শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

সই (৫৩)

প্রেমিক চায় শরীর ও ভিক্ষা  
মৃত্যুও চায় তাই 
বুঝতে পারি না কাকে দেবো এই কায়... 

সই

শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

বন্ধ দরজার পেছনে



পুরোনো দরজায় লেগে থাকে ইতিহাসের চুপকথা
 আর চুপকথার আড়ালে হরেক রঙ এর আস্তরণ,
সে দরজায় যে দাড়ায় সে বোধহয় সামনের দিকে নতুন অধ্যায়ের
পা দিয়ে প্রবেশ করে নতুনে   তবু বাসি ছায়া পিছু ছাড়ে না ।

শুকনো ফুল ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথোপকথন ফিসফিস করে জানান দেয়
অতীত রাতে অসমাপ্ত আশা গুলো বালিশের খাঁজে রেখে 
 দরজায় তালা লাগিয়ে এগিয়ে যেতেই হয়।
বন্ধ দরজটা কেউ খোলার কথা বলবে জেনেও একটা আধমরা অপেক্ষায়
বুকের বেরায় গুঁজে রাখা ,,

#সই (বন্ধ দরজার পেছনে)


শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

লোকটা



দলছুট মেঘের মত শামিয়ানার বাইরে দাঁড়িয়ে
লোকটা, তার ঈশানী কার্নিশে সাজানো কিছু কালো অক্ষর,
মন পুড়ে যাওয়া লোকটা পেট পুড়তে দেয় না ,
ঘর ছাড়া লোকটা ঘর আগলে রাখার দায় নিয়ে ছুটে
যাচ্ছে দশটায় যাওয়া পাটুলীর দিকে যাওয়া বাসটার দিকে,
একটা আশ্রয় কিনতে চেয়ে  চল্লিশ পেরোলো
জুলফির ওপর সাদা বরফ এর প্রেম অথচ বেঁচে থাকার গানটা লোকটা এখনো মুখস্ত করতে পারেনি ...পারেনি  স্লিপিং পিলের অদম্য অবাধ্যতা কাছে মাথানিচু করতে ,,
ইদানিং লোকটা মেঘেদের থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে
কান্না লুকিয়ে রাখে,
ইদানিং লোকটা স্বপ্ন জ্বাল দিয়ে খিদের ভাত ফুটিয়ে নেয় মাঝে মাঝেই,
ইদানিং লোকটা নিজের অন্তরমহলে শুধুমাত্র একটা ভাড়াটিয়ার ভূমিকায় বাড়ি ফেরে।
ইদানিং লোকটা নিজের শব বয়ে নিয়ে বেড়ায় একলা।



বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩

পাখির সফর



খাঁচার ভেতর পাখিটার গত জন্ম মনে পড়ে
সম্পর্কর হিসেবে  আর কিছু তারিখ তার কপালের
ভেতর বুকের ভেতর বাজতে থাকে ,
পায়ের ছাপ নির্বাক পথের সাথে মুহূর্ত বিনিময় করে জানিয়ে দেয় 
আমরা আগেও হেঁটেছি একই সাথে একই আবেগে ,

আসলে পোশাক বদলে যায় ভেতরের পাখিটার পালকের রঙ বদলায়
পাখিটার সফর অনন্তকালের।
পাতা ঝরা মরসুম কিংবা শুকিয়ে যাওয়া গাছ এরা অপেক্ষার ভেতর
অন্তরনিহীত শব্দ কিংবা ফিরে আসার ডাক শুনতে জানে ... জানে জন্ম কেবল
একটা সফর আর পথ তো অনন্ত তাই হারানো বা ফুরিয়ে যাওয়া বলে কিচ্ছু হয় না।

শুধুমাত্র যুদ্ধ, শান্তি, কবিতা , শিখিয়ে দেয় একা পথ চলার সময় নিজের হাত নিজে ধরে নিতে ,
শবযাত্রা আসলে পোশাক বদলের সময় সঙ্গদান ,
পাখির বাকি বাইরে ও ভেতরের সফর একলার।

#সই (পাখির সফর)

বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩

কিছুক্ষণ সফরে



ভাবনারা বন্দী কোনো অন্ধকার ঘরে  অথচ 
সময়ের স্রোতে ভাসতেই হয় কালের নিয়ম,
ফেরা হয় না পুরোনো বাসি জলসায় ,
কেবল স্মৃতিরা দাড়ায় কিছুটা সময় ।
ঘড়ির কাঁটায় যাপন ছুটছে সমস্ত প্রহর  আর তাই
বাসের শেষ সিড়িতে পা রাখতেই
হবে সকলকে, 
 নয়তো ভাতের পাশে নুনের আয়োজনে সুখ হারাবে নিমেষে।

নিঃশ্বাসে লেগে থাকে পুরোনো মুখের হাসি 
 চোখের কোনায় আগুন লাগা নোনা পানি ,
বুকের ভেতর গোপন জ্বর পুষে রাখা জীবনের স্বভাব
 সফর জারি থাকে সব সুখ কিংবা অসুখেও 
শুধু পোশাক বদলে ফেলতেই হয় কালের নির্দেশে,
শেকল যে মানবে না সময় ।

#সই (কিছু ক্ষণ সফরে)




শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

ক্রমশ দূরে

কখনো  কখনো  বড্ড দেরি হয়ে যায়  শেষ ডাক টুকু ডাকতে 
কখনো কখনো  গোল্ডেন মুহুর্ত  কেবল খাঁচায় বন্দি প্রানহীন
সোনার পাখির মত ... ওড়ার জন্য ডানা ঝাপটায় না  
কথা বলে না গান গায় না,, 
বুঝতে দেরি হয়ে যায় যে  সময় হঠাৎ  মুঠো  থেকেই ভ্যানিস হয়ে যায় ,  আর তখন  রুপকথার রুপোলী  খাটে মৃত কাহিনি ঘুমিয়ে থাকলেও সে রুপকথা কেউ আর  বিশ্বাস করে না ... 
আয়নার কাঁচ ভাংগার শব্দরা নির্বাক। 

প্রহর পেরিয়ে  উত্তরের পুরোনো  বারান্দা রোদ্দুর আসে নিয়মমাফিক  অথচ সেই রোদ্দুর একলা সে রোদ্দুর  ছুঁতে চাওয়া উৎসুক একটা  মন নেই কোথাও। 

বাঁচার জন্য ঠিক কতগুলো কারন লাগে! 
আঁকড়ে থাকার জন্য একটা পেজমার্ক একটা  শুকনো গোলাপ উল্টো দিকে রাখা একটা চায়ের কাপ  কি যথেষ্ট নয়! 
 আসলে বড্ড দেরি হয়ে গেলে  এসব মুল্যবান মনে হয় অথচ  থেকে যায় কেবল আফসোস  আর একটা  যন্ত্রনার বোবা চিৎকার 
ক্রমশ  মাইলস্টোন  গুলো  সেই ঘরটা থেকে দূরে আরো দূরে সরে যায়  হারিয়ে যায় একসময়। 

#সই (ক্রমশ দূরে)

বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৩

ভয় করে

আজ বৃষ্টিতে রাত ভিজে যাচ্ছে
মনের ভেতর অদ্ভুত স্বাদহীন  সময় ,
শিরদাঁড়া বেয়ে আজকাল কি একটা হারিয়ে ফেলার
ভয়  হয় তাই হয়তো  ওপাশের চায়ের কাপে জুড়িয়ে যাওয়া 
চায়ের দিকে তাকিয়ে একটা উপস্থিতি অনুভব করার চেষ্টা করি ।
অথচ একদিন সব খেলাঘর ভেঙে নিজেই চলে এসেছিলাম 
সেদিন ভেবেছিলাম দরজায় খিল দিয়ে একবার অদৃশ্য শব্দে
বলবি যাস না রে  ... হাড়ের ভেতর অন্ধকার সিড়ি দিয়ে 
আমিই আমার হাত ধরে  নেমে এসেছি ছটফট করেছি একবার ফিরে আয় ডাক টুকুর জন্য,,
সেই কবে থেকেই জীবনের স্রোতে কত জন এলো স্পর্শ নিয়ে
তবু তারা কেউ তুই নয়  আর তুই নয় বলেই এত অহংকার 
আমার ঘর ছাপিয়ে ।

উত্তরের হওয়া  একলা রাত আর বৃষ্টি একা থাকতে ভয় করে  খুব ভয় করে ।




#সই (ভয় করে)

বৃষ্টি


অভিমানের  জল বাড়তে বাড়তে সেতুটাই একদিন ডুবে গেলো 
শীতের আকাশে সেই যে বৃষ্টি নামলো দিন পেরোলো রাত পেরোলো রোদ্দুর এলো না জানলার কার্নিশে।
ভোরের শেষ কুয়াশার ভেজা স্বপ্নে ভেতর বার্তা ছিলো চার দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ার দু একটি লাইন মাত্র,,

কোনো এক জন্ম-ঋণ শোধের মত এক তরফা ভালোবাসা
ক্রমশ মুক্তি পথে ... মাথার ভেতর ঝিম ধরা গাঢ় আবছা পুরোনো ছবি ,
দূরের খোলা মাঠের পাশে ভোকাট্টা ঘুড়িটা একলা ভিজছে
শুকনো মরে যাওয়া গাছটা কে জড়িয়ে।


#সই (বৃষ্টি)

বাইরে বৃষ্টি


তুমিও মরসুমি বদলের মতোই মিথ্যে হলে এই শীত সময়ে,
জানলা খোলা বাইরে অথই ভেতর ঘরে পুড়ছে  তবু কেউ ।

মুখের ওপর বিদিশার নিশা ছড়িয়ে ভীষণ রকম অবাধ্যতায়
ভুল ভেঙে যায়  মন কেমনের কারণদের আজ  এক লহমায়,
আজ চেনা রিং টোন অসহ্য খুব ।
 এবার না হয় বৃষ্টি বলুক আমার হয়ে ফিরে  যাওয়ার বার্তাটুকু,,
হৃদয় না হয় ঘুমিয়ে থাকুক পাস ফিরে নিজের ওমে।

জল ভেজা এই দিন গুলোতে আবার না হয় খুঁজেই নিও
নতুন মন ।

#সই (বাইরে বৃষ্টি)



মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

অনুপম পরিচয়

দূরের পরিচয় 
_________________

স্পর্শর থেকে দূরে গেলে কখনো কখনো পরিচয় গুলো
অদ্ভুত বিস্ময়ে নিবিড় হয়ে যায়  মন চায় আরো আরো কিছক্ষন যদি আগলে রাখা যেতো

আকাশ পারে হারিয়ে গেছে যে 
যে ফেটে যাওয়া শিমুল ফলের থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত
তুলোর মত নিজেকে দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
এরাও হয়তো বা বোঝে এ কথা ,,
স্রোতের পাথর স্থবির হলে ঈশ্বরের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে যায়
হয়তো বা কোনো কোনো দূরে চলে যাওয়া পরিচয়ের
কোনো আক্ষেপ থেকেও না
তবু সম্পর্ক যখন দূরে হারিয়ে যায় তাকে অন্তর্মহলে বড্ড কাছের মনে হয় ।

#সই (অনুপম পরিচয়)


মেয়েটার বিশ্বাস

আমার ছেড়া আস্তিন অথচ হাসতে পারি আলোর মত 
বুকের ওপর মোটা অক্ষরে লেখা ভালোবাসার নাম
জ্বলজ্বল করছে,
আমার ঘরের চাল ফুটো অথচ হাসি মুখে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ভালোবাসার কবিতা লিখি আকাশের সমিয়ানায়।
স্বয়ংভূ সাম্রাজ্য সম্পূর্ণা আমি অথচ অলঙ্কার বলতে নিষ্ঠাটুকু সম্বল।
এ পৃথিবীর সবটুকু আমাতে আমি সবটুকু জুড়ে
ভেতরে পাগলা দাশু নন্দিনী রাজা সব মিলেমিশে
একটাই আলো একটাই ঝর্ণা একটাই আকাশ এখন,,,

(মেয়েটা ছেলেটাকে ভালোভেসে বিশ্বাস করে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে )

(মেয়েটা তবুও আলোর মত আলো হয়ে শুধুই ভালোবাসার কথা লিখে যায় গঙ্গার ঘাটের শেষ বিকেলের গায়ে ।)

#সই  (সেই মেয়েটার বিশ্বাস)




শূন্যতায় ভেসে


মেরুদণ্ড জড়িয়ে সেই হিম শীতল অনুভূতি একটা শুন্যতা কেটে ফালা ফালা করছে ,মাথার প্রতিটা নিউরন এখন মৌন স্তব্ধ।

পায়ের নিচে মোহহীন বালিয়াড়ি
আকাশে  ঘর ছাড়া সেই বাউল সুর 
একটা গোটা নদী, আকাশ ,ধানক্ষেত ,লাল
মাটির পথ বেয়ে ডুংরী সব কিছুর সাথে মিশে যাচ্ছি,,
সত্যি মিথ্যে প্রেম অপ্রেম থেকে অনেক দূরে একটা
ক্যানভাস জুড়ে শুধুই স্নিগ্ধ কিছু রং  চুপ কথা এঁকে চলেছে ।
মরসুমী হওয়ায় আমার উত্তরের বারান্দায় নেই কোনো হেরে যাওয়া অভিমান  ,
আমার ভেতর আমি বেঁচে উঠছি একটা উজ্জ্বল
আলোর সকলকে আশ্রয় করে ...
ক্রমশ সব আয়োজন থেকে দূরে অথচ গভীরে এক উৎসব আয়োজনের খুব নিবিড়।

#সই

(শূন্যতায় ভেসে)




বদলে যাওয়া

এই শীতকাল ভীষন রকম অনুভুতি হীন
তোমার স্পর্শ আমায় আর ছুঁতে পারে না মোটেই,
নিখুঁত ওস্তাদ তুমিও ছিলে , আমিও আজ আদ্যপান্ত
স্বার্থান্বেষী।
এখন যেদিকে তাকাই  লাভ ক্ষতির হিসেব মিলিয়ে 
আরো একটু পাপী হয়ে উঠতে বেশ ভালই লাগে,,,

এখন যেকোনো সম্পর্কের বানানের  অক্ষর আমি নিজের 
হতেই সাজাই কিংবা ভেঙ্গে ফেলি।
এখন আমার ইমানের স্রোতে আধআনা হলেই সময়ের
কলুষতা মিশেছে।
আসলে তোমাকে দেখে শিখেছি বদলে যাওয়াই নিয়তি
আর এই বদলে যাওয়ায় কোত্থাও... কোত্থাও কোনো অতীত ফসিল দাফন করার জমি রাখতে নেই।


জানো নিরুপম একদিন তোমার চরিত্র অহংকারের ধারালো অস্ত্র মনে হতো....
আজ তোমায় দেখলে মনে হয় স্রেফ জং ধরে যাওয়া একটা টিনের পাত ,,,
এসবকিছু তোমার হাতের রেখায় তুমি নিজেই সাজিয়ে নিয়েছো,
আর তাইতো এই প্রথম  হ্যাঁ  এই প্রথম এবারের শীত অনুভূতি হীন  তোমার স্পর্শ আমায় আর ছুঁতে পারে না ।

# সই।**** (বদলে যাওয়া)





শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩

সই (৫১)

আয়না ভেঙে  গেলে সময়ও বোধহয়  টুকরো টুকরো 
হয়ে  যায়, 
সে ভাংচুর  সময়কে দু'হাতে  জোড়া  করতে গেলেই
রক্তাক্ত হয় জীবন , 
#সই

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৩

খালি ঘর


কোনো পদচিহ্ন কিংবা শব্দ রেখে যেতে চাইনা,
দরজার হাতলের থেকে শেষ স্পর্শ মুছে গেলাম,
আমার আঘ্রাণ যেন আসবাবপত্রে লেগে না থাকে ,
সব শুন্য হৃদয়পুরে নিঃশব্দে থাকলো বোবা কান্না।

সুখের ঘরে তুমি একা থাকতেই ভালবেসেছ 
রুমালের সুগন্ধী তাই বিষাক্ত,
বিশ্বাসের মাটি দিয়ে কবর ঢাকা ভালবাসা
বুকের ভেতর পুষে রাখা মুহূর্তর স্মৃতির ছায়া আজ বড্ড ভয়ানক,
নালিশ ফুরিয়ে গেলে সম্পর্ক গুলো মরে যায় 
আর ভালোবাসার স্মৃতি রূপকথা হয়ে যায় ।

পাহাড়ী বাড়ির  কাছের বারান্দায় খালি ক্যানভাস
আর কবিতার খাতায় তখন ভারি জমাট বরফ,,
চায়ের খালি কাপে সময়ের অভিমানী ধুলোর পরত,
জানলার শার্শি তুলে অপেক্ষা আর দাড়িয়ে নেই 
কারণ এখন আমি সাহসের মশালে আগুন ধরিয়ে 
ঘুন ধরে যাওয়া আশা পুড়িয়ে ফেলেছি । 
প্রথম দিন মনে নেই  মনে নেই প্রথম স্পর্শ  কিংবা  শোভাবাজার ফেরীঘাটের
অপেক্ষা ,
বারংবার তুমি আসতে পারোনি অজুহাতের ব্যারিকেড ভেঙে 

তারপর  আমি  আর কখনও  মিথ্যে অপেক্ষাকে প্রশ্রয় দিই নি ।
 রোজ নিয়ম করে  আসাযাওয়া আমার অথচ সে আসাযাওয়া পথে চেনা চোখ ভীষন অচেনা 
ভিতরের ঘরটা ফাঁকা থাকলেও মুখের আদলে মুখোশ নেই আর  নেই হারানোর ভয়।

#সই

বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৩

অপেক্ষায় আমিও



ইদানীং ইচ্ছে হয়  বন্যার জলের মত তোমার  জীবন ভাসিয়ে দিই
সবকিছু বুঝে ওঠার আগেই তোমার ঘরের সব ঘড়ির কাটা স্থির ও
স্তব্ধ করে দিক মহাকাল,

প্রথম দিনের   স্বপ্নের অঞ্জলি  প্রত্যাশা,কিছু আশা
আর তারপর শূন্য এসব ওই বন্যার জল ভাসিয়ে চিহ্ন হীন করেই দিক এক প্রলয়ের মত। 
বড্ড তাড়াহুড়ো আমার এই ভাসানে  ,
ভালোবাসার নির্ভুল বানান এ শহরে ধুলোয় মিশে যায়  । 

  সিলেবাসের বাইরে কিছু প্রশ্ন সময়ের ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে 
উত্তর যেন রক্তাক্ত নির্বাক।

  ক্যালেন্ডারে ঝোলানো  তারিখ আর তারিখে রাখা উল্লেখ্য
মুহুর্ত,  ঠোঁটে লেগে থাকে  চাওয়া পাওয়া  কালসিটে।

 গড়িয়ে পড়ে চোখের জল, বুকের ভেতর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ঝড়ের দাপট,
এ সব কোন এক প্রশ্রয়ের নাম  আর এ প্রশ্রয়ে লেগে থাকে অন্তর্মহলের বিশ্বাস ঘাতক স্মৃতির  সোঁদা গন্ধ। 
এখন আর ভয় করে না,  কোনো ধ্বংস কিংবা মৃত্যুকে 
বারবার, বারংবার ঠকে যেতে যেতে  
কষ্টগুলো নেশার মত ভীষন জড়াতে থাকে  মাথা আর মনকে,
এই  শূন্যতায় এই ভাঙচুর হৃদয় আর আমি 
একলা থাকতে ভালো বাসি  
আর ইচ্ছা করে বন্যার জলের মত একবার অন্তত তোমার ভেতর হুড়মুড় করে ঢুকে গিয়ে ভাসিয়ে দিই  ফুরিয়ে দিই তোমার ঘুন ধরা অহংকারকে
অপেক্ষায় আমিও,,,,,,,
.. #সই

পতঙ্গের মত


তুমি তোমার অন্তমিলে লীন, তোমার কথার অভিসন্ধিতে 
আগুন লুকিয়ে রেখো ...আমিও সাবধানী পথিক এখন 
আমার অক্ষর দের ভেতর আর জীবন রাখিনি  তাই তোমার
সৌহার্দ্যর গল্পে সেই কাঁচ ঘর কবিতা ক্যানভাস রঙ তুলি
সবই স্পর্শহীন ,
আমার সমস্ত মন্দ বাসায় বিষ মাখিয়ে  দেরাজে রেখেছি ,
হাসি পায় যে সব দিন গুলো ভালোবাসায় বাস করা যেত সে সব দিন আমরা  স্রেফ একে অপরের চরিত্রের সুতোয় টান মারতে মারতে সম্পর্কের বানান ছিঁড়ে ফেলেছি ।
আজ সরীসৃপের খোলোস ছাড়া আমাদের অতীত  যেখানে গল্পেরা কায়া হীন ।
সময় ক্ষয়ে গেলেও সময়ের কলমে লেখা কাহিনীর ক্ষয় হয় না ,
জীবনের সব  গল্প যেন  পতঙ্গের মত ।

#সই (পতঙ্গের মত)





মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩

কখনো আর দেখা হবে না

কখনো দেখা হবে না 
এ শহরের বরাচ্ছন্ন কিছু গল্পে হারিয়ে গেছি আমরা 

খবরের পাতায় ,বাড়ি ফেরত বাস ,অটো লাইনের তুমুল আলোচনা 
কফির শহরে একান্ত শক্তি বাবুর প্রেমের কবিতা সব সব বরফের নিচে চির ঘুমের
ভেতর রয়ে গেলো,
পাগলা দাশু কিংবা নন্দিনী ওরা কেউ কাউকে এখন আর চেনে না 

অনেকে হাসবে জানি  ,নিন্দুকেরা বলবে এসব আসলে টাইম পাস
কেউ কেউ গল্পটা  হয়তো জানবেও না গায়ে   । 
তবুও 
হলুদ ল্যাম্পপোস্টের নিচে বরফ শহরে হেরে যাওয়া একটা  সত্যির মাঝে 
তুমি এসে দাঁড়াবে হ্যাঁ  তুমিই এসে দাঁড়াবে ,
বুকে পাড় ভাঙবে তোমার ,সময় চাইবে কিছু যোগ বিয়োগের হিসেব 
পারবে তো সেসব হিসেব নিয়ে নিজের আয়নায় দাড়াতে  ?

আসলে গল্পbক্লান্ত আর   ব্যর্থ  সে গল্পের লেখক 
কত চরিত্র, কত দহন , কত হাত পার হয়ে যাবে সে দিন
কত না-বলা কথা ,কত আফসোস দীর্ঘশ্বাসে তোমার ,
ক্যালেন্ডার আর চোখের কোলে তারিখ ভুল হবে 
সময় হাসবে। হাসবে গোটা এই বরফ শহরের নিচে থেকে যাওয়া ফসিল।
আর পাগলা দাশু নন্দিনী দুহাতে নিজেদের কবর দেবে
তুমি একমাত্র তুমিই  এই গল্পে সেদিন খল নায়k এর ভূমিকায়
.
সেদিন  জিতে যাবে মহাকাল
            আর হেরে যাবে  তুমি. কোনোদিন আর আমাদের দেখা হবে ন।

সই (৬৯)

কোন কোন মৃত্যুকে  দাহ করতে হয় বুকের পাঁজরে আগুন দিয়ে , অনন্ত-কালশৌচ থেকে যায় জীবনের শেষ দিনেও 
এক মৃত্যু আর একটা জন্মের দায় বয়ে বেড়ায়।

..সই

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৩

ও চোখে


_________________

ও চোখে সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ চিৎকারহীন জেহাদ,  

হয়তোবা অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা এক পাপ নগরের ক্লান্ত পথ চলে গেছে, 
ও চোখ পড়তে হলে নিজের পোষাক বদলে নিতে হয় বদলে
ফেলতে হয় নিজস্ব  আত্মপরিচয়... 
অথচ ও চোখের আশপাশে নিজের ইচ্ছা কাহিনী গুলো  ঘুরে বেড়ায় কেনো কে বলে দেবে?
তবু ও চোখ এ চোখের  নোনা পানি থেকে শুরু করে দীর্ঘশ্বাস  ভালই উপভোগ  করে, 
ফিরে আসার রাস্তায় কালো পরীর  স্মৃতিতে পা জড়িয়ে যায় 
নেকড়ের হিংস্রতায় আমিও নিজেকে ডুবিয়ে ফেলিতে চাই
নয়তো  হাওয়ার সংবাদে কেবলমাত্র  বিবর্ন মৃত্যুর আড়ালে ভালবাসা দফন হবে। 


বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৩

মন্দবাসা

মন্দবাসা
********

তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি ঠিকানা ছেড়ে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছিলাম ক্রমশ... , গাছেদের পাশ কাটিয়ে হারালো পথ, 
স্রোত সাক্ষি রেখেছিলাম,   সাক্ষি রেখেছিলাম আসমান, 
গাছেদের পাতার রেখার সাথে আমার হাতের রেখা ও আমি তোমার গহিনে  পথ হারালাম, 

 কোন  এক নতুন বর্নের  মেঘ বদলে দিলো আকাশের নিশান, 
নদী বক্ষ লুকিয়ে ফেলেছিলো  স্রোত  সক্ষতা। 

প্রতিটা গাছ একই রকম দেখতে,   প্রতিটা পথে ফেলে আসা আজস্র পায়ের চিহ্ন দেখতে একই রকমের , 

তোমার  ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে যে শব্দের কাছে  আমি বান্ধব বর্নে ঋনী হয়েছিলাম... তারা এই গহিনে হাতছাড়া হলো এবার। 

অজয়ের বুকে মোহ ভাসিয়ে  ঘোর জ্বর গায়ে  ঘরে ফিরেছি যখন,

 মনে হলো  আমার আত্মজ শব্দেরা  যারা  কিনা হারিয়ে গেলো গহিনে,     যাদের  মোহ ভাসিয়ে এলাম  অজয়ের বাউল স্রোতে,
 তারা কি পথ চিনে ফিরবে কখনো ?
 মন মুচড়ে উঠলো হয়তো... হয়তোবা চোখ  জ্বালা করে উঠলো  এক মুহুর্ত। 
তোমায়  বললাম চল ওদের  ফিরিয়ে আনি... ওরা যদি  পথ চিনে  ফিরতে না পারে!  তবে যে ওদের ছাড়া অসমাপ্ত আমার মন্দবাসার উপন্যাস । 

গেলাম   ...সে প্রান্তর  ছাড়িয়ে গহিনে আরো গহিনে আরো গহিনে, 
যেখানে গাছেদের সব পাতার বুকে আমারই  হাতের  রেখা,  যেখানে নদী, স্রোত,  পথ, আলো, অন্ধকার পারিজাতীয় সংগমরত  সমস্ত দৃশ্যেরা ভীষন ভাবে  জাগ্রত , 

অথচ আমার শুন্যতার ফ্রেমে সে সব মোহন  দৃশ্য বেঁধে রাখার 
সামান্য আকুতি নিমেষে  উধাও, তারা আর নেই, 
নেই অসমাপ্ত  উপন্যাসের কিসমতের ভয়। 

দুদন্ড দাড়িয়ে  ভাবতেই  বুঝলাম
তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি কখন  জেনো তোমাকেই  পেছনে ফেলে অনেকগুলো  অদৃশ্য মাইল পার করে ফেলেছি, 

 এখন অজয়ের ব্যাস্ত  স্রোত,  গাছেরদের সারি সারি বিলিকাটা পথ, ওদের পাতার রেখার মত আমার হাতের রেখাতে তোমার অস্তিত্ব নেই। 
আমার এতকালের মন্দবাসার উপন্যাসের পাতায় অদ্ভুত  অকাল বর্ষনে একটা  অক্ষরও আর নেই, 
মন্দবাসার খাতাটা আদ্যোপান্ত একেবারে  সাদা।

#সই

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

নিঃসঙ্গতা


প্রবল বৃষ্টির  মধ্যে দাড়িয়ে স্মৃতিরা ভিজছে 
সমস্ত রং  মুখ ও শরীর বেয়ে ধুয়ে যাচ্ছে
 ছেড়ে পরছে আদপে গঠনের প্রলেপ কাদা মাটি ,
দেহমনের যে সব অসুখ ওষুধে সরে না তারা এ আসময়ের
বৃষ্টিতে আজ ডুবে যাবে ... 
মেঘের অস্থিরতার কখন যেন শুধুই কান্না হয়ে ঝরতে
ঝরতে অভ্যেস বদলে ফেলেছে মরসুমের ,
ছিড়ে যাওয়া নাটকের পোশাকে পুরোনো হত্যা রক্তের
অক্ষরে এখন নিঃসঙ্গতা ঘৃনা  আর পাপ ছাড়া কিছুই 
নেই ,
এক জীবনে অনেক রকমের মৃত্যু হয়  আর সব মৃত্যুর
শব পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা দফন করা যায় না  
কেবল শেষের দরজা অবধি বয়ে নিয়ে যেতে হয় 
একটা সিড়িভাঙা অঙ্ক শেষমেশ একা ও নিঃসঙ্গ দাড়ায় অন্ধকারে মাথা নত করে।



#সই(নিঃসঙ্গতা)






বুধবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৩

স্নান

বহুদিন স্নান করা হয়নি , পাপ মুক্তি স্নান জরুরী 
গাঢ় ব্যাথা ধুয়ে দেওয়া স্নান  সম্পর্কের রক্তক্ষরনের
দাগ সবটুকু  ধুয়ে ফেলার জন্য একটা  নগ্ন স্নান জরুরী, 

তোমাকে একটা  শেষ বার্তা  পাঠানোর কথা আছে ...
এ জীবনের  সংলাপে  যেদিন এই পোড়া দেহের আক্ষরিক মৃত্যুর 
খবর পাবে  স্রেফ মাটির নিচে রেখো শব-অক্ষর,,
  আসলে আমার চাওয়া গুলো নিতান্ত সাধারণ  
শরীর এর রস নিয়ে বুকের মাটিতে  কিছু সবুজ  আগাছাই না হয়  আকাশে  দিকে  তাকিয়ে  হাসবে  ভালবাসার শ্রাবণে ভিজবে তুমুল,   
জন্মভোর আমাকে একটা  সম্পর্কও সত্যিকারের ভালবাসার বৃষ্টিতে ভেজায়নি একটা  সম্পর্কও বলেনি আয় আজ তোকে এক চিলতে  হাসি স্রেফ হাসি উপহার  দিই।
কেবল দহন এর আগুন পেয়েছি   পেয়েছি  সম্পর্কের ভুল বানানে তাসের ঘর ,  
নাহ এগুলো  নালিশ  না  আমি অবাক হই না  শুধু ভয় হয় এই
পোড়া মন দেহ যেন  মৃত্যুর পর আর না পোড়ে  , 
পোড়া দেহের আর কি বা পোড়ানো  বাকি বলো? 
এখন ছত্তিস জেহাদে শরীর  ধুলো কাদা মাখা  নিভে যাওয়া 
রাত্তিরে  আমিও নিজের সাথে  রক্ত যুদ্ধ  খেলি  ভাবি সকাল সূর্য  সব গিলে নিক ঈশ্বর  কিংবা  শয়তান ... 
আর  সব শেষে  একটা নগ্ন স্নান করতে চাই  মুক্তি  নিজের কাছ থেকে নিজের। 

#সই (স্নান)

রবিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৩

ঠাঁই

সম্পর্ক  জলের মতন  জলে আগুন ধরে না। 
সম্পর্ক  পাখির মতন । কিছুতেই  আকাশ ফুরোয় না। 
একটা  ঠাঁই,  উড়ে যেতে যেতে ... থেমে যেতে  যেতে... 
নেমে যেতে যেতে । 
সম্পর্ক কে শেকল ভাবলে  শেকল,
 আকাশ ভাবলে  আকাশ 
পাখিদের  দেখি কেমন দুটো  ডানা  আজীবন  অন্য
দুটো  ডানার সংগে উড়ে যায় এক আকাশটা  সাক্ষি রেখে। 
 মানুষের  সম্পর্ক গুলো  এক সময় পরস্পরকে 
আঁকড়ে  ধরে হঠাৎ    দুজন মানুষ একদিন
নিজেদের থেকে অনেকটা  দূরে সরে যেতে 
আর এই দূরে চলে যায়  বলেই সমস্ত জুড়ে  কাছে আরো 
কাছে থাকাটুকু  হারিয়ে যায় , একটা  জীবনে  কেবল একটাই 
তো ঠাঁই  দরকার .... কতটুকু  একটা  জীবন! 

#সই ( ঠাঁই) 

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

জোকারের ভুমিকায়

হঠাৎ  সাদা পাতায় শব্দের  ছদ্মবেশ  তুমি এসে দাঁড়ালে 
জীবন সংলাপের মাঝে সৃষ্টি  হলো  রাজা রানী  মন্ত্রী 
সান্ত্রি  নৌকা , হাতি ঘোড়ার খেলা, 
আর মহাকাল আমার ভুমিকা  রাখলেন  স্রেফ  এক
জোকার এর চরিত্রে , 
এক দান এক দান গুটি  এগোলো সকাল থেকে রাত হয়
আবার রাত পেরিয়ে  সকাল  , 
ওরা কেউ এ খেলায় ক্লান্ত হয় না ওরা কাঁদে  না হাসে না শুধুই  খেলাটায়  বিভোর  হয়ে মরশুমি  মাইল ফলক পেরোয়, 

আমি জোকারের ভুমিকায় মুখে হাসি কান্নার রঙ মেখে ওদের 
দিকে ফ্যালফ্যাল  করে তাকিয়ে  থাকি... 
বুকের ভেতর নিস্তব্ধতা  ঘিরে দাঁড়ায় কেবল  কান্না,, 
রাজ্যপাট  শেষ  করে ওরা বাড়ি ফেরে কিনা জানি না ওদের 
বাড়ি আছে কিনা বাড়ির দরকার ওদের  আছে কিনা তাও
জানি না,  আমি ফিরতে চাই একটা  একান্ত  অপেক্ষার খোলসে, 
যেখানে সাদা পাতায় ঝরে পরা বৃষ্টি তে আমার কষ্টের  অনুভূতিরা  ভিজতে পারে,
যেখানে হেমলক  কোনো  ব্যার্থতার নাম নয়, 
 যেখানে ইট কাঠ পাথরের শহরে আমার মত বোকা 
জোকারের গল্পেও জীবন চেতনা  লেখা যায়,  
আসলে শব্দের  ছদ্মবেশে তুমি যতবার  আমার সামনে এসে
দাঁড়াও আমি ততবারই সময়ের মাস্তুলে একটা  অচেনা  
ঝোড়ো  হাওয়ার  সংবাদ  পাই , 
খেলার দানে রাজা রানি মন্ত্রি সান্ত্রি  নৌকা চোখের  সামনে
থেকেও আমি কেবল এক শুন্যতার খোঁজে  অন্তর মুখি নীরব 
সৈন্য  অথচ ভুমিকায় স্রেফ  জোকার বুকেতে অসম্ভব  ঝড়। 

#সই ( জোকারের ভুমিকায়) 




পরিহাস


একটা  ফেলে আসা সময় হয়তো কখনো কখনো 
বেঁচে উঠে মুখোমুখি  হয় চলমান  সময়ের, 
পুরনো হিসেবে অনেক বকেয়া  তখন বৃদ্ধ হলেও 
প্রানপুর্ন, সময়ের দাঁতে  তখনও  লুকনো গরল, 
অনেকটা পথ জীবন  হাঁটে সৃষ্টি ছাড়া  প্রাকৃতিক নিয়মে
পুড়তে ও ভিজতে থাকে, 
অস্থির মন পুরনো  আশ্রয়ে  ফিরতে চায়  মন কেমনের 
অদ্ভুত  কান্নায় জড়িয়ে ধরতে চায় প্রাক্তন  সময়ের ছই এর
খুঁটি , 

মানুষের  জন্য মানুষ  মন দিয়ে আজকাল  ভাবে না  সম্পর্ক 
টিকিয়ে  রাখতে মাথার ব্যাবহার  হয়তোবা  যথোপযুক্ত, 
যারা  মনের ব্যাবহারে জোর দেয় তারা নাটকে পারদর্শী হতে পারে না,  সময় তাদের বেওয়ারিশ  খেতাব দেয়৷ 

ফিরে আসি পুরনো  সময়ের গল্পে ... 
জীবন খালি পায়ে ছুটতে থাকে সময়ের জমিতে 
ফসল কাটা ফুরিয়ে গেলেও    হলুদাভ  ফসিল থেকে
যায়  গভীরে , 
বৃষ্টি হয় তুমুল সময় তবু ফেলে আসা দিনের ফসিল গুছিয়ে
রাখে হিসেবের খাতায়  সময়ের কাছে কিছুই যে অপাংক্তেয়  নয় সময় তার নাম দেয় পরিহাস। 

#সই  (পরিহাস) 



রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

মন্দবাসার উপন্যাস (১০))


অসম্ভব বৃষ্টি বেলায় সমস্ত দোষারোপ  ভুলে গিয়ে
মন্দবাসার  কষ্ট টুকু বুকের আগলে আগলে রাখারই কথা ছিলো, 
কথা ছিলো  মৃত্যুর পর মন্দবাসার দেহ কাঁধে  নিয়ে 
এ শহরে  সমস্ত পারিজাত রাস্তা প্রদক্ষিণ  করার, 
তারপর মাটির দুহাত  নিচের একটা  পৃথিবীতে 
নতুনভাবে  সেই ক্যানভাসে  আঁকা  পৃথিবীর  গোড়াপত্তন। 
 
সময়ের প্রহসনের  কথাও ছিলো সে উপন্যাসের পাতায় ... ছিলো  ভুলে যাওয়া অভ্যেসে  অভ্যস্ত  এই ব্যাস্ত  শহরেই   ভুলতে  না পারার মত হৃদয়ের কথাও,, 

ক্যালেন্ডারের  তারিখ ফিরে এলেও সময় ফেরে না 
নতুন মন্দবাসা এসে দাঁড়ায়  পুরোনো  ছায়ার আশ্রয়ে, 
 এ শহরের  পুরোনো  গল্প গুলো  বারংবার 
কোনো না কোনো  নতুন মোড়কে ফিরে আসে স্রেফ হিসেব মেলাতে,, 
মুখোমুখি হয় সময়ের আয়নায় রাখা খেরোখাতার, 

  অথচ এসব সাতপাঁচ  না ভেবেই কথা রাখা যে হৃদয়ের ধর্ম সে হৃদয়ে মন্দবাসা অন্তহীন  থেকেই যায়  আকাশের মতো, 
 তাই কথা দেওয়া কথা কেউ রেখে চলে  সময়ের নিভৃতে 
একি ছায়ার নিচে  বারংবার  ভালবাসা  নতুন রুপে
জন্ম নেয়,  অথচ আশ্রয়ের ছায়া চেনে সবটুকু  প্রহসন 
জানে এ শহর একটা  মঞ্চ আর এখানে সবাই নিপুণ  ভাবে
অভিনয় টা  শিখে নেয় নিজেকে ভালো  রাখার উদ্দেশ্যে। 



#সই (মন্দবাসার উপন্যাস) 




রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সুবর্ণা (১১৮)

তুমি চলে গেছো রঙিন  প্রজাপতির প্রচ্ছদে  ভর করে 
যেখানে আমাদের বলে কিছু নেই 
অথচ আমি মন্দ বাসার গল্প লিখতে লিখতে   প্রায় 
ভুলেই গেছি আসলে এ গল্পে তুমি কোথাও নেই,

ধান কেটে নেওয়া মাঠের নির্জন  দুপুর বেলা যেভাবে 
ভালো  থাকে রয়েছি  সেভাবে  , 
বটের ঝুড়ির  একলা  মাটি ছুঁয়ে ফেলা যেমনটা তেমন 
সেঁধিয়ে  থাকি ভাবনার  গভীরে ,, 
আয়নার  বুকে রাখা নীল টিপ এখন অপ্রেমে অভ্যস্ত 
সুবর্ণা  আমাদের গল্পে আমরা  হারিয়ে গেছি 
আমাদের উঠোন জুড়ে তাই ঘুঘুর আনাগোনা আজ।

#সই(সুবর্ণা  প্রিয় নির্জনতা) 



না লেখা গল্পে



হঠাৎ  হঠাৎ  এ শহরের  মানুষ গুলো  বড্ড একলা হয়ে যায়, 
এই একলা   টের বাইরের আকাশ বাতাস পায়না, 
অথচ  এ শহরে ট্রাফিক জ্যাম  ভিড় প্রতিটা সিগন্যালে 
একশো  কুড়ি মিনিট  মানুষের গা ঘেঁষে  মানুষ  দাঁড়ায়  আবার পাশাপাশি  হাঁটে। 
একলা  মানুষ গুলোর নির্ঘুম  চোখ  মনের পাঁচালীতে অদ্ভুত 
বর্ননাহীন অশান্তি  নিয়ে একলা মনের জন্য একটা  অবয়ব  খুঁজে ফেরে। 

কত নাম কত সম্পর্ক  ধরে চিৎকার করে 
স্টেশনের ঠিকানা বোর্ডের ওপর সফরের সাথির 
কতই না নামই ভেসে ওঠে। 
কখনো  কখনো  স্বপ্নের  মত কিছু সম্পর্ক  ফুটপাতে  হাতে হাত রেখে হেঁটে যায়   কখনো কখনো  কিছুতেই  বিশ্বাস  হয় না এ শহর কিভাবে  গিলে ফ্যেলে সম্পর্ক গুলো , 

দিনের শেষপ্রান্তে  মানুষ  খোলসে  ফেরে   মেঝে জুড়ে 
ইচ্ছে আর সাধের স্বপ্নেরা ভেঙে  যাওয়া  কাঁচের  টুকরো 
নিজের স্বপ্নের  সজভাঙা  টুকরোয় পায়ের পাতা যন্ত্রনা  এঁকে 
জানলার সামই সে আকাশ খোঁজে , কান্না  অন্ধ অক্ষর দিয়ে
বয়ান লিখে রাখে অদৃশ্য  খাতায়, 

আয়নায় নিজের মুখ চিনতে পারেনা মানুষ 
তার নিজের গল্পেই সব কিছু  কেমন অসম্পুর্ন 
কিছুই করা হলো না বেঁচে থাকা জুড়ে 
শুধু তার  না লেখা গল্পে একটা অদৃশ্য  তুমির খোঁজ  রয়ে যায় 
একলা শহরে । 


 #সই ( না লেখা গল্পে) 




সারল্য

সেই চোখ পিটপিট  পুতুলটা খুঁজে পাইনা আর 
পুরনো বাড়ির বাগান আমাকে চেনে না, 
ঝোপের ধারে খেলনাপাতি  আর বুনো পাখির
কিচিরমিচির শব্দ জব্দের পথ কোন মাইলফলকে
হাতছাড়া  হয়ে গেছে... খুঁজে পাইনা । 

স্বপ্নরা ঘুম ভাঙার পর সেদিন অদৃশ্য  নগরে হারিয়ে গেছিলো, 
হয়তোবা  এসব মিথ্যে  কিংবা নিজেকে ছেলেভোলানো গল্প
বদলে গেছি পথের বাঁকের মত আমিই আর হারিয়ে ফেলেছি
সেই চোখ পিটপিট পুতুলটা  হারিয়ে  ফেলেছি স্বপ্ন রাখা সেই নীল রঙের  বাক্সটা ... 
হারিয়ে গেছে যাবতীয় সারল্যের উপকরণ 
আর আমি কেবল মানুষের  কাঠামোয়  বেড়ে চলেছি 
ছল, পাপ, স্বার্থ, আমার বাতাসের রঙ আলোর রঙ 
নিশ্বাসের  রঙ নিয়ে, 
হারিয়ে গেছে চোখ পিটপিট পুতুলটা 
হারিয়ে গেছি আমি... 

#সই ( সারল্য)

বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

খিদে

আজকাল আমার ভীষণ রকম খিদে  পায় 
এমন রাক্ষুসে  খিদে আমি আগে এ জীবনে কখনো  অনুভব 
করিনি, 
আগে আমার না খাওয়া পেট অনুভূতিহীন ছিলো 
এখন আমি পথ ঘাট  গলি  গাছ পাতা বাতাস আকাশ 
ডাস্টবিন  ফেলে দেওয়া  যাকিছু  গোগ্রাসে গিলতে  থাকি,

আমি গিলতে থাকি প্রেম অ-প্রেম ভালবাসা  মন্দবাসা ঘেন্না 
লজ্জা, ভয় দুক্ষ, রাগ অভিযোগ যন্ত্রনা  আফসোস  আদর ভালোলাগা ভালোবাসা ...
সব সব একটা  আস্ত সমাজ ,পৃথিবী , ব্রহ্মাণ্ড  সব গিলে ফেলি
অদ্ভুত  খিদে মেটাতে  আমার আমি তোমার থেকে তুমি সবাইকে খেয়ে ফেলি ....না মেটে না খিদে এত খেয়ে 
তবু মেটে না খিদে ,

আজন্মের কিংবা বহু জন্মের খিদেতে পেয়েছে আমাকে 
রাতের অন্ধকারে গলির গুণ্ডা , মন ছুক ছুক লোকটা ,
সঙ্গমে রত দশ ফুট বাই দশ ফুট বেঁচে থাকার সংসার আমি এক গ্রাসে খেয়ে ফেলি তারপর শুরু করি রাস্তার ঘেয়ো কুকুর বিড়াল ,নেড়ি কুত্তা ,কিংবা ওই বড় বাড়ির অদূরে বেড়াল অথবা বিদেশী কুকুরটা দিয়ে ,
 আমার খিদে কিন্তু মেটে না ...পেটের ভেতর এক অদ্ভুদ আগুন সব নিমেষে গিলে নিচ্ছে ।

অথচ  কোনো এক কালে আমার তেমন একটা খিদে ছিলো না
হয়তোবা বেছে বুছে  কিছু একটা খুব পছন্দের খেতে ভালবাসতাম , সেটাও খুব নিয়মে ,
আজ সে আমি এক রাক্ষুসে খিদে নিয়ে ঘুরছি তোমরা সাবধান থেকো হয়তোবা কখনও কোনো রাস্তার মোড়ে হাঁটতে চলতে আমার খিদের সামনে ...আর তারপর ....


©সই (খিদে)


সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মুখোমুখি

হঠাৎ  মুখোমুখি  সময়ে তুমি আমি বড্ড
অচেনা, 
যেমনটা  স্নান ঘরে তোমার কথা  মনে পড়লে
নিজেকে আরো একটু  যত্ন  করার কথা আজ
অচেনা,, 
আসলে পরিচয় গুলো  হঠাৎই  রাস্তা  বদলে ফেললে
কেমন অচেনা  হয়ে যায় , 
পুরনো  সব চেনাশোনা  মুখ থুবড়ে  পড়ে, 
ভালো লাগা কোজাগরীর আলো  রবি ঠাকুরের 
প্রেমের গান সব কেমন গা গুলিয়ে ওঠা অসুস্থতা মনে হয়,, 
ইচ্ছে ঘরে তখন সারি সারি মৃত দেহ, 
একটা  গোটা পৃথিবীতে  কেমন অসমপৃক্ততা, 

শরীরের কাঠামোয়  গেলে থাকা মাটি  ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে নিথর  স্মৃতির বিসর্জন কীভাবে  করবে এই ভেবে, 
ভাল কিংবা  মন্দবাসার সমস্ত  ব্যাকরণ নিয়ম মুখ
ভেংচে আরো এক অদ্ভুত  অচেনা  ব্যাকরণ  সাজায়, 
আর মুখোমুখি  সেই পুরনো  তুমি আমির সময়টা এক্কেবারে 
অচেনা । 

# সই (মুখোমুখি) 

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কবিতা মুখোশধারি গল্প




বেঁচে থাকা  কখনো কখনো  বিকল্প পথ খুঁজে ফেরে 
জীবনের ছন্দ নিয়ম মেনে একই লয়ে হাঁটতে  পারে না 
কবিতারা তাই মুখোশ পরা গল্পের  মত  
ভালবাসা  তাই একটা অর্গাজম  মাত্র 
আর ঘর বাঁধা  আসলে বেশ কিছু আপোষ এর সাথে
রফা সেরে সমস্ত ইচ্ছে  কে বলির কাঠে রোজ কিছু কিস্তিতে 
মরতে দেওয়া, 
তবু ভালো আছি ফটোফ্রেম যেন  হাসি মুখে ড্রইংরুমে রাখা থাকে, 
আসলে জীবনের  ড্রইংরুম আর অন্দরমহলের দূরত্ব রাখা জরুরী, 
 সম্পর্ক গুলো  সাজানো  শোকেসের ভেতর  দেখলে
ভালো  লাগে রুচির  পরিচয়  হয় উচ্ছশীল, 
অন্দরমহলে  পরিচয় গুলো  কেমন হাড় কংকালসার  
নগ্ন আর থ্যাতলানো ,  
মানুষ  বাঁচে প্যাট আর চ্যাট এর জন্যে প্যাট যখন ভরা থাকে
চ্যাট এর জন্যে মরিয়া হয় আর তখন হয় ভিতর মহল আর বাহির মহলের সমঝোতার লড়াই । 
কাঁচ ভাংে ক্যানভাস রঙ বদলায়  কারনের নিশান গুলো 
মেঘেদের মত স্থান বদলায় আর কবিতা  কবি তখন নষ্ট চরিত্রর মুখোশ  পরে ঘরে বাইরে আলাদা আলাদা এক উঠনে  বারো ঘর করে মরে। 

#সই(কবিতা মুখোশধারি গল্প) 



ঘুমিয়ে পরার আগে

 রঙের আড়ালের তুইটা  আর ছুঁতে পারিস না আমায় 
তোর জানা দরকার তোর  অহংকারি
তথাস্তু  শব্দটাও   আমার চোকাঠে দাঁড়াতে পারে না, 

আমি চিরকাল ফরিকের স্বত্বা ছিলাম আছি 
 নিতান্ত  ঝুলিতে তবু একটা  চাঁদের  হাসি অমলিন 
আজও।  
তোর আমার মাঝে এখন বারো নদীর  স্রোত 
দুয়ারে দুয়ারে আজো আলোর ফেরিওয়ালা   কিছু কম আসে না, তবু লোভী  হওয়া শেখা হয়নি আজো, 
 তাই জোনাক আর চাঁদের  আলোর  সাথে আজো আমি  উদার বাউল রাজার মতই বাঁচতে  ভালবাসি, 
আমার   মাটিতে  পারিজাত হাসে,  গাছের সংসারে ভালবাসা 
আছে,, 
 মঞ্চের আলোর ভিড়ে  হারিয়ে  যাওয়ার  ভয় আমার জন্মগত। 

 যদি কখনো  সময়ের বৃষ্টি তোর রঙ ধুয়ে দেয়  ফিরে আসিস, 
কিছুটা  গোলাপবর্ন আর খানিকটা  বেহাগের শেষ রাত আর
সেই পাহাড়ের  গায়ে  একমুঠো  আকাশ দেখতে  পাওয়া ঘর
ক্যানভাসে আঁকা  ছবি আর কবিতা অপেক্ষায় থাকবে 
ঘুমিয়ে  পরার আগে অবধি, 

#সই(ঘুমিয়ে  পরার আগে) 
 


বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

না পাওয়া

সমুদ্রমন্থনের সময় আকাশের কিছু প্রাপ্তি  হয়েছিলো 
কিনা কেউ লিখে রাখেনি লিখে রাখেনি  সেদিনের আকাশে
উড়তে থাকা পাখির  শরীরে  গরল কিংবা অমৃত কোন
বাতাস ছুঁয়েছিলো, 
 ঈশ্বর  ব্যাস্ত  ছিলেন নিজের অমরত্ব  অক্ষত রাখায় 
 শয়তান  ব্যাস্ত  ছিলো অধিপত্য অক্ষত রাখায়,  
পাখির  আকাশের খবর কেউ রাখেনি, 

 সেদিনের আকাশে  মেঘেদের  ঠিকানায়  কিছু স্মৃতি অমরত্ব 
লাভ করেছিলো  , পাখির পালকে ছুঁয়ে  কালো অসুখ  
শরীরে  সিঁধ কেটে কলজেটা  দখল করেছিলো 
আকাশ যে খুব একটা  পাখির অসুখ টের পেয়েছিল  তেমনটা 
নয়  পাখিও টের পায়নি কখন  যেন  আকাশের বুকে ভাসতে থাকা মেঘেদের নীল রঙএ মিশে  গেছে লোভী  গরল, 
ঈশ্বর  অমরত্ব  পেয়েছে  নাকি শয়তান  পেয়েছে অধিপত্যের
পৃথিবী! 
পাখির পালক ছুঁয়ে  জয় পরাজয় নিসৃত  সময়ের কালসিটে 
ছিলো  চিরন্তন,  আকাশের যন্ত্রনা  আরো কিছুবা বেশি, 

এ লেখা ঈশ্বর  কিংবা  শয়তান  কাউকে  কাঠগড়ায় দাঁড়  করানোর জন্যে নয়  এ লেখা শুধু জানানো হলো  যে 
স্বার্থের দুনিয়ায় পাখিটা কিংবা আকাশটা   ঈশ্বর কিংবা শয়তান  কারো হৃদয়ে  ভালবাসাকে  কিন্তু খুঁজে  পায়নি।

#সই (না পাওয়া)




রুহ

মানুষ  আকাশ মুখি গাছ হতে চায় 
পাতায় লিখে রাখতে চায় আশ্রয় , 
সবুজ  বিশ্বাসের  দিনে ভালবাসা আসে
রুপোলী  রুপকথার মত , 
গাছের শরীর  মন পড়তে  শেখেনি মানুষ 
মানুষের  তাই   নাটকের চক্রবুহ্যের থেকে  বেরিয়ে
আসার মন্ত্র শেখা হয় না  সে বাইরের  আবরণে  গাছের
পোশাক  টুকু  পড়তে  শেখে কেবল , 

গাছেরদের মত একলা  মাটি  আঁকড়ে  দাঁড়িয়ে  থাকা শেখা হয় না বলেই মানুষ  তার চলার পথের দুপাশে  নিসঙ্গতা নিয়ে হাঁটতে  থাকে   আর  মনে ভাবে   ঈশ্বর  বুঝি তার সাথে  ষড়যন্ত্র  করে চলছে , 
মানুষ  গাছেদের মত তাই ভালবাসতেও শেখেনি মাটির গভীরে  শেখেনি  ডুবতে ... 
গাছ আশ্রয়  দিতে দিতে পাতা ঝরিয়ে  ফেলে একদিন
সবুজের  দিনে জড়িয়ে  থাকা ভালবাসা  ছেড়ে  চলে যায় 
গাছ আকাশ মুখি  হয়ে হাসতে  থাকে এই ভেবে সবুজের  দিনে সবাই  ভালবাসার  ছলে কথা দেয়,   আসল তো সেই যে শুকনো পাতা ঝরে যাওয়ার  দিনেও সখ্যতায় হাসি মুখে আগলে  রাখে,  তাই মানুষ  গাছের মত দেখতে  হতে চেয়ে কবিতা  কাহিনি  লিখলেও গাছ হয়ে ওঠে না। 

#সই (রুহ)



রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

গল্পটার সাক্ষী ওরা

গাং চিলের বুকে রাখা নীল কথপোকথন 
সময়ের উৎসবে  গোপনীয়  থাকুক পুরনো 
অভিযোগ, 
পাহাড়ের  গায়ে  কাঁচের বারান্দায় মেয়েটা এখন সারাদিন ছবি আঁকায় মশগুল  সময়ের ঘরে মহাকালের শমন  পেয়েছে সে, 
যেতে  হবে তাকে...
 বুকের মাঝে মারন রোগের  আতিথেয়তা  প্রতিনিয়ত, 

  গল্পের পান্ডুলিপি  রাখা থাকবে ক্যানভাসের রঙ তুলির
ধাঁধায় ,  
মেয়েটা মৃত্যুকে প্রেমিক ভেবেই  অজস্র গল্পতে রঙ ভরছে
পাহাড়ি  রংগিনী নদীর বহতা   সাক্ষী   সাক্ষী  থাকুক  তিস্তা 
সাক্ষী  থাকুক  নাম না জানা পাহাড়ের  বাঁক পাকদণ্ডী পথ,, 

 ঘুমিয়ে  পড়া মেয়েটার  কথা যারা  জানতে আসবে এই
পাহাড়ের  কাছে   বাতাসে লেখা পাবে কুয়াশার অক্ষরে  না বলা কথাদের, 
রংগিনী তিস্তা  পাকদণ্ডী  পথ হয়তো বা  ফুঁপিয়ে কেঁদে  বলবে
বড্ড দেরি  করে ফেললে হে আগন্তুক । 

#সই ( গল্পটার সাক্ষী ওরা)





নো টিয়ার্স নো পেন

সম্পর্কগুলো  হারিয়ে গেলে আর কান্না পায় না 
দরজার বাইরে  অপেক্ষার পথটা   অনেকদিন ফাঁকা 
সেখানে হৃদয়ের কারবারের তেমন কেউ আসে না 
অথচ কবিতায় আসে নীরব  অভিমান 
আসে নোনা পানির  ছলাৎ ছল ঢেউ, 

স্মৃতি চিরকাল কোনো এক সময়ের মৃত্যুর  নাম 
আজটুকু হাতের মুঠোয় 
হয়তো  এ কবিতা নীরব  কোনো শুন্যতার নাম 
হয়তো  সম্পুর্ণায় কবিতা নিষ্প্রোয়জন, 
 রোজ অনেক প্রয়োজন ভুলে থাকতে আটটা পাঁচটার
নিয়মিত  তাড়াহুড়ো  
ব্যাস্ত  শহর জানে প্রয়োজনীয়  আয়োজনকে বেমালুম 
ভুলিয়ে দিতে 
ব্যাস্ত শহর সম্পর্ক গুলো  থেকে মোহ মায়ার  মায়াবী চোখে
কাপড়  বেঁধে  হাসতে   শেখায় বাঁচতে  শেখায়
আর তাই কোনো  চলে  যাওয়ায় মন কেমনের কথা  শহর শেখায় না। 

#সই (নো টিয়ার্স নো পেন)





পুড়তে থাকা হৃদয়পুরের কাব্য)



শরীর নয় মন পুড়ছে   পুড়ছে যত্নের  কলজেটা 
আবভমানে মিশে গিয়েও বেঁচে থাকা জুড়ে নিরবতা 
পুড়ছে , 
তুমি বেখবর  হয়তো  তোমার চরাই উতরাই পথ এবার অভিযোগ হীন,
অতীত  শুধুমাত্র  একটা সময়ের সৎকার এর স্মৃতি  এখন, 

সেই চেনা শরীরের থেকে এখন অনেক কিছু ছেড়ে  গেছে
 আজকাল  তোমাকে দোষারোপ  করতে  ভালো  লাগে না 
 বরং  ভাবতে ভালো  লাগে তার চেয়ে  অনেক বেশি তুমি, 
আসলে আমিও একবার একবার অন্তত  তোমারই মত গোত্রের বাজারে  বিক্রি  হয়ে দেখতে  চাই বেঁচে  থাকা 
সম্পর্ক গুলোর  মৃত  গন্ধ আসলে ঠিক কেমন ! 

 আমার জন্যে অবশ্য  এখন  কাঁদার মত  তেমন কেউ নেই 
যে ছিলো সে  তুলসীপাতায় চোখ  ঢেকে মুছে
নিয়েছে  আজীবনের যাবতীয় কষ্ট ... 
এখন রোজ রোজ মৃত্যুর উৎসব  উজ্জাপন 
 ভালোই লাগে   বরং  অহেতুক  ভালবাসায় আমার 
গা ঘিন ঘিন করে বমি পায়, 
তোমার  ভেতোর থেকে বেরিয়ে আমি নতুন করে তুমি
হয়ে গেছি   এখন পাপ আমার ভাল লাগে ... ভালো  লাগে 
যখন  কারো বুক গড়িয়ে রক্তক্ষরণ  এর দায় বর্তায়
আমি নামের  চরিত্রের ওপর 
ঠিক ঠিক এভাবেই দেখতে  চেয়েছিলে 
তোমার গল্পের  নায়িকার ভুমিকা  তাই না মান্যবর? 


#সই ( পুড়তে থাকা হৃদয়পুরের কাব্য)







বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

অচেনা আকাশ

কোনো কোনো  দিন মানুষ  অচেনা  নিয়মের মুখোমুখি 
দাঁড়ায়  সে দেখে উড়ে  যাওয়া  পাখিদেরও বসত হয়, 
ওদেরও সংসারে  রাতের আলো জ্বলে জোনাকি গুঁজে, 
কোনো কোনো  দিন মানুষ  নিজের গোপন  পাপের মুখোমুখি 
দাঁড়ায়  দেখে ভাংগা আয়নায়  নিজের হাতে বিশ্বাস  হত্যার রক্তে  ভেজা তার নিজের  চেহারা, 
 কোনো কোনো দিন   মানুষ  সম্পর্ক থেকে দূরে সরে দাঁড়ায় 
নিঝুম রাতে সে দেখে সে বিহীন সম্পর্ক গুলো  কেমন অচেনা, 
 কোনো কোনো দিন মানুষ তুমুল  ঝড় বৃষ্টির মাঝে নিজেকে নিঃস্ব করে ভিজতে থাকে দেখে সত্যিই কি আকাশটার ঐ ঝড়
বৃষ্টি  তার সমস্ত অস্তিত্ব  ভেজাতে পারছে কিনা, 
এভাবে একদিন মানুষটা হাঁপিয়ে  ওঠে  গিয়ে দাঁড়ায়  অন্ধকার 
ভুবনডাঙার  মাঠের কিনারে তারপর সে অছিদ্র অন্ধকারে 
নিজেকে গুঁজে  দিয়ে নিজের পচে যাওয়া  অস্তিত্বের  গন্ধ
ছড়ানো একটা  ঘরে এসে দাঁড়ায়   সে একটা  তারায় ভরা
আকাশ আর একটা  আশ্রয়ের বুক ভিক্ষা করে বেঁচে  থাকার কাছে, 
অথচ একটা  নিদারুণ  অভিশাপ  নিয়েই ফিরে আসে সামাজিক  বরাদ্দের চতুস্কোনে,  অচেনা লাগে তার ঈশ্বর কে
অচেনা  লাগে আকাশ  অচেনা  আয়নায় তার নিজস্ব অবয়ব। 

#সই(অচেনা আকাশ)

মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

মা

তোমায় পেয়েছি প্রথম আলোয় সহজ পথে
যেদিন তুমি চলে  যাবার  চিঠি লিখলে  সে
চিঠির  অক্ষরগুলো  শিখিয়ে দিলো আমার ভেতর
তুমি ঠিক কতটা রয়েছো, 
আমি কিচ্ছু বলতে পারিনি একটা মাতাল ্
হাওয়ায়  শুকনো পাতায় আমার অস্তিত্ব তখন দিকশুন্য
জানতাম তোমায় রাখার সাধ্য নেই আমার  এই জানাটুকুকে
অজস্র বার আড়াল রেখে ঈশ্বরের সাথে কথপোকথন 
সেরেছি তোমার বিনিময় আমি... কখনো কখনো 
মন বলেছে ঈশ্বর  জিতিয়ে দেবে৷ সমাজ সংসারকে তোয়াক্কা 
না করে তোমার কথা ভেবেছি তোমার কাছে নিজেকে রেখেছিলাম
আমার মাতাল ঘোর  তুমিহীন  আমাকে দেখতে রাজি নয় 
শিখতে চাইনি তুমি ছাড়া  বাঁচতে ,  
তুমিও শেখাচ্ছিলে  আমি পালিয়ে গেছি মস্তিষ্কের  কাছ থেকে
মনের কাছে।...একটা  মিরাক্যাল একটা  ম্যাজিক  কিংবা 
আলাদীনের সেই প্রদীপ এর জিন এর অপেক্ষায় স্ত্রোত পাঠ
করেছি। 

জানোই তো এ পৃথিবীতে  তোমার মত ঈশ্বরও নন ঈশ্বরের অপরাধ  এর হিসেব কে রাখে জানি না... জানতেও চাইনি
আমার চাওয়া চিরকালই  সামান্য   আর সেই সামান্যে তুমিই
একান্ত  তুমিই নিজের তুমিই স্বার্থহীন  তুমিই... 
হাতড়ে বেড়াই তোমায়  কুঁকড়ে যাই  ভয়ে  শীত করে জ্বর আসে তুমুল মাটি আঁকড়ে  কাঁদতে কাঁদতে দিন কাল মাস
 পেরোই  মরসুম বদল হয় আমি তোমার  অপেক্ষা  তোমার দিকে হাঁটতে  থাকি.... "মা"

#সই (মা)

মুক্তির পথে

চোখ বন্ধ না হলে মোহ থেকে মুক্তি পায় না মানুষ 
ভাংতে  থাকা ঘরের জানলা দরজা আগলে  রাখে
অলিখিত পুতুল খেলার আমার শব্দে, 
আমার বলে আসলেই কিছু হয়না এই খেলা ঘরে মন বোঝে না, 
মন আর মস্তিষ্ক একি ভাবে ভাবতে পারে না এক শরীরে ঘর হলেও আকাশ ও উঠোন  আলাদা, 
তুমি তুমি ও তুমি কেউ কথা  রাখোনি নালিশগুলো 
এখন বোবা কিংবা  মৃত ,  হাতের মুঠো  খুলে মুক্তি  দেবার
সময়  এসেছে এবার,   তবুও ক্ষরিত  রক্তের স্রোতের দৃশ্যে
আত্মজর মুখ ভেসে  ওঠে  বলেই মুক্তির দরজায় দাঁড়িয়ে  কেবল আজ মৃত্যুর কবিতাই লিখতে পারি... তোমাতে ডুবতে
আরও  কতটা  পুড়তে হবে জানি না  আর কতটা রক্তক্ষরণ বাকি তাও জানি না, 
আমি ফুরিয়ে গিয়েও গেলে রয়েছি জীবনের কোনে 
আজকাল অসহ্য লাগে এই বেঁচে থাকায় নিজেকে দেখতে... 
বড্ড হাঁপিয়ে  গেছি ঘুমোইনি বহু আলোকবর্ষ , 
তবু  সে চোখের  ওপর হাত না রাখলে মুক্তির দরজা পেরোই কিভাবে ... কিভাবে মৃত্যু  তোমার ঘরে যাই।

#সই (মুক্তির পথে)

অসম্ভব ইচ্ছা

অসম্ভব  ইচ্ছে 

কোনো কোনো পুরুষ প্রিয় হতে ছেয়েছিল  
ছেয়েছিল ঘামের মতো শরীরে  মেখে থাকতে 
তাদের  আমি ভাবনার বাইরে অন্য অন্ধকার  ঘরের দেওয়ালে 
 দফন করেছি, 
কেউ কেউ আবার চোখের  ভাষায় আমার একান্ত  নদীতে  ডুব দিয়ে চুরি  করতে চেয়েছিল আকাশের আয়না  আমি
তাদের চোখের আকাশ থেকে বঞ্চিত  করেছি চিরতরে। 
 আমার দীর্ঘশ্বাসে মিশিয়ে  দিয়েছি সে সব পুরুষের  সৎকারের ধোঁয়া ,  এর পরেও আমার স্বপ্নের ঘরে বন্দী  আছে সেই বিশেষ পুরুষ  যে কিনা ভালবাসে বন্দি হয়ে থাকতে  আমার খাঁচার ভেতোর , 
আমার বোধের ভেতর তার বোধএর সহবাস 
এক অতল সমুদ্রের  গভীরে  সে আমাতে ধ্যানমগ্ন, 
সবুজ  বিশ্বাসের  ভেতর আমাদের ঘর বাড়ির কড়িকাঠ সাজানো , তার ফুসফুসের আমার বলতে পারা জমাট  মুহূর্ত, 
রুপকথার মত শুনতে  হলেও এটাই সত্যি  আমার একান্ত  বেঁচে  থাকায়। 

দুঃখ আর মৃত্যু  নামক সমস্ত  পুরুষ দের আমি বন্দী  করেছি 
সময়ের বোতলে ওদের বন্দী  হতেই হতো  একদিন যে ওরা
আমাকে পাপি হতে শিখিয়ে গেছে 
আজ সময়ের কবিতায়  তাদের বন্দী  করে মাঝ সমুদ্র তরঙ্গে 
না ভাসালে অসম্ভব  ইচ্ছেরা মুক্তি  পেতো না কখনোই।

#সই (অসম্ভব  ইচ্ছে)

শুক্রবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

ব্যাস্ত শহরের গল্পে

 ১) গল্পটা  ফুরিয়ে গেছে বহুদিন হলো 
বহুদিন হলো  প্রথম আলোর দিকে তাকাই না
ব্যাস্ত  শহরে  মিশিয়ে নিই আমার রোজকার
ছোট ছোট  বেঁচে  থাকার কাহিনি,, 
আমার ঈশ্বর  আজ বহুকাল  হলো হারিয়ে গেছে
আলোর ভিড়ে,, 
  বোধ আর বোধোদয় এর মাঝে আমি সংপৃক্ত ও শব্দহীন  এখন আমার অস্তিত্ব , 
নদীর দীর্ঘ জীবন একদিকে ঘর বাঁধে আবার ভাঙেও 
তার উপকথায়  সবটুকুই  বাঞ্চনীয়, 
আথচ শুরুর স্মৃতিকে   উপসংহারের পরিনতির অধ্যায়ের আয়নায় বড্ড অচেনা লাগে, 

২) মানুষ  হয়তো কোনো  কোনো বেঁচে  থাকার গল্পে নিজের
অজান্তেই  মৃত্যু  লিখে ফেলে ,   কলমের নিবে একটা 
অদ্ভুত  পুড়তে থাকা বোধ এর বোঝাপড়ার লড়াই চলে, 
ঈশ্বরহীন বেঁচে  থাকা তখন ডুবতে থাকে সময়ের কুয়োতে, 
ব্যাস্ত  শহর এসব খবর  রাখে না দিন ফুরোলে নিশ্বাসের 
মাইল ফলকের সংখ্যা সিঁড়ি বেয়ে  আরো একটু  নেমে আসে 

 

 হঠাৎ  একদিন অগুনতি  স্খলনে অগুনতি  উত্থানের  পরেও নটে গাছটি মুড়োয়  তারপর  হয়তোবা  নির্বাক এফিটাফের নিচে  নিছকই অগুনতি  গল্পের  মতো আরো একটা  কাহিনি  হারিয়ে  যায় ,, 
তবুও  বেঁচে  থাকা একটা  অদ্ভুত  বিস্ময়কর  শৈলী।। 

#সই (ব্যাস্ত  শহরের  গল্পে)





বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৩

সই(৫২)

অনুভূতিগুলো  মরে গেলে রয়ে যায়  যুক্তি আর তর্কের  পাঁচিল 
আজ যেটা  স্রেফ  ভালবাসা   বলে সাথে থাকা 
কাল সেটা  শুধুই বোঝাপড়ার যাপন ।
#সই

সুবর্ণা (১১৭)

আজ আর নিজের ভেতোরে  হাতড়ে দেখতে  সাহস হয় না,
তোমাকে  ভালবাসার  দু একটা  ভাঙা  টুকরো  এখনো  
আনাচে কানাচে পড়ে  আছে কিনা।।

তোমার কি মনে আছে সুবর্ণা  এক সময়  এক বিঘে বন্ধ্যা 
জমির সাথে তুমি নিজেকে  তুলনা করেছিলে  আর আমি মুহুর্ত  না ভেবেই হাজার ফার্লং স্রোতম্বিনী নদী তোমার নামে
উৎসর্গ  করেছিলাম, 
আসলে মানুষের  জীবনের সাথে জুড়ে  যাওয়া  সব সম্পর্কর গড়া ও ভাঙা  তার নিজের ইচ্ছার  ধার ধারে না সবসময়। 

তুমি আমাতে জুড়ে  যাওয়ার  আগের  মুহুর্ত অবধি 
ঈশ্বর  ও শয়তান কোনটাতেই আমার বিশ্বাসী  ছিলোনা,
মানতাম না নরক স্বিকার করিনি স্বর্গ, 
 অথচ তুমি জুড়ে  যাওয়ার  মুহুর্ত  থেকে এ মন মস্তিষ্কের  স্থিরতার অবস্থান  বদলে দিলে, 
পাওয়া চাওয়ার মোহে যাবতীয়  সংস্কারে ঘিরে ফেললাম নিজের বলয়... স্বার্থর সুতোয আঙুলে পেঁচিয়ে ফেললাম,,

একসময়... 

সময় মরসুম বদল করতে করতে আমরা থেকে তুমি ও আমি 
প্রাক্তনের ভুমিকা আশ্রয়  পেলাম 
 রোদ মাখা কুয়াশার  মধ্যে  ধিরে ধিরে  মিশে গেলো  কোনো   এক অতীত  সুখের অসুখ গুলো , 
অচেনা ভাষার  মতো  দুর্বোধ্য চিহ্ন  মুছে  দিলো কোনো এক অতীত প্রহরে সারল্যকে, 
পাঁজরের হাড়ে  গুঁজে রাখা পাহাড়  ঝর্না  কাঁচের  ঘরের কবিতা ক্যানভাস  রঙ তুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে  হারিয়ে গেলো 
নাটকের আলোর রোশনাইয়ে... মুছে গেলো আত্মিক আমাদের ঐকান্তিক সব ছবি,,

 বুঝলাম সময়ের সাথে সাথে কিছু জিনিস হয়তো মুছে  গেলেই ভালো । 

#সই (সুবর্ণা  অতীত সুখের অসুখ) 

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

সত্যি মিথ্যের গল্প

সত্যি মিথ্যের গল্পে



রোজ ঘুম ভাঙে একটা মুখ চোখের সামনে দাঁড়ানো... 
ছুঁয়ে  দেখতেই সে মুখ  ফুসমন্তর, 
বাসের ভিড়ে অচেনা সিটে চেনা মুখের  আদলে ফিরে
আসে...  ফিরে আসে অজস্র শব্দ জব্দের ভেতর , 
আমি একা হারিয়ে যেতে চাই অথচ  সেই মুখ আমার ছায়া
মাড়িয়ে চলতে থাকে কোনো না কোনো  বাহানায় 
 চোখ তুলে খুঁজে ফিরি  সে মুখ   বেঁচে থাকার সংকল্পে কোথাও নেই। 

একটা  মুখ  আমার অভিমান  জুড়ে  ছবি আঁকে 
একটা মুখ আমার একান্ত  একলা বেঁচে থাকায় ভুমিকায়
 প্রতি প্রহরে  পাহারা দেয়, 
 একটা  মুখের কান্না হাসিতে আমার গল্প তবু
আমার গল্পে আমি ছাড়া রবিঠাকুর  সুনীল বাবু 
 শক্তি বাবু সকলের গল্পেরা ভিড় জমায়  আমি দর্শকের  আসনে স্পটলাইটের উল্টো দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকি। 

একটা মুখ আমার অপেক্ষাকে গৃহহীন  করে নিজে
অপেক্ষার বাসস্ট্যান্ডে রোজ দাঁড়িয়ে  থাকে, 
একটা মুখ  যাতায়ত এর সেতু ভেঙে  দিয়ে 
অন্য পারে আমি-হীন  ছায়াগল্পে সেতু জোড়ে শব্দ দিয়ে।

সব জেনেও   ও মুখের আদলে 
আকাশে তারাদের জুড়ে যায় একটা  ছলছল চোখ, 
সব মিথ্যে জেনেও দাবা খেলায় একটা  গোপন  জিতে যাওয়ার গল্পের  দিকে তাকিয়ে থাকে একটা  চোখ, 
লুকোনো   দু:খ মিথ্যে সত্যি দেখতে  চায়  না  সে চোখ শুধু
দেখে ... সমস্ত থাকা না থাকা জুড়ে  ঈশ্বর বোধহয় কেবল থেকে যাওয়ার  গল্পটুকুই আমাদের  লিখতে  শিখিয়ে দেয়।

#সই (সত্যি মিথ্যের গল্পে)




সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩

নাম তার বেচেঁ থাকা

মৃত্যু গড়িয়ে নামছে কিস্তিতে  হাজারো 
চোখের  এজলাসে , 
পেঁজা তুলোর মেঘে প্রেমিকার খোলা চুলের কবিতা
ভেসে  বেড়ায়  মন ছুটে  যায়  সেদিকে 
অথচ ওই চোখে আর খোলা চুলের ভেতোর  একটা  নিশ্চিন্ত 
ঘুমের জরুরতই ছিলো খুব। 

 পথের শেষের মাইলস্টোনের সংখ্যা  
মানুষ  জানে না তার নাটকের  পর্দা  নেমে আসার সময়
মানুষ  কেবল জানে জন্ম মৃত্যুর মাঝে মঞ্চস্থ হতে ,,
সব ছক আগে থেকেই সাজানো সব খেলা হার জিত সব আগেই নিশ্চিত তবু কারো খেয়ালের খেলায় পুতুল খেলায় সামিল ...নাম তার বেচেঁ থাকা।.

#সই


বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩

বহু মাইলস্টোন পেরিয়ে

বহু মাইলস্টোন  হাঁটার পর তোমার বলতে;না পারা কথারা
হয়তো  অচেনা লাগবে  এক আকাশের তলায় প্রতিজ্ঞা গুলো 
তখন মৃত শব, 
হয়তো বা  কোনো এক এপিটাফ এর কাছে তুমি মাথা নত করে ভাববে ইস কেনো সেদিন আলাদা কোনো অন্য স্টেশন  বেছেছিলে..., 
এক দিন যত্নের  স্পর্শ  বরফের  দেশ পার করে হয়তোবা 
ছুমন্তর  কোনো অজানা মানচিত্রে   
আর সে দেশে নেই কোনো মুঠোফোনের সিগন্যাল। 

না বলা কথারা বানানবিহীন অথচ বুকের যন্ত্রনার কারন হবে সেদিন 
না বলা কথারা বজ্রপাতের বৃষ্টি  ধোয়া স্রোত সেদিন
না বলা কথারা নিকোটিনে পুড়তে পুড়তে ক্যান্সার আক্রান্ত
কোনো হাসপাতালের বেডে অচেনা সফরে  সামিল সেদিন, 

 যে মনে কথাদের বাস ছিলো সে মনের দেওয়ালের ইঁট সুরকি 
 হাজারো হারানো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে মিশে যাবে সেদিন, 

আসলে ক্ষতের থেকে রক্তক্ষরণ  হতে হতে  ফুরিয়ে যাওয়া সময়  কোনো জাদুদন্ডের স্পর্শ  কিংবা কোনো
অমল তাসের তথাস্তু  মন্ত্র শুনতে পায় না । 

 বহু মাইল স্টোন  পেরিয়ে না বলা কথা গুলো  সত্যি 
মিথ্যের  উর্ধ্বে  তখন  বটের ঝুড়ির মত ভিড়ে হারিয়ে যাবে, 

সেদিন  একই গলি কিংবা  রাজপথে  একই আকাশে সামিয়ানা নিচে একই পলাশ পরবে কিংবা গাং চিল আর গংগার ঘাটের আগন্তুক  স্টিমারের  অপেক্ষা  থাকবে সময়  অথচ তুমি আমি আমরা হয়ে নয় দুটো  অপরিচিত পাশাপাশি  , 
সেখানে না থাকবে ভালবাসি শব্দের বন্ধন না থাকবে মন্দবাসার আখর। 

#সই(বহু মাইলস্টোন  পেরিয়ে)






মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩

মধুদি (৫)

নৈঃশ‌ব্দের হলুদ খা‌ম খু‌লে  মধুদি  বৈ‌দিক আখ‌্যান পড়ছে, 
মদ্যপ  অমনিশা রাতের শারীরিক উন্মাদনায় আছড়ে পরা
খেলার পুতুলের মাথার সুতো তার হাতের মুঠোয়,, 
একদিন যে বেদনাটুকু  তার সম্বলের খুঁটে বাঁধা  ছিল আজ
সে সবটাই  পাশা উলটানো খেলার তুরুপের তাস। 

ভুমিকা  বদলে গেছে তার গল্পের অহংকারী  রাজারার, 
সে রাজা এখন  ফুটপাতের  শুয়ে থাকা ধুলো চাদরে ঢাকা
গন্তব্যহীন পথিক, 
 আর মধুদি  পাপ বিক্রি করে আগুন দরে ... ভিখারি  রাজা পাপ-জ্বরে গা পুড়িয়ে  মরে সম্পর্কের শেষ সীমানায়, 

মধুদি  আকাশ কেনে, জ্যোতস্না বিলোয়, 
সমুদ্র মন্থন  করে অমরত্ব  তুলে আনে  
অবাধ্য গোধূলির  আলো জ্বালিয়ে জীবনকে 
জল ফড়িং এর সাথে  মিশিয়ে নেয়, 

রাজার মুঠোয় সময় ফসকে যায়  ফসকে
যায়  নিষ্পাপ  প্রেম... অদ্ভুত  আগুনে পুড়ে যায় 
জৌলুশ সোমত্ত যৌবন  অমনোযোগী চুলের ভেতোর
সাদা বরফের হরফ জায়গা করে নেয়, 

মহাকাল তার দাঁড়িপাল্লায়  একদিকে রাজার ক্ষয়িষ্ণু জীবনের 
উত্তাপ  রাখে   অন্য দিকে  মধুদির অন্ধকার   সমুদ্রের  অতল বিষাক্ত মৃত্যু-শীতল এর ভেতর থেকে তুলে আনা কালো  মুক্তর
আলোর হাসি রাখল,
  
সমস্ত অসম্ভব  কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পারিজাতের বারান্দায় আমি উত্তরের  অপেক্ষায়  আগামীর দিকে তাকিয়ে থাকি  একটা  অন্যরকম  সকাল দেখবো  বলে।

#সই(মধুদি পর্ব)




রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩

আকাশের দিকে মুখ

মাধ্যাকর্ষণতত্ত্ব মেনে মাটি ছুয়ে ফেলছে গাছেদের 
ভালবাসা 
বাতাসে গোপন ষড়যন্ত্রের আলাপি কথাদের ফিসফাস, 

মৃত্যুর দিকে মুখ করে বেঁচে থাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে  রোজ রোজ 
এ নগরের সংবিধানের বসতবাড়ি 

বেঁচে থাকার উৎসবে আজো বৃক্ষ রোপন করে 
কেউ সবুজ আকাশমুখি কেউ কথা রাখতে ব্যার্থ। 

#সই(আকাশ দিকে মুখ)




বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৩

মরশুম কাব্য


সম্পর্কের কোনো  পূর্বাভাস  হয় না 
অজানা রোদ বৃষ্টি তে শরীর  মন পোড়ে ভেজে, 
আকাশের বুকে অস্থির মেঘেদের মতো  সবটুকু এই
আছে এই নেই।

গাছেদের বুকে গুটিপোকার দিনগোনা  মরশুম, 
সময়ের হাতে সময় নেই স্মৃতির ঘর খুলে মন কেমনের
চিলেকোঠায় দু দন্ড মন ঠাহর করে। 

জানলার কাঁচে শিশিরের ভাঙা গড়া খেলা চলে শব্দহীন। 
সম্পর্কের মাঝে বৃষ্টি নামে ঝাপসা হয়
বৃষ্টি  থামলে তুমি আমি কেন যেন  ভিষণ অচেনা 

কে ঈশ্বর কে ভক্ত  সবটুকু যেন একাকার। 

#সই (মরশুম কাব্য)


সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০২৩

বাইশে শ্রাবণ

তোমার না থাকা জুড়ে আছে সবটুকু  থেকে যাওয়া 
তোমার না থাকা  ঝরে পরে শ্রাবণী  কান্নায়, 
 তবু এ বিশ্বচরাচরের  তোমার থাকা  চিরন্তন,, 
তুমি আছো তাই আমরা আজো সুখের লাগি 
দুখের লাগি শোকের  লাগি প্রেমের অপ্রেমের
বন্ধনের ও বিচ্ছেদের লাগি বাচিঁয়ে রাখি জন্ম।

আজ এ বাইশে শ্রাবণ  তোমায়  সাজায় মালায়
চন্দনে, 
রবি তুমি ঘুমিয়ে থাকো চোখের  বাইরে
রবি তুমি সদা জাগরিত আমাদের অন্তরে 
 লহ প্রণাম এ নিতান্ত  হৃদয়ের

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০২৩

যে বৃষ্টি ভেজায় আগুন ধারায়

ঝরে পরা বৃষ্টিতে মুক্তির খবর ... খবর 

নিভে যাওয়া  আগুনের বুক ছুয়ে থাকা স্পর্শর, 

বাড়িএ ছাদে মাধবিলতার অন্তরালহীন  স্নান 

মন শরীর  ধুয়ে দিচ্ছে... ধুয়ে দিচ্ছে জ্বরের

গভীরে  লুকোনো  সমস্ত  অহংকার। 


বুক থেকে নদীর  কিনারের দুরত্ব বাড়ছে, 

কাল সকালের অভিমানী  সূর্য  তোমার আমার

দূরত্ব বাড়াবে আরো কিছু যোজন , 

এপারের বুক ভাংচুর  শব্দেরা  নিয়মের শহরে নিজেকে

হারাবে আরো বেশি করে, 

ফেলে যাওয়া  পুরোনো  বাড়ির জানলার শার্সিতে হয়তোবা 

মুখ লুকিয়ে কয়েক ছত্র অপেক্ষা  ঝুলতে থাকবে উদাসীন হয়ে,,

জানি আজকের পর মন রোজ কোনো  না কোনো  অজানা 

বৃষ্টিতে ভিজবে একা একা 

আর তুমি ও আমি আলাদা আলাদা চোতুষ্কনে 

নিজের দাহ করবো  খুব সন্তপর্ণে। 



#সই(যে বৃষ্টি  ভেজায় আগুন ধারায়)




রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৩

সম্ভাবনা

১) পাখি


চাওয়া টুকু  জুড়ে  শুধুমাত্র এক টুকরো  আকাশ , 

একটা  ডানা যার ওপর  বিশ্বাস রাখা যায়,   

ক্লান্ত  সফরের শেষে নীড়ে ফিরে একটুকরো 

স্পর্শ নাম আশ্রয়, 

শর্তের শহরে  আকাশ মেলে শর্ত রেখেই  


 তাই এ শহরের আকাশের গায়ে মৃত্যুর গল্পেরা ভারি মেঘের ভুমিকায় ভেসে বেড়ায়। 




২)নীল

শরীর এর শরিকে এখন বিষ 

অন্ধকারে মুখ গুঁজে  আলোর সঙ্গে  পরবাস তাই।

আমি দরজার  হাতলে বিষ মাখিয়ে  রেখে  

এ অন্তরমহলে  অতিথি  প্রবেশ  নিষিদ্ধ করেছি  বহুকাল। 





৩)সম্ভাবনা 

জানলা বন্ধ...  অসূর্যম্পশ্যা  হতে চেয়েছে  মন

হারাবার জন্যে শামুকের খোলসে আশ্রয়  কিনেছি 

বিকিয়ে বহু রত্ন।

আয়ুপথ কমে আসে প্রতিটা জন্ম দিন আসলেই 

আর সম্ভাবনা  কমে আসে আমাদের দেখা হতে পারা

গল্পের মুখোমুখি  হওয়া। 

#সই(সম্ভাবনা) 


আশ্রয়


হৃদয় আশ্রয়  চায়  আর সেটুকু  পেলেই

লতিয়ে বেড়ে ওঠে নিজস্ব বারান্দা  বেয়ে আকাশের দিকে,

হয়তো  সে আশ্রয়ের নিবে লুকিয়ে রাখা থাকে লুকোনো 

মৃত্যুর যন্ত্রনা , পাঁজরের  বেড়াজালে স্মৃতি গুঁজে রাখা থাকে

ফেলে আসা বেলার...  সে স্মৃতির রঙ সূরজ কা সাতবা ঘোড়ার মতই,  শেষতক থাকে রঙ বদলিয়ে বদলিয়ে। 



আশ্রয়ের কি মৃত্যু  ঘটে জানা নেই!   জানা নেই

মানুষের  বুকের মাঝে কেনোইবা কখনো হু হু বাতাসে

মেঘ জড়ো করে আনে,

আশ্রয় এর মৃত্যু  হলে ভালো  কিংবা মন্দ থাকার উর্ধ্বে 

মানুষ  ভেসে যায়  কিংবা ডুবে যায়  তথাগতর ধ্যানের ভেতর, 

এতো কিছুর পরেও মানুষ চায় তার আশ্রয় হোক পৃথিবীর  আয়ুর সমান। 

#সই(আশ্রয়)






শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০২৩

তুমি থাকো বা না থাকো


জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে কেবল সম্পর্ক 

বেঁচে  থাকে... 

বেঁচে  থাকে টানাপোড়েন ভেতোরে অজস্র

মোহের গিঁট , 

তুমি হয়তো  নিজের ভেতোরের হাঁড়ির  খবর টের পাওনা 

প্রতিবেশী তোমার পান্তার পাশের নুনের হিসেব রাখে, 

দরজার ওপাশে ইঁট সাজানো মাকান আদেও ঘর কিনা সেটা

বড় কথা নয় দরজার এপাশে নেমপ্লেটের ওপর  তোমার নামটুকু আসল,, 

আসলেই একটা  মানুষ  আমরণ কোনো বা কোনো  সম্পর্কের

দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ... সে সম্পর্কে  নিজের থাকাটা জরুরি  নয়, জরুরী  সম্পর্কটা, 

আসলে এই থাকা গুলো বড্ড  ঠুনকো কাঁচের মত, 

আসলে এই থাকা গুলোয় বেশির ভাগ  সময়  না থাকা

সারংশ। 

জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে  কেবল কিছু সম্পর্কের হাত ধরা

আর ছাড়া... সে তুমি চাও বা না চাও , সে তুমি থাকো বা না

থাকো।

#সই (তুমি থাকো বা না থাকো)



 

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩

সাথে পাশে সমান্তরালে

কাছে থাকা পাশে হাঁটা কিংবা  সমান্তরালে 

চলা  জীবন শৈলীর নিরব ধারা,, 

চোখ  তাকায়  আর বুক আশায় ভরে, 

হ্রদ কান্নার দায় তবু চোখেরই থাকে। 

সংজোগের আঁতুড়ঘর  আগলে থাকে না

পথ,  আর বিচ্ছেদের  শোকে জীবন পুড়ে যায় না। 

সকালের  চায়ের সাথে জীবন  হাসে সূর্যমুখির মত

বিকেলে  সে জীবন  প্রৌঢ়বয়সী, 

তুমি আমি বদলাই না কখনো  বদলায় এ দেহ আর পোশাক। 


#সই(সাথে পাশে সমান্তরালে) 

মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩

পোশাকের আড়ালে শহর

পোশাকের আড়ালে এ শহর চেনা হয় রোজ

গলির পাকদণ্ডীতে তবুও  অচেনা  অভ্যাস  আর

যন্ত্রনার  সাতকাহন   নিশ্বাস নেয়,, 

রোজ নতুন পোশাকে ওরা মানুষের  মত 

রোজ নতুন আদপে ওদের নিয়ম পরিবর্তিত,

আকাশ লজ্জা পায় ঈশ্বর  কাঁদে  চেনা মানবতার 

অচেনা  পরিচয় এর সামনে দাঁড়িয়ে । 


বয়সের মাঝখানে  দাঁড়ানো  লোকটা ক্যানভাসে 

রঙ তুলির আঁচড়ে নিয়ম ভাংচুর  করতে চায় প্রতিদিন 

অথচ হিসেবের বাইরে অনিয়মে ছুঁয়ে যায় যায় কিছু প্রিয় মুহূর্ত কিছু আফসোস সে ক্যানভাসের বুকে ,, 

লোকটা  হাঁপিয়ে  ওঠে  সাঁতরে উঠতে চায় কিংবা  ডুবিয়ে 

দিতে চায় নিজেকে  নাকি আরো একবার নতুন পোশাকে এ শহরের  মত অচেনা  হয়ে ভিড়ে মিশে যেতে  চায়...।। 


#সই(পোশাকের আড়ালে  শহর)



প্রতিকি আমি


 

অবিরাম  বৃষ্টির ভেতর গিয়ে  দাড়াই 

আমি  নিজেকে  নিজের  কাছে অপরিচিত  মনে হয় সে বৃষ্টির

ভেতর, 

সামাজিক  গন্ডি বাঁধা  এ পরিচয়  পাঁজরের 

বেড়ার ওপাশে  ধিক ধিক আগুন ঘুমোয়,

সুখ ও শোকের স্পর্শ  অনুভবে  মেলে না, 

সম্পর্কের চোখে  একটা  হাসি দেখি বিদ্রুপ এর অলংকরণে।


সময়ের আলো এসে পরে সাদা বরফের  ওপর 

ঈশ্বর  আর আমি মুখোমুখি  অচেনা সফরে  অজানা 

বৃষ্টির ভেতর মাইল ফলকে  স্বাক্ষর  রাখছি,, 

অবিরাম  নিজের মোহের ভেতর ডুবছি ভিজছি 

যেন সম্মহিত আমি আমার ঈশ্বর দ্বারা। 


#সই(প্রতিকি আমি)

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

শেষ বার

হঠাৎ বৃষ্টি  নামলে তুই সামনে  এসে 
আর বলিস না আয় ছই এর নিচে দাঁড়াবি আয়,
শেষ  আশ্রয়  হাওয়ায়  হারায়  বুকের মাঝে
আগুন নেভা কালো  অসুখ, 
বৃষ্টির জল চোখের উপত্যকায়  ঘর ভাঙা ভাসান,, 
কেউ কথা  দেয়নি তবু আশায় সাজানো  মাহফিলে
হাস্নাহেনার হাসির জন্ম হয়,

আমি জীবন শৈলী  ফেলে সমস্ত  অস্ত্র নিচে রেখে ফিরতে  চাই
আমি সমস্ত  দরজার চৌকাঠ ছেড়ে তুমুল  বৃষ্টিতে ভিজতে  চাই একা,, 
কথারা শব্দের  ঘর ছেড়ে  যেতে  চায় 
মন নির্বাক সময়ের বৃষ্টিতে আপামর শেষবার ভিজতে চায়,
শেষ  বাস চলে যাবে আমি আমি শেষ বার শেষ  যাত্রী 
সে বাসের।
আমার আগুন নেভাক এ শহরের সব ধুয়ে দেওয়ার অংিকার
এ বৃষ্টি। 

#সই (শেষ বার)



মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩

enjoy your life

enjoy your life before its melts 

প্রাক্তন =মৃত্যু


নিথর দেহ পুড়লে আগুনের স্পর্শ বোঝা যায়  না, 
সব ফুরিয়ে যাওয়ায় এক অদ্ভুত  আবিষ্কার 
চুপ করে দাঁড়িয়ে  দেখে আয়নার মত, 
খালি গ্যালারিতে মঞ্চায়ন হয় অদ্ভুত আশ্চর্য আর
আফসোস , 
স্মৃতিকে সকলেই বর্তমানে  আশ্চর্য ভাবে যত্ন করে রাখে 
সাজায় লালন করে... অথচ  দৃশ্য গুলোকে প্রাক্তন বলতে
ভালবাসে! 
নালিশ  ফুরিয়ে যাওয়া মুহুর্ত গুলোর নাম আসলে মৃত্যু 
আধিকার মুছে ফেলা মুহুর্ত  গুলো আসলে সাদা কাপড়ে
ঢেকে ফেলা সম্পর্ক , 
ভুলতে ভুলতে  হঠাৎ মনে না পড়ার একটা  সকাল
কিংবা বিকেল  আসলেই দৃশ্যের বাইরে হারানো... নাম মৃত্যু,
অথচ আকাশের মৃত্যু  আর পাখির মৃত্যু  এক না হয়েও এক
পাখিই যদি না থাকে আকাশ এর ভুমিকা কোথায়? 

#সই (প্রাক্তন =মৃত্যু) 



জ্বরের ঘোর

জ্বরের ঘোর

ভীড়ের  ভেতোর হঠাৎ হঠাৎ  তুই সমুখে এসে প্রশ্ন চিরকুট 
গুঁজে দিস, অপেক্ষার ছায়ায়  দাড়িয়ে  চিরকুট খুলে দেখি
সেখানে পুড়ে যাওয়া কাঠের কালিতে লেখা মন শরীর 
আর বোধ এর সাথে ভাল থাকার প্রশ্ন। 
সময়ের ঘরে ফেরা হয় না কারন সময় পাখির মত
ঘরে ফেরার রাস্তা মনে রাখে না, আর প্রায়শ্চিত্ত শব্দটা 
কেবল একটা সান্তনা , এ শব্দে ইঁট আবার নতুন  করে গাঁথা 
যায়না, 
স্বর্গ দুয়ারে আলোর নিচে নীল কিংবা  গোলাপি 
আলোর দফনে একটা মৃত্যু ভিষণ রকম জীবন্ত, 
অথচ মানুষের মোহ উপরের পোশাকের সলমাচুমকির
রোশনাইতে, 
দিন পেরোলে চামড়ায় লেগে থাকা অজানা 
পাপ অসুখের মত অন্তর  সেঁধিয়ে যায়, 
হৃদয়ের ভায়োলিনে তখন  ইমন কল্যানে  অভিমান 
আর আয়নায় অচেনা  প্রশ্নকর্তা,, 
এমন সময় কুঁকড়ে ওঠে  হৃদয় আর অদৃশ্য  সেতুটা 
কালের কুয়াশা সরিয়ে হাতড়ে বেড়ায়, 
মিথ্যে অভ্যেস বদলে যায়  বেঁচে থাকার গল্পে, আসলে
আলোর দিকে হাঁটার নেশায় বুঁদ হয়ে তুই ভুলে গেছিস মরিচীকা 
আর আলোর  তফাৎ, মরিচীকা আর আলো একই দেখতে 
একটা স্পর্শ করা যায় আর একটা....। 

#সই(জ্বরের ঘোর)



শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩

জন্মের দায়



মানুষ  হোঁচট  খায় তবু সে রাস্তাকে বিশ্বাস 

করে, 

মানুষ মৃত্যু  কে জানে তবু জন্মের কথাকে উৎসব মানে, 

মানুষ  জানে ঘুম ভাংগার পর স্বপ্নেরা ছুমন্তর ... তবু

রোজ রাতে সে একটা  সহবাস খুঁজে ফেরে রুপকথার দেশের।

সব সত্যি গুলো  মানুষ  জানে  তবুও রোজ

হাজারো  কিস্তিতে  নিজের সামনে  নিজেই কাঠগড়ায়  

দাঁড়িয়ে থাকে নিরুত্তর  হয়ে থাকা এমন অসংখ্য 

প্রশ্নের  সামনে। 

মানুষ  মাথা নিচু করে  অদৃশ্য  হাত পেতে দাঁড়ায়  

মহাকালের সামনে  , ফিরতে চায় তার শুরুতে 

অথচ মহাকাল ঘড়ির কাঁটায় কেবলমাত্র 

আগামী টুকুই বরাদ্দকৃত রাখে, 

তবু যেকোন মৃত্যু কোনো না কোনো  জন্মের ছাড়পত্রর

পরেই ফলকনামায় লেখা হয়

আর একটা  মৃত্যুর  পর মানচিত্র বদলে যায় 

বদলে যায় অনেক নিয়মিত অভ্যেস। 


#সই(জন্মের দায়)