শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২

আমার ভেতর

আমার ভেতর অজস্র ভাঙ্গন টুকরো গুলো গড়ে নেয়  অজানা আরো এক নতুন আমিকে ,
যে ছায়ায় দাঁড়িয়ে বুকের ছইএ হাজারো ছবির রং
মজুত রেখেছিলাম ,..একদিন দেখি সমস্ত রং দানির ভেতর  ফ্যাকাসে বিষণ্নতা ছাড়া কিছুই রাখা নেই সেই ছায়ার ছই এ ,
রং ছেড়ে জীবনের দেওয়াল বুননে মন দেবো বলে অসংখ্য বর্ণের সুতো জড়ো করা শুরু করলাম একবার, 
নানান সম্পর্কের নকশী কাঁথা জুড়ে নিখুঁত ছবির মত  কত মুখ ,কত পথ  পথের বাঁক আসে,  আবার একদিন কারণের নিশান না রেখেই হাওয়া ভেসে যায় ওরা ...আমার বুকে টেনে নেওয়া নকশী কাঁথায় সমস্ত নকশা অন্ধ ও অক্ষরহীন শুধু জীবনময়  কিছু কাপড়ের ভাঁজ ছাড়া কিছুই পড়ে থাকে না ।
আমার চিলেকোঠার ছবি ঘরটিতে এমন বহু তেজপাতা রঙের ছবি ও কাপড়ের ভাঁজে অচেনা সুতোর ফোড় রাখা আছে , রাখা আছে না পাওয়া দুঃখ তোরঙ্ টা, 
একদিন  সন্ধ্যের কোলে মাথা রেখে গড়িয়ে যাওয়া বিকেল কে বলতে শুনেছি ...সব ভাঙ্গন ভেঙে যাওয়া নয়,  সব সেতু জুড়ে দেয় না , সব দুঃখ ঋজু করে না , বলতে শুনেছি এই সমস্ত প্রচ্ছদ জুড়ে রয়েছে অসামান্য আশ্চর্য বিস্ময়কর সৃষ্টি।

আর  সেদিন টের পেয়েছি এই মুহুর্মুহু তীব্র অতীব্র  পরিবর্তনে আমি নিজেকে আরো শ্রষ্ঠ করে পাই বারংবার ।



#সই

বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২

তথাগতর সাথে

১) আত্ম মগ্ন প্রেমেও তাকে যেদিন হারালাম বুঝলাম
নদীর চরে লুকোনো ভাষা আমার কাছে দুর্বদ্ধ 
অথচ নদীটিকে আমার ভীষণ আপন করে নিতে একবারও দ্বিধান্বিত হতে হয়নি,

২)আমার তথাগত অজানা বিষণ্ণ মগ্ন হয়ে ধ্যানস্থ আজ বহুকাল 
আমি জীবনের গায়ে অক্ষর সেটে নিজস্ব ইচ্ছামতির স্রোত আঁকবো ভেবে খামোখা 
কলঙ্কের মত কালো দাগ কেটে  আলো ও অন্ধকার কে স্পষ্ট করেছি  নদীকে আয়না করে।

৩)তথাগত তুমি যেদিন জাগবে সেদিন আমি কফিন ভর্তি অপেক্ষা কে বুকে দাফন করে  নিরন্তর বৈরাগ্য খুঁজে নেবো ।
৪)মরা নদীতে এখন স্রোতের কঙ্কাল, ফেলে আসা
ঘটনাও বাধ্য ইতিহাস ,পারে যারা বৈতরণীর গল্প খুঁজে নিতে আসে বাউল বাতাসের সখ্যতায়
তারা নিজেদের ইচ্ছা মত ইতিহাসের শব্দদের চরিত্র বদলে রাজা কে ভিখারী আর যুধিষ্ঠির কে শকুনির পোশাকে পেশ করে ফেলে।

৫)একটা নীরব সময়ের মুখমুখি আমি ও তথাগত
ভাষাহীন প্রশ্ন মাথা নিচু করে অস্তিত্বের জেহাদে 
জানতে চায় নদী কি আসলে সম্পর্ক চেনে ? 
নাকি সময় বুকে নিয়ে এক মহাকাল যাত্রী মাত্র সে!



মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

সময়ের দাগ

সময়ের দাগ সময়ই মুছে যায়,
আকাশের মন খারাপ  হলে স্মৃতিরা আকাশ ছুঁতে চায় বড্ড বেশি করে ,,
 সবুজ যেনো আসমানী প্রেমে মীরার ভূমিকায় বিহ্বল।
প্রথম আলোর আদালতে  তুমিই সাক্ষী তুমিই দোষী  তাই...
টুকরো মানচিত্রে আয়না রক্তাক্ত মুখ ও মুখোশ 
দুইয়ের চোখেই গোড়ানো যন্ত্রনা  চিবুক ছুঁয়ে বুক ।


ক্যানভাসে তুমি রং সাজাও গল্পের ছলে ,ভোকাট্টা ঘুড়ির বুকে বিষণ্ণ ছেড়া ছেড়া স্বপ্ন বাঁচে
ঠোঁটের কোণে  রোজ চাপা অভিমান নিয়ে ,,
পথ জুড়ে  তখন অন্তহীন গল্পের বেলোয়ারী।

কথা ছিলো আজন্ম পাখিদের মত করে চিনে নেবো
এ পৃথিবীর দেওয়া নেওয়া গুলো ...কথাছিলো
মৃত্যু ছুঁয়ে থাকা শেষ বাতাসে রেখে যাওয়া হবে পূর্ণতার স্মিত হাসি ,
জমা হওয়া খসড়ায় তবু অনেক কথা ভাঙা শব্দের গোপন বাস থেকেই যায় , 
সময়ের দাগ সময় মুছে দেয় নতুন আরো একটা  সময়ে দাগ কেটে ।

শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২

জীবনফর্মা

পাথরের কাহিনী লিখতে গিয়ে কাচের মত ভাঙতে দেখেছি  জমানো অভিমান , 
জন্ম শেকড় উপড়ে ফেলে কাঁটা তার পুঁতে দিতে দেখছি ,,  
চোখে ভাসতে দেখেছি পাখিদের গুঁড়ো গুঁড়ো স্বাধীনতা ।

রোদ্ পুড়ে যাওয়া জীবনের পাশে নদীর গল্প মানানসই হলেও বেঁচে থাকায় শীতল পরশ লাগে না তাতে।
জানলার গরাদে জন্মের খিদে একফালি চাঁদে পুড়ে যাওয়া রুটি কতটা আপোষ জানে সেটা বুঝিয়ে দেয় ।
জীবন সময়ের ক্রুস বিদ্ধ যীশু  ... ,
বাতাসে মোলায়েম শোক ও উৎসব দুইই মজুত থাকে , হিসেব মত খোরাক বুঝে বাঁচার রেশন-পানি নিয়ে নেওয়াই এই পথের শুরু থেকে শেষতক একনিষ্ঠ দীক্ষা মন্ত্র ।

জানা চেনার মাঝে হঠাৎ দমকা হওয়া  যেন ভিড় হারানো একা  করে বলে  পার্থ আসলেই সব মৃত, ,কেবল মলাটি বেঁচে থাকা ওদের কফিনের বাইরে এই পৃথিবীর ইজাজত দিয়েছে ।
যুদ্ধের বিকেল ফুরোলেই আগুন কিংবা মাটি খুঁজে নেবে সম্পর্কের থেকে বেদখল দেহগুলো ।
যে জন্মতক একটাও ছবি আঁকেনি পথের শেষে তার জীবনও কেমন যেনো অসম্ভব বর্ণময় হয়ে যায়।
পাখির ডানায় ভর করে  একমাত্র মৃত্যুই দেখতে পায় জীবনকে রূপকথার মতোই ।
অথচ একটা গোটা জীবন পাথরের মতন ভারী ও সম্ভারময়।

বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২২

কে ?

যে সংসার তোমাকে বাজারের থলে হাতে ছুটতে বলে না সে সংসারে তুমি রংতুলি দিয়ে একে ফেলো তোমার মনসংসার
আসলে একটা মাটির  নরম তাল চায় মানুষ,
 সে যখন ইচ্ছা যেমন ইচ্ছা আকার দেবে সে তার চাওয়া না চাওয়ার অবয়বে ,
যে ইচ্ছা জন্মায় তাতে কার হাত আছে কে বলতে পারে ! যে ছেলেটা ধর্ষণের দায়ে জেলের গরাদের পেছনে তার ভেতর সেদিন পাশবিক ইচ্ছের জন্ম দায় কার ছিলো ,
রাস্তার ধারে দশ ফুট বাই দশ ফুট জীবন যাদের তাদের কি কোনো ঈশ্বর ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করেছিলেন সে জীবন বাঁচার ইচ্ছা আছে কিনা ।
মানুষের ভেতরের জমিতে অজস্র ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছা বীজ কে পুঁতে চলেছে অহরহ!
না পাওয়ার কান্না পাওয়ার আনন্দ কার ইচ্ছায় ফুল হয়ে মুহূর্তে ফুটছে কিংবা মূর্ছা যাচ্ছে ,
ভিড় স্কুল ঘরে  জেহাদী বিস্ফোরণ  অজস্র নির্মল জীবনে নির্মম মৃত্যু রেখে যায় কার ইচ্ছা পূরণে,  কার ইচ্ছা পূরণে মানচিত্র বদলে যায় ভাগ্যরেখার নামের আড়ালে ।
একটা খোঁজ রোজ সকালে আমাকে এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে বলে , 
আমি পাখির ডাক উত্তর খুঁজি ,উত্তর খুঁজি বৃষ্টির শব্দে , উত্তর খুঁজি ডাস্টবিনে পরে থাকা খাবার খুঁটে খাওয়া  খিদে চোখের ভেতর জেগে থাকে খোদার কাছে ।
উত্তর খুঁজি রাতের গভীরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ্যা শরীরটার কাছে ,
উত্তর খুঁজি সময়ের কাঁটা ক্যালেন্ডারের তারিখ গুলোর কাছে ,
যুদ্ধ দেখি ,জেহাদ দেখি,  ঈদ কিংবা দীপাবলীতে উৎসব দেখি ...দেখি উজ্জাপন ,
ধ্বংস দেখি ...দেখি সৃষ্টি ,
তোমার চোখে কান্না দেখি,  শিশুর মুখে হাসি দেখি , ভিখারির থালায় রুটি দিয়ে নিজের ভালো লাগা কিনতে দেখি নিজেই  , 
জগৎ জুড়ে পসার দেখি , একটা খোঁজ তবু ফুরোয় না , 
অদৃশ্য কে যেনো একটা যন্ত্রনা জিইয়ে রাখতে চায় 
মানুষ জন্ম টার শেষতক ,
কার ইচ্ছার কাঠপুতুল এই মানুষ মনের ইচ্ছাগুলো?

সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

মেঘ হতে চাই

মেঘেদের কোনো  কোনো দেশ নেই 

 নেই কোনো নিয়ম কিংবা বারণ এর কাঁটাতার,

শুধু অনেকটা উদার যেন একলা বুকের মাঝে  আকাশ রাখে আকাশের গায়েই ভেসে 

মেঘেদের চোখে এই শহরটায় কি জ্বলে ওঠে সন্ধ্যের বাতি  কারো অপেক্ষায়

ফাঁকা রাস্তায় লাইটপোস্টের নিচে ভাবনাদের খেলা করতে কি দেখতে পায় মেঘ


.

মেঘ নিয়ম বোঝে না 

বোঝে  না এই শহরের হাজারো সুবর্ণা সুজন কেন মন খারাপ করে !

কেনই বা একটা ফাঁকা ঘর আমার ইচ্ছামতির বুকে  !


ধরা দেয় না একমুহূর্ত  সে ফাঁকা ঘরে কোনো স্বজন,

 তবু সারা শরীর  বেয়ে ভিতরে বাইরে শুধুই অজানা স্পর্শ। 

.

আমি মেঘ হতে চেয়েছি 

আমিও একা  হতে পারি ভীষণ ভাবে

এই মেঘেরা কথা বলে রোজ আমার সাথে

চুপিচুপি ধরা দেয় একের পর এক মুহূর্ত আমার উঠোন জুড়ে থাকা আকাশে

জানি না কেন একা হতে কেউ কেউ ভয় পায়।

আকাশ থেকে এই গল্পের শহরটার দিকে তাকালে মনে হয়  মানুষ গুলো একলা বড় ,

মনে হয় এই শহরের বুকে হাজারো গল্প মানুষের বুকে  নিঃশ্বাস নেয়

জানি না সুবর্ণা সুজন এরা  এই শহরের স্রোতে 

বইতে বইতে ঠিক কোথায় কিনার পাবে !

জানি না আমার মতো আরো একজন  কবে বলবে আমিও মেঘ হতে চাই তোর মত তোর সাথে ..ভিজিয়ে দিতে চাই এই শহরের বুকে খিদে আর তৃষ্ণা গেলে থাকা গল্প গুলোকে

জানি ওই গল্প গুলো বাঁচতে চায় 

জানি জানি ওই গল্প গুলো  হাসতে চায় 

কিন্তু ওদের চোখে গোপন কান্না আজ শুধু ..ঠিক যেনো ওরা আকাশের দিকে তাকিয়ে  বলছে 

আমিও মেঘ  হতে চাই ....তারপর বৃষ্টি

 তবে ভালোবাসায় ঠিক কি থাকে জানি না মেঘ না বৃষ্টি  । 

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

ছায়াছবি

ফেলে আসা মুহূর্ত ভুল কি ঠিক জানি না ,তবে জানি  মৃত সময়ের এলবামে  হঠাৎ কিছু ছায়াছবি 

যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে,

 গড়িয়ে নামা বিকেলে স্টেশনে চায়ের ভাঁড় ,

কিছু বিশ্বাস কেনা গল্প যেন ফ্ল্যাসব্যাক ছায়াছবি ।

হ্যাঁ সত্যি ভ্রান্ত গল্পগুলো মুখ খিঁচিয়ে বলে তফাৎএ যাও  আরো তফাৎ এ ,

কে যেন আয়নার ওপারে বিদ্রুপ করে হাসি আঁকে ঠোঁটের কোণে।

জীবনের  কবিতায় সাজানো শব্দেরা সবসময় ঠিক

ভাবে সাজানো হয় না ,

তাই চাইলেই কবি কিংবা কবিতা কোনোটাই হওয়া খুব সহজ নয় ।

সময়ের বালিঘড়ি  সোনালী চুলের মুখোমুখি দাঁড়াতে বলে চুপিসারে।

.সময়ের পতন দেখে আরো এক সময়ের সাক্ষী,

অথচ আমরা জানি এ পতন চিরকাল শব্দহীন শব্দের বাহক।

 ,

দিনগুলো ফুরিয়ে যায় নিমেষে

কল্পনার আকাশ থেকে যত্নে উড়ান দেওয়া পালকরা নিচে মাটি ছুঁতে চায়।

.

মৃত মুহূর্তের ছায়াছবি  শব্দহীন কথায় কথায় প্রহর চুরি করে বেলা বইয়ে দেয়...

ব্যাকফ্ল্যাশে দেখি দুটো চোখ,সে চোখ কারো বেঁচে থাকার সাক্ষ ছিলো কিনা আজ আর মনে পড়ে কই!

সামনে তাকাই দেখি রাস্তায় নতুন গল্পের বাঁক ,

 একলা দাঁড়ানো কবির হাতে মেঘবালিকার জন্যে লেখা কবিতার খাতার দিস্তা, প্রথম পাতায় লেখা কিছু প্রতিশ্রুতি । তারপর একে একে আকাশ ,আয়না, স্বচ্ছতা ....হাহাহা সত্যি অবাক লাগে ভাবতে যখন একজন কবি অন্ধকারের কবিতাকে ভুল করে আলোর কবিতা ভাবে।


 যারা প্রতিজ্ঞা লেখে...লিখতে চায় ,

 অসংখ্য মুহূর্তদের সাক্ষী করে 

তারা আসলে মৃত্যু লেখে  তারা সাধারণ ঘুম ভেঙে সকাল দেখায় আশ্চর্য হয়না ,কারণ তারা বেঁচে থাকাকে সম্মান জানাতে জানেনা 


আসলে  ঈশ্বরের  প্রতিচ্ছবি যে একটা ঘুম ভাঙা সকালে সূর্য ওঠার সাক্ষী থাকার নাম হয়তো সবাই জানে না ।

তাই বুকের ভেতর কষ্টের অসুখ লেগে থাকে শেষতক।  

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

কাপের ওমে

দিনের ভূমিকায় গুঁটি গুঁটি  পায়ে অন্ধকার আঁচল ঢাকে হঠাৎ কেমন মন খারাপের বৃষ্টি নামে , 
 কাপের ওমে  কথা দের ডানা মেলা আকাশ খোঁজা..।
আলোর সাথে অন্ধকারের দেহাতি মনোমালিন্য, একটা চিলেকোঠা বন্ধ যেনো গোপন দ্বন্ধে,
ব্যথাদের ভুলতে চেয়ে  নিয়ন বাতির নীচে জোৎস্না খুঁজি ....ছায়া কেঁপে বলে আমি আলোতে কেবল চোখের বাইরে থাকি ,  ভুলে যেও না আমার অস্তিত্ব

মুহূর্ত আমার

একদিন সমস্ত পরিচয় থেকে নিজের নামটুকু মুছে ফেলে জমির দখল ছেড়ে দিতে হয়,

তুমির দেওয়ালে আমি বলে কোনো চরিত্র থাকে না।
 ...সময় যদি আমায় বহতা নদী জন্ম দিতো তাহলে একবার অন্ততঃ সমস্ত পরিচয় গুলোকে কিনারে পৌঁছে দিতাম ,

যেভাবে কারবা মিশে যায় চলমান স্রোতে , আমি তো চেয়েছিলাম সুতো র বুননে গল্পের পাক সুখের ঘরকন্না ,
কারবা ভেঙেছে  ,তুমির ঘরে প্রতিটা দেওয়াল লিখন বদলেছে স্রোতের নতুন জলের মতোই ।

আমি আপসোস করতে শিখিনি বলেই সমস্ত পাওয়া গুলোর মতো সমস্ত বিচ্ছেদের জন্যেও উৎসব মুখর হয়েছি , 
কারণ আজ এই মুহূর্ত টুকু ছাড়া আমার মুঠোয় বাকি সব রূপকথা কিংবা কাল্পনিক ।

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২

মানুষ নামক

কখোনো কখনো আমার ভারতবর্ষে একটা শেষ উজ্জাপন পালন করা হয় ,,,
..... দেশটাকে  কাঁটাতারের ফলকে চিরে ফেলার আগে শেষবার একসাথে এক জমিনে মানচিত্র দেখার উৎসব ,,
ভারতবর্ষেকে মা বলে ডাকি দেশকে পরিচয় করে বাঁচি ,  নগরে লুকিয়ে রাখা হয় জানে আনজানে কাহিনী স্তুপ, ,
তবু নতুন গল্পের তাগিদে পুরোনো অনুভূতি কে ফালাকাটা করে রূপ বদলে  নিজেদের আদলে সাজিয়ে নিই আমরা ,,
 ....একবারও  ভাবি না মাটির বুকে লুকোনো নিঃশ্বাসে দম বন্ধ   আমার দেশ  বড় অসহায় হয়েও আমাদের পরিচয়কে হারাতে দেয় না ।

পুরনো সংকল্প চাপা পড়ে থাকে কঙ্কাল সার দেশটার বুকের অস্থি মজ্জায় ,,,
 আর আমরা ...এই আমরা মেতে উঠি নতুন আরো নতুন কোনো উৎসব উজ্জাপন নগ্ন হতে ।

আসলে আমরা পোশাকের ভেতর এক একটা না পোশাক পরা মানুষ ,আসলে আমরা একটা কিচ্ছু না হওয়ায় একটা কিছুর জাত ,,,

আসলে জানোয়ার এর জাত চরিত্র না বদলালো 
এই মানুষ নামক প্রাণীরা কখনো কখনো বড্ড রং বদলে ফেলতে পারে যেকোনো সামান্যতম ফিকিরেই,


বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

মন্দবাসতে চেয়ে

আমি কখনো নিয়ম ছিলাম না মন্দ বাসার গল্পে নিতান্ত বাঁচার অভ্যেসটুকুই চাওয়ার  ছিলো , 
আমি  নিয়মের   মুখোস আটকে বাচিনি তাই ,
আমার কথা ভাবার জন্য কারো কাছে সময়ের দরবারী ইচ্ছাও রাখিনি ।
চাইনি কোনো পরিচয় চাইনি আমার সুখে দুঃখে কাঁধে হাত রাখার কেউ থাক।

.
শুধু চেয়েছি কোনো বৃষ্টি দিনে আমার কবিতার খাতায় যেনো কান্না লিখতে না হয়  । চেয়েছিলাম নোনা জল এর বিপরীতে একটা শক্তপোক্ত বাঁধ।
.
আমি  সমাজের সাজানো   নিয়মিত ঘরকন্নায় বিশ্বাসী নই কোনো কালেই ,
বরং চেয়েছি চিরকাল আমার পাশে এক বাউল এর অস্তিত্ব, চেয়েছি আমার সাথে সেই বাউল বৃষ্টি ছুঁয়ে বৃষ্টি ভিজুক বৃষ্টি মাখুক মন্দবেশে।
   
আমি কোন সংবিধান রাখিনি হৃদয়ের টেবিলে ,
চেয়েছি এই শহরটা একটা বিশ্বাসের কথা  বলতে শিখুক আর একটা বিশ্বাসের কাছে ।
চেয়েছি সেই বিশ্বাসে হাসতে 
  কাঁদতে 
 কথা বলতে,
আমি  নিয়মমাফিক ভালোবাসায় বিশ্বাসী নই বলেই 
 মন্দবাসির একটা গোটা উপন্যাস লিখতে শুরু করেছিলাম ,একটা আকাশ যেখানে বেঁচে থাকার জন্যে মিঠে বাতাস আছে সেই উপন্যাস লিখতে চেয়েছি।
.
আমি কোনো নিয়ম হতে চাই নি
চেয়েছি একটা ছই যেখানে মাথা রেখে আমি বলতে পারি এটা আমার
আমি  মিথ্যে আকাশ চাইনি
 স্পর্ধাও চাইনি
 খাঁচা কিংবা মুক্তি কোনোটাই চাইনি
হয়তো একটা গাছ চেয়েছি  যার বুকে থাকবে নন্দিনী আর কিশোরের মত কিছু মুহূর্ত গোপন যার ঝুলন্ত দেহে আমার মুক্তিগুলো পাথরে বেঁধে শূন্যে রেখে দিতে পারতাম হয়তো ।

অথচ
এই সমাজে হাজারো মুখোশের মাঝে  পরিচয়ের মুখোশ ছাড়া কিছুই পাওয়া হলো কি জানি না ।
কিছু সাদর সম্ভাসন, কিছু অধিকার, কিছু নিয়ম
 এগুলো বড় ঠুনকো আমার কাছে
 বিছানা বালিশ,  সংবিধান , বাদেও জীবন বাঁচে বাঁচার তাগিদে ধিক ধিক করে জ্বলে যাওয়া আগুনে পুড়ে ,
আমরা যারা সেই আগুনে পুড়ে বাঁচি কিংবা বাঁচার জন্যে আগুন জ্বালিয়ে রাখি তাদের ঘরে চিরকালই
হয়তো একটা অভাব লেগে থাকে । 

মানুষ হতে চেয়ে

খাঁচার ভেতর দ্বন্দ্ব লাগে বারো সত্ত্বার ,
অজানা চোখের পাহারা  সেখানা অষ্ঠপ্রহর ,
মানুষ হলাম কতটা জানি না , অবয়বে তকমা লাগলো  ডজন খানেক ,
 রং পেলসিলে ...স্কুল বই পুতুল খেলা ঘর সংসার প্রেমিকা পাঠক কবি স্বাধীনতা মুক্তি প্রাপ্তি নিঃস্বতা আর আঁকলাম একটা তিরঙ্গা ,
আমারই অজান্তে আমারই বুকের খাঁচায় আলোর ভেতর অন্ধকার ...আর অন্ধকারের ভেতর আলোর বসত গড়লো  চুপিসারে ।

যত্নে রাখা গল্প গুলোয় পড়লো রিপু করা যন্ত্রনা দাগ, ,
কিছু দেহাতি অভিমান চরিত্র বদল করে নাম রাখলো জেহাদী ইগো ,
নরম মন আগুন পুড়ে হলো নুয়ারি মন ,
চল্লিশের ফলকে বিকেল গড়িয়ে এখন ক্লান্ত বাতাস ,
মানুষটার অদ্যপ্রান্ত  কীট কুরে খাওয়া ধুলোর স্তুপ  মাত্র ।
অথচ একজন মা একটা সম্পূর্ণ মানুষ গড়তে চেয়েই প্রসব ব্যথা সহ্য করেছিলো একদিন ।



*

মনিশঙ্কর

ধুলোয় পড়ে থাকা জন্ম গুলোর রঙে মিনাকারী তোমার মন বাগানের ফসল ।
ওস্তাদের মত  বাজী মাত বাংলা সাহিত্যের জমি দখল ।
মরে যাওয়া গাছের কঙ্কালে তুমি প্রেম আঁকতে পারো ঈশ্বর স্বরূপে ।
এক কে বদলে গড়লে ঐক্য , ডোম লোহার চিনলো
সভ্য শহুরেও ।
জেগে থাকা চাঁদ আর অক্ষর একই সাথে চরিত্র বদল করে তোমার কলমে কখোনো সে তিমির ,কখনো সে কালিন্দী ।
তবু আলোয় আলোয় একটা সকাল রাখলে তুমি অন্ধ মনেও 
জনের মনি ,মনের মনি ,ইমানে মনি,  করমে মনি ,
আমার প্রিয় লেখক মনি , মনিশঙ্কর ।



সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২

ভুললে চলবে কি করে ?

এত তাড়াতাড়ি তোমার নাটকের অংকের সাজানো বয়ান স্ক্রিপ্ট ভুলে গেলে ! 
অথচ এখনো পোয়াতি বর্ষা মাটি ছুঁয়ে শরীর নামায় নি যে !
এখনো তোমার মরশুমি বসন্ত সোনাঝুড়ির পলাশের শরীরে সোহাগ ঢেলে দেওয়ার বর্ষপূর্তির সময়ও আসেনি যে !

এখনই তোমার কবিতা বিপন্ন আঁধার নামলে কি করে প্রমান করবে তোমার বাহান্নতম প্রেমিকাও ব্যার্থ ছিলো প্রেমিক হিসেবে তোমায় একটা আশ্রয়ের বুক দিতে ?
এখনই যদি তোমার সাজানো গল্পের স্ক্রিপ্ট ভুলে যাও তাহলে এই রাতে যে তারাটার খসে পড়ার কথা ছিল ...সে ওই সাজানো স্ক্রিপ্টের বাঘ বন্দী খেলায় পথ হারিয়ে ফেলতে পারে , সে কথা তোমাকেই তো মনে করে মনে রাখতে হবে তাই না?

তোমার আবহাওয়া দফতরির ছুঁড়ে দেওয়া ঝড়ের 
দিক বদলে গেলে তোমারই সাজানো দুয়ো রানী আর সুয়ো রানীর তাসের ঘর ভেঙে যাবে নিশ্চিত ।
তাই বলি হে শব্দের জাগলার একটা গল্পের শেষে কিছুটা বিশ্রাম না নিলে একের গালে আঁকতে চাওয়া চুম্বন অন্যের গালে আঁকা পড়লে সে খেসারত মেটাবে কি করে হে ?
তাই বলি রোজ রাতে ঘুমানোর আগে ওই সাজানো স্ক্রিপ্ট এর শব্দগুলো একবার করে গ্লাসের জলে গুলে ঢক ঢক করে গিলে ঘুমোতে যেও।

তোকে খুঁজতে গিয়ে

তোকে খুঁজতে গেলেই আমার ভেতর একটা তেতো শোক শিরার শিরার বয়ে যায় ।
 কোনো মরশুমি বাতাসে তোর গন্ধ যেন আমার অন্তমিল হীন গল্পে নিজের বয়ান না রাখতে পারে 
তাই জানলা কপাট বন্ধ করেই আমি খুব সাবলীল থাকি এখন ।
কিছু ছবি মুছে ফেললে বেশ মনের আরাম হয় ...
মনে হয় আকাশী মুক্তি যেনো ক্যানভাসে আলোর রঙ মেলে ইচ্ছার সকাল আঁকছে,
"আধখানা স্বপ্নের দোরগোড়ায় আমি আর পা রাখি না 
আধখানা শ্রমে আমি বিশ্বাস ফুরোই না বহুদিন
আধখানা প্রেমে  আমি প্রেমিকার ভূমিকায় নেই এসব দিন গুলোয়
বরং অপ্রেমের এই বন্ধ তোরঙ্গে আমার হৃদয় থাকুক অযত্নের যত্ন নিয়ে ।
তোকে খুঁজতে গিয়ে নিঃশ্বাসে আর নাই বা নিলাম কোনো মৃত সময়ের গন্ধ ।