----------------------------
কেমন আছিস সুজন, না গুনলেও
বছর কুড়ির বেশি হল তোর চোখে
আমার প্রিয় রঙ দেখা...
ও চোখে চৈত্র ছাড়াই কোনো
হাফস্কুল দুপুরে ছিল সর্বনাশ,
হাতচিঠি পেয়ে সামনে তুই ছিলিস না...
দু কি তিন লাইনে কি যেন অচেনা শিহরণ
লিখে তুই উধাও হয়ে গিয়েছিলি....
আমি তখন সদ্য শীতের রোদ পোহানো
দুপুর বেলা, অবাক তখন একমুঠো
প্রজাপতি আমায় ঘিরে,
, ক্লাসে উল্টো দিকের বেঞ্চে সারাক্ষন
ঘাড় এগিয়ে পিছিয়ে দুটো চোখ
যেন পাহারায় মজুত, আজ দূর থেকে
ভিড়ের মধ্যে তুই ঘাড় ফিরিয়ে দেখছিস
নিরাপত্তার খুটিনাটি এখন তোর ঘাড়ে
দশইঞ্চি বেল্ট বুঝিয়ে দেয় জীবন আর
সেদিনের মত হালকা পালক নয় তুই উধাও
হতে পারবি না হঠাৎ করে,,
জানিস সুজন লেবুগাছটা আজ আছে কি নেই
জানি রে ... তবু তার প্রথম
গর্ভবতী ফুলের আঘ্রান এতো বছরে
একি সতেজ এই হৃদয়ে ,, যেমন চোখ বন্ধ করলেই
তোর বুকের কাছে একখানা মুখ আর দু গাল
বেয়ে অভিমানী তিরতির নদী ভীষণ রকম
জীবন্ত,, তোর নিশ্চয়ই এসবের একচিলতেও
মনে নেই, এখন তোর সুঠাম দেহে পূর্ন বয়স্কার
হাজার খানের স্তর.... আগের মত হাসিস এখন
কথায় কথায়, এখন কি তুই রোজ
বিকেলে খেলতে বা খেলা দেখতে
বেরোস ? নিশ্চয়ই না এখন কি
হিসেবের খাতার নয় সতেরো মেলাতে
গিয়ে বিকেল গড়ায় মধ্য রাতে,
আমি কিন্তু সময় পেলেই ছাদে
ফিরি মেঘ দেখতে... তোর মনে আছে
আমি একবার বিকেলের মেঘ দেখে
বায়না করে ছিলাম ঠিক ওই রকম
রঙের জামা পরবো, নিজের হাতে রঙ
মিলিয়ে বানিয়েও ছিলাম মেঘরঙের জামা
তোর সে কি হাসি.... আমায় তারপর বহুদিন
পাগলি বলে মাঝে মাঝেই ডাকতিস,
এখন তুই এমন কোনো নাম করনের
সুযোগ পাস? নাকি এখন মেঘ কেবল
বৃষ্টির সংকেত, আরো আরো কত কথা
এই আজ তোকে দেখা মাত্রই যেন মাথা তুলে
দাড়িয়ে বলছে আমরা ফুরোইনি
সময় ফুরিয়ে গেছে নতুনের সাথে
আলোর মেলা আসা যাওয়া সব এই
ভীড়ে একাকার,,, আলো সরিয়ে
আজো সন্ধ্যা তারাদের সাথে লেবু ফুল
গর্ভবতী হয়, আজো ঘুমিয়ে আছে
প্রিয় আর পুজা নতুন
মেঘেদের আড়ালে,,