বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

#সই (৫)

 দুজন একই সমান্তরালে না হাঁটলে 
আদর্শ হতেই পারে না  সম্পর্ক ...
দোষারোপে সময় বিতে যায় 
আর সম্পর্ক জমে আবর্জনাখানায় ....

#সই

কান্না

ফকিরের কান্নায় মিশে থাকা হাসির মতো 
এই জীবন...
নদীর গা বেয়ে নেমে আসে সারল্য  নাম ছিলো না সে সম্পর্কের , আবার যদি কখনো দেখা হয় মুখোমুখি  আমাদের অধ্যায় কি মনে পড়বে ?

মনে রাখতেই তো চাই জীবনের ভিতর আলাদিনের চিরাগ , 
মৃত্যুর ভেতর  তো কেবলই মিলিয়ে যাওয়া ......।

এখন ডানার কথা নিজেরই
গোপনে  অস্তিনে লিখে রাখি ,
কেবল  একটা জোনাকি জানে 
নিজেকে পোড়ালে 
আলো হয়ে ওঠে এমন অনেক জনপদ....
যেখানে  ভালোবাসা ছাড়াও কিছু ফুল ফোটে আর দৃশ্যের বাইরে নিজের অস্তিত বিলিয়ে দিতে পারে ।

নিজেকে শামুকে লুকিয়ে জানাতে চাই যে চোখে লেগে থাকা ছবির মায়ায়  প্রহরী ছিলো সজাগ ।
তুমি রং মিলান্তে শব্দ সাজাও আমি একতারার1 ছিলায় জীবন ঝরে পড়তে দেখি ,।


বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১

#সই (৪)

মন যদি একটু হিসেবী হতে পারতো  আগাছাকে ভালোবেসে যত্ন করতো না ....
#সই

সময়ের ফিকির

আমারও কিছু চলে যাবার  দায় ছিলো তাই চলে যেতে হলো ।
সেদিন তুই আটকাতে পরিসনি ....ভেবেছিলাম 
রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সটান খপ্পড়ে মেরে বলবি কোত্থাও যাবি না ....আমি ভাবতে ভাবতে মাইল ফলকে তোর আভিধানিক বিবর্তন দেখতে চাইনি 
যা চেয়েছিলাম তা বোঝাতে পারিনি , 
আসলে আমি অযোগ্য  সেটা প্রমান করতে তোর দেদার কিছু ঘাম ঝরাতে হয়নি ...জানতিস কোথায় ছুরিটা নীরবে পুঁতে দিতে হবে। ,

সব মিথ্যে হয়ে যায়,  নিমেষে সব টুকু সফর, নিমেষে  কেমন বিফলে যায়  ,
প্রতি তিরিশ দিনে  দেড়শো কিলোমিটার ....মাইল ফলকে প্রচন্ড শীত ,গনগনে গ্রীষ্ম , অবিরত শ্রাবণ ,জানিয়ে দিত সফর সহজ নয়  ,,
তবুও তোর ও যেদিন যেদিন তোর মন আচানক বেসামাল হত আমি দ্রুত ছুটে যেতে চাইতাম ওই ঝাঁকড়া  চুল মাথাটায়  স্পর্শ রাখতে ,, 
ফিরতি পথে  জুতোর  ফিতে বাঁধতে বাঁধতে কাছে রেখে আসতাম কিছু সামান্য অংগীকার ....।

গল্পের বোধহয় এমনই হয়  ....নিজের মত বাঁক নেয় পথ  বদলে যায় পথের পথিকের গন্তব্য ,
যে দাঁড়িয়ে থাকে সে গাছ  হয়ে নির্বাক হতে শিখে ফেলে  অসহজে  ,,  ।

জীবনে বড় সুন্দর  কাব্যময় তবু ....এত আশ্চর্য অধ্যায়, এত জন্ম ,এত মৃত্যু , এত অন্ধকারে চোখ গেঁথে দিয়ে আলো খুঁজে নেওয়া ......
আবারও জন্ম হোক এমন আশ্চর্য জন্মের ।


মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

বৃষ্টিরঞ্জন তোমার অপেক্ষায়

বৃষ্টিরঞ্জন তুমি রাতের গভীরে নগর ছুঁয়ে দুঃখ বিলিয়ে যাও ,,

যারা তোমায় বুঝতে চায়নি কখনো তারা টেরও পায় না মাটি আঁকড়ে তোমার এমন সব রাতের দীর্ঘ কান্নার শব্দ কেমন সর্ষের বীজের মত ছড়িয়ে যায় এই নাগরিক জমিতে, ,

রাতভর অজস্র যন্ত্রনায় ও বুকের রক্ত শহরের নিয়নবাতির রোশনাইকে ঝাপসা করে জানিয়ে যাও আকাশ মানে নিতে পারা নয়  শুধুমাত্র ....,

কখনো কখনো আকাশও চায়  শহরের গলি কিংবা মোড়ে তার কথা শোনার জন্য কেউ অপেক্ষা করুক  অপেক্ষা করুক মাটিতে কান পেতে আসন্ন গোপন পথিকের,

আসলে বৃষ্টিরঞ্জন তুমিই হয়তো   বেঁচে থাকার অর্থ
বুঝিয়ে দাও নাগরিক  ব্যস্ত অভিজানিক মানুষ নামে প্রাণীগুলো কে ....আজও এই পৃথিবী বিনিময় প্রথা ছাড়া চলতে পারেনা ।

 আছে কিছু পাগল এখনো অযাচিত যারা আমার মত  নিঃশব্দে আঁচড়ে পড়া কান্নায় রাতভর  ভিজতে চেয়েছে  প্রতিটা পরতে পরতে ,, 

আমার মত কিছু মানুষ অন্ধকারে বিলায়ে দেওয়া যন্ত্রনা নখে খুঁটে রাখতে চায় আজও, আসলে যত্ন করা স্বভাব এই পাগলগুলোর ,

তাই এমন অপেক্ষমান গভীর রাতে এ ব্যস্ত নগরে 
ফাঁকা গঙ্গার কিনার , যেকোনো রাস্তায় কিংবা বাইপাসে ক্ষনিকের অতিথিশালায়  আমি কিংবা আমারই মত অনেকে নীরবে তোমার আছড়ে পড়া যন্ত্রনায় ভিজবে বলে শব্দ বুক পেতে নেবে বলে অপেক্ষায় থাকে ......আর জানো বৃষ্টিরঞ্জন এ অপেক্ষায় কোনো ক্লান্তি নেই, অপ্রাপ্তি নেই নেই, কোনো অভিযোগ ,,, ।

  কোনো গভীর নিশুতি রাতে তোমার কান্না শুনবো বলে আমি হাজার নাগরিক সভ্যতার সাক্ষী হয়ে অপেক্ষায় রাজি বৃষ্টিরঞ্জন ।

#সই(৩)

সময় না হয় আরো পরিণত হোক তারপর না হয় দেখা হবে এই পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে ....💐
#সই

#সই(২)

ভালোবেসে যাকেই ছুঁয়েছি সেই চলে গেছে দীর্ঘ পরবাসে ... ।
কবরের মাটি কে কাগজ ভেবে লিখে রেখে গেছে 
বাজারী দু এক কথার কথা .......
বাজার বুঝি ভগবানের দোকান নাকি জিনের পিদিম!!

#সই

স্বভাব


 নগ্নতা দেখলেই কেমন দক্ষ প্রেমিক কিংবা কবি হয়ে  উঠতে চাও কেনো ! 
তীক্ষ্ণ লাঙলে আবাদী করতে ভালোবাসো জমির পর জমি  ,
ওই বেহায়া আঙুল  গোপনে  স্বচ্ছতার চিতায় জ্বেলে দেয়  আগুন,  নাভিতে কিংবা যোনিতে লুকোনো তর্জমা ছুঁয়ে ফেলো খুব সহজেই ।

প্রেমিকা  সৃষ্টির ইতিহাসে সংখ্যা  বাড়ুক আরো ,

আর  এখন আমি দুহাতে অন্ধকার নিংড়ে আবিষ্কার করতে পারি কাঙ্ক্ষিত আলোর স্পর্শ।,



সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

#সই

"জীবনকে প্রতিঘাত করতে না পারলে জীবন শুষে নেয় সবকিছু"

#সই

চলে যাওয়া

তোমার চলে যাওয়া কিছুতেই কেনো
 শেষ হচ্ছে না.......শুভঙ্কর ! 
বহুদিন হলো তোমার চলে যাওয়া রাস্তার দিকে তাকিয়ে রয়েছি  অবাক হয়ে,
তারপর  নিরন্তর শ্রাবন পোয়াতি হলো ...ঝরে পড়লো কুমারী মা হওয়ার কান্না তবু তোমার চলে যাওয়া রয়ে গেলো .....,,
ক্রমশ ঋতু বদল হচ্ছে দারুন শীত হাওয়া দেদার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাতা ঝরানোর মরশুমেরা নানান রঙিন টুপি মোজায় নিজেদের ঢেকে  ... ।
....এক দীর্ঘ দিন কাল মাস কাটছে   ,বছর ঘুরছে  তবু তোমার চলে যাওয়া ফুরিয়ে যাচ্ছে না কিছুতেই আমার দৃষ্টিপথ থেকে,,,

তুমি তো আমার জন্মের কেউ ছিলে না কখনো.. তবু তোমার চলে যাওয়ায়  .. আত্মঘাতী কোজাগরী  গঙ্গায় আছড়ে পড়ছে  !

স্বর্গ দুয়ারে দাঁড়িয়ে তোমার চলে যাওয়া দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে উঠেছি ......তবুও   ও যাওয়া  এ চোখের উপত্যকা থেকে ফুরোয় না কোনোমতেই। ,

তোমার চলে যাওয়া এই শহরকে যেন দেশ ভাগের মত বিদীর্ণ করেছে .....তোমার গন্তব্যের উৎসব নগর  এই শহর,  তবু বহু দূর সে সাজানো তুরুপের দেশ ,

তোমার চলে যাওয়া ফুরোয় না বলেই  এই কলমের অজস্র অগুনিত কবিতারা দারুন বন্যা কাতর এখনো ।

ফসিলের ভূমিকায় 'দ'

যেদিন থেকে তুই  "আমাকে কেনো ভালোবেসেছি"
প্রশ্ন করতে শুরু করলি ,সেদিন থেকে তোর ভেতর 
আমার অস্তিত্বের খন্ডে খন্ডে সৎকার হতে শুরু করেছিলো ,
সময় কে আমার মৃত্যু ফরমান লিখতে বলেছিস পিঠ পিছে ,
........যেমন অনেক কিছু আমি বুঝি না তেমনি সেদিন বুঝিনি তুই বারংবার কেন বলছিস আমাকে  "তোকে ঠিক কেন ভালোবাসি জানি না "
বুঝিনি কথার পেছনে আরেক বার্তা লুকিয়ে মঞ্চস্ত
হচ্ছে তোমার ভেতর আমি ।

 আজও আমি যখন বোবা ট্যানেলে উত্তর হাতড়ে বেড়াই  তোরই প্রশ্নের ,    তুই  ছেড়ে যাওয়ার পরেও আমার ভেতর প্রশ্ন আসেনি একটা মানুষ বহুগামী যখন জানি ,"
তবু কেনো তাকে ভালোবাসি ?
নাহ আমার ভেতর প্ৰশ্ন জন্ম নেয় না,,   শুধু না থাকার হাজারো বাহানার পাহাড়ে  আমি থেকে যাওয়ায় বিশ্বাসী বলেই ....মাটি কেটে নতুন রাস্তা তৈরি করে ফেলি ।
আসলে জরুরি আর ইচ্ছা দুটো এক নয় ,
আমার ইচ্ছায় তুই বাস করিস  প্রথম দিন থেকে ,
আমি তোর সময়ের জরুরী সময় কাটানো আসবাব প্রথম দিন থেকেই .....এ যেনো শুধুই ধারাপাতের পাতায় পা রেখে  ক্রমশ  বেড়ে যাওয়া সংখ্যা ।
তবু মৃত বুকে  আমি ফসিলের ভূমিকায়  'দ'।

রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২১

প্রিয় মন্দবাসা

প্রিয় মন্দবাসা, 
তুমি যে প্রতিমা বিসর্জ্জন দিয়ে লাল চোখে বাড়ি ফিরে..
বিছানায়  গা এলিয়ে আবার নতুন দূর্গা গড়ছো...;
 তুমি কি জানো কাল নেপথ্যে যে 'মানুষটা বাঁচতে চাইতো ..
আজ নেপথ্যে তার 'মৃত্যু ' হয়েছে...!

তোমাকে যতোই স্পর্শ করছি রোজ.
, ততোবারই আমি মরে যাচ্ছি..;

 একবারও বুঝলে না তুমি...
"মেঘ বালিকারা মরে গেলে 
ঘাসের শিশিরে ফুল হয়ে যায়..।

নির্লিপ্ততার  অগ্নুৎপাতে ইশ্বরের 
চোখে চোখ রেখে বেঁচে থাকা এক ভয়ংকর সুন্দর"...! সে কথা তুমিই কি গভীরে বুঝেছ ।

অবন্তিকার চিরকুট (৬৮)


কি অসাধারণ তুমি তলিয়ে যাও.. এই চলতে ফিরতে থাকা শব-টার ভেতর প্রতিনিয়ত......,,


 তবু আমাদের একসাথে  আর গঙ্গার বুকে  পূর্ণিমার আলোয় হাত ধরা হয় না...;।

হওয়ার  স্রোতে শ্রাবণী সন্ধ্যা নামলে..
 অকারণ নিজের হৃদয়ে তোমার স্পন্দন শুনতে পাই ভীষন রকমের স্পষ্ট.....,,

আমাদের আর এখন বাঁচার মতো করে জীবনের 
উৎযাপন করা হয়ে ওঠে না..!

আমাদের নিজস্ব 'কাল' নিয়ে গেছে ক্ষুদার্ত অন্ধকার বাজারী  মঞ্চস্থ-প্রেম..
কি অদ্ভুত,  আমাদের বিবর্ণ 'আজ'-এ পড়ে আছে  একমাত্র তোমার বর্ণিল বনিক মনস্ক  অন্ধকার অশরীর ছায়া ..;।

#সই
#"অবন্তিকার চিরকুট" উপন্যাসের ৬৮অধ্যায় 

কথা ছিলো

কথা ছিলো    শুদ্ধ স্পর্শর শেষ চিন্হ তুমিই থাকবে,.
কথাটা  হওয়ায় ভেসে গেছে অনেকদিন..
তুমি রোজ শব্দ অঞ্জলি দিতে ইশ্বরী খোঁজ করে পা রাঙিয়ে ফেলো রক্ত ঘামে ..
আমি আজও  ইশ্বর খুঁজি মনের সেদিনের সেই ইচ্ছেটা...!

সময় হলে এসো কোন একদিন...
সেদিন না-হয় মিলিয়ে দেখবো 
আমাদের ইচ্ছায় লক্ষ্মণ রেখা টেনে দিয়ে
প্রিয় অর্ধ-নারীশ্বরমূর্তিটির ঠোঁটে ঠিক কতোটা হাসি বজায় আছে ...;

বাহ্যিক আয়োজনে   দু'হাতে সময় হয়তো সোনার মোড়কে মান পত্র সাজিয়ে তুলছে ,

 অথচ এই সময়  একদিন উত্তর চেয়ে পত্র পাঠাবে নিশ্চিত...!

সে সব উত্তরের সাদা পাতা কিনবো বলে 
আজও নিঃশ্বাস সঞ্চয় করে রাখি রক্ত-মাংসের বৈয়ামে.!

হারিয়ে যাওয়া ঘাসফড়িং...  সে দিন কেবল আবছা স্মৃতিতে চোখের কোনে নোনা জোয়ার আনা বৈ কিছু করার থাকবে কি ?

খ্যামটা

দূর্গের ভেতরে-বাইরে দুটো মানুষ..
একটা স্বরুপ আরেকটা ফানুস.....;;

আমার নজর নেহাৎ ছোটলোক শ্রেণির..
তা না হলে  .....এই আধুনিক কেতাদস্তুর তিলোত্তমায় ...ভদ্রলোকের রুপে কেও চরিত্র খোঁজে..??

#সই



শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১

যন্ত্রনা লিখতে সেদিন

যন্ত্রণা লিখতে সেদিন থেকে বুক পুড়েছে ,জ্বলছে
ভীষণ রকম আগুন শিখা ,
যদি কখনো দেখা হয় ....সেটা যেন চিতা কাঠের এপারে , আর যদি তা নাই হয় ,আমি ভুলে যেতে চাই একসাথে স্বর্গীয় সমস্ত অনুভূতি কখনো ছুঁয়ে ছিলো আমাদের ,,,

দেখা যদি হয় এপারে কোনো সবুজ নবান্নের দিনে দেখা  হোক নয়তো চেনা ধুকপুকে লেগে থাকা সব অঘ্রান নাহয় মিথ্যে হোক ।

যে কথা দিয়েছে হৃদয়ে হৃদয়ে তুমি মিথ্যে প্রমান করবে সে ঈশ্বর তুমি নও ,

আগামী বলে কিছু যদি থাকে তা অতীত এই কাঠামোয় বর্তমানের মাটি দিয়ে সৃষ্টি ...বাকি তোমার শব্দ চাতুরী ওরা যে যা বোঝে বুঝুক ,,,

আমি সে দিনও মঞ্চের প্রথম সারির চেয়ারে দর্শক ছিলাম যে দিন তুমি আমি বিহীন আমার সৎকারের সংকল্পে উজ্জাপনে প্রদীপ শিখা জ্বালিয়ে ছিলে ...
পরেও তোমার শেষ নোহবতে আমি সামিল থাকবো ,... ,

ওই হাতের সমস্ত রেখায় আজও স্পষ্ট অবাধ আনাগোনা , তাই তুমি দূরত্ব মাপতেই পারো সময়ের ফিতে দিয়ে , ,,
আমি ও হাতের রেখা গুম করেছি তোমার সাথে সঙ্গমে মেতে ,.... তুমি সেদিন আগুন দেখছিলে আমি সেসময়ে বিনিময় সেরে নিচ্ছিলাম ,
যাও যত দূর যাবে যাও ...................


......আমিও দেখতে চাই এই পৃথিবী গোল কিনা ! 

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

বড়দিন

জন্ম ছুঁয়ে আকাশের ঠিকানায় তারারা থামে একটা স্টেশনে ...
তুমি আলোর উৎস বলেই  জেরুজালেম এর প্রতিটা ঘরে  জোৎস্না রাখা আছে এই অন্ধকার সভ্যতাতেও,
আমার বাড়ির একটা জানলায় তোমার  জেরুজালেম   আর অন্য জানলায় উত্তরের শৈত্য প্রবাহ , 
প্রতিটা শীতের রাতে মাদার মেরী তোমার কোলে জন্ম নিক এমন মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেম ....যেখানে আকাশের  উজ্জ্বলতম সব তারারা গন্তব্য শেষ করতে পারে ...
আর তুমি আলোর মুকুট পরে হাসতে থাকো 
সঙ্কট-হরণ হয়ে ।

🎄মেরী ক্রিসমাস🎄

"অবন্তিকার চিরকুট" (৫২)

ও খোলা পিঠের আঘ্রান খুঁটে রাখা আছে এই আঙুলের নখে ..... সময়ের দূরত্ব যতই বাড়ে 
প্রতিশব্দের  মত সমস্ত অতীত গন্ধ ফিরে আসে  আলোক গতিতে ...., 
তীব্র অন্ধকারেও  ঠিক চিনে  নেওয়া যায় যা ...তার নাম স্পর্শ ,
সারারাত অতল শূন্যতায় তোমার কবি জন্ম স্বার্থক হয় আমার এই ধুলোজন্ম ছিলো বলেই ....,
তুমি যতবার সমুদ্র স্নানে যাবে সাঁতার হয়ে ভেসে উঠবে এই  একনিষ্ঠ প্রথম ও শেষ   তোমার প্রতি সমর্পিত   নিতান্ত প্রেম টুকু।



#সই
#"অবিন্তিকার চিরকুট" উপন্যাস থেকে ৫২ অধ্যায় 

"অবিন্তিকার চিরকুট" (৪৯)

যে দিন তোমার বুকে অবন্তিকার বিরহ ঝড় তোলে, ,
তুমি শব্দমহলার  পর্দা সরিয়ে হাতড়ে বেড়াও 
কাকে ?
সব কাব্যে তোমার শব্দ যথেষ্ট ভাবতেই পারো ...
তা বলে ঈশ্বর কি বিদ্রুপের হাসি হাসবে না ...!
তোমার উপন্যাসের সংখ্যায় একটাও ভালোবাসা ছিলো না .... ধারাপাত পছন্দ করো বলেই অবন্তিকাকে   ইতিহাস নাম দিতে পারলে .....।


#সই 
#'অবন্তিকার চিরকুট"  উপন্যাস থেকে ৪৯ অধ্যায়।
(প্রথম সংকলন শেষ দ্বিতীয় সংকলন শুধুমাত্র অন লাইন পাওয়া যাচ্ছে ।)

"অবন্তিকার চিরকুট"

এ শুধুমাত্র বিষ্ণুপদ নয়... এই দেহ তোমায়  রোজ বিলিয়ে দিতে দিতে বাইশ বছর ঋতু পরিবর্তন হলো ,
তোমার পৌরুষের কাছে চিরকাল হেরে যেতেই চেয়েছিলাম ...
অথচ তুমি ভেবে নিলে  এই পৃথিবীতে সবাই কেবল জিতে যেতেই আসে  ..... তোমার সামনে থেকেও "আউট অফ ফোকাস"   রেখে দিতে পারো ...এ তোমার অহংকার ছাড়া কিই বা হতে পারে !

#সই
#অবন্তিকার চিরকুট" উপন্যাস থেকে অধ্যায় (২২)
অন লাইন বুক করতে পারেন আমার এই উপন্যাসটি , 

সুতো


কোন সূতোয় সেলাই করেছি জন্ম , কে জানে
পট পট করে, ছিঁড়ে যায়, সম্পর্ক .....

তুমি তো ছিলে শর্তের বাইরে  এক গোপন নকশিকাঁথায়, তোমার সাথে বুনন সুতোটাও
শেষমেশ পচা বেরোলো.....

#সই 
#সুতো



"রকেট"

যে তোমাকে বলে হাসতে থাক... দেখ আসে পাশে মানুষ গুলো কেমন  রকেট হয়ে ঘোরে  ....
তাকে শিখতে হবে নাটক নয় প্রতিটা সম্পর্ক
এই গ্রহে সবাই যান্ত্রিক নয় ....এখনো হৃদয় আছে ...আর সে হৃদয়ে ...থাক  অপাত্রে দান মানায় না ,
শুধু বলবো কারো জন্যে নিজেকে বদলে ফেলো না ...আসলে যেনো কেউ কারো নয় ...
........আমি জানি সমস্ত উজাড় করে নিঃস্ব হয়ে আখেরে কোনো লাভ নেই ।

#সই 
#রকেট

"দূরত্ব"

 দূরত্বের মাঝে এক বোবা টানেল
 কেই বা পাঠক কেই বা কবি  কেই বা ভাবনায় কবিতার জন্মদাতা !  
 তফাৎ খুঁজতে শামুকের খোলসে নিজেকে গুঁজে দিতে হয় ...
কিসের  লুকোচুরি কিসের দ্বন্দ্ব  ,অজস্র কবিতার চিৎকারে  শুধু মাত্র একটা গোপন অন্ধকার ,
আমি কখোনো মুখ ফেরাইনি শুধুমাত্র তুমি পৌছাবো বলেও কখনও কথা রাখতে শিখলে না ।

#সই
#দূরত্ব
.

অক্ষর

অনেক অক্ষর এই দেহে একটা আলবেলা বুক ঘেঁষে শুয়ে থাকে ........অনেক ধুঁয়ে ফেলতে চাওয়া
চাওয়া আঙুলের স্পর্শ ওই ঝাঁকড়া চুলে ঠিকানা দিয়ে গেছে ....…
তুমি হত্যা করে পুঁতে ফেলেছো এই ছাড়ফুঁট দেহটাকে ......
রাখতে চাওনি তোমার অহিংকারী রাজদরবারে 
কোনো কাঙলহৃদয়ের চিহ্ন .....
 বার বার বলেছিলে তুমি ভীষণ স্বার্থপর .....আমিই কখনো কথাটা বিশ্বাস করিনি ....।
মানুষ বদলায় সময়ের নিরিখে ....আমি তোমার মত মানুষ হয়ে উঠতে পারলাম কই  পৃথিবীর সাজানো  মঞ্চে !!
ষোলআনা দিয়েও তাই নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই ....
একটা আলবেলা বুকের কাছে এই দেহের অনেক অক্ষর শুয়ে থাকে তাই ...

বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১

"দ"

সমস্ত ভাবনা গুলো "দ" এর মত মাথা পা গুঁজে 
ওই বুকের কাছে ঘুমিয়ে পড়তে  চায়, 
তুমি শব্দের সিড়িঁ গড়তে  গড়তে  আকাশ ফুড়ে  নিজস্ব নকশায় হাততালি জমাচ্ছ, 
আমি মাটি আকঁড়ে শুধু তোমারি... তোমারি  নাম গাই। 
........#সই

সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

লগ্নজিতা

তোর ধমনীর স্রোতে কি  প্রচণ্ড  বয়ে চলেছি তুই কি টের পাস ?
যতটা লুকিয়ে ফেলিস আমার থেকে ততটাই প্রকাশ দিনের আলোর মত ,
সুনীলের নীরা আকাশে তারার মত জ্বলুক বা না জ্বলুক ,তোর নির্ঘুম রাতের নিকোটিনে  অনবরত পুড়ে যাওয়া  ঠোঁটের না বলতে পারা যন্ত্রনার মত আমি তোর বুকে নিশ্চিত জ্বলে যাবো .....।

কুড়ি বছর এক জীবনে সামান্য বনবাস ,
তোর পাঞ্জাবিতে আমার যত্নের সুতো পাহাড়ী বাড়িটার ঠিকনা লিখে রেখেছে .....জেনে রাখ.. সব চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয় ....।
সে কথা তোর ভেতর তথাগত তোর আগেই আমায় জানান দিয়েছিল  ,
তাই চ্যালেঞ্জ করেও মাঝখানের পথটা দিশেহারা হতেই হলো এই সামন্যার কাছে ।
আমি যে শুধু সংখ্যা নই ...একদিন তুই জনারণ্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলবি হে অমলকান্তি.....।

ঋণী

ঋণী 
*******



....... নহবতে সানাইয়ে একটা মৃত্যুর পাশে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকবো অন্যদের মতো

আকাশের পাখিটা নিখোঁজ হয়ে গেছে 
কে যেন তার প্রিয় আকাশ থেকে তাকে ব্রাত্য করে 
ডানায় মারণ কোপ দিয়ে গেছে আকস্মিক ,
 তবু শুভ শেষাংশে তার   জন্য একলা থাকলো একটা গোটা মন.....আজকের মতোই .....
.
সত্যি কি তফাৎ থাকে  ..... থাকা  বা না থাকায় 
শুধু সময়ের  কলমে বিদায় লেখা হয় 
অতিরিক্তের   উপচে পড়ার মতো।


#সই 
#ঋণী
.


এক‌টা আগুনের ফুলকী

এক‌টা আগুনের ফুলকী




অ‌নেকটা দূর হে‌ঁটে চ‌লে গে‌ছি  বোবা টানেলের ভেতর,
অ‌নেকটা পথ পিছ‌নে এ‌সে‌ছি ফে‌লে ।
অ‌নেক রাত একলা পু‌ড়ে‌ছি  শুদ্ধ হবার জন্য
বু‌কের ‌ভিতর স্মৃ‌তির সোলতে উস্কে সময়ের অন্ধকার চিড়েছি ।

অ‌নেক শব্দের গোলাপ গে‌ছে ঝ‌রে  তবু বসন্ত আসে ভুল না করেই ।
কত আঘ্রান রুমালে রেখেও নতুন বুনন বুনতে শেখা.....



এ বুক জু‌ড়ে অন্ধকা‌রের বাসায় আলোর মত জ্বলছি কেবল... ডানায় দুঃখ রাখা আমার তবু সূর্যকে লজ্জা পেতে হয় বারবার, 

 আশার দোকান খু‌লে  আকাশ দে‌খি মৃত মাছের চো‌খে  এখনো সন্ধ্যে নামা বাকি.... আজ থেকে রঙিন স্বপ্ন না হয় ওদেরই হোক ।

 তৃষার কাঠ  পুড়ে যাক   বুকে
অসুখ বাড়ুক   লাগামহীন ঘোড়ার খুড়ে...,
অ‌নেকটা পথ এখনও র‌য়ে‌ছে বা‌কি-
 ক‌ুয়াশা মাখা , উস্কো খুস্কো শী‌তের দিন  !
তুমি আর কত দিন ছেড়া চাদরে শীত সফর কাটবে দেখতে চাই !
আমি ঐ জন্মের অজস্র মৃত্যুর সাক্ষী হতে চাই ।

জিত

১)
জীবন এর একাকিত্ব আর কঠিন যন্ত্রণায়  শিখেয়েছে  এটা সুখের গ্রহ 
অনেকটা সম্রাট নিরোর মতো.. আমিও এখন সম্রাজ্ঞী সম্পূর্না,
প্রিয় সব পুড়ছে আর আমি ক্রমশ নির্লিপ্ত হয়ে প্রকৃতিতে মিশতে  মিশতে  উপন্যাস থেকে দূরে ,  যতটা দূরে ভাবনা যায় তার থেকেও আমার মাইল ফলক সামিয়ানা ফুঁড়ে পার হচ্ছে রাস্তা ,
২)
এসো, রঙওঠা আমাদের  দেহটার কথাই ভাবি...
শুধু রঙহীন নয়... শরীর থেকে একদিন পরস্পরের মাটি খসিয়ে ফেলেছিলাম
শুধু মাটি নয়... খড়ের পাঁজর 
চিত্র-পাণ্ডুলিপির দিন সব কিছু।
... 
বৃত্তাকার পেটিকায় থেমে যাওয়া হওয়া
নড়বড়ে কাঠামোর  নীচে ইঁদুর গর্ত
ক্ষুধার্ত ঢেউগন্ধ. রেখে শপথ করে ছিলাম "অমর হব আমরা "
.. দেহকেও কখনো কখনো  জাগিয়ে  তুলেছিল এ জীবনের যত গল্প... যত  বিদ্রুপ।
___________আমরা কেউ কারো  মতো ক'রে ছুঁয়ে থাকলাম কি না জানি না ।
_______________ডাকে না ফেলা চিঠির অক্ষরে
খানিকটা তোমার আত্মা আর খানিকটা আমার গন্ধ যত্ন করে রাখা হলো .....।
৩)
অনেক সময় ভালোলাগার চোখের জল গড়িয়ে নামতে চাইলো ,
কলকাতা তার না হওয়া সংসার,...  প্রতিদিন দুটো করে লাশ  .... তার দরজায় খই ছড়ানো পয়তাল্লিশ বছরের ভালোবাসা বিলীন হতে হতে ...
কেউ কেউ কথা রাখতে পারেন ,তবু অভিশাপ ফিরিয়ে নিতে হলো ,
আলোর দিকে হাঁটতে হাঁটতে শব্দেরা সাড়ে ছয় কোটি মাইল পথ হেঁটে গল্প পার করলো ,
কেউ যেন বলে গেলো জীবন তুমি  মৃত্যু ছুঁয়ে জিতে যাও বারে বারে ।


শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১

জুড়ে আছি আমরা

 "ক্রমশ তোমায় কবিতার খাতার  পাতা জুড়ে নিচ্ছি রোজ রোজ ,


দু

রে

দু মুঠো একলা সময়ে   ইচ্ছে হলেই  ছুঁয়ে দিচ্ছি তোমার সমস্ত ক্যানভাস,,
  আরো কিছুক্ষণ যোগাযোগ এমন সেতু বন্ধনী জুড়ে দিচ্ছে ওই ঊষর ধূসর রাজার মন আঙুলে ভুল করে ডাকে না তোমায়
কিংবা আমায় ,
পর বাসে থেকেও একই একলা আকাশে ডানা মিলছে পাখিটা
দু
রে
দু
রে 

তবু এই শহরে
হেঁটে যায় স্নিগ্ধ ভালোবাসার গল্পের দিকেই ।

মাদুলীর মোম

চামড়ার তলায়  গুঁজে রাখতে  চাইছি সমস্ত পৌরাণিক প্রচ্ছদ। 
চর্যাপদে  আমাদের  শূন্যতা ভরা শূন্যে ছুঁড়ে দেওয়ার কথোপকথন।
                        প্রেমিক এর নাম-মন্ত্র গভীরে বাজে, 
মাদুলির মোম গলে গলে বিশ্বাস ওড়ে  উত্তরে হাওয়ায়র শহরের প্রতিটা গলি হয়ে বাঁচতে চাওয়া খোলা জানলায় জানলায় ,
আমার কথা কাকে বলি এখন? 
তোমার কথাই বা কাকে বলি? 
তোমার গায়ে ইট রঙা স্ট্রাইপ পাঞ্জাবি  আমার দিকে তোমার গোপন করে রাখা আঁতাত ছিড়ে  ছুটে আসে মন্দবাসা বুঝে নিতে ।


 অথচ দেখো আমরা যে যার নিজের ঘুঘুর ডাকে 
সাড়া দিতে দিতে পাগল হয়ে যাচ্ছি... তুমি নতুন উপন্যাসের মলাটে ব্যস্ত , আমি তোমার ছবিতে মুখ লুকিয়ে সুখ খুঁজে নিই ।

মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

সময়ের উপন্যাস( ১০)

সমস্ত রকম মৃত্যু ছুঁয়ে কথা দিয়েছি ,
ভালোই যদি না থাকা হয় তাহলে  আরো একটা সম্পর্কের বোঝা কাঁধে না রাখাই ভালো , ,,

প্রজাপতি আলোয় ঘুম ভেঙে সকাল ছুঁয়ে গেলো মেয়েটার কপাল , 
  সে ভুলে গেছিলো অতীত রাতের  কালসিটে কথোপকথন ......,,, 
যে ছেলেটা মাংস লিখতো , যোনি লিখতো , স্তন লিখতো অক্ষরের  ফুলকি ছুড়ে দিতো সমাজের ঘন রাতে , তার বুকের বিছানায় মেয়েটা এই মাত্র মরণ ঘুম থেকে জেগে উঠলো , 
মেয়েটার চোখ বেয়ে নরম স্বপ্ন ছেলেটার চুয়াল্লিশ এর বুকে বীজ পুঁতে দিচ্ছে , 
ছেলেটা মেয়েটার যোনি দুহাতে চেপে চিৎকার করছে আমার ....আমার .... এই জমি এই বুক ভরা আকাশ সব আমার ।
মেয়েটা অবাক হয়ে বাঁচছিলো ছেলেটার চিৎকারে আকুতিতে , 
 এই শহরেই ছেলেটার বুকের জমিতে মেয়েটা নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে , 
....বুকের ভেতর স্বপ্নেরা বৃদ্ধ হচ্ছে , , পথ হাঁটছে একই শহরের একই  গলি রাস্তায় ,
সকাল ন টা দশ ছেলেটা বাইকে  করে অফিস উদ্দেশ্য পারি দেয় ,  মেয়েটা ভিড়ে হারিয়ে ফেলে নিজেকে আড়াল করে , 
মৃত্যু আসে অনেকগুলো খণ্ডে ......জীবন তবু অপেক্ষার আর এক নাম ,
ছেলেটা মাংস লিখতো , যোনি লিখতো , স্তন লিখতো অক্ষরের  ফুলকি ছুড়ে দিতো সমাজের ঘন রাতে ,
তার বুকের জমিতে মেয়েটা বস্তু সাপ হয়ে থেকে গেছে  এক পৃথিবী আলো উৎস হয়ে ।
""সব চলে যাওয়া মনে প্রস্থান নয় "'

#সময়ের উপন্যাস 
#সই

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১

......

আর কত টুকরো করতে চাইছো ?
আমি লোভী হয়ে আছি নিজেকে তোমার দ্বারা
ধূলিসাৎ হয়ে যেতে দেখার জন্যে ।
ভালোবাসা যদি এর নাম তবে তবে মৃত্যুর নাম বদলে দিও এই পৃথিবীর ইতিহাসে ।

ওফেলিয়ার

 একটা শরীর গঙ্গার স্রোতে... ঢেউ খুঁজতে জলের সাথে  কথা বলে। 
কালো-সবুজ... কখনও নীলচে ধোঁয়ার স্বেদে স্নান করে সে... হাতের রেখায় মৃত্যুদাগ ফিরিয়ে দেয় শহরটার আলবেলা জ্যোৎস্নায়...।
 সদ্য কবরে শোয়ানো দেহটিকে কবিতা শোনায়.তার পুরোনো প্রেমিক.. শুধু ওকে শোনাবে বলেই যেন লিখেছে। 
মাথার ক্রুশকাঠ... রাতের অন্ধকারে সরিয়ে পুঁতে রাখে... দূরেনদীর চরে...।
 হয়ত ওফেলিয়ার নিঃশব্দ আত্মহত্যার মতো এই মৃত্যু... হয়ত ডোভার-চূড়ায় অন্ধ গ্লস্টারের মতো সেও জীবনকে ছোটো করে ফেলবে ভেবেছিল...,,
... জীবনের চেয়ে নিজেকে বেশি ভালোবেসেছিল সে... মৃত্যুর আগে লুক্রেশিয়ুসের তার রচনাবলিগুলি শেষ করেছিল তাই খুব তাড়াতাড়ি করে। 
জন ডান-এর 'বিয়াথানাটস' (Biathanatos) ছিল ওর এক হাতে... অন্য হাতে দড়ি... আর কফিনে শুয়ে বলেছিল সেই গোপন কথা... ' তাঁর মৃত্যুর আগে  লিখে রাখা কয়েক মুঠো মাটি ছুঁয়ে থাকা  অক্ষর...,,  ছায়া ও পায়ের শব্দের অসমাপ্ত কিছু চুমু.. চোরকাঁটা ও নাভির চতুষ্কোণ ধরে  চাবুক মেরে স্মৃতি উস্কে দেয় ।
... নানান মাপের পাথুরে অস্ত্রসস্ত্র. যেনো সময় এর শ্রোতেও ক্ষয়ে যেতে শিখলো না ।
দেহটা থেকে হৃৎপিণ্ড বার করে প্রিয় পুরুষ বাজারে দাঁড়িপাল্লায় রাখতে চেয়ে ব্যর্থ হলো যত্নে রাখা মেয়েটার গোপন দৃষ্টির কাছে ,,,
প্রিয়তোষ বলে ছিলো একবার ক্ষমা করে দিতে পারলে ও চোখে নোনা স্রোত আসতে দেবে না ....প্রতিশ্রুতি ,.....মেঘ জানে না সে কি আবার নতুন করে প্রিয়তোষ কে শিশুর মত আগলে রাখতে পারবে কিনা ,, জন্মান্তরের জন্যে কেউ কথা দেয় না ....।
এ কবিতা কেবল ছেড়া ছেড়া মেঘের উদ্দেশ্যে যারা এক শহরে ভিন্ন ধারায় ভিন্ন মন কে ভিজিয়ে দেয় কারণে অকারণে ।

সময়ের প্রোটোকল

এ শহরে অনেক মানুষ বৃষ্টি কিনতে আসে , 
সময়ের তানসেন   বৃষ্টি ধরার আর জায়গা তার শব্দে মিশিয়ে বাজারী দর বাড়িয়ে নেয় ,

নোনতা ব্যস্ততায় - যারা ঘাসে মন ছড়িয়ে  বাদাম ভাজা বেঁচে থাকা কিনতে চায় তারা সকলে,


বাড়ি ফিরে, ড্রয়িংরুমে সাজানো প্রচ্ছদে  কাব্য ময় রঙের মেলা , কিছুটা সময় দিও এবার হারিয়ে যেতে হবে সবটুকু গল্প থেকে ।
মেঘ না থাকলে তারারা নিজেদের কথা বলবে না কখোনো।

 আমরা অনেকেই নিঃসাড়ে একা  বসে  ভিজছি নিজের মত  আনমনে,
শিশিরের উত্তাপ কি শুকোতে পারবে তোমার তোমার ঝাঁকড়া চুলে রেখে যাওয়া ভিজে মন ?

হুইসেল দিয়ে এখনো ডাকে   শেষ ট্রেন,
পেছন থেকে প্রেম তবু ডাকে না , হাত ধ'রে ডেকো একবার শেষের কবিতায় ।

আমি এখন ক্যানসারের তৃতীয় অধ্যায়ে হাঁটছি ,
তুমি এখন মধ্য গগনে উজ্জাপন রোদ্দুর সেখছো ।
 তবু সময়ের তানসেন বলেই তোমায় শেষবার ডেকে গেলাম ....মুঠোফোনে হারিয়ে যাওয়া নম্বর 
জন্ম ভুলে গিয়ে মৃত্যুর তারিখে রিংটোন গেঁথে নেবে ,

তুমি চাইলেও পুরোনো এলবামে জীবন্ত আঙুলে তোমার পিঠে লিখে ফেলা নাম অনুভব করবে কি করে বলো ?

শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১

আরো একটা সংখ্যা

ও মহলায় চোখ রাখার বাকি জানলা গুলো এই মাত্র শীল করে দিলাম , 
মৃত্যুর পর আর কেউ ফিরে আসে না ...আমাকে এই সত্যিটা মানতেই হবে , 
সমস্ত জমি তে ছড়িয়ে দিতে হবে বিষ বৃক্ষের বীজ 
যাতে মাটি র সাথে মিশে যাওয়ার পরে ওই কবরের কাছে দু দন্ড দাঁড়িয়ে কাঁদার সুযোগ কেউ যেনো না পায় ।
কে নেক... আর কে ফরেব.. কোনো বিচারে যাবার ইচ্ছা নেই ।
অমিত দার দোকানে খুব সস্তায় ইঁদুর মারার বিষ পাওয়া যায় ....গত শনি বার  কে যেনো বলছিল ওই বিষের সাথে কলকে ফলের বীজ বড্ড ভালো গুপ্ত হত্যার জন্যে , 
এই শনিবার দুপুরে নিজের গুপ্ত হত্যায় সামিল হতে হলো .....ফেরা উচিৎ নয় যেখানে ভালোবাসার আড়ালে মিথ্যে প্রহসন , 
আর ফিরতে বলবে এমন কেউ অপেক্ষায় কোনো বাতাস হীন পৃথিবী হয় না  বুঝে নিতে হয় ।

এক দিন গলা ধাক্কা দিয়ে হৃদয় ছাড়া করার পর ...কি বা চাওয়া যায় , ... আসলে পেয়েছি অনেক , তুলনায় দিতে পারিনি তেমন কিছু,  তাই কম পরে যাওয়া ওজন দাঁড়িতে কুমকুম রঙের বিকেলে ইচ্ছার ভোরের ফুল ....তাই মেমসাহেব জানতো এ উপহার ব্যার্থ যাবে না ।
ভুলে যেও সময় ...ভুলে যেও ক্যানভাসে স্বর্গীয় দৃশ্যে রাখা সমস্ত ভু -কম্পনের  ব্যর্থ চুরমার নষ্ট প্রহর ।
এমন অনেক দুঃস্বপ্নর মত আবছা ...সময়ের রক্ত ক্ষরণ , চাই না কোথাও কোনো চিহ্ন হয়ে স্মৃতির পাতায় থাকতে , বিসর্জিত হয়েছি অযত্নে ....
হারিয়ে যাবো সময়ের প্রবাহে এই গঙ্গার স্রোতে ।  তোমার জমিতে অজস্র মৃত্যু তুমিও  মনে রাখতে পারবে  না যেনো  কলকাতা ...আমি সে মৃত্যু আর একটা সংখ্যা মাত্র ।

শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২১

রং করা ছায়া

শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের ভেতর বার বার না চাইতেও আত্মীয়তা গড়ে ওঠে... ।
রঙ করা ছায়া যেন দেওয়াল লিখনের মত চোখের সামনে পথ চলতে ভেসে আসে ...।।
 কফিনের দেওয়াল ও ছাদ ফুঁড়ে পোড়া অক্ষরের
আর অস্তিত্ব ছিলো না  ,  ফোঁটা ফোঁটা রক্ত  বুক গড়িয়ে মন কে  ভেদ করার জেহাদ যেন,,
... পাঁজরের হাড়ে অনুভূত দ্বৈত সত্তার একসাথে...একই ঘরে বাস করে।


পোড়া গন্ধ বয়ে আনে একজন.....
অন্যজন... মৃত্যুহীন তিথি ও নক্ষত্র লিখে ফেলে নতুন জন্ম পঞ্জিকায় ।
.. ভাঙা মেঘ ভেজা ডানায় শেষবার শহরকে বুকে আঁকড়ে জড়িয়ে নেয় ,,
____________________খুব কাছে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার  আর গুপ্তহত্যা  গুলো  ভুলতে হবে এবার।

আমার ভিতর কথা ব'লে ওঠে  রামকিঙ্করের বালি মাটির জীবন, , 
 .. অদৃশ্য অক্ষরে লিখে নেয় গীতবিতানের  পাতা থেকে  ছাতিম ফুলের গন্ধ,

_________নদীর ভিতর.. কান্নার দাগ রয়ে গেল...
রবি ঠাকুরের একটা উপন্যাস এখনো তাই অসমাপ্ত রয়ে গেলো ।

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১

সারসের পোশাক

চিঠিরা ঠিকানা বদল  করে ফেলে   চাঁদের আলো নেই ভেবে।
দু একটা  করে ঢেউ জমাই কিনে ফেলা সময়ের সমুদ্রে।
 আমার নিজের আর তেমন কোনো গোপন অন্ধকার নেই ... যার ভেতর উন্মাদ দ্বীপের কয়েকশো ফুট নীচে রাখা গিলোটিনের পাতে...
শেষের খেলার ফলাফল লেখা থাকবে ।
 স্লেজগাড়িটানা কুকুরের লালায়... ইশারাহীন অ্যাসিডের ক্ষয়ক্রিয়ায় কুরে কুরে জন্ম হয় না কোনো সম্পর্ক ।
 খেঁজুরপাতা... ছাল ও ভোঁতা পেরেকের অস্থির স্রোত ভাসিয়ে দিতেই হয় প্রতিটা মৃত্যুর পর। 
নিয়ম ক'রে সেই অন্ধকারকে রোজ প'ড়ে ফেলে 
আমি আজকাল তার পরিভাষা বদলে দিতে শিখে নিয়েছি। 
সূর্যাস্ত কম্পাসের স্নায়ু জুড়ে বরফঝড় এখন এই শহরে বৃষ্টি ভূমিকা বদলে দিয়েছে অনেক দিন হলো... ।
সারসের পোশাক খুলে উড়িয়ে দেওয়া মেঘে পার্থিবতা সঞ্চয় করে পোড়া মোমের শরীরে আর ভালোবাসার ওম খুঁজে পাবে না ...।
তাই গন্তব্য বদলে গেলে মানুষ প্রথমে পথ খুঁজতে 
খুঁজতে নিজের ভেতর প্রবেশ করে অনিয়মিত নিয়মে।

বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

আবার আসবো ফিরে

ডুবে যাওয়ার ইচ্ছে নিয়ে 
আমি হাত বাড়িয়ে  কিছু আঁকড়ে খুঁজি..
 তখন আমার ভেতর কি অদ্ভুত তুই..
আমি আবার  একবার জন্ম নিতে উষ্ণীষ তোতে মুখ গুঁজি
.,,
এখানে সবাই জন্ম লেখে..
কেও কেও অমরত্ব লেখার জন্য নিলাম জমায়।।

আমার হাতের রেখার  পাশে তোর হাতের রেখা  কি দারুণ মিলিয়ে যায় সেই অমরত্বে.. 
আমাদের জন্য সৃষ্টি হয় মুখোমুখি প্রেমের মতো কোনো ঈশ্বর কথা  ।

পাশাপাশি শরীর ঘেঁষে থাকা শ্বেত পাথরের শয়ন..,

মৃত সভ্যতায় এখনো যে খানিকটা বেঁচে থাকার ধুকপুক রাখা ছিলো..... এক অপেক্ষায় অন্য আগন্তুকের বাসর কেমন হবে এ শহর তোর মত আমাকেও শিখিয়ে দিয়েছে ,......
সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে  মাটি কেটে নিজেকেই নতুন করে হেঁটে যাবার পথ করে নিতেই হয় ।

যত্ন

অস্থির অপেক্ষায় উড়ে যাক কিছু অতীত ভাবনার বুনো শৈত্য প্রবাহ ,
তুমি হাতের পরশে মুছে দিলে  শতাব্দীর  পরতে পরতে জমে থাকা কুয়াশা
 ,
কাঁচ বেয়ে নরম রোদ্দুর হয়ে যত্ন ছুঁয়ে নিচ্ছে গোলাপী চিবুক ,

সময় থমকে দাঁড়িয়ে কাব্যময় দৃশ্যে ক্যানভাসে মুঠো মুঠো ভালো লাগা ছড়িয়ে দিচ্ছে বহুদিন পর ।

অন্তহীন পুড়তে থাকা কাঠামোয় সবুজের হাতছানি দিয়ে লোভী করে তুললে আমার এ বেঁচে থাকাকে ।
কাফেরের ঘরে সৌ-গত জল গঙ্গার পবিত্র ধারায় ধুইয়ে দিলো গত কয়েক জন্মের পাপ , 
সবাই যে তোমার মত আমাতে অমরত্ব লিখতে পারেনি , 
ওরা মৃত্যু ছুঁইয়ে দিতেই তোমায় চেনা হলো আমার পূর্ন অংগিকারে ...।

#রাই সংবাদ
#সই

ভালোবাসার জংশন

"জীবন ভালোবাসার জংশন"
           তুমি মৃত্যু হয়ে ছুঁয়ে দিয়েছিলে বলেই
জীবন কে ভালোবেসে জড়িয়ে নিলাম আবারো...
আমার সুখ টা তোমার তীব্র ইচ্ছা হয়েই না হয় ভালোবাসার কবিতা হোক আরো একবার ।
যে প্রবাহ না পাওয়ার কথা মনে করায় তা ভুলতে হবে
যে প্রবাহ প্রাপ্তির গল্প বলে তা শুধু মনে রাখবে এই শহর কলকাতা ,

এখানে সবাই জন্ম লেখে..
কেও কেও অমরত্ব লেখার জন্য নিলাম জমায়।।

আমার হাতের পাশে তার হাত কি দারুণ মিলিয়ে যায়..
কারো কারো  জন্য সৃষ্টি হয় মুখোমুখি প্রেমের মতো
পাশাপাশি শরীর ঘেঁষে থাকা  নীরব শ্বেত পাথরের ঘুম..।
সুইসাইড পয়েন্টে  মুখোশ খুলে গেছিলো বলেই  মন্দবাসার উপন্যাসটার উপসংহারের চৌকাঠ  শেষমেশ পর করতে পেরেছিলাম।

#সৌজন্যের ইতিহাস
#সই

ব্ল্যাকহোল

মাছগুলো বিচ্ছিরি ভাবে মরে যাচ্ছে তুমি নামক আশ্রয়ে প্রহসনে...

অথচ জলের কাঁচ বাক্সের শরীর ঠিকরে 

কি অসহ্য আলো ছড়িয়ে পড়ে তোমার আকাশ ছুঁয়ে ফেলা আড়ম্বরের   ঘরময়...!

তুমি ভাবো এ আলো তোমার অহংকারের কবিতার উৎস ....

 আর তোমার হাতের কি নিপুণ  হত্যা হওয়া কে  এই শহর ভেবে নিলো আত্মহত্যা ,


বলে রাখি তোমায়....


এর পর গান শুনতে যদি মন চায়..

একবার নিজের কথাগুলোতে 

সুর দিয়ে দেখো সময়ের তানসেন..

তোমার অদেয়   কথা রাখতে  সময়কে চিরকাল মিথ্যে প্রমাণিত হতেই হলো,

আর তুমি হলে হিসেব নিকেসের পুরোটাই একটা মস্ত ব্যাকহোল  ।


#বিচ্ছিরি  তারার উপন্যাস

#সই

শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

চালচিত্র

গোলাপি সভ্যতায় লেগে থাকা ভালোবাসা 
শহরের আকাশটাকে আদুরে করে দেয় ,,
হাত বাড়িয়ে মুঠোয় তখন ভাবনায় মেঘ সোহাগী
কোনো নরম পালকের মত নিষ্পাপ ,
তুমি -আমি পথ চলতে চলতে আজ আমরা হয়ে গেছি ....দু ফোঁটা যত্ন তখন বৃষ্টি হয়ে আমাদের মতোই শহরের বিভাজিকা ভিজিয়ে দিয়ে এই মৃত সভ্যতার শহরটাকে স্বর্গ করে দিচ্ছে ।
সব বৃষ্টি মন খারাপের জন্যে ঝরে না ....সব কান্না শোকের কিংবা হারানোরও নয় ,,
জীবনের প্রাপ্তির পূর্ণতায়.. পূর্ন ধারা নামেও কিছু সাংকেতিক বর্ষণ হয় ,,
রং বদলানো দুনিয়াদারী ,বাজারী থেকে কখনো বা আত্মিক হয়ে যায় নাম বিহীন বাঁধন ।
বেশ্যা তখন দুর্গা , বেজন্মা তখন মনুর সন্তান ,
এই কলকাতা তখন শুধুমাত্র ভালবাসা আর উৎসব এর একমাত্র শহর ,,
 তবু কিছু মানুষ বাইরে জানলায় চোখ রাখতে রাখতে ভুলে যাওয়া মুসাফির কামরার আতিথেয়তা নিতে পারে না , স্টেশন আসে নেমে যায় ভাগ্য ভবিতব্যের দিকে ,,
ঈশ্বর সকলকেই একবার ভালো থাকার সুযোগ দেয় ....শুধু চিনে নেওয়া সেই সুযোগ...তোমার  ইচ্ছা হবে  না জরুরী হবে ,,
না চিনতে পারলেই মৃত্যু অবধি ঈশ্বর কে দোষারোপ আর গোলাপি সভ্যতায় কলঙ্ক লেপে 
জীবনকে শুধুমাত্র যাপন হিসেবে দেখা ,,
এ কোন কবিতা নয় এ জীবনের আঙ্গিক পটভূমিযে আঁকা সময়ের চলচিত্র মাত্র ।

কার জন্য

কার জন্য বাঁচো তুমি ,কার জন্য কাঁদো !
কার জন্য হাসছো তুমি ......ভেবেছো কখনো ,
বইছো তুমি গল্প স্রোতে ....বেমতলব নয় তো তার একটাও সৃষ্টি ,,
এমন তো নয় কিছুই তোমার ছিলো না ....তবু বইছো নিজের খাঁচা  ......,,
 কাজ বলে করলে অবহেলা ...পেরিয়ে গেলো সকল বেলা শেষ হলো সব খেলা রইলো পরে খালি খাঁচা।

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১

স্বয়ংভূ

ভাঙনের উৎসবে ডুবে গেছে ক্ষত বিক্ষত সময়ের পেন্ডুলাম ,
এখন ভালোবাসা মানে সামান্য ভিটে মাটি নয় ..
বুকের সমস্ত সাম্রাজ্যটাই নিজস্ব, ,

...নবান্নের রোদেলা উষ্ণতার হাসি অকৃপণ আজকাল এ ঠোঁটে ,
দংশনে গাড় নীল হয়ে থাকা আকাশ বাড়িটার ব্যালকনিতে রামধনুর দোলনায় আমার মত কেউ
উর্বর হয়ে ভাসতে থাকে ..... মুহুর্ত দখলে।
আজকাল ফেলে আসা ক্ষত আর অভিশাপ কে 
ভীষণ রকম ধন্যবাদ দিতে থাকি ....মনে হয় অমন শুদ্ধিকরণ না হলে,  
  বুঝে উঠতে পারতাম না  আলোর উৎস আসলে ........স্বয়ংভূ ।

বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১

আলোর সকালে



দীর্ঘ প্রতীক্ষার চাঁদ ডু‌বে গেছে বহুদিন হলো ,,

 .....নতুন  বন্দ‌রে নোঙর ফেলেছে সময়
পাতা ঝরার দিন সরব হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছে হওয়ায় হাওয়ায়।
 শহর আমার সাথে নতুন সাজে সাজতে চাইছে ,,

...নির্ঘুম রা‌তের জঠর ছিঁড়ে শ‌ীতার্ত কুয়াশার কাফন জ‌ড়ি‌য়ে- যারা আমাকে মৃত প্রমানিত করেছিল
মৃত‌্যুর গভীর খা‌দে তারা সকলে এখন দৃশ্যের বাইরে,......তাদের শেষকৃত  সম্পন্ন হয়েছে ভালোভাবেই।
 সময়ের প্রেমিকের আঙুল চুঁই‌য়ে  উত্তাপ উ‌স্কে দি‌চ্ছে ভেতরের প্রাণবন্ত  কালো মেয়েটাকে,,

নৈঃশ‌ব্দের গঙ্গায়  উপ‌চে প‌ড়ে‌ছে ঢেউ,
যেন আজলা উজাড় ক‌রে ঢে‌লে দি‌চ্ছে কেবল আশির্বাদ  অ‌লৌ‌কিক ঈশ্বরের  ঘর থেকে।

দূ‌রে স‌রে যা‌চ্ছে অন্ধকার, দূ‌রে স‌রে যা‌চ্ছে কাঠামোর যন্ত্রনা ,
নৈঃরা‌শ্যের কাজল প‌রি‌য়ে দিয়েছিল  চো‌খে- একদিন সবাই.....
সবাই কিছু কিছু যত্নখ‌চিত অব‌হেলা, অনাদর  উজাড় করে এই ঘরে রেখে গেছিলো সময়ের নিরিখে..... ,
 পৃথিবীতে স্বপ্নের পা‌খিগু‌লো  শরাবি হতে হতে হারিয়ে ফেলেছিল বেঁচে থাকার আসল  উদ্দেশ্য, ,,

বরফী বাতাস চি‌রে- বহুদূর দুঃ‌খের দেশ থে‌কে উ‌ড়ে আসা বালুচরী হাঁস এই গঙ্গার বুকে নতুন আলোর সকাল দিয়েছে প্রতিটা ঝড়ের রাতের পর।

....আ‌মি দে‌খেছি কেম‌ন করে  
পৌ‌ষ শি‌শির ভেজা ঠোঁ‌টে, করে ফাল্গুন মাস আনতে পারে সময়ের সফর......।

স .....ম ...য়

ওদের প্রেমের শব্দে মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে যায়,,.............
স 
      ম

               য়
এক অনন্য কাব্যে.....
যেখানে অঘ্রানের শিশিরের ওপর সূর্য তার রঙের উষ্মা ছড়িয়ে দিয়ে বলে দেয় জীবন মানে উৎসব,
জীবন মানে প্রাণ খুলে বাঁচা ....,,
যেখানে নির্বাক আলোর আড়ালে লুকিয়ে সৃষ্টি হয় নতুন কোন আলোকবর্ষ.. বার প্রতিবার ধ্বংসের পরেও,,
.....যেখানে শতাব্দীর কোনো ঋষির অপিশাপ বদলে যায় আশীর্বাদে......,

               ম
                            য়


একটা চাদর..
 রোজ রোদে..রোজ বাতাসে..
কি দারুণ ভয় কাটিয়ে শুকোয়...
.....ক্ষত গুলো ভুলে কোনো এক সকালে বাউলের
পরিচিত পোশাকে সাজিয়ে ফেলে রঙিন কোলাজে,,
চাদর বদলে যায় পরিচয়ে , বদলে যায় দুঃখেরা 
মুক্তির আকাশ পেয়ে অনাবিল আনন্দে ,,

              ম
                              য়
 ....ভালোবাসা অক্ষর চেনে না 
তাই কোনো মৃত্যুতেই সে আমার নীরবতার মানে
বুঝতে পারেনি .......শুধুমাত্র ভালোবেসেছে ।

বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

অসম্বিত

"দুজন দুজনকে স্বাধীনতা দিতে গিয়ে দুজন           দুজনের পাখা কেটে ফেলেছে ওরা"

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

ফাইল ফলক

মানুষের ভেতর যে তিন পুরুষ বাস করে 
তার একজন যুদ্ধে যায় , একজন রং তুলিতে
লিখে রাখে জীবনের কথা ,আর একজন পোয়াতি সময়ের ঘরে বাতাস হয়ে ঘুরে বেড়ায়...।
অসুখের আঁচে বেঁচে থাকা সেকে নিয়ে মানুষ ভালো থাকতে চায় , ...চায় ভোরের আজান কিংবা বেদ মন্ত্রে নিজের ক্ষিদে লুকিয়ে আর একটু সহ্য ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে ,,
হৃদয়ের কাঁটাতারেও ফুল ফোটে নিঃস্ব কোনো মন খারাপের দুপুরের ,,।
যে মানুষটা যুদ্ধে মন দেয় তার কলমের নিবে রক্তকরবীর জন্ম কথা লেখা হয় .....লেখা হয়
অনর্গল কিছু কথা যা চুপ করে থেকে বলা হয়েছিলো নিজের সাথে ।
জীবনের জ্যামিতিক চিহ্নদের তিন পুর8 একজন আগুনে পুড়িয়ে অস্ত্র বানিয়ে ফেলে ।
তারপর সব আঁচড়ের দাগ ক্রুশ কাঠ আঁকড়ে ফ্যাকাসে জেরুজালেমর আকাশ ,মাটির রঙ
বদলে .....বদলে দেয় পুরোনো ইতিহাস ,,।
এভাবেই  প্রতিটা মানুষের ভেতরের তিন পুরুষ পঞ্জিকা দেখে এক দিন বারবেলায় নিজেরাই নিজেদের  মুখাগ্নি1 করে সমস্ত শুদ্ধি-করণ 
সেরে ফেলে ...........।
*********************

#জীবন যেরকম চায়
#সই

সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১

নীল পাঞ্জাবী সাদা বোতাম

একলা এক পেয়ালা নিঃসঙ্গতা নিয়ে অঘ্রানের ভেতর..স্মৃতির পুরোনো খসড়া খুলে বসতেই..

সেখানে একপা দু পা করে   কোনো এক আগন্তুক শরীরের অস্তিত্ব ফুটে ওঠে...

অজানা অথচ খুব চেনা কোন নদীর পাশে..ঘাসের ওপর   চিবুক রেখে
  আমাদের পরিচয়র ভূমিকা পার হই,  ....ভালোলাগার অমোঘ 'আলো-মহলায়' প্রবেশ করি আলতা পায়ের ছাপ রেখে...

কাছাকাছি হওয়ায়  দুটো লাল হলুদ প্রজাপতির
পরস্পরকে জড়িয়ে ধরার আপ্রাণ খুঁনসুটি দেখতে দেখতে.. আমিও অনেকদিন পর গুনগুন করে উঠি
"সখী ভালোবাসা কারে কয় ........"
হঠাৎ বেসামাল আমাদের হাত জড়িয়ে যায় আনমনা ভরসায়.....নতুন করে।

আমি সুখের অনুভূতি লুকিয়ে 
মুখ তুলে তোমার নীল পাঞ্জাবির সাদা বোতামের ফাঁকে নীল সুতোয় চোখ রাখি যত্ন নিয়ে...

আমার  এক হাত কাঁচের চুড়ি শব্দ  ওই বুকের দিকে এগিয়ে যায় ....

ঠোঁটে আলতা মায়া নিয়ে বলি ..
" তোমার বোতামটা  ছিড়ে গেছে..একমিনিট দাঁড়াও..
আমি ব্যাগ থেকে সুতো বের করে শেলাই করে দিই...
তা না হলে বোতামটা হারাবে যে"..!

আবরণের শরীর সারাই শেষে  মুখ এগিয়ে ঠোঁটের আড়ালে দাঁতে সুতো কেটে সেতু পারাপার করে নিই...

ও বুকের  আমার উষ্ণ নিঃশ্বাস..
আমি ভালোবাসার পাতায় চোখ রাখি...যত্নে ডুবে গিয়ে,

গল্পটার গভীর রাতের জন্য মরিয়া হয়ে আমি অপেক্ষা করে..
ক্রমশ সময়ের পাতা উলটে যাই... লিখে ফেলি নতুন উপন্যাসের পর্যায়ক্রম...,

হঠাৎ মনে পড়ে যায়..
সেদিন এক নিঃস্ব দুপুরে একলা আমিতে..
আমার মন বলছিলো..
" এবার তোমার নিজেকে ভালোবাসা সময় এসেছে"..!

শব্দহীন প্রচ্ছদে এবার তোমার নিজের কিছু স্বাক্ষর খুব জরুরী ............।

#সৌজন্যের ইতিহাস 
#সই

ভরসা

তোর চোখে  ভরসারা যে ভাবে আশ্রয় দেয়  ..
আমি তখন জীবন আঁকি আমার অগোছালো ক্যানভাসে মৃত্যুর সব রঙ মুছে ফেলে ...
এভাবেই আমায় বাঁচিয়ে রাখিস আমার আলো আর ইচ্ছের  প্রজাপতি  হয়ে ❤ 
ভালো থাকুক  তোর মত এই পৃথিবীর সকল ভালোবাসাতে পারা  মানুষ গুলো ,,
হয়তো বা আমার মত ভাঙচুর হওয়া সভ্যতা আবার গড়ে নিতে পারবে নতুন কোনো গল্পের শুরুয়াত ।
দুটো পক্ষের মাঝে পরে থাকা পক্ষাঘাত মনটাকে শেষমেশ তুইই পারলি হলুদ জলে স্নান করিয়ে নিতে ।
এখন আর তাই আমি ভাঙা ঘটে জল রাখিনা ...
এখন আর তাই আমি ভাঙা সম্পর্ক গুলোর কবিতা লিখতে চাই না ,
আঘাতের বুক থেকে যারা  মনকে ছিঁড়ে ফেলেছিলো ....তুমি তাদের সৎকার করে 
স্রেফ একটা  টিকটিকির সংসারে সং সাজা থেকে আমাকে বিবাগী হতে শিখিয়েছো।
আমার নিজস্ব ছবিবিহীন ঘরটার অন্দরমহলে তুইই শিখিয়েছিস আমার বড়সড় পোট্রেট সাজিয়ে নিতে ।

....তোর চোখে  ভরসারা যে ভাবে আশ্রয় দেয়  ..
আমি তখন জীবন আঁকি আমার অগোছালো ক্যানভাসে মৃত্যুর সব রঙ মুছে ফেলে ...।


#সই

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১

সকাল

তুমিই একমাত্র সকাল,  ... বাকিটা কাদা আর 
মাটি লেপে রাখা সময়ের রাত্রি ।
বৃদ্ধ চাঁদ কে তুমি নতুন পক্ষে সামিল করে যৌবন ছুঁইয়ে দিতে পারো  প্রতিটা একাদশীর পরেও,,

একলা নিজস্ব ঘরে ভেঙে যাওয়া নদী পাড়ের বসত কান্নায় কোনো জোয়ার ভাটার দৃশ্য থাকে না .....,,

.....তবু প্রতিটা ভাঙ্গনের পর একটা দীর্ঘ শীতকাল কুঁকড়ে থাকে বুকের ঘরে ।
শূন্যতার গা ঘেঁষে একটা প্রশস্ত রাস্তায় তোমার মত কেউ সকাল হয়ে আসে জাগতিক নিয়মে ।

সাঁতার ভুলে যাওয়ার আলোর ভেতর ডুব-স্নান থেকে আর ফিরে আসে না কখোনোই ,,
কাদামাটির জীবনে হারিয়ে ফেলার দুঃখদের শক্ত চোয়াল শিখিয়ে দেয় অতীত মানেই  আবছা হতে হতে আরো  জড় অস্থাবর  হয়ে ওঠা স্মৃতি....যা ছুঁয়ে থাকলেও স্পর্শ,  গন্ধ, বর্নবিহীন ,।

....তুমিই একমাত্র সকাল হতে পেরেছো বাসী রাত্রির পরে।

       ম


                 য় 


তুমি সকাল হয়ে এস এভাবেই প্রেমে অপ্রেমের চৌকাঠ কে তুচ্ছ করে প্রতিটা ঝড়ের রাতের নিজস্ব সুরের পরে।


#সৌজন্যের ইতিহাস
#সই


শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১

সময় এলো রাজার মত হলো কালের খেলা শেষ

শব্দেরা শান্ত স্রোতের মতো বয়ে গেলো..
শক্ত চোয়ালে তুমি কিছু বললে.. যা শুনতে পেলাম তার গভীরে হেঁটে যেতে চাইলাম!

আমি শুনলাম এক নিষ্ঠুর ঝড়ের সুর থেকে নটরাজ প্রলয় এর  ডংরুর আওয়াজ...!

ক্ষমা করে দেয়ার ক্ষমতা সকলের থাকে না..
কিন্তু সময়কে ক্ষমা করতে মানুষ কি দারুণ শিখে যায়..; সহজেই।

তুমি যতটা নিঃশব্দে কাঁদো..
আমি ততোটাই স্ব-শব্দে তোমার কাছে আসতে চাই... আমার তীব্র চেতনার সাথে,,

প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছুই হয়তো বিষ নয়...
এই শহরের 'চুপ' মানুষগুলোর জন্য..
সেই 'অতিরিক্ত' এর সীমানা অতিক্রম করা 
ভালোবাসাটা যে অমৃত প্রয়োজন...!

প্রিয় নৈঃশব্দ্য,
নিজেকে নির্লিপ্তততার মুখোশে রেখে...
তুমিও কি কোন সুইসাইড নোট লিখছো...?

একটি চুপ তারার  আজ আকাশে যে সামিল হলো 
সে কথা লেখা থাক নাহয় কোনো অপ্রকাশিত ইতিহাসে.........।
*****************
#সৌজন্যের ইতিহাস 
#সই

গন্ধ

এ এক ভেজা পৃথিবীর গন্ধ..
এক নিমিষেই হেরে গিয়েও 
অদ্ভুত কোন জিতে যাওয়ার গন্ধ.. আমাকে পেয়ে বসেছে !

নরম  শালুকের গায়ে নোনা জলের  গন্ধ যেনো...
ভুলিয়ে দিচ্ছে কষ্ট-দেয়ালের গায়ের
নিজের খুব চাওয়া হাতের তালুর রঙ্গিন ছাপের গন্ধ.. বড্ড ভালো লাগছে যে ,

গন্ধটা না মৃত্যু.....
না জীবন......;

গন্ধটা অনেকটা পথ ক্লান্তিহীন হাঁটার পর 
জীবনের  গনগনে রোদ্দুর পেরিয়ে এসে গোধূলির আশ্রয়ের মতোই..
অকারণ বেঁচে থাকার তীব্র এক ইচ্ছে-গন্ধর মতোই ..!

গন্ধটার নাম 'তুই'...!

সেদিন যেতে যেতে হঠাৎ করেই 
যে মুখের মুখোমুখি হয়ে মনে হয়েছিলো...
"এখানে নিশ্চিত জীবনের  মুহুর্তগুলো আশ্রয় পাবে..
যেখানে স্রেফ চুপ করেও অনেক কিছু বলা যায়"...!

প্রিয়, নৈশব্দ..
অনেক তো বেঁচেছি পরের জন্য...
এবার আমি নিশ্চিত শুধু
নিজের জন্য বাঁচবো...!

ভালোবাসা..ভালোবাসা...খেলা খেলে
শৈশব থেকে নেশাতুর কোন মিথ্যে চকমকির চাইতে..
তোর এই সত্যি শুভ্র গন্ধটা যে ইশ্বরেরও খুব প্রিয় কিনা জানি না তবে আমাকে স্পর্শ করছে

হাজারটা প্রেমের চিঠির নেশার চাইতে..
অনেক পবিত্র নেশা হচ্ছে
সত্যের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা
কাঞ্চনজঙ্ঘার কোল ঘেঁষে থাকা  কুয়াশার নেশা...;

যে কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা..
এক স্বর্গীয় গন্ধের 'তুই'..


তুই যে আমার ভালোবাসার "রডোডেনড্রন"...!
****************************************

#সৌজন্যে তুই উপন্যাস 
#সই


শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১

কথা

ছেলেটা বলেছিলো বুকের উত্তাপে জড়িয়ে রাখবে ,
চোখের কোনে অদেখা ইচ্ছা দৃশ্যদের আখড়া জমানো ছিলো, 
বাকি সব ঋতুদের সঞ্চয় খরচ করে শীত চাদর কেনা  হয়নি তাই।
এখন দু ঠোঁটে পুঁতে রাখা অবাধ্য এক নাম ,
ছেলেটার ধান কাটা শেষ হলেও পুঁজিবাদী গোলাঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাই ভবিতব্য ,
হেমন্তের দুঢোক বৈধব্যে শিশির গড়িয়ে নামে গত দিনের বাড়তি সোহাগের ওপর ।

ঋতু বদলের মত ছেলেটাও বদলে নিলো নিজেকে,
সময়ের সাজে তুখোড় বণিক হয়ে উঠলো সে ,
শীতল মৃত্যু হওয়ার আড়ালে চুরি করে নিলো ,আকাশ  থেকে গড়ের মাঠের সবুজ ঘাস অব্দি ....,

তার শঙ্খ চুবুক , বুক আর চোখের ভেতর অদ্ভুত নিঃস্বতা জড়ো হলো .....জড়ো হলো  ছেলেটার শরীর জুড়ে  কাঁপুনি , , 
শেষমেশ রোদ কিংবা উত্তাপ কোনটাই থাকলো না বুকের ভেতর ,, ঠান্ডা বিছানায় কুঁকড়ে শুয়ে থাকে ছেলেটা .....অপেক্ষা করে দীর্ঘ ঘুমের ।
....ছেলেটা বলেছিলো বুকের উত্তাপে জড়িয়ে রাখবে......!! ,







শুক্রবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২১

বোকার জন্ম

রোদ্দুর আকাশেও বৃষ্টি লুকিয়ে থাকে , 
হাসির আড়ালে যেমন সে ,
দৃঢ়তার আড়ালে দুর্বলতা থাকে ...তবু একথা বলবো না আর , নিজেকেও জানান দেবো না কতটা ক্ষয়ে গেছি ,
ফিরে তাকানো বারণ ....বারণ মুক্তির সামিয়ানায় সমস্ত বন্ধন এর নকশা আঁকা ।
এমন কিছু বৃষ্টি ভেতরে থাক , এমন কিছু যন্ত্রনা থাক সোনার রেকবিতে সালমা চুমকির বুননে ঢাকা ।
কে কাকে কতটা বদলালো সে কথা আর প্রয়োজনের নয় ....সমস্ত মুক্তি নিয়ে জন্ম দুয়ার থেকে ভালোবাসাহীন হতে শিখে নিতে পারলেই 
কেল্লা-ফতে,,
আগামীতে লেখা ইতিহাসে একটা উপন্যাস কম হোক .....যা এতদিন ঠিক মনে হতো , এখন সবটুকু বোকামি , ,.....বোকামি সব উপলব্দি , বস্তাপচা অনুভূতির সস্তা বাজারী দরে বিকিয়ে দেওয়া ।
মূল্যবান কখন যেনো নিরিখে মূল্যহীন ,,
সব কিছু ভেল্কি বাজি ,,
এ পৃথিবীতে চুক্তিপত্রে যখন কেউ কথা  রাখে না।
... ,সেখানে হৃদয়ের কথা ওজন বিহীন চিরকাল হতেই হবে  ,,
মন নয় হয়তো যোগ্যতা লাগে টিকে থাকতে ,
বিবেক নয় বুদ্ধির গোড়ায় গনগনে জ্বালানী বলে দেয়  বাণিজ্যিক ভাবে সফলতার কাহিনী ।
অথচ এখনো আমার মত বোকারা জন্মায় আর উপভোগের বীর্য শরীরে নিয়ে বাথরুমের ফ্ল্যাশ এ সভ্যতার ঘূর্ণিঝড়ে পাক খেতে খেতে প্রাক্তন টুকুর তকমাও পায় না ।
আমি কোনো নারী নই ,আমি কোনো পুরুষ নই ...আমি  বা  আমার মত যারা তারা চিরকাল অবহেলা লুকিয়ে অবহেলায় পিষে যাওয়া সময়ের যন্ত্রনা মাত্র  ,শুধুমাত্র পুড়ে যাওয়া কাঠের ভেতর একটা দীর্ঘশ্বাস যা আড়ালেই থেকে যায় ।।

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

মৃত সম্পর্ক /সম্পর্কের।মৃত্যু



আমি ও সে প্রায়ই মুখোমুখি বসি  নিমতলার পুরোনো অপেক্ষার ফেরিঘাটের কাছে ,
....সে মৃত সম্পর্কের  কথা শেষ করলেই  আমি সম্পর্কর মৃত্যু নিয়ে কথা বলি ,,
বহতা ও থেমে থাকা তখন একটা সূক্ষ অদৃশ্য সেতুতে এসে জিরিয়ে নেয় ।
সে বলে ...ঝলসে গেছি  এই শহরটার ঝাঁ চকচকে আলোর  আগুনে ....যাবি আমার সাথে অন্য কোনো দেশে ? 
আমি বলি সম্পর্কের গায়ে নরম স্পর্শ লাগে ,  এতটা নরম যেন আকাশে ডানা মেলা প্রথম উড়তে পারা পাখি ,, 
.....যেনো মনে হয় শুধু ছুঁয়ে থাকা অনন্ত প্রেম ,..যার জন্ম নেয় মৃত্যু নেই ,মাঝখানে পথের অভিযোগ নেই নেই অভিমান।
এসব কথার মধ্যেও আমাদের প্রসঙ্গ কখন যেনো বৃত্ত ঘুরে আগুনের কথায় ফিরে ফিরে আসে,,
গোপন ইস্তেহারে চাটুকারিতা ,বিষ আর মুখোশের কাব্যগ্রন্থ জেনে ফেলি ,, 
শেষমেষ একটা পুড়তে থাকা পুরুষের বয়ান বলি .....বলি তোমার প্রত্যেকবার নিকোটিনের আড়ালে পুড়তে থাকার দাম এবার থেকে আমি মিটিয়ে যাবো , তুমি আমার তেষ্টার দাম মিটিয়ে দিও প্রতিবার,,
 ,......ইদানীং এইভাবেই কবিতা লিখতে গিয়ে বিঞ্জাপন লিখে ফেলি  বারংবার.......লিখে ফেলি খ্যাতি আর হাততালি মোড়কে রাখা চোরা আফিমের কথা ।
 কথোপকথনে শহরের কিসসা ফুরিয়ে ফেলি  ভোরের দিকে ,,
খাতা খুলে দেখি আজ বহুদিন সে একটাও কবিতা লিখতে পারেনি ।
আজ বহুদিন তার নিঃশ্বাসে মৃত সম্পর্কের পচনের
দুর্গন্ধ লেগে ...........।

#স...@copy right





সিস্টেম

সামাজিক সিস্টেমে কত প্রেমিক প্রেমিকা ব্যর্থ তার হিসেব নেই  ব্যর্থ কত না ইচ্ছামতি প্রবাহ ।

হিসেব নেই এমন অজস্র বেঁচে থাকার নামে শুধুমাত্র নিজের মৃতদেহ বয়ে ফেরা ।

সময়ের নুড়ি অসীমে দিকে ছুঁড়ে দিতে দিতে একটার পর একটা ইচ্ছাদের থেকে সমঝোতার 
বিচ্ছেদে অবাধ্য মন কে নোনা জলে স্নান সারতে হয় , 
একটা মাত্র জীবন তবু বাঁচার জন্য সময় কম কিংবা সামাজিক সিস্টেমে মেহেন্দী পাতা পিষে নিয়ে যন্ত্রণার রঙ্গে চেহারা রাঙিয়ে নিয়ে সভ্যতার প্রথম সারিতে যাপন ক্লান্ত পায়ে হাঁটতে থাকে ।

সমাজ কি মানুষ এর আসল বেঁচে থাকার উপাদান !! 
....তাহলে নাকে অক্সিজেন এর মাস্ক পরে সাতমহলা হাসপাতালে পড়ে থাকা দেহ থেকে পাখিটা মুক্তি খোঁজে কেনো ? 

কেনো সোনাঝুড়ির বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে জাপটে আঁকড়ে সামান্য বেঁচে থাকা পুষিয়ে নিতে হয় ?
কেনো বাঁচার অধিকার খুঁজতে খোয়াই এর প্রবাহ সাক্ষী থাকে গোপন পারিজাতীয় অনিয়ম নামক সময়ের  চাদরে  ?   ......জানি না .....জানি না পার্থ 
এমন কত প্রশ্ন তার চিহ্ন ভুলতে চায় ,
জানা যায় না এমন কত অনিয়ম দ্বীধাহীন হতে চায় ।
জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে ঠিক কতটা আকাশ পাওয়া যায় আর কতটা খাঁচা জানলে  জানা হতো  অনন্ত উপলব্ধি থেকে ঝরে পড়া আলোর একটুকরো রশ্মি কে ... ।

দর্শন

একটা শব্দের চালে জিতে আছি ....
সাহসী প্রেম এখনো মরে যায়নি তাই ..,
তোমার তর্জনীতে আমার মুক্তি ছিলো বলেই 
আকাশে মেঘেরা এখনো ভীষণ স্বচ্ছ ।
জীবনের দোরগোড়ায় মানুষের দর্শন বড্ড অবাক করা ....তবু ..তবু  এই পৃথিবীর সবকিছু ভীষণ যথাযোগ্য মনে হয় ,
তাই মানুষের সব পেলে নষ্ট জীবন মেনে নিতে একটা বয়সে এসে খানিক দাঁড়াতে শিখে নেওয়া ।
গুটির চলে সতরঞ্জ কি খিলারী যে,   সেও একই পার্থিব ,, 
তবু মানুষের জন্ম যেনো জিততে আসার উদ্যেশ্যে .. কায়েম ।
জন্ম কান্না যেনো জানিয়ে দেওয়া ....সামিল হওয়ার কথা ।
নিজস্ব পরিচয়ে সম্পর্কে সীলমোহর আর খানিকটা অহংকারের আঁতাত .... তবু তো সেই শূন্যে মিশে যাওয়াই পরম প্রেম , কিংবা পরম পাওয়া ।
জন্ম জঠরের বাইরে চুকিয়ে দেওয়া লেনা দেনা ...
তোমার সাথে শেষ হলো আমার যত খেলা ।
মাঝখানের পথটুকু হাঁটতে থাকা বিনা সওয়াল জবাবে .....মানুষ পারে কই এই পথটুকুতে উদার হতে ! 
একটা শব্দের চালে তাই মানুষের জিতে যাওয়ার নেশায় সমস্ত মধ্যস্ত সম্পর্কগুলো  রাখা ।

বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১

বুক পকেটে রাখা চিরকুট

...এমন একটা পাপ খুঁজছি যাকে ছুঁয়ে আমি পূর্নতায়  ডুবতে পারি ......মনের কড়ি  খরচা করে মহাপ্রলয়  কিনতে চাইছি  ,
সুখের অতিমারী থেকে সুইসাইড নোট লিখতে চাইছি সাদা পাতায় রঙিন মৃত্যুর উপন্যাস যেখানে শেষ হয়,
 একমাত্র তোমার নিমন্ত্রণ রইলো .....এই উৎসর্গের কলমে ।

মঙ্গলবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২১

কাফের প্রেম

এমনই কোনো নক্ষত্রবিহীন রাতে তোমার সাথে
পারিজাতীয় উপভোগে মেতে উঠতে চেয়েছিলাম বলেই ওই আগুন দৃষ্টির ভেতর ঝাঁপ দিয়েছিলাম সেদিনের ফেলে আসা চৈত্রের দুপুরে ।

এমনই কো‌নো নক্ষত্রহারা রা‌তে
এ শহরে নির্ঘুমতার সন্ধিতে  অনেক প্রেম আসে যায় , ....তবে কোনোটাই পারিজাতীয় প্রেম নয় ।

এ বুকের মুচড়ে উঠা দীর্ঘশ্বাস ধরে তুমি নেমে যেতে পারো পাতাল ছুঁয়ে ফেলা গোপন আস্তানায় , 
হাড়ের কুলুঙ্গিতে জ্বেলে রাখা প্রদীপে তেল ঢালতে ঢালতে তোমার চোখের আমি ইচ্ছার মত চকচক করে জ্বলে উঠতে দেখি নিজেকে ..... আমাদের সংঙ্গম-সমাধির  ভেতর ডে‌কে ডে‌কে থে‌মে যায়, অদূ‌রে কোথাও শ্বেত রা‌তপ্যাঁচা ।

শুকতারা ঘুমিয়ে পড়ে উত্তরের হওয়ায় গা মেলে ,,
জানলার শার্সিতে কুমকুম রঙের সূর্যদয় ।

 শুধুমাত্র তোমার চো‌খে তা‌কি‌য়ে থে‌কে
জীবন‌কে উপ‌ভোগ কর‌বো ব‌লেই- এ শহর কে দোসর করেছি  ......আঁকড়ে রেখেছি কাফন বিছানো প্রেম ।



*

শ্রেষ্ঠ পুরুষ

সহস্র মৃত্যুর অঙ্গীকারে তুমি আমার একমাত্র মুক্তির জানলা ,  তুমি   শ্রেষ্ঠ পুরুষোত্তম .....
অথচ আয়নাবাজি আর শব্দের জাগলিং করতে গিয়ে সে কথা জানানো হয় নি যে কখনোই , কিংবা হয়তো জানবেও না এ কথা কখনো , ,
তুমি সেই শ্রষ্ঠ পুরুষ যাকে তন্য তন্য করে খুঁজি
যেকোনো মেয়েলি প্রহরে ,
ও বুকের বুনো গন্ধে নিজেকে ডুবিয়ে আমার কপালের নিভু নিভু চাঁদে নেশা জাগে ধূলি ঝড়ের চেয়েও তীব্র । আমার নারীত্বের খোলা বুকে চিন্হ হারা দুরন্ত ঘোড়ার মত দৌঁড়ে বেড়াও ....আমি পাহাড়ি বহতায় খরস্রোতা ।
শ্রেষ্ঠ পুরুষের মত তোমার অতল স্পর্শী সমুদ্র মন ,
স্বা‌গ্নিক প্রেমি‌ক পুরু‌ষের ম‌তো- চরম উদ‌্যম উন্মত্ততায়,  তোমার আঁকড়ে থাকায়  মেয়েলি প্রহর স্বর্ণলতা হয়ে বেড়ে ওঠে তোমাতে নির্ভরশীল হয়ে।

আসলে তোমায় কতটা  খুঁজি  বলতে পারি না, আসলে   তোমার ভেতর একটা জানালা খুঁজ‌ছি- মু‌ক্তির, সহস্র মৃত‌্যুর অঙ্গীকা‌রের, আগলে রাখা জন্মান্তরের ,
....যেখানে  সম্পূর্না নামে এই ব্রহ্ম চিনে নিতে পারে অবিনশ্বর চিরন্তন থেকে যাওয়াতে ।




কবিতা নয়


সবটাই হারিয়ে ফেলার পরে পড়ে থাকা শূন্যতার অসুখ...।
 বারান্দা থেকে  ছুঁড়ে ফেলা সূর্যাস্তের রঙ যেন বলে যায় পারলে আবার জন্ম নিও শুধুমাত্র  আমার জন্যে। 
বহু দূরে অসমাপ্ত গল্পদের  স্তম্ভের চূড়ায় অজস্র ঋতুর দল শূন্যতা ছড়িয়ে রাখে এই কান্না ঝরে পড়া বেলায় ...,
 যেখানে বধিরতা উড়ে যায় অলক্ষ্য কবিতা সংলাপে দিকেই। 
কাচের দেওয়াল গ্রাস করে অজস্র  চিহ্ন ও মায়া মোহ প্রেম অভিমান ভালোবাসার অবশিষ্ট হয়ে।

 হারানোর অসুখে ভরা উঁচু অশ্বত্থের ডালে তখন একসাথে অনেক জোনাকি রাত জাগলেও তারা প্রত্যেকে ভালোবাসায় ব্যর্থ নয় .....,, তাই মৃত্যু এখনো কাঁদায় কাউকে কাউকে ।

 এখন গঙ্গার মৃদু ঢেউ ফিরে আসে অ-সুখ জড়ানো একলা মেয়েটার পায়ের  কাছে... অস্থি বিসর্জিত  জল ক্রমশ দূরের হয় .....বুকের কাছে দলা পাকানো কান্না আড়াল করতে অফিসের টেবিলে ব্যস্ততা খুঁজে নিতে থাকে রোজনামচা।


খেলা শেষ

ক প্যাকেট ধূপকাঠি  আর পুরোনো গল্পের আঁতাত নিয়ে এই গঙ্গার পারে মৃত্যুর সাথে তিনপাত্তি খেলছি গত কয়েক ঘন্টা , 
যন্ত্রণার সিম্ফোনিতে  না থাকার ধোঁয়া ধোয়া রুফকনসার্ট আকাশ ছুঁয়ে ফেলেও আমি একাই এই সফরে আমার সাথে রয়েছি,
একলা একটা মানুষ আর কত কি সহ্য করতে পারে নাগরিক দৃশ্যে খুঁজে নিতে কষ্ট হয় না  ,,

ছড়ানো প্রেমে ভাঙা কাঁচে  রক্তাক্ত সংলাপ লেখা ঔঙ পত্র চেনা দুয়ারে টোকা মারবে কিছুক্ষন পর ,
টেলিফোনের ব্লকলিস্ট  অজান্তে RIP শব্দের  চাদরের আড়ালে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়বে  পুরোনো স্মৃতি রাখা কাহিনী।
হলুদ পাখি আর কখনো পারিজাতীয় বসন্তের আবদারে ডেকে নাই বা উঠলো ,, 
গুছানো তাসের ঘরে শতাব্দীর সুরক্ষা কবজে গুপ্ত মৃত্যু ঘটে যাবে কেউ জানতে পারবে না .....কেউ সে সৎকারের খবরও পাবে না ।
ভালোবাসার ফিক্স ডিপোজিট ভাঙ্গিয়ে কিছু কবিতার জন্ম শুধুমাত্র চারফর্মার জীবনে মৃত্যু সাথে তিনপাত্তি খেলতে শিখিয়ে দিলো ।
বুকের কাঠামোয় চিতার আগুন আগলে গঙ্গা আমি আর মৃত্যু তিনপাত্তি  খেলছি ।

সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

বর্ষাতি তোপ

 এ শহরের তুমি সেই আগের তুমি নেই ....

এ শহরে আমিও আর আগের মত তোমায় খুঁজিনা তাই ,

বর্ষাতি তোপে নাগরিক পারাপার

ভুলে গেছে এ শহর  কে কাকে শেষ কবে ছুলো,,

তবু পুরোনো  খোঁজে হারিয়েছি অগুনিত ধারাপাত, ,
 ব্জ্যামিতি আঁকছে  শব্দের কলোনি গলিগুলোয় । 

টবের গা ঘেঁষে বৃত্ত জলের ছাপ কুয়াশার বুক চিরে ।
দূরে বেঁধেছে পাখিদের ঠোটে কাড়াকাড়ি  জীবন সংগ্রাম।

জলের আবদার  আর কেউ নেই তেমন,

  সে কথা রোজ লিখে রাখি ভোরের প্রথম আলো যে জানলার কাঁচে ঘুম ভাঙাতে আসে ।

pain can change behaviour of heart

শহরের বুক জুড়ে এখন ধ্রুপদী শীতহওয়া ,
বাহারি ফুলের ভেতর নতুন করে ভুল করার অপেক্ষা যখন বেদুইন সময়কে সাথে নিয়ে  তোমাকে চুমু খাওয়ার প্রচণ্ড লোভ সামলে উঠতে পারি না আমি  ,, 
সমস্ত পুরোনো অধ্যায় হঠাৎ করে অপাপবিদ্ধ মনের কাছে সাদা পাতা হয়ে যায় ।
এই খাঁ খাঁ বুকের ভেতর তোমাকে জড়িয়ে থাকা চুড়ান্ত লোভ থেকে নিস্তার পেতে ইচ্ছা করে না  ,
নিষিদ্ধ বুনো গন্ধ মেখে স্নান সারি দেহ মনে ,।

উষর কুয়াশার  অন্ধকা‌র  ঘর দখল করে 
তু‌মি খুব সং‌গোপ‌নে প্রেমিকের  ছদ্ম‌বে‌শে 
আঁততায়ীর ম‌তো এসেছো বারংবার,
 আমার চৌত্রিশের স্তনে তখন কাঙ্খিত  ভোরের আলো ,,
যোনিতে মুখ রেখে উদোম চাষার মত তখন তোমার মাটি ভিজিয়ে ফেলার নেশা ,
আমার গতর চুইয়ে বয়ে যাওয়া আগুন তোমার সমস্ত সামাজিকতা থেকে  তোমাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে ।
 ,.......আমি আরো লোভী হয়ে উঠি .... প্রতিবার  এভাবে তোমায় নষ্ট পুরুষ করে  আমার বিরান মাঠে ফসলের নকশা সাজানোর উদ্দেশ্যে  ....ব্যথার খরিপে রাখি সাদা ফুল রাখি এমন প্রতিটা অধ্যায়ের উপসংহারের শেষে ।





meet me where the end begins in echoes ...

সকালে ঘুম ভেঙে বুঝলাম অনেকটাই আবছা হয়ে গেছে জল ও সম্পর্কের সমীকরণ এর দাগ ,
এই বছরভর জল আর বুকের তীব্র ভাঙ্গন ছিল মারাত্মক ,,
গোপন যন্ত্রনা আড়াল করতে করতে কাঁচ জানলার ওপারে প্রিয় এসরাজে ধুলোর পরত জানিয়ে দেয় অনেক দিন পর উৎসব ও শোক সবটাই ফিকে হতে হতে মনের আড়ালে হারিয়ে যায় , 
মানুষ বাঁচে কিসের জন্য ? ক্রমশ আগুনের ভাষা মানুষের চরিত্রে কঠিন স্বভাব পরিয়ে দেয় , 
ভেসে থাকা তখন এক মাত্র উদ্দ্যেশ্য  এই বয়ে চলা ভিড়ের শহরে , যন্ত্রনা ও ভালোবাসা দুই মানুষকে বদলে দেয় অনেক খানি ........,
তবু এই যে ছুঁয়ে থাকা  এইটুকুই তো নিরাময় ..
অথচ নিরাময় জুড়ে প্রিয় তুমিটাকে না ছুঁয়ে থাকা ,
আমার হাত ঘড়ির কাঁটায় সময়ের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে .....Meet me , where the end begins in echoes ... Where your world is me and my world is you 🌼🌼

তারাখসা

ক্রমশ খসে পড়ে আমার  হাত... পা- আঙ্গুল , হৃৎপিণ্ড .. এমনকি একটা কিডনিতে  লিখে রাখা শেষ ফুটনোট-টাও...,,
 
হাঁটতে গেলে দু-পায়ে জড়িয়ে যায় কবিতার ...  রঙচটা শব্দরা ,
 গুমঘরে আঙুলের ছায়া নেমে আসে পুরোনো ফেলে আসা অবৈধ মায়ার ,
... বৈজ্ঞানিক দাড়িপাল্লায় নিজেকে বসালে বুঝি 
ধর্মতলায় সেদিন যাওয়া কতটা ভুল ছিলো,
... কাঁকড়াদের স্তোত্রপাঠ শুনি এ কলকাতার সোনার বাংলার সুইমিংপুলে ,
... আর ঠিক তখনই  নখের আঁচড় দিয়ে  চেনা  বন্য গন্ধ লিখতে ইচ্ছে করে ছুঁয়ে দেওয়া   নিজের শরীরে...,,।
তখন  ভেবে দেখিনি... কী কী ভুল করতে পারে এই নিয়মিত হয়ে থাকা যাপনটা।
 কিংবা অ্যাসট্রের ভেতর কতটা  আমার পুড়ে যাওয়া হাড় জমলে... সমুদ্র হ'‌য়ে যায় তোমার হঠাৎ হঠাৎ বেকারার হয়ে ওঠা  মন ,,
 । 
শুধু পক্ষ থেকে পক্ষান্তরে জমিয়ে গিয়েছি পালক... আর হাঁড়িয়ার মতো কিছু অপরিণত ফটোগ্রাফ...
Copyright @সই






সংঘাতহীন নিঃস্বতা

প্রতিটা দিন প্রতিটা শব্দ পড়তে কিংবা জানতে হবে তার কোনো দরকার নেই , 
এই পৃথিবীতে অজস্র গোপন মৃত্যু আছে ...আছে গোপনে পুড়তে থাকা মানুষের মন , সব টুকু ওই খাতায় তুলে রাখতেই হবে তার কোনো দরকার নেই , তোমার সতেরো দিনের প্রেম ভেঙে গেছে বলে রোজ গালাগালি দিচ্ছ , 
আমার সাত বছরের ভালো -বাসা চুরি হয়ে গেছে আমি কাকে নালিশ করবো এই শূন্য হাড় পাঁজরে ঘরকন্না ভাঙার ! 
শুধু জানি যে চুরি গেছে তা আমার ছিলো না কখনো ...
শুধু বুঝি আমার ঘর যে ভালোবাসা হীন করেছে তার ঘরেও চুরি অনিবার্য ....
শুধু জানি সবার সামনে সময় একদিন নতজানু হয় ....।
 কখনোই  কোনো নালিশ নেই কারো ওপর ....মা জন্মের কয়েকদিন পর রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল, নালিশ কিংবা কোনো প্রশ্ন করিনি আজও , 
বাবা কখনো অন্যদের মত স্কুলে নিয়ে যায়নি নালিশ কিংবা প্রশ্ন করিনি কেনো !
প্রিয়তোষ উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্ট এর আগের রাতে বুকের কাছে আমার মুখটা ওর দুহাতে নিয়ে বলেছিলো আমি আছি তো ভয় কিসের ....তারপর কত রেজাল্ট বেরোলো প্রিয়তোষ হারিয়ে গেছে অজানা ভয়ে কিংবা আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে অসম্ভব ভয়ের দিকে,,
 আজও প্রিয়তোষ কে নালিশ কিংবা প্রশ্ন করিনি কেনো এমন করে পুজোর ফুল পায়ে মারালে !

.....শেষমেশ  ঋষিকেশ বলেছিলো সাথে থাকা পাশে থাকা এক নয় ....বলেছিলো আমি তার দেখা নারী চরিত্রে শ্রেষ্ঠ,, 
,বলেছিলো একদিন পাহাড়ে ঝর্ণার গায়ে  ঘর বাঁধবো,,   বলেছিলো আমার যন্ত্রনায় পুড়িয়ে ফেলা ২০৬টা হাড়ের আড়ালে ধুকপুক টুকু বাঁচিয়ে রাখতে , বাকি রাত ফুরোনো একটা নতুন সকাল তার আমার হবেই বলেছিলো ।
একদিন ঋষিকেশ নিজেকে হারিয়ে ফেললো গোধূলির শেষ বিকেলের রাঙা রঙ্গে পলাশ খোঁপার বাঁধিনে র আড়ালে ,,,,,
আমি বুঝেছিলাম যা কাউকে বুঝতে  দিইনি  সে সব না বলা যন্ত্রনা ,,,  আমি দেখেছিলাম যা কাউকে দেখতে পারলে নষ্ট প্রেম হতো এ উপন্যাস,
পারিনি বলতে ,পারিনি দেখতে ,পারিনি  অন্ততঃ ঠাটিয়ে একটা চড় .....তুলতে,,  ,
 আর তাই  আমার কোনো অবাধ্য  প্রশ্ন নেই নালিশ নেই .....পৃথিবী যে ভাবে যেমন আছে সেটাই ঠিক .....
আমার কোনো নালিশ নেই .....চাওয়া নেই ,
নেই একটাও সমুদ্রে স্নান সারা নিঃস্ব কবিতা ,,,
মা , বাবা ,প্রিয়তোষ ,ঋষিকেশ ,পারলে আমার হাতের রেখা নিতে পারো , আরও উপহার হয়ে পড়ুক আমার চিতার ছাই তোমাদের দুয়ারে  যে কোনো ভালোবাসার দিনে ,,
 আমার যে নালিশ কিংবা যন্ত্রনা কিছু নেই । .....ভেবে দেখো এই স্বার্থের দুনিয়ায় এমন করে আর কে নিঃস্ব হবার  ব্যর্থ হবার জন্য মরিয়া হযে চাইবে !!

শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১

হাইওয়ে জংশন

একটা প্রেমের অপেক্ষায় হাইওয়ের পাশে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে কেউ ,শীতের সালতামামি একে একে ঘিরে ধরে  তাকে ,
কার যেন নরম  আঙুল ছুঁয়ে কবীরের দোঁহা গড়িয়ে নামে ... তবু প্রেমের ঘরে পুরোনো আগুনে পুড়ে যাওয়ার পরে একটা জীবন  বাইরে সাজিয়ে রাখা,
একটা জীবন  এখনো দেখেনি কেউ।

জীবনের গায়ে পোড়া কাঠের দাগ ; 
এত সহজেই কি মুছে ফেলা যায়... চোখের কোনে বাসি কাজলও  গোপনে অভিসার সেরে নেয় নিজের মত করে,
তবু পারিজাতীয় ভালোবাসা যত্নে গুছিয়ে রাখা থাকে প্রতিটা মানুষের না বলতে পারা কাহিনী গুলোতে ।
 যেটুকু জানা যায় সে সব দেহ মন রোজ প্রেমের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে এই শহরের বিভিন্ন হাইওয়েতে । তারা একটা কবিতা তুমি আমি থেকে ভালোবেসে কবিতায় হঠাৎ করেই  ফুরিয়ে যায় বিনা সংকেতে  ,
শব্দের দুনিয়ায় শব্দহীন হতে হয় পাশাপাশি বাড়িতে থেকেও।







বস্তুত

খুব হিসেবে থেকেও জমানো পুঁজি দিয়ে 

একটা  জমি কেনা হলোনা , 
অথচ আ‌মি এই মাটির ওপর বেড়ে উঠলাম আকাশ সাক্ষী রেখে  ,
 সূ‌র্যের সবটুকু আলো বিকিয়েও   একটা আকাশ কিন‌তে পা‌রি‌নি নিজের চোখের মাপের ,   ,,
 নক্ষত্র জ্বে‌লে সাজা‌তে পা‌রিন‌ি  প্রেমিকের একটা রাতও
খুব একা‌ন্তে ব‌্যক্তিগত এসব না পারা রাখি গোপন করে ,
অথচ আমিও   আকাশ প্রিয়‌  পাখি হতেই চেয়েছি....চেয়েছি  একরা‌ত্রি নক্ষত্র ভরা নিজস্ব আকাশ ,
 
দু‌চো‌খের সব জ্বালা বি‌নিম‌য়ে কেউ বে‌চে‌নি আমায়
 আকাশ কিংবা   নদী;
তাই  পারিনি ভালোবাসায় ভাস‌তে ও ভাসা‌তে ।

শুধু তৃষ্ণা ছিলো কোনো একদিন পুরোনো কলজের  পুড়ে যাওয়া ঘায়ে আত্মিক শুশ্রূষার ,

 আজ শুধুমাত্র আগুন লা‌গা‌তে পা‌রি যেখা‌নে সেখা‌নে জমানো খড়কুটো দেখি আশ্রয়ের নামে ,
আসলে বু‌কের বাতা‌সে পু‌ষি মায়াহীন ব ধু ধু দাবানল. . .।

সমর্পণ-বেলা

 শরীরের তিন ভাগ  এখন ক্ষত ও একভাগ  বাকশক্তিহীন লোনাজলে ভরা। 
 সমুদ্রের দিগন্তরেখার কাছে এককালে সূর্য উঠতো , 
এ বিকেলে সেসব দিনগুলো আলোধোয়া স্থবির বিস্ময়। 
অজ্ঞাতবাসের দিন বদলে ফেলেছি  এভাবে....তার খুব কাছে থেকেও আর নেই কোথাও ,,
 তবু ভালোবাসার শহরে  ... সাদাকালো বিজ্ঞাপনে ছিপ-নৌকোর চলাফেরা চলে রোজ রোজ  ...।
 কড়িকাঠের নিপুণ অন্ধকার ও বেশকিছু উদ্ভট চুক্তি লিখে রাখে প্রেমিক প্রেমিকা। 
নক্ষত্র সাজিয়ে বজ্রাহত বুকের ডালে ফুল পাতা ঝরে যায় নিয়ম মেনে।

 অজান্তেই একদিন মার্জিত অস্ত্রাগার ক্রমশ সেপাই শূন্য হয়ে পড়ে, 
যেন জীবন একটা  চড়ুইভাতি
যেন পাঁজর ভেঙে গেছে কোনো আকস্মিক দুর্যোগে।

 .. বানানো ভালোবাসার ঘায়ে পুঁজ রক্তে লেখা  নোনা  চিঠি ডাকবাক্স নেয়না জেনেও  
 . .  মাধ্যাকর্ষণের টানে  বৃথা প্রচেষ্টা যেন বদ অভ্যাস।
আজকাল মেঘলা দুপুরের খোঁজে কোথাও যেতে হয় না  সেভাবে ,কোনো মন খারাপের  কিংবা একলা বিকেলে রাখি না কবিতার খাতায়  ,
 সব অস্ত্র এখন  রেখে এসেছি অলস প্রবাহের মায়া বিহীন কালাপানির দেশে 
 রাতের ঘুমচোখে এঁকে গেছি  যুদ্ধ শেষের ক্লান্ত ছবি ।

   আঙুলে ও ঠোঁটে জ্যামিতিক চিহ্নেরা  সজনে গাছের ফিসফিসে আলাপে বুঝিয়ে দেয়   আমার শিকড় হারিয়ে ফেলার অসহ্য যন্ত্রণা  আমাকে কুঁকড়ে দিতে পারে না ... ।

নিজস্ব সমীকরণ

পথ বলে যা ভাবা হলো তা কেবল দ্বিধা ছিল ,
 বৃষ্টির সমীকরণ মেলেনি কখনোই সেখানে ।
শীত যখন বোধির নিশ্চিহ্নতায় ক্রমাগত ধুলো মাখা পুরোনো কার্ডিগান খুঁজছে ক্রুশ কাঠে জড়িয়ে তখন পুরোনো ভালোবাসার পালক  অন্য ঠিকানায় অনুগল্পের আসল ভূমিকায় ব্যস্ত।
 মানুষ নিঃসঙ্গতা খোঁজে শব্দের বুকে মাথা রাখবে বলেই ,
বুকের শব্দে নিজের প্রতিকৃতি আঁকা হয় না তবুও ,
সুনীলবাবু এসব কথা হৃদয়ের বিনিময়ে কিনেছিলেন বলেই তাকে দেওয়া মানুষের আজও কেউ কথা রাখেনি , আর সে কবিতা এ শহর আজও বুকের আক্ষেপে জমিয়ে রাখে,,
আর তাই দিনেশচন্দ্র সেনের  পুঁথির হলদেটে আলো আজও বিকেলের আকাশে মিলিয়ে যায় , ম্যারিনা বিচে সমুদ্রে ওপর।
আজ শহরে সদ্য মৃত যে নক্ষত্রটা 
খসে পড়লো  সে ঠিক কতদিন জ্বরে ভুগেছিল  জানা হলো না , জানা হলো না আমার গা এর উষ্ণতায় ছোঁয়াচে বিলিকরণ ছিলো কিনা ।
তবু ক্যানভাসে কবিতা যখন ছবি পড়ে  সঞ্জয় বাবু  রিপু করে নিতে চায় বিয়াল্লিশ ছুঁই পড়ন্ত বিকেলে হৃদয়  তখন বুঝি ভালোলাগা গুলো এখনো মাঝে মধ্যে নিঃশ্বাস নেয় ।
 অথচ ভালোবাসা কি ! খায় না মাখে বুঝিনি  এ জীবনে ..... এমন জরুরী অনেক জীবনসংবাদ আমি কখনো সেভাবে বুঝিনি বলেই  "তাহাদের কথায়" থেকে যেতে পারিনি ,
তাই হয়তো এখনো স্বপ্নের রঙের চেয়েও শীত ঘুম চিরকালের মতোই  আমার প্রিয় হয়ে থাকলো।।
..

বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১

কাঁচের সংলাপ

দুঃখে বেঁচে থাকা ভালোবাসার জন্যে মৃত্যুই একমাত্র পথ মায়া কাটাবার , 
সৎকারে  আগুন দরকার হয় জলের আগে , 
পটভূমিতে কিলবিল করছে কেঁচোর যাপন ....
রেংতে রেংতে ছুঁয়ে ফেলা মাইলস্টোনে গঙ্গা লেখা নিমন্ত্রণ পত্র সময়ের ডাকপিয়ন দিয়ে যায় ,,
কাঁচের সংলাপ লেখা কাব্যগ্রন্থ থেকে প্রতিটি শব্দ ভেঙে যাওয়া দেখতে পায় শুধু ঈশ্বর , 
নিয়মের কাঠপুতুলের মাথার ঝুটিতে সুতো বেঁধে হাতি ঘোড়া পালকি জয় কানাইয়া লালকি  ,, 
আমি জীবন মানে শিরদাঁড়ায় ভর বুঝি .....বুঝি নিজের জমি বর্গবিহীন চাষ , তবু বারংবার শিমুল তুলোর নীচে সম্পর্কের বীজ পড়ে থাকে ঘুমন্ত মাথা বুকে আগলে , 
অথচ হেমন্তের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটা না হওয়া সংসার আজন্ম অতৃপ্ত রয়ে যায় ,
মৃত্যু আসে দু ভাগে ................,
একটা অর্বান কাব্যিক সন্ধ্যায় এক কাপ চায়ে চিনি গুলে নিতে নিতে নিজের অজান্তে সময়ের শরীরে মধুমেহ রোগ ধরা পড়ে ,  
ভালোবাসা ছেড়ে চলে আসতেই হয় পুরোনো অভ্যাসের মতো ,
সিলিংফ্যানে কবেকার মন খারাপ ইয়াদ করিয়ে দেয়  .....কেউ কখনও বলেছিল   " আ-চলকে তুঝে ম্যায় লেকে চলু এক  এয়সে গগন কে তলে ....যাহা গমভি না হো ...আঁসুভি না হো ..বাস প্যেয়ার হি প্যেয়ার'......  ,, হাহাহাহা বোকার হদ্দ 
একটি হাসির জন্য আমরা কান্নায় বেঁচে থাকি. সারাটা জীবন .....  একটু ভালোবাসার নামে দুঃখ কিনে নিই সমস্ত জীবনের পুঁজির বিনিময়ে ।
ভুলে যাই এই সব লেনাদেনা আসলে শুধুমাত্র কাঁচের সংলাপ লেখা ঠুনকো কাব্যগ্রন্থ ।


কুছ পল জিনে দো

ছেচল্লিশের বুকে ইস্তাবুলের ঘোড়া দৌড়োচ্ছে ...

জনসাধারণের সাথে মিশে আছে আমার মত মেয়েটার চেয়ে থাকা , 
ঘোড়ার কেশরে সময়ের বাতাস ....ছেলেটা অংকের খাতায় সিঁড়ি ভাঙা অংকে বারংবার পা পিছলে পড়ছে ,, 
জনগণ চেঁচিয়ে উঠছে মাঝে মধ্যেই আরো জোরে আরো জোরে ....ছেলেটার বুকে ইস্তাবুলের ঘোড়া দৌড়াচ্ছে দিন রাত্রির , 
 গত বাহান্ন দিন ভালো করে ঘুমোতে পারেনি সে সময়ের ভূমিকম্পের কারণে ,
 চোখের উপকূলে অজস্র রাত লিখে রাখা কালো সভ্যতা , 
...এ সভ্যতা ইতিহাসে জায়গা পাবে না জেনেও ঘোড়ার পিঠে আরো জোরে চাবুক চলছে আর ছেলেটা সিঁড়ি ভাঙা অংকের সিঁড়ি পিছলে পড়ছে ।
ছেলেটার নষ্ট চাঁদে বদ রক্তের কলঙ্ক .....মেয়েটার অপেক্ষার দৃষ্টি জনসাধারণের সাথে একাকার ।
ধর্মতলা কখন যে ঘোড়া দৌড়ের মাঠ হয়ে গেছিলো ছেলেটা বা মেয়েটা কেউ বোঝেনি , 
তবু মাটির বুকে ঘোড়ার পায়ের শব্দ জব্দ দুটো হৃদয়ের মাঝে অদৃশ্য তরঙ্গ সেতুর ভেতর খেলা ভাঙার খেলায় মেতে ওঠে যেকোনো ব্যস্ততম দিনেও  ।

বলবো না

খেলার চালে শেষ দান ফুরিয়ে গেছে , ...... কখনো কেনই বা বলবো হারলাম না জিতলাম !  সময়ের পাতায় পাতায় কৃষ্ণের পায়ের কাছে অর্জুন বসেছিল সে দিন থেকে আর মাথার কাছে দুর্যোধন। , 
রোদ্দুরের মত এ শহরে আমার একটা অহংকার রাখা আছে,  রাখা আছে অর্জুনের জিতে যাওয়া বিজয়ের ঘরে ফেরা অখন্ড জ্যোতি,
 ....রাখা আছে দুর্যোধনের হেরে যাওয়া নতমস্তক ,   তবুও আর কখনো ইজহার করবো না আসলে আমি দড়ির কোন টানে আছি ।
আর বলবই বা কেনো !...এ শহরে শেয়াল সন্ন্যাসী হয়ে আমার আনকোরা বিশ্বাসের মুখাগ্নি করেছে ,
সমস্ত নিষ্ঠার আয়নায় পাপের রক্ত ক্ষরণ এ শহর মুখ বুজে দেখেছে ।
হার জিতের শেষের দান ফুরিয়ে গেছে ...যেমন কোনো কাব্য একদিন শেষ হয়ে যায় ...।
যেমন পথ চলতে মানুষ হারিয়ে যায় আচমকা ...।
যেমন প্রশ্ন উত্তরের থেকে অনেক দূরে বুকের চিনচিনে না বলতে পারে যন্ত্রনা , 
যেমন বেঁচে থাকতে গেলে সুইচ অন , সুইচ অফ , শিখে ফেলা ।
আমি  ঘুমন্ত কৃষ্ণের বিছানার কোনদিকে অপেক্ষা করছি বলবো কেনো -- ।
জানলা খুললেই শুকোতে দেওয়া যন্ত্রনা দের আর আমি দেখতে দেবো না সময়কে ,
আমি ঈশ্বর বুঝি না... বুঝতে চাইওনি কখনো, হয়তো আগামীতেও চাইবো না   ,  , সময়ের কাঠগড়ায় আমাকে আর কেউ দাঁড় করাতে পারবে না ...,হার জিতের শেষ দান ফুরিয়ে গেছে ...
বিছিয়ে রাখা বহু মৃত্যুর বুকে  ঠিক কিসের বীজ  রাখলাম বলবো কেনো!!

সবাই জিততে আসে

আমরা সবাই জিততেই আসি ,
কেউ কি হারতে চাই?
সেদিনও একপাল প্রেমিকার লাইনে ছিল টানাপোড়েন, 
আসলে ভালোবাসা ধারাপাত চেনে না ,....মন দিয়ে সবটা বুঝে নিতে চায়,
সেদিন ছিল অভাবী দিন  এখন সেসব দিনের কথা উল্টে গেছে ...,,
আজকাল সম্পর্কের বুকে সেই শুকনো মাটি  আর নেই 
ভালো থাকতে আজকাল ভালোবাসার সংখ্যায় শতরান জরুরী ,।
 শহরে রেশমী শরীরের গল্প ছড়িয়ে আছে বলেই ...আমার মত বোহেমিয়ান এ শহরের প্রেমে বেমানান ,।

বুকের পাশে অদ্ভূত যন্ত্রনা বাড়ছে দিনদিন ,
Ecgমেশিনে আজকাল বেঁচে থাকার অকারণ ধরা পড়ে অথচ যন্ত্রণার কারণ ঝাপসাই রয়ে যায় ।

যাকে সবটুকু গোপনে বলতে শুরু করেছিলাম 
সেই আমায় বারোয়ারি মঞ্চে কোনো এক সংখ্যা আখ্যান দিয়ে  এগিয়ে গেছে আগামীর দিকে ।
শেষ বার বোকার মত বাঁচতে চেয়েছিলাম অনিবার্য হত্যার সিরিজে দাঁড়িয়েও ।
আমি চিরকালীন এক বোকাচোদা হয়েই রয়ে গেলাম ।



উপন্যাসিক উজ্জাপন

গত চব্বিশ ঘন্টায় পারিজাতীয় সঙ্গমে সামিল ছিল বছরের শ্রেষ্ট উজ্জাপন , 
সময়ের গা চুইয়ে গড়িয়ে নেমেছে অজস্র আদর ,

জীবন বৃত্ত মুহূর্তে পরিপূর্ণ আলোকধারায় , 
আগামী বহুদিন আর বৃষ্টির প্রয়োজন হবে না , 
হবে না অভাবী কোনো মুহূর্তের টানাপোড়েন ।
বিছানায় একান্নতম ভালোবাসা  আর কাব্যিক সঙ্গম বুঝিয়ে দেয় উৎসবের গভীরে আরেক উৎসব লুকিয়ে থাকে .......।
লেপ্টে থাকা পারিজাতীয় জ্যোৎস্নায় অকালবোধন প্রেম ...., বোধনে হারিয়ে যায় শতাব্দীর দেওয়া অভিমানী দুঃখরা । 
জাতীয় সড়কে তখন ব্যস্ততম মনখারাপ বুকের চিনচিনে ব্যাথায় হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণ এ মাতোয়ারা জীবনযাত্রা । 
এমন উজ্জাপন রোজ আসে না এমন ছুটি রোজ মেলে না ,
তাই উৎসবের বুকে চাপা পড়ে যায় না বলা অনেক অকাল মৃত্যু .....সে সব মৃত্যুগুলোকে  সাজিয়ে গুছিয়ে কবিতার  বা কাব্যের কফিনে শুইয়ে রেখে সুইসাইড পয়েন্ট থেকে ছুঁড়ে দেওয়া হয় অনন্তের দিকে ,,
 গত চব্বিশ ঘন্টায় এমন অজস্র অপাংতেয় জমানো মুহূর্তর মৃত্যু বুকে দাপিয়ে বেরিয়েছে পারিজাতীয় উৎসব উজ্জাপন , 
গত চব্বিশ ঘন্টায় এমন অনেক জমানো মুহুর্তে র গাল  বেয়ে অভিমানী কান্না দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হয়েছে কাব্যিক সঙ্গমের শেষে পড়ে থাকা  শরীর ।
উৎসব যে এমন করেই চিরকাল সময়কে আড়াল করে নতুন উপন্যাস এর ভূমিকার দোরগোড়ায় পা রেখে ।
গত চব্বিশ ঘন্টা গঙ্গা তুমি সাক্ষী থেকো ......।

বুধবার, ১০ নভেম্বর, ২০২১

খইয়ে লেখা ...

উড়ন্ত খইয়ে দীর্ঘ বছর ষোলোর যন্ত্রনা ...
যেন মুক্ত কোনো সোনার শেকলের খাঁচা থেকে এক বোবা পাখি ।
টিমের কিল ঘুঁষির সংসারে ভালোবাসা কেবল যন্ত্রণার আর এক নাম , .....মনে পড়ে সব মৃত্যু দেখতে এক নয় বুঝেছিলাম বছর ষোলো আগে কোনো এক বর্ষবরণের দিনে ,
শাখা সিঁদুরে যে মৃত্যু আমায় ঘিরে ছিল নাগপাশে ....বর্ষবরণ এর দিনে সে মৃত্যুর রঙে আরো গাড় রং গুলে দিয়েছিল সময় , সময়ের পেন্ডুলামের প্রতিটা দোলন নতুন মৃত্যুর কাহিনী লিখতে শুরু করেছিলো ।
আজ উড়ন্ত খই এ ভর করে একটা আকাশ পাওয়া যায় প্রথম বুঝেছি ।।
সংসার খেলায় আমি চিরকাল মাথায় চৈত্রের রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম .....দাঁড়িয়ে ছিলাম 
নিয়মের প্রহসনে সামাজিক কাঠগড়ায় ,,
আমার রূপ রং গুন দিয়ে যন্ত্রনা কিনেছি নিরাপত্তার খেমটা নাচ ।।
আজ রাস্তায় পড়ে থাকা বিদায়ী খই বলে দেয় কিছু মৃত্যু জরুরী বেঁচে থাকার জন্যে ,
প্রতিটা ছড়িয়ে থাকা খইয়ে জীবনের খসড়া লেখা আছে ...সে কেবল সময় পড়তে পারে ।

মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১

আমার প্রেমিক এর মৃত্যু


অযত্নে  মারা গেল আমার একনিষ্ঠ প্রেমিক ,

শুধুমাত্র প্রেমিক তো বটেই আমার প্রিয় কবিও ছিলো সে, 

ওর শব্দের লহমায় আমার ক্যানভাসে রঙের মেলা ছিল সমস্ত ঋতু জড়িয়ে ....কখনো কখনো তার  কবিতা শুনতে  চাইতাম উলংগ কবির মুখেই আর  জড়ো করতাম রঙের জোগানদার।


মারা গেল আমার একনিষ্ঠ সহৃদয় প্রেমিক ,, অথচ আমার কান্না পাচ্ছে না ,..একলা লাগছে না , .....আগুন ছুঁইয়ে এলাম এই মাত্র তার শীতল বুকে , মুখে , কপালে , অথচ আমার প্রেমের সুখ পুড়লো না এতটুকু !!

তার মৃত্যুর পাশে আমার উদ্দ্যেশ্য লেখা তার পাণ্ডুলিপি বলে গেল মৃত্যু জীবনের কাছে তুচ্ছ ,

হারিয়ে যাওয়া পাওয়ার কাছে তুচ্ছ ,

কুমকুমের লাল রং যতই গাড় হোক না কেনো 

ভালোবাসার রঙের কাছে সে টেকে না .......

আমার কবির মৃত্যু আমি দেখলাম , কবির মাথায় হাত রেখে বললাম তুমি যাও , আমি আসছি ....আমার কিছু পাপের মুখে মুখাগ্নি বাকি ....সে সব হিসেব নিকেশ সেরে তোমার সাথে বাঁচবো ,মাটির দুহাত নীচে ।


 মরবার আগে অনাত্মীয় হতে হতে আমাতে ঠেকেছিল সে প্রেমিক কবি , অথচ একদিন তার সাধন সঙ্গিনী অজস্র আকাশের তারা ছিলো, 

আমায় সে তাচ্ছিলে রাখতো বলেই জেনেছি ,,

অথচ আজ এই মৃত্যু দিনে সে প্রেমিক কবির পাশে  কেউই এসে বলতে পারলো কই "একটাও কবিতা কিংবা মলাটি ভালোবাসার কথা" ,  অথচ সে নামকরা কবি প্রেমিক ছিল একদিন।

মৃত্যু দিনে ছিলোনা শতাব্দীর অজস্র কুমকুম রঙের বসন্ত পলাশ , ছিলোনা "ভালোবেসে কোনো কবিতা"।

 

ছিলো এক সাঁওতালি কালো  মুখ  ....

যাকে গোপন নামে প্রেমিক শব্দ উৎসর্গ করতে করতে  ছুঁয়ে গেছিলো অগুনিত জীবনের মাইলস্টোন ।

আজ আমার প্রেমিক এর মৃত্যু হলো .....

মৃত্যু হলো এ শতাব্দী অপেক্ষার ।

তার জ্বলন্ত চিতার ধোঁয়ায় এ শহরে কান্না নামুক আকাশ জুড়ে .......আমার যে আজ আর কান্না পাচ্ছে না ,

তার চিতা নিভে যাওয়া ছাইয়ের ঘন কালো শোক নামুক তিলোত্তমায় .....আমার যে কোনো শোক নেই আজ আর , 

আমার প্রিয়তম কবি ও একনিষ্ঠ প্রেমিকের আজ মৃত্যু হলো ।

.


শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১

উপন্যাসের শেষ পাতায়



রাত্রির খামে ভরে রাখছি  মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া ইচ্ছা দের 
সেই খামের ভেতর কিছু খই রইলো একটা পুরোনো  ঠিকানার জন্যে  মুড়ে রাখা,
 অমিতের দোকানে একটা ঠিকানা মাত্র বুঝে নিও তোমার উদ্দেশ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ।
, ভেসে যায় যাক  স্মৃতির শহর

আর কেউ নয় আমি শুধু রেখে যাই উড়ান খবর
তোমার জানলার দুহাত নীচে ,
এ শহর এ গলি আমার নিজস্ব নয় ,
এমন  কি আমার তুমিটাকে অনাদরে বিলিয়ে দিয়েছো সময়ের রঙে , 
বড্ড অচেনা এই কাব্য ....উপন্যাস এর শেষ পাতায় নিরলঙ্কার মৃত্যু মানায় না জেনেও 
আমি ভিক্ষা বস্ত্র খুলে দিয়েছি ,
নিজেকে ঈশ্বর এর এক ধাপ ওপরে রেখে ফিরে এসেছি দেহ টুকু নিয়ে , 
একদিন তুমি নামক পাথরের কাছে বেমালুম উৎসর্গ লিখে সব দৃশ্যের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছি ।
তোমায়  অযথা আর কখনও পিছু ডাকিনি ,
রাখিনি মায়ার কোনো রিংটোন , 

....শুধু স্ক্রিন সেভারে আজও  গত শীতে রেখে যাওয়া দু ফোঁটা ভালোবাসা এখনো ভীষণ সত্যি হয়ে রয়ে গেছে ।

বাহান্ন সপ্তাহ

বাহান্ন সপ্তাহ পর সমীকরণ গুলো মিলে গেলো....
মিলিয়ে গেল জীবনের বহতায় অনেক দৃশ্য,
সেদিন ছিল........
....দু পা এগোলেই অদৃশ্য বহতা জীবন ,
দু পা পিছলে মরণ বিষ যাপন ,
ক্রমশ সরে গেছে  নিয়মিত ভরা পানপাত্রর 
প্রলোভন ইতিহাসের বুকের দিকেই যেমনটা হওয়ার কথা ভবিতব্য ছিল।
 ,
মৃত শব্দের বুকে ভাঙা কাঁচের স্বাক্ষর বদলে দিয়েছে কুমকুম তিলকে সমস্ত সমীকরণ ।

দূরে কোথাও ছায়া কেটে কেটে কেউ আর এখন রোদ্দুর কুড়িয়ে নেয়না দুহাতের মুঠোয় .....,

ভুলে যাওয়া অক্ষর রা এখন  ধুলো নয় মাটির বেশ কিছু হাত নিচে  চাপা ,,
  তাকে  কেতাবি নামে স্মৃতি বলে ডাকলেও বড্ড যন্ত্রনা বাড়ে ।
ক্রমশ শব্দহীন  একের পর এক দ্বার বন্ধ হয়ে গেছে ...
আমার মত কেউ ,
সে শূন্যতাকে কেবল বিয়োগ ফল শেখাতে পারেনি আজও।
গল্প গুচ্ছের পাতাগুলো সময়ের  আগুনে পুড়ছে কই !!,
 অবাধ্য ডানায়  ভ্রম এর ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ নেমে পৃথিবী ভেসে যাচ্ছে  ....
 একটা জন্ম আর একটা মৃত্যু সুতোয় বেঁধে
মাইল ফলক ঝোলানোর কথা কে দিয়েছিল আজ আর মনে করতে ইচ্ছে করে না ,
 এসব তিন প্রহরের খুচরো খুচরো মোহ  এখন অভিশাপ নামে খ্যাত।

আমার নাম।দীপাবলী

বহুদিন হল আর কবিতা লিখতে পারি না 
পালিয়ে যাচ্ছি মনে হয়, .....মনে হয় পালাতে পালাতে কোনো পাতাল পুরীর কোনো  অন্ধকার কোনায় আমার শব্দরা কবরিত হয়ে গেছে ।
বহুদিন হল উত্তরের বারান্দা আমি ছেড়ে এসেছি ...
ছেড়ে এসেছি অনেক কিছু প্রিয় বিষয়-আশয় ,
অন্ধকারের ভেতর আলোর অক্ষর খুঁড়ছি ....চোখ
গেঁথে দিয়েছি নিকষ অন্ধকারের ওপারে , তবু আলো চুইয়ে পড়ছে কই ! কালীপার্কের এই আকাশলীনায় ।
কলকাতা এত অন্ধকার আগে কখনো দেখিনি ...
আমার প্রিয় প্রতিটা কবিতা থেকে আলো নিংড়ে নিয়েও এই কলকাতা একটাও আলো জ্বলতে পারেনি ।
অন্ধকার ভয় পাই বলেই পালাতে পালাতে শহরের নিয়ন বাতি গুলোর রোশনাই উপড়ে রাখছি বুকপকেটে ।
সেদিন অমিতদা তার দোকান থেকে আলো কিনতে বলেছিল ....বলেছিল বোন দীপাবলী র মোমবাতি নিয়ে যাও অন্ধকার পুড়িয়ে দেবে এই মোম ।
অমিতদাকে বলতে পারিনি ....আমার বুকে ওই মোমের থেকেও অনেক বেশি আগুন ...তবু অন্ধকার আমায় ধাওয়া করে বেড়ায় ।
অন্ধকার যেন এক রাক্ষস , আমার সমস্ত আলো, আমার সমস্ত বেঁচে থাকা,..  খেয়ে ফেলেও  ক্লান্ত নয় সে ,
আরো আরো তার খিদে ,  এযাবৎ পঞ্চাশটা কবিতার দেহ সে আত্মসাৎ করেছে কিংবা হিসেবের বাইরে আরো অনেক হতে পারে , অথচ রাক্ষসের খিদে ততোধিক বেড়েই চলেছে ।

বিহুদিন তাই আমি নিঃস্ব কবিতাহীন , 
একদিন ঘুরে দাঁড়াবো কিনা জানি না ,একদিন ওই রাক্ষস এর কাছ থেকে পাওনা আদায় করতে পারবো কিনা জানি না ,
তবে একদিন ঠিক পালাতে পালাতে অন্ধকার ঠেলে আলোর অক্ষরদের খুঁজে নেবো , 
  আমার নাম দীপাবলী .......  ।

রবিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২১

......ফুলস্টপের আগে....

একটা মিথ্যে আর   একটা প্রমাণই  যথেষ্ট একজন প্রেমিক কে বিশ্বাসঘাতক প্রমান করতে ...
একটু সাবধানে থাকা দরকার ছিলো সেদিন ,
আসলে  আজকাল যে  কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ নয় .......।

প্রয়োজন নয় ইচ্ছা

প্রয়োজন নয় ইচ্ছা হয়ে থাকতে চাই ,
যাপন নয় নিঃশ্বাসে থাকতে চাই ,
আমাকে তুমি সময় বোঝাতে এসেছো ....!
তুমি বোঝালে আমি বুঝেও যাবো ...আর বুঝে গেলে চুরমার কাঁচের মত গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে চিতিয়ে যাবো ,
বরং এই ভালো সমান্তরালে দুজনে উল্টো দিকে হাঁটতে থাকি .....একে অপরের ওপর মুহুর্মুহু দোষারোপ করে আড়াল করে ফেলি সাময়িকী গুলো ,,
নিজেকেই বড্ড অচেনা লাগে ...আজ যা পরিষ্কার দেখতে পাই সেদিনের চৈত্রের দুপুরে সূর্য মধ্য গগনে তবু কেন আজকের দৃশ্যের কিছুই দেখা হয়নি সেদিন ,, বারংবার নিজেকে তীক্ষ্ণ ছোরার 
ডগায় রেখে কি পেয়েছি হিসেব করিনি একবারও !!
সমস্ত গল্প পড়ে ফেলেও নিজেকে প্রয়োজন করে সাজিয়ে রেখেছিলাম ! অথচ আজন্ম ইচ্ছে হয়েই থাকবো ভেবেছিলাম ......ভেবেছিলাম পাহাড় , কাঁচের বারান্দা ক্যানভাস আর সেই ইচ্ছের হাতে হাত রেখে আমি ইচ্ছে হয়ে থাকবে কফিন বন্দি হবার আগের মুহূর্ত অবধি ।।
পারিনি ....পারিনি জেদ করে মুঠো বন্ধ রাখতে ,  ভালোবেসে ছিলাম তাই মুঠো খুলে দিয়েছিলাম ,,
আসলে প্রয়োজনে রাখিনি .....রেখে ছিলাম ইচ্ছে করে ,, আসলে জেদ করিনি  ভালোবেসেছিলাম মাত্র ............. প্রথম আর শেষ বারের মতো ।

স্পেস



কিছু কিছু সময়ে একটা চিৎকার ভেতর থেকে জনমহলে খসে পড়ে আচমকাই।
 ভিড় ফুরিয়ে যাওয়া মেলা ভেঙে আসে আমার মত কেউ । 
একা একাই খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসি রঙিন বেলুন বিক্রেতার মতো । 
অসুখের আবহাওয়ায় কার্তিকের শুরু । 
একটা   উৎসব থেকে  ক্রমশ দূর হয়ে যাচ্ছে চেনা  মানুষটা.
...আমি ঘরে  ফিরে এসে দরজায় দাঁড়াই অপেক্ষার ভোরের দিকে তাকিয়ে। 
ফিরে আসতে পারাই জীবন কিনা জানা নেই।
 অসুখের দেশে  ভালো থাকা একটা আর্ট।
 আর কোনও চাহিদা নেই,  বলয় সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেছি ইদানিং । 
আর কোনও অভাবের কথা লিখব না কখনো।
 অভাব বিক্রি হয়ে গেছে বেওয়ারিশ বারোয়ারী হাতে।
 সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা পাখি, যারা ফিরে আসতে পারে তারা  বাঁচে আসল বাঁচা। 
বাকিরা পথেই মারা যায় বলেই নামধাম কিছু কেউ মনে রাখতে চায়না।
 পথের ধারেই আজকাল শিয়াল, কুকুর, সমস্ত  অনুভব  ঠুকরে খেয়ে ফেলে।
 মাংস ছেঁড়ার কোনও শব্দ হয় না ....শব্দ হয় না হৃদয় ভাঙার ।
আসলে  মৃত্যুর আগে   শব্দ না  করাই ভালো । হাসপাতাল এলাকায় লেখা থাকে সাইলেন্ট জোন। মৃত্যু ঠান্ডা ঘরে ঘুমায় বলে স্মৃতি বিলোয় বাতাস।
 শহরের ভেতরে যখন একটা আস্ত ঠান্ডাঘর জেগে বসে থাকে তখন প্রেমিকের বুকে দাউদাউ  স্মৃতির আগুন। 
মুখচোরা এই মুহূর্তগুলোয় মুখ বন্ধ করে হেঁটে চলাই বোধহয় ভালো । 
শব্দের ভেতরে বিপণ্ণ এই বেঁচে থাকায় এখন অভ্যস্ত মানুষ।
 এমনকি কথারা বোবায় পেলেও বেঁচে যায়  বেশি করে ।  ঘরে ফিরতেই সঙ্গহীনতার   খিদে বেড়ে যায় মানুষের।
 
তবু  খিদে নিয়ে কথা বলতে নেই ভুখার শহরে।
   চুপ করে যাওয়াটাই  নির্বাণ এখন।
 বুদ্ধের মতো নিঃশব্দে হেসে ফেলা, হাসি মুখে তোমাদের নগর ঘুরে ঘুরে  নির্জন গলিতে এসে দাঁড়ানোই ভালো ।

 নিঃশব্দ চতুর্দিকে, এত শব্দ ও কান্নার মজলিস তবু নিঃশব্দ চিতুর্দিক। 
কেউ এসে আর বাঁচতে চাই বলে চিৎকার করে ওঠে না। কবিতা থেকে বোবা  আবেগ ঝরে পড়ে শুধুমাত্র।
 ফুলের বাগান ও ভ্রমরের ছিঁড়ে যাওয়া ডানা থেকে পলাতক শব্দ ভেসে আসে ভালোবাসা হারা মনের কান্না। 
এরপরেও শব্দ গলার কাছে নিঃশব্দের সিম্পফনি তবু  গাইতে পারে কই তেমন হৃদয়ের গান ।
  কথা না বললে আয়ু ক্ষয় হয় সে তো জানোই তুমি। 
ক্ষমতার হাতের ভেতর সেই পথভোলা মেয়েটির শেষ ইচ্ছার  টুকরো ঝুলতে থাকে, 
কিংবা বিশ্বাসঘাতক এর  হাতের মুঠোয়  নগ্ন সময়, ভাঙা বোতলের কাচের ওপর এসে দাঁড়ায় বুকের যন্ত্রনা । 
 এসবের মাঝেই  ভুলে যেতে হয়   আলপথ ধরে  স্মৃতিরা  হেঁটেছিল কখনো । 
 বুকের মাংস লেগে থাকে, কোন প্রতিশ্রুতির নামে কোন সহবাসের ফাঁদে জড়িয়ে ফেলে কোন ঠগ, মাথার ভেতরে চড়কির মতো ঘুরতে থাকে এসব জটিল বায়ু।
 নিঃশব্দ করে মেয়েটাকে আরো বেশি করে । 
, বুকের চন্দনের প্রলেপ কপালে কুমকুম, আগুনের কাছে এসব নৈশব্দের আহূতি বুকের ভেতর নিরন্তর দহন জারি রাখে মেয়েটা। 
 শব্দ হারাতে হারাতে,  নিজের কাছে একলা দাঁড়াতে হয় প্রতিনিয়ত তাকে,
 ব্যথার ভেতর ব্যথার আঙুল চেপে ধরে না কেউ। বলে না কাঁদো, চিৎকার করে কাঁদো। নিঃশব্দ একটি স্পেস। যা প্রকৃতিতে মানায়,  তবে বুকে নয়।  সেটুকুই জড়িয়ে বেঁচে আছি এই নিঃসঙ্গ জীবনে। হে মহামান্য, সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগে যেন একবার আমি চিৎকার করে উঠতে পারি।
একবার যেন উত্তরের বারান্দায় অঝোর বৃষ্টি এসে ধুঁয়ে নিয়ে যায় বকেয়া টুকু .....।


বাকিটা ব্যক্তিগত

হৃদয়ে বিষের ছোবল নিতে অভ্যস্ত এখন
নিজের ভেতর গোখরো পুষছে এ শহর ,,

সঙ্গমবিমুখ সাধন সঙ্গিনী ,নিজেকে রাখতে 
রাতের বিছানায় কোল বালিশের পাঁচিল  রাখে রোজ।

শহরের দেশলাই বাক্সে আগুন বুকে রাখা ...
তার নাম সমাজ, নিয়ম , আর বাকিটা ব্যক্তিগত।

এখন মৃত জ্যোৎস্নায় প্রেমিক চিঠি লিখে রাখে নিজস্ব ব্যর্থতার ,...আবার বসন্তে কমলিকা মাথায় পলাশ গুঁজে সোনাঝুড়ির সাঁওতালি সঙ্গমে মাতবে প্রেমিকের সাথে জানা কথা ।
দূরে কোথাও ক্যানভাস তখন অপেক্ষায় নতুন কোনো পট্রেট ,
 অবাধ্য মাছের একোরিয়ামে আপোষ ভেঙে বুঝিয়ে দিতে চায় মুক্তি শব্দটা ভালোবাসার চেয়ে অনেক বেশি দামি ।
বিষের ছোবলে বারুদ ভিজে গেল বেঁচে থাকা তীর্যকতা হারিয়ে ফেলে ,
অথচ এ শহর বাকিটা ব্যক্তিগত বললেও বারংবার চটি জামা ছেড়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ানোয় বিশ্বাসী।
তবুও বাকিটা ব্যক্তিগত.......!



মরফিন

.. মরফিন সংসারে একটি বিকল আঙুল ছুড়ে দেয়  শীতের ফাটা চামড়ায় দীর্ঘ ডিঙিপথ,, __

রুকস্যাক ভর্তি ছেঁড়া চটিজুতো... মৃদু আঁচে সেঁকা নিজের মাংস । 
ভাঙা মানভঞ্জনের চূড়ায়  হাওয়া পাক খেতে খেতে সাবধান হতে ভুলে যায় কথারা..।
.  হাততালি  বাজিয়ে নেচে ওঠো জানি আজও,,সব শেষে অন্ধ সম্পর্কের  সাথে নাম-সংকীর্তন করে বাড়ি ফেরও গভীর রাতে । 
 ডাইনির কাছে টোটেম ও টাবুর গল্প শোনে মৃত জোনাকি স্বর্গ দুয়ারের অপেক্ষালয়ে,
  শিকারির মাথার ভেতর  জটাভর্তি শালবাড়ি... শিমুলিয়া... নিমগন্ধ... শিরীষবিকেল... পলাশসন্ধ্যে... জারুলঘুম... বটের পাঁজর... অশ্বত্থশিরা... হিজলরাত... শ্যাওলারঙ সব খাবি খাচ্ছে ।
 ডানাঝাপটানোর শব্দ শোনা যায় বন্ধ ঘড়ির বুকে তোমার ড্রইংরুমে ।
   তেত্রিশ কোটি বিরহে মৃত্যু রং আবিষ্কার হয় ধীর গতিতে আমার ভেতরেও। 
 তবু মৃত্যুশব্দ শোক ফেলে রাখে ঘুঘুবনে..
. শীতঘুম  চাই মস্ত বড় .... শরশয্যায় বুক পেতে শুয়ে আছে সময় ... ।
 . নানান স্কেচ ও বশীকরণজন্মের বিবর্ত উপকথা লিখছি ....লিখছি তোমার বায়োগ্রাফি।


ভাঙা গ্লাসে সমুদ্র ঘুমিয়ে পড়লে কেমন দেখতে লাগে সে ছবি কেমন আমি জানি না ।

 তুমি তো জানো ফুটন্ত ঢেউয়ের গন্ধে 
আমার বড়ো একলা লাগে নিজেকে
আর তখন মাথার ভেতর তোমার চকের আঁকিবুকি খুব দরকার হয়ে পড়ে ।
তাই আসছে জোয়ার ভাটায় পারলে একবার ফোন করো এটা ভেবে যে আমার প্রতি  তোমার শেষ আহুতি টুকু সম্পন্ন হলো , আমি মুঠোফোন রাখবো বুক পকেটে তুমি আঙুলে রেখো আমার ঠিকানার চিরকুট।


শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

স্মারকলিপি

তুমি ভালোবাসবে না... কথা দিয়েছ বলেছো পুরোনো কথা মনে রাখিস না , মনে রাখিস না কবে প্রেমিক হিসেবে তোর বুকের ভূমিতে কম্পন এনেছিলাম , ভুলে যা পরিজাতীয় ক্যানভাসের সমস্ত চিত্র , বলেছো বদলে গেছো তুমি ....তাই তোমার কাছে আমার সমস্ত অস্তিত্য মৃত কিংবা মিথ্যে।
 কুয়াশায় কিছু  সাদা হরফ উড়ে গেছে পরিযায়ী হয়ে ...
____________________বকের মতো পুরোনো আমি গ্রীবা তুলে ভয়ানক বৃষ্টি খুঁজি এই শীতকালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও ।

এটা তুমি বোঝোনি আমাদের বুকের নীচে 
_যে নদীটাই বয়ে যায় যা অনিবার্য বইবেই ।
___________যে কখনও কথা রাখে না সে সময় না পরিবর্তন আমি সঠিক জানি না ।

কপালে লাল টিপ...  নাভি আর নীচের কালো আহ্বান এ শহরে নতুন নয়  । 
আলোর পিঠে আলোর শ্রুতি,
 কার্তিকের হিম... এক অদ্ভুত নিয়তি হ'য়ে এ শহরে আমাকে একলা কাঁপাতে ভালোবাসে ।
  রাতের জং লাগা এনক্লেভের নীচে অবহিত বধির দেহে পাখিদের ডাক ভরে দিচ্ছ তোমার শব্দের।
 আমার এই ভাঙা কবিতায়  ছায়া নেই .. আশ্রয় নেই... ক্লান্তি আছে ...আছে দূরের  গ্রিল-দরজায়  বান্ধবহীন ধুলোর প্রলেপ।
 
তোমায় ভালোবাসি কথাটা  ... যে মুহূর্তে  নিজেকে জানান দিই  সে মুহূর্তে ভুলে যাই কে কবে তোমার
বুকে হাত   রেখেছে... কষ্টের রঙ পরীক্ষা করে বলেছে তুমি যথার্থই প্রেম। 
প্রতিটি কেন্দ্রবিন্দুতে চিত্রকর ছবি আঁকছেন জানোইতো ... আমি শুধুমাত্র পুতুল হিসেবে সামিল হয়েছি বরাবর।

শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২১

সাহসী

ভেঙ্গেছো তো শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েক টুকরো করে ,
ওই টুকরো গুলো আরো থ্যেতলে পিষে নিতে চাওয়ার লোভে প্রতিমুহূর্তে লালা ঝরছে আমার  ভেতরের মানুষটার,
...পারবে ? এমন টুকরো  করতে যেখানে তোমার কবরের মাটি আর আমাকে আলাদা  করে চেনা না যায় !   
....পারবে এমন গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলতে যাতে শীত হওয়ায়  ছাতিম এর গন্ধে মিশে গেলে বুঝবে না কেউ অতৃপ্ত হৃদয় পুড়ে যাওয়ার গন্ধ!  ,,
 পারবে শব্দ বিহীন ভাঙনে ভাঙতে ....যদি নাই পারো তাহলে  তুমি ব্যার্থ প্রেমিক হিসেবেই গ্রাহ্য হবে আমার কাছে  এ জীবনে,,
....ভেঙ্গেছো তো শুধুমাত্র  হাতে গুনে কয়েকটা টুকরে  ,
ওই টুকরো গুলো আরো থ্যেতলে ...পিষে নেওয়ার   লোভে প্রতিমুহূর্তে লালা ঝরছে এই আমার ভেতরকার  মানুষটার, 
এই ভাঙন যদি জলের সাথে ,মাটির সাথে, হাওয়ার সাথে ,মিশিয়ে দিতে পারো ...জানবো  ..
 ভালোবাসা শব্দটা সঠিক বানান তুমি জানো ....নয়তো তোমার এই এক পৃথিবী উপন্যাস আর তুমি একটা মিথ্যে ছাড়া বেশি কিছু নয় ,মিথ্যে তোমার  শব্দের জারিজুরি ,মিথ্যে তোমার শব্দ নিয়ে খেলা করার বাহাদুরী , মিথ্যে তোমার চুয়াল্লিশের বুকের আগুন , মিথ্যে তোমার  চ.....কিংবা ....ক ...কিংবা  .....স ...এর প্রতি নিষ্ঠা ....।
পারো তো ভেঙে গুঁড়িয়ে  তছনছ করে মিশিয়ে ধুলো মাখা গায়ে ...বুক ঠুকে  বলো হ্যাঁ আমি ....আমিই পারি এমন হত্যা করতে , ,আর আমিই পারি সে হত্যা পৃথিবীর সভায় কবুল করতে ।
হে প্রেমিক একবার পারলে রাজা হয়ে ওঠোই না , 
কিংবা একবার নিঃস্ব ভিখারী হতেই পারো নিজের আয়নায়,,  ...একবার পারলে ভাঙা টুকরো গুলো লীন করে দাও দেখি । একবার ....একবার .......,,

বাতিল করোনি কেনো?

গতকাল সমস্ত দিন তোমার বুকের তল্লাটে আমিই শীর্ষমন্তাজ ছিলাম ....কেনো পারোনা  বাতিল করতে সেসব অশুভ মুহূর্ত , যে মুহূর্তে আমি ছিলাম কখনো মিথ্যে অপচয় হয়ে !  
দিনরাত শব্দমহলার আমার দিকের জানলা দরজায়  কেনো তোমার আজও এমন পাহারা ! 
আকাশে অসংখ্য তারা তোমার উঠোন ,বারান্দা , চিলেকোঠা আলোকময় করছে , 
আমি অন্ধকারমহলা দিকে বাস করি .....দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাওনি কেনো! 
সেই কবেই সৎকার করেছো আমায় চন্দন জলে ধুঁয়ে, কুমকুম সিঁদুরে সাজিয়ে শেষ যাত্রায়  বিদায় দিয়েছো .....থ্যেতলে দিয়েছো সামান্য হয়ে থাকাটুকুও , 
এই শব দেহর ওপর তোমার শব্দমঞ্চে হাততালি ,বাহবা , বাজারী কেতাদস্তুর ......উজ্জাপন ...,,
দেওয়াল লিখনের ওপর নতুন চুনকাম , নতুন রাঙা কুমকুম ভালোবেসে কবিতা ...সবটুকু বিন্দাস ।
তবু মাঝে মাঝে তোমার বুকের তল্লাটে এমন আমিময় শীর্ষমন্তাজের গত কাল গুলো কেনো আনো ? 
আফিমের মত পুরোনো নেশায় ঘোর লাগে আমার ...
বাঁচতে চাই একটা আকাশের নিচে কোনো হৃদয় ঘটিত কারণে নয় ,
ও তরফের মুঠোফোন , সমাজ মাধ্যম যেমন তালা দিয়ে চাবি অসীমের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছো , এবার এই শব্দ -মহলার দরজায় তালা দাও ,  
তোমার বুকের তল্লাটে বারংবার নিয়ম গোপন করে, সমাজ থেকে লুকিয়ে , আমার আবরণ খুলে কেনো মন্দ মানুষ হতে চাইছো ? বোঝোই তো 
তোমার পৃথিবীতে আমি নিষিদ্ধ চিরকাল ....তোমার জীবনের গোপন  অন্ধকার কিংবা পাপ একমাত্র আমি ,
তাই বুকের তল্লাটে আমি নামক আবর্জনা সাফাই করে ফেলে ...তোমার নতুন আলোর বুকে মাথা রাখো ....হে আলোকময় ।



ও মহলার শীর্ষ মন্তাজে এখন নালিশের সুর আমার দিকেই ,

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২১

এখন নেক নই

আমাকে আড়চোখে দেখে তোমার সভায় তামাশা বাড়ে.... বাড়ুক ,
 তবু কোনো হৃদয়ে নয় আমি শুন্যের ভেতর ডিগবাজি খেতে খেতে খেউড়ে হারাবো , ,,
আসমানে কুৎসা ছড়াবে ..ছড়াও  ,
আমি  শূন্যের ভেতর প্রবেশ করিয়েএ ফেলেছি নিজেকে ।
ওসব শব্দের ভেল্কি ,হাহাকার ,অপমান আমি নামক শয়তানকে ছুঁতে পারে না আর ।
অন্ধ নরক হোক , কিংবা  আলোর স্বর্গ দুয়ার হোক,, ,
পায়ের নিচে পথের মাটি নিঃশব্দে বদলেই যায় হে ।
 ...আমাকে তোমরা আর পুরনো নেক মানুষ ভেবে ভুল করে ফেলো না ।

আমার অসুখের ঔষধি

 কেনোই বা  অসংযত হয়ে আজও আছড়ে পরো বুকের তল্লাটে !!

 তাই বআজও  পুরোনো অসুখে মুমূর্ষু হয়ে পরি প্রায়শই!

বিষাদের পাকস্থলীতে পুরোনো আভিজাত্য কেনো তোলপাড় করে ফেলে !

তোমার বেসামাল আদরের কাছে আমি এখনো নিজেকে উৎসর্গ করি অসম্ভব ভাবে  গোপন আঙ্গিকে!

এই যে আমার এত কিছু বেপরওয়ানা একমাত্র  পাগলা দাসুর  দিকেই ধায় ......কেনো বলতে পারো ?

আমার আসরে তুমি বিহীনে ঝাড়বাতির আলো জ্বলে না তা তো নয় ..........,!
 তুমি বিহীনে আমার রাতগুলো স্বপ্ন বিহীন তাও নয়......... ,  !
তুমি বিহীনে আমার সমস্ত দেওয়া নেওয়া অবিরত এই পৃথিবীর সাথে বিন্দাস ......,
অথচ আমার পৌরাণিক অসুখের এক মাত্র ঔষধি ওই পাগলাদাসুর প্রেম কেনো বলতে পারো?





শব্দময়

তোমার লেখা শব্দে এ শহর সাজায় প্রেম...
..
    ....
          ....
তবু তুমি আলো  চাওনি কখনো ,
....     
       .....
              ......
মুঠো খুলে দিয়েছে তাই কালো মেয়েটা ভেতরে বাস করা কেউ।
 ....হাতের রেখায় এঁকে ফেলেছে তুমি বিহন  গলি পথ থেকে রাজপথ ,
..... 
       .......
                .......
এমন সুযোগ কজন পায় বলো  ...এমন করে নিঃস্ব হতে কজন পারে বলো আর এমন করে নিঃস্ব করতেই বা কজন পেরেছে  ! ।
.....  
         ........
                    .......
আর কখনো হিসেব কষতে বসতে হবে না ভালোবাসার  জন্যে সময় রাখার ,
....... 
          .......
                   .......….
কালো মেয়েটা   সংখ্যা ভুলে শব্দেই সাজায় শহর থেকে রাজপথ তারপরেও ঘরের দেওয়াল ।
......
      .......
               ....
তুমিও প্রয়োজনে কিনে নিয়েছ সময়ের পক্ষীরাজ।
আর মেয়েটা ফিরে গেছে কবরে
..... 
       ........
                ........।

একক মৃত্যু

প্রতিটা চোরা স্পর্শে  একটু একটু করে
মরে যাচ্ছে মেয়েটা ।
ঈশ্বরের নির্লিপ্ততা সুন্দর কে ভয়ংকর করে দিয়েছে  আজ মেয়েটার মন।

নেপথ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সাজানো মানুষের সম্পর্কে
কেবল বিসর্জনের লাল চোখ গড়িয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকে বলেই অসময়ে  বৃষ্টির দরকার যে পৃথিবীর ।

কলাপসিবল মন গুছিয়ে রাখা সংসারের দেওয়ালে ভালোবাসা বিহীন পোট্রেট বলে দেয় ........
মাঝে মাঝে মানুষের মনকে  এই সত্যিটা মেনে নিতে হয় ...যে সব কিছু কিছুতেই আর আগের মতো হবে না ।

যে স্পর্শ একদিন জিয়নকাঠি ছিলো ....ঋতু বদলে সেই স্পর্শে একটু একটু করে মরে  যাচ্ছে মেয়েটা । ,,


চারফর্মার জীবন

 মাত্র চারফর্মার জীবন ছিল অথচ আজ ...
এই পাহাড় চূড়া আমায় আকাশ করে তোলে ,
উদার আর প্রশস্ত হতে হতে লীন সময়ে সময় হয়ে উঠি ,
রোজ মনে করে এই পৃথিবীকে ধন্যবাদ জানাই 
আমাকে এভাবে বাড়তে দেওয়ায়  জন্যই ।,

রোজ কত সহজে এই পাহাড় আমায় ঈশ্বর করে তোলে ,করে তোলে প্রেম হিসেবে আরো স্থাণু ,

.....বাতাসের লাগাম আমার হাতে তুলে দিয়ে এই পাহাড়,এই আকাশ,এই পৃথিবী আমাকে রোজ শ্রেষ্ঠত্বর মুকুট পরিয়ে দেয় ।
তুমি কিংবা আমি  কেন্দ্রিক অক্ষরদের থেকে আমি অদ্ভুত উদারতার সাথে মুক্তি পেয়ে যাই ,
কাঁচের সংলাপে ভরে থাকে আজীবনের সারমেয় কাব্যগ্রন্থ ।
 সময় আর বসতির ভেতর লুকিয়ে থাকা ছোট্ট সংসার থেকে রাস্তা পেরিয়ে দিগন্তে মিশে যায় আমার যাত্রা -পথ ,
জলের নীচে তলিয়ে যেতে যেতে এই পুড়ে যাওয়া সভ্যতা থেকে পাহাড় আমার আত্মাকে ঈশ্বর রুপি করে তোলে ,
মাত্র চারফর্মার জীবনে ভাবিনি কখনো এমন আশ্চর্য স্বপ্নও সত্যি করে আমাও উপহার দেবে এই পৃথিবী!