বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৩

মন্দবাসা

মন্দবাসা
********

তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি ঠিকানা ছেড়ে অনেক অনেক দূরে চলে এসেছিলাম ক্রমশ... , গাছেদের পাশ কাটিয়ে হারালো পথ, 
স্রোত সাক্ষি রেখেছিলাম,   সাক্ষি রেখেছিলাম আসমান, 
গাছেদের পাতার রেখার সাথে আমার হাতের রেখা ও আমি তোমার গহিনে  পথ হারালাম, 

 কোন  এক নতুন বর্নের  মেঘ বদলে দিলো আকাশের নিশান, 
নদী বক্ষ লুকিয়ে ফেলেছিলো  স্রোত  সক্ষতা। 

প্রতিটা গাছ একই রকম দেখতে,   প্রতিটা পথে ফেলে আসা আজস্র পায়ের চিহ্ন দেখতে একই রকমের , 

তোমার  ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে যে শব্দের কাছে  আমি বান্ধব বর্নে ঋনী হয়েছিলাম... তারা এই গহিনে হাতছাড়া হলো এবার। 

অজয়ের বুকে মোহ ভাসিয়ে  ঘোর জ্বর গায়ে  ঘরে ফিরেছি যখন,

 মনে হলো  আমার আত্মজ শব্দেরা  যারা  কিনা হারিয়ে গেলো গহিনে,     যাদের  মোহ ভাসিয়ে এলাম  অজয়ের বাউল স্রোতে,
 তারা কি পথ চিনে ফিরবে কখনো ?
 মন মুচড়ে উঠলো হয়তো... হয়তোবা চোখ  জ্বালা করে উঠলো  এক মুহুর্ত। 
তোমায়  বললাম চল ওদের  ফিরিয়ে আনি... ওরা যদি  পথ চিনে  ফিরতে না পারে!  তবে যে ওদের ছাড়া অসমাপ্ত আমার মন্দবাসার উপন্যাস । 

গেলাম   ...সে প্রান্তর  ছাড়িয়ে গহিনে আরো গহিনে আরো গহিনে, 
যেখানে গাছেদের সব পাতার বুকে আমারই  হাতের  রেখা,  যেখানে নদী, স্রোত,  পথ, আলো, অন্ধকার পারিজাতীয় সংগমরত  সমস্ত দৃশ্যেরা ভীষন ভাবে  জাগ্রত , 

অথচ আমার শুন্যতার ফ্রেমে সে সব মোহন  দৃশ্য বেঁধে রাখার 
সামান্য আকুতি নিমেষে  উধাও, তারা আর নেই, 
নেই অসমাপ্ত  উপন্যাসের কিসমতের ভয়। 

দুদন্ড দাড়িয়ে  ভাবতেই  বুঝলাম
তোমার ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে  আমি কখন  জেনো তোমাকেই  পেছনে ফেলে অনেকগুলো  অদৃশ্য মাইল পার করে ফেলেছি, 

 এখন অজয়ের ব্যাস্ত  স্রোত,  গাছেরদের সারি সারি বিলিকাটা পথ, ওদের পাতার রেখার মত আমার হাতের রেখাতে তোমার অস্তিত্ব নেই। 
আমার এতকালের মন্দবাসার উপন্যাসের পাতায় অদ্ভুত  অকাল বর্ষনে একটা  অক্ষরও আর নেই, 
মন্দবাসার খাতাটা আদ্যোপান্ত একেবারে  সাদা।

#সই

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন