শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩

ও চোখে


_________________

ও চোখে সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ চিৎকারহীন জেহাদ,  

হয়তোবা অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা এক পাপ নগরের ক্লান্ত পথ চলে গেছে, 
ও চোখ পড়তে হলে নিজের পোষাক বদলে নিতে হয় বদলে
ফেলতে হয় নিজস্ব  আত্মপরিচয়... 
অথচ ও চোখের আশপাশে নিজের ইচ্ছা কাহিনী গুলো  ঘুরে বেড়ায় কেনো কে বলে দেবে?
তবু ও চোখ এ চোখের  নোনা পানি থেকে শুরু করে দীর্ঘশ্বাস  ভালই উপভোগ  করে, 
ফিরে আসার রাস্তায় কালো পরীর  স্মৃতিতে পা জড়িয়ে যায় 
নেকড়ের হিংস্রতায় আমিও নিজেকে ডুবিয়ে ফেলিতে চাই
নয়তো  হাওয়ার সংবাদে কেবলমাত্র  বিবর্ন মৃত্যুর আড়ালে ভালবাসা দফন হবে। 


বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৩

মন্দবাসা

মন্দবাসা
********

তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি ঠিকানা ছেড়ে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছিলাম ক্রমশ... , গাছেদের পাশ কাটিয়ে হারালো পথ, 
স্রোত সাক্ষি রেখেছিলাম,   সাক্ষি রেখেছিলাম আসমান, 
গাছেদের পাতার রেখার সাথে আমার হাতের রেখা ও আমি তোমার গহিনে  পথ হারালাম, 

 কোন  এক নতুন বর্নের  মেঘ বদলে দিলো আকাশের নিশান, 
নদী বক্ষ লুকিয়ে ফেলেছিলো  স্রোত  সক্ষতা। 

প্রতিটা গাছ একই রকম দেখতে,   প্রতিটা পথে ফেলে আসা আজস্র পায়ের চিহ্ন দেখতে একই রকমের , 

তোমার  ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে যে শব্দের কাছে  আমি বান্ধব বর্নে ঋনী হয়েছিলাম... তারা এই গহিনে হাতছাড়া হলো এবার। 

অজয়ের বুকে মোহ ভাসিয়ে  ঘোর জ্বর গায়ে  ঘরে ফিরেছি যখন,

 মনে হলো  আমার আত্মজ শব্দেরা  যারা  কিনা হারিয়ে গেলো গহিনে,     যাদের  মোহ ভাসিয়ে এলাম  অজয়ের বাউল স্রোতে,
 তারা কি পথ চিনে ফিরবে কখনো ?
 মন মুচড়ে উঠলো হয়তো... হয়তোবা চোখ  জ্বালা করে উঠলো  এক মুহুর্ত। 
তোমায়  বললাম চল ওদের  ফিরিয়ে আনি... ওরা যদি  পথ চিনে  ফিরতে না পারে!  তবে যে ওদের ছাড়া অসমাপ্ত আমার মন্দবাসার উপন্যাস । 

গেলাম   ...সে প্রান্তর  ছাড়িয়ে গহিনে আরো গহিনে আরো গহিনে, 
যেখানে গাছেদের সব পাতার বুকে আমারই  হাতের  রেখা,  যেখানে নদী, স্রোত,  পথ, আলো, অন্ধকার পারিজাতীয় সংগমরত  সমস্ত দৃশ্যেরা ভীষন ভাবে  জাগ্রত , 

অথচ আমার শুন্যতার ফ্রেমে সে সব মোহন  দৃশ্য বেঁধে রাখার 
সামান্য আকুতি নিমেষে  উধাও, তারা আর নেই, 
নেই অসমাপ্ত  উপন্যাসের কিসমতের ভয়। 

দুদন্ড দাড়িয়ে  ভাবতেই  বুঝলাম
তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি কখন  জেনো তোমাকেই  পেছনে ফেলে অনেকগুলো  অদৃশ্য মাইল পার করে ফেলেছি, 

 এখন অজয়ের ব্যাস্ত  স্রোত,  গাছেরদের সারি সারি বিলিকাটা পথ, ওদের পাতার রেখার মত আমার হাতের রেখাতে তোমার অস্তিত্ব নেই। 
আমার এতকালের মন্দবাসার উপন্যাসের পাতায় অদ্ভুত  অকাল বর্ষনে একটা  অক্ষরও আর নেই, 
মন্দবাসার খাতাটা আদ্যোপান্ত একেবারে  সাদা।

#সই

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

নিঃসঙ্গতা


প্রবল বৃষ্টির  মধ্যে দাড়িয়ে স্মৃতিরা ভিজছে 
সমস্ত রং  মুখ ও শরীর বেয়ে ধুয়ে যাচ্ছে
 ছেড়ে পরছে আদপে গঠনের প্রলেপ কাদা মাটি ,
দেহমনের যে সব অসুখ ওষুধে সরে না তারা এ আসময়ের
বৃষ্টিতে আজ ডুবে যাবে ... 
মেঘের অস্থিরতার কখন যেন শুধুই কান্না হয়ে ঝরতে
ঝরতে অভ্যেস বদলে ফেলেছে মরসুমের ,
ছিড়ে যাওয়া নাটকের পোশাকে পুরোনো হত্যা রক্তের
অক্ষরে এখন নিঃসঙ্গতা ঘৃনা  আর পাপ ছাড়া কিছুই 
নেই ,
এক জীবনে অনেক রকমের মৃত্যু হয়  আর সব মৃত্যুর
শব পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা দফন করা যায় না  
কেবল শেষের দরজা অবধি বয়ে নিয়ে যেতে হয় 
একটা সিড়িভাঙা অঙ্ক শেষমেশ একা ও নিঃসঙ্গ দাড়ায় অন্ধকারে মাথা নত করে।



#সই(নিঃসঙ্গতা)






বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩

স্নান

বহুদিন স্নান করা হয়নি , পাপ মুক্তি স্নান জরুরী 
গাঢ় ব্যাথা ধুয়ে দেওয়া স্নান  সম্পর্কের রক্তক্ষরনের
দাগ সবটুকু  ধুয়ে ফেলার জন্য একটা  নগ্ন স্নান জরুরী, 

তোমাকে একটা  শেষ বার্তা  পাঠানোর কথা আছে ...
এ জীবনের  সংলাপে  যেদিন এই পোড়া দেহের আক্ষরিক মৃত্যুর 
খবর পাবে  স্রেফ মাটির নিচে রেখো শব-অক্ষর,,
  আসলে আমার চাওয়া গুলো নিতান্ত সাধারণ  
শরীর এর রস নিয়ে বুকের মাটিতে  কিছু সবুজ  আগাছাই না হয়  আকাশে  দিকে  তাকিয়ে  হাসবে  ভালবাসার শ্রাবণে ভিজবে তুমুল,   
জন্মভোর আমাকে একটা  সম্পর্কও সত্যিকারের ভালবাসার বৃষ্টিতে ভেজায়নি একটা  সম্পর্কও বলেনি আয় আজ তোকে এক চিলতে  হাসি স্রেফ হাসি উপহার  দিই।
কেবল দহন এর আগুন পেয়েছি   পেয়েছি  সম্পর্কের ভুল বানানে তাসের ঘর ,  
নাহ এগুলো  নালিশ  না  আমি অবাক হই না  শুধু ভয় হয় এই
পোড়া মন দেহ যেন  মৃত্যুর পর আর না পোড়ে  , 
পোড়া দেহের আর কি বা পোড়ানো  বাকি বলো? 
এখন ছত্তিস জেহাদে শরীর  ধুলো কাদা মাখা  নিভে যাওয়া 
রাত্তিরে  আমিও নিজের সাথে  রক্ত যুদ্ধ  খেলি  ভাবি সকাল সূর্য  সব গিলে নিক ঈশ্বর  কিংবা  শয়তান ... 
আর  সব শেষে  একটা নগ্ন স্নান করতে চাই  মুক্তি  নিজের কাছ থেকে নিজের। 

#সই (স্নান)

রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৩

ঠাঁই

সম্পর্ক  জলের মতন  জলে আগুন ধরে না। 
সম্পর্ক  পাখির মতন । কিছুতেই  আকাশ ফুরোয় না। 
একটা  ঠাঁই,  উড়ে যেতে যেতে ... থেমে যেতে  যেতে... 
নেমে যেতে যেতে । 
সম্পর্ক কে শেকল ভাবলে  শেকল,
 আকাশ ভাবলে  আকাশ 
পাখিদের  দেখি কেমন দুটো  ডানা  আজীবন  অন্য
দুটো  ডানার সংগে উড়ে যায় এক আকাশটা  সাক্ষি রেখে। 
 মানুষের  সম্পর্ক গুলো  এক সময় পরস্পরকে 
আঁকড়ে  ধরে হঠাৎ    দুজন মানুষ একদিন
নিজেদের থেকে অনেকটা  দূরে সরে যেতে 
আর এই দূরে চলে যায়  বলেই সমস্ত জুড়ে  কাছে আরো 
কাছে থাকাটুকু  হারিয়ে যায় , একটা  জীবনে  কেবল একটাই 
তো ঠাঁই  দরকার .... কতটুকু  একটা  জীবন! 

#সই ( ঠাঁই) 

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

জোকারের ভুমিকায়

হঠাৎ  সাদা পাতায় শব্দের  ছদ্মবেশ  তুমি এসে দাঁড়ালে 
জীবন সংলাপের মাঝে সৃষ্টি  হলো  রাজা রানী  মন্ত্রী 
সান্ত্রি  নৌকা , হাতি ঘোড়ার খেলা, 
আর মহাকাল আমার ভুমিকা  রাখলেন  স্রেফ  এক
জোকার এর চরিত্রে , 
এক দান এক দান গুটি  এগোলো সকাল থেকে রাত হয়
আবার রাত পেরিয়ে  সকাল  , 
ওরা কেউ এ খেলায় ক্লান্ত হয় না ওরা কাঁদে  না হাসে না শুধুই  খেলাটায়  বিভোর  হয়ে মরশুমি  মাইল ফলক পেরোয়, 

আমি জোকারের ভুমিকায় মুখে হাসি কান্নার রঙ মেখে ওদের 
দিকে ফ্যালফ্যাল  করে তাকিয়ে  থাকি... 
বুকের ভেতর নিস্তব্ধতা  ঘিরে দাঁড়ায় কেবল  কান্না,, 
রাজ্যপাট  শেষ  করে ওরা বাড়ি ফেরে কিনা জানি না ওদের 
বাড়ি আছে কিনা বাড়ির দরকার ওদের  আছে কিনা তাও
জানি না,  আমি ফিরতে চাই একটা  একান্ত  অপেক্ষার খোলসে, 
যেখানে সাদা পাতায় ঝরে পরা বৃষ্টি তে আমার কষ্টের  অনুভূতিরা  ভিজতে পারে,
যেখানে হেমলক  কোনো  ব্যার্থতার নাম নয়, 
 যেখানে ইট কাঠ পাথরের শহরে আমার মত বোকা 
জোকারের গল্পেও জীবন চেতনা  লেখা যায়,  
আসলে শব্দের  ছদ্মবেশে তুমি যতবার  আমার সামনে এসে
দাঁড়াও আমি ততবারই সময়ের মাস্তুলে একটা  অচেনা  
ঝোড়ো  হাওয়ার  সংবাদ  পাই , 
খেলার দানে রাজা রানি মন্ত্রি সান্ত্রি  নৌকা চোখের  সামনে
থেকেও আমি কেবল এক শুন্যতার খোঁজে  অন্তর মুখি নীরব 
সৈন্য  অথচ ভুমিকায় স্রেফ  জোকার বুকেতে অসম্ভব  ঝড়। 

#সই ( জোকারের ভুমিকায়) 




পরিহাস


একটা  ফেলে আসা সময় হয়তো কখনো কখনো 
বেঁচে উঠে মুখোমুখি  হয় চলমান  সময়ের, 
পুরনো হিসেবে অনেক বকেয়া  তখন বৃদ্ধ হলেও 
প্রানপুর্ন, সময়ের দাঁতে  তখনও  লুকনো গরল, 
অনেকটা পথ জীবন  হাঁটে সৃষ্টি ছাড়া  প্রাকৃতিক নিয়মে
পুড়তে ও ভিজতে থাকে, 
অস্থির মন পুরনো  আশ্রয়ে  ফিরতে চায়  মন কেমনের 
অদ্ভুত  কান্নায় জড়িয়ে ধরতে চায় প্রাক্তন  সময়ের ছই এর
খুঁটি , 

মানুষের  জন্য মানুষ  মন দিয়ে আজকাল  ভাবে না  সম্পর্ক 
টিকিয়ে  রাখতে মাথার ব্যাবহার  হয়তোবা  যথোপযুক্ত, 
যারা  মনের ব্যাবহারে জোর দেয় তারা নাটকে পারদর্শী হতে পারে না,  সময় তাদের বেওয়ারিশ  খেতাব দেয়৷ 

ফিরে আসি পুরনো  সময়ের গল্পে ... 
জীবন খালি পায়ে ছুটতে থাকে সময়ের জমিতে 
ফসল কাটা ফুরিয়ে গেলেও    হলুদাভ  ফসিল থেকে
যায়  গভীরে , 
বৃষ্টি হয় তুমুল সময় তবু ফেলে আসা দিনের ফসিল গুছিয়ে
রাখে হিসেবের খাতায়  সময়ের কাছে কিছুই যে অপাংক্তেয়  নয় সময় তার নাম দেয় পরিহাস। 

#সই  (পরিহাস) 



রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

মন্দবাসার উপন্যাস (১০))


অসম্ভব বৃষ্টি বেলায় সমস্ত দোষারোপ  ভুলে গিয়ে
মন্দবাসার  কষ্ট টুকু বুকের আগলে আগলে রাখারই কথা ছিলো, 
কথা ছিলো  মৃত্যুর পর মন্দবাসার দেহ কাঁধে  নিয়ে 
এ শহরে  সমস্ত পারিজাত রাস্তা প্রদক্ষিণ  করার, 
তারপর মাটির দুহাত  নিচের একটা  পৃথিবীতে 
নতুনভাবে  সেই ক্যানভাসে  আঁকা  পৃথিবীর  গোড়াপত্তন। 
 
সময়ের প্রহসনের  কথাও ছিলো সে উপন্যাসের পাতায় ... ছিলো  ভুলে যাওয়া অভ্যেসে  অভ্যস্ত  এই ব্যাস্ত  শহরেই   ভুলতে  না পারার মত হৃদয়ের কথাও,, 

ক্যালেন্ডারের  তারিখ ফিরে এলেও সময় ফেরে না 
নতুন মন্দবাসা এসে দাঁড়ায়  পুরোনো  ছায়ার আশ্রয়ে, 
 এ শহরের  পুরোনো  গল্প গুলো  বারংবার 
কোনো না কোনো  নতুন মোড়কে ফিরে আসে স্রেফ হিসেব মেলাতে,, 
মুখোমুখি হয় সময়ের আয়নায় রাখা খেরোখাতার, 

  অথচ এসব সাতপাঁচ  না ভেবেই কথা রাখা যে হৃদয়ের ধর্ম সে হৃদয়ে মন্দবাসা অন্তহীন  থেকেই যায়  আকাশের মতো, 
 তাই কথা দেওয়া কথা কেউ রেখে চলে  সময়ের নিভৃতে 
একি ছায়ার নিচে  বারংবার  ভালবাসা  নতুন রুপে
জন্ম নেয়,  অথচ আশ্রয়ের ছায়া চেনে সবটুকু  প্রহসন 
জানে এ শহর একটা  মঞ্চ আর এখানে সবাই নিপুণ  ভাবে
অভিনয় টা  শিখে নেয় নিজেকে ভালো  রাখার উদ্দেশ্যে। 



#সই (মন্দবাসার উপন্যাস)