রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

রাই সংবাদ(৭)

তুমি ছাড়া একটিও নক্ষত্র আলো দিতে শেখেনি রাই , 
 দিকভ্রম  বৃদ্ধ কোনো মাঝির মত হারিয়ে গেলে তাই তুমি ছাড়া আমি পথ দেখতে পাইনা ,

যে ভাবে তুমি আলো হতে পারো......

আমি সে ভাবে দিকভ্রম মাঝ দরিয়ার মাঝি ......

যে ভাবে বাতাসে কারণ মিশিয়ে  ঝড় হতে পারো....
সে ভাবে আমি পতঙ্গের ডানায় মাতন হয়ে উঠি ....

রাই তুমি জাতিস্মর বলেই  যুগে যুগে গোঁসাই তার জন্ম সার্থকতা  খুঁজে পায় ।

সহজে বেঁচে আছি

সারা রাত্রি বড় সহজে আজকাল বেঁচে থাকি ,
চতুর্মাত্রিক অধ্যায় এর ভেতর অসাড় কিছু অনুভূতি..... আর দফায় দফায় বদলানো দেওয়াল লিখন সিলিং এর ক্যানভাস থেকে গড়িয়ে নামে আমার মতো দেখতে একটা  দেহে , 

ভোর বেলা কুমকুম রঙের পাখিটা ডোরাকাটা জানলায়  আলো কে ঝাপসা করে অধিকার খুঁটে খুঁটে খেতে আসে ,
 ভেতর বাইরে  তখন পাগলা ঘোড়ার খুরের 
শব্দ অবাঞ্ছিত জন্মবীজ পুঁতে দেয় গর্ভে ।

খাড়ি পথে নিয়ন প্যাস্টেলে ঘষে হেঁটে আসে পালে পালে বুনো শব্দ ......,
দীর্ঘ পথ অতিক্রিম করে মৃত্যুর রং চিনতে চায় কেন  তারা জানি না ,
জানিনা শরীরে জমিয়ে রাখা গন্ধরা কেন মধ্য বয়সী হয়ে উঠে তখন ,।
....... আসলে জোর দিয়ে বলতে পারিনা  মৃত কলিজাটার  অসাড় অনুভূতি দের আর সে ভাবে সম্বিতে ফেরা হবে কিনা ।
শুধু  শুধু এটুকু জানি সারা রাত্রি আমি সারা রাত্রি যতটা সহজে বেঁচে থাকতে পারি দিনের আলোয় তেমনটা পারিনা ।

রাই সংবাদ (৬)

গোঁসাই তুমি প্রতি অমাবস্যার মধ্যমার  ভেতর ঘুমের ভঙ্গিতে যে ক্ষতরেখা  আঁকো আমি তার 
ডানায়  মেলে দিই  ত্রিকালমুগ্ধ  উড়ান.....,,,
 ....আমি যে হারবো বলে জন্মাইনি যে পৃথিবীতে ,,

.......... একদিন  যখন হাতের কাটাকুটি রেখা গুলো মুখেও ভীষন স্পষ্ট হবে  তোমার  অভিজ্ঞতার  বয়স  বেড়ে উপান্তর কাছে  চুপ করে গুটিসুটি হয়ে বসবে , 
চিবুকে সোনাঝুরি খোয়াই নিয়ে কোমল মিড় সেদিনও ওই বুকে নতুন ধানের  অঘ্রান সজীব থাকবে  ।
...... বিভঙ্গে আদিম মৃত্যুর মত সভ্যতা বয়ে যাবে নীল নদের পার ধরে অজস্র শতাব্দী .....রাই তখনো অমর  স্থাণু  হয়ে  তোমার দিকেই চেয়ে থাকবে ,,
........... কেঁপে ওঠা  ঈষৎ বিবর্ণ পথ ধরে তুমি বার বার একতারার ছিলায় যে ঘর ছাড়া গান বাঁধো
সারারাত একলা ছাতের ঘরে রাই তার  এক একটি বর্ন মালা প্রসব করে নীরবে ,,
নক্ষত্রের আলো হাতে তুমি পৃথিবী প্রদক্ষিন করতে করতে ...  ঈশ্বর হয়ে উঠেছো  বহুদিন হল
.... অথচ  পরমার্থ তোমার বুকের বাঁ পাশে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে আছে   তুমি অন্তর আলো জ্বালিয়ে দেখোনি ।

দিন..... মাস... বছর...
জন্মান্তরের  চেনা অশ্রাব্য  গলি... মেঠো রাস্তা.....
সব পেরিয়ে যাচ্ছ   আলোর গতিতে যেন বানভাসি তোমার অস্তিত্বের স্ত্রোতে  মহাকাল ধ্বংস লিখছে সতী বিচ্ছেদের শোকে  ,

গোঁসাই মানুষ জন্ম একবার তাই 
. ছায়ার বয়স বাড়িয়ে  মনে  দ্বিধা দের প্রাচির বাড়িয়ে নাই বা রাখলে ,
রাই যে তোমার বাউল সুরে চিরকাল বেঁচে থাকার গানই শুনতেই চায় ।

লক্ষী ছাড়া

মেয়ে  তুমি মন ভাঙা কান্না ভুলে 
ওঠো, লক্ষ্মীমন্ত  মন গুঁড়িয়ে ফেল , তুমি ওঠো এবার সকল চেনা সজ্জা ছেড়ে 
ওঠো ওই ভালোবাসা  থেকে, 
ওঠো তুমি, বন্ধন মুক্ত হয়ে, ভালোবাসার মনে এবার তোমার কাছে হোক চরম বিদ্রুপ , 
তুমি কারো মনের  মত করে কথা বলো  হয়েও না স্বভাবি ,

 মত আগুন চোখে  তাকাও
তোমার মত   বর্শা ফলকে হাসো
হৃদয়ের রক্তে উদযাপন করো , যারা তোমায়  দুঃখ দেব তাদের ছুঁড়ে ফেলে দাও সুইসাইড পয়েন্টের তির্যক খাদ থেকে ,
মন তুমি এবার চরম বিশৃঙ্খলায় মত্ত হয়ে ওঠো, যতক্ষণ তুমি যন্ত্রণা দিয়েছে  যারা তাদের অস্তিত্বে রন্ধ্রে যন্ত্রনা পুঁতে না দিচ্ছ, 
মন  তুমি পরজীবী হওয়া ছেড়ে উঠে এস শিরদাঁড়ায় ভোর করে ,  যতক্ষণ তুমি পরোজীবী, যতক্ষণ পরায়ত্ত, পরাহত,
ততক্ষণ তুমি পবিত্র  নও।
যতক্ষণ প্রণত, প্রচ্ছন্ন, ততক্ষণ তুমি প্রফুল্ল নও, প্রবল প্রখর নও, প্রতাপান্বিত নও 
ওঠো, পরিত্রাণ পেতে ওঠো,  ভালোবাসা ছেড়ে প্রেম ছিঁড়ে 
প্রাণ পেতে ওঠো উজ্জয়িনী হও। 
নিজের 
পুনর্জন্ম এ উৎসব হোক  নিজের পৃথিবীতে পুনরুত্থান হোক  প্রেমহীন মনের,
হৃদয়ে কখনও অন্য অস্তিত্বর
জায়গা রেখো না অনু সমান , 

এবারে জরা ভরা শোকএর আচ্ছাদন ছেড়ে  মন তুমি ওঠো হেসে , মন তুমি বাসা ছেড়ে নষ্ট নীড় হও।

বিবাগী বাতাস

সামান্য বাতাসের খোঁজে এবার ঘর ছাড়া হলাম,,
চিলতে জায়গাটায় সাজানো গোছানো নাটক ভেঙে .....আবার মল্লার স্রোতে  লিখবো গানের কলি ,,
মর্মদের বিদায় জানাতে বেদনা কিংবা শোক কোনো অনুভূতি নেই ....,
 কেবল থিতানো বুকের 
বর্ন গুলোয় দু চারটে খসে পড়া তারাদের আত্মগোপন রইলো , .....
যে আকাশটা ছোটো হতে হতে ব্যালকনির গরাদে 
ঝুলছিল  তার প্রতিকিতে সোপান লিখে ফেললাম ,

এসো দেখো  যে অনবদ্য সুখের জন্য ঘর ছেড়ে ঘর বাঁধেছিলাম ,  আজ অচেনা পথের ধুলোয় 
সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু যন্ত্রণার মুক্তি হোক  ,
এসো  বাতাসের কানে  আমরাই  নতুন তরঙ্গ স্রোতের  পথ বলে দিই ,
 এবার চর্চিত পৃথিবীর বাইরে নিঃশ্বাস খুঁজে নিই।

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এই শহরের উপাখ্যান

টিকিয়ে রাখা গেরস্থালির উনুনের আঁচে 
আর বাসনকসনের শব্দে এ শহরে  সম্পর্ক  সম্পর্ক খেলা চলতে থাকে আদারে বাদারে  আবার ইঁটের ইমারতের আড়ালে ।
নিজেরই লাশের দেহে সুগন্ধি ছিটিয়ে অনেকেই বেঁচে আছি শব্দটাকে বাতাসে ছড়িয়ে দেয় এই বসত ভিড় শহরটায় ,
এ শহরে ফুঁপিয়ে উঠা দুঃখ গুলো  শ্মশান যাপনের তলানিতে থিতিয়ে থাকে ,
এ শহরে শামুক ঘাসের কোলে কখনো ডিম পাড়ে না ....... এ শহরের মাটিতে কোনো অঙ্গুরীমাল প্রাণ
নিশ্চিন্তে  গড়ে তোলেনি কোনো নকশা , 
এ শহর ভালোবাসার মেঘে গর্ভবতী হতে ভয় পায় 
তাই এ শহরের অনাচেকানাচে  রাজস্বলায় কন্ডোম সঙ্গম বেজন্মা  সময়ে সময়ে  ,
এ শহরে প্রেম  পশুদের কাম আলিঙ্গনের মতই ,
এ শহরে বৃষ্টি হয় না তেমন অথচ  প্রতিনিয়ত দহন ক্লান্তিতে ভিজিয়ে  দেয় পুড়ে যাওয়া আশ্বাসকে ....
এ শহরের ডাকপিয়ন  কখনো গোলাপি খামে সলাজ অভিমান পৌঁছে দেয় না প্রেমিকের ঠিকানায় .......
এ শহর শুধুই টিকিয়ে রাখার বিশ্বাসী ....
এ শহরের ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধুই দিন যাপনের গ্লানি ।

রাই সংবাদ(৫)

শুধু জ্বালা জুড়োনোর জন্য বিনয়ী হয়ে ওঠে সে 
আজও জলবতী নদীটি গাভিন হয় ,

ফাগুনের শাখায় মুখরিত হয়ে আমের বোল ,,

তবু কেন রাই এর মনে দাউ দাউ আগুন  তবু কেন 
নিজের অন্তরে কবিতার কোনো পংক্তি অবশিষ্ট থাকে না গোঁসাই বলতে পারো ? 

এক জীবনে একটি নদীই  যথেষ্ট ছিল  তুমি সে কথা জানিয়েছিলে , 
অথচ কি নিপুণ ভাবে আহত রেখে গেলে নদী পড়ে সমস্ত আদিম সভ্যতার মত ,
তবে কি জীবন  চরাচরে   ভালোবাসা ,ঘনিষ্ঠ ,প্রত্যাখ্যান , বিরহ ,হতাশা শুধুই জৈবিক মৈথুনে মনের অসুখ ! 
  নাহ গোঁসাই নাহ  তাহলে হৃদয় নিঃশব্দে বাজতো না  ,  হু হু মন পুড়ান আগুনে  প্রেম শুদ্ধ হত না , গোঁসাই তুমি মানো না মানো ঈশ্বর যে অবিনশ্বর সে কথাই প্রমাণিত বারবার ।

আবেগী ডোরি

আবেগের সব ডোরি ভেসে যাক গেঁজে যাওয়া পান্তা ভাতের আরকে ,,
 বাকি আছে পোয়াতি মেঘের কোলে  খানিকটা আদুরে অভিমান আজও ,
....... ফিরভি কোই বাত নেহি ...
কিউকি  বিনা ইসক কিয়ে  বেখুদি কেয়া চিস হ্যায় পাতাহি কাঁহা চলতা... ? 
হয়তো বেশ কিছুটা ধুঁদলা ক্লান্তি মনের অনাচেকানাচে লেগেছে , চিবুক বেয়ে গড়িয়ে নেমেছে আঁত ছেড়া কান্না ,
ফিরভি কোই বাত নেহি ...........,,

 মুখ ফিরিয়ে নেবার আগে ধুলো টুকু ঝেড়ে নিতে চেয়ে ছিলাম একবার ....সে  তো  শুধুমাত্র উপহাস করে রেখে দিতে চাইল  উপন্যাস এর পাতায় আমাকে ।
তবু আমি তার সমস্ত দুঃখ কে দত্তক নিয়েছি ....,
শুধু আবেগী ডোরি কে বাসী গেঁজে যাওয়া পান্তার আরকে ভাসিয়ে দিলাম আজ থেকে ...
নিশ্চিত একদিন চলে যাবো তার স্বপ্নপীঠের নিকটস্থ সকল মাইল ফলক কে দূরে ফেলে ।

রাই সংবাদ(৪)

পাঁজরের হাড়ে দ্বৈত সত্বার সাথে গোঁসাই নিজেকে 
হারিয়ে ফেলে একটু একটু করে ,
 নিমেষেই দুটো স্বর নদীর কিনারে ভাঙা মেঘে ডানা ভেজায় ,
গোঁসাই নিজেকে স্থির রাখতে পারে না , 
নদীর কাছাকাছি কান্নার দাগ খুঁজতে খুঁজতে সে পৌঁছে যায় অব্যার্থ জীবন শৈলীর উৎস রাই এর মুখোমুখি ,
রং ওঠা মাটি খসে যাওয়া দেহটাকে রাই আঁকড়ে ধরে বুকের কাছে ,,
সর্যাস্তের অলস আলোয় ধীরে ধীরে গোঁসাই এর গা থেকে একের পর এক সারস এর পোশাক খুলে নেয়,
 ......তারপর  অর্ধ শত অভিশাপ মুক্ত করে নেয় আহুতি আগুনে , 
 এ জগতে এক মাত্র রাই পেরেছিল শেষমেশ কিন্নরী অক্ষর দিয়ে গোঁসাই এর আত্মা কে আগলে রাখতে  সে কথা গোঁসাই ও জানতো না ,

তাই শুদ্ধ প্রেমকে গোঁসাই  মামুলি ভেবে মনের বাইরে মন খুঁজে ফিরতো বারংবার ।

ঈশ্বর ও আমি

প্রতিবিম্ব রা এখন ত্রিকোণ প্রেমের ভাঙা কাঁচের ফলায় হত্যা লেখে শহরের মহা সড়কে ।
পায়ের তলায় নতুন গল্পের খোঁজে ফিরতে চায় সকল ইন্দ্রিয় ,
ডাকপিয়নের কাঁধে আজকাল আজগুবি বাহানার অজস্র চিঠির ঝুলি ..... তবু একখানা সত্যির অপেক্ষায় ইঁটের ফলকে লেখা ঠিকানা জেগে থাকে পলক হীন হয়ে ,,
একদিন হাতের উপর হাত নিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল সময় .......সে গণনার সবটুকুই সত্যি ,
অনিঃশেষ ঝড়ে বেড়ে ওঠা গুলঞ্চর জীবনে দাড়ি টেনে দেয় অসময়ের আত্মগোপন ....সমস্ত কথোপকথন থেকে যায় শব্দ পটে আঁকা মেয়েটার
কপালের  কুমকুম  রঙে ,
আমাদের মত যারা তারা কখনো কারো হতে পারে না,,  তাদের দুর্লভ ফ্রেমে শুধু ক্ষয় বন্ধি হতে থাকে চিরকাল।
আসলে আমার সমস্ত বেঁচে ওঠা ছিনিয়ে নিয়েছে ইকন বাটার জাদুকর রমণীরা ,   ............এসব দেখেও আমি নির্বিকারে হাসছি .....যেন আমার লেখা কাব্যে তুমি অভিনয় করে চলেছো সময়ের  মঞ্চ জুড়ে ,
আমার ঈশ্বর গোপনে  মৃত্যু ভূমির কাছে অবশ করা বারুদ গন্ধ বোতলে বন্ধী করে রেখে যায় রোজ ঘরে ফেরার পথে , 
অথচ কালসিটে পড়া ঠোঁটে সে চেষ্টা করেও রাত্রি লিখতে পারেনি কখনও।


রাই সংবাদ(৩)

হাতের ছায়ায় কাঁপে তার দু ঠোঁট , তবুও
সিংহ দুয়ারের ফাঁক থেকে রাই দু চার মুঠো গ্রহ নক্ষত্র আঁচলে বেঁধে নেয় ,  
একইসাথে অজয়ের বুক থেকে উড়ন্ত স্মৃতির ঢেউ গোঁসাই এর মনে বাউল কথার জন্ম দেয় ,

........ওরা নদীর ও আকাশের মাঝে কায়া হীন তন্ত্রীয় মায়া বুনে নেয়  .........মিলনের গুঁড়ো গুঁড়ো রঙে  জন্ম হয়  হাজার হাজার পারিজাত এর  , 
দুহাত পুইয়ে  প্রেম আর অপ্রেমের সুবাস মেখে নিতে নিতে গোঁসাই রাই কে আবার নতুন করে ঘর ভাঙা বাউলিনী হতে শেখায় ,,........,

.......অথচ রাই অজয়ের চর ধরে হাঁটতে হাঁটতেও গোঁসাই এর বক্ষবন্ধনীতে মৈথুন বেশের স্থির চিত্র এঁকে চলেছিল ,
তারপর......

.......একদিন  ঠিক শ্মশান ও পাড় ভাঙা নদীর শেষে ওরা হরিণ বর্ণের খোঁজ পেয়েছিল।

রাই সংবাদ (২)

আজ রাই সবরীর প্রজ্ঞায় কথা বলে ,

গোঁসাই এর ঘরে যে  ছড়ানো ছিটানো তীব্র আশ্লেষ,
আলো ছায়ার বৃত্তে যে মায়া তার সবটাই কেটে ফেলে একতারার ছিলা,
কার নাম গায় রাই জানে .....জানে গোঁসাইও.... তবু ওরা  দাহ পাত্র আর চার প্রহরের আজান রাখে মুখোমুখি হয়ে ।

হরিৎবর্ণের একতারার সুর বেয়ে  মুহূর্তে নেমে আসে স্বর্গের সিঁড়ি , 
অন্তর দৃশ্যে ধরা পড়ে ঈশ্বরের কৃতজ্ঞ সুধা ,,

রাই এর শরীরে গোঁসাই সূর্য স্নান সেরে  শুদ্ধ হয় বারংবার ,
 ধানসিঁড়ির কিনারে যেখানে অন্তঃপুর বলে কিছু হয় না সেখানে ওরা ধ্রুবতারা সাক্ষী রেখে মিলিয়ে যায় গোধূলির ও জোৎস্নার নিবিড় সম্ভোগ চিহ্নে।

রাই সংবাদ (১)

অনামিকায় ঘুমের ভঙ্গিতে যে ক্ষতরেখা 
জড়িয়ে স্মৃতির স্রোতে একদিন বয়স বেড়ে যায় ,
চিবুক বেয়ে খোয়াই তারপর অজয় পথ ঠিক চিনে নেয় ।
আদিম মৃত্যু খাঁচায় বিবর্ন রং ঘর বাঁধে
কেঁপে উঠে প্রেমিকের হাত পাপ তরঙ্গে,
নক্ষত্রের আলোতে পথ হারিয়ে চিতার আগুনে
মুক্তি খোঁজে নিস্তার আর নিস্তার ,
এত গুলো নদীর জোয়ার ভাটা  আর ঢেউ সে বুকে যেন ত্রিকালস্রোত ..........
ছায়ার জন্ম মাস বছর পেরিয়ে জন্মান্তরের 
পথ পেয়ে যায় ,
সারা রাত গোঁসাই বুকের চিলেকোঠা রাই কে 
জড়িয়ে কাঁদে  আর বুকের রাখা মুখ তুলে সিঁথিতে রাখে চির নক্ষত্র আলো .....
ভোরের আগে ওরা মেঠো পথে হেঁটে দিগন্ত ছুঁয়ে ফেলে 
ওরা চির কাল কথা রাখে 
ওরা ডানা মেলে আকাশ হতে পারে চিরকাল।
..........।

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

নীরার কান্না

 নীরার কান্না
*****
 


     কতটা রক্তক্ষরণে প্রাপ্ত  যোগ্যতা
           অপাংক্তেয়- যাকিছু হয় মাটির দর?

 হাহাকারেই একদিন  শরণ নিয়েছিল  যাপন জীবনের খোঁজে 
        ঝঞ্ঝাহীন নিষিদ্ধ বাতাস হয়ে ,
এঁদোডোবার গুল্মসিরিজ হয়ে উঠেছিল 
          বৌদ্ধ শ্বাস... 

এসব ইতিহাস গোপন রেখে গেছ সুকৌশলে,
যাতে কোনো মৃত্যুর দায় না বইতে হয়, 

সাম্রাজ্যের  পর সাম্রাজ্য জয় করে গেছ প্রায় অর্ধ শত  বিধান থেকে নিদান দিয়েছো ঈশ্বর তুমি,

          দগ্ধবুকে রেখে গেছে আঙুলের  নিশান।
তারপর অট্টহাসিতে খুলে পড়েছে ভালোবাসার চুন সুরকি।

,
      আগুনে পোড়ানো ইঁটের জন্ম কার জন্য হয়! নাম লেখা থাকে না তবু কারো না কারো নামের ফলক লেখা হয় একদিন সে ইঁটে
           ইমারতে ইমারত গড়ি আমার শব্দটা,

নাভিকুণ্ডে মাটির কলস–সে-নয় জাত্যাভিমানী শ্লেষ তবু  মাঘ ফাগুন আসে ....চরাচর জুড়ে 
না পাওয়া  ঠার!
      তবু  জাত হীন হয়  মুছে দিযে সংবিধান–,,
 তবু নীরবেই কাঁদছে দ্যাখো  উনপঞ্চাশ অবধি 
সমস্ত সংখ্যা গুলো,

কতগুলি শতাব্দী  পেরোলো পায়ের দলা পাতার মর্মর।
তার খবরাখবর কখনো খাতায় লেখে না কেউ ।

বেনামি মৃত্যু



যেকোন  ক্ষণে   আবাদি  মনের জমিতে
দু একটা বেনামি  লাশ এসে পড়ে ,
  আশায় জেগে থাকে অপেক্ষার শকুন মৃত্যু....
নিজের মৃত্যু সে  দেখতে চায় না ,

মাংসের  গন্ধে লোলুপ  গোপন কামনার পোশাকি কিংবা  মাগী বাজি হাজারো নাম থাকতেই পারে
এই ভদ্র সমাজে ,
 কখন সুযোগ বুঝে  শাবল গুঁজে দেওয়ার আগে যোনির মুখে হাত রেখে প্রেমিক জন বলে ওঠে আমার আমার  ....অধিকার না ....বাজি,,
 তারপর  হয় আঘাত দুর্বিসহ যন্ত্রণার জন্ম , 

জমি ফুরিয়ে আসছে দেখেও  প্রতীকী  আগুনে কারা যেন লায়লা ,রানঝা , হয়ে পুড়তে থাকে
সময়ের নিরিখে  । 

ভাগাড়ের আকাশে  অপেক্ষার মেঘ এখন।
তবু বৃষ্টি হয় কম আজকাল কারণ 
 পচন ছড়ায়   ইমান জুড়ে খুব তাড়াতাড়ি ,
হাতে হাত রাখতে পারে না সহজিয়া হয়ে পারে না 
আতাত দিতে অথচ   কেউ কেউ পারে মুখে তখন কেমোফ্লেজ এর ঋণ জানাতে  ,

সারাটা জীবন অবহেলার  চাঁদোয়া দিয়ে 
নিজেদের কফনচাপা করে ফেলা কিছু মানুষ 
প্রতি সভ্যতায় বাঞ্চনীয় ,  যেখানে গনগনে আঁচে হাঁটতে চায় তারা,
 
কিছু  মানুষ চিতার আগুনে দেখে হাত সেঁকে নেয় 
বিশ্বাসি হয়ে ।

সে বেড়ালই হোক আর বাঘই হোক  ঘন্টা বাঁধার কেউ থাকে না  
 আসলে  বিড়াল হয়ে লুকিয়ে মাছ খাওয়া আঁশটে স্বভাব   নিয়ে জন্মায় রাখাল বালক ,
 গোপন বাসনায় এই সঙ্ঘযাপন হয় কাব্যিক তরঙ্গ ।
আকাশে ধূসর পালক ওড়ে 
 
তার নীচে ঈর্ষার লালা  নীলাভ নিখাদ ভালোবাসার মুখে গ্যাজ বেরোয়  ,
 
পুরুষের কাজ কি  সে বিশ্লেষণ  বুকে রাখা থাক ,

 শুধু শকুনের কাজ  গরম রক্তের  নিমন্ত্রণ নেওয়া ।

আজ কার বিচার হবে কার কাছে?  
কে না বলে ওঠা ফুরিয়ে যাওয়া টুকু বুকে টেনে বলবে বাঁচতে চাই .....শুধু বাঁচা টুকু আজও বাকি , মৃত্যু থাকুক উদযাপন হয়ে । 

ভাঙাছই

মনের পাঁচিলের আকাশে গাংচিল ওড়াউড়ির দিন গুলো কেমন জানি না,

 জানতে চাই না ধূলোর আদরে জড়ানো শুকনো পাতাদের গোপন আক্ষেপ ,

স্মৃতির আদলে ফেরে বিগত ঋণ গুলো আমার বাসি জলসা ঘরে ,
 আসলে বাসি চিরকাল একলা , আর বিসর্জিত।

একলা হয়ে ওঠা বেড়ে চলে দিন প্রতিদিন , 
আমি মৃত্যুর মুখোমুখি হাসপাতালের বেডে , 
 অথচ বাঁচার জন্য চিরকাল বসে ছিলাম গোঁসাই আর চোখের গভীরে ছিল নিজস্ব  একলা  নদীর  বহতা। 

জলেদের দিয়েছিল কেউ আলোর   সংকেত,
 এই বুঝি নামি... বুক টুকু পেতে দাও বলে ছিলাম , 
অথচ চিরকাল কেউ কেউ যোগ্যতায় হারে বারংবার গোপন মাপকাঠি তে ,
 আমিও তাদের দলে , একদিন ঘর ছাড়া তারপর মন ছাড়া তার পর সেতু হঠাৎ গুটিয়ে অন্য নদীর বুকে নিজেকে পেতে নেয় ।

...মন বলে থাম তবে মুখপুড়ি আজও হয়ে উঠিসনি প্রেমের যোগ্য ,   স্মৃতিরা বেনামী   চিরকালএই তিলোত্তমায় ।

বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

হারানো স্ত্রোত

এবার নাহয় জন্ম যন্ত্রণার মুক্তি হোক ,

 যে অনবদ্য বাঁচার জন্য কাঁচের বয়ামে রাখা 

যান্ত্রিক আয়ু রেখার পথ ছেড়ে এসেছিল মুক্ত 

হাতে সামান্য কিছু তথাস্তু স্ত্রোত , 

আকাশে এখন সে বসন্ত রাগের সুর ব্যাপ্ত প্রেম মনস্কা ,

যে জন্মের দিন ক্ষণ হিসেব মেলাতে পারিনি কখনো ,পারিনি আশ্রয় হতে ....
আজ আকন্ঠ নীলাভ লুকিয়ে নিজের গল্পটা জানাতে পারেনি ।
........তবু পাখিদের উড়ানে ছড়িয়ে শুভেচ্ছা বলি 

ভালো থেকো পথিক ....তোমার পথের ধুলোয় জন্মর ভেতর সেঁধিয়ে থাকা সমস্ত যন্ত্রণা মুক্তি পাক ,

শুধু মাত্র  নিজের গল্পটা আমি চিনে নিতে পারলাম কই !
আমার কথাটা জোর করে বলতে পারলাম কই ,

....গোঁসাই কি  জানে আশ্রয় হতে গেলে যোগ্যতা লাগে,
... সাথে থাকতে গেলে সময়ের সমীকরণে কোমল মীড় রাত ভোর ধানের খেতে একলা জোনাক ও অন্ধকার এর সঙ্গম সাক্ষী হয় , 

পারলাম কই আশ্রয় হতে পারলাম কই মুহূর্তের সমীকরণে নিজেকে  স্থাণু করতে ....

আসলে প্লাস্টিকের দুনিয়ায় মিলিমিটার কখন যেন কিলোমিটারে বদলে যায় নিমেষেই ,

নিমেষেই সময় হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক নলডাঙ্গা দেউল , 

নিমেষেই বদলে যায় নাটকের রাজা রানী সন্ত্রী মন্ত্রী ,,
...তবু মনপুড়ে ছাই হয় শরৎ বাবুর সব উপন্যাসের 
শেষ পাতায় , ।

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

গোপন আতাত



আমি সময়ের আড়াল থেকে এখন গোপন আঁতাত, সন্ধি-অভিসন্ধি, গন্ধ ও চুক্তি বুঝেও বুঝি না 

একটি বিশ্বাসের গায়ে  পেরেক গেঁথে অন্য একটি বিশ্বাসের গলা টিপে ধরে আমার ঈশ্বর।

সবুজ ঘর আমার তবু শূন্যতায় হাসে নীরব হয়ে ।
আর যা নেই,  হারিয়ে গিয়েছে  
হাওয়ায় হাওয়ায় একা ভাসে ইচ্ছার ভোকাট্টা  ঘুড়ি,
যেসব মাটির কথা উন্মাদ সন্ধেরা জানতো  আজ

ঘরভাঙা লালনের মতো একান্নবর্তী দুঃখ
আমার  উঠোন জুড়ে , প্রতিটি ভোরের নীচে জাগে নিঃশব্দ মেনে । 
প্রতিটি ফেলে আসা মুহূর্তের কাছে ঋণী আমি। 
একা একা মহাসড়কের দিকে হাঁটি মিলিয়ে যায় অনন্ত প্রেমের উপন্যাসিক পুনশ্চঃ লিখন,,
তীর্থের কাক এসে বসে  সময়ের চৌকাঠে, 
আমি মায়াভরা হাতের মুঠোয় রূপশালীধান 
মেখে রাখি বাকি জীবন পথ হারানোর উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকি ।

শেকড় ও মাদুলি তো এক নয়,  যেমন নিখাদ ভালোবাসা আর উপঢৌকন 
কথা ও কামারশালার মাঝে তাই আমি চুপঘর বেঁধে জেগে বসে থাকি প্রতিটি দীর্ঘ রাত

তীর্থের কাক ডাকে সকাল, রাত্রি আমার  অজ্ঞাতবাসে, মেলায় বা মঞ্চে ব্রাত্য চিরকাল যোগ্যতা জীবন বোঝে না 
, জলের গভীরে, পোড়াঘাসে মিথ্যে সব গল্পরা মাথা নিচু করে থাকে 

 চুপ থাকি আমি। 
অন্ধের কাছে আর আলেয়ার কথা বলি না। 
বৃদ্ধ প্রেমের গ্রীবা থেকেও তো আজকাল
মৃতসাপ ও বিড়াল ভেসে ওঠে... 

অতীতের হাততালি পচে যাওয়া হাড়িয়ার মতো,
 ইমান থেকে খসে খসে পড়ে অন্তর হনন 
তীর্থের কাক চেয়ে থাকে একা লালনের ঘরে,
মানুষ ভাবে এক সময় ভাবে অন্য কিছু ।


রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আজও বেঁচে আছি

আমি এক আশ্চর্য মৃত সভ্যতায় বেঁচে আছি আজও,
প্যাপীরাসে জড়ানো নষ্ট কথার  সৌকর্য বাতাসে 
ভাসে এখানে ,

অন্ধকার ছড়ানো শব্দ স্রোতের বিপরীতে  রাশি রাশি  নিয়নআলো পিছু হাঁটতে থাকে অদৃশ্য আতংকে । 
এখানে মৃতদের জামাকাপড় এ বাসী সঙ্গম আর
জন্ম প্রতিরোধকের আঁশটে গন্ধ কেটে কেটে 

শকুনেরা ভাঙা ভাঙা মুখ ও দেহ ....মুখ খুঁজে নেয়।

ভীষন তীক্ষ্ণ এখানে ছায়া ও ছবির নির্বান্ধব স্থবিরতা ,
এখানের বিকেলের পিঠে প্রেমিকের অসমাপ্ত চুম্বন 
এখানে ঢেউয়ের ছদ্মবেসে অসংখ্য অন্তিময়তা ,

এখানে সবাই মৃত্যুকে ভালোবেসে অনামি অক্ষর দেহাতি মহুয়ার নেশায় উন্মত্ত ধ্বংসের দ্বারস্থ হয় ,

আমি  এক আশ্চর্য মৃত সভ্যতায় বেঁচে আছি আজও।

স্বাক্ষর

ইমিগ্রেশন খাতায় যে সব স্বাক্ষর জমে ছিল এজাবৎ, 
..... কাল পাতা উল্টোতেই দেখি যুপকাষ্ঠের
আঁকিবুঁকির মত অচেনা কিছু দাগ ছাড়া একটিও স্বাক্ষর জীবন্ত নেই , 
সম্পর্ক গুলোর দেহ বিচ্ছিন্ন কিছু নিশান অথচ মাটিতে কোনো শেকড় নেই তাদের কারোই , ,

আমি খানিকটা সাহসী হয়ে একটা কলম তুলে নিয়ে প্রিয় নাম টুকু ইমিগ্রেশন খাতায় লিখতে চাইলাম ........,
আঙুলের ডগায় চোখ পড়তেই দেখলাম কলম নয় দগদগে পোড়া কাঠ আর গায়ে আগুনের স্বাক্ষর , 

হওয়ায় ছিল বিচ্ছিন্ন করে কুঁচিয়ে ফেলা হাজার অনুভব ,...... ভেনিস হয়ে যাওয়া স্বাক্ষরের পাতাগুলো আলোর সামনে ধরতেই একটা লেখা স্পষ্ট হল 
  "অতীত টেনে রেখোনা জীবনে খিঁচ লাগে  ,যা নেই   সে থাকার প্রয়োজন নেই তাই তা নেই " ,,
বুঝলাম জীবন সব চেয়ে বড় শিক্ষক ।

নিশান

চোখ বলে দেয় আমি যতটা কেঁদেছি তার থেকে অনেক বেশি সে কেঁদেছে ,

নকশিকাঁথায় আপ্লুত নিঃশব্দ প্লাবন তার স্পর্শ ....
সেদিন জরাজীর্ণ মনকে রাজি করিয়ে আমার কপালে ওম এঁকে হেঁটেছিল আরো তেইশ মিনিট বারো সেকেন্ড,,

........আমি তখন আপ্লুত ধারায় বহতা ......ভেজা চোখে তার চোখে চোখ রেখে বুঝে ছিলাম ভালোবাসা  আসলে মাঝ সমুদ্রের গভীরে ধ্যানস্থ ঋষির মৌন উপাখ্যান  তার কাছে।
সে শুধু ক্ষনিকের জন্য আলতো ছুঁয়ে বলে গেলো 
অসময়কে সময় দাও রাই ....,
বুঝলাম ভালোবাসা কাকে বলে ।

শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ভালোবাসার উদযাপন

এস আজ পড়ন্ত বিকেলে কোনো এক ক্ষণে 
তোমার দাসত্ব মুছে দিই ।

আপেক্ষিক বসন্ত গুলোর গলা টিপে মুক্ত করে দিই যাবতীয় হাতে হাত রাখার প্রতিশ্রুতি । 

এস ভালোবাসার দিনে উড়িয়ে দিয়ে আমাদের প্রিয় নীলকণ্ঠ পাখিটাকে ,  
বুঝে নিই ওর জীবনে নতুন বসন্ত এসেছে ।

এস প্লাস্টিকের সভ্যতায় আমরাও আঁটোসাঁটো করে পড়ে নিই মুখোশগুলো ,

 তারপর জন সমুদ্রে দূরত্বের ডিঙিতে চেপে বসি ,
ভেসে যাই পরিচয়হীন কোনো উপত্যকার উদ্দেশ্যে। ,
এস আজ আমরা পরস্পরকে কথা দিয়ে আর কখনো ফিরবো না এই ভালো--বাসার নীড়ে ,
এস আজ আমরা মুক্তি  আগুনে পুড়ে ভালোবাসা দিন  উদযাপন করি ।

সমীকরণ

ক্রমশ ভুলে যাচ্ছি সমস্ত সমীকরণ , 
ভুলে যাচ্ছি বিগত ঢেউগুলোর অনুরণন , 
বারংবার বোঝাতে চাইছি নিজেকে ..........
দুহাত বাড়িয়ে একটা বিশাল সমুদ্র আর ভাসমান জীবন ,,
 শুধুই ভুল আর ভুল বিগত সমস্ত পারাপার  আড়াল করছি গোপন অসুখের মত ,
 উঠোন ঘরময় জল আর বুকের তছনচিয়া 
ভাঙ্গন ,,, .........আগেও বৃষ্টি হত  অথচ এমন রোজ রোজ নয় ,

আমি বার বার   সমস্ত অধিকার থেকে আমার ঘর সরিয়ে নয়ে  যাই   তবু তুমুল বৃষ্টি পিছু ছাড়ে না ,

জানলার এপার থেকে দেখি আমার প্রিয় গিটারের সুক্ষ তার গুলোয় জং পরে  একে অপরের থেকে অপরিচিত হচ্ছে দিন প্রতিদিন ..... ....
  অথচ সমীকরণ মিলিয়ে ছুঁতে পারছি কই !  মাঝে মাঝে তীব্র শিলা বৃষ্টির বিবাদে মধ্যিখানে কাঁচটার ভাঙ্গন কলহ ছাড়া কিছু দেখতে পাই না ........

অথচ জীবন কি ভীষন তীব্র স্রোতে ভাসমান কেবল আনন্দম আর আনন্দম ।

ছায়ানট

ছায়ানট
**************

ছায়ার নীচে দেহ নাম লেখা ছিল ...লেখা ছিল নিদ্রাহীন দু চোখ আর কিছুটা কাতরতা ,
..........................................................
ক্রমশ ভিড় পিছিয়ে পিছিয়ে ছায়া সঙ্গ ছেড়ে যাচ্ছে  ।

ছোটো ছোটো কাঁচের ওপর ঘুরপাক খাওয়া দৃশ্য গুলো তোমার শরীর রক্তাক্ত করে তোলে ,
.........….............................................
সঙ্গম ও বিরহ দৃশ্যের মাঝে  হুবহু আমার মত কারো নিথর শরীর দুলতে থাকে ....,।
শীতল দেহ থেকে ঝরে পড়া সংকেতে লক্ষ্য ব্যাথার সামনে স্পষ্ট নয় এমন কেউ ঝুঁকে পড়ে নখ দিয়ে যতটা পারে  ব্যবধান  ও  নিঃস্বতা খুঁটে নেয় ।
.….……..........................…........................

ঝুলন্ত দেহে কাজল দাগ ধূসর হয়ে ছাই হয় সুসময়ে , 
হাসতে হাসতে সুসময়ে  মরতে পেরেছি বলে তুমি হয়তো আর কখনো আমার চোখের কাঁচে চোখ রাখতে পারলে না ।
...........................................................

মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

জটিল সংকলন

যেদিন থেকে শকট  ঠিক করে দেওয়া হয়েছে 
দূরত্বের মোড়কে পাহাড়ি পথ গেছে এঁকেবেঁকে ।সেখান থেকে ।
হৃদয়ের জটিল তর্কে মানুষগুলো অন্ধকারে গাড়ীর বনেটে  ঐশ্বর্য  মেলে আড়াল করে ঝাপসা কাঁচের দৃষ্টি , ,
নতুন নতুন মৃত্যু দিয়ে মানুষগুলো থালা সাজায় ,
আসলে  পয়লা জখম চমকে যাওয়া খানিকটা ,
দ্বিতীয় বার দ্বিধার সমান্তরাল , তারপর দুরত্ব যেন শরৎ বাবুর কাব্য ময় উপন্যাস ।
এভাবেই রাস্তা একদিন উপার্জনহীন হয়ে শেষ হবেই যেখানে আশ্রয় মাথা নিচু করে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে , 
কে জানে সমস্ত ক্ষতের সাথে অল্প কিছু রুওকথাও হয়তো সহবাস করে ,
সবাই জানি মাথা ভর্তি ধোঁয়া  নিয়ে বসে আছি শহরের এপার্টমেন্ট গুলোয়  হাজারো কিছু হৃদয় হীন মনস্টার অথচ বুঝে উঠতে পারিনা  ঘুমের কোনই চিমনি নেই ।

মৃত্যু ফরমান

তোমার হাতের রেখায় আমার আয়ু রেখা মুছে ফেলতে চাও ....এ ছিল আজ আরো এক বিস্ময়কর ঘোষণা ,  
একদিন অগোছালো উলের গিঁট খুলে দিতে দিতে তোমার নিঃশাস এর কাছাকাছি পৌছেছিলাম ,
তোমার যাবতীয় অন্তর দহন মন্থিত বিষ এখনো আমি আগলে রাখি যত্নে , ,
এ।আর হিসেব তুমি ভুল বল আসলে অংকে 
আমি চিরকাল ব্যর্থ .....
 তুমি হিসেবি ছিলে চিরকাল ..... স্বীকার করে নিতে,,,,.... বিষটুকু দিয়ে   কেবল  সুধাময়  হতে জানো ....শুনেছি নিজেকে ভালো রাখতে জানাই পৃথিবীর এক মাত্র নিয়ম ,,......হা হা হা হা 
 গোঁসাই ভাঙা ভাঙা কাঁচ গুঁজে দাও আমার পিঠে , 
তবু আর্তনাদে বাজুক মুক্তি আর আলোর সানাই ,
তুমি যে দরজাগুলো দীর্ঘ প্রাচীরে রূপান্তর করেছো,, ,
আমি আজও হতে পারিনি তোমার মত নিখুঁত রাজমিস্ত্রি , 
তাই প্রতি বার তোমার তির্যক প্রাচীরের সামনে এসে দাঁড়াই , 
অপেক্ষা মরেনি বলেই তুমিও  হয়তো সাহসী  মীরজাফর হয়ে ওঠ বারবার ,
অথচ আমার মনের জমিনে চিরকাল লালন সাই ঘর করে যায়  গোঁসাই ।

অবসাদবীমা

মানুষের পাঁচিলে  বারোমাস অতীত মেলে রাখা অভ্যেস , তাই আমরা নিয়ম করে বানিয়ে   ফেলি অবসাদবীমা  , 
.....মায়া তো অন্ধকারের আত্মীয়তা মেনে চলে , পৃথিবীতে সময় পেরোনো পিয়ন জানে  সন্ধ্যে বেলা গুজবের লন্ঠন জ্বালিয়ে পুরোনো মরচে রঙের কথোপকথন বয়ে  নিয়ে যাওয়া  কেবলমাত্র ক্ষনিকের পথ , তারপর .........হাজারও যোতি চিহ্ন ......মানুষ মনের মানচিত্র রদবদল ......!!
সময় কখনো কখনো মানুষ কে স্থির করে দেয় জড় এর মত.... যেন প্রাণ শূন্য অথচ স্থাপত্যর ইতিহাস ,,
অহর্নিশি কবির প্রেমে পর্যটন লেগে ম্লান হয় হৃদয়ের পারাপারে রাখা কাঁচের দেওয়াল জুড়ে রক্তের কুয়াশার,
যারা ছুঁয়ে দেখে ক্ষত  তারা আসে যায় দূরের বিকেল পথচারী হয়ে , শুশ্রূষায় সামিল হয় কজন !

আলোর দ্বিরাগমন হয়েছিল যে মনে ...সে মন জানে কেবল পাঁচিলের ফাটলে অন্ধকার চিরকুট রেখে গেছে অভিশাপের মত ।

সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

নদী ও ইচ্ছা

অনেক দিন যাই না নদীর কাছে ,অনেক দিন জলে হাত ডুবিয়ে শিথিল তরঙ্গে নিজেকে ভাসিয়ে দিইনি ,
আমি আজকাল মৃত্যুর রং দিয়ে আলোর দেশ মুড়ে ফেলি খুব সহজে , 
গাছের কোটরে ঘুম রেখে এসেছি শেষ নির্বাসনে ,

......এভাবে কেউ কখনো বিষাদ রঙের ছবিতে হাসতে শেখেনি .......এভাবে কেউ কখনো নির্ঘুম রাতে স্বপ্ন দের গলা টিপে মারেনি ,,

ভোর রাতে নিজের সাথে নিজেই অপরাধবোধে
শিশিরের  শার্সি জানলায় ধোঁয়াশা সরিয়ে দেখেছি ,
যে ঠিকানায় মন খারাপের চিঠি পাঠিয়েছিলাম এক দিন আজ তার ডাকবাক্সে সে চিঠি পরে আছে নীরব আলস্যে ,,
 ওপার থেকে কেবল মাত্র অবিশ্বাস্য কাঁচলব্ধ মৃত্যু ভেসে আসছে প্রবল উৎকণ্ঠায় , নদী তোমার শিথিল তরঙ্গে এবার একটা ইচ্ছা মৃত্যু ঝাঁপ অস্বাভাবিক হতে পারে না জানি ।

রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

শব্দ থামে না

শব্দ থামে না

বুকের পাঁজরে দাঁড়এর  শব্দ থামে না কিছুতেই ,
হাসি মুখে সমস্ত সর্বনাশ স্বীকার করতে আর বাঁধা নেই , 
আমার প্রহর জুড়ে যখন মহাকালের ত্রিতাল বাজে তুমি তখন কাব্যিক তরজায় মগ্ন ,

বুক ভেঙে যায় , ভিখারী হৃদয় চিরকাল সামান্য পেটে ভাতে আর ছায়া খুঁজে ক্লান্ত আজ , 

মৃত্যুর বুকে মাথা রাখি জাজিমে কারো নাম নেই ,
এত হাহাকার কখনো চাইনি , 
মাথা গুঁজে প্রার্থনা করে চিলেছি মুক্তি দাও আলোর দেশে দরজায় দাঁড়িয়ে তুমি বুক পেতে নাও , 
আমি জীবনের বৈঠা ভেঙে দিয়েছি , তবুও পাঁজরে দাঁড় এর শব্দ আর কতক্ষণ বেজে যাবে ....
তবু পাঁজরে ধুকপুক তরঙ্গ শান্ত হয় কই , 
সত্যিই মুখোমুখি তাই মৃত্যু  ....
জীবনের প্রতীক্ষা বৃথা....

শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আমি ছাড়া

নিজের খুন ধুয়ে মুছে সাফ করি , আমাকে আর কোন প্রত্যাশা ডাকে না , কোনো 
পিছুটান কোনো উন্মাদনা নেই , আমার জন্য তীব্র তিরস্কার , ধিক্কার প্রতি মুহূর্তে জমা হচ্ছে , সমস্ত উত্তরণ কে ধ্বংস করে ফেলেছি তারপর আত্মহনন এর তীব্র আকাঙ্খায় মেতেছি ,
ক্লিভেজ ছুঁয়ে থাকা জন্মের পাপ  এলডোরাডোর গভীর অন্ধকারে পথ খুঁজে নিয়েছে , 
শেষ চার দিনের অনাহার অনুভূতি হীন ম্যাজিক এর জন্ম দিয়েছে , সিবিআই যা পারে আমি তেমন কিছু পারি না তবু নিজের মত কিছু পারি  , 
মানুষ ভীষ্মর মৃত্যুতে আজও নিজেকে শর সজ্জায় শুইয়ে রাখতে পারে ,  
চোরা কাঁটা লেগে আছে গোঁসাই সূক্ষ তারের মাঝে  বুকের কাপড়ে 
রক্ত ক্ষরণ লুকিয়ে আরো কিছুটা পথ ছিল হয়তো দিন দুই তিন কিংবা আরো কিছু প্রহর , 
তার পর আকাশে ধোঁয়া খবর শহরে কি যেন পুড়ছে ,কয়েক মিনিটের নীরবতা তারপর শূন্যতার ভীড়ে জীবনের আঁকাবাঁকা প্রবাহ ....সব কিছু স্বাভাবিক , সকালের চলতি পথ, বিকেলের নিকোটিন অবসর , বোবা ট্যানেলে বাড়ি ফেরা , সব  অভ্যস্ত নিয়মিত,  আমার আত্ম খুনের সাথে একটা মুক্ত আকাশ মেঘ বিহীন হবে ।

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

এ শহর

এই শহরে বিষাদ রাখা থাকে মাল্টিপ্লেক্সে কাঁচের ভেতর ম্যানিকুইনের বুকে ,
কাঁচা হলুদ হাসি   দশ ফুট বই দশ ফুট ফুটপাতে  কিংবা  আবর্জনার স্তুপে  খিলখিলিয়ে ওঠে ।
দুরত্ব আঁকা ভিজে চোখ সময়ের বদলে কান্না মুছে
কাঠের জ্বালে ভাত বসায় , 
যারা পারে না তারা সুইসাইড পয়েন্টে  অসুখ ভেবে স্মৃতি গুলো রেখে মুক্তি খুঁজে নেয় । 
যারা পারে তারা নতুন করে আগন্তুকের  হাসি টুকু কে আশ্রয় মনে করে জতুগৃহ বাঁধে ।
এ শহর মুখের ওপর সত্যি বলতে পারে না বলে মুখোশের ঠোঁটে ঠোঁট রেখে  ভালোবাসার চুমু খায় ,
এ শহর এক নিষ্ঠ হতে পারে না বলে প্রতি পথের মোড়ে  গণিকালযের ঠিকানা ,
এ শহর আলোক গতির থেকেও গতিতে বদলে ফেলে সমস্ত নিয়ম , 
তবু এ শহর মৃত বলে প্রমাণিত  ,  এ শহরের বুক জুড়ে শুধুই পুড়তে থাকা ছাই এর স্তুপ ,
......এ শহর শুধুই দুঃখ জন্মের উত্তরাধিকার ।

মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

নিমন্ত্রণ

কারা জেনে পর  হয়ে গেল  মাটি থেকে তারা খসা
পথের মাঝে  ,
টলোমলো কারু শিল্পের বিন্দু বিন্দু কুমকুম 
কপালের লিখন ঢেকে ফেলেছে , ক্রমশ তার সরে যাওয়া বারংবার প্রমাণিত করে হাজারো অনুশাসন এর বন্দীসকে ,
মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায় এক পা দু পা করে 
ছায়া পেরিয়ে নেশার ঘোর বাড়তে থাকে ,
তার বলতে না পারা অবজ্ঞার ইশারায় আমি হেসে উঠি ......প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তার হিসেবি কারণ গুলো আজও  অথচ সে বুঝে উঠতে পারে না ।

....আমি হাসির পেছনে কান্না মুছে শহরের পথে নিজেকে লুকিয়ে ফেলি ,   বুঝবি না সুজন চোখের জল একটা সংকেত মাত্র .....বাকিটা বলা যায় না শব্দের পসমর্টেম করলেও , ......... একটা নিমন্ত্রণ রাখা রইল আমার মৃত্যুর পর আসিস দফতরি ব্যস্ততায় জরুরী ইস্তেহার দিয়ে ।

অলিখিত গ্রন্থ(৯)

কোথাও কোনো সম্পর্কে  ফিরতে ইচ্ছে করে না,
আত্মিক হতে হলে অনেক উপাসনা লাগে,
 যেমন ধরো প্রেমিকা হতে হলে  মা হয়ে উঠতে হয় ,
উপাসক হয়ে উঠতে হয় , 
তেমনি নিজেকে শব্ বলে মেনে নিতে হয় ....আসলে ব্যর্থতা আর সাফল্য দুটোই মিলেমিশে থাকে এক মৃত মানুষের শেষ অংকে , 
চিরকাল কিছু বুক আগুনে পুড়তে থাকে পুড়তে পুড়তে দেহ নদী বাতাসের ভরে আকাশে পৌঁছায় আর  কিছু বুক আশ্রয়ের ছায়া পায় সে  ছায়া  দিনন্তে পৌঁছায় বনে ,
সন্তানের জন্য উত্তরাধিকার ,প্রেমিক এর জন্য 
অপেক্ষা, এসব  তুলে রাখতে হয় আলমারির গোপন খোপে ....আসলে আমরা সকলেই স্বর্থপর ,গাছ পুকুর , নদী পাথর সব যেন কোন না কোন স্বার্থের তাগিদে জন্ম মৃত্যুর খেলায় সামিল হয় ,
দেহ ধ্বংসকেই মৃত্যু আর দেহ ধারণকেই জন্ম মেনে নেওয়া ভুল একথা পৃথিবীর হেডলেস মনস্টার রা মানতে পারেনি , তবু কি সত্যি বদলে যায় ,
তবু কি শোক এর রং লাল গোলাপ হয় কখনো ,
কোথাও ফিরবো না বলে যখন শ্মশান আগলে বসি চোখের সামনে তবুও  মুখ বন্দী বোতলের ভেতর একটা গল্প পড়ে থাকে ।

সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বৃষ্টি প্রশ্ন

কবি তুমি কি বলতে পারো ......
কখন বৃষ্টি শুধুমাত্র বিপ্লব ?
কখন বৃষ্টি বৃথা মরুজীবন ?
কখন বৃষ্টি বেদনার উপন্যাস ?
কখন বৃষ্টি কেবল নিখিলের যন্ত্রণা ?
কখন বৃষ্টি আধ ফোঁটা পারিজাতীয় গন্ধ ?
কখন বৃষ্টির   কল্পনা ?
কখন বৃষ্টি দরিয়া ? 
কখন বৃষ্টি আশা ?
কখন বৃষ্টি প্রেম ?
তুমি কি পারো এমন বৃষ্টির বিশ্লেষণ ...
প্রশ্নগুলো তোমার উত্তরের অপেক্ষায় কবি ।

তার চোখ

ইদানিং তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে গড়িয়ে পড়ে আশ্চর্য গুঁড়ো গুঁড়ো খয়েরী বর্ণের সন্ধ্যে ।
বুকেই মাঝে লুকোনো নোঙর তার বুকের জলা জমিতে সহবাস খোঁজে ,
সবুজের কথা লিখতে লিখতে এতকাল খেয়াল করতে পারিনি আসলে লিখে গেছি দিস্তা দিস্তা ধুলো বর্নর কাব্য ,
যার দিকে তাকিয়ে প্রতিটা সন্ধ্যে নিজস্ব রং বদলায় ভেবেছিলাম তার প্রবাহ জীবনের দিকে ,
ভালোবাসায় ডুবে থাকা তার বিস্ময় ,
ভেবেছিলাম ভালোবাসা আর হৃদয় আলাদা করা যায় না বলেই ভাসমান আর মল্লার খোঁজ সে কাউকে বলে উঠতে পারেনি ,, 

ইদানিং তার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আশ্চর্য খয়েরী বর্ণের সন্ধ্যে নামে উঠোন জুড়ে ....,

বুকের ভেতর যে দুটো দরজা খোলা ছিল তার একটিতে  আগমনী আর একটা বিসর্জন এর পথ রাখা ছিল , 
আমি আজও আগমনী দরজায় বুকের পটে আলপনা দিয়ে রাখি ।