বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

দলছুট

----------------------------  
মাথার ভেতর ছন্দপতন
বুকের ভেতর বাঁচতে চাওয়া 
রুপকথারা বাঁচে মনের ঘরে,
কাঁধে কাছে  রাখা মেঘলা মুখ 
 খুঁজে নেয় জমানো পুঁজি,   
বেলা শেষে ফেরার পালা
বিসর্জনে প্রেমের মালা,,  

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা(৬৪)

--------------------------- 
 মন্দবাসাকে এবার যম ছুঁয়ে দিক
আমার আতোর মাখানো বাসর অপেক্ষায়
আছে,  মন্দবাসা এবার আমার কবরে
চিরনিদ্রায় থাকুক আমার শব ভীষণ একা, 
সব শোকের হিসেব এক নয় সুবর্ণা একদিন
তুমিও বুঝবে, অস্তপারে  নদী থেকে
কিছুটা দূরে তোমার বেঁচে থাকার বাতাস
এখন বিসাক্ত,  তাই এই ঝুটো ঝগড়ার বাহানা, 
আগামী বাহাত্তর  ঘন্টায় তোমাকে খুঁজেছি
আমরণ তৃষ্ণাত্বের মত,  বলতে চেয়েছি 
আমার সমস্ত প্রবাহ এবার শুকিয়ে আসছে,
পরের বর্ষা কিংবা শীত তুমি হয়তো আমি বিহীন
ছেঁড়া চাদরে চেনা আঘ্রাণে... আর দীর্ঘশ্বাসে মিশে
থাকা আফসোসে..... 
তোমার লাল নীল প্রজাপতি
আমায় আজো আনন্দ দেয়,
তাই মন্দবাসার আড়ালে তোমায়
কেবল ভালোবেসেছি,, 
আর যে সময় নেই হাতের মুঠোয়, 
এবার মন্দবাসাকে যম ছুঁয়ে দিয়ে
যাক, আতোর মাখানো বাসর অপেক্ষায়... 
তোমার পাওয়া শোক শতাব্দীর
প্রেমে কিংবা স্নেহময়ী জন্মধাত্রির
কাছে.... বহুবার বলা শোক এবার
আমার একন্ত হোক,,
 আমার মত যম ছুঁয়ে দিক  তোমায়
সুবর্ণা,  আর কেউ তোমায়
তারপর ছুঁতে পারবে না
তুমি কেবল আমার...সুবর্না
তুমি এবার একান্ত আমার 
এবার তোমায় যম ছুঁয়ে দিয়ে
যাক..... আমি এক অনন্ত
অপেক্ষায় এই কবরের নিচে
 ভীষণ একা..........
............সুবর্ণা ( প্রিয় মৃত্যু)                
   
            
                      

মন চায়..

---------------------------- 
ভিজে যাওয়া চোখ  তবু ভালবাসতে
মন চায়..... 
নাই বা হল সাথে থাকা তবু ভালবাসতে
মন চায়.... 
অকারনর কারন অভিমানী চিঠি তবু
ভালবাসতে মন চায়..... 
শীত জড়ানো একলা রাত আমরণ,
তবু ভালবাসতে মন চায়....    
বার বার ঘরে ফেরার নামে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
তবু ভালবাসতে মন চায়.....
ভেজাচিঠি ঝুটো হাসি, নেই অভিযোগ  চির
অবাঞ্চিত প্রেম ,  তবু ভালবাসতে মন চায়... 
কাঁধের রাখা চিবুক মেঘে ঢাকা  তবু ভালবাসতে
মন চায়....      

হাত থেকে হাত বহু শতাব্দি দুরত্ব   , তবু
ভালবাসতে মন চায়...... 
 রুপকথা না হয় একালা বাঁচবে চেনা পথে,  
তবু ভালবাসতে মন চায়..... 
দূরে দূরে রেখে দাও আমরণ তবু ভালবাসতে
মন চায়....
আমরণ ভালবাসতে  মন চায়
মন্দবাসার গল্পদের.....,,,।   
.   


 

অবাঞ্চিত

----------------------------------  
হারিয়ে যাক  এ নিঃস্বতা
হারিয়ে গেছি তোমার কাহিনির
পাতা থেকে..... অবাঞ্চিত শব্দের
মত, 
কুড়িয়ে নিয়েছো ব্যাস্ততম নিজস্বতা
কোনো স্পর্শ রাখতে চাওনি তাই
দীর্ঘ স্তব্ধতা আমাদের পথ, শুন্য দুটি
হাত আর দারুন কোনো  অবাধ্যতা
মন কেমনের বায়না..... আয়না তুই হয়ে যা, 
ভেসে যাক অন্তরপক্ষের রক্তক্ষরণ, 
হাজার ঋনে পিশে যাওয়া আবেগ
আর না ফেরা আলোর ঘরে... 
কেবল হারিয়ে যাওয়ার সুরের  
ভিড়, আমি চিরকালের অবাঞ্চিত
 বাড়তি খরচ.... সময়ের অজুহাতে 
সব দীনতা কেবল আমার নিজস্ব।  


    
   

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

গোপোন কথা

----------------------------   
স্নানঘরে বাষ্প আয়নায়
লেগে থাকে শোক ফিকে করে 
ফেলে.... ঘরের ভেতর অন্য শোক
চিরযৌবন হয়ে থেকে যায়, 
ফুলের মালায় বাড়ন্ত তাচ্ছিল্য
পাঁচিল আঁকে নিজ নিজ গ্রহে, 
 কখন যেন ফুরোনো অভিমান কবর 
থেকে উঠে আসে,  হাতে তার চিরকুট
"মন একলা চল রে ",  চোখে
ফ্ল্যেমিংগো  প্রপ কান্না  লুকোয়,, 
নেই পাওয়া নেই হারানো....শুন্য
দিয়ে নিজেকে ভাগ করে রোজকার
মঞ্চ সাজানো.............. ... ...
তোমাকে বুঝি না প্রিয় বোঝো না
তুমি আমায়.......বদলহীন 
এমন করে না জানি কত না
গরাদ শোক ঘরে একসাথে 
বাস করে,, 
আসলে সবাই মৃত, মাছি বসা 
শব কলের পুতুল হয়ে বাঁচতে
চায়...... সত্যিটা বলা যায় না 
তাই মনের ভেতোর হাজার কুটুরী
ঘর বাঁধতে হয়,,,।      

জলটোপ

---------------------------- 
কোন সে মুহুর্তে কানে কানে
ফিসফিসিয়ে উস্কানি দেয়  বোবা টানেলে
রাস্তা খোঁজার,  তবু বেঁচে থাকা অভ্যাস 
সব মনমানি মেনে হাসি কান্নায়
কোথাও কম কোথাও বেশি বইতে  থাকা, 
সেতার এর তারে চোখের ভাষা
ফুপিয়ে লুকোয় চেনাশোনা জিনা, 
সারাদিন  কেবল  আসা যাওয়ায়
মেলা হৃদি থেকে  হৃদি....   
ঘরে ফেরা রাস্তা একলা
নিয়নবাতি আগলে বাঁচে 
আমরা কেবল ভীষণ রকম
একা থাকতে ভালবাসি..... 
       
      

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

ফেরারী মন

---------------------------- 
হঠাৎ মনে পড়ে  তোকে ইচ্ছে
হল ছুট্টে যাই তোর  ওপরে আছড়ে পড়ি 
নামটা মনে করতে মুহুর্ত লেগেছে,  
ইচ্ছেটা উত্তাল হয়ে ঝড়ের মত
আমাকে আছড়াচ্ছে.... 
"না উমর সীমা হ্যায় না জন্ম কা
হ্যায় বন্ধন, যব প্যায়ার করে কই
দেখে কেবল মন " 
পারলাম না তোর জানালায়
রোদ্দুর হয়ে ফিরতে.... মাঝ
বয়সি সূর্য এখন আমাতে, বাড়তে
থাকে ক্রমশ রক্তচাপ.... তোকে বলতে
পারিনি যে  খেলার ছলে  সে খেলা কখন
যেন সত্যি হয়ে গেছে,  
কয়েকবার চেষ্টা করেও তোর সামনে
দাঁড়াতে পারলাম না,,, ছেড়ে আসতে গিয়েও
কোথায় যেন তুই আমাতে আটকে আছিস
নিজস্ব গন্ধ হয়ে.... কোনো একদিন দেখা হবেই
রাস্তার চায়ের দোকানে কিংবা হাজার ব্যাস্ততার
ভীড়ে.... তুই চিনবি না আমায় আমিও হয়তো
চেনা কোনো   অবিকল ভেবে ফিরবো নিজেদের
পথে..... 
তুই মনে রয়ে গিয়ে ফিরে ফিরে
আসবি এমনই আনমনা বিকেল
দুপুর অগোছালো সন্ধ্যায়... বুকফাটা
ছটফটানি হয়ে,, তোর কাছে যেতে
পারিনি কখনো আমার মধ্য
আকাশ সূর্য বলে....                 
           

নিখাদ কোমল

----------------------------  
নিখাদ কোমল সুর দরকার ছিল
অথচ প্রতিবার ভুল খোঁজ
আর  অন্তহীন ভাংচুর গল্প জুড়ে,,, 
বুকের ভেতোর উঁকি দেওয়া রোদ্দুরে
মাথা রেখে ঘুমোতে ইচ্ছা করে,  ইচ্ছা করে 
বুড়ো বাউলের হাত ধরে দিগন্ত
জুড়ে একটা বাড়ি বানাই সেই
বাড়িটার নাম হবে "নিখাদ কোমল"
সব নদী বয়ে যাবে ভালোবাসা
ছুঁয়ে.... 
গভীর রাতে ভাংচুর সব মাটি
দিয়ে ঘন কালো মেঘ গড়তে
গড়তে সকাল হবে যখন 
কে যেন জল ছিটিয়ে বলবে
ওই শুনতে পাচ্ছিস চেয়ে দেখ
রোদ উঠেছে ছবি  আঁকবি কখন... 
সব রঙ তো ব্যাস্ত হয়ে হারিয়ে যাবে
হাজার ভিড়ে,, ঘুম চোখে সেই
বাউল কে খুঁজি  যার গান শুনে
আমার ইচ্ছে করছিল রোদ্দুরের
বুকে মাথা রেখে শুতে ইচ্ছে করছিল
দিগন্ত জুড়ে একটা বাড়ি বানাতে
আর নদীর ইচ্ছা করেছিল তার সব
জল শুধু    সে আমাকে দেবে সমস্তটুকু
আমার..... 
আজ ফের দেরি হয়ে
গেল অফিসে পৌঁছাতে,, 
ইচ্ছেরা এমনই হয় প্রায়শই
স্বপ্ন লেগে থাকা মনের কাছে
ঋনি হতে থাকে।      
   
             
         
  

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

অন্তঃক্ষরন

------------------- 

অন্ধকারে অন্ধকার ঘষে গিয়ে
যখন ক্ষতগুলোয় মাছি ভন ভন
করে,   তখনও বলতে নেই ভালবাসার
বিস্তারিত......, 
মাছের ঝোলে ভাত মেখে নিদেনপক্ষে
ভালো থাকায়  আমাদের নগর বেঁচে, 
মাঝে মাঝে তবু শুকোতে দেওয়া 
ভালো থাকাটার অজুহাতে বেরিয়ে
আসে ছেড়া ছেড়া পোশাক,  চোখ
ফেরালেই অসুস্থতা ধরা পড়ে, 
নগরসংকীর্তনে সামিল আমাদের
আশ্রয় অথচ ভালবাসা কেবলই
পরকীয়া হয়ে বেড়ে ওঠে সমস্ত
অন্তরমহলে...... কখনো মুঠোফোন
কখনো উড়োচিঠি,  পায়রার ঠোঁটে
সুগন্ধি প্রেম লেগে... সেটুকুই যেন  উৎসব,,
যে মুহুর্তে তোমার জন্ম সে মুহুর্তে 
আমার মৃত্যু তবু ফুরিয়ে যাওয়া
নেই কোনোখানে, নেই হারানোর ভয়, 
  এখন অভিমান গুছিয়ে ফেলার
 সময় হয়েছে সময়...
হয়েছে নিরবতায় শব্দ খোঁজার, 
নিয়নবাতি নিভে গেলে খোঁজা
যেতে পারে বাকি আলোটুকু,
যেটুকু রাত বাকি ঘুমিয়ে নেওয়া যাক  ।                


                   

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

সমান্তরাল

তোর বারান্দায় যখন আবীরখেলা
সন্ধ্যা নামে শরীর জুড়ে আদুরে ওম
অন্য কোথায় ভাত ফুটছে কাটের জ্বালে 
কপাল জুড়ে ভাগ্য লেখে কাঠের কালি,, 
চাঁদের আলো রবির গান হাতের মাঝে
ক্যাফেচিনো,তখন তুমি টাটকা কবি
হৃদয় জুড়ে দখিন বাতাস, 
অন্য কেউ মত্য মাতাল স্বামীর হাতে 
অধিকারে থেৎলে থাকা মাংস দলা ,
বুকের ভেতর ছলাৎ ছল গল্প কাঁদে,
এমন রোজ নুন ফুরোনো পান্তা ভাতে
লংকা মেখে আজ ফুরোয় কালের পথে
তোর ঘরেও বড্ড অভাব মন ভালো নেই
ভাতের পাতে ঘি নেই আজ,  তেমন করে
হয় না ঘোরা বেশ কিছু দিন.... অফিস ঘর
...ঘর অফিস, অভাব নেই সেও  তো অভাব,
ভাল থাকার সাত সতেরো মিলমিলান্তে 
সমান্তরাল.... খাতার পাতা উলটে দেখ 
তুই  আছিস ভীষণ ভালো  .... ভালো আছে সেও,।        
  
          

জীবন ডট কম

----------------------------  
গোপোন নদী উধাও এখন ভাল থাকার 
অভিসন্ধিতে, তোর শরীরে কেবল
মৃত গন্ধ ,  প্রেমের শবে বাসি 
ফুলের নির্জাস চোখে ঘুম আঁকে.... 
কারন ছিল সারারাত থেৎলে যাওয়া
কাজলের ব্যারিকেডে রাতজাগা পাখিরা
আসরে মাতোয়ারা,,, 
সাতবা ঘোড়া নিয়ে ভোর রঙ
ক্যানভাসে নিজের স্মারক আঁকে 
পাগলা দাসু..... বাকি সকলের অভিনয়
এখনো  অনেকখানি কাঁচা, 
টেবিলের ঘ্রানে রোজকার লেনদেন,
সংকেত  দেয় অপেক্ষা কখনো
ফুরোয় না, ..... প্রৌঢ়বয়সী প্রেম
কথা দেয় বৃদ্ধ হবো একসাথে, 
নদী কথা দেয় থেকে যাব সমস্ত
প্রবাহ জুড়ে..... কেবল নীলকন্ঠ
পাখিটা বলে যায়নি আমি  আসবো
ফিরে,  সব সুগন্ধি রুমাল যখন জীর্ণতার
স্বীকার মৃত গন্ধ যখন অন্য পৃথিবী.... 
নীকন্ঠ পাখিটা এসেছিল ঠোঁটে ছিল
বীষ ফল....., সেদিন হেরে গেছে প্রেমের
সব কবিতা।  
                    

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা(৬৩)

----------------------------
আজ কাল আমাদের মন জুড়ে
 বাইশে শ্রাবণ  সংকেত দেয় আরো
প্রাচীন কোনো পাথরের বুকে টিপ টিপ
কুয়াশারা শুয়ে আছে,  হঠাৎ তুই
মুঠো জল ছুড়ে নদীতে কাঁপন দিলি
স্বপ্ন ভঙ্গর মত,, 
এখন তুই বাঁধন খুলে ফেলেছিস.... 
পিঠের সেই নীলাভ নখের আঁচড়টাও
কোথায় যেন গুছিয়ে রেখেছিস সাবধানে,, 
সুবর্ণা বলতে পারিস আমি তবে দুচোখ বুজে। 
তোকেই কেন ছুঁয়ে যাই ক্ষনে ক্ষনে.... 
আজ মনে হয় তুই একদিন পতঙ্গর
মত কিংবা খসে পড়া তারার সমগোত্রীয় হারানো সময়... 
হয়তো সমুদ্রের মাঝে নীরব ঢেউ... 
বুকে অগ্রন্থিত অক্ষর পুঞ্জ আর নীল রঙ....,, 
.........সুবর্ণা প্রিয় বাঁধন

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯

প্রিয় লেবু ফুল

----------------------------   
কেমন আছিস সুজন, না গুনলেও
বছর কুড়ির বেশি হল তোর চোখে
আমার প্রিয় রঙ দেখা... 
ও চোখে চৈত্র ছাড়াই কোনো
হাফস্কুল দুপুরে ছিল সর্বনাশ, 
হাতচিঠি পেয়ে সামনে তুই ছিলিস না...
দু কি তিন লাইনে কি যেন অচেনা শিহরণ
লিখে তুই উধাও হয়ে গিয়েছিলি.... 
আমি তখন সদ্য শীতের রোদ পোহানো
দুপুর বেলা, অবাক তখন একমুঠো
প্রজাপতি আমায় ঘিরে,   
, ক্লাসে উল্টো দিকের বেঞ্চে সারাক্ষন
ঘাড় এগিয়ে পিছিয়ে দুটো চোখ
যেন পাহারায় মজুত,  আজ দূর থেকে
ভিড়ের মধ্যে তুই ঘাড় ফিরিয়ে দেখছিস
নিরাপত্তার খুটিনাটি এখন তোর ঘাড়ে 
দশইঞ্চি বেল্ট বুঝিয়ে দেয় জীবন আর
সেদিনের মত হালকা পালক নয় তুই উধাও
হতে পারবি না হঠাৎ করে,, 
 জানিস সুজন লেবুগাছটা আজ আছে কি নেই
জানি রে ... তবু তার প্রথম
গর্ভবতী ফুলের আঘ্রান এতো বছরে
একি সতেজ এই হৃদয়ে ,, যেমন চোখ বন্ধ করলেই
তোর বুকের কাছে একখানা মুখ আর দু গাল
বেয়ে অভিমানী তিরতির নদী ভীষণ রকম
জীবন্ত,,  তোর নিশ্চয়ই এসবের একচিলতেও
মনে নেই, এখন তোর সুঠাম দেহে পূর্ন বয়স্কার
হাজার খানের স্তর.... আগের মত হাসিস এখন
কথায় কথায়,  এখন কি তুই রোজ
বিকেলে খেলতে বা খেলা দেখতে
বেরোস ? নিশ্চয়ই  না এখন কি 
হিসেবের খাতার নয় সতেরো মেলাতে
গিয়ে বিকেল গড়ায় মধ্য রাতে, 
আমি কিন্তু সময় পেলেই ছাদে
ফিরি মেঘ দেখতে... তোর মনে আছে 
আমি একবার বিকেলের মেঘ দেখে 
বায়না করে ছিলাম ঠিক ওই রকম 
রঙের জামা পরবো,  নিজের হাতে রঙ
মিলিয়ে বানিয়েও ছিলাম মেঘরঙের জামা
তোর সে কি হাসি.... আমায় তারপর বহুদিন
পাগলি বলে মাঝে মাঝেই ডাকতিস, 
এখন তুই এমন কোনো নাম করনের
সুযোগ পাস?  নাকি এখন মেঘ কেবল
বৃষ্টির সংকেত,     আরো আরো কত কথা
এই আজ তোকে দেখা মাত্রই যেন মাথা তুলে
দাড়িয়ে বলছে আমরা ফুরোইনি 
সময় ফুরিয়ে গেছে নতুনের সাথে
আলোর মেলা আসা যাওয়া সব এই
ভীড়ে একাকার,,, আলো সরিয়ে
আজো সন্ধ্যা তারাদের সাথে লেবু ফুল
গর্ভবতী হয়, আজো  ঘুমিয়ে আছে 
প্রিয় আর  পুজা নতুন 
মেঘেদের আড়ালে,,           

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

তোমাকে ছুঁয়ে

----------------------------   
মনের ভেতর হু হু বাতাস বইছে
হাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর স্রোত হঠাৎ
তোমায় খুঁজতে আকুতি নামছে বুক
বেয়ে,  দেওয়ালে টাঙানো সব কটা
ছবি থেকে একে একে উধাও প্রিয়
মন, প্রিয় সময়, প্রিয় নদী, প্রিয় গাছ, 
এমন কি আমার দখিনের জানালা
সেই প্রিয় পাখি যে রোজ আসতো 
নতুন নতুন গান নিয়ে,  হঠাৎ করে
সব উধাও..... পুরনো চুনসুরকির
সাথে ইটেদের রুক্ষ সম্পর্ক ফ্রেম বন্দী, 
এত কিছু হয়তো বা সইয়ে নেওয়া যায় 
তুমি নেই সকল জুড়ে মন কেমনের  তুমুল জ্বর
আমাতে মিশেছে কখন যেন, 
রবিঠাকুরের গান তখন রিংটোনে 
সখী ভালবাসা কারে কয় সে কি কেবলই
যাতনা ময়...... হ্যালো কি করছিস? 
তোমার গলার স্বরে দেওয়াল জুড়ে আলোর
রোশনাই.... আমি উৎসব মুখরিত কেবল
তোমার কারনে,,            

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

মুর্শিদ

............................ 
আমার কলমের নিবে ঠিক
যেদিন প্রথম শব্দর গর্ভবতী
সে দিন থেকে তুমি আমার সকল
লেখার মুর্সিদ,  হাওয়া বদল হয়েছে
হাত বদলও হয়েছে সেই সবুজ ছড়ানো
  গাছটা পথের পাশে এখন দুহাত মেলে
আকাশের দিকে ফ্যালফ্যাল করে সারাক্ষণ
কিছু বলতে থাকে... ক্যেয়সি পেহেলি হ্যেয়
জিন্দেগানি......
কেউ বলে অসংগত কিছুটা
কেউ বলে অতি দার্শনিক....
আমি বলি তোমারা সময় কে
চেনোনি , বাস্তব জানো না, 
জন্মের পর বেঁচে থাকা আর মৃতু
গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ভলে হয়তোবা
পিঠে   পিঠ ঠেকিয়ে,  শুধু মুখোমুখি
হয় না তেমন ভাবে....  
এমন প্রতিটা জন্মের কাছাকাছি
একজন মুর্শিদ যদি পাওয়া যেত.....
তবু যাকিছু হাতের নাগালে নয়
তাই বড্ড বেশি আর্তি ঝরায় 
প্রানের মাঝে,, 
আজ এই কোনো কবিতা নয়
প্রতিটা বাঁচায় সামান্য হলেও যে
অমৃত থাকে সেটুকু গরল এর পাশে
রেখে আরো কিছুটা জীবনের সাধ
নেওয়া..... আর নিজেকে চিমটি
কেটে দেখা আমি এখনো জীবন্ত.।        
             
     

সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯

যন্ত্রনা

----------------------------  
ক্রমশ মেরুদণ্ড বরাবর যন্ত্রনা
বাড়ছে, ঘুরে দাঁড়ানোর সমীকরণ
বদলে যাচ্ছে.....বদলেছে চোখের
ভাষা বাই ফোকাল  নতুন চশমা
সব ঝাপসা  , হামাগুড়ি
দিয়ে শরীর মুড়ছে জ্বরায়। 
আমি চুপকরে পুড়তে দেখছি
একটার পর একটা মৃতদেহ, 
একটা  মৃতদেহে পুড়ছে শৈশব
একটাতে ইচ্ছা, কোনটাতে যৌবন
খুঁজে পাওয়া উত্তাল ভালবাসা.... 
এভাবে একে একে ছাই রঙের 
মেখে সুখ, দুখ, সম্পর্ক, মন, 
নিশ্বাস,  কিছু পরে সমস্ত  বর্তমান
হয়ে যাবে  অতীত ঐতিহ্য, সম্বলিত
 মৃত মিছিলটি   শেষে কচলানো কান্নার
নোনা হাওয়া সেও মিশে যাবে শহরের
ভীড়ে.....,,  সময় ছুটছে যন্ত্রনা বাড়ছে
পেনকিলার আর ঘনানো মৃত্যু রোজ
অপেক্ষারত বাসস্ট্যান্ডে, তুমি জানো
তবু বাঁচতে ইচ্ছা করে ভীষন রকম,,  
লুকিয়ে বাড়ি ফেরা কাঁটাতারের বেড়ায়
ফালাফালা  রক্ত গড়িয়ে বেঁচে থাকার বুক
গড়িয়ে নামছে রোজ,  রোজ জোকার এর
খেলায় মন ভোলানো, একদিন গোলাপি
ভোর আসবে     একদিন মেরুদন্ডের যন্ত্রনাটা
আর থাকবে না,  এমন কত কি অসমীকরণ 
এমনটাই থাকবে রে মন...... মন ঠিক তোমার
মত যন্ত্রনার আমাকে জড়িয়ে ভালোবাসার
মন্দবাসার খেলা খেলতে থাকে, 
আমি চুপ করে দেখতে থাকি সব
দৃশ্য ইচ্ছে হয় পাগলের মত হেসে 
উঠি অথচ আমার চোখ তখন শুধুই
যন্ত্রনা।        
                                
        

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

সময়

---------------------------- 
কার্তুজে লাগানো সময় আর 
সময়ের ভীষণ তাড়া যেতে হবে
আলোকবর্ষর পথে,, 
সময়ের বুকে কেউ হাসছে কেউ
কাঁদছে, ষড়রিপু বয়ে চলেছে খরস্রোতে, 
এমনি কোনো সময় ভাসানী কূলে
সাঁজুরুপাই  পাশাপাশি কাহিনী
মন্থনে বিভোর হবে,  নতুন চরিত্রের
ফেরার কথা ছিল নতুন নগরে, তারা
আজ সময়ের চালচিত্রে নির্মোহ  ,,  
 অচেনা  রাস্তার ধুলাবালি ঘেটে
ইচ্ছামৃত্যু তখন সামাজিক প্রটোকলে
বন্দি, নায়ক বলল বহু কাজ পড়ে আছে
এ মঞ্চে ... পথ বদল করো স্বপ্নদের,  আমায়
ফিরতে হবে সাতপাকের ঘরে  , তুমি ফিরে
যাও তোমার পুরোনো খোলোসে, 
তার আর ফেরা হয় না কারন সময়
লেগেছিল ছুটন্ত কার্তুজের মুখে, 
সুনীল বাবুর কলম তখন অভিমানি
কবিতায় খুঁজে পায় "কেউ কথা রাখে না.... "
আসলে সময় বদলায় আয়োজন মতো বদলে
যায় অংকর হিসেব, কাল যা-কিছু প্রান বায়ু
অন্য আর এক কালে তা বিসর্জনের ফুল,, 
তবু বয়ে চলা  উপকুলে উৎসবের রোশনাই
মনকে বাঁধে ক্ষনিকের সুখের মত দুঃখের মত
......শুধু আসা যাওয়া.....,,                              

শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯

আগুনের পরশমণি

আগুনের পরশমণি
+++++++++++++++++ 
তোর দহনগুলোয়  বৃষ্টি নামুক এবার, 
আর না হয় কিছুটা সময়, যা-কিছু
পুরোনো কুরোনো সমস্ত জুড়ে তোর
যত দহন.... বৃষ্টি ভিজুক, 
তোর খটখটে শুকনো  জমিতে
ভরে  উঠুক সবুজের সমারোহ
আতসবাজি আলো তোর মনের
আনাচকানাচে সব অন্ধকার মুছেদিক
,,চির সখা হয়ে তোর সাথে আপোষ করুক
সুখের কথারা,,  বৃষ্টি নামুক তোর সমস্ত
দহন জুড়ে.... একদিন মেঘ কেবল তোর
হবে দেখিস তোর হাসিতে রামধনু রঙ আঁকবে
আকাশ বুকে, রাতের  বুকে সব জোনাক তোর
অধিবেশনে যোগ দিতে দিতে বলে উঠবে 
আজ থেকে তোমার সমস্ত অন্ধকার আমাদের
কাছে চির বন্দি করেছি,  একদিন
তোর সমস্ত অঙ্গিকার চিরকালের
জন্য তোর হবে.... একদিন তোর দহনগুলো
ভীষণ রকম বৃষ্টি   ভিজবে, বুকের বারুদ ধুয়ে
যাবে শীতলাক্ষর জলে..... একদিন তোর দিনগুলো.....,