মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মন খারাপ

-----------------------

কতটা মন খারাপ এ শহর লুকিয়ে
রাখে জান?  এই তাল কেটে যাওয়া
তোমার ছন্দপতনে,  এ শহরের রাস্তাঘাট
তোমাতে অভ্যস্ত হয়েই যুগান্তরের পথে
হাঁটতে চায়, তোমার সমস্ত ব্যাস্ততা এ শহর
গায়ে মেখে  আজ অভ্যস্ত......পৃষ্ঠা গড়িয়ে
আগামিতে যেতে চায়,,
   তোমার জানলায় অন্ধকারের লিখে রাখা
রাতকান্নারা এ শহরের শিড়দাঁড়া বেয়ে
অপেক্ষমাণ গাছেদের পাতায় অশ্রু ঝরায়,,
রোজ কিছু টুকরাটাকরা বিয়োগফল
তোমার জিভের স্বাদকোরক কে তিক্ততা
দিয়ে যায়,  তোমার চোখের কার্নিশ বেয়ে
তখন কোনো সম্পুর্নার ছায়াছবি গড়িয়ে যায়,,
ভাবতে ভাবতে কখন যেন দৃশ্যরা ডানা
মেলে রেনু দের পথ মিলিয়ে যায়,,
ভাবনার গায়ে শিরিষ কাগজ ঘষে
রোজনামচার ডাইরিটা চিৎকার করে
ওঠে......... এ শহর হাতছানি দেয়,
চাকার ফাঁকে লাফিয়ে ওঠা সময়ের
কন্সার্ট তখন ভীষণ বর্ণময়, 
বিরতি টুকু তাই চায়নি এ শহর তোমার থেকে,
শেষ হয়ে যাওয়া দিনটার বুকে  এক আধটা
চিঠি গুঁজে রাখে তোমাকে উদ্দেশ্য করে এ শহর,
চিঠির ভেতোর তোমাতে অভ্যস্ত এ শহরের,
পথের, গাছপাতা, বেহিসাবি যানজট,
সিগনাল কেটে যাওয়া মুঠোফোন সকলের
মন খারাপের কথা লেখা,
*পুনশ্চ দিয়ে দেওয়ালের কোন ঘেঁষে
দূরে কোথাও আর একটা 'মন' ভীষন
রকমের খারাপ হয় বারংবার...।



সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

অভিমান

---------------
তোমার সারা শরীরে শতাব্দীর ঘন
হয়ে জমা অভিমান লেগে রয়েছে,
গাছের কোটোর থেকে অন্ধকার
পেতে ঘুমিয়েছ রাতের বুকে মাথা পেতে,
বালি ঘড়ির পাশে পূবের দিকে চেয়ে
থাকা মলিন রাত,
উপার্জন হীন মুহুর্তরা মাঝে মাঝে জীর্ণ
অবসাদ আঁকছে পরবাসে... নিজেকে
তাই যাপনকারী জীব ছাড়া কিছু ভাবা
হয়না,
বালিশের খাঁজে চেনা গন্ধ খুঁজতে গিয়ে
ক্লান্ত সমস্ত শ্বাসপ্রশ্বাসেরা,
সকল তুমি দের প্রয়োজনীয় একটা আমি,
আর এই ছেঁড়া আস্তিনে জড়ানো  একটা হৃদয়
বহুদুরে এক অপেক্ষায়.. একদিন আসবে
বালিঘড়ি তার মলিন চাদরে ঢাকা রাতের
পর এক রোদের জন্মদিনের সাক্ষি হবে,,
শতাব্দীর দিয়ে যাওয়া ঘন অভিমানেরা
সুর্যস্নান সেরে আহ্নিকে বসবে,
বাকিটুকু জান তুমি হয়তো আমিও।

আজ না হয় তোমার কথা

---------------------------------------------- 
কথারা আজ ঘুমিয়েছে শর্তবিহীন সময়ে
চাদর মুড়ে,
তোমার মত আমিও ডাইরির পাতায়
লেগে থাকা অভিমানেদের আজ দেরাজে
রেখেছি সরিয়ে,
আজ না হয় শহরের বুকে আব্দারের
মেঘ রোদ্দুর এলোমেলো বেহিসাবি হোক,
স্বপ্নদের ছুটি.... নেই কোন বাঁধন,
জীবন যে কিস্তিতে বাঁধা সেখানে
আলতো আঙুল ছুঁয়ে দিয়ে তুমি সবুজ
সাদা  হরেক রঙের স্পর্শ আঁক,
আর এক একটা নতুন সকালের মত
ভালবাসার গল্পেরা চোখ মেলে,,
নক্ষত্রদের নিয়ে আজ নেই কোন ব্যেস্ততা
জোনাকি আলোতে আমার রাতেরা
সলমাচুমকির সাজে ব্যেস্ত,
কালশিটে পড়া বালবটা আজ কিছুক্ষন
ঘুমাক নিশ্চিন্তে,
বাতাসের কানে কানে বলি ভালো থাকতে
শিখেছি তোমার সখ্যতার আদরে,
সুনির্দিষ্ট হয়েছে আমাদের ঠিকানায়
ভালোবাসার আশ্রয়।

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

চলে যেতে যেতে

---------------------------------
একদিন আমাদের চতুর্ভুজের ভেতোর
গোলাপি স্বপ্নেরা ইচ্ছের রংগে তুলি
ডুবিয়ে মুহুর্ত আঁকতে আকুল হত,,
স্বপ্নের পরীদের ডানায় এখন ক্ষত
রুপালি সজ্জায় পোষাকি প্রসাধনীর
বুক চিরে ক্ষরিত রক্ত দেওয়ালে লিখছে
'সব পেলে ব্যর্থ জীবনের 'তত্ত্বকথা
আমাদের ভাবা চতুর্ভুজে গাছ হয়েই
আকড়াতে চেয়েছিলাম 'সুজন'
বহুদিন হল আমাদের চতুর্ভুজে এখন
তুমি
একলার সাম্রাজ্য একটা অহংকারী
আকাশ ,,  আমার স্পর্শরা বৃষ্টির
ফোঁটা হয়ে সেঁধিয়ে গেছে কোন প্রত্নতত্ত্বীয়
আনাচ কানাচে,,
চতুর্ভুজের বাইরে প্রাক্তন এই ইচ্ছেরা
বাতাসে দ্রবিভূত হয়ে বহুদুরে,,
ভালো থেক বলা সহজ, ভালোথাকাটুকু
ট্রামের তারে আটকা ঘুড়ি,... যে কিনা ভাবে
এক সমুদ্র আকাশ আমার,,
'আমার' এই আমার বড্ড দুষ্প্রাপ এই
এত্ত বড় পৃথিবীতে,  'নিজস্ব' মাটি দিয়ে
গড়া এক টুকরো পৃথিবীতে কেবলি
অন্তহীন ভাঙচুর, কেবলি প্রয়োজনের
আয়োজন, কেবলি আপেক্ষিক সময়ের
দর কষাকষি।।

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

শুভেচ্ছা

রোজ রোজ চোখের কিনারায় একটা
স্বপ্নের আসাযাওয়া, তোমার যত্ন করে
আঁকা কিছু ভালোবাসার তুলির টান,
রাস্তার কন্সার্ট আর কিছু অগোছালো
খবরাখবর,,  কখনো মুঠোফোন অকারনে
সংযোগ ব্যঘাত, দিনার শুরুয়াত তোমার
শহরে তোমারি হাতে হাত রেখে,
ফিরতি রাতে দুঃস্বপ্নরা যদি দরজায়
কড়া নাড়ে...... কিছু বিষণ্ণতা আমাদের জানলায়
শিশিরে চুঁইয়ে পড়ে,
সাজানো চতুর্ভুজের একটা নিঃশব্দ রোজনামচারর
কচকচানি চালে ডালে সময় কাটানো,
কিছুই আর হবার নেই ভেবে পাশফিরে
স্বপ্নেরা রাত যাপন করে চলেছে,
বাজারের ব্যগে কিছু সামাজক নিয়ম
ভরে সস্তার হাটে বিকিকিনি সেরে ফেলা,
এরপর একছুট্টে নিজের খোলসে আত্মসমর্পণ
করা,
এভাবে বেচেঁ থাকা খুঁজে চলেছ 'সুজন',
দূরে কোথাও গিটারের তারে ভালো থাকার
শুভেচ্ছা ভেসে আসছে , পালিয়ে বেড়ানো
জীবন ছায়ায় জিরিয়ে নেয় কয়েক মুহুর্ত,
স্নিগ্ধ বাতাসে ঝড়তে থাকে ভালো থাকার
শুভেচ্ছা

হয়তো

-------------------------------------------

কোথাও একাটা শুন্যতা আর
শুন্যতা ঢাকতে ঝলমলে মোড়কে
পোশাকি হাসি, চিড় লাগা যন্ত্রণার
রক্তক্ষরণ তোমার আমার সকলের
বুকের মাঝে নিভৃতে লুকায়,
কুমারিত্ব শেষ বসন্তেও একলা থেকে যায়
কিংবা মুহুর্ত কেনা বাকি থেকে যায় প্রাচুর্যর
ঘরেও,
সোনালি চশমায় দুর দৃষ্টি স্পষ্ট তবুও
কাছেরটা ঝাপসা থেকে গেল,
মিলন হল না মনের মানুষের সংগে....
জীবনভোর অজস্র জিতে যাওয়া মেডেলএর
পেছনে একটা অদৃশ্য হেরে যাওয়া  বিদ্রূপ
করে,
চোখে কৃষ্ণতুলশী রেখেও শেষ ইচ্ছা অতৃপ্ত
থেকে যায়.....  "মিলন হবে কত দিনে আমার
মনের মানুষের সনে" পর পাড়ে তুমি থেক
আমার অপেক্ষায়...  হয়তো সেখানে
একটা গোটা পৃথিবী জুড়ে তোমার
একটা আমি আর আমার একটা তুমি
সুজন।

সময়ের ক্ষরণ

-------------------------------------
গাছের কোটোরে অন্ধকার ঘুমচ্ছে
তার চাদরে এ শহরের নির্ঘুম প্রহরেরা
একফালি ক্লান্ত শ্বাস টেনে যাপন জানান
দিচ্ছে......
মেঘের বুকে বৃষ্টির ফসিল আর চোখের
গভিরে বাহানা ছাড়াই কিছু একাকিত্ব,
মুল্যবান আসবাবপত্রর মত গোছানো
ভালো থাকা, আর রোদের পাঁচিল পেরোন
সরু সরু শীতঋতু সকলেই সামিল
এই সফরে,,
বালি ভরা মুঠো খুলে ঝড়ে পড়ে
সময়ের অভিমানেরা, লেগে থাকে
কিছু অদৃশ্য স্পর্শ আর দূরে কোনো
স্বপ্নের রংগে সিম্ফনি....... কবিতার
রংগে মুহর্তের পোট্রেট,,
ঠিক তখনি খুঁজে পাওয়া ভগ্নাংশে
বেঁচে থাকাটুকু ভীষণ ঘন হয়ে আসে,
বুকের জমে যাওয়া পুরোনো শীতের
হলুদ পাণ্ডুলিপি পেয়ে যায় উষ্ণতার
মুক্ত ছাড়পত্র আর যাপনের মাঝে জীবন।