রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪

ম্যাজিক

ম্যাজিক বুঝি মনুষের নিজের ভেতরেই ...
ঈশ্বরও নিজের ভেতর ,,
নিজের ভেতর সমস্ত শুভেচ্ছা সমস্ত 
শুভ্র পবিত্রতা আলো ও অন্ধকার,,
পাপ তো বাইরে,  আগুন সে তো  জেহাদ
হতেই পারে অন্তরের  নিজস্বতা কে
বাঁচিয়ে রাখার জন্যে  সে জেহাদ।

হৃদয়ের দায় কত টুকু  অন্ধকার আর আলো
তো হৃদয় চেনে না সে  জানে 'তথাস্তু ' শব্দটা ,,

তুমি চাইছো একটা মুক্তি তুমি চাইছো তোমার পাপ
তোমার শরীর ছিন্ন ভিন্ন করুক,  চাইছো 
বেওয়ারিশ সুখ...  হৃদয়ের ভেতর ঈশ্বর 
তখনও বললেন তথাস্তু।

মঞ্চ, আলো, ভিড়, যানজট , বিজ্ঞাপন, বৃষ্টি, কিংবা
বালিশ জড়িয়ে একাকীত্বের কান্না আসলে এত ভাষা
ঈশ্বর বোঝে না , 
একটাই ম্যাজিক সে জানে ...
তুমি যা কিছু সাজাও জীবনের মাঠে  ভালো কিংবা 
মন্দ  জন্ম কিংবা মৃত্যু ফাঁদ , নাটক কিংবা নিষ্ঠা,
আদর কিংবা অবহেলা .... ভেতরে বসে থাকা ঈশ্বর কেবল
তথাস্তু শব্দটাই জানে  ... ম্যাজিক  সে শব্দ ,
আর তাই ম্যাজিশিয়ান তুমি কিংবা আমি যেকেউ।

©সই (ম্যাজিক)



শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪

অভ্যেস

আকাশ কেনো বদলায়?
উওর অভ্যেস ,
যেমন নদী বদলায় তার অভ্যেসে,
তেমন তুমি আর আমি রোজ বদলে
নিই বাসি হয়ে যাওয়া অভ্যেসগুলো ,

তুমি আশ্রয় বদলাও আমি শরণার্থী বদলাতে
দেখি ,
রোজ এক অদ্ভুত ঝগড়ায় আমার বিপরীতে রাস্তা খুঁজি,
রোজ বদলে যাই এক অপরের কাছে ,

একসময়
চার দেওয়াল জীবন্ত হয়ে আমাদের মাঝে এসে দাঁড়ায় 
 সাধের ঘর তার মানচিত্রে বদলে ফেলে ....এই দেখো আবারো
সেই বদলে যাওয়া ,

  বাঁচার নেশায় রোজ রূপকথার খোঁজে
এ শহরের মানুষ রোজ মেঘেদের সাথে ভেসে বেড়ায় 
নতুন আকাশের খোঁজে ....
তবু একটা ছায়া আর ছাদ   মেলে না 
মেলে না একটা আসল মনের মানুষ যে বদলায় না
আমরণ  যার আশ্রয়ে চিরন্তন।


©সই ( অভ্যেস)

বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪

কাগুজে সংলাপ

হয়তো সব শব্দরা টুকরোর টুকরো হয়ে কোনো এক অজানা পথের ভোর আজনের মুহূর্তে ফিরে আসবে একদিন ,
 আসলে একটা মৃত্যু জানে আরো একটা নতুন জন্মের অপেক্ষা সার্থক হবেই  ,
এই তিলোত্তমার অলিগলি  আবারো গোধূলির রং
মাখবে ভালোবাসাময় হয়ে ।

সে এক রুপকথা ....

আজ সে দিন নয় আজ জল থৈথৈ বুকের ওপর 
কাগুজে সংলাপ যেন প্রাক্তণ হলদেটে কোনো ইতিহাসের 
পাণ্ডুলিপি ,
যেন আমাদের পুরোনো দিনযাপন আজও বৃদ্ধ কড়িকাঠ
বুকের ভেতর আগলে রাখছে অজানা  আগন্তুকের অপেক্ষায় ,

 হৃদয়ে পুরের পুরোনো বাড়িটায় এখন দখলদারির বাস...
একদিন যেখানে তুমি আমি আমাদের ভৈরবী  সুর সঙ্গমে
শব্দের ছবি আঁকতে পারতাম ,
,একদিন আমাদের পারা গুলো বিকেলের খুনসুটিতে
অসম্ভব কনে দেখা আলোয় একটা  সুন্দর  পৃথিবী সাজিয়ে তুলতো।
এখন আমারে দিন বদলের গল্প বুক চিরে  এক অচেনা  
রাস্তা করেছে আর আমরা সে রাস্তার  পথিক  , 
এত অচেনা দুজন... এত পথ এক সাথে
হেঁটে এসেও কেউ কাউকে চিনি না ,
কখনো কোনো পারিজাতের কাহিনী যেনো এখন শুধুই  মিথ...
নাকি  আচমকা ঘুম ভাঙা রাত্রের ব্যর্থ শব্দের দিল ছুট অক্ষরদের কান্না ।

এ কবিতা ব্যর্থ আগেরই মত 
এ স্মৃতিচারণ ব্যর্থ বরাবরের মত 
আসলে আজও যান্ত্রিক হৃদয়ের গায়ে শেষ 
ধুকপুকানি লেগে আছে  ,
আমাদের সব কিছু ব্যর্থ হলেও 
এখনও এপিটাফে শেষ বার্তা টুকু লেখা হয় নি 
হয়তো নতুন কোনো আলোর ভেতর তুমি আমি আমাদের
উপসংহারে মুখোমুখি দাঁড়াবো অন্তত  একবার।

© সই ( কাগুজে সংলাপ)





রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪

অভাব

নিজের  সামনে নিজে পিড়ে পেতে বসত হবে ,
অথচ স্পর্শ করা যাবে না নিজেকে   ছুঁয়ে দেখাও যাবে
না , 
দূরত্ব বজায় রেখে নিজেকে নিঃস্ব করে একটা শূন্যস্থান 
খুব জরুরী , 
জীবনের  কিছুটা অভাব দিয়ে  কান্না দিয়ে
ভোর রাখা জরুরী ।

©সই (অভাব)





শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

যান্ত্রিক

হৃদয় এখন কেবল যন্ত্র 
তাই ভালোবাসা কৃত্রিম
আকাশের মত দেখতে টাঙ্গানো সামিয়ানায় 
মিথ্যে নাটক ওই চাঁদ তারার ,,
 তাই ভেঙে যাওয়াগুলো আজকাল 
বড্ড স্বাভাবিক ,
বিশ্বাস , নিঃশ্বাস ,ঘর, কাঁচ ব্যায়াম রাখা  সাজানো স্বপ্ন ... যাই ভাঙুক না কেনো  হৃদয় ছুঁয়ে যায় না কোনোটাই ,
কিংবা মন এখন বিকলাঙ্গ  তাই সহজ 
কথা গুলো আর সহজ নয় তাই সামান্য পাশে
থাকা এক বিরাট পাহাড় ডিঙানো কিংবা সাঁতরে সাত
সমুদ্র পার হওয়ার মতই কঠিন ,

আমরা যুদ্ধ বুঝি জেহাদ বুঝি  আক্রোশ আর
ছিনিয়ে নেওয়া বুঝি ...আসলে হৃদয়ের সার্কিটে এখন
কেমন হিসেব আর লাভ ক্ষতি প্রোগ্রামিং করা হয় ,
বুঝি না সাথে থাকা ,বুঝি না কথা রাখা , বুঝিনা
ঘর মনে শুধুই চার দেওয়াল নয় একটা দেশও বটে ,

 তবু বেঁচে থাকা অর্থহীন নয় ,
তবু ভুল উৎসবে মানুষ হাসে 
হয়তো ভুল প্রেমে মানুষ মরেও যায় ,
ভুল নেতা দেশটাকে খুবলে খায় 
হৃদয় যখন যন্ত্রের ভূমিকায়  
তখন চরাচরে সবটুকুই কৃত্রিম তাই না?

©সই (যান্ত্রিক)






শেকল

স্মৃতির মনে রং বেরঙের শেকল 
সে শেকল বাঁধা মৃত সময় 
সময় মরে যায় তবু কারো করো
বুকের ভেতর বড্ড তরতরিয়ে বেচেঁ
থাকে বেড়ে ওঠে ,
সম্পর্ক গুলো ছেড়ে চলে যায় 
পৃথিবী প্রদক্ষিণ থামিয়ে দেয় নিয়মের বাইরে ,
এক দিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে অন্য পৃথিবীর
দুয়ারে  সব দৃশ্য বদলে গেছে তখন ,
শুধু সন্তপর্নে বাঁধা আছে সেই রং বেরঙের শেকল গুলো
বুকের পাঁজরে সাথে।


©সই ( শেকল)





বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪

আশ্চর্য আভা





রাতের অন্ধকার কিংবা দিনের আলোর মত 
তোমার আঁচ কানাচে শেধিয়ে যাই
কখনওবা বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার জল  যেমন ,
তোমার উপাসনালয় কিংবা ভোগ সবটাই
অবাধ আসাযাওয়া,
প্রেম কিংবা বান্ধব রং নিরীক্ষণ করা হয় না
আমার কিংবা আমরা সেটুকুও নয় 
সংগোপনে নাম না জানা অভিসার আর
একটা আশ্চর্য আভার মত সমস্ত অন্তর মহল
জুড়ে এই দেওয়া নেওয়া ।

©সই


স্রোত

শব্দ নেই  নেই কোনো গল্প তবু তিরতির করে বয়ে
যাওয়া একটা সংসার আছে আমাদের ,
সম্পর্কর অজুহাতগুলো আজও ভীষণ যত্ন করে
রাখা সে সংসারে ,
তাই এখনও অসুখ করে  ,এখনও রাত জেগে কপালে
ভিজে কাপড়ে যত্ন রাখি একে অপরের।

উনুনের নেভা আগুনের পাশে খিদের ভাত নিয়ে বসে থাকি 
....তুমি অন্য হাতে আমার কপালের অবিন্যস্ত চুল সরিয়ে বোলো  কি করে জানলি আমার খিদে পেয়েছে 
আমি চোখ দিয়ে আমার খিদেটুকু তোমায় জানাই ...

শব্দহীন এর সংসারে   রোজ কত কথাই না হয় আমাদের
তবু সব চেয়ে কাঙ্ক্ষিত কথাটা আজও আমাদের এক অপরকে বলা হয়নি  ...বলা হয়নি ভালোবাসা শব্দটা শুনতে চাওয়ার থেকে গায়ে মাখার অজুহাত  অনেক বেশি ,
আর তাই তো আমরা  আমাদের ভালোবাসার বাড়িটার নাম দিয়েছি স্রোত।

©সই ( স্রোত)



মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৪

বিরহ

নিজের সাথে নিজের বাক _বিতন্ডা
চলে  সারাটা বেলা ,
 দিন শেষে পড়ন্ত বিকেলের কাছে দাঁড়ালেই
 হাত বদল করে দাও চুপিসারে  চাঁদের আলোর কাছে তারাদের সাক্ষী রেখে ,,

 সহজ সরল সাদাকালো গল্পটা হঠাৎ গ্লাসের
রঙিন তরল হয়ে যায়  আর কবিতারা হয়ে ওঠে প্রেমময়,
ঘরে ফেরার রাস্তাটায় বিরহের বাতাস বয়ে যায় ।

আজ কাল  জ্বর আসে নিয়মিত 
তোমার আমার মাঝে তুমুল বাক_বিতন্ডা আর 
উত্তপ্ত জ্বর .....
দুর্বল করে দিও না হে সখা 
কারণ আমার কাছে ইচ্ছা মৃত্যুর  ' বর ' নেই ।


©সই (বিরহ)


রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

ফেরা

 চলে যাওয়ার মতোই ফিরে আসাটাও
সহজ নয় 
যে পথে চলে যাওয়া সে পথ হারিয়ে যায়
ফেরার জন্য সে পথ থাকে না আর অন্য পথে
আগের মত গল্পটা থাকে না ,
আসলে এই যে চলে যাওয়া আর ফেরা এর মাঝে
সভ্যতা বদলে যায়,  সংসার বদলে যায় , বদলে যায়
রং মাটি হয়তোবা কাঠামোটাও ...
সমস্ত চেনা হয়ে যায় অচেনা ।

সই(ফেরা)






শীতকাল



তোমায় বুকের ভেতর হাজারো মরশুম
 ....দাবদাহ গ্রীষ্ম ঝরঝর শ্রাবণ , 
বাকি হেমন্ত বসন্ত সবাই আসে ।
কতশত আসাযাওয়া  কতশত দেওয়া নেওয়া তোমার সাথে ওদের,

আমি কেবল তোমার বুকের  ওই এক শীতকালে অপেক্ষায়  থাকি,
...আসলে ওই শীতকালটুকুই আমার ... আমি তখন
তোমার বুকের ভেতর জড়োসড়ো হয়ে  ' দ ' এর মত 
ঘুমিয়ে থাকতে পাই ,

আমার ধমনীতে তখন মহাকাল ব্যাঙের রক্ত ঢুকিয়ে দেয় ,
আমি অপেক্ষায় থাকি অমন ভালবাসাময় অভিশাপের জন্যে ,
অমন রক্তকরবীর বন্দিনী দশার জন্য,
অপেক্ষায় থাকি তোমার বুকের ভেতর শীতকাল টুকুর জন্য,,
অথচ আমার নিতান্ত শীতকাল গুলোকে ওরা ঈর্ষা করে ,
তোমার বুকে ওরা অন্য অক্ষরে বসত চায় ...
আমি আবারও ব্রাত্য হয়ে যাই।

সই ( শীতকাল)









বদল

হ্যাঁ তুমি ঠিক বলেছো 
রোজ আশ্রয়ে জন্যে যে
আখর বাসায় ফেরো 
সেটা এক নয় যা ছেড়ে 
যাও সেটা সম্পূর্ন বদলে যায়
ছায়ার রং অলোর পথ বাতাসের
স্বভাব বিছানা চাদরে কিংবা দেওয়ালে
রাখা যা কিছু  সবটাই বদলে যায়
কখনো কখনো সম্পর্কও...।

সই(বদল)





শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৪

প্রয়োজন

বিদ্রোহে দলছুট মেঘ এখন সে 
দিশা হারানো সন্ধ্যায় চাইছে ঘরে ফিরতে ।
একদিন আলো ভেবে হেঁটে গেছে যে পথে 
সে তো পথ নয় অন্ধকার মিথেন গ্যাসের ট্যানেল,

পাথরের সামনে অনুশোচনা সাজিয়ে 
নিবেদিত পূজো কেবল হাহাকার ছড়ায়
মৃত ঈশ্বর তথাস্তু বলতে পারে না ।
ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় কোথায় বলো  মান্যবর

তুমিও একদিন বৃষ্টি হতে শিখে যাবে 
যেমন আমি পাথর হতে শিখেছি ,
আসলে প্রয়োজন শিখিয়ে দেয় সব কিছু 
প্রয়োজন না থাকলে প্রিয়জন থাকে না ।


©সই (প্রয়োজন)

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪

স্মৃতি জেগে

স্মৃতি গুলো কফিনে এখনও থরে থরে
সাজানো ওরা জেগে আছে ওরা ঘুমায় না
কখনো।
ওদের পরিচয় লেখা এপিঠাফ সবাই পড়তে পারে
অথচ সব কথা গোপন ওদেরই বুকের সিন্দুকে

পাখি হতে চায় কখনো কখনো ওরা আকাশে মিলিয়ে যাওয়ার
সুখী হতে চায়  কবিতায় পাতা বয়ে বৃষ্টি হতে চায় ভেসে
যেতে চায় ঠিকানা বিহীন দেশে ....পারে না সব কিছু পারা
সবার জন্যে নয় যে 
তোমার আর আমার পারার  মধ্যে অনেক  তফাৎ যে ,
  

 ©সই ( স্মৃতি জেগে)

উপমা

জানতে চাইলাম কিসের মত ভালোবাসো আমায় ?
তুমি বললে একটা গোটা নদীর মত , 
 গ্রীষ্মের বৃষ্টির মত , আরো বললে
পাহাড়ী রাস্তায় ফেরারী বাতাসের মত পথ হারিয়ে ফেললে
তোমায় খুঁজি দিশা ঠিক করার জন্য ...
আমি বললাম এসব কি খুব জরুরী!
 তোমার সাঁজানো প্রেমের কবিতায় আমি এই আমিটা
আসলে কোথাও তো নেই ,
অথচ তুমি অনেক বার আমায় বলেছ ভালোবাসো,,

 আমি তো চাইনি গল্পেরা শ্রেষ্ঠ চরিত্র হতে 
আমি তো চাইনি তুলনাহীনা হতে ,
 আমি এত অলংকার চাইনি 
আমার দম বন্ধ হয়ে যায় এতো সুখ পেলে
আমার কান্না পায় মাথা রাখার বুক পেলে 
আমার একলা লাগে কেউ আমার জন্যে ঘর বাঁধলে।
এতো উপমায় ভারী অলংকার আমায় ক্লান্ত করে দেয়
চোখ বুঝে আসে আমি আকাশ জোৎস্না বৃষ্টি কিচ্ছু দেখতে পাই না ,
বড্ড কষ্ট হয়  আমাকে এত ভালোবাসা দিও না বরং তার থেকে ভালো যেটুকুতে আমি আছি সেটুকু দিও
কোনো কিছুর মত কিছু দিও না প্লিস।


 ©সই (উপমা )

বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৪

সই(৭৯)

রোজ  কয়েক পাতা দূরত্বের 
 নামতা মুখস্থের  পরেও
চোখ ছুঁয়ে  থাকে    কাছে থাকা 
দিনের স্মৃতি 
এতো  নিবিড়ভাবে  তো ভালবাসার দিনেও 
আঁকড়ে  জড়াইনি পরস্পরকে। 

#সই

হিসেব মেলে না

দেওয়া নেওয়ার হিসেব মেলাতে গেলেই
ফলাফল জটিল হয়ে যায় ... সম্পর্কগুলোও
তেমন ।

যেভাবে  সাজানো থাকে ভাবনার তরণে 
থরে থরে খানিক যেন রূপকথায় যেমন
তেমন বুননের  কোনো  কাহিনীই মঞ্চস্থ হয় না ...
কেবল যেন কিসের অভাবে ছুটে বেড়ানো 
অথচ অভাবটাও দৃশীীত নয় স্পষ্ট করে।

 আমি দেখেছি  অহংকারী সম্পর্কের ভেতরে
লুকনো কান্না ,
আমি দেখেছি বিশ্বাসের ভিতকে হাত বদল হতে ,
আমি দেখেছি যে মানুষটা সব পেয়েছির সুখ জড়িয়ে
রোজ ঘুমোতে যায় সেও চোখ খুলে মুষ্ঠিঅন্ন  আর ছায়ার
সন্ধানে  উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেবল ছুটে 
সব চেয়ে কাঙালের মত ।

 আসলে ভেতরের সাথে বাইরে তফাৎ আলোর ভেতর অন্ধকার কিংবা অন্ধকারের ভেতর আলো ...কেউ কাউকে দেখতে পায় না ।


© সই (হিসেব মেলে না)


সই(৭৮)

আমাদের যৌথ খামারে দুঃখ গুলো একই
শুধু তফাৎ যে দৃশ্যগুলো আলাদা মুখোমুখী
দেওয়ালে টাঙানো 
 ওরা কেউ কাউকে ছুঁয়ে 
শুশ্রূষার স্পর্শ দিতে পারবে না কখনোই।

#সই



সই(৭৭)

সেসব  উৎসবের তুমিই ছিলে  মধ্যমণি
সময়ের স্রোতে বিসর্জন গেছে সব যেমনটা যায়
যাকিছু যাবার ,,
কাঠামোয় লেগে পুরোনো বসন্ত
তবে পলাশের রঙ্গ গেছে ধুয়ে ....

#সই 

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৪

সই (৭৬)

সম্পর্কের ভেতর লুকিয়ে থাকা তামাশাগুলো
এখন বড্ড স্পষ্ট বলেই নিজেকে নির্বাসনে রাখি,
কথারা এখন আমার ভেতর বোবা ....
দু চোখ ছুঁয়ে যায় সব রং ,ছবি ,কবিতা ,মানুষ আর
আসা যাওয়া,
আমি  পাথর হতেই ভালোবাসি ...।

#সই


সই (৭৫)

যাকে রোজ  দেখি রাত ঘুমের মাঝে তাকে  এই শহরের
ভিড়ে কখনো কোনো মিছিলে  রেস্তোরাঁয় স্টেশন চত্বরে
একবারও দেখি না কেনো ?
একটা গোটা জীবন কি শুধু খোঁজ আর অপেক্ষার?

#সই

মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪

সমঝোতা

মেনে নেওয়া আর মানিয়ে নেওয়ার মাঝে নিঃশব্দে 
থাকে প্রতিবাদী চিৎকার  থাকে যন্ত্রনা চুঁইয়ে পরা
নিভৃত কান্না ,
নিজের মৃত্যুর পরেও অনেক সময় নিজেকে বাঁচিয়ে
 রাখতে হয় স্রেফ সামাজিক ফ্রেমটুকুর জন্যেই ।
....আচ্ছা ভীষ্মর ইচ্ছা মৃত্যু  বরের মতোই  কি ইচ্ছা
বেচেঁ থাকার বর হয়! 
 ...হয়   হয় যেমন সব মৃত্যু   মানুষ চোখ দিয়ে 
দেখতে পায় না তেমনি সব জন্ম  কিংবা বেঁচে
থাকাও বোধহয় দেখা সম্ভব নয় ।

কাঁচ কফিনে ঢাকা মন-দেহ এক পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে
আর এক পৃথিবীর দরজায় প্রবেশ করে   ।
 আর তখন সমস্ত ফুরিয়ে যাওয়া গুলো একদিন 
দৃশ্যের বাইরে   মিলিয়ে  স্মৃতি বিলীন হয়ে যায়,
একটা নতুন ভোর, নতুন জন্ম, নতুন করে 
কান্না হাসির  নকশিকাঁথায়  বেঁচে থাকা  একটা   আশ্চর্য  সমঝোতা ।

আবারো ঝড় আসে ঘর ভাঙ্গে দেওয়ালের পলেস্তারা
খুলে পড়ে   ঘাড়ের কাছে বিষধর সাপের হিস হিস নিঃশ্বাস!!

 তবুও ... তবুও এতো কিছুর পরেও মাটির বুকে সম্পর্ক গুলো
আজও বেঁচে থাকে তাই পৃথিবীতে ফুল ফোটে ,
আলবেলা ছেলেটার বাঁশিতে সুর সাজে ,
কবির কবিতার খাতায় ভালোবাসার বৃষ্টি লেখা হয় ,,
এতো বিশ্বাস ভাঙার পরেও প্রেমিকের কাঁধে বিশ্বাসে
মাথা রাখে  প্রেমিকা ... রূপকথায়  পারিজাত সাজায়
হৃদয় হয়তো হেডলেস হয়  চিরকাল ।
  
©সই ( সমঝোতা )


সই (৭৪)

স্তব্ধ কোলাহলের ভিড়ে এই
শহরের   অলিগলিতে 
শুধু তোমাকেই খোঁজে  চোখ ,
কত কবিতা কত উপন্যাস
অসমাপ্ত কেবল তোমায় খোঁজা হলোনা
বলেই ...
#সই

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৪

একটাই কাহিনী

ভালোবাসার পাশে ঘাপটি মেরে সেও
ঘুমনোর ছলনায় শুয়ে ছিলো ,
ভোর স্বপ্নে  চেনা অচেনা  কেউ 
একজন এসে বলে গেলো 
আবার ষড়যন্ত্রের আখরবাসে
মর্মীয়া প্রেমকে  বন্দী ও হত্যার
কথা সে ভাবছে ।

 একটাই তো কাহিনী লেখার আছে 
সমস্ত সফর জুড়ে শেষমেষ ,
 ....সে কি বার বার  ছল করে
হৃদয় জিতে নিতে পারবে !
 ঘুম ভাঙার পর লৌহ বর্মে  সজ্জিত রেখেছি
মনের দেহ ,  
 তোমার কবিতায় আর কোনো
রাজা কিংবা  শয়তানের জয় হতে দেবো না ,
আগামীতে লেখা তোমার সব কবিতায় কেবল
 হাহাকার আর কাঙালিপনা ফুটে উঠবে ,

 আমি কেবল একটাই কাহিনীর মালিক হবো 
সে কাহিনীতে বিশ্বাসঘাতক এর নাম একবারই
উল্লেখ্য থাকবে বারংবার নয়।

©সই (একটা কাহিনী)







!

জোকার

তাসের ঘরে রাজা রানী জোকার
আর তাদের উপলব্ধির সংসারে
হেরে যাওয়া বেলা গুলো কেমন দম বন্ধ 
বাতাস হীন  ,
 কখনো বা নিয়ন বাতির নিচে খুঁটে নেওয়া জিত কি
খুশি ... এ যেন  আনপ্রেডিক্টেবল মরসুম
নাকি সবটাই জানা সাজানো খেলা  যেখানে
জেতা হারা আগে থেকেই সাজিয়ে রাখা !

  তবু রাজার মুকুট খুলে সেপাইয়ের বর্দি পরে
লড়াই করার নাম জিন্দেগী ,
আসলে পেটের খিদে আর মনের খিদে লড়াইটা
লড়াই হয়েই থাকে  ।
বেচেঁ থাকা জুড়ে আজন্ম কিছু অভাব  বিছিয়ে রাখা থাকে
আর সে অভাব মেটাতে গিয়ে খুড়োর কলে লাগানো
খোরাক ...,
মন মাথা আর আপোষের একটা সম্পৃক্ত আটপৌরে 
সংসার যেখানে আসলেই হয়তো কেউ রাজাও নয় রানীও নয়
সব্বাই স্রেফ জোকার ।

 ©সই ( জোকার)



রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪

মেয়েটা

অন্ধত্ব ঘুচতে চায় না 
বারংবার হেরে যায় মন
তার প্রভুত্বের কাছে ,
কাঁচ ব্যয়ামে রাখা দগদগে ঘা...
মনভুলানিয়া বিষ ...
 ভুলভুলাইয়া  কথকতা,
চোঁখের দুধারে মৃত সংসারের
কালি পরা স্বাক্ষর ...।

 মেয়েটা আগুন বোঝে না
মেয়েটা মুখের চামড়ার আড়ালে মুখোশ 
বোঝে না 
মেয়েটা একটা নির্বাক গল্পের সাক্ষী থাকে শুধুমাত্র ।

© সই  (


বৃষ্টি নেই


বহুদিন বৃষ্টি নেই এই আকাশে
অথচ মন খারাপের মেঘ মাটির বুক চাইছে 
চাইছে জমানো নালিশে বয়ে যাক কাগজের নৌকা,

বৃষ্টি নামলে  হয়তোবা সম্পর্কের ওপর লাগানো কাঁচা রঙ ধুয়ে
যাবে ... বৃষ্টি নামলে মুখোশের মিছিলে হেঁটে যাওয়া মুখ গুলো
আবার স্বচ্ছ হবে ,
বৃষ্টি নামলে তুমিও হয়তো কাদামাটি ধুয়ে স্নান সেরে ফিরে এসে বলবে ...এই তো দেখো তোমার হাতের রেখায় আমি ভীষণ ভাবে আমি ...স্রেফ আমিই আছি।

বহু দিন বৃষ্টি নেই আকাশে 
অথচ ভোরের সব স্বপ্ন তো সত্যি হয় শুনেছি ।

©সই (বৃষ্টি নেই)




সই ৭৩

মেঘেদের মত ওরা আসে যায় নানান
চরিত্রে,
আকাশের মতোই বুক  পেতে আতিথেয়তা
সেরে নেয় এ মন ...
পাতা ঝরা মরসুম আসে ওরা ছেড়ে যায় ।

গাছেরা বদলায় না ...বদলায় না আকাশ
 শুধু মেঘেদের দেশ বদল হয় 
পাতারা নতুন সংসার সাজায় ।

©সই




শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৪

সই ৭২


দিনান্তে ক্লান্ত সাজানো সংসার
সর্সির কাঁচ সরিয়ে অভ্যেস খুঁজে মরে মন
অথচ ছুঁয়ে দিলেই যেন সেরে ওঠা ক্ষত থেকে ফিনকি দিয়ে
অসুখ বেরিয়ে আসে ।
এ যেন প্রতি জন্মে নিয়ে আসা প্ররোদ্ধ ভাগ ফল,
বৈশাখী আগুনে ছায়া খেলে লুকোচুরি 
প্রেম পুড়ে যায় পুড়ে যায় সব তৃষ্ণা ,ঝুল বারান্দার
মাধবী লতাও  এবার  বয়স মেপে ফুল ফোঁটায় 
তার ঝুলিতে ঝুল বারান্দার ভালোলাগা কাহিনী
এখন প্রাক্তণ।
অথচ আত্মিক অতিথি তো এক জীবনে কম নয় 
ওরা আসে বসে কিছুক্ষণ সাথেও থাকে  কখনো যেন অভ্যেস 
হয়ে যায় ....আবার এক কলবেলায় সমস্ত ছুঁড়ে ফেলে হারিয়ে যায়
তবু সব যাওয়া যাওয়া নয় তাই লেগে থাকে চিহ্ন হয়ে 
কপালের রেখায় একটা সম্ভবনা থাকার আশায় 
ভালোবাসায় উঠোনে রোজ সাঁঝ বাতি জ্বেলে  অপেক্ষা
এর নাম কি জানি না ।


©সই 




সই (৭১)

থাকা আর না থাকার জমজ গন্ধ এখনো
টাটকা ,
সিলিং ঘুম পড়ানোর ব্যর্থ গল্প  বলে যায় সারাটা রাত
ছায়া পেরিয়ে কাঁচ দেওয়ালে সকাল আসে ,

তুমি ফিরে যাও আমার সাংসারিক গল্পের দুয়ার পেরিয়ে ,

 কখনো কখনো রোজ দুপুরে একটা রিংটোন  
দুর্বল মুহূর্তকে হাতছানি দেয় ,
মুখ ফিরিয়ে মেঘের সফরে নিজেকে সামিল করি 
তোমার চিহ্ন মুছে  গেলে আবার জলরেখায় নতুন
জন্ম আঁকায় ব্যাস্ত হয়ে পড়ি ,
এভাবেই একটা কিশোরী মনের দেহ মন খোলস ছেড়ে 
 আরো খানিকটা প্রাপ্ত বয়স্ক হই।

 © সই 






শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪

সুখ অ-সুখ


সুখ সেরে এখন অ-সুখের পালা তাতে কি !
নাম বদলে যায় হাত বদলে যাওয়ার মতোই তাতে কি!
বোকারা চিরকাল বোকা থাকলে হয়তো  ভালো ,
ভালো রাখা যায় ভালো থাকাও যায় ।

সুখের পর অ-সুখ বড্ড ভালো লাগে
না পাওয়ায় মধ্যে একটা মুক্তির স্বাদ অন্তর্নিহিত থাকে 
থাকে ভাবনা আর বাস্তব এর তফাৎ এর মাঝে সূক্ষ সেতু টা
চিনতে পারা ।

 "চুপ" এই শব্দটার জোর অদ্ভুত... যেন ধারালো শাণিত অস্ত্র,
সুখ দুঃখ হাসি কান্না ভালো থাকা মন্দ থাকা সব কেমন নির্বাক
করে সময়কে কেটে ফেলে দেয়,
 আকাশের মন বোঝা যায় না মেঘ কি অভিমানী নাকি 
ধুয়ে দিতে চায় ক্ষতর রক্তের দাগ,
 .... চুপ  এই শব্দটায় দীক্ষা দেয় সহ্য আর নির্বাক  হবার ,
শুধুমাত্র প্রতিবাদ থাকে নিজের পুরোনো ছবির সাথে 
শুধুমাত্র  নিজের আয়নার ধুলো সরিয়ে  ফেলে আসা সময়ের
নিজের আদলে  প্রতিবিম্বটা চুপ করে দেখে স্মিত হাসি খেলে যায়  মুখের ওপর।

©সই ( সুখ  অ-সুখে)




সই(৭০)

স্মৃতি কাছে দাঁড়ালেই তোমাকে
ভবি, কখনো কখনো সারা বেলা
জুড়ে আমার ভেতর তুমি বাড়তে থাকো ,
তবে সেভাবে মুড়ে রাখো সেকথা বলতে পারি না
সে ভাবে জড়িয়ে রাখো সেকথাও সত্যি নয়।

বাড়ি ফেরার পথে গঙ্গার  ঘাটে ফিরে যাওয়া
একলা নৌকা  বিরহের শব্দ গেঁথে রাখে 
চিলেকোঠার  গোপন ঘরে  
...একথাও মিথ্যে নয়।

©সই 







বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

মন্দবাসার রুপকথা

ভালবাসা মরে যখন
নালিশ অভিমান ফুরিয়ে যায়,
কথা যেন চুপ আর শব্দহীন
হৃদয়পুরের চিলেকোঠায়
রুদালীর সুর ,
জানলার কাঁচ বেয়ে 
মন খারাপের বিষণ্ণ যেন এক অভ্যেস।

অনাবৃষ্টির দিনে 
 বুক বয়ে অহরহ শ্রাবণ
যখন সমস্ত ভ্রম ধুয়ে দিচ্ছে....
মুঠো খুলে হাতের রেখায় মিশিয়ে 
নেওয়া কোনো একদিনের সঞ্চয় কে 
যখন অনায়াসে ভাসিয়ে 
দেওয়া যায় ,
হয়তো তখন  হ্যাঁ ...
তখনই ভালবাসার মৃত্যু বোধহয়....,।

হাওয়ায় এলোমেলো ভাবনা আর পাগলের
মত উন্মদ অপেক্ষা যখন আর থাকে না ...
সুখ আর অ - সুখের মাঝে 
সেতু যখন অদৃশ্য হয়ে যায়
 বুকের রুমালে সুগন্ধ ফুরিয়ে কেবল
রক্তের গন্ধ যখন ঝিম ধরায় ...
তখন ভেবে নিতে হবে নেই আর নেই 
শেষমেশ মৃত্যু হয়েছে ,
স্রেফ আগুনের প্রয়োজন
 নয়তো দুর্গন্ধে চিরকালের মত 
হারিয়ে যাবে কোনো একদিনের
"মন্দবাসার রূপকথা" ।

©সই (মন্দবাসার  রূপকথা)


ফিরে যাবে বলে

পড়ন্ত বিকেল মুখে আভা রেখে যাচ্ছে
যে ঠোঁট তুমি ছুঁয়ে দিলে সে ঠোঁট গোলাপ হয়ে ফুটে আছে,
কপাল ছুঁয়ে আলসে ওম ... চিবুক চুইয়ে কাব্যিক রুপকথায়
পারিজাত এর চিত্র ।

তুমি ফিরে যাবে বলে দিতে চেয়েছো শেষ প্রেম টুকু উজাড় করে...
তুমি ফিরে যাবে বলে সমস্ত নালিশ মুছে দিচ্ছ অভিমানী 
ঠোঁট থেকে ...
তুমি  ফিরে  যাবে বলেই  বুকের দুরন্ত ঝড়কে
ভালোবাসার  বৃষ্টিতে শান্ত শীতল করলে...,,

তুমি  ফিরে যাবে বলে দুয়ার পেরিয়ে পিছনে তাকালে
চোখে রাখলে চোখ মুহূর্তে  সব এলোমেলো করে দু বাহুর আগলে বেঁধে কিছু বলতে চাইলে ....,
              নির্বাক তোমার শব্দেরা দু ফোঁটা জলে আমাতে
লিখে দিলে না বলা কথাগুলো,
চলে যেতে হয় তাই চলে গেলে আমাতে তোমার সর্বস্বটুকু রেখে গেলে বাকি বেচেঁ থাকার অঙ্গীকার করে।

©সই ( ফিরে যাবে বলে)





*


বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪

আলো নিভে গেলে


আলোর ভেতর চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে 
চার পাশে শুধু আলো আর আলো 
আলোর গায়ে কালো অক্ষর গুলো হারিয়ে যাচ্ছে 
আমার তোমায় নিয়ে শেষ লেখাটা কিছুতেই শেষ হচ্ছে না 
খানিকটা আলো নিভে যাওয়া দরকার  দরকার অন্ধকার ,
ভাবনার ছায়ায় দাঁড়িয়ে  তোমার সাম্রাজ্য ফুরিয়ে যাওয়ার উপসংহার
লেখা জরুরী,

অগোছালো সংসার ঘুচিয়ে দেবে বলেছিলো অমলতাস গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা
যুবকটা  ...বলেছিলো হারানো সুখ , প্রত্যয়, যাকিছু আগলে রাখতে ইচ্ছে হয়
অথচ হাজারো যত্নের পরেও একদিন হারিয়ে যায় সেসব ভালোবাসাময়
ফিরে পাবে।
আমি বেলা ফুরিয়ে যাওয়া অন্ধকারের অপেক্ষায় বহুদিন 
বহুদিন মাঝ রাতের অন্ধকারে সেই তথাস্তু বলতে পারা যুবকটা
ঘুমোতে দেখতে চেয়েছি   দেখতে চেয়েছি তারা মুখে কোনো যন্ত্রনার অন্ধকার ছায়া ,
গভীর রাতের আকাশে তারাদের আলো যেনো অন্ধকারকে তাচ্ছিল্য করছে আমার অভিৎসা   তাই , সেই সৌম্য যুবকের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাই একবার আলো নিভিয়ে
দাও  আমার বুকের ভেতর রাখা  শেষ শব্দ বন্ধনীর মুক্তি কেবল অন্ধকারেই
সম্ভব ,
আসলে ভালোবাসলে আলোতে আলোকিত হয়ে যায় ভেতর বাইরে আর অভাব
না থাকলে যন্ত্রনা না থাকলে তোমাকে লিখবো কি করে 
আলোতে যন্ত্রনা নেই অভাব নেই তাই তুমিও আমার ভেতর আর বাইরে নেই ।

©সই (আলো নিভে গেলে)


মিথ্যে

আজকাল লিখতে বসে শুধু একটা   মুখের কথা লিখি.. একটা হৃদয়ের কথা লিখি একটা মঞ্চর আলোয় হাঁটতে  থাকা বিকিয়ে যাওয়া ভালবাসার কথা লিখি 
একটা বিশ্বাসঘাতক এর কথা লিখি একটা মিথ্যে  ঈশ্বরের কথা লিখি ।

হৃদয় রোজ হারাবার ভয় ক্ষত থেকে বেরোনো রক্ত শুকিয়ে
আরো একবার তৈরী হয়ে নেয় বেঁচে থাকার সাক্ষী থাকবে বলে , 
এ শহরে বেঁচে থাকা গুলো হোটেল রুমে স্পর্শ হীন অথচ শারীরিক ...  শরীর  যে দামী মনের চেয়ে ,
ভালো থাকার  নাটকটা বেশ জমে যায়  কিছু দিনের জন্য।

 নিজের জন্য একটি স্বচ্ছ আয়না খুঁজে পেলেও ...  আয়নায় দাঁড়িয়ে দেখবো বুঝতে পারে না মানুষ!
অথচ  হাসি খুশি সেলফির আড়ালে  চাপা যন্ত্রনা  তাসের ঘরের ঠুনকো জৌলুস খসে পড়তে দেখি   পৃথিবী জুড়ে,

তবুও মানুষ জীবনের সবকটা শীত বর্ষায় বাঁচে..
মরচে পড়া মন নিয়েও   মন মন্থনী খেলায় মেতে ওঠে
বসন্তের পলাশ গুঁজে দেয় নকল প্রেমিক সময় পার করা প্রেমিকার চুলে ...,
অনেক, অনেক কাটাকুটির পর..আমরা একদিন বেমালুম ভুলে যাই..কোন একদিন আমাদেরও বুকের পাঁজরে 'মন' বলে কিছু ছিলো...;;
অনেক দেরি করে বুঝতে পারে  আসলে প্রিয় সম্পর্ক   প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেও ঘুমিয়ে পড়ছে চাঁদামাছের মতো মাটি ঘেঁষে....
সে ঘুম আর ভাঙবে না কখনো।

সময় কিনে বাড়ি ফেরে ব্যাস্ত জীবন  
কয়েক ইঞ্চি সুখ নিয়ে যুদ্ধ করে মরে যায়  মানুষগুলো..

একটা মানুষ চেনার আগে.. আরেকটা মানুষ চেনার পরে.......
ভালোবাসা অনুভূতি বদলে যায় !
একদিন অমরত্বর খোঁজে সাধনা করে যে ঈশ্বরের
চোখ খুলে দেখা যায় সমুখ আসনের  এক শয়তান বসে
হাসছে, 
 দেহ মনের ক্ষত  ভুলতে চোখ বুজে নিতে হয়   কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই  কি ক্ষত সেরে যায়...??

©সই ( মিথ্যে)







ফেরা ২

স্মৃতির ট্যানেলে এগোতে থাকি  মরীচিকার  অহংকারে
বন্দী যেনো মন মস্তিষ্ক,
চার পাশের ভিড় যেন আরো একলা করছে 
একলা বড্ড ভয় করে আজকাল ... মানুষ কি একলা বাঁচতে ভয় পায় জানা নেই ,
 বুকের ভেতর বন্যার জল ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলছে নিমেষে ,
  আমার আমিকে চিনতে পারি না  জ্বর আসে ঘোর লাগে
সব সব কিছু ঝাপসা হতে হতে একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়াই খুলে যায় সে দরজা 
প্রিয় প্রেম দু বাহু  প্রসারিত করে ...কাছে এসে দাঁড়াই বলি আমার ঠোঁট স্পর্শ করো অযুত বছর  অপেক্ষা  ফুরিয়ে দাও এবার ,
আবারো পথ  তারপর আরো এক দরজা   সে দরজা খুলে দেখি  প্রিয় কবি আমার জন্য কালি কলম  খাতা নিয়ে বসে আছে  কবিকে বলি আমার জন্য এইবার শেষের কবিতা লেখো 
এইবার পাখিদের  গান তোমার কলমকে আমার সব কথা বলবে ,

 এবার হয়তো প্রিয় আশ্রয়ের কাছে ফিরতে চাই সেই সে
যে আজও মাটি আঁকড়ে আকাশটা সাক্ষী রেখে
বলেছিলো ফিরে এসো বেলা ফুরোলে ,,
...ঘুম ভাঙতেই দেখি রাতের পাখির সফর এখনও অনেকটা বাকি ।



-------
©সই  ( ফেরা)

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০২৪

মৃত্যু ২

ক্ষতর যন্ত্রনা গুলো একসময়  গলায় পরে
থাকা মাদুলীর মত অভ্যেসে মিশে যায় ভালো
মন্দ সব যেনো স্পর্শ হীন ,
ভালবাসার ঘরের দেওয়ালে প্রিয় মুহুর্তের ছবি গুলো
ফুঁপিয়ে কাঁদে অথচ ধুলো সরিয়ে নতুন ভাবে স্পষ্ট হতে
চায় না ,
আগের মতই গ্রীষ্মের দুপুরে ছাদ জুড়ে মেঘ তারপর তুমুল
মিঠে বৃষ্টি ...অথচ ভালোবেসে ভিজতে মন চায় কই !
ফেরী ঘাট শেষ ট্রেন সব আগের মতোই থাকে অপেক্ষা না
থাকলে শহরে এসব কিছুই কেমন বেমানান তাই না !

মরসুম এর হাত বদলে জোয়ার ভাটায় সংসার
ভাঙ্গে হয়তোবা জুড়েও যায় ভাঙ্গা ঘর 
মন যেনো অকারণে কথা ফুরিয়ে যাওয়া নীরবতায়
হারিয়ে যায় , ভেতরের কথোপকথন থেকে ঝগড়া সব
বেঁচে থাকে  যেন কফিনের ভেতরে মাটি চাপা পরে যাওয়া
বেঁচে থাকার  মতোই,,
 ... নালিশ, অভিযোগ, আবদার, আদর, ঝগড়া, অভিমান থেমে গেলে যে মৃত্যু হয়েছে মেনেই নিতে হয় তাই না 
আসলে সবটুকুই তো স্পর্শ আর সে স্পর্শ না থাকলে আর বাকি কি থাকে ।

© সই (মৃত্যু ২)






সংসার 
-----------

  পালাচ্ছো তুমি তোমার অর্ধ শত প্রাক্তন প্রেমিকাদের
এক শত চোখের চাহনী থেকে ... নাকি তোমার দিকে
তাকিয়ে থাকা অসহায়  বোবা নালিশের ভিড় থেকে পালাচ্ছ?

 শহর, গঞ্জ, ধান ক্ষেত, পাহাড় ,নদী, তোমার লেখা
কবিতা গল্প থেকে পালাতে পালাতে তোমার পায়ের তলার চামড়া থেকে রক্ত ঝরছে,  পোষাক জীর্ণ হয়ে ছিঁড়ে পড়ছে , তোমার শরীর থেকে খসে পড়ছে মাংস ,
তোমার কান নাক ঠোঁট  হাত ক্রমশ পচে গলে যাচ্ছে  সে পচা গন্ধে মাথার আকাশে সময়ের শকুন উড়ছে ...তুমি পালাচ্ছ ... . পালাচ্ছ।

ফেলে আসা গল্প গুলোতে তুমিই তো একমাত্র হত্যাকরি
ছিলে প্রতিটা হত্যায় তুমি উজ্জাপন করতে পঞ্চ রতি ।
এখন তুমি পালাতে পালাতে কখনো কখনো পাথরের খাঁজে 
নিজেকে আড়াল করছো ,
লক্ষ্য ঘৃনা আগুনের স্ফুলকি বৃষ্টি তোমার ওপর
সময়টা যেন ঢিল খাওয়া ভাদ্রসারমেয়!
 হয়তো মরেও যাবে একদিন  ...তবু কি মৃত্যু হবে তোমার !

তোমার প্রাক্তণ সময় তোমাকে যে ফুলহারে গেঁথে চলেছে ,
 তোমার প্রতিটা জন্ম এই হত্যাকারীর উপহার প্রারোদ্ধ হিসেবে ফেরৎ দেবে  বলে।
জানতো মানব্য পালানো যায় না নিজের ছায়া থেকে কারণ নিজের ছায়া অন্ধকারেও জড়িয়ে থাকে অসম্ভব পাগল প্রেমিকের মতোই  ... কথা রাখে কথা রাখতে জানে ।

©সই(সংসার)



সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪

ফেরা

স্মৃতির সীমান্তে কাল সাপ পাহারায় বসে আছে 
দেওয়ালে ঝোলানো কিছু প্রাক্তন মুহূর্তের সামনে
নরম মোমের আলোতে তীব্র দহন রয়েছে সেটা আপাত দৃষ্টিতে তেমন বোঝা যায় না ,
বোঝা যায় না দহন আর দ্রোহের মাঝে মাথার নিউরন আর হৃদয় আদেও তাল মেলাতে পারি কিনা ,
আপাত দৃষ্টিতে সবটুকু ভালোবাসা ময় মনে হয় 
মনে হয় চাইলেই রূপকথা লেখা যায় জীবন দিয়ে 
অথচ মানুষের মৃত্যু তো হাজার কিস্তিতে লেখা থাকে 
তাই চাইলেই রূপকথা লেখা সহজ নয় চাইলেই ফুলস্টপ দিয়ে কলম নামিয়ে রাখাটাও নিজের হাতে থাকে না ।

 বুকের ভেতর ঢেউগুলো আপাদমস্তক ডুবিয়ে দেয়
অস্বিত্ব টুকু  নিজের আয়নার সামনে দাঁড়ালেও কাঠামোর সব টুকু ধরা পরে কই ?

 আনমনে কখনো ক্যানভাসে আঁকা ভুল ছবিগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় এক একটা পাপ দাঁত বার করে হাসছে,, ...সাধের রঙ অন্ধকারের গহীনে সিঁড়ি ধরে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে কাল-মুহূর্তে,,
খাঁচার পোষা পাখিটার কাছে ভুল স্বীকার করে একটা আকাশের দিশা জেনে নিতে ইচ্ছে হয় ,
পাখিটার পালকে ঝেড়ে ফেলা মন কেমন দু এক ফোঁটা
লেগে থাকে ...এক সকালে ভূমিকায় খাঁচার দরজা খুলে দিয়ে
সমস্ত জিত টুকু ঝুলিতে নিয়ে নদী জমির আলপথ আকাশ  সাক্ষী রেখে ফিরে যাওয়ার পালা এবার।

#সই ( ফেরা)







ভালোবাসতে গিয়ে

তোমাকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে
আমার ভেতর ক্ষয় রোগ জাপটে ধরলো  শেষমেশ,
তোমার তৃষ্ণা মেটাতে মেটাতে আমার
নিজস্ব নদী আজ ভয়ানক গ্রীষ্ম বুকে রেখে হাঁপিয়ে
উঠেছে ।
তোমার সমস্ত কলঙ্ক আঁচলে বেঁধে রাখতে রাখতে 
আমার শ্বেত শুভ্র আঁচল আজ গোরস্থানের ফেলে দেওয়া
আস্তিনে মত  ।
তোমার সমস্ত দুঃখ প্রতিবার নিমেষে ঘুছিয়ে দিতে দিতে 
আমার নিজের দুঃখের চিৎকার আমি শুনতেই  চাইনি কখনো ।
তোমার যুদ্ধের ময়দানকে ফুলের বাগান গড়তে গড়তে 
আমার জমিন জুড়ে আজ ঘুঘুর বাস।
তোমাকে অমরত্ব  দান করতে গিয়ে আমি অযুত মৃত্যু দুয়ারে
হেঁটে গেছি ।
অথচ তুমি নারকীয় উল্লাসে নখের আঁচড়ে আমাকে বারংবার
রক্তাক্ত করে উৎসব উজ্জাপনে মেতেছো  ,
কি চেয়েছিলাম তোমার কাছে বলতে পারো ?
স্রেফ মাথায় হাত রেখে বলবে ভেবেছিলাম আয় আমার বুকে
মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাবি আয় এটুকুই চাওয়া ছিলো 
আর তুমি স্রেফ ....।

#সই (ভালোবাসতে গিয়ে)



মানুষের ভেতর

মানুষের ভেতরে যে সংসার সাজানো থাকে তাতে
অসংখ্য চিলেকোঠা রাখা থাকে পাশাপাশি 
এক ঘরে মন থাকে সোহাগে আদরে, একঘরে
থাকে জোৎস্না মাখা রবির গানের সাথে রূপকথার প্রহর,
এক ঘরে হারানোর শোক সাদা কাপড়ে মুড়ে রাখা ,
আর এক ঘরে বাউল মন।,,
মনের ঘরে এক মানুষ নিজের কাছেই আজনবি 
উননে  ভেজা কাঠ গুঁজে সে ধোঁয়ায় কান্না লুকিয়ে
রাখা ভালো থাকার নাম ,
ঘরের ঘুলঘুলিতে চড়ুইয়ের সংসার আর সে সংসারে 
 আকাশ খুঁজতে চেয়ে বারংবার   আকাশের ঝড় ডানা ভেঙে দেয়।
এক সময় বয়সের কেতাবে বেলা শেষের কবিতা লেখার সময় এসে
দাঁড়ায় সমুখে .... পুরনো নতুন সব দেওয়াল লিখন ঘষা কাঁচের
এপারে আবছা হয়ে আসে  দ্রুত ফ্যাসব্যাক শহরের বিজ্ঞাপন বোর্ডে,
মুখ মুখোশ আপোষ আফসোস ভালবাসা মন্দবাসা অপেক্ষা
আকুতি  সব সব কেবল শ্বেত চন্দনে আঁকা কপালের জমিতে 
কফিন ঢাকা পরে যায় ।
তুমি আমি স্রেফ একটা ছোট্ট কাহিনীর মত ব্রহ্মাণ্ডে হারিয়ে যায়।

#সই ( মানুষের ভেতর)