কাঠামোয় আটকানো মাটি খড় লেপা দেবীও বাঁচতে চায়
হাপধরা তথাস্তু শব্দটা ছুড়ে ফেলে, ও জীবন তোমার সাথে
কাটাব রুপকথাতে...
ছুটির ঠিকানায় মুঠো আকাশ তোমার সাথে কোনো
পাহাড়ি কিনারায় সিলেবাস ভাংতে ভাংতে সব হিসেব
উড়িয়ে দিতে সাধ দিগন্তের দিকে,
দেবীর সাজ খুলে চাঁদের আলোয় শরীর ঢাকা আদর,,
অথচ আমার আর্তনাদ জীবনের শোরগোলে
চাপা পড়ে যায়,, শেষ ট্রামে ফিরে যায় ঈশ্বর গড়ার
শিল্পী,, সময় চিরকাল বড্ডো চুপ সে আমার ঘুমের
শিরা কেটে গড়িয়ে নামে সকল উপকথা জুড়ে,
জ্বর ঘোরে শেষ রাতে রাস্তায় নেমে আমি দিশাহীন হতে হতে
তোমার আশ্রয়ে... ও জীবন তোমার সাথে কাটাব
রুপকথাতে... ভেঙে যাক সব চৌকাঠ দেবী হয়ে
উঠুক রক্তমাংসের কোনো সামান্যা...,
এ মায়া আমার চিরকাল এ লোভ আমার দলছুট
মেঘের মত, এই প্রথম তোমায় মনে মনে পাঠাই আমার এ
গোপন চিরকুট,,
জীবন যখন সরল রেখা নয় কবিতা কেন সহজ হবে , জীবনের থেকেই কবিতার উৎস আমি মনে করি ,যে শব্দচুক্তি মনকে ভাবায় না তা কখনই কবিতা নয় ।
বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯
চলচ্চিত্রের দেবী
বুধবার, ২২ মে, ২০১৯
নায়িকা সংবাদ
-------------------------------
বকুল ফুলের দুল আর রক্তকরবী গলায়
পরে সে ছায়াপথ হাঁটতে ভালবাসে, আর ভালবাসে
প্রিয় ফুলের সুগন্ধ বুকের কাছে লুকিয়ে রাখতে,
এভাবে পথ চলতে চলতে লোভ বেড়ে যায়
যা কিছু প্রিয় তার সব কিছু পেতে চায় নিজের
করে সময়কে ভুলে,, একদিন বকুল বলল তুমি
বদলে গেছ অনেক,,. চিনি না তোমায়... রক্তকরবী
গলায় তার বাহুডোর সরিয়ে বলল তোমায় আমি
আমার মত সাজাতে চেয়েছি চিরকাল, চেয়েছি
আমার রংমিলান্তে তুমি সেজে থাক, তবে আজ তুমি
অন্য রঙে... তুমি বদলে গেছ,
বুকের মাঝে প্রিয় ফুল সে ছিল নামকরণহীন
এক দিন সে বলল আমি ইচ্ছেমত সৌরভ দিই
তোমায়,, সে কেবল আমার ইচ্ছে যে আমি তোমার
বুকে নিজেকে রেখেছি... সময় আমায় কখনো
বাধেনি না তুমি... তুমি আমায় অধিকার করতে পার না...
আজ থেকে আমার কাছে তুমি অচেনা...
প্রিয় সব ছেড়ে যায় পথ কেবল থেকে যায়... সে
ভাবে একথা তার চিরচেনা তাই হেসে ওঠে, অদৃশ্য
কান্না জুড়ে বুকের লুকোনো আয়নায়.।
ভেজা চিঠি(১৬)
-----------------------
ঈশ্বর হয়ে ঈশ্বর গড়ে চলেছ তুমি অবাধে পরিয়ে
দিতে পার তোমার অহংকারের প্রাচুর্য অলংকারের মত,
তোমার ইচ্ছেমতো মাথা নত করে ফেল সময়ের কাছে,
আমার ঈশ্বর হওয়ার সাধ কখনো ছিল না,
মাটির কাছে জলের স্রোতে ভেসে যেতে যেতে
তোমার কিনারে ঠেকেছি সে আমার বরাদ্দের
পাওনাকড়ি,
বুঝেছি রাজরাজেশ্বর তোমার ছায়া চেয়ে
আশ্রয় পাওয়া আমায় মানায় না...
কখনো রক্তাক্ত পায়ে তুমি হেঁটেছ পথ,
আমি সামান্য সম্বল টুকুই হতেই চেয়েছি
কোনো অধিকারের দাবি ছাড়াই,
আমি খেলাটায় জিততে বা হারতে চাইনা,
তুমি ঈশ্বর সে কথা ভুলিনি... তবু আমি ফিরতে চাই মাটিতে
ভালোবাতে চাই আমার আশ্রয় কে , বাঁচতে চাই
মাটি ছুঁয়ে , আমার সকল অহংকার খুলে রাখা তোমার প্রসাদি
থালায়... তোমার ইচ্ছে রেখ তোমার ইচ্ছে অবহেলায়
দূরে ফেলে দিও... আমি নিশ্চুপ বয়ে যাব কোনো অভিমান
ছাড়াই....,
একদিন সকালে হয়তো কোনো উপন্যাসের শেষের
কয়েক মুহুর্তে শতাব্দীর অবহেলায় তুমি লিখে যাবে
সহস্র সুবর্নাদের কথা যারা কেউ তোমায় ছুঁতে পারেনি
কিংবা কেউ তোমায় বাঁধেনি.,
ঈশ্বর হয়ে ঈশ্বর গড়ে যাবে তুমি সেদিনও আমি থেকে যাব
তোমার হাজার স্পর্শগুলোর ভাঁজে লুকোনো কান্নার ভুমিকায়।
রবিবার, ১৯ মে, ২০১৯
সুবর্না(৪৩)
----------------------------
মন কেমনের বিকেল জুড়ে বৃষ্টি এলো ভিজতে
গিয়ে দেখি আয়নার মত আর এক আমি..
অবাক হতেই সে বলল আমি তোর সুখের ছবি
ঠিক তোর মত.... হারিয়ে গিয়ে খুঁজে পাওয়া,
তোর না থাকা যেন ভীষণ ভাবে তোর থাকা..
আমার চোখে তোর চেয়ে দেখা আমার কথায় তোর
বর্ন.. আমি যেখানেই যাই সে পথ তোর পথেই মিশে আছে,
না পাওয়া তোকে না হারানো তোকে জড়িয়ে নিজেকে
খোঁজা ..... ঠিক তোর মত আমার দুঃখগুলো আমায়
ছেড়ে দাড়াতে পারেনা মুহুর্ত,,
ভিজে আঁচলের আড়ালে ছই খুঁজে নেওয়া তোর
বরাবর অভ্যাস, প্রদীপ জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করতে ভালো
বাসিস আমার ঘন আঁধার মন...
মন খারাপের বিকেল ছাপিয়ে তুই আসিস বৃষ্টি হয়ে আমার মত
আর এক গোত্রহীন প্রেম আয়নায় ভেতোর ঠিক আমার
মত.... বৃষ্টি ভিজি, বৃষ্টি মাখি, সুখের মত দুঃখের মত,
.......সুবর্না প্রিয় বৃষ্টি ভেজা বিকেল,
শুক্রবার, ১৭ মে, ২০১৯
সুবর্না (৪১)
----------------------------
ভেঙে যাক ঘর ভেঙে পড়ুক আয়না যেখানে
নিজেকে দেখতে পাই নিজের মত,
ঝড় আসুক প্রবল উৎসব হয়ে মহাকালের
তান্ডবের মাঝে চূর্ণ হয়ে যাক আমার সকল
অহংকার, অস্তিত্বের সবটুকু পুড়ে যাওয়ায়
আর নাই বা থাকলো মোহ,,
একটা মুক্তি খুঁজে দাও, খুঁজে দাও একফালি
আকাশ যা শুধু আমার,, ভগ্নাংশে বাঁচতে বাঁচতে এখন
ক্লান্ত আমি.... তুমি বল মৃত্যু শব্দটা আগাগোড়া ভুল
জীবনে অনেক কিছু বাকি, আমি বলি খয়ে যাওয়া
স্বপ্নদের ছেড়ে মুক্ত করে দাও... তোমার সবুজ চতুর্ভুজে
সমস্ত মন জোড়া গাছগাছালির ভালবাসা ,
কেন এই মিছিমিছি তাসের ঘরে আমি তুমির দীন...লিপি?
ভালো তুমি আগেও ছিলে পরেও থাকবে...
ফিরে যাবেই সেটুকু জানি, কেবল কারনের অপেক্ষায় রাখা
আছে কিছু সময়ের চোরা স্রোত,, আমার ঘুমের অপেক্ষায়
তোমার নৈশব্দ চলে যাওয়া..... এখন চলে
গেলে কিছু মিছরি মাখা গোধুলির আলো থেকে
যাবে ভেতোর মহলের দেওয়ালে, এর পর রাত বাড়বে,
বাড়বে তোমার কারনে অকারণে
বাকি কাহিনী জোড়া অন্ধকার, আজ প্রবল আনন্দে
খুলে রাখি আমাদের পোষাকহীন প্রেম, শেষবার
তোমার শরীরের ঘ্রাণ মিশে থাক আমার লোমকূপ জুড়ে
বাকি সব আজ মিথ্যে হোক....." আয় না দিই অন্তহীন ভাংচুর"..
........সুবর্না প্রিয় বিচ্ছেদ।
সুবর্না (৪২)
----------------------------
দু চোখে রেখে খুঁজে বেড়াই মন্দবাসার
সকল কারন, স্বপ্নের দোড়গোড়ায় ঘোমটা টানা
এক সকালে চায়ের কাপে মন্দবাসার চুপকথাদের ওম, ,
হৃদয়ের আকাশে ফাগুন সন্ধ্যায় রুপকথা
গাঁথা গল্প পাশাপাশি ছবি আঁকে সে এক উদাসী
হাওয়া,,
ভালবাসা আর মন্দবাসার তফাৎ খুঁজতে গিয়ে
ফিরে গেছি বারংবার তোর অন্তরবর্তি
ঠিকানায়, পথ চলতি বহু মুখ বদলে গেছে দাবিদার
হতে চেয়ে,, আলো নিজের পথ বদলে কখন যেন সে
মন্দবাসাকেই আগল দিতে চেয়েছে,
এ পৃথিবীতে ভালোবাসার গল্প চিরকাল সস্তায়
বিকিয়ে যায়.... নয়তো ঘুমিয়ে থাকে বিরহী
ইতিহাসের কবরের নিচে, তাই আর আমার ভালোবাসা
হয়ে ওঠেনি,, মন্দবাসার কাহিনির সোনারকাঠি
ছুঁইয়ে রেখেছি হৃৎপিণ্ডে, রেখেছি দুচোখের
পাতায় মন্দবাসাকে , রেখেছি আমার প্রতিটি পাতার আদ্যান্তে,
অন্ধকারে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে প্রতিরাতে উপোষী
কিছু চাঁদের আলো চুপিচুপি হেঁটে বেড়ায় আমাদের
উপকথা জুড়ে, তোকে না বলা স্বপ্নদের আমি চিরকুট
মুড়ে রেখে দিই ভোরের আজানে...
দুচোখ রেখে খুঁজে বেড়াই প্রতিটা সফরে ভীষণ রকম
মন্দবাসা......, .
আমার সকল অহংকারে শুধুই মন্দবাসার উপস্থিত,,
আমি তোকে মন্দবাসি তাই তো তোর গল্পে আসি.....।।
......সুবর্না প্রিয় মন্দবাসা ,,
.... .
শনিবার, ৪ মে, ২০১৯
সুবর্না(৪০)
দিকশূন্য পুরের দিকে চেয়ে আছি একটা
চেনা ডাকের অপেক্ষায়.... এমন করে সময়ের
বয়স বাড়ে আয়ু রেখা ধরে উঁকি দেয় অজস্র
প্রিয় অপ্রিয় খুচরো কথকতা,, নিকোটিন ঠোঁট
লিখে রাখে অস্থির বাতাসের তীব্র আলাপন,,
কোথায় যেন হারিয়ে যায় শব্দগুলো প্রতিনিয়ত
বাকহীন হয়ে যায় বরাদ্দটুকু.... বুক ঠেলে কান্না আসে...
এ কেমন কান্না যা কেউ দেখা বারন......, পূবের
বারান্দায় আমাকে জড়িয়ে মাধবীলতা রাত জাগে
দুঃখজাগানিয়া গানের কলি গেয়ে মাথা
রাখে আমার কাঁধে, চিত্ররূপ এমন করে কখনো
কখনো কালের বুকে শর্তহীন হয়ে থেকে যায়,
কেউ টের পায় না যেমন তুমি আমার গাল
বেয়ে নামা কান্না কোনোদিন দেখতে পাওনি সুবর্ণ,
দেখনি আমার ভেতোর কত বিধ্বংসী ঝড় রেখে
গেছে নিজেদের স্মারক,,,,
আজন্ম সাধ ছিল তোমার কোলে মাথা রেখে আমার
সকল অভিলাষী দুঃখরা তেজপাতা রঙ ধুয়ে ফেলবে,
হাসি পায় নিজের বোকামি দেখে ছেলেমানুষী ইচ্ছেরা
কেমন অবুঝ এই সামাজিক প্রটোকল এর সামনে,,
অসম্ভব অস্থির হাওয়ার চলাচল আমার বন্দর জুড়ে
তবু সামাজিক দায় স্তম্ভের মত আমি একা
ঘাট আগলে শতাব্দীর পর শতাব্দী... সব
ইতিহাস আমায় ছুঁয়ে যায়, তবু কেউ কথা
রাখে না। তবু থেকে যাওয়াটা আমার
ব্যঞ্জনা ।
.............সুবর্না প্রিয় প্রতিশ্রুতি।
........
বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৯
সুবর্না(৩৯)
----------------------------
তোমার ঘরে ঠিক কজন বাস করে,,! যাদের
ছায়ায় থেকেও তুমি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে
আছো? যন্ত্রনা উপচে পড়ে অনেক দিন, ভেবেছি
এ যেন আমার বুকপকেটে তোমার দেওয়া
দয়া দান...
সুবর্না খুব ক্লান্ত আমি আর আমার এই অগোছালো
এলোমেলো ইজেলদানী,, তবু সেই সব কথা যারা
নিজেদের গ্রন্থের রচয়িতা তোমার ঘরে বসেই করে
থাকে তাদের নামকরণ জানতে চাইলে তুমি
ভয় পাওয়া চেহারায় আমায় আঁকড়ে থাক।
আগে কখনো কখনো জীবনকে মুক্ত জ্যা এর মত
দেখিনি, আজ কাল সব যেন আমার আয়ত্তের কাছ
ছুয়েছে... কেন বলত সুবর্না?
আমি কি তবে নিজের কাছেই নিভৃতে হেরে চলেছি
ক্রমাগত, স্রোতের টানে বার বার কুল হারাচ্ছি?
তোমার কাছে আজ কাল সব যেন সিঁড়িভাঙ্গা অংক
আর আমি সেই অংকের ভাঙা চুন সুরকি খসে
পড়া অংশ, মানুষ যেভাবে ভাবে ঈশ্বর একই ভাবে
হয়তো ভাবে না, তাই শেষ পৃষ্ঠাতেও অসমাপ্ত থেকে
যায় অংক,, কেবল নিজেকে আবিষ্কার করা হয়
নিয়ম আর অনিয়মে সে কতটা পারদর্শী...
মাঝে মাঝে হাপ ধরে মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে
কাছের দূরের ঠাহর করতে পারি না....
তোমার ঘরের জানালায় উঁকি দিয়ে দেখি
ঠিক কত মানুষ আমার মত ছায়া খুঁজছে নিজেদের
চেনা অধ্যায় ছেড়ে...... তুমি এসব কথায় আমায়
অজস্রবার ভুল বোঝ, আমি হাসি তোমায় দিকে
তাকিয়ে আর ভেতোর দেওয়ালের ফাটলে
আরো একবার গুঁজে রাখি আমার অক্ষমতার
ফলাফল...।
.........সুবর্না প্রিয় অক্ষমতা
বুধবার, ১ মে, ২০১৯
সুবর্না(৩৮)
----------------------------
নাটকটা আর হল না কিছুতেই, রংগ মঞ্চের
কাঠ পুতুল হয়ে অদৃশ্য হাতের ইশারায়
রয়ে গেছে জীবন,
সব গল্পের রাজা রানী যেন মৃত এই মঞ্চে ... বিধাতার
লেখা প্রতিটা অংকের জরিমানা যেন জীবন মাথা নত
করে মেনে নিয়েছে......,, সুবর্না তুমি বল এক দিন সেই
সকাল আসবে যে সকালে আলসেমি রোদ্দুর আর আমার
চোখ তোমায় দেখে দিন শুরু করবে, তবে সেই অদৃশ্য
বিধাতার শাসন কি হেরে যাবে সেদিন,৷ তোমার সমস্ত
সাধনার সামনে দাঁড়িয়ে,, আশ্চর্য হব না সে দিনও,,
তোমায় পেয়ে আমি আশ্চর্য হয়েছি শেষ বার...
বাকি পথ আমায় নিয়ে গেছে সে সব কাহিনির রাজপথ
দিয়ে যেখানে সকল আশ্চর্য অভিধান বিহীন,,
তোমার নিরন্তর সাধনার কাছে এক দিন পৃথিবীর
কর্কশতা হার মানতে পারে, এযাবতকাল পাওয়া
শোকের রঙ বদলে দিতে পারে তোমার আলোর ধারা,
তাই কিছুতেই আমি আশ্চর্য হব না সুবর্না...
আমার প্রিয় ঈশ্বর তুমি, শত রুপে তোমায় বন্দনা
করে সার্থকতা পেতে আকুতি আমার আজীবন ...
আমার পৃথিবীর একফালি আকাশ তুমি ,,
........সুবর্না প্রিয় ঈশ্বর