শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১

কবি আর আয়ু লিখো না

কবি তুমি আর আয়ু লিখো না .....
এবার থেকে রোজ একটা মৃত্যু লিখে রেখো সময়ের ফরমান , 
এবার থেকে সৃষ্টি নয় কবি এবার শুরু করো  ধ্বংস লেখা , 
এবার আর তুমি ভালোবাসা লিখো না বড্ড সস্তা আর মিথ্যে  হয়ে গেছে কলম আর ভালোবাসা দুটোই ...এবার সস্তা কলমের নিবে তোমার গর্ভবতী  পঞ্চাশতম প্রহসন লিখে রাখো ...যে দিন তুমি থাকবে না তোমার এক কোটি কবিতায় চিনবে তোমাকে পৃথিবী,   আর তোমার শব্দ জালের পেছনে একটা হত্যাকারীকেও চিনবে তোমার সন্তান তোমার আগামী ....।
কবি তুমি আর নারী লিখো না তোমার  সমস্ত নারী সময়ের প্রতারণার স্বীকার ...তুমি পারলে অভিশাপ কুড়িয়ে রাখো যত্নে এক জন্ম তুমিই যেন তোমার প্রতারণার নারী হতে পার , 
তারপর এস না হয় মুখোমুখি বসবে তুমি  তোমার কলম তোমার কবিতা আর সময় ।

দন্ড

উলঙ্গ রাজার আবার উলঙ্গ দেশ নিয়ে ভাবনা ,
যার নিজের বলতে কোনো দেশ নেই , যার নিজের বলতে কোনো বিশ্বাস নেই , 
যে বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস দুটোকেই যখন তখন বেশ্যার বিছানায় রাখে , সে নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে প্রেমিক হিসেবে , অথচ নিজের আয়না পরিষ্কার করা  শেখেনি আমার উলঙ্গ দেশের উলঙ্গ রাজা ,
চোখে নেশার ঠুলি আর  আর সময়ের দুয়ারে বিশ্বাস বিক্রি করে ভালোবাসা না শরীর কেন যায় ।
আসলে যে রাজা চির উলঙ্গ তার কাছে পোশাক আর তার মূল্য কোনোটাই তেমন কদর পায় না ,
গিলে ফেলা কাঁটা একটা বেয়াদব সময় মাত্র সে রাজা উজীর কাউকে মনে না , সে শুধু উলঙ্গ দেশে উলঙ্গ রাজার বাঁদর নাচেই খুশি ।
তবু দেশের কেউ কেউ জানে উলংগ রাজার সমস্ত অহংকার ভয় পায় সময়কে   ... কারণ সময়ের কাছে সাক্ষী কখনো হারিয়ে যায় না ।

হিসেব দিতে হয়

ঈশ্বর মৃত্যু আর কান্নার মাঝে মৌনতা লিখে যাচ্ছে ,
বিস্ময়ের নদীতে বইছে  ধ্বংস , তার আসন টলে গেছে ...তৃতীয় চক্ষু অন্ধত্ব মেনে নিয়ে গান্ধার মতে 
সম্বলহীন কলমের অধীনতায়   নিজেকে রেখে দিয়েছে ।
সময়ের প্রহসনে ভয় পাওয়া চেহারা গুলো নিজেকে লুকিয়ে ফেলার জন্যে ক্রমাগত অন্ধকারে মুখ ঢাকছে ....অথচ আলো সে পথ খুঁজে নেয় পাপ পূর্ন হিসেব না মেনেই ,
বারংবার অংক মিলিয়ে দেওয়া যায় না ....
বারংবার জিতে যাওয়া অহংকার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেও পারে না ....,
অথচ নিঃশ্বাসে বিশ্বাস আছে বলেই হত্যাগুলো সহজ হয়ে যায় .... ,
কথার পেছনে একটা নয় অজস্র দরজা থাকে ...
সব দরজা দেখতে একই হলেও  অবগুণ্ঠন এর আড়াল সরলেই চিনে ফেলা যায় দেওয়াল আর ইঁটের আসল পরিচয় , 
আসন থেকে নেমে এসে ঈশ্বর এসব কিছু কখনই দেখতে চাইবে না .... তবু কি কিছু বদলে যায় ! 
নাকি সময় উত্তর দেয় ....একবার না একবার সময় আয়না এনে সামনে ধরে আর প্রতিটা বুক ভাঙা কান্না কিংবা  মৃত্যুর হিসেব দিতেই হয় ।

জীবন আশ্চর্য

সেভাবে  চেনা হয় না  সমুদ্র,  হ'তেই  পার
জীবন আশ্চর্য এক মন্থনের নাম,
  আলো অন্ধকার... পিঠোপিঠি বাঁচে ,
জীবন আসে নিঃশব্দে একভাগে .....মৃত্যু আসে ভাগে.... নাটকের এক একটা অংক যেমন , ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে ক্রমশ সমস্ত অন্ধকার কান্ড পেরিয়ে একটা মুক্তি ।
 রাত্রির মানে বুঝিয়ে দেওয়া সম্পর্কে কথা ফুরিয়ে যায় ....অথচ আগুনে পুড়তে থাকে না বলা যন্ত্রনা ।
পাথুরে চোখে চেয়ে থাকা বিস্ময় ঘড়ির তিনটে কাঁটা কে সরতে দেয় না ,
 আগুন জ্বলে ওঠে... একের পর এক দাহ শেষ হয়,     অথচ লাশ ঘরে ভিড় কমে না ,
ঈশ্বর আর শয়তান মুখোমুখি নিরুত্তর থাকতে বাধ্য হয় কারণ সময় এসে মূল্য বুঝিয়ে দেয় ঈশ্বর তত্ত্ব আর এর শয়তান তত্ত্বের ।

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

ফিরে আসে ঊনত্রিশে এপ্রিল

হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো আর ফিরে আসে না 
তারিখ গুলো ছুঁয়ে যায় সময় মনে রেখে ,
প্রতিটা চলে যাওয়া ....বেঁচে থাকা কে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় , পুঁজ রক্ত শুকোয় না তারিখ ফিরে আসে তার আগেই , 
জন্ম আয়ুপথ পেরিয়ে  আকাশ ছুঁয়ে ফেলে .. জন্ম দাগ থেকে যায় জেগে থাকা কলজেতে ...
আজ আরো একটা ঊনত্রিশে এপ্রিল ....আগুন  নিভে গেছে শরীর ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেছে বছর বিশেকের আকাশে , 
 কিছু জীবন  ছোটো হয়েও  লম্বা গন্তব্যের জীবনকে ঢেকে ফেলে ....কাঁচের চুড়ি ,কাঁকন ,ফিতে ,ক্লিপ , আজও যে কোনো নদী ঘাটের শেষ সিঁড়িতে অপেক্ষায় থাকে , 
মন মানে না সে কথা .....যারা হারিয়ে যাওয়ার জন্যে হারিয়ে যায় তারা ফিরবে না , ,
আকাশ বাতাস জানিয়ে দিক শান্তির বার্তা ...জানিয়ে দিক হৃদয়ে রইলে ...বাইরে আলো নেই দৃষ্টি নেই তাই বাইরে নেই দেহজ চিহ্ন।

বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১

যত দূর চোখ যায় আমার শহরে

সময়ের মাঠে নিজের বাইরে ভেতরের যুদ্ধে মার্জিত অস্ত্র ফুরিয়ে যায় একদিন ।
আমি কিংবা আমারই মত দেখতে দুজন মুখোমুখি
পাথরের গায়ে নোনা চিঠি লিখে রাখি ,
অথচ মানতে চাই না যে এসব  চিঠি কখনও কোনো ঠিকানায় পৌঁছবে না,   কারণ  বুদ্বুদ
 ও ফেনার অক্ষর ডাকবাক্স নেবে না কখনো ।
দু আঁজলা জল দরকার ছিল  যুদ্ধ শেষ এই হাহাকারের  দিনে  ......, 
অথচ ভালো করে দেখলে দেখতে পাবে এ শহরে জ্যামিতিক চিহ্নের মত জলের পাইপ শরীর সেঁধিয়ে দিয়েছে প্রতিটা প্রথম, দ্বিতীয়, কিংবা তৃতীয় ব্রাকেডে  ....তবু  তৃষ্ণা নিবারণ করতে মানুষের মত দেখতে কিছু মুখোশ মানুষ ...জল চেয়ে বেড়ায় গরিব ব্রাহ্মণ সেজে ।
আজ চশমার কাঁচ জুড়ে নিঃশব্দ আর ছায়া ....যত দূর চোখ যায় ততদূর আমার শহর , আমার শহর আজকাল ভীষণ রকম ভালোবাসা হীন মৃত্যু অসুখে ভুগছে .....সিদ্ধার্থ তুমি চলে গেলে এমন ভালোভাষা হীন   মৃত্যু  অসুখে ..., অথচ তুমিই বলতে যুদ্ধ জয়ের কথা বাঁচার কথা ...তোমার ঠোঁটের কোনে হাসিতে ছিল জীবনের জয়গান ,,
আমরা কেউ সে জীবনের গান আর বাঁচার কথা মনে করে দিতে শুক্লা র পাশে দাঁড়াতে পারলাম কই ,, ওই যে কোনো কবি যেন দু কলম সত্তি লিখে রেখেছিল .....সাথে থাকা আর পাশে থাকা মোটেই একই কথা নয় , যা মুখে বলতে পারি ভালোবাসার মরসুমে তা করে দেখতে পারি কজন হাহাকারের দিনে ।
হারতে হারতে শুধু তুনির ছাড়া কিছুই তো সম্বল রইলো না ,, তোমার ছিন্ন ভিন্ন শরীরে  যে সব অন্তর্ঘাত জমেছিল ...আমরা কেউ তা জানতে পারলাম না ,
অদৃশ্য ফাঁসের আড়ালে তুমি শোক প্রস্তাব রেখে সে দিন চলে গেলে .....শুধু চুপ ঘরে রাখা থাকলো  যুদ্ধ শেষের অগ্রন্থিত কান্না ।
জানি না আমাদের আর ভালো থাকা হবে কিনা, শুক্লা আর কথা বলবে কিনা , রত্নার বাজার থেকে ঘরে ফেরার পথে  তোমার মত কেউ সামনে দাঁড়িয়ে বলবে কিনা ......চল আমি পৌঁছে দিই ,,
কারণ   সময়ের মাঠে নিজের বাইরে ভেতরের যুদ্ধে মার্জিত অস্ত্র ফুরিয়ে গেছে আমাদের ।



সফরনামা

জীবন বন্ধক রাখা সফরনামার ধারাবাহিক কিছু অধ্যায়ে ,
যাদের মনে হয় সফরের শেষেও থেকে যাবে হঠাৎ 
রাস্তা বদলে ফেলে তারা ...জীবনের কোনো দায় ছিলো না কোনো কালে কথা রাখার  , অথচ প্রশ্রয়ে একদিন বুকের পাঁজরে কারা জেন ঘরের বুনন বেঁধে দেয় .....আবার হওয়ায় সামিল ম্যারিওয়ানার নেশায় সে বুনন খুলে ফেলতে চায় ,, তির্যক ফলার ধারে ।
গেঁথে দেওয়া সফরে ফলকনামা থেকে যায়  চিরন্তন ....পেছনে ফিরে দেখলে শুধু ছাই  আর নষ্ঠ সময়ের বুকে জমে থাকা মহামারী দেখতে পাই ।
দশ তলা ছাদের কার্নিশে দাঁড়িয়ে নিজের ভেতরের বিস্ফোরণ জরুরী হয়ে পড়ে ......এই শহর এই তিলোত্তমা যা কিছু দিয়েছে .....নিয়েছে তারও বেশি ।
জীবনের কানাকড়ি খুঁজতে খুঁজতে জীবন ফুরিয়ে যায় তবু খোঁজ শেষ হয় না ,  ভুল প্ল্যাটফর্ম এ দাঁড়িয়ে ভুল ঠিকানার গাড়িতে চেপে বসে জীবন ,
 যেদিন সব ঠিক করে নেবো ভেবে হিসেবের খাতাটা চশমা পড়া মানুষটা খুলে বসেছিল হাতের মুঠোয় সময়ের বালি ফুরিয়ে গিয়ে একটা আফসোস ভরা শূন্যতার  বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়ে যায় ।

মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

সমীকরণ

পৃথিবীর সমীকরণে মানুষ গুলো একলা একলা 
হাঁটছে ...একলা নিজের বাগানে পুঁতে চলেছে সময়ের বীজ ,, অথচ সময় কখনও বলে দেয়নি 
যে বীজ রাখলো  মাটির দু হাত নীচে সে নিম ,কাঁটা গাছ , নাকি মিষ্টি কোনো ফলের ।
সমীকরণ এর শেষ সিঁড়িতে একদিন সেই গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে মানুষগুলি ভুল ঠিক এর কাঠ গড়ায় দাঁড় করায় নিজেকে সময়ের হাত ধরে ....।
বদলে যায় না কিছু শুধু সময়ের বুকে আবারও কোনো নতুন বীজ পুঁতে ভুল বা ঠিক গুলো সাজিয়ে নিতে হয় ,,
অপেক্ষা করতে হয় ঋতুর ছায়ায় দাঁড়িয়ে ।
 আমরা সবাই সময়ের দাসত্বে মাথা নিচু করে থাকতে ভালো বাসি ....তারপর একদিন ফেলে আসা সময়ের বুকে যে গাছটা আজ মহীরুহ তাকে কেটে ফেলে নিজেদের মত আকাশটাকে দেখতে চাই , 
বারংবার চেষ্টা করি উপড়ে ফেলা জমির বুকে যেন  গোপন শেকড় না থাকে ।
বারংবার চেষ্টা করি শুধু অতিথি ভেবে ওই শেকড় থেকে বেরিয়ে আসা জন্ম গুলোকে   এড়িয়ে যেতে।

আসলে মানুষ বুঝতে চায় না একবার জন্ম দিল ...
একটা দেহজ মৃত্যু ছাড়া সে জন্ম দাগ মুছে ফেলা যায় না ,............
মানুষ পৃথিবীর সমীকরণে একটা বাঘবন্দী খেলায় 
নিজেকে সামিল করে আর সে খেলা চলতে থাকে 
জীবনের উপান্ত আসা শেষ জলন্ত চিতা কাঠ চাপানোর আগে  লেখা উপসংহারে ।

অলিখিত গ্রন্থ(৮)

কিছুই  ভাগ করে নিতে চাই না আর 
 সে শীতলতাই হোক আর উত্তাপের জ্বর হোক ।
তুমি বরং নতুন অভিসারের গন্ধ মাখো ,  ঘুম না আসা রাত্রির. গুলো আমায় আর কোনো রূপকথা গল্প শোনাবে না ,

এসো... আজ বরং তোমার কুমকুম রঙের মেয়েটির  গল্প শোনাই...তার  একটি ছায়াঘর আছে তুমি জানো না হয়তো  ,.
 বামপন্থী চটিজুতো সেখানে লুকিয়ে রাখে সে , মাত্রারা সেখানে পিঠে সুতো বেঁধে উড়ে বেড়ায় ....।

তাই তুমি  দুটো পেনসিলে ক্রুশচিহ্ন এঁকে আমাকে  গেঁথে দিতে পারলে  , পেনসিল দুটি আত্মজের মত আমার শরীর আগলে রেখেছে ...যে শরীরের সমস্ত পোশাক একদিন তুমি ছিঁড়ে ফেলেছিলে ....মনে পরে পার্থ সে সব কথা ।
...........(অলিখিত গ্রন্থ)


ছুঁচ সুতোর ফোঁড়

ছুঁচ সুতোর ফোঁড়


সেলাইয়ের মেশিন  নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম বহুদিন, 
যেখানে যা ছেঁড়াফাটা ছিল সারাতে সারাতে তুমি
একটা নিপুণ পৃথিবী পেয়ে গেল , 
 আমি আনাড়ি ছিলাম   নবিস ছিলাম তাই সেলাই প্রয়াসে তোমায় রেখেছিলাম যত্ন করে ,
আলোর পর্দার ফাটা অংশ দিয়ে  কালো
অন্ধকার, ঢুকে  নিকশী কাঁথা য় অন্ধকার এ ফোঁড় ও ফোঁড় করছে ,
সেখানে সেলাই দিই সেখানেই আজ নতুন মৃত্যু ফরমান , অমৃতজাতক খুঁজে নিয়েছ তুমি হে নিরুপম 

গোপন হাঁড়িতে রেঁধে রাখছ বিভঙ্গের ভাত  
বিত্রস্ত আলোকে ঠাট এখন তোমার চারপাশে , বিভঙ্গের  বদল আসবে 
টেরাকোটা জীবন উত্তর খুঁজবে আবার .... আসলে জানো  অনন্তের ফুঁয়ের নিদান বড় তির্যক 
এখনও অপাপবিদ্ধ  আমার হৃদয় ,
সুতোতে নিদান রেখে ছুঁচছিদ্রে সযত্নে পরিয়ে যাচ্ছি একদিন যে কথা দিয়ে দিয়েছিলাম তার অঙ্গীকারে।

সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

দরিদ্রতা

আমার তো কোনো ক্ষমতা নেই কাঁদার ....তবু কেনো মন কাঁদে , 
আমার তো কোনো ক্ষমতা নেই বাঁধার তবু কেনো
বারে বারে বাঁধতে চাই ,
আমার তো ক্ষমতা নেই রাখার তবু কোনো রাখতে চাই কাছে ,
আমার তো  দেবার মত কোনো কালেই কিছু নেই তবু  কেনো দেওয়ার জন্য আকুল হই ,
আমার তেমন নিজস্ব ঐশ্বর্য কোথায় যে অকৃপণ হাতে অধিকার বিলিয়ে দিতে পারি ,
আমি শুধু কবির কাছে ঋণী হয়ে বলতে পারি ...
ওদের তো অনেক ছিল অনেক আছে ,তাই নাহয় যখন তখন ভালোবাসতে পারে সালমা চুমকির রোশনাইয়ে ,  তারা কাছে কাছে বেঁধে বেঁধে থাকতে পারে ,
......আমি তো দূরে বহু দূরে  তবু  তাদের থেকেও কাছে রেখেছি আমার হৃদয়খানিতে ।
তোমাতে আর নেই এটুকুই শান্তি নিয়ে ফিরলাম ...নিজের সাথে তো আর প্রতিশোধ নেওয়া যায় না ।

সুবর্ণা (১০৬)

এই যে সুবর্ণা  তুমি সমুদ্রে ছুঁড়ে দিচ্ছ সমস্ত শিকড় 
.............................. ঝিমধরা  মনে 
বন্দরশহরের কোলাহলে গেঁথে নিচ্ছ  ।
তোমার নতুন প্রেমের এখন মহামারী তাই তুমি মাতালের মত পথ হারিয়ে ফেলছ ,
... ব্যালাডগুলোয়  নতুন দেশ বুনবে বলে সময় গুঁজে রাখছো 
 বর্তুল বৈধব্য নিয়ে  দেখছি  আমাদের ঘরকন্নার  সমাধির পাশে  তোমার নতুন চশমাটা খুঁজে পাওয়া গেলো ...
বার বার জ্বলে ওঠে শব্দময় বীজগণিতী সান্ধ্যয় আলস্য ছুঁড়ে দিচ্ছ কেনো জানি না ,
  আমায় এভাবে দাহঘরে  প্রহরের   নীচে রাখতে তোমার একবারও মন কাঁদলো না কেন সুবর্ণা !
 তোমাদের শিকারের দাঁত নখ ও ধাতব শব্দের  ছিদ্রহীন বাঁশের কেল্লায় আমাকে খুব সহজে বন্দী করলে,,  আমি চিৎকার করলাম তোমার কাছে অথচ সুবর্ণা তুমি আমার চিৎকার ছাড়া সব কিছুকে স্পর্শ করে গেলে ।

 কিন্তু কি জানো সুবর্ণা এমন অনেক কঠিন নীল রাতে আমি  তোমার কেল্লায়  গেছি... কতবার
ভাঙা নৌকায় আমরা নতুন পাটাতন জুড়েছি 
এমন করে বিশ্বাস ঘাতক হব আমরা দুজন আগে জানতাম না তাই না ? 

বাণিজ্যের লোভে... তুমি বদলে ফেললে নিজেকে ..
আমি জানতেও পারলাম না তুমি আমাকে না জানিয়ে তোমার সাধন সঙ্গীনি থেকে আমায় ছুঁড়ে ফেললে ।
 এখন মৃত পাটাতনগুলি নিজেদের মুখোমুখি...
তুমি আর সহজ কথা সহজে বলতে পারো না ..,
তোমার জড়িয়ে থাকা ,তোমার মেখে নেওয়া প্রবাহগুলো কোথায় সরিয়ে নিল কোনো ফরমান ছাড়াই , আমি আজও আমলতাস গাছটার কাছে রোজ একবার করে এসে দাঁড়ায় , স্ট্রিমারের ভো 
আর নিমতলা শ্মশান আমার মুখোমুখি ।

 

শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

প্রশ্ন

কি করছো  কেনই বা করছ কার জন্যে নিজের আয়না ভাঙছ একবার ভেবে দেখো ,

যে সময় তোমাকে আমাকে কিছু বলতে ছেয়েছিলো  তার স্বরতন্ত্রিতে  ভাঙ্গা আয়নার 

কাঁচ  নাই বা গাঁথলে...           

এত চিৎকার

 কেউ কেন চিৎকার শুনতে পাচ্ছে না , সবাই এত স্থির কি করে রয়েছে এত চিৎকারে,

শব্দের খরস্রোত  কেন যে কেউ দেখতে চাইছে না , আমি  এই অর্ধশত ছুঁইছুঁই বয়সে দাড়িয়ে

রোজ রোজ হাজার হাজার আর্তনাদ শুনতে পাই সময়ের টানেলে ,

কান ঝালাপালা  হয়ে যাচ্ছে ,  মাথার বাইরে মাথার ভেতরে  মিছিল আর মিছিল ,

আমি সময় কে চুপ করতে বলি মাঝে মাঝে সময় কাছে গিয়ে  স্তব্ধতা  চাই ...

এত চিৎকার এত হাহাকার সহ্য করতে  কষ্ট হয় এখন ,

আমার ভেতর এখন একটা  জলন্ত দেশ ...। দাউ দাউ করে পুড়ছে   কে যেন  মুখাগ্নি করছে  ক্ষনে ক্ষনে ।।

 মুখে কালো কাপড় বাঁধা কেউ দাড়িয়ে আগুন উস্কে দিচ্ছে ।

 আমার ভেতর যারা জ্বলে যাচ্ছে যে দেশ জ্বলে যাচ্ছে সবাই জীবিত ,

তাই তারা চিৎকার করছে আর্তনাদে ফেটে পড়ছে, 

এ পোড়া দেশে মানুষ গুলো উপহাসি আর উল্লাসের উজ্জাপনে আর কোনো  ব্যাথার  পাতা ঝরা 


জানতে চায় না ,  আমি ঘুমের ভেতরেও শুনতে পাই নিঃশব্দে যে আর্তনাদ রাতের বালিশে মুখ গুঁজে নদী আশ্রয়ে

বেঁচে আছে , 

চিৎকার গুলো একটা  বুক  খুঁজছে অথচ এ  শহরে যে  বুকের অভাব তা

 নয় ... 

তবু  কোন অজানা  বিষক্রিয়া বতাসে বাতাসে মিশে গিয়ে দুরত্বে  মিলিয়ে যাচ্ছে আশ্রয় দেওয়া বুক ,

কাঁধ , 

ধ্রুবন বাবু আপনি বলেন ... আমাদের  মানুষের মত দেখতে ... আসলে আমরা 

কেউ মানুষ নয় ... আমরা কেউ কেউ হেদলেশ মনস্টার ...  আমরা  সময়ের কালো কাপড়ে চোখ বাঁধা গান্ধার জীব, আপনি  ঠিকই বলেন 

মানুষ ছিলেন  মনিন্দ্র বাবু , ভাস্কর বাবু ... আরও এমন অনেকে আসলে আমি যে তাদের তেমন চিনি  তা  নয়্‌,


 

শুধু  আপনি আমায় জানিয়ে ছিলেন তারাও নাকি বেঁচে থাকতে আমার মত এমন চিৎকার  আর আর্তনাদ শুনতে 

পেতেন ,

তবে কি তারা এই তিব্র অহংকারী চিৎকারের নীচে মাথা নিচু করে চলে গেলেন জানি না দ্রুবন বাবু 

আমিও এই সময়ের আরতনাদের সামনে আর কতক্ষন দাড়িয়ে থাকবো।

শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

গোপন কথা

 পুরনো শিকারি জানতো আমি আনকোরা তাই সে 

সাথে রেখেছিল অন্য তীরের সাথে গোপন তূণীরে,

পশ্চিমের আলো যখন আমার মাথায় তির্যক হয়ে পরছিল, সমস্ত নাক নকশা  সে বুঝে নিয়ে মাটির  দু হাত নীচে রেখে গেলো আমায় ।


 ,


মাটির ওপর

্চক্রের মত ঘুরছে , জায়গা পাল্টাচ্ছে  সিঁদুরে  ধুলোর মত ছড়িয়ে আছে সবুজ ,

খয়েরি , লাল, নীল,  সুক্ষ গুড়ো,

আমি মেঝেতে নিস্পন্দ শরীরটা বিছিয়ে  তার রঙ দেখছি ,

মাঝে মাঝে সেই রঙের ওপর ছায়া পড়ে ... মানুষ অন্যমনস্ক হয়ে পা ফেলে চলতে থাকে 

আমি তার সধবা বিধবা  দুই রুপকেই এক সাথে চোখের সামনে দেখতে পাই ,

টিনের চালের ওপর  যে শিশির বিন্দু গুলো একা একা অধিবাস সেরে নিচ্ছে , কথা ছিল 

আমারাও মুখোমুখি বসবো, ... 

অথচ দেখ আমরা আজ অচল নৌকায় বসে সমস্ত পাটাতন খুলে ফেললাম,

বার বার ছিঁড়ে কুঁড়ে নিজেদের সমস্ত বুননকে ,

উপহাসের থালায় সাজালাম...

কে বলতে পারে কতটা ক্ষতি না কতটা লাভের ঘরে এক দোক্কা গুঁটি এগিয়ে গেলো !

হঠাৎ কেমন মঞ্চের পুতুলগুলো জেগে উঠে হাসতে হাসতে আমাদের সুতোয় বেঁধে নাটকের শেষ অংকে দাঁড় করিয়ে দিলো ।

আঁকড়ে থাকা শেকড়ে ঝুরঝুরে মাঠি একলা কখনো কথা রাখতে পারে না ।


বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া

 আমার ডানায় দু ফোঁটা বৃষ্টি এখন  , জানলার কাঁচ দিয়ে দেখা যাচ্ছে আমার মত

আরও একজন মাতাল ভিজছে এই অসময়ের বৃষ্টিতে ,

যারা তোমার সাথে সংসার করেছিল তারা প্রত্যেকে প্রহর  শেষে আত্মহত্যা করতে বাধ্য

হয়েছিল ,

 দশ বছর কাটিয়ে দিলাম   আত্মহত্যা ছাড়াই,    তোমার পরবাস জেনেও

 গত কাল  স্বপ্নে দেখেছি তুমি আমাকে ভালবাসছ্‌,

সকালে ঘুম চোখ খুলে  দেখি প্রথম আলোয়  যে পাখিটা আমার জানলায় ভোর  আনল 

তার ঠোঁটে তোমার বাড়ি ফেরার বার্তা ,

আমার ডানায় আহত  হবার পুরনো চিহ্ন যত্নে রেখে দিয়েছি  ,

কারন প্রতিটা বৃষ্টির ফোঁটা দিয়ে তাদের প্রত্যেককে আমি জিইয়ে রাখতে চেয়েছি  ,গরম পানিয়র কাপে্‌

আমার কাছে ধারের  কিস্তিতে  এক পৃথিবী আয়ু কালের থেকে বারো মিনিটের নগদ 

ভালবাসা বড্ড দামি .


চলে যেতেই হত

এইসব মরুভূমি পথ  পেরিয়ে তোমার কাছে দু-দণ্ড বসবো ভেবেছিলাম,
ঈশ্বরের তৃতীয় চোখ হারিয়ে গেছে... তাই এখন থেকে   গান্ধার জীবন মেনে নিতে হবে ,
সিঁড়ি দিয়ে যে গল্পগুলো  উঠে 
আসছে আমি তাদের মুখ দেখতে চাই না বলেই
তোমার দরজা বন্ধ করার আগেই ছিটকিনি তুলে দিয়েছি ।।

তোমাকে দু:খিত করা আমার জীবনধর্ম ছিল না কোনো কালেই , এত গুরুত্বপূর্ণ খবর হতে গেলে খানিকটা মাথার ঘাম যে পায়ে গড়িয়ে নামাতে হয়।
চলে তো যেতাম একদিন....তবু সত্যি ভেবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে যাওয়া  ।
 আর চলে যাবার আগে কারণ গুলো ঝালিয়ে সত্যি মিথ্যে আলাদা আলাদা পাত্রে সাজিয়ে নিলাম .....ঠিকানায় পোঁছে গেলে যাতে বুঝতে অসুবিধা না হয় ।
 ....এর পর থেকে যাাওয়া ঠিক হত না
 এরপর  চলে  যেতে হয় , আর চলে যেতে হয় বলেই চলে যাচ্ছি, 
 নাহলে তো এই কাল বৈশাখী ঝড়ের দিনে , যখন বাইরে মৃত্যু ধেয়ে আসছে .. আরেকটু   না হয় বসে থাকতাম তোমার পাশে  ।

বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

আর যাবো না

ঘরভাঙা লালনের মতো একান্নবর্তী দুঃখ নিয়ে আমি আর কারো কাছে যাবো না ,
তাতে আমার শূন্যতার ঘরে চির সবুজ
হয়ে থাকলে থাক হাহাকারে তরঙ্গ।
বরং উন্মাদ সন্ধ্যেরা জানুক আমার প্রতিটা ক্ষত
কতটা পুঁজ রক্তে ভরা ,,
একা একা মহা সড়কে হাঁটবো তবু আর কোনো সাধন সঙ্গী সাথে পথ চলা নয় ,
অন্ধের কাছে আর নাহয় নাই বা বললাম আলোর কথা ....
বৃদ্ধ বকের গ্রীবা থেকেও তো আজকাল
মৃতসাপ ও বিড়াল ভেসে ওঠে.. উঠুক ,আমি চুপ করে থাকবো বাকি সমস্ত পথ ।
অতীতের  পচে যাওয়া হাড়িয়ার মতো,
নিজেরই ইমান  খসে খসে পড়তে আর দেবো না ,
তীর্থের কাকের  চেয়ে  একা লালনের ঘর
অনেক ভালো ......
ঘরভাঙা লালনের মতো একান্নবর্তী দুঃখ নিয়ে আমি আর কারো কাছে যাবো না ।






দৃশ্যত


 আজ বহুদিন হল আমি গাছের আড়াল থেকে  গোপন আঁতাত, সন্ধি-অভিসন্ধি, গন্ধ ও চুক্তি  সবটুকু বুঝি; 

তাই কাক দের জন্মসিদ্ধ স্বভাব নিয়ে কথা বলি না কখনো,
একটি  পুরোনো বিশ্বাসের গায়ে ঈর্ষার পেরেক গেঁথে অন্য একটি বিশ্বাসের গলা টিপে ..  কুমীর চরিত্রও কখন যেন ঈশ্বর হয়ে যায় ,
আমি গাছের আড়াল থেকে এসব গোপন আঁতাত, সন্ধি-অভিসন্ধি, গন্ধ ও চুক্তি গুলো এখন অনেকটাই  বুঝি; 
 আসলে শেকড় আর  মাদুলি তো এক নয়,  সে কথা সবাইকে বুঝতে হবে এমন কোনো দায়ও  এ জীবনের নাট্যমঞ্চে কারোরই নেই ,
......নেই বলেই ... কথা ও কামার শালার মাঝে একান্নবর্তী আগুনের সংসার ,

নেই বলেই নদীর পাশে অজস্র সভ্যতা মৃত ..,
আসলে এ পৃথিবীতে বিনা মূল্যে পাওয়া কোনো কিছুর  কদর  ও ভালোবাসা কখনোই নেই,

আমি গাছের আড়াল থেকে এসব গোপন আঁতাত, সন্ধি-অভিসন্ধি, গন্ধ ও চুক্তি গুলো এখন শেষ পর্যন্ত দেখতে পাই ।



তারে বলে দিও বাতাস,

 শিরোনামহীন তোর কথা  লিখতে গিয়ে 
ছিটকে গেলাম অক্ষরেখা থেকে ,

 মৃত্যু  পার . করে  আরও একটি  জন্ম দিন এলো 
দেহজ গাছ   এলিয়ে পড়েছে আজ ....আজিই হয়তো শেষ সুপ্রভাত জানানো  সকাল ।
এবারের মেলায় বই এর গন্ধে ছবি আঁকা হল না 
প্রতিবারের মতো তোর মুখের আদলের 
কোন  কোনো পুরুষের সাথে সেলফি তোলা  হলো না..!
আগামীকাল  হয়তো আর একবার তুই RIP শব্দটার চুল চেরা বিশ্লেষণ করে কবিতা লিখবি।
তোকে  বলার গল্পটা বুকের ভেতর লুকিয়ে গেলো..... আর কখনো মুখোমুখি হওয়া হবে না বলে 
আবার একটা নতুন রাত..একটা বর্ণহীন আমি..
অভিমানের কাছে বাজী ধরলাম নিজেকে...!
আমি  আবির রঙা বাউলী ।


যেদিন আবার

স্লিপিং পিল গুলো হওয়াও নিজেদের প্রতিধ্বনি রেখে যায় রাতগুলোয়,
একা আমার বুকের নোটবুকে জলছাপের চেয়েও আরও গভীর  তোমার দেওয়া উল্কাচিহ্নে... অন্ধকার স্পষ্ট ।
আমাদের পিঠ জুড়ে এমন বাইশে শ্রাবন ঝরতে পারে কেউ ভাবিনি ,
ক্যালেন্ডারের ঘর গুনতে গুনতে হঠাৎই একদিন মৃত্যু দিন আসে  ।
আমরা ছিটকে যাই সময়ের প্রহসনে আলাদা গ্রহন্তরে ।
 কয়েকমাস শীতল যুদ্ধের পরে অবিরাম শ্বাসকষ্ট হতে থাকে  আমাদের , তারপর..............
আমি হাতের রেখায় তোমার দেওয়া পুরনো  শুকিয়ে যাওয়া  কুমকুম টিপ  ঘষে বারংবার তোমায় স্পষ্ট করতে চাই ....... জল ছাড়া শুশ্রূষা যে কিছুই থাকে না সে কথা তুমি মানলে কই ,
অথচ বরফ জমা রাতে চশমার কাঁচ জুড়ে অজানা বাষ্পে তুমি ঝাপসা হতে থাকলে একটু একটু করে ।
 জানো পার্থ গোপন কুটুরীতে মৃত কবির সমস্ত কবিতার পাণ্ডু লিপি  আমি রেখে গেলাম , 
গভীর সন্দেহে যেদিন রোদ পরে আসবে  ....সেদিন সন্ধ্যা নামার আগে আমি দরজায় দাঁড়িয়ে দেখবো 
রাতের পর রাত জাগা হলুদ পৃষ্ঠায় একঘেয়ে কবরের হারিয়ে যাওয়া ঠিকানা আর মাস্তুলে জ্বলে ওঠা হাজার বছরের পুরনো আলিঙ্গন।






ভালোবাসার সাহস

কদর তো কত লোকেই করে ভালোবাসার সাহস কজনের থাকে বলো ?
তোমার পালকে সোনালী আভায় লোলুপ লালন করে অনেকেই ... কিন্তু রাত বাড়লে তোমাকে ভালোবাসার সাহস কজনের থাকে বলো?
শব্দের বিকিকিনি তে মাহির তুমি তাই তোমার পসরায় ভীড় জমে রোজ তোমায় ভালোবাসার সাহস কজনের থাকে বলো ?
আলোর রোশনাই , উৎসব উদযাপন , সবাই দেখে দু দন্ড ...তোমার ভেতর  জন্মের যে গ্যপন আঁধার গুঁজে রাখা আছে সেই তুমিটাকে ভালোবেসে লালন করার সাহস কজনের থাকে বলো ?
আভিজাত্যের পূজারী হয়ে আজ যারা তোমার এদগেদ  চক্র কাটে তারা ওই দরিদ্র হৃদয়টাকে ভালোবাসার সাহস করে উঠতে পারেনি,,, ....শরীরের খাঁচায় রাখা কালো কদর্য অন্ধকার কে যত্ন করে দেরাজে বন্দি করে শুধু তুমি নামক ঐশ্বর্য হীন উলঙ্গ মানুষটাকে ভালোবাসার সাহস দেখতে কজন পরেছে বলো? 
তোমার এক থেকে পঞ্চাশতম প্রেমকে আমি  যথেষ্ট সাহসী হতে শুনেছি শুধু শুনিনি তাদের উন্মুক্ত বুকে মাথা রেখে তুমি যখন যন্ত্রনায় ছটপট করেছো কেউ বলেনি শান্ত হও ....একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ।
আসলে কদর তো অনেকেই করে ....তোমাকে শুধুমাত্র তোমাকে  ভালোবাসার সাহস কজনের ছিলো বলো ...
ভালবাসতে যোগ্যতা নয় সাহস লাগে শুধু ...
পাশে থাকতে অর্থ নয় ইচ্ছা লাগে শুধু ...
অবহেলা জানাতে অনিয়ম নয় নিয়ম যথেষ্ট ..
আর মৃত্যুর জন্য যে অস্ত্র লাগে সে অস্ত্র তোমার চেনা  চিরকাল......।

আবার কখনো ফিরে এসো এই হিজি বিজি নকশা কাটা দেশে

যেভাবে আলো আসে নিঃশব্দে তুমিও এসেছিলে ,

যে ভাবে আলো থেকে যায় সময়ের প্রহরে তুমিও থেকে গেলে 
তৃতীয় নিবাস ছেড়ে বহু দূরে কিছু ঠিকানা থাকে যা ভীষন রকম বাস্তব ....
সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে ....তুমি হাঁটলে সেই পথে 
.....
কুড়িয়ে রাখা আলোর  বিচ্ছুরণ  মলাটবন্দি  হৃদয়ে রেখে গেলে ।
.............................অন্তর্হিত শিখায় রেখে গেলে আমাদের ভেতর তোমার পাণ্ডুলিপির রোশনি,,
আর তুমি হয়ে রইলে চুপ ঘরের শোভা ।

কালের   স্রোতে গিয়ে শুরু করলে ওপরের নৌকা যাত্রা  ...তোমার যাত্রা শুভ হোক,  পাগল হওয়ায় বিলিয়ে গেলে নিজস্ব চন্দন গন্ধ ....ভালো থেকো কবি ,তোমার চিরনিদ্রায় কেবল শান্তি ঝরে পড়ুক ।

....................হিজিবিজি নকশার দেশে আবার কখনো  ফিরে এসো কবি  আবার কখনো ফিরে এসো।,

মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

মৃতরা ফেরে না

মৃতরা কখনও ফেরে না ....যদি ফিরতো আজ আমি  সেমেট্রির প্রতিটা কবরের ক্রুস কাঠ গুলো সরিয়ে দরজা খুলে দিতাম , 
আজ কলকাতা কে কেন যে মৃত শহর মনে হচ্ছে জানি না ..,
ভিড় শহর অথচ শব্দহীন .....
যানজটে দাঁড়িয়ে চেনা মুখ ....পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অচেনা মেঘের মত ,
অফিস ,বাজার ,ট্রাম ,টমটম  ফেরি ঘাটের হুইসেল ...আসা যাওয়া সব কিছু যেন হঠাৎ গো -- স্ট্যাচু
খেলায় স্তব্ধ , ,
 একসময় আমি শুনতে পেতাম সাউন্ড অফ সাইলেন্স ,
 আর আজ  দেখি বোবা  শব্দহীন সমস্ত শব্দ ।,
বুঝতে পারলাম না যে শহরটা কখন গর্ভবতী হয়েছিল ....শুধু আজ এ শহরের গর্ভে মৃত সন্তান এর জন্ম দেখতে পাচ্ছি ,,
যে জন্ম ছিল নিঃশব্দে ...তার মৃত্যুর  শব্দ  গুলো
অদ্ভুত অহংকারী হয়ে প্রিয় শহরটার সমস্ত আওয়াজ গুলো শুষে নিল ,
এই শহরে প্রিয় সব কিছু আজ মৃত ...কিছুক্ষন আগে তুমি যানজটে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলে ...,
আমি একজন ঠান্ডা মৃত শবকে বাইকে বসে থাকতে  দেখলাম  আর হাসি পেলো ...।
আমার প্রিয় শহরকে মরতে দেখে আমার হাসি পেল , আমার প্রিয় যাকিছু মারা গেছে আমি তাদের জন্য কাঁদিনি কখনো ,
কারণ মৃতরা আর ফেরে না  জীবিতর কাছে ।
 

আহত জন্ম

 আমার আহত জন্ম ভুলে গেছিলাম  ... নির্জন মৃত্যু দিলে তাই তুমি ,
টাটকা ক্ষত   চিহ্নে    তোমার আদরের ভাঙা নখ আমি পারিজাত থেকে কুড়িয়ে রেখেছিলাম ভুলে যাবো... কি করে সে সঞ্চয় ।

অলৌকিক  মনে হতে পারে তোমার  এখন... এই  মৃত্যুর পর হেঁটে চলা  পথ ,
  জেনে রেখো পার্থ নিঃশ্বাস আর বিশ্বাসের জন্য  এখন আর কান্না নেই আমার...!

তোমাদের রাজপথ এখন ভীড় শূন্য 
অহেতুক  জ্ঞানী উৎসবের সুখপাখি এখন তোমরা দুজনেই ,

থাক না আমার অনাথ দৃষ্টিতে চৈত্রের সামান্য  বিকিকিনি, খুব কিছু ক্ষতি হবে কি তাতে !
প্রবল সুখী সভ্যতায় তোমরা দুজন হাঁটতে থাকো আরো বেশ  কিছুক্ষণ, ।,  
অসভ্য বিবেকও আজকাল মাথা নিচু করেছে লজ্জায়..; তোমরা দেখতে পাবে না 
আসলে এ পৃথিবী দেখবো বললে শুধু চোখ খোলা রাখলেই দেখা যায় না ... গভীরে যাওয়া দৃষ্টি সে চোখে থাকতে হয় ,
 ভৌত জন্ম  শুধু আক্ষেপ বিনিময়ে মেদুরতা কুড়িয়ে নেবার নয় ,
এ পৃথিবীতে ঈশ্বরের  পায়ের নিচে
নির্বাক-ধূসর বিবর্ণমুখ  প্রজাপতিরা
কালের অভিশপ্ত ছায়া দেখে রাতে ঘুমোতে যায়...
ইশ্বর নিশ্চিত তার গ্রন্থের লিপিতে ...তাতেই তার সুখ,,
এই পৃথিবীর তার কলমের দিকে আঙ্গুল তোলেনি বলেই সে  বারংবার অহংকার গেথে  নিয়েছে কাঁটার মুকুটে। 

 আমাকে নির্জন মৃত্যু  না দিলে  তুমি প্রেমিক হতে পারতে না  পার্থ ,
কথা দিচ্ছি  তোমার সভ্যতায়  অসভ্য এই উল্লাস আমি নিশ্চিত ভুলে যাবো...!

আহত জন্মে ... শুধু একখানা অভিশাপ রেখে যাবে বাস্তু সাপের কোটরে ।

সময়ের ষড়যন্ত্র

কেবল ষড়যন্ত্রের শিকার আজ  সময়ের কাছে ...
অথচ দলের মীরজাফর কে কেউ দেখতে পেলো না , আসলে সময়ের ধুলো জমা চশমায় স্বচ্ছতা বলে কিছু হয় না ।
বন্ধুর বেশে দাঁড়িয়ে থাকা সময়ের মুখ থেকে মুখোশ খুলে দেখতে চাইলে না  কেউ ..
কত সহজে বদলে যায় সময়ের নিরিখ ...আবার কত সহজে সময় চোখের সামনে একটা আয়না ধরে নতুন করে নিজেকে নবিশ  হিসেবে আবিস্কার করে ।
কে জানতো সময়ের দরজার পেছনে গোপন সোপান সংবাদ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে !
কে জানতো বিশ্বাস শব্দটা কেবল ঘুন ধরা কাঠামোয় এত গুলো দিন দাঁড়িয়ে ছিল !
কেই বা বলতে পারত হাতের রেখা কখনও মিথ্যে হয় না ,
কিছু কথা কখনো মিথ্যে হয় না .....
যেমন তোমার কপালের ভাঁজে আমার একখানা ঠিকানা  গুঁজে রাখা  মিথ্যে নয় ,,
তোমার হাতের রেখার আমার গুপ্ত হত্যা মিথ্যে নয়।
কিছু কথা কখনো সত্যি হয় না ...অথচ অবিকল  সত্যির  মত দেখতে হয় ,, আসলে ক্ষনিকের আলোর দ্যুতি বড় উজ্জ্বল , তার ছটায় চোখ ধাঁধিয়ে যায় ....অন্ধ হতে হয় ,, তবু সে সত্যি নয় সে
চিরন্তন নয় ।
হয়তো আমরা কেউ চিরন্তন নয় ...তবু কিছু সম্পর্ক সময়ের বুকে একটা শক্তপোক্ত খুঁটি গেড়ে রাখে .... ঝড় আসে ....আসে বারংবার মুখোশের আড়ালে হাজারো মীরজাফর  , ষড়যন্ত্র নাড়িয়ে দিয়ে যায় শক্ত খুঁটিটাকে তবু পারে কই উপড়ে ফেলতে .........................
 মিথ্যের সমষ্টির নীচে সত্যি চুপ করে বেঁচে থাকে ....অপেক্ষা করে সকালের প্রথম আলোর 

কালো মেয়েটা আর কোথাও নেই

কালো মেয়েটার বলি হলো ... সে রক্তে বিজয় তিলক পরলো সময়ে জমায়েতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকটা চরিত্র ।
ঈশ্বর বরাবর রক্ত চাইতো ...সময় কালো মেয়েটাকে উৎসর্গ করে দিল ঠিক যেমনটা 
মানসিক শোধ করা হয়... ঠিক যেমনটা একলব্য গুরুদক্ষিণায় নিজের বুড়ো আঙুল প্রসাদি থালায় রাখে অনায়াসে ,,
ঈশ্বর তার অর্ধশত বলিতে প্রথম বার উল্লসিত হয়ে সময়কে বর দিল ....বল তোমার কি চাই ?
সময় বললো আমি চাই তোমার সামনে উত্তরোত্তর 
আমি শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠি যেন ,
আমাতে কখনো যেন কোনো শোক ,, 
আক্ষেপ, কিংবা স্থবিরতা বাসা  না বাঁধে , 

হাতের পরাম্ভয়ে দেখিয়ে ঈশ্বর তথাস্তু বললেন ...।
তারপর নিজের আসন ছেড়ে কালো মেয়েটার নিথর রক্তাক্ত দেহটা দেখে অট্টহাসিতে ফেঁটে পরে চিৎকার করে বলতে লাগলো দেখো..... তোমার দেখো আর চিরকাল মনে রেখো ....আমার ছায়ার থেকে যে এক ইঞ্চিও বেশি বেড়ে উঠেছে তার বলির রক্তে স্নান সেরে না নিলে আমার ঈশ্বর হয়ে ওঠা সার্থক হয় না .....আর এই কালো মেয়েটার ভালোবাসার কাছে আমি কিছুতেই প্রকান্ড হতে পারছিলাম না , । তাই সময়  ওই কালো মেয়েটা চোখ বন্ধ করে হাত পা বেঁধে আমার যুপকাষ্ঠর মধ্যখানে ওর গলাটা রেখে গেল ....
আমি নিমিত্তে আমার অহংকারের তলোয়ারে মেয়েটার আকাশের দিকে উঁচু করে থাকা মাথাটা মাটিতে লুটিয়ে দিয়ে রক্ত স্নান সেরে জয় মালা পড়লাম।
দেখো এই জয় মালার প্রতিটা ফুলে ওই কালো মেয়েটার সাহচর্যর স্পর্শ এখনো ফুরোয়নি ...
অথচ কালো মেয়েটা আর কোথাও নেই ....কালো মেয়েটা আর কোথাও নেই ।

সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

এক উঠোনে দুটো ঘর



ভীষণ বৃষ্টিদিন আজ সারাটা দিন ... ঝড়ে উড়ে যাচ্ছে কল্পতরু গাছটায়  ঝুলিয়ে রাখা লাল সুতোয় বাঁধা ইটের টুকরো গুলো । 
তুমি কি জানলায় দাঁড়িয়ে এখন দেখতে পাও 
 ইচ্ছা গুলো ডাকাতিয়া বাতাস ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কিভাবে , তুমি তো জানো যে  ঘন ঘন জ্বর আসে আমার  । 
.. তবু গুটিয়ে রাখলে হাত তারপর   রুগণ দিঘির পাড়ে বসে  তুমি নতুন খেলায় মেতে উঠলে পুরোনো দান কে অর্ধেক রেখে ।
... জলপটি দেওয়া কাপড়টা আর একবার ভিজিয়ে   কপালের ওপর রাখলে কি তোমার খুব কিছু দেরি হয়ে যেতো ?
 

স্মৃতির কাঠামোয় বিস্মৃতির  প্রলেপ... অন্ধকার শব্দ-ছায়া সমস্ত ষড়যন্ত্রের ফাঁকে  ফাঁকে। 
আমায় পুড়িয়ে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছে কেউ।
 অহংকারে  লালন করছি অজানা  বিদীর্ণ স্রোত ....এত গুলো বছর ...............
তুমি তাই দিন দিন সাহসী হয়ে উঠেছিলে ...আমার পিঠ জুড়ে এঁকে যাচ্ছিলে একটার পর একটা মিথ্যে আর  প্রহসন ,  
যেদিন যেদিন তোমার লুকোনো খঞ্জর পকেট থেকে আমার সামনে বেরিয়ে পড়তো ...
তুমি আমার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নর জাল বিছিয়ে মুক্তি পেতে চাইতে ।
আমায় রাক্ষসী , দানবী , পেত্নীর উপাখ্যান দিযে ,, ,
..... এবার আমাদের ঘর থেকে আমায় ধাক্কা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে চাও ।
.....…....আমিই শেষমেশ তোমার দিকে বন্ধ দরজাটা ফিরিয়ে দিলাম।
খুব কাছেই গঙ্গা  ... 
যার ঘাটে বসে স্রোত উড়িয়ে  মুড়ে দিলাম নীলগ্রহের অভিশপ্ত বিশ্বাস ।
 তোমার শহরে গাছেদের  গায়ে অভিকর্ষ লেগে থাক, থাক ছোটো ছোটো  প্রতিশ্রুতি ,বৃষ্টি ও অধিবাস।
আমার মর্গে রাখা দেহটার থেকে ....সে এখন বেরিয়ে গেছে তোমার উদ্দেশ্যে ,,পারলে শহর থেকে ঠিকানা বদলে নিও ,
আমি আজও মাংসাশী , 
আমি আজও তীক্ষ্ণ , 
আমি সেদিনের থেকে একটুও বদলে ফেলিনি নিজেকে ,
আমি 'আমার ' শব্দ টা আমার কাছে রাখতে না পারলে নিমতলার আগুনে সৎকার সেরে নিই ।


তোমার উদ্দেশ্যে .....

Anything, anything would be better than this agony of mind, this creeping pain that gnaws and fumbles and caresses one and never hurts quite enough.
---  Jean-Paul Sartre

 এখন  ভরপুর শূন্যতা  আমার কাছে তাই তুমি 
আঘাত গুলো  মেলে ধরো  কাঠামোর পেছনে যেন দেবীর চালচিত্র  সাজে,
অর্থহীন নিষিক্ত  আমার দিকে ছুড়ে মারা অস্ত্র আর আঘাত গুলো 
 তবু মাটির দু-তিন হাত নীচে
............... আলো আড়াল করে রেখে দিলাম সে সব,
 আমাদের দুপুরের বিছানায় বাতাস ঘুরে বেড়ায়
সমস্ত বৈকল্য বুকে নিয়ে 
ঘামের গন্ধ থেকে নকশা আঁকা মেঠো পথ চলে যায়  যক্ষিণীর ঠিকানার উদ্দেশ্যে  ,
 তুমি হলুদ ভাষার আর্তনাদ চিনলে না 
......... আমাকে  সাপের চেরা জিভে আটকে চলে গেলে ।

 আমি অস্থির রোগা হাতে  রুটি বেলি ,
চুল আঁচড়াই,  খোঁপা বাঁধার চেষ্ঠা করে ,
ঋতু বিনিময়ে করে  আমাদের স্বপ্নে হেঁটে চলার চেষ্টা করলাম .......
অথচ দেখ ভাগ্যের পরিহাস ...তোমার সাজিয়ে দেওয়া রান্না   ঘরে ঠিক বৃষ্টি আসার আগে তুমিই আগুন লাগিয়ে দিলে।
আমি পুড়ে যাবো ....আজও চুপচাপ ,কারণ সত্যি সত্যি আমি কখনো তোমার ক্ষতি চাইনি ,
একদিন তুমি ঠিক বুঝবে যে আমি মিথ্যে ছিলাম না ,
শুধু ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলাম ।


রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১

এক মাত্র সত্যি

মর্গে রাখা সারি সারি মুখ আমি সেই মুখগুলোর ভেতর জীবন খুঁজতে বারংবার যাই ....
কবরের কাছে গিয়ে ক্রুস কাঠের ফলক গুলো ওদের কারো কারো মাথার ওপর থেকে তুলে ফেলি ,তারপর ওদের পায়ের কাছে গিয়ে বসে জানতে চাই জীবনের তৃষ্ণায়  ঠিক কতটা গাঢ়তা  ছিলো,,

আজ শ্মশান ঘটে একটা মৃত্যুর কাছে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম ....আমি ঠিক কতটা ভালোবাসি মৃত্যু কে ...!
প্রশ্ন করলাম নিজেকে বেঁচে থাকা আর মৃত্যুর পার্থক্য আসলে কি ? 
 উত্তর এলো কোনো পার্থক্য নেই .....
শুধুমাত্র পার্থিব চাওয়া থাকে না মৃত্যুর পর...., আর বেঁচে থাকা হল ক্রমাগত চাহিদার নাম ।
এমন অনেক বোধোদয় আমাকে এই কবর , মর্গ আর শ্মশান দিয়েছে যা জীবনের কোলাহল আমায় দিতে পারেনি ।
আমি  মৃত্যুর কাছে গিয়ে যতবার দাঁড়ায় ততবার আমি বেঁচে থাকার উপান্তে একটা গেট খুঁজে যাই ,
খুঁজে যাই মুক্তির আলোর বন্ধ দুয়ারের হাতলটা ।
আসলে আমি চিরকাল মৃত্যুর ভেতর আশ্রয় খুঁজতে পছন্দ করি , 
মনে হয় এত বিশ্বাসী আর নিষ্ঠা আর কোথাও এই পৃথিবীতে নেই ।
তাই আমি পৃথিবীর দেওয়ালে একটা দরজা খুঁজে যাচ্ছি অনবরত ।
তাই আমি মর্গ , কবর , আর শ্মশানে রাখা মুখ গুলোর সামনে দাঁড়িয়ে জীবন এর অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করি তারপর আমার কলমকে আমি গর্ভবতী করে তুলি বারংবার ।

দেহজ মৃত্যু

একটা দেহজ মৃত্যু  হওয়া প্রয়োজন 
যেকোনো সম্পর্কে দাঁড়ি ঠানতে গেলে , 
মানুষ হত্যা হয় যে কারণে সেই কারণ গুলো ঘুচিয়ে রাখে সময় , আর সময়ের ঘরে দেরি হলেও অন্ধকার কোথাও নেই , 
ক্ষতি আর লাভের হিসেব বোঝার ক্ষমতা মাটি আঁকড়ে থাকা গাছটা কখনো বোঝাই না ....
কেবল অহর্নিশি বয়ে চলা সময়ে গুঁজে রাখে আসা যাওয়া , 
গুঁজে রাখে না শুনতে পাওয়া কথোপকথন ....।
যে মৃত্যু কেউ দেখতে পায় না সে মৃত্যু আকাশ আর গাছ চিনে নেয় , ওরা মানুষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষগুলো কে স্পষ্ট দেখতে পায় , 
আগামীকে দেখতে পায় কিনা জানা নেই ....তবু 
এ পৃথিবীতে কিছু বিচার চোখ খুলে হবে একদিন জানি , জানি আমাদের উপসংহার জুড়ে আজ শুধু
প্রবঞ্চনা আর অপভ্রংশ ,জানি সমস্ত অপরাধ গুলো ধেয়ে আসছে ঝড়ের মত ,
তুবু  এখন দেহজ মৃত্যু হয়নি , 
তাই আগুন সব কিছু পুড়িয়ে ফেলতে পারেনি ।

শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

অলিখিত গ্রন্থ(১০)

প্রতি নিয়ত বিকলাঙ্গ হওয়ার যে চেষ্টা  করে চলেছি তার অপেক্ষায় একটা হুইল চেয়ার আমার ভেতর রাখা থাকলো ।
  রম্ভা ও তার পুরুষ সঙ্গীর  টুকরো টুকরো গল্পকথায় এখন ...আমার দুঃখ বিলাশীর গল্প নেমে আসে প্রতিটা মন্থনের পরে ... 
চোরা বালির  নীচে রাখা নানান ষড়যন্ত্রের অন্ধকার স্রোত । 
ভাঙাচোড়া কশেরুকায় এক উন্মাদ সংকল্প... যাকে ঘিরে কয়েকজন লম্পট মানুষ দফায় দফায় রঙ বদলায়। 
এদের খুলির ভেতর  স্টেরি ক্লিন আর ঘর মোছার কাপড় গুঁজে রাখা  আলাপ চারিতা...।
 যাতে লেখা থাকে 'মানুষ  আর মানুষের মত দেখতে কোনো এক প্রাণী কারা বেশি বিশ্বাসী, 

এসব ভাবনা যখন মগজে মজে যাবার চেষ্টা করছে ... কে যেন তামাটে উপপাধ্যের খাতা কুঁচিয়ে 
মিনার থেকে হওয়ায় ভাসিয়ে দিচ্ছে,
 একটানা  আজ অনেকদিন গভীর  রাতে  আমার    বিরুদ্ধে কেউ  লিখে যাচ্ছে  নিষিদ্ধ পোস্টার , আর  আত্ম প্রবঞ্চনা ।
ঝাপসা মুখ দেখতে পাই ভোরের স্বপ্নে 
আমি তবুও আজকাল আমার প্রেমিক কে সে সব গোপন স্বপ্নের কথা জানতে দিই না ।
অভাব  নামের উপন্যাস লেখা হচ্ছে ,
খাবার থালায় গণতন্ত্র রক্ষার দায়  নিয়ে আমার প্রেমিকের নিয়মের সংসার  অথচ 
 ভিক্ষাপাত্র জুড়ে  দীর্ঘ শূন্যতা...  সে বিলিয়ে 
বেড়ায় শহরের শহরের শব্দ বিক্রেতার মত ।
শরীর জাপটে থাকা  কালশিটেতে তার  আজন্মের শোক 
যা  অন্তহীন সিঁড়িপথ বেয়ে শুধুমাত্র অন্তবর্তী পথ ছাড়া কিছুই জানে না । 

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

উপশমের খোঁজে উপান্ত



“What hurts us is what heals us.” 
– Paulo Coelho 


ক্ষত গুলো কেন  মানুষ আজীবন উপশমের অপেক্ষায় জিইয়ে রাখে ?
একটা শান্তির মৃত্যু আমি বহুদিন দেখতে পাই না ।
আমাদের প্রত্যেকের ভেতর এক অবিনশ্বর ক্ষত অপলক দৃষ্টিতে জাগে থাকে , মনের অসুখ উত্তরের বারান্দার মানিপ্লান্ট বেয়ে তরতর করে বড় হয়ে যায় ........একই সাথে 
মাথার নিউরণের ঘাতকের উপহার ...চোখ ঠোঁট বেয়ে বুকের চত্ত্বরে অধিবাস সেরে নেয় , অথচ ক্ষতদের  চিরকাল বোবা  হয়ে বেড়ে উঠতে দেখেছি আমি ,। কেন যে ওরা চিৎকার করতে পারে না জানি না ,,

নোঙর ফেলে আজন্মের জন্য সময়কে গেঁথে দিতে পারে যারা তারা ডুবে যেতে কখনো ভয় পায়নি ,
একটা বাতাস যখন দুজনের দরজায় সমান ভাবে টোকা দেয় বুঝে নিতে হয় প্রথম দরজায় অপেক্ষায় একদিন  ঘুন ধরবে ক্ষতরা মোহর লাগিয়ে মৃত্যু অভিযান সম্পূর্ণ করবেই ।
যারা ভালোবাসি বলে দাবি করে তারা আসলে
সমাধি ফলকে লিখে রাখতে চায়  অন্য কারো অসুখ।



নিঃস্ব হতে হয় বোধ হয়

ভালোবাসলে বোধহয় প্রেম এক সময় নিঃস্ব হয়ে যায় , টুকরো করে রাখা  কাঁচের উপর  আগের মত দাঁড়ালেই কি আয়না জোড়া লাগে !  
এসব শুধুমাত্র অন্ধপালাগান ,,
 জীবনের দুয়ারে আসা যাওয়া গুলো কেবলমাত্র দো বক্ত কি ম্যাহমান  আজ যা কিছু আমার মোহর লাগলো সময় ...... তার সব টুকু কাল 
কিসি অর কি ম্যাহমান ...............................
এই যে অরণ্য ভেদ করে বেরিয়ে আসা কাঠের জীবনটুকু  দাউ দাউ করে পুড়ে গেল কই মন তো চিনে উঠতে পারলাম না !  
নদী আর ভালোবাসার মধ্যে অদ্ভুত মিল খুঁজে পাই
এখন ,
 দুটোই সময়ের সাথে সাথে শুধু অতীত রেখা ছাড়া যেন কিচ্ছু টি ধরে রাখতে পারে না  ।
যতই চেষ্টা করুক এ পৃথিবী নিমতলা শ্মশানে দেহ গুলো পুড়ে যাওয়া ছাই দেখে  বলতে কি পারে 
কে কতটা আগুন বুকে গোপন রেখেছিল ?
অস্থির ছাই উড়ে যায়  ছটপট করতে করতে তবু বলতে পারে না আজ কেন সে ছাই হয়েগেছে ।

আমায় দত্তক নেবেন প্লিস

গাছ তার ছায়া সরিয়ে নিল চেনা চেনা দৃশ্য গুলো আবছা হতে থাকে , 
প্রিয় রং ,প্রিয় চেনা শোনা গুলো হঠাৎ কোনো রম্ভার খোলা চুলের ঝাপটায়  দৃশ্য-ইজেল থেকে ঝরে পড়লে ....বৈশাখের রোদ্দুর থেকে মায়া মরে যায় ,  
প্রিয় নামের বানান তখন খুব সহজে ভুল হয়ে যায় , প্রিয় মুখ যখন নতুন খেলায় নবিশ হয়ে যায় ....চেনা যায় জীবন,, চেনা যায় সংকল্পের আড়ালে  রাখা  গোপন ষড়যন্ত্র ।
নদীর এপারে থেকে ওপরের কথা আর ভাবতে চাই না ......ধ্রুবন বাবু আপনি কি আমায় টুপটুপের মত দত্তক নিতে পারবেন , জানেন কি টুপটুপের মত 
আমারও ঘুমের ভেতর যাবতীয় ক্ষিদে উড়ে যায় ,

আমি আসলে কোনোদিন ক্ষিদের কাছে গিয়ে দু হাত বাড়াইনি ,  তাই মানুষ চিনতে শিখিনি ....,
আজ যখন আমার দু চোখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে নামে ... আমি শোক চিনতে পারি , এমন কি সম্পর্কের
ভেতরে লুকিয়ে থাকা চুপ কথাদের শুনতে পাই ...
অথচ সত্যি কথা বলতে আমি আর মানুষ চিনতে চাই না ।
ধ্রুবন বাবু   সত্যি কি রোদ্দুর থেকে  রং চটা সময় খসে পড়লে ....শূন্য থেকে হাহাকার প্রতিধ্বনিত হয় ....,!
 প্লিস ধ্রুবন বাবু আপনি কি আমায় টুপটুপ এর মত দত্তক নিয়ে  স্পর্শ বিন্যাস শিখিয়ে দেবেন?

বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

নবিশ

প্রতিটি ছায়ার সাথে মোরগফুলের  নিবিড় সম্পর্ক রাখে , আমি আজও তেমন নিবিড় সম্পর্কে র সাক্ষী হতে পারিনি ...
 যেমন ছোটোবেলা ও নিরীহ গাছবাড়ি... টমটম গাড়ি আর পুড়ে যাওয়া শব্দের ঘ্রাণ... বেলুনওলার মুখোশ ও গেরিলা যুদ্ধ... এসব দৃশ্য গুলো আমার মাথার নিউরোন একসাথে বাস করেনি কখনো ,।

 রাস্তার নীল সাদা ডিভাইডারও পুরুষের লালারসে ভিজে ওঠে একদিন।
 পাথরে আঁচড়ের দাগ ... খোদাইকরা ছবি যেন,
। 
গুহার গায়ে নানা ধরণের রঙিন প্রলেপ... বেড়ে চলে নখের আঁচড়ও।
 এসব মিলেমিশে হিংস্র এক ছবি ভেসে ওঠে আজ কাল তার মুখমণ্ডল জুড়ে । 
রাতে যখন আগুনে সেঁকে নেওয়া হচ্ছে শিকার... অদ্ভুত এক গন্ধ... ধোঁয়া... আর নীল আলোর সাথে মিশে যাচ্ছে সেসব বর্ণবিন্যাস... হিংস্র ছবিটা ক্রমশ জীবন্ত হয়ে ওঠে। শিকার ফেলে শিকারীকে আক্রমণ করে সময়
আমি হাসতে থাকি এসব বর্ন বিন্যাস দেখে .,
গিরগিটির মত বদলে যাওয়া রং  বয়ামে  রেখে দিয়েছি যাতে প্রজন্ম গুলোর  ইতিহাস  বুঝতে অসুবিধা না হয় ।

শব্দ একটি জাল মাত্র

পায়ের নীচে যা কিছু দুমড়ে ফেলছেন  মশাই তার দিকে একবার পারলে চেয়ে দেখুন ,
 দু-দিকে ছড়ানো ঘৃণা... থুতু ছিটানো 
দু-ফালা করে চিরে ফেলা মস্তিষ্ক... বেড়িয়ে আসা ঘিলু... 
সবই ভেবেচিন্তে বেছেবুছে চোয়ালের ফাঁকে  গুঁজে রেখে দিচ্ছেন দীর্ঘদেহী সময় ... 

পরণে চেকশার্ট... ... চোখে রোদ চশমা। 
সঙ্গে যে সঙ্গীনী আছেন তাঁর গায়ের রঙ সাদা অথচ বিষাদের মতো গাঢ়।
 পৃথুল স্তনের আভাস ডানাগুলি ছড়িয়ে হেঁটে আসায় স্পষ্ট... হাতে কপিকলের উল্কি। 
মশাই দেখছেন কি চারপাশে জমে আছে  জলপাই রঙের ছড়িয়ে ফেলা মৃত্যুর সাথে  গর্ভিণী ঈগলের স্বর... ,
প্রাগৈতিহাসিক দূর্গের ছায়া। 
বিয়ারমগের ঝিমধরা ফেনা যেকোনো সমুদ্রবাসীকে আকর্ষণ করবেই জানা কথা। 
তাই হয়ত একটি পূর্ণবয়স্ক স্নায়ুতন্ত্র একসাথে এঁকে ফেলছে অনেকগুলি জাল... আর তার ওঠানামায় ধরা পড়ছে স্কার্ফে মোড়া বেশ কয়েকটি হৃৎপিণ্ড।


চিঠির অনুবাদ আর কালো মেয়ে





ভালো থাকার সুযোগ আসে অথচ... 
ভালো না থাকাটা সমুদ্রতীরে ভেসে বেড়ানো আঁশটে গন্ধের মতো... 
সর্বত্রগামী নিঃসঙ্গতা বুকে চেপে বসে... 
কালো মেয়েটার  কথাগুলো জমাট বাতাসে আলপনা এঁকে যায়... 
অলৌকিক দেহ থেকে ছিটকে আসে শব্দ... জোয়ারের  জলে আবছা অনেককালের পুরনো সন্ধ্যার রঙ... 
চেনা কিংবা অচেনা, অমসৃণ এবং চিৎকৃত আবেশ... Holy Spear বুকে ঢুকিয়ে সবকিছু মনে করিয়ে দেওয়া...
 নিমফলের রঙমাখা মৃত শহরের প্রতিবিম্ব যেন। দিয়োনিসুসের উপাসনাগৃহে নিটস-এর 'দ্য বার্থ অফ ট্রাজেডি' প্রবাহিত হয়। ট্র্যাজেডিতে 'অ্যাপোলোনিয়ান' কাব্যের সৌন্দর্য অদ্ভুত অবগুণ্ঠনে আমাদের আর্দ্র করে... আমরা বাধ্য হই সহ্য করতে সেই ভয়াবহ প্রলুব্ধকর দিয়োনিসুসিয়ান দর্শনকে।

এখন শারত্রের ক্যাথিড্রাল থেকে ঠিকরে আসা আলোয় কালো মেয়েটার  মুখ ভিজে যাচ্ছে। আমার প্রতিটি অক্ষর ওর কাছে সাজানো Brillo Boxএর মতো... স্টেনসিল করা প্লাইউড বাক্সের স্তূপ। 
কে যেন অজান্তে আমার ঘরে ঢুকে পড়েছে... কেন এমন মনে হচ্ছে জানি না... মাথাটা হেলিয়ে একদৃষ্টিতে আমার বিপরীত উপাত্ত... প্রতীতিবাদ... বিমূর্ততা অনুকরণ করছে...

ভার্জিনিয়া উলফ্-এর সেই চিঠিটার কথা মনে পড়ে... 'শীতের মধ্যে নিঃসঙ্গ আমি, বসে আছি ফায়ারপ্লেসের পাশে, তার পাঠানো বইটি মাঝে মাঝে খুলে দেখছি, কিন্তু পড়তে পারছি না। কার যেন  শব্দগুলিকে বুকের মধ্যে আঁকড়ে বসে আছি, তারা অগ্নিকণিকার মতো, অনন্তের দিকে ধাবমান, কী মহৎ অপরিমেয় মহিমায় তারা উত্তীর্ণ।  তোমার কলম থেকে ঝরে পড়া শব্দগুলি!'... এসব কি কবিতা নয় কালো মেয়ে ?
... ছিটকে আসা প্রতিভাস... ইলিউশন অতিক্রম করছে তার সীমাবদ্ধতা... অনন্ত ছুঁয়ে ফেলছে কবিতাযাপন... বিচিত্র বর্ণময় জলজ আভা... এত তাড়াহুড়ো তবে কিসের জন্য? কোথাও যে পৌছনোর নেই আজ থেকে আর।


বলতে পারবেন ধ্রুবন বাবু

 এপার থেকে ওপারটা বেশ স্পষ্ট... তবু চাবি খুঁজছে ভেতরে যাওয়ার ,
 স্রোতে  ভেসে আসা শ্যাওলার মতো জীবনও ভেসে বেড়ায় কিনা আজ আর ভাবতে ইচ্ছা করে না ধ্রুবন বাবু ...
ফিরে আসা  সম্ভাবনা থাকে না একবার তীর ভাঙলে আপনি বোধ হয় ভালো বুঝবেন ,
  দুটি দরজা খুলে...  প্রতিধ্বনি বোঝার চেষ্টায় 
 যে শব্দ তৈরি হয়, তারা কি আদৌ কোনো উত্তর !

তারা কেউ চেনা নয় অথচ প্রতিফলিত রূপের  ছায়া পড়ে  এই ভেসে যাওয়া সময়ে ... আপনি জানেন  চেনা  কন্ঠস্বর  ঠিক কিসের জন্য বদলে গেছে  !
বদলে গেছে প্রতিটি অমূর্ত ছায়াছবি যাদের কথা রাখা ভীষণ প্রয়োজন ছিল ।
 সময় কখন কাকে কোথায় নগ্ন করবে কেউ বলতে পারে না । 
যে ভাষা অব্যক্ত অথচ পূর্ণ চাঁদের আলোয় নির্জিত... প্রস্তুতিহীন...  আপনার কথা অনুযায়ী সে ভাষা মিথ্যে গুলোকে সত্যির চোখে আঙুল দিয়ে বলে দেয় চিনে নাও  পরিহাস কাকে বলে । 

 এই পৃথিবীতে সবাই যখন চাবি হারিয়ে ফেলছে 
একটা শৈশব সময়ের স্রোতে চাবি খুঁজে চলেছে ।

প্রতিটা চাবি খুলছে আঙুলের খাঁজে ঘাট মিলিয়ে দেখে নিয়ে আবার একটা চাবির খোঁজে মরিয়া ,
আমি সেই শৈশবে থমকে দাঁড়ালাম চাবির স্তূপে 
একটাও বন্ধ কিংবা খোলা তালা নেই , 
অথচ হাজার হাজার চাবি তার  একটাও সঠিক কিনা জানি না ....জানি না কেন চাবি খুঁজছে শৈশবে দাঁড়ানো মানুষটা , আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি সারি সারি ঘর গুলো বন্ধ দরজায় কেউ দাঁড়ায় না বহুদিন ...বহুদিন অদৃশ্য তালা ঝুলছে সময়ের দুয়ারে .....অথচ আমি চাবির স্তূপে একটা শৈশবে কে সারাটা প্রহর  একটা বিশেষ চাবি খুঁজতে দেখেছি । 
আপনি কি জানেন  ধ্রুবন বাবু কেন সেই শৈশবে দাঁড়ানো মানুষটা চাবি খুঁজছে হন্যে হয়ে , আপনি কি জানেন সই আজ পর্যন্ত একটিও সঠিক চাবির সন্ধান কেন পেলো না ....তার খুঁজে পাওয়া প্রতিটা চাবি ভুল কেন আপনি কি জানেন ।
 

বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

সুবর্ণা (১০৬)

 'প্রিয়' শব্দটা ক্রমশ জং ধরে যাচ্ছে  , স্তরের মরচে থেকে ঝরে  পড়ছে সময়ের আঘাতের কালো জমাটি রক্ত , 
আয়না ভেঙে গেলে শুধু  কাঁচ ছাড়া কিছু নয় ...
আর সেই কাঁচ  পিঠে ঢুকিয়ে 'প্রিয়' শব্দগুলো 
নিষ্ঠার প্রতিশোধ নিচ্ছে ,
অথচ সামনে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়ালে একটিও প্রশ্ন না করে নিজের কলজে রাখা যেত , 
 যে  উপন্যাস লিখতে  দশ বছর  লেগেছিল ...
দশ মাস কেন ...দশ সেকেন্ড যথেষ্ট নিমতলা ঘাট ছাড়াই পুড়িয়ে দিতে ,
অথচ  'প্রিয়' শব্দ গুলোকে আমি কবর দেবো না ,
বুটের নীচে পিষে ফেলতে আমাকে ভাবায় আমার
মানুষ জন্ম , 
 অপেক্ষা একটা মামুলি শব্দ যেখানে ইচ্ছা বসিয়ে প্রহসন করা যায় কথাদের ,
কখনও কখনও গোপন মুহূর্ত গুলোয় 'প্রিয়' শব্দজব্দের কাছে নগ্ন হয়ে যায়  যেখানে সেখানে ,
কখনো কখনো নিজস্ব গোপন দুর্বলতা গুলো বেআব্রু হয়ে যায় কালের মারে ।
 আমি বুদ্ধিজীবী  নই,  কবি নই,   আমি সাহিত্য বুঝি কম ...আমি তথাস্তু বলিনি জীবনভর কাউকে ,আমি দেশ কাল সময় রাষ্ট্র কিচ্ছু .....কিচ্ছু বুঝি না তেমন  গভীর ভাবে ।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শুধু  আমার পরিধির অভাব দূর করার চেষ্টা করি 
শুধু মানুষ হিসেবে গাছ বুঝি, ছায়া বুঝি  বুঝি বিশ্বাস  শব্দটা নিতান্ত যত্ন বুঝি ,
 আমি নারী বা পুরুষ কে বিশ্লেষণ করতে পারি না, পারি না কাউকে  বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়ে দোষারোপ করতে  সময়ের নিরিখে।
বরং বারংবার নিজের আয়না মুছে  নিজের দাগ গুলোকে স্পষ্ট দেখতে চেয়েছি , 
আজ যখন সময়ের চোরা আঘাত আমার কাঠামো টা ক্রুস কাঠে ঝুলিয়ে আনন্দে উদযাপন করতে চায়।
আমি সময়কে বলি ক্ষমা করে দিও ওদের ...
ওদের ভালো হোক শেষমেশ .......।
...........(সুবর্ণা 'প্রিয় 'ঘাতক অস্ত্র)


মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

বৃষ্টির অপেক্ষায় আমার কান্না

আমার কাঁদতে ইচ্ছা করে যখন আমি বৃষ্টির অপেক্ষা করি, 
আমি বৃষ্টিতে কাঁদি  কারন কান্নাটা শুধু আমার জন্য,  
পৃথিবী  দেখলে ভাববে আমি হাসাচ্ছি ... 
আমাকে একরকম ভাবছে পৃথিবী  কিন্তু আমি তো তা নই, 
বৃষ্টি  হলে আমি কাঁদবো..... কেউ বুঝবে না আমার কান্না,   আমি সেই লোকটা  যে সব হারানো ... আকাশে ভাসিয়ে দিয়েছে চোখ ,  যা রে যা দূরে ভেসে যা চোখ , 
আমার কাঁদতে  ইচ্ছা করলে আমি বৃষ্টির অপেক্ষা করি.... অঝোর বৃষ্টিতে আমি সেই কান্নার মুখ ঢাকি।  আমি কাঁদি কারন কান্নাটা  শুধু আমার জন্য,.... পৃথিবীর  কাছে আমি হাসছি, হাসাচ্ছি... 
কাঁদতে ইচ্ছা করলে আমি আমার নিজস্ব বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকি। 

আশ্চর্য অমানিশা

কথা ছিলো তুমিই একমাত্র নারীকে  শুদ্ধতায় স্পর্শ করতে পারো 
কথাটা আজ বাতাসে ভেসে যাচ্ছে
আশ্চর্য  অমানিশার পথ খুঁজে,
তুমি রোজ ভোরে অঞ্জলি দিতে  নিজের ভেতরে তথাগত কে  খোঁজ করে ,
আমি খুঁজে পাই না  মনের ভেতর তথাগতর সেই আসন...!

সময় হলে এসো কোন একদিন... বসবো মুখোমুখি
সেদিন না-হয় মিলিয়ে দেখে নিও  কে ঠিক তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী ,,
 সৌভাগ্যের প্রাসাদে লক্ষ্মণ রেখা টেনে দিয়ে কেই বা ভালো থাকতে পারে 
প্রিয় অর্ধ-নারীশ্বরমূর্তিটির ঠোঁটে ঠিক কতোটা হাসি...; আজ তুমি আশা করো হে তথাগত ?

বাহ্যিক সৌন্দর্য বাইরে   দু'হাতে তুলেছি শিশু মন  তোমার ...আজ তুমি   তোমার সাত বছরের সন্তান কেও রেহাই দিলে না ...একটা কালো সুড়ঙ্গে ঠেলে দিচ্ছ নিজেরই হাতে ....হে পিতা তুমি যে শেষমেশ সন্তানের কাছেও অপরাধী হবে 
সেও একদিন উত্তর চেয়ে পত্র পাঠাবে নিশ্চিত... তুমি তৈরি থেকো সে উত্তর দেবার জন্য।

উত্তরের সাদা পাতা কিনবো বলে 
আজও নিঃশ্বাস সঞ্চয় করে রেখেছিলাম  রক্ত-মাংসের বৈয়ামে.! তোমার তথাগত জানে না মানুষ নিজের ইচ্ছা মৃত্যু আঁকতে পারে ....আঁকতে পারে তার পরিধি জুড়ে থাকা চরিত্র গুলোর ইচ্ছা মৃত্যুও।


অহংকারী পুরুষ

 ব্যাক্তিগত ভেবে নিজের ঘরে রাখা অবলাটাকে রাস্তায় কিংবা বাজারে  রোজ না হয়  কাপড়  টেনে

খুলে ফেলে অন্য দের সুড়সুড়ি দেওয়াই যেতে পারে ... তাতে কারো কিছু ছেঁড়া  যায়  বলে মনে হয় না ,

তবে পৃথিবীর সব নারী অবলা নয় । যাদের নরম আর অবলা ভেবে বাজারে কাপড় টেনে নামাচ্ছ

হে প্রেমিক পুরুষ...  হতেই পারে তাদের অবলা নামের আড়াল দু একটা খরিস কিংবা গোখরোও মাথা 

নিচু করে আছে ।

কাপড় খুলেছো এতে দোষ না ধরলেও, বাজারে নামাচ্ছ দেখে গোখরো যে তোমার গলার নলীতে বিষ 

দাঁত বসাবে না তেমন অবলা ভাবা ভুল ।

হতেও পারে এমন অনেক লুকোনো  গোখরো ওই সাজানো চতুর্ভুজে বিষ এর আগুন ছুঁড়ে দিতে পারে ।

হে প্রমিক পুরুষ তখন তোমার অহংকারী তৃতীয় পা যাকে অবলম্বন করে তুমি প্রায়শই চন্দনের জংগলে

হানা দাও ... সে পা  সন্তানের দুধ ভাত  আগলে রাখা  নৌকাটাকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে বৈঠা   কিংবা আগুন নিবারক  হতে  পারবে কিনা পরখ করে রেখো ।

সব অবলা ভালবেসে মা সারদা হবে এমনটা ভাবলে আজও তোমার বয়স বায়ো কি তেয়ো ... অথচ পৌরুষ শিশ্নটি

বায়ো কি তেয়োতেই চন্দনের জংগলে সুড়ঙ্গ ঠিক খুঁজে নেয় ।

আসলে অবলা মানেই সস্তা ভাবো  মাগি বাজিতে নেমে আসো । 

হে প্রমিক পুরুষ শরীরের বিশেষ অঙ্গ শুধু বড় করলেই কি পুরুষ  ... ?

নাকি অবলা নিয়ে সভা সমিতিতে নিল পাঞ্জাবি গায়ে আকাশ আকাশ ভাব দেখিয়ে 

  হাততালি কুড়লেই  পুরুষ হওয়া সহজ ?

নেমে এস হে  ওই আসনটা থেকে নেমে মাটিতে পা রাখো  ... মানুষ হয়ে ওঠো আগে 

টার পর না হয় ... পু...   রু...ষ   হওয়া যাবে , ।



সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

টেরাকোটা

তোমার শরীর জুড়ে প্রেমের আগুন তাই বুঝি সবই টেরাকোটা সম্পর্ক এখন।
তোমার এখন নৌকা জীবন তাই তো তোমার ঘরে শূন্য সংসার ।
জমিনে তোমার আলেয়া রাত  সামনে গেলেই ঠাহর পাবে ।
তোমার জানলায় উস্কে দেওয়া কুয়াশা  
ছুঁয়ে দিলেই  ছলনার ঋতু ,

এই যে ক্রমশ পুড়িয়ে যাচ্ছ নিজের চোখ নিজের  আঙ্গুল  .....আমি কিন্তু জোনাক দিয়ে আজও আমার ঘর সাজাই ,
এই যে তুমি জীবনের গায়ে রং লাগলে ....
পারলে কি রক্ত ছাড়া  অন্য রঙের নাম চিনতে ?

বৃথা চেষ্টা

পিঠে  গেঁথে দেওয়া ভাঙা কাঁচ ...আমি তো চিরকাল আলোই ভেবেছি ,
ওরা জানে না আমি আলোর পথযাত্রী ....আমার 
পরিধিতে অন্ধকার চিরকাল মুখ লুকোয় ।
বুকের ভেতর জ্বালানো আগুন .....আমি তো চিরকাল বসন্তের পলাশ ভেবেছি ,
ওরা জানে না আমি পুড়তে পুড়তে এখন খাঁটি হয়ে গেছি ....নকল আমার সামনে ধোপে টেকে না ।
আমার ঘরের ভেতর সিঁধ কাটা .....আমি তো 
সে গহ্বরকে বাস্তু সাপের সুড়ঙ্গ ভেবেছি ।
ওরা জানে না আমি চিরকাল  বসত বুঝি   ধ্বংস আমার আভিধানিক নয় ।
আমার দুচোখ বেঁধে দিয়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিয়ে এলো ....আমি তো চোখ বন্ধ করলেই  চিরকাল লালন গ্রাম দেখেছি ,
ওরা জানে না আমি শতাব্দীর যুদ্ধে সেনা নায়ক 
আমায় হারানো অসম্ভব।

গাছেদের মানুষ চেনা

শহরের সারি সারি গাছেরাও এখন মানুষ চিনতে শিখে গেছে ,
 অসময়ের বৃষ্টি মানুষের রং ধুঁয়ে দিয়েছে ।
ভালো মন্দের চোখ খুলে দিয়েছে ,
খুব আপোষ করে নিতো  একদিন যে মাটি  তারই তলায় এখন গিনতির খিদমত নিয়ে  দাঁড়িয়ে মীরজাফর ,
মেঘ ও বালিকার মাঝখানে  কুজি মন্থরা তিনপায়া
নিয়ে  বিচ্ছেদ মন্ত্র দীক্ষা দিচ্ছে ....শহরের পবিত্র গাছটা স্বর্গের দুয়ারে আজও কার যেন অপেক্ষায়
মাটির সাথে নিবিড় ,,
 ..... তার সবুজ পাতায় এখনো যথেষ্ট ক্লোরোফিল বজায় আছে ,
মানুষ গুলোর রং ধুয়ে গেছে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে .... পবিত্র গাছেরা চরিত্র চিনে নিচ্ছে 
খুব সহজেই , , 
যদিও .......যদিও  আজও দু চারটে অসুখী শকুন এ শহরের পবিত্র গাছ গুলোয় আঁশটে গন্ধ নিয়ে বসে ...তবু চেষ্টা করেও গাছ কে অপবিত্র করতে পারে না । 
গাছেরাও এখন মানুষ চিনতে শিখে গেছে ।

বাসর

কার জন্য বাসর  সাজাচ্ছ্ .সখি 
 যে নদীর একূল-সেকূল ভাসিয়ে  ময়ূরপঙ্খী নিয়ে আজ তোমার বাসরে  একটি নক্ষত্রের আলো  নিয়ে আসতে পারে নি সে কি আজ অনামিকার চূড়ায়... রাখবে তোমার প্রেমের বৈদুর্য্য মনি।

 সখি কেবল তুমিই জানলে না   আমরণ গৃহত্যাগী জোছনার দিকে চেয়ে থাকলেই আলো হওয়া যায় না .
তোমার এম এক মুহুর্ত আগেই  আমি তোমারই মত  অপেক্ষায়  বাসর সাজাতম 
নিজেকে সাজিয়ে রাখতাম বৈকুণ্ঠ আবীরে....
কাল তুমিও আমারই মত বিসর্জিত ফুল হয়ে গঙ্গা ছুঁয়ে যাবে ।

 সখি যে আজ তোমার অনভ্যস্ত লাজুক মুখের দিকে তাকিয়ে.. অপার্থিব যাত্রায় যায় ....কাল সেই তোমাকে কাজলের দাগে লুকিয়ে রাখবে ,

পৃথিবীতে শ্রেয়সী স্পর্শ উপেক্ষা  হয়েছে চিরকাল 
তুমিও নও অন্যথা ।
তবে তার  মুক্তি হবেই কোনো একদিন মানবী শ্রেষ্ঠার ত্রিশূলে ,, 

ফিরে এসো অরণ্যানী. ফিরে এসো তোমার সিঁদুরের বন্ধনীতে.
পৃথিবী  তোমায় খুঁজছে না মোটেই , যে সামনে সে অশনি সংকেত ,
স্বচ্ছ পদ্মাবতী দিঘির জলে স্নান করে বার বার পাপ ধুঁয়ে নেয় ভাবে সবার অলক্ষ্যে যা ঘটার ঘটছে , 

 সখি  পবিত্রের আহবান.. নয় মনে রেখো তুমিও 
দাঁড়িয়ে আছো হত্যাকারী অসির নিচেই।

আমার দেশ ও আমি

আমার দেশ এখন উলঙ্গ 
 পায়ে ঘুঙুর পরিয়ে মাহফিলে নাচছে
আমার শহরের কোনায় কোনায় এখন পচন ধরেছে ,
কলমে যে কখনো কোনো পচন রোধ করা যায় না সে জানি , আসলে আমিও আমার দেশের মত নপুংসক ....সময়ের হাতে চুরি পরিয়ে বাদরের উলঙ্গ নৃত্য নাচি এবং নাচাই ,
টেবিলে এর পাশে লোকডাউনের ফাইল ...আগামী
কয়েক ঘন্টার কোথায় কোথায় কত হত্যা করা হবে , কোথায় কোথায় অন্ধকারে সুড়ঙ্গ খুঁজে ঢুকিয়ে দেওয়া যেতে পারে পুরুষ্ট শিশ্ন , কোথায় কোথায় 
চীনা ল্যাবে রাখা আগামী ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, 
এখন আমার গোল টেবিলে বসে থাকা মাথার নিউরোন গুলোর তাকে একে একে সেই সব ফাইল সাজানো হচ্ছে ,, 
আমি সাবধান হয়ে যাচ্ছি ভেতরে ভেতরে ...গোপন আস্তানা খুঁজছি আমার ক্যানসারে আক্রান্ত মা , বুড়ো বাবা ,অসুস্থ ভাই , স্বামী আর একমাত্র সন্তান কে সুরক্ষিত রাখবো বলে ,
 অফিসের গোল টেবিলে এখন আমার দেশ কে ধর্ষণ করা হচ্ছে আমি ফ্যালফ্যাল করে দেখছি ,
আমার শহরের গোপন অঙ্গে জ্বলন্ত সিগারেট ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ,   আর আমি  দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাস মাইনেতে কিছু বাড়তি রোজগার বাড়িয়ে নিচ্ছি ।
আমার উঠতি বয়সের ছেলেটার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারি না আজ বহু দিন , কি দেশ গড়ছি তার ভবিষ্যতের জন্য, যেখানে  শুধুই ধ্বংস ,,
 বসন্তের পলাশের রং চেনাতে পারি না শুধুই সারি সারি লাশ শুধুই রক্তের নদী ।
আমার দেশ রোজ তিলে তিলে আমার চোখের সামনে কৃষ্ণ গহবরে হারিয়ে যাচ্ছে ,অথচ আমি হাত বাড়িয়ে টেনে তুলছি না স্থির দাঁড়িয়ে শুধু নিজের ভেতরে সাবধানী খোলস টা খুঁজে চলেছি ।
আমার দেশ আমার মত ষড়যন্ত্রকারীর সাক্ষী কে কি ভাবে ক্ষমা করবে ,? আমার দেশ আমার মত বিশ্বাস ঘাতককে কিভাবে বিশ্বাস করবে?
আমার দেশ আমার মত স্বার্থপর শ্বাপদ কে কি ভাবে মেনে নেবে ? 

বিকিয়ে যাওয়া অমরত্বের বারো মিনিট

আমার অমরত্বের বারো মিনিটকে সে গণিকার বিছানায় শেষমেশ শুইয়ে ছাড়ল , তারপর খোলা বুকে চেপে ধরলো  দিলো অপমানের জলন্ত সিগারেট  , তাতেই  সে জিতে ফেললো এক পৃথিবীআয়ু ,
আমার অমরত্বের এমন অনেক মুহূর্ত আজ সে খুব সহজেই সওদা করে ফেলে ,  আমার অমরত্বের সমস্ত ছবি এখন নিলামে রাখছে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে ।
আমি অবাক হতে হতে তার সমস্ত পোষাক খুলে যাওয়া চামড়া খুলে রাখা বিক্রেতা কে আবিস্কার করছি ,  অবাক হতে হতে তার জুতোর ফিতের গেরো তে দম বন্ধ করে ফেলছি , তার মাথার চুলে স্নেহের বিলি কাটাতে সস্তা গলির ছবি আবিস্কার করছি ...কাঁদতে পারছি না এই ভেবে একটা উপহাস করে রেখে দিল  আমাকে সে তার সমস্ত সংকল্পে ।
উনপঞ্চাশটা  মন হত্যা হয়েছে যারা জানে না তারা আবার হয়তো বিকিয়ে যাবে ....কিংবা আমিই হয়তো শেষের বলিদান ...আমার রক্তের কালো দাগ দিয়ে মাইল ফলকে লেখা হয়ে গেছে নতুন ঠিকানা অনেক আগেই  , 
অথচ দেদার যত্নে আমি ভালোবাসা দিবস পালন করলাম সদ্য সদ্য .....আমার অমরত্বের ভালোবাসা দিবস উজ্জাপন হয়তো আমাকে চড় মেরে উল্লাস করেই যাপিত হয়েছে ।
সস্তা কে ? আমি না  তথাস্তু বলা সেই ঈশ্বর যে খুব 
সামান্য দামে বাজারে কিংবা ঝাঁকা মুঠের ঝুড়িতে বিকিয়ে যায় , একটা প্রশ্ন বিশ্বাসী হয়ে বিশ্বাস রাখলো যার কাছে  সেই কি আসলে বিশ্বাসী !!?
যারা আমার অমরত্বের বারো মিনিট কিংবা বারো হাজার ঘন্টা নিয়ে তামাশা করছে .... গণিকার বিছানায় রাখছে ......তারা ভালোবাসা আর শরীর মনে একই বোঝে,  শুধু  জানে না সব কিছু বাজারে পাওয়া যায় না এই একুশ শতাব্দিতেও,
আর  আমার মত বোকাদেরও এক দিন হিসেব মিলিয়ে দিতে হবে তাকে এই জীবনেই , কারণ সময় সব চেয়ে বড় ঈশ্বর যে কখনো হিসেবে অমিল রাখে না ....সে আমার  অমরত্বের বারো মিনিট হোক আর এক পৃথিবী আয়ু হোক ....

উলঙ্গ রাজা

উলঙ্গ রাজার রাজ্যে  নাকি প্রেমের নেশা লাগে ।
তা বলি তোমরা কে কে দেখেছো সেই উলঙ্গ রাজাকে   যে  নিজেকে  নগ্ন করে যেকোনো মহল্লায় , 
তার  ফরিয়াদি খসড়ায় তে এই পৃথিবীতে সবাই কাঠগড়ায়  দাঁড়ায় , তার সৃষ্টি ঠান্ডা ঘরে বসে 
সমকালীন জেহাদ , তার সংবিধানা  মুখ আর মুখোশ এক সাথে  ঘর করে , উলঙ্গ রাজা  যন্ত্রনা বিকিয়ে সুড়সুড়ি দেয় কলজে গুলোয় , 
উলঙ্গ রাজার ঘরে কাতলা মাছের বড় গাদা বাটিতে সাজানো , তবুও তার শরীরে  জুড়ে ক্ষিদের ক্ষেত ,
উলঙ্গ রাজার যত্নে রাখে নিজের কৌপিন , 
সে অন্যের কাপড়  ছিঁড়ে ফেলে নিজের মত দেখতে চায় , 
উলঙ্গ রাজার ভেতর দেখেছি উলঙ্গ  এক ........!!
উলঙ্গ রানী ....না থাক এবার বুঝি সত্যি বলার দায়ে চড়তে হবে সুলি ।

ননৌকা ডুবি

বিপদ সীমার গভীরে তোমার শব্দরা হারিয়ে যাচ্ছে , চোরা বলিতে রাখা যাবতীয় সম্পর্কের পুঁজি ,
তবু তুমি স্থির তবু আমি চুপ ....
আসলে আমরা জানি ভরা ডুবি কিংবা ভাঙা পাড় লিখে রাখতে নেই ,  ভেতরের বাস্তু পুরুষ হিসেব চাইতে পারে ...আর তখন জল বিপদ সীমা ছাড়িয়ে ভাসতে পারে সুখের আস্তাবল ।
আসলে আমরা জানি না সময়ের নৌকার নীচে গোপন ফুটো থাকে , যে কোনো অজুহাতে ফুটোর ঢাকনা সরে যেতে পারে নিমেষেই ... সময়  কখনই বিশ্বাসী হবার ঠিকে নিয়ে রাখে না ।
তাই নৌকা দুই কিংবা তিন কিংবা অসংখ্য হোক সাবধানী হতে হলে পাড়ের কাছাকাছি থেকেই বৈঠা টানা শ্রেয় ,
আসলে ঘোর বর্ষায় জল আর আগের মত আয়না হতে পারে না , তাই ডুবে যাওয়া কথা দের ভাসিয়ে রাখতে পারে না ।

আগামী বাইশে শ্রাবণ

আগুন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম আগুন খাওয়া ফিনিক্স পাখি হলাম ।
নগর সংকীর্তনা সামিল করলাম সমস্ত সুখের 
সরঞ্জাম ,
অথচ আমার কোনো ব্যক্তিগত খসড়া পাওয়া হল না ,
আমার ব্যক্তিগত রাস্তায় কেন জানি চিরকাল 
বৈধ্যব ভিড় বেশি , 
আমার দ্রাঘিমা জুড়ে যারা দাঁড়িয়ে আছে তাদের ভেতর অবিশ্বাস্য প্রেতাত্মা জেগে থাকে ,
আজ কাল বুঝি দীর্ঘ জয়ের আড়ালে অনেক ছোট ছোট  কিংবা দু চারটে বড় পরাজয় লুকিয়ে থাকে ,
তবু কেন জানি মানুষ ধর্মের আড়ালে আমি আজকাল  ভাড়েদের দেখতে পাই ,
আমি মানুষ খুঁজতে খুঁজতে ফিনিক্স হলাম ,
এখন আমি চুপ করে পার্শ্ববর্তী অন্ধকারে দাঁড়িয়ে  থেকে দেখি....  যারা আলোর কথা বলতো একদিন তারাই  জোনাকি মেরে উৎসব পালন করে ।
যারা জীবনের কথা বলে  আজও তাদের জীবন্ত লাসে এক বিশেষ টিকিট লাগিয়ে দিয়েছে ঈশ্বর আর সেই টিকিটে লেখা আছে সাবধান পচনের সংক্রমণ  ছড়াতে পারে ,
আমি এখন সেই খালি অথচ ঠিকানা লেখা কবর গুলোর পাশে দাঁড়িয়ে বাইশে শ্রাবণের অপেক্ষায় ।

নট নটির খেলা

শোন এবার আড়াল থেকে বেরিয়ে এস নট
আর নটি , অনেক হল মেঘের আড়ালে থেকে বান মারা,, আমি সব দেখতে পেয়ে গেছি ...দেওয়ালের এক জোড়া চোখও ছিল সেটা তোমরা জানতে না ।
 এসো এবারে টুকি টুকি ছেড়ে  একটু ঘুষো ঘুষি খেলি দেখি তোমাদের দ্বৈত অহংকারে কতটা আগুন আছে !
কি ভয় পাচ্ছ .... আমার আবার ওই শব্দটা অভিধানে নেই , নেই বলেই একটা আস্ত রাক্ষস কে এই এরকম চৈত্রের দুপুরে চিবিয়ে খেয়ে নিয়ে ছিলাম , আসলে তোমাদের মত আমি ঈশ্বর নয় 
আমি শয়তান তোমাদের ঠিক উল্টো পিঠে আমার একটা ঠিকানা আছে , তাই আমি যতক্ষন না সামনের চিতার সব কাঠ পুড়ে যাচ্ছে সটানে ডোমের মত আগুন  ঠেঙিয়ে যাই তারপর ভুসো
কালি অস্থি গঙ্গায় ভাসিয়ে পাপ বিদায় করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি ,
তাই মেঘের আড়ালে আর নয় শ্মশানে এসো মুখোমুখি হও ,  আমি কোনো নিবেদিত সমর্পণের শিল্প নই আমি মানিক্যের অধিপতি কিংবা  নীলাদ্রি বৈদুর্য্য পাথর নই , 
এক লহমায় ওই সাজানো চতুর্ভূজ আর সন্তানের দুধে ভাতের থালা নিলাম হতে পারে , 
আমার হারাবার ভয় নেই পাওয়ারও কিছু ছিল না কখনোই .....
তাই নট আর নটি নাটক এবার শেষ হোক ।
পারলে একবার তৃতীয় স্বত্ত্বা হয়েও তোমরা নিজেদের নিজেদের ঘরে শক্ত পোক্ত আগল দিয়ে দেখে নিও ...।হতে পারে ঘরের মধ্যে শয়তান আগেই প্রবেশ করে আছে ।হতে পারে তোমাদের সুখের বিছানা বালিশের ঠিক নীচেই এক জোড়া সময় ঘাপটি মেরে বসে আছে ....এমন অনেক গোপন সংকল্প   থাকতেও পারে , আসলে আমি একটা গোটা রাক্ষস নির্দ্বিধায় গিলে ফেলতে পারি যেকোনো সময়ে ....।

ক্ষমা কর হে

 যারা কাছে আছে তারা কাছে থাক তারা তো পারে না জানিতে 

তাঁহাদের থেকে তুমি কাছে আছো আমার হৃদয়খানি ,

রবি বাবু তুমি বেঁচে থাকলেও প্রতিবাদ করতে লজ্জা পেতে ,  যেমনটা আমি 

পাচ্ছি , এমন উচ্ছিষ্ট  থালায় তোমাকে পরিবেশন করে শব্দ শ্রমিকরা নিজেদের 

জাতের বকলেশে শ্রেষ্ঠত্ব লিখছে ... যে নিজের চোখ কান এর ধর্মে ঘা লাগে ,

জানো রবি বাবু তোমার লেখা লাইনের শব্দগুলো আজকাল বেশির ভাগ বিশ্বাসঘাতকরা

বিশ্বাসী হতে হাতরে বেড়ায় ,

আমরা যারা নগন্য , যারা সৃষ্টি জানি না কেবল তোমার শব্দের আর সৃষ্টির পুজো করি 

তারা ভিতু হলেও অপরাধী নয় ...। 

আরও আছে রবি বাবু তুমি কি জানো তোমাকে প্রেমিক রা উচ্ছিষ্ট করে আবার তোমার 

প্রসাদের থালাতেই রেখে একই সাথে হাজার প্রেমিকা কে তুষ্ট করে প্রেমিক হিসেবে শ্রেষ্ঠ 

বলেই দাবি করে ,

আসলে তারা জানে না রাতের রাস্তায় শুধুই নিয়ন বাতির আলো নয় সময়ের চোখ পাহারায়

থাকে , তারা হয়তো জানে না বিশ্বাস শব্দটা খুব ছোট ... তবে ইচ্ছা করলেই বাজারি নয় ,

রবি বাবু তুমি আজ বেঁচে থাকলে কি চুপ করে এই নাটক দেখতে ! নাকি দু দান খেলে নিতে 

ওদের মতোই ।

আমি অবশ্য আজ কিছু দিন হল  জেনে বা না জেনেও  উচ্ছিষ্ট  কেই তোমার প্রসাদ বলে গ্রহন 

করেছি ...। হয়ত আরও করবো , আসলে জানো রবি বাবু যারা ঠকায় তারা ভাবে চালাকি করে জয়

হাসিল করা যায় ,তারা জানেই না তারা আসলে কতটা শ্বাপদ  তারা অন্য কে সাবধান করতে

 করতে নিজের অজান্তে পাপ কে সাত পাঁকে বেঁধে ফেলে ... আর তারপর ... খেলা জমে যায় ,

কি রবি বাবু তুমি কি হাসছ না কাঁদছ ... জানি কি এক কিংভুতকিমাকার দশা তোমারও ,

হয়ত তুমিও দশ চক্রে আজ ভুত ।

ক্ষমা কর রবি বাবু ... এ চিঠি অন্তত একবার তোমার উদ্দেশ্যে লেখা জরুরী ছিল ,অবশ্য

গত কাল কে যেন বলেছিল গরু বাছুর এক থাকলে জংগলে গিয়েই দুধ দেয় আর খায় ,

তাহলে আর কি তুমিও রবি বাবু  তোমার  তোমার পারিজাতের বিছানায় হেলান দিয়ে 

আরাম করে খেলা দেখো ... খেলা হবে আরও খেলা ।

রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

আদিখ্যেতা

ছুঁড়ে দেওয়া খাবার খুবলে দেখি তার ভেতর কতটা ভালোবাসা কতটা যত্ন লুকিয়ে আছে ,
আনআইডেন্টিফায়েট পরিচয় নিয়ে পড়ে আছি গত কয়েক মরশুম,  যারা  এসেছিল তারা ভিক্ষার পাত্রে কৃপণতা রেখে চলে গেছে , আমি ও গাছটা এক রকম  নাছোড়বান্দা  এই ঘু ঘু  চরা ভিটে মাটি   একমাত্র আশ্রয় যেন বেওয়ারিশ লাশ  আগলে পড়ে থাকা ।
অবাক মলাটে নিখুঁত অন্তর্বাস লিখে দিয়ে কবিরা 
অন্ধ ও বধির হয়ে গেছে বহুকাল আগেই  ....আমার মত কিছু অপদার্থ  ঘড়ির তিনটে কাঁটা কে স্পর্শ করিয়ে জাহাজ ঘটে  তেচোখো মাছটার অপেক্ষায় বসে থাকে ভোর থেকে সূর্যাস্ত দেখবে বলে । একটা সন্ধ্যের নামকরণের জন্য প্রলয়হীন এখন সমস্ত শহর প্রেমিকের হাত গোটানো শার্টের বোতাম  বিকৃতির হিত অহিত ছায়া আটকে আছে। ।
গোপন সংলাপ কলম ছাড়া কেউ শুনতে পাইনি আজও ,, তাই আমি কিংবা কবি কেউ কান্না ছাড়া এক  গ্রাস ভাত কখনো মুখে তুলতে পারিনি ।

কি ভাবছেন এসব মিথ্যে কথা না হে  মিথ্যে নয় 
এসব সত্যি সত্যি সত্যি ....ভেবে দেখবেন আপনার ভেতরে একটা অন্য লোক মাঝে মাঝেই দরজায় কড়া নাড়ে কিনা ,, হতেই পারে আপনার সামাজিক স্ট্যাটাস এর শোরগোল সেই করাঘাতকে অস্পষ্ট করে ফিকে আরো ফিকে করতে সমর্থ হয় ,
একদিন স্নান ঘরে দু দন্ড চোখ বুজে দেখুন না মশাই ভেতরের হু হু করে কেমন একলা  চৈত্রের লু বইছে ...অথচ আপনি মশাই উলংগ হয়ে ঠান্ডা শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে আছেন ।
আসলে যন্ত্রনা সকলের ভেতরের  ক্ষত গুলোর ইউর নুন ছিটানোর মত জ্বালায় , কেউ খস খস করে কলম চালিয়ে ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখে কারো না রক্ত পুঁজ এসব গড়ালেও আহা বলার সময় বা ইচ্ছা কোনোটাই নেই ।

কতটা পারো

কি ভাবছো আমাকে সহজে চোখে ধুলো দিয়ে তুমি  রাস্তা পরিষ্কার  করে রাখবে , 
আমি এতই বোকা কিছুটি বুঝতে পারব না ...তোমার সহজ সরল  গলার স্বর , চোখের চাহনি এসব দিয়ে কতটা মিথ্যে কে সত্যি করা যায় ! 
জানতো আসলে শুদ্ধ প্রেমর  জন্য  ঈশ্বরও প্রস্তুত
নয় ,  । তবু চালাক হতে হতে স্বার্থপর হতে হতে তুমি ভুলে যাও আমার   চোখ এখনো  অন্ধ হয়নি ।
মন এখনো বিকৃত হয়নি,,  আমি বাতাসের গতি ঠাহর করতে পারি  এখনও .. ,  আমাকে সারা জীবন উচ্ছিষ্ট দিয়ে সন্তুষ্ট করবে ভেবে এসেছো ....অথচ এই নিদারুন সত্যিটা জানলে তুমি থমকে দাঁড়াবে ...
আমি তোমার সমস্ত মিথ্যে জেনেও তোমাকে শুধু তোমার জন্যেই হৃদয়ে রেখেছি , 
আমার নিষ্ঠার কমতি ছিল না ...তাই তুমি জিতে গেছো ভেবে প্রতি  মুহূর্তে আমার মত প্রত্যেক প্রেমকে অহংকারে অবহেলায় নির্বাসিত করে রাজার মত হেসে উঠতেই পারো ... গলায় সোনার বুট  চেপে  বন্ধ করে দিতেই পারো ভালোবাসার কন্ঠ ।
শুধু জেনে রাখ আমি ইচ্ছা করেই তোমার দিকে   জিতের গুঁটি টা ফেলে রেখেছিলাম।

লাইফ লাইন (২)

অহিনের এই প্রতি মুহুর্তে বদলে যাওয়া স্বভাব কুর্চিকে অস্থির করে তুলছে , কি এক ভেতরে ভেতরে বদল কুর্চি আর এই দশ বছরের চেনা লোকটাকে চিনতে পারছে না , 
অথচ সে কখনোই অহীন কে কোনো ব্যাপারে বাঁধা দেয় নি বরং উৎসাহ দিয়ে এসেছে , অহীন বন্ধুদের সাথে মাঝে মাঝে কোনো যোগাযোগ রাখতো না কি রকম মন খারাপ করে বলতো কিচ্ছু ভালো লাগছে না কুর্চি .....আর কুর্চি পরের দিন ঘর সংসার কাজ সব ফেলে ভোরের ট্রেনে দৌড়ে যেত অহিনের কাছে , তারপর সমস্ত দিন অহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে ওর যাবতীয় মন খারাপের কথা নিজের ভেতর আত্মসাৎ করে বলতো শান্ত হও , যাও মাঝে মাঝে রনি, সাহেব, মৃদুলের সাথে সময় কাটাও , একটু নিয়মের বাইরে আড্ডা দাও  ভালো লাগবে , অহীন বলতো জানিস কুর্চি আমার ওদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে না সেই এক মেয়ে আর মদ ছাড়া ওরা কিছুই জানে না ,আমি ওদের সাথে ঠিক নিজেকে মেলাতে পারি না ...,
কুর্চি বলে আচ্ছা তোমার যা ভালো লাগে যেমন করে ভালো লাগে তেমন করে সময় কাটাও ,রোজ রোজ এক ঘেয়ে অফিস আর বাড়ি থেকে একটু ছুটি নাও ।
অহীন কুর্চির বুকে মুখ গুঁজে বলে উঠতো তোর সাথে কাটানো একনকোয়েক ঘন্টা আমার মুক্তি, আমার ভালোলাগা ,আমার উৎসব উদযাপন ,
তুই আমাকে ছেড়ে যাস না ।
কুর্চি চুপ করে থাকতো সে জানতো সে অহীন কে ছেড়ে না গেলেও অহীন তার কাছে থাকবে না ....,।

আজ গঙ্গার ঘটে বসে কুর্চির সে সব কথা ভীষন মনে পড়ছে , আসলে কাল অহীন বলছিলো তার কিচ্ছু ভালো লাগছে না , কুর্চির কানে দেড়শো মাইল দূর থেকে সারা রাত এই কিচ্ছু ভালো লাগছে না অহীন এর গলার স্বর ভেসে আসছিল ,
কুর্চি সারাতার ঘুমোতে পারে নি কি করবে ভেবেও পাচ্ছিল না ।
সকালে উঠে ভোরের বসে অহীন এর শহরের উদ্দেশ্যে  পারি দিল ....চলে তো এসেছে কুর্চি অথচ কি করবে একবার অহীন এর বাড়ির সামনে একবার অফিসের সামনে ঘোরাঘুরি করছে তারপর এক সময় অহীন অফিসে এলো বাইক চালিয়ে ,সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেল অথচ কুর্চি কে দেখতে পেল না ।আসলে কুর্চি মুখ ঢেকে ছিল , আসলে অহীন যে দিন থেকে বলেছে সে আর কুর্চির মুখোমুখি হতে চায় না ,কুর্চিও নিজের জায়গাটা বুঝে গেছে ,তারপর থেকে অহীন এর শহরে এলেও তাকে আর জানায় না । আজও তাই সে অহীন এর সামনে গেল না ,সারা দিনের বেশ কিছুটা সময় সে অহীন এর অফিস এর সামনে বসে থাকলো তারপর গঙ্গার ঘটে বসে মানুষের আসা যাওয়া দেখতে দেখতে কত কিই না ভাবতে লাগলো ....অহীনএর সাথে এই গঙ্গার ঘটে একদিন অনেকটা সময় কোনো কারণ ছাড়াই তারা একসাথে কাটিয়েছে ,
আর আজ অহীন এক মুহূর্ত কারণ ছাড়া কথা বলে না .....এই অহীন কে কুর্চি আর চিনতে পারে না ,
অহীন এর এই মাতৃ পিতৃ হীন শহরটা কুর্চি কে বড় কাঁদায় , বড় মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছে কুর্চি অহীনকে , তবু আজকাল কুর্চিও অহীন এর মত ভাবতে চেষ্টা করছে এই এক তরফা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে ......
….……............................ক্রমশ

শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

ভালো লাগে না

কে আর  মনে রাখে বলো সেদিন জুতোর বেঁধে দেওয়া ফিতেয় ঠিক কতটা ভালোবাসা রেখে এসেছি ,
আমিই কি মনে রাখতে পেরেছি ফেরি ঘাটে অপেক্ষারত বাঁশির কতগুলো ডাক তুমি  অস্থির হয়ে  ঠিক কতগুলো সিগারেটে  ঠোঁট পুরিয়েছ,
আসলো আমাদের কাছে এমন কোনো সময়ের দাগ নেই যা প্রতিমুহূর্তে ফেলে আসা সময়ের কথা মনে করিয়ে দেবে , 
আসলে ক্ষত যতটা গভীরে হাড় ও মজ্জা ছুঁয়ে যায় ভালোবাসা ততটা পারে না ,
তবু আমার কাছে একনিষ্ঠ ছিল সমস্ত দিনগুলো ,
কখনোই অন্য কোনও ভালো থাকার সামঞ্জস্য খুঁজতে যাইনি , 
আমার অভ্যেস একটা বড় দোষ  আমি কথা রাখতে রাখতে ফুরিয়ে গেলেও ....হাত ছাড়তে পারি না , 
ভালো লাগে না যখন  ভালোবাসার ফিতে জুতোর ফিতে অন্য কেউ বাঁধে , যখন আমার মন্দ বাসায় হাজার হাত চুপিচুপি সাবাড় বসায় , ।
আমিও তো কারো পাতে কখনো ভাগ বসাই নি...
আসলে ভাত নয় পাত্রটাও চায় রোজ রোজ বদলে যাক ভাত খাবার হাত ,  জুতোর ফাঁসে রোজ এক নতুন স্পর্শ বেঁধে সময়ের নতুন পথ আর পথিককে আলিঙ্গন করি ,
আসলে আমি অসহায় হলে কেউ কেউ সমস্ত যুদ্ধ জিতে যায় ....

গল্পগুলো সত্যি

রাত জাগা হলুদ পৃষ্ঠায় এক ঘেয়ে হাজার
বছরের পুরনো আলিঙ্গন দেখতে আর ভালো লাগে না  ,,,

 কবরের ঠিকানা আর  মাস্তুলে নির্বিকারে ভিজতে থাকা মন্ডবাসার  গোত্র ,,
কেন যে মানুষ এত দীর্ঘ আয়ু বাঁচে। ... কেন যে অদৃশ্য ফাঁসের স্বপ্নে কোনো আগাম শোক প্রস্তাব থাকে না জানি না ! 
আমি এও জানি না গোপন কুটুরিতে মৃত কবির
পাণ্ডু লিপি আলো দেখতে পায় কিনা  কখনো !
আমার ভাবনা গুলো কখনো মেঘ কখনো বিদ্যুৎএ ঘিরে ফেলে দারুখন্ড মাত্র  এরা আজীবন দলছুট ।

আমি যখন এসব লিখছি আমার অন্য পৃষ্ঠায় জ্বলে উঠছে আমার চিতা কাঠ ,
তোমার উঠোনে তখন মা জোনাকি সময় কাঁধে করে হেঁটে যায় কোনো স্পষ্ট নক্ষত্রের উদ্দেশ্যে ।
ক্যালেন্ডারের ঘর গুলো কাটতে কাটতে হঠাৎ একটা মৃত্যু দিন এসে দাঁড়িয়েই যায়  আমি ও আমরা সে দিনও কোনো সামাজিক উপাখ্যানকেই 
নিয়ম মেনে নিয়ে  নতুন করে গল্পের চরিত্রে যাপন লিখে নেবো।

গ্রহণ

 মাথার ওপর গ্রহণের মত কিছু সম্পর্কে দায় রাখা ।
সাইড দাঁড়ানো ছায়া গুলো  মুখোশ গুলোর কোনোদিন বিশ্বাসী হবার দায় ছিল না ,
অথচ ওরা সবাই একটা বিশ্বাসী হাত আর আশ্রয় চায় ,
আসলে চরিত্র গুলো মরে যায় একবার বিশ্বাস হারালেই ....তবু সহ্য করে যেতে হয় আজীবন শনির সারেসাতি কিংবা গ্রহণ এর মত ।
মানুষের চামড়ার নীচে কি শুধুই রক্ত মাংস থাকে 
সেখানে কি নিজস্ব ধর্ম থাকা জরূরী নয় ,
প্লিস আপনারা কেউ আর আলোর কথা বলবেন না , আপনারা কেউ দেশ বা ধর্ম নিয়ে কথা বলবেন না , আপনারা সম্পর্কের ওপর গ্রন্থ লেখা বন্ধ করুন ....প্লিস আপনারা এবার আসমান থেকে নামুন । আর কত দিন এমন ঘোমটার তলায় খ্যামটা করে সভা সমিতি সাহিত্যর আড়ালে আসল মুখগুলো লুকবেন .....জানেন তো মশাই দেওয়ালেরও কান আছে সময়েরও চোখ আছে ।
ইঁটটি মারলে পাটকেল টি কখনো না কখনো খেতেই হবে সে আপনি চান বা না চান ।

সার্জিক্যাল ওয়ার্ড

যে ক্ষত গুলোর কোনো শুশ্রূষা নেই সেই ক্ষত গুলোর উপশম অপেক্ষায় ভিখারী মন বেঁচে থাকে ।
হাসপাতালে বেডে আমার বুকের পাঁজর আর মাটি আলাদা করে দেখে নেওয়া হচ্ছে  আরো কিছু দিন ক্ষতদের উল্লাস  বহন করতে  পারবো কিনা , সার্জিক্যাল ছুরির ডগায় আমার ভবিষ্যত লেখা হবে , এই মূহুর্ত থেকে আগামীর ,
আমারই মত যাদের চিবুকে পুরোনো অক্ষর লেগে আছে তাদের কোনো আত্মীয় নেই  এই হাসপাতালে , অসাড় হয়ে থাকা মন ও শরীর ব্রাত্যের  চিহ্ন রোজ রোজ বাড়তে থাকে ইনফেকশন হয়ে  ।
আমার আস্ত দলিলে এখন ক্ষয় রোগের সারি সারি মিছিল , বুকের ভেতর চাপা পড়া নোঙরের নীচে সেই কবেকার হলদেটে বাঁচার ইচ্ছা ,
 কাঁচি ছুরি   হাতে সাদা কোট পরা ঈশ্বর ঈশ্বরী আমার  কলজেটাকে কিছুদিন ডুবিয়ে রাখতে চায় দিকশূন্য অন্ধকার শূন্যতায় ,
উপশম হীন ক্ষতগুলো ফিসফিসিয়ে বলছে আরো কিছুদিন ভেসে থাকার কথা ।
খুব ভালোবাসি বলে যারা দাবি করতো একদিন তারা সকলে এখন সময়ের ঘরে নিশ্চিন্তে বালিশে মাথা রেখে ঘুমায় ,
আমি আমার অসুখ নিয়ে তাদের দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি......."কেউ কথা রাখেনি তেত্রিশ বছরে"  কেউ কথা রাখে না আসলে ...।







শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১

আশীর্বাদ

এইবার সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলতে চাই,   নতুন কোনো স্নান সারা শুদ্ধ ভোরে দরজা খুলে দিতে চাই অন্ধ কুটুরির ।

বহুযুগ আমি নদীর ধারে জ্বলন্ত চিতার হয়ে  জ্বলছি সে আলো কেবল অন্ধকারের স্মারক,

 সে আলো শুধুই একটা কালো পূর্ণচ্ছেদ এর প্রতিশব্দের মত ।

এবার আমার মাথায় পরিয়ে দাও বৈদুর্য্যমনির মুকুট হে উত্তম পুরুষ ,

আমি সবুজ হয়ে উঠি , আমি শুদ্ধ হয়ে উঠি , আমি  সুখের বর্ষা, উচ্ছল ঝর্ণা হয়ে উঠি ,

এবার সব পাপ ধুয়ে ফেলে আমি নতুন হয়ে উঠবো  ।

এবার সমস্ত সমষ্টির অন্ধকারকে আলোর বুননে দেখে ফেলবো , 

এইবার সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলতে চাই,   নতুন কোনো স্নান সারা শুদ্ধ ভোরে দরজা খুলে দিতে চাই অন্ধ কুটুরির ।

হে উত্তম পুরুষ তুমি মাথায় রাখা হাত ।




পলাতক

সব শব্দদের ছেড়ে যেতে চাই, 
এভাবে যতবার ভাবি 
ততবার কে যেন অদৃশ্য কন্ঠ আমায় বলে  তবে এতো আয়োজন এত মেলা শেষ করবে কোন দুঃসাহসে ,
জানি না কবে খেলার ছলে বেঁধেছিলাম ঘর ,
জানি না কি মোহে  সম্মতি দিয়েছিলাম উদ্বাস্তু থেকে সংসারী হবার !
অথচ যবে থেকে  বাউল মন বেঁধেছে ঘর তবে থেকে শর্তহীন কষ্ট আমার তাবিজে বাঁধা পড়েছে ,
ফুৎকারে উড়িয়ে সুখ  আমার যাবতীয়  শব্দদের ছেড়ে বহুদূর চলে যেতে চাই ।
খুব সহজে আমি এবারে উদ্বাস্তু হয়ে ফিরতে চাই  চটি জামা  ছেড়ে শুধুই নিজের ভেতরের একতারার সঙ্গে ,
 কোনো কথা আর নয় হয়তো বোবা হতে পারলে সবচেয়ে সুখী হওয়ায় যায়,
হয়তো বিধিরতায় শান্তি সব চাইতে বেশি ,
কোনো বান্ধকী সম্পর্কে আর ফিরতে চাই না ,
কোনো মরশুমি আব্দারের অপেক্ষা আমার  আর নেই ,,
এক দিন গভীর রাতে ঘুমন্ত শব্দ দের চাদর আর পাশবালিশের আগলে রেখে বেরিয়ে পড়বো ...
একদিন অদৃশ্য কণ্ঠ কে জানিয়ে দেবো আমার আর কোনো দায় নেই ...একদিন অবাধ্যতায় মাতাল হয়ে চির বিদায় নেবো তোমাদের সকলের কাছ থেকে ।।





অকবিতা

জরুরী কিছু প্রশ্নের খোঁজে বুকে উত্তাপ আঁকা হলে শুনেছি হৃৎপিন্ড পুড়ে যায় ,

শুনেছি বাউলের কোনো নিজের নদী বা পথ থাকে না তবুও সকল বিচ্ছেদের বসতি যেন তার পারাপার জুড়েই থাকতে ভালোবাসে ,

আসলে এ পৃথিবীতে কিছু মানুষের স্থাপত্যএ সম্পর্ক হেঁটে আসে.... ছুঁয়ে যায় কিছুটা, তারপর নিয়ম মেনে দূরত্বে হারিয়ে যায় , 
হয়তো কিছু মানুষ সারা জীবন হাড়তেই আসে তাদের সুখ হেরে যাওয়াতেই ,,
করতল বরাবর হেঁটে দেখেছি  গত জন্মের বৃক্ষ হয়ে ওঠা শ্বাস মূল এখনো হাতের রেখায় স্পষ্ট ,
আমি আরো একান্ন জন্ম  নারী হয়েই জন্ম নেবো,
গাছ হয়েই জন্ম নেবো।

তারপরেও সদা কালো বিজ্ঞাপনে আমি রোজ দেখবো  রক্তের রং কারা যেন চিরকাল নীল রেখে গেছে  । 
কারা যেন আমার শীর্ন ডালে ঝুলিয়ে গেছে  বিচ্ছিন্ন  দুচারটে করোটি ।

আমি অসহায় হলেই

আমি অসহায় হলেই তার জয় নিশ্চিত হয়ে যায় ,
জাহ্নবী ছুঁয়ে দেবার নামে এ পৃথিবী আমাকে বার বার ছুঁড়ে ফেলে মহাশূন্যে ,
পাতায় পাতায় হাত বুলিয়ে আমার্  যাকিছু মৌলিক অধিকার কিশোরী দৃষ্টি অজান্তে  বার্ধক্য পৌঁছে যায় ....,,,
অনেক গুলো দোরগোড়ায় আমার জন্মের দায় রেখেছিল মা ,  আজকে আমার হৃৎপিণ্ডে সে সব বন্ধ দুয়ারের গায়ে পড়ে থাকা  পড়ন্ত  আলোর অভিমানী বার্তা , জানি না ঠিক কার ইচ্ছায় আমার এ জন্ম ...জানি না কার দোরগোড়ায় আমার মত জন্ম অপেক্ষা করে ,
সম্পর্কের মহার্ঘ্য দিতে দিতে গলার নীচে আয়ুর দাগ স্পষ্ট হলেও  জন্ম দাগের শোক ফিকে হলো না 
মধ্যরাতে বিছানা ছেড়ে আমি ঘুমন্ত সম্পর্ক গুলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে দেখেছি  তারা সবাই নিশ্চিন্তের জড়িয়ে ধরে পাশ বালিশ ,

সে কাছে গেলেই হৃদয়ের বাইরে এক যৌক্তিক উপসংহারে  দিয়ে ফিরে যাবার পথ দেখিয়ে দেয় ।
 এখন
স্পষ্ট টের পাই, আমি শ্রেফ এক
প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া মৃত রক্ত রক্ত করবী..
যার গায়ে কুমকুম রং ফ্যাকাসে যার শুধু পচনের পথে এগিয়ে যাওয়া ,


যাকে দেখে কোন একদিন কেউ পূর্ণ এক নারীর আখ্যান দিতো 
 সে এখন শুধুই সমর্পণের নিদারুণ হাহাকার...।





বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

কালো মেয়েটার মুক্তি

কালো মেয়েটির শরীরে আজ কদিন শীত নেমেছে ,
তাই দূরত্বে একটা মাফলার আর একখানা চাদর তার আর বসন্তের মাঝে ।
কালো মেয়েটা চোখের কোনে নীল ছায়া বলে দেয় মাঝরাতে তার ঘরে কাঠপোড়া ধোঁয়ায় ছিল রাত জাগা ব্রত ।
কালো মেয়েটা সমস্ত শৃঙ্খল ভাঙলো ভোরের দিকে
মেয়েটা গাছ আকাশ সবাইকে মুক্তি দিল,
,,
 , তার কাছে বিশ্বসংসারের কেউ দোষী নয় ...কখনো।
মেয়েটা গাছ আকাশ সবাইকে মুক্তি দিল,
আসলে কালো মেয়েটা জন্মাঅভাগী , 
তাই এবার সে সহজিয়া হল , 
আগুনে দিল একনিষ্ঠ মন ,
এটুকুই দূরত্ব সম্পর্কের মাঝে রাখলো
কালো মেয়েটা জানতে চায়নি তার শীত ও জ্বরের কারণ , আসলে কালো মেয়েটার মনে আর কোনো প্রশ্ন উত্তররের লুকোচুরি খেলা চলে না , 
কালো মেয়েটার ভেতর শুধুই সাদা আলো ....শুধুই সাদা আলো ।

তোমায় অহংকারের অস্ত্র

এই যে তোমার এত অহংকার আর সেই অহিংকারী ছোবল  আমার মত নিঃসঙ্গ পাথরে দিনপ্রতিদিন আস্ফাল করে নিজের  শান্তি পাও ,
আমার তাতে কিছু মাত্র কষ্ট নেই .....
তোমার এমন অহংকারী অবলীলাক্রম দেখতে দেখতে আমি আজ পৌঁছে গেছে একুশ শতকের কিছু বেশি পথ,
এই যে উত্তরের চিলেকোঠা থেকে তুমি প্রায়শই আমাকে তীব্র অহংকারে শূন্যে পাক খাইয়ে অনাথ পাতার মত উড়িয়ে দাও ....তারপর নিজের ক্ষমতার  বাইরে এক উদাসীন ভাব প্রকাশ করো,
আমি ভাঙা পাঁচিলে আস্তিন বিছিয়ে তোমার সমস্ত 
দাপট গুছিয়ে রাখি ।
তুমি চাবুকে চাবুকে যখন আমার শরীরে বাড়তি কিছু রেখা এঁকে দিয়ে ক্ষান্ত হও , আমি তোমার শিরদাঁড়ায় ঘুন পোকাদের স্পষ্ট দেখতে পাই,
তোমার ভেতর এক অসম্ভব কাঙাল কে আমি 
ক্ষুধার্ত খরগোশের মত দৌঁড়াতে দেখি অস্থির হয়ে ।
আমার সহ্য দেখে তোমার ভেতর আগুন জ্বলে ওঠে দপ করে ,পুড়ে যায় যাবতীয় তোমার রাজবেশ ,, তোমার পোশাক হীন অসহায় দেহ পট
থেকে সময়ের গড়ল গড়িয়ে নামতে থাকে ।

আমি বদ রক্ত গড়িয়ে নাম ঠোঁটে একটা মৃদু অহংকার রাখি তখন .....জানি তুমি চাও আমি গুঁড়িয়ে যাই তোমার মত এ পৃথিবীর সমস্ত চাবুক চালকের কাছে ,
আমার শিরদাঁড়া হিং পুঁতে দিয়ে কালজাদু করে ফেলো চট জলদি ।
অথচ তুমি আমার ভেতরে প্রকান্ড তাল গাছের বিম গুলো কখনওই দেখতে পাওনি  ,
মরে যাওয়া আর হেরে যাওয়ার তফাৎ আমার কাছে নেই , 
আমি স্থির স্থাণু তুমি আমাকে কাটতে পারো ,মারতে পারো, আগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারো , আমার সারা দিনের আয়োজনের একটি মাত্র রুটিতে বিষ মিশিয়ে দিয়ে দেখো ...........
দেখতো জিততে পারো কিনা ?
দেখো  শেষ মেশ একটা মর্মান্তিক হার আমায় উপহার দিতে পারো কিনা ।





রাত দুটো সাতচল্লিশ

রাত দুটো সাতচল্লিশ উত্তরের বারান্দায়
 দুরন্ত বলি ঝড় আছড়ে পড়লো ,
আমার হাড় পাঁজরে ইঁটের থেকে ঝুরঝুর করে 
মাটি ঝরে পড়লো  একটা ভয়ানক হাহাকারে ,
বাড়ির নীচে এলামন্ড গাছটা কেঁপে কেঁপে উঠলো ।
খসে পড়লো শালিকের বাসা ,
আমার উপন্যাসের মলাট দুমড়ে মুচড়ে  আলো আঁধারে দিশাহীন হচ্ছিলো ,

চোখের পাশ দিয়ে ঘন রক্ত দাগ তারসাথে তুমুল জলস্রোত , 
এমনি রাত বিরেতে অতর্কিতে  নিঃসময় ধুলো ঝড়
আমার বারান্দা ওলটপালট করে দেয় , 
 আমার যে বাসস্থান বলে  অতঃপর অবশিষ্ট কিছুই থাকে না,  
রাত তিনটে বাহান্ন  গলায় সোনার বুট দিয়ে চেপে ধরা  হল নিঃশ্বাস , 
আমি চিৎকার করলাম না ,
আমার গলার নলি দিয়ে অর্বুদ বুদ্বুদ রক্ত ঘাম তখন ,
রাতের দু একটা তারা তখন ধুলো ঝড় ঝেড়ে আকাশের জানলায় উঁকি দিলেও আমায় কেউ দেখতে পেলো না ,
আসলে আমার উত্তরে বারান্দা আমি আর আমার যন্ত্রনা দুজন ভীষন একলা  .....মাঝে মাঝে ধুলো ঝড় আমাদেরকে  আরও একলা করে দেয় ,
সময়ের সিগারেটে পুড়তে থাকা ক্ষত গুলো বারংবার ফিরে ফিরে আসে ।






প্রতীক্ষা

আমার ভিটে মাটিতে এখন ঘুঘু চরে, তারা খুঁটে খুঁটে আমার পৈতৃকতায় অভিশাপ গুঁজে দেয় ।

আমার কবরে শুকনো রক্ত চেটে নেয় নিশুতি সঙ্গিনী শেয়ালের দল , 
আমি এই গোরের ভিতর অপেক্ষায় আছি সেই রাতের.... যখন শেয়াল গুলো শুকনো রক্ত চাটতে চাটতে আমার খুলি ছুঁয়ে ...ঝটকা টানে আলাদা 
করে  দেবে দেহ থেকে আর উল্লাসে হুক্কা হুয়া করে উঠবে , 
আমি সেদিন আমাকে বার বার সেলাই করতে বাধ্য করা মানুষগুলোর ফলক নামা গুলো চিনিয়ে দিতে চাই  ওদের । 
আমি রাত পাখির ডানায় সেদিন ওই ঘুঘুদের জন্য আরো কিছু ভিটে মাটির ঠিকানার চিরকুট বেঁধে দিতে চাই ।
আমি কবরের ভেতর থেকে ঘুঘুর ঠুকরে খাওয়া ঠোঁটের শব্দ শুনতে শুনতে এক অবিনশ্বর প্রতীক্ষা বুনতে থাকি ,
রাত সঙ্গিনী শেয়ালের জিভের  আওয়াজ আমাকে রাত গুলো জাগিয়ে রাখতে সাহায্য করে একটা 
সত্যিকারের সকালের জন্য ।
আমার ভিটে মাটিতে এখন ঘুঘু চরে, তারা খুঁটে খুঁটে আমার পৈতৃকতায় অভিশাপ গুঁজে দেয় ।





রাজার মুখ

আমাদের নিজস্ব শব্দগুলোর ওপর এখন মৃত 
সময়ের পিচ্ছিল পচন তীব্র , 

আমাদের আকাশের সমস্ত নক্ষত্রেরাও এখন মৃত ,,

সারি সারি অন্ধকারের সেপাই মাথা উঁচু করে রাজার বন্দকি হৃৎপিন্ড পাহারা দিচ্ছে,
 আমাদের সমস্ত কথা দরজার বাইরে থেকেই বহুদিন হল ফিরে যায় ,
এখন একাদশীর চাঁদে তেমন করে আগের মত অভিমান জড়ায় না আর ,,

 আসলে আজ বহুদিন.....বহুদিন তুমি কেবল  প্রাসাদ বন্দি অহিংকারী রাজা  .....তাই নিন্দিনীকে তুমি বুঝবে তেমন কোনো সম্ভাবনা মোটেই নেই । তাকে বুঝতে গেলে বাতাসের মত উদার হতে হয়,, আকাশের মত মনের দরজার কৃপণতার আগল খুলে দিতে হয় চিরদিনের মত ।

ফিরে যাবে যাও।  ....তোমায় জানিয়ে রাখা ভালো 
তোমার অহংকারি হৃদয় এখন বড্ড বেশি বাজারি হয়ে গেছে ,,

তোমার মঞ্চস্থ চেহারায় রাজাটা এখন মৃত্যুপুরীর যক্ষের মত দেখায় ।

তোমার হাসি এখন ত্রিশঙ্কু আড়ালে শুধুই নিনাদ।

আমাদের নিজস্ব শব্দগুলোর ওপর এখন মৃত শুধুমাত্র সময়ের পিচ্ছিল পচন তীব্র , তাই এখানে বেঁচে থাকা বলে কিছু নেই ।






বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

চিত্রকর

কিভাবে সাজাতে চাও তোমার চালচিত্র আমাকে বলতে পারো , আমি সাহায্যে দাঁড়াতে পারি একটুও বিরক্ত না হয়ে ,
 এসো  প্রথমে সময় গুলো সাজিয়ে   নাও ইজেলের বারোটা রঙে ,
 তারপর আঙুলে সবুজ রং দিয়ে ছেলেমানুষি
হাতের ছাপ দাও ক্যানভাসে , 
নীল আর গোলাপী রং দিয়ে ভালোবাসা ছুঁয়ে যাক। ,  ইচ্ছার রং সাদা থাক বুঝলে ...কিছুটা ক্যানভাসে এলোমেলো ইচ্ছা রেখে দাও । 
এবারে বসন্তের রঙের সাথে কুমকুম মিশিয়ে গোধূলির ঘোমটা টেনে দাও দেখো আদর হয়ে জীবন কেমন ক্যানভাসে শাখা ছড়িয়ে দেবে শিরা উপশিরার মত , তরঙ্গের প্রবাহে এক রামধনু সুর ভেসে উঠবে ,,
ঠিক এক পর অহংকার ......বেগুনি রঙে মানাবে ভালো , ক্রমশ  কিছুটা কামরাঙ্গা রঙ মিশিয়ে নাও ভীষন আলগোছে আঙুলের লহমায়    ..মাঝরাতে সোহাগী হতে  কাজে লাগবে ।
তারপর  কিছুটা গাড়  লাল নিয়ে  আঁকো  মান অভিমান  বিলাসী দুঃখ ,  
সময়ের কাছে কিছু বিচ্ছেদের রং থাকে অজান্তে 
........গোপন কারণগুলো কখন যেন স্বর্ণ লতার রঙে  অধিকার করে নেয় ক্যানভাসের দেহ ।

এবার ধীরে ধীরে সময়ের রং মেশাতে মেশাতে চাওয়া পাওয়ার গাড় রং হালকা হলেই তুমি খানিকটা তেজপাতা রং ছিটিয়ে দাও ভীষণ বৃষ্টি দরকার এবার ,
 উত্তরোত্তর রং চাপতে চাপতে কিছুটা বাড়তি রং অপ্রয়োজন হয়ে যায় তাই বৃষ্টি ..........।
এবারে ক্রিয়াহীন কিছু রং থাক যা দিয়ে কিছুটা শূন্যতায় নিজেকে রাখা যায় দায়মুক্ত হয়ে ,
তারপর ......তারপর শুধু নিঃশব্দের কাঁচা রং 
থাক বিশেষণ এর মত । এসো এবারে দুহাতের রং মুছে চুপটি করে আমরা ক্যানভাসের মুখোমুখি বসি ।

 





সম্বল চুরি

আমার নিজস্ব বলতে  মাত্র  দু চারটে ফুটো পয়সা আর কিছু ছেড়া ছেড়া সময় , এই যৎসামান্য কেউ না কেউ চুরি করে নিয়ে যায় প্রতিবার ,
আমার সামঞ্জস্য ওরা কেউ না কেউ বার বার নিজের বলে দাবি করে ,
তারপর দরজায় খিল দিয়ে আগলে রাখে  আমার নিতান্ততা গুলো ।
অথচ আমি কখনোই কারো বৈভবের দিকে হাত বাড়াইনি , আমি কখনোই কারো সম্বলের ঘরে সিঁধ  কাটতে যাইনি । আমি শুধু আমার থালার মাছির গুঞ্জন টুকুই বুঝে নিতে ভালোবেসেছি ,
অথচ কেউ কেউ আমার যত্নে অযত্নে রাখা ওই সামান্য ফুটো পয়সা আর ছেড়া ছেড়া সময় টুকুও বারংবার চুরি করে নিয়ে নিজের বৈভবে বাড়তি হাত খরচ হিসেবে গুছিয়ে রাখে ।
আসলে আমার নিজস্ব সামঞ্জস্য গুলোর হয়তো সেরকম কড়া প্রতিরক্ষা দিতে পারিনি কখনো।



পার্থ

শেষ যাত্রার গান ঝুরঝুরে হয়ে পড়তে থাকে এক জীবনে প্রান্তে , ভেতরে মধ্যস্তায় পাথর চাপা কিছু সময়ের মারে নিজের গাল বাড়িয়ে দিয়েছি প্রতিবার , তারপর..................
 জ্বরের ঘোরে রাতের প্রহরগুলোর সন্ধিক্ষণএ আমি আমার দেশ ও ধর্ম কে ওপর থেকে চিরে ভাগ হয়ে যেতে দেখি ,
অর্জুনের মত ভয় পাই সম্পর্ক গুলোকে সময়ের হবসে হত্যা হতে দেখতে , , গা গুলিয়ে ওঠে ... নিজের রক্তবমি সাফ করি নিজেই ,
গলার নীচে আয়ূরেখায় মাইল ফলকের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এক সময়  কোলাহল শান্ত হয়ে আসে  ,
...... আমি আমলতাস গাছটার নীচে দাঁড়িয়ে চারপাশের যন্ত্রণার উপশম ভিক্ষা চাই আঁচল পেতে ,
আমার রূপক আর চেতনার আড়াল থেকে সেই সেই শুভ্র নারকেলে স্মিত হাসি মাখা ঈশ্বরটি এসে বলেন এসব শুধুমাত্র মাটির পুতুল নিয়ে খেলা এখানে কেউ জীবিত নয় অতএব তুমি  ভাঙ্গতে পারো , মারতে পারো .......অবশেষে বললে 
তুমিও আসলে জীবিত নয় , জীবনের স্বপ্ন দেখা এক মরীচিকা মাত্র ।

কালো মেয়েটার পুরুষ

কালো মেয়েটাকে রোজ ছোঁয় তার পুরুষটা অথচ......
কালো মেয়েটার বুকে তার পুরুষটা কখনো হাত রেখে দেখেনি একজোড়া ত্রিভুজে কি নিদারুন শব্দ নিনাদ বাজতে থাকে ....যেন দামামায় পড়ছে কঠিন ঘা ,
মেয়েটার ভেতর দুরন্ত আগ্নেয়গিরির সন্ধান পায়নি তার  পুরুষটা কখনো, ,
সন্ধান পাইনি এক নোনা অথচ মিঠা নদী রোজ কালো মেয়েটাতে অন্তরসলীলা  হয়ে কুলকুল করে বইতে থাকে ।
কালো মেয়েটার পুরুষ এখনো মেয়েটার শরীরের তড়িৎ কেন্দ্রবিন্দু আবিষ্কার করে উঠতে পারেনি ,,

এমন অসম্ভব বাদামি মানচিত্রের মালকিন যে ওই কালো মেয়েটা .....অভাগা তার পুরুষটা কে কথাও জানলো কই ! 
কালো মেয়েটার গোপন চিবুকে একখানা  বৈদুর্য্য কালো মানিক রাখা আছে অথচ তার পুরুষটা 
দেশ খুঁজতে   ভিনদেশে ছুটে যায় , রতনের সন্ধানে ডুব দেয় আসমূদ্র ,  অন্যের জমি খুঁড়ে কেবল সুড়ঙ্গ করে ব্যয় করে সমস্ত পুঁজি , 
.....................কালো মেয়েটার বুকে তার পুরুষটা
কখনো হাত রেখে দেখেনি....।

মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

মানুষের ভয়

মানুষগুলো নিজের ভেতর মহল থেকে অদ্ভুত ভাবে ছিটকে যাচ্ছে মিছিলের ভিড়ে ,
এক থাকতে ভয় পাচ্ছে ,
ঘরে আলোয় নিজের ছায়ায় তার ভয় ,  
ভয় তার একলা  পথে হেঁটে যাওয়া, মানুষগুলো ভীড় খুঁজছে ....খুঁজছে ভীষণ হাততালি হোক 
চারপাশে থাক প্রচুর মুখ ।   মঞ্চ থেকে মঞ্চ যেন
পরস্পরের পিঠ জুড়ে দিক ।

নিজের বারান্দায় একলা বাতির নীচে দাঁড়াতে তার  ভয়,  
 তাই জলসা সাজায় রোশনাই দেখলেই লোভী সাত দিনের  উপোসি  হিংস্র হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ,
মানুষগুলো নিজের ভেতর একলা থাকতে ভয় পাচ্ছে  রোজ ,
  তাই রোজ রোজ এ শহরে মিছিলের আয়োজন , রোজ রোজ এ দেশে সভা আর মঞ্চ সাজে , রোজ রোজ আলোর রোশনাইয়ে নেচে ওঠে অগুনিত ছায়া শরীর ।
মানুষগুলোর হাতের রেখায় এখন শুধুই ছিটকে যাওয়া ,
মানুষগুলোর ঘরে এখন আসবাবের একলা সংসার ,
মানুষগুলো এখন যেন শব্দের পেছনে ইঁদুর দৌড়।

কারণ



লোকটা আসা যাওয়ার পথে চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে , লোকটা কি বেঁচে আছে নাকি .....!
মাছি ভ্যান ভ্যান শরীরটায় কোনো ঠিকানা লেখা নেই , নেই বুকের ছেড়া পকেটে নাগরিকতা।
 কিছু পিঁপড়ে লাইন দিয়ে  কিছুটা অস্তিত্ব  নিয়ে সুড়ঙ্গে পথে  নামাতে নামাতে ভাবছে এ শহরে মানুষ খুব সস্তা এখন,   মানুষের বাজার দর আগের মত আর নেই , ,
একটা লোক আসা যাওয়ার পথে চিৎ হয়ে পড়ে আছে পাশ কাটিয়ে কিছু বিরক্ত ভুরু,  কিছু ব্যস্ত জুতো , শাড়ির কোচ সামলিয়ে  রাখা সামাজিক  চোখ    দেখছে আবার দেখছে না ... ,
 শুকনো ঝরা পাতা  যেন  লক্ষ্য বার দেখা রোজকার দৃশ্য ,
তিলোত্তমার রাস্তায় এমন কি কিছু বিস্ময় ঘটে যা দেখে থমকে দাঁড়ানো যায় নিয়মিত ব্যস্ততা থেকে কয়েক মিনিট ভ্যানিস করে দেওয়া যায় কোনো অচেনার জন্য ।
আসলে এ শহরে কারণ ছাড়া মানুষ গুলো এক পা ফেলতে পারে না কারণ ছাড়া দুটো মিনিট কোথাও  খরচ করতে পারে না , এ শহর  এর চৌখুপির বিছানায়  জোৎসনা মাখা সন্ধ্যায় কেউ অকারণে রবি ঠাকুরের গান শোনা না ,  এ শহর কারণ খুঁজে নেয় জন্ম মৃত্যুর , এ শহর কারণে মিলে যায় কারণ ফুরালে বিচ্ছেদ নাম দেয় ,
এ শহরে ওই চিৎ হয়ে মৃত্যু ঘুমের লোকটা আসলে কারণের দায়রায় পরে না যে শহরে ওই লোকটার মত কিছু অকারণ কেবল নষ্ট সময় বলেই পরিচয় পায় ।
এ শহর বলে অকারণ গুলো যাওয়া আসার পথে
ওভাবে ফেলে রাখতে নেই ,।






সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

সাদা ও কালো ঈশ্বর

তুমি বললে ঈশ্বর দুই... সাদা আর কালো ,
আমি বললাম আমার ঈশ্বর এক তার কোনো রং নেই সে সময়ের রঙে সেজে ওঠে।
তুমি বললে যক্ষ হয়ে রয়েছি তোর বেঁচে থাকার গত ....আজ ....ও আগামীতে ,
আমি বললাম আমার কোনো গত কাল ছিল না... নেই কোনো আগামী ....আমি চলমান মুহুর্তে বেঁচে।
তুমি বললে তোর নির্ঘুম রাত ,দুঃখ, শোকের মাহতাব আমি ,
আমি বললাম আমার ভেতর আমিই আমার একনিষ্ঠ  পড়শী ।
তুমি বললে তোর জীবনের দেনার মরসুমি  প্রশ্নও  আমি .... উত্তরও আমি... উঠোন জোড়া বিশাল অংকের সমাধানও আমি ,
আমি বললাম আমার কখনো কোনো ধারাপাত শেখা  হয়নি ।
তুমি বললে তুই ধ্যানস্থ হয়ে প্রস্তুত হচ্ছিস ধ্বংস এবং উত্থান আলো আর অন্ধকার দুই এর জন্যই ,
আমি বললাম আমি নিঃশর্ত সময়ের মাঝে রাস্তা হাঁটছি কেবল ।
তুমি বললে এই পৃথিবীতে একমাত্র আমিই পারি তোকে হত্যা করতে ,
আমি বললাম আমি ভীষ্মর মত শরশয্যায় শুয়ে আছি .....ইচ্ছামৃত্যু আমার অহংকার ।