শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪

সই(৮৯)



নিজেকে বিছিয়ে দিয়ে দেখেছি তোমায় ধরে রাখা
 আমার নিয়তি নয়,
তাই পারে বসে দেখি তোমার চলাচল ....
হাতের ওপর তোমার রেখার থেকে মাটির ওপর তোমার
গতিবিধি হয়তোবা ইতিহাস মনে রাখবে ,
আমার সে ধৃষ্টতা কোথায় বলো?
আমি যে খুব সাধারণ ...খুব সামান্য....,

©সই




তোমাকে লিখতে লিখতে

তোমাকে লিখতে লিখতে ফুরিয়ে যাচ্ছি টের পাই ,
ক্ষয়ে যাচ্ছে  অজস্র কলমের নিব ক্ষয়ে যাচ্ছি আমি,
দেখতে তো পাচ্ছি এই ফুরিয়ে যাওয়া এই ক্ষয়
এই পাড়ের ভাঙন ...তবুও তোমাকে লেখা থেকে থামছি কই!

তোমার প্রতি আমার সমস্তটুকু কেবল তীব্র ...তীব্র ভালোবাসায় আচ্ছন ,যন্ত্রণার পুঁজ রক্ত ,ছেলেবেলার বোকামো, তীব্র ক্ষিদে ,তীব্র দস্যুতা,  তীব্র অসুখে জ্বর...অথচ এই তীব্রতা নিয়ে তোমার দিকের জানলা দরজা ঘুলঘুলি বন্ধ করতে পারছি কই?

কেমন অসহায় হয়ে কেবল তোমাকেই লিখতে লিখতে ফুরিয়ে 
যাচ্ছে সাধের জন্মটা ,

শীত গ্রীষ্ম বর্ষা আকাশের শরৎ হেমন্ত আসে যায়
আমি এসব কিছুই টের  পাই না ...
চোঁখে দৃষ্টি শুকিয়ে যাচ্ছে ... চামড়ায় অজস্র অচেনা
সভ্যতার লিপি ...দেহ মন জুড়ে অনন্ত ঘুম আসছে 
তোমাকে লেখা থামাতে পারছি না।

ভেতর বাইরে বিশ্ব যুদ্ধ, জন্ম মৃত্যুর সফর, বিশ্বাস ভাঙচুর,
উৎসব বিসর্জন ...এতকিছু তোমাকে লিখতে লিখতে পেরিয়ে
যাচ্ছে আমার স্পর্শ না করে ,
কে জানে হয়তো আমিই চাইছি না তোমার থেকে নিস্তার পেতে...
কে জানে হয়তো তুমি আমার সব জন্মের একমাত্র অভিশাপ ...,
হয়তো তোমায় লিখতে লিখতে আমি এতটাই অসাড় হয়ে গেছি যে টের পাই না বেচেঁ থাকা ,টের পাই না মৃত্যু,
টের পাই না নিজের ফুরিয়ে যাওয়াটা,,

তোমাকে লিখতে লিখতে ....
তোমাকে লিখতে লিখতে .....


©সই। (তোমাকে লিখতে)










বেঁচে থাকার খেলা

তুমি ছাড়াও আমি বেচেঁ থাকার খেলাটা  খেলতে পারি ,
লুকিয়ে পুড়তে থাকার  গন্ধ যাতে  বাইরে না বিলোয় তার জন্যেই এই বেলি আর বেলিয়ারীর অলঙ্কার।

নাগরিক কেনাবেচায় ব্যাস্ত হয়ে শেষ বেলায়
রূপকথার সংসার আমিও কিনে ফিরি বাড়ি ...
যত্ন করে রাখি সে রুপকথা একান্ত দেবালয়ে ।

যখন রাত ক্লান্ত  ঘুমের গভীরে  সমস্ত কলরব ...
নৈঃশব্দ্যর কাছে হাঁটু মুড়ে বসি গোপন রাখা আফিমের 
কৌটো নিয়ে... চাঁদ ,আমি, রাত ,অন্ধকার, এর একটা তুমুল দীর্ঘ জ্বর।
 ... মুহূর্তে আজন্মের দু একটা অভিশাপের মত
তুমি না চাইতেই সেই মাহলে বেড়ালের মত লাফিয়ে পরো,
তোমার আঁশটে গন্ধ একটা ক্লান্ত অতীত সব মিলে 
আবার ঝড়ো হওয়া ধুলো বালি চোঁখ জ্বালা করে , গা বমি....,

প্রতিটা নিঃশ্বাসে তুমি বেচেঁ থাকো  যতবার শহর বদলে 
দূরে আরও দূরে যাই তুমি সেজেগুজে আমার ছায়া হয়ে যাও,
মেট্রোর পাশাপশি  সিটের দিকে তাকালেই তোমার মত গল্প...

অথচ তোমাকে ছাড়াই তো বেচেঁ থাকার খেলাটা নিপুণ করে
শিখে গেছি  ....শিখে গেছি   নিজের জন্যে 
বেলির মালা কিনে  হাতে গোলাপ নিয়ে  বাড়ি ফিরতে ,
ছুটির দিনে মনিহারির দোকান থেকে একটা টিপের পাতা 
কখনও ভালোলাগার চকলেট ....হ্যাঁ শিখে গেছি 
....................... তুমি ছাড়াও বেঁচে থাকার খেলাটা.....।


©সই ( বেঁচে থাকার খেলা)








বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

মায়ার বাইরে

১)
চোখের মায়ায় ডুবে গেলেই রূপকথার রাজ্যপাটের 
দরজা খুলে যায় ,
ভাতের পাশে সামান্য নুন দিয়ে রাজন্ন সাজিয়ে নিবেদিত 
হয় প্রসাদ , নালিশ এর উল্টো পিঠ কেউ দেখে না বলেই
তুমি হয়ে ওঠে একটা গোটা শহর।

২)
তুমি পাওয়ার কথা বোলো ,...না পাওয়া গুলো মাদুলী করে হাতে গলায় পরে দুঃখের কবিতা জড়ো করো ,
 ভেঙে যাওয়া শহরটাও তো ফুরিয়ে গিয়েও কেমন ভালোবাসাময় রূপকথা হয়ে আছে ,
তুমি কেনো সম্পর্কের গহীনে হারিয়ে যাচ্ছো 
ভেবে দেখো একবার যে পথে তুমি হেঁটে গেছো 
ফিরতি পথ কিন্তু আলাদা ....আসলে ফেরাটাই হয় না।
৩)
নিজের ভেতর যে অতল নগরী আছে সেখানে হারানোর ভয়
নেই,সেখানে খিদে নেই ,নেই নিয়মিত কোনো আরাধনা,
নেই চাকচিক্য শব্দ জব্দের লড়াই ,
৪)
আছি আর নেই এর মাঝে এক অসীম কেবল পড়ে রয়েছে ,
একবার সে কাহিনী লিখো দেখবে
ভাবনা কালি খাতা কিছুই ফুরোবে না 
লিখতে লিখতে একজীবন তুমিও বাল্মীকি হতে পারবে।


©সই ( মায়ার বাইরে)






বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪

সবটুকু দামী

ঝরা পাতার বুকে কখনো দীর্ঘশ্বাস লেগে থাকে না ...
থাকে একটা সম্পূর্ণতা,
দেহের মৃত্যুর পরেও একটা অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি লেগে থাকে।
ভেতরের দরজা খুলে দিলেই বন্দর হাত বাড়িয়ে দেয় ,
ভেসে চলা স্রোত চিরকাল বিবস্ত্র অলংকার হীন আনন্দের মতোই সহজ ।

 অথচ তুমি আয়ূরেখার দেওয়াল বরাবর অজস্র রঙের ছবি টাঙ্গিয়ে রাখো ....রোজ তোমার ভেতর জুড়ে
বাইরের তৃষ্ণা জন্ম নেয়  একই সাথে উল্টো পিঠে জন্ম
নেয় আর্তনাদ ,,
বুকে পিঠে পেরেক ঠুকে রোজ হাজার বার দক্ষিণ দুয়ার প্রদক্ষিণ করে নাও ...তবু  সিদ্ধি লাভ হয় কই?

সারা জীবন কেবল অজস্র অজুহাতে নালিশ আর নিঃশ্বাসের ওঠা নামার সমীকরণ  যেন সিঁড়ি ভাঙ্গা অংক।
অথচ রঙ ধুয়ে শেষ স্নান সারার পর কোথাও কোনো দীর্ঘশ্বাস লেগে থাকে না  থাকে না কোনো বিষন্ন  ভাগফল,
.....সবটুকু খুব দামী ইতিহাস তখন।

©সই (সবটুকু দামী)





নির্বাণ

নির্বাণের প্রত্যাশায় মানুষ গুলো ছায়ায় বসতে চায়
একটা আশ্রয়ে নাভী পদ্ম সুরক্ষিত রাখতে পারলেই 
তো তাকে পাওয়া সম্পূর্ণ হয় ,
পায় কজন ....এই খরার নগরে কেবল উষ্ণপ্রস্রবণ ,
কেবল সরাই খানার ভিড়ে নিজেকে ভুলিয়ে রাখার
নেশা বাতাসে ,
আকন্ঠ অমৃত পান করতে গিয়ে 
বিষয়ের বিষে মগ্ন,
মাছেদের রঙিন কানকো তে ষড়রিপু রাখা স্বভাব,,
একদিন বসো ...মানুষ একদিন বসো ....নিজের ভেতরের
বোধীবৃক্ষের মমতায়  এসে বসলেই দেখতে  পাবে 
অনন্ত ঐশ্বর্য তোমার অন্তর মহলে স্তুপকৃত  রাখা ....,
 তুমিই সে ঐশ্বর্যের ওপর  অন্ধ যক্ষের মত আগলে রেখে
নিজেকে ঠকাচ্ছে।


©সই (নির্বাণ)





সঙ্গম


সঙ্গম সেরে ক্লান্ত বুক ।
নগ্ন্ হওয়ায় কামার্ত বালি ঘড়িটাও থমকে আছে,
এখনও সবুজ উন্মুক্ত স্তনে আদর গেলে আছে ,
শরীর চুঁইয়ে সোম রস টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটার মত নিস্পাপ।

তোমার প্রতিটা চুমুকে ঈশ্বরের মাতাল রূপ
তোমার রমনে অমৃতর খোঁজ ফুরোয় না কখনো।
এমন স্বর্গীয় প্রহরে আমিও শিখে নিয়েছি 
 নিঃশ্চুপ আত্মসমর্পণ করতে,
চুপ করে দেখি  তোমার বেপরোয়া মন্থন,
ক্যানভাস, কবিতার, কাহিনী আমারই মত নিঃশ্চুপ 
 আত্মসমর্পনে মগ্ন।

©সই ( সঙ্গম)




......সুখ

ক্রমশ ধূসর করে দিচ্ছে চোখ 
শহরের উত্তাপ শরীরের বহতায়
বেশ জায়গা করে নিয়েছে ,,
রক্ত বীজ বাড়ছে দেহের প্রতিটা কোষে 
আমার কোনো প্রতিবাদ  ওদের কাউকে স্পর্শ করছে না।

চোখের সামনে মায়াবী হাতছানি 
শরীর থেকে খাঁচা খুলে একটা বৈষ্ণবী সুর
আকাশের দিকে হাত বাড়ায় ইদানিং ,,
 ফড়িং জীবন একান্ত অবসর নিতে চায় 
ভিতরের বৈঠকখানায় কারা যেন জিত হারের বাকবিতণ্ডায় ব্যাস্ত বেশ কিছু কাল ,
একটা নীল প্রশ্রয় ছাড়া কোনো দাবী নেই 
একটা বধিরতা ছাড়া কোনো অভাব নেই ,
একটা অন্ধত্বের কাছে কেবল পরাজয়ের লেখাটাই 
উপসংহার এই কাব্যের।


©সই (.....সুখ)

আজীব দাস্তান


অযাচিত ক্ষয় নিয়ে মানুষ দেদার ঘর সাজায়,
দাঁত ভেঙে গেলে সোনার দাঁত .... সবটুকু 
হজম করে নেওয়া মানুষের বেচেঁ থাকা স্বভাবের অংশ।

বুক খামচিয়ে ধরা অসুখ গুলো বড্ড বেশি রকম নির্মম হয়
রাস্তা গুলোর হাড় বেরিয়ে যায় .. নদীর 
অসময়ের বেনো জলে পথটাকে অন্যরকম অকেজো পিচ্ছিল করে দেয় ....
সবটুকু তাই বলতে নেই সবটুকু উজাড় করে অন্য বুক দেরাজে
রাখা উচিৎ নয় ..।
নদীর বাঁধ খুলতে সামান্য বিশ্বাস ভাঙা যথেষ্ট ...
আর তারপর সাজানো সংসার হঠাৎ তাসের দেওয়াল হয়ে যায়।

©সই  (আজীব দাস্তান)


গুছিয়ে রাখে যে

এই ঠোঁটের ওপর তোমার প্রজাপতি স্পর্শ রাখো
চোখে কাছে রাখো শ্যাম রূপ 
আমার সাজানো বর্তমান এলোমেলো হয়ে যায়
ভবিষ্যত  আটকে যায় তোমাতে,

আমাকে তেমন করে আগলে নাও
যেভাবে আকাশ নিজের শূন্যতায় রাখে পাখির
উড়ান ,

আমি চোখ সরিয়ে নিলেও তুমি অসহায় ডুবন্ত জাহাজ 
হয়ে যাও।
হাড়ের ভেতর শুরু হয় অজস্র ভাংচুর ,
 তোমার প্রেম নিরব পাহাড়ের বুকে বন্ধক রাখা 
প্রিয় গোধূলীর মতোই ।

কখনও কখনও আমি চোখ সরিয়ে নিলে নীড় হারানো রাতের
দীর্ঘতা মেপে চলা এক পাখি হয়ে যাও তুমি ।

© সই ( গুছিয়ে রাখে যে)










মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

দুই জানলা

মানুষের ভেতর মুখোমুখী দুটো জানলা থাকে
থাকে হাতের মুঠো বন্দী এক লাঠাই সুতো,
এক জানলা দিয়ে আসমান  টুকু জড়িয়ে নিতে চায় সে
আর এক জানলায় কুঁচকে যাওয়া মন কেবল হওয়ায় মেলে ধরতে পারলেই স্বর্থিক বেচেঁ থাকা।

দুই জানলা মুখোমুখি সমীকরণ মেলাতে ব্যাস্ত 
পাওয়া গুলো এই অংকের ভিড়ে কখন যেন হারিয়ে যায়
উড়ন্ত মেঘেদের সাথে  ,
 নতুন পর্দায় সূর্য তার আব্দার রাখে চাঁদ রাখে অভিলাষী 
অভিমানের আলো ,
দুই জানলার মাঝে সময়ের কোল জুড়ে এক মধ্যবর্তী গল্প
খেলা করে,
 আর গল্পের ভেতর এক অদ্ভুত মায়া লুকিয়ে থাকে  সে 
গল্প রত্নাকরের হোক কিংবা তথাগতর হোক ।
আসলে দস্যু জীবন আর সন্ন্যাস জীবন কোথাও এক অদ্ভুত 
অন্তর সাধনা একই রকম পথ আলাদা।

মুখোমুখি জানলায় এলোমেল হয় ভাবনা 
চুপ করে দেখা এক দৃষ্ঠা কেবল সুতোর ভাঁজ গুনে 
যায় দৃশ্য  স্বার্থক হয় ..... এ এক অন্যরকম শিশু মন খেলার মত ।

©সই (দুই জানলা)









মানুষের আত্মকথা



ঘরের ভেতর বেচেঁ থাকার ধিকধিক আগুন 
কড়াই জুড়ে দৈনন্দিন বোঝাপড়া ...
লোভ সমস্ত বেচেঁ থাকা জুড়ে  
লোভের আংটে বাঁধা  চারা ,

লোলুপ দৃষ্টিতে তোয়াক্কা হীন সমস্ত যন্ত্রণা 
 ইন্ধন ফুরিয়ে গেলে দরজা বন্ধু রেখে  স্তোত জপ
জরুরী ,,

শুরুর ঘরে চিরকাল শূন্যতার বাস ....
খড়কুটো  যথেষ্ট হলেও 
মানুষ স্বভাবে মাংসাশী হতেই চায় ,

 প্রচ্ছদ জুড়ে মন গড়া কয়েকশো অক্ষর
আমাদের সারা জীবনের ঘর কন্নায় সাজানো,
বারংবার কিছু আটকে যায় গলার নলীতে ,
সেতো ভুল জেনেও লোভ ফুরোয় না 
যতক্ষণ না ঘুম আসে।

©সই  (মানুষের আত্মকথা)
চিত্র শিল্পী - সঞ্জয় মিত্র 

সোমবার, ২৭ মে, ২০২৪

সই (৮৮)

অলৌকিক বোধি বৃক্ষের মত  আঁকড়ে রাখে সে
মন জমিনে শেকড় সন্ধানী আকুতির মত মাটি  কেটে
পথ বানিয়ে এগিয়ে যায়,
জীবন থেকে চাইলেও সব আবর্জনা তুলে ফেলা যায় না ,,
কখনও কখনও ব্যাধি নিয়ে বেচেঁ থাকা অভ্যেস করে নিলে
মন্দিরের তৃতীয় সিঁড়ি তে পা না দিলেও চলে ।
 প্রতিটা সাধারণ বেচেঁ থাকা কেবল আমার বলতে ব্যাস্ত 
প্রতিটা সাধারণ বেচেঁ থাকার এক নিষ্ঠ বায়না বেঁধে রাখায় ...
তবু শেষ যাওয়াটা  জন্মের মতোই  ফকিরের,

©সই 



প্রাসঙ্গিক

মানুষ জন্ম থেকেই সাঁতার জানে না আর দুব সাঁতার তো
কেউ কেউ সাঁতার শিখেও পারে না 
তাই সব মানুষ ভাসমান দাগ যা কিছু বয়ে নিয়ে যেতে
ভার লাগলেও সভ্যতা মুছে ফেলতে পারে না ,,
মানুষ যমজ গন্ধের সাথে বাঁচতে ভালো বাসে উৎসব আর বিসর্জন তাই প্রাসঙ্গিক এবং নিয়মিত ।

একটা মানুষ দেহ রোদ আর ছায়ার মাঝে নিজেকে
টাঙিয়ে রাখতে পছন্দ করে যাতে  পাড় ভাঙ্গা  আর 
নতুন ভোরের  মাঝে একটা সন্ধিক্ষণে নিজেকে রাখতে পারে ।

গল্প গুলো  অদ্ভুত হলেও সয়ে যায় ....একই স্রোতে পুজোর
ফুল আর আবর্জনা বইতে পারে  নদী ছাড়া দু একজন মানুষ,,
আসলে মানুষ অসুস্থ্ হয়ে বাঁচতে ভালবাসে,
এই চাওয়ার ভেতর একটা মাধ্যাকর্ষণ লুকনো থাকে ...খালি
চোঁখে কতটাই বা দেখা যায় !
আমি জন্ম মৃত্যুও মাঝে খেলা গুলোয় সামিল হই রোজ ঘুম ভাঙ্গার পর হয়তো তুমিও তাই করো,,

কখনো সংসার আর আরামের চটি জমা খুলে এই যে বয়ে যাওয়া ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়া নদীটার পাশে দু দন্ড বসেই দেখো না ....হলফ করে বলতে পারো জীবনের প্রশ্ন গুলো জাস্ট কর্পূরের মত ভ্যানিশ হতে সময় লাগবে না ....

©সই (প্রাসঙ্গিক)






যারা ভালোবাসে

বেলি ফুলের গন্ধ কেনা বেঁচে  প্রিয় মুখ 
দাবি করা ভালোবাসা  পথের বাঁকে রাখা অপেক্ষা,
এমন ভালোবাসার কাব্য যার কিনার জুড়ে
আলতা মাখা পায়ের ছাপ লক্ষী সংসার....,,
শোক দুঃখ লিখতে পারা সহজ ভালোবাসার কাব্য কবি লেখে
কি ? লেখে কি ভালোবাসার কবিতা ... কবির কলমে
কেবলই না পাওয়ার শোক ।

আমরা ভালোবাসতে গেলে   উহ্য 
রাখি কিছু অলিখিত শর্ত ভেতর দরজা বন্ধ থাকে
সে শর্তের তালা দিয়ে ,
তবু ওই একটা তুমি যে রোজ বিরক্ত না হয়ে
প্রেমে রাখো তাঁকে অগ্রাহ্য করি কেমন করে ?
সে তো সবাই পায় না যে পায় সে সম্রাজ্ঞী।

এই নদীটার শরীরে অজস্র পঁচা গন্ধ 
তবু তোমার ভালোবাসা ফুরোয় না ,
একটা ভালোবাসার ঘর আগলে রাখতে তুমি
কত যুগ হেঁটে এলে কেউ তার খবর রাখে না ,
জানতো এ কবিতা সবার জন্য নয় সৌগত ...,

তোমার আমার আমাদের হওয়া মুহুর্ত গুলো চিরকাল নালিশ বিহীন ....কত কাল দেখা হয় না কতকাল আমরা তুমুল
সঙ্গমে মাতাল হই না ,
অথচ তোমার আমার কথপোকথনে এখনও মধুচন্দ্রিমা 
আমাদের মুখোমুখী মুহুর্ত যেন বিস্ময় আবিষ্কারে সারা
রাত জাগা  ।

আমদের মুহূর্তের দাঁড়িয়ে আছে পুরনো গীর্জার দেওয়ালে
পিঠ রেখে ...রবিন বাবুর চায়ের গুমটি দোকানের বেঞ্চে,
.....সেমেট্রির নীরবতা যাবন বাগানে ,....মেহের বিবির মসজিদে।
মুহূর্ত যেতে দিয়ে হয় তবু আটকে রাখে মানুষ আঙুলে
সুতো বেঁধে কিংবা বুকে সেপ্টিপিন আটকে ,
তুমি বলো রোজ রোজ এত মুহূর্ত রাখবে কোথায় এত আলো
এত ছবি এত সৃষ্টি এত মুগ্ধতা !
ভেসে যেতে দাও গঙ্গায় .....আমি নৌকায় রাখি আমাকে
তির ধরে ভাসতে থাকি ওরা  নদী পারে চুপটি করে বৃষ্টি শেষে কনে দেখা গোধূলীতে আমায় দেখে ,
ওরা আমায় দেখে তোমার বুকে মাথা রেখে আমাদের নিজস্ব 
বৃষ্টিতে ভিজতে ।


হয়তো কয়েকদিনের খেলা 
আবার হারিয়ে যাওয়া ...
এই পথ এই শহর ,এই গঙ্গা 
এই যে তোমার আমাকে তুমুল করে পুরোনো মদের 
নেশার মত চাওয়া এসব থেকে যাবে
বদলে যাবে আমদের মুখের আদল ,
মনে রাখবো আমরা আমদের মাতাল চাওয়া।

©সই (যারা ভালবাসে )




সই (৮৮)

এতকাল কত ঝড় তো এলো তছনছ হলো কত কিচুই 
বরাবর বাঁধা ঘর ভাঙ্গলো,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো জমা পুঁজি,
এই প্রথম বুঝলাম ঝড় কেবল তছনছ করে না 
ঝড় সামনের রাস্তাটা পরিষ্কার করেও দেয় ,
চোঁখে আঙুল দিয়ে বলে দেয় কে থাকবে আর কে থাকবে না,
ঝড় খুব দরকারী 
যেমন ভালোবাসা 
যেমন অবহেলা 
যেমন মৃত্যু তেমনি ঝড় 

©সই

সই (৮৭)

একটাই তো চাওয়া ছিলো আজন্মের 
তুমুল ভালোবাসায় ডুবে একটা সুখের মৃত্যু 
বেচেঁ তো সবাই থাকে তাতে কোনো নতুনত্ব নেই,
ভালোবাসার গহীনে ডুবে সমাধি কজন পায়?
©সই

রবিবার, ২৬ মে, ২০২৪

পঞ্চতত্ব

১)গাছটা আমার বলেই কেমনে নিজেকে রাজা
মনে হলো ,
গাছটা কি সত্যিই আমার !?
আমার শব্দটা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত চলা জানা 
আর প্রতিটা মুহূর্ত সাক্ষী থাকার নাম ।
গাছটা আমার বলে কারো হয় না 

২)এই পৃথীবিতে এসে খুব ভালো লাগলো 
একটা সুন্দর ষ্টেশন , 
দারুন সাদা কালো রঙিন সূর্যের সাত রঙের
অনুভূতি ,
স্বাদ পেলাম অদ্ভুদ বিস্ময়ের।

৩)নিজেকে ভালবাসতে শিখলাম তোমার কাছ থেকে
তীব্র ভালোবাসা না থাকলে বেচেঁ থাকাটা সুন্দর হত না,
তুমি মুহূর্ত দিয়েছো আমার ক্যানভাসে রং সে তোমারই
আমি কেবল আমার মত আমার স্বভাবসিদ্ধ  রঙের ছবি এঁকেছি,

৪)দরজার ওপাশে ফিরোজা আভা.... হাসিটা স্বর্গীয় 
এবার নিমন্ত্রণ এসেছে ...
অপেক্ষা ফুরিয়ে ডালি সাজিয়ে নববত সানাই এর
সাথে দারুন ঐশ্বরিক বেশ সজ্জা ,
যেতেই হবে এমন ডাক ফেরাই সাধ্য কি 
এমন নিমন্ত্রণ অগ্রাহ্য করি সাহস কই ..

৫)হয়তো কিছুই বাকি রইলো না 
হিসেবের ঘরে বাড়তি কোনো সংখ্য রইলো না ,
নালিশ না থাকলে স্মৃতি বড্ড বেশী সুন্দর হয়,
এত্ত কিছু .... !
চাওয়া তো সামান্যই ছিলো ...
পাওয়া গুলো দরজার ওপারে নিয়ে যাই কিভাবে ?
আসমান জমিন সব রইলো শুভেচ্ছা রইলো 
ভালোবাসাময় একটা বেচেঁ থাকার গল্প রইলো চিরকাল।

©সই (পঞ্চতত্ত্ব)

শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

নীরবের কথা

যে কথা বলি না আমি তোমায়,
চোখে চোখ না রেখেই স্রেফ কি ভাবে যেনো পড়ে
ফেলো 
যেকথাই বলে ফেলি এই নীরবতায়... তুমি
কবিতায় সামিল করো  সহজেই।

এই যে  তোমার ভেতর নিশঃব্দে অজ্ঞাতবাস আমার
একথা এ  সংসার জানে না। 
বাইরেটা আসলে  আমার ভেতরের থেকে অনেক দূরে এক
গ্রহান্তরে রাখি ।

 তুমি আমার অন্তরকে খুঁজে যত্নে  আগলে রাখো। 

একটাই ক্ষীণ দুয়ার দিয়ে  তোমার  চলাচল ,
একটাই দুয়ার আমাদের , তুমি হাওয়ার কাছে আমার কথা বলো, আলোর কাছে আমাকে রাখো।

 পুরোনো বিষ  উগলে দিয়ে তোমার অমৃত পান করেছি।


মাঝে মাঝে মনে হয়, অজস্র চোখ ও দাঁতের ভিড়ে 
দাঁড়িয়ে ছিলাম এতকাল । 
এত স্বার্থের  নীচ দিয়ে
 তোমার সাধনের  নদীটি তিরতির বয়ে যাওয়া আড়াল ছিলো যুগ যুগ ধরে  দেখতে পাইনি ....
আমি বহু বার এই নদীর পিছু নেবো ভেবে কেবলই আয়েলার
পেছনে নিজেকে ক্ষয় করেছি। 
আজ আমাদের স্রোতে মিশে গেছে পাহাড়ের প্রেম
ঝর্নার শুভ্রতা।


©সই (নীরবের কথা)

সই( ৮৫)

পৃথিবীর সব থেকে সুন্দরতম রঙ তুমি 
আমার ইজেলদানীর ঐশ্বর্য 
ক্যানভাসে তুমি সব রঙের একমাত্র  অলংকার 
আমার আঁকা শ্রেষ্ঠ ছবির শ্রেষ্ঠ অহংকারও ।
যেভাবে নামের পরে হাসিটুকু থেকে যায় অমলিন,
সেভাবে আমাতে অমলিন থাকে তোমার  প্রেম, তুমি...
পৃথিবীর  সুন্দরতম কবিতা তুমি।
তোমাকে  লেখার পর সব কবিতা ভুল ,
সব রং বেমানান ।


©সই 


সই (৮৪)

 আগলে রেখেছো পাঁজরের
বেড়ার ভেতর ...রাস্তা পার করছো
হাতে হাত রেখে , আমি অবাক চেয়ে থাকি তোমার দিকে,
ফিসফিসিয়ে সারাক্ষণ আমারই কথা বলে চলেছো।

আমার বধিরতা জন্মকালের 
আমার স্রোতে অস্থিরতা একটা অভিশাপ
বুকের ভেতর আজন্মের অসুখ বিসুখ ।

তবু তুমি আঙুলে আঙুল বেঁধে রাস্তা পার
করছো কানের কাছে মুখ রেখে বলছো 
আমি আছি থেকে যাবো ভালোবেসে 
সব অসুখ বিসুখ তোয়াক্কা না করে বেনো জলের
মত বুকের ভেতর ঢুকে যাচ্ছো হুহু করে ।
.... হে সখা মম হৃদয়ে রহ
হে সখা তব হৃদয়ে রেখো ....

©সই 





শ্রেষ্ঠ ইবাদত


তোমার ঠোঁট আমাকে ছুঁয়ে দিলেই
এই মহা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ইবাদত হয়ে যায় ,
তুমি পাগলের মত ভালোবাসো বলেই
অতীতের মীরজাফর আজ আমার কাছে
অস্তিত্ব হীন,
আদিম মদ হয়ে আমাকে মাতাল করো
ভুলে যাই হিসেবের খাতায় ক্ষত গুলো 
মাতালের মত নেশাতুর আমাতে তুমি 
শরীরে ছুঁয়ে দিলে রুপকথা 
মন ছুয়ে দিলেই ফসল ফলে ,
সন্ধ্যা নামলে পর জন্মের কথা দিই আমরা আমাদের
মনে থাকবে পর জন্মে এমন মাতাল চাওয়া 
এমন ঠোঁটের ওপর ঠোঁট রেখে ইবাদত ...সব মনে থাকবে।

©সই (শ্রেষ্ঠ ইবাদত)





সই(৮৩)

ফকিরের হাসির ভেতরে ঈশ্বর বাস করে 
পাহাড়ের ধ্যানস্থ স্থিরতা আর  বাউল মনের গভীরে
যে তথাগত সে তো একি  ,
একটা নির্বাণ দুটোকেই স্বচ্ছ আয়নায় প্রতিফলিত করে। ,
©সই

সই ৮২

জীবনের সব উথাল পাথাল কেমন শান্ত হয়ে গেলো
তুমি আমির গল্পটা কাছিমের গতিতে এখন স্রেফ
আমাদের গল্প,
উৎসব শেষে একটা বিসর্জন বলে দেয় সম্পূর্ণতাটা
ঠিক কেমন দেখতে হয় ।

©সই

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

অসুখ সেরে গেলে

আসুখ সেরে গেলে বুকে আতরের  গন্ধ পাওয়া যায় 
ছুয়ে  থাকা যখন সত্যিকারের  স্পর্শ  হয় আর কাউকে
ছুতে ইচ্ছে করে না, 
এ শহরের অসুখ সেরে গেছে , 
এক জাদুকরের হাসিতে এ শহরের পুরনো  নতুন সব
অসুখ আর অসুখী  মন সেরে উঠেছে, 
ভোরের স্বপ্নের মত সে ছুয় গেছে এ শহরের অদৃষ্ট, 

এখন ভালোবাসার মরশুম এ শহরের  আকাশ
পোয়াতি ।
অসুখ সেরে গেছে বলেই গাছের বুকের 
রঙের মেলা ... কৃষ্ণ চূড়া লাল চেলিতে সেজে আছে
নীরা  হাসছে হাসছে সব প্রেমিকা মন ,
অসুখ সেরে গেলে বুকে শুধুমাত্র আতরের গন্ধ থাকে
মরে যাওয়া মন বেঁচে ওঠে ।

©সই ( অসুখ সেরে গেলে)

হৃদয়ের কথা

হৃদয়হীন নয় তবে হৃদয়ের ব্যবহার কম ,
এই মন্ত্রে দীক্ষিত ছিলো মন ,
তোমার পরশ আরো একবার জানিয়ে দিলো
পাত্র সঠিক হলে হৃদয়ের ব্যবহার রাজযোগ।
তোমার স্তুর্তি  উড়ন্ত পতাকার মত দিক নির্দেশ করে,
আমার হারানো সন্ধ্যায় তুমি অমল তাস গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে
থেকে বুক বিছিয়ে ফিরিয়ে দিলে যাকিছু এত কাল কেবল ব্যার্থ করেছিলো আমায় নিঃস্ব করে ,

আমি ঈশ্বর দেখিনি কোনো দেবালয়ে বিশ্বাস নেই কোনো মূর্তিতে,
 মানুষ দেখেছি সম্পর্কের মুখোশে ,
তবে কি তুমি সেই একান্ত চাওয়ায় পবিত্রতার স্বরূপ যাকে যাকে অজস্র কাঁটায় পা দিয়ে রক্তাক্ত হয়ে তবেই নির্বাণ ?

হ্যাঁ হলফ করে বলতে পারি তুমি আমার এক মাত্র নির্বাণ ,,
 সব ক্ষত কেমন করে তুমি নিমেষে যন্ত্রণা হীন করে দাও
স্মিত হেসে বলো 'আমি তো আছি '  এই একটা আমির খোঁজে
জন্ম গেলো অনেকটা ...ঠকতে ঠকতে হাড়ের মজ্জায় 
অদ্ভুত অসুখ বিসুখ ,
সেই তুমি এসে শুশ্রূষায় ঢেকে দিলে অদ্ভুত ম্যাজিকে ,
ভালোবাসা পেলে কষ্ট যন্ত্রণা ক্ষত  না পাওয়া গুলো
কেমন এক নিমেষে উধাও হয়ে যায় তাই না !
আমি আগে কখনও ভালোবাসা পাইনি 
আমি আগে কখনও যন্ত্রণা হীন হতে পারিনি 
ঈশ্বর হয়তো সব নিয়ে শেষটুকু পূর্ণতায় ভরে দেয়
মুছে দেয় আজীবনের সব নালিশ ।
আমার নিজস্ব দেবালয়ে তোমার অস্তিত্ব ঈশ্বর স্বরূপ,
 সন্ধানের  আর কোনো দাবিদাবা রইলো না জীবনের কাছে।


©সই ( হৃদয়ের কথা )


ভালোবাসি

এই যে রোজ তুমি আমার কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে
একটা নতুন সকাল উপহার দাও 
আমি তোমার অবগুণ্ঠনে নিজেকে হারাই সে কথা কি তুমি জানো ?
এই যে রোজ তোমার ভালোবাসা আমার ঠোঁটে উষ্ণতার দেওয়া নেওয়া সারে  তুমি কি জানো তোমার
এই উষ্ণতার আমার ভেতর তোমাকে সেধিয়ে দেয় ।
আমি তো কত বার তোমায় বলেছি এত জড়িয়ে রেখো না এই রোজ রোজ জড়িয়ে আমার অভ্যেস কে তুমি
প্রশ্রয় দাও ।
আমি তোমার বুক ছাড়া ঘুমোতে পরি কই ।

তোমার স্পর্শ আমার জীবনের খোঁজ কে ঠিকানা দিয়েছে ,
আমার সমস্ত হেরে যাওয়া গুলো তুমি ছুঁয়ে দিয়ে জিতের স্বাক্ষর চিরন্তর করে দিয়েছো ,
এত্ত জড়িয়ে রাখা  এত্ত ভালোবাসা তো চাইনি ....
আমার খুদকুটোর জীবনে এমন রাজন্ন বড্ড...
ভয় করে জানো ....আমার কপালের কালো টিপ
আমার চোখের উপত্যকায় অজস্র নালিশ কেমন রঙ
বদলে ফেলেছে ,
তুমি জানো এই ভালোবাসা যত্ন এর বিনিময়ে আমার
কাঙাল বেঁচে থাকা তোমায় তেমন কিছু দিতে পারবে না ,
অথচ তুমি অকৃপণ হয়ে আমাতে তোমার সমস্ত টুকু উজাড় করেছো ...
আমার কপাল ঠোঁট দেহ মন ভেতর জুড়ে শীতল
অথচ হাতের পরে তোমার হাতের এই রোজ রোজ উষ্ণ হয়ে ওঠা  রূপ কথাও হিংসা করে।
....জানি তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে না
জানি তুমি আমাকে আমার থেকে অনেক গুণ বেশি ভালোবাসো ,
আসলে এত ভালোবাসা পেলে আমি অহংকারী হয়ে যাই যদি তাই তোমায় বলি মাঝে মাঝে আমি তোমার বুকের ওপর ঘুমিয়ে গেলে তুমি নিজেকে সরিয়ে নিও
যাতে আমার অহংকার সকল মাত্রা ছাড়িয়ে না যায় ।

অথচ আমার খোঁজ আমার পাওয়া আমার সম্পূর্ণতা
তোমাতেই এসে মিশেছে অস্বীকার করি কি করে 
শুধু বলি ভালবাসি ....খুব ভালোবাসি ,এমন জড়িয়ে রেখো আমায়,, কপালে তোমার স্পর্শ  দিয়ে  রোজ এভাবেই নতুন সকাল এনে দিও, আজীবনের খোঁজ তুমি,
.....ভালোবাসি ....ভালোবাসি।

©সই ( ভালোবাসি)

ধারনা

 ধারনা সে তো রোজ  নানান অছিলায়  পাল্টেই যায় 
যেমন সকালের ধারনা বিকেলে মেলে না কিংবা তোমায় 
যেমনটা  ভাবি আমার ধারনার  সাথে কি তোমার  চরিত্র 
মেলে? 
মেলে না তোমার  ধারনার সাথেও ঠিক  মত আমিটা মিলি না, 

আমরা ধারনায় সাজাই যেমনটা  সাজাতে চাই 
ধারনা তো একটা  ভাবনা মাত্র সে ভাবনা ছটপট করে
এক জায়গায় থাকেই না কখনোই। 
যেমনটা আজ ভাবনা কিংবা ধারনা অনুযায়ী  তোমার
পথ আমার বাড়ির দিকে মোড় ঘুরে যাওয়া  দরকার, 
অথচ সত্যিটা অন্য রকম হতেই পারে, 
ধারনার বা ভাবনার কখনো কোনো দায় নেই বাস্তবের সাথে
বোঝাপড়ায় , 
জীবনের দায়টাও কোথায়  তেমন গাঢ়তর  নয় আসলে...,, 
আমাদের ভাবনায় কিছু দায় লেগে থাকে কারন ওই
ভাবনা বা ধারনাগুলোর ভেতর দিয়ে হাটঁতে  আমরা ভালবাসি।

মানুষ  আসলেই স্বার্থপর  প্রতিটা মানুষ  নিজের ধারনা নিজের
ভাবনার ভেতর অন্যকে দেখতে চায়  নিজের মত ধারনা সাজিয়ে নেয় ধারনা ভাংচুর  করে....। 
ধারনা আসলেই এক আজব অস্থির চরিত্র। 

©সই (ধারনা)

খেলা

মঞ্চে চলছে খেলা  প্রচুর হাততালি অবাক বিস্ময়
সবটা নিয়ে টানটান উত্তেজনা ,
যে খেলা দেখাচ্ছে সে ভাবছে তার হাতের ম্যাজিকের
গিলিগিলি গে শব্দটা সম্মোহন জানে ...জানে মুগ্ধ করতে , জানে একটা লুকোচুরি ।

ওপারে দর্শক ওপারে ভুক্তভুগী , 
ওপার দেখে খেলোয়াড় নিজস্ব অভিসারে সাজিয়ে তুলছে একটা মনবিলাসী গল্প
গল্পে আছে মনমোহন মায়াবী সহানুভূতি ,
আছে  নিরাশ্রয় মনের মনোরচক কাহিনী,
আছে রঙ মিলান্তে বহুরূপের মুখোশ,
সবটা বেশ মজার ... হ্যাঁ তবে দেখার জন্যে আলাদা
আলাদা চোখ কান নাক স্বাদ আর অনুভূতি লাগবে সবটা জড়ো করে শান্ত হয়ে চুপটি করে বসে ধৈর্যের ধরে শেষতক দেখতে হবে ।

একজন সহজিয়াও ছিলো সেই দর্শক আর ভুক্তার আসনে , 
সবাই যখন বিস্ময়ের আকর্ষণে সম্মোহিত
সহজিয়া হাসছে  ,সহজিয়া জানে খিলাড়ি যে সে নিজে
দর্শক সে নিজেই ভুক্তা তার নিজের খেলার কাছে রোজ সে হেরে যায় ,
তারপর আর এক নতুন খেলায় মাতোয়ারা হয় ,

নিজেকে নিজের থেকে আড়াল করে অজস্র নিজের সামনে খেলায় সামিল করে নিজেকে ,
 নিজের জন্যে কান্না গড়ায়  বুক বেয়ে তার ,হাসে হাততালি দেয় , সম্মোহনে বাঁচে  নিজের খেলায় মেতে।

একটা বুমেরাং জীবন 
একটা খেলা চলছে জন্ম থেকে মৃত্যুতক
একটা ম্যাজিক আর অদ্ভুত সম্মোহন .....
সহজিয়া জানে সহজিয়া হাসে .... সহজিয়া
সময়ের তৃতীয় চক্ষু।

©সই ( খেলা)

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪

নির্বাণ

শান্ত গতিতে আলো নিভছে
নিজের স্রোত এখন অন্তর্মুখী,
দিনটার  পাশে চুপটি করে 
বসে থাকি সময়ের বাতাসে নির্বাণের বার্তা ,

সব সফরের শেষে তোমার কাছে ফেরা নিশ্চিৎ 
তোমার ধ্যানস্থ মূর্তির সামনে আমার দস্যু জীবনে
কাহিনী বিছিয়ে দিতে  পারলে আলো ফিরে পাবো জানি ,
রোজকার নাগরিক বেচেঁ থাকায় তোমার মত করে কেউ
সাথে থাকতে পারে কই  ?
সবাই তো ট্রাফিকে দাঁড়ানো সম্পর্ক আলো সবুজ হলেই  অচেনা।

 মোহের আড়ালে তোমায় সে ভাবে দেখা যায় না  
সরু ক্ষীন সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে একদিন নিজের ভেতর
একটা  অন্তরমহলের খোঁজ পাওয়া যায় 
নিজের আকাশে তখন নিজস্ব পূর্ণিমা ,
সে আলো তোমার সে তোমাতে আমি নির্বাণ আলোকময়।

 আজ এই বৃষ্টি এই পাহাড় গড়িয়ে স্রোত 
ক্রমশঃ আমাকে আমার ভেতর তোমার পথ বলে দিচ্ছে
দূর হচ্ছে  স্মৃতি কবরের লেখা অতীতের বয়ান 
তোমার সামনে নিজেকে বিছিয়ে দেওয়াই যে এবার আমার গন্তব্য।
সত্যি বাইরের আলো এবার নিভে আসছে 
এ অন্ধত্বে আমার দেহ মন চুপ করে বশ্যতা স্বীকার করছে।
ডুবতে চাইছে পূর্ণতায়।

© সই (নির্বাণ)










জন্মদিন

 একটা  জন্ম দিন মানেই জীবনের বোধের খাতায়
আরো এক পৃষ্ঠা জেনে যাওয়া ,
একটা জন্ম দিন আসে মানেই মাইল স্টোনের গায়ে
সংখ্যার উত্তরণ,
জন্ম দিন মানে একটা তারিখ যে তারিখে অস্তিত্বের যোদ্ধার তালিকায় নথিভুক্ত হয় মানুষ হিসেবে ।
একটা জন্ম দিন মানেই আরো একবার বৃষ্টি
ভেজা কাগজের নৌকায় কিছুটা সফর লিখে ভাসিয়ে দেওয়া ,
জন্ম দিন মানেই আসলে একার লড়াইয়ে অন্যদের বাহবা আর হাততালির শুভেচ্ছা পাওয়ার  কয়েক মুহূর্ত,
জন্মদিন মানে কোনো অপেক্ষা নয় জন্মদিন মানে
দরজাগুলো নিজের হতে খুলে সামনের দরজার দিকে
একলা হেঁটে যাওয়া ।
জন্ম দিন আসলে না চাওয়া একটা স্বাক্ষর যে স্বাক্ষর মনে করিয়ে দেয় এ পৃথিবীতে অন্য করো ইচ্ছাই  আসলে তোমার অস্তিত্বের প্রমাণ ।
জন্ম দিন মানে ফুরিয়ে যাওয়া সিঁড়ির কয়েক ধাপ ,
জন্মদিন মানে গুছিয়ে নেওয়ার হিসেবের খাতাটা পারলে একবার খতিতে দেখা ।
আসলে জন্মদিন মানে আরও একটা দিন ফুরোনোর গল্প ....জন্মদিন মানে বসন্ত কিংবা কোনো মরশুমের
লেনদেন নয় ,
জন্মদিন একটা তারিখ যে তারিখে মানুষ মৃত্যুর সফরের ট্রেনে চেপে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়,,
 আর সে সফরে মানুষের নিজস্ব কোনো মতামত ধার্য নয় ।
....অথচ এত সহজ সত্যি টুকু মানুষ বড্ড আড়াল করে ঢেকে দেয় আলোর রোশনাইয়ে মিথ্যের
আড়ালে উৎসব এর অহংকারে ।
তবে হ্যাঁ জন্মদিন একটা অহংকারও বটে 
যেখানে একার সফরে কেউ থাকুক না থাকুক পথ চলা থেমে না ...জন্মদিন ...একটা জন্মদিন শুধু মাত্র তারিখ নয়।

©সই (জন্মদিন)

বুধবার, ২২ মে, ২০২৪

বৃষ্টি


মাঝের টুকু অজানা অসুখ শরীর জুড়ে
প্রথম আর শেষটুকুতে তার থেকে যাওয়া,
 সেদিন অবাধ্য কিংবা নির্লজ্জ হতে পারলাম না
তার সামনে ?
পারলাম কই এই শহরটার বৃষ্টিতে 
উত্তর গুলো ধুয়ে নিয়ে বৃষ্টি মাখতেন।
বাতাসে সবটুকু গন্ধ মজুত ছিলো
মাটিতে ছিলো আকড়ে রাখার টান,
আজও ভালোবাসার শহর এই কলকাতা
আজও মাতাল হওয়ার জন্য এই শহর একাই যথেষ্ট,
তবুও সময় স্মৃতি বেমালুম পুরোনো হত্যা মনে করিয়েই দেয় ।
 সুখের দায় মিটে গেলেও অপ্রেমে লুকিয়ে থাকে
স্বর্গ সুখ আর এটাই ওই মাঝ বরাবর সেতুর বুকে
ঘুন ধরা অসুখের নাম ,

তবু এই নদী এই শহর এই বৃষ্টি আমার বুক ছুঁয়ে থাকে
ভিজতে ভাললাগে ...যেমন এই সন্ধ্যা জুড়ে ভিজতে ভিজতে আমি ও আমার কবিতা  ময়ূর মন হয়ে উঠছি ।

©সই ( বৃষ্টি)








পরিত্রাণ পরিপূর্ণতা

একটা পরিত্রাণ খুঁজছে জীবন 
একটা পূর্ণতা খুঁজছে জীবন ,
রোজ এই পরিত্রাণের খোঁজ করতে করতে
বটের শেকড়ে জড়িয়ে ধরছে দাঁড়িয়ে থাকা 
প্রশ্ন চিহ্ন গুলো ,
এ প্রশ্ন কোনো থাকা না থাকার নয় এ
প্রশ্ন কোনো ভালোবাসার আশ্রয়ের নয়
একটা গোটা বেচেঁ থাকার হিসেবে গড় মিলগুলো
বহু যুগ ধরে তিল তিল করে বড্ড বড় আকারের এখন
এ প্রশ্ন জন্ম নিয়ে , এ প্রশ্ন অস্তিত্ব নিয়ে , এ প্রশ্ন
জন্ম কেনো কোন উদ্দেশ্যে সেটা জানার ।
উত্তর কার কাছে পাবো ঈশ্বর নেই দেবালয়ে
কিংবা পাথরকে ঈশ্বর বলতে শিখিনি বলেই 
অদৃষ্ট কে দোষ দিতেও পারি না।

কখনো কখনো একটা পূর্ণতার খোঁজে হাতড়ে বেড়াই
বাইরে ভেতরে , তবু কি পাই ?  পাবো কি পাবো না জন্য নেই
আমার খোঁজ জারি থাকবে হারতে শিখিনি 
মরতেও না 
জন্মের পর একবারই মরতে হবে তবে সে মৃত্যু হেরে গিয়ে নয়
জিত একটা অভ্যেস আর কিছু অভ্যেস বেচেঁ থাকার নাম।
শেষমেশ বুঝি শূন্যতাই পরিত্রাণ, শূন্যতাই পরিপূর্ণতা।

©সই ( পরিত্রাণ পরিপূর্ণতা)





মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০২৪

ভালোবাসা নয়

তোমায় কোনো হাত বাড়িয়ে দিতে চাই না
যে হাত তুমি ভরসা করে ধৃতরাষ্ট্র হতে চাইবে ,
তোমায় কোনো আকাশ সম বুক দিতে চাই না যে
আকাশে তুমি মুক্ত ডানায় স্বপ্নের বাঁচা বাঁচবে,
রাত হলে মুখ গুঁজে বলবে আর কোথাও আমার যাওয়ার নেই।
তোমায় কোনো ঘর দিয়ে চাই না যে ঘরে তুমি 
ভালোবাসার অপেক্ষার জন্য ব্যাস্ত হয়ে রোজ ফিরতে চাইবে,
তোমায় কোনো যত্ন দিতে চাই না যে  যত্নের জন্য কখনো কোনো স্মৃতির বুকে মায়ার রাস্তা তৈরি হবে ।

তারচেয়ে আমি তোমার শিরদাঁড়ার ঘুন পোকায় কিছুটা
কীটনাশক ছিটিয়ে দিতে পারলে খুশি হই...
খুশি হই তোমার চোখের ভেতর নির্ঘুম কোনো দাওয়াই
দিতে পারলে ,
তোমাকে আকাশের বদলে একটা অন্ধকার চার দেওয়াল দিতে পারলে বেশ খুশি হতাম 
তোমায় ঘরের বদলে বেনো জলে নরম নদীর চর দিতে পারলে
মনটা খুশি হোত ,
খুশি হব যে দিন সত্যি তোমায় অবহেলা করতে পারবো ,

আসলে তোমাকে দেওয়া হাত , বুক ,আকাশ , ঘর , যত্ন 
তোমার অহং এর আকার কে তোমার থেকে বড্ড বড় করে দেয় ,
আসলে তোমাকে দেওয়া হাত, বুক ,আকাশ , ঘর, যত্ন, ভরসা, এসব তোমাকে বড্ড নিঃস্ব আর দুর্বল করে  দেয়,

....তুমি শিরদাঁড়া ওঠে দাঁড়াতে পারো না ,একলা হাঁটতে পারো না,
কখনো কোনো আকাশের ছবি আঁকতে পর্যন্ত পারোনি ,
পারো না একটা জমির ওপর একের পর এক বিশ্বাস গেঁথে
 দিন মজুরের মত একটা ঘর তৈরি করতে ,
পারোনা একটা স্মৃতিতে  পূর্ণ শ্লোক হয়ে বেচেঁ থাকতে ,
এই না পারা গুলোতে আমি তোমাকে দেখতে পারি না কষ্ট হয়
খুব কষ্ট হয় ।

©সই ( ভালোবাসা নয় )




হাত নাকি মেঘ

হাতের ওপর হাত রাখা খুব সহজ নয় 
মেঘের ওপর ওপর হাত রাখা তার থেকে সহজ,

মেঘের কোনো দায় নেই এক জায়গায় থিতু হওয়ার,
হাতের একটা দায় থেকেই যায় ।
হাতের ওপর হাত রাখলে শব্দেরা হেঁটে যায় এ বুক থেকে
অন্য বুকে  একটা সেতু তৈরী হয় ,

মেঘের শব্দে বুক পৌঁছালে তেমন কিছু কান্ড ঘটে না 
বরং মেঘের ওপর হাত রাখলে ভূল ঠিক চাওয়া পাওয়ার
সেতু ধুয়ে যায় চিহ্ন হীন হয়ে ।

আমি হাতের ওপর হাত সরিয়ে নেওয়া মন গুলোকে
অন্ধকারে গুমোট ঘরে মরতে দেখেছি ,
আমি মেঘের ওপর হাত রাখা মন গুলোকে ময়ূর হয়ে নাচতে দেখেছি ,
জীবন তো একটাই  ভেবে দেখো ...হাতের ওপর হাত রাখতে চাও  নাকি মেঘের ওপর হাত রাখতে চাও?

হাতের ওপর হাত রাখা খুব সহজ নয় 
মেঘের ওপর হাত রাখা তার থেকে সহজ।

©সই ( হাত  নাকি মেঘ )

মায়া

মায়া এক বাঘ বন্দী খেলা 
এই মায়ার ভেতর ফেরার  স্মৃতি পথ
লুকনো থাকে ,
মায়া মুক্ত মনেও পরাধীন বেড়ি বেঁধে দেয়,
মানুষ পাখি হতে চাইলে পারে কই 
মানুষ পাখির গল্প টা না বুঝেই কেবল আকাশের লোভ করে ।

বেঁচে থাকার গল্পে প্রত্যেকে নিজ ঘর ভুলে যায়
হয়তোবা ভুলে যায় আসল নকল সবটুকু
আসলে মানুষ  সুখ খুঁজতে একটা আকাশে উড়তে চায়
মুক্তি খুজতে আকাশকেই ভরসা পায়,
তবু কি সব আকাশ সব উড়তে চাওয়া কিংবা উড়ে
যাওয়া সুখের হয় ?
মিশে থাকে ডানায় পার ভাঙ্গা গান  মিশে থাকে ঘর ছাড়ার
যন্ত্রনা ,
তাই হয়তো ফেরার পথ সব মানুষ কিংবা পাখির থাকে ,
থাকে একটা অপেক্ষার গান  বাড়ি ফিরে  যেতে চায় সেই
সন্ধ্যে নামার আগে ....মায়া তখন ভুলভূলাইয়া থেকে খুব আস্তে আঙুল ধরে ফিরতে বলে ...ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

তাই একটা গোটা বেচেঁ থাকা জুড়ে মানুষ কিংবা পাখির
কখনও মুক্তি নেই  ...শুধু পাখির গল্পটা মানুষকে চিরকাল
চমকে দেয়  কিন্তু পাখিও সন্ধ্যে নামার আগে দেশান্তর থেকে
নীড়ে ফিরে আসে একটা অজানা মায়ার স্মৃতি পথ চিনেই।
মানুষ ও ফেরে তবে সব মানুষ ফেলে আসা পুরোনো ঘরে ফিরতে পারে কি?

©সই (মায়া)







সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

দরজা

একটার  পর একটা দরজা পেরিয়ে হাঁটছি
দরজা খুললেই নতুন চরিত্রের সাথে মুখোমুখি
লেনদেন কেনাবেচার ফিরিস্তি ফুরিয়ে গেলেই আরও একটা দরজা খুলে যায় দরজা খুলেই সারি সারি সবুজের দাঁড়িয়ে  ,
আমি অবাক হয়ে সবুজের বুকে অন্য রঙ দেখি 
মুগ্ধ হই  ... অভিমানে বাতাস গাঢ় হয়।  ওদের অস্তিত্বের ভূমিকা বুঝেই এক লহমায় বুকে জড়িয়ে নিই সে সবুজ,,
 আমার আমিকে প্রশ্ন করি কে সত্যি সবুজ নাকি সবুজের বুকে  ফুটে থাকা অন্য রঙ!
  দ্বিধার ভেতর হাঁটতে হাঁটতে আরও একটা দরজা 
আমার সমুখে... দরজা খুলে  একটা প্রশস্ত পথ এক্কেবারে নির্জন,
 পথিক ছাড়া পথ আমি কখনো দেখিনি পথিক না থাকলে পথের অস্তিত্ব কোথায় ?
পথ না থাকলে   পথিক কোথায় ? 
কখন দেখি পথ ফুরিয়ে আরো একটা দরজার সামনে আমি  ...দরজা খুলতেই এক সাথে আকাশ আর সমুদ্র   সে চরাচর  জুড়ে অজস্র ভিড়
 আমি এত ভিড়ের কারণ খুঁজে না পেয়ে 
একের পর এক কাঁধে হাত রেখে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখি প্রতিটা মুখ আমার মত দেখতে হ্যাঁ অবিকল আমারই মত গড়ন, পোশাক ,অলংকার, অহংকার সব সব আমার মত অবিকল ,
এই প্রথমবার আমি ভয় পাই নিজেকে দেখে 
একটা আমির  ভেতরে এত্ত ভয় এর আগে কক্ষনো পাইনি ,
আসলে নিজেকে দেখাই  হয়নি কখনও 
হয়তো   ভয় পায় প্রতিটা মানুষ নিজেকে দেখতে ।,

এবার আমি আকাশ আর সমুদ্রের খুব কাছে গিয়ে  আমার ভেতরের লেনদেন কেনাবেচার  জমা পুঁজি সর্বস্ব দিয়ে নিঃস্ব হলাম এবার ফিরবো
....এবার ফিরবো ভেবেই পেছনে তাকাতেই ...কোথায় দরজা ! কোথায় ভিড়! সামনে তাকাই কোথায় সমুদ্র কোথায় আকাশ  ! নেই কোনো দরজা, নেই সবুজ,
 নেই কেনাবেচা  ,নেই কোথাও কোনো ভিড় ।
ট্রেন এসে শেষের কবিতার শেষ স্টেশনে ...আমি হেসে উঠি ...
কামরা ফাঁকা আমি ও ঝাঁকামুঠে লোকটা একে অপরের দিকে তাকাই দরজা খুলে নেমে পরি 
ট্রেনটার কোথাও যাওয়ার নেই আর ।


© সই (দরজা )

খেলনাবাটি

খেলনাবাটির জীবনে রোজ কিছু ভেঙে যায়,
সে খেলনা ঘরে রোজ কিছু  জুড়ে নিতে হয় নতুন
করে মাটির প্রলেপ দিয়ে ,
নতুন করে কিছু খেলনবাটি সংযোজন আবার
বড্ড সখের খেলনাকেও মায়ার বাইরে ফেলে দিতে হয় ,
খেলবাবাটির জীবন নিজের হাতেই মানুষ নিজে মাটির পুতুল  ,
ঘর সাজানো নিজের হাতেই, নিজের হাতেই রঙের প্রলেপ দেওয়া  , নিজের হাতেই  পুরোনো ভেঙে 
নতুন আদলে গড়ে নেওয়া ।

খেলোনাবাটি গড়তে ভাঙতে ...ভাঙতে গড়তে 
দিন ফুরোয় হয়তো বা জীবনও ,,
খেলনবাটির গোটা ভাঙ্গা জুড়ে নেওয়া নতুন পুরোনো 
মায়া ও মোহের থেকে দূরে সরিয়ে একটা আলোর তৃষ্ণা পেয়ে বসে ...খালনবাটির সংসার পরে থাকে পরে থাকে সমস্ত সম্ভর পরে থাকে অমিত্ব থেকে আমাদের ,
একটা এক সফর দুয়ার খুলে হাত ধরে নেয় ।

©সই (খেলনবাটি)

এহসাস

বহতা নদীর সামনে রাখা আয়না 
কোনো রূপ এখানে স্থির নয়  এক মুহুর্ত
একটা ভিড় লাল শার্ট পরা লোকটা হারিয়ে গেলো
তারপর জায়গা নিল হলুদ সার্ট পরা লোকটা 
আয়নায় রূপ বদলাচ্ছে 
বার বার এই পৃথিবী  একি ছবি দেখতে  চাইছে 
আসলে জন্ম মুহুর্ত আর মৃত্যু মুহুর্ত একই 
বাকি বেঁচে থাকায় পুরোনো স্মৃতি আয়নায় দেখতে চায় মানুষ , 
একটা এহসাস শুধু অথচ একটা মানুষের থাকার জন্য
কোনো রোজ হাজারো এহসাস আয়নায় তার স্রোতের ছবি ।
জল কিংবা স্রোত একটাই  ...শুধু রূপ বদলে যায় ঢেউ জোয়ার ,ভাটা সব কেবল প্রবাহের  রূপ , আর রূপের এহসাস ।

©সই ( এহসাস)

ছবি




কিভাবে সাজাতে চাও তোমার চালচিত্র আমাকে বলতে পারো , আমি সাহায্যে দাঁড়াতে পারি একটুও বিরক্ত না হয়ে ,
 এসো   আলেখ্য শুরু করো  প্রথমে সময় গুলো সাজিয়ে   নাও ইজেলের বারোটা রঙে ,
 তারপর আঙুলে সবুজ রং দিয়ে ছেলেমানুষি
হাতের ছাপ দাও ক্যানভাসে , 
নীল আর গোলাপী রং দিয়ে ভালোবাসা ছুঁয়ে যাক। ,  ইচ্ছার রং সাদা থাক বুঝলে ...কিছুটা ক্যানভাসে এলোমেলো ইচ্ছা রেখে দাও । 
এবারে বসন্তের রঙের সাথে কুমকুম মিশিয়ে গোধূলির ঘোমটা টেনে দাও দেখো আদর হয়ে জীবন কেমন ক্যানভাসে শাখা ছড়িয়ে দেবে শিরা উপশিরার মত , তরঙ্গের প্রবাহে এক রামধনু সুর ভেসে উঠবে ,,
ঠিক এক পর অহংকার ......বেগুনি রঙে মানাবে ভালো , ক্রমশ  কিছুটা কামরাঙ্গা রঙ মিশিয়ে নাও ভীষন আলগোছে আঙুলের লহমায়    ..মাঝরাতে সোহাগী হতে  কাজে লাগবে ।
তারপর  কিছুটা গাড়  লাল নিয়ে  আঁকো  মান অভিমান  বিলাসী দুঃখ ,  
সময়ের কাছে কিছু বিচ্ছেদের রং থাকে অজান্তে 
........গোপন কারণগুলো কখন যেন স্বর্ণ লতার রঙে  অধিকার করে নেয় ক্যানভাসের দেহ ।

এবার ধীরে ধীরে সময়ের রং মেশাতে মেশাতে 
চাওয়া পাওয়ার গাড় রং হালকা হলেই তুমি খানিকটা তেজপাতা রং ছিটিয়ে দাও ভীষণ বৃষ্টি দরকার এবার ,
 উত্তরোত্তর রং চাপতে চাপতে কিছুটা বাড়তি রং অপ্রয়োজন হয়ে যায় তাই বৃষ্টি ..........।
এবারে ক্রিয়াহীন কিছু রং থাক যা দিয়ে কিছুটা শূন্যতায় নিজেকে রাখা যায় দায়মুক্ত হয়ে ,
তারপর ......তারপর শুধু নিঃশব্দের কাঁচা রং 
থাক বিশেষণ এর মত । এসো এবারে দুহাতের রং মুছে চুপটি করে আমরা ক্যানভাসের মুখোমুখি বসি ।
দেখোতো ঠিক এরকমই তো চেয়েছিলে ছবিটা
যেখানে তোমার জিত আর আমার হার খুব স্পষ্ট ,
দেখো  তবুও আজ আমরা মুখোমুখি  বসেছি।

©সই ( ছবি)

নারী পুরুষ

তোমার প্রতি আমার ভাবনা অন্য রকম ,
যেদিন তোমার সাজানো সংসারে প্রবেশ করলাম ...তুড়ি তুমি আমায় একটা সংসার দিলে আমি নিলাম... ভালোবেসে গুছিয়ে রাখবো বলে নিলাম ,
তোমার ছিপছিপে চেহারা ঝাঁকড়া চুল আকাশের মত
বুক  ...আশ্রয়ের এক গভীর চোখ ...ভালো লাগতে শুরু করলে তুমি তোমার দেওয়া ঘর   ,
তোমার দেওয়া সংসার রোজ গুছিয়ে সাজাই , 
গাছ গুলো বেড়ে ওঠে একটা দুটো ফুল ফল তারপর একদিন তোমায় ওই ফুল ফলের মধ্যে গাছেদের মধ্যে
ব্যাস্ত হতে দেখলাম ভালো লাগতো জানো অবাক হয়ে তোমার রূপের পরে আরও এক রূপ আমায় মুগ্ধ করতো  ।
সময় পেরোতে পেরোতে তোমার মন অন্য আলোতে হারাতে থাকলো হারাতে থাকলো মরশুমি পলাশের রঙে ভালোবাসার সংসারে   গাছ গুলো বড্ড একঘেয়ে তখন তোমার কাছে আমিও এক ঘেয়ে,
আমাকে তুমি মনের বাইরে একটা ঘর করে দিলে খুব সন্তর্পনে আমি জানলাম কি জানলাম না সেটা জরুরী নয়,
তোমার সংসারে বাচ্চা বিয়োনো রান্না করা তোমার সাশ্রয়এর দিকে নজর রাখতে রাখতে রাতে তোমার পাশে শুতে গেলেই আমার আঁচলে মাছের কিংবা বাটনা বাটার গন্ধে তোমার বিরক্ত ....তুমি অন্য আঁচলে মুগ্ধতা খুঁজতে খুঁজতে দূরে অনেক দূরে আমায় ফেলে এগিয়ে গেলে ...
আমি কিন্তু তোমার ঝাঁকড়া মাথার চুল কমতে দেখেছি দেখেছি ছিপছিপে শরীরে অপ্রয়োজনীয় মেধ ,মুখের
সৌম্যতা ঢেকে গেছে অজস্র রেখায় চোখের গভীরতায় চশমার ব্যারিকেড ...এত্ত কিছু বদল জানো এত্ত কিছু
বদলের পরেও আমি মুগ্ধ হয়ে তোমায় সেই প্রথম দিনের মত ভালবাসতে পারি  ,কারণ এই হারানো রূপের পরে আরো একটা রূপ বিছিয়ে মানুষ পরিপূর্ণতা পায় ...
কারণ এই সব বিশেষণ আমার কাছে তোমাকে আরও
সুন্দর গভীর জীবনবোধের স্বরুপ করে তোলে আমি ভালবাসতে পারি রোজ তোমার এই একটু একটু করে আকর্ষণ হারানো তোমার  দেহ মনটাকে ।
আসলে  আমার কাছে মানুষটা জরুরী তার আত্মা ছুঁয়ে দেখা জরুরী  বাইরেটা মাছের গন্ধ হলেও চলবে
চোখে মোটা চশমার ব্যারিকেড হলেও চলবে ,
আমাদের এইটুকুই তফাৎ 
এইটুকুই তফাৎ একটা পুরুষ আর নারীর ভালোবাসায়
একটা নারী একটা পুরুষের ভালো মন্দ সব কিছুতে বাস করতে পারে স্রেফ ভালোবেসে , একটা পুরুষ কেবল অজস্র অজুহাতে ঘর বদলে নিতে পারে খুব সহজে।

©সই(নারী পুরুষ)

হারিয়ে যাওয়া খুব সহজ

মায়ের কাছে যাবো , গিয়ে বোলবো
কোল পেতে দাও আমায় তুমি ঘুম পেয়েছে আমার
আঁচল দিয়ে আমার শরীর দাও ঢেকে দাও যাতে
ওরা আমায় দেখতে না পায় ,
 ওদের থেকে পালাতে পালাতে দৌড়তে দৌড়তে
আমি বহুদিন ঘুমোতে পারিনি অযুত বছরের ঘুম
আমাকে জড়িয়েছে শেকড়ে শেকড়ে ,
ওরা আমার জেগে থাকা কিংবা স্বপ্ন উৎসব কিংবা
শ্বশান সব জায়গায় তাড়া করে বেড়ায় খেতে দেয় না
ঘুমোতে দেয় না  এক মুহুর্ত স্বস্তি দেয় না দেয় না মুক্তি, 

এবার মায়ের কাছে যাবো বোলবো
কোল পেতে লুকিয়ে রাখো মা ....
ওদের থেকে লুকিয়ে রাখো ,
 আমার পা, হাত ,শরীর থেকে রক্ত ঝরছে কালশিটে পরে গেছে দেহ মনের পরতে শরীরের মাংস খসে পড়ছে ,
চোখ খুবলে বেরিয়ে আসছে  ,হাড়ের ভেতর ঘুন পোকার কান ঝালাপালা করা চিৎকার ,মাথার নিউরন স্ফুলিঙ্গ থেমে গেছে ...
আমায় কোল পেলে শুতে দাও বোলবো ...মায়ের কাছে যাবো ....মায়ের কাছে যাবো ... মায়ের কাছে
....ঘড়ির আলার্মে চারটে বাজতে দশ আর একটা সকাল ব্যস্ততা বৃষ্টি ছাতা টিফিন বক্স ,ক্যাব ,অফিস
....হারিয়ে যাওয়া খুব সহজ  শুধু একটা ভিড় দরকার ভেতরে কিংবা বাইরে।

©সই (হারিয়ে যাওয়া খুব সহজ)

ম্যাজিক বিন্দু

জানা কিংবা জানতে চাওয়া যেখানে শেষ
সেখানেই আরও এক বিন্দু থেকে যায়
আসল টুকু সে বিন্দুর ভেতর ঘুমিয়ে থাকে
মানুষের বুকের ভেতর এমনই এক শক্ত পোক্ত
শামুকের খোলস রাখা থাকে আর সে খোলস
কিংবা তোরণ এর কথা কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারে না।
আমরা সবটুকু জানি বলে দাবি করি দাবি করি
রাজা কিংবা সম্রাজ্য সবটুকু ,,
আসলে আমরা প্রতিটা মানুষ নিঃস্ব ভিখারী তাই আজন্ম কিছুর একটা খোঁজ নিয়ে মানুষ মাইল স্টোন গুলোর দিকে দৌড়তে থাকে।

 একটা জীবন কিংবা ধরে নেওয়া যাক একটা মানুষ তার সম্পর্ক সবটুকু নিংড়ে জানা সম্ভব নয় হয়তো ঈশ্বরও তার নিজের সাজানো গুটি ,কাঠপুতুল সব নিয়ে খেলছেন খেলার দান সে জানে কার হার কার জিত সেটুকু তার নিজেরই লেখা ,...তবুও তবুও ওই
একটা বিন্দু খুব সন্তর্পনে একটা ম্যাজিক দেখিয়ে সাজানো খেলার মোড় পাল্টে ফেলে তখন হয়তো ঈশ্বরও হেরে যান কিংবা অবাক হয়ে যান তার সাজানো খেলায় তার লেখা গল্পে একটা ছোট্ট বদল
বদল নাড়িয়ে দেয় ঈশ্বরের ঈশ্বরত্ব।

মানুষ জানে এই পৃথিবী গোল ফিরে আসে সব কিছু
অথচ বিন্দুর গল্পটা মানুষ  মানে না হয়তো বা একটা জানার অহং তার বড্ড বড় আকারে ঢেকে দেয় মন মস্তিষ্ক , 
ঈশ্বর তখন নির্বাক দর্শক ছাড়া কিছুই নয়,
সেখানে মানুষ ঈশ্বর নাকি  বুকের ভেতর ওই বিন্দু যার ভেতর লুকোনো ম্যাজিক....কে বলতে পারে?

© সই (ম্যাজিক বিন্দু)

আমি অনন্ত

মানুষ মরে গেলে বড্ড দামী  কাফন সরিয়ে
শেষ বার দেখে নেওয়া যেন জীবনের পুঁজি
টুকু ...
সম্পর্ক অবশ্য মরে গেলে সস্তা হয়ে যায় ,
জানা আর আবিষ্কার ফুরিয়ে গেলে রহস্য
থাকে না আর আবরণ হীন সম্পর্ক বে _স্বাদ,
তবুও যখন গাছেদের সামনে দাঁড়াই মনে জোর
পাই ,দেখি মাটি আঁকড়ে বাঁচা কাকে বলে দেখি
শিখি  মরতে দমতক মাটি ছাড়ে না ,
আমি রোজ এই গাছের কাছে ঋণী হতে ভালোবাসি
হারতে ভালোবাসি ...তাইতো বাঁচতে ভালোবাসি ,
 সম্পর্কের কাছে হেরে যাওয়ার গন্ধ থেকে বহুকাল গা ধুয়ে স্নান সেরে নিতে শিখে গেছি  ,
 যেমন শিখে নেওয়া একটা অভ্যাস মানুষের  

আসলে মানুষ পারে ...সব পারে ভালো থাকতে মন্দ থাকতে
নিজের ভেতর অজস্র উৎসব রোশনাই আলো অন্ধকার
এতো কিছু তো এক মানুষ পারে নিজের ভেতর দেখতে আর
সে দেখা টুকু মুঠোয় কুড়িয়ে নিতে ... ,,
কই সূর্যও তো পারে না অন্ধকার দেখতে  কিংবা শোক কখনো সুখ দেখে না  অথচ এক মানুষই পারে আলো অন্ধকার শোক সুখ সমস্ত জীবনের অলংকারকে স্পর্শ করে দেখতে চোখ দিয়ে কান দিয়ে নাক দিয়ে অনুভূতি দিয়ে ...
অথচ আমরা সাজানো দুঃখ নিয়ে সাত সতেরো কাহিনী লিখি
হাততালি বাহবা আর আহা শুনতে ভালোবাসি কেনো বলতে পারো ?
 আসলে সব থাকা কিংবা অভাব না থাকাও যে এক রকম অভাব ,,
আমি নিঃশ্বাসে বিশ্বাস রাখি বিশ্বাস রাখি আমির ভেতর আমি
যে আর এক দৃষ্টা তার ওপর , 
ভেতরের সে অনন্ত যার জন্ম নেই নেই মৃত্যু ,নেই সুখ নেই শোক, নেই ভালোবাসা নেই মন্দবাসা ...এক সদাহাস্য 
অনন্ত সে আমি প্রবহমান আদি থেকে অনন্ত ।

©সই (অনন্ত আমি)

রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪

যে ভাবে আসা যায়

যে ভাবে আসা যায়  চলে  আয় 
যে ভাবে রাখা যায়  রেখে দে, 
যে ভাবে ছোয়া  যায়  ছুয়ে থাক 
যে ভাবে আজ টুকু জুড়ে  বেঁচে 
থাকা সে ভাবেই  বাঁচিয়ে রাখ প্রহর,
যে ভাবে ব্যার্থতা উড়ে যায়  আকাশে
সে ভাবে নালিশ যাক  উড়ে, 
আয় চলে আয় এভাবে আসা যায়,
আয় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে জড়িয়ে
নিয়ে জুড়িয়ে নিই দহন যত, 
আয় এ জীবন ভালবেসে 
আয় আয় বিনা আপোষে, 
আয় রোজ কার ডালে ভাতে 
আয় শব্দহীনতার শব্দে 
আয়  যে ভাবে আসা যায়। 

©সই (যে ভাবে আসা যায়) 

শুরুর থেকে

এক সময় যেখান থেকে শুরু করে মানুষ সেখানে
চাইলেও ফিরতে পারে না ,
ফুরিয়ে যাওয়া গুলো ভরে ফেলতে পারে না,
এক পথে হাঁটলেও পেছনে ফিরলে সে পথ অন্য রকম
পথের বাঁক ডানদিক বাঁদিক বদল হয়ে যায় ,
সহজ টুকু যেনো অসহজ হয়ে ওঠে ,
মানুষ ভাবে শুরুর থেকে শুরু করলে ভুলচুক
মুছে ফেলা যায় ...যায় কি? 
এক জন্মে একটাই পথ সে পথে একবার হেঁটে যাওয়া
একবার প্রথম স্পর্শ তারপর ভিটে মাটি সব কেমন
এরকম ...একদিন একঘেয়েমি বদলে নিতে চাইলে,
নিজেকে শুরুর থেকে নতুন করে ভাবতে চাইলে হয় কি?
সব মানুষ সাধক হলেও সব মানুষ সাধনা জানে না ...
জীবন তো সাধনা ।

©সই (শুরুর থেকে)


গল্পের বুনন

গল্পের বুনন আগের মতোই দেখতে 
তবে সুতোর টান এখন আলগা আগের
মত জমাট আকুতি আর বুননের ভেতর নেই ,
উত্তর কিংবা দক্ষিণ সব বারান্দাই প্রতীক্ষাহীন,

সম্পর্ক নিয়ে অংক গুলো বড্ড জটিল 
একটা অদ্ভুত ভাগ শেষ ফ্যালফ্যাল করে প্রশ্নচিহ্নর
মত তাকিয়ে থাকে ...তাকে না পারা যায় ফেলতে 
না পারা যায় জমাপুঁজিতে রাখতে ! 

গল্প গুলোর ভেতর বড্ড চিৎকার কোলাহল  আর
অহংকার .... রোশনাই যেনো চোঁখ ধাধিয়ে দেওয়ার
চাতুরী , 
অথচ গল্পের বুননে একটা ভরসার হাতছড়ি সব্বাই 
হাতড়ে বেড়াচ্ছে টানা _ বানার ভেতর,
সুতোর টানে এক অদ্ভুত আর্তনাদের নকশা,
বুনন যেনো দল ছুট মেঘের মত দিশাহীন ,
অথচ গল্পের বুনন হুবহু আগেরই মতন দেখতে ।

©সই। (গল্পের বুনন)





দু চার পয়সার ক্ষিদে

দু চার পয়সার ক্ষিদে আমার ,...এই দু চার পয়সার ক্ষিদের জন্য দু চার কোটি ব্যার্থতার সাথে আমি রোজ ঘর করি ,
দু চার পয়সার ক্ষিদে আমার, ... এই দু চার পয়সার ক্ষিদের জন্য তোমার মিথ্যে কথা দেওয়াকে সত্যির মত গুছিয়ে রাখি আলনায় ,
দু চার পয়সার খিদে বলেই ব্যালট বাক্সে অজুহাতের আঙুল রাখি বারংবার ,
দু চার পয়সার ক্ষিদে আমার ...তাই তো তোমার তাসের ঘরে
রাজা রানী সাথে আমি জোকার সাজি  , 
তুমি বলো তাসের নয় এ ঘর নাকি বিশ্বাসের ... হ্যাঁ বছর পাঁচ কাঁচ বয়ামে রাখা প্রতিশ্রুতির আমসত্ত্ব ,
তবুও আমার দু চার পয়সার ক্ষিদের জ্বালা তোমার মিথ্যে গুলো ঝাপসা করে খুব সহজেই ,
দু চার পয়সার ক্ষিদের জ্বালায় আঙুলে আজ নাগরিক আন্দোলন,
দু চার পয়সার ক্ষিদের জন্যে রাষ্ট্র কেমন ভিক্ষে করে ,
দু চার পয়সার ক্ষিদেতো তোমার আমার দল বদল,
দু চার পয়সার ক্ষিদে নয় স্রেফ ... দু চার পয়সার দেশ বিকোয়, সমাজ বিকোয় ,নিয়ম বিকোয় ,বিকোই তুমি আমি ,  বিকোয় ভালোবাসা ,বিকোয়  ঘর জমিন ,বিকোয় ইমান।

©সই(দু চার পয়সার ক্ষিদে )

পাখির চোখ

আমি আজো তোমাকে ঠিকি বুঝি ,তোমার 
চোখের শব্দরা বোবা নয় ওরা আমায় যত্ন করে তোমার শোকের কারণ বয়ান করে ,
আমার সাথে তোমার খেলা মাত্র দিন দুইয়েকের..
তারপর আবারো গোপণ অভিসারে কিছু দিন মনে মনে...
কিছুদিন মনে মনে...তোমার নতুন আলিঙ্গন ...তোমার আলোর আলেখ্য লেখা ।

আমি বুঝি... এখনো হলপ করে বলতে পারি এই আমিই তোমায় ঠিক চিনেছি ...আর এই তুমি শব্দটায় আমি নেই কোথাও,,
হ্যাঁ হয়তোবা ঝারন কাপড়ের ভূমিকায় তোমার ক্লান্তি ঝেড়ে
ফেলতে আমাকে ইসামাল করো কখনো  কোথাও,
আমি প্রিয় জন সেদিনও  ছিলাম না  আজও নয় ,,
হয়তো আমার মত মানুষগুলো চিরকাল ঠকতে জন্ম নেয়
হয়তো আমার মত মানুষগুলো কখনো প্রিয়জন হয় না হয় 
প্রয়োজন  হয়েই থাকে।

আমি আজও সময়ের লাইন দাঁড়ানো সম্পর্ক গুলো বুঝি ঠিকই,  তোমার মত হরেক রঙ আমি রং দানিতে দেখেছি
বুঝি শোক সুখ প্রয়োজন প্রিয়জন ,ইচ্ছা আর ভালোবাসার রং
আসলে ঠিক কেমন ,
বৃথা দাঁড়িয়ে থাকি কিংবা বৃথা নয় সময়ের  সড়ক রাজপথ বাইপাস ছেড়ে আকাশে পাখির চোখে আমি সাজানো
সংসার দেখি ...
সংসার শব্দটা বড্ড মজার জানো এখানে একটা অভ্যেস কে বেঁধে দেওয়া হয় বুক পিঠের সাথে ... তারপর নাম দেওয়া হয় নিয়ম ,
আবার এক হয় লুকনো মনের ভেতর আর এক সংসার 
তার অন্তর মহলে গোপন অভিসার ...
স্রেফ খেলা গুটির দান বড্ড মজার ...

আমি তোমার ভেতরের সংসারটা বড্ড স্পষ্ট দেখতে পাই  মান্যবর 
আসলে পাখির চোখে কোনো আবরণ ঢেকে দেওয়া যায় না ,
একদিন ভালোবেসে দেখো তুমিও  ঠিক পাখির মত সবটুকু দেখতে পাবে ।

©সই ( পাখির চোখ)

কাকে বলবো

কখনো কখনো আকাশ নেমে আসে বুকের ওপর
দম বন্ধ করে দেয় ,
দুহাত দিয়ে ঠেলে সরাতে গেলেই আকাশ কথা বলে ওঠে
বলে এক আকাশ নাকি আমার চাওয়া ছিলো ,
চাওয়া ছিলো মুক্তি ...আর যখন মুক্তি আমার বুকের পরে মুখের পরে তখন দম বন্ধ বুকের ভেতর হুহু কান্নার বেনো জল
ঢুকে পড়ছে সব টুকু খালি জায়গায় ,

কাকে বলবো আসলে মুক্তি চাইনি  চেয়েছিলাম জড়িয়ে
বিশ্বাসে নিঃশ্বাসে আশ্বাসে বাঁচা টুকু ,
কাকে বলব আজ এক বুক  খালি মুক্ত আকাশ আমার 
বুকে অথচ আমি উঠে দাঁড়াতে পারি না এই মুক্তির আকাশটা সরিয়ে ...কাকে বলব আকাশটা তুলে ধরো আমার নিঃশ্বাস
বড্ড একলা ...একলা আকাশ নিয়ে বাঁচা বড্ড দুঃসহ।



©সই (কাকে বলবো)

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০২৪

তোমাকে বলা হলো না

অজস্র অজুহাতে সম্পর্ক হরিয়ে যায় ,
কথা ফুরিয়ে যায় একদিন হঠাৎ,
ভুলে যায় অনন্ত ভালোবাসার মুহূর্ত
ভুলে যায় গোধূলী ছুঁয়ে বেলি ফুলের গন্ধে
শিহরিত নির্বাক কথোপকথন ।

অথচ তারপর কত কথা কত বাকবিতণ্ডা চলে
বলা হয় না একটিমাত্র কথা ....
বলা হয় না রাত ভোর হতে না চাওয়ার গল্পেরা  
মরে না কখনো ।
বলা হয় না ভেজা ঠোঁটের রঙে মাধবী লতা আজীবন 
একটু উষ্ণতার জন্য অপেক্ষায় রূপসী হয়ে ওঠে....,,

এত্ত কথা এত্ত জড়িয়ে বাঁচার বাসনা তবু দেখো আমরা 
পিঠোপিঠি দাঁড়িয়ে সফর আলাদায়  ব্যস্ত ।

তোমাকে বলাই হলো না  'অনন্ত প্রেমে ' নামে বাগান বাড়িটার
সত্যি খুব দরকার ছিলো আমাদের  ....
তোমাকে বলা হলো না সত্যি পুরুষের মত করে কোনো নারী কখনোই ভালবাসতে পারে না... ভালবাসতে  পারে না ।


©সই (তোমাকে বলা হলো না )








আমাকে ছেড়ে গিয়ে

"আমাকে ছেড়ে গিয়ে তোমার সাম্রাজ্য জয় করার কথা ছিলো
অথচ তুমি কিভাবে যেনো সর্বহারা হলে ।
অদ্ভুত বদলে গেলো তোমার রাজ রূপ চেহারা, 
ঝাঁকড়া চুলের আকাশ টা এক নিমেষে
 কালা পানীর দেশের অন্ধ কুটুরি হয়ে গেলো,,
তথাগত মূর্তি বদলে গেলো দেবালয়ে
ধূপের গন্ধ বদলে পুড়ে যাওয়া মাংসের গন্ধ,
বদল গুলো তোমার ডানার পালক ছিঁড়ে পঙ্গু করে দিলো
অসহায় তুমি হাসতে ভুলে গেলে  ভুলে গেলে কাদতেঁ ,,
আমাকে ছেড়ে গিয়ে তুমি আর তুমি রইল না গোটা উপন্যাসের সংলাপ বদলে ফেলে হঠাৎ তুমি রাজা থেকে সর্ব হারা ভিখারীর চরিত্রে সেজে উঠলে...।

তুমি আলো ও উত্তরণ চেয়েছিলে 
আমি তোমার ভালো তে বাস করতে চেয়েছিলাম ,
আজ হিসেব মেলে না ...আমাকে নিলাম করতে করতে কখন যেন তুমি সর্বস্ব টুকু নিয়ে বিকিয়ে গেছো অন্ধকারের কাছে,
আমার পাতার কুটিরে আজো চাঁদ জোনাকী রাতের বুকে মাথা রেখে  এক সাথে ভালবাসার কথা বলে  স্বপ্ন লিখে রাখে মাথা সিতানে তারপর নরম ঘুমাতে যায় একটা শুভ সকাল কে আলিঙ্গন করবে বলে ,
অথচ তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়ে চোখের উপত্যকায় অন্ধকার নগরীর সাক্ষর লিখে নিজেকে সর্বহারা করলে।

©সই (আমাকে ছেড়ে গিয়ে)




বুধবার, ১৫ মে, ২০২৪

লাম্পট্য প্রেম

আমি ওই লাম্পট্য প্রেমে পথ হারিয়েছিলাম
শতাব্দীর শুরুতেই,
ভেবেছিলাম স্নিধ প্রেমে স্নান সেরে জোৎস্নার নিচে 
সংসার পাতবো ,
একটা বুনো ফুল বুকের ঘরে চিরকুটে লিখে পাঠিয়েছিল
লাম্পট্য কখনও প্রেমিক হতে পারে না ,
আমি বাজী রেখে ছিলাম আমার একমাত্র হৃদয় 
আজ সে বুনো ফুল ঝরে গেছে ... চিরকুট হওয়ায়
হারিয়েছে কবেই  আমাদের ঘর গড়া হয়নি 
আমি হৃদয় হারিয়েছি হেরে যাওয়া বাজীর কাছে ,
তুমি ও বুনো ফুল বাস্তব .... আমি হয়তো রূপকথায় বিশ্বাসী
হতে চেয়েছিলাম ,
তবুও শেষ বার্তা রাখা রইলো সে অচেনা বনফুলের কাছে ,
আমি আজও পাহাড়ের মত ধ্যানী ,সমূদ্রের মত সুন্দর ,
আর বুকের ভেতর আকাশ রাখি।

©সই (লাম্পট্য প্রেম)

এ শহরে

এ শহরে অন্ধকার নামলে মনুষের মুখের আদল বদলাতে থাকে , 
দিনের আলোয় যা ভ্রম মনে হয় অন্ধকারে তাই ঠিক
মনে হয় ,
একা মন গুলো অপেক্ষার স্টেশনে অচেনা মুখের জন্য
দাঁড়িয়ে থাকে ... হঠাৎ যেকোনো হাত খুঁজে নেয় আর হারিয়ে যায় কুয়াশার ভেতরে।
এসব কিছুই কেউ কেউ বেচেঁ থাকার ভেতর রূপকথার
মত করে দেখে ... শরীর মন থেকে ক্লান্তি নামিয়ে হালকা করে নেয় দেহ - মন ,
 চোখের ইশারায় বদলে যায় চরিত্র অথচ
সকালের আলোতে সেই একই মানুষ সাধক ,,

জীবনের তলে থিতিয়ে থাকা অনুভুতি ঠিক কেমন হয় কে বলতে পারে সঠিক  করে ? 
জানি না মানুষ , কুকুর কিংবা পাখির দুঃখ কোথাও কি একই রকম ?

এ শহরের পথ ধরে যতবার হেঁটে যাই বিস্ময় আর আবিষ্কারে ডুবতে থাকি , 
একটা নেশার ভেতর জীবন ছুটছে এখানে 
সময়ের বর্ণমালায় সাজানো প্লাস্টিকের সম্পর্ক,
অনুভূতি হীন স্পর্শ ... হোটেলের রুমে দুঃখ ঘোচানো
ম্যারিওয়ানা প্রেম ,
 দেশলাই বাক্সে রাখা সংসার সেখানে থরে থরে সাজানো গোছানো দায়িত্ব কর্তব্য লৌকিকতা,
বড্ড বিস্ময় লাগে অথবা বলা যেতে পারে ঘোর লাগে 
মাথা ঝিম ঝিম করে বুঝে উঠতে পারি না এই মানুষ মন
স্থির আত্ম তুষ্টি কিসে পায় ! নাকি এই অস্থিরতা সমস্ত বেচেঁ থাকা জুড়ে বটের শেকড়ের মত আষ্টেপৃষ্টে আকাশ ছুঁতে চায় 
অথবা মাটির গহীনে .......,,

©সই (এ শহরে)









মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪

ফেরা যায় না

আমাকে প্রেম দিও না নতুন করে
কারণ আমি তোমার   নৃশংস অপ্রেম দেখেছি
খুব কাছ থেকে ,
আমাকে বিশ্বাস করতে বোলো না 
কারণ আমি বিশ্বাসের দাম দিয়েছে তোমার
বিশ্বাসঘাতকের ছুরির  ডগায় হৃদয় রেখে ,
আমাকে অমরত্বের কথা বলো না  কারণ আমি
মরণ কে লক্ষ্যে রেখে বেচেঁ থাকাটা উৎসব ভাবতে
শিখে নিয়েছি।
 আমাকে তুলনাহীন বলো না কারণ
এই তুমিই আমাকে অলিখিত কারণে তুলনার দাঁড়িপাল্লায়
ওজন করেছো বহুবার ।
আমাকে ধর্মের কথা বোলো না আমি তোমার কাছ থেকেই একদিন নাস্তিক হওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছি,
আমাকে শান্তির কথা বলো না আমি এখন রক্ত মেখে
যুদ্ধের সামিল হতে অভ্যস্ত,
আমায় বৃষ্টিতে ভিজতে বলো না আমি আগুন খেতে শিখেছি
তোমার জন্যেই ,
আমাকে ফিরে আসার বার্তা পাঠিও না আমি সীমানার বাইরে
 এসে গ্রহ বদলে ফেলেছি ,
মরে যাওয়া নদীর ক্ষয়িষ্ণু কে আয়ূরেখা দান করা যায় না 
মৃত্যুর নারকীয় উল্লাসে ফুলের বাগান গড়তে পারা যায় না 
মান্যবর তুমি যে আমাকে আদ্যোপান্ত বদলে দিয়ে 
দরজায় দাঁড়িয়েছো পুরনো আমির অপেক্ষায় ,
তুমি কি জানো না মরণের ওপার থেকে ফেরা যায় না ।

©সই ( ফেরা যায় না)



সই (৮১)

যখন একলা থাকা ভালো
 লাগতে শুরু করলো 
তুই দরজায় কড়া নাড়লি...
আর  যখন তোকে ভালো লাগতে শুরু করলো
তুই একলা করে দিলি ...

©সই 

হারিয়ে যাওয়া সাঁকো

মেঘ রাতে আধফালি চাঁদ আর হারানো সেতু দুটোই ভেসে
উঠেছে বুকের জলে ... ফুরোনো আকাশ কুরোনো  স্পর্শে
কেবল ভাঙা ঘরের ফুঁপিয়ে ওঠা কান্না লেগে আছে ,

এ শহরে মনের অসুখ দিন দিন বাড়ছে  জ্যৈষ্ঠএর জমা রোদ্দুরের নিচে ভ্যাঁপসা জীবন নিয়ে মানুষ বয়সের ঘরে
এক্কা দোক্কা খেলে এগিয়ে যাচ্ছে  অ-সুখ জড়িয়ে ,
একসময় সবটুকু অভ্যেস হয়ে যায় ।
খোলা গড়ের মাঠে ঝিম ধরা আয়নায় নতুন প্রেমের গান
ভালোবাসার রং গাঢ় করে নিতে চাইছে  আবারও কেউ,
ওরা জানে কিংবা জেনে যাবে এ প্রেমের গান মিথ্যে হবে একদিন, 
 এই দেওয়া নেওয়ার সাঁকোটা ডুবে যাবে ..
যেমনটা আগের সব কাহিনীতে দৃশ্যত হয়েছে ,
মাঝ রাতে আকাশ চাঁদ সব সব দাগা দেবে ,

শুধু একটা নিষ্ঠা ভালোবাসা চিরকাল গোপনে চোখের জল
মুছে হেসে বলবে ভালো আছি ।

©সই (হারিয়ে যাওয়া সাঁকো)




সোমবার, ১৩ মে, ২০২৪

সই (৮০)

এই স্রোতে রাখা জীবন 
কখনও একলা কখনো প্রবাহে মিশে থাকে
হাজার আলাপন,
নদীর আয়নায় কেবল নিজের অস্তিত্ব দেখা যায় 
নির্ভেজাল,,
 একদিন  এসো চামড়ার সমস্ত  প্রসাধন ধুয়ে ফেলে দিয়ে
আমাদের আরো একবার না হয় দেখা হোক এক 
নির্জন সুন্দর মুহূর্ত সাক্ষী রেখে ।

©সই (





বৃষ্টি এলেই

বুকের ভেতর একটা লুকনো সত্যি
আর বাইরে একটা অদ্ভুত খেলা ...
মন আর মস্তিষ্কের মাঝে ভ্রম লাগা সম্পর্ক,
ক্লান্ত রুমালের ভাঁজে বাসি  পিছুটান 
ক্যানভাসে আধ খোলা হৃদয়  .... হ্যাঁ ভাবনারা এভাবে
এলোমেলো আজকাল ,
 আসলে আজকাল শহরে যখন তখন আগাম বার্তা না দিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে  ...ধুয়ে যাচ্ছে সম্পর্কে রঙ ,,
 আসলে বুক থাকলে বুকের মর্ম বুঝতে পারে কজন সুখ থাকতে যেমন শোকের মর্ম বোঝা যায় না ,
মুখ মুখোশ সম্পর্কে মিশে যাচ্ছে রোজদিন।

আমি হৃদয়ের ব্যারিকেডে রাখা সাজানো সম্পর্ক দেখে হাসতে হাসতে
আকাশের দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলি ,
আমি বিশ্বাস ভাঙার গল্পে হাঁটতে হাঁটতে বিশ্বাস করতে ভুলে যাই ,
মানুষের ভেতর অনেক আশ্চর্য মৃত্যু ঘটে রোজ দিন  তেমনি অনেক আশ্চর্য বোঝাপড়ার জন্ম হয় ,
এই যে আমার ক্যানভাসে ক্রমাগত তোমার অবয়ব বদলাচ্ছে এটাও এক অদ্ভুত জন্ম মৃত্যুর খেলা ,
তুমি কিংবা ওরা রোজ এভাবেই নানান খেলায় আমায় সামিল করো
আর আমি স্রেফ রং তুলি দিয়ে সে খেলাটা  আদি অনন্ত আঁকতে থাকি ,

আমার পাখির চোঁখে গেঁথে যায় এমন কিছু লুকনো গল্প যা তোমার শহরে মাটি ছুঁয়ে থাকলে দেখা যায় না ,

রঙ যে বেশিদিন থাকে না  শ্যাম,
 ফি বছর বৃষ্টি  আসবে গাছেরা ...পাখিরা আর দু একটা নিষ্ঠা মন চিনে নেবে আসল টুকু  জেনে নেবে সত্যি টুকু,
তখন ???

©সই (বৃষ্টি এলেই)






আগুন

একটা দুরন্ত আগুন বুকের ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলছে,
দ্বিধা আর দ্বন্দ্বের মাঝে মন মাথা গুঁজে দিতে চাইছে , 
কেমন যেন সুখ আর অসুখ দুটোই বাসা বেঁধেছে
শরীরের আনাচে কানাচে,

দরজায় দাঁড়ানো অপেক্ষায় অদ্ভুত পাঁচমিশালি গন্ধ 
আমি এসব কিছু সরিয়ে সাঁতরে সেই স্বচ্ছ ঝর্নার নিচে
মানুষ অঙ্গ ধুয়ে নিতে চাইছি ,
চাইছি ইচ্ছের ঘরে একটা নিষ্পাপ আলো এসে 
পূর্বজন্মের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাই,

অথচ চাইতে পারি কই আমার তথগতের কাছে !
তার ধ্যানস্থ রূপের মুখোমুখি বসলেই আমার কথারা
ফুরিয়ে যায় ...
বুকের আগুনটা জ্বলে  অথচ সে আগুনে চন্দন কাঠের গন্ধ ,

আমি  এভাবেই রোজ রোজ ভ্রমের চারপাশে ঘুরে বেড়াই আর অপেক্ষা করি ও আগুন যে দিন বুকের ভেতর থেকে বাইরে এসে ছাই করে দেবে এই দ্বিধা দ্বন্দ্বের অস্তিত্বটুকু,,
শরীরে চন্দন সুবাস নিয়ে তোমাতে শেষমেশ স্রেফ একটা মিলন....।

© সই (আগুন)




রবিবার, ১২ মে, ২০২৪

পুরনো যা কিছু

পুরোনো কোনো মায়ার অনুভুতির ওপর
আমার টান নেই 
অথচ অতি আশ্চর্য যত্নে একসময় সব অনুভতি
তা সে দরকারি বা অদরকারি যাই হোক না 
বড্ড যত্ন করে গুছিয়ে রাখতাম।

আজকাল সুযোগ পেলে মায়া মোহের সব অনুভূতি
ফেলে দিই আবর্জনার বিনে,

বুঝি ইচ্ছার বয়স হচ্ছে প্রাপ্ত বয়স্ক হচ্ছে সব চেনা অচেনা
মুখ মুখোশের সম্পর্ক, চামড়ায় স্বাক্ষর রাখছে সময় ,

তবু শরীরের ভেতর ঘুমিয়ে কিংবা ঘাপটি মেরে বসে
আছে ক্ষয় রোগ ...কোথায় ফেলি সেসব অসুখ ?

©সই  (পুরোনো যাকিছু)





শনিবার, ১১ মে, ২০২৪

আশ্চর্য আবিষ্কার

প্রতিদিন যে তুমিকে  দেখি,
 সে তুমি বারবার   বদলে যাও।
ফলে একই তুমি হয়েও এক আশ্চর্য  আবিষ্কারে
 তোমার দিকে চেয়ে থাকি ।

ভেসে বেড়ানো মেঘদের মত এক বুক আশ্রয় খুঁজতে
খুঁজতে ....তুমি রোজ নতুন শরনার্থীর মতো দেখতে লাগো,


ধরো, তুমি আকাশ পেলে একটা ,
কিংবা ধরো তুমি একটা ঘর পেলে
কি করবে   ভেবেছো?

কিংবা  সংলাপ পাল্টে ফেলে  যদি বলি
আমি মেঘের মত আকাশ খুঁজছি শরণার্থী হয়ে
তুমি কি আমায় নতুন করে আমারই মত আবিষ্কার করতে?

উত্তর গুলো হয়তো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে এই পৃথিবীর কোন এক কোণে।
সময় এখন বয়স্ক হয়েছে ...
ছোটখাটো এইসব খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ভাবার 
সময় হয়তো আর নেই 

ছাদবিহীন ঘরে বেশি দিন থাকা যায় না সবাই জানি। 
স্বপ্নের ছাদ না হয়  নাইবা হলো  নাইবা হলো ঝকঝকে  
কাঁচ দেয়াল রূপকথার মতো গোছানো জীবন্ত বসবাস।
তবু তো কোথাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে
 আশ্চর্য আবিষ্কার একটা গোটা জীবন রইলো।

 আমাদের মন দেওয়ালে বোবা কান্না গুলো শান্ত ছবির মত
পরস্পরকে দেখতে থাকে .... নিখুঁত একটা উত্তর জানতে চায়
আলুথালু ভাঙ্গা সংসারটার বাসনগুলোর দিকে তাকিয়ে,
কাঁচ দেওয়ালের বারান্দা ,ছবির ক্যানভাস ,কবিতার খাতা 
সব কেমন মেঘেদের মত পরিযায়ী,  কেউ কাউকে বিশ্বাস করে স্থিতু হতে পারলাম কই ?


©সই (আশ্চর্য আবিষ্কার)

এখন



এখন 
******

স্বৈরাচারীতাই আমি বেছে নিয়েছি  এখন,
 আমার পরিচয় খুঁজতে হলে তোমার রাজ বেশে মলিনতা ছুঁতে পারে 
 আমি পোশাক  খুলে নিঃস্বতায় জীবন রাখি ........
তুমি পোশাকে ভালোবাসা খুঁজে নাও  .............,
এই মন জুড়ে  আগুন  তো ছিল জন্ম লিখনের সাথেই .....
 তুমি শুধু বৃষ্টির অভিনয় করে যেতে পারতে আরো কিছু দিন ......…. 
কে  বলে দেবে  আজ .....তুমি ঠিক ছিলে  আমিও ভুল ছিলাম না .................
শুধু সময়টা আমাদের ছিলো না ।

শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪

ইথার তরঙ্গে



ইথারে ভাসছে একটা ফেলে আসা ভালোবাসাময় গল্প,
 সে গল্পে এখন আগন্তুক নতুন মেঘেদের  আনাগোনা 
পিয়নের ভূমিকায় তুমি আবার প্রেমিকের ভূমিকাতেও তুমি 
মেঘ মল্লারের বাঁধের ওপর একটা বিষণ্ণ হৃদয় হাঁটু গুঁজে
জলের ওপর পুরনো দিনের ছবি খুঁজছে,
তুমি তাদের পুরনো পাণ্ডুলিপি পড়ে শোনাতে চাইছো ,
চাইছো এক আকাশে আগের গোলাপী মেঘ আর একবার
সংসার সাজাক , 
আসলে স্মৃতি বড্ড শয়তান
স্মৃতি ঈশ্বরে মত ক্ষমা করতে পারে না ,
 তুমি গোপন তুনিরে বান সাজিয়ে আবার একটা যুদ্ধের
নাটক মঞ্চস্থ করতে চাইছো ,
ভালোবাসার শহর অনেক মৃত্যু দেখেছে ...দেখেছে 
শোক কে বর্ণহীন হতে ,, তাই তার বুকের ভেতর হৃদয় বুঝি
বোধ আর বোধোদয় দুই সিদ্ধস্থ হয়েছে,,
তুমি আবার একটা মেঘের কবিতা লেখো
 হয়তো এবারের বৃষ্টি একটা শুদ্ধ স্নানের সাক্ষী থাকতেও পারে! ,
কিন্তু একবার মৃত্যু হলে আর কি ফেরা যায় মান্যবর??

©সই (ইথার তরঙ্গ)









অন্য ভালোবাসা

বেঁচে থাকার ভেতর জীনের প্রদীপ খুঁজতে
তোমার থেকে দূরে কোনো গভীর বিচ্ছেদে
হাঁটছি,
 হয়তোবা একটা অসমান  - বুক  খুঁজতে খুঁজতে
চেনা নদী পথ দেওয়াল সিঁড়িঘর সব পেছনে রেখে
এগিয়ে আসলাম,
জানতো খোঁজ জারি থাকে ...অভাব না থাকলেও
তুমি শিখিয়েছিলে মানুষ শূন্যতা নিয়ে নাকি বেশিদিন বাঁচে না ,

জানো এ নতুন শহরে শিশির বাতাসে এক অদ্ভুত বৈরাগ্য আছে, পুরনো কালশিটে দাগ নিমেষে উধাও হয়ে যায় ,,

এখানে ভালোবাসার বাজারে লাল গোলাপ সবাই কেনে রোজ
রোজ ....নিজের জন্য।
অবাক লাগে জানো মানুষ নিজেকে এত্ত জড়িয়ে ভালোবাসে !
 আচ্ছা তুমি কখনো ভালোবাসার মানুষের জন্য কেঁদেছো ডুকরে কিংবা রাত জেগে বালিশ আকড়ে সেই মানুষটার অভাব বুঝেছো? 

এখানে মানুষ ভালোবাসা জন্য নিজেকে জড়িয়ে নেয় 
কিংবা মোহহীন ভালবাসা  একতারায় বৈরাগ্য খুঁজে নেয়,

© সই( অন্য ভালোবাসা)







মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪

আর্ট অফ লিভিং

যে তোমাকে চেয়ে একদিন এই আমি ভালোবাসার
আয়নার মুখ দেখেছিলাম সে তুমি অন্য কেউ ছিলে ,
সেদিনের সেই মন মুখ আজ কোথায় যেন ভিড়ে
হারিয়ে ফেলেছি ,

কয়েক বছর পর পড়ন্ত গোধূলীর কাঁধে মাথা
রেখে তুমি আমাদের একান্ত সময়কে নিলাম করছিলে
আমি অবাক হয়ে সেই আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখা ভালোবাসার
মানুষটাকে এক পলকে হারিয়ে যেতে দেখলাম ,,

টের পেলাম আমিই আসলে সেই পুরোনো আমি
আর নেই ... পোশাকি চামড়া বয়ামের মন সব
কেমন অন্য আমি ,, 
তুমি এখনো ছটফটে মেঘ আগেরই মত।

রূপকথার শেষে
... যুক্তি তক্ক মেনে একটা হিসেব মিলিয়ে একদিন তুমি
ছাদ বদল করলে ...ভালই করেছিলে 
রোজ রোজ একই ছাদের নিচে দুটো মন অচেনা
আর বিরক্তি নিয়ে বাঁচার চাইতে এই ভালো
 ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ দেখা হওয়া...
আর যায় হোক এমন হঠাৎ সময়ে কেবল সামান্য
লৌকিকতা বিনিময় ছাড়া তেমন দায় আর থাকে না 
থাকে না কোনো নালিশ ।
একটা নিপুণ অভিনয় আমরা দারুন ভাবে রপ্ত করেছি।

©সই ( আর্ট অফ লিভিং)







হার জিত

তুমি হয়তো আবার হেরে যাবে আমার জিত টুকুর
গায়ে স্বাক্ষর রেখে ,
আমিও ঘুম ঘোরে তোমায় ভেবে শিউরে উঠবো 
একটা দেশ তখন জানবে কেবল গণতন্ত্রের অধিকার
মানে আবারো একবার ঠকে যাওয়া ,
তোমার আমার আমাদের  সহস্র ভয়ের গল্পে ওরা
সভা সমতি সরগরম করবে ঠাণ্ডা ঘরের চেয়ারে হেলান দিয়ে ,
একটা দেশ বারংবার জিতে যাবে ভেবে হারের ভেতর তলিয়ে যাবে .... এ  শহরের প্রেমিক প্রেমিকা তখনও প্রেমের কিংবা বিরহের কাব্যে মাতোয়ারা হবো ,
কি যায় আছে বলো কি যায় আসে একটা দেশ কতটা ভাঙছে
কাঁদছে কিংবা বিকিয়ে যাচ্ছে !
আমরা টাকা রোজগার করছি শপিং করছি রেস্তোরাঁয় খাবার
আর হোটেলের রুমে স্পর্শ খুঁজছি, 
কেউ কেউ চার ফুট বাই চার ফুট বেচেঁ থাকতেও দিব্য ভাত ফুটিয়ে সঙ্গমে মেতে সংসার বিয়োচ্ছে ,
সবাই আপন আপন উঠোন নিকোয় বাসন মেজে স্নান সেরে
সাফ সাফাই করে ,
এখানে গণতন্ত্র কোথায় জানতে চাইবেন না কেউ 
এখানে দেশ কোথায় কারো মাথা ব্যাথা নেই ,
আসলে আমরা রোজ আকাশ ছুঁয়ে দেখার নামে মাটি হারাচ্ছি
আর হেরে যাচ্ছি ,
হেরে যাচ্ছ তুমি আমার মত দেশদ্রোহীর গায়ে জিতের স্বাক্ষর টুকু রেখে , 
অথচ আমি ঘুম ঘোরে শিউরে উঠলেও তোমায় সে কথা
বলবো না  কারণ আমি রাজতন্ত্রের সেপাই ।

 ©সই (হার জিত)

সোমবার, ৬ মে, ২০২৪

বোঝাপড়া

লুকনো শোক তোরণে সাজানো থরে থরে
প্রতিটা সূর্যাস্তের কাছে সকাল হারানোর মন
খারাপ রাখা , 
 আমাদের যৌথ ঘরে হাহাকার
বেদনা নিঃস্ব হওয়ার কান্না গুলো একই ভাষায়
কথা বলে অথচ আমার পরস্পরের কাছে বড্ড অচেনা ,

বোঝাপড়া যে একটা ক্রমশ দূরত্বের নামকরণ
সেটা বুঝতে এক জীবন লেগেই যায় ,
তাই সময়ের সাথে মানচিত্র দেশ ঘর সব বদলে যায় 
বদলে যায় একটা মানুষ আদ্যোপান্ত।

©সই (বোঝাপড়া)




তোমার কাছে যখন যখন

নদীটার শরীরে পুরোনো গন্ধ আর নেই
তবু এই নদীটার গা ঘেঁষে আমি বসতে ভালোবাসি ,
ওর পাশে বসলে আমার চোখের মণি এখনও 
রূপকথার মত নীল হয়ে যায় ,
মেঘের পুরোনো স্বভাব যার জন্য একদিন ভালোবাসার
জন্ম হয়েছিলো পরস্পরের মধ্যে সে স্বভাব বদলে গেছে
তবু আমি আলতো পায়ে মেঘের বুকে হেঁটে বেড়াতে ভালোবাসি কারণ   ... রূপকথার রাজকন্যা হয়ে উঠি 
ওই মেঘ যখন আমায় ওর বুক পেতে দেয় ।

ভাঙা পোষ্ট অফিসে আজ আর কেউ চিঠি পাঠায় না কোনো
ঠিকানার উদ্দেশ্য  তবু আমি প্রায়শই একটা মিষ্টি অপেক্ষা নিয়ে ও পথ ধরে ফিরি কারণ ওই অপেক্ষা আমার গলায়
পরিয়ে দেওয়া অযুত বছরের ফুলোমালাকে আজও সতেজ
আর সুরভিত রেখেছে ,
আমার মন্দ বাসার শহরটা এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছে তার শরীর
জুড়ে সময়ের ভাঁজ অথর্ব তার সব প্রেমের ভাবনা  তবু
 নিয়ম করে এই শহরে আমার প্রেমের গল্পেরা আজও ভীষণ
তরুণ আর ভালোবাসাময় কারণ এই শহরের অলিগলিতে
আমি আজো  প্রেমিকার মত  যত্ন পাই অসম্ভব রকম আমার 
চারফর্মা ভ্যালবাসার গন্ধ নিয়ে  গভীর নিঃসঙ্গতার সাথে
বড্ড ভালো থাকি।

 © সই (তোমার কাছে যখন যখন)




আমার ভিতর

পিছুডাক গুলো বাসি কাপড়ের মত ছেড়ে 
এসেছি বলেই এখন বিকেল গুলো শান্ত নদীর ঘাটে
আমার সাথে বসতে চায় হাতে হাত রেখে ,
ভালোবাসাহীন জীবন বেছে নিয়েছি বলেই পড়ন্ত
রোদ্দুর আমায় জড়িয়ে বলে উষ্ণতা মানে তোমার ভেতর
আমি আর আমার ভেতর তুমি ,
মুঠোফোনে অপেক্ষার রিংটোন বেজে গেলে আমার বড্ড
ঘুম পায়  হওয়া তখন সিগ্ধ পরশ আমায় মোহ মায়া থেকে
অন্য নগরে নিয়ে যায় ,
ক্রমশ বুঝি আমার ঋষভ জীবন আমায় এক পরম বন্ধুর 
 মুখোমুখি এনে বসিয়েছে ,,

সমস্ত পিছু ডাক কোনো এক স্রোতে ও বিসর্জিত ফুলের
মত ...আমি ফিরে গেছি আমার ভেতর নিজস্ব শামুকের
খোলসে  ।


© সই ( আমার ভিতর)






এক মুঠো জীবন

খুব শান্ত আর ধীর পায়ে দ্বিধাহীন বিচ্ছেদ
আমায় ছুঁয়ে গেছে বহু আগেই ,
  বন্ধন এর আবেগ এখন উদাসী পাখির মত 
আকাশ দিকে তাকিয়ে মুক্তি খুঁজে নিয়েছে ,

হ্যাঁ সে মন আর আগের মত উড়তে পারে না
ডানায় তার পুরোনো আগুনের সাক্ষর স্পষ্ট,
সময় অনেক কিছুর মত ইচ্ছার বয়েসে বোধ
এঁকে দেয় , চোখের চশমা বলে দেয় স্বচ্ছ আর
অস্বচ্ছ কাকে বলে ,

মাটি ডাকে ঘুমের বিছানা পেতে
আমি মাটিকে বলি ঘুমিয়ে  পরার আগে গল্পটা
আরো কয়েক পাতা লিখে নিতে চাই... 
লিখে নিতে চাই একটা দ্বিধাহীন বোঝাপড়ার
নাম আসলে বেচেঁ থাকা ,
একটা একলা বেচেঁ থাকা আসলে কতটা প্রয়োজন
একটা জীবন বুঝে নিতে ,
কারণ কবরে ঠকে যাওয়ার গল্প না লেখা থাকাই ভালো
একটা সুস্থ ইতিহাসের জন্য ।

©সই (এক মুঠো জীবন)




তোমার ও আমার কথা

জানি না তোকে ঠিক কোন স্মৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে
তছনছ করবে?
দেওয়ালে টাঙ্গানো কোন ছবিটা দেখে তুই ডুকরে
কেঁদে বলবি আর একবার পুরোনো সময় যদি ফিরতো?
যে বৃষ্টি কখনো আমাদের একসাথে  ভিজিয়েছিল
নাকি যে রোদ্দুর আমাদের একসাথে পুড়িয়েছিল ??

এটাও জানি না কততম প্রেমের আগুনে পুড়ে শুদ্ধ করবে 
একটা প্রেমিকের জীবন?
 আমারটুকু বলতে পারি .....
আমি মাটি আঁকড়ে থিতু হতে শিখে গেছি
আমার ঘুমহীন অন্ধকার রাত্রিরে এখন মিথ্যে স্বপ্নের কোলাহল আর নেই ....নেই বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় ,
বড্ড হালকা পালকের মত দেহ এখন আমার 
আর মন দাঁড়িয়েছে বিন্দুর ওপর ।

© সই ( তোমার ও আমার কথা)