শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ভুলতে হয় কখনও কখনও

তুমি দাঁড়িয়ে আছ সেই কবে থেকে একই বৃত্তের ভেতর ,যে সময় কে তুমি গালাগালি দাও সে সময় তোমাকে ছেড়ে কোন দূরপাল্লার  ট্রেনে হুইসেল বাজিয়ে চলে গেছে , অথচ হুইসেল সে আওয়াজে আজও ফালা ফালা হয় তোমার মাথার এক একটা শিরা ,
বাসি খবরকে  বরফ কুচি দিয়ে জীবিত রাখা অভ্যাস যে বদলে ফেল দরকার তোমায় কেউ 
শেখায়নি
 , তাই তোমার অভিমানের ছায়ার মাপ ক্রমশ তোমার দৈর্ঘের চেয়ে আজ লম্বা ।
যে কবর খানা খুঁড়ে তুমি প্রতিদিন তোমার  জন্ম শব্দ তুলে আনো আর নিজের বেঁচে থাকা কে ব্রাত্য করে তুলছ তাতে যে কারোই কিচ্ছুটি আসে যায় না , এই পৃথিবীতে কেউ কারো জন্য দু দণ্ড দাঁড়ায় না তুমি তো জানো , তবু তোমার ক্যানভাস জুড়ে অজস্র ধারায় গড়িয়ে নামে বান্ধব রঙ আর সেই রঙের একটাও ছবি তুমি সম্পূর্ণ করতে চাওনি
কখনো ,
তোমার যুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে দেখ কে আছে একান্ত তোমার অপেক্ষায় ? দেখতো সেই সুখ দুঃখের ফেরিওয়ালা কে কি তুমি স্টেশন চত্বরে পাও কিনা যেখান থেকেও খানিক ভালো থাকা কিনে নিতে পারো , 
রোজ রোজ হারিয়ে যাচ্ছ অভিমানী ভিড়ে 
যেন নেশার পাত্রে এলিয়ে পড়া সুরজ কি রোশনি ,
যেন প্রত্নতাত্ত্বিক সময়ের গা দিয়ে গড়িয়ে পড়া বয়স , যেন মৃত্যু নগরীর ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ন্ত কবুতর ,  এই তুমিটা চিনতে গেলে আবিষ্কার হয় সম্পূর্ণ বিপরীত অচেনা এক মানুষ ,
শুধু জানতে ইচ্ছা করে তুমি কি এভাবে ভাল আছো দীর্ঘ কাল  ! প্লিস অভিমানী ছায়াকে নিজের থেকে দীর্ঘ করে বাড়তে দিও না ।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আমাদের কথা,

আমাদের প্রত্যেকেরই কখনো কখনো ভীষন 
ব্যক্তিগত মেঘ থাকে ,থাকে ব্যাক্তিগত অন্ধকার টানেলের স্তব্ধতা .....
অথচ আমাদের প্রত্যেকেরই শক্তপোক্ত চারদেওয়াল সমেত ছাদ যে নেই তা মোটেই নয় ,
উৎসবের দিন বলতে কেবল বৃষ্টি মাস  সেও এখন কান্নার খয়েরী দাগ ধুয়ে যায় নিজের হাতেই ।
যে রোশনাই কখনো বাতি স্তম্ভের শিয়রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াত আজ কেবল মৃত দেহ সনাক্তের কাজেই বহালিত , কারণ ধর্মদাগ বলতে এখন শুধুই রক্ত  ,জয় বলতে দীর্ঘ  ধ্বজার  নীরব মাথা নিচু অন্ধকার ।
তবুও যারা একদিন উৎসবের পাখি হতে চেয়েছিলাম , করেছিলাম হৃষ্ঠ পুষ্ট ভালো থাকার ফরিয়াদ  তারা আবহাওয়ায় মিশে ছবি ঘরে আজ শুধু স্মৃতি হয়ে আছি ।

কালের বিষ ফোড়ন

আজ কাল সামাজিক মাধ্যমে কবি দলে দলে মিছিলে নামছে কবিতার কাব্যের ,কবি হাঁপিয়ে উঠেছে ফাঁকা মন একলা জীবন কিংবা ছেড়ে যাওয়া স্মৃতি ঘটতে ঘটতে , অথচ এত বড় দেশের 
মূল্য বোধ যে রোজ ক্রমাগত ফুরিয়ে যাচ্ছে সে দিকে তাকাই না কেউ ,
আনাজ খাওয়ানো মানুষ গুলো নিজের কাঁদতে কাঁদতে বিষ খেয়ে মরছে প্রতিদিন স্বাধীন ভারতের ম্যানহোলের মধ্যে  দমবন্ধ হয়ে মোরে যাওয়া দলিতরা আজ রাজনীতি র সস্তা বিষয় ,
এদিকে তথা কথিত নেতা মন্ত্রী অথবা বুদ্ধিজীবীর বাংলো বাড়ির চওড়া রাস্তায় পড়ে থাকা শুকনো পাতাও নড়ে না যে কারণে তাদের তোষামোদি চামচা রা প্রতিটা প্রশ্নের আগে চোঙা এত জোরে ফোকে যে তাতে দেশ বাসীর অর্ধেক কান কাল হয় নয়তো বা ভুলে যায় প্রশ্ন কি ছিল ।
প্রতিটা গর্জে ওঠা শ্লোগাল কে থামিয়ে দেওয়ার জন্য চারিদিকে হিংস্র দিশেহারা মানুষ ধারালো অস্ত্র হাতে হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছে আজ ,.....হায়রে এ কোন স্বাধীন দেশের ধিক্কার নাগরিক  আমরা ,
হে কবি কলম এবার ধারালো অস্ত্র হোক নিদেন পক্ষে শব্দ রা হোক রাজার চৌকিদার থেকে সত্যের পাহারাদার হতে তো পারেই ।
এবার সময় হোক কবিতা কাব্য খাতা কিংবা বইয়ের পাতা থেকে দেওয়াল চুরমার করে রাস্তা অবরোধ করে দাঁড়াক শয়তানি কালো চেহারার মিছিলের বিরুদ্ধে , সময় হোক এবার প্রশ্নের শ্লোগাল জেহাদে জেহাদে ভরিয়ে ফেলার ,যদি আমি আজ প্রশ্ন না করে মুখ লুকিয়ে  এই বেশ ভালো আছি বলি  তবে কাল ....কাল এ পৃথিবীর কাছে দেওয়ার মত কোন উত্তর আর থাকবে কি ?

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফরিয়াদি কাহিনী

খিদের ভিতর শুধু ঘুম নেই তাই পুরনো আঘাত ফিরে আসে বুকের পাঁচিলে,
প্রহরিবিহীন ঘরে হামেশাই শরিকি বিবাদরা জড়ো হয় ,
আজকাল একে অপরের সাথে কথা হয় কম যেন
আঙুলে আঙুল মেপে রাস্তার পরিধি চিনেছি নিষেধরা , সে বা আমি বারুদের স্তুপ হয়ে জেগে আছি  প্রতিদিন এই পৃথিবীতে ।
সে যে মিথের কথা বলে আমি প্রতিবার শুনে হাসি আর তাকে বলি বড় হয়ে ওঠ তাড়াতাড়ি ,
সে হয়তো কোন দিন বুঝবে না আমাদের মত যারা তাদের  না বলা ফরিয়াদ কোন ঈশ্বর নামে মহোদয় এর কাছে কোনো দিন পৌঁছায় না এক জন্মে , 
তাই প্রেমের চেয়ে বিরহ লিখে চিরকাল অমর হয়েছে কবি ।
আজ কাল বুকের চেয়ে পেটের প্রদাহ নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ তবু বলে না ভাত নেই তবু সে আর মিছিলে হাঁটতে রাজি নয়  দ্বিধা ও বোধের পাশ দিয়ে ইদানিং বড়সড় পরিখা র জন্ম হয়েছে  সমস্ত পৃথিবীর মানচিত্রে ,
অথচ আমি ধর্ম , প্রতিবাদ কোনো কিছুর মিছিলে হাঁটতে চাই নি শুধু তোমার দিকেই গেছে আমার প্রতিটা পথ  আমার ঘরের ঠিকানা আজও অভিন্ন রয়েছে ।


গন্ধর্ব

 নিজস্ব লাসের ভাসমান গান্ধর্বধ্বনি ও
অজস্র উপবাস সময় বেয়ে কালের পর কাল এগিয়ে চলেছি , আজও শুনতে পাই পাথুরে শব্দ ভেঙে আসা সিঁড়ির আড়ালে আমার শৈশবের গোপন তিন মাত্রার কান্নার আওয়াজ ,
তাই বিকেল হলে শ্বাস রোধী তারাদের পকেটে কুঁড়িয়ে একলা নদীটা র কাছে রোজ রোজ আসি ,
অথচ এ শহরে আমার বলতে নদীটা ছাড়া কেউ ছিল বলে মনে পড়ে না আজ ,যারা কথা দিয়ে ছিল সাথে থাকবে তারা কেবল রূপকথার দেশের রাজা রানী , আমি আজও রাত বিরেতে সেই দুর্বোধ্য অশ্রমিক জ্বরটায় ভুগি ,এখন সে আমার মাঝ বয়সী প্রেমিক বলা যেতে পারে ,
ডুবন্ত বিকেলে সারেঙ্গির একটানা সুর আমায় বেঁধে আনে সিঁড়ির শেষ ধাপে ,
তখন এক মাত্র সে পারে আমায় গভীর ক্ষততে ভরা সন্ধিক্ষন থেকে টেনে আনতে ,
তাই আমি আর এই একলা নদীই কেবল 
জানি কিছু  ঋণ কখনো শোধ হয় না ।



মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অনাত্মীয় হয়ে

তুমি দূরে ঠেলে ফেলেছ বলেই দেখো   সমস্ত টুকু আউল বাউল খাপছাড়া ;
তাই বহুদিনের বাসি কাব্য  পড়ে আছে অসম্পূর্ণ
মেলাতে পারিনা কবিতার সামান্য 
একটি পঙক্তি  শব্দরা আমায় শূণ্য করে গেছে ফিরে ,
তুমি ফিরে তাকাও না বহু কাল
তাই আমার ইজেলদানির থেকে  ঝরে গেছে দিনের আলো ,সামান্যতম স্নেহের অভাবে  আমি 
দীন দারিদ্র্য র মত কাটাই প্রতিদিন,

তুমি মুখ ফিরিয়েছ   বলে
চুপচাপ ক্ষয়ে গেছি বাইরে ভেতরের দেওয়াল,
 হয়ে গেছি নিঃস্ব
শুধু তোমার উপেক্ষা  আমার
পরাজয় মেনেছি এভাবে ,
এভাবেই সব প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নিজেই
হোঁচট খেয়ে শুরুতেই হেরেছি , 

ধীরে ধীরে  চলে গেছি  অজ্ঞাতসারে 
কাউকে বলিনি কিছুবুঝতে দেইনি এই গোপন
ব্যর্থতা, আমার একান্ত থেকে যাওয়ায় রয়ে যাক ,
শুধু আমি জানি 
 মুগ্ধ কিশলয় ফোঁটা না ছিল খুব কঠিন না ছিল সহজ ,

তোমার সযত্ন অবহেলার পরিচর্যা ব্যতিরেকে
 নিরাময় হয়েছে কখন পুরোনো ক্ষত 
না পাওয়া আর অস্থির করেনি কখনো,

তুমি ফিরে তাকাওনি বলে রৌদ্রদগ্ধ হয়ে গেছে
হৃদয়ের ঘন বনাঞ্চল 
এখন সেখানে পাথুরে বানজার জমি আর তুমি গোলাপের কথা বলতে ব্যস্ত ,
সেখানে  কেবল ব্যধি সাজে
গোলাপ নয় ,

 তুমি মুখ ফিরিয়ে  নিয়ে
এই গ্লানি এই পরাজয় আমার চিরন্তন করেছিলে,
দিনরাত্রি হয়ে গেছে উসকো-খুসকো,
এলোমেলোসঙ্গতিবিহীন যেন
ঝড়ের পড়ে এলোমেলো নাগরিক সভ্যতা ,

সবখানে থেকে যায় একটা না একটা ছেঁড়া তার 
সুরোহীন তচনচিয়া স্বভাবে ,
তাই আমাকে বেড়াতে হয় বেদুইন 
হওয়ার সাথে ঠিকানাহীন হয়ে ,


শুধু তুমি  ফিরে গেলে একলা করে 
 বলে রয়ে গেছি সবার পেছনে
কোথাও খুঁজিনি ঠাই,


একমাত্র তুমিহীনা হয়ে 
ভিতরে-বাইরে এক অপার ব্যর্থতা
শুধু একলা করে চলে গেলে বলেই
মরুভূমি  গিলে ফেলেছে আমায় গোগ্রাসে ।
……………………………………..

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আমার প্রতিবেশী

আগুন ছিল নিভু নিভু , আমি জল চাইলাম বাকি টুকু ছাই এর আশায় ,তুমি বললে আমি না হয় তোমার পাগল কবির মত নই , লিখতে পারি না তোমাকে নিয়ে ঝড়ো শব্দে কবিতা কিংবা কাব্য ,
তবু  নিতান্ত তোমার একলা পথে তোমার ফ্যাকাসে চাউনি কিংবা এলোমেলো চুলে আলগোছে রাখি হাতের ওপর স্পর্শ , তোমার রাত জাগা জানালার পাশে ঠিক তোমার মত একটি তারা হয়ে জাগতে পারি আমার কিংশুকে র পাঁপড়ি বিছিয়ে শুষে নিতে পারি কাঁটা পথ ধরে হেঁটে আসা তোমার ক্ষত পায়ের শ্রম , 
আমি তো চিরকাল মৃত্যুর বুকে মাথা রাখতেই ভালোবেসেছি তবু তুমি মৃত্যু সরিয়ে ফুল রাখলে হৃদয় সখা হয়ে , 
আর সব চাওয়া শেষের পথে মিশেছে জেনেও তুমি
ঝরে পড়লে আমার চরণ তলে ,
মনের ঘরে প্রতিবেশী থেকে মন রাখলে যত্ন করে ,
চাইলে না কিছুই কেবল হাঁটছ পায়ের তালে পা রেখে , অথচ সংগ আমার চিরকাল অবহেলাই করেছে ,  তোমার মালায় নেই গোলাপ নেই রজনীগন্ধা ,  অথচ কি নিদারুণ নিবিড় অনুভূতি যে অশোকে কিংশুকের আলিঙ্গন ,

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অবান্তর


ভেবেছিলাম হঠাৎ তুই এই শহরে

আমার চলা রাস্তা রুখে   

জাপটে ধরে বলবি, ‘আমায় 

যাচ্ছিস কোথায় একলা ফেলে,,

আকাশ ভেঙে   বৃষ্টি  তখন  ডাঙা মনের মোড়ে জল থই থই,

 গাল গড়িয়ে নামবে তখন ছায়ার মত বাসি কাজল,

জানিস না তুই, পাখিরা রােজ ওড়ে

আমার হয়ে ওই শহরে ক্লান্ত হয়ে

ডানার ভাঁজে মুখ ঘষে, বেশ কাউকে 

বোধহয় ভালবেসে ।
, ওড়না যখন শেষ রাতের আলো মাখে

এক মুহূর্ত থমকে কলকাতা ঠিক আমার মত

কেউ মনে হয় পথের ভুলে এসেছিল সংগ দিতে,

আমি বরং  সন্ধ্যা তারার অস্ত

রাগে একলা তখন কার যেন খুব বুকের কাছে,

বৃষ্টি থামে এই শহরে দুজন ঠিক খুব চেনা 

মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে ....  

 ‘ছিলি কোথায়? আমায় ছেড়ে!
আজকে একটা হেস্তনেস্ত  বুকের পাঁজরে গুঁজে রাখার, 

ঠোটের গায়ে ঠোটের গরম  আমার 

শহর প্রেমিক তখন
বৃষ্টি ভেজা মনের 

পারে রামধনু রং আমায় দিল,
মন কখনও দেখতে পারে

মনের যে কি বায়না হয় যখনতখন  
 সে  থাকে মনের মাঝে, শহর ভরা সব লোকগুলো আজ অবিকল ঠিক তোর মত, 

আসাইলামে ঘুমোতে  যাই সকাল হলে সেলাই করি প্রিয় শহর প্রিয় মানুষ এফোঁড় ওফোঁড়, পারি

নি একটাও নকশী তুলতে ঠিক ওদের মতন,

 চেনা যারা অচেনা আজ 

অচেনারা ফুলের তোড়ায়, নষ্ট নয় কিছুই 

হারায় না কিছুই, দেশ আছে দশ আছে শব্দ আছে লেখক আছে পাঠক আছে...... আমি  কেবল অবান্তর।        

পরের জন্ম

সমুদ্র আর সে জন মুখোমুখি তবু 
আগুন জেতে সব পুড়িয়ে,  হাড় পোড়া 
শব্দ গন্ধ বর্ন জড়ায় গভীর থেকে আরো 
নিচে, 
সবাই জানতে চায় বেঁচে আছি কিনা 
ভাল আছি কিনা,..... প্রবাহে কেউ মেশে 
না তেমন, 
প্রতিক্ষায় জমা হয় শেষের চিহ্ন 
আগুন ছড়ায় প্রতিবিম্বে, 
একে একে পুড়ছে সব,  দেখছি আমি 
হাতের ওপর ঠান্ডা হাত। 
যেকথা হল না বলা  সে সব থাক দোষের
খাতায়, এক জীবনের লম্বা সফর শুন্য নেই 
কেউ কোথাও, আমি না হয় অন্য কেউ বাতাসে তার গন্ধ বিলোয়, 
ভাবতে ভাবতে আগুন পোড়াই  খুব সহজে নিজের
শবে, 
পরের জন্মে পাখির বেশে, পরের জন্মে তৃণের বেশে, 
আর যা হই পরের জন্মে মানুষ নই।              

আরো কিছু

ঝরা পাতার উড়ন্ত শোক 
উঠোন জুড়ে ঘু ঘুর ডাক 
ধোঁয়া দিচ্ছে আকাশ উড়ান, 
স্মৃতিরা সব আড়াল হোক, 
যন্ত্র হবার নতুন সাধ 
একলা দুপুর একলা ফেরা 
ভীষণ চুপ সব কথারা, 
তার চোখ কেড়েছে নতুন ভোর 
মানুষ হারানো ভিড়ের শহর, 
যে মুখ হারায় সে মুখ দেখি
চতুর্দিকে অন্য মুখে,  
ঝরতে থাকা প্রতি পাতায় 
পারিজাতের প্রহর লেগে, 
বিশ্বাস হয়ে বিশ্বাসি নয় 
এমন ক্ষয়ে ফসল মরে, 
মরতে চেয়েও বেঁচে ওঠা 
নিজের জন্যে মাটি খোঁড়া, 
ভাষাহীন এই নির্বাক চোখ 
প্রশ্নদের এবার দীর্ঘ ঘুম হোক   ।     ।     

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঘরের ভেতর ঘরের ঠিকানা

 হাজার কুটুরি উঠন তবু একটাই 
এক কুটুরি আমার বাসের 
এক কুটুরি সে জন থাকে 
এক কুটুরি আসা যাওয়া
এক কুটুরি নিয়মিত 
এক কুটুরি আয়োজিত 
এক কুটুরি বাঁচতে চাওয়া 
এক কুটুরি প্রয়োজন 
এক কুটুরি পাল্টে ফেলা 
এক কুটুরি আপোষ করা
এক কুটুরি বেশ তো আছি 
এক কুটুরি আরেকটু চায় 
এক কুটুরি শব্দ খেলে 
এক কুটুরি শব্দ পড়ে 
এক কুটুরি দোল মঞ্চ 
এক কুটুরি নাটক লেখে 
এক কুটুরি রং মাখে 
এক কুটুরি রাঙিয়ে যায়
এক কুটুরি স্বপ্নে হাঁটে 
এক কুটুরি জোতস্না মাখে 
এক কুটুরি বৃষ্টি ভেজে 
এক কুটুরি ঢেউ গুনে যায় 
এক কুটুরি ভাল মন্দ 
এক কুটুরি সময় সাজে 
এক কুটুরি আলোর সাথে
এক কুটুরি নটরাজ 
এক কুটুরি  কালের স্রোতে 
এক কুটুরি চিতার গন্ধ 
এক কুটুরি চলে যায় 
এক কুটুরি নতুন আসে 
এক কুটুরি আস্ত জীবন
এক কুটুরি সন্ধ্যা একা 
এক কুটুরি একলা আকাশ 
এক কুটুরি বুকের ভেতর হালকা বাতাস 
এক কুটুরি অন্ধকারে শিকড় বেয়ে পাতালপথ
এক কুটুরি মুক্তি খোঁজে ঘুমের মাঝে 
সব কুটুরির পলেস্তারে নোনা হাওয়া 
ফুরিয়ে যাওয়া 
ফিরতে চেয়েও হোঁচট খাওয়া 
হাজার দুয়ার বন্ধ কর।            
                                                 

বর্ন চোরা

 পদ্ম বনে সাপের খেলা তবু সে ঘরে ফেরে আমার উঠনের এক কোনায়,  আসলে সে শংখচূড় তবু নাম দেওয়া হয় বর্ন চোরা, 
নামের ভুলে বী্ষের রং নীল থেকে হয় গোলাপ রঙ,  একদিন সন্ধ্যা নামে সংগ ছাড়া মনের মাঝে 
তুমি নামের অংগহানি,  
একদিন রংবিহীন এই মন গচ্ছিত হয় তাসের ঘরে, 
দু মুঠো রঙে লেখা হয় রুপকথার ফিনিক্সপাখির মত শংখ চূড় সাপের ঘ্রান এখন শহরের অলি গলিতে,  তুমি ফিরতে পারতে যেপথে সে পথে এখন আর মানুষ হাঁটে না মানুষের মত ছায়ারা আসে আর ফেরে, 
বহু কালের অভ্যাস সেই মেয়েটা উঠোনের কোনে দাঁড়িয়ে সব গল্পের সাক্ষি হয়ে ওঠে, 
সে মেয়েটা ভুলে গেছে শব্দের ব্যাবহার, 
সে শুধু ভোলে না সুতোর জালে সুতো ফেলে সময় বোনা, 
তার এক জীবন সে সাপের ঘরকন্না সামলায় আর এক জীবন সে শব্দদের হারায়, আর এক জীবন সে চুপ থাকতে শেখে, আরও এক জন্ম সে ছায়ার মত নিয়নবাতি তলায় খুঁটে চলে সমঝোতা স্মারক, 
বাকি জন্ম সে ঈশ্বর খুঁজতে চায়, বাকি জন্ম সে সমুদ্র মন্থন   গরল গলায় নিয়ে বীষ বৃক্ষের জন্ম দিতে চায়,  বাকি জন্ম সেই সাপের গল্পে একমাত্র চরিত্র হতে চায়।                         
 

যেতে দিই

যাকিছু ছিল স্বপ্নের মত তাকে রাখি কি যেতে দিই, 
যাকিছু ছিল নিতান্ত এক কোনায় লেগে থাকা তাকে রাখি কি যেতে দিই  ,  কেন নিজেকে থামিয়ে খানিকটা বোঝাপড়া সেরে নিতে    পারিনি, 
যাকিছু সামান্য এই থেকে যাওয়ায়  সেটুকু রাখি না মুঠো খুলে ফেলি!      
চলে যাওয়া সময় চলে গিয়েও কেন রাখে নিজের চিহ্ন , 
মাইল ফলকে কেবল তো অপেক্ষাই থাকে,  থাকে বিবর্ন পথ চাওয়া শহর এসে মেশে আরেক শহরের স্পর্শে  আগন্তুক বদলায়,  মনে রাখা ঘর গুলোয় আসে নতুন মানুষ,  এমন করে পুরোনো অভ্যেস ধুয়ে ফেলে আমি সে ও সখা,  
আজও আমি যখন শংখচূড়ের গায়ে নকশী আঁকায় মাতি  আমার মত বহু পরাগ হীন রেনু 
দু মুঠো রঙের খোঁজে কানামাছি খেলায় মেতে ছুঁয়ে দিতে পারে ভালবাসা নামক যন্ত্রনা, 
কেউ কেউ তখন ভাবে বাসি চাদরে লেগে থাকা আকন্ঠ নেশার গন্ধ বুঝি ধুয়ে ফেলা খুব সহজ,  অথচ বার বার এক না পারা ঘাপটি মেরে আমাদের বুকে জমি দখল করে,  আমারা ভাবি সিনেমা চলছে সিন বদলাবে,  
এমন অনেক ছেলে মানুষী অভ্যেস পাল্টে ফেলে সময় তবু আস্তিনে লেগেই থাকে সামান্য চুরি করা অংশবিশেষ,  এক হলুদ সকালে মিউনিসিপালিটি গাড়ি হৃদয়ে দরজায় দাড়ায় ভাবি বাকি টুকু নিতান্ত লেগে থাকাকে  যেতে দিই কি রাখি! একবার সাহস করে যেতে দিলে কি সামান্য ক্ষতি পড়ে থাকবে ... নাকি এও শুধু ভয়।                     

অজ্ঞাতবাস

 আমার সমস্ত আগুন  বন্ধক রেখেছি  কিংশুকের বনে, 
আগামী বেশ কয়েক জন্মের অংগিকারে আমি পলাতক হলাম দিয়ে আসা সমস্ত কথার, 
বলতেই পার আমি জোচ্চোর  বাকি সব কথা না রাখাদের দলে, 
আসলে আমরা সকলেই জানি কথা রাখা বলে সত্যি কিছু হয় না,  সময় সময় বদল হয় নদীর স্রোতের জল রাশি, 
নিভু নিভু আগুন শীতলস্নায়ুযুদ্ধ ছাড়ার আগে      বন্ধক রেখে দিলাম উত্তাপ টুকু, 
ছেড়ে যাওয়ায় এক মুক্তি ছেড়ে যাওয়ায় পাওয়া এক উন্মুক্ত আকাশ ছেড়ে যাওয়ায় সমস্ত দেহ মন হালকা পালকের ওজন, 
অথচ এই সামান্য মোহ তার হাজার নাম  বেঁচে থাকা, নিশ্বাস, ভালথাকা, ভালবাসা,.... কই এই 
রাজ গন্ডির বাইরে এত গিঁট  কিচ্ছু তো নেই, 
সব পাওয়া হয়ে যায় বুকের মাঝে সূর্য জ্বলে ওঠে 
পুড়ে যায় সমস্ত.... সমস্ত বেদনা, আর্তনাদ, সমস্ত দেনা লেনা,  নিজের ভেতর প্রসারিত রাস্তা বাহু মেলে আলিনংগনে আকুল,  
বাইরের সমস্ত জানলা দরজায়   লেগে থাকুক   গরাদ শোকের হাওয়া, গচ্ছিত রাখা থাক বাকি আগুন কিংশুকের বনে।  

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কাছে এসো না

খুব কাছে এসো না ঈশ্বর তুমি
যতটা দুুুরে থাকা যায় আর যতটা দুরত্বে ঈশ্বর প্রভাব নষ্ট না হয়   

বজায় থাকুক এতটা পারাপা,  

 
এ চোখ থেকে দৃষ্টির প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র পাখির চাহনি থাকা চাই বই কিছু নয়,    

 
এক পা বাড়ানো থেকে অন্য পায়ের সাথে চলায়

থাকে যেন আমুল ফারাক, ছায়া যেন ছুঁয়ে না ফেলে পার্থিব স্পন্দন   


অবিরাম বয়ে চলা মহা কাল অথবা সময় 

যে কাছাকাছির মাঝে বিন্দু খানেক দূরত্বও আছে
 অতো কাছে এসোনা কোন দিন ঈশ্বর তুমি,

তুমি থাক  দিব্যি  মেঘের বাড়ী, আকাশ কিংবা আলোর সারির মাঝে সুক্ষ্ম তার দৃশ্যত অদৃশ্য,  

তার চেয়ে বরং দূরেই থেকো
যেমন দূরে থাকে ছোঁয়া,  স্পর্শ
রোদ্দুরের বু্‌ক, থেকে উত্তাপ
শীতলতা, থেকে উষ্ণতা
, পৃথিবীর  ম্যাপে যেমন লুকিয়ে থাকে 

এপিঠের দেশ ওপিঠের দেশের সাথে
তেমন  দূরেত্বেই থেকে যেও-
কখনো  বলতে পারে না  যেন কেউ
 কাছা কাছি ছিলে বলে দূরত্বের পরিমাপ দিতে পারেনি তোমার পার্থিব ছিল যারা এই পৃথিবীর বুকে,   । 

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চিরন্তন সে

এই শব্দ চয়নের কারখানা   শুধুই  তোমার কথা ভেবে,
এ শব্দরা  মধ্যরাত্রে তোমাকেে খুব কাছ থেকে

লক্ষ্য করে  ঘুমের ভিতরে তুমি আমাকে ডেকে  উঠে, 

এক মুহুর্ত ভাবতেই পারো নিছক পাগলামি মন মন কেমন যখনতখন,    

 তখন আমার  প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর 

কিংবা যতিচিহ্ন   কেবল তোমার দিকে রাস্তা শুধোয়,

বিছানায় আমার নিঃশ্বাসের মতো নিঃশব্দ এই শব্দগুলো অথচ  কি প্রবল তীব্র তাদের তরংগ স্রোত, 

এই কবিতার প্রত্যেকটি শব্দ   শুধু
তোমার জন্য, এরা শুধু তোমাকেই চিনতে চেয়েছে প্রতি জন্ম, 

 জানি এসব শুনে আয়নায় তোমার ভয় পাওয়া চেহারা, 

তুমি ভয় পেয়ো না, , আমি বহু দূরেই থাকবএ জন্ম

ভর,

আমার ভযংকর স্পর্শ  তোমাকে ছোঁবে না,

কিংবা এই মাঝ রাতে আমার অসম্ভব জেগে ওঠা, তোমাকে বিব্রতও করবে না,  

  আমার সম্পূর্ণ আবেগ একান্ত আমারই

শুধু মোমবাতির আলোর মতো নিশ্চল,

.                          শব্দ ও অক্ষরেরা শুধুমাত্র কাব্যময় তোমার কাছে    

 এরা তোমার ঠোঁট স্পর্শ   করলে
তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারা রাত শুয়ে থাকবে এক বিছানায়  তোমার

সাজানো সভ্যতায় লাগবে না কোনো দোল  — তুমিও জেগে উঠবে না,  | এরা আমার আত্মা 

স্বরুপ,, 

মিশে থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো,

বহুদিন পর তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্নার জলের মতো. নিজস্ব চোখ তাকাবো  তোমার দিকে 

তুমি বা কেউ এ সংসারে   জানবে  না — তোমার সম্পূর্ণ শরীরে মিশে আছে  এক অনাত্মীয় 

আত্মা তুমি জানবে না,
আমার  অতি ব্যক্তিগত  প্রতিটি শব্দকে আমি আমার  অন্তর স্থলে   বন্দিজীবন দান করেছি যে।  

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ভালবাসা তুমি

 আমি ভালবাসার জন্যই  
সবচেয়ে বেশি বিব্রত আজ অবধি
ভালবাসা  নিয়েই এমন আহত
এবং অপরাধী, এতো অসহায়,
ভালবাসা  নিয়ে পালিয়ে বেড়াই
ভালবাসা 
 নিয়েই ব্যাকুল ফেরারী।
ভালোবাসা তুমি কাঁটা  হলে 
 এমন অভাব হত না তোমার জন্যে এ মনের,
ভালবাসা তুমি যদি  
মেঘ হতে তুমি সুদূর নীল আকাশে
তোমাকে দিতাম উড়ে বেড়াতে;
জল হলে তুমি সমুদ্র ছিলো
তোমার জন্য অসীম পাত্র-
মখমলি পোশাক   হলে তোমাকে রাখার
ছিলো আতর মাখিয়ে  সেগুনের আলমারির তাকে,  
এমনকি তুমি চোখের জল হলেও
বক্ষে রাখা কথা ভাবতাম, ঘাসে হলে কিংবা অচেনা বনের ফুল,
 
হয়তোবা হতো গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতার পাতা আমি রোজ কিনতাম,   
ভালোবাসা তুমি  হতেই পারতে
শংখ চিল তোমার দিকে তাকিয়ে
কাটাতাম আজন্ম,

 তোমারই জন্য এক বুক আকাশ
অনায়াসে হতো বাঁচার ছই!
কিন্তু তুমি তো  নও কোনো
মেঘ নও কোনো দূর আকাশের পাখি কিংবা  শংখ চিল 
ভালোবাসা তুমি অন্তর -বাস নও কেন?
তোমাকে গোপনে রাখতে চেয়ে 
শব্দ করেছি সব চেয়ে বেশি, 


খোঁপার বাঁকা পথে তোমার পথ যদি হত
ভালোবাসা তুমি কি অসম্ভব 
বিরক্ত হতে?  
কাজল চোখে যদি রাখতেম তুমি
স্বপ্ন রাখতে নাকি পাড় ভাংচুর গল্প   হতে!

আমি তোমার জন্য
পাইনি যা সে তো এক মুহুর্তের
শান্তি, 
এমন অশান্ত নাই বা করতে নাই বা বোঝাতে ভালবাসা এমন হতেই হয় আমি চিরকাল মন্দ বাসার দেশের বাসিন্দা তাই তোমার সাথে সমান্তরাল আমার চলা।  

এখন আমি

তার একটু দেখা পাবো বলে  অযুত    বছর দাঁড়িয়ে আছি
এই পৃথিবীর  চৌরাস্তায় শুধু  মাত্র একবার দেখবো তাকে,
শুধু তার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা আমার তপস্যা ছিল ছিল  ঢেউ গোনা  আর  প্রহর মাপা
কতো জল শুকালো দুচোখে কত  
শ্রাবণ  পার হয়ে গেলো, অপেক্ষা ঘুচলো না 
বলে আমি ফিরে গেলাম গাছ পালার
কোলে তাল তমালের বুকে অশোকে কিংশুকের
অভিসারে,
মাত্র এক ঝলক দেখার জন্য হদ্দ পাগলির মতো
দাঁড়িয়েছিলাম  আমি রাস্তার উপর
চক্ষুলজ্জা হীন হয়ে অনন্ত যুগ  ;
তার একটু দেখা পাবো বলে
জীবনের সবকিছু ফেলে এসেছিলাম

দাঁড়িয়ে ছিলাম মাঝপথে  ভিখারির  মতো
পথে পথে ছড়ালাম ফুল বিছালাম তৃণ ;
তাকে দেখার জন্য এই অনন্ত অপেক্ষা
দীর্ঘ পর্যটন, দীর্ঘ পথ হাটা পথে পথে ঘুরে মরা,
 একটু দেখতে পাবো বলে
সন্যাসীর  মতন আমি ঘর ছাড়া
পথের বাউলিনী ;
শুধু একবার তার দেখা পাবো
তাই অযুত  বছর  দাঁড়ানো অপেক্ষা 
আমি রেখে গেলাম,, ফিরে গেলাম মাটি ও 
জলের কাছে ফিরে গেলাম যেখানে সব স্পর্শ
মূল্য হারায়, যেখানে কোন অপেক্ষা  থাকে না, 
 যেখানে  আমিই আমার চুড়ান্ত প্রেমের কারন, যেখানে ভালবাসা দুহাত বাড়িয়ে নিজের ভেতর সেঁধিয়ে নিয়েছে এই অনন্ত মহাকাল,আমি নিশ্চিন্তে সেখানে রাখলাম আমার বাকিটুকু আস্তিনে রাখা জন্ম।           

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অনেক দিন হল

বুকের মধ্যে বহু দিন আর সেভাবে বৃষ্টি নামে না, নৌকা  সামলাবার বৈঠাটা আমি তুলে
রেখেছি চিলেকোঠায় 

কূল ছেড়ে আজ তাই অকূলে যাইনা
  সম্বল হারাবার ভয় নেই কাছাকাছি তার আর 
– হয়তো  ভয় ছিলো বৃষ্টি আসার  ছিল 
যখন  আগে দিন গুলোয়, 

 আজ শুধুমাত্র পোড়োবাড়ির   স্মৃতি
 আমার আমার পায়ে রক্তের চিহ্ন
শুকিয়েছ তাই বুঝি আজ বহুদিন আকাশে
মেঘের সাথে বৃষ্টি নামা যেন রুপ কথা,    
বৃষ্টি  যখন  নামত আমি উঠোনে  একা একা ভিজতাম তোমায় মত কেউ আমার 
পাশে অবাক হয়ে লিখতো কাব্য আমার দৃশ্যে 

 মেঘে-বৃষ্টিতে আমাতে শিউলি আর বকুল গন্ধ মাখানো তখন , 
তোমারই মত কেউ সেই গন্ধে কলম ডুবিয়ে
লিখছে আকাশলীনার কথা  আরো এক তোমার মত কেউ    ভিজিয়ে নিয়ে  আকাশ-ছেঁচা জলে
মেঘ মল্লার সুর আঁকতে ব্যাস্ত,  
সেদিও কি সত্যি কেউ ছিল তোমার মত কেউ
নাকি তুমি নেই বাহিরে- অন্তরে মেঘ করে
ভারি ব বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে
পড়তে পড়তে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে নামত 
,ফিরে আসত না তুমি অথবা তোমার মত কেউ, 
আমার সমস্ত ঋতু দের আমি তাই ছুটি দিয়েছি কবে ঠিক মনে পড়ে না, 
শুধু আজ বহু দিন আর সেভাবে বৃষ্টি নামে না বুকের ভিতরে ও বাইরে।     

ভাঙন

সে দিন যখন ভাগাভাগির কথা হল আমি 
চুপচাপ থেকেছি কারন বেচেঁ ছিলাম, 
তাই নদীটাকে ভাগাভাগি করে নাম দিলে নতুন
আমি চুপ থাকলাম, 
পাহাড় টা ছিল ভিষণ প্রিয় সেটাও করলে খন্ডিত, 
এভাবে প্রিয় গাছগাছালি, মাছেদেরকেও
 ধীরে ধীরে ভাগাভাগি করলে,   
আকাশ টা ভাগাভাগি করলে আমার কিছু বলার শব্দ ছিলো না, পাখির মত মন কে রেখেছিলাম বুঝিয়ে,
তারপর কাঁটাতারের বেড়ায় ভাগ হল উঠোন আর রান্নাঘর ভাগ হল স্নান ঘর আর বৈঠকখানা, 
আমি চুপচাপ দেখেছি পলকহীন ভাবে, 
ভাগ করতে করতে দেওয়াল ফুঁড়ে অনাত্মীয় হলাম হলাম বিভুঁই,  তোমার মারাত্মক শব্দ এজলাস পেরিয়ে আমার আওয়াজ কখনোই পৌঁছাতে পারবে না জানতাম, তাই প্রতিবাদ ছিল না এ তরফে,      
এক দিন আচানক এসে বললে তোমাকে ভাগাভাগি করে নিতে.... বললে সামাজিকতাপালন করতে হবে এবং সাফ জানিয়ে দিলে মেনে না নিলে অন্য পথ খোলা আছে..... 
......সেদিন আমি চুপ থাকিনি আবার কিছু বলতেও পারিনি শুধুমাত্র তোমার বলা অন্য পথে পা বাড়িয়েছিলাম।                           

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পাশাপাশি

বহুক্ষণ হল তারা 
পাশাপাশি 
 চুপচাপ, একবারও চোখ তুলে সেতু
পারাপার হল না গত বারো
ঘন্টার বেশি, অথচ তারা পাশাপাশ,   
আলাদা  আলাদা  বাক্সের ঘরে রয়েছে শুয়ে, 
  

পুরোনো তেল চিত্রর মত,,
প্যান্টের নিচে ওয়াইল্ড ক্রাফট এর জুতো , পাশে শাড়ির পাড়ে
বালুচরি স্বপ্নর জমাট বুনুন  
এপাশে বোতাম খোলা আকাশ সমান বুক,  কাল পেরোনো কামানো দাড়ির হালকা আধার  


 
পাশে  কোঁকড়া এলো চুল
, বুকের নীচে কিছু
আদুরে নগ্নতার কথকতা,  
 পায়ের শব্দ,  কারা যায়
কারা ফিরে আসে সনাক্ত 
এখনো হল কই 
বাতাস কে কেউ জাগায়নি সম্বিতে  আজ, রোদ গেছে  পাহাড়ের ওপারে তাদের বাড়ির ঠিকানা রাখা যে প্রান্তে, 
আপাতত   ওরা দুই মানুষ-মানুষী
নয় দুটো বডি  ওদের এ পৃথিবীতে এই মুহুর্তে সম্পর্কের চেয়ে বডি বলতেই সাবলীল,     
দু‘খানি মাচা  স্তব্ধ, একজনের ঠোঁটে  জ্বলন্ত সিগারেট এর আধবাসি গন্ধ 
অন্যজন ঠোঁটে থেকে হাসিটুকু মুছেও মোছে না
আঙুলের বন্ধনে অটুট বন্ধনী , চুলের কিনারে চলে যাওয়া বাতাসের কাল ভৈরবীর সুর   
বন্ধ চোখে  শুধুই  স্তব্ধতার বিনিময়,
সময় ভিখারী  কি রাজা  কে তার বিচারক হয়ে আসন নেবে
অথচ সময়ই জানে, কথা আছে, ঢের কথা আছে ঢের কথা বাকি থেকে গেল ঢের বাঁচা বাকি থেকে গেল..... বাকি থেকে গেল  একটা ভালবাসার "ভাল -বাসা", 
ওরা দুজন পাশাপাশি বহুক্ষন 
অথচ কেউ কাউকে দেখছে না চেয়ে, ওরা দুজন পাশাপাশি বহুক্ষন তবু একটা কথাও ওদের কে কেউ বলতে শোনেনি,
একদিন বলেছিল ওরা এক সাথে পাশাপাশি শুয়ে আকাশের সব কটা তারার নাম ধরে ডাকবো, 
তবে ওরা কি সেসব কথা আজ ভুলে গেছে একেবারেই, ওরা পাশাপাশি বহুক্ষন তবু ওরা চুপচাপ।           

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গুপ্ত কথা

 মাথা ঠান্ডা রেখে  ফিরিয়ে নিলাম পথের বাঁক
 হাসির আড়ালে কান্না , , রুমালে আতর মাখিয়ে পথ বদলালাম, 
চামড়া জ্বলার গন্ধ, আসতেই দেখলাম
ঘড়িতে রাত আটটা  বাজলো
অথচ তোমার আসার সময় পেরিয়ে গেলেও
ডাক দিলাম না কেন ? নিজের  কাছে জানতে চাইনি।
 কাল পরশু হয়তো এমনি করে হাজার হাজার
দিন  দেখা হবে না  
জেনে বিদায় নিলাম বললাম না আসছি ,- রক্তবর্ণ   ভেজা  বাতাস ও   তোর মনের  মধ্যে,  সাঁকো ছেড়ে আসার সময় মনে পড়লো-  ঠিকানা ও  বদলানো দরকার, যেমন আমার প্রতিটা চাল চলনের মুহূর্ত গুলো বদলেছে,
হাল্‌কা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আমি অদৃশ্য  হয়ে বহুদূর হেঁটে যাচ্ছি প্রাণহীন,  গোধূলি তারপর রাত্রি,  তারপর বাড়ি তারপর দরজা তারও পর অন্তঃপুর...

*************
বহুবার পেতে চাই, তোর পুরোনো ভবিষ্যৎ কিংবা আমার নতুন অতীত অথবা
তোর নতুন অতীতের মধ্যে, আমার পুরোনো ভবিষ্যতে  গুঁজে রাখা দৃশ্যগুলো,
কিংবা কোন এক মহেন্দ্র ভৈরবের ভোরে আমাদের
অতীত ভবিষ্যত বিলীনক্ষণ যা রূপকথার মত ,
 তোর নিঃসঙ্গতা,  তোর অপেক্ষায় সময়
হাসে  যেন স্বপ্ন  বদলের, বন্ধুহীন  
পাল তোলা নৌকাদের ঘরে ফেরার
 দলের তুই গোধূলির  আড়ালে প্রেম ও প্রেমহীনতা, দুঃখ ও দুঃখের মতো  দীর্ঘ সময় পর করিস,,
অসম্ভব কোনো 
নির্জন  দুপুরে হঠাৎ  আমি  পথ
চলতি ব্যস্ততায়
তোকে ডেকে উঠবো তুই 
শব্দ নগরীর আদিম কোনো রাজার ভূমিকায় 
তখন ,,, পুরোনো আমার নামের সব
অক্ষর আমি সেই সময় 
 দেখতে চাই  তোর ঈশ্বরচোখে
একশো আট পল্লব কাঁপে আমার  বাতাস লাগে হৃদয়ের ঘুলঘুলিতে
অথচ তুই  শুনতে পাস না 
পড়তে পারিস না একটাও  আমার নামের অক্ষর
 জন্মের পর জন্ম ধরে, পরাজয়ের
বুকে পুরোনো তুই শোক রাখতিস একদিন

আজ সেখানে  মৃত্যু, স্রোতে সব বদলে 
দিয়েছে ,  আমিও  যে আমার নয় সেদিন বুঝতে পারি প্রথম বার
  দৌড়াতে দৌড়াতে আমি আবার 
কোন এক শূন্যে মিলিয়ে যাই  মুহূর্তে।

ক্রমশ

পাথরের মতো স্থবির বেদির নিচে  চিৎফাটা 

মাটি,  শেষর দিন গুলোর বৃত্ত সেখানে চিরতরে ঘুমিয়ে,

লোক চক্ষু থেকে দূর বহুদূর আমাদের সাম্রাজ্যের ভার থেকে  আমরা নিয়েছি ছুটি  বহু মাস

কাল দিন ,

হলুদ দিনাবসানে পরিকীর্ণ শব্দটির মোহে
 কখনো কখনো আবার প্রেমি হতে সাধ হয়,

তখনই আয়নায় দেখি আমার চোখের নীচে কালো দাগ আর সম্বিতে কেউ বলে ওঠে এত 

দপ করে জ্বলে ওঠা হৃদয়ের পুরনো বারুদের

ছাই নয়তো আর কি ?

মোহের থেকে মুক্ত নিচু জোৎস্নায় সিংহাসন থেকে নেমে এই  মন অন্ধকার পুঁতে রাখে  সমস্ত

অনুভব যেখানে বিশীর্ণ হাত কাদার ভেতর খোঁজে বলির  স্পর্শ ,

আমাদের অতৃপ্তি বড় দীর্ঘশ্বাস বিষদৃষ্টি নিয়ে

এই মৃত শহরে মাটি খুঁড়ে রাজ বস্ত্র খোলার

পর মিশে যেতে চাই ...চাই থেমে যেতে ,

কারণ আমরা এই পৃথিবীতে বরাবর দুর্বোধ্য ছিলাম

আছি থাকবো ,

নিয়তি বদল করার আশায়, আলো-ছায়া-আলো ঘোরে নিভৃত সানুদেশে নিজেদের চোখ বেঁধে কোমল গান্ধারে মেতে থাকি ,অথচ সত্যিটা কেউ মেনে নিতে পারি না কখনোই।

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ওরা

ওরা হৃদয়ের কথা জানে না  জানে না বাউলের সুরে লুকোনো ব্যাকুলতার কথা ,ওরা কেবল যন্ত্রণার বিকিকিনি করে ঘরে ফেরে ,ফিরে এসে টেলিভিশনে দুনিয়াদারী গড়ে ভাঙে  মন্দির মসজিদ গড়ে খবরের পাতায় ,রাত বাড়লে 
নেশা ওদের শরীরের জাগে দেশ কিংবা রাষ্ট্রে কে ধর্ষণ করার প্রবল প্রবণতা  সকালে ওরাও রাস্তায় মুখ বেঁধে মৌন মিছিলে সামিল , ওরা ধর্মতলা কিংবা মিনারের সামনে ভাষণে উড়িয়ে দেয় ধুলো,
গঙ্গার মত পৃথিবীর সব নদী ওদের কাছে কেবলই বিসর্জন এর পথ , ওরা জন্ম আর মৃত্যুর সূক্ষ অন্তরের রাখে বুড়ো বটের সহস্র ঝুরির মত শোক ,
ওরা কিছুতেই মেনে না প্রস্থান মানেই চলে যাওয়া নয় ,আগুনে পুড়ে মানুষের দেহ সে কেবলই পোশাক বদল বই কিছুই নয় তাই তুমি আমি বদলাই না ,
ওরা কখনো সমুদ্রের ঢেউ আর জল কে এক ভাবতে জানে নি , দুনিয়া দারির কাঠি নাড়তে গিয়ে কবেই ওরা ভুলে গেছে নিজেদের জাগাতে ,ওরা প্রেমে মশগুল প্রেমিক প্রেমিকার কথোপকথন শুনে জ্যামিতিক ভগ্নাংশ করতে থাকে মানুষের চেয়ে বড় ওদের কাছে সামাজিকতা নিয়ম ,
ওরা কখনো বুঝবে না জগতে হলে আগে নিজের ভেতর ,বদলাতে হলে আগে নিজের বদল , যন্ত্রনা বিক্রির থেকেও যন্ত্রনা আগলে রাখার ,প্রেমের বিকৃতি না করে ভালোবাসা শিখতে হয় ,
ওরা কোনো দিন বুঝবে না তুমি আমি কিংবা আমাদের মত অযুত জন  অঙ্গীকার এর যুদ্ধ করছি  যুদ্ধ করছি নতুন করে পৃথিবীর সাথে মানুষের পরিচয় টুকু মুখোমুখি রাখতে ,পারছি কই ? পারবো কি ? 
ওরা যে আজন্ম অবুঝ থাকতেই চেয়েছে ।

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মানুষ

মানুষ তুমি আগুনের থেকেও নিষ্ঠুর  তোমার
সন্ত্রাস রাখে না কোন বয়ে যাওয়া সময়ের চিহ্নমাত্র
মানুষ তুমি গড়ার চেয়ে বেশি উল্লসিত হয় চুরমার করা ধ্বংসে তোমার সামিয়ানায় নেই আকাশ বাতাস  কেবল বিরান খাঁ খাঁ ,যেন কিছু অবশিষ্ট থাকতে নেই ,
আগুন তবু ছাই টুকু রাখে ফেলে তার 
বিনাশে থাকে কিছু সীমারেখা , মানুষ তুমি পুড়িয়ে
ফেল যাবতীয় সঞ্চয়  তুবু তুমি মানুষ  আগুনের থেকে কম তো নয় । মানুষ তুমি আগুন নয় কেন 
মুঠো ছাই তবু বলে নানা স্মৃতি কথা ,মানুষ তুমি আগুন হও ।

ম্যারিওয়ানার মত

রক্তমাংসহীন শূন্যতা নাভিমূল ছুঁয়েছিল
                                          
অতীত অক্ষরে গুলো, ভাসিয়ে দেওয়া অলখিত
শর্ত এ শহর কিবেই ছিনিয়ে নিয়েছে 

 এখন পাতাঝরার কথা ছাড়া  সে
অন্য কথা বলে না .....
তারপর বৃষ্টি এলে ঘুম ধুয়ে যাওয়া সেতু
হারিয়ে যায় অন্ধকার টানেলে ,
অচেনা পাথর ছুটে এসে রক্তাক্ত কপালে
ভাগ্য  লিখে যায় ,
আমাদের সমস্ত অভিপ্রায় চেতনাহীন হয়ে 
গেছে , চিঠির খামের মুখ নিঃশব্দে কখন বন্ধ করেছি নিজেরাই , ভালো থাকতে আর কোন সেতুর উত্তর নিজেদের রাখার প্রয়োজন নেই ,
কেন জানি মৃত দেহ বয়ে চলেছি পরস্পরের ,
হয়তো সব  মৃত্যুর মত এই মৃত্যুও  জানলেও মানছি না কেউই ।

জমি

 জমির মালিক নই আমি

শহর আর সে জানে  জানে এখানের কংক্রিট,

সমস্ত খাজনা ,পাতি সব দিয়েও জমি পেলাম কই

আমি  ওঘরের মালিক  নই  

তবু আমার উদযাপন থামে না ,

আমি ভাসি দরিয়ায় , গান বাঁধি আকাশের তারায়

জড়িয়ে নিই ঠান্ডা বাতাস , তারপর আমার আসে

অসুখ  হবার ঋতু , পাতা ঝরে মরে যায়

বেঁচে থাকা গাছটা , সে আসে শুকনো পাতায়

রঙ  মাখিয়ে সেলাই করে গাছের শাখে ,

আমি ফেটে পরি অট্টহাসিতে  ………

  পরের জায়গা পরের জমি আমি কেবল

বোকার মত ঘর বানাই    সে ঘরের

মালিক কোন দিন নই আমি,

ঘরখানা তার জমিদারিতে   রাখতে দেয় না

সামান্য ছেঁড়া আস্তিন ,রাখতে পারিনি নিজের আসাড়

দেহ,

 একদিন ফসল ফলবে বলে খাজনা পাতি সবই দিয়েছিলাম

তবু নিজের মাপের মত জমি যে পেলাম  না ।   

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিসর্জিত

 

 বিসর্জনের পর  জেনেছি

একদিন পুজো হয়েছিলো এই খড় মাটির

লেপনে , একদিন হয়েছিল প্রান দান,


আজ তাই অন্ধকারে ফিরে ফিরে

খুঁজি সেই পুরুষত্তম যে
অকাল বোধন ডেকে এনেছিল

মাটির পরে ,

তারপর চোখ চুল হাসি কথা
টুপটাপ অন্ধকারে খসে পড়েছে

বাড়তি আত্মার কাছে জেনে নিইয়েছি

কাকে বিসর্জন বলে

জেনে নিই কে কার প্রতিমা ছিল একদিন,

আজ কাকে প্রান দান করে পুরুষত্তম ,


বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সময় অসময়

সময় জানে একদিন খুব কাছে ছিলাম 
ছিলাম কারো চোখের বিস্ময়
এখন সে চোখের খুব গভীরতায়
 আমার শবে র এক বর্ণহীন দাহ-
ছাড়া আর কিছু অবশেষ কই,

হৃদয়ে  লুকিয়ে রেখে সমস্ত অবহেলা 
মুখে শুধু এঁকেছে সে  এক সুদূরের অচেনা হাসি ,
এখন সমস্ত বেলায় আমি একটা ঘুঘুর ডাকের 
মত তার কাছে , 
 আবাসহীন বাউল এর মত
 একতারাটি 
ছিলায় সুর বাঁধার অঙ্গিকারে
আপন মনে বাজিয়ে ফিরি
 যে  শহরে  একদিন ঘর বেধেছিলাম ভালোবাসায়,
 
আত্মগত  এখন আমি আবার
নিজের কাছে প্রশ্ন করি
নিঃশব্দের এমন রাতে বুকের মাঝে
শব্দ কেন? শব্দ কি তবে 
কালো ঘোড়ার ক্ষুরের ? নাকি আমার 
নিয়ম ভেঙে অনিয়মের ভুলের মাশুল?

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

আত্মিয় হীন

কাল সারা রাত আমার প্রানহীন শরীরটা গঙ্গায় 
ভেসে বেড়াতে দেখেছি, অথচ  একজন সম্পর্কও এসে শেষ বিদায় জানায়নি  , 
কাল সারারাত সিলিং ফ্যানে আমার প্রানহীন দেহটা একাকি ঝুলছিল আজ সকালেও সে একা 
অথচ  একজন সম্পর্ক ও আসেনি আমার ঝুলন্ত দেহটা 
জড়িয়ে দুফোঁটা চোখের জল ফেলতে, 
কাল সারারাত আমার কাটা  শীরা থেকে গড়িয়েছে
সমস্ত দেনা পাওনা,  অথচ একজন সম্পর্কও কাছে এসে আমার হাতটা হাতে নিয়ে বলেনি হিসেবের বাইরে আমি তোমার জন্য ছিলাম অপেক্ষায়, 
কাল সারারাত জল্লাদের ছুরির কোপ  আমার কলিজা মহতসবে টুকরো টুকরো যন্ত্রনা বিঁধেছে, 
 অথচ একজন সম্পর্কও এসব দেখে ডুকরে ওঠেনি, 
কাল সারারাত আমি পৃথিবীতে অন্তত একটা মাত্র সম্পর্কর খোঁজে এদিক সেদিক পাগলের মত দৌড়ে গেছি..... অথচ আমার ভিষণ ভাবে বিশস্ত নিষ্ঠা সম্পর্ক ছিল বলেই জানা ছিল, জানতাম আমার মৃত্যুতে নিদেন পক্ষে একফোঁটা চোখের জল আর 
মুহুর্তেরর হাহাকার আমাকে সম্পর্ক কাছে খুঁজবে,, 
কাল সারারাত আমার ভাসমান শরীর, ঝুলন্ত দেহ, 
শিরাকাটা দেনাপাওনা হীন লাশ, এমন কি টুকরো কলিজা, বড় অনাত্মীক বেওয়ারিশ প্রমাণিত হয়েছে,   অবাক এই  না পাওয়ায় কোন দুঃখ
নেই তবু আমার,  আমি বার বার চেয়েছিলাম দুঃখ পেতে ,চেয়েছিলাম দুঃখে অভিমানে বিদীর্ণ হতে
অথচ আমার যৎসামান্য  একান্ত অনুভূতি
আমার দুঃখরাও না জানিয়ে কবেই আমায় ছেড়ে গেছে।