বৃহস্পতিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পরিপাটি সভ্যতায়

কখনো কখনো মানুষ বড্ড বেশি পরিপাটি পথিক হয়ে যায় ,
পরিপাটি নিঃসঙ্গতা আড়াল করে ব্যস্ততম সময় এঁকে নেয় নিজের পরিধিতে ,
এভাবে আস্ত শহর হারিয়ে যায় রোজ রোজ কোনো নতুন নতুন  উপায়ে ।
আমার ভেতরেও এই শহরের এক অকারণ অশ্লীল আমিত্বর ঘোর লাগে আজকাল ,, গঙ্গার জল তখন নীলনদের কালো জল হয়ে যায়  ....পা ডুবিয়ে কারণ খুঁজি ,,
আমার অপেক্ষার গায়ে সেই পৌরাণিক বুদ্ধের টুকরো টুকরো পাথরের রক্তাক্ত ছিঁটেফোঁটা...বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরে।
ধাঁধার মত অন্ধকারে সব প্রজাপতিরা ঘুমিয়ে পরে ,,,

ঝড়ো বাতাসে দেনা পাওনার স্মৃতি ছুটে বেড়ায় অজানা শিরা উপশিরায় ভ্রান্ত পথিকের মতোই...!
পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়লে গোধূলি নামের ষ্টেশনে....আমি আরো বড় কোনো ক্ষতের অপেক্ষা করি , আর আমার ইচ্ছেরা নতুন করে পাপ শিখে নেয়।




এগুলো প্রশ্ন !!!!!!!????

মানুষের ভিড়ে মানুষ হারায় অথচ মানুষকেই আর খুঁজে পাওয়া হয় না ,–-----------------------------------

যেমন স্পর্ধা কে স্বীকৃত দিলেই ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া হয় না ,-------------------------------------------

দিন ফুরোলে নিজেই নিজের এই যে গঙ্গার বুকে এত ক্ষত এত জ্বালা ...এ বৃষ্টি কি তার খবর রাখে ?--------------------------------------------------------------

খবর কি রাখে কেনো অবিরত কাঙাল হয়ে যায় 
ধনীর ঘরে বেঁচে বর্তে থাকা মন ! ---------------------

মৌন সঙ্গমে কিভাবে  নিজেকে স্পর্শহীন হতে হয় কে বলতে পারে ? ----------------------------------------

জীবন জলের মত শান্ত হলেও কেন আত্মার প্রতিচ্ছবি দেখা হয়ে ওঠে না,,--------------------

 ....এই প্রশ্নের জবাব কোনো ঈশ্বর নামক ভদ্র লোক দিতে পারেনা ,---------------------------------

একটাই প্রবাহে সাজানো জীবন ...বাকিটা আগুন দিয়ে পথ সাজানো -------------------------------------

আর শব্দের প্রথম দু অক্ষর  শব  ওই আগুনেই মোক্ষ পায় ----------------------------------------

বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

কখনও দ্বিতীয়বার হয় না ...

Life is about trusting your feelings 
And taking  chances , losing ang finding happiness , appreciating the memory's ,
Learning from past and realizing people change .......   আর তাই ......
মানুষ কখনো দ্বিতীয়বার মরে না ,
মৃত্যু একবারই একটা মানুষের কাছে আসে ....
বাকি শব্দদের শূন্যস্থানে সবাই নিজের মত নিজের পছন্দের মত শব্দ বসিয়ে নেই ।
মানুষ কখনো দ্বিতীয়বার মরে না ...
একটা মানুষের একবারই মৃত্যু হয় ....
বাকি শব্দদের শূন্যস্থানে শুধু মাত্র নিঃশব্দের আস্ফালন .....
মৃত্যু চিরকাল একনিষ্ঠ তাই  একটা মানুষের উপান্তে একবারই আসে ।

আমি বেইমান

মানুষ বড় বেইমান নিজেকে আয়নায় না দেখলে 
সচরাচর বুঝে উঠতে পারি না ...
মানুষ হিসেবে একটাও বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে উঠিনি ,
মানুষ হিসেবে ধৈর্য্য রাখিনি কখনো , 
মানুষ হিসেবে সম্পর্কের মূল মানে বুঝিনি কখনো ,
মানুষ হিসেবে ভালোবাসি বলা হলো না সেভাবে কাউকে ,
মানুষ হিসেবে কেবল লোভ করে গেলাম আজন্ম ,
মানুষ হিসেবে দিতে পারেনি সামান্য কিছু কাউকে ,
মানুষ হিসেবে কেবল নিয়েই গেলাম দুহাত পেতে ।
মানুষ হিসেবে অংকে জীবন মেলাতে শেখা হলো না আজও ,
মানুষ হিসেবে সম্পর্কের কাছে বেইমানি করে গেলাম এযাবৎ কাল ।
মানুষ হিসেবে শেকড় আঁকড়ে থাকতে শিখলাম না ।
মানুষ হিসেবে নদীর মত বইতে শিখলাম না ।
মানুষ হিসেবে বৃষ্টির মত ঝরতে শিখলাম না ,,
মানুষ হিসেবে মানুষ এর মত হতে শিখলাম না ,
মানুষের মত কথা রাখতে পারলাম না ।
মানুষ হিসেবে বেইমান আয়না দেখলে বুঝতে পারি ।
তাই তোমার মত আমি নিজেকে মা. .নু...ষ  বলে কখনো ভাবি না ,
কারণ তোমার মত অঙ্গীকার আমি পারিনি .....পারিনি তোমার মত উজাড় করে দিতে , পারিনি তোমার মত হিসেবে ছক কেটে পা ফেলতে ।
পারিনি .....হ্যাঁ বুক ঠুকে এই তোমাদের ন্যাকাপনা গা ঘষাঘষি পৃথিবীর  সামনে বলতে আমার বাঁধে না ...আমি তোমার বা তোমাদের মত কোনো কিছুই এত সাজিয়ে গুছিয়ে নাটকের ভূমিকায় মঞ্চস্থ করতে পারিনি ,, আর পারিনি বলেই তুমি বা তোমার মত মানুষ বলে যারা এই পৃথিবীর দখলে আছো তারা আমার মত মানুষ না হয়ে উঠা কিছু একটা কে সহজেই ব্রাত্য করতে পারো   বিনা যুদ্ধে ।
হতেই পারে তোমার বা তোমাদের মত মঞ্চস্থ মানুষ আমি নই হতে পারিনি ....তাই বলে  আমি তোমাদের দরজায় টোকা মেরে বলিও নি ...আমার দিকে চোখ রাখো আমার শব্দ দের তোমাদের বা তোমার উদ্দেশ্যে চিঠি ভেবে পড়ে ফেলো ,,, বলিনি কখনো বলিনি আমায় দয়া করো ....আমার লেখা প্রতিটা শব্দ আমার নিজের,, কোনো মঞ্চস্থ মানুষ নামে মহান দের উদ্দেশ্যে লেখা নয় ,,, 
তাই দয়া করে তোমরা বা তুমি যে মানুষ আর আমি ঠিক তোমার বা তোমাদের মত নই সেটা বারংবার মনে করিয়ে দেবার কিছু নেই ,,, 
এ পৃথিবীর কোনো প্রান্তর গলি মোড় কারো একার নামে স্বাক্ষরিত নয় ,
আমি অহংকারে সাথে বলি বারংবার আমি মানুষ হিসেবে তোমার বা তোমাদের মত ইমানদার  নই ..... তাতে কারো কিছু সেভাবে ছেড়া যায় কি ??
আমি মানুষ হিসেবে একজন বেইমান ছাড়া কিচ্ছু নয় ।

আমার অহংকার

পায়ে ধরিনি কখনো কোনো আশ্রয়ের জন্যে ,এ আমার মারাত্মক অহংকার ,
একনিষ্ঠ আর বিশ্বাস শব্দটা তাই আমি ভীষণ যত্ন জানি ,,,,, 
 জন্মগত কিছু অঙ্গীকার আছে ....মৃতদেহে নিঃশ্বাস খুঁজতে যাইনি কখনো তাই  ,
কখনো মনে হয়নি জীবনকে  কিছু ভুল উপহার দিয়েছি ,  কখনো কোনো জানলায় মুখ বাড়িয়ে আলাপচারিতা যাই নি ,,
যারা এসেছে নিজেদের প্রয়োজনে .....ফিরেছেও নিজেদের প্রয়োজনে ।
আমার শব্দ দের কোনো তাড়না নেই অন্যের উঠোনে নেচে বেরিয়ে হাততালি কুড়োনোর ,, ,
লাভ ক্ষতির অংক আমার শেখার ছিলো না কখনো ....পরেও থাকবে না ।।
 ভয় নেই প্রকাশে পুড়তে ,,
কখোনো কারো কাছে আশ্রয়ের ভিক্ষা করে নিজের ঘরকে বেআব্রু করিনি ...সামান্য মেকি শুশ্রূষা পাওয়ার জন্য ।।
এ অহংকার আমার চিরকালীন ,,,, .......কে চায় পুড়ে যাওয়া দেহের কাঠামোয় সবুজ বীজ পুঁতে গাছের জন্ম দিতে ।
আমি কখনো কারো কাছে আশ্রয়ের জন্যে ভিক্ষা চাইনি ।

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শেয়াল আর সন্ন্যাসী

শেয়াল আর সন্ন্যাসীর মধ্যে  তফাৎ কেন আজকাল দেখতে পাই সহজে !
......বুঝি তিলোত্তমা আমায় প্রাপ্তবয়স্ক করে দিয়েছে অদ্ভুত আতিথেয়তা ।
প্রথম প্রথম সন্ন্যাসী ভেবে  ভালোবেসে এ শহর আপন হয়ে গেলো কখন বুঝে উঠতে বছর  দশেক ভেসে গেলো .....,, সময় আর তিলোত্তমা আমায় সন্ন্যাসীর ভেকের ভেতর শেয়ালের সাথে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বললো ....যা দেখছো যা ভাবছো অথবা যাকেই দেখছো যেভাবে ভাবছো ..সে আসলে আসল নয় ,, বাকরুদ্ধ ছিলাম নিজের ভেতর তখন প্রবল বিকার জ্বর । 

আমি এসব ভাবনা নিয়ে সময়  আর তিলোত্তমার হাত ধরে রোজ গঙ্গার ঘাটে বসে প্রশ্ন বিছিয়ে শুশ্রূষা চেয়ে   জিগ্যেস করি সময়ের ভারসাম্য কি এমন  করেই হয় ,  আগুনের মনে কি চিরকাল গোপনে জলের ভয় থেকেই যায় !! ,
শুধুমাত্র আমার মত মানুষেরা সেসব খালি চোখে দেখতে পায়না !! 
উত্তর দেবার অনেক শতাব্দী আগেই এ শহর নির্বাক হয়েছে .... বুঝতে পারি ।
আমার প্রশ্ন ,আমার সময়, আমার বিশ্বাস, আমার আস্থা , আমার একনিষ্ঠতা এই শহরকে ভালোবেসে কেবল আজ দ্বিধান্বিত ,
শুধু চেনা শোনা হয়ে যায় শেয়াল আর সন্ন্যাসী কখনো কখনো দ্বৈত স্বত্তায় একসাথে বসবাস করে ,,
তবু তবু এই অমিটা আলোর বিপরীতে ছুটে গিয়েও আলোর কাছেই গিয়ে দাঁড়ায় বারংবার।




সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ভেবে দেখার সময়

ভাবছো খেলাটার ছকের প্রতিটা লাইন তুমি নিজে হতে করে এঁকেছো ,
ভাবছো প্রতিটা গুটি তুমিই সাজিয়ে চলেছো,
ভাবছো দানগুলো তোমার ইশারার ভঙ্গিতে ঘর বদলাচ্ছে ,
ভাবছো সৃষ্টির শব্দ তোমার হাতের পুতুল ,
ভাবছো তোমার ভেতর পোশাক হীন ঈশ্বর তুমি নিজেই......
 ,
ভাবছো এই যে এত হাততালি ...এত বাহবা সব তোমার জন্যে......!! ,,,
এসো দু দন্ড বোসো ......ভুলে যাও এসব পার্থিব,  আর ভুলে যাও ওই মন নামক মনস্টারকে ,,
আসলে তুমি কে কখনো জানতে চেয়েছো !
আসলে তোমার ক্ষমতাই কতটা যে তুমি কিছু পারবে !
এই যে ঝড় বৃষ্টি ...এই যে এতো বাড়ি, গাছ , এই ঝড়ের দাপটে দুমড়ে মুচড়ে উপড়ে পড়ছে ,   .....ভেবেছো তোমার ঐ  তিনজোড়া হাড়ে ভর দিয়ে এই জল ঝড়ের দিনে কি ভাবে তুমি উপড়ে না গিয়ে দাঁড়িয়ে আছো,  হাঁটছো ? 
এ কি  তোমার  নিজস্বতা ! নাকি তোমার ক্ষমতার প্রমান ....?
নাকি .…...কেউ দৃশ্যের বাইরে তোমার জন্যে এই নি..য়া..ম..ত  জুড়ে ছক কেটে তোমায় পুতুল করে মাথার সুতোয় আঙ্গুল গুঁজে খেলা করছে! ,
ভেবেছো তোমার শব্দ ,বর্ন,  সম্পর্ক, এসবে আসলে তোমাকে সামিল করা হয়েছে !  আসলে তুমি কেউ নয় তোমার কখনো কোনো অস্তিত্ব ছিলোই না ,
যাকে অহংকারের অলংকারে তুমি জড়িয়ে রেখেছো , 
এই যে যা কিছু তোমার সৃষ্টি বলে ...অথবা যা কিছুর আয়োজন তুমি করছো বলে নিজেকে রোজ কিছুটা অহংকৃত করে গর্বিত হয়ে বুকের পাটাতন কে ইঞ্চি কয়েক বাড়তে দাও আর মাথায় কিছুটা আকাশ ছুঁতে চাও ...,,  
এসব আসলে তুমি নিজের কাছে বারংবার নিজেকে মিথ্যে প্রমান করতে করতে সম্পূর্ণ একটা আদ্যপ্রান্ত মিথ্যের বলয়  হয়ে ওঠো নিজে ।
আসলে খেলাটা অন্য কেউ তোমাকে দিয়ে খেলিয়ে নিচ্ছে ,     আসলে তুমি একটা চেয়ার, টেবিলের মতোই আসবাব.....  যা কিনা প্রয়োজনে কেউ এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় স্থান, কাল, বদলে দিচ্ছে মঞ্চ বদলে দিচ্ছে ,, 
আসলে  তুমি একটা খড় কাঠের কাঠামোয় মাটির আস্তরণ ছাড়া সামান্যও কিছু বেশি নয় ,, 
ভেবে দেখো এ সব তোমার গড়া মিথ্যে সাম্রাজ্যের স্তূপে  তুমি এক মিথ্যে রাজা মাত্র ......যার জন্ম আর কর্ম সবটুকু আড়ালে থেকে অন্য কারো আঙুলের ইশারা মাত্র বাকি তুমি নামক কোনো অস্তিত্ব নেই ছিলো না কখনো  ।

নির্বাক হতে চেয়ে

নিজের ভেতর একটা সাজানো বোকা বাক্স থেকে অহরহ কিছু না কিছু শব্দের খুটখাট হতেই থাকে ।
আর সে সব শব্দ নিয়ে জানি না কি সব লিখি আর কেনই বা লিখি , ,,
আমার তো কখনো মৃত্যুর পর নিজের চিহ্ন রেখে যাবার ইচ্ছা হয় না ,, তবে কেনো যে এই শব্দের বকুম বকুম .... অথবা এমন কোনো পড়শী নেই যার পরোয়ার আমার এই দস্তখত ,
নিজের ভেতর পাথরের পাহাড় ভেঙে গাইতি ও ছেনির আঘাতে অন্য এক আমিই যেন অগুনিত মূর্তি গড়েই চলেছি ,
কখনো কেউ চোখ তুলে দেখেনি সে সব অপচয় সময়ের চিহ্নদের কখনো ,, 
ওরা একাই কাঁদে ,একাই হাসে , একাই ওদের অভিমান আর অভিলাষ ।
তবু রোজ একবার না একবার প্রশ্নচিহ্নের সামনে 
এসে দাঁড়াতেই হয় ....কিসের ...আর কার জন্য এতো শব্দের পাহাড় ভাঙচি , হাড়ের ভেতর দধিচি যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ।
আসলে আমার মত জন্মগুলো চিরকাল প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এসে থমকে যায় ......অজস্র যোতি চিহ্নের মধ্যে জ্বলজ্বল করে কেবল মাত্র ওই একটি চিহ্ন ,,
আমি দরজায় কোনো অগন্তুকের অপেক্ষায় রাখিনি  ফলকনামা , মুছে দিতে চাই যাবতীয় ঠিকানা বয়ে চলা হরফ দের ।
 চাইনি কেউ কখনো আমার উকুল দিয়ে ওঠা শব্দের কারণ জানতে চেয়ে দু দন্ড সময় অপচয় করুন ,, এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা একটা ব্যাস্ততার  নাম ,, 
কেউ কেনই বা এই স্বার্থের দুনিয়ায় অন্যের শব্দ নিয়ে ভাবনা অপচয় করবে ....,
এখন টানের ..অভাবের দিন কোনো অপচয়ই সময়ুপযুক্ত নয় , ,,
আমি এই বেঁচে থাকার দুনিয়ায় শব্দের দুনিয়ায় নীরবে নিঃশব্দে নির্বাক হয়ে চাই ,
সময়ের কাছে এ আমার শেষের প্রার্থনা ,, আমার গভীরে লুকিয়ে থাকা  বোকাবাক্স বিকল হোক  অতি দ্রুত , থামুক বকুম বকুম শব্দ ,, 
কিছু জায়গা নিঃশব্দে ছেড়ে যেতেই হয় ,,
শিখে নিতে হয় কোথায় ঠিক থেমে যাওয়া উচিত ,
নিজের ভেতর ভীষ্ম কে জাগিয়ে ইচ্ছা মৃত্যু জরুরী ।
জানি এ  লেখা হয়তো অন্ধকারের কথাই বলছে ...।
আমি প্রতিটা গাড় হয়ে আসা অন্ধকারে নিজের দৃষ্টি গেঁথে দিয়ে এ ফোঁড় ও ফোঁড় করে আলোর পথে এগিয়ে যেতে চাই .....চাই নির্বাক হতে ।

রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ইচ্ছেমত

যে যার খাবার নিজেদের মুখে তুলে নিচ্ছি ইচ্ছে মত খাবার ,
----- আগের পরিচিতরা এখন অপরিচিত বলেই খুব সহজ হয়েছে ইচ্ছে মত খাবারে জিভ ডুবিয়ে নেওয়া ।
বাড়ি , চৌকাঠ এখন নতুন ,,,..... কাঁধে ছুঁয়ে থাকা আঙ্গুল কিংবা বোতাম খোলার চেষ্টায় অধীর কোনো আদরের হাত এখন বড্ড নতুন ,,,
যাবতীয় পুরোনো মায়া আর ত্রুটি কাটিয়ে নতুন স্পর্শের আবেশে শহর কাঁপছে তির তির করে ।
তবুও গোপন ব্যাথা নির্ভর এ তিলোত্তমার সমস্ত উৎসব আয়োজন ।
যেন বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া প্রেমিক প্রেমিকার অনুপস্থিতি .... আরো একবার দেখা হয়ে যাবার টান .....। যেন অলক্ষে নেমে আসা রাত ,,

জীবন ঘুরছে আপন  কক্ষপথে  এভাবেই অতীতের পাপ ক্ষয়ে যাবে হয়তো একদিন ।
প্রবেশের দরজা কোথাও আর রইলো না ।
সব কথা দেওয়া মানুষেরা একদিন রুপকথা হয়ে যায়, কিংবা  ক্ষনিকের বৃষ্টির মতোই হয় তারা ।।




শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

একান্নটা নয় কিছু কম

একান্নটা নয় কিছু কম হৃদয় পেয়েছিল সে জন্ম উপহারে , 
প্রথম বোধহয় জন্মদাত্রী , তারপর দিয়েছিল পরিবেশ ,
একান্নটা নয় কিছু কম হ্রদয় পেয়েছিল সে জন্ম উপহারে 
শহর বদলে গেছিলো হৃদয়ের রংও বদলে যাচ্ছিলো ....তপ্ত রোদ্দুরের শহরে নীলাদ্রী হৃদয়ের রঙে বসত ছিল সম-বছর গর্ভবতী ,,,
উছলে পড়া যৌবনের নীল রং   কখনো ঘন কখনো আকাশী পাড়ে নকশা তুলে ছুঁচ সুতোয় মাখামাখি লেনদেন ......।
একান্নটা নয় কিছু কম হৃদয় পেয়েছিল সে জন্ম উপহারে ,,
শহরের প্রতি রাতের একটা করে আলাদা বদলে যাওয়া রঙ থাকে ...সে রঙের হাত বদলে বদল যায়  হৃদয় বদলাতে থাকে  রং .....,, নীল থেকে লাল ......
সিঁথি ভরিয়ে আরো এক হৃদয় ......তবু খোঁজ তার প্রাপ্তি ছুঁতে পারে না ,,
সিঁথির রং গোপনে গোলাপি বাহারি .....কখনো পাহাড়ী কখনো নতুন গুহা মানচিত্রের নতুন রঙের হৃদয় পেয়ে যায় ,,
কোনো জন্মই দাঁড়িয়ে থাকে না ....প্রতিটা জন্ম একসময় মৃত্যু ছুঁয়ে বদলে যায় আলোর রঙে ।
......জানলায় হাত বাড়িয়ে সে ছুঁয়ে ফেলে একদিন  দ্রাঘিমা রেখার নীচে দাঁড়িয়ে থাকা শহরের সাধারণ একটা হৃদয় ,, 
হৃদয়ের সংখ্যা ক্রমশই বাড়তে বাড়তে সাজানো শোকেস উবচে পরে তার ,, 
এবার দাঁড়াবে ভেবে বছর দশেক ছায়ায় ঘুমোয় জিরিয়ে নেয় পরবর্তীর দিকে নজর রেখে ,
একান্নটা নয় কিছু কম হৃদয় পেয়েছিল সে জন্ম উপহারে ।
দাঁড়িয়েছিল এগিয়ে যাবার জন্যেই,,  একটিও হ্রদয় কে যত্ন করতে পারেনি সে ,, একটিও হৃদয়ে সে গাছ হতে পারেনি ,, তার জুলুজুলু চোখ হৃদয়ের খেলায় মেতে উঠে একদিন নিজের হৃদয়কে নাগপাশে বন্দি করে নিজস্ব জন্ম বিন্দুতে দাঁড়াতে হয় তাকে ।
একান্নটা নয় কিছু কম হৃদয় পেয়েছিল সে জন্ম উপহারে ।।
ছেলেটাকে কেউ চেনে না শুধুমাত্র সময় ছাড়া ।

শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বৃশ্চিকের পা

বৃশ্চিকের পা  খুঁজছি..সেই থেকে 
ধূসর ডোরাকৃতি কিংবা  রঙের.. ভেতর হেঁটে বেড়াচ্ছি সেই থেকে ।
 পথ ভুলে গেছি অনেক বছর আগে 
এ শহর, ও শহর ঘুরে বেড়াই... যাযাবর হবো বলে ।।

তোমাদের কাছে আমার বেঁচে থাকাটা যেন সাতমহলার  ঝাড়বাতি তলায় সান্ধ্যকালীন উজ্জাপন ...
অভিশাপের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তোমরা ভেবে নাও ...;আসলে গল্প লেখা আছে অন্য কোনো কলমে আগে থেকেই,, গুটির চালে বাদশা বেগম প্রহরী বিহীন সীমারেখায় দাঁড়িয়ে ....
গল্পের অভিলাষ যেখানে .........
 .......সেখানে কাঞ্চনজঙ্ঘার মাথায় রোদ্দুরের আড়ালে মেঘের কৌশল আর  কিছু মানচিত্র আগেই কেউ রেখে দেয় .
 তোমাদের মঞ্চস্থ করার ইচ্ছেটা সেই  আদিম নর্তকীরই ...,, কেউ টের পাচ্ছ না গোপন অভিযান ধেয়ে আসছে তোমার কিংবা তোমাদের উদ্দেশ্য করে , 
তুনীর থেকে তীর টা বেরিয়ে গেছে লক্ষের উদ্দেশ্যে,  ফেরানো  যায় কি তাকে ?
হঠাৎ নিজেদের  দিকে চেয়ে  দেখবে ..
বস্ত্রের অন্তরালে নগ্ন এক শব-শরীর... ফ্যাকাসে হয়ে আছে ।

এর পর জন্ম নিলে...গর্ভের মৃত্যু চাই....নিশ্চিত ,,,
বৃশ্চিকের পা খুঁজে  না পেলে যে
মুখোশের মরু বালিতে পা পুড়ে যাবে  জানা কথা ।

মাটিতে মুখ গুঁজে আর আমি 
হারতে আসছি না নিশ্চিত..
তোমাদের পৃথিবী তোমাদেরই থাক..
প্রয়োজনহীন স্বজন উল্লাস আর নয়..।

নিয়ম বদলে গেছে..
" পাতা ঝরার দিনে কোন এক অদ্ভুত রোগ হলে..
অহেতুক অভিমান নিয়ে মরে যেতে ইচ্ছে হলে..
তোমাকে আবার সেই নিজের পূর্বজন্মের 
মৃত্যু যাত্রা দেখতে হবে শীতের কুয়াশায়.."...!

আমি পালাতে চাইনা আর এবার মুখোমুখি হিসেব গুলো মিলিয়ে নেবার পালা ..
পালাতে চাইনা  আমি....
অশ্লীল  জন্ম বিলাসে আর কোনকালেই 
ভালোবাসতে চাই না কোন আফিম-গন্ধকে...;;
বৃশ্চিকের পা খুঁজছি সেই থেকে ......
এ কবিতা তোমাদের উদ্দেশ্যে শমন নয় নিজের উদ্দেশ্য জেহাদ  বলেই ধরে নিতে পারো তোমরা ।

বিন্দুতে এসে দাঁড়াতে চায়

ভিড়ে মাথা গুঁজে দিয়েও বারংবার মেয়েটা বিন্দুতে এসে দাঁড়ায় ,

চতুর্দিকে শব্দের সমাগম পায়ে পায়ে জড়িয়ে পড়ছে.... কিছু নেই তবু কিছু লেগে থাকার বিষাদ ।

যদিও আশঙ্কা র যাবতীয় অক্ষরদের কম্পাস বিহীন জাহাজে সমুদ্রে হারিয়ে যেতে বলা হয়েছে ,
....তবুও স্থির দাঁড়িয়ে রয়েছে মেয়েটা ,
আনমনে বালির ওপর আঙ্গুল রেখে সমুদ্র আর তার মাঝে এঁকে ফেললো সীমারেখা ,

নিজের চারিদিকে কাঁটা তারে বদ্ধ করে দিলো ....
সমস্ত বর্ষার শেষ  আশ্বিনের প্রথমে দাঁড়িয়েও বৃষ্টি মুছে ফেলতে পারলো না  মেয়েটার একটা সীমানাও ,

মেয়েটার কাছে সন্ধ্যে ছুটে পার হওয়ার অজস্র রাস্তা ঘাট এখন শুধুমাত্র পলাতক এর ভূমিকায় ।
সমস্ত ভিড়ে মাথা গুঁজে দিয়েও মেয়েটা বিন্দুতে এসে দাঁড়াতে চায় ।

কেউ কেউ



কেউ কেউ  তো গাছ হতে চেয়েছিলো এ গ্রহে 
কেউ কেউ চরম ,,
অপমানের বাতাস রোজ ছুঁইয়ে নিতেও চেয়েছে  অন্তরমহলে...  ,
কেউ কেউ একদিন সমস্ত পাতা ঝরিয়ে আকাশের দিকে নিঃস্বতা বাড়িয়ে নির্বান পেতে চেয়েছে ।
কেউ কেউ আলাদা আলাদা অস্ত্রে একই আঘাত গুলোর জরিফ করে দেখতে ভালবাসে।

এভাবেই ঋতু বদলে যায় পাতা রা শব্দহীন হয়ে শব্দের সাক্ষী রেখে যায় ।
অন্ধের ঘরে একা আর সন্দেহ খেলা করে সময়ের তানপুরার আঙ্গুল রেখে ।
কেউ কেউ বদনাম কাঁধে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে চায় ,
.....চায় তার পিঠে  গেঁথে থাকুক ছুরির ফলা ।
বুকের প্রেম থাকুক অন্ধকার বন্দী ।
আশ্রয়ের পাঁজরে কেউ কেউ বিষ রাখে ,,
আর সে বিষের কখনো কোনোদিন কোনো অনুবাদ হয় না ।

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

যা হয় না

সব আঙুলের ছাপ হয়তো 
ফোঁপানো কান্নার মতো হয় না...
যেমন দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে ...
চাইলেও কুড়িয়ে নিতে পারে না কেউ ।

সব আকাশ মিথ্যে হয়ে যায় না জেনেও ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলতে হয় কোনো একদিন বুকের ভেতরে রাখা ড্রইং খাতায়   যত্নে আঁকা আকাশটাকে ।
 ... হাতের   রেখায় রেখায় ছড়িয়ে পড়েছে......... নিঝুম বাবলা গাছের কাঁটার বেড়ে ওঠা স্বভাব।
গল্পপাঠ শেষ হলে এ শহরে মানুষ গুলো  পালুই-এর   ফাঁকে গুঁজে  অজস্র   এটো  শরীর,

 তারপর সেসব ক্ষত সারাবার বাহানায়   শুশ্রূষা প্রার্থনা  করে রাত ভর এস্রাজের সুর বাজিয়ে যায় আকুল হৃদয়ের দল ।  
নদীর চরে নিজের চিতা চাপা দেওয়া মিহি বালি ছড়িয়ে রাখা গল্প খুঁজতে চায়  এর ঠিক পরের অধ্যায়ে ।
  চেনা মুখ হাঁটু মুড়ে সাজিয়ে রাখে  এসব দৃশ্য।

.. যন্ত্রণার পাশে একটা বিকেল এসে দাঁড়ায়... মনে হয় পূর্বপুরুষের পাপ বুকে নিয়ে আমার মত  কেউ যেন হিসেবের উঠোন জোড়া অংকের সামনে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে ।
অথচ আমার মত যারা চিরকাল অংকে কাঁচা 
তাদেরকেই সিঁড়ি ভাঙা অংক পরিবেশন করা হয় কেনো জানি না  ।
তবুও চিরটাকাল সভ্যতার ক্ষত্রিয় বর্ণে আমরা বেমানান  হয়েও টিকে থেকেছি।

এবার না হয়  দরজা খোলাই থাক... ভোরবেলা যখন রোদ্দুর ফিরে আসবে... আয়ুধ শুষে নেবে পূর্ণ কুম্ভের মতো...
পাখিদের বলে রাখবো ...  ঘুম ভাঙিওনা আমার। পাহাড়, নদী, জঙ্গলের সব খেলায় হেরে গেছি বারংবার আমি। 
 জানি নদীস্রোত সরে গেলে  জাহাজ ভিড়বে ধূ ধূ বালুচরেই। 
গাঢ়তর স্নানে তখন মুছে দেবে  সব লেনদেন... অগোছালো চিহ্ন ও সূত্রের বাকি থাকা হিসেব নিকেশও ...... মিটে যাবে ।
ফোঁপানো কান্নার মত আঙুলের ছাপ খুঁজতে সেদিন কেউ তো নিশ্চই বিবাগী হবে সাজানো সুখ ফেলে।






কেনো ?

কেনো এসে দাঁড়াও ঘরের ভেতর চুপিসারে ?
প্রয়োজন গুলোর আজ আর তেমন কোনো আয়োজন তো নেই ,  
দেওয়ালে ধুলো পরে যাওয়া ছবি ,, দূরে যাও এতটা দূরে যাতে নিউরনের স্ফুলিঙ্গে কখনো কোনো স্পর্শ না আসে ।
কেনো বারংবার  কেনো ডাকো হাতছানি দিয়ে  হাসতে থাকো উলঙ্গ খিদের হাসি  ঘষা কাঁচের ওপারে দাঁড়িয়ে .....।
সমস্ত সহ্য পেরিয়ে আমি গোমূখের কাছে পৌঁছতে চাইছি ,
দয়া করে আমাকে আর দয়া করতে এসো না ,  দাঁড়িয়ে থেকো না গলির মোড়ে , অপেক্ষার বাসস্ট্যান্ড এ ।
আমি আগুনের ওপারে শেষের কবিতা উৎসর্গ করে শেষ হাসিটুকু হাসতে চাই এবার  ,,
বাড়িটা ফাঁকা করেও আসবাবপত্রে  স্পর্শ রাখছো কেনো ?।
তোমার তো নিজেকে রাখার অজস্র ঘর আছে... ছিলো চিরকাল , 
চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকো না , প্রতিদিন জানলা খুলে আমার শুকোতে দেওয়া জামা কাপড়ে কতটা তোমার গন্ধ রয়ে গেছে .....দেখতে এসো না ।

আমি পূর্ন যাত্রায় সমস্ত ফেলে হেঁটে যেতে চাই মহাপ্রস্থানের দিকে ...., 
প্রতিটা মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছায় লেগে থাকে কিছু 
নিশ্চিত পাওনা ,, তোমার কাছে আমার মুখাগ্নি চেয়ে নিলাম .....ঘরে এসে আর দাঁড়িও না ,
আমার অসম্ভব একটা মৃত্যু আর সৎকার টুকু  শেষ  উপহারে  দাও ।

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

খবর বিহীন

জন্ম হয়নি কোনো নিয়মমাফিক অতুর ঘরে ,
মৃত্যুও তাই খবরবিহীন এ শহরে ,
কেউ কখনো গুছিয়ে রাখেনি দায়িত্ব নিয়ে কারো হৃদয়ের খবর, ,
 তাই  হাড়ের সিন্ধুকে জমছে সময়ের ভাঙচুর কথপোকথন ....।
নিমতলার শ্মশানে উড়ন্ত ছাই দেখে কেউ পরিচয় খোঁজে না ....খোঁজে না সম্পর্ক শব্দটার মানে,,

এ শহরে পাখিরাও ঠিকানাহারা রাতের দীর্ঘতা মাপতে পারে,.... অথচ মানুষ সেখানে কত সহজেই ঠিকানা হারিয়ে ফেলতে চায় ! 
নিঃশ্চুপ ঝড়ের গোপন উন্মাদনায় ভেসে যায় ভ্রূণে জমে থাকা পরিচয়টুকুও ।
এ শহরে সব কিছু বড্ড সহজে মিলে যায় "everything is easy to get-able"
শুধুমাত্র বোতাম ছেড়া কিছু নিষেধ থেকে যায় ব্লক করে রাখা জানলায় ।
প্যাঁচার কান্নায় কখনও অভিশাপের শব্দ শুনতে শেখেনি এই শব্দের শহর .....আমিই বহুদিন রাত জেগে আছি এ শহরটায়,,  ছাদের কার্নিশে কখনো কোনো রাত প্যাঁচাকে দু দন্ড বসতে দেখিনি ,

সেসব নির্ঘুম রাতের পরাগ সেচে তুলে আনা মুহূর্ত  বন্ধক রাখি আমার প্রেমের অন্তরালে রাখা একটা জানাশোনা বুকের ভেতর ,
 লাটাই ছেড়া মেঘেদের ঊষর স্তনে  জলেদের নকশা আঁকে  দীর্ঘদিনের শেষে একটা দীর্ঘশ্বাস,,
আসলে এসব মন খারাপের দিনে কেউ কাউকে ভালোবেসে গুছিয়ে রাখেনি কখনো।
আসলে জন্ম হয়নি কোনো নিয়মমাফিক অতুর ঘরে ,  মৃত্যুও তাই খবরবিহীন এ শহরে ।



*

ফেরৎ

একটা চি‌ঠির ভেতর পাঠিয়ে দাও  যা কিছু আছে ছেড়া অস্তিনে ।

পা‌ঠি‌য়ে দাও সেই সমস্ত অব‌হেলা আর ঘৃণা যা অ‌ঙ্গিকার করেছিল তোমার ভেতর ,
রোদের খামে পাঠিয়ে দিও এতরফের সবটুকু অন্ধকার ,
সন্ধ্যে  বা মাঝ রাতে বালিশে রাখা কান্না পাঠিও  ,
পাঠিয়ে  দিও আমার দেওয়া দুঃখগুলো গুছি বেঁধে। ,
নিঃশব্দের কাছে তুমি গোপন করেছিলে আমার কিছু চিৎকার ....রেখো না তাদের দেরাজে ,,
অসুখী আত্মার মত তারা তোমার ইচ্ছা পুরণের পথ আটকে ফেলতে পারে যে কোনো অসতর্কতার মুহুর্তে ,
পা‌ঠি‌য়ে দাও হৃদয় বিদীর্ণ করা আমার ...তোমার কাছে রাখা  সমস্ত  হাহাকার
পা‌ঠি‌য়ে দাও আমার  মৃত‌্যু;
বুকের ভেতর রেখোনা আমার জন্যে এমন কোনো করুন যে তোমায় রোজ  এদিকের একমাত্র জানলায় মুখ রাখতে বাধ্য করে দিচ্ছে ,

যা কিছু অসহ‌্য লা‌গে তোমার,
পা‌ঠি‌য়ে দাও

পা‌ঠি‌য়ে দাও, আমার না‌মে. . যেকোনো পুরোনো চিঠি ভেতর যেকোনো পুরোনো খামে।





চলে যাওয়া

সব চলে যাওয়া যে একই রকম হয় না , তবু চলে যাওয়া মানেই বিচ্ছেদ ।
কথারা পৌঁছায় না ....বদ্ধ ঘরে দেওয়ালে লিখে রাখতে হয়  বাকি পরে থাকা  সমস্ত জন্ম ধরে প্রসব করা ভাবনাদের ।।
 বারুদের স্তুপ হয়ে বেঁচে থাকে সমস্ত পৃথিবী , 
অজানা সর্বনামের কাছে নিজেকে প্রতি মুহূর্তে বিকিয়ে দিয়ে হয় অকাতরে,  আর প্রাচীন বাড়িতে প্রহরহীন দেহঘরে ঢুকে পড়ে  হামেশাই হাজারো শরিকী বিবাদ ,

আমি তবুও দ্বিধাবোধের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জল ও হাওয়ায় নিষেধ লিখে উড়িয়ে দিই , নাগরিক কোলাহলে ,,,

চোখে খিদে লাগা নেশা নিয়ে আর কখনো কোনো মিছিলে হাঁটি না ,

একদিন ঠিক এভাবেই প্রেমিকের কাছে গিয়ে জল চেয়ে আমার দু চোখ দুয়ে নেবো ।
আগুনে পুড়তে পারলো না যে জ্বালা সে জ্বালা বেনাম স্রোতে ভাসিয়ে দেবো একদিন।

বিকেলের শেষ আলোয়

বিকেলের শেষ আলোটায় এসে হাঁটু মুড়ে বসি 
ভোরের মেয়েটা তখন আমার চৌহদ্দির থেকে দূরে অনেক দূরে হারিয়ে যায় .....হাত বাড়ানো আমার না পাওয়া যন্ত্রনা তাকে ফিরিয়ে আনতে চায় ,,অথচ কোথাও তো থামতে জানতে হবে এ চাওয়া গুলোকে বেঁধে রেখে  সে কথা মনকে বুঝিয়ে বলে।

অবিরত আলোর কাঙাল আমি ......অবিরত বন্ধ দেওয়াল গুলোয় জানলা আঁকা আমার অভ্যেস ।
আমার ভেতরেও আলো ঘুমিয়ে থাকে ...... ,,

আমি বেলা শেষ হবার আগে  কাসর ঘন্টা বাজিয়ে 
নিজেকে জাগিয়ে বিকেলের কার্নিশে  পড়ে থাকা ফুরোনো আলোয় হাঁটু মুড়ে ..অপেক্ষা করি ,।

অথচ জানি না কিসের অপেক্ষা ! কেনোই বা আমার মত মানুষ চিরকাল জানলা আঁকতে ভালোবাসে ! 

 দেওয়াল লিখনে উৎসবের পর বিষণ্ণ শীতকালের কথা কোনো বিঞ্জাপন সংস্থা লেখে না ,...
অথচ প্রতিটা নাগরিক সে শীতকাল কে দারুন করে চিনে নেয় কোনো বিঞ্জাপন ছাড়াই ,,,
আলো বিকোয় , উৎসব বিকোয় , বিকোয় ক্যানভাসের সমস্ত রং ....ভালোবাসা সেতো স্থান কাল পাত্রে বরাবর বিকিয়েই যায় ....।

আর তাই  বেশিরভাগ মানুষের একটা নিজস্ব একলা  বদ্ধঘর থাকে .....থাকে বোবা ট্যানেল ,,,

আর  টিলার ওপর হাঁটু মুড়ে এসে বসা একলা বিকেলে  আমার মত কেউ কেউ .....যারা হাত বাড়িয়ে অজস্র ভোরের আলো কে থামতে বলে ...বলে একবার ফিরে চাও ।

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মানুষ জব্দ হয়

মানুষ সবচেয়ে বেশি বোকা  এবং চরম ভাবে জব্দ হয় ভালোবাসার কাছে ....।
অথচ কি এক অজানা বিপন্নতায় ছেড়ে বেরোতে পারে না সে  গেরো থেকে ,,
তবু নিজেকে বোঝাতে চাওয়া .....কিভাবে যাবতীয় বিষাদে হরিণ শাবকের মত   ফাঁদে পড়েও কিচ্ছুটি হয় নি মিথ্যে প্রবাদে ভালো থাকা কাকে বলে শিখে নিতে  ।
সম্পর্ক খারাপ হয় না .....হয় পরিস্থিতি খারাপ ,,
কোথাও শোনা  এ কথা গুলো  ...,, 
  মনে রাখার দায় নেই কোথায় কখন কে বলেছিল  এসব দ্রোহের কথা ।
মনের ভেতর থেকে যায় কিছু কথা ,  কিছু আঘাত ,  শব্দের বন্ধনী ছুঁয়ে দেখলে ভেসে ওঠে   কোনো মুখ ,।
তবু এসব অন্ধকার গিলে রোজ রোজ প্রসব করে ফেলতে হয় আলো ,
এসব  অন্ধকার চাপামুড়ি দিয়ে নিজেকে বলতে হয় ভালো থাকা খুব সহজ একটা ব্যাপার মাত্র ।
এসব আঘাতের কাছে নিজেকে পোষ মানিয়ে নিয়ে বলতে হয় তেমন কিচ্ছু হয়নি যাতে ভালো থাকা যায় না কথাটা উচ্চারণ করে জানান দিতে  হবে ।

....মানুষ সবচেয়ে বেশি বোকা  এবং চরম ভাবে জব্দ হয় ভালোবাসার কাছে ....।




লাল ডু ঙ রী

 ঈশ্বরের প্রথম বার  বুক-ভাঙা কান্না,, যা কিনা ডুঙরীর কলেজে থেকে ঝরে পরা ঝর্ণা,  আমি  কাছে এসে দাঁড়ালাম ......
ভালোবাসলে তো এমন ঝর্ণা মুফত পাওয়া যাবেই ,
অথচ ভগবনের কাঁধে মাথা রেখে রাইমতি  যেন সরল নদীর মত নিজেকে বিস্তার করতে পারে , 
একই পটে দুই ছবি সময় এঁকে দেয় গোপন অভিলাস, 
অথচ এ পৃথিবীতে এমন কিছু জন্ম থাকে যা চিরকাল সমস্ত বেঁচে থাকা জুড়ে অভিশাপের মত কালো জন্ম দাগ বয়ে বেড়ায় ,
  ....তার মাঝেই লাল ডুঙরী কল্লাচে জীবন নিজের মত ভালোবাসা খুঁজে পায়...  কিংবা খুঁজে নেয় ।

আর ঈশ্বরের মত কিছু কিছু মন আগুনে পুড়তে পুড়তে মজার সামগ্রী হয়ে থেকে যায় ভালোবাসা নামক শব্দের কাছে ।।
রাইমতি ভালোবাসায় গাছ হয়ে ওঠে  ভগবানের দ্রোহের উঠোনে , 
 আর ভগবানের বুকের ভেতর জন্ম হয়  সব পাওয়া গুলো পূর্নতায় ভরে ওঠা ভিজে কলসীর ।।
তবু জীবন বোধহয় আশ্চর্যের নাম .......!!
জীবন বোধহয় অজানা অধ্যায় এর আর এক নাম!!

আজন্মের মকরজল শুকিয়ে যায় গোপন অভিমানে , .........আবার  শুক্লা দশমীর চাঁদ 
শুকিয়ে যাওয়া জমিকে সরেস করে দেয় আঁত ছেড়া কান্নায় ।
রাইমতি দুই সখার বুকে এক চিরন্তন  আবাল্য ভালোবাসার নাম ....., 
আর এই ভালোবাসায় কখনো ভগবান তার জন্ম কালিমা ভুলে গেছে .....কখনো ঈশ্বর তার আঁকা বাঁকা চেহারায় প্রেমের সরলরেখা ছুঁয়ে দেখেছে ।
আমি এসব ছুঁয়ে দেখলাম আমার মাথায় রাখা "মণি"র আলোয় আলোকিত হয়ে ।
এমন করে লালডুঙরীর  হাতে হাত রেখে  এক জীবন প্রচ্ছদে আমার অজানাকে জানা হলো ...অদেখা কে দেখা হলো মানস-চক্ষু দিয়ে ।

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মেঘরাশির সহবাস

মেঘ রাশির জীবাশ্মের  যুক্তাক্ষররা ডানা মেলে
উড়তে চায়  চেনা অধ্যায়ে ।
 তৃতীয় নয়ন ছুঁয়ে ভেসে আসছে ছোট্ট  সেই পুরোনো ডিঙি নৌকাটা...,,
 প্রবালদ্বীপের রঙিন কাগজ-টুকরো জুড়ে জুড়ে এ শহরে   একান্নবর্তী বাড়িগুলো আজ খুব একলা হয়ে পড়ছে ,,
 খোলা উঠোন মুড়ে দিচ্ছে গোড়ালির ছাপ।
  বিকেলের খোলা ছাদে বেহিসেবি হয়ে ভিজছে কয়েকটা কাক.,
এই সময়   গঙ্গার  পাড় ধরে খানিক ছুটে যেতে ইচ্ছা করছে .... তারপর দু'চোখ বন্ধ করে ধূপের গন্ধ আর উপনিবেশ খুঁজে নিতে ভীষণ ভীষন মন চাইছে   । 
আমার মন ভালো নেই ভেবে শরীর খারাপ কোরো না তুমি।
 অথবা শরীর খারাপ ভেবে মন।
 বেহিসেবি এলোমেলো দিগন্তভ্রমণে মেঘেরা ছুঁড়ে দেয় নানান চিরকুট  .....তার সবকটি তুমি না পড়লেই ভালো , 
 আসলে মেঘেরাও  এক একটি ঋতুতে সহবাসের ঋণ তুলে ধরতে ভালোবাসে।
 আমরা নাহয় এভাবেই  তুলির টানে ও রেখায় মিলিত হব বাকি দিন গুলো  । 
হঠাৎ হঠাৎ  ধামসা মাদলের তালে তালে কারা যেন তাড়িয়ে নিয়ে চলে আমায় আর তোমায় ।
 শালবনের ফাঁকে পায়েচলা সরু পথে... শুকনো পাতা দুপায়ে মাড়িয়ে। ঝুমঝুমির শব্দ ওঠে। 
আমরা দুজন  যেন অনর্গল হেঁটে চলা প্রাচীন মানুষ না ইতিহাস বুঝতে পারি না ।
 পাতার ঝরে পড়া দেখি অথচ শেষবেলার উপমা মনে ক'রে বুকের ভেতর ধুয়ে নিই আমার বারান্দার  বাগান... গান বাঁধার সাজসরঞ্জাম...
আর ক্যানভাস রং। 
 এই মেঘেদের ভিড়েও তুমি কোন  রাশির জাতক আমার চিনে নিতে অসুবিধা হয় না ।

পিঠোপিঠি

আমি হয়তো আঠাশে তুই সাতাশে ....
সিঁড়ির ধাপ বেয়ে আমাদের বৃষ্টি জল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ..... দূর এই শহরের থেকে অনেক দূর ...সমুদ্র নাকি পাতালের বুকে তুই কিংবা আমি কেউই জানি না  ! 
আজ কি এই শহরটা লাল ডুঙরী র মত প্রেমিক হতে চাইছে !  রাতভর ঝিরিঝিরি ঝমঝম শব্দের সাথে জলেদের জমাটি বুনন ....যেন আমাদের সেই পুরোনো সেলাইকলের নিবিড় হয়ে নকশা বোনা প্রেম ।
আমি হয়তো এমাসে একটু বেশি সবুজ হয়ে তাড়াতাড়ি  কয়েক ইঞ্চি বেড়ে উঠছি ....তুইও কখনো সিঁড়ির ধাপে আমার পিঠোপিঠি ...কখনো বারান্দার মানিপ্ল্যান্টে আমার থেকে একটু  উচ্চতায় বেশি কি কম ।
এই যে মেঘলা সময় গুলো নিঃস্ব হয়ে তোর কিংবা আমার মাঝে সেতু বাঁধছে .......কখনো জানতে চেয়েছিস কেন ? 
...........কত মেঘ বৃষ্টিই তো ঘর ভাঙে নিজের স্বভাবেই .....,,  তবু এই শব্দ মহলা এই সময়ের বাকবিতন্ডা কেন বারংবার বাধ্য করছে 
সমান্তরাল পথকে মিলিয়ে দিতে !
আমরা কেউ আর বেঁচে নেই , একথা জেনেও কেন পরস্পরের জন্যে অপেক্ষার ছাদে গোপনে ভাতের থালা রেখে আসছি !!
 আজ এই বর্ষাতি সন্ধ্যায় তুই হয়তো সাতাশই থামবি ......আমি.....হয়তো আঠাশ কিংবা তিরিশে দাঁড়িয়ে ,, তোর জানলার আকাশটায় বৃষ্টি থামার অপেক্ষা থাকবো ....থাকবো জানলার শার্সি যে তোর চোখ রাখার অপেক্ষায় ,   .....জানি না রে জানি না কিছু জানতে ইচ্ছা হয় না ।

... ড্যানিয়েল এই মুহূর্তে আমায়  এক কাপ গাড় কফির সাথে তোকে সঙ্গে রাখতে বললো ....আর বলেই নিজে হাতে গরম কফি আমায় ধরিয়ে দিয়ে বললো .......তোমার আজ অবধি সব প্রাক্তনরা কেউ সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায়নি ,,
তাই তারা কেউ  এমন বৃষ্টির দিনে তোমাকে  বৃষ্টি হতে দেখতে পায়নি ,, 
তারা কেউ সৌভাগ্য নিজে জন্মায়নি তাই  এই সূক্ষ তারের মেঘমল্লার হতে পারেনি ,, ।

আমি ড্যানিয়েল এর দিকে একবার তাকিয়ে... বাইরে বৃষ্টির সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিতে চাইলাম ...
আজ  তুই সাতাশে  ........আমার ধারাপাত জানি না ঠিক কোথায় থামবে ।

বৃষ্টির দোহাই

বৃষ্টির দোহাই দিয়ে একলা বারান্দায় আবেগী গল্পেরা গড়িয়ে নামে .........
তুমি ধোঁয়া উড়িয়ে আর একটু বাউল হয়ে উঠতে চাও .....অথচ আমার এই জড়িয়ে বেড়ে ওঠা স্বভাব তোমায় বিবাগী হতে দেয় না এমন ভিজে যাওয়া বেলায় ।
আসলে এমন করে তুমি আগে কখনও  ভালোবাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকোনি ,,
যতবার এমন কোনো বারান্দায় পুড়ে যাওয়া অবশেষ ছুঁড়ে  ফেলেছো ....সেসব কেবল নিভে যাওয়া আগুনই ছিল যাদের ছাই বলে ডাকেছো তুমি ।
তাই কখনো কোনো ভালোবাসা তোমায় জড়িয়ে প্যাচিয়ে দু দন্ড তোমাকে এমন বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিতে  সাহস করে উঠতে পারে নি ,,
আসলে কি জানো এ মেঘ চিরকাল অনন্য ....বাকি মেঘেদের সাথে এর কোনো মিল।কোনো কালেই ছিল না .....তাই তুমিও উষ্ণ ওই বারান্দায় স্থাণু ।
জানি তোমার ইচ্ছা করে সব ধ্বংস করে আবার করে গড়ে নাও নতুন .......তবে ঈশ্বরের ওপর যে মাতব্বরি চলে না ... তাই তোমার আমার কংবা ওই একলা আকাশটা বৃষ্টির দোহাই দিয়ে আমাদের মতোই একলা বারান্দায় কিছু গল্পদের গড়িয়ে নামতে দিই ।

আদর

অনেকদিন হল তোমাকে আদর করে উঠতে পারিনি , ........বুকের ভেতরে  কিছু দৈন্য যত্ন রোজই রাখি  গুছিয়ে,  .... অথচ এখন আর  সময় করে  সেসব কিছু তোমাকে দেওয়া হয় ওঠে না ।
তবু এমন বৃষ্টি- মুখর দিনে সেসব বোহেমিয়ান ভালোবাসায় তোমার বুকে মুখ গুঁজে বন্য অঘ্রানে নিজেকে মাতাল করতে বড় ইচ্ছা হচ্ছে ।
শেষ বারিশে আমরা পরস্পরের গভীরে মগ্ন ছিলাম ...মনে পড়ে !  .....আজও ভেজা মন  বালিশ জড়িয়ে কিছু আদর আর বাঘবন্দী খেলা একই রকম মজুত আছে .....মাটির সোদা গন্ধে পারিজাতীয় আরোহন আর অবরোহন ,
বৃষ্টির শব্দে ছুটন্ত ঘোড়ার খুরের শব্দ মিলেমিশে 
বড় নেশাতুর করে তোলে আমাদের ।
এ বছর বৃষ্টি যাপন একই শহরের একই আকাশে অনেক খানি গভীরে যাওয়া আদরের মত ....।
তোমাকে অনেক দিন জড়িয়ে নিই নি তেমন করে ....কত্ত দিন হয়ে গেছে একসাথে স্নাত হয়ে উঠিনি 
তোমাকে কত্ত দিন নিজের সাথে জড়াইনি সেভাবে ।
আজ তোমায় বড় আদর করতে ইচ্ছে হচ্ছে এই বৃষ্টি মুখর বেলায় ........
 

বৃষ্টি হলেই

আমার1 বৃষ্টি দিন জুড়ে একরাশ রঙের আনাগোনা 
চলে ...কাজবিহীন দিন নামে কয়েকটা ছবি এঁকে ফেলি  এসব ভালোবাসা দিনে।
ঝরে পড়া প্রেমের সাথে ....ভালোবাসতে ইচ্ছা হয় বলেই ক্যানভাসের তোমার জামায় নীল রং ঢেলে 
একদল মেঘেদের এনে দিই আমার পরিবর্তে ।

হাঁটু মুড়ে কাগুজে নৌকায় খবরাখবর চালাচালি করি ...পরজন্মের তোমার দেওয়া কথাদের সাথে ,
 আর বৃষ্টিরা সবাই তখন আমার সাথে তোমার সাথে ভিজিয়ে দেয় গোপনে রাখা রূপকথাদের ।

তোমার নীল জামায় অনেক স্পর্শ গড়িয়ে নামছে ...দেখো ,.... এছবি  একদিন ঠিক তোমার কাছে পৌঁছে দেবে মেঘলা হওয়ায় রাখা অচেনা মেঘবালিকা  নিজের হাতেই ।
ভালোবাসার অমোঘ ধারায়  ক্যানভাস থেকে  বেরিয়ে তুমি বলবে  আগামী জন্ম দিনে আমরা বিচ্ছেদ গুলো ভাসিয়ে দেবো এই নতুন জলেদের সাথে ,, 
প্রতিটা বৃষ্টি ফোঁটা সাক্ষী রেখে বলবে সমস্ত অঙ্গীকার হোক ওই বিশাল আকাশটা ...
অভিমান ফুরিয়ে রামধনু আঁকা বিকেলে ভোরের ফুল ফুটে উঠবে ....,,।
আমরা আজও যে মনে মনে একই আকাশে একই বৃষ্টিতে পাশাপাশি হাতে হাত রেখে ভিজে চলেছি .....,
আমার বৃষ্টি দিন জুড়ে এমন অজস্র রং  ক্যানভাসে আনাগোনা করে ,  আর মনে মনে আঙুলের তুলি বলে ওঠে প্রতিবার  বৃষ্টি হলেই তুমি আমি আরো কাছাকাছি হয়ে উঠি । 

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অন্তরবর্তী ঘোষণা


বহুদিন হল  শুধুমাত্র রাত্রি হয় এই পৃথিবীতে । সকাল, দুপুর কিংবা সন্ধ্যে হয় না!  বরফের মত   আশ্চর্য  ন্যুব্জ প্রতিটা চরিত্রের দৃষ্টি  ... ,
 বাঘনখ বিছানো অন্তরজলী সাদা মাঠ যাপন ... যার কোনো পচন নেই কখনো ...
 ঋতুস্রাবের চিহ্ন শুধু বলে দেয় আর একটা জন্ম হতেই পারতো এই ধরায় ... ,,
জরায়ুমুখে নীল-সবুজ শুঁয়োওঠা  ভালোবাসার স্পর্শ খুঁজে যায় অনেকে ,,,, তবু  পেরেক কুড়োতে আসা পাললিক হাড় শেষমেশ ভাতের পাতে দিতে হয় সাজিয়ে ...।
 পাখিরা বিষ পাত্রে   ঠোঁট ডুবিয়ে দহন রোমন্থনে ডুবে থাকে এই পাপ লুকোনো শহরটার । 
কানভাঙা কুকুর  ট্রামভর্তি রাজপথে  দাম্পত্যর শিলালিপি খোঁজে এই ভাদ্রে ...।।
  কে যেন কানের কাছে ফিসফিস করে   বলে  পালিয়ে যাবে  ফুলস্টপের সাথে আমাকে জড়িয়ে নিয়ে  । 
দাঁড়ি কমা সেমিকোলন যেন কেউ ...কেউ আর কখনো কষ্ট দিতে  না পারে   !... 
যদিও আমি রূপকথা  অথবা  কাফকা কাউকেই না পাই....নিজের ভেতর  এখন তবুও নিঃশব্দে শব্দ কানে বার্তা পৌঁছে দেয় প্রায়শই।

 জানি  আমায় আশ্রয় দিয়েছিল যারা  যারা
তারা  চিহ্নহীন হতেই চেয়েছে বারংবার, 
এই গঙ্গার জলে আয়নার মতো
 সে সব উত্তরপুরুষদের  মৃত্যু দেখেছি  বারংবার,,
ভাঙা  কাচের ওপারে  শহর আমায় 
___________ পৌঁছে দিয়েছে অজস্র  পুঁজি যত্ন করে,,  
আমি কেবল এ-ওর দরজায়
দীর্ঘ শোকের ছায়া লেপে এসেছি হয়তো নানান   হ্রস্ব ব্যবধানে।


 তবুও ...পারলে তোর নিঃশ্বাস আমার সাথে মিশিয়ে দিস
শ্বাস নিতে যাতে... কষ্ট না হয় আমার।
বাকি সব না হয় দিয়ে দিস  ওই গোধূলির রঙে কাছে  ।

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পচন ধরা শহর

বাষ্প যেন পরিপাটি স্রোত কাচের দেওয়ালটায়,
পাথরের টুকরো ডিঙিয়ে ছোটো ছোটো খেলনার দল এই কলকাতা শহরে মানুষের মত দেখতে যারা  যেন শুধু হোঁচট খাচ্ছে ,
 সময় পেরিয়ে সবাই সমুদ্রতীরে জমা হয় বটে ....তবে  টলমলে পায়ে বার্ধক্যেও কেউ কেউ মানুষ হতে পারে না ।
______________   সাদা কালো রঙে
পিঠে ঘুঙুর বেঁধে নাচে সবাই এই শহরের সর্বত্রই আর  মোমবাতির শিখা ছিঁড়ে পড়ে  জরাগ্রস্ত অশুচি হাওয়ায় এই পচন ধরে যাওয়া শহরটায় ।
#
কেউ নেই... কিছু নেই যেখানে
 সেখানেই একদিন   অনুবাদ ফুরিয়ে আসার কথা ,
ভাঙা গ্লাসে ঠিক একদিন এই  সমুদ্র ঘুমিয়ে পড়বে 
ফুটন্ত ঢেউয়ের গন্ধে আর কেউ কোনো আপনজন খুঁজবে না 
_____বড়ো একলা লাগা মুহূর্তে আর কোনো ছায়ার কথাও মনে পড়ে না ।
বাষ্প এখন পরিপাটি স্নান ঘরে।কিংবা জানলার কাঁচে .....সেখানে আঙ্গুল রেখে যেমন ইচ্ছা ভালোবাসা নামক শব্দটা এঁকে ফেলতে শিখেছি এই শহরটার কাছেই ।
"আসলে জো দিখতা হ্যায় ওহি বিকতা হ্যায়'
তা সেটা কন্ডোম হোক আর মেয়েদের ছত্রিশ ব্রা প্যান্টি হোক কিংবা .............


(#D)

শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রাই সংবাদ (১০)

শ্যামের জন্যে মন পুড়তে আর চায় না , শুধু 
অন্ধকারের অস্তিনে একটা জোনাক গুঁজে ভোর ডেকে আনার কথা ভাবি ,
কি পালিয়ে যাবে আমার সাথে ? ধূসর কুয়াশা চিরে সেই পাহাড়ি ঝর্ণার দেশটায় !, 
 যদি না পাই জমির উপর  দখলদারি,   নাহয় মাটির দুহাত নিচেই  ছই হবে দুজনার .....জমি বলতে তো  শুধুমাত্র একখানা বুক  ...

আজ নাহয় ডানায় আমি তুমি লুকিয়ে রাখি কিছুটা অভ্যেস ....ভালোবাসলে মরতে হয় গো গোঁসাই ...
মরণ ছাড়া  নিবিড় মিলন  আছে কোথায় বলো! ...
দূর থেকে ঝর্ণার  নদী নিয়ে এসে আমার আলতা পড়া পা ধুইয়ে দিয়ে বলবে তুমি ... রাই .... শ্যামের জন্যে আর তোমায় পুড়তে হবে না ..., হবে না  ধোঁয়ার আড়ালে জগৎ সংসার কে লুকিয়ে চোখ মুছতে ।
বাসী  কাজল না মুছেই নদী চরে ভোর এনেছি দেখো শুধুমাত্র তোমারই জন্যে  ।
আসলে   ঘুঙুরের যন্ত্রনা  যে রাই ছাড়াও এ পৃথিবীতে আর একজনই বোঝে ........

বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বারংবার ভালোবাসা যায় না

যারা বলে বারংবার ভালোবাসা যায় তারা আসলে মাদারীর নাচ নাচায় .....যারা বলে বারংবার ভালোবাসা যায় তারা প্যাঁচার হাড়ে ফুঁ দিয়ে কৃষ্ণ বাঁশির আওয়াজ শুনতে চায় ......,
যারা বলে বারংবার ভালোবাসা যায় তারা আসলে  এক মুখোশের আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে ভালোবাসার নামে ব্যবসা খুলে ফেলে ......
যারা বলে বারংবার ভালোবাসা যায় ...তারা তিনপা নিয়ে গুহা আর পাহাড় জঙ্গলের গন্ধে নেশাতুর ...
আসলে ভালোবাসা ডট কম বলে তারা কম্পানীর মালিকানা পেতে চায় .... আদতে সেটা হয় না .,,
যারা বলে বারংবার ভালোবাসা যায় তারা আসলে ভালোবাসার নামে বেশ কিছু নেংটি ইঁদুর পুষে গোপন সুড়সুড়ি উপভোগ করতে ভালবাসে।

যারা বলে ভালোবাসা একটা মাত্র চিহ্নে প্রকাশ করা যায় ,  তারা আদতে ভালোবাসা কে ছুঁয়েই দেখেনি .....তারা পুড়তে শেখেনি এতটুকুও ...।

...তবু বুক ঠুকে তারাই আবার ভালোবাসা ....ভালোবাসা বলে কাব্যি করে ....,,
আসলে মুখে বা কলমে অনেক কিছুই বড্ড সহজ ,,
ভালোবাসা বারংবার হয় না ....ভালোবাসা একটা দৃঢ়তার নাম ...ভালোবাসা একটা যত্নের আশ্রয়ের নাম ...একবার ভালোবাসলে আর ফেরা যায় না ...
যারা বলে বারংবার ভালোবাসা যায় তারা আসলে ভালোবাসাকে ...কিছু না গোছের কিছু একটা ভেবে নিয়ে নিজেদের পাপ মুক্ত রাখতে চায় ....
ভালোবাসা অতটাও সহজ নয়  ....সত্যিকারের ভালোবাসতে ও ভালোবাসায়  থাকতে একটা সুক্ষ যোগ্যতা দরকার ....ভালোবাসা ভালোবাসা বলে চার লাইন লিখে ফেললেই ...তাকে হৃদয় নিঃসৃত  ধরে নেবার  কোনো কারণ নেই .....,
কারণ মুখ আর মুখোশ দুজনেই এই ভালোবাসা বানান টা জানতেই পারে ।

লাল ডুঙরী

কাদা মাখা  দেহ নিয়ে বেলা দশটায় বেরিয়ে পরে লোকটা .....ভাদ্রের বারিষ ভেজা গন্ধ কুঁকড়ে দিয়েছে বিদায়ী মন কেমনকে ।
তবু ঈশ্বরের মন পুড়ছে একলা .....লাল মাটির দেশটাকে নিজের ভেতর বিস্তার করতে পারছে কই !!
ঘষে দিলেই রং হয় না....  গিরি পাথরের সাথে নিম আর বাবলার  সঠিক মাত্রায় প্রেম  জরুরী ভীষণ । .....যেমন রাইকে  ছাড়া কি তার মন মেশে অন্য কোথাও !
পাটের বুক কেবল গিরির গেরুয়া রঙেই রাঙানো সম্ভব .....তাই পাথর  খুঁজছে ঈশ্বর ,
পাতাহীন বট গাছটা মানুষের এই রং খোঁজার সময় কাছে রাখে নিজের করে ,
 আর যখন যখন রং ধুয়ে ফেলে মানুষ নিজেকে নিজের হাতে হত্যা করে বটের ঝুড়িতে না পাওয়া গুলো ঝুলিয়ে রেখে যায়  পৃথিবীর সব ফেলে রেখে যাওয়া সম্পর্কের কাছে । 
তখন সব গাছেদের মত এই পাতাহীন বট গাছও মানুষ চিনে নেয় ,
আমি কখনো বট হতে চাই না এমনকি কোনো গাছ হাতেও চাই না .....ভেবে দেখেছি এই লাল ডুঙরী র কল্লাচের পথের বাঁকে ঈশ্বরের গিরি মাটি হতে পারলে .....একবার পাট এর বুকে  নিজেকে রাখবো । 
একবার ঈশ্বর কে বলবো সমস্ত লাল ডুঙরী কে আমার রঙ মাখিয়ে পাটে এঁকে ফেলতে ,,
আর তারপর ঈশ্বরের বাল্য সখী হয়ে বুকে থেকে যাওয়া কেউ রুখতে পারবে না জানি । 
অথচ এই কাদা মেখে বেরিয়ে পরা দশটা পাঁচটা লোকটা কখনো নিজের ভেতরের দরজার বাইরে এই লাল ডুঙরী টা কে ভালো করে ছুঁয়ে দেখলো না বেচারা ।

কিভাবে ফিরিয়ে নেবো

কিভাবে ফিরিয়ে নিতে হয় নিজেকে শিখিনি এখনো , তাই অনেক অনেক মেঘেদের সাথে আমার বাস এখনো অটুট ।

সন্ধ্যে হলেই ওই চেনা চিমনির দিকে উড়ে যায় এক অবুঝ সন্ধানী পায়রা ....হয়তো বা হেরে যাওয়া কোনো গোপন বেলা ,
..... এ যুগে নিখিলেশ এর অস্তিত্ব থাকলে ঠিক কেমন হত জানি না ....আর জানি না  বলেই কেমন করে ফিরিয়ে নিতে হয় নিজেকে শেখ হল না ।

....কেউ যেন বলেছিল মৃত্যু টা হলো ছোটো গল্প
আর বেঁচে থাকাটাই হলো উপন্যাস... ,

আমরা  ঠিক কোথায় এখন দাঁড়িয়ে  ! ছোটো গল্পের সারণী তে নাকি উপন্যাসের কোনো এক রাজপথে  ! 
খুঁটে বাঁধা একরাশ চাবির গোছা আজও তেমন করে আসল দরজার সামনে দাঁড়িয়েছি বলে দেয়নি .....
অথচ কিভাবে ফিরতে হয় নিজের কাছে সেটুকু শিখতে একজন্ম কম মনে পড়ে যাচ্ছে ।


বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পূর্বাশ্রম

তোমার কাছে   যে সব পূর্বাশ্রমের কথা রাখা আছে  
তাদের  ওপর-নীচে তীব্র ঢেউ এখন .....কিউকি বারিষ সমুন্দর মে ভি গিরতি হ্যায় ....।

বিস্বাদ মুখে ভাজা মাছ স্বাদ আনতে ব্যর্থ   আজকাল ।
______এদিক-সেদিক ছুটে যাচ্ছে সেলফির ভালোবাসা ......ক্যাপশনে লেখা "আমাদের কথা "
নিজের হাতে ধুয়ে দিচ্ছ  বৃষ্টি-জল   আর সমুদ্রের বেদনা ....,,,
বাহারি গাছে ফুল ফুটছে ক্রমে আঙিনায় 
পাখিদের ভাষাবিনিময় হয় মাত্র সপ্তাহে এই ছুটির দু দিন 
অর্ধেক শুকনো জামাকাপড়  আর অর্ধেক ভালোবাসা নিয়ে 
_____ সমস্ত প্রেম কে উপেক্ষা করেই  আবার ভিজতে যায় চেনা মানুষটা মাঝরাতে... সমুদ্রের কাছে ....

অন্ধকার  মানে কেবল হেরে যাওয়া  নয় গান্ধারদেশের অববাহিকায় মানুষের অজস্র অজানা কিংবা না জানতে পারা গল্প 
শত্রুর মাংসর মত  কাঁটাতারের ঝুলিয়ে  ঝলসে নেওয়া  তটভূমি অন্ধকার শব্দের ভেতর আলো লুকিয়ে রাখে  ......,,
____ লাল কাঁকড়ার  সাথে। পূর্বাশ্রমে অনেক মানুষের একই মিল,   তাদের গঠন একই  স্বভাবও... .....পায়ের শব্দ  পেলেই মাটি খুঁড়ে নিজেকে লুকোনো।।
_____ জলে ডুবেছিল চেনা অধ্যায় যেমনটা ডুবে যায় ... দু-হাত পাতা ভেজা মেঘে  আর সমুদ্র সঙ্গমরত সব দ্বিধা সরিয়ে ,,
________খড়কুটো রেখে দিলাম 
শ্বাসকষ্ট থেকে  কয়েক ক্রোশ  দূরে বৃষ্টি নগরীর বুকে

 শুধুমাত্র বলে রাখি শোনো পূর্বাশ্রমে আমার কোনো ডাকনাম ছিল না... কোনোদিন,,, আর পরেও কোনো ডাক নাম থাকবে না ।

#D#

মৃত্যুকে সহ্য করা যায় স্মৃতিকে নয়...

স্মৃতি সহ্য করতে করতে আমার মৃত্যু হয় বারংবার 
 একজন্মের পুরোনো ভিটে মাটির টান  ভুলতে ঠিক কতগুলো জন্ম জাতিস্মর হয়ে থাকতে হয় এ উত্তর কে দিতে পারে ! 
একদিন যে আগুন জ্বেলে পুড়েছিলাম তার ছাই এত ভারী  হবে সে কথা কেউ  শেখায়নি জীবন ছাড়া ....।
তবু জীবন কে আজকাল বিশ্বাস করতে পারি না ....পারি না  আয়নায় নিজের মুখ দেখতে ।
ভয় পাওয়া চেহারায় স্মৃতির ছায়া  মৃত্যু শোকের থেকে  অযুত মন ভারী ,,
ড্যালিয়ান কে যখন আমার খাঁকি ঝুলি ধরতে বলি 
সে বারংবার আমার কাঁধের কাছে এসে ঝুঁকে দেখে নেয় পুরোনো ভিটের দর কতটা আমায় বিকিয়েছে !
সেই সব হারানোর দিনের পর থেকে আমার বয়স বাড়েনি ....তবু আমি বৃদ্ধ হচ্ছি .....আগামী পলাশী পূর্ণিমায় শান্তিনিকেতনে সোনাঝুড়ির গাছের গায়ে আমার বৃদ্ধ হওয়া আরো একটু বেড়ে যাবে ....তবু কি  ওই না থাকা পুরোনো ভিটে মাটি  আমায় অদৃশ্য শেকড় বেড়ি পরিয়ে রাখবে ? ড্যানিয়েল বলে move on .....Move on .....
 বলে তুমি রোজ আলাপ কমাও না কেন  স্মৃতির সাথে ...
আমি  তোমায় খুঁজে দেবো খোপার  জীবন্ত পলাশ ফুল ... 
 অথচ আমি নিজেকে চিনতে না পেরে
আঙুল রাখি মৃত ফসলের বুকে বারংবার ...
আর স্মৃতি সহ্য করতে করতে আমার মৃত্যু হয় বারংবার ।



ভালোবাসা

কার কাছে গিয়ে বসে থাকো তুমি চুপটি করে সে আর এক ভালোবাসা নাকি ভ্রম !?
মেঘে দের দেশে আকাশের নিজস্ব কোনো রং থাকে না ....তোমার রং এখন তাই অক্ষরে অক্ষরে 
ভগ্নাংশিত ,, 
আমি মেঘেদের মত তোমার আকাশ বাড়ির চিলেকোঠায় বসত রাখি ....ঘরে ভেতর একফালি সে চেনা আকাশ .... অথচ  তোমার যে আজও  কোনো নিজস্ব মেঘও নেই তুমি তাই চাইলেই বৃষ্টি ভেজা পালক হতে পারোনি ।
তুমি ভ্রম এর দেশে আকাশ মাত্র ....তাসের সামিয়ানা ....মাটি নেই পায়ের নিচে আঁকড়ে থাকার ।
আমার বুকের জমি বিকোয়নি আজও ...
শেকড় তাই যত্ন পায় .....
 তাই ভালোবাসার কাছে ভালোবাসা বসে চুপটি করে সমস্ত বিলিয়ে নিরহংকার হয়ে ।

মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

লুকোনো নকশা

ববিনের রিলে নকশা লুকোনো ....
সেতুহীন চাঁদের পাহাড়ে একটা হাতছানি  যেন সারা শহরটাকে হিপ্নোটাইস করে ফেলছে ।
ইস্তেহারে পঞ্চাশ শতাংশ কম দাম দেখে মানুষের ভিড়ে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে ,, কিংবা বাই ওয়ান গেট ওয়ান  এর চোখ ঝলসে যাওয়া আলাদিনের প্রদীপ।
নিউটাউনের বাসস্ট্যান্ডএ ঠোঁটের উষ্ণতায় চেনা গন্ধ অথচ ....স্পর্শ হীন , তবু অফিস ফেরৎ বেঁচে থাকায় নিজেকে খুঁজে নেওয়া ...,,

আজ বোধহয় বৃষ্টি থামবে না সেলাই কলের ববিনে এক ঘেয়ে ঝিরি ঝিরি নকশা , 
আর গ্রহণ লাগা রাজপথে একলা নেতিয়ে পড়া উৎসব ....
আমি মেঘেদের চেহারায়  যখন শব্দ জব্দ লিখি এই নির্জন প্রতিক্ষালয়ে .... শ্যাওলা পিচ্ছিল জেব্রা ক্রসিং আর হাইফেনের গোলার্ধ ধরে একটা আত্মা একা একা আশ্রয় খুঁজে বেড়ায় তখন ,,
সে বাই ওয়ান গেট ওয়ানে পেয়েছে একটা আত্মার সাথে মৃত দেহ ...বইছে কাঁধে একা ,,
 দূর থেকে এসব দৃশ্য ববিনের রিলে সুতোর বুননে 
আর সেলাই কলের সঙ্গমে মাখামাখি হচ্ছে ,,
উৎসবের  আড়ালে দৌড়ে আসা
জল কাদায় ডোবা বিপরীত জানুসন্ধি কেউ দেখতে পায় না ।
_ভাঙা কলমের রেশ  দৃষ্টিহীন সড়কে ছড়িয়ে দেয়  দিব্যতার আলো
একা একা কথা বলি 
___ ভৈরবী প্রেমে  মগ্ন মন ......
অন্তহীন শূন্যতায় সংকেতের লেনদেন চলে ওই আত্মার সাথে...
আঙুলের কোণে কখনও কেউ
লুকিয়ে থাকা __যন্ত্রণার আর্তনাদ শোনে না ...সে ও প্রতিক্ষালয় দুজনেই জানে অথচ 
একবারও ভাবে না  ___ উৎসব ফুরিয়ে এলে 
ইশতেহারের পঞ্চাশ শতাং ছাড় আর বাই ওয়ান গেট ওয়ান ... নিয়ে যাবে সুমন বাবুর দশ ফুট বাই দশ ফুটে থাকা মানুষ নামক ........ ববিনের রিলে নকশা লুকোনো .....সারা রাত সেলাই কলের সাথে অদ্ভুত সঙ্গম ......বলতে পারো কেনো এ শহরটা এত অসহায় ?


বৃষ্টি সুখ

বৃষ্টি কি সুখের কথা বলে নাকি সুখের ঋতুর কথা মনে করিয়ে দেয় ,
আজ অপেক্ষার অনেক গুলো দিন ধুয়ে দিতে  কেবল বৃষ্টিই পারলো কি না জানা হল না।
 ...অমিতদার দোকানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার অবসান খুঁজছি ....খুঁজছি ঝরে পড়া জল ফোঁটা গুলোর দিক শূন্যপুরের  ঠিকানা ।
আগে যখন বৃষ্টি নামতো কবিতা ছুঁয়ে গড়িয়ে নামতো মেঘ মল্লারের  সুর .....এখন আমার গিটারের তারে খয়েরী চাদরের অমোঘ প্রেম ,বাইরে যত বৃষ্টি চাদরে প্রেম ততটাই ঘন ।
..........একি সুখের দিকে ঋতু পথ বাঁক নিচ্ছে !
অমিতদার মুখে আমি সুখ বলতে বিকিকিনির নামতা দেখি ....আজ যেমন নামতা বেশি ঘর এগোতে পারে না অমিত দা ,   বৃষ্টি ভেজা কবিতা লিখে কবিরা কখনো কখনো পুড়তে আসে এই অমিত দার দোকানে ।
আমি আসি একটা না খোলা জানলায় অপেক্ষা গুঁজে দিতে ....অমিত দা আমায় ক্রেতা হিসেবে আজকাল ভালোই চিনে গেছে ...তাই  ঠিকানা জানতে চায় ....বলে কিছু লাগলে মুঠোফোনে জানিয়ে দিলে প্রয়োজনে ঠিকানায় পৌঁছে দেবে ।

আমি হাসি মনে মনে বলি ....অমিতদা আমায় কিছু দেবে এমন আমীর কে আছে বলুনতো ?
বৃষ্টি তার পথ বদলে সুখের দিকে যাচ্ছে 
যদিও সমস্ত সবুজ আবার নিয়ম  মেনেই ঝরে যাবে .....তবু সুখে সংজ্ঞা অমিত দা কিংবা আমার কাছে কখনো এক হতেই পারেনি,,, অথচ একই ছাউনির নীচে আমি ও অমিত দা একটা অপেক্ষায় সারাটা বৃষ্টি জুড়ে .......।
সুখের দিকেই ঋতু  পথ বাঁক নিচ্ছে....
একদিন সমস্ত সবুজ  ঝরে যেতে পারে জেনেও...।

সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ভারতবর্ষ নামক মানচিত্রে

লুকোনো শার্সির ওপারে কাহিনী বদলাচ্ছে 
ভারতবর্ষ নামক মানচিত্রে দুটো মানুষ একই সাথে পথ বদলে মঞ্চস্থ করছে নতুন দৃশ্য ।
ক্যামেরা চলছে .......ক্যানভাসের বুকে আছড়ে পড়ছে মানুষ দুটোর অন্তর্বর্তী  অভাব নিঃসৃত সমস্ত রং  .....।
লুকোনো শার্সির ফাঁকে চোখ রেখে দর্শক হিসেবে 
আমি পাথর, কাদা কংবা কখনো  ফুল ছুড়ছি সময়ে সময়ে ,
.........সময়টা তবু মুঠোয় রাখতে পারছে না ভারতবর্ষের মানচিত্রে মঞ্চস্থ ওই মানুষ দুটো ,।

বিরতির কাছাকাছি আয়ুপথের ছায়ায় পৌঁছে গেছে বোধহয় ওরা  , ,
অথচ কপালের বলিরেখার  এখনো বোধোদয় আসেনি ।
আমি দর্শক হিসেবে কাহিনীটা কখনো কখনো নিজের মত বদলে ফেলে দিতে চাইছি  ......বদলেও যায় .....সমস্ত কিছু মনমত সাজিয়ে গুছিয়ে শার্সির এপারে ঠান্ডা মিষ্টি পান মুখে রেখে তৃপ্তির আবেশ জড়াতে গিয়ে .....হাতড়ে বেড়াই সে চাদর !!
তবে কি কিছুই বদলায়নি ? 
আমি ভ্রমিত নাকি মাথার নিউরন সামঞ্জস্য হারিয়ে স্বাভাবিক গতিপথ হারা ??
সিনেমা কিন্তু চলছে আমার সমস্ত ভাবনাদের কাগজে কাটাকুটি করে  সিনেমা  থামেনি একমুহূর্তও  ।
ভারতবর্ষ নামক  মানচিত্রে  মঞ্চস্থ  দুটো মানুষ শুধু নিজেদের বিপরীতে পথের পর পথ বদলে চলেছে ,
তাদের শরীর বদলাচ্ছে মন বদলাচ্ছে  চেহারা এবং মুখশ্রী বদলে যাচ্ছে ......অথচ আমার মনের মত হচ্ছে না একটা বারের জন্যেও ।
আমি নির্দেশক এর দিকে তাকাতেই বললো প্রতিটা গল্প লেখা আছে বদলহীন চুক্তিতে ,,,,শুধু চেহারা গুলোর রং ও মুখোশ টুকু চাইলে বদলে ফেলতে পারো এই ক্যানভাসে  ........।
বাকিটা বদলহীন এবং অপরিবর্তিত থাকবেই ।
আমি মুখ নামিয়ে শার্সির ফাঁকে চোখ  রাখি ...
সিনেমা মঞ্চস্থ ভারতবর্ষ নামক মানচিত্রের ...
দুটো মানুষ ক্রমাগত পথ বদলে কাহিনী বদলে নিজেদের হারিয়ে ফেলছে .....আর আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি ....।

শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রতিলিপি

 তারাদের  ঘুম নেই  ওই মেয়েটার মতোই। 
 স্মৃতি স্রোতের শব্দে উত্তরের বারান্দায় এখনো খরস্রোতা ..,,
 শব্দদের  সাজিয়ে তোমাকে আড়াল করার ছলে   নিজের জন্য দেওয়াল লিখন সেরে ফেলি ।

 শামুকের খোলসে তুমি কিংবা আমির মাঝে যেটুকু গল্পেরা ছিল তা  আজও লুকিয়ে আছে... তারাও   সীমারেখা আঁকা শিখে ফেলেছে বিচ্ছেদের পর,.

তুমি বলেছিলে বাঁচতে চাই .....মৃত্যুর আগে তোর সাথে  ..........
আসলে জন্মগুলো কেউ সাজিয়ে রেখে 
খেলা করে গুটির দানে  ....জিতে যাওয়া নির্যাস টুকু শয়তান তার মুখশে কান্না হিসেবে এঁকে রাখে শেষের চালে ।


 আমার অক্ষমতা গুলো কেবল কি দুঃখই দিয়েছে বলে তোমার মনে হয় ...

 জানি কোনো কোনো প্রপাতে আমারা দূরত্ব মেপেছি হাজারো  ইশারায়।
 আজকের মত  বজ্র-বিদ্যুতের সাথে  রঙ মিশিয়েছো  সদ্য কাঁচা মাটির দেওয়ালে। 
--

অল্প আঁচে সেখতে চেয়ে পুড়িয়ে ফেলেছি 
______আমাদের ফেলেরাখা  সঞ্চয়.....
আজ নিঃস্ব হলেও কেউ কাউকে সেকথা জানাতে পারি না ।

নাভিমুলে রাখা



###  তোমার বুকের ভেতর অদৃশ্য  গিটার রাখা 
আর সে যন্ত্রের পঞ্চম তারের সপ্তম সুরে আমি থেকে গেছি,, 
 নাভিমূলে রাখা তোমার যাবতীয় অখণ্ড ভালোবাসা কিংবা 
নতুন  শব্দ নিয়ে  খেলা ঘরের উপাদান ।
সেদিনের সুরের সমস্ত লয় আজ দিকভ্রান্ত 
পথিক মাত্র ,,

 শব্দের ভিড়  ডিঙিয়ে  অচেনা   ক্যানভাসে প্যাস্টেল ঘসে হেঁটে যায় এক পাল  ভাবনারা ,, বারংবার মনে করিয়ে দেয়  অবাঞ্ছিত   ছিল সমস্ত আয়োজনটুকুই । 
 জমিয়ে রাখা তালিবানী   গন্ধ যেন  শেষ আলোর মত  পিঠের শিরদাঁড়ায়  অন্ধকার নিয়ে এসে দাঁড়ায়  সমুখে । 
#
বয়স যেন থমকে দাঁড়িয়েছে মৃত্যু দরজার সামনে .....
 আসলে তুমি যে  কথা দিয়েছিল শেষ বার দেখা হবে এই সুইসাইড পয়েন্টে .......আমরা নতুন গৃহ প্রবেশ করবো একই আলতা রাখা থালায় পা ফেলে ....।

মুখোশ

 যতটা মু‌খোশ ততটা মানুষ নই !

যতটা বাইরে ততটা ভেতরে কই?

আগুন শুধুই  দ্রোহের ....জাগিয়ে তোলে কই ...?

অভিমানী মেঘ বাইরে বারিষ ...
ভেতরে আজলা ভোরে একটু পানি কই?


বাসনায় যতটা তীব্র হলাম প্রেমে ততটা পারি কই!

উদার হলাম তোমার সামনে ভেতরে
কুঞ্চন থামলো কই...?

যতটা মুখোশ ততটা মানুষ হলাম কই!

যতটা বাইরে এলাম ততটা ভেতরে গেলাম কই?
মানুষের থেকে মুখোশ হয়েই রয়ে গেলাম তাই ....।


ঈশ্বর আসলে শয়তান



আমার  ঈশ্বর‌ দেখ‌তে ই‌চ্ছে হয়  না কারণ ঈশ্বর আসলে এক শয়তানের পোশাকি নাম...........

 তবু আ‌মি শয়তানের মুখোমুখি হই  ........সে ভাবে আমি অবুঝ কিংবা বোকা ,,,

সে  খোলা দরজটা ঠে‌লে বন্ধ ক‌রে  আমার থেকে আগে চেলে রাখা দানের গুটির সামনে নাটকীয় ভঙ্গিতে আমারই মুখোমুখি হয় ।

......সতর্কতাকে যত্ন করে  দরজায় কুলুপ ঠেলে দিয়ে শান্ত চোখে সমস্ত মঞ্চের ব্যবস্থাপনা দৃষ্টি রাখে ...
তারপর- .... খুব ম‌নো‌যো‌গে খু‌লে ফে‌লে  বু‌কের বোতাম- আবেশে তারই সাজানো খেলার মজা লুটতে থাকে জাবর কাটার ভঙ্গিতে ।
এভা‌বে- দেয়াল জুড়ে আমায়  আয়নার সাম‌নে আমাকে  সম্পূর্ণ নগ্ন হ‌য়ে দাঁড়াতে  বাধ্য   দেখে ঈশ্বরীয় মুখোশ খুলে ফেলে দেয় ,,,,আর তারপর বাকিটা সব গল্পের শেষপাতায় দাঁড়িয়ে থাকা 
বিজ্ঞাপনে বিকিয়ে যাওয়া উপন্যাসের মত ...,,

......আমার কখনো  ঈশ্বর‌ দেখ‌তে ই‌চ্ছে হয়না,,

 শুধু ইচ্ছে হয় ঈশ্বরের মুখোশ জড়ো করে একটা মহাদেশ গড়ে ফেলি ....আর তাই আমি ঈশ্বরের মুখোশ পরা আদতে শয়তানের মুখোমুখি হতে ছুটে ছুটে যাই পৃথিবীর সব উপাসনালয়ে ...।

শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

কেউ কিছুই বলেনি

আ‌মি এক প্রতিক্ষায় আমার পুরনো অস্তিনে 
গুঁজে রাখি কিছুটা সময় ,
.....তার সমস্ত লুকোনো না বলা ক্ষতরা এই বুকে আজন্ম পোষা থাকবে ....কেউ জানবে না সেসব পরিচয়হীন ক্ষত দের কথা।

কেউ আমা‌কে ব‌লে‌নি- সেসব গোপন কুটুরীর 
নরম দুঃখ দের... গুটিয়ে রাখা  অস্তিনে রাখতে ,

কেউ বলেনি রাঙা দ্রো‌হের গোলাপ এর ছাই কে আদরের কৌটে যত্ন করতে ...
তবু  তার ঘর্মাক্ত ললাট‌রেখায়  চিরকাল আমি হেঁটে যেতে চাই ,
উডল্যান্ড জুতোর ফিতেতে ক্ষ‌য়িষ্ণু  ভালোবাসা আর বেঁচে থাকার  সংগ্রাম লেগে থাকবে চিরকাল ।
অথবা কাল‌শি‌টে প‌ড়ে যাওয়া জামার বুকে আমার আঙুলের স্পর্শ রা মৃত হলেও ....থেকে যাবে ।

 কখনো  দুঃ‌খের দি‌নে, একসা‌থে বৃ‌ষ্টি‌তে ভি‌জতে চেয়েছিলাম 
মা‌ছে‌দের  র‌ঙিন কান‌কো খু‌লে জন্ম ক্ষতদের একে অপরের বুকে রেখেছিলাম আদ্রতা ।
এক সা‌থে সাঁতার কেটে পার হয়েছি শহরের কাদাজল ,
এক সা‌থে হেঁটেছি জেহাদী মি‌ছি‌লে  ....বুনে ফেলতে অধিকার;
এক সা‌থে জ্ব‌লে উ‌ঠি হো‌মের  আগুনে হলুদ ধাতু হতে চেয়ে ।

সে দিন কেউ নিয়ম বলে  দেয়নি দুটো পাখিকে ...
কতটা আকাশ তাদের বরাদ্দে.... তবু ঠোঁ‌টে গু‌জে রা‌খা ছিল হা‌মেশা কিছু প্রাপ্তি ..
 ও ঠোঁটে জ্বলন্ত  সিগা‌রেট হ‌তে চেয়েছিলাম একজন্ম; 
এক  জন্ম দুঃসাহ‌সের প্রশ্রয়....

আমা‌কে জ্বা‌লি‌য়ে রে‌খেছো তাই  ঠোঁ‌টের ফাঁকে তোমার আজন্ম ধরে।-


কেউ আমা‌কে এসব কিচ্ছু ব‌লে‌নি- তবুও আমার জানলায় দৃশ্যদের শর্ত হীন  যাওয়া আসা

গন্ত‌ব্যে ছু‌টে যাও   ... থে‌মে যেও না কো‌নো কার‌ণে


 আ‌মি  পুরোনো আ‌স্তিনে অপেক্ষা গু‌টি‌য়ে রা‌খবো,,
কাল‌সি‌টে জামার বুকে  লি‌খে রা‌খব আমাদের না পাওয়া সময়ের ফোঁড়.. 

এভাবে হয় না

এভাবে চলে যেতে নেই .....
এভাবে আলাদা হওয়া যায় না ....
এভাবে বাতাসকে থমকে দেওয়া যায় না .....
এভাবে আলো কে তুমি রুখতে পারো না ....
এভাবে শহরটাকে পাথরের স্থাপত্য করা যায় না ....
এভাবে চাইলেই নিঃস্ব করে দেওয়া সম্ভব নয়....
এভাবে  উপন্যাসের মাঝ পাতায় উপসংহার লেখা হতে পারে না .......
এভাবে সমস্ত ঘরের দেওয়াল ভেঙে দেওয়া যায় না ....
এভাবে এক শহরে এক রাস্তায় ঘড়ির কাঁটার এক সময়ে পথ চলতে  ....অচেনা  ভাবা যায় না ....
এভাবে সহজ কথাটা ততটা সহজে বলা যায় না ....
এভাবে মুখ ফিরিয়ে চলে গেলে একটা পূর্ণচ্ছেদ আঁকা যায় না ..........

বুধবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শরিকি বিবাদ

শরিকি বিবাদে বিচ্ছেদটুকু ছাড়া তেমন কিছু বাঞ্চনীয় হয়নি ,।

অতীতের স্মৃতি দের বলিরেখার ভেতর গোপন করবো বলেই রোজ নিয়ম করে বয়স কমিয়ে ফেলা ক্রিমের ব্যবহার শিখে নিতে হয়েছে  ইদানিং,,

কোনো একদিন সর্বনামের কাছে বিকিয়ে দেওয়া 
যাকিছু অপচয় ভেবে আঙ্গুল মেপে নিজের থেকে তার পরিধির দুরত্ব এঁকে নিই  , আর মনকে বলি অসম্ভব কিছুই নয় ...তেমন কিছু অঘটন এখনো ঘটেনি ।

আজকাল আর দগদগে ক্ষতে যন্ত্রনা হয় না ...তবে দাগ তার নিজস্ব কর্মকান্ডে অবিরত থাকতে ভালোবাসে ।
প্রহরিহীন ঘরে ওই ক্ষতের দাগ মারফৎ আজও বিনিময় প্রথা চলে ....শরিকিরা ভীষন খুশি আমার এই প্রকাশ্য হেরে যাওয়ায় , 

কবির কপালে শেষ চুম্বনে না বলা ফরিয়াদ গুলো রেখেছিলাম ....আজ তাদের প্রয়োজন নেই আর ,,
আমার চোখের নেশায় এখন অসম্ভব খিদে ......
তাই কোনো অভাবী ঘরে নিজের জন্ম রাখতে চাই না .....চাই না সেসব শব্দের সামনে দাঁড়াতে যা সুযোগ বুঝে দেয়ালের ভেতর   ঋণ পুঁতে দেয়।

বাড়ি ফিরে আসা কোনো সন্ধ্যে যদি আসে ....আবার না হয় সমস্ত দ্বিধা দূরে সরিয়ে প্রেমকেই ধর্ম হিসেবে মেনে নেবো।

নির্বান

কখনো মুখোমুখি হতে না পারি ....তাই আমাদের প্রচ্ছদের ফাটলে গাড়  অন্ধকার ঝুলিয়ে রাখলাম ,,,

জীবন বড় অদ্ভুত অনুভূতির সমন্বয় জেনেও ...
রোজ একটা করে পাপ মুছে খাতাটাকে আগের মতো  নির্বান লাভ করতে ব্যর্থ চেষ্টা করি আমরা ।

ঘরের ভেতর ছোটো ছোটো দেওয়াল তুলে যে খুপরী গুলো বানানো ছিল ....তার একটা কারণও আজ আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না ....,,

......গত দুদিনে তুমি শুভেচ্ছা বার্তার উত্তর দাওনি বলেই হয়তো আমি আরো বৃদ্ধ হয়ে গেছি ,,
আমাদের কোনো দিন দেখা হবে না জেনেও 
কখনো একে অপরের পিঠে কান্না লিখতে চাইনি ... এ বোধ হয় ঐশ্বরিক প্রেমের মতোই ।

আমি হার্ডসন নদীটার  বুকে ভেসে আসা অজস্র খবরাখবরকে যখন ফুঁ দিয়ে দূরে সরিয়ে   দিতে অভ্যস্ত .....একটা নৌকার মাস্তুল আমার ঠোঁটে হাসি এঁকে দিলো । .....জঙ্গল পাহাড় পেরিয়ে ক্লান্ত আমি তখন  বহুদিন হাসতে ভুলে গিয়েছিলাম ,, 

আমার সাধন সঙ্গীর বিষণ্ণ মনকে চোখের সামনে রেখেও চোখের বাইরে রাখছি এসব দিনে , .....লোকটা সাইকেলের দু চাকার একটা  চাকা চিরকাল আমার নামে সমর্পণ করেছে জেনেও ...আজকাল আমার অসুখ  পুরোনো আবেশে ফিরতে দেয় না আগের মত,,,
 ....তবু হার্ডসন নদী তে ভেসে আসা দূরের মাস্তুল দেখে আমি হাসতে হাসতে বাকি মোহ টুকু নদী পাড়ে খুব সহজেই খুলে রেখে নিজেকে প্রস্তুত করি .........
এবার প্রচ্ছদ জুড়ে তথাগত শুধুমাত্র নির্বান লিখতে বসবেন ....আর উপসংহারে রাখা থাকবে ধুলো পড়ে যাওয়া অজস্র পেন্টিং।

মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অন্ধের ঘরে

অন্ধের ঘরে শুধুমাত্র বিশ্বাস শব্দটা দাঁড়িয়ে থাকে জষ্ঠীর মত ,

সহজিয়া সে... যে আলো হয়ে অন্ধকারের বুকে হেঁটে বেড়াতে পারে , ,,

মটির ওপর আর তেমন নেশাতুর গন্ধ নেই .....নেই
কোনো মায়া কিংবা পিছুটান , ।

 জীবনের খাতায় অজস্র মৃত্যুমুখী উৎসবের তারিখ লেখা  ....আর তারিখের লুকোনো নেপালী খুপরী,।

সাহস করে মাঝ রাতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মুহূর্ত হাতড়ে দেখি ....যদি কিছু সঞ্চয় লেগে থাকে হাতের মুঠোর ফাঁকে...... প্রতিবার কলেজের ছোট টুকরো আর খুন ভরি মেরি হাত .....হাহাহাহা  ,,

শব্দদের বড় অহংকারী হতে দেখি কবির চরিত্রে ...
আমি তাই সমস্ত দুয়ারে .....চৌকাঠে এখন নিষেধ লিখে রাখতে ভুলি না ।
আমি অন্ধ হতেই চেয়েছিলাম চিরকাল ....আর অন্ধের ঘরে বিশ্বাস শব্দটাই একমাত্র জষ্ঠীর মত ....... শুধুমাত্র মৃত্যু লিখে যাওয়ার জন্যে একটা গোটা জীবন যেন কম পরে যায় কখনো কখনো ,
তবু মানুষ বাঁচার নামে মিথ্যে উজ্জাপন করে কোনো না কোনো তারিখকে সাক্ষী করে ।

রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ক্ষণজন্মা

সহ্যের কোনো এক সীমায় নৈতিকতা শেষ হয়ে যায় , 
তখন আর তোমায় দুঃখ বলে ডাকতে ইচ্ছে করে না ।
জন্মাবধি মাথার ভেতর কারা জেন  নিয়মের আর ধর্মের বীজ পুঁতে গেছে , 
তুমিও তাদেরই দলে , 
হৃদয়ে ফুল রেখে কফিন গুছিয়ে  রেখে গোপনে পিঠে  বারংবার গজাল পেরেক গেঁথে ঘরের দেওয়ালে সার বস্তু গছিয়ে রেখে হিসেব মিলিয়ে নেওয়া অহংকারে পরম্পরা ।

তবু যারা বৃষ্টির মত এ শহরে গা ভিজিয়ে দেয় সময়ে অসময়ে তারা কেউ সুনীল বাবুর কবিতায় কথা রাখেনি কখনো  ......,
নীরার অসুখ সেরে গেছে এখন ...কারণ নীরা মৃত শরীরে বহুদিন   নিঃশ্বাস খুঁজতে খুঁজতে খাওয়া স্নান আর ঘুম ভুলে যাওয়া অভ্যেস বদলে ফেলেছে ,,  এখন একই শহরে নীরার অসুখের কারণ এর নীরা থাকলেও  শতাব্দীর বসন্ত শোক আর বাতাসে নেই ।
মৃত্যু জন্ম হয়না যারা বলে,  তারা  মুখোমুখি হতে ভয় পায় নিজের আয়নার কাছে ,,,
গঙ্গার তীরে ঝড়ো হওয়ায় এখন  লাশ পড়া গন্ধ নয় হাস্নুহানার আবেশ লেগে থাকে তারা জানতে চায় না  ,,
আর তাই  ক্ষণজন্মা সেতু টা নিয়ম মেনে দৃশ্যের বাইরে রেখে আসে কেউ ।

শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আলোয় আলো

মৃত্যু সহ্য করা সহজ বলেই স্মৃতি দের সৎকার সেরে নিয়েছি , 
 ভেবে দেখলাম মৃতের শরীরে নিঃশ্বাস খুঁজে লাভ নেই ,  হাতড়ে বেড়ানো নিঃশ্বাসের বদলে পচে যাওয়া দেহের ওজন নিজের কাঁধের থেকে নামিয়ে , ভাবনার মুক্তি   আর আকাশ যেন আলোয় আলো  ,,
অন্দরমহলের কাঁদাজল আবর্জনা ধুয়ে মুছে সাফাই করে ফেলে ঘরটায় নিজেকে রাখার জায়গা করে নেওয়া  হল দীর্ঘ কালো রঙের দিনগুলোর পরে , 
যারা আসবে নিয়মিত তাদের বারণ করতে পারবো না তবে বাইরে থেকেই বিদায় দিতে পারব জানি ।
আসলে .....  মৃত্যু সহ্য করা সহজ বলেই স্মৃতি দের সৎকার সেরে নিয়েছি , আর বারংবার নিজেকে মৃত্যু মুখোমুখি দাঁড় করবো না ।

অজস্র ছায়া

এই একটা শরীর থেকে অজস্র ছায়া নেমে যায় নিজেদের পথ চিনে ,
দুপুরের নির্জনতার বুক চিরে বউকথাকও  আর হাঁড়িচাছা পাখি দুটো বৃত্ত সম্পূর্ণ করে ফেলে রোজের মতোই,, ,

অন্ধকার না কাজল কে বেশি গাড় ...কেই বা বলতে পারে সঠিক উত্তর !
.........তবুও প্রতিটা ঋতু পরিবর্তনের মাঝে একটা করে রাত আঁকা ভোরে কাজলের গল্পেরা থেকেই যায় ,
নানান মুদ্রায় খোয়াই নদীটি তম্বি এখন কোমল ও কড়ি  অন্তর্নিহিত প্রেমের মতোই তাকে মনে হয়......,,
সোনাঝুড়ির একটা শরীরের থেকে  অজস্র ছায়া লেপ্টে সঙ্গম সেরে ফেলে নিজেদের মত করে ,,......।
তুমি আমি থেকে এখন পলাশরঙ সরে গিয়ে ডুঙরীর কোলে অভাব গুলো জাপটে ধরে ফেলার সময় এসেছে ,, 
 মনিবাবুর সমস্ত চরিত্ররা আজকাল আমার ঘরের অতিথি .....আর ঈশ্বর আমার সন্তান ।
ঈশ্বরের কৃষ্ণ -দাগ চেহারা চোখের তারাটা বলে দেয়   একা শব্দটা ....আসলে একা নয়  ,সমস্ত পাওয়া কে নিবিড় হয়ে জড়িয়ে থাকা ,
জীবন যেন জলহীন ডুঙরী তেও ভীষণ রকম শান্ত ।

শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

দোষরা সেপ্টেম্বর 2021

ট্রেনের ইঞ্জিনটা বয়ে আনা সব কামরা গুলো নিকষ কালো রঙের পোশাক পরিয়ে নিজের পিঠে নিয়ে হাঁটছিল , 
দুপাশের চলমান জীবনের কাছে আলো ছাড়া বাকি অংশ টুকু যেন দৃশ্যের ভেতর প্রবেশ না করতে পারে , 
.........শান্তনুর ঠোঁটে তখন হয়তোবা উপহারের একটুকরো আগুন , চোখের কানাচে মিনিট দশেকের পরিচয়ের আলেয়া তখনো খানিকটা রয়েছে , ,

 শহরের মাইলস্টোন গুলো শুধুমাত্র জানতো মেয়েটা এতদিন মৃতের বুকে নিঃশ্বাস হাতড়ে বেড়ানো আকুতি আর বিস্মৃতর স্মৃতি গুলো নিমতলার শ্মশানে পুড়িয়ে ....যত্নে রাখা বছর দশ এর থেকে নিজের মুক্তির দূরত্বে হাঁটছে এবার ।

সঞ্জয়বাবু গল্পের ডাইমেনশন খুঁজতে চেয়ে বারংবার  জীবনের দর্শন ছুঁয়ে দেখতে তখন ব্যস্ত ,,

তোমার সাথে দশ মিনিটের কথোপকথন কমে গিয়ে সাড়ে চার মিনিট মাত্র ......শেষবার দেখা 
প্রথমবারের থেকে আলাদাই হয় ....., পূর্ব-পশ্চিম নিয়ে এবার তুমি কি করবে আমার কাছে জানতে চেয়ে ওই সাড়ে চার মিনিটের এক মিনিট বিরিক্ত হলে .., বললে আমি তোমাকে কথা শোনাতে এসেছি ,, .....আমার ১০৪ কাঁপুনি জ্বরের শরীরে 
কথারা বোবা হতেই চেয়েছিল তখন  , 
ঠিক কতটা কম কথা বললে তোমার মনে হত ....যে আমি তোমায় কথা শোনাতে আসিনি ! ...সেকথা জানার সেসব দিন এখন আর নেই ।,

শান্তনুর চোখে আমি তখন একটা একুশ বছর খুঁজে পথ হাঁটতে চাইছিলাম কিনা জানি না ,  এও জানতাম না সঞ্জয় বাবুর ক্যানভাসে আমার জন্যে আদেও এতটুকু জমি খালি আছে কিনা ,,

তোমার মুখোমুখি হতে গিয়ে  এবারে দু সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজেকে বিষবৃক্ষর বাকল পড়িয়ে নিয়েছিলাম ,,
অভাবী হতে চাই না আর ....অভাব জানতেও চাই না ,  শুধুমাত্র শান্তনুর মত আগুন ঠোঁটে রূপকথার গল্প থাকুক  এবার থেকে । 
তিলোত্তমা ...তোমার থেকে তুলে আনা আবর্জনা তোমার কাছেই ফিরিয়ে দিলাম হিসেবের খাতায় ....
যা ফেরৎ দিতে পারলাম না তা পাপ দাগ হয়ে বইতেই হবে জন্ম দিন, মৃত্যু দিন , উৎসবে ,কিংবা প্রেমের দিনের উপহারের ভেতর আগলে নিয়ে।