সুবর্না বলেছিলে নিয়মিত স্পর্শ
পাঠাবে আমার নিরিবিলি যাপনের
ঠিকানায়, তোমার ভুলে যাওয়া
অভ্যাসে চেনা গন্ধের সেলাই
এফোঁড়ওফোঁড় ,, দিন কাটে কৃতজ্ঞতার
ঋন শোধে, নিষিদ্ধ ভালোবাসার
ইস্তেহারে নজর পড়া আজকাল,
ঝুল বারান্দা বেয়ে তবুও যখনি
কিছু ভালোবাসা লতিয়ে ওঠে,
যত্ন করে গুছিয়ে রাখি যেমন কেউ
পরম্পরায় গয়না রাখে গুছিয়ে,,
সব রঙ পাল্টে যায় কাছ থেকে দুরের
আকাশের চোখের ছায়াপথে দুধিয়া
শীতঘুম লেগে থাকে.... সুবর্না উষ্ণতা
হারাবে বলে শহরের আবছায়া আলোয়
হিমেল বৃষ্টি নামছে রোজ রোজ আমাদের
কার্নিশ বেয়ে তার ধারাবাহিক স্রোত
... যে মুহুর্তগুলো তুমি থাকো দূরত্বমেপে,
ভায় পেয়ে আয়নার সামনে
দাড়িয়ে স্বস্তি পাই.... এই ঘরে কেউ তো আমায় চেনে,
ভেতর ভেতর বেড়ে ওঠা তোমাকে
আঁকড়ে বাঁচি,, নদীর চোরা স্রোত যেন
ধমনী জুড়ে আপন বেগে বয়ে চলেছো,,,
...... সুবর্না প্রিয় স্পর্শ
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুবর্না (১৫) ----------------------------
রবিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুবর্না (১৪)
----------------------------
চিলেকোঠার দেওয়ালে আঁকা
শুন্যের মানচিত্র, তার কয়েকটা
ঠিক যেন তোমার মুখের আদলে,
বাকি সব পিছুটানহীন বিষাদ....
হেমলক সোসাইটি বারান্দার
বিকেলে একটু একটু জমা অন্ধকারে
তোমার যাবতীয় নিবিড় গন্ধ পথ খুঁজে
নেওয়া শুরু করেছে ----- একথা জানা
মাত্র কান্নার সমস্ত ছায়ারা আমাকে পুর্নাঙ্গ
গ্রাস করতে শুরু করেছে সুবর্না,
চিতার ভাষা বুঝব বলে শ্বশানের
কাছা কাছি পরিযায়ী পাখি মত
ফিরে ফিরে আসি... যাতে মৃত্যুর
সমস্ত খেলার কাছে হেরে না যাই,
শিরার ভেতোর তোমার দেওয়া
অজস্র ঋন সুখের যন্ত্রনার মত
বইছে,,
সুবর্না এখন বুঝি সুখ একা আসে না
তার গায়ে লেগে থাকে অদৃশ্য কাঁটা,
তাই যতটা সুখ আমার ভেতোর বাসা
বেঁধেছে তার থেকে বহুগুন বেশি সুখের
কাঁটাগুলো ক্ষতবিক্ষত করেছে আমায়, ক্রমশ
চুপিসারে ছড়িয়ে যাচ্ছে গোপোন অসুখের
মত আমার অন্তরমহলে,,,
তোমাকে পাওয়ার দিন গুলো ধিরে
ধিরে কর থেকে অদৃশ্য হতে থাকছে,
এরপরে শুন্যতায় তোমার ছায়ার মত
তুমি, এই আছ এই নেইএর বাঘবন্দি খেলায়
আমি একা তোমার স্মৃতির অতন্দ্র প্রহরী,
এখন আমাদের অন্তরংগের চিলেকোঠার
মানচিত্রে তোমার স্পর্শ জড়ো করি রোজ।
বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮
বিষবৃক্ষ (১)
----------------------------
যা কিছু আছে ২০৬ টা হাড়ের
গায়ে নানান নামকরণে তার
সবটুকু বিসর্জন পুরুষ নামক
অধিপতির ঝুলিতে,, এই ঠোঁটের
চুম্বনে তোমার রক্তে প্রবল উত্তেজনা ছোটে,
তা তুমি রেখে নিও কোনো ধারালো অস্ত্রের ঘায়ে
কেটে এতটুকু উফ শব্দ শুনবে না,,
তারপর নারী স্তন যার পোষাকি
কল্পনা মাত্র তোমার গ্রন্থিতে গ্রন্থিতে
আগুন শিহরিত হতে থাকে, দাঁতের দাগে
বুঝিয়ে দাও পুরুষত্বের ক্ষমতায় কতটা লোলুপতা,
সেই স্তন নামক মাংসপিন্ড কেটে
নিও, রেখে দিও কামনার দেরাজে,,
এরও পরে এসো ঊরু সানিধ্যে
যোনিদ্বার চিরে নিয়ে যাও
পৌরুষত্বের শিরোপা...
ক্ষতবিক্ষত করে প্রমান রেখে দাও
হ্যাঁ তুমিই পারো মুঠোয় বন্দী
করতে সমস্ত অধিকারে নারী
ভগ্নাংশের মালিকানা পেতে।
তোমার আস্বাদন উন্মোচন হবার
পরেও ধারালো ফলকে ফালাফালা
করে বিজয়ধ্বজা উড়য়ে দিও সংসারে,,
....এরপর মুক্তি দাও কেবল ওই ২০৬টা
হাড় পাজরের মাঝের হৃদয় টাকে
উড়তে দাও আকাশে... দেখো
পারছে কি নারী তার শরীরের
লেগে থাকা মাংস কে উপেক্ষা
করতে, পারে কি নারী নিজের
সাথে নিজে উৎসবে মেতে উঠতে!
সব অলংকার তোমাতে বিসর্জন
হে পুরুষ..., জিত তোমার মুঠো বন্দি,
ওরে মন তুই কেবল অধরাই থেকে গেলি
তাকে পেতে সামান্য ছই হতে পারোনি
হে মহান পুরুষ।।
মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুবর্না (১৩)
স্কেলিটনে লেগে থাকা কান্নায়
কখনো নাম লেখা থাকে না সুবর্না,
সহস্র বছর পর তবুও তীব্রতার সাথে
বিষাদের রাতে আমার শীতঘুম আঁকা
দেহে শূন্যতা বাসা বাধবে তোর কথা ভেবে,,
সুখেরা সেদিনও উত্তাপের খোঁজে সুখী
সুখী ঘরকন্না খুঁজে বেড়াবে আমার মত
শহরময়।
কিলোমিটার পেরিয়ে কোথাও ঘরের
ভেতরে নিঃশব্দে কাঁচ ভাংচুর হাজার
ক্ষত আশ্রিত হেসে ওঠা হৃদয়ে,,
একলা আকাশ থমকে যায় মেয়েটাকে
আর খুঁজে পায় না....., সেই মেয়েটা ইট,
কাঠ,টেবিল চেয়ারে, কখনো এঁটো বাসনে
যে মিশে থাকতো.... একলা হতে ভয় পেত,,
স্কেলিটনে লেগে থাকা পোড়া মাংস নিজের
হাতে ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে স্তরীভূত অনুভব থেকে
এখন মুক্ত তুই সুবর্না,
নিজের সমস্ত রক্ত নিজে পান করে
কাপালিক নৃশংসতায় নিজের
ভেতরে সমস্ত বর্নে, গন্ধে , রূপ, রসে
মাতোয়ারা.....
ভালোথাকার জন্য আর কোনো অক্ষরপুঞ্জের
বোধহয় দরকার নেই...
........আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়ও
মাঝে আরো কিছু নাহি চাহি গো....
...... সুবর্না প্রিয় ক্ষত।
৷ সুবর্না (১২
জুড়তে থাকা সাঁকো আজ
এসো ভেঙে ফেলি --- দেখে নিই
কতটা অবলম্বন প্রোয়জনীয় আমাদের
আসাযাওয়ার সেতুটায়,,
ইচ্ছের রঙ চুঁইয়ে পড়া ইজেলদানি ধুয়ে ফেলো
দেখি ভালথাকা কতটা নির্ভরশীল রঙ, তুলি,
আর ইজেলদানির ওপর,,,
অন্ধকারের দেশে হেঁটে যাই এস সুবর্না
দেখে নিই সত্যি কতোটুকু আলোর প্রয়োজন
যেখানে মৃত্যু শব্দটা একমাত্র সত্যি।
ভয়গুলোকে ছেড়ে যাই অচিন দেশের কোটোরে,
সুবর্না এসো পতংগের মত সেরে ফেলি আগুন স্নান,
ফ্রেমে বন্দী জীবন থেকে মুক্ত করে ফেলি এই বেঁচে থাকা,
এসো উৎসবে ভরে আমাদের অন্দরমহল।
সমস্ত চাওয়া পাওয়ার শেষকৃত সেরে এসো কথা
না রাখার ঠিকানা খুঁজি এই মুহুর্তে.....,,
কোনো এক দিনের মুঠো ভরা স্বপ্নদের ছেড়ে
এসো আজ এখনই এই মুহুর্তটুকুতে আবদ্ধ হই..,
সমস্ত অবস্থানকে এই মুহুর্তে সামিল রেখে আমরা
মুখোমুখি হই নিঃশব্দের ।
সুবর্না এতোদিন কেবল মুহুর্তের দোড়গোড়ায়
দাঁড়িয়ে থেকে সময়ের কাছে হেরে গেছি,,
তাই সমস্তটুকু সমর্পণ এই মুহুর্তের কাছে।
.. .. .... সুবর্না প্রিয় মুহুর্ত
রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮
ভেজা চিঠি(১৭)
-----------------------------
ভালো চিনেছিস তুই এই সাজানো আমির ভেতর
আমিটাকে , আমি সারাটা জীবন না হয় জোকার
হয়েই থাকলাম.... আমি মুখোস এর ভেতর লুকিয়ে
রাখি আমার যত্নের যন্ত্রনা, কান্না, অভিমান, সমস্ত
অনুভূতি ,,, ভালো
আছি এই কেতাবি দুনিয়াদারির ভিড়ে দর কষাকষির
ভিড় থেকে নিজেকে আড়াল রেখে...... আসোলে
ভালোবাসার কোনো ফ্রম বা সেপ আমার কাছে নেই
কোনো কারকে ভালবাসা বাধ্য নয়, তাই ভালবাসার
কাছে চেয়েছি এতটুকুই, নীরব তরংগে চোখের ভাষায়
আমি আর সে একাকার যেখানে শব্দ বড় বাহ্যিক
বেমানান.... যেখানে কোনো অনুভুতি কে প্রশ্রয় না দিয়ে
শতাব্দীর পর শতাব্দী একই ওম দুটো শরীর আবেশিত হবে,
যে খানে কে তুই কেই বা আমি..... সবটুকুই অনন্তের মত
তুইই তুই কিংবা আমিই আমি,,, পারলাম না হয়তো
কাচের মত স্বচ্ছতায় তোর কাছে চটি জামা ছেড়ে দাড়াতে,,,
অথচ আমার অহংকারের কোনো রাজপাট ছিলোই না কখনো
কোনো কালে,, আমি তোর সামনে সর্বাঙ্গিন ভিখারী সেদিন থেকে
আজও ..... শুধু আমার শব্দেরা চিরকাল বড্ডো ভিতু তাই
ভেবেছিলাম চোখের ভাষায় চিনে ফেলবি আমার আমিটুকু,
তুই তবে ঠিকি চিনেছিস ,, আমি না হয় এক জীবন জোকার
সেজেই থাকলাম....... ,,,,
শনিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
ভেজা চিঠি(১৬)
--------------------------------
প্রতিদিন সকালে পায়ের পাতায় মৃত্যু এঁকে
পৃথিবী প্রদক্ষিনে ফিরে যাই আমি,
তুমি নিশব্দ হাসিতে আমায় নির্বাসিত করে
যেসব দিন ফিরে যাও তোমার গোলোকে....
আমি ক্ষতবিক্ষত করতে থাকি হৃতপিন্ডটাকে,,
মাথার ভেতর বাসা বুনি এই ভেবে কি বা
আসে যায় যদি তুমি আর না ভাসতে চাও
একি স্রোত,,, এমন সব ভাবনায় কার্নিশ জুড়ে
আলো ছায়া রঙের হাজার পরিযায়ী পাখিদের
যাওয়াআসা।
আমি দৃঢ় হয়ে যন্ত্রনার এক একটা ফাঁস কি করে
খুলবো তাই ভাবতে ভাবতে জমে থাকা বদরক্ত
স্রোতে মিশাতে থাকি..... আর মৃত্যু তখন আমার
সর্বাঙ্গিন,,,
অনেক বার ভেবেছি তুমিও কি এতোটাই
ডানা ঝাপটাও এমন সব শোকের ভয়ে,
তোমার তরফের সাঁকোটাও কি এমন করে
ভিজে যায় বিষাদের ছায়ায়..... জানি না 'সুজন'
না জানা অনেক উত্তর তোমার কাছে ফিরিয়ে
আনে বার বার এই আমিটাকে,,,।
ভেবে দেখো একবার আমার পায়ের পাতায় আঁকা
আলতা রঙের মৃত্যু যদি কোনো এক দিন আর তোমার
কাছে ফিরতে না দেয়, ফেরারী কোনো বিকেলে
ডাক পিয়ন দিয়ে যায় শুধু মাত্র সেই আশ্চর্য দিন
লিখে রাখা খাতা টা, যার কোনো দায়ভার ছিল না
তোমার কোনোদিন... সুজন কি করবে সেই খাতাটার !!
সুবর্না (১১)
----------------------------
তোর শরীরে লেগে থাকা প্রাক্তন দীর্ঘশ্বাসেরা
প্রায়শই আমায় ভীষণ একলা করে দেয়,,
হারিয়ে যাওয়া রাতের নক্ষত্ররা যেন অলিক
পথে এসে কোন অভিশাপ ছড়িয়ে যায় আমাদের
একচিলতে চিলেকোঠায়, তোর আমার মাঝে
এক ভীনদেশী ব্যাবধান মেপে সময় চলে যায়
আলোকবর্ষর পথে।
আমাদের উপন্যাস আর শুরু করা হয়ে ওঠে না,,
একা একা দুটো পথ কখন যে আলাদা হয়ে যায় চুপিচুপ,,
আমি রোজকার মত শামুকের খোলকে ফিরে আসি।
তোর মুখের মত একখানা মুখ খুঁজতে থাকি নির্ঘুম
প্রতিটা রাতে ----- ছায়া রং ভরে ওঠে ভীষণ রকম
অনাদর বালিশ তোশোকে,,,, সুবর্না তুই জানিস ঠিক
এই মুহুর্তে আমার মৃত্যু হয়, আমার পৃথিবীতে দিকশূন্য
ঝড় ধ্বংসোৎসব শুরু করে----- আমি আমার শব
ছুঁয়ে বসে থাকি ভোরের অপেক্ষায়,, আজন্মের
পড়ে থাকা অতৃপ্ততা কে ভাসিয়ে ফিরি কলার ভেলায় ----,
জরুরি বৃত্তে চিরদিন অভাব থেকেই যায়, এই মৃত্যুমুখী
শহরের উপন্যাসে আমি সব সময় শেষ পৃষ্ঠায় এসে দাড়াই,,,।
..... .... সুবর্না প্রিয় মৃত্যু ,,,,।
ভেজা চিঠি (১৫)
_---------------------------------
নিজের সাথে আপোষ করে সকাল গড়িয়ে
বিকেল আসে.... শহরে শীতের সন্ধ্যা তখন, বাড়ির
অপেক্ষায়।
আমার শহরে একটাও বাড়ি নেই যেখানে
সামান্য উষ্ণতা রয়েছে, ফিরতি পথে নিরবে
মুঠোফোন বলে দেয় আমি তোমার একমাত্র
অপেক্ষার সাক্ষি। তোর বর্নময় রাজপথে
কোথাও আমির অপেক্ষা নেই, সামান্য কিছু
অভাব ছায়ায় থেকেও আবছায়া......
চাকার ফাঁকে পাছে আটকে পড়ে গলার স্বর, দ্রুত
হেঁটে পার করি চলতি সময়,,,
এভাবে চামড়ার রং বদলে যায় সুজন আমার আর
প্রেমিকা হওয়া হয়ে ওঠে না,,, মাথার ভেতর ভালো
আছি শ্লোক পাঠ করতে করতে সম্মোহিত একটা
একাকিত্ত্ব ঘিরে ফেলেছে আমায়,
গোপোন পায়ের ছাপ তোর উঠোনময়
তুই জানতে পারিস না।
প্রশ্নের খোঁজে যে সব উত্তাপরা শরীরে জ্বর
বাধায় ... পুড়ে যায় বেঁচে থাকা তাদের আতাতের
সাথে একটু একটু করে গভীর সম্পর্ক গাঁথি।
আলো ছুঁয়ে ক্ষনিকের শ্বাসপ্রশ্বাস সেরে ফেলি
ভাল আছি ভেবে ,, অথচ নিপুণ অন্ধকারে
কুঁকড়ে আছি ----- ভেতরে ভেতরে একদল
সৈন্যরা আমার রাজা রানীকে ঘিরে ফেলেছে
চক্রাকার।
এসব গোপন খবর যে চিঠিখানাতে লিখেছি
সেটা ডাকবাক্সে ফেলা হয়নি কারন তোর
ফিসফিসে সামাজিকতা দায়িত্বে আলাপনে
আমি নেই কোথাও কোনো ভালবাসায়,,
রয়েছি অভাবে --- তাই ভেতরের ভিখারীনি
আজও আলুথালু......,,,, আমার আর প্রেমিকা
হওয়া হলো না 'সুজন ' আমি র ভালবাসা হতে পারলাম না।
বুধবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুবর্না(১০)
----------------------------
১.একটা আদ্যান্ত অন্ধকার থেকে আর এক
অন্ধকারে আমি স্থান বদল করে চলেছি
জন্মের আগে থেকে আজ অবধি-----
বহন করে চলেছি আজন্মের কালো বোঝা
'বেজন্মা' শব্দটা,,
চিৎকার করে রবিঠাকুরকে বলতে ইচ্ছা হয়
কোথায় হে কবি..... তুমি যে বলে ছিলে পৃথিবীতে
প্রেমহীন কেউ থাকে না কখনো, নিদেনপক্ষে
মা শব্দটা আগাগোড়া স্নেহ, ভালোবাসা, আর প্রেমে
জড়ানো থাকে,, দেখো কবি আমি সেই অসামান্য
প্রেমহীন অবয়ব ..... বলতে পারো কেন? আমি তো
এতো টুকু পেতে চেয়েছি বার বার, তবে কেন? কার কাছে
এ প্রশ্নের উত্তর পাব!
২. সুবর্না তোমায় পেয়েছি সব না পাওয়ার মাঝে,
তুমি এসো মায়ের স্নেহে, প্রেমিকার প্রেমে.... সব
বান্ধব রঙে... আমার জানা সমস্ত নারী রূপে
একের পর এক জন্মে,,, এজন্মের বহু ঋন আর বেহিসেবি
অংক ঈশ্বরের খাতায় রাখা থাকলো।
দাবার ছকে পরের বার ঈশ্বর তোমায় সব গুটির
হসেব নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দিতে হবেই,,,
৩.তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে এজন্মটায় অন্ধকারকে
মেখে চলেছি, সুবর্না ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছা করে তোমার
মত হয়ে, তোমায় জড়িয়ে, তোমার সমস্ত আলোতে মিশে,
আমি যে শিখতে চাই সুবর্না তোমার মত সব অন্ধকারকে
শুষে নিয়ে আলোর মত বাঁচতে, মুছে ফেলতে চাই
এই বেজন্মা শব্দটার নখের আঁচড় আমার সমস্ত
অস্তিত্ব থেকে....
এক সুজন্মের নতুন জন্ম দিও তোমার গর্ভ থেকে
সুবর্না -----প্রিয় নারী,।
রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৮
. সুবর্না (৯)...
...….…...….
১)শিশির ভেজা শহর জাগে, চোখের পাতায়
রাতের চটকানো ঘুম লেগে তখনও , ফুটপাতে
চায়ের দোকানে নরম উষ্ণতা বিদায় জানায়
আমায়, চেনা শহরটার গায়ে তোমার গন্ধের
আলাপন ছড়িয়ে ছিটিয় শেষ কয়েকটা দিন ,,
ভাবতে ভাললাগে ভালবাসার শহরে তুমি আছো,,
নির্বাসিত আমার ভেতর যে মানুষটা লালিত
হয়, রোজ আলোর দিকে বাড়তে থাকে জীবনের
খোঁজে,,
২)সুবর্না আজ পুঁজিটুকু রেখে গেলাম তোমার
কাছে, আগামী কয়েক শতাব্দীর অপেক্ষায়।
ভেবেছিলাম জড়িয়ে নেব তোমার ওম যতটা
সম্ভব,, একটা সবুজ বেঁচে থাকার সাক্ষি
করবো এই মিলনের মুহুর্ত .....
৩)হয়তো আরো খানিকটা অপেক্ষা ছিল জরুরী-----
ভালবাসা শব্দ কখনো কখনো অপেক্ষাকে
প্রশ্রয় দেয়।
গঙ্গার ঘাটে ছইয়ের আশ্রয়ে শেষ হল এক
যাচিত গোধুলী অযাচিত উপেক্ষা-----
৪)ফিরে যাচ্ছি সুবর্না আবার যদি আসো
এই ভালবাসার শহরে আত্মিক কোনো
টানে, আমিও ফিরবো ছেঁড়া আস্তিনে
লেগে থাকা মন নিয়ে,, যদি পারো রেখে দিও
এই আমিটার সবটুকু তোমার গোপোন দেরাজে,
নয়তো ভাসিয়ে যেও এই গঙ্গায় বিসর্জিত ফুলের
মত।
সুবর্না তোমায় পেতে আমার যে তোমাকেও
দরকার নেই,,,
.. …....... সুবর্না প্রিয় অপেক্ষা ।
শনিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুবর্না(৮)...
----------------------------
আজকাল সকাল সাঁঝ কেমন তুই তুই
হয়ে গেছে, সূর্য রঙ পাল্টে তোর মতো, নদীর
জল তোর বর্নে, সাঁঝবাতিতে তোর দীপ্ত চাহনির
ছটফটানি কোনো ইশারা,,,
অঘ্রাণের শীতে সন্ধ্যাগুলো নিয়মের শর্ত মানতে না চেয়ে
তোর উষ্ণতায় জড়িয়ে রাখে আমায়,, কয়েক মুহুর্ত
স্থির থাকি তুই এগিয়ে আসিস আমার দিকে.... ট্রেনের
বাঁশি ঘন থেকে ফিকে হয়ে যায় আমার রাত
ঘুমের বালিশ চাদরে ----,,
কেনো যেন এক অজানা আপোষের প্রোটকল মেনে
অযুত ক্রোশ দূরে তোকে সরিয়ে রাখতে হয় জানি না!!
অথচ তুইও জানিস সুবর্না আমার সমস্তটা জুড়ে
তুই শুরু থেকে শেষ অবধি,,৷ মাঝ রাতে স্বপ্নের
মধ্যে জেগে থাকি তোর ঘুমন্ত আলোর মত মুখের
দিকে এক দৃষ্টিমেলে ছুঁয়ে দেখি তোর আগুনে গলানো শরীর,, ,,
তোর চিবুকের তিলে ঠোঁট রেখে নিশব্দে দীর্ঘশ্বাস
এঁকে ফেলি রোজ রোজ...... সিঁড়ি বেয়ে রাত নামে চুপিচুপি
, ইতিহাস তখন কলমের নিবে অপেক্ষা করে,, অথচ
সুবর্না তুই তখন কয়েকশো মাইল দূরে আবছা কোনো
ট্রেনে বাঁশির মত.....
আমি স্বপ্নের ভেতর কুঁকড়ে থাকি.... আমার
প্রচন্ড শীত করে, আমি অপেক্ষা করি জানলার
গড়িয়ে নামা শিশির মুছে তুই আসবি আলো রুপে,,,,
……........... সুবর্না আমার প্রিয় মুখ