন ,  
এ মন পাপী  হয়ে ওঠে রোজ  কয়েক টুকরো 
বেঁচে  থাকা খুঁজে  নিতে গিয়ে। 

 ও চোখে  ধ্বংস  দেখি দেখি  আগুনের লেলিহান সম্মোহন, 
এ মন ও চোখের  খুব কাছে গিয়ে কিছু তাচ্ছিল্যও খুটে খুটে
রাখে বুকের দেরাজে ।
...তবু ও চোখের  কাছে একটা  কবিতাকেই বারংবার 
জিতে যেতে  দেখেছি, 
...তবু ও চাহনির উপত্যকায় নতুন কোনো  সভ্যতা গড়ে 
উঠেছে বারংবার , 
...তবু এমন চোখে নিরুদ্দেশ এর নালিশ এ শহরের ইস্তেহারে সামিল। 

#সই(৬৮)