বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১

ভেতর ও বাইরে









এ শহরের প্রতিটা মানুষের ঘাড়ের ওপর থেকে গড়িয়ে নামে বিষণ্ণতা ...বাইরে থেকে সাজানো আপার্টমেন্ট  "হাম দো হামারে দো"  বড় মিষ্টি দেখতে । অথচ প্রত্যেকের গাড়ি বারান্দার নীচে রাখা গভীর দিকভ্রান্ত অন্ধকার বেড়ে ওঠে আগাছার মতোই  ,,

প্রথম রাতে মুকুট পরতে গিয়ে  সমস্ত  প্রত্যাখ্যানএর সাথে  আপোষ করে নেয় এই শহর ,তারপর  এন্টোনি ,ব্রুটাস আর কাসকাদের ভিড় থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে পালিয়ে বেড়ানো অভ্যেস করে নিতে থাকে, এভাবেই ....

লিভিং রুমে আগুনের কপাট খোলা চুল্লীতে স্বপ্নগুলো একে একে আহুতি দিতে হয় , 

চিমনির ধোঁয়া গঙ্গার কিনারে অপেক্ষমান প্রেমিকাকে জানিয়ে দেয় , কারো হিসেব না বদলেও ভালো থাকা জরুরী , মেনে নাও মেনে নাও নয়তো তোমার 

শব বাহকেরা দরজায় টোকা দিতে থাকবে আজীবন ,, আজীবন কাসকা ,ব্রুটাস আর এন্টোনিরা পাথুরে রাস্তায় জুতোর নালের শব্দ তুলে হেঁটে বেড়াবে।

তারপর গোলার্ধ গুলো কখন যেন বদলে যায় হঠাৎ করেই , এ শহরের বুকের ভেতর ফুকরে6 ওঠা কান্না , রক্ত বৃষ্টি নামায় সম্পর্ক গুলো ভিজতে থাকে ....বড় অসহায় হয়ে ।



***



পাতা ঝরার সময়



শুকনো পাতার  মত শহরের কাব্য  ফুরিয়েছে এবার ,
পাখিদের  সংসারে এখন পালক পালক গোধূলি
 জড়ো হবে , 
 বিচ্ছেদের দিনগুলি  কখন কবিতা হয়ে অখণ্ডিত লিপির মত তাকিয়ে আছে ....অথচ তারা ফুরিয়েছে বহু আগে ফেলে আসা দিনটার মতোই ,

 শহর থেকে দূরে  একলা বসন্ত পলাশ কে  জাগিয়ে রাখে পথের দু কিনারে 
 দেহের খাঁচায়   বেখেয়ালি প্রেমের বাতাস খেলা করে । প্রেমিক তুমি মন ভোলানো অজস্র বিষাদ কথা কাগজে লিখে রাখো খুব সহজে ,

 অথচ আমার   প্রতিটা সম্পর্ক টেরাকোটা হতে থাকে সময়ের আগুনে পুড়ে গিয়ে , 
আমি চাকার নীচে মাটি দিয়ে সম্পর্ক গড়ি নিজস্ব ভঙ্গিমায়,
আজ তোমার কাছে জানতে চাই দূরে গেলে কি আর ফিরে আসা যায় না ?

গান্ধার মন দু-চোখ বেঁধে সময়কে ক্যানভাস বন্দী করি প্রতি নির্ঘুম রাতে,
আমাকে যে স্রোতের  গান শুনিয়েছিল, 
এখনও তার  বুকে সাঁতারের দাগ  লেগে আছে...

 নৌকাজীবন এখন ভালোই লাগে   গৃহশূন্য
সংসারের  গাছের তলায়  আসমান  এসে জিরিয়ে নেয় ।
 ভালোবাসার ছায়া  একবার বুকে জড়িয়ে নিলেই তো  পাখিরা জেগে ওঠে...

তবু আমি  বাতাসের দিক থেকে আলাদা হাঁটি আজকাল 
আগুনের কথা বলে শিশিরের স্মৃতি উস্কে দিই মধ্যমা দিয়ে। 
এই ছলনার ঋতু বদল আমাদের সকলের ভেতর কম বেশি চলে ।
একলা প্রবাসে অচেনা মুখেদের মাঝে তোমায় খুঁজে পাই না আর ,
আসলে জীবনের গায়ে তীব্র রং তুমি ....কখনো কোনো ধারা তোমায় মুছতে পারবে না ,আমার শেষ জ্বলন্ত চিতার সাথে এই তীব্র রং একদিন আকাশ মুখী হবে ।


মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১

নিজস্ব নদী

নিজস্ব নদীর কথা লিখতে গিয়ে দেখলাম
একটা শ্মশান যেখানে প্রাণের পরে শুধু ভেসে যাওয়া ,
আমি নদী টার খুব কাছে গিয়ে  দেখলাম জলের ভেতর মৌন কবি কে আমার মতই দেখতে ,
তারপর নদীর পার ভাঙতে ভাঙতে ঘর গুলো ভেঙে যাচ্ছে ফুরিয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকার খেলা ।
এসব আমার ভেতর বহতা নদীটা র জোয়ার ভাটার খেলা যা কেউ দেখতে পায় না ,
আমার মত প্রতিটা নদী আর তার পার জানে ....ভাঙ্গন যখন আসে তার পেছনে পেছনে আসে প্রচণ্ড শৈত প্রবাহ ,
ঝাপসা সময়ে মিলিয়ে  যায় মন্দবাসার  দু জন মানব মানবী , আস্তিন খুলে রেখে পাঁজরের ফাঁকে মাথা গুঁজে দিতে চায় সমস্ত মৌনতা  ......দেখি পাগলা দাসু হাসতে হাসতে দূরের রাস্তায় চলে  যায় আমার শূন্যতা ,আমার শ্মশানবাস সব সবই যেন তার কাছে স্বভাবিক ,
নিজস্ব নদীটা গভীর অরণ্য খুঁজে নিজেকে হারিয়ে ফেলার জন্য ।






সময়ের হলকর্ষন

পিথাগোরাসের সূত্রে হলকর্ষন এর দাগ আর আমার স্তনে প্রেমিকের দাঁত আলাদা নয় ,,

আমার শরীরে তার দেওয়া এক একটা যৌনবর্ন
ধিক ধিক তুষের আগুনের মত জ্বলতে  থাকে আজ বহু যুগ ধরে ।

সমস্ত সঙ্গম রক্তাক্ত আজ ,রক্তক্ষরণে ভাসছে আমার দেশ ভারতবর্ষ ,
আমি নিশ্চিত একদিন এই জোয়ারে তোমার সাজানো দাবার প্রতিটা গুটি ভেসে যাবে ,
দুর্যধন এর পৌরুষ আর উঠে দাঁড়াবে না ,
সে সব অহংকার এক দিন আমার পুড়ে যাওয়া ছাই দিয়ে লিখবে   বিস্ফোরণ এর ইতিহাস ,,

 জানি এ কবিতা ভীষন রক্তাক্ত , ভীষন পিচ্ছিল ,
সময় তোমায় বলছি এক দিন তোমার শিরদাঁড়ার 
 ঈশ্বরের খঞ্জর  পুঁতে সমস্ত তহবিল মিলিয়ে দেওয়া হবে । অপেক্ষার আগুনে খেলা শেষ হবে ।



আরো গভীরে

আমি সমুদ্রের গভীরে শুয়ে আছি .....ছোট ছোট মাছের কঙ্কাল হলুদ নর্তকীর বেশে আমার পরমায়ুর চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে , 
নিরালম্ব মধ্যমা মায়া যেন ,
আত্ম মগ্ন প্রবাহ নিংড়ে  পালিত মেঘ আর আমি বিছানায় সহবাস করছি কত যুগ , সে সহবাস কোয়েকভাগে ভাগ করে  সময়ের ফ্রেমে আটকে রাখি ...।
প্রথম ভাগ সংবহন কলা , দ্বিতীয় ভাগ দেহাতি 
আলোড়ন  ত্ত তৃতীয় ভাগে পৌরাণিক কান্না  দিয়ে সঙ্গম শেষ হয় ।
শেষ বার ঠোঁট ছুঁয়েছিল   তার ভেজা তিরতির কাঁপতে থাকা দুখানা ঠোঁট ।
তারপর চোরা শিকারীর বেশে জলকণা ছিটিয়ে 
সময়ের আস্তরণ পড়া বয়স ও রং জিইয়ে রাখে সে ,,
আমি সমুদ্রের গভীরে শুয়ে স্পষ্ট দেখি 
সেই কতো যুগ আগে।  গভীর রাতে ঈশ্বরের বাগানে স্বপ্ন ছিটিয়ে দেয় যারা... তারাও ধীর লয়ে, সাবধানী পায়ে... গৌরবহীন,  প্রকৌশলে... ঘেরা টোপে রেখে আসে এক-একটি  সময়ের সভ্যতার নির্মাণ।
এসব দেখে হিম হয়ে আসা শরীর তালগোল পাকিয়ে যায় .....তবে কি আমি তোমাকে ঠকিয়েছি ! নাকি আমি নিজেকে ঠকাচ্ছি  ....শৃঙ্খল ভাঙা যে বড় কঠিন ...সে কথা  মানতে আমায় আর কত যুগ সভ্যতার কাছে ঋণী হতে হবে জানি না ,,

 আজ সেই রাত, যে রাতে রোদ্দুর নিভে গেছে শেষ মেষ... ..আগাছাও অজস্র ফুলে ভরা। 
যতই ডাকো আজ আশ্রয়ের লোভ সম্বরণ করা দায়।
 দরজা খোলাই থাক... ভোরবেলা যখন রোদ্দুর ফিরে আসবে... আয়ুধ শুষে নেবে পূর্ণ কুম্ভের মতো...   আমার ঘুম ভাঙিওনা । 
পাহাড়, নদী, জঙ্গলের সব খেলায় হেরে গেছি আমি বারংবার। 
স্রোত সরে গেলে কাঠের জাহাজ ভিড়বে ধূ ধূ বালুচরে। গাঢ় স্নানে তখন মুছে নিও সব লেনদেন... অগোছালো চিহ্ন ও সূত্রের বাকি থাকা সব হিসেব নিকেষ।



মিথ্যে আকাশ

পালুই এর ফাঁকে গুঁজে রাখা অজস্র তুলোর শরীর গুলো হাঁটু মুড়ে  মাথা নিচু করে থাকে।
সত্যি সত্যি  আকাশ মিথ্যে  হয়ে যায় পিঁপড়েদের শীত ঘুম এলে ,
সিন্ধু যুগের অসংখ্য ক্যানভাসে তোমার ন্যুড তেল রং ছবি , 
যারা কখনো প্রেমিকার বুক ছুঁয়ে একটিও মিথ্যে বলতে পারেনি ,
একটা নিঃশব্দের মিহি আওয়াজ ভারী কিছুর মত ধাক্কা মারে ঘাড়ের কাছে , 
যেদিন যন্ত্রণার পাশে একটা বিকেল এসে বসে আমার কাছ ঘেঁষে মনে হয়....
পূর্বপুরুষ এর পাপ আগলে  বেড়াচ্ছি যক্ষের মত ,,

হাতের তালুতে দাগ মুছে মিহি শব্দটাকে বদলাতে চাই ,। 
যতদূর সম্ভব দৌড়ে যাই পূর্ব পশ্চিম বাস্তু মেনে ,

 তবুও আকাশটা মিথ্যে হয়ে যায় আর শব্দটা ধাক্কা মারে বুকের বাঁ দিকে ঘেঁষে। 
মনে হয় শরীরের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ছে বাবলার কাঁটা ।









সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১

অবহেলার ফুৎকার

অবহেলার ঝাঁঝালো  ফুঁৎকারে উড়ে যাই, 
চকচকে  বনেটে নতুন প্রেমের সেল্ফি , 
ভাংচুর  চেহারায় ক্লান্ত নিঃশব্দে  আমি হেঁটে  যাই 
ছবিটার পাশ দিয়ে,  
ছবির ভেতোর আমার প্রিয় প্রেমিক ঝাঁকড়া চুলে দাঁড়িয়ে থাকে জীবনানন্দের  বনলতাকে পাশে নিয়ে। 
সামান্য বাতাস উড়ে আসে বনলতার খোলা চুল ছুঁয়ে, আমার স্যাঁতসেঁতে  ঘরে গুমোট  কেটে যায় । বুঝতে পারি আমার প্রিয় প্রেমিকের কবিতাগুলো 
কেন হঠাৎ  বদলে গেছে, 
আমি আসলে সংগমে ব্যার্থ ... ভালবাসায় পঙ্গু , 
আমার স্তনে বিকলাঙ্গর ছাপ  স্পষ্ট ,.... সারাজীবন  আমার ঘরের ভাড়ারে নুনের অভাব। 
আমি শুধু  নিঃসংগ জলন্ত যৌবন  নিয়ে বারংবার  অপারেশন  থিয়েটারে আস্তিনের ভেতোর রাখা মাংসের  দলাটাকে বদলে নিই, 
মাতৃ জরায়ু থেকে আজ অবধি  আমি সহস্র বার আমি অবহেলার ফুৎকার  উড়ে গেছি... ঠিক ততবার আমার ভাংচুর  আমিটাকে অপারেশন  থিয়েটারের স্টেচারে  রেখেছি। 

অহীন(১)

আর কখনো  ভালোবাসার কথা বলো না অহীন,, 

নদীর ভেতোর পাথরেরা জানে তাদের  ইতিহাস 
কেউ জানতে চায় না.....প্লিস  অহীন তুমি আর কখনো  ভালোবাসার কথা বলো না। 

 তাই নদীর বুকের ভেতোর পাথর গুলোয় আর সেভাবে প্রতিধ্বনি  হয় না,  
রুপোলি মাছটার বয়স বেড়ে গেছে ওকে তোমার সজানো চতুর্ভুজ  আর কত দিন আগলে রাখবে?  তুমি মিথ্যে মায়ায় বাঁধছো এবার,  
অহীন তুমি নক্ষত্রের  দরজায় গিয়ে উঁকি পেরে দেখে আসতেই পারো... এসব খবর  কতটা সত্যি।
 তোমার নগ্ন কবিতায় আর সলমা চুমকি  ব্যাবহার মানায় না, পাংশুটে  কাব্যে ভালবাসার কথা  এ শহরে সস্তা এখন, 
প্লিস তুমি আর কখনো  ভালোবাসার কথা লিখো না চিঠিতে, 
বুকের পাথরের ফাঁকফোকরে আমি আর তেমন কোনো প্রশ্রয়  গুঁজে  রাখতে চাইছি না,  
এটুকু  বুঝেছি তোমার সবই দরকার ঘর, বাড়ি, সাম্রাজ্য , স্থায়ি একটা স্তম্ভ , আশ্রয় , প্রশ্রয়। 
প্লিস  অহীন তুমি আর কখনো  ভালবাসতে  চেষ্টা  করো না .... তুমি আর ভালবাসার  কথা বলতে এসো না। 

সময়ের খেলা

কাল সারারাত  আকাশের একএকটা তারা জ্বলতে জ্বলতে আমার খোলা বুকে এসে পড়ছিল, 

কাল সারারাত  আমার উত্তরের বারান্দায়  রাত পাখিদের বিষন্নতা পাখা ঝাপটে না বলতে পারা যন্ত্রনা  গুলো ঝেড়ে ফেলছিল। 

আকাশের তামাম নক্ষত্র  সন্ধান  পেয়েছিল এক খানা খোলা বুকের জমি, 

পৃথিবীর  সমস্ত শোক এখন আমার বুকে নবান্নের আঘ্রাণ  খুঁজে নিতে পারে ,, 

আমার কলজের লালে সমস্ত শোক মোরোগের লাল ঝুঁটির সকাল দেখতে পায়, 

আমিও তো সময় মাত্র,.. 
আমিও যেতে যেতে  পিছন ফিরে দেখিনা, 
আমার বুকে মানুষ  থেকে নক্ষত্র  জন্ম থেকে শাঁখা ভেঙে  ঘরে ফেরা সকলেই পাখা ঝাপ্টায় প্রশ্ন  করে এ পৃথিবীতে  কেন দুঃখ কেন কেনো শোক!

কিন্তু আমি সময় আমি সময়ের উত্তর অসময়ে দিতে পারি এমন সাধ্য নেই.... শুধু ক্ষনিকের  বুকে মাথা চেপে  বলতে পারি সময়ে  খেলা মেনে নিতে হয়। 

বদল

একদিন মানুষ গুলো  ঠিক বদলে নেবে 
নিজেদের ভাগ্য,  
সময়ের মীরজাফরকে সামনে আনবে হিড়হিড়  করে টানতে টানতে।  
মানুষে মানুষে বদলে নেবে অবিশ্বাস্য  ভুল গুলো 
, জীবন  এমন নয়....... জীবন  তেমন নয় ভাবতে ভাবতে যে লোকটা  পঞ্চাশ  পেরোলো..., তার কাছেও একটা বদলের সিংদরজা খুলে যাবে এইবার,  
ছেঁড়া  কলারে সময়ের অকালবোধন 
লিখে  অনেক দিন  হল লোকটা ভুলে গেছিলো 
নিঃশ্বাস  নেওয়া আর বেঁচে  থাকার তফাৎ  টুকু,,, 

আজ লোকটার মতো  রোজ রাস্তা পেরনো ঝালমুড়ি ওয়ালা,  কিংবা নিজের মাথা রোদ্দুরে ভাজা ভাজা করে মটকা কুলফি বেচা লোকটাও  একবার বসন্ত  রঙ  আনতে চায় জীবনে ,  

ঠায় সন্ধ্যায়  পিচ্ছিল  গলিতে দাঁড়িয়ে  থাকা গনিকার ঘামে আজ অচেনা বদলের গন্ধ, 
প্রেমিকাকে ফেরি ঘাটে বিদায় জানানো প্রেমিক ছেলেটা আজ একটা বদলের সিংদরজা খুলে ফেলে তাই সে দীর্ঘ শ্বাস খুলে আকাশে মুক্তি খুঁজে  নিতে পেরেছে। 
এ নাগরিক  স্রোতে বেজে উঠেছে  আঘাট ছাড়া বাঁশি , বন্দরমোহ থেকে বেরিয়ে এসে আজ মানুষ গুলো নবীন  বিপ্লবী  হতে পেরেছে.... দেখো ছেঁড়া খোঁড়া ফুটো, ভাংগা  মুঠো  সব ধীরে  ধীরে বদলে নেবে মানুষ ,  যেভাবেই  হোক এবার সব বদলে নেবে মানুষ। 

নীরার বসন্ত

আবীরের নীল রঙ গালে লাগতেই বুঝলাম তোমার যত বিষাদ  আমার গাল ছুঁয়ে থাকলো, 

তুমি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চাইলে তেমন কিছু নয় বলে,  

অন্য দিকে  তুমি দুঃখের  ঘরে আগল দিলে, নিজস্ব অহংকারে, 

আমার আঁচলে তোমার বিষাদ  মেঘ বৃষ্টি  হয়ে সেঁধিয়ে  গেল তোমার অজান্তে,   

....আমি তোমার এলোমেলো  চুল গুছিয়ে  দিতে দিতে বললাম খানিকটা  ছেলে মানুষি রেখে দাও জীবন টাকে  বেহিসেবি করার জন্য। 

বার বার ঘন পিত অন্ধকারে তোমায় খুঁজে  পেতে আমার কষ্ট  হয় সুজন 

তেমন করে নাই বা কাছে থাকলে অক্ষর বৃত্ত টুকু শুধু হারিয়ে ফেলো না,  

এবারে লাল রঙ কপালে  লাগতেই বুঝলাম... 

প্রতিটা দুরত্বে  তোমার রক্তক্ষরণ   ছিল অসম্ভবকে  ছাড়িয়ে যা বাইরের  থেকে বোঝা যায়  না,  

তুমি  আমার কপালে চুম্বন  রেখে এগিয়ে দিলে সহাস্য নদীর ধারা... আমায় বললে চল সামনে তাকিয়ে রাস্তা হাঁট, 

সময়ের মন্দিরে তখন আজস্র ব্রত উজ্জাপন 

আর ঘন্টা ধ্বনি , তোমার কন্ঠস্বর দুরত্বের চেয়ে বহু দূরে হারিয়ে গেলো নিমেষে , 

 আজও   জ্বরের ঘোরে আমার নাভীর কাছে   কিছুটা স্পর্শ  আমাকে সুনীলের নীরার মত জাগিয়ে রাখে শুধু তোমার জন্য,  তুমি কি শোনো নি নীরা এখনো সুস্থ  হয়ে ওঠেনি । 




রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১

কালো মেয়েটার কাহিনি

আমার চোখ বাঁধা হলো পেটে

 প্রথম লাথি রক্তাক্ত আমার যোনির দরজা,


থ্যাতলানো ঠোঁটজোড়ায় ঢুকিয়ে দেওয়া হল কারো অহংকারে  শিস্ন।

 লাল –রক্তে একাকার হলো আমার ভেতর বাইরে


ঝরে পরা  কংক্রিটে তখন বাকি টুুুুকু নিঃসৃত বেঁচে থাকা শ্বাস নিচ্ছে 

মা…..মাগো….. চেঁচিয়ে উঠলো  আমার মত

দেখতে কাল মেয়েটা।
 আধ-খাওয়া একটা সিগারেট প্রথমে স্পর্শ করলো তার বুক।

পোড়া মাংসের উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো 

চারপাশের হাওয়ায়,,


জ্বলন্ত সিগারেটের স্পর্শ মেয়েটার

 দেহে টসটসে জলটোপ তুলতে লাগলো।

পরের লাথিটা বাঁকিয়ে দিল শিরদাঁড়া.... 

তখনো  শিস্নের ওঠা নামা অসম্ভব  তুংগে
জল  হয়ে গেলো দেহ,
এবার  আমার মত কালো  মেয়েটা অথবা আমি 

 চিৎকার করতে পারলাম না।

শুধু   আসুুুুরের মত কেউ যেন একই গর্তে আবার একটা  দন্ড ঢুকিয়ে  দিলো।

কালো কর্কশ  কষ্টে মেয়েটা  ফেটে 

গেছে  তখন... কিছু  বলতে চাইলো আমার

মত কালো  মেয়েটা...

হয়তো মৃত্যুর  কথা...., 

হয়তো বেঁচে  থাকার যন্ত্রনার  কথা...., 

হয়তো পেটের ভেতর  আপ্রেমিক এর আগামির

বেড়ে ওঠার কথা। 

সামাজ  তোমরা কেউ কি জানো আমার মত কালো মেয়ে গুলো  চার দেওয়ালের ভেতরেও কেন

এমন নির্মম  ভাবে রক্তাক্ত  হয়? 

পাঁচ নম্বর প্রেমিক

আমার পিছনে কোনো  মনে রাখার মত মুহুর্ত  নাই, আমার ভিতরে দলবদ্ধ   কিংবা ঐকান্তিক  কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই,
  সাদা কালো ছাড়া আমার গৌরব  জুড়ে চেনাশোনা  নেই অন্য রঙের সাথে, 
অথচ আমি  হরের রঙের খেলায় মেতে উঠি ফাগুনি পুর্নিমা  ছাড়াই ।

এই শহরের পথে হাঁটতে-হাঁটতে একলা আমি ঘরে
ফিরে যাব কখনো । ধুলোবালি  ও ঘাসে
খানিকটা প্রশংসা 

খানিকটা  সবুজ বাঁশের  নিদারুন উপহার নিয়ে আমি ফিরে  যাই প্রতিবার।

দেখি শুকনো পাতা উড়ছে অচেনা  সন্ধ্যার বাতাসে.... প্রেমিক মন মাতাল হচ্ছে কোনো সোহাগি  মুহুর্ত  আঁকড়ে, 

আমার পিছনে এমন কোনো মুহুর্ত রাখা নেই  কস্মিনকালেও,,

কাউকে আমি ডাক দিয়ে বলিনি আমার কলিজায় কিছু আজন্মকালের রাখা জ্বলন্ত  কাঠকয়লার  কথা,

আমার পাঁচ নম্বর  প্রেমিক আমায় বলেছিল 

চলো  রোদ্দুরে গলিয়ে দেব গিনি  তারপর তুমি আমার অহংকার  হয়ে বুকের তিলের কাছে থাকবে,
হাত বাড়িয়ে  অহঙ্কার কুড়িয়ে নিতেে গিয়ে  বটগাছের মাথায় কাকটা বলল 

তোমার পাঁচ নম্বর  প্রেমিক তার ছাব্বিশ  নম্বর  প্রেমিকার ঠোঁটে  এই মাত্র রোদ্দুর সেকা উষ্ণতা  রাখে এসেছে,

আমার ঘরে তখন আড়াই পা ঘোড়া এগোয়
প্রত্যেক আড়াই পা এর  খানিকটা বোঝাপড়ার রক্তক্ষরণ, 

তার মানে কি এই নয় যে, আমি রাখিনি বিশ্বাস, 

আমার স্রোতে সভ্যতা বরাবর  নিষ্পন্ন হতে 

দেখেছি। 

 বালিহাঁস সরে গিয়ে জায়গা দেয়  আপশি ঢেউকে ;

আমার সব চেয়ে  প্রিয় পাঁচ নম্বর  প্রেমিক 

সাইত্রিশ এর  ফ্ল্যাটে  সমাজের  বালিশে মাথা রাখতেই ভালবাসে। 

সমস্ত দেখেছি আমি, বুঝেছি যে, মানুষের 

কাছে আসে সময়ের কৌতুহলে তারপর  ফিরে যায়

 
 বিষাক্ত-মনোরম উল্লাসের আবির্ভাব তৃতীয় চেতনা নিয়ে।

এত কিছুর সাক্ষি এই চোখ এই মন.... এরপর

আমার পিছনে কোনো  মনে রাখার মত মুহুর্ত  নাই, আমার ভিতরে দলবদ্ধ   কিংবা ঐকান্তিক  কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই,

যে টুকু নিতান্ত

শহীদ মিনারের ওপর থেকে গুড়ো গুড়ো  রঙ ছিটিয়ে নগ্ন পায়ে আমি তোমাকে   অনুসরণ  করছি সময়,, 
হৃদয়ে সেপ্টিপিন ফুটিয়ে কিছু দুষ্প্রাপ্য  মুহুর্তের ব্যাজ  লাগিয়ে একটা পরিচয়  খুঁজে  বেরানো মানুষের  মিছিলে  এখন হাঁটছি   আমি, 

ভুলতে চাওয়া মন্দবাসার উপাখ্যানে অবিশ্বাস্য  কালো বদ রক্তের জমায়েত,  আর  বিদ্রোহ কিছু অনিয়ম বেঁচে  থাকার,, 

লখীন্দরের  বাসরে লুকনো নিশ্বাসের  সাথে রাখা স্মৃতিসৌধ, 
মুক্তিযুদ্ধ  ছিল আমাদের, আকাশের দিকে মুখ করে রাখা ছিল দু চারটে  সংকল্প , তারা সবাই এখন বন্দিশালার আসামি। 
আমার রক্তাক্ত  পায়ের ছাপে কোনো ভোর এর পথ  আছে কিনা সময় জানে, 

আমার  আঙুল  থেকে ঝরে পরা ফুলে সুখি সংসারের ছাদে  লক্ষী প্যাঁচা এসে বসে কি না কোনো কোজাগরী  রাতে .... সময় বলতে পারে, 

আমি কেবল জানি একটা অনন্ত উদ্দেশ্যর পথ এ শহর আমার জন্য রেখেছে,  
আমি কেবল জানি আগামি প্রতিটা স্বপ্ন ভেঙে  যাবার  আগে আমি এই শহীদ মিনারের  চুড়ায়  ফিরে ফিরে আসবো । 
আমি শুধু জানি শুন্য খাঁ খাঁ দুপুরে  অভিমানী  একটা নীল ফড়িং আমার ভেতর বাস করে। 
আমি শুধু জানি রক্ত মাখা চাঁদের দেহ জোতস্ননা বিলোয় না তবু কোথায়  তার থেকে যাওয়া  থাকে 
হৃদয়ের  দালান কোঠায়। 

শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১

দুটি বিন্দু

আমার হাড়িতে বিন্নি ধানের খুদ ,

তোমার দুয়ারে উলু শঙ্খ আরতি ,

আমার খিড়কি ঝলসে যাওয়া আধ খাওয়া চাঁদ ,

তোমার ড্রইং রুমে জৎস্না মাখা রবীন্দ্রনাথ ,

আমার উঠোন নোটে শাকের চাষ ,ভাতের পাশে একটু খানি আশ ,

তোমার বাগান মরশুমি ফুল বেগমবাহার বাস ,

আমার বুকে অষ্টপ্রহর জেহাদ মুখোমুখি ,

তোমার ভেতর  গৃহস্থালি সমস্তটা সুখী ,

বারোমাস আমার ভাড়ার চলছে টানাটানি ,

তোমার বোহেমিয়ানে নেই নিয়ম মানামানি ।

আমার ভেতর এক ভিখারী ভিক্ষা করে ফেরে 

তোমার ভেতর রাজ দন্ড ভীষন অহংকারে ।




খঞ্জর

বুকের ওপর অনেকগুলো  অপরাধ খঞ্জর হয়ে ঝুলতে থাকে, 
আজ আর এ বুকে কিছু নেই,  শহরের উড়ে আসা কিছু আবর্জনা  আর নষ্ট  সময়ের তহবিলে রাখা কিছু ভুল হিসেব এত বড় বুক জুড়ে, 
আসলে মানুষের বুকে একটা বৃহস্পতি গ্রহ জায়গা করে নেয়,  সেখানে সময়ের নিয়তি খেলা চলে  দিন কাল মাসের প্রহর জুড়ে,  
তারপর একদিন আমার মত কারো কারো বুকের ওপর  ধারালো খঞ্জর  ঝুলতে থাকে , 
সন্ত্রাসের মত আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায় কতগুলো হাড় কংকাল সার ইচ্ছা ,যাদের মৃত্যু চির ভবিষ্যতে লেখা ,
অথচ এই আমি যখন যেখানে যতটুকু3 ছিলাম পূর্নাংগে ছিলাম , আজ সময়ের  সমস্ত উপকথা জুড়ে  জুড়ে  আমি উপহাস মাত্র ,  আমার অক্ষমতায় এ পৃথিবী রহস্য খুঁজে পায় , 
আসলে আমি কারণের দাঁড়িপাল্লায় ওজন হীন 
বরাবর , 
আজ যখন শিরদাঁড়া বিছিয়ে আকাশ দেখি ...দেখি আমার শুকিয়ে যাওয়া বুকের ওপর  অনেকগুলো অপরাধের খঞ্জর উবু হয়ে নিশানা মাপছে । আমি আর ভয় পাই না বারংবার হত্যা
আমার অভ্যাস ,
বারংবার ঠকে যাওয়া আমার নিয়তি ,
বারংবার উচ্ছিষ্টতে বেঁচে থাকা আমার বিধাতা লেখন , 


শুক্রবার, ২৬ মার্চ, ২০২১

সময়ের ক্রীতদাস

আমি সময়ের  কাছে ক্রীত দাস ছাড়া আর কিছুই নয় , সময়ের কাছে আমি সেই আদি কাল থেকে
অহল্যার ভূমিকায়, ,
এক চলতি সময় মাথার পাথর নাবিয়ে রাখে ,
 আর এক চলতি সময় আমাতে  পা ঘষে চান করে নেয়  ,
কখনো কখনো দুরন্ত ঘোড়ার নালে আমার ভাগ্য বেঁধে সময় ছেচড়াতে ছেচড়াতে টেনে নিয়ে যায় মহাকালের দুয়োরে , 
আমার ক্ষরিত রক্ত দিয়ে দেখি আর প্রেমিক শব্দজব্দর নেশায় মাতাল ,
আমার ক্রীত দাসের জীবন থেকে মেঘ তার বৃষ্টি সংবাদ বিলিয়ে দিয়ে বারংবার আমায়  ভিখারী হতে বাধ্য করে ,   
আজ বিকেলের আলো গুলো আর গোধূলি ছুঁয়ে ভালোবাসা মানে না ,
ভালোবাসার কাছে সমর্পণ শব্দটা এখন বড্ড ছোট হয়ে গেছে , 
যেন রেসের ঘোড়া দৌড়ে লাগানো বাজির মত , আজ জিডি5 না যেত কাল বাতিলের  দলে ,,
আমিও সময়ের ক্রীতদাস হয়ে  আজ দুরন্ত পাগলা ঘোড়ার দলে , 
আসলে হৃদয় যন্ত্রটা  নিজের চিবুকেই কয়েক আঙ্গুল নিচে থাকলেই এখানে মালিকানা করে বাইরের কেউ ,  তাই আমার মত মানুষ গতির পৃথিবীতে সময়ের ক্রীতদাস হয়ে রয়ে যায়।

বুকের পাথর

আমার বুকের ভেতর আর কোনো পাথর নেই, 
শব্দের  ব্যাবহারে আমি নগ্ন হয়েছি একমাত্র প্রেমের কাছে,  
বুকের ছোটো  বড় পাথর সাজিয়ে 
দুর্বার পথের সেতু বেঁধেছিলাম, 
আমার সেতু দিয়ে অজস্র মুখ এখন আসা যাওয়া  করে... অথছ আমি সে পথে গেলেই  তীব্র বিদ্রোহ  নামে আমারই  আকাশ থেকে, 
দেখো সময় তুমি আমায় কতটা  নগ্ন করেছো,  
আমি পাথর নামিয়ে রেখেছি বুক থেকে.... আমার পালক পালক দেহ এখন জন্মান্তর খোঁজে, 

আমার চোখের  নদী  এখন বহতাহীন,  
সমস্ত  জল একদিন প্রেমের জমিতে  সবুজ বুননে
দিয়েছি,  সময় আমাকে আজ আমারই  স্রোতচিহ্নর  পাশে ধারে  দাড় করিয়ে  সমস্ত বহতায় লিখেছে ভীনদেশীর  নাম, 
রুপোলি  মাছের জল বিহীন  ছটফট  আমার ধ্বংস  সভ্যতার স্তম্ভ, 
বুকের হাপরে শুন্যতা যেমন ছিল তেমনিই চিরকালিন,,, 
আমার বুকের ভেতর আর কোনো পাথর নেই, নেই চোখের ভেতর নদীর বহতা,  তাই আমি নিস্তব্ধত আর নিঃশব্দ.... আমার ভেতর কোনো শব্দ নেই চেতনা নেই,  নেই প্রতিধ্বনি । 

অরিন (১)

একদিন কলেজে অরিন আর আমি চা খেতে যাচ্ছি  জীবন দার দোকানে , 
 হাটতে হাটতে আরিন
আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল বাহ বেশ সুন্দর তো.... আমি বললাম কি সুন্দর?  
বললি কুর্চি তোর যে প্রেমিক কিংবা বর হবে তোকে  চোখে হারাবে দেখিস,  
আমি বললাম সেটা আবার কি!  আমার ওসব দরকার নেই শুধু একটু ভালবাসলেই হবে,  
আরিন আমার নাকের ওপর পরে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম গুলো  রুমালে নিয়ে বলল.... সখি তুমি না চাইতেই যে সব পাবে এই দেখ তার নিশান,। 

আরিন আজ আমি চল্লিশ এর দরজায় দাঁড়িয়ে আছি,  আমার মাথার ঘাম শরীর  বেয়ে উদাসী  পথ পার হয়ে যায়, 
 আমার স্বামির সাথে অনাদরে
বছর তিনেক কেটেছে, তারপর মাতাল অবস্থায়  গাড়ির তলায় প্রান যায় .... ফুরিয়ে যায়  সমস্ত অনাদর,  
আরিন তোর নিশানেরা এখন কি বলে। 
আর আমার যে কখনো  কোনো  প্রেমিক জুটবে না সে তো তুই স্বাভাবিক  ভাবেই জানতিস,  
আমার রঙ রুপ কিংবা প্রেম কে পাওয়া যায়  এমন সামান্য অহংকারের কিছুই নেই,  
নারী হিসেবে  আমার আকর্ষণীয়  কোনো ব্যাখ্যা নেই,  আমার না জানা আছে সুর না আছে কাব্যিক সরঞ্জাম ।  অরিন তোর গননা ভুল,  আসলে  life is unpredictable  , 
আর আমি এমনি বেমানান  ভালবাসার  দুনিয়ায়,।
তাই আমার কোনো আদর কিংবা ভালবাসাময়  মুহুর্ত  ছিল না কখনো , 
তবে আরিন জানিস... আমার  এসবের  জন্য কোনো দুঃখ  নেই,  
আজ বহু বছর পর পুরোনো আএলবাম  ঘাটতে ঘাটতে তোকে  পেলাম.... তোর কথা গুলো সারি সারি লাইনে এসে দাঁড়ালো, তার একটা  বৃষ্টিপাত তো হওয়ার  ছিলই। 

শ্বাপদ আমি

সমস্ত সুতোর পাক লন্ডভন্ড করে আমার মত দু
একজন মানুষ  বুনুন থেকে বেরিয়ে আসে, 

দরজার বাইরে টোকা  মেরে যাওয়া  লোকটা আর 
আসে না... আসলে মানুষের  গন্তব্য কখন বদলে যায়  সে নিজেও ঠাহর  করে উঠতে  পারে না, 
আমার হাসপাতালের বিছানায় মাথা উঁচু  করে সমস্ত সভ্যতা, দেশ, ধর্ম,  বিশ্বাস, এখন চুরান্ত, আলপচারিতায় ব্যাস্ত,  
আমার  এযাবতকাল সুতোর বুনন এর নকশায় 
আমি ছাড়া বাকি পৃথিবী বিচার  একটা সিদ্ধান্ত  আসবে, 
 আমায় উঠে  দাড়াতে  হবে  নিরুদ্দেশ  হবার  জন্য,  
আমায় আমার বিরুদ্ধে জেহাদি অস্ত্র গুলো  বুক পিঠে  গেঁথে  নিতে হবে নিজের হাতেই।
......শব্দ তুমি থামো,  পথের বাঁক তুমি নিশ্চুপ  হও এবার,  আমি কোথাও  নেই মেনে নিতে দাও, 
আমি ধ্বংস  স্তুপে  মৃত  সংঘাত, 
আমি এই অপ্রেমিক শ্বাপদ। 

বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১

আমিও আমার পাপ

আমার হাতের রেখায় হাজারো  পাপ 
আমার পাপ ধাপে ধাপে সিড়ি বেয়ে কারো না কার 
গভিরে নেমে যায়, 
ঝুল বারান্দায় আমি  পাপের চারা যত্ন  করে বাড়তে দিয়েছি বছরের পর বছর, 
সাহস করে আমি উন্মুক্ত  আকাশে ছুড়ে দিয়েছি পাপের ফানুস ,  কেউ আমাকে কখন বলেনি 
এ তোমার  দীর্ঘ  বেড়ে ওঠা বীষ বৃক্ষের  দায় তোমাকেই  নিতে হবে, 
তোমার  প্রিয় একটিও এমন
সম্পর্ক  এ পাপের ভাগ এ বীষ বৃক্ষের  একটা  ফলও নেবে না, 
কেউ কখনো  চিবুক  ছুয়ে  বলে নি তোমার  পাপ ধুইয়েছ  দিই  কোপাই কিংবা হাওড়ের জলে,।
 
কিংবা এমন কেউ ছিল না কখনো  আমার পাশে
যে  কথা দিয়ে বলবে আজীবন  তোমার  যাকিছু  
পাপ, যা-কিছু  ভুল, যাকিছু  দোষ, সমস্ত্য আমায় দিতে পারো,। 
আসলে এই দুনিয়া  পাপ আর পূর্ন,  কে দুটো  আলাদা চোখে  দেখে, কালো  আর সাদা, 
....আমি কালো,  আমার মন কালো,  আমি কখনো  সাদার পৃথিবীতে  মানানসই  নই,  
নাহ আক্ষেপ বলে কনো শব্দ আমার ডিক্সনারি তে নেই, 
আমি ধ্বংস  ভালো বাসি, আমি পাপ মাখি বাইরে ভেতরে,   আমি আজন্মের পাপি তাই এ পৃথিবীতে 
আমি বধিসত্ব খুজি না,  আমার ভেতর আমার বলতে কেবল  ঝুরঝুরে  গুড়ো, কিংবা  জগদ্দল পাথরে মত পাপ ঝরতে থাকে জমাটি  বাঁধতে থাকে,  আমি এই মহাবিশ্বের  একমাত্র পাপ আগলে  থাকা প্রেতাত্মা । 

বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১

শুয়ো পোকার প্রশ্ন

আমি এখন সব কিছু খেতে শিখে গেছি ,
 তোমাদের না খেতে পারা এটোকাঁটা , 
গ্রীষ্মে কুকুর গুলোর জিভ থেকে ঝরতে থাকা বিস্বাদ ক্লান্তি , 
দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা গাছের ছায়ায় বসে  বাগান ওয়ালার থুতু লাগা জ্বলন্ত বিড়ির অবশিষ্ট ....
মাতাল লম্পট লোকটার নেশার ঘোরে উগলে দেওয়া বমি ,। 
আরো ...আরো অনেক কিছু যা তোমরা উচ্ছিষ্ট ভাবতে গেলেও তোমাদের ভেতর গোলযোগ বাঁধে ...,আমি সে সব কিছু পরম তৃপ্তির সাথে খেয়ে ফেলি ।
সে দিন এরকমই কিছু এটো কাঁটা বমি যখন আমি 
ভেতরে সেঁধিয়ে নিচ্ছি ভীষন শান্ত হৃদয়ে , আস্তাকুঁড়ে পাশে জামরুল গাছটার  চকচকে সবুজ পাতা থেকে একটা আমির শুয়ো পোকা আমার কাছে ঝুপ করে নেমে এলো ...,
আর খানিকটা অহংকারী হয়ে জানতে চাইলো ...
কি হে তুমি মানুষ তো নাকি মানুষের আদলে নিকৃষ্ট কোনো প্রাণ ? 
আমার একাগ্রতায় ব্যাঘাত ঘটায় বেশ বিরক্ত হয়েই জবাব দিলাম আমার কোনো দায় নেই তোমাকে উত্তর দেওয়ার ।
শুয়োপোকা টা আবার একটা প্রশ্ন করলো লোম খাড়া করে পরবর্তীতে অহংকার এর সাথে , 
মানুষ তো শ্রেষ্ঠ বলেই গণ্য এই পৃথিবীতে ...তবে এমন নিকৃষ্টতায় তোমার ভেতর কোনো গোলযোগ বাঁধায় না ? 
এবারে আমি খাওয়া ছেড়ে শুয়োপোকার মুখোমুখি হয়ে জবাব দিলাম শোনো হে ....আমার ভেতর কোনো বাতাস নেই ,পাথর নেই , তুষ্ঠ অতুষ্টতা নেই , নেই প্রেম কিংবা অপ্রেম ,
... তাই কোনো গোলযোগ ছাড়াই ,কোনো আলোড়ন ছাড়াই , কোনো স্বাদ ছাড়াই  আমি থাকতে পারি , 
শুয়োপোকা আবার আবার কিছু প্রশ্ন নিয়ে মুখ আমায় বিরক্ত করার আগেই আমি গভীর যত্নে একটা কুকুরের জিভ থেকে ঝরতে থাকা লাল চেটে নিতে থাকলাম ......শুয়ো পোকা টা নিজস্ব অহংকার এর রঙে প্রজাপতি হয়ে উড়ে গেল ।
আমার মনে হল আমার অহংকার কেনার মত আমির  কেউ নেই।


হসপিটাল

হসপিটালের বেডে আমার অসুখ আর আমি এখন একা একা থাকি ,
 ভীষন নির্জন সমস্ত ওয়ার্ড ,
দু চারটে মৃত্যু এই কদিনে আমার আশপাশের বেডে পড়ে থাকতো...
 কাল থেকে আমি আর আমার অসুখ একা এই চারতলার ইমারজেন্সি রুমে ,
যারা সুস্থ হতে এসেছিল তারা করিডোর দিয়ে ফিরে গেছে নিজেদের খোয়ারে ।
 যারা বাঁচতে এসেছিল তারা ব্যাগে ভরে জীবনের ইন্স্যুরেন্স নিয়ে ফিরে গেছে নিজস্ব ছই এর তলায় ।
আমার ভেতর ছুচের মত অসুখগুলো বিছানার সাথে সেলাই করে রাখে আমাকে ,   আমার ভেতর অসুখ গুলো ভুতপ্রেতের মত আমায় দখল করে রাখে ।
আমি জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আকাশ আর পাখিদের সাথে কথা বলতে চাই , অন্ধকার আস্তরনের মোটা পর্দাটা সরিয়ে রোদ্দুর কে আমার অসুখ আর বিছানায় বসতে দিতে চাই , 
অথচ  আমায় সময়ের ফুরিয়ে যাওয়া সমন আমাকে এই হসপিটালের বিছানার সাথে সেলাই করে রেখেছে , 
আমার কৃত্রিম নিঃশ্বাস বাতাস নির্ভর করে আছে একটি ফ্যাকাসে রঙের পাইপে ,
আমার বুকে ওপর অজস্র সিস্টেম হাত বোলাচ্ছে
রাত দিন ।
না না এ স্পর্শ একেবারে আলাদা এ নিঃশ্বাস বেঁচে থাকার নয় শুধু কিছু দিন জিইয়ের রাখার ।

আমি আর আমার অসুখ গুলো এখন ভালোবাসা হীন , স্পর্শ হীন  নির্জন হাসপাতালের  উঁচু সিলিং এ মুক্তির অপেক্ষায় , 
কখনো কখনো স্লিপিং পিল এর ঘোরের ভেতর সেই মুক্তি আমাকে বলে সামান্য  ভালোবাসায় সুস্থ আর নীরোগ হতে পারতে  খুব সহজে ,
আমার উঠোন জুড়ে তখন অসময়ের বৃষ্টি জল থই থই....।


ওয়েটিং রুম

আমি কখনোই ষ্টেশনে সময়মত পৌঁছাতে  পারি না , আমার জন্য একটা থমথমে ওয়েটিং রুম সময় হয়ে   আসে বারংবার  ,আর সেই সময়ের পাতা জুড়ে কেবল অপেক্ষা লেখা থাকে , অথচ সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো মাইলফলক  থাকে না ,
আমি সেই অপেক্ষার ষ্টেশনে বসে স্মৃতির বৃষ্টি দেখি  , কানে আসে দূরের রেডিওতে জগজিৎ সিং গজল ....কোই ফরিয়াদ  তেরে দিল মে দাবি হো জ্যায়সী ....,
আমার কালো চশমার ফ্রেমে বাষ্প জমে ,
আমি চশমার কাঁচ মুছতে মুছতে সময় দেখি ঘড়িতে , সময়ের গাড়ি আসবে কখন ,
আসলে আমি কখনোই সময়ের ট্রেনে চাপতে পারিনি ...হয় আগের গাড়ি যেটা গন্তব্যের আগে ছেড়ে চলে যায় অন্য কোথাও, নয়তো অপেক্ষার গাড়ি ....আমায় ভবিতব্যে ।
আমার অপেক্ষায় চিরকাল কিছু স্মৃতি সাদা কালো ফ্রেমে বন্দি ঝুলতে থাকে এই ওয়েটিং রুমে ,
আমার অপেক্ষায় চিরদিন কিছু ঘুঘু আচ্ছে দিন আয়েগার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে ।
আসলে মানুষের অপেক্ষাগুলো বড় অদ্ভুত তার জামিন এর বাইরে চাওয়া গুলোই সে অপেক্ষা নামের স্বপ্নে সাজিয়ে গুছিয়ে তেল মাখিয়ে আদর যত্নের কাঁথায় মুড়ে রাখে ...,
ভাবে একদিন এই অপেক্ষা বড় হয়ে উঠবে আশ্রয় হয়ে উঠবে , আদতে সব কিছু গল্পের মত মিলে যায় না , আর যখন সময়ের ঘরে বাড়তে থাকা অপেক্ষা গুলো নিজের এঁকে রাখা ছবির মত হুবহু মিলতে চায় না  তখনই যত  ঝড় , উত্তাল ভাঙচুর 
সময়ের সাথে প্রচন্ড লড়াইয়ে একটার পর একটা সাজানো অপেক্ষার ইট খুলে পরতে থাকে , ।
জীবন বড় বিস্ময় কর ...সময়ের ঘড়িতে তিনটে কাঁটা খুব বেশিক্ষন এক সাথে কাটাতে পারে না ...
ছুঁয়ে যায় ...ছুঁয়ে গিয়ে অপেক্ষার ওয়েটিং রুমে ঝম ঝমিয়ে কিছু শব্দ নেমে আসে বারংবার । 


মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

কালো মেয়েটা

চাঁপার নোলক পড়া কালো মেয়েটার স্বামী ভালোবাসে ও পাড়ার ময়নাকে ......
কালো মেয়েটা নাকি ভালোবাসায় বড্ড ভুল করে ফেলে ঘন ঘন ,,

.....অথচ আজ কিছু দিন হল মেয়েটার কাছে বসন্ত এসেছে 
 গলায় রাঙা মালাটি পরিয়ে ...দু হাতে কালো চিকন গাল দুটি নিয়ে প্রায়ই বলে  ...,
কালো মেয়ে তোকে না দেখলে  ,তোকে না জানলে ,
 এজন্মে ভালোবাসা কি সেটা অজানাই থেকে যেত ,
চাঁপার নোলক পরা মেয়েটার স্বামী ওপাড়ার 
ময়নাকে ভালোবেসে সোহাগ করে ,
 কোলো মেয়েটা নাকি সোহাগী হওয়ার সময় ভুল করে ফেলে বারবার ,

অথচ  বসন্ত ...সোহাগ বলতে ওই চিকন কালো বুক ছাড়া কিছু জানে না , ওই সোহাগী বুকের আশ্রয়ে বারবার তার ফিরে ফিরে আসা।

 ...প্রতিবার তাই শীতের তীব্রতার সাথে সংসার গুছিয়ে  চাঁপাফুলের নোলক পরা কালো মেয়েটা 
বসন্তর অপেক্ষায় থাকে ,অপেক্ষায় থাকে পলাশ, কিংশুক আদরে বসন্ত সোহাগী হয়ে উঠবে বলে ।

কালো মেয়েটা আসলে নিঃস্বার্থ প্রেম , সে সময়ের নিরিখে  আবহাওয়ার মত বদলে যায় না কখনো ,
কেবল গভীর আরো আরো গভীর হয়  ...ওই কালো ভ্রমর চোখের ঝিলের ভেতর একটা পৃথিবী নয় সমস্ত  ব্রম্ভান্ড নিশ্চিন্ত প্রেমে ডুবতে পারে ।

তবুও চাঁপার নোলক পরা কালো মেয়েটার স্বামী ও পাড়ার ময়নাকে ভালোবাসে ।

আমি ফিরতে চাই

আমাকে ফিরিয়ে দে সেই আগের আমিতে,
সেই শীতল চোখ ,ভেজা রাতের একলা উত্তরের বারান্দা ,আমার একলা তারা আর আমি ,

সেখানে স্পর্শ ছিল না, ছিল না বেঁচে থাকা ,
ছিল না আদর ,  সকলে মাড়িয়ে যেত পথে ঘাটে ,

 আসা যাওয়ার পথে শরীরের কাঠামোয় ফুটিয়ে যেত  অজস্র জেরুজালেমিয় পেরেক , 
নাহ  আমি কখনো  কাঁদতাম না , 
আমার ছিল না কোনো রক্তক্ষরণ , ছিল না আত্মহনন , 

আমি ঝর্ণায় তখন স্নান করিনি  তখন পচা শ্যাওলা জমা একটা পুকুর আমার গা ধুইয়ে দিত,
 
অন্ধকার আঁশটে গন্ধে ভোরে থাকতো আমার ভাড়ারের কৌটো গুলো ,
 তবু ও আমার সেসবে জন্য কখনো কোনো অভাব বোধ হয়নি ,
কেন যে তুই আমার ঘরেই জানলায় রোদ 
ডাকলি ?
কেন যে সমুদ্র হতে চাইলি ?
আমি বুকের কোটরে আগুন কে চিরকাল ঘুম পাড়িয়ে রাখতেই তো ভালোবাসতাম ,

কেন যে তুই সোনার কাঠি ছুঁইয়ে ছিলিস ?

আমাকে তুই অনলি কেন ? 

আমাকে তুই ফিরিয়ে দে আমার অসভ্যতার ,অন্ধকারের ,অনভিজ্ঞতার ,অস্পর্শ সেই আমিটাকে ।

কোমল বাতাস ,আলোর পৃথিবী, স্পর্শ , বোধ ,
অনুভূতি , পাওয়া না পাওয়া ,
এসব  কিছু রাখা যায় এমন পাত্র আমি নই , আসলে সব কিছু জন্য যোগ্য পাত্র লাগে ,
মাছের ঝোল যেমন বাটি তে মানায় , ভাত তেমনি মানায়  বগি থালায় ..... আমি সেই সঠিক পাত্রটাই নই ,
আমাকে তুই অনলি কেন ? 
 প্লিস আমাকে ফিরিয়ে দে  সেই অনুভূতি হীন স্পর্শ হীন , শীলত আমিটাকে।

বামন অবস্থান

আমি আজও বড় হয়ে উঠতে পারিনি , 
কেবল অদ্যপ্রান্ত চেহারায় এক খানা 
পাথরের মত আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি , 
বড় হতে পারি না একটা ছোট্ট গাছের কাছে এসে দাঁড়াই মাঝে মাঝে
  ছায়ায় দেখি আমার থেকে ছোট  গাছটা অনেক অনেক বেশি কাছ থেকে  আকাশ ছুঁতে পারে , 
তার আকাশের  মেঘ গুলো সব সত্যি , 
আমি কখনোই নকল ছাড়া আসল আকাশ আসল মেঘ , বৃষ্টি কিছুই দেখিনি ।

সুখ দুঃখের ছলে আমার সমস্তটা কেবল নকল বেড়ে ওঠা নকল বেঁচে থাকা।

আমি প্রকাণ্ড চেহারায় রোজ রোজ একটু একটু করে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হতে থাকি , আমার নকল ছায়া বেড়ে ওঠে  ,
.....আমি কখনো বড় হতে পারলাম না 

এ পৃথিবীর সমস্ত অস্তিত্বের কাছে আমি রোজ রোজ আরো আরো ক্ষুদ্র হতে থাকি

 ....অথচ  এ পৃথিবীর মাটিতেও মিশে যেতে পারি না ,
পারি না বড় হয়ে উঠতে .....
আসলে আমার মত  নকল মানুষ গুলো কখনো 
বেড়ে উঠতে পারে না , কেবল বড় দেখায় ।

ওরা কাঁদছে

ওরা লোকগুলো চোখের জল দেখতে পাচ্ছে না ,

...আসলে ওরা কখনো দেখতে চাইনি মানুষের কান্না ,
ওরা বরাবর রাজসভার সিংহাসনে বসে ফাঁদ পেতে গেছে  ,
 আজও  যেমনটা গোল টেবিল বৈঠকে একের পর এক  ঘুঘুর ফাঁদ আর মানুষ গুলোর ফাঁসির দড়ি বুনতে ব্যস্ত  ।
আচ্ছা এরা  কারা এরা কি ঈশ্বর না ঈশ্বরের সৃষ্টি 
শকুনির দল ।
পাখির মত পাশে দাঁড়িয়ে দেখছি আমি দূর দুরন্ত পর্যন্ত যতটা দৃষ্টি যায় মানুষ কাঁদছে, মানুষ মরছে
শিশুর পেটে খাবার নেই ,নারীর গায়ে শতচ্ছিন্ন ময়লা শাড়ি লজ্জা ঢাকে না ,আর  বাড়ির পুরুষ গুলো হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে ,
তারপর তাদের লাশ গুলো সারি সারি আমার চোখের সামনে শুয়ে আছে , 

একলা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারছি না ,আমার নিজস্ব পা নেই আসলে আমি নির্ভরশীল চিরকাল, সমাজের নিয়ম আর ,শাসনের কাছে ,
আমি পঙ্গু এই পুড়তে থাকা দেশে পুড়তে থাকা আইনের কাছে  ।

সকাল থেকে আমি দেখছিই শুধু মানুষের কান্না ,ক্ষিদে , ...আবার একই সাথে দেখছি শকুনির পাশা খেলার ভূমিকায়  জিতে যাচ্ছে ওই ওদের মত  ঈশ্বর কিংবা শকুনির দল গোল টেবিলে বসে ফাঁদ পেতে চলছে রাত ...আবার রাত , ,
সন্ধ্যে হয়ে আসে রাত নামে  ,আমি নির্ঘুম চোখে ওদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আটকে যাই ,
একটা ভোর খুঁজি  হন্যে হয়ে ,অপেক্ষা করি একটা সকালে আর আমি মানুষের কান্না দেখবো না ,....দেখবো দেশ ,হাসছে ,আমার সন্তান হাসছে তোমার কিংবা
সব মানুষের সন্তান পেট ভরে খাচ্ছে ,,
রাজসভায় এক একটা  শকুনি  পিঠ দিয়ে দলে দলে মানুষ গুলো ছুরি ঢুকিয়ে দিক , , আমি দরজা খুলে এমন একটা ভোরের অপেক্ষায় থাকি ।
অথচ আমায় রোজ দেখতে হয় মানুষের কান্না ,মৃত্যু আর  শুনতে হয় রাজসভায় ঘুঘুর ফাঁদের 
গিঁট কিভাবে আরো শক্ত করে বুনে ফেলা যায় । 

সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

ভীষণ জরূরী

কোথায় একটা শেষ ভীষন জরূরী ,
জরুরি "আমার" শব্দ মঞ্জরী থেকে প্রত্যেকটা অক্ষর কে আকাশে সাদা পায়রা হতে দেওয়া ,
কোথাও একটা দরকার নির্ভরতা থেকে নিজেকে সরিয়ে আনা ,
একবার ভীষণ রকম বিশ্বাস হীন হয়ে পড়া 
জরুরি ।,
....নেই জানি তবু যেন তাকেই চাই এমন বন্ধনী থেকে ইটগুলো বার করে একটা ভাঙ্গন ভীষণ জরুরী ।
নিঃশব্দ অস্তিত্বর লড়াই একবার ......একবার অন্ততঃ সরব হওয়া জরুরি  ।
একে অপরের সাথে সেফটিপিনে আটকে থাকতে 
থাকতে ক্লান্তি জরুরি হয়েই যায় ।
সব পরিবর্তন কখন যে জরূরী হয়ে পড়ে সবটা বোঝা হয়ে ওঠে না এক জীবনে .....,যেমন 
প্রেম বা ভালোবাসার সংজ্ঞা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাই বদলে যায় ,
একটা  জরূরী পূর্ণচ্ছেদ যে কখন  সমন পাঠিয়ে দেয় জানতে পারি না আমরা ,
তারও বহু আগে একটা গোপন  অদৃশ্য  জরুরি শুরুয়াতে প্রবেশ থাকে আমরা দেখতে পাই না ...
নাকি অনেক এমন জরূরী যোতিচিহ্ন আমরা ইচ্ছে করেই চোখ বন্ধ রেখে পর হতে ভালোবাসি ?

রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১

কেলো -- করেছে --প্রেম !

মনের নিঃস্ব হওয়ার অভাবে কি প্রেম পাওয়া যায় ,
তবু ভোরের হওয়ায় খানিকটা শীত আমায় জড়িয়ে থাকে , তেমন কি তোমারও হয় মাঝে মাঝে ?

নাকি আমার জানলার পাশেই হিমেল হওয়ার অপেক্ষা  কেবল কারসাজি ....
তারপর একফালি হওয়া মাথার চুলে বিলি কেটে বলে  তোমার কি আমাকে দেখলে কাঁপুনি ধরে শরীরে?  নাকি কাছে আসার বাহানায় মিথ্যে বাহাদুরী এসব ।
তারও পরে  টুকরো রোদ্দুরের  চুমু ছুঁইয়ে তুমি চলে যাও ,কার কাছে ? 
ভাবছো এসব প্রেমের নাম ,
আর যাইহোক ছবি বিনিময়ে আমার মুখ দেখে 
তুমি খানিকটা প্রেমিকা কিংবা প্রেমিক হওয়ায় চেষ্টায়1 বলতেই পারো আহারে বাবু মুখটা শুকিয়ে গেছে একটু জড়িয়ে আদর করে দিই ...এসব 
শুনলে আমার কেমন শীত শীত পায় , তোমার ও কি একই রকম শীত পাওয়া শিউরে ওঠা অভ্যেস ।
আমার আরো কিছু অভ্যাস আছে সকাল সকাল মাটির কলসী চুঁইয়ে পড়া সোহাগে  বিলিয়ে সুপ্রভাত , আরো অনেক অনেক  অভ্যাস 
ইন বক্স জুড়ে স্মৃতির মত ,  
ভোরের হওয়ায় শীত বাড়লেই আমিও কেমন কুঁকড়ে যাই অতীতে , 
এসব প্রেম নয় অভ্যাস ....যেমন কাঁপুনি দিলেই জড়িয়ে ধরা , যেমন স্নান ঘরে মৈথুন ,যেমন 
ভালো বন্ধু হতে চাই বলে সিঁধ কেটে  ইনবক্স কিংবা whatsapp এ ব্যস্ত রাখা ।
অথচ আমার  আবার একটা সেন্স ছয় পেরিয়ে 
সক্রিয় হয় ,  আর সুড়সুড়ি দেওয়া শরীর গুলোয়
আটকে থাকা চেহারা গুলো দেখলেই পাকড়ে ফেলি ,
তাই  গলা আর পথ দুটোতেই কেমন কাঁটা হয়ে বিধতে থাকি ।
কারা জেনে নিঃস্ব হওয়ার ভয়ে সামলে থাকে তখন।



কখনো কখনো

কখনও কখনও বুকের ভেতর একটা মহাদেশ 
বেড়ে ওঠে , বুকের ডানদিকে একটা সমুদ্র আর বা দিকে একটা আকাশ ...এরা বেড়ে ওঠে আশ্চর্য বোহেমিয়ান হয়ে ।
হাজার হাজার ভিন গ্রহের গাছ নাকি গাছের বেশে 
অন্য কোনো সারমর্ম ওই মহা দেশটাকে দখল করে ।  
সমুদ্রের গভীরে অজস্র রঙিন মুখোশে সোনালী রুপোলি চরিত্র , আমার নিতান্ত জলোচ্ছ্বাস দাপিয়ে গভীরতা আবছা করে তোলে ।

আর সেই আকাশটা সুজন যাকে তুমি মুক্তি নাম দিয়ে ছিল সেই আকাশে কখনো সূর্য ওঠেনি ।

আসলে জান যে  সাতদিনের সন্তানকে  ডাস্টবিনে ফেলে আসা হয় ....তারপর স্নেহর বদলে দক্ষিণে জন্ম বিতিয়ে যায় তার আর আকাশ সমুদ্র দেশ মহা দেশ সবটাই  শেষমেশ উপহাস তাই না ! 
 জানতো সুজন আজও মেয়েটার সর্বাঙ্গ জুড়ে জ্বর ,
আজও মেয়েটা আধপেটা , রাত কাটায় উত্তরের সেই খোলা বারান্দায় , 
আসলে পৃথিবীতে ঘটনার ভুল চিরকাল থাকবে থাকবে আজন্ম কিছু না বলতে পারে আফসোস ।
 
যেমন তোমার জন্ম জঠর থেকে পাওয়া যন্ত্রণার  ট্রমা তোমায় এই সাইত্রিশেও ঘুমোতে দেয় না  কিংবা তোমার ঘরের নিরসিংহ দেবতা কখনো তুষ্ট নয়  উত্তরের দেওয়ালে ।

তেমনি মেয়েটার জন্মের কিছু দাগ তাকে ভাগ্যে নিয়ে বয়ে বেড়াতেই হয় , । আসলে আমাদের মত মানুষগুলো সারা জীবন অজস্র বার লেবেল ক্রসিং এ দাঁড়িয়ে খোঁজে বেঁচে থাকার জন্য এই টুকরো টুকরো ধারালো পাথর গুলো সমান্তরালে রেখে একটা পথ । আমাদের মত মানুষগুলো আসলে এ পৃথিবীর যোগ্য নয় কোনো সভ্যতাতেই ।

তার আগে

বাধ্য হয়ে থাকা কাছাকাছি , 
যে শিখিয়েছিল দখলের কথা সে
 আজ  মৃত্যুর পৃথিবী তার ভাগেই বেশি। 
ঠিকানায় লেখা ছিল না সেদিনও...  খোলা
ছিল শব্দের জানলা , ওপাশে   পথের বাঁকে ছিল
আমার মর্মিয়া. 
সে  নির্জন।  আমিও  পরদেশী আমাদের তবু ফিরে আসা  ছিল বাকি
এখন  কেবল শব্দের  কাছে থাকো দত্তক হয়ে ।

চরিত্র থেকে  খুলে পড়ুক আজও সজ্জা ,
 এ পৃথিবীতে নগ্ন সবাই  , অজুহাত শুধু পোশাকি 
অবতাব ...
এতদিনে তুমি আয়না সরিয়ে নিলে বললে ....'জিন্দেগী তু ইস কদর রুঠ যা মুজসে কি মেরি চিতা কি আখেরি লয় বুঝ যায়ে তব ভি তু সুকুন কি নিদ মে সো জানা "

 মৃত্যুর কারুকাজ  এঁকে নিও 
জমা রেখো নালিশ  মনের  তহবিলে। 
আমি আবার ফিরবো যে দিন ঠিক পাশের বাড়ির পড়শী হয়ে
 নিশানের মতো কিছু তোমার জানলায় হলুদ পালক আসবে । 
 শেষবার ক্ষমা করে দিও 
তোমার বাড়ির পাশে আমার শেষ যাত্রার ধূপের ধোঁয়া এখন ....
কে জানে আবার কবে হবে সাক্ষাৎ এই পৃথিবীতে বিদায় চিরকাল শোকের
  
আবার বছর বিশেক কাটবে  ব্যথায় কেটে যাবে   অগুনিত রাত নির্ঘুম ।
তুমি থেকে যেও অপরাজিত ,
আমিও আকাশের গায়ে ,
আসবে জানি সাঁকো পেরিয়ে 
হয়তো আমিই তাই ঠিকানায় পৌছালাম আগে।


বেঁচে আছি

বুকের পিঞ্জরে মাটি লেগে নিজস্ব জমির
চোখ বন্ধ করে হাঁটি বাকি পথটুকু ,,

শরীর থেকে একের পর এক সুতো খুলে পড়ছে 
খুলে পড়ছে কাঠামোর বাঁধন ....
 দেখছি না কোনো ক্ষয়ক্ষতি ,,,

তোমার কাছে কিছুটা ঋণ আমার কাছে কিছুটা বকেয়া সবটুকু গুছিয়ে নেওয়ার পালা ,

বুকের চামড়ায় সেফটিপিন আটকানো পাছে
খানিকটা যন্ত্রনা মুখ বাড়ায় বেয়াড়া হয়ে ।

কে যেন আমার সুখের পায়রা উড়িয়ে দিয়ে গেল চুপিচুপি ...তারপর আমি আমার প্রতিবাদ দের শব্দভেদী বানে বধ করেছি ,
 তারা বেঁচে আছে কতটা খবর নেই .....আজও আমার বুকের হাপরে 
নিঃশ্বাস ওঠানামা করে জানি ।


অলিখিত গ্রন্থ(১০)



বেঁচে থাকাটাও ঠিক যেন এক নেশার মত।
বেঁচে  থাকাটা একটা আবিষ্কার এর নেশা ।
 মুহূর্ত গুলোয় বন্দি রাখা কিছু না কিছু  পাওয়ার নেশা।
ম্যারিওয়ানা ফুলের ঘ্রানের টান বেঁচে থাকায়,
আমাদের   আদ্যন্ত বাইরে ভেতরে হাজার হাজার বার নিজেদের নতুন জন্ম ...আর মৃত্যুর খেলা চলছে । 
জোড়া তালি দিয়ে আটকানো বাধ্যতা হৃৎপিন্ডর 
ওঠা নামা ...দেখ সুজন তবু বেঁচে থাকার নেশায় 
সমস্ত গিঁট মেনে নিচ্ছি  আমরা ।

আসলে আমরা জানি লন্ডভন্ড হয়ে যাবার আগে কিছুটা গুছিয়ে বাঁচতে ....আবার এও জানি 
বেচেঁ থেকেও জীবন থেকে পালাতে  হয় কিভাবে।

কি আশ্চর্য তাই না আমরা নিজেদের বেঁচে থাকাকে উৎসব মনে করে আলোর দিকে সাঁতার কাটি অন্ধকারের ভেতর ।
এভাবে সাঁতরে উঠি আলেয়ার কাছে আবার ডুব দিই অন্ধকারে , অভিজ্ঞতা আসে রেখা রেখায় হাজার পথের মানচিত্র ,
আচমকা গন্তব্য চোখে পড়ে চোখে পড়ে শেষের আশ্রয় ...এক অমোঘ সত্য । ধাবমান সময় 
থেমে যায় , সমস্ত ক্যায়নাত দু হাত মেলে দেয় ।
......গালিফ বলেন তখন ....
ডুবোয়া মুঝকো হোনে নে, না  হোতা ম্যায় তো ক্যা হোতা"।


 

সুবর্ণা(১০৫)

তুমি আমি দুজনেই একষট্টি তে দাঁড়িয়ে আছি 
দুজনেই দাঁড়িপাল্লায় নিজের অস্তিত্ব খুঁজে চলেছি ,
অথচ নিজেকে ভালো রাখার জন্য নিজেই যথেষ্ট 
এটুকু জানলেও মানছি কই ।
তুমি আমি দুজনের বুকের ভেতর অশ্রাব্য ঝগড়া করছি করছি পরস্পরের হত্যা ।
 সময় অসময়ের ঘনিয়ে আসা মেঘে আশ্চর্য ধ্বংসর বার্তা ,
কেন বলতে পারো সুবর্ণা  ?

আমি সেই ছেলেটা কে প্রতি রাতে বালিশ আঁকড়ে একটা বুক খুঁজে কাঁদতে দেখি ,
আমি সেই ছেলেটকে  এখনো মায়ের প্রেমিকার কাছে অসম্পূর্ণ  বৃত্ত পুরুন না হতে পারার যন্ত্রনায় কাতরাতে দেখি ,
আমি একটা  নষ্ট শৈশব কে আজও লুকিয়ে চোখ মুছতে দেখি ।
আমি দাঁড়িপাল্লার হালকা দিকটায় ছেলেটাকে রোজ রোজ অপমানিত হতে দেখি ,
সুবর্ণা  আজ ছেলেটি একষট্টিতে দাঁড়িয়ে , আয়নায় তুমি  ..…...আর শেষ ভাঙা টুকু বাকি ছিল ,  বাকি ছিল পৃথিবীর কাছে শেষ অশ্রাব্য হওয়া ,  ছেলেটির শেষ বারো মিনিট তাকে হত্যা করলো গোপন ছুরির কোপে ....,।

তুমি আমি নীরব ....বাইরে তুমুল কিছু বদল 
হয়তো  বদলানো জীবনের নিয়ম , 
হয়তো বদল আছে বলেই জীবন বাঁচাতে শেখায় ,
আসলে জানো সুবর্ণা এ পৃথিবীতে হারাবার কিছু নেই ...আছে কেবল পাওয়া ...,
আছে শুধুই শেখা ।

সুবর্ণা (প্রিয় অসময়)

শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১

ঘুন পোকা

রোজ ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বিছানায় ধূসর রঙের কিছু গুঁড়ো পড়ে আছে ,
একদিন আবিষ্কার করি গোপনে আমার শিরদাঁড়ায়  দুটি ঘুন পোকা সংসার ,,
আমার শক্ত শিরদাঁড়া গুঁড়িয়ে দিতে দিতে উল্লাসে মেতে উঠেছে ।
যেদিন প্রথম প্রতিবাদ করলাম তারা দুজন ঝাঁকে ঝাঁকে বিরুদ্ধতা নিয়ে হাজির হল আমাকে গুঁড়ো করে তচনচিয়া হওয়ায় ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবার উৎসব তাদের  তখন......।
আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই এমন কিছু ঘুন পোকা কে প্রশ্রয়ে বাড়তে দিই , খানিকটা দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ কে বড় করার মত , 
তারপর নিজেরই অস্তিত্ব গুঁড়ো গুঁড়ো হতে দেখি 
নিজের চোখের সামনে , 
বাকি ছেড়া ছেড়া অস্তিনে শেষমেশ নিজেকেই মুখাগ্নি করতে হয় ।

ফিরতি পথ




এমনি কেটে যাচ্ছে দিন– অশ্রাব্য করছে রাস্তায় প্রেম আর প্রিয় সম্পর্ক ,
       নগর থেকে গুহাযাপন চাইছে সময় ....তবু 
            যাত্রাপথ কম নয় ...অস্বীকার সমস্ত অঙ্গীকার , 
এ কেমন বেওয়ারিশ মৃত্যু ,হত্যা কারীর নাম নেই কোনো ,পরিচয় নেই লাশের।
      উদ্বেগে বাঁধা মনের টানটুকু চিৎকার রাখা বোতলে বোতলে ,

মেপে নেবেই দূরত্ব– সময় ।
    নিঃশব্দ সময় আজ পৃথিবীর কাছে উত্তর আছে ,
        পরিযায়ী বাতাসের ঘ্রাণ.. ফিরবে ঠিক সন্ধ্যে নামলেই ।

শুক্রবার, ১৯ মার্চ, ২০২১

বুকের ভাষা




বহুদিন হল ঘরটা ভেঙে গেছে  খুঁজে পাচ্ছি না
নিজস্ব জমির মাপ ।
 মোড়ের মাথায়  ওই যে বট গাছটা
সে আমাকে ফিসফিসিয়ে ডাকে
তার কোটর খোঁজা কেউ 
পথের হদিস জানতে চায়ে  বলে...
কোন পথে যাবো বলতে পারো ??

তুমি তো  নিশছিদ্র বিলাসে শরীর খুলছ গভীরে যাচ্ছ ... নতুন নতুন অধ্যায়ের ।

তবু আমার ঘর, বটের কোটর
আর পায়ে চলা রাস্তা একযোগে 
 তোমার বারান্দায় ফুল ফোটা দেখতে চায় চিরকাল ।
তোমারই চোখের তারায় একটা আসমানী শান্তি 
দেখতে চায়  শেষমেশ।

ভেক থেকে নেক



 তোমাকে ঋষি কিংবা ঈশ্বর   ভেবে......
দুহাত  পেতে বলেছি, দাও আশ্রয় দাও প্রেম

 ঢলে গেছে পড়ন্ত সূর্য গোধূলীর আলো আধারীতে  নীচত্ব তুমি গোপন করেছিলে বৈরাগ্যে নামের ভেক আবরণে ।

           এখন খোলা মঞ্চ, যুদ্ধের মাঠ   প্রতিপক্ষহীন ।

           ক্ষমতায় কেবল স্বেচ্ছাচারে মোহময় হাতছানি।

 পুষে রাখ  আয়োজনএর  পাশে–অনায়াসে যাতে 
এক বচন বাস করে সহবাসে ।

সেই কেবল বহুবচনে ঢেলে দিচ্ছে কবিতায় প্রশংসায়।

     শত্রু  ভেবে ব্রাত্য রেখেছ যাদের তারা কখনো ক্ষতি ভাবেনি স্বপ্নে,

          আজ আকাশের সীমানায় তাদের শপথ
ফুল হয়ে ফুটে আছে কাঁটার বেড়ায় .
আর জোকার গুলো রং মুছে দাঁড়াক তোমার সামনে এসে ।

সংরাগ

সংরাগ
*********

এখন আমি তোমার শহরে  যাই না কোনো অছিলায়,,
পলাশ  ঝরা পড়ন্ত রোদ - বাঁধিনা আর বুকের মাঝে ।

এখন  আমি তোমার শহরে মাতি না  হওয়ার  হিল্লোলে ,,
পারিজাতের কুসুম ছিঁড়ে  পরেছিলাম যে দিন গলায় সর্বনাশী সময় ছিল 
             নীল বহতা আসমানে; 
ওমের সাথে ওম এখন  খালি  বুকে হাপর টানে-।পরিযায়ী প্রেমিক সময় ইচ্চামতি স্রোত ,,

সুখবাসরে শিস দেয় হাজার রঙের বর্ণালী,

নিঃশ্বাসে বয় বিষ  বাতাস প্রেমের কাঁধে  ভীষণ চাপ।
শুকনো  বুকে ইচ্ছে গোলাপ ; দ্বন্দ্ব আগুন দিনরাত্রি ,
গঙ্গা ঘটে সন্ধ্যা কালে  গাইতাম বন্দিশ .......
            
পাতা ঝরা রুক্ষ মাটি ; কুমকুম রং  মন ক্ষত,
কৃষ্ণচূড়ার আগুন চোখে - মরছে ফিনিক্স অসংখ্য ।

ঘুঙুর আওয়াজ  মর্মরধ্বনি; অশোকে কিংশুকে  । ,ভাট ফুল ভেলায় করে গাঙের জলে দেহ ভাসে অভিমানে।


মরশুম বদল

মরশুম বদল
--------------

বেখেয়ালি হওয়া চলবে না হাঁটতে গেলে বেঁচে থাকার মিছিলে  , আদতে মন  তো নয়
যেন জানালার শার্সি,,
তোমার আমার পাড়ার মাঝে  আজও তেমন দূর তো নয়... শুধু রক্ত মাখা কাঁটা তারের বেড়া টুকুই।

বৃষ্টি  আসে কাঁটা তার ভেজে তবু রক্তের দাগ রয়ে যায় এমন বারিষে  বলো কী  লাভ - দাগ যদি না মুছতে পারে ।
ধূর্ত কে বৃষ্টি  না তুমি ? সে দাগ মোছে না ....নাকি তুমি গোপনে রক্তের দাগ গাঢ় করে রাখো!

মনের কি দোষ দোষ তো কেবল সময়ের,
কখন যে কিসের নেশায়  চুর করে দেয় কে বলে দেবে , .  

কখনও দিন এমন ছিল, কথারা হতো গাছের মত, আজ সবই আছে, কিছুই  নেই স্বতঃস্ফূর্ত ।
পলক ফেলে মরণ আসে ঘড়ির কাঁটা সেও জানে না সময় কখন রাজা কখন উজির  । 

 বেখেয়ালি হওয়া নিষেধ আছে অধিকারের এই মিছিলে ,
তোমার  আমার পাড়ার মাঝে আজও তেমন দূর তো নয়... তবু দেখ নজিরবিহীন দূরত্ব আজ...  তুমি আমি রাস্তা হাঁটি কি ভীষণ অচেনা হয়ে ।

বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১

তামাসা


আমার ইচ্ছারা কখনওই পুঁজিবাদী নয় , ওরা 
কেবল নগরে , পাথরের দুনিয়ায় পেটে কাপড় বেঁধে তামাসায় সামিল হত  কখনো কখনো ক্ষিদের দায়ে ।
অথচ আমার স্বৈরাচারী প্রেমিক  দাঁত খিঁচিয়ে আমায় খিস্তি দিত ,
এই যাতনার উল্লাস আমার চৌত্রিশ এর বুক খুবলে চিঁড়ে খেত  তবু আমি চুপ থাকতাম ,
************************************
জানো হে আমার প্রিয় প্রেমিক আমি অনেক দিন হল ইচ্ছা আর ঘুমের সংযোগস্থলে ঘাপটি মেরে বসে আছি ক্ষুধার্ত চোখে স্যালাইভা ছিটিয়ে উন্মুক্ত দু চোখে  পালক পালক স্বপ্নের লোভে ,
অথচ আমিও জানি তোমার মত ...  ,স্বপ্ন  হল কাল সাপ যা আমরা সকলে জেনে শুনেও দুধ ভাত দিয়ে বড় করতে করতে ছোট করে ফেলি নিজের উচ্চতা । 
অথচ এও সত্যি ঘুম একটা পরিত্রানের সাম্রাজ্য ......কখনও কখনও একটা ঘুম মরে যাওয়া ইচ্ছাদের কবরের ওপর ফলকনামা ।
আসলে কি জানো  হে প্রেমিক মহাজন তোমাদের 
দেখানো আনরিয়েলিস্টিক স্বপ্ন গুলোর 
জীবাশ্ম হয়ে থেকে যায় আর থেকে যায় স্বৈরাচারী 
 প্রিম্যাচ্যুর এজাকুলেশন আর তখন ওই যে ঘুম আর ইচ্ছার সংযোগস্থলে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই ।




একটি সম্ভাব্য উপন্যাস

শীঘ্রই ধ্বংস নামে একটা উপন্যাস প্রকাশ পাবে ...
যাকে ঘিরে বেশ কিছু মানুষ মাথার খুলির ভেতর 
ন্যাপথলির গন্ধ আর হারানো সাক্ষাৎকার  থাকবে,,
তাতে লেখা থাকবে কলকাতা মিউজিয়ামের বয়ামে রাখা শব্দহীন বোবা হরেক বর্ণালী ।
আরো আরো কিছু টা হেঁটে গেলে নিখুঁত অন্তর্বাসের ভিতর ও বাইরে  অতিশূন্যে  স্পর্শ মিলিত হয়  রোজ যে  তারাটি তার মুখ দেখা যাবে
চাঁদের পাশেই।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রোজ রোজ নিজের বিকলাঙ্গ দেখতে দেখতে লোকটা অপভ্রংশর  ভাসান বেলায় ফেরি ঘাটে দাঁড়ায় হিজিবিজি লেখা হযবরল বেচতে । 
মেদুর স্রোতে ভেসে বেড়ায় তখন  অসুখ ও মৃত্যুর আলিঙ্গনচিহ্ন , আসলে 
পুরুষের টুকরো টুকরো সাধন সঙ্গী দরকার হয়...তাই লোকটি উপন্যাস থেকে এতটা সময় অপচয় করে রোজ রোজ ফেরি ঘটে আসে , জন্ম থেকে মৃত্যু সব লিখে ফেলে ঈশ্বর হয়ে ।......তারপর একদিন  লোকটার শরীরের ওপর দিয়েসারি সারি ট্রাক চলে যায় ....
...কিছু আনআইডেন্টিফায়েড লেখা  বাতাসে একটা ঠিকানা খুঁজছিল এলোমেলো ভাবে । .....ধ্বংস নামে একটি উপন্যাস খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে ।








ক্লাইম্যাক্স

সিনেমার ক্লাইম্যাক্স এর মত ভেলকিবাজি দেখাচ্ছে মানুষগুলো ,
একটা পৌষ মাস  নাট বল্টুতে লাগিয়ে শালারা চর্যাপদ লিখে ফেলতে চাইছে , 
এদিকে গৃহপালিত হতে গেলে তাদের নাকি অভাব গুলো সামনে এসে সত্যিজিতের ভুতের নাচন দেখায় , 
ওদিকে নিরুত্তর থাকলে ভাবে সামনের জন ভাববে লোকটা তৃণভোজী ,  কারণ উত্তরের ঝটপটানি নেই , 
শালা খাবি না গায়ে মাখবি , 
মাথায় রাখবি না মাটিতে রাখবি , ......কনফিউজড পৃথিবী ,
.....এই যে দাঁড়ান দাঁড়ান যাবেন না আবার শব্দের ভেলকিবাজিও আছে মশাই  প্রেমিকার শরীরে কলম চুবিয়ে কবিত্বের গ্রীন জোন ,
 ক্যাস্কারিলায় তখন বেশ টকটকে সিন্দুরী  ড্যাস রং , , সব কথা মুখে বলতে নেই মশাই বুঝে নিতে হয় নিজ গুনে .... যাক অপরাধ নেবেন না । 
যান যান ....
এবার যেতে পারেন মশাই রা নিজ নিজ গন্তব্যে এবার বসন্ত এসেছে কিছুটা চরিত্র হীন হওয়ায় ক্ষতি নেই ,,,
আমিও যাই নাটকের দৃশ্য গুলো ব্যাগে পুরে ফেলি পরেরবার নয়তো আপনাদের সুড়সুড়ি জাগাবো কি দিয়ে  ।।

 

ছিঃ

একটা  কাক সেদিন সৎকার  আয়োজনে কা কা করছিলো , 
পাশের মধুমক্ষী গুলো সঙ্গমে বিভোর তখন,, এমন ভূমিকম্প তে নড়ে উঠলো খাট আলমারি  ছিঃ এমন করে কি চমক লাগাতে হয় ,!
আসলে এ সমাজে বুকে মাথা রাখার তীক্ষ্ণ ভালোবাসার ফল ওই কাদম্বরীর সুইসাইড শোকের মত কেউ সেভাবে খেয়াল করে না । 
আসলে কেউ খেয়াল করে না চারা গাছটার  বেড়ে ওঠা ...কেউ খেযাল  করে না কবি বা সাহিত্যিক রা নারকেলের মত আবরণের ভেতর প্রেমের খেলা খেলতে খেলতে যেই শিকড় মাটি  ছুঁই ছুঁই করে অমনি সৎকার আয়োজনে ব্যস্ত করে ফেলে নিজেকে ,
আসলে মানুষ পেতে পেতে কেবল পাওয়ার নিউজফিড স্ক্রোল করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে ,
এমনি কিছু কবি ....রবি হতে গিয়ে মেঘনাদ হয়ে যায় ....তারপর ওই মেঘ দেখলেই আড়াল থেকে লুকিয়ে কবিতা বৌদির ব্লাউজের হুকে তীর ছুঁড়ে মারে ,  তারপর কালো ভ্রমরকে দুধে আলতায় লাল করে ফেলতে পারলেই ....বাজিমাত  কবি সাহিত্যিকদের অর্গাজম হয়......আর তখন কবি সাহিত্যিকরা ডোমের ভূমিকায় শিক্ষকতা করতে ভালোবাসে ।
কেউ কি কালো কাক টা কে একটু দূরে গিয়ে কাক করতে বলবে ....ওহ আবার এও ঠিক কাক কি মানুষের কথা কবিদের ভাষা বোঝে !




বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১

মন্দ হবে না

পাশের বাড়ির স্নান দেখতে দেখতে আনমনে কপাল ঘসছে কবি ,
বৌদির ক্লিভেজে রাখা অক্ষর গুলো শুড়শুড়ি দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে ,
ভাঁড়ে তখন  এক আনা দু আনা করে রসিকতা জমছে ,  সাথে কপাল ঘষে যাচ্ছে কবি , 
আরে মশাই  কপাল কি আশ্চর্য প্রদীপ যে জিন এসে বলবে হুকুম আকা , 
কবি মশাই আপনাকে যা করার করে ফেলতে হবে ....যেমন বৌদির কোমরের চিকন ভাব , স্তনে হাতের আন্দাজে মাপকরণ , পারলে 
আর একটু ঘন ঘন স্নান ঘরে উকি দিয়ে মাসিকের দিনক্ষণ .....না মশাই একটুও বাড়াবাড়ি হবে না তাতে ,
বরং আপনার কবিতার প্লেটে ম্যাক্সিকান ডিশে এক অনন্য নেশা জাগানো স্বাদ বাড়বে ,  বাড়বে ....বাজারে আপনার টি আর পি ,

আরে আপনি তো জানেন শহরের ফ্ল্যাটবাড়ি গুলোর  এভাবে সাবান ঘষতে ঘষতে ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে ..ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে ঘরের ডাল ভাত মুরগির মাংসের স্বাদ ,
ওদিকে হোটেলের বাথরুমে ভার্জিন নতুন সাবানের ফ্যানা হয়ে উঠছে গর্ভবতী ।
এসব গল্প আপনার নখদর্পনে তাই না মশাই ?
এরপরেও  আপনি যমজ সমান্তরাল রাস্তায় হাঁটতে
ভালোবাসেন ।
শুনুন মশাই এসব সমান্তরাল রাস্তায় না হেঁটে আপনি বরং  দু চারটে পাশাপাশি স্নান ঘরে উকি মেরে কিছু আয় বাড়াবার উপায় খুঁজুন , তাতে রাধামাধবের কীর্তন স্বার্থক হবে ,
বাকিটা আপনি ভালোই বোঝেন ,।



____________________


সর্বনাশী

হৃৎপিণ্ডে কাঁচ ভেঙে ঢুকিয়ে দিলাম ,
.....................
তারপর তির্যক চাওনিতে আমি হেসে উঠলাম ,
.....................
রক্ত দেখে তুমি চুপ থাকলে অবিশ্বাস্য কিছু 
দৃশ্যে তুমি হাবুডুবু খাচ্ছ ,
........................
চুপ করে থাকা মাটি থেকে এত তীব্র অহংকার তুমি যে ভাবতেও পারোনি ,
......................
আসলে শেষমেশ  একরকম হত্যার পথটাই বেঁচে নিতে হল ।
.............................
গালা ঘর তৈরি করেছিল  একদিন আলোর সম্পাদন গোপন করে ।
..............................
আলোও যে পুড়িয়ে মারে সে কথা সবাই জানে না ।

আগুনের দেশ

বার বার আগুন ছুঁয়ে প্রমান দিতে হয় শুদ্ধতার ,
সাথে গিলে ফেলতে হয় বেশ খানিকটা জ্বলন্ত 
গনগনে কাঠ কয়লা , কারণ আমার এই পুড়তে থাকেন দেশ আমার ভারতবর্ষে কেবল সহিষ্ণু হতে শেখায় দিন প্রতিদিন ,।
শেখায় এক পা  এক পা করে সাথে থেকে পাশে থেকেও শেষমেষ চিতায় আগুন দিয়ে পেছনে ফিরে যাওয়া নিয়ম ,,
 আমার  পুড়তে থাকা দেশ আমাকে সহিষ্ণু হতে শিখিয়ে দেয়  দিন প্রতিদিন ,
নিয়ম করে বসন্ত আসে পলাশ আসে গনগনে কুমকুম রঙে .....বসতে দিই শীতল পাটি বিছিয়ে সাথে সহিষ্ণুতার জল বাতাসা দিয়ে বলি এসেছো যখন বেচাকেনা সেরে নাও  ,শুধু  প্রেম চেওনা হে বহুগামী বসন্ত , 
আসলে কি জানো বাতাসে উড়ানের রদবদল জানিয়ে দেয় আবহাওয়ার গতিবিধি , আমার পুড়তে থাকা দেশটা  আমার ভারতবর্ষ তাই প্রতিমুহূর্তে আমাকে সহিষ্ণু হতে শিখিয়েছে,,

আসলে নিয়মের চেয়ে বেশি পাওয়া হয়েগেলেই 
কেবল নুনের সরোবর এই পৃথিবীতে ,
তাই মাইলস্টোন গুলোও ইশারায় জানিয়ে দেয় করতে পথ পাশে থেকে সাথে হাঁটা উচিত ।
এভাবে আমার পুড়তে থাকা দেশর মাটি   আমায় এক নিদারুন সহ্য আর সহিষ্ণুতার ভারতবর্ষে হতে শিখিয়ে দেয় ।

আমি ও দেশ

সমস্ত অহংকারের মৃত্যু ঘটিয়ে আমার নিশ্চিন্ত ঘুমের জায়গা করে নেবো ।

একটা স্নিগ্ধ মসৃন ঘুম আমার দরকারি ,

মৃত্যুর আওয়াজে ভেঙে গেছে পথের ফলকনামা,।
তবু আমি একটা সামান্য জমি থেকে সম্পূর্ণ দেশ হয়ে উঠবো....
 ভাবি , বিশ্বাস , করি আমি যে দেশটা হয়ে উঠবো একদিন ...সে দেশে বৈষম্য , সংবিধান , ধর্ম , বলে শব্দ থাকবে না আকাশে কিংবা মাটিতে ,
সমস্ত অহংকারের মৃত্যু ঘটিয়ে আমি ঠিক জায়গা করে নেব একটা নিশ্চিন্তের ঘুমের আর সে ঘুমের মধ্যে আমি গড়ে ফেলবো একটা মস্তবড় দেশের মানচিত্র।

সুবর্ণা (১০৩)

একদিন তোমায় ভাগ করে দেব চার ভাগে ,
তারপর ভৌগোলিক অবস্থান বুঝে 
 একে একটা ভাগ বিলিয়ে  দেব ,
হাত বাঁধলে পা বাঁধলে .....মন বাঁধতে কতটা পারলে ?
 একদিন সকালে কমোডের মধ্যে বসে খোয়া গেছে খোয়াই নদী ,
আরো একদিন কমোডের মধ্যে বসে হারিয়ে গেছে গঙ্গার স্রোত..... সুবর্ণা  এবার আমারও একটা কমোড দরকার যেখানে বসে আমি একটা 
আবস্ট্রাক পৃথিবী আঁকতে পারবো নিশ্চিন্তে ,
উনপঞ্চাশে আমার  এই বিকৃতি   মানচিত্র আঁকতে পারবো  তারপর পৃথিবীর শ্রষ্ঠ বোকা..... পাগলের মত হাসতে থাকবো হাসতে হাসতে নিজের গালে সপাটে দেব চড় । 
শরীর থেকে ডানার পালক খসে খসে পড়ছে খেয়াল রাখতে চাইছি না  এখন আর,

সমস্ত বিষয়বস্তু একদিন অগোচরে ঘটে গেল ,
সমস্ত জমিজমা র ভাগ, নামকরণ , হাতবদল ।

আমি কেবল অপেক্ষায় .....একদিন তোমায় চার ভাগে ভাগ করে ভৌগোলিক অবস্থান বুঝে বিলিয়ে দেবার  সুবর্ণা ।

সুবর্ণা (প্রিয় ..... কিছুই বাকি নেই শব্দ ফুরোনো বয়াম)






____


মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ, ২০২১

জন্ম মৃত্যু

কথা ছিলো  স্বচ্ছ স্পর্শ আর সবুজ বেঁচে থাকবো একদিন ..
চুক্তি পত্র   বেওয়ারিশ বাতাস  নিয়ে গেছে অনেকদিন...।

 রোজ ভোরে আজানের  ইশ্বর খোঁজা এখন অনিয়ম ,
আমি দেখি  মনের সেদিনের সেই ইচ্ছেটা আমার মত নষ্ট কেউ খারাপ মেয়ের ভূমিকায় এখন।

সময় হলে  পথের সফর নামা   একদিন  কেউ না কেউ দেখতে আসবে ঠিকই। .
সেদিন না-হয় মিলিয়ে দেখবো কতটা অপচয় আর কতটা নষ্ট খেলা এ পৃথিবীর বুক পেতে নিতে পারে,

 ভাগ্যের দুয়ারের লক্ষ্মণ রেখা টেনে দিয়ে
প্রিয়  ঈশ্বর মূর্তির  ঠোঁটে কতোটা হাসি দিতে পারলাম  আজ উপহারের স্বরূপে জানি না ,
তবু মুক্তি খোঁজ পাখিটাকে খাঁচা খুলে দিতে পেরেছি .....আসলে পাখি টাকে ভালোবেসেছি
এক দিন তাই দম বন্ধ হতে দেখে দুয়ার আগল
খুলে ভালরাখার কথা রাখলাম।

অন্তর  সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে পারে যারা তারা চিরদিন হেরে যাওয়াকে ভয় পায়নি ....
.
তবু একদিন উত্তর চেয়ে চিঠি  পাঠাবে  ঈশ্বর এর দফতরে তারা ...!

যে প্রশ্ন অদৃশ্য থেকে গেল  সাদা পাতায়  নিঃশ্বাস সঞ্চয় করে রাখি রক্ত-মাংসের বোতলে নুনে জরিয়ে রোদ্দুর মাখিয়ে.!
বাতাসের সাথে আসা ঘাসফড়িং এর ঠিকানা হয় না , গোপন জন্মের উৎসব হয় না ,গোপন মৃত্যুর সৎকার হয় না  হয়না নিদেন পক্ষে তেরো দিনের শোক , তবু কিছু জন্ম শেষ হয় কিছু মৃত্যুর সাথে ।



শোনা যায়

ওদের মুখে শোনা যায় আমার চরিত্র নাকি রহস্যময়  ,
শুনেছি  আমার দরজায় দাঁড়ালেই প্যারিসের সেই কোলাহল ভরা নদীটা স্পষ্ট দেখা যায় ,
সেখানে আমার প্রেম কখনো ফ্রায়েড লাল মিট কখনো রেশনের চালের ভাত বেচে ।
এসব স্রেফ চক্রকরি কিছু লোকের বাজে কথা ,
এসব  গড়িয়া হাটের সস্তা বাজারে ঝাঁকমুঠে দের।বিক্রি না হওয়া মালের মত ।
সব কিছুই বয়স পেরোনো লোকটার বিশ্রী নজরের মতই নিতান্তই মিথ্যে ।
আসলে আগুন ফিলিপিন্সের জঙ্গলে দাবানলে পরিণত হয়েছে , সানফ্রান্সিকতে বাতাস বয়ে এনেছে  কোস্তারিকার সুবাস । তাই ধৈর্য্য দেওয়াল চুরচুর , ইনসিকিওর পাহারাদারী নজর ,
যারা এসব কথা বলে তাদের কারো বাবার নাম জানা নেই ....নেই ইষ্ঠর নামে লালনসাই ,
ওদের মুখে শোনা যায় আমার চরিত্র নাকি রহস্যময় , শোনা যায় আমার জানলার কাঁচে চোখ রাখলেই নাকি হাডসন নদীর ধার জুড়ে বসত দেখা যায় , আসলে এসব স্রেফ ডাহা মিথ্যে কথা ।

সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১

নটা পাঁচটা ফুলের গাছটা

শালিকের মত    দানা খুঁটে খেত  রোজ কিছু 
হলদেটে স্পর্শ, ,
মাঝে মধ্যে সবুজ হয়ে ওঠা  নটা পাঁচটা ফুল গাছটা শালিক গুলোর সাথে মিশতে চাইতো ...  আর তখনই উঠোন জুড়ে দেশ আর দাঙ্গা বেঁধে যেত ,  
 এখন গাছটার ভেতর যেটুকু প্রেমের যোতিচিহ্ন ছিল তাও সূর্যাস্তের দিকে হাঁটে গেছে  ,
 রেখে গেছে চৌকাঠের ওপর বহির্মুখী আলতা পায়ের চিহ্ন  আর  সন্ধ্যের উঠোনে শেষ মোমবাতি জ্বালা ।

সেলাম তিলোত্তমা

আজ পাতাঝরা তিলোত্তমা শহরটা যেন নীরব দর্শক , মঞ্চের পর্দা সরিয়ে সামনে আসছে শূন্যতা,
আসছে মুঠো  খুলে দেওয়া মুক্তি .....পাতা ঝরা এই তিলোত্তমা শহরটা আজ নীরব দর্শক ,
দিগন্তে উড়ে যাচ্ছে প্রিয় পুরুষের শব্দ মঞ্জরী 
হওয়ায় হু হু মাদলের সৎকার পরব,
এ তিলোত্তমা শহর আজ নির্বাক দর্শক আমার নামের ভিটে মাটির নিলাম দেখবে  বলে ,, দেখবে শূন্যতার অংকের দর কতটা বাড়ে ।
আজ এই তিলোত্তমা শহরের বুকে দুহাজার পাঁচশো পঞ্চানন দিনের হিসেব খাতার অন্তিম পাতায় যোগফল মিলিয়ে নেওয়ার দিন ।
এ শহর নীরব ,নির্বাক , চিরকাল সমস্ত জন্ম মৃত্যুর সাক্ষী  ছিল আছে থাকবে .....তোমাকে শেষ সেলাম তিলোত্তমা , ....কথা দিও শুধু আমার উপন্যাস  রাখবে গোপন করে আমার মৃত্যুর মতোই ।

অযোগ্যতা

মাটি বলে যে নরম হতে নেই তেমন টা ভাবা ভুল,
সমস্ত কোলাহল  চিহ্ন সেঁধিয়ে থাকে রন্ধে সেঁধিয়ে থাকে ছিঁড়ে যাওয়া  অস্তিত্বের না বলা অজস্র সংলাপ,
....যে চিহ্নে কলহ বা কোলাহল কিছুই নেই সেই চিহ্নে শান্তিও নেই এমন চিহ্ন মুছে ফেললে ক্ষতি বা লাভ কিছুই বোঝা যায় না ,
নিজের ওপর একটা অস্তিত্ব বেড়ে উঠতে উঠতে কখন যেন মাটির ভেতর শেকড়ে শেকড়ে বিছিয়ে গেছে  বিস্তীর্ন অবহেলা , তাচ্ছিল্য ,।
মাটির ওপর  একটা অভয়ারণ্য কিভাবে  বেড়ে উঠলো তার খবর কে রাখে ? 
পাতার মৃত্যু শোক ও কেউ পালন করে না ,
এসব অভ্যন্তরীণ গভীরতার কথা.... যেখানে আলো , অন্ধকার , বাতাস কোনো খবরা খবর  দেওয়া নেওয়া করে না ।
তখন একটা জানলা দরজা হীন ঘরে নিজের জমি 
খুঁজে মুক্তি খুঁজে নিতে হয়, 
যারা অন্ধকার হাতড়ে জোনাকি খুঁজে নরম মাটির বুকে আগুন গুঁজে দেয় তারাই আজ ঈশ্বরপুরুষ,
আর পুরুষের গভীরতা জীবন আর মাটির থেকে অনেক বেশি , শেষ পর্যন্ত ছুঁয়ে থাকা এত মামুলি নয় ।

গাছটার নীচে

গাছের ছায়ায় এসে দুহাত পেতে দাঁড়ায় এখানে 
এই ভালোবাসার জন্য যোগ্যতা লাগে না লাগে না প্রোটোকল , লাগে না জাত ,
দীর্ঘ বর্ষার শেষে মাটির কোলে শুয়ে মনে হয় মা এর ভালোবাসা , যেখানে শর্ত নেই নেই নিয়ম , 
আমার দুচোখ জুড়ে তখন সোনালী আলোর স্বপ্ন ।
রেকাবে  রাখা কাঁটাতারের সম্পর্ক যেন অতীতের অন্ধকার  কপালে লিখে দেওয়া সময়ের মেহেরবানী , 
আমার থেকে বড় গাছটার নীচে এসে দু হাত পেতে ছায়া নিই যেন বাবার স্নেহ , শর্ত হীন নিয়মহীন 
ভালোবাসা ,
দু চোখ জুড়ে তখন নিশ্চিন্তের ঘুম .......
রেকাবে রাখা  কাঁটাতারের সম্পর্ক গুলো যেন অন্ধকার অতীত , কপালে লিখে দেওয়া পাপের মেহেরবানী ,

গাছটার নীচে এসে দুহাত পেতে ছায়া নিই 
দীর্ঘ গুমোট পেরিয়ে আমি নিঃশ্বাস নিই হৃৎপিন্ড ভরে শর্তহীন ভালোবাসা অনিল আনন্দে আমার 
এলোমেলো ঘরে প্রেমের বন্দিস , রেকাবে রাখা সম্পর্ক যেন অতীত অন্ধকারের দুঃস্বপ্ন।

অপেক্ষার অবসান

আর কত ক্ষণ লাগবে হে বডি টা পুড়তে ,
পাশ থেকে আঁতকে উঠলো ছেলেটা , 
ঘোর কাটেনি গত রাতের বাকবিলাপীর
ফোনের ওপারে মেয়েটা প্রতিবার উৎকণ্ঠায় 
জিগ্যেস করে কি করলে রণদেব সারা দিন 
হাজারো কাজের ফিরিস্তি দেয় ফোনের এপার থেকে রণদেব , রাইনা বলে একবারও কি আমার কথা মনে পড়ে না তোমার ? রণ বলে যে মনে থাকে তাকে মনে করবো কি করে , 
মেয়েটা বলে সময় করে দেখা করো  একবার 
ছেলেটা বলে সময়ের জন্য একটা দীর্ঘ অপেক্ষার সেতু তারপর ইচ্ছার প্রান্তর তারপর বদলে যাওয়া মরশুমি হওয়ার জন্য দাঁড়াও , 
মেয়েটা দিন কাল মাস পর করে বিশ্বাস হয়ে বিশ্বাসী হয়ে ।
অস্থির বাতাসে এলোমেলো ঝড়ে মেয়েটা খড়কুটো আগলে বেঁচে থাকে ,
গত রাতে মেয়েটা ফোন করে ছেলেটিকে বলে সামান্য একবার কাছে আসবে তোমায় একটি বার ছুঁয়ে দেখবো কেন যেন আজকাল তোমায় ছুঁতে পারি না ,আমি কম পরে যাই তোমার জন্যে ,....
ছেলেটা অদ্ভুত চাপা রাগে সম্বিৎ অসম্বিতে হাজার কথা শুনিয়ে দেয় .....এপাশে মেয়েটি কিছু পরে চুপ করে যায় কথা ফুরিয়ে আসে মেয়েটার , ছেলেটি ফোন রেখে দেয় ।
......আরে বলবেন তো মশাই আর কতক্ষন লাগবে বডি তা পুড়ে ছাই হতে ....শালা মশার কামড়ে তো এবার আমরাই বডি হয়ে যাব , দূর শালা আমরা চললাম আপনি দাঁড়িয়ে থাকুন আপনার চেনা ছিল তো বডি টা , 
ছেলেটার কানের কাছে এসে কে যেন ফিসফিসিয়ে
বলে রণদেব এত দীর্ঘ অপেক্ষা আর কাউকে করিও না যেখানে জীবনটাই  দৈর্ঘ্যে প্রস্থে  ছোট হয়ে যায় ।


বেওয়ারিশ নাম্বার

ইচ্ছেপূরণ হলে, ভেঙে যাওয়া তারাটির খোঁজ রাখলে নতুন মাইল ফলক ছোঁয়া যায় না ।
কেউ ফিরে দেখে না ফেলে আসা সময়ের পথ ...
একলা হৃৎপিণ্ডে বিশ্বাস সাজিয়ে পার  করা সময়ের মূল্য দেয় কজন ?
 সমস্ত বিসর্জন এর কারণ জানা যায় না ...যেমন অনেক লাওয়ারিস মৃত্যু, 

কখনও কোনো নাম্বারে সামিল হতে পারে এমন সস্তা বেঁচে থাকায় কোনো তরঙ্গ আমাতে নেই ,,

আছি যদি সম্পূর্ণ ,নেই তো দেওয়ালে টাঙানো ছবিও নয় ,
অনেক নাটকের মুহুর্ত আসার অপেক্ষায় মুহূর্ত অপচয় হল , 
বাবুই এর বাসায় হাতড়ে  আলো খোঁজার  চেয়ে অন্ধকার ঢের ভালো ,
ঢের ভালো  সময়ের উচ্ছিষ্ট খেয়ে ঋণ বাড়ানোর থেকে খালি পেটে থাকা , 
 বারংবার নিজেই কাছে নিজে ঠকে গিয়ে মাথা নিচু করে নাই বা বাঁচা হল ,
এই মুখোশের শহরে এমন অনেক মানুষ দেখা যায় যাদের গায়ে জামা নেই আবার এতো পোশাক হেঁটে চলে বেড়াতে দেখা যায় যার ভেতর মান-হুশ  নেই।

রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

অপচয়ের শেষে

 অপচয়ে সাজিয়ে রাখা মানুষ গুলোর 
মত আমিও দিন দিন নিজেকে পুতুল খেলায় সামিল করছি ,
এবার  দূরে যেতে চাই,
জানি আমার শব্দের মৃত দেহ মর্গে যায় কিংবা 
বেজন্মার  দেহের মতোই চিল শকুনের মহাভোজে,  ,,
তবু .... তবুও  কবিতা নয় কাব্য নয় সাজানো মানিপ্লান্টে ডিম লাইটের ড্রইং রুম  কিচ্ছু চাই না ,

সমস্ত অপচয় থেকে নিজেকে সন্তুলিত করে রাখছে চাই গুমোটের আড়ালে ,

 চাই আমার বুকের গভীরে ভীষন নিশ্চিন্তে লালল কাঁদুক লুকোনো স্রোতের মত ।

আমি জীবন জুড়ে একবার অন্ততঃ তার কাছে অবাক হতে চেয়েছিলাম , 
 অথচ অপচয়ে সাজিয়ে রাখা মানুষ গুলো  আমায় অবাক হতে শিখিয়েছে  বারংবার একই রকম  ক্ষত  দিয়ে .....শুধু সস্ত্রগুলো আলাদা আলাদা ছিল প্রতিবার ।

রাই সংবাদ(১২)

আমরা আজকাল চলে যাওয়া টুকুই দেখি... দেখি 
বিচ্ছেদ  ঝরে যাওয়া টুকরো টুকরো ছায়াগুলো ,,,

আমার থেকে পলাশ কিংশুক কুমকুম রং ঝরে যায় ......তোমার চোখ থেকে বসন্তের পাতা ঝরে যায় , 
আমাদের একলা রংগুলো  শুধু শূন্যতায় ভরা ,
,
দুজনেই তাই আগুনে জ্বলছি ....অথচ পুড়ছি না ,
প্রতিটা নিভে আসা উদযাপন এর সামনে মাথা নিঁচু করে বসে আছি  দুজনে ,
সোনাঝুড়ি গাছ গুলোর মাঝে পলাশ  ,
মন দখিনা বাতাস আর মাদলের  ধুনে নেচে উঠতে চায়  ,
কারা যেন আমাদের পিছুটান শক্ত দড়িতে বজ্র আঁটুনিতে বেঁধেছে , 
দেখ গোঁসাই রঙ সব ঝরে ঝরে পড়ছে ,মনে দোল লাগতে দিচ্ছে কই এমন বিরূপ সময় ... ,
আমাদের চোখে কেবলমাত্র  বিচ্ছেদ ঝরা টুকরো টুকরো ছায়া প্রকান্ড হচ্ছে , 
শুধু আমাদের আশৈশব না পাওয়া  আর চলে যাওয়া টুকু বিছিয়ে রেখেছি দিগন্তের শেষ পর্যন্ত ।

..........আচ্ছা বলতো গোঁসাই কিছুই কি আমাদের পাওয়া হয়নি এই অসম্পৃক্ত জীবনের কাছে , সত্যিই কি ইজেলদানী একেবারেই রঙশূন্য ?

শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

দ্রুত প্রস্থান

আজকাল আমি একটা উন্মাদ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার করি , 
খসে পড়া বাতাস ইঙ্গিতবহ স্বপ্ন ,সর্বনাশ , সব পেরিয়ে যাই দ্রুত গতিতে ,
একটা খাঁ খাঁ প্রান্তরে সংজ্ঞা হীন দরজা দেখি দূর থেকে , 
নিমেষেই ঢুকে পড়ে আমার উন্মাদ সওয়ার 
চোখের সামনে জলহীন গোলকে  সোনালী মাছটা ভাসতে চেয়ে ছটপট করে ,অনর্গল জল ছুঁতে চায় ,

আমি মায়ার ঘর থেকে দ্রুত সরে যাই  ......
চুরি হয়ে যাওয়া বাতাস ,জল, আকাশ ,এসবের পূর্বাভাস আমি লিখে ছিলাম একজন্ম ,
 তারপর প্রতি জন্ম আমার ঘুমের মধ্যে স্বপ্নর জমিনে বস্তু সাপ রেখেছি , তারপর থেকে আজন্মকাল আমার  উন্মাদ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার যাত্রা থামেনি কখনও আমি মায়ার ঘর নগর প্রান্তর থেকে দূরে বহু দূরে সরে যাচ্ছি ।

সেরে ওঠার সময়

ক্ষত সেরে উঠতে যতটা রাত বাকি তুমি 
পাশে থেকে যেও , 
খালি ঘরে ভয় পাই, 
দেহে খিঁচ লাগা অসুখ এসে চেপে ধরে ,
ভেসে যেতে যেতে যেকটা টিলা ছিল তাদের মধ্যে তোমার উচ্চতায় ভরসা পেয়েছি ....তাই এখন যখন চতুর্দিকে প্লাবনজনিত রাগ  .....তুমি কঠিন শিলা খণ্ডের ন্যায় স্থাণু থেকো ,
তারপর কিছুদিন সমস্ত প্রলয় থেমে যাবে ,
 ক্ষতরা
ভুলে যাবে রক্তপাতের সমস্ত কারণ ,  জোয়ার ভাটার কাহিনীও একদিন ফুরিয়ে যাবে , 
আমাদের ঘরের দেওয়ালে টাঙানো ভয় গুলো ভোরের আলোয় ঝুরঝুরে হয়ে দেহ বিলীন হবে ,
ততক্ষণ বিশ্বাস হয়ে সাথে থেকো ,
ক্ষতরা সেরে উঠতে যতটা রাত বাকি তুমি আঙুলে আঙুল বেঁধে নিও ।

রাই সংবাদ (১১)



যখন তোমার বন্দিস   শহরের  আসর ভরে ওঠে 
আমার কথা  কখনও ভেবে দেখেছ  গোঁসাই?

আমার ফাটা জমি  থেকে  অনুচ্চারণ  শব্দ থেকে সময়ের চরিত্র রা বার বার  কেমন ছিনিয়ে নিচ্ছে তোমায়,
কিভাবে ফালিফালি করে নিচ্ছে  আমার নিজস্ব  জমিন …
ক্রমশ শূন্যতার মেঘের কাছে আমি একষট্টি হাজার তিনশো কুড়ি ঘন্টা   নত হয়ে বসে আছি… সাধন সঙ্গিনী হয়ে তোমার ছায়ায় ,,

যে অন্ধকারের কথা আমি কাউকে বলিনি সে কথা তোমায় বলেছি
যে একলাঘর একদিন শহরের অক্ষরেখায় তোমার সামনে  দাঁড় করিয়ে দেয় আমাকে,
সেই সমস্ত অন্ধকার আমি লিখতে পারি না তোমার মতো… তোমার মত  অনায়াসে শব্দ বৃষ্টি আমার আকাশে নেই গোঁসাই।

তুমি পারো ক্রমশ নদী, নুড়ি আর ঝুরো বেদনায়
নিজের বান্ধকীতেই নিজেকে   আড়াল করছো…,

স্পর্শের তবু  একটা নাম দেওয়া যায়, এই বেদনার আমি কি নাম রাখি যদি পারো বলে দাও গোঁসাই।
 দমকা হাওয়ারা কেন বারংবার আমার  স্রোতে মেশে ?
যে হাওয়া এসে থামে দক্ষিণে, উত্তরে তারও একলা শীতকাল… আছে ....আছে সময়ের উষ্ণতায় জড়িয়ে থাকা ...গোঁসাই আমি কবে যোগ্য হব , একান্ত আমার শব্দের।
হাতের আঙুলে নেমে আসে অজস্র চেনা অচেনা মেঘেদের  সন্তাপ;
এই  ঘরভাঙা  যেন কাফের, আমি কেন পারিনা ছিনিয়ে নিতে অন্য জমিন ঘর ,
 শুধু তোমার শব্দে  জেগে উঠি আমি আর ভোরের সোহাগ থেকে খুলে রাখি সমস্ত সন্ন্যাস যাপন ,
; এখন রাই কেবল দহনকাল  জ্বালিয়ে রাখে অন্দরে ,

এই সব মোহআতরের গন্ধ তোমায় আর কত দূর নিয়ে যাবে গোঁসাই আমার থেকে ,
 কোমলরাগের কাছে গুমরে কেঁদে উঠি তুমি আগের মত কেঁপে ওঠ কই?
তোমার কোন কবিতার ক্ষতর পাশে  নগ্ন হয়ে দাঁড়াই এ আমার আজও  চির অভ্যাসের মতোই ,
নিজেকে  সমর্পণ এর কাছে  স্থিরায়ু করে রাখি,
কিছুই তো দেখানো হল না তোমাকে 
পোড়াকাজলের দাগ... দেহের গোপন পুঁজ ঘা 
সম্পর্কের কর্কট রোগ  এসব কিছুই দেখলে না কখনো।

তীব্র  আঘাতের কাছেও  মাথা উঁচু করে থাকতে তুমি অথচ  শেষে কিনা মাটির স্তনে হাত রাখতে হল .......তুমি না  সিদ্ধপুরুষ…
তোমার দু হাতের মাঝে এ কোন নির্মল পাপ
আঁকতে  ব্যস্ত ?
এ কোন সর্বনাশের পথে চোখ বেঁধে  রেখেই শিশুর 
মত হেঁটে চলেছো , ওই যে ভাঙা ভাঙা  বিষ মাখানো কাচের  গুঁড়ো 
সে  কাচ বুকে বেঁধে, কানে ভেসে আসে বিদায় বেলার রক্ত করবী র সুর …।
গোঁসাই  দূরে গেলেও রাস্তা রেখো ফেরার 
তুমুল ভাবে ঝড় বৃষ্টি আসার সময় এবার ।

বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১

জীবনের কিস্তি

আমার আসল জানে 
তার নকল সে হীরকচূর্ণর   সাত সতেরো

কুমিরে জল খেলা   তবু নিজেকে সমুদ্র সফেনে
ভাসতে দেখা 
জীবন জুড়ে শুধুই উপহাস  পদ্ম পুকুরের পাকে  মুখ ঢাকা শব্দের  ভিড়ে
 ডুবো পাখি  হয়ে বেঁচে থাকা  কতটা প্রয়োজন ,

জলে রঙ মেশে, রঙে অজুহাত 
কোথাকার কথা  কোথায় গড়ায় ,..." না ...তুম জানো  না ম্যায় জানু ,"

এই যে  চিড়িয়াখানার শহর 
 লুটিয়ে হাসে    মানুষের আদলে  দেখতে আজব প্রাণী .................দো পল হি তো জিনা হ্যায় ফিরভি সিকায়ত ভরিব আজব জিন্দেগী , জো মিল গ্যায়া
উসকি কদর করনা শিখা নেহি ...,জো বে- মতলব
উসিকি খোয়াইস ম্যায় নাশামন্দ জিন্দেগী ।

ত্রিকোণ  যুদ্ধ  চলে ; পেটে ভিজে কাপড় জড়িয়ে 
ভালো আছি বলতে বলতে হাঁপিয়ে ওঠা দেহ মন  ঘুমিয়ে পড়া ভালো জেনেও রাত জাগা পাখির মত জানলা খুঁজে বেড়ানো অভ্যেস যেন মুক্তি খোঁজে ,

গৃহযুদ্ধের আগেই দৌড়ে পালিয়ে যায় প্রতিবার 
এমন এড়িয়ে যাওয়া স্বভাবি মন ....নাকি মন কেবলই দু অক্ষরের শব্দ মহল

 দ্বন্ধের  মাঝে পড়ে  লোপাট তার সমস্ত উত্তর ।
আস্তাবলে, লুকিয়ে ইশারাময় নাটকে
উড়ে আসে  সাদা কবুতর। ছড়ানো গম খায়। 

দিনের শেষে সকলেই ঈশ্বর হতে চায়।
বিশেষ বিশেষ খবর  শেষে তবু তো হাত পাতে ভাঙা কুলোর কাছেই। 

সাদা কাগজে কাদা রাখা
তবু  সাঁতরে করেছি পার তার  দেহ সে সর্বস্ব মাতাল।  নেশার অঙ্গে চোখ, তার কুমকুম রাঙা ,
পাহাড় জঙ্গল যেন জলাধার সব হারাভারা ,

যে প্রবাহে আমি শুনতে পাই তার সবটাই  কেবল  ভ্রম আর ভ্রম ,
ভ্রমরের বিষ যেন  হুকুমের তাস। এক্কা কার?
তোমার না আমার ,....
কার গোপন দেরাজে লুকিয়ে আছে 
জিত কেউ জানি না । 
ফুলের বদলে  তবু অ্যাসিড  ভালো, 
কবিরা  তো খুনের আগে  হাসে সর্বনাশের হাসি ।


বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১

আয়োজন

সময় মেপে মৃত্যুর আয়োজন করেছ 
নাপতাল তালা ঝুলছে বান্ধকী সম্পর্কের দরজায় ,

উঠোন জুড়ে চৈত্রের মরা ঘাস , দাঁড়াবার বৃত্ত থেকে পদস্খলন হতে থাকে  ,

শব্দরা ঝরে পরে আস্থাহীন হয়ে , ঋণ ফুরিয়ে যায় ।। 
ভঙ্গুর সেতুর ভার বহন করতে করতে আমার কাঁধ বেঁকে আসে ......বিষাদ ফুরিয়ে যায় ,

লাশ ঘরের ঘ্রাণ তার চতুর্দিকে  ,

সময় মেপে মৃত্যুর আয়োজন করছে ।





..

দহন সংলাপ

আজকাল আর সেতু তা খুঁজে পাই না ওই চোখে ।

....কেবল না বলতে পারা  বিচ্ছেদের সুর একটানা সারেঙ্গীতে .....পালিয়ে যেতে যেতে সমস্ত গ্রহগুলো ওই হাতের অসিতে খান খান করে মধ্যস্ত পথ কাটা শুরু হয়েছে , 
কাঁচের নিচে কালো কালো গোপন পাপ একে একে ঝুলে পড়ছে ....ঘুম আসছে না রাতগুলোয় চোখের  সামনে বিস্ময়ে  গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরের ওপর রাখা বিশ্বাস কি ভুল , 
আসলে ঈশ্বর বলেনি আমার ওপর বিশ্বাস রাখো ,
বিনা ব্যয়ে ঈশ্বর তাই সমর্পণ এই মূল্যে দেয় দহন ,

তলিয়ে যাচ্ছি....  তলিয়ে যাচ্ছি ঘাতকীয় সমুদ্রের চোরা বলিতে ...
ও চোখের সেতু আর দেখতে পাই না...সারেঙ্গীতে কেবল অদৃশ্য বিচ্ছেদের সুর হৃদয়টাকে ভাটি বানিয়ে ছাড়লো ,,,
 এ কবিতা শুধুই ব্যথার বাহারে সিনেমাটিক রিল লাইফ নয়,
এ কবিতা কোনো দুঃখ বিলাসী কবির বকুল সংলাপ নয়,
এ কলমের নিবে শুধু দহন   শুধুই প্রাপ্তির থালায় ছাই আর ছাই ।



মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১

প্রলয় বিহীন ঝড়

এমন অনেক বিচ্ছেদের  সে নতুন করে পাহাড় কিংবা নদী খুঁজে নিতে পারে ,
এমন অনেক দুর্ঘটনা কে অনায়াসে আস্কারা দিতে
পারে সহজেই, প্রলয় বিহীন চলতে শেখেনি  সে আজীবন,
আমি তার কাছে এক ধরণের আত্মহত্যা বেঁচে নিলাম...... রাখলাম না শব্দের নিজস্ব কোনোই দাবীদাবা ,
তার বেঁচে থাকার জন্য বারংবার হওয়ার রুট বদল দরকারি .....এভাবে মনের হত্যা আর  হত্যা তারপর   আর কোনো করুণা রাখি না জমিন জুড়ে।
আমি গত সাত বছরে তার অজস্র দুঃখের পাহাড়ী বাঁকে বাঁকে ঘুরেছি ... তার পুঁতে রাখা শোকের হাড়
অস্থি আলাদা করার চেষ্ঠা করেও তাকে কেবল নিখোঁজ পেয়েছি বারে বারে।
সেসব দুঃখের পাহাড়ের কাছে এলে বিগত প্রেম 
আমায় নিখোঁজ স্মৃতি সামনে দাঁড় করায় ,,
তার প্রবাহ জুড়ে আমি কম পরে গেছি আশ্রয় প্রপাতে ,
 নতুন বাতাস লেগে তার সিফনে প্রেম আসে যায় ,
স্বচ্ছ কাঁচ টা  বায়ুভার আর কথাভাঙ্গা চোখের মলাটে ঘষে গেছে ,
এরপর হয়তো দেহ চাপা মাটির ওপর নেশা কাটা লাশ তার সামনে প্রসাদি থালায় সাজবে,.......জানি তবু ভ্রমে মিশে যাবে সমস্ত শূন্যতার কোলাহল ,
আসলে মৃত্যুর আগে গাছের পাতাও রুক্ষ হয় ,
ব্যাথায় জ্বলে ওঠে ,
কিন্তু হৃদয় তো কোনো আগুনআধার  নয়  .......উপেক্ষায় ছাই হয়ে যায় ,
নদী  ঘেঁষা জমিতে যে গাছটা শাখা প্রশাখা মেলে হাসে সেই গাছের কাঠের আবার চিতায় জ্বলে ওঠে। ,।






সমুদ্র ঝড়

অলঙ্করণ গুলো সরিয়ে রাখো , 
কথার আড়াল  করছো বলেই কেন্দ্রবিন্দু তে এত ঢেউ ,
সমস্ত সম্পর্কএ শেকড় থেকে মাটি ঝুরঝুরে হয়ে পড়ছে , 
খেলতে খেলতে ভাঙছে খেলা ....ভাঙতে ভাঙতে আবার খেলা,,
 এখন আয়নার সামনে দাঁড়ালে গলায় স্পষ্ট মৃত্যু দেখা দেখা যায় ,
 জ্বরের প্রলাপে তাবিজের ফুঁ , ,,
সারারাত শহরের আকাশে অবিশ্বাসী মেঘ হানা দেয় ..... যান্ত্রিক অক্ষরে ধরে রাখা আদর  নিজের লেখা ভাগ্য রেখায় উপশম খুঁজে যায় ,,

দেখছি যাকে পড়ছি যাকে  সে আসল মানুষ নয়।

সবটাই  আসলে   আসল  বলে কিচ্ছু হয় না  বিশ্বাসের চাদরে লুকোনো গুটুরগু  আদুরী সোহাগ ......হা হা হা হা 
আসলে এর থেকে নকলের দর বেশি ,
চিড় ধরা গলায় মৃত চেতনার কাছে বিচার চেয়ে লাভ কি বল?

তেরো দিন

সম্পর্ক ভুলতে তেরো দিন লাগে ,

অথচ অসুখ ভুলতে একটা গোটা জীবন লাগে ,

পায়ের নিচে চাপা পড়া বিশ্বাস তলিয়ে যাচ্ছে
পলিমাটির মত , 
খোয়াই রোজ কিছু অভিমানে দূরে চলে যাচ্ছে তৃষ্ণা থেকে , 

মাঝে মাঝে এক এক করে খুলছে বাঘবন্দী খেলার নকশা রহস্য , 
মনের স্বজন হঠাৎই ভেক চরিত্রে ধরা পড়ে যায় ... মুখোশ খুলতে  মুহূর্ত লাগে না ,লাগে না 
কোন উপসংহার ,

 খিদে ফুরিয়ে যায়  সে হাত টুকু হাতে আর সাথে থাকার .....উচ্ছিষ্ট তে কখনো ভালোবাসা থাকে না 
সেখানে একটা অপমৃত্যু হবেই ...তারপর 
সম্পর্ক ভুলতে শুধুমাত্র তেরো দিন যথেষ্ট ....।

.




মধ্যবর্তী পথ

বাক্যের মিছিল কেটে  আজকাল একটা মধ্যবর্তী রাস্তা চলে যায়, 
নাভির দাগের ওপর তোমার লুকোনো সংবাদ গুলো নগ্ন হতে থাকে একে একে ,

তাই তোমার সমস্ত যন্ত্রনা পৃথিবীর কাছে আক্ষেপহীন  হাহাকারহীন ,

অসংখ্য যোনিতে তোমার নির্বেদ আঙ্গুল গল্প
লেখে , 
তোমার গায়ে লেগে থাকা মাংসে আজকাল পচনের গন্ধ ........ ক্ষতরা  তীব্রতা বাঁক নিচ্ছে তোমারই রেখে যাওয়া পায়ের ছাপ অনুসরণ করে ,

কিছুদূর পর পর মাইল ফলক পাপ লেখা  তার কিছু পরে সমস্ত জমি জুড়ে  বস্ত্র হীন নির্বাক লিপ্ত হীন  শব্ সাজানো,,  .......বাক্যের মিছিল কেটে  আজকাল একটা মধ্যবর্তী রাস্তা চলে যায়  আগুনের উদ্দেশ্যে।





সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

আলোর অপেক্ষা

কখন যে কান্নার রং তামাটে ,

কখন যে বাতাসে বাতাসে অসুখ অসুখ আঘ্রান , 

কখন যে খোয়াইয়ের বলিতে অতল অন্ধকার 
জমে ,

 , কখন যে সাদা কাফেনে বিরহ ফরিয়াদ লিখে হওয়ার গতিতে উড়িয়ে দেওয়া , 

চোখ বুঝি এবার অন্ধত্ব চায় , 

অসুখ চায় চিতা ,

ফরিয়াদ চায় আমিন ,

খিদের অন্ধকারে শুধুই অপেক্ষা ,

ছায়া পরে ছায়ানট  ঈশ্বরের সংসারে আলোর অপেক্ষা ।

আত্মকথা

একটা দীর্ঘতম রাত নিয়ে বসে আছি ....
একই ব্যথার পুনরাবৃত্তি বুনতে বুনতে রাত দিন সন্ধ্যে পেরিয়ে যাচ্ছি তবু বুনন ফুরোচ্ছে কই ,

পুরোনো স্মৃতি থেকে ডানদিক বাঁদিক  যেভাবেই পথ কেটে যাই সেই বন্ধ দরজার কাছে এসে 
দাঁড়াই ,,,
 মাঝে মাঝে মনে হয় এ দেহ যদি কাঠের হত ভাসিয়ে দিতাম অজয়ের  দীর্ঘ স্রোতে , 
এমন অকথ্য জীবন রেশমের গুটি হয়ে পচতে পচতে  গুমোট ধরে যায় নিস্তার খুঁজি আঙুলের ফাঁকে ।
 আর তখনই মনে হয় এ দেহ যদি কাঠের হত আগুনে গিয়ে দাঁড়াতাম ,  কেন যে নিজের ভেতর খুঁড়ছি!  কেন যে দীর্ঘতম রাত গুলো আমার উত্তরের বারান্দায় এসে চরকায় ব্যথার সুতো কাটে !

ঘুন পোকার সঙ্গম

এ ঠিকানায় রেখো না আর আসবাব কিংবা পুরোনো সিন্ধুক , 

কিছু কাল হল আমি ঘুন পোকার সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছি ,
 খসখসে দেহে ধস নেমেছে ভেতরে ভেতরে ।
 হাতের তালুতে কুঁচিয়ে রাখা যাবতীয় ভালোবাসা ,
ফুটন্ত জলের হাড়িতে শব্দ করে খিদে ফুটছে  দু মুঠো হা পিত্তেস শুধু থালায় রাখতে পারিনি বিশেষ কিছু , , 
যা কিছু ছিল অহংকারের অলংকার  ঘুন পোকার রতি সঙ্গমে গুঁড়ো গুঁড়ো  ছাই জমিন এখন.. , ,  

এ ঠিকানায়  রেখো না জরুরি কোনো তাগিদ ...
কিছু কাল হল ঘুন পোকার সঙ্গমে ধস নেমেছে অন্দরে ।

জীবন

রেল গাড়ি চলে যায় ভাঙা চোরা জীবনটাকে 
ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ,
 ধোঁয়ার সাথে বেলা অবেলা  আলো নিভতে থাকে একটু একটু করে ,, 
মন খারাপের কোনো নিজস্ব ষ্টেশন  থাকে না তাই যখন তখন চা বিক্রেতা  অথবা ঝালমুড়ির মত কামরায় উঠে পড়ে ,,
যন্ত্রনা নিয়েও কেমন ভিড়ে মিশে থাকি শান্ত স্মিত মুখের বয়ান , 
অনন্ত কাল এভাবেই ঝুঁকে আছি এই মানুষ  জীবন টার পটরিতে ,,
আবার একটা রেল গাড়ি আবার একটা ষ্টেশন , আবার কিছুটা ভাঙাচোরা  অযৌক্তিক পাঁচমিশেলী সংলাপ ,
আবার তুমি আমি আলাদা আলাদা ষ্টেশন খুঁজে নেওয়া ক্ষনিকের পরিচিত।

হারিয়ে যাবার বন্দিস



বাঁধন ছিঁড়তে পারলে ? কতটা আঁকলে দূরত্বের
পথ !

 দ্বিধা ও সঙ্কোচে কে মাটি চাপা দিতে পেরেছো !

 এখন  শুধুমাত্র ম্লান একটি নদীর নাম খোয়াই , কতদূর থেকে এসেছে  শুধু তোমার জন্য অন্ধনগর পার করবে বলে ।
তোমার  -যন্ত্রণায় মেঘবতি প্রলেপ রাখে কুমকুম রঙের গোধূলি,
ডানায়  পুরোনো ভূমি  লুকিয়ে রাখো ....লুকিয়ে রাখা অচুক্তিক পত্র ,,
চোখের সাদায় লুকিয়ে রাখো ধুসর কাচরঙ
পালিয়ে যাবে বলে .... ধুয়ে ফেলতে পারো সেদিনের গন্ধর্ব সম্পর্ক, , 
 চলো... তোমাকে ওই গোধূলি আলোয় চির সমর্পণ করি 

আমার  জন্য কেন নিজেকে এভাবে পোড়াও?
                               উড়ে যাও...  উড়ে যাও 
তোমার আগামী  ভোরের আস্তিনে,
বিষণ্ণ দক্ষিণ দুয়ার থাক আমার জন্য যেখানে যম
দুয়ার মিশে হয়েছে একাকার ।

অসময়ের বৃষ্টি



আমার একটাও নদী ছিল না , অসময়ের বৃষ্টি রাখার , 
ছিল না কোনো চিতা যেখানে অসময়ের বৃষ্টি সেঁধিয়ে যাবে ,

সন্ধ্যে বেলায় ঝড় নামে রোজ সাথে আসে ভীষন অসুখ  ভিড় থেকে আলাদা করে দেয় আমাকে ,

অসময়ের বৃষ্টি পাপ ধোয় না কলঙ্ক মুছে না ,
অথচ ভেতরটা শুকিয়ে মরে ...

কেন যে এমন যখন তখন আকাশ পোয়াতি হয় 
গোপন সঙ্গমে , 
কেন যে এমন শরীর শরীর খেলায় মেতে অসুখের মন , উত্তর খুঁজতে রাস্তা হেঁটে মরি পথের পর পথ .....শুখা ঠোঁটে রক্ত ওঠে , তবু অসময়ের বৃষ্টি কোনো কামে লাগে না ,
কারণ  না আছে আমার নিজস্ব নদী না আছে জ্বলন্ত চিতা ।


)

লোকটা

চির সবুজ ঘর এই সোনাঝুড়ি তবু সেই দাড়ি ওয়ালা লোকটার ভেতর শূন্যতা হাসে ,

এক একটা একতারার ছিলায় লোকটা গোপন আঁতাত খুঁজে গেল সারাটা জীবন ,

সন্ধি, চুক্তি,বান্ধব রং সবই  কুমীরের চরিত্রের মত 
ঈর্ষার জাগে সূচ ফুটিয়ে নকশা তোলা এই সোনাঝুড়ির হাঁট ,,

হাসির শেকড়ে যন্ত্রণার মাদুলি নজর কেড়ে নেয় ,

লোকটা ঘর ভাঙা লালনের মত নাগরিক যাপন 
থেকে  খোয়াইয়ের পারে রূপশালীর অঘ্রানে মজতে চায় .......সাদা পাতায় তীর্থের কাকের উন্মাদ ভেসে ওঠে  খানিক টা মৃত্যু কাফেনে ঢাকা জীবন জিইয়ে নেয় জিয়ল মাছের মত, ,

মায়া জড়ানো কণ্ঠে লোকটা সুর মেলায় তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো যেতে দেব না " 

তার মোহের পিছু ফিরে চলে যাওয়ায় আলো গুলো ফুরিয়ে যায় ,  বারংবার নতুন ভোর আসে 
লোকটা থিতু হতে পারে না  
শেষ দুদিনের ফুলে বন্য গন্ধ মাতাল করে লোকটার সমস্ত খাম্বাজ রাত কে ....আবার দেখা হবে অন্য কোনো ছই এর নিচে , 
মন খারাপ নিয়ে অস্তিনে ফেরা দাড়ি ওয়ালা লোকটার চির সবুজ ঘর তবুও সোনাঝুড়ি ঘরে শূন্যতা হাসে ...উপহাস হয়ে ।





শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১

বৃষ্টি

অবিরাম শব্দ বৃষ্টিতে টিলার ওপর দাঁড়িয়ে ভিজেছি , 

ভিজে যাওয়া চোখের ইশারায় শব্দরা কত অচেনা রং মাখে রং ধুয়ে ফেলে ,

আমার শরীরের স্রোতে নতুন নতুন শব্দ জব্দ 
সিঁড়ি ভাঙা অংকে মাতোয়ারা ,

বহু বার ভেবে দেখেছি...........
 এই স্নান ঘরে  অনেক বার  একলা আমি নিজস্ব ন্যাপকিনে লুকিয়ে রেখেছি  গোপন রক্তপাত ।

গোপন প্রণয়

উপবাসের দিন গুলো রেখে গেলাম সোনাঝুড়ির সন্ধ্যেতে ,,,
 খোয়াইয়ের চরাচর জুড়ে নুড়ি পাথর আর জলের ছলাৎছল গন্ধর্ব ধ্বনি তোলে  অদ্ভুত ছন্দে , 
তিনমাত্রার ছন্দ ভুলে আজ তুমি আমি রবিঠাকুরের এই  বাউলের দেশে কিছুটা সন্ধিক্ষণ রেখে গেলাম ,
 " কেহ জানিবে না মোর গভীরও প্রণয়  কেহ দেখিবে অশ্রুবারিচয়"
যে জ্বরের দেহে গভীর ক্ষত  যে একতারার ছিলা তোমার ঝংকারের অপেক্ষায়.... সে সমস্ত উপবাস
রেখে ফিরে গেলাম সোনাঝুড়ি আর খোয়াই এর 
বুকে কুড়িয়ে রাখা নক্ষত্র আলোয় ।

ঈগলের ঠোঁট

ঈগলের ঠোঁটের ভেতর টুকরো টুকরো নির্জন সম্পর্ক ,
 খেলার বৈদুর্যে রাখা এক একটি গোপন হত্যা  পৌরাণিক ব্যাখ্যার প্রাচীরে আড়াল যাবতীয় 
সুতোর ফাঁস গুলো , 

যারা দেখতে চাই না তাদের চৈত্রের ধুলো ঝড় অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে এক দিন ফিরিয়ে দেয় সেই সর্বনাশী দৃষ্টি দিকে ,
 ছদ্মবেশী যন্ত্রনা বীজ পুঁতে ছিল একদিন বাঁচার লোভ দেখিয়ে পাঁজরে পাঁজরে ,,
  আজ গোপন সংকেত আমিও পড়ে ফেলতে শিখেছি 
তার  সমস্ত টুকু অস্তিত্বে খুবলে খাওয়া রক্তাক্ত নখ গুলো ছাড়া আর যে তেমন কিছুই মনে পড়ে না ,

আমার কাছে সবই এখন প্রত্যয় হীন ঝাঁপ তাল ।
গুঁড়িয়ে দেওয়া কাঁচের দেওয়ালটা থেকে ঝরে পড়া আবদার গুলো এখন মৃত  বর্নবিপরজিত।

শেষ বার এ শহরে

এ শহরের খুব সহজে মাথাটাকে বিক্রি করে ফেলা যায়,  সাথে বাড়তি পাওনা খোকলা হৃদয় ,,

খুব সহজে বুক পকেটে কুড়িয়ে রাখা যায় ঘৃণা,

এ শহর দু চোখে স্বার্থের ঠুলি পরে আনন্দে আত্মহারা হয় খুব সহজেই,

কামড়ে খাওয়া ঠোঁটের রক্ত চেটে এ শহরে খিদে মেটাই তুমি আমি  মত জন্তু গুলো,
এ শহর পোশাকের আড়ালে হাত বুলিয়ে কাম উল্লাসে মেতে ওঠে ,
এ শহরের রাস্তায় একবারই  আমি নগ্ন হয়ে হেঁটে যেতে চাই তোমার উদ্দেশ্যে....  দেখতে চাই কতটা জ্বলন্ত মোম তোমাকে গড়িয়ে নেমে আসে ।




কামুক সময়

ক্ষনচারী হয়ে ছুঁয়ে যায় এ শহরের বাতাস,
কেউ কিছু নিয়ে জন্মায় না তবুও মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছতে  শরীর থেকে মনে অপেক্ষা থাকে অজস্র,

বাতাসের চরিত্র এখন আর কোনো ভ্রূক্ষেপ স্পর্শ করে না , আগামীর ইতিহাসের পাতায় তাই কালের
দাম ভাঙা অদুলি ,

খোয়াই এর চর কখনো বাণিজ্যিক  হৃদয় উপহার নিতে জানে নি , অহেতুক অপচয় এক প্রচেষ্টা হয়েই থেকে যাবে এ বসন্ত ...কখনও ইতিহাস হবে না জেনেও দাঁড়িপাল্লায় স্বার্থ মেপে দেখে কামুক বাতাস ,

কতটা অভাগা সেই অতৃপ্ত রসনা ঈশ্বর হারিয়ে ফেলে সহজে ক্ষনচারী পুজোর লোভে  সমস্ত ঐশ্বর্য ,




শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

পরিত্যাজ্য

সমস্ত মুঠো বন্ধ করে ভাগ্যকে ঠেলে দিই মহাকালের দিকে ,,
  ভোরের ঠিকানা দিতেনপরি না বলে ভুলভাল বানানে প্রেমের সব কাব্য গুলো পরিত্যাজ্য হয়ে গেছে আজ ,
সন্ধ্যে নামের খেলায় নেশা লেগেছিল তাই সঙ্গী হীন হয়েছি বারংবার ,.... তারাও হোঁচট খাওয়ার ভয়ে পেছনে ফিরতে ভয় পেয়েছে যারা সাথে থাকবো বলে হেঁটেছিল পাশাপাশি ,

বেহাগ রাতের গোপন সিঁড়ি বেয়ে যে পথটা একটা সাঁকো ছুঁয়ে ফেলতো ক্ষতগুলো সরিয়ে নেবার জন্য , ...সে সিঁড়ি ঘর সে সাঁকো সময় সিঁধ কেটে নিয়ে গেছে কখন বুঝিনি,,

আমার মুঠোর ভেতর খানিকটা অপাংতে শূন্যতা রেখে গেছে সবসময় জীবন , 
ভোরের ঠিকানা দিতে পারি না বলে ভাগ্য কে মহাকালের দিকে ঠেলে দিলাম ।

ব্যতিক্রম

সব শেষে তুমিও বললে যাও ফিরে যাও আমার থেকে দূরত্বে, 

বুঝলে বলতে না যে পাখির ডাকে আমি বজ্রপাত শুনি ......বড় ক্লান্ত লাগে.....,

কেমন চিকন নিঃশব্দে ছোট ছোট আকুতি গুলো জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকে সেসব তুমি দেখতে চাও না  , 
আজ কাল তোমার উজ্জাপনে সামিল হতে পারি না , 
অথচ অভ্যাসগুলো তীব্র জ্বর এনে আমাকে ...কাঁপতে থাকি  মুহুর্মুহু ,
  আশ্চর্য আতঙ্কে গাঢ় হতে হতে  কাব্যে লেখা নিশি ডাক হয়ে উঠি ,
তোমার তীব্র অবহেলার আশ্লেষ  আমাকে ছুঁড়ে ফেলেছে  সমস্ত নিমিত্তের ওপারে ,

সব শেষে তুমিও বললে সমস্ত পৃথিবীর মতোই ফিরে যাও দূরত্বে ।

 


 

বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

রাই সংবাদ(১০)

আর একবার ....আর একবার বুকের কাছে এসে দাঁড়াও  রাই, 
দেখ চৈত্রের গনগনে আগুনে কেমন আমার কাফন জ্বলছে দাউ দাউ করে ।
 একবার অন্ততঃ  ...গভীরে হেঁটে এসো ,দেখো সর্বনাশের সংক্রমণ কেমন হাড়ে মজ্জায়  কঙ্কাল করোটি ভরে হৃদয়ের কোষাগার অধিকার করে বসে আছে ,
যদি পারো আর একবার মুঠো শক্ত করে
নিঃশ্বাস বাঁধো  বিশ্বাসে ,
রাই তুমিই পারো  সমস্ত দৈন্যতা সমেত  হেরে যাওয়া  মৃত্যু মুখী আমাকে দত্তক নিতে ,

আর একবার রাই খাঁ খাঁ বুকে তুমি ফসলের আঘ্রান দিয়ে যাও , 
আমি নাহয়  তোমার অতল হাতড়ে 
কুড়িয়ে নিতে রাজি উচ্ছিষ্ট ভালোবাসা টুকুই ...,,

শুধু কথা দাও আর একবার ..রাই গোঁসাই এর বুকের কাছে এসে দাঁড়াবে ...দেখবে কি অসম্ভব 
দহনে আবক্ষ ডুবে যাচ্ছে দ্রুত  ।



সময় অসময়

বিশ্বাসের মাঝখানে অদৃশ্য শূন্যতা ইঁটের পর ইঁট
ইমারত তুলে যাচ্ছে  অহমিকা সময়,,

সুজন তোমার সিন্ধু বিষাদে অজানা লবনাক্ত বিচ্ছেদের তরঙ্গ এখন উত্তাল সাম্যহীন ।

যে লাশের উপর তুমি হাতছানি লক্ষ্য করে হাঁটছো,
সমস্ত মৃত্যু একদিন হিসেবি হবে তোমার ঐতিহাসিক স্থাপত্যে , 
সেদিন আকাশে কান পেতে শুনো 
চলে যাওয়া মুহূর্ত রা  অনুরণন রেখে যায় ,

আমি চারপাশে নিজেকে তোমার দেওয়াল বন্দি করে আজ অসহায় শোক হয়ে গেছি ,
অথচ হাজারো বান্ধব রঙের করতলে তুমি আজও নতুন নতুন সূখের উদ্বোধক ,

সঙ্গম প্রিয় প্রেমিকার ঠোঁটে পুঁতে দিয়ে যাও লুকোনো সিঁধ কাটা তৃষ্ণা ,

জীবনের খুচরো অদুলিগুলো হঠাৎ কখন অপ্রিয়  অযথা হয়ে গেছে ,
দুমুঠো সাদা ভাতের স্বপ্নে  নিস্তারের প্রতিশ্রুতি
খুঁজছো কেবলি ,
দেখো একবার পেছনে ফিরে লাশের সারি ...

কিছু চেনা কিছু বা ভুলে যাওয়া প্রেয়সীর হাসি,
ঈশ্বর যে চিরকাল ভালো মন্দ যাই ঘটুক চুপ থাকেন নির্বিকারে,
তবু নিন্দিনীর বুকের কোনো গোপন কুঠুরিতে পাগলা দাসুই ঈশ্বর ......
 সময়ের রঙ্গমঞ্চে  হাজার চরিত্রের যাওয়া আসা
কেবল স্বার্থের নিরিখে  ।






মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১

আমি ঈশ্বর বুঝি না

আমি ঈশ্বর বুঝি না বুঝিনা বলেই আমার ঈশ্বর বলে কেউ নেই ,
  আসলে  আমার চার পাশে রক্ত মাংসের মানুষ গুলোকেই আজ অবধি বুঝতে পারলাম না .... আর বুঝি না বলেই আমার নিজস্ব কোনো মানুষ নেই ।,
আমি বেঁচে থাকা কি অথবা হৃদয়ের ধুকপুক শব্দটা কেমন জানি না ....জানিনা বলেই আমি নাগকির বসতি ছেড়ে আমি শ্মশানে বাসা বেঁধেছি ,

আমি কোনো সম্পর্কর  মৃত্যু গন্ধ টের পাই না কারণ  আমার চার পাশে জন্মাবধি সমস্ত সম্পর্ক দেওয়ালে সাজানো  গল্প,

আমি  সুর বুঝিনা  আমার সূক্ষ তার সর্বদা বেসুরে বাজে , কারণ আমার ভেতর আজন্ম এক পরাক্রমশালী অসুর বাস করে ,

আমি ঈশ্বর বুঝি না ....আমার কোনো ঈশ্বর নেই তাই , রক্ত মাংসের মানুষগুলোকে বুঝতে পারি না তাই আমার নিজস্ব কোনো মানুষ নেই কখনো ।

পাথর ভাঙা গল্প

আজকাল পাথর ভাঙার গল্প শুনতে শুনতে 
নিজেকে পাপ মুক্ত করি ,
ভীষন জ্বরে আকাশ পুড়ে যায় .... ,বেহায়া মুঠিতে তবুও দুসহসের মশাল ধরে রাখি ,
দেহের দৈর্ঘ্যের সমান একটা জমিতে আশ্রয় খুঁজতে  বনডাহুকের মত আজকাল অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠি ,
জ্বলন্ত হৃৎপিন্ড জাপটে ধরি নির্বিকারে  শঙ্খ লাগা সাপের মত ,

আমার এই পরিচয় হীনতার দায়  নিশুতি ডাকের মত আমার বালিশের পাশে রাত জেগে রোজ, ,
ছুটে যাওয়া মায়াবতী কালের নদীতে আমার চিতা কাঠ ভেসে আসবে একদিন জানি , 
সেদিন তোমার নাভিপদ্মে  আমার সাধনার শেষ পীঠস্থান  লেখা হবে ,
কারণ তোমাকে ধর্ম মেনে লিখে যেতে চাই  প্রেমিকরা ঈশ্বর এর চেয়েও মহান ,
আমি তাই সূর্য ভোর থেকে হিরন্ময় সন্ধা পর্যন্ত 
পাথর ভাঙার গল্প শুনতে শুনতে নিজেকে পাপ মুক্ত করে চলেছি ।

রাই সংবাদ (৯)

তুমি যখন ঈশ্বর এর ভূমিকায় ....
বুকের ঘুন পোকা গুলো হঠাৎ প্রজাপতি হয়ে উড়ে
যেতে যায় ,
তুমি যখন ঈশ্বর এর ভূমিকায় .....
অসভ্যতার মিছিলে উলঙ্গ মানুষের প্রথম সারিতে আমি হাঁটতে থাকি ,
তুমি যখন ঈশ্বর এর ভূমিকায় .....
চোখের মলাটে  বন্দি খারা পানির ইতিহাস ,
তুমি যখন ঈশ্বর এর ভূমিকায় .....

অন্তরে অন্তরে আগুন নদী অনেক দূরে আকাশ ছোঁয় ,
তুমি যখন ঈশ্বর এর ভূমিকায় .......
এক বালিশে মৃত্যু ও ডোমের সাথে মাথা রাখি ,
তুমি যখন ঈশ্বর এর ভূমিকায় ......
আমি কেবল এক আশ্চর্য ক্রীতদাস হয়ে উঠি কেন বলতে পারো  গোঁসাই !!

সাবধানী

মৃত যোনি চেটে যাচ্ছে একদল শেয়াল .....দেখছি
চুপ করে সাবধানী চোখ ,

প্রেমিকার তৃষ্ণায় জানোয়ার মুতে দেয় ঠ্যাং তুলে .... দেখছি চুপ করে সাবধানী চোখ ,

সদ্য ঋতুমতী মেয়েটার মাথায় ঢুকিয়ে দেয় আঁধারের দ্রোহিতা ......
দেখছি চুপ করে সাবধানী চোখ ,

বল্গাহীন ঘোড়ার পিঠে ছুটছে সময় 
ব্রিগেড মাঠে খ্যামটা নাচন .......দেখছি চুপ করে সাবধানী চোখ ,

মানুষ হতে পারলাম কই  একটি বার , বুকের নীচে 
 নিভু নিভু জ্বালা পোষা বিরল অভ্যাস , তাই শুধু 
দেখছে  সময় চুপ করে সাবধানী চোখ ।

সঙ্গম শেষে

যেখানে অগনিত মৃত্যুর ভীষন শীৎকার শিস দেয় রোজ  ,
যেখানে ভালোবাসা হীন বীর্য ভর্তি কন্ডোমের গায়ে 
নাটকীয় সোহাগ গড়িয়ে নামে  প্রতি পক্ষকালে ,

যেখানে প্রেমিকার স্তনের বোটায় কাফের হতে ইচ্ছা হয় ,
যেখানে শরীর ছিঁড়ে ফেলার নাম জিতে যাওয়া 
সেখানে প্রেম হীন কাব্য মরে যায় একটি শব্দ না করেই 
 পরে থাকে বায়ু শূন্য কফিন  ।

ভাত ফুল

একমুঠো সাদা ভাত ফুল শুধু শব্দের চাষে ফোটে না , 
যে কখনো বিরান মাঠের গর্ভে পোঁছে দেয় নি শস্যের দানা ,
 যে কখনো গনগনে চৈত্র বৈশাখের দরিয়ায় নিজেকে ভেজাতে পারেনি , 
সে এক মুঠো ভাত ফুলের মর্ম বুঝবে কি করে , শব্দের চাষে খিদে পেটের খিদে মরেনি কখনো সন্তান থাকেনি দুধেভাতে , 
বতরে চাষা হয়ে নামতে হয় লাঙল হাতে তবেই ফোটে দু মুঠো ভাত ফুল বিরান জমিতে , 

পেটে খিদে নিয়ে পূর্ণিমার চাঁদ কে পোড়া রুটি মনে হয় কিনা জানা নেই.... শুধু জানি দু মুঠো ভাত ফুল চাষ করে দেখ শব্দের চাষের থেকে অনেক কঠিন .... ঠান্ডা ঘরে শব্দের  চাষ নয় গনগনে রোদে ভাত ফুল ফোটাও দেখি একটি এবার ।

বিরোহী মন

পরিযায়ী পাখিদের ডানায় ভর করে এ শহরের শীত ফিরে যাচ্ছে ,

পৃথিবীর আদিম ফাটলে আবার জমবে তৃষ্ণা ,

তুমি আবারও ওদের বুকের কাঁচলি খুলে তুলে দেবে রুপোলি স্বপ্নের পাল ,

আকাশ ছেড়ে নতুন খাঁচায় বন্দি হবে বসন্তের প্রণয়জ্বর,

স্নানের ঘরে শাপ মোচনের বাষ্পে ভেজা ফুঁপিয়ে আসা কান্নারা  থাকে কারো কারো , 
সব খবর যে খবর নয় যে কথাটা মিথ্যে নয় , 

দেহের মন্দির খুলে দিলেই তুমি তখন ঈশ্বর হও ,

আমার চেতনা গুলো অন্ধকারে গাছেদের মতোই মৌন মুখর।

সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১

রাই সংবাদ (৮)

হৃদয়ের বাইরে এক অযৌক্তিক উপসংহারে তুমি 
মত্ত রয়ে গেছো ,
সেদিন স্পষ্ট টের পেলাম তোমার যে স্পর্শে আমি পূর্ন নারী হয়ে উঠেছিলাম,
  এখন দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বিলাসী মৈথুনে তুমি সেটুকু রাখো দ্বিধা হীন হয়ে , 
 কখনো কোনো মধ্যরাতের সম্পর্কে তোমায় পাবনা বলে এ শহরে বসন্তের বৃন্তে পলাশ ফুঁটে ওঠেনি তেমনটা কিন্তু নয় ,
 আসলে এ এক মাধুকরি খেলার নেশা তুমি বুঝবে না গোঁসাই  তুমি বুঝবে না ,
আসলে আমি অসহায় হলে তোমার ভালোবাসা নিষ্ঠুরতায়  নিদারুন পূর্ণতা পায় তাই না গোঁসাই ?

তাই তো জাহ্নবী ছুঁয়ে দেখার নাম করে কি সহজে ছুঁড়ে দিয়ে যাও আমার প্রতি তোমার  সমস্ত বৈরাগ্য।

অথচ তোমায় বোঝাতে পারলাম কই... গোঁসাই 
শুধুমাত্র তোমার মূল্যবান স্পর্শকে মহার্ঘ করার জন্যেই তোমাকে রাই এর প্রয়োজন ।

ইন্তেজার অর জিন্দেগী

নিজেকে টুকরো টুকরো করে যখন দেখতে ইচ্ছা হয় , 
যখন গুঁড়ো গুঁড়ো কাঁচের মধ্যে নিজের প্রতিবিম্ব বলে কিছু দেখতে পাই না ,
  আসলে নিজেকে ভাঙতে চাওয়ারই প্রয়াসের ভেতর কি এক নতুন জন্ম অপেক্ষা করে বুঝতে পারি ।
ক্যানভাসে শুরু হয় মৃদু প্রসবের আনন্দ যন্ত্রনা ,

....হারিয়েছি যত কিছু ঘর খুলে দেখি জমেছে তার চেয়ে বহুগুণ ,
হাসি মুখে  ভাঙা ঘরে মাটি লেপে রাত ভোর অপেক্ষা করি,,
 আবার... আবার পক্ষ কালে চাঁদকে আমার ঘরে একবার ফিরতেই হবে ......ফিরতেই হবে ।

সবাই যখন সম্বল ছাদের নিচে এলিডি তে মালাত 
আমিই শুধু ভাঙা চালের ঘরে একটা চাঁদ খুঁজি রোজ  অপেক্ষাকে অপেক্ষা শিখিয়ে ।

জিন্দেগী বে-ফিকর

কুয়াশার কারবারে মুখ লুকোনো শব্দ 
দিয়ে  ঘর বোনা তার,,
 ....সর্বনেশে জেনেও রোজ কিনছে কিছু বিপদ কিস্তিতে কিস্তিতে ,
আপন পর চিনতে গিয়ে হোঁচট খেলেও দোষ ভুলে যায়,,
 ...আস্থাবলে সব ঘোড়া দের ব্লগা ছাড়াই পথে  নামায়,
কিসের মাসি কিসের পিসি ঘুম যদি না আনলো চোখে ,
দিব্যি আছে মান বেহাগে মাথা রেখে অন্য লোকে ,

আমিই কেবল সস্তা হলাম  মানিয়ে নেওয়ার  সকল তাপে ,
বাকিটা  তো ঝাপসা কাঁচ   বাকিটা ছোট মাপ ,

আমার শুধু দিয়ে যাওয়া অপেক্ষায় কুঁচিয়ে সময় ,
ফিরভি কোই বাত নেহি ........জিন্দেগী বে-ফিরক,