সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৯)


পরিত্যক্ত কারাগারের রোজনামচায় রেখেছো
তোমার গল্পদের কথা,  
সুবর্ণা তোমার ফেলা আসা পথেরা ভুলে গেছে
তোমায় চোখের আদলে সে চোখ হিমালয় অভিযানে
ঢাকা... ভালবেসেছ কি না জানে না তোমার কোনো
অধ্যায়,  লোমকুপের ঘ্রানে নীলাদ্রির অভিশাপ... 
উষর ধুষর ঘুমকেড়ে নেওয়া রাতে সিলিং জুড়ে  কাকে
এঁকেছো রাতের পর রাত,  
তুমি বল মৃত্যু শব্দটা আগাগোড়া ভুল, 
আমি বলি খয়ে যাওয়া স্বপ্নদের  নাম মৃত্যু,, 
আজ দুরত্ব বেড়ে স্বপ্নরা আর গায়ে গায় ছুঁয়ে
নেই,  রঙ মেখে অচেনা তোমার সেই এক টুকরো
আমি..... 
অভাব গুলো মুড়ে ফেলেছো তোমার অহংকারে
... তাই আমায় ছুঁতে চাওনা,  আমি রাত এঁকে রাখি
চোখের কিনারে... তুমি হেঁটে যাও নিয়ম মেনে, 
পড়ে থাকি পরিত্যক্ত হয়ে      কারাগার বন্ধ করেছি
নিজের হাতে.....হারিয়ে গেছি তোমার উপন্যাসে
কেবল অক্ষর হয়ে..... 
......(সুবর্ণা প্রিয় খয়েরী রঙ

বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৮)


মেঘ আসে আমাদের আকাশ জুড়ে,
হারানোর শোকের রঙে  ধুয়ে চলে
যায় একে একে প্রিয়   মুখ, প্রিয় শৈশব
প্রিয় চোখ, প্রিয় প্রেম,....  প্রিয় নাম  বিহীন
ফুল..., খেলার মাঠ, 
না বলা  কত  মোহ  আকাশের বুকে
লুকোনো ,  আয়নায় লুকোনো তোমার
মুখের মত অবিকল নিজের ছায়া,  
 ভিষণ রকম ঠিকানা বিহীন ঝরা পাতার
এলোমেলো বাদামী ইজেলদানি... 
ঘুম আসছে এবার একবার ফিরে দেখো
সুবর্ণা আমাতে উইপোকা’র ঘর বুনন  শেষের
দিকে,,,    ভেজা মন রাখা  পারিজাতের অগোছালো
বিছানা চাদরে।       
 
       

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৭)

----------------------------  

আলোর রোশনাই সজ্জায় বুকফাটা
ছটফটানি লুকোতে চাওয়া বৃদ্ধ মন
কেমন,,  আমি কই একমুঠো তোমার
অন্তরে.... জীবন এইরকম সব
পেয়েছির দেশে কান্নারা  নিশুতিরাতে
একাশুয়ে থাকে সমুদ্রের  কিনার জুড়ে, 
অধিকার খুঁজতে হোঁচট খায় পেটে 
লাথি মারা   প্রেমে,  
তুমি চলে গেছো পরবাসে আমি ভুলে
গেছি প্রথম সহবাস, 
এখন বুকের ভেতর ফুঁসতে থাকে বেঁচে
থাকার যন্ত্রনারা, 
তোমার কবিতায় অজস্র মানুষের
ভিড়  সে  ভিড়ে আমিও অভিন্ন,
আজন্ম মেঘ হতে তাই সাধ আমার,  কান্নারা
বুকে থাকুক, তুমি   থেকো সুবর্না অন্যপারে
আমার সমস্ত অন্তরহংকারে তোমায়
কবরিত করে আমি ফিরে গেলাম 
আরো এক অন্ধকার পৃথিবীর
উদ্দেশ্যে ......, 
.......সুবর্ণা  প্রিয় যন্ত্রনা,     

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৬)


 উপকুল জুড়ে চরিত্র দের ভেসে থাকা, কেউ বলে
অসংগত কিছুটা হলে ক্ষতি কোথায়... 
সবাই তো এক নয়,  মাটির ওপর অবিরাম
ফসলের আবদার বুক পেতে বিলিয়ে দেওয়া
ফিকে গোলাপি থেকে নীল রঙ,  যখন  এসেছিলে
নীলকণ্ঠ হয়ে তোমার গলায় লেগেছিল সময়ের বীষ,
যারা কথা রাখেনি তুমি তাদের নিয়ে একে একে 
সামিল করেছ নটরাজের নৃত্যে, 
কোনো এক শতাব্দীর ঘুমন্ত বুকে তুমি গুছিয়ে
রেখেছো তোমার গুপ্ত  রূপের  স্মারক,, 
তোমায়  দেবতা হতে দেখেছি ,  তোমায় শিশু হতে
দেখেছি, দেখেছি নাগরিক ভিড়ে হারিয়ে 
যাওয়া তোমার মুখ.... 
চরাচরে ছড়িয়ে গেছে দীপান্বিতার আলো... 
সুবর্না প্রিয় ছায়া হয়ে থেকে গেছো অন্তরমহলের
নিঃশব্দে,, 
........সুবর্ণা প্রিয় ছায়া,        
          
            
      

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

উপকুল জুড়ে

সব মনে রাখা ইতিহাসের বুকে চুম্বন
ক্ষত হয়ে যায়,  প্রেমিক এর বুকে দংশনে
ছেঁড়া গল্প... প্রেমিকার যোনিতে আগুন...,, 
এ কবিতা প্রেমের শবে পরানো চাদর, 
শেকল ভাংতে বলতে একদিন তুমি যখন
প্রেমিক হতে চেয়েছিলে শুধু, 
আজ তোমার বুকের পাঁজরে মরে যাওয়া
ইতিহাস, আর প্রেমিকারা সবাই  অনাহুত
ছায়া, 
তোমার গল্পে সোনার হরিণের সিতা হরন....
আমার গল্পে উসর ধুসর বাঁশিওয়ালার কথা,
স্বাধীনতা কেবল মেঘেদের দেশে,  রাতের সিলিংএ
ব্যার্থ প্রেমের মিলন, ঘন নিশ্বাসে পাশে ষড়রিপুর বাস, 
করিডরে নিকোটিন ঠোঁট....নির্ঘুম রাতে খোঁজে সে
রাক্ষসী মেয়েটাকে বুকের কাছে। 
যন্ত্রনার হাজার শব্দ কানের ভেতর হুহু বাতাস
এর মত তুমি হয়ে বইতে থাকো,, 
আমার মত ভবঘুরে  ছায়ারা তোমার মত শরীর
খোঁজে, শেষে  শ্বেতপাথরের ফলক নামায়  সময়ের
জন্ম ও মৃত্যু লেখা থাকে বেঁচে    ,,,   
                
             

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৬৫)

-----------------------  
বুকের ভেতর ফুঁসতে থাকে বিদায়ে মনখারাপ
চেনা তুমি দাঁড়িয়ে আশ্চর্য অভিধান খুঁজে নাও,
 এই মাত্র এক চলকান হাওয়া এসে ছড়িয়ে  গেল
প্রান বায়ু, সুবর্ণা তুমি জিয়নকাঠি হয়ে প্রান
প্রতিষ্ঠান করে  যাও,  আমি হেরে যাওয়া স্বপ্নদের
বিষন্ন হতে বারন করি,,
 ভেবেছি কতবার তুমি
যদি জোনাকি হয়ে বড় ভালো হত, 
হৃদয়পুরের খামার বাড়িতে তোমায় রাখতাম
গোপন তোরোনে  ,
মাখতাম তোমার  রোশনাই যখন তখন, 
চুপ কথা কাল সব অভিমান ভুলে মন্দিরা 
হাতে নিজের খেয়ালে পথ হারিয়েছে, 
তুমি ফিরেছ আবার কোনো মুমূর্ষু হৃদয়ের
দুয়ারে... অবিরাম তোমার আসা যাওয়া সে
বিস্ময় আমার চোখের আলো, 
ভালো থাকুক তোমার জোনাক হয়ে জ্বলে ওঠা, 
ভাল থাকুক তোমার ভেতোর অভিমানী খসড়া, 
এভাবে থেকে  যেতে পারে বাকি আকাশের
সব নক্ষত্রগুলো তোমার ভেতোর আমার সাক্ষর
হয়ে। 
........সুবর্ণা প্রিয় জিয়নকাঠি,                        
                 

বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

যে ভাবে সীমানা আঁকে

------------------- 
 
প্রতিরাতে ঘুমের ওষুধ... যেমন বেঁচে থাকার
অপেক্ষা....... তেমনই  ঘুমের , 
এখন ভালোবেসে সাথে থাকা খানিকটা
প্রতিধ্বনির মতো,, 
কত বার তো একটা গোটা পৃথিবী এঁকে ভাসিয়েছি
কাগজের নৌকায়....... কোনো এক নতুন দেশে
উষর ধুসর বাঁশিওয়ালা হয়তো সুর পাঠাবে এই ভেবে , 
একখন্ড চরের ওপর দাঁড়িয়ে সদা তোমাকে
বলেছি৷  ভীষণ ভাল আছি...... অথচ
পায়ের নিচের মাটি অজান্তে দূরত্ব বজায়ে
ব্যাস্ত..........সামাজিক তাগিদ, 
আগে যেভাবে কাছে চাইতাম ---এখন
সে সব চাওয়া বৃদ্ধ হয়েছে,  হলেও হয় না, হলেও
হয় গোছের,, 
আজকাল তোমার পৃথিবী পাছে টলমল না করে 
আমি পা টিপে টিপে ফিরে আসি নিজ খোলোসে.....
নতুন চরিত্র আঁকি ভেতোর বাইরে, 
প্রতিটা শেষ  হয়ে  যাওয়া দিনের প্রান্তের পিঠ
ফিরে চোখ ঢেকে  তরঙ্গর মত মিলিয়ে যাই..... 
কখনো কখনো ভেতোরে ভেতোরে বিপ্লব জন্মায়
ইট সুরকি ভেঙে ধ্বংসের মাঝে নিজে পোড়াতে
থাকে  নিজের শব..... তার পর হাসতে হাসতে
ছায়ার দিকে হেঁটে  যাই,, 
তুমিও এক বৃদ্ধ বিকেলে হেলান চেয়ারে এভাবেই
নস্টালজিক  শব্দ আঁকড়ে আমাদের মত নষ্ট
জন্মের সাক্ষী আঁকবে জানি.... সে সব কবিতার
শরীর জুড়ে  ভৈরবী নদী আর চর জুড়ে
স্বেচ্ছা মৃত্যু।                               

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

এক আকাশের নিচে

------------------- 
মুঠোয়  পৃথিবী   তবু সরে যায় ক্রমশ
পথ,  প্রতিবার বেঁচে  থাকা প্রতিটা নিশ্বাসের
মাঝে জরুরী দায়বদ্ধতা, আর মেনে নেওয়া
আপোষ শৈশব থেকে বৃদ্ধ হয়ে যায় ,  
মন তুই কার কথা শুনিস?  এমন অজুত প্রশ্নের
অজুহাতে কালকের সমান্তরাল পথ দুটো
হারিয়ে যায় সম্ভাব্য ভিড়ে,, 
জল দিয়ে আঁকা ঘরের ওপরে রোদ
এসে মুছে দিয়েছে অন্তরমহলের ইচ্ছাদের,
তুমুল স্রোতের কাছে হেরে গেছে প্রতিটা
প্রেমিক কবির প্রিয় কবিতা , 
প্রতি রাতে হয়রানি বেড়ে ওঠে,
    সাথে থাকা আর পাশে থাকার অন্তর্দাহ,, 
বয়স বাড়ে অপেক্ষার....বটের শেকড়ে সাথে
আমি র মত সহস্র ব্যর্থতা মরে যায়... কোনো
কলম সে আর্তচিৎকার শুনতে পায় না,
ঘরে ফেরা অভ্যাস তাই চৌকাঠ পেরোনোর
আগে    বন্ধ করতে হয়    হাজার কুটুরী ঘরের
দরজা, 
ভালোবাসা আর যাপন কখনো একি ক্যানভাসে
আঁকা যায় না,  বারংবার   বৃথা    খরচে মন ভোলানো
যেতে পারে..... আপোষ এ নিশ্বাস যে অভস্ত্য।                    

  

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯

শেষ রাতের নক্ষত্রদের গল্প----------------------------

----------------------------     
উত্তরের বারান্দায় এখন ফুরিয়ে যাওয়া
রাতের নক্ষত্রদের রাখা চিরকুট, আলতা
পায়ে পায়ে এগিয়ে অচেনা চায়ের কাপে
মন্দবাসার আরও একটা অধ্যায়, 
কুয়াশা আঁকা   প্রেম  ছবির ক্যানভাসে
হাত সেঁকা ভালবাসা একটু উষ্ণতার খোঁজে
বাকি ঘুম আগলে রাখে,,,   
হঠাৎ দেওয়ালের ছবি বদলে
যায়,,  চেনা  বিশটা বছরের ইট সুরকি
  হাসতে হাসতে রঙিন প্রচ্ছদে সেজে ওঠে, 
আমার ভয় পাওয়া চেহারায় ছিলো পুরোনো
শোকের ছায়া,  যে কথা হারিয়েছে দুটি
ঘাটের মাঝে একলা কোনো ক্ষীণ স্রোত...গভীর শোকে,,   
 এমন নির্ঘুম রাতে স্বপ্নের মত সমুদ্র ছুয়ে
 ফেলে সেই স্রোত আর আকাশে মিশে যায়, 
ক্লান্ত আমি নস্টালজিক পাতা
উল্টিয়ে ফিরে আসি ….মনের ভেতোর স্বপ্নরা
গুনগুনিয়ে "থোড়া সা রুমানি হো যায় "
উত্তরের  বারান্দা আর একটু পরে চাঁদ 
ঘুমিয়ে পড়বে..... নির্দিষ্ট  সময়ে উনোনের
ধোঁয়ায় এখন চোখের সাথে মন জ্বলে
উঠুক  হয়তো কোনো উপন্যাসের শেষের
দিকে একটা ঝড় আসবে পাতা জুড়ে....।         
   
                                            

বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯

দলছুট

----------------------------  
মাথার ভেতর ছন্দপতন
বুকের ভেতর বাঁচতে চাওয়া 
রুপকথারা বাঁচে মনের ঘরে,
কাঁধে কাছে  রাখা মেঘলা মুখ 
 খুঁজে নেয় জমানো পুঁজি,   
বেলা শেষে ফেরার পালা
বিসর্জনে প্রেমের মালা,,  

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা(৬৪)

--------------------------- 
 মন্দবাসাকে এবার যম ছুঁয়ে দিক
আমার আতোর মাখানো বাসর অপেক্ষায়
আছে,  মন্দবাসা এবার আমার কবরে
চিরনিদ্রায় থাকুক আমার শব ভীষণ একা, 
সব শোকের হিসেব এক নয় সুবর্ণা একদিন
তুমিও বুঝবে, অস্তপারে  নদী থেকে
কিছুটা দূরে তোমার বেঁচে থাকার বাতাস
এখন বিসাক্ত,  তাই এই ঝুটো ঝগড়ার বাহানা, 
আগামী বাহাত্তর  ঘন্টায় তোমাকে খুঁজেছি
আমরণ তৃষ্ণাত্বের মত,  বলতে চেয়েছি 
আমার সমস্ত প্রবাহ এবার শুকিয়ে আসছে,
পরের বর্ষা কিংবা শীত তুমি হয়তো আমি বিহীন
ছেঁড়া চাদরে চেনা আঘ্রাণে... আর দীর্ঘশ্বাসে মিশে
থাকা আফসোসে..... 
তোমার লাল নীল প্রজাপতি
আমায় আজো আনন্দ দেয়,
তাই মন্দবাসার আড়ালে তোমায়
কেবল ভালোবেসেছি,, 
আর যে সময় নেই হাতের মুঠোয়, 
এবার মন্দবাসাকে যম ছুঁয়ে দিয়ে
যাক, আতোর মাখানো বাসর অপেক্ষায়... 
তোমার পাওয়া শোক শতাব্দীর
প্রেমে কিংবা স্নেহময়ী জন্মধাত্রির
কাছে.... বহুবার বলা শোক এবার
আমার একন্ত হোক,,
 আমার মত যম ছুঁয়ে দিক  তোমায়
সুবর্ণা,  আর কেউ তোমায়
তারপর ছুঁতে পারবে না
তুমি কেবল আমার...সুবর্না
তুমি এবার একান্ত আমার 
এবার তোমায় যম ছুঁয়ে দিয়ে
যাক..... আমি এক অনন্ত
অপেক্ষায় এই কবরের নিচে
 ভীষণ একা..........
............সুবর্ণা ( প্রিয় মৃত্যু)                
   
            
                      

মন চায়..

---------------------------- 
ভিজে যাওয়া চোখ  তবু ভালবাসতে
মন চায়..... 
নাই বা হল সাথে থাকা তবু ভালবাসতে
মন চায়.... 
অকারনর কারন অভিমানী চিঠি তবু
ভালবাসতে মন চায়..... 
শীত জড়ানো একলা রাত আমরণ,
তবু ভালবাসতে মন চায়....    
বার বার ঘরে ফেরার নামে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
তবু ভালবাসতে মন চায়.....
ভেজাচিঠি ঝুটো হাসি, নেই অভিযোগ  চির
অবাঞ্চিত প্রেম ,  তবু ভালবাসতে মন চায়... 
কাঁধের রাখা চিবুক মেঘে ঢাকা  তবু ভালবাসতে
মন চায়....      

হাত থেকে হাত বহু শতাব্দি দুরত্ব   , তবু
ভালবাসতে মন চায়...... 
 রুপকথা না হয় একালা বাঁচবে চেনা পথে,  
তবু ভালবাসতে মন চায়..... 
দূরে দূরে রেখে দাও আমরণ তবু ভালবাসতে
মন চায়....
আমরণ ভালবাসতে  মন চায়
মন্দবাসার গল্পদের.....,,,।   
.   


 

অবাঞ্চিত

----------------------------------  
হারিয়ে যাক  এ নিঃস্বতা
হারিয়ে গেছি তোমার কাহিনির
পাতা থেকে..... অবাঞ্চিত শব্দের
মত, 
কুড়িয়ে নিয়েছো ব্যাস্ততম নিজস্বতা
কোনো স্পর্শ রাখতে চাওনি তাই
দীর্ঘ স্তব্ধতা আমাদের পথ, শুন্য দুটি
হাত আর দারুন কোনো  অবাধ্যতা
মন কেমনের বায়না..... আয়না তুই হয়ে যা, 
ভেসে যাক অন্তরপক্ষের রক্তক্ষরণ, 
হাজার ঋনে পিশে যাওয়া আবেগ
আর না ফেরা আলোর ঘরে... 
কেবল হারিয়ে যাওয়ার সুরের  
ভিড়, আমি চিরকালের অবাঞ্চিত
 বাড়তি খরচ.... সময়ের অজুহাতে 
সব দীনতা কেবল আমার নিজস্ব।  


    
   

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৯

গোপোন কথা

----------------------------   
স্নানঘরে বাষ্প আয়নায়
লেগে থাকে শোক ফিকে করে 
ফেলে.... ঘরের ভেতর অন্য শোক
চিরযৌবন হয়ে থেকে যায়, 
ফুলের মালায় বাড়ন্ত তাচ্ছিল্য
পাঁচিল আঁকে নিজ নিজ গ্রহে, 
 কখন যেন ফুরোনো অভিমান কবর 
থেকে উঠে আসে,  হাতে তার চিরকুট
"মন একলা চল রে ",  চোখে
ফ্ল্যেমিংগো  প্রপ কান্না  লুকোয়,, 
নেই পাওয়া নেই হারানো....শুন্য
দিয়ে নিজেকে ভাগ করে রোজকার
মঞ্চ সাজানো.............. ... ...
তোমাকে বুঝি না প্রিয় বোঝো না
তুমি আমায়.......বদলহীন 
এমন করে না জানি কত না
গরাদ শোক ঘরে একসাথে 
বাস করে,, 
আসলে সবাই মৃত, মাছি বসা 
শব কলের পুতুল হয়ে বাঁচতে
চায়...... সত্যিটা বলা যায় না 
তাই মনের ভেতোর হাজার কুটুরী
ঘর বাঁধতে হয়,,,।      

জলটোপ

---------------------------- 
কোন সে মুহুর্তে কানে কানে
ফিসফিসিয়ে উস্কানি দেয়  বোবা টানেলে
রাস্তা খোঁজার,  তবু বেঁচে থাকা অভ্যাস 
সব মনমানি মেনে হাসি কান্নায়
কোথাও কম কোথাও বেশি বইতে  থাকা, 
সেতার এর তারে চোখের ভাষা
ফুপিয়ে লুকোয় চেনাশোনা জিনা, 
সারাদিন  কেবল  আসা যাওয়ায়
মেলা হৃদি থেকে  হৃদি....   
ঘরে ফেরা রাস্তা একলা
নিয়নবাতি আগলে বাঁচে 
আমরা কেবল ভীষণ রকম
একা থাকতে ভালবাসি..... 
       
      

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯

ফেরারী মন

---------------------------- 
হঠাৎ মনে পড়ে  তোকে ইচ্ছে
হল ছুট্টে যাই তোর  ওপরে আছড়ে পড়ি 
নামটা মনে করতে মুহুর্ত লেগেছে,  
ইচ্ছেটা উত্তাল হয়ে ঝড়ের মত
আমাকে আছড়াচ্ছে.... 
"না উমর সীমা হ্যায় না জন্ম কা
হ্যায় বন্ধন, যব প্যায়ার করে কই
দেখে কেবল মন " 
পারলাম না তোর জানালায়
রোদ্দুর হয়ে ফিরতে.... মাঝ
বয়সি সূর্য এখন আমাতে, বাড়তে
থাকে ক্রমশ রক্তচাপ.... তোকে বলতে
পারিনি যে  খেলার ছলে  সে খেলা কখন
যেন সত্যি হয়ে গেছে,  
কয়েকবার চেষ্টা করেও তোর সামনে
দাঁড়াতে পারলাম না,,, ছেড়ে আসতে গিয়েও
কোথায় যেন তুই আমাতে আটকে আছিস
নিজস্ব গন্ধ হয়ে.... কোনো একদিন দেখা হবেই
রাস্তার চায়ের দোকানে কিংবা হাজার ব্যাস্ততার
ভীড়ে.... তুই চিনবি না আমায় আমিও হয়তো
চেনা কোনো   অবিকল ভেবে ফিরবো নিজেদের
পথে..... 
তুই মনে রয়ে গিয়ে ফিরে ফিরে
আসবি এমনই আনমনা বিকেল
দুপুর অগোছালো সন্ধ্যায়... বুকফাটা
ছটফটানি হয়ে,, তোর কাছে যেতে
পারিনি কখনো আমার মধ্য
আকাশ সূর্য বলে....                 
           

নিখাদ কোমল

----------------------------  
নিখাদ কোমল সুর দরকার ছিল
অথচ প্রতিবার ভুল খোঁজ
আর  অন্তহীন ভাংচুর গল্প জুড়ে,,, 
বুকের ভেতোর উঁকি দেওয়া রোদ্দুরে
মাথা রেখে ঘুমোতে ইচ্ছা করে,  ইচ্ছা করে 
বুড়ো বাউলের হাত ধরে দিগন্ত
জুড়ে একটা বাড়ি বানাই সেই
বাড়িটার নাম হবে "নিখাদ কোমল"
সব নদী বয়ে যাবে ভালোবাসা
ছুঁয়ে.... 
গভীর রাতে ভাংচুর সব মাটি
দিয়ে ঘন কালো মেঘ গড়তে
গড়তে সকাল হবে যখন 
কে যেন জল ছিটিয়ে বলবে
ওই শুনতে পাচ্ছিস চেয়ে দেখ
রোদ উঠেছে ছবি  আঁকবি কখন... 
সব রঙ তো ব্যাস্ত হয়ে হারিয়ে যাবে
হাজার ভিড়ে,, ঘুম চোখে সেই
বাউল কে খুঁজি  যার গান শুনে
আমার ইচ্ছে করছিল রোদ্দুরের
বুকে মাথা রেখে শুতে ইচ্ছে করছিল
দিগন্ত জুড়ে একটা বাড়ি বানাতে
আর নদীর ইচ্ছা করেছিল তার সব
জল শুধু    সে আমাকে দেবে সমস্তটুকু
আমার..... 
আজ ফের দেরি হয়ে
গেল অফিসে পৌঁছাতে,, 
ইচ্ছেরা এমনই হয় প্রায়শই
স্বপ্ন লেগে থাকা মনের কাছে
ঋনি হতে থাকে।      
   
             
         
  

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯

অন্তঃক্ষরন

------------------- 

অন্ধকারে অন্ধকার ঘষে গিয়ে
যখন ক্ষতগুলোয় মাছি ভন ভন
করে,   তখনও বলতে নেই ভালবাসার
বিস্তারিত......, 
মাছের ঝোলে ভাত মেখে নিদেনপক্ষে
ভালো থাকায়  আমাদের নগর বেঁচে, 
মাঝে মাঝে তবু শুকোতে দেওয়া 
ভালো থাকাটার অজুহাতে বেরিয়ে
আসে ছেড়া ছেড়া পোশাক,  চোখ
ফেরালেই অসুস্থতা ধরা পড়ে, 
নগরসংকীর্তনে সামিল আমাদের
আশ্রয় অথচ ভালবাসা কেবলই
পরকীয়া হয়ে বেড়ে ওঠে সমস্ত
অন্তরমহলে...... কখনো মুঠোফোন
কখনো উড়োচিঠি,  পায়রার ঠোঁটে
সুগন্ধি প্রেম লেগে... সেটুকুই যেন  উৎসব,,
যে মুহুর্তে তোমার জন্ম সে মুহুর্তে 
আমার মৃত্যু তবু ফুরিয়ে যাওয়া
নেই কোনোখানে, নেই হারানোর ভয়, 
  এখন অভিমান গুছিয়ে ফেলার
 সময় হয়েছে সময়...
হয়েছে নিরবতায় শব্দ খোঁজার, 
নিয়নবাতি নিভে গেলে খোঁজা
যেতে পারে বাকি আলোটুকু,
যেটুকু রাত বাকি ঘুমিয়ে নেওয়া যাক  ।                


                   

মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৯

সমান্তরাল

তোর বারান্দায় যখন আবীরখেলা
সন্ধ্যা নামে শরীর জুড়ে আদুরে ওম
অন্য কোথায় ভাত ফুটছে কাটের জ্বালে 
কপাল জুড়ে ভাগ্য লেখে কাঠের কালি,, 
চাঁদের আলো রবির গান হাতের মাঝে
ক্যাফেচিনো,তখন তুমি টাটকা কবি
হৃদয় জুড়ে দখিন বাতাস, 
অন্য কেউ মত্য মাতাল স্বামীর হাতে 
অধিকারে থেৎলে থাকা মাংস দলা ,
বুকের ভেতর ছলাৎ ছল গল্প কাঁদে,
এমন রোজ নুন ফুরোনো পান্তা ভাতে
লংকা মেখে আজ ফুরোয় কালের পথে
তোর ঘরেও বড্ড অভাব মন ভালো নেই
ভাতের পাতে ঘি নেই আজ,  তেমন করে
হয় না ঘোরা বেশ কিছু দিন.... অফিস ঘর
...ঘর অফিস, অভাব নেই সেও  তো অভাব,
ভাল থাকার সাত সতেরো মিলমিলান্তে 
সমান্তরাল.... খাতার পাতা উলটে দেখ 
তুই  আছিস ভীষণ ভালো  .... ভালো আছে সেও,।        
  
          

জীবন ডট কম

----------------------------  
গোপোন নদী উধাও এখন ভাল থাকার 
অভিসন্ধিতে, তোর শরীরে কেবল
মৃত গন্ধ ,  প্রেমের শবে বাসি 
ফুলের নির্জাস চোখে ঘুম আঁকে.... 
কারন ছিল সারারাত থেৎলে যাওয়া
কাজলের ব্যারিকেডে রাতজাগা পাখিরা
আসরে মাতোয়ারা,,, 
সাতবা ঘোড়া নিয়ে ভোর রঙ
ক্যানভাসে নিজের স্মারক আঁকে 
পাগলা দাসু..... বাকি সকলের অভিনয়
এখনো  অনেকখানি কাঁচা, 
টেবিলের ঘ্রানে রোজকার লেনদেন,
সংকেত  দেয় অপেক্ষা কখনো
ফুরোয় না, ..... প্রৌঢ়বয়সী প্রেম
কথা দেয় বৃদ্ধ হবো একসাথে, 
নদী কথা দেয় থেকে যাব সমস্ত
প্রবাহ জুড়ে..... কেবল নীলকন্ঠ
পাখিটা বলে যায়নি আমি  আসবো
ফিরে,  সব সুগন্ধি রুমাল যখন জীর্ণতার
স্বীকার মৃত গন্ধ যখন অন্য পৃথিবী.... 
নীকন্ঠ পাখিটা এসেছিল ঠোঁটে ছিল
বীষ ফল....., সেদিন হেরে গেছে প্রেমের
সব কবিতা।  
                    

রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা(৬৩)

----------------------------
আজ কাল আমাদের মন জুড়ে
 বাইশে শ্রাবণ  সংকেত দেয় আরো
প্রাচীন কোনো পাথরের বুকে টিপ টিপ
কুয়াশারা শুয়ে আছে,  হঠাৎ তুই
মুঠো জল ছুড়ে নদীতে কাঁপন দিলি
স্বপ্ন ভঙ্গর মত,, 
এখন তুই বাঁধন খুলে ফেলেছিস.... 
পিঠের সেই নীলাভ নখের আঁচড়টাও
কোথায় যেন গুছিয়ে রেখেছিস সাবধানে,, 
সুবর্ণা বলতে পারিস আমি তবে দুচোখ বুজে। 
তোকেই কেন ছুঁয়ে যাই ক্ষনে ক্ষনে.... 
আজ মনে হয় তুই একদিন পতঙ্গর
মত কিংবা খসে পড়া তারার সমগোত্রীয় হারানো সময়... 
হয়তো সমুদ্রের মাঝে নীরব ঢেউ... 
বুকে অগ্রন্থিত অক্ষর পুঞ্জ আর নীল রঙ....,, 
.........সুবর্ণা প্রিয় বাঁধন

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৯

প্রিয় লেবু ফুল

----------------------------   
কেমন আছিস সুজন, না গুনলেও
বছর কুড়ির বেশি হল তোর চোখে
আমার প্রিয় রঙ দেখা... 
ও চোখে চৈত্র ছাড়াই কোনো
হাফস্কুল দুপুরে ছিল সর্বনাশ, 
হাতচিঠি পেয়ে সামনে তুই ছিলিস না...
দু কি তিন লাইনে কি যেন অচেনা শিহরণ
লিখে তুই উধাও হয়ে গিয়েছিলি.... 
আমি তখন সদ্য শীতের রোদ পোহানো
দুপুর বেলা, অবাক তখন একমুঠো
প্রজাপতি আমায় ঘিরে,   
, ক্লাসে উল্টো দিকের বেঞ্চে সারাক্ষন
ঘাড় এগিয়ে পিছিয়ে দুটো চোখ
যেন পাহারায় মজুত,  আজ দূর থেকে
ভিড়ের মধ্যে তুই ঘাড় ফিরিয়ে দেখছিস
নিরাপত্তার খুটিনাটি এখন তোর ঘাড়ে 
দশইঞ্চি বেল্ট বুঝিয়ে দেয় জীবন আর
সেদিনের মত হালকা পালক নয় তুই উধাও
হতে পারবি না হঠাৎ করে,, 
 জানিস সুজন লেবুগাছটা আজ আছে কি নেই
জানি রে ... তবু তার প্রথম
গর্ভবতী ফুলের আঘ্রান এতো বছরে
একি সতেজ এই হৃদয়ে ,, যেমন চোখ বন্ধ করলেই
তোর বুকের কাছে একখানা মুখ আর দু গাল
বেয়ে অভিমানী তিরতির নদী ভীষণ রকম
জীবন্ত,,  তোর নিশ্চয়ই এসবের একচিলতেও
মনে নেই, এখন তোর সুঠাম দেহে পূর্ন বয়স্কার
হাজার খানের স্তর.... আগের মত হাসিস এখন
কথায় কথায়,  এখন কি তুই রোজ
বিকেলে খেলতে বা খেলা দেখতে
বেরোস ? নিশ্চয়ই  না এখন কি 
হিসেবের খাতার নয় সতেরো মেলাতে
গিয়ে বিকেল গড়ায় মধ্য রাতে, 
আমি কিন্তু সময় পেলেই ছাদে
ফিরি মেঘ দেখতে... তোর মনে আছে 
আমি একবার বিকেলের মেঘ দেখে 
বায়না করে ছিলাম ঠিক ওই রকম 
রঙের জামা পরবো,  নিজের হাতে রঙ
মিলিয়ে বানিয়েও ছিলাম মেঘরঙের জামা
তোর সে কি হাসি.... আমায় তারপর বহুদিন
পাগলি বলে মাঝে মাঝেই ডাকতিস, 
এখন তুই এমন কোনো নাম করনের
সুযোগ পাস?  নাকি এখন মেঘ কেবল
বৃষ্টির সংকেত,     আরো আরো কত কথা
এই আজ তোকে দেখা মাত্রই যেন মাথা তুলে
দাড়িয়ে বলছে আমরা ফুরোইনি 
সময় ফুরিয়ে গেছে নতুনের সাথে
আলোর মেলা আসা যাওয়া সব এই
ভীড়ে একাকার,,, আলো সরিয়ে
আজো সন্ধ্যা তারাদের সাথে লেবু ফুল
গর্ভবতী হয়, আজো  ঘুমিয়ে আছে 
প্রিয় আর  পুজা নতুন 
মেঘেদের আড়ালে,,           

বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

তোমাকে ছুঁয়ে

----------------------------   
মনের ভেতর হু হু বাতাস বইছে
হাড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর স্রোত হঠাৎ
তোমায় খুঁজতে আকুতি নামছে বুক
বেয়ে,  দেওয়ালে টাঙানো সব কটা
ছবি থেকে একে একে উধাও প্রিয়
মন, প্রিয় সময়, প্রিয় নদী, প্রিয় গাছ, 
এমন কি আমার দখিনের জানালা
সেই প্রিয় পাখি যে রোজ আসতো 
নতুন নতুন গান নিয়ে,  হঠাৎ করে
সব উধাও..... পুরনো চুনসুরকির
সাথে ইটেদের রুক্ষ সম্পর্ক ফ্রেম বন্দী, 
এত কিছু হয়তো বা সইয়ে নেওয়া যায় 
তুমি নেই সকল জুড়ে মন কেমনের  তুমুল জ্বর
আমাতে মিশেছে কখন যেন, 
রবিঠাকুরের গান তখন রিংটোনে 
সখী ভালবাসা কারে কয় সে কি কেবলই
যাতনা ময়...... হ্যালো কি করছিস? 
তোমার গলার স্বরে দেওয়াল জুড়ে আলোর
রোশনাই.... আমি উৎসব মুখরিত কেবল
তোমার কারনে,,            

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯

মুর্শিদ

............................ 
আমার কলমের নিবে ঠিক
যেদিন প্রথম শব্দর গর্ভবতী
সে দিন থেকে তুমি আমার সকল
লেখার মুর্সিদ,  হাওয়া বদল হয়েছে
হাত বদলও হয়েছে সেই সবুজ ছড়ানো
  গাছটা পথের পাশে এখন দুহাত মেলে
আকাশের দিকে ফ্যালফ্যাল করে সারাক্ষণ
কিছু বলতে থাকে... ক্যেয়সি পেহেলি হ্যেয়
জিন্দেগানি......
কেউ বলে অসংগত কিছুটা
কেউ বলে অতি দার্শনিক....
আমি বলি তোমারা সময় কে
চেনোনি , বাস্তব জানো না, 
জন্মের পর বেঁচে থাকা আর মৃতু
গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ভলে হয়তোবা
পিঠে   পিঠ ঠেকিয়ে,  শুধু মুখোমুখি
হয় না তেমন ভাবে....  
এমন প্রতিটা জন্মের কাছাকাছি
একজন মুর্শিদ যদি পাওয়া যেত.....
তবু যাকিছু হাতের নাগালে নয়
তাই বড্ড বেশি আর্তি ঝরায় 
প্রানের মাঝে,, 
আজ এই কোনো কবিতা নয়
প্রতিটা বাঁচায় সামান্য হলেও যে
অমৃত থাকে সেটুকু গরল এর পাশে
রেখে আরো কিছুটা জীবনের সাধ
নেওয়া..... আর নিজেকে চিমটি
কেটে দেখা আমি এখনো জীবন্ত.।        
             
     

সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯

যন্ত্রনা

----------------------------  
ক্রমশ মেরুদণ্ড বরাবর যন্ত্রনা
বাড়ছে, ঘুরে দাঁড়ানোর সমীকরণ
বদলে যাচ্ছে.....বদলেছে চোখের
ভাষা বাই ফোকাল  নতুন চশমা
সব ঝাপসা  , হামাগুড়ি
দিয়ে শরীর মুড়ছে জ্বরায়। 
আমি চুপকরে পুড়তে দেখছি
একটার পর একটা মৃতদেহ, 
একটা  মৃতদেহে পুড়ছে শৈশব
একটাতে ইচ্ছা, কোনটাতে যৌবন
খুঁজে পাওয়া উত্তাল ভালবাসা.... 
এভাবে একে একে ছাই রঙের 
মেখে সুখ, দুখ, সম্পর্ক, মন, 
নিশ্বাস,  কিছু পরে সমস্ত  বর্তমান
হয়ে যাবে  অতীত ঐতিহ্য, সম্বলিত
 মৃত মিছিলটি   শেষে কচলানো কান্নার
নোনা হাওয়া সেও মিশে যাবে শহরের
ভীড়ে.....,,  সময় ছুটছে যন্ত্রনা বাড়ছে
পেনকিলার আর ঘনানো মৃত্যু রোজ
অপেক্ষারত বাসস্ট্যান্ডে, তুমি জানো
তবু বাঁচতে ইচ্ছা করে ভীষন রকম,,  
লুকিয়ে বাড়ি ফেরা কাঁটাতারের বেড়ায়
ফালাফালা  রক্ত গড়িয়ে বেঁচে থাকার বুক
গড়িয়ে নামছে রোজ,  রোজ জোকার এর
খেলায় মন ভোলানো, একদিন গোলাপি
ভোর আসবে     একদিন মেরুদন্ডের যন্ত্রনাটা
আর থাকবে না,  এমন কত কি অসমীকরণ 
এমনটাই থাকবে রে মন...... মন ঠিক তোমার
মত যন্ত্রনার আমাকে জড়িয়ে ভালোবাসার
মন্দবাসার খেলা খেলতে থাকে, 
আমি চুপ করে দেখতে থাকি সব
দৃশ্য ইচ্ছে হয় পাগলের মত হেসে 
উঠি অথচ আমার চোখ তখন শুধুই
যন্ত্রনা।        
                                
        

রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৯

সময়

---------------------------- 
কার্তুজে লাগানো সময় আর 
সময়ের ভীষণ তাড়া যেতে হবে
আলোকবর্ষর পথে,, 
সময়ের বুকে কেউ হাসছে কেউ
কাঁদছে, ষড়রিপু বয়ে চলেছে খরস্রোতে, 
এমনি কোনো সময় ভাসানী কূলে
সাঁজুরুপাই  পাশাপাশি কাহিনী
মন্থনে বিভোর হবে,  নতুন চরিত্রের
ফেরার কথা ছিল নতুন নগরে, তারা
আজ সময়ের চালচিত্রে নির্মোহ  ,,  
 অচেনা  রাস্তার ধুলাবালি ঘেটে
ইচ্ছামৃত্যু তখন সামাজিক প্রটোকলে
বন্দি, নায়ক বলল বহু কাজ পড়ে আছে
এ মঞ্চে ... পথ বদল করো স্বপ্নদের,  আমায়
ফিরতে হবে সাতপাকের ঘরে  , তুমি ফিরে
যাও তোমার পুরোনো খোলোসে, 
তার আর ফেরা হয় না কারন সময়
লেগেছিল ছুটন্ত কার্তুজের মুখে, 
সুনীল বাবুর কলম তখন অভিমানি
কবিতায় খুঁজে পায় "কেউ কথা রাখে না.... "
আসলে সময় বদলায় আয়োজন মতো বদলে
যায় অংকর হিসেব, কাল যা-কিছু প্রান বায়ু
অন্য আর এক কালে তা বিসর্জনের ফুল,, 
তবু বয়ে চলা  উপকুলে উৎসবের রোশনাই
মনকে বাঁধে ক্ষনিকের সুখের মত দুঃখের মত
......শুধু আসা যাওয়া.....,,                              

শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৯

আগুনের পরশমণি

আগুনের পরশমণি
+++++++++++++++++ 
তোর দহনগুলোয়  বৃষ্টি নামুক এবার, 
আর না হয় কিছুটা সময়, যা-কিছু
পুরোনো কুরোনো সমস্ত জুড়ে তোর
যত দহন.... বৃষ্টি ভিজুক, 
তোর খটখটে শুকনো  জমিতে
ভরে  উঠুক সবুজের সমারোহ
আতসবাজি আলো তোর মনের
আনাচকানাচে সব অন্ধকার মুছেদিক
,,চির সখা হয়ে তোর সাথে আপোষ করুক
সুখের কথারা,,  বৃষ্টি নামুক তোর সমস্ত
দহন জুড়ে.... একদিন মেঘ কেবল তোর
হবে দেখিস তোর হাসিতে রামধনু রঙ আঁকবে
আকাশ বুকে, রাতের  বুকে সব জোনাক তোর
অধিবেশনে যোগ দিতে দিতে বলে উঠবে 
আজ থেকে তোমার সমস্ত অন্ধকার আমাদের
কাছে চির বন্দি করেছি,  একদিন
তোর সমস্ত অঙ্গিকার চিরকালের
জন্য তোর হবে.... একদিন তোর দহনগুলো
ভীষণ রকম বৃষ্টি   ভিজবে, বুকের বারুদ ধুয়ে
যাবে শীতলাক্ষর জলে..... একদিন তোর দিনগুলো.....,         

বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯

সুবর্না(৬২)

নিয়ম করে বাড়তে থাকি শিরায়
শিরায়, সব নিয়ম মেনে মন
থাকে আত্মগোপোন করে, 
সুবর্না সমদ্রের নিচে ঘুমন্ত
কোনো  কম্পাসে মত এখন
এই পৃথিবী দিক শুন্য,  জং ধরা
মনে হয় নিয়মিত আয়োজন, 
রোদ্দুর নেই উত্তাপ.... অর্ধেক আমি
মৃত, অর্ধেক  ঘুনপোকার সংসার,, 
এই আমি কে জানা নেই কোথায় 
ঠিকানা, কোথায় হেঁটে চলেছি আজন্মের
তৃষ্ণায়, সুবর্না  পারো না দিক শুন্য কম্পাসে
দিক নির্নয় করে দিতে.... কিংবা জানিনা কি
চাওয়া ভীষণ দরকার, সবুজ শ্যাওলার 
জালে জড়িয়ে নিজেকে দেখতে অদ্ভুত লাগে,
নিজেকে চিমটি কেটে গড়িয়ে নামা কান্না
ছুয়ে দেখি এখন নিশ্বাস উষ্ণ কিনা, 
যন্ত্রনা উপচে পড়া ফসিল গেয়ে ওঠে
আমার মুক্তি আলোয় আলোয়..... 
সকাল গড়িয়ে এক একটা দিন কাটে
নিয়ম করে বাড়তে থাকি শিরায় শিরায়, 
চেস্টা করে ভাল থাকা যে মারন যন্ত্রনা
সে কথা টের পায় সমস্ত শিকড়, 
অনিয়ম কোনো এক দেশ 
 খুঁজে  ফিরি  কুল বরাবর, 
একদিন রাত শেষে কচলানো চোখে
তুমি ঈশ্বর হয়ে আমার হাত ধরে
নিয়ে এস সমস্ত দুঃখসুখের পারে
সব নিয়মিত নিয়মের দেশ ভেঙে,
আমি আবার করে মাটির  ওপর
গাছ হয়ে জন্ম নেব.....,, 
সুবর্না (প্রিয় ঈশ্বর)   

  
                          
                     

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯

সুবর্না(৬১)

----------------------------  
আলো বিহীন কোনো এক গ্রহে
ছোট বড় কাহিনির মত নিশ্চুপ
আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস,  মানিপ্ল্যান্টের
হলুদ পাতায় মন্দবাসার সকাল গড়িয়ে
কোনো ঝরা শিশিরের টুপটাপ ,  আজ কাল দেখা
হয় না উৎসবের আয়োজনে,  আর কত
কাল সুবর্ণা এমন করে শতাব্দির স্রোতে
বইতে হবে .... না তুমি জানো, না আমি জানি, 
এসো মুখোমুখি ভাগ করে নিই আমাদের শেষর
অধ্যায় কোন সুগন্ধি রুমালে রেখে চেনা স্পর্শ, 
কুয়াসায় হারিয়ে যাই এ যাপন চিত্র হত্যা করে, 
কখনো কখনো হত্যা ভীষণ সহজ মনে হয়, 
এযাবতকাল অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে এই হত্যা খেলায়
মত্ত হয়েছি ধ্বংসের খেলায়,  অন্ধকার চারপাশ
ভাগবত গীতায় লেখা সমস্ত চরিত্র মুখোমুখি
পায়ের নিচে এক কৃষ্ণ বর্নর বানী কানে বাজতে
থাকে বাকি সমস্ত পৃথিবী অচৈতন্য অবস্থায়,  
সামনে দাড়ানো সব সম্পর্ক মৃত, যুদ্ধ
শেষে এস,  শেষ হত্যাটুকু সেরে ফেলি 
দুজনের বুকের কলিজা ছিড়েখুঁড়ে
রক্তস্নাত হই তারপর তারাখসার পথে
আমাদের সমস্ত আয়োজন...... 
আর দেরি করো না,  আমি চললাম
তুমিও এস সমস্ত  অঙ্গিকার খুলে রেখে, 
আমাদের দেখা হবে সন্ধ্যে নামার আগে
পশ্চিমের খেয়াঘাটে... 
..........(সুবর্না প্রিয় সাথি)                         

সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৯

সুবর্ণা(৬০)

---------------------------- 
ক্ষতগুলো  ঘুন পোকার মত বাড়তে
থাকে,  পায়ের নখে ঘর  বাঁধা শুরু
ক্রমশ মেরুদণ্ড বরাবর কলোনির পর
কলোনি.... এজেন ভীনদেশী দেশ ছাড়া
হয়ে এখন শরীর জুড়ে   অধিকার, 
হৃদয়, মস্তিষ্ক সমস্তই কেমন  খটখটে
প্রান যায় মুহুর্তে এসে ঠেকেছে,, 
উৎসব আলোর স্রোতে শহর তবু
চোখ আলো ছুঁয়ে  যায় না... অমনিশা
ভেতোর ভেতোর বোবা টানেলে সেধিয়ে
চলেছে,  সুবর্ণা  হাঁপিয়ে উঠেছি ভীষন,
সুইসাইড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে...... 
আত্মজ বলে উঠলো   এখনো তোমার 
মুক্তি নেই,  অনেক কাজ বাকি... আমার
আলোর দরকার তুমি জ্বলে ওঠো আমি
পথ চলবো তুমি সওয়ারী হও,  ফিরে এলাম
আমার সামনে জন্ম কাঁদছে, মৃত্যু হাসছে 
জীবন খেলছে  পাশার দান,  পড়ছি
ভাংচুর হচ্ছি, নিজেকে জড়ো করছি মুঠোয়,
ফুরোতে   ফুরোতে ক্ষতরা আমাতে বাড়তে
থাকছে,  ভাবছি আমি বিশাল না ক্ষত বিশাল, 
সুবর্ণা আমায় একচিলতে মরনকুপের জল 
এনে দেবে.... এ আমার  বহুকাঙ্ক্ষিত
শেষের চাওয়া,  ভালবাসার নামে
সুগন্ধি রুমাল নয়, নয় নীল পদ্ম, 
কেবল এক গন্ডুস মৃতু আমায় দাও।
সুবর্ণা ( প্রিয় মরনেসমাপয়েৎ)            

বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

মোনা লিসা

এমন কিছু নেই যা নতুন করে
এই আমির পুতুলটাকে অবাক করে, 
ছুট্টে আসা বৃষ্টিফোটা ভেজায় না আর
মোটেই এখন,  অবাক হবো বলে তিরিশ
বসন্ত পেরিয়েগেছি অপেক্ষাতে অপেক্ষাতে,,
মন কেমন অবুঝ হয়ে শবদেহ ছুঁয়ে প্রহর কাটিয়েছে
 ঘন অন্ধকারে, হয়তো প্রান আসবে ফিরে অবাক করতে
হয়নি এ আমি অবাক যে গেছে সে ফেরেনি ফেরেনা  , 
দরজায় দরজায় মাধুকরি করে এক পৃথিবী
ফিরেছি কেবল কয়েক মুঠো ভালোবাসায়
অবাক হবো বলে... জোটেনি দুমুঠো ডালেভাতে
ভালোবাসা, আমি অবাক হইনি,, 
    অবাক হবো বলে
সংসার নামক মঞ্চে অযুতবার বীষফনার
জ্বলন সহ্য করেছি একদিন অবাক করা
গল্পে যেমনটা হয় তেমন সংসারের সাধে 
অবাক হওয়া হয়নি আমার ... 
একদিন কেউ অবাক করে আমায় আমার
পছন্দের একমুহুর্ত উপহার দেবে বলে বিশ বছর
অপেক্ষা করে গেলাম এমন কারো ঘরনি হয়ে
যে অবাক নামে কোনো শব্দ হয়তো জানে না
আমার অবাক হওয়া হয়নি তাই .... 
এমন কতো  অবাক হবো বলে আজো এই বেঁচে
থাকার খসড়ায় নানান কোলাজের জমায়েত,,
,  তবু আজো এমন কিছু আমায় অবাক করেনি
যাকিছু আমার মন সেলাই করেছে সময়ের প্রেক্ষিতে,, 
 বহু বার অবাক হয়েছি একটিবারও
অবাক না হতে পেরে.
আমাকে অবাক করতে পারে এমন কিছু
হবার নেই বাকি পথে,.....

বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

)পরিনীতা

---------------------------- 

হারিয়ে যাব চোখ ফেরালেই 
হাজার  ভিড়ে থমকে থাকা টুকরো
বাঁচা .... আজ তোমার আরো একটা
জন্মদিন, হাজারো শুভেচ্ছা জড়ো
তোমার শহরে আকাশ ভেজা মিস্টি
সকাল তোমার উপহারের ডালিতে লাল
হলুদ গোলাপের ভিড় ..... হারিয়ে
যাব চোখ ফেরালেই.....,, আজ আমার
নতুন জন্মের ক্ষন   ভাগ্যিস তুমি
কোনো এক এমন দিনে মায়ের কোল
আলোয় আলো করেছো.... তাই
আমার শুন্য ঝুলিতে আজ সম্পদের
প্রাচুর্য, আমার অহংকার,,  সে কথা 
হয়তো তুমিও জানো আমার  সাজানো 
সম্পত্তির ভিড়ে এক তুমিই আমার সম্পদ, 
আর তাই আমি ভীষণ অহংকারী.... 
আজ তোমার জন্মদিন পাছে চোখ ফেরালেই
হারিয়ে যাই  তাই চোখপাহাড়ায় তোমায়
বন্দি করেছি,,,  কখনো সন্তান, কখনো প্রিয়
কখনো দায়িত্ববান স্বামি, কখনো খবরের
শিরোনামে তোমার গলায় জয়ের মেডেল
সহস্র সম্পর্কের  ভিড়ে পাছে তোমায় হারাই... আজ যে
তোমার জন্মদিন..... ফিসফিসিয়ে শুনবে
একটা ছোট্ট কথা তুমি কেবল আমার ঘর.... 
তুমি কেবল আমার ঘর ......, তুমি কেবল
আমার..............,,               
      

সুবর্না(৫৯)

---------------------------- 

হাতের মুঠোয় ফুরোতে থাকা
বালি,   মাটির ঘুম  ডাকে রাজার
রাজা,  হাওয়ায় উড়তে থাকা হরিরবোল
খই ফুল সুবর্না তোমার প্রিয় সব কটা
অধ্যায় সুগন্ধি মলাটে,
দরজায় দাড়ানো সব অপেক্ষা পরজন্মর
দিকে তাকিয়ে প্রহর কাটানো,
কাজ ফুরোনো ২০৬টা হাড় তিতাসের
জলে এগিয়ে দাও সুবর্না, ফিরে   তাকানো
বারন  মায়ায় জড়ানো বারন,
ও চোখ পুড়তে পারে দহন দাহে,
তোমায় এমন করে চাইতে পারি... তাই
একশো আটটা নীল পদ্ম নিয়ে তোমার জন্যে
নদীর ওপারে এক অপেক্ষা ,
মানচিত্রে তখন থমকে যাওয়া সময়ের
পেন্ডুলাম মৃত... মৃত সমস্ত সাজানো
নাটকের ভুমিকা,
আমরা কেবল মুখোমুখি হাতের
মুঠোয় ফুরোতে থাকা সময়
নতজানু,, সন্মুখে    বিস্তর একটা জীবন।  

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯

তোমার মত

-------------------------
সে দিন শেষ ভোরে তুমি ঠিক
খসে পড়া তারার মতো আমায়
বলে গেলে আমার আলোটুকু
তোর বুকে রাখ,  আমি এরপর
পৃথিবীর শেষ লগ্ন অবধি কেবল
তোর একার ঘর তোর একার....
লুকিয়ে রেখেছিলাম সকল অহংকারি
ভিড় থেকে তোমায়... লুকোনো খামে
তোমায় সুগন্ধি পাঠানো আমার এক অদ্ভুত
অভ্যাস করে ফেলেছিলাম ,
রক্তকরবী গাছের নিচে আমাদের
প্রথম স্পর্শ গুলো যত্ন করে গুছিয়ে
রেখে এসেছি,  আরো আরো  কত
কি যে এ পোড়া মনের আনাচকানাচে
গুঁজে রাখা,  সে বাঁশিওয়ালার সুর
ভীষণ গরমের দুপুর আলস্যে যখন
তখন তুমি আমায় চুপিসারে চোখ বেঁধে
মিশিয়ে দিয়ে ছিলে সুরের সাত রঙা
মূর্ছনায়, আমার হাতের তালুতে এখন
সেই নিবিড় সব গন্ধ কেমন তাজা,
নীল রঙ তুমি তেমন ভালবাসতে না
তবু কখন যেন ভালবাসার আবদারে 
তুমি নীলাদ্রি হয়ে উঠেছিলে,
মনে রাখা সহজ,  না ভুলে যাওয়া
সহজ   জানা নেই,  তুমি যখনই
হিসেবি হতে বলো আমি খেই হারিয়ে
ফেলি আমার উপকুল বরাবর
কোনো হিসেবই মেলাতে পারিনি,
আয় ব্যয় সব কেমন একাকার হয়ে
পড়ে  তাই সে  চেষ্টা আমার বৃথা,
সারারাত তোমায় জুড়ে তোমার মত
আলোর সাথে কথায় কথায় ফুরিয়ে
আসি আর তখন তুমি এসে বল আমায়
বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখবি আমায় ভালবাসিস?
আমায় ভালবাসিস? ভালবাসিস?           

একদিন না হয়...

----------------------------

একদিন তুই হঠাৎ করে ভীষন
রকম আমার মতো....
একদিন আমার সকাল জুড়ে
শিউলি ফুলেদের গল্প-দাদুর  ভরা আসর...
একদিন ঘুম ভাঙা সকাল এর রঙ
আমার ইজেলদানির ইচ্ছে রঙের....
একদিন খুশির আলোয় এই চোখ উছলে
উঠবে... বিস্ময়ে হারাবো সম্বিত... এমন করে
ভাবিনি,,
একদিন তুই হঠাৎ করে ভীষনরকম আমার
মত,  একদিন আমার সকাল জুড়ে শিউলি
মেলা,  একদিন ফিরবো বিস্ময় ভরা
আমার সকল দহন শেষে গোলাপি
ভোরে,,           
     

শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯

কারণে অকারণে

----------------------------

তোর চোখে দিন শুরু হয়
এ পাওয়া না হারানো তোকে সে 
কেবল রহস্য...
নিঃস্ব হতে পারি বার বার,,   তোর  পথে
হারিয়ে ফেলে আবার এক ভিখারির ভুমিকায়
নিজেকে  দেখতে পেলে আমার সুখ,
আর্ধেক আমি মাটির বুকে বাকি অর্ধেক
আকাশলীনা....
ফিরে গেল  সব নামবিহীন আলোর রেনু
পূবের বারান্দা থেকে,  এখন রাত ডুবে
তোর গভিরে অন্তমিলের সন্ধানে....  
স্বপ্নেরা এখন তুই আর তোর মন কে
এক সুরের মূর্ছনায় হাতের রেখায় হেটে
যাওয়ার কথা বলে,,
আমার মিথ্যে বাহাদুরি কবিতায়
থাক কফিনে শুয়ে ..... ,
আমার দুমুঠো চালচুলোয় থাক
জোনাক জ্বালা রাত... তোর চোখে
এমন করে দিন শুরু হয়  আর আমি
হারিয়ে  যাই সহস্র কারনের ভিড়ে।      
                 

সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

সে আসে বারে বারে ফিরে.. ************************

************************

শুন্যতার বুকে শর্তহীন হয়ে
ঘুমিয়ে আছো সময়ের স্বরলিপি,
কয়েক শতাব্দী  পর দেখা আমাদের,
ঘুমের দেশে গোধুলির আলোতে সেই
নিশ্চুপতাকে ঘিরে  আমাদের উৎসবের
বর্নে গন্ধে ভরা সবুজ ভেজা সময় 
এখন শিলালিপিতে বন্দি,
তোমার বুকের আঁচে আজ আর কোনো
সময় পোড়া ছাই লেগে নেই,  এক
অনাবিল শান্তির  চিরআশ্রিত সব প্রেম
বুকের পাটাতনে,, এভাবেই আরো কয়েকশ
কয়েকশো শতাব্দীর সাক্ষি থাকবে হয়তো
এমন অগুনিত তুমি আমি ,
আবার কথা রাখার ঠিকানায় বুকফাটা ছটফটানি
তার চিরকুট রেখে যাবে আলতা পায়ে পায়ে,
তোমার বাসন্তীকা ভুলে যাবে না পাওয়ার
ঠোঁট ফোলানো সব নালিশ,
আজ যখন মুখোমুখি আমরা  তখন সব কথা
হারিয়ে যায়....  শব্দগুলো সবুজ শ্যাওলার
বুক আঁকড়ে নিঃশব্দে জানায় হলুদ
বসন্তে বাসন্তীকা আসে আলোর সাথে
ঘুমের দেশে গোধুলি হয়ে,  সে এমন করে
কথা রাখে পারাপারের সকল অহংকার কে
ভেঙে ফেলে  সে আসবে ফিরে বারে বারে....

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অকবিতা

--------------------

অভিমানী  যত খসড়া কেবল খুশির,
দুঃখের এত সময় কোথায় সুজন
যে এত সোহাগি হয়ে উঠবে?
আমাদেরও ব্যেস্ত দিন জুড়ে চরিত্রদের
আসা যাওয়া ,  কখনো  জড়ানো
লতার মত আঁকড়ে চলার চিত্র .... মনে
হয় ভালবাসা হতেও পারে,  অথচ
মন জানে  এ শহরে আঁকড়ে থাকা
মানে সবসময় ভালবাসা নয়   , সে
শুধু প্রয়োজন,,  খানিকটা পেটের
দায়, খানিকটা সাজানো পোট্রের্ট
ড্রয়িংরুমে খানিকটা সামাজিক
পেজ থ্রির খবর,, বলতে পারো
শীতল স্পর্শ মুঠো কোথায়?
এটুকু পেলেই 'বাকি জরুরত পুরি
হো যাতি হেয় ' , তবু কেন বলতে পারো
সুজন   ঘুমের সময় সব
চেয়ে বুকের কাছে যন্ত্রনার কেন বাস,,
বালিস যেন মায়ের মত সবটুকু
চোখের জল নিজের কাছে গোপন
করে রাখে,
সব সুতোই কি ভীষন দুর্বল!
জানি না সুজন, কখনো তাই ঈশ্বর
হওয়ার সাধ হয় তার অংকের
সুত্র জানতে ইচ্ছে হয়, নিয়মিত
আয়োজন আর নিশ্বাসের প্রয়োজন
কোনটা বেশি শেকড় শক্ত করে
সে বড় ধাঁধার মত.... 
       
                    
     

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ঘুম ----------------------------


আজকাল ভিষণ ঘুম আসে, মাথার
ভেতোর বটের শেকড় অন্ধকার করে দেয়
জানলার পরিসর, ভাবি গভির রাত হয়তো...
যে পথে হাঁটি ঘন অন্ধকার দু বাহু মেলে ঘুম
বিছিয়ে আমায় কাছে নেয়, আকাশে
আলোর দেখা পাই না চোখ ভাবে আর
কিছু দেখার নেই তাই ঘুম পায়, নিজের
কোটের সুতোয় বাঁধা চাবির গোছায়
সেই ভোরের চাবি কিছুতেই খুঁজে
পাওয়া যায় না, ঘোর    লাগা অন্ধকারে
ঘুম আমায় নিয়ে যায় গোপোন দেশে,
সেখানে হাতে হাত রেখে জীবন মৃত্যু
পাশাপাশি বসে.... অন্ধকার যেন আলোর
চেয়েও অনেক দামি সেখানে,
যারা আছে আসেপাশে সবাই এক ঘোর
লাগা ঘুম মেখে সব চেনা থেকে অচেনা
হয়ে পথ হাঁটে, আমারও আর ফিরতে
ইচ্ছে করে না আলোর দেশে ,  আমায়
আজকাল ভিষণরকম ঘুম  নিয়ে যায়
গোপোন নীল নির্বাসনে,,              

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৫৯)

------------------------------

তাকে চেনা যায় এতটা সময় একজীবন
আমায় দেবে না  জানি ,,  হয়তো একজীবন
সময়টা ভীষন কম তাকে জানার জন্য ,,
তার হৃদয়ের পথে আমার অবাধ
আসা যাওয়া বহুকালের তবুও সে পথ প্রতিবার
অচেনার মত নতুন , তাকে  ভুল ভেবেছি যে সব
কালের চলাচলে ,আজ সে সব স্মৃতির মুখোমুখি
বসে নিজেকে ভুল প্রমাণ পাই  , তার বাড়ির
যত বার ঠিকানা খুঁজেছি, হঠাৎ একদিন
মিলিয়ে গেছে বাকি পথটুকু ......খুঁজে পাওয়া
হয়নি আজও ,, মন্ডবাসার বহু গল্পে এসেছে সে ,
তবু আমি  সম্পূর্ণ  বৃত্তে তাকে আগলা তে
ব্যর্থই হয়েছে বারংবার ,
কাক ভোরে ঘুম ভাঙা চোঁখে তাকে জড়িয়ে
জাপটে রোজ ভেবেছি প্রথম আলোর
অভিষেক হোক এই জীবনে ,প্রতিবার সে ভোরের
অনেক আগেই চলে গেছে কোনো বার্তা না রেখে ,,
তাকে ভেতরে বাইরে পাবার আকুতিতে অযুত
শব্দেরা ভিড় করে  বিশাল উপন্যাসের  বুক জুড়ে...
শেষের পৃষ্ঠা তে এসে প্রতিবার মনে হয়েছে এখনো
তাকে সামান্যতম ছুঁতে  পারিনি  তাই অসমাপ্ত সে
উপন্যাস এখনো ,
এ আমার আরাধ্য  যাতনা ছাড়া আর কি বা হতে পারে  বলো ,,
তাকে পেলে মনে হয় আর কিছুই জানা চেনা চাওয়া পাওয়ার
নেই এই বেঁচে থাকায় , ......সে ফিরে গেলে  তার শূন্যতা  অদ্ভুত
অচেনা করে দেয় আমার কাছে তাকে প্রতিমুহূর্ত,,
সে জীবন জুড়ে কেবলই তৃষ্ণার মত ....
........সুবর্ণা প্রিয় খোঁজ ,

বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৫৮)

ঠিক তোর মতন কেউ ভালবাসে না,
ভিড় শহর মিথ্যে হাসি, মিথ্যে দেনাপাওনার
খরচের খসড়া রোজ আসে হাত ধরে
ভিড়ে মেশে   সাথে সাথে.......
ঠিক তোর মতন কেউ হাতে হাত রেখে
সাবধানে  রাস্তা   পার করে না,
ব্যস্ত পথ ব্যস্ত মন খরস্রোত হয়ে বয়ে
যায় সব চড়াই-উতরাই,
পথ পাশে রঙের মেলা হৃদয়এর বিকিকিনি...
ঠিক তোর মতন কেউ ছুয়ে যায় না,
প্রিয় মন … প্রিয় পথ... প্রিয় কিছু স্বপ্নের
ঘরকন্না ঋন বাড়ায় যন্ত্রনার খাতায়...,
বহু কবির কবিতায় প্রিয় মুখ আঁকা সারাক্ষণ,    দিন
শেষে মিশে যায় ক্লান্ত চিমনির ধোঁয়ায়, কলের
বাঁশী পারাপারের ভিড় বাড়ায়... হয়তো বা
শেষ ট্রেনে ফিরে যায় সাজানো অপেক্ষা,,
তখনও কোনো বোবা অন্ধকারে তুই আমার
অপেক্ষায়....,
ঠিক তোর মতন কেউ ভালবাসে না
কেউ কাছে আসে না,,
............. সুবর্ণা  প্রিয় ভালবাসা       

সুবর্ণা (৫৭)-----

----------------------------------

তোমার গায়ে আজ অভিমানের গন্ধ ,
যাচাই করার দাঁড়িপাল্লায় তোমার "আমি"
ব্যাকরণ এর সমস্ত স্বপদ শব্দদের তুমি ঠোঁটে
রেখেছো পৃথিবীর সব জীবন্ত মুখোশের মত ,
টেলিফোনের রিংটোন কুঁকড়ে আমাদের সেতু টা
অমসৃণ  কিছুটা , তাই তুমি কিছু ভুল ছবি এঁকে
ফেলেছ সামান্য মাটির কাঁপনে ,,
তবু কিচ্ছু বদলায়নি আমাদের সহবাসে ...
তবু তুমি আমার ভেতর রোজ রোজ নিজের
স্বভাবে বেড়ে উঠেছ ,
স্বৈরাচারী আমি সে তোমার বিহীনে নই ,
..আমার শব্দের তেমন  প্রাচুর্য নেই ,
তাই কলম অনায়াসে হার মেনে নেয়
কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই ,
তোমার তীক্ষ্ণ বর্শার ফলা সামান্য ক্ষত  করে ,তবু
বেশিরভাগ প্রমান রেখে যায় ভালোবাসার তীব্রতার ,,
যে কথা বলার ছিল ...শুধু বলি আমায় সহ্য করার
মত অসহায়তা নিয়ে তুমি আমাকে রচনা করো না,
আমি অনাদর মেনে নিতে পারলেও সহ্য করার
অসহায়তা মেনে নিতে পারি কেমন করে তুমিই বল, ....
........সুবর্ণা প্রিয় অভিযোগ

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সুবর্ণা (৫৬)

------------------------------

ঠিক এভাবেই ভেসে যেতে   চাই,আমার সকল চাওয়ার
উসকানি যেনো উদ্দাম  ঢেউ কেবল আমার , ইচ্ছা অনেকটা
জলের উপর ভাসমান কোনো সন্যাসীর তপস্যা ,
তবু বাসি ক্যাফেচিনো কবিতার পাতায় ,
আর তোমাকে নীলাভ-শুভ্র আদর যেন একটুকরো
বেশি পাওয়া কিছু বরাদ্দ ,
ঠিক এই ভাবে ভেসে যেতে চাই , তোমাকে ছুঁয়ে
অথচ তোমার পৃথিবীর মাটি না টলিয়ে .....
এভাবে ভেসে যেতে চাই ...
যদি হারাই কখনো খুঁজো না তুমি ,স্রোত ভেবে ভুলে
যেও অথবা সময় .....।

.

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯

সুবর্না(৫৫)

---------------------------- 

রোজ তোমার নতুন রুপ খুঁজে পাই
ওই মুখে, চোখের ভাষায় শেষ কিছু
ছবি সময়ের স্রোতে ভেসে থাকা খড়কুটো..
তুমি আছো কোনো মৃত শতাব্দীর শিলালিপির
মত,  শেষ কবে তোমায় আলো  ছুঁয়ে গেছে
মনে রাখোনি..., ঘোর লাগা জীবনের ছেঁড়া ছেঁড়া
বুদবুদ  যেন নিশ্বাস ঋণের খাতায় বেড়ে উঠছে  রোজ রোজ,,
তোমার ছবির পাশে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করতে
চেয়েছি সমস্ত অন্ধকারকে,, মনে হয়েছে একটুকরো আকাশ
বুঝি তোমাকে দিতে পেরেছি...
অথচ দেখ আমি আমার বরাদ্দের পাওনাকড়ি
সব আজকাল খরচ করে চলেছি আজন্মের দেনায়,
তোমার ভাগের আকাশটুকুও রাখিনি বাকি,,
তুমি বেশি কিছু কখনওই চাওনি  তবু আমি হাতটুকু
বাড়িয়ে দিতে কেবল ভয় পেয়েছি বারংবার,,
তোমায় সাহস করে বলতে পারি না যে কথাটা
.....সে কথা আর হয়তো না বলাই ভালো...
তোমার ছবি সামনে রোজ দাঁড়িয়ে তোমায় নতুন
করে খুঁজে পাই আর ভাবি এখনও তোমায় অনেকখানি
জানা বাকি হয়তো এক জীবনে এতটা সময় নেই তোমায়
চিনবো আপন করে নিজের মত,
কোনো একদিন আসবে তোমার ছবির সামনে  তোমায়
আর খুঁজে পাব না.... মন মরবে, কাঁদবে, ছিড়েখুঁড়ে ফেলবো 
হৃদয়, অথচ তুমি আর কোথাও নেই  সুবর্ণা,,,।
.........সুবর্না প্রিয় বিচ্ছেদ,    

বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

ঝরা পাতার আওয়াজ ----------------------------

------------------------ 
স্মৃতিটুকু থাক সাথে... পাশে
থাক ভেজা অনুভূতির ছবি,
কেউ পৃথিবীর    রঙে খুশি নয়,,
শুধু স্মৃতি   থাক হাতের মুঠোয়
কোথাও চলে যাওয়া কাল  আর
ফিরে আসে না,  কয়েকশো মাইল
হেঁটেছি ঘুমের  খোঁজে.... শেষ রাতের
পর শুন্যে হাত বাড়িয়ে একটা ঘর
ছাড়া চিমনির ধোঁয়ায় নিজেকে হারাই,
মাটি না কাঁপে তোমার পৃথিবীর তাই
সাবধানে পার হই উঠোন, 
কোনো দেওয়াল রাখিনি এই অবাধ্য
মনের যেখানে আছড়ে পড়া যায়,
তুমি শুয়ে পড়  ভেবো না কে
জেগে আজও উত্তরের বারান্দায়...
নয়তো আমার মতো স্বপ্নহীন হয়ে তুমিও
হবে ভীষণ একা,
ফিরছি ঘর নদীর থেকে অনেক দূরে আগুন যেখানে অনির্বার...
স্মৃতিটুকু থাক সাথে পাশে থাক ভেজা আস্তিনের
জলছবি...।      
        

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

মেঘ....... ইতি

---------------------------

তুমি আমাকে শ্বেতপাথর ভাবো,
তাই না হয় তোমার কাছে  আমার
অস্তিত্ব হোক চিরকালের ... আমি বালির দেওয়াল
হতে চাই না... আমি  ভাংতে ভয় পাই
তাই নিশ্চুপ   আমার সমস্ত দুঃখ সুখ
মান অভিমান...,,
আমার মিস করার মাত্র কয়েক টুকরো
আকাশই তো আছে যা আমার জমিতে
প্রবলতর   বর্ষা আনে যে কোনো অজুহাতে,,  ,
ভেবে দেখেছি ভালবাসা মানুষকে
ভিষণ রকম দুর্বল আর অসহায়
করে দেয়....  নিজেকে ভয় পেতে
শুরু করে জীবন...,,
কখন যেন জীবন নতজানু হয়ে
ঈশ্বরমুখাপেক্ষী হয়ে যায়,,
আর  অসহায়তা, দুর্বলতা, ভয়,
শব্দগুলো কে আমি ভীষণরকম
দূরে রাখতে পছন্দ করি, তবুও তুমি
এই জীবনের আরাধ্য হয়ে উঠছ,
আমায় শ্বেতপাথর ভাবতে পারো...
আমি বালির দেওয়াল হতে চাইনা কখনো,,,                             

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯

স্রোত

***********************
তোর কাল আমাতে মিশেছে কবে
জানি না সুজন,  এখন আমার
চিলেকোঠায় বুক ভার করা কান্না ডুকরে আসে,, 
অনিচ্ছায় আসা ভোরগুলো এমনই
কিছু মনখারাপের রানার কে আমাদের
ঠিকানায় পৌঁছে দেয়,, কাল তোর বুকের
মোচোড়ে উজান ছিল,  আজ আমার আছড়ে
পড়া জলচ্ছাস...,  তুই ঠিকি বলিস আমরা
বড় বেমানান এই সাজানো পৃথিবীতে....,
কিংবা কোনো  মানসিক হাসপাতাল হয়তো
আমদের আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল,,
গুছিয়ে রাখা ঘরদোর কখন কিভাবে কেউ
এলোমেলো করে দেয়  কখনো ভেবে পাইনি,
আর এই ঊষরধুষর নগরীতে সারাবেলা
মুখভার করা  বোবা কান্না গড়িয়ে নামে।
কিচ্ছু চাইনি বলেও বহুকিছু না পাওয়াগুলো
খয়েরী রঙের খামে আমাদের দেরাজ ভরছে
প্রতিদিন।
প্রতিদিন মরে যাচ্ছে বেঁচে থাকা যেত যেসব
মুহুর্ত,,
হাজার প্রশ্ন চিহ্নের দোড়গোড়ায় সুজন
তুই আমি, কিংবা আমাদের মত অনিয়মিত
কিছু হৃদয়,
সম্মোহিত সেই সবুজ ভেজা চিঠি গুলো হারিয়ে গেছে
আমাদের থেকে বহু সভ্যতার ওপাড়ে... বাকি টুকু
তাই কোনো প্রলয়ের অপেক্ষায় আমাদের পথ চলা।