মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০

চালিয়ে নেওয়া

চালিয়ে নেওয়া অভ্যাসটা আমি রপ্ত করে ফেলেছি
এখন আর নালিশ আসে না মনের কোনে, 
নেহাত কম তো হল না...  বছর কুড়ির বেশিই কিছু,,
তখন ছিলে শুধুই অভ্যাস,  তার পর এক অভ্যাস
থেকে  বেরোতে গিয়ে আরো এক অভ্যাস এর জালে 
পা বাঁধা পড়লো.... বুঝেছি কি তখন সহজ  কিছুই
পাওয়া তেমন সহজ নয়। 
পেটের ভেতোর আর এক জন্ম কুঁকড়ে আছে আর
আমি শিখছি চালিয়ে নিতে  রোজনামচা, 
এখনো আজ বছর বিশেক পরেও আমার ঘ্রানে
একটা খিদে গেলে আছে.... শুনেছি পোয়াতি মানুষকে
তার সাধের খাবার নাকি সাজিয়ে দেওয়া রীতি... 
আমি কিন্তু  চালিয়ে নেওয়াই রীতি জেনেছি,  তাই 
আজো কালো জিরে আলুর গন্ধ  লুচির পাশে আমায়
নিয়ে যায় গোপোন কান্নায়, 
তোমার বেলায় জুটতো কিছু কম নয়... আমার জন্য
নেই এর ঘর চালিয়ে নেওয়া খুব দরকার, 
হাঁটতে হাঁটতে বছর কুড়ির পথ  হাঁটলাম হাঁটুতে আজ
ক্ষয় রোগ   শিরদাঁড়াতেও একইরকম
মেনে চলা দুরত্ব রোগ     ,  জানি না  আর
কতটা  হাঁটলে পরে     ফুরিয়ে ফেলবো চালিয়ে
নেওয়া সব অভ্যাস,  আমিও এবার ক্ষইতে চাই 
হাড়ের মতন,   ফুরোতে চাই চালিয়ে নেওয়ার
রোজনামচা।                                

আপতকালিন খসড়া


চশমার   কাঁচ মুছে মানিয়ে নেওয়ায় মন দিয়েছি, 
চড়ুইভাতি এখন চার  দেওয়ালেই মানানসই, 
দস্তানা হাতে সাবধানে সরিয়ে রাখি মন খারাপের
সব অসুখ  স্বৈরাচারী নজর থেকে,, 
খবরেরকাগজ খুললে বুঝতে পারি আমাদের মত 
ওরাও ভুলেছে সব অভিযোগ... যারা মানচিত্র আঁকায়
বরাবরই পারদর্শী,, 
বানচাল এখন জাতি ভেদাভেদ -- প্রতিশোধের
চোখে একমাত্র পড়ে  আছে ভালো থাকার শুভেচ্ছা, 
শিখিয়েছিল যারা দখল করার কথা তারা সবাই ছেড়ে
চলে গেছে সাম্রাজ্য, 
এখন পুড়তে রাজি সবাই একলা .... ঢের হল  একসাথে
হাঁটা, পাশাপাশি সাথে থাকা,, 
এবার সময় হল সু-জন  কু-জন  বাড়ি
ফেরার,  নিয়ম মেনে  দুরত্বটা বজায় রাখার,, 
মানিয়ে দেখাও   মন তোমার না তুমি মনের,
জেতা হারা নিজের সাথেই... যুক্তিতর্ক রাখো মনের মাঝেই,
হিসেব রেখো প্রতি পাতায়  যোগবিয়োগ  সিড়িভাঙায়,
  দেখা হলে মিলিয়ে দিও মন্দবাসার খসড়ায়।    
                      

প্রস্থেটিক


ভেবেছো আমি সফল  চিরকাল,  তুমিও কি
দেখতে পাওনি আমার ভেতোর  একজন বিষন্ন
মানুষকে, 
 শরীর জুড়ে দেখেছো   অসংখ্য অলংকার,  কাছে
এসে  ছুয়ে দেখো সমস্ত  শরীরে পেরেক ফোটানো,, 
আয়নায় যে মুখ দেখো তাতে আঁকা থাকে অভিজাতীয়
টুকিটাকি, ...... মুখ ফিরিয়ে একবার দেখো দারিদ্র্য কতটা
শিকড় বিছিয়েছে ভেতোর ভেতর। 
মলাটে মলাটে  রংমশাল আঁকা পাতা উল্টে দেখছো
কখনো...  পাতার পর পাতা জুড়ে    এক অন্ধকারের
সাম্রাজ্য প্রসারিত, 
ঠোঁটে আঁকা সুখের  হাসি বাঁধিয়ে রেখেছো সোনার ফ্রেমে
বুকের ভেতোর  বয়ে চলা ক্ষয়ের নদী... তার ছবি
আঁকবে কোথায় ভেবে দেখো।     

সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০

আগে কখনো

----------------------------  

ছাদে মেলা কাপড়ে জটিল জীবন কাটছে
নিয়ম,  রোদ খরচ করে রোজকার সাংসারিক
বোঝাপড়া...  খবরেরকাগজে শ্রীরুপার লেখা  মৃত্যু মুখি
শহরের খবর, 
এর আগে বসন্তের পর এমন  নিঃশব্দ শহর দেখা হয়নি 
জানা হয়নি স্বপ্নরা কেবল নুন ভাতেই খুঁজছে বেঁচে থাকা, 
এর আগে কখনো মৃত্যুর আগে নিরবতা আসেনি পৃথিবীতে, 
পাঁজিতে লেখা সব মুহুর্ত  যেন    ফুরিয়ে যাওয়ার মুহুর্তে থেমে
গেছে,, 
তোমার বাড়ি ফেরা নিয়ম এখন দেয়ালে পেরেক ঝোলানো 
ক্যালেন্ডারের লাল দাগে মুখ  লুকিয়ে ... বাকি কথা বাকি থাক
আমিও তোমায় ঘুমের ভেতোর নির্বাসিত হতে দিই এই ভেবে যদি
আর না দেখা হয় মুখোমুখি  , 
ব্যাক্তিগত আজ তেমন কিছু নেই.... কারন সব  পড়শি এখন
বিষাদ মেলে ছাদের ওপর,   ছুড়ে দেয় বেঁচে থাকার খবরাখবর 
পাশের বাড়িতে,  পাঁচিলে বসা ঈগল ভাবে এই তো এবার উৎসব
হবে অপেক্ষায় আর কটাদিন,                  

সত্যি নয়

-----------------------------------------------  
রোদের অভাবে জমছে জল বুকের 
ভেতোর, অবাধ যত্নে সামলে চলছি 
ফুরিয়ে যাবার ভয়ে,  সত্যি বলে হয় না কিছু
সব গল্প কখনো কখনো জীবিত হয়ে যায় 
কল্পনায়,, 
জড়ো হওয়া শুকনো পাতায় স্পর্শ কেবল
পুড়ে যাবার, বাকি সব মিথ্যে, 
 বদল প্রথা বদলে গেছে আমার 
দুয়ার  যেদিন ছুয়েছিল  কাঁটাতার, নয়তো 
গল্পে থাকতো না কোনো আঘাত,   
তাই দিন রাত ভেবে হাঁটতে থাকি পাশাপাশি 
বিকেল তো  কোনো মন্দবাসার উপন্যাস মাত্র,, 
ভাবতে ভাল লাগে ... ছুঁয়ে দেখা বারন। 
তাই সত্যি বলে হয়না কিছুই.... গল্পেরা জীবিত
শুধুমাত্র স্বৈরাচারী কল্পনায়।               
      

রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০

ইচ্ছে

সমস্ত উপলব্ধি জড়িয়ে তুই  কিংবা 
তুই জড়িয়ে সমস্ত উপলব্ধি, 
যেন  নাগপাশ বন্ধ আমরা, 
সেই যেদিন তুই গাছ হতে চাইলি, সেদিন
আমিও হলাম মাটি তোর সব... সবটুকু 
শেকড় আঁকড়ে রেখেছিলাম..., হয়তোবা তুইও
আঁকড়ে ছিলি মাটি, 
সে দিন  বললি আকাশ হব,  আমিও  হলাম মেঘ,
   হলাম তোর খুশির রামধনু,  হলাম তোর দুঃখ.. 
তোকে ভেজালাম আপাদমস্তক,, 
আবার একদিন তুই সমুদ্র আর আমি 
ঢেউ,.... কখনো  আছড়েছি পাথরে  ছাড়িয়ে
ছিটিয়ে    করেছি নিজেকে টুকরো,  কখনো
শান্ত দোলা চলে  বুনেছি পারাপার, 
তুই যেদিন পথ হলি আমিও তো ধুলো, কিংবা   
পথিক যেদিন আমি তোর কপাল বেয়ে নামতে থাকা গড়ানো ক্লান্তি, 
আরো একদিন তোর ইচ্ছে হল ঘর হতে আর আমি 
নির্দ্বিধায় হলাম চুনসুরকি তোতে  মাখামাখি হয়ে ঘর বাঁধলাম, 
একদিন সকালে তুই  বললি আর একবার তুই আমার ইচ্ছে হবি,   বললাম এ কি এমন অসম্ভবের কথা এতো কতবারই..... তুই বললি  বিচ্ছেদ হবি কীংবা হবি শোক.... আমি অবাক হলাম হলাম নির্বাক,,
আমার চারপাশের পৃথিবীতে তখন ছেয়ে গেলো ঘন  মিশকালো অন্ধকারে.... শেষ বার আমি বললাম
তবে আজ তুই আমার ইচ্ছা হবি আগে তারপর আমি যেমনটা নিয়মিত তোর ইচ্ছায় সামিল হতাম,৷  তুই রাজি হলি, বললি
কি তোর ইচ্ছে,  আমি বললাম তোর ঠোঁট আমার ঠোঁটে  ছুঁইয়ে দিক সামান্য কিছু  উষ্ণতার ওম...., 
তারপর তারপর আমি হয়েছিলাম তোর প্রিয় শেষের
ইচ্ছে "শোক"  ঘুমিয়ে ছিলাম তোর কোলে মাথা রেখে,,
মনে ছিল  আমারো একটা গোপন ইচ্ছে...  তোর হাতেই
হয় যেন    আমার শেষ শৃঙ্গার,  আমার চিতাকাঠে জ্বলতে  দেখেছিলাম সেদিন তোর
সব ইচ্ছাদের একসাথে।        

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০

যত্ন



শেষ দেখা যেদিন , হাতে তখনও আধখানা
সিগারেট  । 
বলেছিলিস  সাবধানে  যাস  সাথে জল নিয়েছিস
অনেক পথ ,
শীত ছিল বেশ ভালোই  এক দৌড়ে উষ্ণ জড়ালাম ,তোর পরিধিতে নিজে হলাম ,
শেষ দেখায় পথ হেঁটেছি অবান্তর ক্ষিদে খুঁজে ,
তুই কথায় কথায়  বলেছিলিস  এমন করে  হয় না ........তোর কথাই  সত্যি ছিল, এমন করে কতই বা দিন
কত না - পাওয়া কাটছে সময়. 
শেষ হাত রাখা ছিল শিরদাঁড়ার ব্যাথায়,
বলেছিলিস , ‘ যত্ন নে  ফুরোচ্ছিস তুই ,
 আমার জন্যে থাকিস বেঁচে ,,।  যদিও
নাই বা লেখা চার আঙুলে র জমির খাতায় 
এক সমাধিতে ঘুমোতে চাই  কাজ ফুরোলে ,,
 তুই  বড়  জেদি  নিজের ভালো বুঝবি কবে ,
এই তো তোর শাসন শুরু ।
এখন এই  নির্বাসনে  তোর নালিশে ভুলছে মন ,
 ভীষণ রকম একলা থাকা এখন ঠিক তুই প্রয়োজন ।
আবোলতাবোল তোর টেবিলে ..... মুখবই টা
খুললে বুঝি যত্ন নিতে তুইও জানিস ,
শেষ ঠোঁটে তুই রাখলি  বাষ্প   আমিও ভিজলাম তোর সাথেই ....বলেছিলিস আজ বুঝি দুর্গাপুজো! 
ফেলে আসা সময় বোধহয় ভুলে যাওয়া এখন  শ্রেয়...।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০

ভালোবাসা



সেই দিনের বুকে পা ফেলেছি  যা করব, সবই ভুল।
আদরের  ভুলে  জমা হয়েছে আবর্জনা, 
সীমা ছাড়িয়েছে সমস্ত কাছে থাকা আজ দূরে বহু দূরে  কাঁটাতার যেন খুব প্রিয় ,,  না  আঁচড়ানো  চুলের খোঁপায় মেঘের জট , কোথাও কোনো 
আঘাতের  খবরাখবর দেয় না ডাকপিয়ন,  নিজের বারান্দায় মাখি সূর্য আলো ,,
হৃদয়  ভার ফেলা যাক ছুড়ে  এই কদিনের দূরত্বে।  সব মামলা মুকুব করে খালি হতে  হবে নির্জনে ,,
জামিন চাইছে প্রেমের মন খালি করবে মনের মহল  ,
 মুশকিলে  আজ  প্রেমিক  প্রেমিকারও  মন  স্পর্শ করা  বারণ  ,কিংবা এবার বারণ হবে প্রেমে পড়াও ,খুলে রাখা দরোজায়  এখন খিল, ,, আনমনা
পথ  বিরহ জানে কিনা এবার দেখার  ... এই পথে আবার কি  ফিরবে লোক ?,
সময়  কোথাও একলা হলে  ঘর সাফাই 
মন দেওয়া যায় . কবিও শোনো
আজই সেই দিন যখন প্রেমের কবিতায়
স্যানিটেশন , দূরত্ব খুব জরুরী চিজ ,
বুক সরিয়ে বালিশে মাথা রেখে গুনে নেওয়া  যায় নিয়মিত কিছু বারণ শব্দ ... কম ছিল  না আগেও কিছু, না হয় বাড়ুক আরো কিছু , কবিতা হোক অন্য কিছুর ,,

খাটনি হয়েছে  বড্ড বেশি অফিস ঘর ---ঘর অফিস , নিজের জন্য সময় কম .....আজ না হয় ফুরোক নালিশ  ।
ছেড়ে  দেওয়া  বন্ধনী  গুলো  যাক না হয় আকাশ
পথে ,
সময় খুঁজুক, আর্জি লেখার  সাত সতেরো গল্প কথা , 
চিবুকের কাছে একলা পড়ে ভালোবাসার বিন্দু শুধু ,গণতান্ত্রিক ভালবাসা  সবই এখন ভীষণ একা –
খর্ব এখন চুমুর  জোর  আমরা এখন ভীষণ পর ।

অন্য কোথাও

---------------------------  
ভোর রাতে তোর জানলা ভেঙে অবাধ্য কোনো
ইচ্ছে  তোর ঘুমন্ত গালে ঠোঁট রাখে, 
 , জানি তুই অন্য দেশে অন্য কেউ তোর পড়শী, 
এক পা দু পা আসবি ভেবে আমার ভরে যাওয়া
অপেক্ষা....... আর   
ঘর ময় রং তুলি  আমাদের  কিছু বানানো
ছবি শেষ   রাতে বৃষ্টি আনে,, 
তোর বুকে শর্তহীন হাত পোড়াই  সহজ ভাবেই, 
  তুই নিয়মমাফিক সময় আঁকিস  বন্ধ ঘরে 
বাঁচতে থাকিস গরম ভাতে,  
তোর ঘড়ির সব সময় গুলো শর্তহীন আমার
ঘরে, কাজের ফাঁকে  খুনসুটি আর ভুলের
খেলায় সাপ লুডো  ,   প্রত্যেক দিন  ভয় পাওয়া
পাড়ার গলি, কেউ নেই ঘরে ফেরা পথে,  
টেবিল জুড়ে এক পা দু পা তোর মত সহজ
জীবন.... আমিও ভুলে যাই এ কবিতার নামের
জন্ম কেবল ব্যার্থ হওয়ার জন্যেই, 
কেউ নেই তোর বা আমার মত... 
হাতছানি দেয় ঝুটো গল্প আর  রাজা রানী 
ঘুম ভাংগে আচমকা শরীর জল... 
আমি শুয়ে অন্য দেশে অন্য ঘরে শীতলপাটি
বুকের মাঝে।     

 
         

দৌড়

--------------------------------------   

মনে নেই ঠিক কবে হাঁটতে শিখেছি কিংবা
দৌড়টা কবে পায়ের পাতায় প্রথমবার, 
 না না আমি একটাও বিশ্বকাপ জিতিনি, জিতিনি  
 নিদেন পক্ষে পাড়ার কোনো ক্লাবের দৌড় প্রতিযোগিতা,
বাঁচতে চেয়ে দৌড়ে চলেছি হাজার মাঠ, শহরের  পর
শহর  হয়তো প্রদক্ষিন করেছি পৃথিবী, একটুখানি
খাবার জন্য এঁটো থালাগুলোয় খুঁজতে হত সামান্য
কিছুটা হলেও টুকরো টাকরা খাবার... বাড়িওয়ালার
ফেলে দেওয়া আনাজ খোসা কখনো যদি একটু 
সাস বেশি থাকে তবে খুদ সেদ্ধর সাথে  হয়তো মহাভোজ, 
টুপু দিদির বিছানার পাসে রাখা ছোট্ট দেরাজের দশটাকার
নোট গুলো বেশ কয়েকবার অপরাধে সামিল করিয়েছিল, 
না মনে হয়নি সেদিন কোনো আত্মগ্লানি, পাঁচটা ভাই বোন
আমার  ভিতর বাইরে কাঁদছে তখন... মা কে দেখতাম
পেটের তলায় লুকিয়ে কাজের বাড়ির দু চার টে আটার
গুছি.... কাল হয়তো একটা আলু.... বাবা যে বছর পাঁচেক
লক আউট কারখানার কর্মী, 
সকাল হত স্কুলের পালা... আধকাপ লিকার চায়ে
আধটা রুটি ডুবে যায় অনায়াসে,  আমার পরে আরো চারটে 
....তাই তেমন একটা খিদেও পায় না, 
স্কুল ফিরে কাজের বাড়ি ঘর মোছা বাসন.... 
বিকেল হত দিন ফুরোতো কাজ তো বাকি অনেক
বাকি আছে দৌড়ে চলা.... কতই বা বয়স ক্লাস সেভেন
দু একটা  কচি কাচা টিউশনির  মাস গেলে কুড়ি টাকা 
অ আ ক খ এই আর কি , বছর ঘোরে মাধ্যমিক আমার
বড় হচ্ছি  পাল কাকিমা সংগে করে সেন্টারে নিয়ে.... 
প্রথম বড় পরিক্ষা.... আমার ভয় পাওয়া চেহারা 
অথচ সে পর্যন্ত আমার    বহু পরিক্ষা দিতে দিতে
দৌড়,  পাশ করে গেছলাম এটাতেও.... আরো
দৌড় ক্লাস ইলেভেনে....  আমি  পনেরোটা খুদেকে
অ আ ক খ পার করে কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ির
সফর  করাতে পারি.... আমায় দৌড়ে যেতে হবে 
পথে হাত ধরলো সুবর্নরেখা  হাতে দিল চিঠি তাতে লেখা
আস্তে আমি যেতে চাই তোমার সাথে যখন ক্লান্ত হবে
আমি এক আঁজলা জল তোমার,,,,  না প্রথম নয় আমার
দৌড়ের পথে  সাজানো গোলাপ প্রথম ছিল খানিক আগেই
তবে আমার যে বড্ড খিদে পায় খিদে পায়  ওই পর পর দাঁড়িয়ে
থাকা চারটে পেটের... বলে ছিলাম সেদিনও গোলাপ নয় 
তোমার ঠিকানায় কি বরাবর আমাদের দুমুঠো.... 
ফিরে গেছে হয়তো বড্ড বেশি ভারি ছিল গোলাপের চেয়ে
আমার......, সুবর্ন রেখাও বদলে ফেলেছে নিজের পথ
কেউ কথা রাখতে পারে না আর জরুরী নয়... কথা রাখতে 
হবে । 
 বাকি পথ আমি আর আমার দৌড় এঁকা , পড়েছি,
উঠেছি, হাঁপিয়েছি,  যদিও বয়স তার দাবী মিটয়ে
ফেলে সুকৌশলে....  অন্ধ করলো আশ্রয়ে লোভ,
ডালে ভাতে বেঁচে  থাকার এই বুঝি .... ঈশ্বর 
বাঁধলাম নিজেকে শিকলে মনে হল ছায়া পেলাম
বুক পেলাম আর দৌড় নয়...., 
বাবার কারখানায় এখনো লক আউট 
বাড়িতে চারজন আমার পরে,  মা পরের বাড়ির
ঝিঁ....., 
আমার ভুল আমায় জাগিয়ে দিয়েছিল দেরি করেনি
বেশি.... দৌড় শুরু............... 
হারালাম অনেক বেশি শেকড় আলগা
হতে হতে ভাসলাম.....  আমার পায়ের পাতায়
দৌড় লেগে....সময় রাখিনি সময়ের জন্য,  
সব কথা বলা হয় না কিংবা বলতে নেই আজো
আসে অনেক ফুলের তোড়া.... আমার  ইচ্ছায়
যে নাম ছিল তার দেখা..... জানি না 
কোনো এক সিনেমার ডায়লগ বড় মনে
আসে, চেয়েছিলাম তো সামান্য ডাল ভাত নিয়ম করে
আর পিঠের শিরদাঁড়ায় স্পর্শ.... 
সবাই কেন শুধু  উৎসবে আসে বিরিয়ানি নিয়ে  
.......থাক আর নাই বা এমন খসড়ায় খাতার পাতা
ভরলো।                                                                   
    
   

বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০

হ্যামলক শহর

--------------------------------- 
ঝাপসা হচ্ছে সমস্ত অক্ষর খুব তাড়াতাড়ি
জ্বরের উত্তাপে প্রথম প্রথম পুড়ে যেতাম
খুব সহজে....., উত্তাপ কথাটার উত্তাপে এখন
দুঃখ পুকুর শুকনো আর  ক্ষত বুজিয়ে ফেলেছে
সভ্যতার চুনসুরকি,, 
অনেক দিন  যোগাযোগ নেই,  যোগ অার যোগ
কেবল বিন্নি  খই এর, যেন   না   লিখতে পারা 
উপন্যাসের মৌণ মিছিল, 
এ শহরে গাছ দেখলে ও ভয়  হয় মনে হয়
চিতাকাঠ আঁকড়ে বিচ্ছেদ শোক বাড়ছে 
আকাশের দিকে, 
ওরা  কারা যারা ছায়ার মত মাড়িয়ে চলে
আমাদেরকে.... যতবার পিছন ফিরে দেখতে
চেয়েছি  দৃষ্টি  জুড়ে অনেক চিহ্ন তাদের 
চিনতে গিয়ে  আমি হাজারো কেতাবি 
দান হার মেনেছি ...... 
জিতে গিয়েও একদিন সব গল্প এসে দাঁড়িয়েছিল 
কোনো না কোনো  অনাগন্তুক যতিচিহ্নর
মুখোমুখি, ।      

পরিচয়

----------------------------  
অন্ধকার ছায়ায় ঘুমায়  দাবীহীন আমার  উত্তরসূরীরা 
তাদের হাতে আঁকা গাড় প্রশ্নচিহ্নে যেন 
ঈশ্বরপ্রাপ্ত শীলমোহোর,, 
.......তাড়া খেয়ে  কাঁটাতারে ফালাফালা আমার
ইতিহাস ভূগোল তবু তোমাদের মচ্ছবে আমি
শরীরের রসনার তৃপ্ত,  দলা পাকানো হয়ে তোমাদের
হাতের খেলা পুতুল......... আমার দুধের  সন্তান যে
ভাতের পাশে নুনের অভাব অথবা ভাত  যেন উৎসব,  
চোরা স্রোতে মিশে যায় ক্লান্ত স্বভিমান, 
 আমার পরিচয়পত্র  আমি তো নয়,  জানে  ওই
দিগন্তের আকাশ, ও জানে আমার জন্ম নিতান্ত
নয় খারাপ,  কখনো  আমার  ভাতের থালায় উপচানো 
ছিল মায়ের আমাপা স্নেহ, বাবার ছিলাম রাজদুলালী, 
............কাঁটা তারে ছিঁড়ে ছিঁড়ে  কোথায় যেন সব হারানো, 
আজ আমার নাগরিক  পরিচয় নেই, 
হয়ে ওঠেনি নাগরিক  অধিকার  ....  অসম্ভবের 
চর্চায় সামিল আমি সুরা কিংবা.... লুকোনো গলির
অন্ধকার ঘর যেখানে ছায়ার মত আমার.....   ,, 
তবে   জানো তোমরাও জিতে   যাও আমিও হারি না.... 
তোমদের ভেতোর  তৃপ্ততা   আমার ভেতোর শান্ত সমুদ্র।
কারন তোমাদের উৎসব আমি বিহনে  জৌলুশ হারায়, 
তোমাদের শরীর আমার শরীর ছাড়া  মেরুদণ্ড সোজা
করতে পারে না।    পারে না সাবেকি বনিয়াদি ফলাতে।                       
               

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২০

বারণ

--------------------------------------------------------  
তোমার আমার বারণ অনেক, 
বাইরে ঝড় এলোমেলো ঘর --
ঘুমের ওষুধ গুলতে থাকা রাতের 
সাথে আপোষ এখন, 
চেনা  গন্ধ চেনা ছন্দ ছোঁয়া বারন 
মানুষ দুটো অন্য কারো, 
হয়তো তুমি হয়তো আমি  শুনছি একই
গানের কলি , মনের খাতায় লিখছি শুধু
অভাবের হিসেব নিকেশ,, 
সকাল বিকেল সন্ধ্যা রাত কাটছে নিদেন
বারণ মেনে,  সময় যখন ছিল হাতে ব্যাস্ত
ছিলাম অজুহাতে......শেষ দেখাটা  বুনছে 
সুতো মাকুর টানে   আঙুল খুঁজে, 
ধরো যদি হঠাৎ দেখা তোমার আমার
চলতি পথে সেদিন তুমি অন্য কারো,, 
বলবে জানি সময় পেলে  হব একদিন 
মুখোমুখি ব্যাস্ত এখন অনেক কারন, , 
এখন পড়ে শুধুই বারণ,   
 কারনে অকারন  অনেক বারণ অনেক বারণ।। .... 
      

              
 

ভাবনায় তুই ছেঁড়া মন

--------------------------------------------------------    

ঝিনুক ভেবে দিন কুড়োনো আমার স্বভাব ,  
ভাবনায় তুই মুক্তোর মত আমার ভেতর,,  
 তোর ছায়াকে বাড়তে দিই.... 
আকাশ ফোঁড়া গাছ হয়ে তুই, মেঘ ছুয়ছিস, 
তোর শরীর জুড়ে বৃষ্টি ভেবে নৌকা আঁকি,
ভাবনায় তুই তখন নদী,  তোকে এগিয়ে দিই
এক সমুদ্রের মুখোমুখি,  দুটো ভেজা ঠোঁট
বেহিসেবী সংসারি সুর ভোলা পথিক,, 
ঘুম ভেবে চোখ বুজি... দুচোখ জুড়ে জীবন হাসে,
আমার রাত দীর্ঘ হয় তোর ভেতর,   পুরনো গিটারের
তারে জং ছাড়িয়ে দু এক  পশলা সুর ছড়াই... 
আমার উঠোনে তোর গন্ধ বাড়তে থাকে সোঁদা মাটির, 
--------------------------------------------------------
গাছের পাতায় বয়স আসে, বসন্তের মন রোগ, 
অভিমান  যেন   ঘন হয়ে নিভিয়ে ফেলে
শৃঙ্গার দীপ,  চোখের কাজল উথাল-পাথাল,
ছায়ানটে বছর কুড়ির মতন বৃদ্ধ কেউ,       
সব ছায়া হারিয়ে কেবল একলা মন আকাশ
হয়ে ঢাকতে থাকে আমার ঝিনুক ভেবে দিন
কুড়োনো স্বভাবকে।   
প্রতিটা প্রহর কেমন  যেন     ছেঁড়া ছেঁড়া
পাতার মত....... হয়তো বহু দিন আগেই বদলানো
উচিত ছিল ঠিকানা।    
               
 

শুন্যস্থান


প্রয়োজনে ডুবেছি অতল সমুদ্রে জলজের 
সাথে করেছি ঘর,  কখনো ভীড় ঠেলে  এগিয়েছি
সমস্ত ব্যাস্ত পৃথিবীর..,  রেখেছি  ট্রিগারে তোমার 
সমস্ত চ্যালেঞ্জ,  
খুব সহজে যে দিন কাটে না সে কথা বলার 
যো     ছিল না... কারন  শুরুর ঘর থেকেই
শুন্যস্থানে পেয়েছি আমাকে, 
সামলে রাখতে শিখেছি মনের কথা,  বুকের ব্যাথা
 ঢাকতে শিখেছি  শুকনো পাতার আওয়াজে,, 
এখন আমার মত নিঃস্ব একটা গোটা পৃথিবী
আমারই সাথে বাস করে, 
শুধু সামান্য কিছু কাক পাখিদের ওড়ার শব্দ 
আর মরিচিকার মত হাতছানি মৃত্যুর  পারে 
জীবন, 
--------------------------------------------------------  
উত্তরের বারান্দা কাল তুমি ভিজছিলে তুমুল
বৃষ্টিতে সাথে তোমার প্রাক্তন... আমার চোখের
খুব কাছ ঘেষে তোমাদের গড়িয়ে নামা নোনা  বাষ্প...
 আমি ক্রমশ  এগিয়ে গিয়ে দেখি... দাবার দান সাজিয়ে আবার
আর এক তুমি মুখোমুখি আমার মত অবিকল... 
অন্য কেউ, .... চেক মেট তোমার দিকে ...,, 
হারতে শিখেছি বুঝেছিলাম সে দিন, 
আসলে আমার চার আঙুলের জমি যে  বানজার
সেটাই বুঝিনি.... আমি কেবল  ভীড় ঠেলে ছি
ডুবেছি অতল সমুদ্রে... শুন্য মুঠোয় ফুরোতে থেকেছে
আমার মূল্যহীন আয়ু.... এখন আমি ও আমার পৃথিবী
মৃত্যুমুখাপেক্ষী।।                           
       

স ম য় আর স ম্প র্ক

ঠোঁটের যন্ত্রনায় রংদানি রেখে হাসতে শিখে
নিয়েছি বলে ভাবলে, আমার অভিধানে ছিলো না 
যন্ত্রনা, বহু মৃত্যু পেরিয়ে এসে সে দিন আমাদের ঠিকানায়
কড়া নেড়ে গেছি সময়ের পর সময়,  , 
দরজায় রাখনি কোনো মুলাকাতি
ছিদ্র..... কিংবা  সামান্য  আত্মিক ওম,, 
ভালবাসা কখনো কখনো     রেকাবে সাজিয়ে  রাখতে 
হয় বুকের খুব কাছে যাতে নিশ্বাসে সে ঘ্রান আসে,... 
নয়তো নিশ্বাস শিখে ফেলে প্রেমহীন হয়ে বেঁচে নিতে, 
         ................   এহসাস.........
সময় একটা স্রোত টিক টিক শব্দে না জানি  বয়ে
চলে কতই না গ্রন্থিত অগ্রন্থিত অক্ষর পুঞ্জ, 
এপিটাফে  লেখা   সময় হয়ে গেছে ইতিহাস, 
কাল যা ছিল আজ থাকা না থাকার মাঝে তার
প্রান বাতাস.... ভেবে দেখেছি আজ গুছিয়ে রাখার
তাগিদে নিশব্দে   হেঁটে   চলে গেছে   মাইলের পর
মাইল ঘড়িটার  কাঁটা, কখন যেন বাকরুদ্ধ  হয়ে গেছে 
বেঁচে থাকা .... অনুভুতি গেছে বুক থেকে ক্রোশ পথ
পার হয়ে.... সময় ছিল না হাতের সময়ে,  
স............ম্প........... র্ক শব্দটা একা হতে হতে , 
শিখে নিয়েছে সমস্ত দরজায় খিল এঁটে গভিরে
হেঁটে যেতে.................   
তাই প্রতিটা অক্ষরের মাঝে এখন অগাধ নিঃশব্দ 
স..................ম..................য়.........। 

          

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০

স্বেচ্ছা নির্বাসন

----------------------------  
 একা থাকা কিছু ছবি সময়ের কাছে গচ্ছিত
হোক... জলন্ত  উত্তাপ পার হয়ে  বাঁচতে চাওয়া 
  শব্দটার   হোক   জয়,  অন্ধকার খোলোসে 
লুকোনো  বোবা টানেল আর সকাল নাই বা দেখলো, 
তবু বেঁচে থেকো মানুষ বেঁচে থেকো দেশ  বাঁচুক গোটা
পৃথিবী, 
আমাদের অপেক্ষা কিছুটা দৈর্ঘ্যে প্রস্থে  বাড়ুক নেই ক্ষতি --
কলমের নিব গড়িয়ে নামুক কেবল  বেঁচে থাকার শুভেচ্ছা, 
এসো দুরত্ব মেনে লড়াইয়ে নামি,  অস্ত্রদের মত হই আমারা
ভীষণ রকম একা...     চতুর্ভুজে আঁকা   লক্ষ্মণ রেখা মেনে চলি,, 
এসো আজ প্রতিটা ভালোবাসাকে স্বেচ্ছায় বলি নির্বাসিত হতে... 
বলি আমরা ফিরবো কোনো এক নতুন সকালে নতুন দিনে 
আলটুসি কোনো ক্যান্টিনে.... 
এসো আজ একা থাকা কিছু ছবি গচ্ছিত রাখি সময়ের হাতে
আগামি কয়েক দিন।       
            

রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২০

রিহ্যাবিলিটেশন হোম

-----------------------------------  

তোমায় হাসতে দেখি যখন দ্বিতীয় কোনো নারী
সাথে,  আমি পুড়তে থাকি ভরা  শ্রাবণের তুমুল
ধারায়,  
তোমার বিছানায় অন্য নারীর শরীরের গন্ধ আমার
নিশ্বাস বাতাস বিষাক্ত করে দেয় আমি মরতে থাকি নিমিষে,,   
তোমার ইনবক্স জুড়ে ন্যাকামি সোহাগ  প্রেম আমার ভেতোর জন্ম দেয় নৃশংস হত্যাকারীকে, 
 এযাবতকাল  তোমায়    গলায়  যত নারী তার    হাতের বেষ্টনীতে তোমায় আগল দিয়েছে ইচ্ছে
করে প্রতিটা নারীর গলায় পা রেখে ছিড়ে ফেলি
সে সব হাত,  তোমার বুকে রাখা আলিংগনের মাথা কিংবা তুমি ছুঁয়েছো  যত  নারীর..... 
ধারালো অস্ত্রে ফালা ফালা করে ফেলতে ইচ্ছে করে,, 
প্রশ্ন করতে থাকি কেন.... কেন  আমি হতে
পারিনি তোমার অদ্বিতীয়  ও একক নারী... 
বলতে ইচ্ছা করে তুমি আমায়  হত্যা করেছো 
তুমি আমার মত হত্যাকারীর জন্মও দিয়েছো, 
আজ আমার ঠিকানা ......  রিহ্যাবিলিটেশন হোম.......                       

ভিতর বাইরে


 বদলাচ্ছে সময়, ঝড়ের শব্দে ভয় পাওয়া 
পাখিদের ঠোঁট নিয়মমাফিক সঙ্গম অথবা   
চুমুর বিশ্লেষণ বদলে ফেলছে,, 
যদিও রয়ে গেছে দেওয়া আর নেওয়া.... 
বাকি উহ্য  সব কেবল কথিত, 
এখন  মৃত্যু প্রসব করছে শূন্যস্থান 
যেখানে যতিচিহ্ন জড়িয়ে আমাদের  মত
বাহিত যারা  শহরের নর্দমায় ফেলে দেওয়া 
নির্ঘুম অস্থিরতা  ,, 
স্নান ঘর জুড়ে অসম্ভব বিরক্তে  গড়িয়ে নামে 
দো -তারার   সরগম.... তোমার ভাষায়  নীল
নদ বইছে গরল, বিষাক্ত তাই গৃহপালিত মানুষ, 
গিলছে কিন্তু হজম করছে না এমন করেই তুমি
আমির সংসার,, 
রাত  ছবি আঁকে ক্যানভাস ভেবে সিলিংএ... প্রেমহীন
চোখ খোঁজে   এমন কোনো মৃত্যু যার ত্রিমাত্রিক
শাব্দজব্দ রয়েছে গভিরে,, 
 গত কয়েক মাস একটাও চিঠি নিয়ে আসেনি
 চিলেকোঠার সে ই  সঙ্গিনী  কবুতরটা জন্য প্রিয় অপেক্ষা... 
ভিষন রকম বিসন্নতায় আচ্ছন্ন তাই...  
ভেতোরের দহন লুকিয়ে সাজনো ঠোঁটে আজকাল
কেবল বিকিকিনির আসর,   নেই দায় অথবা   অঙ্গিকার 
কেবল তুমি -আমি অংশিদার।           

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২০

সমর্পণ

-----------------------------------  
আমার যুদ্ধ ফুরিয়ে যায় তোমার দরবারের আঙিনায় এসে,,  
আমি অস্ত্র হাতে তোমার সামনে দাঁড়াতে পারিনি কখনো, 
একটা হত্যা হওয়া পৃথিবীর  বুকে ক্ষীণ কোনো  নূপুরের আওয়াজ
যেমন বেঁচে  থাকার গন্ধ  মিশিয়ে দেয় বাতাসে, তোমার সামনে আমি 
সম্বিতে ফিরি সে ভাবেই, অযুত বছর ধরে দিগন্ত জুড়ে নানা
মুখোমুখি সম্পর্ক..... খুঁজে পাইনি কখনো নিজের মত কাউকে, 
যুদ্ধে মেতেছি  যেন .. আমার সামনে মাছের চোখ আর আমি অর্জুন,, 
একা আরো একা যুদ্ধ থেকে যুদ্ধ... আমি ফুরোতে পারিনি 
সে রণক্ষেত্র   ... কেবল ছুটে ছলেছি.... 
--------------------------------------------------------   
সুজন তোমায় ঈশ্বর মানতে রাজি ছিলাম না কোনো কালেই, 
আমার সমস্ত অহংকারী খোলোস ছিড়েখুঁড়ে তুমি 
অন্তরমহলের আর্তনাদ মুছে ফেলেছো..... আমি আর
সময় নষ্ট করতে ভয় পেয়ছি,  নামিয়েছি তরবারি, 
 ছুড়ে ফেলেছি   তুনীর, খুলে রেখেছি সমস্ত অহংকারী
বর্ম দের,  তুমি তখন আমার একক ঈশ্বর হয়ে আমার অন্ধকারে
প্রবেশ কর,................. 
------------------------------------------------------------  
আমি মুক্তি খুঁজি..... হাহাকার করা যন্ত্রনা  আকাশ পায়... 
কেউ জানে না এ গোপন আত্মসমর্পণ, 
.....বলতে ইচ্ছে করে "আরো আলো আরো আলো 
এই নয়নে প্রভু......."      
আমার যুদ্ধ ফুরিয়ে যায় কেবল তোমার দরবারে সামনে এসে,,,।                  

প্রিয়তোষ(2)





ফিরে এসো এবার প্রিয়তোষ
এক বুক  নদী আছড়ে পাড়ছে তুমি বিহনে , ধীরে ধীরে পা টিপে টিপে
এগিয়ে আসছে এক মারণ বিষন্নতার গাড় অন্ধকার  ,,তোমার জন্য ফুলের বাগান 
তোমার জন্য  নতুন নগর 
তোমার জন্য গান বেঁধেছে লালমাটির সেই  বৃদ্ধ
বাউল ,
তোমার জন্য  পুরোনো বটগাছের ঝুড়িতে আজও
পাখিরা বাঁধে ঘর।
প্রিয়তোষ মৃত্যু  একা করে দেওয়া   না কি আরো
ঘন হয়ে যায় পাওয়া ।
যে জমির বুকে পুড়ে যাওয়া মাংসের গন্ধ সেঁধিয়ে সেখানে ও বাঁধে অনেক সুখী  গৃহকোন  , আমি বুঝি না এই ভাঙা গড়ার বাঘবন্দি খেলা  ।
বিসর্জনের    ফুলে গাঁথা ফের বিসর্জনের মালা ,
প্রিয়তোষ হাঁপ লাগে তবু বুকের ধুকপুকুনি থামে না ,,
নিজের জন্য কবর খোড়ার জায়গা নেই,
নেই কবর  ঢাকার মত মাটি ,
শুনেছি মাটির  দাম মানুষের চেয়ে  মানুষের মৃত্যুর চেয়ে অনেক দামি ।
প্রিয়তোষ  এক বুক নদী আছড়ে পাড়ছে তুমি ফিরে এসো ...

এসো আমরা  আমাদের নদীর পাড় ধরে পরপারে চলে যাব ,,
কিচ্ছুটি আর চাইবো না তারপর ।

সুবর্ণা (৮৬)

-----------------------------------------------   

পাখিদের ওড়ার   সমীকরণ   জানতে ইচ্ছে হয়, 
সবচেয়ে উঁচু ছাদের কার্নিশে প্রজাপতি হয়ে বসি, 
আহ্লাদী সোনা মাখা বিকেল হয়ে গড়িয়ে পড়তে ইচ্ছে
হয় বাদামি কোনো পাহাড়ের গা বেয়ে..... 
সুবর্ণা তুমি আকাশ হলে আমি স্বস্তি পাই  -- সমস্ত
গিঁট খুলে আমি বেড়ে উঠি আজনবি সব স্বপ্নদের নিয়ে,, 
ভেবে দেখো তোমার সামান্য ভেষে থাকায় আমার 
প্রতিটা জন্মের আঁতুড়ঘরে ঘিয়ের  প্রদীপে আলোময়,, 
সুবর্ণা যদি না হাসো  একটা কথা রাখি তোমার  কাছে, 
 ভোর স্বপ্নে  কখনো কখনো  আমি তোমার গর্ভে কুন্ডলী
পাকিয়ে নিজেকে শুয়ে থাকতে দেখি,, দেখি একটা গোটা
সমুদ্র  কেবল আমার,  মাছেদের মত আমিও তখন অবাধ,, 
এক পৃথিবী প্রজাপতি রং আমার  ড্রইং খাতার পাতায়
আমার  ছবিরা তখন রুপকথা,  কখনো আবার 
তোমার আনমনে লেখা আবোলতাবোল আলবেলা 
কবিতা পাগলামো সব শব্দ যেন আমিই আমি 
  .......................................................
বিশ্বাস করি  আমার ভোর স্বপ্নের সত্যির সাথে 
 একদিন খুব সকালে  শিখে ফেলবো
 পাখিদের ওড়ার সমীকরণ। 
............(সুবর্ণা প্রিয় সমীকরণ)       




শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০

প্রশ্ন

-----------------------------------------  
আমি দেশ ঘুরেছি  অনেক ঘুরেছি নগরের প্রান্তর অনেক যুগ,   
  অনেক দেখেছি মানুষ,
 দেখেছি নদী দেখেছি পথ আর পথিক, 
দেখেছি মা আর শিশু, দেখেছি প্রেমিকের
অজস্র চেনা মুখ, দেখেছি    আমারই মত অনেক আমি, 
 জানতে চেয়েছি মানুষ তুমি কার? কি তোমার পরিচয়? 
নদীর কাছে জানতে চেয়েছি তুমি কেমন করে বয়ে
যাও সব বিসর্জন !  পথ জানে না কোথায় তার শেষ, 
জানে না পথিক ঠিক কতটা হাঁটতে পারলে সার্থক হবে তার চলা, 
মা জানে না  শেষের দিনে সে কি কেবল পালিতার পরিচয়ে 
কোনো  বৃদ্ধাশ্রমে  থেকে যাবে কিনা,, ,  শিশু জানে না উত্তর
সে  এই পৃথিবীতে কতটা যাচিত কতটা অযাচিত,, 
প্রেমের কাছে উত্তর নেই কোথায় সে পুর্ন,  বিরহে না
মিলনে !  আমার মত আমির কাছেও অজানা অচেনা
সমস্ত চাওয়া পাওয়া সুখ অসুখ,    
খুঁজে চলেছি  আজন্মের এমন কত উত্তর, যারা নিজেরা
দ্বিধায় মাথা নিচু করে আছে নিজের কাছে....  

অনেক দিনের পর

অনেক দিন যাওয়া হয়নি হলুদের ভীড় ঠেলে 
প্রিয় শহরের , ছুঁয়ে দেখিনি কত দিন তোমার
শান্ত প্রবাহ ....বহুদিন তোমার দুহাতের বেষ্টনী
জুড়ে শোনা হয় না সাংসারিক নালিশ ,,
ট্রামলাইনে দাঁড়িয়ে একটা মিষ্টি অপেক্ষা শহরটাকে নেশাতুর করে ফেলে এ ছবি আমার 
আজো প্রিয় ,
বহুদিন শিরদাঁড়ার ব্যাথায় অভিমানী ভালোবাসা
রাখেনি আঙুল , 
আজ বহুদিন আঙুলের করে দিন গোনা হয় উৎসুক কোনো উৎসবের জন্য ,
বহু দিন  কোনো  আদুল গায়ে  পাগল কবির  স্বরচিত  কবিতা শোনা হয় না ,,
 বাউল   তোমার চেয়ে বেশি সেই পাগল কবির
প্রেমে পাগল হয়ে চেয়েছি ,
তাই বারে বারে ফিরতে চেয়েছি ...সে জন থাকে যে নগরে , 
বহু দিন ফেরিঘাট পর হতে হতে সেই কন্ঠ আসে নি কানে ...ফিরে আসিস খুব শিগগির ,,
বহুদিন তোর জন্য লেখা কবিতার হাত ধরে বাড়ী
ফেরা হয়নি ,
বহুদিন  তুই ডাকিস নি তোর দেওয়া সে ডাক নাম ধরে ,,
................................তবু একলক্ষ বছর পরেও
এক ও অনন্য   আমার প্রিয় নদী, প্রিয় কবি ,প্রিয়
শহর ,প্রিয় অপেক্ষা , প্রিয় উৎসব ,,,,




বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০

কবিতার দাম

--------------------------------------------------------  
কবিতার শব্দ ফেরি করে সন্তানের খিদে
মেটানো যায় না, 
কবিতার শব্দ নিয়ে  গৃহস্থালির বাজারের ব্যাগ  
ভরে না, 
কবিতার ধারালো শব্দ পারে না গরিবের আধফালি
রুটির দাম জোগাতে, 
পারে না তাপশী কিংবা নির্ভয়ার দহন রুখতে,, 
কবিতার শব্দ পারেনি কাদম্বরী কে বাঁচাতে,, 
কবিতা একটি শব্দও  পারেনি নীরা বা বনলতার
বুকের আগুন নেভাতে,        
কবিতার শব্দ পারে না  মুমূর্ষু মানুষের দাওয়াই হতে,,,
তোমার শব্দের থেকে বেশখানিক এগিয়ে  পাড়ার   
বখাটে ছেলেটা, সে অসময়ে পারে নাসির কাকার
নিঃশব্দ দেহটাকে কাঁধে তুলে চার হাত জমির
খোঁজ দিতে,  
কবিতা তোমার শব্দের থেকে ঢেরবেশি দাম পায় বাজারি
মেয়েমানুষটা, 
  কবিতা তোমার  শব্দেরা জোড়ো হয়েছে হাজার
 ভাঙা গড়ার মিছিলে.... 
হাতে গুনে বলা যাবে না কটা বুনিয়াদ করেছে রচনা,
কবিতা তোমার শব্দেরা  যতটা     ধ্বংস লিপিতে
পারদর্শী  ততটাই কি  পারে জন্মের সাক্ষী   হতে! 
 তবু ছিলে,  আছো, রয়ে যাবে কাহিনির বুকে, 
কবির প্রেমিকা হয়ে, কলমের সহবাসী হয়ে,, 
কখনো প্রেমে.... তার থেকেও বেশি অপ্রেমে।
আমার সন্তান তোমার মিথ্যে রুপকথায় ঘুমিয়ে
পড়বে, চোখের জলে শুকোবে খিদে,, 
বাজারি মেয়েমানুষটা স্বপ্ন মরবে আর, 
তুমি    চিরকাল থাকবে অবিশ্বাসী হয়ে,,, 
দেশের হাজার নাসির কাকা মরবে চিকিৎসার
অভাবে,, কবিতা তুমি তখন কোনো আদুরে নালিশের
ভূমিকায়..... কবিতা তোমার শব্দরা   ক্লীব  ,, 
কিংবা স্বার্থপর,,,  
      

সুবর্ণা(৮৫)


আধখানা দেখা হওয়া আধখানা কাছে থাকা
এক আঁচে আধা আধি পুড়ে যাওয়া... মঞ্জুর 
চার আঙুল জমি    জন্মের এপারে,,
 সুবর্ণা তুই আমি  পথের দুই কিনার,  জুড়ে থেকেও দুরে দুরে...
মুলাকাত জুড়ে আদুরে নালিশ... পারিজাতের 
ওম আমাদের  তবু ,  ভিন্ন গ্রহে   ভিন্ন  খাঁচায় 
ভিন্ন ফুলের মালা গাঁথায় স্বয়ং আমরা, 
আজকাল হারিয়ে গেছে ' মনে হওয়া রোজই
দেখা হোক'  ,,      কবিতায় রোজ কবরের মাটি সরাতে থাকি    কিছুটা..... যদি একদিন সময় সামনে এসে বলে এই নাও দিলাম মৃত্যু জাজিম,
তোমারা এবার পাশাপাশি হাতে হাত.... 
জানি সুবর্ণা তুই বিরক্ত গলায় বলবি  আগে তো
বাঁচি একসাথে..... বহু  মুহুর্ত পাশাপাশি  দেখা বাকি,     বাকি   একসাথে জলছবি আর কবিতার সহবাসী হওয়া,   
আসলে অপেক্ষা ফুরোয় কিনা জানা নেই, 
এজন্ম ভর আমি কেবল অপেক্ষা দেখেছি
আর তারপর দেখেছি খুব যত্নে সেই অপেক্ষা একদিন আপোষে মৃত হতে...., 
(সুবর্ণা প্রিয়   সময়ের  ভগ্নাংশ)     

             

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০

সুবর্ণা(৮৪)


দুটো শহরের মাঝে মৃত সংলাপ বইছে... নদী
ভেবে গা ধুয়ে গেছে বাকি টুকু বসন্তও,, 
পোট্রের্টে শুন্য চাউনি একা এখন... 
পলাশ তুমি কথা রাখতে পারলে কই এই বসন্তে ?
বলেছিলে প্রত্যেক  সন্ধ্যা নামার আগে একবার
আসবে ভালোমন্দর খবরে স্পর্শ রাখতে, 
জানি না ভুলেছো  কি সে কথা, নাকি তোমার 
শহরে বিকেল গড়িয়ে নামে না সন্ধ্যা! 
       আগামি বসন্তে হয়তো  নালিশ থাকবে না
 চোখে, হয়তোবা  বা শুধু   কিছু সাদা ফুল আঁকবে তোমার তুলি,, 
আগুন রং তখন কেবল চিতার কাঠে,, 
লাল মাটি মিশে গেছে আমার ধমনির ধারায়.. 
সব বৃষ্টি যে সবুজের জন্ম দেয়  না,  সেটুকু বুঝিয়েছো
তুমি  সুবর্ণা,, 
নদীর খুব কাছে ঘর বেধেছিলাম  একদিন অবিরাম
 বৃষ্টি মাখবো ভেবে....  চোরা স্রোত   ভেঙেছে ভুল,, 
এখন তোমাকে নিয়ে পার হই রুক্ষ লালমাটির
রাস্তা, 
এখন আর দু একটা দিন  নিশ্বাস নিতে ইচ্ছে হয় না, 
সে সব মনকেমন খুব যত্নে হত্যা করতে পেরেছি,
মনে করে আজকাল ভুলে যাই একটি প্রেমের কবিতায়
কখনো তুমি আমি ছিলাম শুরু থেকে আর এক শুরুর
দুয়ারে,, 
শুধু মনে নয় আয়নাও বলে দেয়   সত্যি প্রাপ্তবয়স্ক  ছড়িয়েছে 
 আমাদের বাইরে ভেতোর জুড়ে ,   
ঝূটো ঝগড়ায় আড়াল করি এসব কথকতা.......
ঢাকতে চাই দুটো শহরের  খয়েরী  বিসন্নতা.....                 
       

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০

অপরিচিত

-----------------------------------------------   
তুমি বৃষ্টি ভেবে সুখের কবিতায় খুঁজে নিয়েছো
আশ্রয়, আমার শহরেও সারারাত  বর্ষন------  বয়েছে শুধু নোনা পানির 
স্রোত,,  দেওয়াল জুড়ে ছড়িয়ে গেছে  ঘুন,, ,
বুঝিনি যে আগুন একদিন ছিল  যজ্ঞর,  কখন তুমি
সে আগুনে পুড়িয়েছ  আমাদের সমস্ত  উৎসব,, 
শব্দরা কবিতার খাতায় বেড়ে ওঠা শিখার মত সহস্র দহনে একটা গোটা গ্রহ কেমন গোগ্রাসে গিলছে, সুখি গৃহকোন তবু সেজে ওঠে ফাগুন রঙে,   
খুঁজে দেখলে শহরময়  প্রতিটা  প্রেমে  তুমিও পাবে  অজস্র হত্যা,..... আমি কখনো খুঁজে পাইনি  সে সব হত্যার এক জন মালিকানাও  , 
যুদ্ধ ফুরিয়ে যায়... মিটে যায় দেনাপাওনা, 
অভিমান  বর্ন ফিকে হতে হতে  পরিচয় হারায়,,      
গত কয়েক বসন্ত চোখে আর নেই কোনো নালিশ...  উত্তরের বারান্দার সাথে ভাগ করে নেওয়া হয় না বহু রাত,, ------------ বুঝি মিছরি মেশানো সম্পর্ক এখন অবিশ্বাসী হয়েছে,, 
আমরা দুজোনের অপরিচিত শুধু মাত্র।                      
  

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২০

সুবর্ণা (৮৩)

--------------------------------------------------------   

কখনো চোখের দিকে নিবিড় ভাবে চেয়ে 
দেখোনি, তাই   মন্দিরের জ্বালানো প্রদীপ
দেখোনি ,, 
আমি তো বলিনি সুবর্ণা তোমায় নিজের করে
পেতে চাই,, বলিনি তোমার  পৃথিবী হোক আমার
থেকে শুরু আর  শেষ,, 
----+---     শুধু এটুকু  চাওয়া অচেনা হয়ে  যেওনা, 
রাস্তা আমি একাই পেরোতে পারবো শুধু সে রাস্তার
অন্তত একটা মোড় যদি তোমার বাড়ির পাশে হতে পারে,, 
সবার মত তুমিও বুঝিয়ে দাও আমরণ  ইচ্ছেগুলো
  গুছিয়ে রাখার   কথা কিংবা একজন্মে সব না পেলেও
চলে ..... শুধু ইচ্ছেরাই জানে চেয়েছিলাম
তুমি অন্তত বুঝবে, আর আমার অন্তত একটাই
জন্ম হবে সার্থক -----বাকি জন্ম গাছ হতাম ভালোবাসার
মাটি আঁকড়ে  হতাম স্থির, , 
-----ফুরিয়ে হয়তো এখনো যাইনি.... তবে আজকাল
ক্লান্তি নেমে আসে নিশ্বাসে, ঠাহর করতে পারি না
বাকি আসা যাওয়া সম্পর্কগুলো.......... 
আমার ছবিঘরে  ইজেল, রং, তুলির এক ও
অনন্য  বন্ধন কেবল তোমার সাথেই,, 
শুধু কখনো তুমি নিজের হাতের রেখাদের
ভালো করে হয়তো দেখোইনি, দেখলে
তুমিও জানতে, ও হাতে আমিও ছিলাম আবছা
কোনো রেখার  সাথে মিশে ---------।
--------(সুবর্ণা প্রিয় চাওয়া)  
         

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২০

সরকার জ্যেঠু

----------------------------   
সাইকেলের হ্যান্ডেলে  রোজ কিছু  খুচরো খুচরো
স্নেহ,  তাদের কেউ বাদাম ভাজা, কেউ
 ঝিলমিল কাগজে মোড়া  টকঝাল  লজেন্স, কেউ জিলিপ,  
কখনো আদোরে মাখামাখি ঝালমুড়ি, নিদেনপক্ষে
কাগজের মোড়কে এক পৃথিবী প্রদক্ষিন করতে পারে
এতটা ভালবাসার স্পর্শে আনা কয়েকদানা মৌরী লজেন্স, 
আহা এরা সকলে ঠিক একএকটা রঙিন প্রজাপতি , 
আমার পুরোনো খেলা বেলার বাক্সে থাকা  স্মৃতি,, 
কতকাল আর খুলে দেখা হয় না খেলা বাক্সটা,, 
--------------------------------------------------------  
কাল খবর পেলাম সেই স্নেহের সাইকেলটা কয়েকদিন
আগে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে..., 
আমার  সরকার জ্যেঠু আর নেই................নেই
আর 'মা রে এসেছিস ' ডাকটা,,,  
ঠিক মনে করতে পারি না কত অনিয়মিত কিংবা
নিয়মিত সময় সরকারজ্যেঠুর বাড়িতে কেটেছে.... 
স্নেহের  সবটুকু পাবার লোভে কতবারই  অবুঝের মত
বলতাম জ্যেঠু পরের জন্মে তুমি  শুধু আমারই বাবা হবে... 
বাপি দা আর মামনীদি অন্য কারো বাড়িতে......,, 
আমার ভীষণ লোভ বরাবর... লোভ ভালোবাসার,
স্নেহের,  আবদারের,  যে  কটা দিন কেটেছে  সরকার জ্যেঠুর 

 বাড়িতে  খেলাবেলার পকেট ভরে কুড়য়েছিলাম   অজস্র
 রঙের নুড়িপাথর  তার প্রতিটাতে জ্যেঠু তোমার স্পর্শ,,, 
শুনেছি স্মৃতিরা নাকি মৃত হয় তাই  ইতিহাসে পায়
আশ্রয়,,  মেনে নিই কি করে একথা....  কাল সরকার জ্যেঠু
চলে যাওয়ার খবর পেয়ে.... আমার খেলাবেলার বাক্স
খুলে দেখি সেই বাদাম ভাজা, ঝিলমিল কাগজে মোড়া
লজেন্স,  আদোর মাখা ঝালমুড়ি, জিলিপি,   মৌরী লজেন্স
এরা সবাই এখনো একই রকম উচ্ছল প্রানবন্ত,
এদের রং একটুও  ফিকে হয়নি,,    সেই সাইকেলের
আওয়াজ  ক্ষীণ  হয়নি একটুও.......  ... 
শুধু  সরকার জ্যেঠু তুমি আর 'মা রে এসছিস' বলে 
দুহাত বাড়িয়ে দেবে না..... তোমার গন্ধ, স্পর্শ, স্নেহ 
সব রেখে গেছো ছায়ার মত,....,, শুধু বলি জ্যেঠু মনে
আছে তো পরের বার তুমি শুধু আমার বাবা..... 
বাপিদা, মামনীদি অন্য বাড়িতে.......। 
( যেখানেই ত্থাকো  ভালো থেকো  জ্যেঠু )    
                        

                    
           
    

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২০

সুবর্না (৮২)

----------------------------
বছর কুড়ি এক দেওয়াল,  এক ছাদ,....
বলতে পার সমস্ত সাজানো চতুর্ভুজ তোমার 
আর আমার সাথে আছে,, এদের বুকে
জমা হয়েছে   অজস্র  কাহিনীর  ফসিল ,   একে অপরের
পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে রয়েছে৷   নিয়ম মেনে , 
সব রং আলাদা করে ফেলা যায় এদের... মিশে যেতে  পারেনি
কেউ কারো    অনুভবে,,  যদি  প্রশ্ন করি  অনুভব   ঠিক কেমন?
এরা কেউ সে উত্তর দিতে কি পারবে সুবর্ণা! 
দুটো মানুষ কোনো অনুভূতির জন্ম দিতে পারেনি.... 
দীর্ঘ যাপনেও ,, 
দুটো পথ যারা একসাথে পার হয় সময় ,... অথচ
   কেউ কাউকে চেনে না,  কখনো দু দন্ড বসেনি স্পর্শ
বিনিময়ে,, 
তোমার পাশে হাঁটতে হাঁটতে অজান্তে শেখা নাটকের
সব অংক নিপুণ কারিগরিতে সাজানো , 
গল্পেরা আজো হাসে কথা বলে শুভেচ্ছা বিনিময়
করে....... দর্শকের হাততালি সাজিয়ে রাখে 
ড্রইংরুমের  শো-কেসে। 
অথচ তুমি কিংবা আমি বরাবরই মৃত... 
হয়তোবা জন্ম ছিল না "আমাদের" কখনোই।
কি অদ্ভুত ভাবে তুমি আমি আজ এতোগুলো বছর
সাজিয়ে চলেছি ফুলদানি, সাবধানী আঙুল
মেনে চলেছে খুব কাছ থেকে সমস্ত দূরত্ব,,
সুবর্ণা আমি  এও  জানি,  পারবো তুমি আমি নাটকীয়
 ভঙ্গিতে সাবধান  হয়ে আরো অনেক  অনেক 
 ক্যালেন্ডার পাতা হেঁটে যেতে,, 
শুধু পারবো না তুমি আমি মিলে  " আমরা " হতে । 
.............(সুবর্ণা প্রিয় দূরত্ব),            
                               
         

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০

বৃষ্টি

----------- 
ভোর রাতে বৃষ্টি নামলো... বুঝলাম তোমার 
বুকে  জমা ছেড়া ছেড়া মেঘেরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠেছে 
এই মুহুর্তে,  তোমায় টুকরো টুকরো করে নিয়ে যাচ্ছে গ্রহান্তরে,,      স্নানঘরে রাখা আস্তিন হাতড়ে সামান্য কিছু বাষ্প আমি একান্তে রাখলাম ডুকরে আসা কান্নাদের পাথর চাপা দিলাম..... জানলাম একলা হাঁটতে হবে বাকি টুকু,, .....   কাল  থেকে আর ক্যাফেতে দেখা  হবে না  পরিযায়ী প্রেমের,  
পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে যতসামান্য বেঁচে থাকাটুকু চোখের   লেপ্টে যাওয়া  কাজলে  তখনও খানিকটা   আদুরী চুমু,,,,   
------------------------------------------------------------  
দক্ষিনের জানলা খুলে দেখি আমাদের আদলে আলাপি হত যে পাখি
দুটো শেষ রাতের ঝড়ে তার একটা  সঙ্গী হারা হয়েছে.... 
আমি রোজ তাদের সাংসারিক ঝগড়ার সাক্ষী আঁকতাম রান্না ঘরের জানলা থেকে ,,  
একে অপরকে বলতো  এতো জ্বালাস আমায়, আমি যদি তোর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই
আর কখনো ফিরবো না.... তা সে যতই  যন্ত্রনার হোকনা আমাদের বিচ্ছেদ.... আর একজন বলতো আমিও হাঁটবো সেই বৃত্তের উল্টো দিকে... 
আমার সকল অভ্যাসের মধ্যে অংশিদার পাখি দুজনের    কুট কাচালির  পাঁচালি, শুনে আমার হাসি পেত প্রায়শ...  .. 
ভাবতাম ভালবাসা এমন...... যেখানে জড়িয়ে জাপটে ঝগড়াও  আত্মিক হয়ে ওঠে,, 
-----------------------------------------------------------,
 উৎসবের শেষে আমাদের বিসর্জনে  মত      
ভোর রাতের  বৃষ্টি  ওই পাখি  দুটো কে একলা করে গেছে,, 
কয়েকটা খড়কুটো ঠোঁটে নিয়ে এখন সৎকার করতে ব্যাস্ত... যে খড়কুটোয়
একদিন ছই বাঁধার কথা ছিল, 
...বৃষ্টিও  পারে  কখনো কখনো   উৎসব কে চিহ্নহীন করতে, পারে অনেক আশ্রয় ধুয়ে দিতে,,  
------------------------------------------------------------  , 
সকালের  বিশেষ বিশেষ খবরে জানা গেলো
শহরের গা বেয়ে বয়ে যাওয়া নদীর বাঁধ ভেঙে
গেছে ভোর রাতের   দুর্যোগের....   বিপন্ন হতে পারে নাগরিক জীবন যাত্রা................,  হারাতে
হতে পারে অনেকের আশ্রয়......।                             
      

ঈশ্বর

----------------
 চোখে  নীল পদ্ম নিয়ে ঘুরে ফিরি মেঘবালিকার
মত.... তুমি আকাশ বলে আমি মেঘ হতে চেয়েছি 
বরাবর... ভেসে বেড়িয়েছি তোমায় ভর করে।  
গায়ে সবুজ মেখে আমি সূর্যস্নান করি... তুমি গাছ  হতে
শিখিয়েছো,  শিখিয়েছো কেমন করে শিরদাঁড়া সোজা করে
 মাধ্যাকর্ষণকে হার মানাতে হয়,, 
আমার গোলাপি রঙের খামে রাখা স্বপ্নরা আদুরী ভীষণ রকম
তাদের লালিত করতে শিখেছো সন্তানের মত ,,, 
কালো মেয়ে কে কৃষ্ণকলি হতে দেখেছি তোমার চোখেই প্রথমবার। 
তুমি শিখিয়েছ সত্যি প্রেম ভীষণ আদুল, তার    কখনো শ্রিঙ্গার  
হয় না,, 
বুঝেছি  একজন মানুষ একজন্মে বহুবার জন্মায়, 
আমি যতবার এসেছি   তোমার স্পর্শে প্রতিবার 
জন্মেছি নতুন করে, 
হাতের রেখায় আঁকা থাকে  কিনা জানি না 
জন্মবৃত্তান্ত...,  যদি থাকে সেখানে একক ঈশ্বর হয়ে
রয়েছো তুমি,, 
মাটি দিয়ে গড়ে চলেছ তুমি অবাধ আমায়... 
জানি না কি নাম তোমার, ... উপন্যাসের শেষে
যেন    তোমার কোলে  বিসর্জিত হয় সারাংশটুকু,,
---------চিরসখা হে ছেড়ো  না মোরে.... ছেড়ো না.... 
               
                 

বেহিসেবি চিরকুট

রাতভর বৃষ্টির জল বাড়তে বাড়তে  দুটো শহরেকে জুড়ে রাখা সাঁকোটা  ডুবে গেল ... মাঝরাতে আকাশ ফুরিয়ে যাওয়ার মতো আমিও শূন্যে ভাসতে থাকি এযাবৎ । ফিরতি শীত হাওয়ায় মনখারাপ ভেসে ভেসে তোমার জানলার কাঁচে শিশির আঁকে , রোদ্দুরে গা মেলে শুকিয়ে নাও তোমার খামখেয়ালি সহবাস ... ,,অনেক দূরের খোলা মাঠে বাউলগানের আসর থেকে খসে পড়া দু-এক লাইন থেকে  ... ঋণ ও নির্জনতা নিয়ে তোমার সব কবিতা বেঁচে ওঠে  নতুন প্রেমিকার প্রেমে,,  ঝিমধরা আয়নায় শহরের বুক খোলা বিজ্ঞাপনের প্রতিবিম্ব তোমাকে বধ
করে অনায়াসেই   , তুমি বোঝো না এসবের কিছুই .......,
ঠিক তখন   ঘন শ্যাওলার আস্তরণ লেপে দেয় 
তোমার নাটকীয় ভালোবাসায় ,
আমি তখন তোমার গল্পের এক মৃত চরিত্র ছাড়া কিচ্ছু নয় ।

ফেরা চিঠি

--------------------------- 
ডাকপিয়ন ফিরিয়ে আনে চিঠি প্রতিবার, 
বলে যায় ঠিকানা ভুল ছিলো না.....ভুল ছিলো
পরিচয়,, 
কিছু পরিচয় জীবনে থেকে যায়.... সে পরিচয়ে 
জীবন থাকে না ,,  হাজার আফসোসে দেনাপাওনার
ঋন বাড়ে৷,   ফ্রেমে ঝোলানো হাসির পেছনে অজান্তে 
লাগে জং , দীর্ঘশ্বাসে ফেরা চিঠি অভিমান ভুলে তোমার
স্মৃতির হাতে হাত রেখে পার হয় রাস্তা, খোলা  ভাঙে চীনেবাদামের , 
কখনো চুমুক দেওয়া চায়ের ভাঁড়ে খুঁজে নেয়   ফেলে দেওয়া খুনসুটি.... 
এভাবে হাঁটতে থাকে ওরা কয়েক  জন্ম কিংবা তারও বেশি..,, 
ডাকপিয়ন বৃদ্ধ হয় চিঠিরা তখন পান্ডুলিপিতে রূপান্তর,  
মাধবীলতার নতুন জন্ম হয়.....  তোমার ঠিকানা ক্লান্ত হয়ে
পড়ে মুখ ফেরাতে ফেরাতে,, 
এক রোদডোবা সকালে নতুন কোনো অভিসারের পথ গিয়েছিল
আমার ঘুম ঘরের পাশ দিয়ে ----- নিঃশব্দের বুক চিরে  সমস্ত ফেরা চিঠিরা
সেদিন চিতকার করে বলেছিল ... এ পরিচয় ছিল শুধুই হৃদয়ের, 
তুমি অবাক হয়ে দেখেছিলে বহু বসন্ত আগে খেলার ছলে 
যে ফুল তুমি দিয়েছিলে তার একটা পাপড়িও শুকোয়নি আজও।                                     

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০

একা

--------------------------

নির্জন দ্বীপে একটা হেরে যাওয়া ঠিকানা 
ছাড়া কিছুই  নেই,,,  ব্রহ্ম মুহুর্তে ঘুম ভেঙে যায় আজকাল, 
দেখি  এক পাশে  সারি সারি শবে আতর মাখানো চলছে , 
আরএক পাশে  ঈশ্বর দাড়িয়ে  হাতে তার দানপাত্র... 
গুঁড়ো গুঁড়ো জীবন সে ছড়িয়ে দিচ্ছে  বাতাসে। 
. অথচ  যে জলসায় শুদ্ধ কোমল   সব স্বররাই ভীষণ
রকম প্রানহীন  তারাই কেন আসে আমার দ্বীপের বাসিন্দা হতে! 
বহু দিন ভেবেছি একটা প্রশ্ন করতেই তো পারি ঈশ্বরকে.... পারিনি,
সামনে দাড়ানো আমিটার কখন যেন বাকরুদ্ধ হয়ে যায় টের পাই না। 
ভালো থাকবো বলে একের পর এক কত সংকোচ  এলাম
পেরিয়ে... কত আপোশের সুতোয় বেঁধে ফেললাম একের পর এক
গিঁট,  তবু পথ এসে মশেছে সেই শ্মশানের আলিংগনে।   
সাদা পৃষ্ঠা জুড়ে জং রঙা শব্দের মেলা.. যেন এপিটাফের লেখা। 
আসলে নিশ্বাস স্রোত  বেপরোয়া হয়েই যায় যত্নে হোক বা অযত্নে,, 
রোদ ডোবা বেলায় নগরে নগরে  চিরদিন  অবহেলায়  বয়ে যায়
ঝড়ে পরা ঘাম...,  তবু এমনটাও হয় কখনো কখনো বাঁচতে চাওয়া
আকাশে মেঘ জমে আসে..... আসে বুক ফেটে কান্না,  গিলে ফেলতে 
হয় গোগ্রাসে সব কিছু বিনা দ্বন্দ্বে,, 
খানিকটা মৃত মানুষের বিছানার নিচে লুকোনো বাঁচতে চাওয়ার আর্তি  খসড়া যেমন। 
ভেবে দেখেছি মানুষ সত্যি একা.... হাজার ভিড়ে হাজার ভালোবাসার
সংকির্তনে .. পাশে আছি সাথে আছি এসব কেবল শ্বাপদের মত, 
মানুষ মরে গেলে নিমিত্তে সম্পর্ক লাশ হয়ে যায়,  কবরের মাটি
মুহুর্তে খুঁড়তে থাকে  সমস্ত  সম্পর্ক,, 
সকলে আছি বা চলেছি শুধুই সমান্তরালে 
কেউ কাউকে আদতে সত্যিকারের ছুঁতে পারে না  কখনো।                                                      
          

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০

প্রাপ্তবয়স্ক

----------------------------  
প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে সময়,  রাস্ট্র দেশকাল, একটা গোটা 
 পৃথিবী...  প্রাপ্তবয়স্ক হতেই হয়, 
হিসেব মেলাতে গিয়ে খুঁজে নিতে হয় কপালের
বলিরেখা তখন তুমি প্রাপ্তবয়স্ক,  
সংসার প্রাপ্তবয়স্ক হলে হিসেব করে প্রেমিকার
প্রেম গভির ভেবে  মানুষ তুমি প্রাপ্তবয়স্ক,  
উড়ন্ত ঘুড়ির  বিরুদ্ধে গিয়ে রিক্সার প্যাডেলে চাপ দিতে
শেখা.....সদ্য কিশোর প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়,,,   
সদ্য ঋতুমতী মেয়েটা 
বিছানা করা শিখে ফেলে প্রাপ্তবয়স্ক সেও,  
বুকের ভেতর ছলাৎ ছলাৎ জল ছুড়ে নদীতে ধুয়ে আসা 
ভালথাকা কখন শুধু ভাতের পাশে একটু নুন রেখে 
প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে কে বলতে পারে,
ওই চেনা ডাক সময়ের চালচিরত্রে  নির্মোহ হয়ে ক্ষীণ হয়ে
মিলাতে থাকে... অজানায়,  বুঝি   প্রাপ্তবয়স্ক  হয়েছে বেঁচে থাকা টুকু, 
রাস্তার কুকুর গুলো যখন সহবাসে ব্যাস্ত হয়ে যায়.. 
মনে আর কোনো ফুলকি ছোটে না...  তখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে 
মন, 
কয়েকশ মাইল দুরে   বিনা অনুরাগে শহরে দুপুর গড়িয়ে  
নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ বিকেল হয়... একলা একলা যখন, 
বুঝি ছেলেমানুষী খুইয়েছি... এখন প্রাপ্তবয়স্ক আমার প্রেম
নাগরিক ভিড়ে হারানো সংসার শতাব্দীর সাথে... 
তুবু হলেও হয় নহলেও হয় গোছের দায় ভার... .. 
এবার বুঝি বৃদ্ধ    হতে হবে...  কারন  পালিয়ে নিশ্বাসের
সাথে কিছুটা থাকারা এখন.. ..প্রাপ্তবয়স্ক। 
এ দেশের প্রতিটা মাটির কনা এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে। 
মন খারাপ হয় ...  আর ছেলেমানুষী স্বপ্নেরা প্রজাপতি হয়ে আসে না।
জল ফড়িং,     মুচকি হাসি , চিত্রহারের , 
মত দেশ কাল  তেতুল মাখা দুপুরে লুকোনো 
প্রেম ছেড়ে গেছে কবেই.... কবরের নিচে 
একটু জমি .. সেখানে  শুয়ে আছে একটা দেশ
এক্টা রাস্ট্র, একটা শহর এমন অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক
সময় যারা নিজেদের অজান্তে কখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে
গেছে,  তাদের বুকে আঁকড়ে আমাদের মত মৃত শব.. 
যারা গোপোনে  অপ্রাপ্তবয়স্ক।