বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১৮

মন খারাপের চিঠি

***********************************

তোমার থেকে দূরে চলে গেছি রোজ।
স্মৃতির দাগে এখন মৃত নদী, কথারা গেছে ফুরিয়েছে,
দুমড়ে গেছে হারানো ফিরে পাবার আশা,
হাতের রেখায় এক দম বন্ধ ছটপটানি মৃত
সম্পর্কের, আগুন খুঁজছে বাকি টুকু পুড়িয়ে
ফেলার উত্তাল বাসনায়,,
গল্পেরা শেষ পৃষ্ঠায় আশ্রয় নিতে মরিয়া।
ভালো থেকো ভালো না থাকার সব উপকরণ,,
ফেরার পথ অচেনা মেঘে ঢেকে গেছে।
তুমি ছিলে তাই কবিতা ছিল,,
হয়তো বা বাঁচার তাগিদ,, ছুটি নিলাম
তোমার থেকে। ভালো  থেকো ভালো  না থাকার
সমস্ত উপকরণ

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৮

দিল কভি না চাহা

দিল কভি না চাহা কি আশু ইতনাভি
বেবস হো যায়।
তবুও নোনা জল ঠিকানা  হীন বার বার
হওয়েই পরে,, মিষ্টি মা তুমি বল খুশির কবিতা
লিখতে...  আমি রোজ..  রোজ ইচ্ছে করি যে
খুশির দু এক শব্দ আমার কলমের নিবে ঝরুক
দ্বিধাহীন হয়ে,, প্রতিবার আমার ব্যর্থ কলম
ক্ষতবিক্ষত হৃদয়টাকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে আনে।
আমি মুখ ফিরিয়ে নিই সকল দুখ আর বঞ্চনার
শব্দদের থেকে, ছুটতে থাকি ভোরের আলোর দিকে,,
একটু একটু আলো মুঠো করে লক্ষি ভাঁড় ভরি,
কখন যেন অদৃষ্ট তার অদৃশ্য হাতে ফালা ফালা
করে  আমার সে সঞ্চিত আলো,
তারপর হাসতে থাকে আমার বুক গড়িয়ে
নামা রক্ত দেখে। আমি বেঁচে থাকি মৃত্যুর কিনার
ছুঁয়ে,, আমার ক্ষতবিক্ষত শরীর থেকে সমস্ত
রক্ত আমার কবিতার কলম শুষে নেয়।
ফিরিয়ে দেয় অজস্র ক্ষততে দগদগে একএকটা
কবিতার পরিচয়ে।
মিষ্টি মা এমন করে আমি রোজ রোজ যুদ্ধ করতে
থাকি তবুও আজো আমি একটাও খুশির কবিতা
তোমায় লিখে দিতে পারিনি।
তবু.... দিল কভি না চাহা কি আশু ইতনা ভি বেবস
হো, ফিরভি দিল কো ধোকা দে হি দেতা ইয়ে
কমবক্ত আশু, বেবাজা বরষ পড়তি হ্যায় আখো সে দিল তক।

নির্ঘুম কথারা

********************************

নিশ্বাসে লেগে থাকা বাঁচা যখন কেবল
অপেক্ষা কোনো মুক্তির তখন সম্পর্কীয়
অনুভূতির মৃত্যু হয়েছে, এটা মেনে নিতে
দ্বিধা নেই।
আলোর রোশনাই  আর ঝকমকি সলমাচুমকির
আড়ালে সত্তিকারের শুখনো খড়কুটো আর কাঠামো
যা  কিনা কখনো বদলায় না ,
নাম দিয়ে পরিচয় শুধু কেনা, কেনা ক্ষণস্থায়ী মেকি
খুশির রঙ,, সব রঙ বেরঙ আর বে আব্রু সব আভরণ।
বিসর্জিত ফুল  থেকে কিনার ছুঁয়ে নিঃস্বতা গড়িয়ে হারিয়ে যায়
চিহ্ন হীন ঠিকানায়,,
আবেগ হীন পৃথিবী নাকি পাগলের প্রলাপ... ভাবতে
গিয়ে সন্ধ্যাদীপের বুক পোড়া গন্ধ মনে করিয়ে দেয়
যে  আলোরও মৃত্যু হয়,, 
এমন কত মৃত্যু মমি হয়ে চারদেওয়ালে রোজ বেঁচে থাকে
বুকের খাঁচায় একটা খোঁজ একদিন হঠাত ঘুমিয়ে পড়ে
সোনার কাঠি ছোঁয়ায় আর জেগে উঠবে না কখনো।

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৮

বৃষ্টির মানে

************************************
আমার আকাশে সমস্ত প্রহরে কেবল বৃষ্টি
বৃষ্টির কোনো মানে আকাশ খুঁজে দেখিনি
মেঘের গভীরে অভিমানেরা দুরত্ত্ব মাপে পাশে থাকার,,
ঘুমেরা  হেঁটে যায় সীমাহীন কোনো প্রান্তরে,
চোখের পাতারা শিখে নিয়েছে  বিষণ্ণতার গল্প পড়তে
,বটের শিকড়ে একে একে ভীড় করে অসংখ্য
না খোলা জট,,
একটা লড়াই কেউ বুঝতে পারবে না,,
কিন্তু শহর জানে ভাঙছে অনেক হৃদয়
বিষন্নতায় স্তরীভূত হচ্ছে শোকের পরে শোক।

অভিমান শব্দটা যে বড় আদোরের  আর আদোর
বড় যত্নে রাখা   ভালোবাসা
।অজস্র মুখ,অজস্র সময়ের কাহিনী
হাতের আঙুল গড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে টুকরো টুকরো,
চাওয়া বা পাওয়ার ভাঙা আয়না।
সিলিঙ জানে   কষ্টের দাগরা কেমন করে
একএকটা ,শোক লিখে রাখে প্রতিটা রাতের গভীর বুকে।
চাওয়া না পাওয়া অভ্যস্ত জীবনে নিরাসক্ত সম্পর্ক।
প্রতিটা  ঘ্রাণে মিশে যায় ,আকাশের দিকে হাত বাড়ানো
একটুকরো মুক্তি।
সাজানো সম্পর্ক দম বন্ধ ফ্রেমের হাসি মুখ ছবি আর
বাহিত তখন ভেজা অনুভূতি।

প্রথাগত নিয়মের নিরিখে ফিরে যায়
শরীর, আর মন বহু ক্রোশ দুরত্বে অফেরত
পথে।
আকাশের বুক চিরে নামতে থাকা শোক।
ঘরকন্নায় কেবিল নোনা বৃষ্টি প্রহর থেকে প্রহরান্তে,,
জানতে পারবে না কেউ এই তুমুল বৃষ্টির মানে
জানতে পারবে না কেউ এ শহরে বেঁচে আছে
এমন অনেক প্রহসনের জীবন।

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১৮

যদি তারে নাই চিনি গো সেদিন....

শূন্য দিয়ে গড়া গান্ধর্ব চিত্রকলায় কেবলি
প্রেমিকের মুখ,,   বুঝি গভীরতম  নিঃস্ব হচ্ছে
আমার মন।
হাওয়া বইছে এলোমেলো এ শহরে, তবু কৃষ্ণচূড়ার
পাতায় কাঁপন কই! 
বসন্ত লেগে থাকা প্রজাপতির  ডানায় শঙ্খচিলের
চোখ দিয়ে আঁকা কবিতারা ভীষণ রঙিন,
অথচ আমার ডাইরির পাতায় ঘুমন্ত অক্ষরদের
স্বপ্নরা এখনো তেজপাতা রঙা।
আলোদের দেশে প্রেমের রঙ  কেমন জানি না,,
হয়তো তুমি ছুঁয়ে দেওয়া নদীর। জলের মত
যেখানে বয়ে আসা বিষাদরা পিয়াল পলাশ রঙের
উচ্ছল ঝরনাধারা..... হারিয়ে যায়  সব দু:খ বর্নরা,,
পরীর  মত আলোর সিঁড়ি ভেঙে তোমার সমস্ত
ঘরে  কোনো ভীনদেশী তারা যখন জমি দখলে ব্যেস্ত
শহরের ধুলোঝড়  তখন তোমার  খুব প্রিয়,, একটা
তোলপাড় তরঙ্গ সেতু বাঁধছে নতুন উপন্যাসের ভূমিকার সাথে।

মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১৮

সময়ের সামিয়ানা


বছর পেরোয় ঘুম পাড়ানি গানেদের বয়স বাড়ে,
বাড়ে সুখ আর অসুখ দের আলাপচারীতা,,
চামড়ায় গোপোন কথারা প্রকট হয়, সময়ের
সামিয়ানায় একটা আকাশ অসস্র রঙ...
অজস্র কাটাকুটি খেলা,, আর যোগ বিয়োগের
পাতায় পাতায় বাঁচা জীবন।
অন্ধকারে আলোর আলপিন এর শব্দ সময় ফুরোচ্ছে জানান দিচ্ছে,,
তবুও জীবন সবুজ খুঁজে নিচ্ছে... একটু শ্বাস আর একলা বৃষ্টি ভেজা চীরকূট,,
চেনা কোনো ঘাসের দাগে প্রেমের মরসুম জেগে আছে, এমন করে গ্রিনরুম এর বয়সও বাড়ে তোমার আমার মত।
অসম্ভব এর চাদরে রঙিন সুতো আর সুঁচে প্রেমময় ছবি অদৃশ্য কেউ এঁকে চলে।
আঁকা ছবি গল্পে হাতবদল হয়ে একদিন ফিকে পড়া রঙ আর জীর্ণ সুতো বুকে রূপকথায় একটা সুজন.... ।
এমন করেই বছর পেরোয় ঘুম পাড়ানি গানেদের বয়স মাইলস্টোন ছুঁতে ছুঁতে ঠিকানায় পৌছে যায়। তোমাকে জড়িয়ে আমার মৃত্যু.... কারণ বাঁচা এখনো অনেকটা বাকি... বাকি বলিরেখায় ধরে এক সাথে অনেক পথ চলা।

সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১৮

এক পশলা

***************************************
ঘষে যাওয়া দিনে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে কয়েক
গুচ্ছ অজুহাত আগলে,,, অপেক্ষারা ভীষণ একলা, ক্রমাগত অন্ধকার এগিয়ে গ্রাস করছে শহর,
আছড়ে পড়া ঢেউ বুক হাতড়ে ফিরে যায় ,, নিষিদ্ধ তোমায় মন চাইলেই ছোঁয়া।
প্রটোকল মেনে এ শহর রোজ বাঁচে, ট্রাফিক সিগনাল পেরিয়ে পৌঁছানো গলার স্বর তোমায় স্পর্শ করতে পারে না।
হাসপাতালের বিছানায় পরম আত্মিক তখন কিছু স্টেরয়েড,,
ওরা কথা দেয় আগামি বেশ কয়েক বছর পর আমার কাছে নিবিড়
হবে,, একাই পুড়ি, একাই ভাবি, একাই গাঁথি তোমার কথা,
ব্যেস্ত শহর জানি সময় পেলে খুঁজবে আমায়,,,
অবসরযাপনে কিছু বিরহী ভাবনায় আমি আর আমার
ভেজা কাজল তখন কবিতায় থাকবো,, ..... ভেব না এ আমার কথা  এমন অনেক
গল্পর পালক আমি,, এমন অনেক অপেক্ষার দত্তক নিতে জানি আমি।
বলতে পারি অনেক কথা, আটকে যাই নিয়মের
বাঘবন্দি খেলায়,,  বাস স্ট্যান্ড এর চেয়ার থেকে
হাসপাতালের বিছানা অবধি এরা জানে আমার
আকুতি,, আমার অপেক্ষা, আমার তোমাকে মিস করা প্রত্যেকক্ষন এর সহজ থেকে কঠিনতর সমীকরণ এর   কথা,, 
আমি মন্দবাসার বাসিন্দা, অবুঝ শোকে প্রেমাচ্ছন্ন,
এমন অপেক্ষা শুধু আমার কথা এমন ভেবে পড় না এ কবিতা।
একেবল এক নিরন্তর বয়ে চলা সময়ের
বুকে কয়েক পশলা জল কাজলের কথা,,
যা কিনা ছুঁয়ে যায় থাকে না সাথে।

রবিবার, ৪ মার্চ, ২০১৮

তানহায়ি এক মুহুর্ত

**********************

না বলা দিনের যাপন  ধারা বয়ে যায় , বয়ে যায়
গভিরতা ভিজে চোখের কিনারে থেকে
বালিশএর বুকে।
না বলা শব্দ রা সুতোয় এলোমেলো দুলতে থাকে
তোমার বারান্দার মানিপ্লান্টের সাথে,
আমি রোদ্দুর গুঁজে রাখি খোঁপার আগলে,, মনমর্জি
মেঘ লুকোছুপি খেলে তোমার মনের উঠোন জুড়ে,,
হারিয়ে ফেলার অসম্ভব ভয়ে মোহ দের চেপে ধরি
বুকের কাছেকাছে।  পক্ষমিলনের  বেলায়
অকারণ আলোর বিচ্ছুরণ ভালোবাসা হয়ে
আদোর ছড়িয়ে দেয় আমার আমার অলকবন্ধনে।
তরঙ্গরা অলংকরণ সেরে ফেলে সমস্তটুকু জুড়ে,,
একটা নতুন আলো সকাল আঁকে লেপ্টে যাওয়া
কাজলা চোখে গোপোন শোকে তোমার অলখ্য রঙ
নিজের নাম লিখে যায়,,  এমন করে দিনের বুকে রাত আর
রাতের বুকে দিন মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়।

ঋতুরাজ....

*************************

তুমি কি দেখেছাও তোমার সমস্ত সবুজ লেখার বুকে
সাজানো অক্ষররা কেমন খয়রী রঙের গল্প আঁকছে,
তোমার নীরব কবিতারা আজ জেহাদিরর পথে।
সব ভালোবাসার রঙ আজ পলাশ আর কিংশুক এর
বিরহে দু:খ বিলাষী,,
তবুও তুমি চুপ থাকবে!  তোমার সুখের এতই অহংকার!
এভাবে একদিন অভিমানী হয়ে তোমার থেকে চলে
যেতে পারে অফেরত ক্রোশ দূরে সব সবুজ অক্ষর,কবিতা,
আর ভালোবাসা,,
একলা তুমি আর তোমার অহংকার থেকে যাবে
নাম খানি কেবল থাকবে 'বসন্তঋতু '

এ তুমি কেমন তুমি...

********************************

তুমি না থাকলে এশহর বড় অচেনা,,
আমার ঠিকানা তখন কেয়ার অফ রাস্তা,,
আর বাউলের একতারায় থেকে ভেসে আসা এক অজানা
সুর..  তুমি ছাড়া সুরের অক্ষর আর শব্দরা
ঘুমন্ত।
তোমার ঘরের সমস্ত দরজায় প্রবেশ নিষিদ্ধ
আর আমি বড় আসহায়...  তোমায় ছাড়া
প্রতিটা আয়না কেমন এই অসহায়তারর বিকৃত
প্রতিবিম্ব বয়ে বেড়ায়।
সে প্রেমে অপ্রেমের প্রতিচ্ছবি আবারো অচেনা কোনো
ভয়ংকর শ্বাপদ,,  আমার আঁকা এমন ভয়
পাওয়া চেহারা তোমার শহরের রাস্তার দুধারে
অবহেলিত ইস্তেহার... ।
এমন করে কত দিন সুজন!  একটা গন্তব্য যেন
অফুরান পথ যার সমস্তটা জুড়ে কেবল অস্থিরতা
আর অনিশ্চয়তা।
বয়ে চলা ক্লান্ত পথ আর দু এক পশলা বৃষ্টিতে
মিশে এক আদিম গন্ধ। দিনের কোলে রাত ঘুমোয়
আর চোখের গড়িয়ে নামা কাজলে বিরহী শোক,
একটা  গান মনের একতারায় থেকে ফালা ফালা
হয় 'এ তুমি কেমন তুমি চোখের তারায় আয়না ধরো..
আমার ঝলসানো দৃষ্টি ঠিকানাবিহীন,, তবু
স্বপ্নরা হাত ছানি দেয় আর দু এক ফোঁটা তেল রঙ
নিয়ে ক্যানভাস ভরতে শুরু করি.... শুরু করি
ঠিকি অথচ শেষমেশ খেই হারিয়ে এলোমেলো আমার
সবস্ত ছবি,,  আমার ছবিরা আমার সাথে কথা রাখতে
পারে না বরাবর আমি অচেনাই থেকে যাই।