বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৩

সই(৫২)

অনুভূতিগুলো  মরে গেলে রয়ে যায়  যুক্তি আর তর্কের  পাঁচিল 
আজ যেটা  স্রেফ  ভালবাসা   বলে সাথে থাকা 
কাল সেটা  শুধুই বোঝাপড়ার যাপন ।
#সই

সুবর্ণা (১১৭)

আজ আর নিজের ভেতোরে  হাতড়ে দেখতে  সাহস হয় না,
তোমাকে  ভালবাসার  দু একটা  ভাঙা  টুকরো  এখনো  
আনাচে কানাচে পড়ে  আছে কিনা।।

তোমার কি মনে আছে সুবর্ণা  এক সময়  এক বিঘে বন্ধ্যা 
জমির সাথে তুমি নিজেকে  তুলনা করেছিলে  আর আমি মুহুর্ত  না ভেবেই হাজার ফার্লং স্রোতম্বিনী নদী তোমার নামে
উৎসর্গ  করেছিলাম, 
আসলে মানুষের  জীবনের সাথে জুড়ে  যাওয়া  সব সম্পর্কর গড়া ও ভাঙা  তার নিজের ইচ্ছার  ধার ধারে না সবসময়। 

তুমি আমাতে জুড়ে  যাওয়ার  আগের  মুহুর্ত অবধি 
ঈশ্বর  ও শয়তান কোনটাতেই আমার বিশ্বাসী  ছিলোনা,
মানতাম না নরক স্বিকার করিনি স্বর্গ, 
 অথচ তুমি জুড়ে  যাওয়ার  মুহুর্ত  থেকে এ মন মস্তিষ্কের  স্থিরতার অবস্থান  বদলে দিলে, 
পাওয়া চাওয়ার মোহে যাবতীয়  সংস্কারে ঘিরে ফেললাম নিজের বলয়... স্বার্থর সুতোয আঙুলে পেঁচিয়ে ফেললাম,,

একসময়... 

সময় মরসুম বদল করতে করতে আমরা থেকে তুমি ও আমি 
প্রাক্তনের ভুমিকা আশ্রয়  পেলাম 
 রোদ মাখা কুয়াশার  মধ্যে  ধিরে ধিরে  মিশে গেলো  কোনো   এক অতীত  সুখের অসুখ গুলো , 
অচেনা ভাষার  মতো  দুর্বোধ্য চিহ্ন  মুছে  দিলো কোনো এক অতীত প্রহরে সারল্যকে, 
পাঁজরের হাড়ে  গুঁজে রাখা পাহাড়  ঝর্না  কাঁচের  ঘরের কবিতা ক্যানভাস  রঙ তুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে  হারিয়ে গেলো 
নাটকের আলোর রোশনাইয়ে... মুছে গেলো আত্মিক আমাদের ঐকান্তিক সব ছবি,,

 বুঝলাম সময়ের সাথে সাথে কিছু জিনিস হয়তো মুছে  গেলেই ভালো । 

#সই (সুবর্ণা  অতীত সুখের অসুখ) 

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

সত্যি মিথ্যের গল্প

সত্যি মিথ্যের গল্পে



রোজ ঘুম ভাঙে একটা মুখ চোখের সামনে দাঁড়ানো... 
ছুঁয়ে  দেখতেই সে মুখ  ফুসমন্তর, 
বাসের ভিড়ে অচেনা সিটে চেনা মুখের  আদলে ফিরে
আসে...  ফিরে আসে অজস্র শব্দ জব্দের ভেতর , 
আমি একা হারিয়ে যেতে চাই অথচ  সেই মুখ আমার ছায়া
মাড়িয়ে চলতে থাকে কোনো না কোনো  বাহানায় 
 চোখ তুলে খুঁজে ফিরি  সে মুখ   বেঁচে থাকার সংকল্পে কোথাও নেই। 

একটা  মুখ  আমার অভিমান  জুড়ে  ছবি আঁকে 
একটা মুখ আমার একান্ত  একলা বেঁচে থাকায় ভুমিকায়
 প্রতি প্রহরে  পাহারা দেয়, 
 একটা  মুখের কান্না হাসিতে আমার গল্প তবু
আমার গল্পে আমি ছাড়া রবিঠাকুর  সুনীল বাবু 
 শক্তি বাবু সকলের গল্পেরা ভিড় জমায়  আমি দর্শকের  আসনে স্পটলাইটের উল্টো দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকি। 

একটা মুখ আমার অপেক্ষাকে গৃহহীন  করে নিজে
অপেক্ষার বাসস্ট্যান্ডে রোজ দাঁড়িয়ে  থাকে, 
একটা মুখ  যাতায়ত এর সেতু ভেঙে  দিয়ে 
অন্য পারে আমি-হীন  ছায়াগল্পে সেতু জোড়ে শব্দ দিয়ে।

সব জেনেও   ও মুখের আদলে 
আকাশে তারাদের জুড়ে যায় একটা  ছলছল চোখ, 
সব মিথ্যে জেনেও দাবা খেলায় একটা  গোপন  জিতে যাওয়ার গল্পের  দিকে তাকিয়ে থাকে একটা  চোখ, 
লুকোনো   দু:খ মিথ্যে সত্যি দেখতে  চায়  না  সে চোখ শুধু
দেখে ... সমস্ত থাকা না থাকা জুড়ে  ঈশ্বর বোধহয় কেবল থেকে যাওয়ার  গল্পটুকুই আমাদের  লিখতে  শিখিয়ে দেয়।

#সই (সত্যি মিথ্যের গল্পে)




সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩

নাম তার বেচেঁ থাকা

মৃত্যু গড়িয়ে নামছে কিস্তিতে  হাজারো 
চোখের  এজলাসে , 
পেঁজা তুলোর মেঘে প্রেমিকার খোলা চুলের কবিতা
ভেসে  বেড়ায়  মন ছুটে  যায়  সেদিকে 
অথচ ওই চোখে আর খোলা চুলের ভেতোর  একটা  নিশ্চিন্ত 
ঘুমের জরুরতই ছিলো খুব। 

 পথের শেষের মাইলস্টোনের সংখ্যা  
মানুষ  জানে না তার নাটকের  পর্দা  নেমে আসার সময়
মানুষ  কেবল জানে জন্ম মৃত্যুর মাঝে মঞ্চস্থ হতে ,,
সব ছক আগে থেকেই সাজানো সব খেলা হার জিত সব আগেই নিশ্চিত তবু কারো খেয়ালের খেলায় পুতুল খেলায় সামিল ...নাম তার বেচেঁ থাকা।.

#সই


বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩

বহু মাইলস্টোন পেরিয়ে

বহু মাইলস্টোন  হাঁটার পর তোমার বলতে;না পারা কথারা
হয়তো  অচেনা লাগবে  এক আকাশের তলায় প্রতিজ্ঞা গুলো 
তখন মৃত শব, 
হয়তো বা  কোনো এক এপিটাফ এর কাছে তুমি মাথা নত করে ভাববে ইস কেনো সেদিন আলাদা কোনো অন্য স্টেশন  বেছেছিলে..., 
এক দিন যত্নের  স্পর্শ  বরফের  দেশ পার করে হয়তোবা 
ছুমন্তর  কোনো অজানা মানচিত্রে   
আর সে দেশে নেই কোনো মুঠোফোনের সিগন্যাল। 

না বলা কথারা বানানবিহীন অথচ বুকের যন্ত্রনার কারন হবে সেদিন 
না বলা কথারা বজ্রপাতের বৃষ্টি  ধোয়া স্রোত সেদিন
না বলা কথারা নিকোটিনে পুড়তে পুড়তে ক্যান্সার আক্রান্ত
কোনো হাসপাতালের বেডে অচেনা সফরে  সামিল সেদিন, 

 যে মনে কথাদের বাস ছিলো সে মনের দেওয়ালের ইঁট সুরকি 
 হাজারো হারানো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে মিশে যাবে সেদিন, 

আসলে ক্ষতের থেকে রক্তক্ষরণ  হতে হতে  ফুরিয়ে যাওয়া সময়  কোনো জাদুদন্ডের স্পর্শ  কিংবা কোনো
অমল তাসের তথাস্তু  মন্ত্র শুনতে পায় না । 

 বহু মাইল স্টোন  পেরিয়ে না বলা কথা গুলো  সত্যি 
মিথ্যের  উর্ধ্বে  তখন  বটের ঝুড়ির মত ভিড়ে হারিয়ে যাবে, 

সেদিন  একই গলি কিংবা  রাজপথে  একই আকাশে সামিয়ানা নিচে একই পলাশ পরবে কিংবা গাং চিল আর গংগার ঘাটের আগন্তুক  স্টিমারের  অপেক্ষা  থাকবে সময়  অথচ তুমি আমি আমরা হয়ে নয় দুটো  অপরিচিত পাশাপাশি  , 
সেখানে না থাকবে ভালবাসি শব্দের বন্ধন না থাকবে মন্দবাসার আখর। 

#সই(বহু মাইলস্টোন  পেরিয়ে)






মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০২৩

মধুদি (৫)

নৈঃশ‌ব্দের হলুদ খা‌ম খু‌লে  মধুদি  বৈ‌দিক আখ‌্যান পড়ছে, 
মদ্যপ  অমনিশা রাতের শারীরিক উন্মাদনায় আছড়ে পরা
খেলার পুতুলের মাথার সুতো তার হাতের মুঠোয়,, 
একদিন যে বেদনাটুকু  তার সম্বলের খুঁটে বাঁধা  ছিল আজ
সে সবটাই  পাশা উলটানো খেলার তুরুপের তাস। 

ভুমিকা  বদলে গেছে তার গল্পের অহংকারী  রাজারার, 
সে রাজা এখন  ফুটপাতের  শুয়ে থাকা ধুলো চাদরে ঢাকা
গন্তব্যহীন পথিক, 
 আর মধুদি  পাপ বিক্রি করে আগুন দরে ... ভিখারি  রাজা পাপ-জ্বরে গা পুড়িয়ে  মরে সম্পর্কের শেষ সীমানায়, 

মধুদি  আকাশ কেনে, জ্যোতস্না বিলোয়, 
সমুদ্র মন্থন  করে অমরত্ব  তুলে আনে  
অবাধ্য গোধূলির  আলো জ্বালিয়ে জীবনকে 
জল ফড়িং এর সাথে  মিশিয়ে নেয়, 

রাজার মুঠোয় সময় ফসকে যায়  ফসকে
যায়  নিষ্পাপ  প্রেম... অদ্ভুত  আগুনে পুড়ে যায় 
জৌলুশ সোমত্ত যৌবন  অমনোযোগী চুলের ভেতোর
সাদা বরফের হরফ জায়গা করে নেয়, 

মহাকাল তার দাঁড়িপাল্লায়  একদিকে রাজার ক্ষয়িষ্ণু জীবনের 
উত্তাপ  রাখে   অন্য দিকে  মধুদির অন্ধকার   সমুদ্রের  অতল বিষাক্ত মৃত্যু-শীতল এর ভেতর থেকে তুলে আনা কালো  মুক্তর
আলোর হাসি রাখল,
  
সমস্ত অসম্ভব  কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পারিজাতের বারান্দায় আমি উত্তরের  অপেক্ষায়  আগামীর দিকে তাকিয়ে থাকি  একটা  অন্যরকম  সকাল দেখবো  বলে।

#সই(মধুদি পর্ব)




রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩

আকাশের দিকে মুখ

মাধ্যাকর্ষণতত্ত্ব মেনে মাটি ছুয়ে ফেলছে গাছেদের 
ভালবাসা 
বাতাসে গোপন ষড়যন্ত্রের আলাপি কথাদের ফিসফাস, 

মৃত্যুর দিকে মুখ করে বেঁচে থাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে  রোজ রোজ 
এ নগরের সংবিধানের বসতবাড়ি 

বেঁচে থাকার উৎসবে আজো বৃক্ষ রোপন করে 
কেউ সবুজ আকাশমুখি কেউ কথা রাখতে ব্যার্থ। 

#সই(আকাশ দিকে মুখ)




বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৩

মরশুম কাব্য


সম্পর্কের কোনো  পূর্বাভাস  হয় না 
অজানা রোদ বৃষ্টি তে শরীর  মন পোড়ে ভেজে, 
আকাশের বুকে অস্থির মেঘেদের মতো  সবটুকু এই
আছে এই নেই।

গাছেদের বুকে গুটিপোকার দিনগোনা  মরশুম, 
সময়ের হাতে সময় নেই স্মৃতির ঘর খুলে মন কেমনের
চিলেকোঠায় দু দন্ড মন ঠাহর করে। 

জানলার কাঁচে শিশিরের ভাঙা গড়া খেলা চলে শব্দহীন। 
সম্পর্কের মাঝে বৃষ্টি নামে ঝাপসা হয়
বৃষ্টি  থামলে তুমি আমি কেন যেন  ভিষণ অচেনা 

কে ঈশ্বর কে ভক্ত  সবটুকু যেন একাকার। 

#সই (মরশুম কাব্য)


সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০২৩

বাইশে শ্রাবণ

তোমার না থাকা জুড়ে আছে সবটুকু  থেকে যাওয়া 
তোমার না থাকা  ঝরে পরে শ্রাবণী  কান্নায়, 
 তবু এ বিশ্বচরাচরের  তোমার থাকা  চিরন্তন,, 
তুমি আছো তাই আমরা আজো সুখের লাগি 
দুখের লাগি শোকের  লাগি প্রেমের অপ্রেমের
বন্ধনের ও বিচ্ছেদের লাগি বাচিঁয়ে রাখি জন্ম।

আজ এ বাইশে শ্রাবণ  তোমায়  সাজায় মালায়
চন্দনে, 
রবি তুমি ঘুমিয়ে থাকো চোখের  বাইরে
রবি তুমি সদা জাগরিত আমাদের অন্তরে 
 লহ প্রণাম এ নিতান্ত  হৃদয়ের

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০২৩

যে বৃষ্টি ভেজায় আগুন ধারায়

ঝরে পরা বৃষ্টিতে মুক্তির খবর ... খবর 

নিভে যাওয়া  আগুনের বুক ছুয়ে থাকা স্পর্শর, 

বাড়িএ ছাদে মাধবিলতার অন্তরালহীন  স্নান 

মন শরীর  ধুয়ে দিচ্ছে... ধুয়ে দিচ্ছে জ্বরের

গভীরে  লুকোনো  সমস্ত  অহংকার। 


বুক থেকে নদীর  কিনারের দুরত্ব বাড়ছে, 

কাল সকালের অভিমানী  সূর্য  তোমার আমার

দূরত্ব বাড়াবে আরো কিছু যোজন , 

এপারের বুক ভাংচুর  শব্দেরা  নিয়মের শহরে নিজেকে

হারাবে আরো বেশি করে, 

ফেলে যাওয়া  পুরোনো  বাড়ির জানলার শার্সিতে হয়তোবা 

মুখ লুকিয়ে কয়েক ছত্র অপেক্ষা  ঝুলতে থাকবে উদাসীন হয়ে,,

জানি আজকের পর মন রোজ কোনো  না কোনো  অজানা 

বৃষ্টিতে ভিজবে একা একা 

আর তুমি ও আমি আলাদা আলাদা চোতুষ্কনে 

নিজের দাহ করবো  খুব সন্তপর্ণে। 



#সই(যে বৃষ্টি  ভেজায় আগুন ধারায়)